আইনশৃঙ্খলা
বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার হিরো আলম
আলোচিত কন্টেন্ট নির্মাতা আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমকে বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শাজাহানপুর উপজেলার ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের মাঝিড়া বন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–১ এ হাজির করা হলে পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তার গতিবিধির ওপর নজরদারি চলছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে মাঝিড়া বন্দরের কাছে তার অবস্থান নিশ্চিত হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মহাসড়কে ব্যারিকেড দেন। একপর্যায়ে ধাওয়া দিয়ে গাড়ি থামিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। গত ১০ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–১-এর বিচারক আনোয়ারুল হক তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন। তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করলে বিচারক অভিযোগটি আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ দেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সাদিয়া রহমান মিথিলাকে নায়িকা বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে হিরো আলম বিয়ের আশ্বাস দেন। পরে তাকে ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন এবং গর্ভপাত করাতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগ অস্বীকারের পর ২১ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
তদন্ত সূত্র জানায়, মামলার প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের কিছু সত্যতা পাওয়া গেছে বলে পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
১১ ঘণ্টা আগে
গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ। একই সঙ্গে ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত গণভোটের ফলাফল বাতিলেরও আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট দায়ের করা হয়। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও আইন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে বিচারপতি ফাতেমা নজীবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন রিটকারী এই আইনজীবী।
এদিকে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত এই গণভোটে মোট ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। বিপক্ষে অর্থাৎ ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল ও ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৯১ আসনে প্রার্থী দেয় সরকার গঠন করা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। তবে তাদের কোনো প্রার্থীকেই জামানত হারাতে হয়নি।
অন্যদিকে, বিরোধী দলের আসনে বসতে যাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২২৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। এর মধ্যে তিন প্রার্থী নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় জামানত হারিয়েছেন। বিগত সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এবার ১৯৮ আসনে প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। দলটির প্রার্থীদের মধ্যে কেবলমাত্র পাঁচজন তাদের জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন, বাকি সবাই জামানত হারিয়েছেন।
এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। তাদের মধ্যে তিনজন জামানত হারিয়েছেন। এ ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সিপিবি, বাসদ, নাগরিক ঐক্যসহ বাকি দলগুলোর বেশিরভাগ প্রার্থীই তাদের জামানত রক্ষা করতে পারেননি।
২ দিন আগে
রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ৪ মার্চ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি করাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী ৪ মার্চ।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম এ তথ্য জানান।
এই মামলায় মোট আসামি ৫ জন। এর মধ্যে পলাতক আছেন ৪ জন। পলাতকরা হলেন— ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান ও সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার এই মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি।
এর আগে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মামলাটির বিচার কার্যক্রম শেষ করে রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখেন। ওই দিন এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। আজ (রবিবার) রায়ের জন্য দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আমির হোসেন জুমার নামাজ পড়ে বাসায় ফিরছিলেন। বাসার কাছে তখন সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যান তিনি। এ সময় পুলিশ গুলি শুরু করে। আমির দৌড়ে নির্মাণাধীন একটি ভবনের চারতলায় গিয়ে আশ্রয় নেন। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করে পুলিশ ভবনটির চারতলায় উঠে। সেখানে আমিরকে পেয়ে পুলিশ সদস্যরা তার দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে বারবার নিচে লাফ দিতে বলেন। একজন পুলিশ সদস্য তাকে ভয় দেখাতে কয়েকটি গুলিও করেন। ভয়ে তিনি লাফ দিয়ে নির্মাণাধীন ভবনটির রড ধরে ঝুলে থাকেন। তখন তৃতীয় তলা থেকে একজন পুলিশ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে ছয়টি গুলি করেন। গুলিগুলো তার দুই পায়ে লাগে।
পরে পুলিশ চলে গেলে তিনি ঝাঁপ দিয়ে কোনোরকমে তৃতীয় তলায় পড়েন। তখন তার দুই পা দিয়ে রক্ত ঝরছিল। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি। এছাড়া একই দিন রামপুরার বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন।
গত বছরের ৩১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত সংস্থা। একই বছরের ৭ আগস্ট ফর্মাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন। মামলায় ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।
গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার বিচার শুরু হয়। গত ২৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ ওইদিন মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ৫ জনের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেন।
মামলার যুক্তিতর্কে প্রসিকিউশনের পক্ষে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীতে কার্নিশে ঝুলে থাকা যুবক আমির হোসেনকে গুলি, শিশু বাসিত খান মুসার (৭) মাথা ভেদ করে তার দাদি মায়া ইসলামের মৃত্যু এবং মো. নাদিম নামের আরও এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়।
চব্বিশের জুলাই আন্দোলন ঘিরে সারাদেশের মতো রামপুরায়ও ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে তৎকালীন সরকারের পুলিশ বাহিনী। যা স্পষ্টতই মানবতাবিরোধী অপরাধ। পুলিশের ঊর্ধ্বতনদের প্রত্যক্ষ নির্দেশে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। সাক্ষ্যপ্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দিসহ নথিপত্রে এ মামলার ৫ আসামির সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
৪ দিন আগে
সীমান্ত নিরাপদ রেখে সারা দেশে ৩৭ হাজার বিজিবি মোতায়েন: মহাপরিচালক
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে অর্পিত সকল দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় তিনি বলেন, ‘ভোটাররা যেন নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বিজিবি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবে।’
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে বিজিবির মহাপরিচালক চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় সফর করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় সিভিল প্রশাসন, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভায় অংশ নেন।
বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
সভায় বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা সম্পূর্ণ নিরাপদ রেখেই সারা দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলায় ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদাসহ সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবে।’
তিনি জানান, সারা দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে ঝুঁকি বিবেচনায় বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির হেলিকপ্টার, কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ), র্যাপিড অ্যাকশন টিম (আরএটি), বিশেষায়িত ক-৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিট, ড্রোন এবং বডি-অন ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
সমন্বয় সভা শেষে বিজিবির মহাপরিচালক দামুড়হুদা আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজে স্থাপিত নির্বাচনি বেইজক্যাম্পে দায়িত্বরত বিজিবির সকল পর্যায়ের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সভায় বিজিবি সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, যশোর রিজিয়ন কমান্ডার, কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার, চুয়াডাঙ্গা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও র্যাবসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা এবং কুষ্টিয়া সেক্টরের অধীন সকল ব্যাটালিয়নের অধিনায়করা উপস্থিত ছিলেন।
৯ দিন আগে
আশুলিয়ায় মরদেহ পোড়ানোর মামলায় সাবেক এমপি সাইফুলসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ, আট জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও রাজসাক্ষীকে খালাস দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর পাঁচ আসামি হলেন— আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদ, থানার সাবেক উপপরিদর্শক আবদুল মালেক, এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার ও যুবলীগকর্মী রনি ভূঁইয়া।
এ মামলায় সাবেক মোট আসামি ১৬ জন। এর মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাইফুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়।
গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা ৮ আসামির মধ্যে ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফীক্ যাবজ্জীবন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলামকে যাবজ্জীবন, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন আরজুকে যাবজ্জীবন, সাবেক এসআই মালেককে মৃত্যুদণ্ড, এসআই আরাফাত উদ্দিনকে ৭ বছরের কারাদণ্ড, এএসআই কামরুল হাসানকে ৭ বছরের কারাদণ্ড, মামলার রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হককে খালাস ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদারকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
পলাতক আট আসামির মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সৈয়দ নুরুল ইসলামকে যাবজ্জীবন, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপনকে যাবজ্জীবন, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদকে মৃত্যুদণ্ড, সাবেক পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমানকে যাবজ্জীবন, সাবেক পরিদর্শক নির্মল কুমার দাসকে যাবজ্জীবন, সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক বিশ্বজিৎ সাহাকে মৃত্যুদণ্ড ও যুবলীগের রনি ভূইয়াকে মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
গত বছরের ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন। এর মধ্যে কনস্টেবল শেখ আবজালুল হক আদালতে দোষ স্বীকার করলে তাকে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী করা হয়।
মামলার প্রেক্ষাপট
মামলার নথিপত্র ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সাভারের আশুলিয়া থানার সামনে পুলিশ আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
