আইনশৃঙ্খলা
পুলিশের উচ্চপর্যায়ে রদবদল, পদোন্নতি পেলেন ৩ কর্মকর্তা
বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ছয় অতিরিক্ত আইজিপি ও পাঁচ ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে বদলি ও নতুন পদে পদায়ন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসব আদেশ জারি করা হয়।
একটি প্রজ্ঞাপনে অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার ছয় কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়। এর মধ্যে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক (ডিআইজি) সায়েদুর রহমানকে পদোন্নতি দিয়ে পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি করা হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্বে) মাইনুল হাসানকে রাজশাহীর সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমির প্রিন্সিপাল (অতিরিক্ত আইজিপি) পদে পদায়ন করা হয়েছে।
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ইকবাল হোসেন এবং পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি কামরুল আহসানকে পদোন্নতি দিয়ে যথাক্রমে পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি ও বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত আইজিপি করা হয়েছে।
এছাড়া বিশেষ শাখার অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নূরুল আমীনকে পুলিশ অধিদপ্তরে এবং সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমির প্রিন্সিপাল জি এম আজিজুর রহমানকে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
অন্য প্রজ্ঞাপনে ডিআইজি পদমর্যাদার পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি ও নতুন পদে পদায়ন করা হয়েছে।
এর মধ্যে পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি রেজাউল করিমকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি এবং খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমানকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের ডিআইজি মোহাম্মদ মুসলিমকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক, বিশেষ শাখার (এসবি) ডিআইজি মীর আশরাফ আলীকে রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি এবং মাস র্যাপিড ট্রানজিটের (মেট্রোরেল) ডিআইজি সিদ্দীকী তানজিলুর রহমানকে এসবির ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।
১৭ ঘণ্টা আগে
সাতজনের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর হাইকোর্টের বিপরীতে ককটেল বিস্ফোরণ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার পর রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। হাইকোর্টের বিপরীতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সামনের সড়কে এ বিস্ফোরণ হয়।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে বিস্ফোরণের পর ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এতে কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
চব্বিশের জুলাইয়ে গণহত্যায় জড়িত থাকার দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর বিস্ফোরণটি ঘটে।
বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভয়ে কেউ কেউ বিভিন্ন দিকে দৌড়াতে শুরু করে। ব্যস্ত সড়কে বিস্ফোরণের কারণে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
কে বা কারা ককটেলটি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে খবর পেয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ আলামত সংগ্রহ করেছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করছে পুলিশ।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে।
২ দিন আগে
মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালী আসিফ ইনান।
সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। রায়ে আসামিদের সম্পদ বাজেয়াপ্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নথি অনুযায়ী, মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মোট সাতটি অভিযোগ আনা হয়। ২০২৫ সালের ১৮ জুন মামলার তদন্ত শুরু করে তদন্ত সংস্থা। একই বছরের ৭ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এরপর ১৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল ও মামলাটি আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।
২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের মোট ২৯ জন সাক্ষী ছিলেন। তাদের মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। সাক্ষ্যগ্রহণের বিভিন্ন পর্যায়ে ২৭ জুলাই, ২৯ জুলাই ও ২ আগস্ট সাক্ষীদের সাক্ষ্য রেকর্ড করা হয়।
মামলায় আদালতে ১২৩ সিরিজের নথি ও ডকুমেন্ট প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি ২৭টি বস্তুগত আলামতও প্রদর্শন করা হয়েছে।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ৪ আগস্ট যুক্তিতর্ক শুরু হয়। ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক শেষ হয়। এ জন্য আদালত মোট নয় কার্যদিবস সময় দেন।
যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। নথিতে রায় ঘোষণার তারিখ হিসেবে ১৫ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২-এ মামলাটির বিচারিক নিষ্পত্তি হলো।
২ দিন আগে
আইনি কাঠামোর বাইরে পদক্ষেপ বা ক্রসফায়ারের সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আইনের কাঠামোর বাইরে কোনো পদক্ষেপ বা ‘ক্রসফায়ার’-এর সুযোগ নেই।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।
খুলনা জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সুশাসন নিশ্চিতকরণ ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে খুলনা জেলা প্রশাসন এ সভার আয়োজন করে।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইনের কাঠামোর বাইরে কোনো পদক্ষেপ বা ক্রসফায়ারের সুযোগ নেই। সন্ত্রাস দমনের জন্য ক্রসফায়ারের কোনো প্রয়োজন নেই এবং প্রচলিত আইনই এর জন্য যথেষ্ট।’
