অন্যান্য
তাইওয়ান সফরের করায় নিউজিল্যান্ডের ৪ আইনপ্রণেতার ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
তাইওয়ান সফর করায় নিউজিল্যান্ডের চার আইনপ্রণেতার ওপর এক বছরের জন্য চীন, হংকং ও ম্যাকাওয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে চীন। একইসঙ্গে তাইওয়ান সফরের জন্য চীনের কাছে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতাদের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পাঠানো এক বার্তায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ওয়েলিংটনে অবস্থিত চীনের দূতাবাস। পরে সংসদীয় কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বার্তাটি নিউজিল্যান্ডের চার আইনপ্রণেতার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
নিউজিল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, তাইওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে অতীতে অন্যান্য দেশের আইনপ্রণেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। তবে নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতাদের বিরুদ্ধে এই প্রথম চীন এমন পদক্ষেপ নিল। গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে চীন নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির ওপর চাপ বাড়িয়ে আসছে চীন।
এদিকে, নিউজিল্যান্ডের চার আইনপ্রণেতার মধ্যে দুজন এপিকে জানিয়েছে, তারা চীনের কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্য দুইজনের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে নিউজিল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, তারা এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে চীনের সঙ্গে কথা বলবে।
এ বিষয়ে নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্সের এক মুখপাত্র জানান, চীন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া আইনপ্রণেতারা গত মে মাসে তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেই সফর করেছিলেন। নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতারা কয়েক দশক ধরেই এ ধরনের সফর করে আসছেন।
চীনের দাবি, তাইপেইয়ের নিজস্বভাবে কোনো ধরনের বিদেশি সম্পর্ক পরিচালনার কোনো অধিকার নেই। এছাড়া বিদেশি আইনপ্রণেতাদের তাইওয়ান সফরকে চীনের সার্বভৌমত্বের প্রতি বাধা হিসেবে দেখছে তারা।
নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্সের মুখপাত্র জানান, ‘ওয়ান চায়না’ নীতির আওতায় তাইওয়ানকে চীনের একটি প্রদেশ হিসেবে দাবি করা হয়। নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতার ওই সফর ‘ওয়ান চায়না’ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। এছাড়া তাইওয়ান সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, এমন ১২টি দেশের মধ্যে নিউজিল্যান্ড অন্তর্ভুক্ত নয়।
এপি জানিয়েছে, ওয়েলিংটনে অবস্থিত চীনের দূতাবাস নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টারি সার্ভিসে একটি বার্তা পাঠায়। ওই বার্তার মাধ্যমে তাইওয়ানে সফর করা চার আইনপ্রণেতাকে এক বছরের জন্য চীন, ম্যাকাও ও হংকংয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধের বিষয়টি জানানো হয়। নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টারি সার্ভিস থেকে এই বার্তাটি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতাদের একটি ইমেইলে পাঠানো হয়।
চীনা দূতাবাসের বার্তায় আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতারা যদি তাইওয়ান সফরের জন্য চীনের কাছে ক্ষমা চান, তাহলে তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার চীনা দূতাবাসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানান, নিউজিল্যান্ডসহ যেসব দেশের সঙ্গে চীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, অনেকদিন ধরেই সেসব দেশের আইনপ্রণেতাদের তাইওয়ান সফরের বিরোধিতা করে আসছে চীন। এই ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়। নিউজিল্যান্ডের এ বিষয়ে বিস্মিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
এদিকে, নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র জানান, বিষয়টি নিয়ে বেইজিং ও ওয়েলিংটনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিউজিল্যান্ডের কর্মকর্তারা চীনের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তারা চীন সরকারের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ জানাবেন।
তিনি আরও জানান, বিদেশ সফরে নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতারা কোন অঞ্চলে ভ্রমণ করবেন, সে সিদ্ধান্ততা তারা স্বাধীনভাবে নিয়ে থাকেন। এসব সফরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
লিবার্টারিয়ান অ্যাক্ট পার্টির আইনপ্রণেতা লরা ম্যাকক্লুর জানান, চীনের কাছে ক্ষমা চাওয়ার এই দাবি স্পষ্টতই অপমানজনক। তিনি কোনোভাবেই ক্ষমা চাইবেন না।
অন্যদিকে, মধ্য-বামপন্থি লেবার পার্টির আইনপ্রণেতা ডানকান ওয়েব জানান, নিউজিল্যান্ড গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগের অধিকারকে গুরুত্ব দেয়। এ কারণে যদি আমাকে এক বছরের জন্য চীনে প্রবেশ করতে না দেওয়া হয়, তাহলে সেই মূল্য দিতেও আমি প্রস্তুত।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিউজিল্যান্ড ও চীনের সম্পর্ক ইতিবাচক ছিল। চীন বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। এছাড়া নিউজিল্যান্ডই প্রথম চীনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেছিল।
