ইউরোপ
ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে বড় অস্ত্রচুক্তি উন্মোচন করবে ন্যাটো
প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ন্যাটো। এ লক্ষ্যে জোটটি শত শত কোটি ডলারের নতুন অস্ত্রচুক্তি ও সামরিক প্রকল্প ঘোষণা করবে। এর মাধ্যমে ন্যাটো ট্রাম্পকে দেখাতে চায়, সংগঠনটির সদস্য দেশগুলো শুধু প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না, বাস্তবেও নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি ও ন্যাটোর নজরদারি সক্ষমতা শক্তিশালী করা এবারের সম্মেলনে গুরুত্ব পাবে।
সম্মেলনে ‘বিগ রিভিল’ নামের অনুষ্ঠানে ন্যাটোর কয়েকজন নেতার প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে নতুন একাধিক চুক্তি ঘোষণা করার কথা রয়েছে। তবে এসব চুক্তির বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে হবে।
ট্রাম্প এর আগে ন্যাটোকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। তার দাবি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও নেতৃত্ব ছাড়া ন্যাটো কার্যকরভাবে চলতে পারবে না।
এদিকে, সম্মেলনের আগের দিন ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে সাংবাদিকদের জানান, ‘আমরা কয়েক দশক বিলিয়ন ডলারের নতুন চুক্তি ঘোষণা করব, যা ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে প্রতিরোধ ও আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে।’
এর কয়েক সপ্তাহ আগে ন্যাটোতে প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করেছিলেন রুটে। সে সময় তিনি ‘দ্য ট্রাম্প ট্রিলিয়ন’ শিরোনামের একটি চার্ট উপস্থাপন করেন। সেখানে দেখানো হয়, ২০১৭ সাল থেকে ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো ও কানাডা প্রতিরক্ষা খাতে মোট ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।
তবে তাতেও সন্তুষ্ট হননি ট্রাম্প। সে সময় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ন্যাটোর কয়েকটি সদস্য দেশ অংশ না নেওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তাদের অর্থ আমাদের দরকার নেই। আমাদের কিছুই দরকার নেই। আমি শুধু বিশ্বস্ততা চাই।’
নতুন নজরদারি বিমানবহর কেনার পরিকল্পনা
ন্যাটোর চুড়ান্ত চুক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, তাদের পুরোনো নজরদারি বিমান বদলে নতুন বিমান কেনার পরিকল্পনা। এসব চুক্তির বেশিরভাগই সম্মেলনের আগেই প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া কিছু চুক্তিতে ইতোমধ্যে সইও হয়েছে।
ন্যাটো একটি জোট হিসেবে নিজস্ব কোনো অস্ত্রের মালিক নয়। অস্ত্রগুলো ৩২টি সদস্য রাষ্ট্রের মালিকানাধীন। তবে সংগঠনটির প্রায় ৫০ বছর পুরোনো এডব্লিউএসি নজরদারি বিমান ও কিছু আধুনিক নজরদারি ড্রোন রয়েছে।
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা ঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে কয়েকটি প্রকল্পের অর্থায়ন হবে। এই কর্মসূচির আওতায় পুঁজিবাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৭০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হবে।
রুটে জানান, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, অর্থনৈতিক শক্তিকে আমরা সামরিক সক্ষমতায় রূপ দিতে পারছি। প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—সব ক্ষেত্রেই এই অর্থ কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে।’
সম্মেলনটি তুরস্কের আঙ্কারায় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের বিশাল প্রাসাদ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিকে, ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি সেখানে তুর্কি প্রেসিডেন্টের জন্য কিছু ‘উপহার’ নিয়ে যেতে পারেন।
তুরস্কের কাছে যুদ্ধবিমান বিক্রির বিরোধিতা নেতানিয়াহুর
অন্যদিকে, সোমবার ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এরদোয়ান ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে চান।
তুরস্ক ও ইসরায়েলের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই তিক্ত। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় শুরু হওয়া যুদ্ধ নিয়ে এরদোয়ান প্রায়ই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলে আসছেন।
এর আগে ২০১৯ সালে রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ন্যাটো সম্মেলনের তার আঙ্কারা সফরের আগেই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, খুব শিগগিরই তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রি শুরু হতে পারে।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রি হলে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হবে। সেই ভারসাম্য মূলত মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।’
এদিকে, ইসরায়েলি বিমানবাহিনী শত শত মার্কিন যুদ্ধবিমানের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে রয়েছে এফ-৩৫, এফ-১৬ এবং এফ-১৫।
৫ দিন আগে