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে এবং বিচারপ্রার্থী জনগণ যেন দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পান, সেদিকে প্রশাসনকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’
সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা খুলনা জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত বর্তমান চিত্র মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।
খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ ও সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল, আমির এজাজ খান, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা, খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী, খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি।
খুলনা বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকাল ৯টায় খুলনা জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে জেলার সব পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইনমন্ত্রী। এ সময় মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে আদালতে মামলা জট কমানোর জন্য বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সভায় জেলা ও দায়রা জজ চাঁদ মোহাম্মদ আব্দুল আলিম আল রাজীসহ অন্য বিচারকরা উপস্থিত ছিলেন।
৩ দিন আগে
ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় মঙ্গলবার
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামীকাল মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদসহ অন্য প্রসিকিউটররা।
মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন: আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।
এর আগে, গত ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত ২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।
এরপর চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন একই ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে আসামিদের ভূমিকা ছিল। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয় যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।
৩ দিন আগে
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ তদন্ত করবে দুদক
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, ব্যাপক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বদলি ও অন্যান্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের নতুন অভিযোগ তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার এবং পর্তুগাল, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইস ব্যাংকে সম্পদ গড়ে তোলা। আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে চলমান একটি অনুসন্ধানের সঙ্গে নতুন অভিযোগগুলো যুক্ত করে তদন্ত করবে দুদক।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান কমিশনের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ।
দুদক কর্মকর্তা বলেন, উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, ডিসি পদায়ন, বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার, নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতিতে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার ও শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সেই সঙ্গে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচার করে পর্তুগাল, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইস ব্যাংকে সম্পদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে।
তানজির আহমেদ বলেন, আসিফ মাহমুদের বাবা, তার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তার (পিও) বিরুদ্ধেও ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, ঘুষ লেনদেনের তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগটি যাচাই-বাছাই শেষে কমিশন চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে সংযুক্ত করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন, একটি অভিযোগ ইতোমধ্যে অনুসন্ধানে রয়েছে। সেই চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে সংযুক্ত করে এই অভিযোগটি অনুসন্ধান করা হবে।’
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসিফ মাহমুদ। এসব অভিযোগকে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ ও ‘চরিত্র হনন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘অভিযোগ বনাম বাস্তবতা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ নিয়ে কথা বলেন আসিফ মাহমুদ।
নিজেই এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করেছেন দাবি করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপির সময়ে হওয়া পদোন্নতি, বদলির জন্য আমার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান হচ্ছে। মানে সার্কাসেরও একটা সীমা থাকা উচিত। ক্লিয়ারলি, মিডিয়া ট্রায়ালে ফেলা হচ্ছে আমাকে।’
৪ দিন আগে
আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল-ধর্মঘট অবৈধ: হাইকোর্ট
আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে হরতাল বা ধর্মঘট আহ্বানকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মসূচি ডাকলে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি শশাঙ্ক কুমার সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
রায়ে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুসারে আদালতের রায় সবার জন্য বাধ্যতামূলক। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকলেও রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল বা ধর্মঘট আহ্বান করা অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থি।
