ছুরিকাঘাত
নওগাঁয় স্ত্রী-সন্তানকে ছুরিকাঘাতে ‘হত্যার’ পর স্বামীর আত্মহত্যা
নওগাঁর আত্রাইয়ে স্ত্রী ও দুই বছরের সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন এক ব্যক্তি।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বলরামচক চৌধুরীপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার বলরামচক চৌধুরীপাড়া গ্রামের গৌতম সকারের ছেলে রাজ সরকার জয় (২৭), তার স্ত্রী বৃষ্টি সরকার (২২) ও কন্যাশিশু জিনি সরকার (২)।
স্থানীয়রা জানান, নিহত রাজ সরকার জয় মাদকাসক্ত ছিলেন। স্বামী মাদকাসক্ত ও বেপরোয়া হওয়ার কারণে স্ত্রী বৃষ্টি সরকার এর আগে অনেকবার সংসার ছেলে চলে যান এবং আবার ফিরে আসেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়লে জয় তার স্ত্রী ও সন্তানকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার স্ত্রী মারা যান। পরে নিজেও ছুরি দিয়ে শরীরে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা টের পেয়ে সেখানে গিয়ে জয় ও জিনিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা আশংঙ্কাজনক হওয়ায় সেখানকার চিকিৎসক তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। রামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (শুক্রবার) সকালে তারা উভয়ই মারা যান।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) আব্দুল করিম বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় তার স্বামী ও সন্তাকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পারিবারিক কলহ ও মাদকাসক্তির কারণে স্ত্রী-সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন জয়; পরে তিনি নিজেও ছুরিকাঘাতে আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
৩ দিন আগে
বগুড়ায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে জামায়াত নেতা খুন, আটক ২
বগুড়া শহরে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সাইফুল ইসলাম (৪৫) নামের এক জামায়াত নেতাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জড়িত দুই জনকে আটক করেছে র্যাব ।
রবিবার (১ মার্চ) সকালে শহরের মাহবুবনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে রাতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তারেক (৩০) নামের আরও একজন আহত হয়েছেন।
নিহত সাইফুল ইসলাম বগুড়া শহরের খান্দার এলাকার মৃত নওশেদ আলীর ছেলে ছিলেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর বগুড়া শহর শাখার ওলামা বিভাগের রুকন ও দায়িত্বশীল ছিলেন বলে জানিয়েছেন শহর জামায়াতের প্রচার সম্পাদক ইকবাল হোসেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল (রবিবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের মাহবুবনগর এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র (চাকু) নিয়ে সাইফুল ও তারেকের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাদের দুজনকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের জরুরি বিভাগে ভর্তির পরামর্শ দেন। এরপর সাইফুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে রাতে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পুনরায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুজন আটক হয়েছেন। তারা হলেন: বগুড়া শহরের খান্দার ভিআইপি রোড এলাকার মেহেদী হাসান টিটু ও মোস্তাকিন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। থানায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী বগুড়া শহর শাখার আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলাানা আবিদুর রহমান সোহেল, সেক্রেটারি আ স ম আব্দুল মালেক এবং উলামা বিভাগ বগুড়া শহর শাখার সভাপতি মাওলানা আলমগীর হোসাইন।
৭ দিন আগে
যশোরে নামাজ পড়ে ফেরার পথে পল্লিচিকিৎসককে কুপিয়ে হত্যা
যশোরের শার্শা উপজেলায় নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে এক পল্লিচিকিৎসক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বারিপোতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আল আমিন শার্শা নাভারন এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি ওই এলাকায় পল্লিচিকিৎসক হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে নামাজ আদায় শেষে বাড়ি ফিরছিলেন আল আমিন। পথে একদল লোক তার ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে দ্রুত শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আলামত সংগ্রহ শুরু করে।
শার্শা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ আলম বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
১৭ দিন আগে
কুমিল্লায় চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়ায় যুবদল নেতাকে ছুরিকাঘাত
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করতে বাধা দেওয়ায় স্থানীয় যুবদল নেতাকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার।
আহত মো. ওমর ফারুক ভূঁইয়া জেলার ১ নম্বর দক্ষিণ কালিবাজারের বাসিন্দা আব্দুল মালেক ভূঁইয়ার ছেলে এবং তাইফুল হক তার চাচা শামসুল হক ভূঁইয়ার ছেলে ।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, কালির বাজারে মাসুম নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে আসছেন। তার এ কাজে বাধা দেন যুবদল নেতা ওমর ফারুক। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাসুমের নেতৃত্বে একটি দল গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যায় ফারুকের বাড়ির সামনে এসে তার চাচাতো ভাই তাইফুল হক ও তার ওপর হামলা চালান। অভিযুক্ত হামলাকারীরা ফারুকের কাঁধ, পেট ও পিঠে ছুরিকাঘাত করেন। পরে আহত অবস্থায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