অপরদিকে, নিউজিল্যান্ডের নিকটতম প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতাদের ওপর চীনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তাদের সরকারও উদ্বেগ প্রকাশ করবে। এ বিষয়ে বেইজিং এবং ক্যানবেরায় চীনা মিশনের সঙ্গে কথা বলবে অস্ট্রেলিয়া।
বৃহস্পতিবার ক্যানবেরায় সিনেট কমিটির এক বৈঠকে ওয়ং জানান, নিউজিল্যান্ড যে অবস্থান নিয়েছে, অস্ট্রেলিয়াও তার সঙ্গে একমত। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সংসদ সদস্যদের মতো নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতারাও সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজেদের বিদেশ সফরের সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে নিতে পারেন।
এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আইনপ্রণেতাদের ওপর ভ্রমণ-সংক্রান্ত বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করা কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়।’
৭ দিন আগে
ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জাতিসংঘের
ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের টেকসই পন্থা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
বৃস্পতিবার (২৮ মে) জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ আহ্বান জানান।
এ সপ্তাহের শেষদিকে ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক হামলার পর নিরাপত্তা পরিষদে ইউক্রেন বিষয়ক এক বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে গুতেরেস সতর্ক করেন, এই সংঘাতের গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
তিনি ভুল হিসাব-নিকাশ ও পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠার ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, এর পরিণতি হবে অজানা ও অনাকাঙ্ক্ষিত। তাই সরাসরি বলতে চাই, বর্তমান পরিস্থিতি অনুকূলে নয়। এই ধারা অবশ্যই বদলাতে হবে। এই মৃত্যুর খেলা থামাতেই হবে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনে ১৫ হাজারও বেশি বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৮ শতাধিক শিশুও রয়েছে। রাশিয়ার প্রতিবেদনেও ক্রমবর্ধমান বেসামরিক হতাহতের তথ্য উঠে আসছে, যার মধ্যে শিশুরাও রয়েছে।
গুতেরেস বলেন, সম্মুখ যুদ্ধরেখা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে এবং ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটছে। বিশেষত জ্বালানি অবকাঠামোসহ বেসামরিক স্থাপনাগুলো বিশাল মাত্রায় ধ্বংস হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবে এখন যা দরকার তা হলো উত্তেজনা প্রশমনের টেকসই পন্থা অবলম্বন। এখন যা দরকার, তা হলো পূর্ণ ও শর্তহীন যুদ্ধবিরতি, আরও কূটনীতি। দরকার এমন পরিবেশ তৈরি করা যা জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী একটি ন্যায়সঙ্গত, স্থায়ী ও সামগ্রিক শান্তির পথ খুলে দেবে।’
এদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত রবিবার জানিয়েছে, রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনের ‘বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার’ প্রতিশোধ হিসেবে রুশ সামরিক বাহিনী ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনাগুলোতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে।
১৪ দিন আগে
এ বছরই আসছে ‘এল নিনো’, ২০২৭ সালে ভাঙতে পারে বৈশ্বিক তাপমাত্রার রেকর্ড
জলবায়ু সংকট তীব্রতর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে একটি রেকর্ড-ভাঙা উত্তপ্ত বছরের মুখোমুখি হওয়া প্রায় নিশ্চিত বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। এ বছরের শেষে ‘এল নিনো’র আগমন প্রত্যাশা করে বৈশ্বিক তাপমাত্রার রেকর্ড ২০২৭ সালেই ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
দ্যা গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন ক্রমাগত বাড়ছে, যা বায়ুমণ্ডলে আরও বেশি তাপ আটকে রাখছে এবং ঘন ঘন চরম আবহাওয়ার ঘটনা ঘটাচ্ছে। এরই মধ্যে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে আঘাত হেনেছে রেকর্ড-ভাঙা তাপপ্রবাহ।
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ইতোমধ্যে প্রতি মিনিটে একজন মানুষের প্রাণ যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, এবং দ্রুত কার্বন ডাই-অক্সাইডের নির্গমন না কমালে এই মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়বে।
যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিসের তৈরি ডব্লিউএমওর প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে কমপক্ষে একটি বছর ২০২৪ সালকে ছাড়িয়ে এ পর্যন্ত সবচেয়ে উষ্ণ বছর হওয়ার সম্ভাবনা ৮৬ শতাংশ। ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের পাঁচ বছরের গড় তাপমাত্রা শিল্পপূর্ব যুগের গড়ের চেয়ে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হওয়ার সম্ভাবনাও প্রায় ৭৫ শতাংশ।
জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েল বলেন, ‘ইউরোপে সর্বশেষ তাপপ্রবাহ জলবায়ু সংকটের ঘূর্ণায়মান প্রভাবের একটি নির্মম স্মারক।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের অনেক অঞ্চলও কঠিন আঘাতের মুখে পড়ছে, যেমন ভারত এবং এশিয়ার অন্যান্য অংশ।’
স্টিয়েল বলেন, ‘চরম তাপ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ব্যয় থেকে মানুষের জীবন, ব্যবসা ও অর্থনীতি রক্ষা করা প্রতিটি দেশের মূল দায়িত্ব, আর এটি শুরু হয় জীবাশ্ম জ্বালানির আসক্তি আরও দ্রুত ত্যাগ করার মাধ্যমে।’
তিনি উল্লেখ করেন, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন এখন জীবাশ্ম জ্বালানির চেয়ে সস্তা এবং দ্রুত উৎপাদনযোগ্য।