এতে শহিদ হন সাজ্জাদ হোসেন (সজল), আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বুসতামি, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গুলি করে হত্যার পর লাশগুলো একটি ভ্যানে স্তূপ করে রাখা হয়। এ সময় গুরুতর আহত এক ব্যক্তিকেও ওই লাশের স্তূপের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর ভ্যানটিতে পেট্রোল ছড়িয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের অক্টোবরের ৬ তারিখ ধানমন্ডিস্থ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের তদন্ত কার্যালয় অভিযোগ পত্র জমা দেয়া হয়। একই দিনে তদন্ত শুরু করেন তদন্ত কর্মকর্তা। ২০২৫ সালের জুন মাসের ১৯ তারিখ তদন্ত কর্মকর্তা তার তদন্ত রিপোর্ট প্রসিকিউশন কার্যালয়ে জমা দেন।
তদন্ত থেকে বিচারিক প্রক্রিয়া
তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২ জুলাই প্রসিকিউশন ১৬ আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল-২ এ ‘ফরমাল চার্জ’ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগের সঙ্গে ৩১৩ পৃষ্ঠার নথি, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ ও দুটি পেনড্রাইভ জমা দেওয়া হয়। এ মামলায় সাক্ষী করা হয় ৫৩ জনকে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং তাঁদের হাজিরের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।
অভিযোগ গঠন ও সূচনা বক্তব্য
গত বছরের (২০২৫) ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ওই দিন বিচারকার্যের শুরুতেই আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে করা আইনজীবীদের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। উপস্থিত আট আসামির মধ্যে সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন, কিন্তু এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করেন এবং রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন জানান। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
সাক্ষ্যগ্রহণ ও রাজসাক্ষীর জবানবন্দি
এ মামলার প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহিদ আস সাবুরের ভাই রেজওয়ানুল ইসলাম ও শহিদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের বাবা মো. খলিলুর রহমান। ২২ কার্যদিবসে তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানসহ মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি।
বিচার চলাকালে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল এসআই শেখ আবজালুল হকের রাজসাক্ষী হওয়া। গত বছরের ১৯ নভেম্বর তিনি ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দেন। ২৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তিনি জবানবন্দি দিলেও, তার দেওয়া তথ্যের পূর্ণতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তবে প্রসিকিউশনের দাবি, রাজসাক্ষী হিসেবে তিনি নিজের জানা সব তথ্যই প্রকাশ করেছেন। সাফাই সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন আরেক আসামি আরাফাত হোসেন।
যুক্তিতর্ক ও রায় ঘোষণা
গত ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এরপর আসামিপক্ষের নিযুক্ত ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা পাল্টা যুক্তি তুলে ধরেন। গত ২০ জানুয়ারি উভয় পক্ষের আইনি লড়াই ও যুক্তিখণ্ডন শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি রায়ের জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়।
আসামিদের পরিচয় ও অবস্থান
এ মামলায় মোট ১৬ আসামির মধ্যে ৮ জন পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাঁরা হলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, কনস্টেবল মুকুল এবং রাজসাক্ষী এসআই শেখ আবজালুল হক।
বাকি আট আসামি পলাতক রয়েছেন। তাঁরা হলেন ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।
পলাতকদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য গত ২৮ জুলাই ট্রাইব্যুনাল সরকারি খরচে দুজন আইনজীবী নিয়োগ দেন।
১৪ দিন আগে
ফ্যাসিবাদের পরিণতির কথা মাথায় রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার
ফ্যাসিবাদের করুণ পরিণতির কথা মাথায় রেখে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিগত ১৬ বছর ফ্যাসিবাদের বীজ বপন হয়েছিল অস্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। রাষ্ট্রের পুরো যন্ত্র পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছিল। জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতিটি কাঠামোকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছিল। স্বৈরতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এর ফলস্বরূপ একনায়কতন্ত্র, স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ার মদদদাতা, ইন্ধনদাতা, পক্ষপাতিত্বকারী, সহায়তাকারী, প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারীরা কেউ কেউ অনেকেরই পূর্বপরিচিত। তারা সরকার যন্ত্রেরই অংশ ছিল। আজকে তাদের অনেকের করুণ পরিণতি সম্পর্কে সবাই অবহিত আছেন। অনেকে চাকরিচ্যুত, অনেকে পলাতক, দেশান্তরিত, জেলে আছেন, আইন-আদালত সামলাচ্ছেন। এমনকি তাদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরাও আজ কঠিন পরীক্ষার ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করে সংশ্লিষ্ট সবাই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে আমি আশা করি।
নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে এদেশের আপামর জনগণ, রাজনৈতিকদলসহ সর্বমহলের প্রত্যাশা অনেক। সেই প্রত্যাশা পূরণে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব আপনাদের কাঁধে।
তিনি বলেন, নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এমন এক মানদণ্ড স্থাপিত হবে, যা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হবে।
