চট্টগ্রাম
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক আরও ৩৭৯
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী বখাটেদের বিরুদ্ধে ফের অভিযান চালিয়ে ৩৭৯ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) একযোগে এ অভিযান চালায়।
এ নিয়ে জেলায় চার দফা অভিযানে মোট ১ হাজার ৬৭২ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, কুমিল্লা মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাতের অভিযোগ থাকা স্থান চিহ্নিত করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি এতে অংশ নেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে প্রথম দফায় ৬২৪ জন, দ্বিতীয় দফায় ২৫৪ জন ও তৃতীয় দফায় ৪১৫ জনকে আটক করা হয়। সর্বশেষ গতকাল (মঙ্গলবার) রাতের অভিযানে আরও ৩৭৯ জন আটক হওয়ায় চার দফার অভিযানে মোট আটকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৭২ জনে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, আটকদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে কঠোর মনিটরিং করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
উঠতি বয়সী কিশোররা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
১ দিন আগে
লক্ষ্মীপুরে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ১৮২
লক্ষ্মীপুরে কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী বখাটেদের বিরুদ্ধে একযোগে অভিযান চালিয়ে ১৮২ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত জেলার ছয়টি থানা ও পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন থানা এলাকার যেসব স্থানে কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাতের অভিযোগ রয়েছে, সেসব স্থানে অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ ঘণ্টার অভিযানে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় ৬৪ জন, চন্দ্রগঞ্জ থানায় ২১ জন, রায়পুর থানায় ২০ জন, রামগঞ্জ থানায় ২৪ জন, রামগতি থানায় ১৩ জন, কমলনগর থানায় ১৭ জন, ডিবি পুলিশের অভিযানে ২৩ জনসহ মোট ১৮২ জনকে আটক করা হয়েছে।
আটকদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
লক্ষ্মীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, উঠতি বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ সময় তিনি কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে জেলা পুলিশের কঠোর অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
১ দিন আগে
কুমিল্লায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৩৫
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের নলচর গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয়দের থেকে জানা যায়, চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক রবিউল্লাহ রবি সরকার ও বিএনপি নেতা আব্দুল বারেকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছে। তারই জেরে আজ (মঙ্গলবার) ভোরে আব্দুল বারেকের লোকজন রবিউল্লাহ রবি সরকারের লোকজনের ওপর হামলা চালায়।
এরপর রবি সরকারের লোকজন পাল্টাহামলা চালাতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ইট-পাটকেল ও টেঁটা নিক্ষেপ শুরু হলে উভয় পক্ষের ৩৫ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, আজ ভোরে নলচর গ্রামের রবি ও বারেকের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। উভয় পক্ষই ইট-পাথর নিক্ষেপ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২ দিন আগে
ফেনীতে ১,৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১ অক্টোবর ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরটি এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত ছিল। পরে তা স্থগিত করে ১ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় নদী ও জলাধার পুনঃখনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ এবং সেচ অবকাঠামো সংস্কার করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি দেখতে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ফেনী পরিদর্শন করেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এ সময় তিনি পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট, মুহুরী নদীর তীরবর্তী এলাকা ও প্রস্তাবিত জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন। পরে সেখানে জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি।
এরপর প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীতে যাবেন এবং খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণসহ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
এছাড়া পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি দপ্তরগুলোতে স্থাপিত মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর প্যানেলেরও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় বিশ্রাম ও নামাজ আদায় করবেন।
বেলা ৩টা থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
তিনটি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা, কৃষক কার্ড এবং দরিদ্র শিক্ষার্থী ও অসহায় মানুষের জন্য সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
সেই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানস্থলগুলোকে তিনটি জোন—রেড, ইয়োলো ও হোয়াইটে ভাগ করা হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় দুই হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের আগে গতকাল (রবিবার) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম।
ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসএসএফের পাশাপাশি পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্ট গার্ড ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তাব্যবস্থায় নিয়োজিত থাকবেন। তবে মোট কতজন সদস্য মোতায়েন করা হবে, তা জানাতে পারেননি তিনি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, রেড জোনে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিদের বিশেষ নিরাপত্তা কার্ড দেওয়া হবে। ইয়েলো জোনের জন্য আলাদা কার্ড দেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট কার্ডধারীরাই কেবল সেখানে প্রবেশ করতে পারবেন। রেড ও ইয়েলো জোনের বাইরের এলাকাকে হোয়াইট জোন হিসেবে নির্ধারণ করা হবে। সেখানে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারবেন
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে পরশুরাম যাবেন। তবে তার ফেরার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে জনসভাস্থল তৈরির প্রস্তুতি চলছে।
এছাড়া পরশুরাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড নির্মাণের প্রস্তুতিও চলছে। অনুষ্ঠানস্থলে মঞ্চ, উদ্বোধনী ফলকের স্থান ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
জনসভায় অংশ নেওয়া মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানস্থলে পানির ট্যাংক ও পোর্টেবল টয়লেট স্থাপন এবং অন্যান্য স্যানিটেশন ব্যবস্থা করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজও চলছে।
সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে ফেনী-পরশুরাম প্রধান সড়কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে মেরামত ও সংস্কারকাজ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এছাড়া পরশুরাম-সুবার বাজার সড়কের জনসভাস্থলের আশপাশেও প্রয়োজনীয় মেরামত ও প্রস্তুতিমূলক কাজ করা হচ্ছে। ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, সরকার বন্যা ও নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান, ফেনীতে মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, লালপুলে আন্ডারপাস নির্মাণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং জেলার যোগাযোগ ও অবকাঠামোর উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
৩ দিন আগে
কক্সবাজারে ‘অপহরণের’ ৪ ঘণ্টা পর ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার
কক্সবাজারের চকরিয়ায় কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ইসফাতুল ইসলাম জিসানের (২৮) হাত-পা বাঁধা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর চার ঘণ্টা আগে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে খুটাখালী কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত জিসান উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লোটনী এলাকার নাজেম উদ্দিনের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গতকাল (রবিবার) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কাকারা সাবের সদর এলাকার একটি দোকানের সামনে থেকে সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা জিসানকে তুলে নিয়ে যান। এরপর জিসানকে চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকার কবির টাওয়ারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে নির্যাতন করে হত্যার পর দেহ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে যান হত্যাকারীরা।
চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম বাপ্পি বলেন, ‘জিসান ছাত্রদলের একজন উদীয়মান ও সক্রিয় নেতা ছিলেন। তাকে অপহরণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। খুনিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা না হলে চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।’
চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার ইসমাইল হোসেন বলেন, নিহত জিসানের দেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের পর কাকারা ইউনিয়ন ও চকরিয়া পৌরসভা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
৩ দিন আগে
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক আরও ৪১৫
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী বখাটেদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আরও ৪১৫ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় জেলা পুলিশ ও ডিবি যৌথভাবে একযোগে অভিযান চালায়।
এর আগে দুই দফার অভিযানে ৬২৪ ও ২৫৪ জনসহ তিন দফায় মোট ১ হাজার ২৯৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান জানান, কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলার ১৮টি থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকা, কিশোর বয়সী বখাটেদের আড্ডাস্থল ও সন্দেহজনক স্থানে অভিযান চালানো হয়। পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অভিযানে সরাসরি অংশ নেন।
তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের পূর্বের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিশোর গ্যাং ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে।
৩ দিন আগে
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, আটক আরও ২৫৪
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী বখাটেদের বিরুদ্ধে একযোগে অভিযান চালিয়ে আরও ২৫৪ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ।
রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান। এর আগে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, কুমিল্লা নগরীসহ কিশোরদের উৎপাত থাকা প্রতিটি থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি অংশ নেন।
এই কর্মকর্তা আরও জানান, উঠতি বয়সী কিশোররা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য নিয়মিত কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে জেলা পুলিশ এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
অপরাধের সঙ্গে আটকদের সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলায় কিশোর গ্যাংবিরোধী এক অভিযানে পুলিশ ৬২৪ জনকে আটক করে। তাদের মধ্যে ১৭৪ জনকে কারাগার বা শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল, আর বাকিদের মুচলেকা দেওয়ার পর মুক্তি দেওয়া হয়।
৪ দিন আগে
মেঘনায় ট্রলারডুবি: কুমিল্লায় একই পরিবারের ৩ জনের দাফন সম্পন্ন
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনায় ট্রলারডুবিতে নিহত কুমিল্লার তিনজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে নিহত তিনজনের দেহ কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামে আনা হয়। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরে স্থানীয় মাঠে জানাজা শেষে চরেরগাঁও কবরস্থানে পাশাপাশি তিনজনকে দাফন করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাবিনসহ এলাকার লোকজন জানাজা ও দাফনের সময় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে নিখোঁজের দুই দিন পর আজ (শনিবার) সকালে সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ পুলিশ।
নিহতরা হলেন সামিনা (১৭), সজিব (২৪) ও সামিন (৫)। এর আগে দুর্ঘটনার দিন রায়েশা বেগম (৫৫) নামে আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া হেলাল উদ্দিন নামের আরও একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার হোমনা থেকে আত্মীয়র বিয়েতে যাওয়ার পথে ১৪ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার মেঘনা নদীতে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনামই এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানার-সংলগ্ন নদীতে প্রবল স্রোতের মধ্যে ট্রলারটি উল্টে যায়। মুহূর্তেই নদীতে তলিয়ে যান যাত্রীরা।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল এবং নৌ পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে নদীর তলদেশ থেকে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা হয়। পরে নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রাখেন উদ্ধারকারীরা।
৫ দিন আগে
অপ্রতিমের মা-বাবাকে ফোনে হয়রানির অভিযোগে থানায় জিডি
কুমিল্লায় হত্যার শিকার স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মা-বাবাকে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে হয়রানি ও অশোভন আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রতিম ও তার পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এসব ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় অপ্রতিমের মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগম তার মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন।
এ ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, বিভিন্ন ফেসবুক আইডি খুলে অপ্রতিম ও আমাদের জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে আমাদের দুজনের মোবাইল নম্বরে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অশোভন আচরণ করা হচ্ছে। এসব কারণে আতঙ্কে অপ্রতিমের মা তার মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
সদর দক্ষিণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাইবার বুলিং এবং বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অশোভন আচরণের অভিযোগে অপ্রতিমের বাবা জিডি করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
৫ দিন আগে
ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে কটূক্তি, শিক্ষক-অফিস সহকারীর অব্যাহতি
ফেসবুকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে চাঁদপুরে এক শিক্ষককে শ্রেণি কার্যক্রম থেকে এবং তার পোস্টে মন্তব্য করার অভিযোগে বিদ্যালয়ের এক অফিস সহকারীকে দাপ্তরিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম ইশমাম তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
অব্যাহতি পাওয়া দুজন হলেন— চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক জুয়েল তালুকদার ও অফিস সহকারী মো. সুমন।
ইউএনও ইশমাম জানান, অভিযোগ তদন্তে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা টিটু চন্দ্র ধর ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল হাই।
তদন্ত কমিটিকে আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ইউএনও।
বিদ্যালয় ও ইউএনওর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক জুয়েল তালুকদার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ব্যঙ্গ করে এবং কুরুচিপূর্ণ ও সমালোচনামূলক একাধিক পোস্ট করেন।
গত কয়েক মাস ধরে ‘জুয়েল তালুকদার’ নামের ওই ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ছাড়াও বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছবি দিয়ে সরকারের সমালোচনা করা হয় বলে সূত্র জানায়।
প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা করে জুয়েল তালুকদারকে শ্রেণি কার্যক্রম থেকে এবং সুমনকে দাপ্তরিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
জুয়েল তালুকদার অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি পরবর্তীতে পোস্ট ডিলিট করে দিয়েছি।’
বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও অভিযোগগুলো তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক কাজী মো. শাহ আলম।
৬ দিন আগে