ইউক্রেনে ফের রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ১৮
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে এ হামলা চালানো হয়।
এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই অবশ্য রাজধানীতে রাশিয়ার আরেকটি বড় ধরনের হামলা হতে পারে সতর্ক করেছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, এ হামলায় কিয়েভের একাধিক আবাসিক বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপে জীবিত কাউকে খুঁজে পেতে অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো এক টেলিগ্রাম পোস্টে বলেন, রাশিয়া আবাসিক ভবনগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এসব ভবনে মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমাত। এখানে তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করত।
তিনি জানান, পোদিলস্কি জেলায় একটি আবাসিক ভবনের একটি অংশ ধসে পড়েছে। এছাড়া দারনিৎসিয়া জেলায় কয়েকটি বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকে পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, এ হামলায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোনও ব্যবহার করা হয়েছে। দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দে পুরো কিয়েভ শহর কেঁপে উঠেছিল। এ সময় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনেক মানুষ মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন।
গত সপ্তাহে কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছে। তার কয়েক দিনের পরেই আবারও সোমবার এই হামলা করল রাশিয়া।
গত রবিবার গভীর রাতে টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে ইউক্রেনে আরও বেশি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেনের কাছে এসব ক্ষেপণাস্ত্র পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করা কঠিন হবে। এতে রাশিয়া আরও হামলা চালাতে উৎসাহিত হবে। এর ফলে চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হবে।
৬ দিন আগে
কিয়েভে রাতভর রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত অন্তত ১৩
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এ হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৮৬ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোর পর্যন্ত চলা এ হামলার পর উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
একই সঙ্গে দেশটির সরকার মিত্র দেশগুলোর প্রতি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ব্যালিস্টিক, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে চালানো এ হামলায় শহরের বিভিন্ন ভবন ও বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার প্রথম সতর্কবার্তা জারির পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষের আহ্বানে সেখানের বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য মেট্রো স্টেশনে চলে যান।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, হামলায় কিয়েভে ১৩ জন নিহত ও ৮৬ জন আহত হয়েছেন। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, এ ঘটনায় শহরের অন্তত ৩০টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে, যার বেশিরভাগই আবাসিক ভবন ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা।
এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহর ক্লিমেঙ্কো জানান, শহরজুড়ে অন্তত ২০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানায়, হামলার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রায় ৫০০ জন কর্মী এবং ১০০টি বিশেষায়িত যান মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হেলিকপ্টারও রয়েছে।
১০ দিন আগে
ছাত্র-আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের ঘোষণা
টানা ১৮ মাস ধরে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচ।
সোমবার (২৯ জুন) তিনি বলেছেন, ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমি পদত্যাগ করব।’ একই সঙ্গে দেশটিতে আগাম প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সার্বিয়ার উত্তরাঞ্চলের নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুচিচ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সূচনা হয়। ওই রেলস্টেশন দুর্ঘটনার পর থেকে বিক্ষোভকারীরাসহ বিরোধী দল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে থাকে যে রেলস্টেশনে ছাউনি ধসের দুর্ঘটনার জন্য নির্মাণ প্রকল্পে সরকারের ব্যাপক অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি দায়ী। এরপর চাপের মুখে অবশেষে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন গত ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ভুচিচ।
সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেদে সরকারপন্থিদের এক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আর মাত্র কয়েক সপ্তাহই আমি প্রেসিডেন্ট আছি, এরপর আমি পদত্যাগ করব।’