উপদেষ্টা এ সময় সামান্যতম ভুল বা বিচ্যুতি যাতে নির্বাচন তথা দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে না পারে এবং জনগণের আস্থা হারাতে না পারে, সেদিকে সজাগ ও সতর্ক থাকার জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তাছাড়া কোনো ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম বা ব্যালট বাক্স ছিনতাই হলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা-সংশ্লিষ্ট যেকোনো অভিযোগ এই সেলে করা যাবে।
তিনি জানান, এই সমন্বয় সেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি থাকবেন। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের প্রতিটি মুহূর্তের তথ্য তাৎক্ষণিক আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’-এর ব্যবহার, যেটি জাতীয় টেলিকমিউনিকেশন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি) প্রস্তুত করেছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষও যুক্ত থাকবে। অ্যাপটি তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ এবং এর দ্রুত প্রতিকার ও নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের দ্রুত প্রবেশপত্র প্রদান সম্পন্ন করতে হবে এবং ভোটকেন্দ্রে তাদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদেরও দ্রুত পরিচয়পত্র প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। তারা নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য চাইতে পারেন। এ বিষয়ে তাদের পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পরিবেশ এমন উন্নত করতে হবে যাতে সবাই আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আসতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে সততা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমাদের ‘স্টিল ফ্রেম অব ব্যুরোক্রেসি’ নিশ্চিত করতে হবে যাতে কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও ফাঁকি দিতে না পারে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তীকাল থেকে বর্তমানে আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। বেশিরভাগ কর্মকর্তারাই বিদেশ সফর ও উন্নত প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন। রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেওয়া রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ—বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স—এসআইএফ-এর (সাবেক র্যাব) মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান, বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (অপরাধ ও অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।
সভায় খুলনা বিভাগের সকল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আঞ্চলিক,জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও বিজিবির খুলনা বিভাগের প্রতিনিধিরা এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সকল উপ-পুলিশ কমিশনার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, খুলনা বিভাগের নির্বাচনি প্রস্তুতি ভালো। সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অপতথ্য বা মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করলে ভোটের পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এবারে তিনটি বিষয় নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে যা পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোতে সম্ভব হয়নি। সেগুলো হলো: নির্বাচন তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার (বডি ক্যামেরা, সিসিটিভি, ড্রোন ইত্যাদি), আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও এনটিএমসি প্রণীত ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’-এর ব্যবহার।
উপদেষ্টা এগুলোর সফল প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
১৫ দিন আগে
রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হলে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, কোস্ট গার্ড অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কোনো ব্যক্তি, দল বা রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সদরদপ্তরে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক প্রদান, ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোস্ট গার্ড বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিরপেক্ষতার প্রশ্নে সরকার বিন্দুমাত্র শৈথিল্য দেখাবে না।
তিনি বলেন, নির্বাচনে যারা নীতিবিবর্জিত কাজ করবে, লোভের বশবর্তী হয়ে অন্যায় কাজ করবে, দায়িত্ব এড়িয়ে চলবে, দায়িত্ব অবহেলা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কোস্ট গার্ড সদস্যদের অবদান তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, উপকূলীয় এলাকা ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অবৈধভাবে মৎস্য আহরণ প্রতিরোধ, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, মানবপাচার, ডাকাতি ও জলদস্যুতা দমনে কোস্ট গার্ড সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করছে। পাশাপাশি নিয়মিত টহল কার্যক্রমের মাধ্যমে দুর্ঘটনাকবলিত নৌযান ও নাবিকদের উদ্ধার কার্যক্রমও সফলভাবে পরিচালনা করছে বাহিনীটি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কোস্ট গার্ডের ভূমিকার প্রশংসা করে উপদেষ্টা বলেন, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও অন্যান্য দুর্যোগে উপকূলীয় জনগণকে সচেতন করা, উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ, শীতবস্ত্র ও লাইফ জ্যাকেট বিতরণ এবং রোহিঙ্গা সংকট নিরসন কার্যক্রমে কোস্ট গার্ডের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