বিজ্ঞানীরা বারবার সতর্ক করেছেন যে, ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উষ্ণতা আরও তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা, ঝড় ও বন্যার সম্ভাবনা বাড়ায় এবং সমাজের মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। তবে উষ্ণতার প্রতিটি ভগ্নাংশ ডিগ্রি যদি এড়ানো যায়, তাহলেও ক্ষয়ক্ষতি কমে।
প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা শিল্পপূর্ব যুগের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা। এটি ২০ বছরের গড়ের ভিত্তিতে পরিমাপ করা হয়। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এখন অসম্ভব বলেই ধরা হচ্ছে।
অবশ্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার পরবর্তী ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্যমাত্রা এখনও অর্জনযোগ্য। ডব্লিউএমও প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে কোনো একটি বছরে তাপমাত্রা শিল্পপূর্ব যুগের বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রার চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ১ শতাংশেরও কম।
‘এল নিনো’ হলো মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এর প্রভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই প্রাকৃতিক ও চক্রাকার আবহাওয়ার ঘটনাটি এ বছরের শেষে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এল নিনো আসার সম্ভাবনা ৯৬ শতাংশ এবং একটি সুপার এল নিনোর সম্ভাবনাও রয়েছে অন্তত ৩৫ শতাংশ।
প্রশান্ত মহাসাগরে বায়ুর গতিপ্রবাহের পরিবর্তনের কারণে এল নিনো তৈরি হয়, যার ফলে সমুদ্রে জমে থাকা তাপ বায়ুমণ্ডলে মুক্ত হয়। ডব্লিউএমও প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ড. লিওন হার্মান্সন বলেন, ‘২০২৬ সালের শেষে একটি এল নিনোর পূর্বাভাস রয়েছে, যা পরের বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে পরবর্তী রেকর্ড-ভাঙা বছর হওয়ার সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দেয়।’
নতুন প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, আর্কটিকে আগামী পাঁচটি শীতকাল সাম্প্রতিক গড়ের চেয়ে ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উষ্ণ হবে, অর্থাৎ এই অঞ্চলটি বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় তিনগুণেরও বেশি দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তর ইউরোপ, সাহেল অঞ্চল, আলাস্কা ও সাইবেরিয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, আর অ্যামাজন অঞ্চলে কম বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
১৪ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা উপেক্ষা করে জলবায়ু সংকটবিষয়ক আইসিজে মতামতের পক্ষে জাতিসংঘের প্রস্তাব গৃহীত
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় রাষ্ট্রগুলোর আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে—আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) এমন উপদেষ্টা মতামতকে সমর্থন জানিয়ে ১৪১-৮ ভোটে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক কার্বন নিঃসরণকারী যুক্তরাষ্ট্র এ প্রস্তাবের বিরোধিতাকারী দেশগুলোর মধ্যে ছিল।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর উত্থাপিত প্রস্তাবটি আইসিজের জুলাই ২০২৫-এর উপদেষ্টা মতামতকে সমর্থন করে। ওই মতামতে বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবেলায় রাষ্ট্রগুলোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ২৮টি দেশ অংশ নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও সৌদি আরব, রাশিয়া, ইসরায়েল, ইরান, ইয়েমেন, লাইবেরিয়া ও বেলারুশ প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজক তুরস্ক, ভারত এবং তেল উৎপাদনকারী কাতার ও নাইজেরিয়া ভোটদানে বিরত থাকে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভোটের পর এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনে আইসিজের উপদেষ্টা মতামত সংক্রান্ত সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব গ্রহণকে আমি স্বাগত জানাই। এটি আন্তর্জাতিক আইন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, বিজ্ঞান এবং জনগণকে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট থেকে রক্ষার রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের একটি শক্তিশালী স্বীকৃতি বলা যায়।’
তিনি আরও বলেন, সরকারগুলো নাগরিকদের ‘ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট’ থেকে রক্ষার দায়বদ্ধতার স্বীকৃতি দিয়েছে।
যদিও আইসিজের এ মতামত আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়, তবু এটি ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে জলবায়ুবিষয়ক মামলায় ব্যবহার হচ্ছে এবং বিভিন্ন আদালতের বিচারকরা রায়ে এর উল্লেখ শুরু করেছেন। তবে কূটনৈতিক পর্যায়ে এটি জটিলতা তৈরি করেছে। বেলেমে গত বছরের ইউএনএফসিসিসি জলবায়ু আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি; সৌদি আরব চূড়ান্ত নথিতে এর অন্তর্ভুক্তিকে ‘লাল, লাল রেখা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিসহ বেশ কয়েকটি পরিবেশবিষয়ক চুক্তি থেকে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করেছে।
জাতিসংঘে মার্কিন উপরাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস বলেন, ‘প্রস্তাবটিতে জীবাশ্ম জ্বালানি সংক্রান্ত অনুপযুক্ত রাজনৈতিক দাবি রয়েছে।’
২১ দিন আগে
বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম, চার বছরে সর্বোচ্চ
ইরান যুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপের নতুন পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্রিফ করতে যাচ্ছে—এমন খবরের পর বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১২৬ ডলার (৯৪ পাউন্ড) ছাড়িয়েছে, যা গত চার বছরে সর্বোচ্চ।
সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট অ্যাক্সিওসের বরাতে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে আলোচনার অচলাবস্থা ভাঙার লক্ষ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড তেহরানের ওপর এক দফায় সংক্ষিপ্ত ও শক্তিশালী হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে।
শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়া এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ থাকায় এই সপ্তাহে জ্বালানির দাম ক্রমাগত বেড়েছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ইরানের অবকাঠামো থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অন্য একটি পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালির একাংশ দখল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যাতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য এটি পুনরায় খুলে দেওয়া যায়। এটি করতে গেলে স্থলসেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে লেনদেন হওয়া ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড অয়েলের দামও ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০৯ ডলারে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তেহরান যতদিন হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে হুমকি দেওয়া অব্যাহত রাখবে, ততদিন তারা ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রাখবে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
ইরান তার ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে এই জলপথে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে। এ প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।
ওয়াশিংটন ইরানের ওপর একটি দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন খবরের পর বুধবার তেলের দাম ৬ শতাংশ বেড়েছিল।
এদিকে, মার্কিন ভোক্তাদের ওপর যুদ্ধের প্রভাব কীভাবে কমানো যায় তা নিয়ে আলোচনার জন্য মঙ্গলবার জ্বালানি খাতের নির্বাহীরা ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এটি বাজারে জ্বালানি সরবরাহ দীর্ঘকাল বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
৪৩ দিন আগে
১৭০০ বছরের পুরোনো ভারতীয় জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক যন্ত্র নিলামে উঠছে
এক হাজার ৭০০ বছরের পুরোনো ভারতীয় রাজপরিবারের সংগ্রহে থাকা এক অসাধারণ পিতলের অ্যাস্ট্রোল্যাব নিলামে তোলা হবে। এটি মূলত হাতে বহনযোগ্য জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ‘কম্পিউটার’।
বিরল এই যন্ত্রটি আগামী ২৯ এপ্রিল লন্ডনের আর্ন্তজাতিক নিলাম প্রতিষ্ঠান সোথবিতে নিলামে তোলা হবে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।
সোথবির ইসলামিক ও ভারতীয় শিল্পকলা বিভাগের প্রধান বেনেডিক্ট কার্টার বিবিসিকে বলেছেন, বস্তুটি ‘সম্ভবত এ যাবৎকালে সবচেয়ে বড় এবং এটি এর আগে কখনো প্রদর্শিত হয়নি’।
জানা যায়, এটি মূলত জয়পুরের মহারাজা দ্বিতীয় সওয়াই মান সিংয়ের রাজকীয় সংগ্রহে ছিল। তার মৃত্যুর পর এটি তার স্ত্রী তৎকালীন অন্যতম সুন্দরী রমনী মহারানী গায়ত্রী দেবীর কাছে হস্তান্তরিত হয়। এরপর তার জীবদ্দশায় এটি একটি ব্যক্তিগত সংগ্রহে চলে যায়।
অ্যাস্ট্রোল্যাব হলো বহুস্তরবিশিষ্ট ধাতব ডিস্ক জাতীয় একটি যন্ত্র। অতীতে এটি সময় নির্ধারণ, নক্ষত্রের অবস্থান নির্ণয়, মক্কার দিক নির্ধারণ এবং আকাশের গতিবিধি বোঝার কাজে ব্যবহৃত হতো।
অক্সফোর্ড সেন্টার ফর হিস্ট্রি অব সায়েন্স, মেডিসিন অ্যান্ড টেকনোলজির ডক্টর ফেডেরিকা জিগান্তে বলেন, এগুলো মূলত একটি ত্রিমাত্রিক মহাবিশ্বের দ্বিমাত্রিক উপস্থাপনা। আমি এগুলোকে আধুনিক স্মার্টফোনের সঙ্গে তুলনা করি, কারণ এগুলো দিয়ে অনেক কিছু করা যায়।
তিনি আরও জানান, অ্যাস্ট্রোল্যাব ব্যবহার করে সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের সময়, ভবনের উচ্চতা, কূপের গভীরতা ও দূরত্ব নির্ণয় করা যেত। এমনকি জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী ভবিষ্যৎ অনুমান করতেও এটি ব্যবহৃত হতো।
অ্যাস্ট্রোল্যাবের উদ্ভব প্রাচীন গ্রিসে খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকে এবং অষ্টম শতকে এটি ইসলামি বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ইরাক, ইরান, উত্তর আফ্রিকা এবং স্পেনের উৎপাদনকারী হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
বিশেষ এই যন্ত্রটি সপ্তদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে বর্তমান পাকিস্তানের লাহোরে তৈরি হয়েছিল। কাইম মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদ মুকিম নামক দুই ভাই আগা আফজাল নামক একজন অভিজাত মুঘল ব্যক্তির জন্য যন্ত্রটি তৈরি করেছিলেন। ওই ব্যক্তি তখন লাহোর প্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন এবং উচ্চপদে সম্রাট জাহাঙ্গীর ও শাহজাহানের অধীনে কাজ করতেন।
এই যন্ত্রটির ওজন প্রায় ৮ কেজি ২০০ গ্রাম, ব্যাস প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার এবং উচ্চতা প্রায় ৪৬ সেন্টিমিটার। সাধারণ অ্যাস্ট্রোল্যাবের তুলনায় এটি প্রায় চার গুণ বড়।
এতে পারস্য ভাষার পাশাপাশি দেবনাগরী লিপিতে সংস্কৃত ভাষায় নক্ষত্রের নাম খোদাই করা রয়েছে, যা এর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যতাকে তুলে ধরে।