তবে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং আগাম সংসদ নির্বাচনে তার দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টিকে (এসএনএস) জয়ী করতে তিনি কাজ করবেন বলেও এ সময় তিনি উল্লেখ করেন।
সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আমার প্রস্তাব হচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে আমাদের বিজয়ী জোটের নাম হবে “ইউনাইটেড সার্বিয়া”।’
অবশ্য তিনি কবে পদত্যাগ করবেন বা সংসদ ভেঙে দেবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাননি। বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষের আগেই আগাম সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পূর্বশর্ত হলো সংসদ ভেঙে দেওয়া।
ভুচিচ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্বগ্রহণের পর এর মেয়াদ ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ছিল।
এখানেই ভুচিচের রাজনৈতিক অধ্যায়ের শেষ নয়
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখানেই ভুচিচের রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি হচ্ছে না। তিনি পদত্যাগ করলেও আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তার দল এসএনএস জয়ী হলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন। অর্থাৎ পদবী যাই হোক না কেন, এসএনএস সরকার গঠন করলে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন ভুচিচ।
বিশ্লেষকদের মতে, এসএনএস ক্ষমতায় এলে প্রেসিডেন্ট পদেও নিজের ঘনিষ্ঠ কাউকে বসানোর চেষ্টা করবেন তিনি। এর মাধ্যমে পর্দার আড়াল থেকে তিনিই ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন।
এ ব্যাপারে ওয়ারশ-ভিত্তিক বিশ্লেষক রাদিভোয়ে গ্রুইচ বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত মোটেও ভুচিচের রাজনৈতিক জীবনের শেষ নয়। ইতোমধ্যেই তার একটি পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নয়, বরং তিনি আবারও ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছেন।’
তবে শনিবার ভুচিচের পদত্যাগের ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রেসিডেন্ট পদ থেকে তার সরে দাাঁড়ানোর পেছনে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০০০ সালে স্লোবোদান মিলোসেভিচের পতনের পর ভুচিচ সরকারবিরোধী আন্দোলনই সার্বিয়ার সবচেয়ে বড় আন্দোলন।
কয়েক দিন আগে দেশটির নোভি সাদ শহরে শিক্ষার্থীরা রেলস্টেশন দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণ করেন। এ সময় আগাম সাধারণ নির্বাচনের দাবি জানান তারা। এছাড়া গতকাল (রবিবার) দক্ষিণ-মধ্য সার্বিয়ার ক্রালিয়েভো শহরে আরেকটি ছাত্র সমাবেশ হয়েছে।
ছাত্র নেতৃত্বাধীন এই আন্দোলনের কর্মীরা এবং বিরোধী দল উভয়েই জানিয়েছে, তারা নির্বাচনে ভুচিচ ও তার সমর্থিত দল এসএনএসের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়।
ছাত্রসমর্থিত সরকারবিরোধী আন্দোলন ‘মুভ-চেঞ্জ’-এর প্রধান সাভো মানোইলোভিচ বলেন, ‘পদত্যাগ এবং আগাম প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ভুচিচ তার অনিবার্য পতন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটির জনসমর্থন ছাত্র আন্দোলনের প্রতি।’
রাজনৈতিক সমীকরণ
সার্বিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের প্রার্থী দেশ। তবে দেশটির সঙ্গে এখনও রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ক্ষমতায় থাকার পুরো সময়জুড়ে ভুচিচকে এই ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়েছে।
সার্বিয়ার সামনে চ্যালেঞ্জ হলো ইইউতে যোগ দেওয়ার আগে দেশটিতে আইনের শাসন আরও শক্তিশালী করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা, দুর্নীতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং পররাষ্ট্রনীতি ইইউর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।
শনিবার ভুচিচ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, তার দল দুর্নীতির অবসান ঘটাবে। এছাড়া তিনি পেনশন বৃদ্ধি, দরিদ্রদের জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানো এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নেরও প্রতিশ্রুতি দেন।
তবে বিরোধী দলীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন, ভুচিচ এবং তার সহযোগীরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সহিংসতা, ব্যাপক দুর্নীতি, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পর্ক এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দমনের সঙ্গে জড়িত। অবশ্য ভুচিচ এবং তার সহযোগীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
১৩ দিন আগে
ফ্রান্সে স্কাইডাইভিং বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১১
ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি স্কাইডাইভিং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আরোহী ১১ জনের সবাই নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (২৮ জুন) ন্যান্সি শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত ন্যান্সি-এসি বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিমানটি যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হয় এবং ‘প্রায় উল্লম্বভাবে’ নিচে আছড়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন মিউর্ত-এ-মোজেল অঞ্চলের প্রিফেক্ট ইভ সেগুই।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বিএফএম-টিভিকে তিনি বলেন, বিমানটি বিমানঘাঁটির কাছাকাছি একটি জনবসতিপূর্ণ এলাকার সীমানায় বিধ্বস্ত হয়।
ইভ সেগুই বলেন, ‘দুর্ঘটনাটি যদি আর কয়েক মিটার দূরে ঘটত, তাহলে আরও হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত।’
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটি একটি স্কাইডাইভিং ক্লাবের মালিকানাধীন ছিল এবং প্যারাশুট জাম্প কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছিল।
দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য সংগ্রহ করছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
১৪ দিন আগে
দলীয় চাপে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার
নিজের দলের চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। স্থিতিশীল নেতৃত্ব ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুই বছর আগে ভূমিধস বিজয় অর্জন করলেও ধারাবাহিক ভুল পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্তে ভোটারদের আস্থা হারানোর পর শেষ পর্যন্ত তাকে সরে দাঁড়াতে হচ্ছে।
সোমবার (২২ জুন) স্টারমার জানান, ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি নতুন নেতা নির্বাচিত না করা পর্যন্ত তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাকে স্থলাভিষিক্ত করতে সাবেক গ্রেটার ম্যানচেস্টার মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
ইতোমধ্যে বার্নহ্যাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেছেন, ‘আমি এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করব।”
অন্যদিকে, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, যাকে বার্নহ্যামের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল, তিনি বার্নহ্যামকে সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ উপনির্বাচনে বার্নহ্যামের জয়ই স্টারমারের পদত্যাগের সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় এক দশক গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি পুনরায় পার্লামেন্টে ফিরছেন এবং সোমবারই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, কেবল সংসদ সদস্যরাই দলের নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
স্ট্রিটিংয়ের সমর্থনের ঘোষণায় নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই বার্নহ্যাম নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।
স্টারমার গত এক দশকে ব্রিটেনের ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী, যিনি ডাউনিং স্ট্রিটের ১০ নম্বর বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিলেন। তার এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্যাগের পক্ষে (ব্রেক্সিট) ব্রিটেনের গণভোটের দশম বার্ষিকী পালিত হবে। সিদ্ধান্ত এখনও দেশটির অর্থনীতি ও রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিজের পদ ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত স্টারমার নতুন নেতৃত্বের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের ক্রমবর্ধমান চাপের কাছে নতি স্বীকার করলেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তিনি লেবার পার্টিকে বড় জয় এনে দিয়েছিলেন, তবে এরপর থেকে তার এবং দলের জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে।
কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন নেতা
দুই বছর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ভাষণ দেওয়া সরকারি বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়েই পদত্যাগের ঘোষণা দেন স্টারমার। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের শেষ দিকে তার কণ্ঠ আবেগে ভারী হয়ে ওঠে। এ সময় তার দপ্তরের কর্মী, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং অসংখ্য সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
স্টারমার বলেন, ‘আমার দল এখন যে প্রশ্নটি করছে তা হলো, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কি না। এ বিষয়ে আমার সংসদীয় দলের উত্তর আমি শুনেছি এবং সৌজন্যের সঙ্গে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছি।’
তিনি জানান, সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানাতে তিনি ব্রিটেনের সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে কথা বলেছেন।