বুধবার রাতে তাইফুল বলেন, আজকে (গতকাল) মাগরিবের পর আমার চাচাতো ভাই ও আমি আমাদের বাড়ির সামনে অবস্থান করেছিলাম। তখন ছাত্রলীগ নেতা মাসুমের নেতৃত্বে ‘একদল সন্ত্রাসী’ মোটরসাইকেল করে এসে আমার বড় ভাইকে চা-পাতি দিয়ে কোপাতে থাকেন। আমার ভাইয়ের বাঁ কাঁধে, পিঠে কুপিয়ে জখম করে ‘সন্ত্রাসীরা’। আমি বাধা দিতে গেলে আমার ওপরও তারা হামলা চালায়।
ফারুক বলেন, মাসুম কালির বাজারের সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করলে আমি বাধা দেই। একপর্যায়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়েই আমার বাড়ির সামনে গিয়ে তাদের একটি দল চাপাতি, সুইস গিয়ার (চাকু) দিয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। এ সময় আমার চাচাতো ভাই তাইফুল আমাকে বাঁচাতে এলে তার ওপরও হামলা চালানো হয়।
তার দাবি, বল্লবপুরের মাসুদ আল হাসান মাসুম, হাত কাটা বাইল্লা, রেন্ডি মামুন, বাইল্লার ছেলে অপু, ইউছুফ, আবুল কালাম, আনিস ও মিজান তাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। হামলাকারীরা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত বলেও দাবি করেন ফারুক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাসুমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ হয়েছে বলে জেনেছি। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
১৮ দিন আগে
রাজধানীতে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে এনসিপির ছাত্র নেতা আহত
রাজধানীর কদমতলীতে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে মোঃ জানভির আলম(২৩) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছে। তিনি কদমতলী থানার এনসিপির ছাত্র শক্তির সিনিয়র যুগ্ম- আহবায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁ ইউনিভার্সিটির অনার্সের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে এগারোটার দিকে রায়েরবাগ বাস স্ট্যান্ড পুতুলবাড়ি রেস্টুরেন্টের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
আহত জানভির শনির আখড়া বোয়ালবাড়ি মোড় এলাকার মো. ইব্রাহিম মিয়ার ছেলে।
জানভির হতের সহকর্মী সাদেক মির্জা জানান, আজ রাতের দিকে পুতুলবাড়ি রেস্তোরাঁর সামনে বসে থাকা অবস্থায় ৩ থেকে ৪ জন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে জানভিরের ডান কাঁধের পেছনে ও পিঠে আঘাত করে পালিয়ে যায়। আমরা খবর পেয়ে প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক। তিনি জানান, আজ রাতের দিকে ঘাড়ে ও পিঠে জখম অবস্থায় ওই যুবককে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা চলছে। আমরা বিষয়টি কদমতলী থানা পুলিশকে জানিয়েছি।
২০ দিন আগে
যাত্রাবাড়ীতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে মাদরাসা শিক্ষার্থী খুন
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে মাহিম মিয়া (১৫) নামে এক মাদরাসা ছাত্র নিহত হয়েছে।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে কাজলা স্কুল গলিতে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মাহিম কিশোরগঞ্জ সদরের দিন ইসলামের ছেলে। সে যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় থাকত। স্থানীয় একটি মাদরাসায় হেফজ বিভাগে সে পড়ত বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
নিহতের ভগ্নিপতি মো. রাফি জানান, রবিবার রাতে স্কুল গলিতে কয়েকজন কিশোর মাহিমকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। পরে স্বজনরা খবর পেয়ে তাকে করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, সেই বিষয়ে কিছু জানতে পারেননি তারা।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
২১ দিন আগে
ময়মনসিংহে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ১
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় নির্বাচনি কার্যালয় উদ্বোধন নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নজরুল ইসলাম (৪০) নামে একজন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর ধোবাউড়া উপজেলার এরশাদ বাজারে ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের সমর্থকদের মাঝে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত নজরুল ইসলাম উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের রামসিংহপুর গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী রুবেলের কর্মী ছিলেন।
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যার পর ধোবাউড়া উপজেলার এরশাদ বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের নির্বাচনি কার্যালয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যান সালমান ওমর রুবেল। উদ্বোধন শেষে ফিরে আসার সময় এমরান সালেহ প্রিন্সের সমর্থকরা হঠাৎ রুবেলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করেন। এ সময় নজরুলকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে সালমান ওমর রুবেল বলেন, আমাদের অফিস উদ্ধোধন করে বের হওয়ার সময় পেছন থেকে অতর্কিত হামলা করে প্রিন্স ভাইয়ের লোকজন। আমার কর্মী নজরুল হত্যার সঙ্গে জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেপ্তারে দাবি জানাচ্ছি।
সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, আমি হালুয়াঘাটে আছি। এই ব্যাপার নিয়ে আমি পুরোপুরি অবগত নই। তবে প্রাথমিকভাবে যেটুকু শুনেছি এটা তাদের পারিবারিক কোনো একটা সমস্যা নিয়ে ঝামেলা। এটাকে রাজনৈতিক রঙ লাগানোর চেষ্টা করছে তারা। যে মেরেছে তিনি আমাদের দলের সাবেক কর্মী। তবে এটা যদি এরকম হয়ে থাকে, আমরা ব্যবস্থা নেব।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শুনেছি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এমরান সালেহ প্রিন্স ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী সালসান ওমর রুবেলের সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষের হয়েছে। এ ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। পরে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।
ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৫১ দিন আগে
যশোরে এবার জুলাই যোদ্ধা এনাম সিদ্দিকিকে ছুরিকাঘাত
জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হওয়া যশোরের এনাম সিদ্দিকিকে এবার ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের এনামের নিজ গ্রাম এনায়েতপুরে এ ঘটনা ঘটে।
আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত খন্দকার আমিনুল্লাহর ছেলে। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় উত্তরায় পুলিশের গুলিতে মাথায় আঘাত পেয়ে তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন।
এনামের স্বজনেরা জানান, রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এনাম সিদ্দিকি হাঁটাহাঁটির উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় এনায়েতপুর পীরবাড়ির সামনে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি তার গতিরোধ করে। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা প্রথমে লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে, পরে ডান বুকে, বাঁ হাতের বাহু ও কাঁধে চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর জখম হন। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে আহত অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিচিত্র মল্লিক জানান, এনামের শরীরের কয়েকটি স্থানে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত।
ঘটনার খবর শুনে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। তার নির্দেশে দলীয় নেতা-কর্মীরা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসেন এবং এনাম সিদ্দিকির চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচাল করতেই পরিকল্পিতভাবে জুলাই যোদ্ধাদের টার্গেট করা হচ্ছে। দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৬৪ দিন আগে
সিলেটে সিআইডি কর্মকর্তাকে ছুরি মেরে পালাল আসামি
সিলেট নগরীর সাগরদীঘির পাড় এলাকায় সাইবার মামলায় পরোয়ানাভুক্ত আসামি ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কর্মকর্তা খুরশেদ আলম আহত হয়েছেন।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আহত খুরশেদ আলম সিলেট সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত। তাকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতরাতেই তার অস্ত্রোপাচার করা হয়।
জানা গেছে, সাগরদীঘির পাড় এলাকায় সোমবার রাতে একটি সাইবার মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি ধরতে সাদাপোশাকে অভিযান চালায় সিআইডির একটি দল। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে এসআই খুরশেদ আলম আসামিকে ধরতে যান। তখন আসামি তার বুকে ছুরি মেরে পালিয়ে যান। পরে খুরশেদ আলমকে সহকর্মীরা উদ্ধার করে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে সিআইডি সিলেটের পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা বলেন, সাইবার মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশ কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়েছে আসামি। আহত পুলিশ কর্মকর্তা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।
সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাঈনুল জাকির বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। হামলাকারীকে ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
৯০ দিন আগে
কামরাঙ্গীরচরে সংঘর্ষের মাঝে পড়ে প্রাণ গেল যুবকের
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে ছুরিকাঘাতে মো. রকি (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছে। নিহত যুবক পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) ভোরে কামরাঙ্গীরচর থানার বড়গ্রাম মাতবর বাজার হারিকেন ফ্যাক্টরির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত অবস্থায় ভোর ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত যুবককে হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী রানা জানান, নিহত রকি পেশায় একজন শ্রমিক আমরা জানতে পেরেছি। তিনি একটি ফ্যাক্টরিতে কাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন। পথে বড়গ্রাম মাতবর বাজার হারিকেন ফ্যাক্টরির সামনে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। ওই সময় রকি দৌড়ে পালানোর সময় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, নিহতের গ্রামের বাড়ির ঠিকানা এখনো পাইনি। তবে তিনি কামরাঙ্গীরচর বড়গ্রাম চেয়ারম্যান মোড় এলাকায় থাকতেন বলে জানতে পেরেছি।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
৯৭ দিন আগে