অ্যাস্ট্রোল্যাবটিতে ৯৪টি শহরের নাম, তাদের দ্রাঘিমা-অক্ষাংশসহ এবং ৩৮টি নক্ষত্র নির্দেশক রয়েছে। এছাড়া এতে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ভাগ করা ডিগ্রি চিহ্নসহ পাঁচটি নির্ভুল প্লেট রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যন্ত্রটি শুধু বড় ও সুন্দরই নয়, অত্যন্ত নির্ভুলও, যা দিয়ে মহাজাগতিক বস্তুর উচ্চতার সঠিক কোণ নির্ধারণ করা যায়।
সোথবি জানিয়েছে, এর উৎকৃষ্ট অবস্থা ও রাজকীয় ইতিহাসের কারণে জাদুঘর ও সংগ্রাহকদের মধ্যে এটি ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করবে। এর সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ১৫ থেকে ২৫ লাখ পাউন্ড।
এই বিরল বস্তুটি ২০১৪ সালে ১০ লাখ পাউন্ডে বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে এই যন্ত্রটি সুলতান দ্বিতীয় বায়েজিদের দখলে রয়েছে।
অ্যাস্ট্রোল্যাবটি ২৪ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত লন্ডনের সোথেবির গ্যালারিতে প্রদর্শিত হবে।
৪৬ দিন আগে
ইরান যুদ্ধে ব্যয় করা মার্কিন অর্থে প্রাণ বাঁচত ৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষের: জাতিসংঘ
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক সংস্থার (ওসিএইচএ) প্রধান টম ফ্লেচার বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তার ‘বেপরোয়া’ যুদ্ধে প্রতি সপ্তাহে যে ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করছেন, তা দিয়ে ৮ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব ছিল।
স্থানীয় সময় সোমবার (২০ এপ্রিল) লন্ডনের চ্যাথাম হাউসে দেওয়া এক বক্তৃতায় সাবেক ব্রিটিশ কূটনীতিক ও একাধিক প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ফ্লেচার এ কথা বলেন।
ফ্লেচারের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ইরানকে বোমা মেরে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেওয়ার’ হুমকির মতো সহিংস ভাষার স্বাভাবিকীকরণ অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ এটি প্রতিটি ‘সম্ভাব্য স্বৈরাচারীকে’ একই ধরনের হুমকি এবং কৌশল ব্যবহারে উৎসাহিত করে।
এ সময় ব্রিটিশ রাজনীতিবিদদেরও সমালোচনা করেছেন তিনি। ফ্লেচারের অভিযোগ, ব্রিটিশ রাজনীতিবিদরা গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিজেদের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুড়িতে লিপ্ত যা যুক্তরাজ্যকে একটি ‘রক্ষণাত্মক অবস্থানে’ ফেলে দিয়েছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক সাহায্য খাতে কাটছাঁট এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, এখন বিভিন্ন সম্মেলনে যখন যুক্তরাজ্য এই বিষয়ে নিজেদের ‘নেতৃস্থানীয়’ বলে দাবি করে, তখন উপস্থিতরা মুচকি হাসে।
মানবিক বিষয় ও জরুরি ত্রাণবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এবং ওসিএইচএর প্রধান ফ্লেচার বর্তমানে মানবিক সহায়তা তহবিলের চরম সংকটের সঙ্গে লড়াই করছেন। তিনি একে ‘বিপর্যয়কর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কারণ তার বাজেট ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
তিনি জানান, এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের কারণে নয়, বরং আদর্শগত কারণ এবং প্রতিরক্ষা বাজেটের চাহিদার সংমিশ্রণে আন্তর্জাতিকভাবে বৈদেশিক সাহায্যে যে কাটছাঁট করা হয়েছে, তারই ফল।
ফ্লেচার বলেন, ইরানের যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে অনুভূত হচ্ছে। খাদ্য ও জ্বালানি মুদ্রাস্ফীতি ২০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়ে তিনি বলেন, সাব-সাহারা আফ্রিকা এবং পূর্ব আফ্রিকায় আমরা আগামী কয়েক বছর এর প্রভাব অনুভব করব, যা আরও বহু মানুষকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেবে।
ফ্লেচার বলেন, এই যুদ্ধের প্রতিটি দিনের জন্য ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করা হচ্ছে। অথচ ৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচানোর জন্য আমার তৈরি করা ‘অত্যন্ত অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনা’র পুরো লক্ষ্যমাত্রা হলো ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। এই বেপরোয়া যুদ্ধের দুই সপ্তাহের কম সময়ের খরচ দিয়ে আমরা সেই অর্থায়ন করতে পারতাম। কিন্তু এখন আমরা তা পারছি না।
তিনি আরও বলেন, হঠাৎ করেই এই ধারণাটি স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে ‘আমরা সবকিছু উড়িয়ে দেব, আমরা তোমাদের বোমা মেরে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেব, তোমাদের সভ্যতা ধ্বংস করে দেব’। এই ধরনের ভাষার স্বাভাবিকীকরণকে বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এটি বিশ্বের অন্যান্য স্বৈরাচারী হতে চাওয়া ব্যক্তি, যারা আন্তর্জাতিক আইন সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে বেসামরিক অবকাঠামো এবং বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানায়, তাদের এই ধরনের ভাষা এবং কৌশল ব্যবহার করতে আরও সুযোগ করে দেয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পর্ককে একটি ‘চরম অনিশ্চয়তা বা রোলারকোস্টার রাইড’ হিসেবে বর্ণনা করেন ফ্লেচার। তবে তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের টিমকে এটি বোঝাতে কিছুটা সফল হয়েছি যে জাতিসংঘ কেবল একদল অযোগ্য, অকেজো ও ক্লান্ত আমলাদের আস্তানা নয়।’
যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সমালোচনা করে ওসিএইচএর প্রধান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং আবাসন ব্যবসা পরিচালনার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আমি ট্রাম্প প্রশাসনে যাদের সঙ্গে কাজ করছি, তাদের বেশিরভাগই আবাসন ব্যবসা থেকে আসা। বিশ্বের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন।
রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সব কাজ শেষ করার পর প্রক্রিয়ার শেষে করমর্দন করে। কিন্তু আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্তরা আগে করমর্দন করে দেখে যে ‘আমি কি এই ব্যক্তিকে বিশ্বাস করতে পারি?’ এবং তারপর বলে ‘চলুন চুক্তি করি’... এটি ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়। তারা প্রতিষ্ঠানের প্রতি কম আগ্রহী, তাই জাতিসংঘের পতাকা নিয়ে প্রবেশ করলে তা আপনাকে খুব একটা সাহায্য করবে না।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে আমরা যারা যুক্ত, তারা নিশ্চয়তা, স্থিতিশীলতা এবং প্রক্রিয়া পছন্দ করি। আমাদের প্রোটোকল, মানচিত্র এবং পতাকার দিকে তাকালেই তা বোঝা যায়। আমরা শৃঙ্খলা পছন্দ করি, কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা, বিশৃঙ্খলা বেশি কার্যকর। তারা মনে করে অনিশ্চয়তা, প্রতিপক্ষ ও বন্ধুকে অপ্রস্তুত করে দেওয়ার মাধ্যমে তারা বেশি ফলাফল পান। আমরা দেখব শেষ পর্যন্ত কী হয়।
ফ্লেচার বলেন, ট্রাম্প যদি ১৪টি যুদ্ধ শেষ করেন, তবে তাকে এর জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হোক; তবে কেবল কথা না বলে কাজগুলো আসলে শেষ করা প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, গর্ভপাত বা ট্রান্সজেন্ডার অধিকারের মতো বিষয়গুলোতে যদি নতুন কোনো শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, তবে মার্কিন সহায়তা গ্রহণ করবেন কি না—এই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে তিনি রাতে ঘুমাতে পর্যন্ত পারছেন না।
তিনি বলেন, প্রশ্ন হলো, সেই শর্ত মেনে আমরা কি সেই টাকা নেব, এটা জেনেও যে তা লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাবে? নাকি নেব না? শর্ত মেনে নেওয়ার কোনো ইচ্ছে আমার নেই।
ফ্লেচারের দাবি, যুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক কাঠামোটি ক্রমাগত আক্রমণের শিকার হচ্ছে এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সম্পূর্ণরূপে মেরুকৃত। তার ভাষ্য, আমরা এখন একটি লেনদেনমূলক ভূ-রাজনৈতিক মুহূর্তে রয়েছি যেখানে সদস্য দেশগুলো নিরাপত্তা পরিষদকে এমন একটি যন্ত্র হিসেবে দেখে না যার মাধ্যমে তাদের বিশ্ব শান্তির জন্য কাজ করা উচিত।
বাজেট কাটছাঁটের ফলে এর প্রভাব বিশাল হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমি যদি কোনো সংস্থা বা এজেন্সির প্রধান হতাম এবং আমার ৫০ বিলিয়ন ডলারের সংস্থাটি যদি এই বছর ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসত, তবে সম্ভবত এতক্ষণে আমি বরখাস্ত হতাম।
আমার পরিসংখ্যানগুলো সুখকর নয়। একদিকে অর্থ কমে আসছে, অন্যদিকে প্রয়োজন বেড়ে বাড়ছে। এটি মূলত ব্যর্থতার একটি ধরন, তাই আমাদের ভিন্ন কিছু করতে হবে।
যদিও তিনি স্বীকার করেছেন যে মার্কিন কাটছাঁট অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে কঠিন ছিল (কারণ অতীতে তারা তহবিলের ৪০ শতাংশ থেকে ৪৫ শতাংশ সরবরাহ করত), তবে পুরো ইউরোপজুড়েই এ সাহায্য কমছে।
বিগত সময়ে মোট জাতীয় আয়ের শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বৈদেশিক সাহায্যে ব্যয় করার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের জন্য কয়েক দশক ধরে এ ব্যয় করার বিষয়টি ছিল একটি পবিত্র দলীয় প্রতিশ্রুতি যা গত কয়েক বছরে ধুলোয় মিশে গেছে।
তিনি বলেন, এই কাটছাঁট যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক বাজেটের তুলনায় খুবই সামান্য, কিন্তু এর ফলে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে মানুষের প্রাণহানি ঘটবে। কারণ যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্ত অন্যান্য দেশকেও একই অজুহাত দেওয়ার সুযোগ করে দেয়।
যুক্তরাজ্য প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্য এখন নিজেদের মধ্যে বিবাদে লিপ্ত এবং গত ১০ বছর ধরে এটিই চলছে। একপর্যায়ে তাদের এই রক্ষণাত্মক অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, ২০১৬ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের প্রকৃত সম্পদ যেমন: ত্রাণকার্যে নেতৃত্ব, বিবিসি, সৃজনশীল শিল্প, প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা এবং সামরিক শক্তির মতো জায়গাগুলো ধ্বংস করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যেখানে আমাদের বিনয়ী হওয়া উচিত, সেখানে আমরা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী এবং যেখানে আমাদের আত্মবিশ্বাসী হওয়া উচিত, সেখানে আমরা অতিরিক্ত বিনয়ী হওয়ার প্রবণতা দেখাই। তবে এই মুহূর্তে শান্তভাবে দক্ষতা দেখানোই শ্রেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মানবতাকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, গত তিন বছরে ১ হাজার জনেরও বেশি কর্মী নিহত হয়েছেন যাদের মধ্যে অনেকেই ড্রোন হামলার শিকার।
ফ্লোচার বলেন, আমরা হচ্ছি জরুরি সেবা সংস্থা, আমরা ফায়ার ইঞ্জিন বা অ্যাম্বুলেন্সকর্মীর মতো যারা বেঁচে যাওয়া মানুষদের সাহায্য করতে যাই। কিন্তু কেন জানি এটি এখন এমনই গ্রহণযোগ্য হয়ে গেছে যে আমাদের বিপুল সংখ্যায় হত্যা করা হচ্ছে। আবার যারা আমাদের হত্যা করছে, তাদের কোনো জবাবদিহিতাও নেই।
নিরাপত্তা পরিষদের এক সদস্যকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমাদের কেবল সাধারণ কোনো বিবৃতি দেবেন না যে ‘মানবিক কর্মীদের সুরক্ষা দেওয়া উচিত’, বরং ফোন তুলুন। যারা আমাদের মারছে, তাদের নাম ধরে ডাকুন; যারা এই কাজ করছে, তাদের অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করুন।
৫১ দিন আগে
জ্বালানি সংকটে পুরো কিউবাজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয়
তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা ও পুরনো বিদ্যুৎ অবকাঠামোর কারণে কিউবাজুড়ে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। দেশটির প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। অন্যান্য দেশ থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ, দুর্বল বিদ্যুৎ গ্রিড ও জ্বালানি সংকট মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ মার্চ) থেকে পুরো কিউবাজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই দেশটির পুরনো বিদ্যুৎ গ্রিডও ভেঙে পড়ছে।
কিউবার জ্বালানি ও খনি মন্ত্রণালয় এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে জানায়, দেশটির বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। যেসব ইউনিটগুলো সচল ছিল, সেগুলোতে কোনো ত্রুটি ছিল না, তারপরও কেন এমন বিপর্যয় হলো তার তদন্ত করা হচ্ছে।
দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের পরিচালক লাসারো গেরা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করার জন্য তাদের কর্মীরা কয়েকটি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু করার কাজটি ধীরে ধীরে করতে হবে, যাতে কোনো সমস্যা না হয়। কারণ দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল অবস্থায় থাকা সিস্টেমগুলো অল্প সমস্যাতেই আবার বিকল হয়ে যেতে পারে।
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে হাভানার কিছু বাড়িতে মোমবাতি জলতে দেখা যায়। একটি অন্ধকার বাড়িতে শিশুদের খেলাধুলা ও মায়ের সঙ্গে গান গাওয়ার শব্দ শোনা যায়।
হাভানার বাসিন্দা ইউনিসি সেসিলিয়া রিভিয়ক্স একটি খোলা দরজার দিকে ইশারা করে বলেন, ‘আমাদের এখানে মেয়েদের জন্য একটি বিছানা পেতে রাখতে হবে যাতে তারা এখানে ঘুমাতে পারে। এছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। আমার কাছে কোনো রিচার্জেবল ফ্যান বা জেনারেটরও নেই।’
গত চার মাসের মধ্যে এটি কিউবায় তৃতীয় বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়।
হাভানার ৬১ বছর বয়সী বাসিন্দা তমাস দাভিদ ভেলাসকেস ফেলিপ বলেন, ‘বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তার মনে হয়, যাদের সামর্থ্য আছে তাদের কিউবা ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত। তিনি বলেন, আমাদের খাবার নষ্ট হয়ে যায়। আমার মতো বয়স্ক মানুষদের এভাবে কষ্ট সহ্য করা কঠিন।’
তবে সোমবার রাতে কিউবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, হাভানার প্রায় ৫ শতাংশ বাসিন্দার বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, সংখ্যায় যা প্রায় ৪২ হাজার গ্রাহকের মতো। দ্বীপজুড়ে কয়েকটি হাসপাতালেও বিদ্যুৎ ফিরেছে।
দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এখন থেকে দেশটির যোগাযোগ খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা হবে। তবে যেসব ছোট ছোট সার্কিটে আপাতত বিদ্যুৎ ফিরেছে সেগুলো আবারও বিকল হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিউবার পুরোনো বিদ্যুৎ গ্রিডগুলোর অবনতি হয়েছে। এর ফলে প্রতিদিনই বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে এবং দেশজুড়ে বড় বড় ব্ল্যাকআউট হচ্ছে।
কিউবার সরকার এ পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধকে দায়ী করেছে। কারণ জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, কিউবাকে তেল বিক্রি বা সরবরাহ করে এমন যেকোনো দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে।
বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, কিউবা যদি রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেয় এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদারীকরণের দিকে অগ্রসর হয়, তাহলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা যেতে পারে। ট্রাম্প কিউবার ওপর বন্ধুত্বপূর্ণ দখল নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ মার্চ) ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে কিউবা দখল করার সম্মান তারই হবে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কিউবাকে মুক্ত করব নাকি দখল করব? আমি মনে করি আমি যা চাই তা-ই করতে পারি।’ এসময় তিনি কিউবাকে একটি খুব দুর্বল জাতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা এবং ওয়াশিংটন ও হাভানার আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেলকে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপরাষ্ট্রটির ভবিষ্যৎ নিয়ে কিউবা সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সংবেদনশীল আলোচনার বিষয় হওয়ায় তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য জানান। তবে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র কাকে কিউবার ক্ষমতায় দেখতে চায়, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত জানাননি তারা।
কয়েকদিন আগে দিয়াস-কানেল প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেন, তার সরকার ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছে। এর আগে, সোমবার নিউ ইয়র্ক টাইমস এই আলোচনার বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করে।
৮৬ দিন আগে
‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ ফুরাচ্ছে, বাড়ছে অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক প্রতিযোগিতার আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্য দিয়ে অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে বিদ্যমান অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির অবসান হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বের দুই বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডারের ওপর আর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকছে না। ফলে নিয়ন্ত্রণহীন একটি নতুন পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার পথ খুলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সীমাহীন অস্ত্র প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নিউ স্টার্ট (New START) চুক্তির অবসান হলে নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমনকি নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা নতুন মাত্রায় পৌঁছাতে পারে, যেখানে চীনের অস্ত্র ভাণ্ডারও যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এ ব্যাপারে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ওয়াশিংটন সম্মত হলে আরও এক বছরের জন্য চুক্তির বিধিনিষেধ মেনে চলতে তিনি প্রস্তুত। তবে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে এখনও সুস্পষ্ট অবস্থান নেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গেল সোমবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর সীমা বজায় রাখতে চান বলে বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। সেইসঙ্গে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় চীনকেও তিনি অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী। তবে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের সময়সীমা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার তুলনামূলক ছোট হলেও ক্রমেই এর পরিসর বাড়ছে। তবে নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপে বরাবরই আপত্তি জানিয়ে আসছে বেইজিং।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো সীমা না থাকলে বিশ্ব আরও ‘বিপজ্জনক’ হয়ে উঠবে।
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণপন্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়ার অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে, যা বিদ্যমান বৈশ্বিক অস্থিরতার পাশাপাশি পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়াবে।
১২৭ দিন আগে
লেবাননে শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিল জাতিসংঘ
আগামী বছরের শেষ নাগাদ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। বাহিনীটি মোতায়নের প্রায় পাঁচ দশক পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের চাপে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সর্বসম্মতভাবে এ প্রস্তাব গৃহীত হয়।
সিএনএন জানিয়েছে, প্রথমে ছয় মাসের মধ্যে লেবানন থেকে শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানায় যুক্তরাষ্ট্র। পরে এক বছরের চূড়ান্ত সময়সীমার প্রস্তাব দেয় ওয়াশিংটন। সবশেষ ১৬ মাস মেয়াদি একটি চূড়ান্ত প্রস্তাবে সম্মতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাবে শান্তিরক্ষী বাহিনী।
১৯৭৮ সালে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলার পর সেখানে জাতিসংঘ অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী (ইউএনআইএফআইএল) মোতায়ন করে। এরপর ২০০৬ সালের ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের এই বাহিনীর মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়। ফলে দশক ধরে ইউএনআইএফআইএল দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চলেছে।
আরও পড়ুন: জোরপূর্বক ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ যুদ্ধাপরাধের শামিল: জাতিসংঘ
গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে এক বছরের মধ্যে ইউএনআইএফআইএল তাদের ১০ হাজার ৮০০ সামরিক ও বেসামরিক সদস্য এবং সব জাতিসংঘ সরঞ্জাম প্রত্যাহার করবে। এ সময়ে সীমিত কিছু কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি থাকবে বাহিনীটির।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের জাতিসংঘ-চিহ্নিত সীমান্তরেখা ‘ব্লু লাইন’-এর উত্তরে নিরাপত্তা প্রদানের একমাত্র দায়িত্ব পালন করবে লেবানন সরকার। পাশাপাশি ইসরায়েলকে ওই রেখার উত্তরের এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত বছর ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের সময় এ বাহিনী উভয়পক্ষের সমালোচনার মুখে পড়ে। মার্কিন কংগ্রেসের অনেক সদস্যও ইউএনআইএফআইএলের তীব্র সমালোচনা করেন সে সময়।
ওয়াশিংটনের দাবি, এ বাহিনী কেবল অর্থের অপচয় করছে এবং হিজবুল্লাহর প্রভাব নির্মূল ও লেবাননের সেনাবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে দীর্ঘায়িত করছে। এরই মধ্যে ইউএনআইএফআইএলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে বড় ধরনের কাটছাঁট করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে লেবাননের সেনাবাহিনী এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেনি বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার।
গৃহীত ওই প্রস্তাবে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীকে সরঞ্জাম, উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা জোরদার করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
এদিকে, ইউরোপের অনেক দেশ, বিশেষত ফ্রান্স ও ইতালি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তাদের ভাষ্যে, লেবানিজ সেনাবাহিনী সীমান্ত এলাকায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আগে শান্তিরক্ষী বাহিনী চলে গেলে সেখানে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হবে। এই সুযোগ হিজবুল্লাহ সহজেই কাজে লাগাতে পারবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশগুলো।
২৮৭ দিন আগে