আইনশৃঙ্খলা
সরকারি সফরে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া গেলেন সেনাপ্রধান
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পাঁচ দিনের সরকারি সফরে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া গেছেন।
রবিবার (২৮ জুন) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।
আইএসপিআর জানায়, সফরকালে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে সেনাবাহিনী প্রধানের চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়ার প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা রয়েছে।
১৯ ঘণ্টা আগে
রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলিসহ ২ জনকে হত্যা: সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি ও দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচ আসামির মধ্যে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পলাতক হাবিবুর রহমান ছাড়াও পুলিশের সাবেক এডিসি রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়াও পলাতক আসামি, পুলিশের সাবেক এসআই তরিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন ও একমাত্র গ্রেফতার আসামি সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের ২০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত ১৫ জুন উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
জুলাই আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় মানবতাবিরোধী মামলাগুলোর মধ্যে এটি তৃতীয়, যেটা রায় পর্যন্ত গড়ালো। সেই সঙ্গে পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এটি পঞ্চম রায়।
বরাবরের মতোই রায় ঘোষণার কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এছাড়া এ রায়ের মাধ্যমে পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হলো।
মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত ১৫ জুন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। ওই দিন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন।
তিনি দাবি করেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার মক্কেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে মামলার পাঁচ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। পরে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ২৮ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলায় চঞ্চল চন্দ্র সরকার ছাড়া অন্য চার আসামি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন: ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
চলতি বছরের ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে নতুন করে ডিজিটাল এভিডেন্স (তথ্যপ্রমাণ) জমা দেওয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। এরপর রায়টি পিছিয়ে যায়।
গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। একই বছরের ৭ আগস্ট ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে চালানো পুলিশের গুলি থেকে প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে থাকা একটি নির্মাণাধীন ভবনে ওঠেন আমির হোসেন। ওই সময় পুলিশও তার পিছু পিছু যায়। একপর্যায়ে ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকলেও তার ওপর ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন এক পুলিশ সদস্য। এতে জীবন বাঁচলেও গুরুতর আহত হন তিনি।
একই দিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হন মায়া ইসলামের ছয় বছর বয়সী নাতি বাসিত খান মুসাও। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরও এখনও কথা বলতে পারছে না শিশুটি।
২০ ঘণ্টা আগে
খৈলের চালানে ‘অন্য পণ্য আমদানি’, বেনাপোল বন্দরে আনসার সদস্যসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
বেনাপোল স্থলবন্দরে ট্রান্সশিপমেন্টের সরিষার খৈলের চালানের মধ্যে অন্য পণ্য আমদানি এবং অবৈধভাবে অপসারণ ও আত্মসাতের অভিযোগে আনসার সদস্য, বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী এবং ট্রাকচালক ও সহকারীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যবহৃত একটি বাংলাদেশি ট্রাকও জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) বেনাপোল পোর্ট থানায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৫ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি করেন বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মো. ওবাইদুল মিয়া।
মামলায় ৩ আনসার সদস্য, ৪ জন বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী, ট্রাকচালক ও সহকারীসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন ভারত থেকে সরিষার খৈলবোঝাই একটি ট্রাক বেনাপোল স্থলবন্দরে প্রবেশ করে। ২৫ জুন ট্রাকটি কেমিক্যাল জোনে অবস্থানকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন আনসার সদস্য ও বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীর যোগসাজশে একটি বাংলাদেশি ট্রাকে অবৈধভাবে ৪০ প্যাকেট পণ্য স্থানান্তর করা হয়। পরে ট্রাকটি ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে ওজন করলে ঘোষিত ওজনের তুলনায় ২ হাজার ৭৮৪ কেজি পণ্যের ঘাটতি ধরা পড়ে।
পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, তারা গেট পাস ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ছাড়াই ট্রাক চলাচল ও পণ্য অপসারণে সহযোগিতা করেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ব্যবহৃত বাংলাদেশি ট্রাকটি শনাক্ত করা হয় এবং ট্রাকচালক ও সহকারীকে আটক করা হয়।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দশ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তা জেনেছি। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।
১ দিন আগে
রাজধানীতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ৩ কর্মী গ্রেপ্তার
গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
শনিবার (২৭ জুন) ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজনকে মোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে, একজনকে মিরপুর থানা এলাকা থেকে এবং অন্যজনকে বনানী থানা এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে।
অতিরিক্ত উপকমিশনার বলেন, জননিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং নগরীতে স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।
১ দিন আগে
দেশের সীমান্তে একজনকেও অবৈধভাবে পুশ-ইন হতে দেওয়া হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর নজরদারির কারণে দেশের সীমান্তে একজনকেও পুশ-ইন হতে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রাঙ্গণে ‘মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনাসভা ও পুরস্কার বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া বর্ডারে কাউকে এনে পুশ-ইন করিয়ে দেওয়া কোনো যথাযথ বা আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া নয়। তিনি বলেন, যদি ভারতের কাছে এমন কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের তালিকা থাকে যারা সে দেশে অবৈধভাবে অবস্থান করছে, তবে তারা কূটনৈতিক বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা সরবরাহ করতে পারে। বাংলাদেশ সরকার নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাদের জাতীয়তা যাচাই (ন্যাশনালিটি ভেরিফিকেশন) করবে এবং সত্যতা সাপেক্ষে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের ফেরত নিয়ে আসবে।
তিনি আরও বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় ১০ হাজার মানুষকে পুশব্যাকের যে দাবি করা হয়েছে, তার কোনো সত্যতা বা দালিলিক পরিসংখ্যান বাংলাদেশ সরকারের কাছে নেই।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিজিবি দেশের প্রতিটি সীমান্তে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের চেষ্টা বিজিবি সফলভাবে প্রতিহত করছে।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ হিসেবে সীমান্তে এ ধরনের তৎপরতা প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে মন্ত্রী মন্তব্য করেন।
শহিদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সর্বশেষ তথ্য জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ থেকে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। ভারতীয় আইন অনুযায়ী সেখানে মামলা দায়েরের পর আসামিদের বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের অসম্পন্ন তদন্ত কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যকার অপরাধী প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তি মোতাবেক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আইনি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) সহকারে আসামিদের ফেরত পাওয়ার আবেদন ইতোমধ্যে পাঠিয়েছে। বাংলাদেশ আসামিদের দ্রুত হস্তান্তরের বিষয়ে আশাবাদী।
সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের অবস্থান ও তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ফেডারেল পুলিশ বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের পর আবুধাবি থেকে বাংলাদেশ সরকারকে ইমেইলের মাধ্যমে অবহিত করা হয়। ওই বার্তায় পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর অনুরোধ করা হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মাত্র ৩ দিনের মধ্যে সমস্ত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র প্রস্তুত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই সরকারের নিকট প্রেরণ করেছে। কয়েকদিন পূর্বে আবুধাবিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এই নথিপত্র ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে।
বর্তমানে বেনজীর আহমেদ সে দেশের ফেডারেল পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রত্যুত্তরের জন্য বাংলাদেশ অপেক্ষা করছে এবং আশা করা হচ্ছে খুব শিগগির পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
মাদকের কবলে জনসংখ্যার ৪.৮৮ শতাংশ, শক্তিশালী আইনি কাঠামো হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশে বর্তমানে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ মাদকের কবলে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মাদকের বিস্তার রোধে সরকার বিদ্যমান আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করতে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন’ সংশোধন ও আধুনিকায়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তা জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘২৬ জুন মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর অনুকূলে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ মাদক ব্যবহার করছে যা মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। নতুন সিন্থেটিক ও সেমি-সিন্থেটিক মাদকের বিস্তারের কারণে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারজনিত সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, অপরাধীরা এখন প্রযুক্তির সহায়তায় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাই কেবল নড়বড়ে আইনি ভিত্তি দিয়ে এই অপরাধ দমন সম্ভব নয়। অপরাধীদের কঠোর শাস্তি এবং সমাজ পরিবর্তনের জন্য একটি অভেদ্য আইনি দেওয়াল গড়ে তোলা হচ্ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কর্মকর্তাদের ঢাল-তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দারের মতো খালি হাতে সশস্ত্র মাদক চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়।’ কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে অধিদপ্তরে অত্যাধুনিক অস্ত্র, পর্যাপ্ত যানবাহন ও ডগ স্কোয়াড যুক্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া, আসামিদের থানায় সোপর্দের আগ পর্যন্ত রাখার জন্য আধুনিক হাজতখানা নির্মাণ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মামলা জটের কারণে যাতে আসামিরা পার পেয়ে না যায়, সেজন্য মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, মাদকের পাশাপাশি অনলাইন জুয়া রোধে সম্প্রতি একটি আধুনিক আইন (সংসদে) উত্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সাইবার অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আধুনিকায়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও আইনি সংস্কার আনা হচ্ছে।
মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকার তেজগাঁওসহ তিনটি বিভাগীয় শহরের নিরাময় কেন্দ্রের শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া ঢাকার কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে।
তিনি জানান, দেশের সাতটি বিভাগীয় শহর—চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহে ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ শযাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প শুরু হয়েছে। এসব কেন্দ্রে চিকিৎসার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা থাকবে।
সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশব্যাপী লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৪০৩টি কেন্দ্রের মধ্যে নির্বাচিত ৭৩টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রকে মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে।
বেসরকারি কেন্দ্রগুলোকে বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করে সরকারি বিধিমালা ও জাতীয় গাইডলাইন অনুসরণ করে মানবিক সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা মহানগর এলাকার নির্বাচিত ১৫টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
৩ দিন আগে
স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্রারোচনা মামলায় অভিনেতা আলভী রিমান্ডে
স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভী ওরফে মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়ার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (২৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আবজাল হোসাইন মৃধা।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর জোনাল টিমের পরিদর্শক মো. আব্দুল মালেক গত ২১ জুন জাহের আলভীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ওই দিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য ২৪ জুন (বুধবার) দিন ধার্য করেন। এরপর আজ (বুধবার) উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার জাহের আলভী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় নিজ বাসা থেকে ইকরার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
ইকরার বাবা কবির হায়াত খান মামলায় বলেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়।
আলভী ও ইকরা ২০১০ সালে বিয়ে করেন। তাদের এক ছেলেসন্তান রয়েছে।
আলভীর মা নাসরিন সুলতানা গত ৪ জুন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।
৪ দিন আগে
আ.লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ১৮ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ১৮ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) পরিচালিত পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এর মধ্যে মিরপুর থানা পুলিশ ৩ জন, রমনা, ধানমণ্ডি, হাজারীবাগ, ও তেজগাঁও থানা পুলিশ ২ জন করে এবং শাহবাগ, বংশাল, সূত্রাপুর, পল্টন, শিল্পাঞ্চল, পল্লবী ও কাফরুল থানা পুলিশ একজন করে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে উল্লেখ করে ডিএমপি জানিয়েছে, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
৫ দিন আগে
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আ.লীগের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে: ডিএমপি