সীমান্তবর্তী নদী এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে মানবপাচার, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি কোস্ট গার্ড আঞ্চলিক সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ বাহিনীটির প্রশংসা করেছে এবং যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন সদস্যসহ সারাদেশে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ইতোমধ্যে ১০০টি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে।
এ সময় দুর্নীতিকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে এবং জনগণের আস্থা ধ্বংস করে দেয়।
অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালনে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৪০ জন কোস্ট গার্ড সদস্যদের পদক প্রদান করা হয়। কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি।
১৬ দিন আগে
র্যাবের নতুন নাম ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’
এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। র্যাবের নতুন নাম হবে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)’। শিগগিরই এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ জারি করা হবে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
উপদেষ্টা বলেন, ‘বাহিনীটির কাঠামো ও কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার পর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পোশাকও বানানো হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘র্যাব পুনর্গঠনে জন্য প্রধান উপদেষ্টা প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজকে সভাপতি করে একটা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটি র্যাবের নতুন নাম সুপারিশ করেছে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স বা এসআইএফ। প্রধান উপদেষ্টা সেটি অনুমোদন দিয়েছেন। এটি আজকে থেকেই কার্যকর হবে। এই বাহিনীটির কার্যক্রম নতুনভাবে শুরু হবে। এ বিষয়ে সরকারি একটা অর্ডার (আদেশ) হবে।’
নাম পরিবর্তনেসর সঙ্গে সঙ্গে র্যাবের কাজের মানে পরিবর্তন আসবে কিনা জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আপনারা দেখছেন যে তাদের কাজের মানে পরিবর্তন ইতোমধ্যে চলেও এসেছে। আপনি যদি তাদের দেড় বছর আগের কাজের মান দেখেন আর এখন দেখেন, সেটার মধ্যে পরিবর্তন অনেক এসেছে।’
এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, ‘মানুষ ওই (র্যাব) নামটাকে খারাপ মনে করত, এজন্য নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।’
১৬ দিন আগে
পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপির বিশেষ হটলাইন নম্বর প্রকাশ
সদর দপ্তরের অপারেশন কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা তথ্য জানাতে এসব নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য সাধারণ জনগণকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সাল হাসানের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অপারেশন কন্ট্রোল রুমের মোবাইল নম্বরগুলো হলো: ০১৩২০০০১২২৩, ০১৩২০০০১৩০০ ও ০১৩২০০০১২৯৯।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি-সংক্রান্ত অভিযোগ ও তথ্য গ্রহণে এসব নম্বর ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে।
অপরদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বিশেষ হটলাইন নম্বর চালু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
ডিএমপির মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান বলেন, এসব হটলাইন নম্বরের মাধ্যমে নির্বাচন-সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বা অভিযোগ সহজে ও দ্রুত পুলিশকে জানাতে পারবেন নগরবাসী।
নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন বা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে, এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডে পুলিশের হস্তক্ষেপের অভিযোগ বিষয়ে নিচের মোবাইল নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করার জন্য নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
নম্বগুলো হলো: ০১৩২০০৩৭৩৫৮, ০১৩২০০৩৭৩৫৯ ও ০১৩২০০৩৭৩৬০ ।
একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
১৭ দিন আগে
নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে মারণাস্ত্র ব্যবহার করবে না বিজিবি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট চলাকালে দায়িত্ব পালনের সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের মারণাস্ত্র ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতির প্রয়োজনে সব ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিজিবি সদর দপ্তর সূত্র জানায়, নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ সময় দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখেই সারা দেশে ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। ভোটাররা যেন নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন—সে লক্ষ্যেই এই মোতায়েন।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলায় নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় এককভাবে নির্বাচনি দায়িত্বে থাকবে এই বাহিনী। ঝুঁকি বিবেচনায় দেশের সব ৩০০ সংসদীয় আসনে বিজিবি ভ্রাম্যমাণ ও স্থির বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। উপজেলাভেদে দুই থেকে চার প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে।
নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম (র্যাট), হেলিকপ্টারসহ কুইক রেসপন্স ফোর্স এবং বিশেষায়িত কে–৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিট প্রস্তুত থাকবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিজিবির ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এ এস এম আবুল এহসান বলেন, ‘বিজিবি মহাপরিচালকের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে—নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের সময় মারণাস্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।’
১৯ দিন আগে