সেই সঙ্গে আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রসচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনকে (বিআরটিসি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
২০১১ সালের আগস্টে মানিকগঞ্জের ঘিওরে সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ, সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন। ওই ঘটনায় বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা হলে ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বাসচালককে সাজা দেন।
সাজার প্রতিবাদে সে সময় বাসমালিকরা পরিবহন ধর্মঘট ও হরতাল পালন করেন বলে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) রিট করে।
এইচআরপিবির রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল আহ্বান কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।
সেই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্মঘট বা হরতাল প্রত্যাহার এবং গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ওই নির্দেশের পরদিন পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।
ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ (রবিবার) রায় দিলেন হাইকোর্ট।
আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আহসান হাবীব। বিআরটিসির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আসিবুল হক। বিআরটিএর পক্ষে ছিলেন মো. রাফিউল ইসলাম।
মনজিল মোরসেদ বলেন, দুর্ঘটনার কারণে চালককে সাজা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মালিকরা পরিবহন ধর্মঘট ডেকে আদালতের আদেশের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, সব নাগরিকের চলাচলের স্বাধীনতা ধর্মঘটের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে।
৪ দিন আগে
শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ আইন নির্ধারণ করবে: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আপিল করতে চাইলে আইন সেটা নির্ধারণ করবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইন ও বিচার বিভাগ এবং ব্র্যাকের মধ্যে ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আপিলের সুযোগ পাবেন না এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে—এমন আলোচনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘যখন উনি আপিল করতে চাইবেন, তখন আইন তা নির্ধারণ করবে। তার আগে না।’
এর আগে শেখ হাসিনাকে ভারত হস্তান্তর করবে না বলে দেশটির একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে এটি আইন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রত্যর্পণ আপনি আগে দেখেন, প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তির সঙ্গে কোন কোন মন্ত্রণালয় জড়িত থাকে, সেটা দেখে তারপর প্রশ্ন করেন।’
‘আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে’ — সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি মঙ্গলবার এজলাস ত্যাগ করেছেন। এ ঘটনা নিয়ে আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আশা করি প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্ট বার এ বিষয়ে নিষ্পত্তি করে ফেলেছেন।’
তিনি আরও বলেন, এটা বার আর বেঞ্চের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কের ব্যাপার। কখন, কীভাবে সমাধান করতে হয়, তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সক্ষম।
৮ দিন আগে
বিআরটিএর অনুমোদন ছাড়া সড়কে স্লিপার বাস চলবে না: হাইকোর্ট
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অনুমোদন ছাড়া মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচল করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট। বিআরটিএ যেসব বাস চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, কেবল সেগুলোই সড়কে চলতে পারবে বলে জানিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানোর অনুমতি চেয়ে বাস মালিক সমিতির করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানিতে বিআরটিএর পক্ষে আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধান আদালতের সামনে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, আইনের ৪০ ধারায় যানবাহনের কারিগরি বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত বৈশিষ্ট্য লঙ্ঘন করলে তা ৮৪ ধারায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছরের কারাদণ্ড ও তিন লাখ টাকা জরিমানা।
আইনের ২৮ ধারার উল্লেখ করে তিনি বলেন, রুট পারমিট ছাড়া কোনো যানবাহন সড়কে চলাচল করতে পারবে না।
পরে সাংবাদিকদের আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম বলেন, ‘আদালত বলেছেন, শুধুমাত্র বিআরটিএ যেসব বাস চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, সেগুলোই রাস্তায় চলবে। স্লিপার বাস চালানোর কোনো অনুমতি নেই। হাইকোর্টও স্লিপার বাস চলাচলের অনুমতি দেয়নি।’
এর ফলে বিআরটিএর অনুমোদন ও রুট পারমিট ছাড়া মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচলের সুযোগ থাকছে না। এ ধরনের বাসকে সড়ক পরিবহন আইন ও নির্ধারিত কারিগরি বৈশিষ্ট্য মেনেই চলাচল করতে হবে।
মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি রিটটি করেন আইনজীবী মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খান। রিটে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অননুমোদিত স্লিপার বাস চলাচলের ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়।
৮ দিন আগে
হাটহাজারীতে অনুশীলন চলাকালে গোলাবর্ষণে ২ সেনাসদস্য নিহত
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সেনাসদস্য নিহত এবং এক কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্ঘটনায় আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
৮ দিন আগে