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মিছিল, সমাবেশ বা জমায়েত করে বর্তমান সরকারকে বিব্রত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করার পরিকল্পনা করেছিল, তাদের এই পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর পুরান ঢাকার হোসাইনী দালান ইমামবাড়া আয়োজিত ‘পবিত্র আশুরা উদযাপন ও তাজিয়া শোক মিছিল নিরাপত্তা পরিদর্শন শেষে এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এ মন্তব্য করেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, আজকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় মিছিল বা সমাবেশ বা জমায়েত হওয়ার গোয়েন্দা প্রতিবেদন আমাদের কাছে ছিল। সেই অনুযায়ী, আমরা গত তিন দিন থেকে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে ঢাকার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে চেকপোস্ট জোরদার করেছি, পিকেট, মোবাইল পেট্রোল, ফুট পেট্রোলের সংখ্যা বাড়িয়েছি। সাদা পোশাকে ডিউটি ও টহল বাড়িয়েছি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির কর্মী বা সমর্থকরা বিভিন্ন জায়গায় জড় হয়ে মিছিল বা জমায়েতের সম্ভাবনার কথা বিবেচনায় রেখে আমরা প্রত্যেকটি সন্দেহজনক জায়গা, যেমন: মেস, হোটেল এবং বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি করেছি এবং আমরা বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছি।
তিনি বলেন, আমাদের মনে হয়েছে, তারা (আওয়ামী লীগ) আজকে মিছিল, সমাবেশ বা জমায়েত হওয়ার মাধ্যম সরকারকে একটা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে চায়, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে চায়। ডিএমপির সদস্যরা তাদের এই পরিকল্পনাকে এখন পর্যন্ত নস্যাৎ করে দিয়েছে। আশা করি, আর যতটুকু সময় আছে, এই সময়ের মধ্যেও তারা কোথাও মিছিল বা সমাবেশ বা জমায়েত হতে পারবে না।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়ে আমরা সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এই ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আমরা সেই মিছিল থেকে ও মিছিল পরবর্তী সময় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছি। ককটেল বিস্ফোরণ থেকে একটি বিষয় আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়েছে যে, যেকোনো ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা তাদের কাছে থাকতে পারে। আমাদের এটা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়নি। তবে যেহেতু তারা মিছিলে ককটেল বিস্ফোরণ করেছে, তাতে আমরা মোটামুটি নিশ্চিত যে সুযোগ পেলে তারা নাশকতা করতে পারে। তাই ঢাকার বাইরে থেকে যাতে কেউ ঢাকা শহরে প্রবেশ করে এই ধরনের নাশকতা বা কোনো ধরনের মিছিল বা সমাবেশ বা জমায়েত হতে না পারে এজন্য আমাদের নজরদারী অব্যাহত থাকবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কারাগার থেকে অনেক অপরাধী পালিয়ে গেছে। আশুরা ও তাজিয়া মিছিলে নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বছর এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো আলামত আমাদের কাছে নেই। তবে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি। যেকোনো ধরনের নাশকতা, যেকোনো ধরনের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেওয়ার জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে।
৫ দিন আগে
আশুরা উপলক্ষে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ডিএমপি
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত তাজিয়া মিছিল ও বিভিন্ন শোক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) পুরান ঢাকার হোসেনী দালান ইমামবাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ তথ্য জানান।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, এবারের পবিত্র আশুরা উপলক্ষে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন বিভাগ (লালবাগ, ওয়ারী, রমনা, তেজগাঁও, মতিঝিল ও মিরপুর) থেকে মোট ২৮টি ইমামবাড়া কর্তৃক ১ থেকে ৭ মহররম পর্যন্ত ১০টি, ৮ মহররমে ১০টি, ৯ মহররমে ১৯টি এবং ১০ মহররমে ২৪টি-মোট ৬৩টি তাজিয়া মিছিল বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি তাজিয়া মিছিলের রুট নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি তাজিয়া মিছিল ও প্রধান প্রধান সমাবেশস্থলকে কেন্দ্র করে ব্যারিকেড, পিকেট, লাইনিং এবং রুফটপ নজরদারি ডিউটি মোতায়েন থাকবে। হোসেনী দালান ইমামবাড়াসহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ইমামবাড়া এবং সমাবেশস্থলগুলো ড্রোন ক্যামেরা ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ডিএমপি কমিশনার জানান, যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, র্যাব এবং সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল টিম দ্বারা প্রতিটি ভেন্যু ও রুট সুইপিং বা তল্লাশি করা হবে। পাশাপাশি ইমামবাড়া বা সমাবেশস্থলগুলোতে আর্চওয়ে গেট এবং মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি ও ম্যানুয়াল চেকিং নিশ্চিত করা হবে।
তিনি জানান, হোসেনী দালান ইমামবাড়ায় একটি অস্থায়ী সাব-কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া আঞ্জুমান হায়দারী, বড় কাটারা ইমামবাড়া, শিয়া মসজিদ, বিবিকা রওজা এবং মিরপুর ও মোহাম্মদপুরের বিহারি ক্যাম্পসহ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলোকে পুলিশের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এসব স্থানে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়েছে।
মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিএমপির সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, ক্রাইম সিন টিম ও ডিবিসহ অন্যান্য বিশেষায়িত ইউনিট স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
৫ দিন আগে