বার্নহ্যামের উপনির্বাচনে জয়ের পর পুরো সপ্তাহাজুড়ে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করেন স্টারমার। তিনি জানান, আগামী ৯ জুলাই থেকে নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে এবং গ্রীষ্মকালীন বিরতি শেষে ১ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্ট পুনরায় বসার আগেই নতুন নেতা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
তবে বার্নহ্যাম যদি একমাত্র প্রার্থী হন, তাহলে আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝিতেই নেতৃত্ব পরিবর্তন সম্পন্ন হতে পারে।
২০ দিন আগে
লেবার পার্টির নেতৃত্বে পরিবর্তনের আভাস, পদত্যাগ করতে পারেন কিয়ার স্টারমার
যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টির ভেতরে বাড়তে থাকা চাপের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শিগগিরই তার পদত্যাগ করতে পারেন বলে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে, দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বিশেষ নির্বাচনে জয় পেয়ে পার্লামেন্টে প্রবেশ করায় নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
স্টারমার যদি পদত্যাগের ঘোষণা দেন, তাহলে গত এক দশকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিদায়ের ঘোষণা দেওয়া ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে একজন হবেন তিনি।
গত সপ্তাহে বিশেষ নির্বাচনে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের বিজয় লাভ করেন। এরপর নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে পুরো সপ্তাহ ধরে চিন্তাভাবনা করেন স্টারমার। ওই নির্বাচনে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম স্টারমারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানোর লক্ষ্য নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (২২ জুন) বার্নহ্যামের পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে স্টারমারের কার্যালয় পদত্যাগের গুঞ্জন নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের ব্যবসাবিষয়ক মন্ত্রী পিটার কাইল রবিবার বলেন, ‘স্টারমার বর্তমানে তার সামনে থাকা রাজনৈতিক বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে ভাবার জন্য সময় নিচ্ছেন।’
স্টারমার সরে দাঁড়ালে বার্নহ্যাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেতৃত্ব পাবেন না কি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়বেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে, গত মাসে স্টারমারের নেতৃত্বের প্রতিবাদে স্বাস্থ্যসচিবের পদ থেকে সরে দাাঁড়ন ওয়েস স্ট্রিটিং। তিনি জানিয়েছিলেন, নেতৃত্বের নির্বাচন হলে তিনিও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
বিগত কয়েক মাস ধরেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তার নেতৃত্বে লেবার পার্টি বড় ধরনের নির্বাচনি বিজয় পেলেও এরপর থেকে সরকারের জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। ফলে লেবার পার্টির দলীয় আইনপ্রণেতারা পরিস্থিতি পরিবর্তনে চাপ বাড়াতে থাকেন।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, দুর্বল জনসেবা খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট কমানোসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে স্টারমার সাফল্য দেখাতে পারেননি। এছাড়া কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তও তার জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল জেফ্রি এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
একদিকে লেবার পার্টি গ্রিন পার্টির কাছে উদারপন্থি ভোটার হারাচ্ছে, অন্যদিকে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন অভিবাসনবিরোধী দল রিফর্ম ইউকে জাতীয় জনমত জরিপে এগিয়ে থাকায় নতুন সংকটে পড়েছে দলটি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসার আগেই স্টারমারের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। অভিবাসন ও জ্বালানি নীতিতে স্টারমারের ব্যর্থতাই তাকে সম্ভাব্য বিদায়ের পথে নিয়ে এসেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, ‘কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। তিনি দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যর্থ হয়েছেন: অভিবাসন এবং জ্বালানি। আমি তার মঙ্গল কামনা করি।’
তবে ট্রাম্প গণমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখে এ মন্তব্য করেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। গত সপ্তাহে দুই নেতার মধ্যে কোনো কথপোকথনও হয়নি।
ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দিকে ট্রাম্প ও স্টারমারের সম্পর্ক ভালো থাকলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তা খারাপ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিল। যুক্তরাজ্য ইরান যুদ্ধে অংশ নেয়নি।
তবে দেশের ভেতরে নানা সমালোচনার মুখে পড়লেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্টারমার প্রশংসা পেয়েছেন। বিশেষ করে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের লড়াইয়ে ইউরোপীয় সমর্থন জোরদারে ভূমিকা রাখা এবং ইরান সংঘাত থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা কমানোর প্রচেষ্টার জন্য তিনি প্রশংসিত হয়েছেন।
অন্যদিকে, লেবার পার্টির বেশিরভাগ আইনপ্রণেতা বার্নহ্যামের পক্ষে থাকলেও কেউ কেউ মনে করেন, স্টারমারের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে। লন্ডনের আইনপ্রণেতা নিল কয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘পরিকল্পিতভাবে একজন নেতাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং এ নিয়ে তৈরি হওয়া গণমাধ্যমের উন্মাদনা আসলেই হতাশাজনক।’
তিনি আরও লেখেন, পরবর্তী নেতা যদি ট্রাম্প, ইরান, ইউক্রেন, পুতিন, মাস্ক, গণমাধ্যমের পক্ষপাত বা অ্যালগরিদমের প্রভাব রাতারাতি বদলাতে না পারেন, তাহলে তার বিরুদ্ধেও একইভাবে সমালোচনা শুরু হবে।’
২০ দিন আগে
ইরান- যুক্তরাষ্ট্র উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শেষ, কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে
ইরান যুদ্ধের স্থায়ী অবসান চেয়ে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আজ সোমবার শেষ হয়েছে। তবে উভয় পক্ষ লেবাননে চলমান সংঘাত মোকাবিলায় একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনে সম্মত হওয়ায় এ বিষয়ে সপ্তাহজুড়েই কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে।
মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও কাতারের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সেলে লেবানন সরকারও অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং এটি ‘লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধের শর্ত মেনে চলা নিশ্চিত করবে’।
তবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ থামাতে এই উদ্যোগ যথেষ্ট হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। লেবাননের কিছু এলাকা দখল করে রাখা ইসরায়েল বলেছে, উত্তর ইসরায়েলে হামলা চালানো জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানের স্বাধীনতা তারা বজায় রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইরান মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকার প্রশংসা করেছে।
আলোচনাগুলো ইরান যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে শুরু হওয়া ৬০ দিনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে লেবাননের সংঘাত এখনও অন্যতম বড় অমীমাংসিত ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে।
এদিকে, ইরান দাবি করেছে যে তারা আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
উত্তেজনাপূর্ণ সূচনা
রবিবার সুইজারল্যান্ডে আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই এক দফা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিয়ে এবং ইরানের প্রেসিডেন্টকে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিলে তেহরান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘লেবাননে ইরানকে তাদের মোটা অঙ্কের অর্থপুষ্ট প্রক্সিদের (সহযোগী গোষ্ঠী) মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তারা যদি তা না করে, তবে আমরা গত সপ্তাহের মতো আবারও ইরানে খুব জোরালো আঘাত হানব, তবে এবার আঘাত হবে আরও মারাত্মক।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ট্রাম্পের এ ধরনের মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তানের জন্য ইরানকে আলোচনায় ধরে রাখার প্রচেষ্টাকে জটিল করে তোলে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এক্সে লেখেন, ‘তাদের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া উচিত। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ভিন্নভাবে জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তারা কথা বলতে পারে, কিন্তু কাজ করি আমরা।’
তবে পরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক্সে লেখেন, ‘পাকিস্তান ও কাতারের নিরলস মধ্যস্থতা লেবানন যুদ্ধের অবসানে বড় ধরনের অগ্রগতি এনে দিয়েছে।’
তিনি বলেন, আলোচনার প্রথম ‘বাস্তব পরীক্ষা’ হবে ডি-কনফ্লিকশন সেল লেবাননের সংঘর্ষ বন্ধ করতে পারে কি না।
কারিগরি আলোচনা চলবে
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্য স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতা কালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৈঠকটি প্রায় ৮০ মিনিট ধরে চলে।
বৈঠক শেষে পাকিস্তান ও কাতার জানায়, পুরো সপ্তাহজুড়ে সুইজারল্যান্ডে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে। এসব আলোচনা উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের চূড়ান্ত চুক্তি সইয়ের পথ সুগম করতে প্রয়োজনীয় অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যেই অনুষ্ঠিত হবে।
২০ দিন আগে
জি-৭ সম্মেলনের প্রথম দিনে ইউক্রেন ও ইরান পরিস্থিতিতে গুরুত্বারোপ
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের প্রথম দিনে ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধ এবং ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন বিশ্বনেতারা। সেখানে তারা রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। পাশাপাশি ইরান-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক চুক্তি, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর যুদ্ধের প্রভাবও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
এবারের জি-৭ সম্মেলন ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁয়ে শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৫ জুন) গভীর রাতে সম্মেলনে পৌঁছে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকের পর ট্রাম্প জানান, আপাতত ইরান বিষয়ে আলোচনা শেষ হয়েছে, আমরা এখন ইউক্রেনের পরিস্থিতির ওপর মনোযোগ দেব।
সম্মেলনে মাক্রোঁ জানান, তিনি ট্রাম্পকে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখতে এবং রাশিয়ার ওপর আরও চাপ বাড়াতে রাজি করানোর চেষ্টা করবেন। তার মতে, চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের অবসানে একটি শান্তিচুক্তি জরুরি।
ট্রাম্প আরও জানান, রবিবার তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা করেছেন। ফ্রান্সের আমন্ত্রণে জেলেনস্কিও সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়েও জি-৭ নেতাদের একটি একটি কর্মঅধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হবে। এই আলোচনায় মিসর, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
অপরদিকে, জি-৭ সম্মেলনে সম্মেলনে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগে ট্রাম্প সাড়ে তিন মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তির ঘোষণা দেন।
জি-৭ (গ্রুপ অব সেভেন) হলো বিশ্বের ৭টি উন্নত ও প্রভাবশালী অর্থনীতির দেশের একটি জোট। এই জোটের সদস্য দেশগুলো হলো: ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, ইতালি, জাপান এবং যুক্তরাজ্য।
বৈশ্বিক অর্থনীতি, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি সংকট, যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সমন্বয়ের জন্য এসব দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা বছরে একবার বৈঠক করে নীতিগত সমন্বয়ের চেষ্টা করেন।
এবারের সম্মেলনে অতিথি দেশ হিসেবে অংশ নিচ্ছে ব্রাজিল, মিসর, ভারত, কেনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, ইউক্রেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাজ্যের
এদিকে, নৗপথে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়া তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য যে ছায়া বহর (শ্যাডো ফ্লিট) ব্যবহার করে, সম্মেলনের মধ্যেই সেগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাশিয়ার সম্প্রতি কেনা কয়েকটি জাহাজও রয়েছে। এসব জাহাজ নিষেধাজ্ঞার অমান্য করে আর্কটিক এলএনজি ২ প্রকল্প থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত রাশিয়ার ৬০০টিরও বেশি শ্যাডো ফ্লিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
গত সপ্তাহের শেষে ইংলিশ চ্যানেলে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার একটি শ্যাডো ফ্লিট জাহাজ জব্দ করেছে ব্রিটিশ বাহিনী।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশনিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সেখানে তিনি রাশিয়ার ওপর এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। মঙ্গলবার তার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।
২৬ দিন আগে
ছায়া বহর সন্দেহে রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করল ব্রিটেন
আটলান্টিক মহাসাগরের ইংলিশ চ্যানেল থেকে রাশিয়ার একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে ব্রিটেন। ট্যাংকারটি শ্যাডো ফ্লিট (ছায়া বহর) হিসেবে ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে সন্দেহে তদন্ত শুরু করেছে ব্রিটেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৪ জুন) দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ তথ্য জানান।
রবিবার ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করার সময় রাশিয়ার ‘স্মির্টোস’ নামের জাহাজটিতে অভিযান চালিয়ে সেটিকে আটক করে ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনী ।
ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, তদন্তের জন্য জাহাজটিকে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলের কাছে রাখা হয়েছে। সেখানে এটিকে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
শ্যাডো ফ্লিট হলো তেল ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্য বহনকারী অনিবন্ধিত জাহাজের একটি গোপন নেটওয়ার্ক। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়া শত শত জাহাজ নিয়ে গঠিত এসব নