বিশেষ সংবাদ
মাদক ব্যবসায়ীদের নিত্যনতুন কৌশলে অসহায় লালমনিরহাট প্রশাসন
কঠোর অবস্থান নিয়েও মাদক পাচার ও ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা জেলা লালমনিরহাটে। মাদকের হটস্পটের কলঙ্ক ঘুচতে পারছে না প্রশাসন। নিত্যনতুন কৌশলে সীমান্তের মাদক সারাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা। হাতের কাছে মাদক পেয়ে ধ্বংস হচ্ছে জেলার যুবসমাজ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার পাশ দিয়ে ২৮১ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। যার মধ্যে কিছু সীমান্ত রয়েছে কাঁটাতারের বেড়াহীন। কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও চোরাচালানে থেমে নেই পাচারকারীরা। বিভিন্ন কৌশলে কাঁটাতারের বেড়া ভেদ করে রাতের আঁধারে ভারত থেকে পাচার হয়ে আসছে ভারতীয় মদ, হিরোইন, ফেন্সিডিল, গাঁজা, ইয়াবা, টাপেন্টারসহ নানান জাতের মাদকদ্রব্য। প্রথমে পাচারকারীরা ভারত থেকে নিয়ে এসে সীমান্তঘেঁষা আস্তানায় রাখে। এরপর সুযোগ মতো ছড়িয়ে দেয় সারা দেশে।
সীমান্তের গ্রামগুলোতে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। সন্ধ্যা হলে এসব গ্রামে বহিরাগত মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। চা পানের দোকানে, বিভিন্ন সড়কের মোড়ে ও স্টেশনে ছদ্মবেশে বিক্রি হচ্ছে মাদক। এসব ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন চিহ্নিত কিছু ব্যবসায়ী। এদের সঙ্গে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দলের নেতা-কর্মীদেরও সখ্যতা বেশ।
স্থানীয়রা জানান, জেলার আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কিছু পয়েন্ট হয়ে উঠেছে মাদক পাচারের নিরাপদ রুট। যেখান দিয়ে ভারতীয় মদ ঢুকে পড়ে বাংলাদেশে। ২০২১ সালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নে স্থাপন করা হয় একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র। এরপর থেকে অভিযান বাড়লেও বন্ধ হয়নি মাদক। প্রশাসনের কঠোর অবস্থানেও যেন টিকেই আছে শক্তিশালী মাদক নেটওয়ার্ক।
গোড়ল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুরল আমিন বাদশার বিরুদ্ধে রয়েছে ১৪টি মাদক মামলা। স্ত্রী, ছেলে ও ভাইয়ের বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক মাদক মামলা। তবুও তিনি এলাকায় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি। বাদশা বলেন, একটা সময় মাদকের ব্যবসা করতাম। পরে ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু পুলিশ এখনও হয়রানি করে।
চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আলো ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মাদক মামলা। তাদের মূল পেশা মাদক ব্যবসা।
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে কিছুটা কমেছে মাদকদ্রব্য পাচার ও বিক্রি। ঈদকে সামনে রেখে আবারও বেপরোয়া হচ্ছে মাদক পাচার চক্র। তবে কঠোর নজরদারিতে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে প্রশাসন।
লালমনিরহাটে দফায় দফায় পুলিশি অভিযান, একের পর এক মামলা করেও কমছে না মাদক। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ, পুলিশের রাতভর অভিযান সবই ব্যর্থ হয়ে পড়ছে প্রভাবশালী মাদক চক্রের কাছে। লালমনিরহাটের সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলো যেন এক অদৃশ্য অন্ধকারে আটকে গেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ২০টি মাদক মামলায় ২২ জন মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ।
এসব মামলায় যাবজ্জীবন সাজাও দিচ্ছেন আদালত। তবুও মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রতি তাগিদ দিচ্ছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্কুল-শিক্ষক সঞ্জয় কুমার বলেন, অনেককে দেখেছি, মাদক ব্যবসা ছেড়ে ভালো হতে ওসি-এসপির হাতে ফুল দিয়ে শপথ করেছেন। তারা কিছুদিন ভালো থাকলেও ওইসব এসপি-ওসির বদলির পরে পুনরায় আগের পেশায় ফিরে গেছেন। তাই, আত্নসমর্পনে কোনো কাজ হবে না। মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে আইনের যথার্থ প্রয়োগ করতে হবে।
কলেজ-শিক্ষক তাপষ কুমার পাল বলেন, মাদক পাচার রোধ করতে হবে। হাতের কাছে মাদক পেয়ে অনেকের আসক্তির সুযোগ থাকে। অপরদিকে, যারা গ্রেপ্তার হচ্ছেন তারা যেন সাজাভোগ ছাড়া কোনোভাবে ফাঁকফোকর দিয়ে বেড়িয়ে না যায়, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। অনেক দেখেছি, মাদকের মামলায় হাজত থেকে বেড়িয়ে পুনরায় দ্বিগুণ গতিতে মাদক পাচারে ঝুঁকে পড়ছে। কারণ, মামলা হলে তার খরচ রয়েছে, যার অর্থ যোগান দিতেও অনেকেই পেশা বদল করছেন না।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম সাফওয়ান হোসেন বলেন, মাদক যুবসমাজকে ধ্বংস করছে। জুমার খুতবাতে মাদক নিয়ে আলোচনা করা হয়। মুলত, সচেতনতা বাড়াতে না পারলে এসব সামাজিক ব্যাধি শুধু আইন দিয়ে বন্ধ করা যায় না। তবে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরে মাদকের দৌড়াত্ম্য কিছুটা কমেছে।
লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, নির্বাচন-পূর্ব আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় মাদকের অভিযান কিছুটা কম ছিল। তাই সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে মাদকের প্রাদুর্ভাব কিছুটা বাড়লেও নির্বাচন পরবর্তীতে নতুন কৌশলে দফায় দফায় অভিযানে মাদকের কারবার কিছুটা কমতে শুরু করেছে। আমরা বিজিবিকে সঙ্গে নিয়েও যৌথ অভিযান পরিচালনা করে থাকি। মাদকের সঙ্গে কোনো আপস নয়। মাদক নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়ে দিনরাত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১৬ ঘণ্টা আগে
এখনও প্রস্তুত নয় পাটুরিয়া ফেরিঘাট, ঈদযাত্রায় ভোগান্তির আশঙ্কা
ঈদ আসতে আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। অথচ এখনও জরাজীর্ণ পাটুরিয়া ফেরিঘাট। পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়নি ঘাটের সংস্কার কাজ। ঘাটের সংযোগ সড়কগুলো অতিরিক্ত খাড়া হওয়ার কারণে যানবাহন ওঠানামায় চরম ভোগান্তি হচ্ছে। ঈদযাত্রায় যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ বাড়লে ফেরি পারাপারে দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও যানবাহন চালকরা।
পাটুরিয়া ফেরিঘাট দিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রী ও যানবাহন পারাপার হয়। ঈদ উপলক্ষে এ চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়। সাধারণত ঈদে পারাপার নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে ঘাট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়। তবে এবার এখনও তেমন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গত বর্ষায় পদ্মার প্রবল স্রোতে পাটুরিয়ার পাঁচটি ঘাট ভেঙে যায়, ফলে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে সমস্যা হয়। ভাঙনের ছয় মাস পার হলেও এখনও ঘাটগুলো পুরোপুরি মেরামত করা হয়নি। বর্তমানে যাত্রী ও যানবাহন জোড়াতালি দিয়েই পারাপার করা হচ্ছে।
ফেরিঘাটের সংযোগ সড়কগুলো অতিরিক্ত খাড়া হওয়ার কারণে যানবাহন ফেরি থেকে উপরে উঠতে গিয়ে প্রতিদিনই বিকল হয়ে পড়ে। পরে রেকার দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিকল যানবাহনকে টেনে তোলা হয়। এতে ওই ঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপারে দেরি হয়। ঘাট এলাকায় তৈরি হয় যানজট, ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
১ দিন আগে
হঠাৎ বৃষ্টিতে কপাল পুড়ল উত্তরের আলু চাষিদের
উত্তরের জেলাগুলোতে আলুর দামে ধস নামার মধ্যেই অকাল বৃষ্টিতে নতুন করে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিতে আলুখেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় বৃষ্টির পানিতে খেত তলিয়ে যাওয়ায় আলুতে পচন ধরার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। দরপতনের হাহাকারের মাঝেই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন আলুচাষিরা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এবং শুক্রবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত হওয়া বৃষ্টিতে রংপুর নগরীর মাহিগঞ্জ, আমাশু কুকরুল, সদরের পালিচড়া ও পীরগাছা উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর, ছাওলা, অন্নদানগর ও কান্দি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ আলুখেত পানিতে তলিয়ে আছে। ফসল রক্ষায় খেত থেকে পানি সরানোর চেষ্টা করছেন কৃষকরা।
উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘১০ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করছি, ফলনও ভালো হইছে। কিন্তু হঠাৎ করে ঝড়বৃষ্টিতে আলুর অনেক ক্ষতি হইল। সকালে এসে দেখি আলুখেতে অনেক পানি জমে গেছে। এখন পানি কমানোর চেষ্টা করতেছি।’
তিনি বলেন, ‘বাজারে আলুর দাম নাই, কেজি মাত্র ৮ থেকে ১০ টাকা। এখন বৃষ্টির কারণে কেজিপ্রতি আরও দুই টাকা কমে যাবে। এ অবস্থায় মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে গেল এই বৃষ্টি।’
আলুচাষি এমদাদুল হক বাবু বলেন, সারের সংকট ও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ধারদেনা করে আলু চাষ করে এখন বিপাকে আছি। বাজারে দাম নেই। কোল্ড স্টোরে রাখতে হলে বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে। না হয় কালোবাজারি ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কাছে অল্প দামে আলু বিক্রি করতে হবে। এ কারণে খেতের মধ্যেই আলু রেখেছিলাম। দাম ভালো মিললে বিক্রি করব। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেল।
২ দিন আগে
এক ট্রেনেই চলছে ঢাকা–নড়াইল–খুলনা ও ঢাকা–নড়াইল–বেনাপোল রুট, ট্রেন বাড়ানোর দাবি
একটি মাত্র ট্রেন দিয়ে চলছে ঢাকা–নড়াইল–খুলনা ও ঢাকা–নড়াইল–বেনাপোল রেলপথের যাত্রীসেবা। একই ট্রেন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন নামে চলাচল করায় দিনে নির্দিষ্ট সময় ছাড়া যাতায়াতের সুযোগ নেই। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ কারণে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় প্রথমবারের মতো রেলপথের সঙ্গে যুক্ত হয় নড়াইল জেলা। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর এই রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে একটি মাত্র ট্রেন ‘রূপসী বাংলা’ ও ‘জাহানাবাদ’—এই দুই নামে ঢাকা থেকে যশোরের বেনাপোল এবং খুলনা রুটে চলাচল করছে।
‘জাহানাবাদ এক্সপ্রেস’ নামে ট্রেনটি সকাল ৬টায় খুলনা থেকে ছেড়ে সকাল সোয়া ৭টায় নড়াইলে পৌঁছায়। একই ট্রেন বেনাপোল থেকে ‘রূপসী বাংলা’ নামে বিকেল ৩টায় ছেড়ে নড়াইলে আসে বিকেল পৌনে ৫টায়। নড়াইল থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টায় ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছানো যায়। তবে রাতে রাজধানীতে যাওয়ার কোনো ট্রেন না থাকায় অনেক যাত্রীকে পরদিন সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
রেলযাত্রী রেজাউল করিম বলেন, ‘নড়াইল থেকে স্বল্প সময়ে ঢাকায় যাতায়াতের সবচেয়ে আরামদায়ক মাধ্যম এখন রেলপথ। কিন্তু সকাল ও বিকেল ছাড়া অন্য সময়ে ট্রেনে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাই দ্রুত ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।’
আরেক যাত্রী আ. আল-মারজান বলেন, ‘কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে যোগাযোগের সুবিধা হয়েছে ঠিকই, তবে মাত্র একটি ট্রেন দুটি নামে চলায় আমরা পুরো সুবিধা পাচ্ছি না। নতুন সরকার এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছি।’
আমেনা বেগম বলেন, ‘রেল চালু হওয়ায় অনেক সুবিধা হয়েছে। সকালে নড়াইল থেকে ঢাকায় গিয়ে অফিস করতে পারি, আবার রাতে বাড়ি ফিরি। তবে ট্রেনের সংখ্যা বাড়লে যাতায়াত আরও সহজ হবে।’
নড়াইল রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার উজ্জ্বল বিশ্বাস জানান, ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। ট্রেন চালুর ফলে এ অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ভবিষ্যতে ট্রেনের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বুধবার (১১ মার্চ) সকালে নড়াইলের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম বলেন, ‘ঢাকা–নড়াইল–খুলনা রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’
নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘নড়াইলবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে ট্রেন চালুর মাধ্যমে। তবে চাহিদা অনুযায়ী রেলসেবা এখনও পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রুত ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। ২০২৪ সালে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়। পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে রেললাইন নির্মাণসহ পুরো প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার অর্থায়ন করেছে ১৮ হাজার ২১০ কোটি টাকা এবং বাকি ২১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা দিয়েছে চীন।
৩ দিন আগে
ঈদযাত্রা: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ৪ বড় চ্যালেঞ্জ
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য বাড়তে পারে ভোগান্তি। প্রায় ১০৫ কিলোমিটারজুড়ে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত ও সড়ক দখল, এলোমেলো পার্কিং, মহাসড়কের ওপর বাজার বসা এবং সড়ক সংস্কার কাজ—এই চারটি বিষয়কে সম্ভাব্য যানজটের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন যাত্রী ও পরিবহন-সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর এলাকায় দুই লেনের মহাসড়কের ওপরই গাড়ি পার্কিং করা হচ্ছে। একই চিত্র দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ, চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া, কুটুম্বপুর ও চান্দিনা সদর, বুড়িচংয়ের নিমসার, সদর দক্ষিণের পদুয়ার বাজার ও সুয়াগাজী, এবং চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার ও চৌদ্দগ্রাম সদরে।
পদুয়ার বাজার, মিয়াবাজার ও চৌদ্দগ্রাম সদরে ফুটপাত দখলের প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। আবার নিমসার, মিয়াবাজার ও চৌদ্দগ্রাম সদরে মহাসড়কের ওপরই বাজার বসে। অন্যদিকে, কুমিল্লা সদর উপজেলার আমতলী ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সংস্কার কাজ চলছে। ফলে ওই অংশে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে।
পদুয়ার বাজার এলাকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মহাসড়কের ওপর দিয়ে কুমিল্লা–নোয়াখালী আঞ্চলিক সড়ক অতিক্রম করেছে। এই পথ দিয়ে লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরের পরিবহনও চলাচল করে।
স্থানীয়রা জানান, পদুয়ার বাজার এলাকায় চট্টগ্রামগামী লেনে ফুটওভার ব্রিজের নিচে এলোপাতাড়ি বাস পার্কিং করে রাখা হয়। এর প্রভাব পড়ে সামনের ইউটার্নে, ফলে দ্রুত যানজট তৈরি হয়। ফুটপাত ও সড়কের পাশে ভ্রাম্যমাণ হকার বসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
নোয়াখালী সড়কের মুখে ফুটওভার ব্রিজের নিচে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা হয়, এতে ওই এলাকায় প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হয়। এছাড়া মোড়ের একটি মসজিদের সামনে বাসের কাউন্টার স্থাপন করা হয়েছে। অধিকাংশ সময় বাস সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
যাত্রী মেঘদাত হোসেন, ফখরুল ইসলাম ও আলাউদ্দিন বলেন, ফুটপাত দখল, এলোপাতাড়ি পার্কিং ও মহাসড়কের ওপর বাজার বসার কারণে প্রায়ই যানজট হয়। প্রশাসনের নজরদারি না বাড়ালে ঈদে ঘরমুখো মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে।
কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চের দক্ষিণ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিম মজুমদার বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি বাসের জন্য নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের জায়গা তৈরি করা জরুরি। বিশেষ করে মোড়ের ওপর বাস না দাঁড় করিয়ে সামনে বা পেছনে থামানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান বলেন, মহাসড়কের এসব সমস্যা আমাদের জানা আছে। কয়েকদিন আগেও আমরা ফুটপাতের দখল উচ্ছেদ করেছি। এ বিষয়ে পরিবহন মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথাও বলা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সবার সহযোগিতায় পবিত্র ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪ দিন আগে
ঈদের আগে জমজমাট শাহজাদপুর কাপড়ের হাট
আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে জমে উঠেছে বেচাকেনা। গত বছরের তুলনায় এবার হাটে লেনদেন বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বর্তমানে প্রতি হাটে গড়ে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার শাড়ি, লুঙ্গি ও অন্যান্য কাপড়ের বেচাকেনা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শাহজাদপুর কাপড়ের হাট সপ্তাহে দুই দিন—রবিবার ও বুধবার বসে। তবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ীরা সাধারণত আগের দিনই হাট এলাকায় এসে অবস্থান নেন। রমজান শুরুর পর থেকেই হাটে পাইকার ও খদ্দেরদের ভিড় বেড়েছে। হাটজুড়ে শোনা যাচ্ছে দরদামের হাঁকডাক, আর চারদিকে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে নানা রঙের কাপড়ের গাঁট।
হাট-সংশ্লিষ্টরা জানান, রমজানের আগে প্রতি হাটে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার লেনদেন হতো। রমজান শুরু হওয়ার পর তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ কোটি টাকায়। আর ঈদের আগ মুহূর্তে এসে প্রতি হাটে বেচাকেনা প্রায় ৬০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বিপুল এই লেনদেনের কারণে শাহজাদপুরের হাটকে দেশের অন্যতম বৃহৎ কাপড়ের পাইকারি হাট হিসেবে ধরা হয়।
হাটের পশ্চিম পাশে বগুড়া–নগরবাড়ি মহাসড়ক এবং আশপাশের আঞ্চলিক সড়কে সারি সারি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। শ্রমিকরা ব্যবসায়ীদের কেনা কাপড়ের গাঁট ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহনে তুলে ট্রাকভর্তি করছেন। পরে এসব কাপড়বোঝাই ট্রাক দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।
এই হাটকে কেন্দ্র করে আশপাশে ছোটবড় আবাসিক ও অনাবাসিক হোটেল, খাবারের দোকানও গড়ে উঠেছে। এসব হোটেলে থাকার ও খাওয়ার খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় ব্যবসায়ীরা স্বাচ্ছন্দ্যে অবস্থান করতে পারেন।
৫ দিন আগে
নড়াইলে নবগঙ্গার ভাঙনে হুমকিতে তীর রক্ষা বাঁধ, আতঙ্কে ৫ শতাধিক পরিবার
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় নবগঙ্গা নদীর তীব্র ভাঙনে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তীর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙনের কবলে পড়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে কয়েকশ বছরের পুরোনো বাণিজ্যিক কেন্দ্র মহাজন বাজারসহ অন্তত পাঁচটি গ্রাম। বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় নদীপাড়ের পাঁচ শতাধিক পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার আবেদন এবং মানববন্ধন করেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, কালিয়া উপজেলার প্রাচীন বাণিজ্যিক এলাকা মহাজন বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ধর্মীয় স্থাপনা এবং হাজারো পরিবারের বসতি রক্ষায় তিন দশক আগে স্থায়ী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
২০০৫ সালে মহাজন উত্তরপাড়া থেকে ঘষিবাড়িয়া পর্যন্ত নবগঙ্গা নদীর প্রায় ১ দশমিক ৯ কিলোমিটার অংশে তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করে পাউবো। ২০১১ সালের শুরুতে প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়। এতে ব্যয় হয় প্রায় ২৫ কোটি টাকা।
তবে গত চার বছর ধরে ওই বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ধীরে ধীরে বাঁধের কিছু অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে তীরবর্তী অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার চরম উদ্বেগে রয়েছে।
৬ দিন আগে
৫ বছরেই বেহাল চুয়াডাঙ্গা জেলা মডেল মসজিদ
নির্মাণের পাঁচ বছরের মধ্যেই অবকাঠামোগত ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও প্রশাসনিক জটিলতায় বেহাল অবস্থায় পড়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলা মডেল মসজিদ।
২০২১ সালের ১৭ জুন প্রায় ১৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয় মসজিদটির। তবে বর্তমানে মসজিদের বিভিন্ন স্থানে টাইলস খুলে পড়া, দেওয়ালের পলেস্তারা খসে যাওয়া এবং পাইপলাইনে লিকেজের মতো সমস্যা দেখা দিয়েছে।
মুসল্লিদের অভিযোগ, অজুখানার পানির লাইনে লিকেজ থাকায় দেওয়ালের টাইলস ও পলেস্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রায় এক বছর ধরে মসজিদে স্থাপিত ৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরা অচল থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকিও বেড়েছে। পরে চারটি নতুন ক্যামেরা বসানো হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় বাথরুমের ট্যাপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মসজিদ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ৯ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। উদ্বোধনের পর একবার মাত্র ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। দ্রুত বকেয়া পরিশোধ না করলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. মনজুর রহমান বলেন, পাঁচ বছর না যেতেই মসজিদের বিভিন্ন সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাথরুমের অধিকাংশ ট্যাপ চুরি হয়ে গেছে। নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় সবকিছু দেখভাল করা কঠিন। অজুখানার পাইপলাইনের লিকেজের কারণে দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। কিছুদিন আগে নিজ উদ্যোগে কয়েকটি পাইপ সংস্কার করেছি।
তিনি আরও বলেন, মসজিদের সামনে পৌরসভার ময়লা ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে এবং মুসল্লিদের চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে।
৭ দিন আগে
‘কুপিয়া’ টুপি তৈরিতে নওগাঁয় অর্ধলাখ নারীর কর্মসংস্থান, আসছে বৈদেশিক মুদ্রা
নওগাঁয় টুপি বুনন শিল্পকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থানের পরিধি দ্রুত বাড়ছে। এ শিল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ নারী শ্রমিক। জেলায় বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার নারী এ পেশায় নিয়োজিত। বিসিকের তথ্য অনুযায়ী, রপ্তানিযোগ্য টুপি বুনন শিল্পে নওগাঁয় প্রায় অর্ধলাখ নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
এ শিল্প থেকে প্রতি বছর অন্তত শত কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। অবসর সময়ে টুপি তৈরি করে সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে অনেক নারীর। তাদের তৈরি এসব টুপি রপ্তানি হচ্ছে ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চান্দাশ, মহাদেবপুর সদর ও উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামসহ জেলার মান্দা ও নিয়ামতপুর উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার নারী টুপিতে নকশা তৈরির কাজের সঙ্গে জড়িত। তাদের হাতে তৈরি নকশাদার টুপি যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে, ফলে দেশে আসছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্ভাবনাময় এ খাতকে আরও এগিয়ে নিতে উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি নারী কারিগরদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
নওগাঁর নারীদের তৈরি এসব টুপির প্রধান বাজার মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান। উদ্যোক্তারা জানান, নির্দিষ্ট নকশার ওপর নওগাঁর নারীরা নানা রঙের সুতায় যে টুপি বুনছেন, তা ওমানের জাতীয় টুপি হিসেবে স্বীকৃত। দেশটিতে এই টুপি ‘কুপিয়া’ নামে পরিচিত। সাধারণত ‘কেন্দুয়া’ নামের এক ধরনের পাঞ্জাবির সঙ্গে বিশেষ ধরনের এই টুপি পরেন সেখানকার পুরুষেরা।
এ ছাড়া সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও কাতার এবং আফ্রিকার তানজানিয়া ও মরক্কোতেও রপ্তানি হয় এসব টুপি। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, চলতি বছর কেবল নওগাঁ থেকেই প্রায় ৮০০ কোটি টাকার টুপি রপ্তানি হবে।
বছরের দুই ঈদে এই টুপির চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। সারা বছর টুপি সেলাইয়ের কিছু কাজ থাকলেও রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে স্থানীয় কারিগর ও ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। সুঁই-সুতা দিয়ে তৈরি এসব টুপির কারিগর মূলত গ্রামীণ নারীরা। সংসারের কাজের পাশাপাশি টুপি সেলাইকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে অনেকেই পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা এনেছেন।
৯ দিন আগে
ভরা মৌসুমেও চাষির আলু নিয়ে দুশ্চিন্তা
চলতি মৌসুমের শুরুতেই উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে আলুর দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। নতুন আলু বিক্রি করেও উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না কৃষকরা। ন্যায্য দাম না পেয়ে গত বছরের মতো এ বছরও বড় লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষকদের অভিযোগ, গত বছরের অবিক্রিত আলু এখনও বাজারে রয়ে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনা এবং পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার অভাব। ফলে পাইকারি বাজারে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
খুচরা বাজারেও একই চিত্র। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে পাইকারি বাজারে এক কেজি আলু বিক্রি করে মিলছে না এক কাপ চায়ের দাম। এতে হতাশায় ভেঙে পড়েছেন চাষিরা। তাদের ভাষ্য, ‘আলু আবাদ করে বিপদ, না করেও বিপদ।’
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে রংপুর সিটি বাজারসহ উত্তরের বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২ টাকা দরে। অথচ প্রতি কেজি আলু উৎপাদনেই খরচ হয়ে গেছে প্রায় ১৪ টাকা। এতে কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ১ কোটি ১৫ লাখ টন আলু উৎপাদিত হয়েছিল। এর মধ্যে ৮৭ লাখ টন উৎপাদন হয়েছে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে। চলতি মৌসুমে প্রায় ৮৪ লাখ টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
১০ দিন আগে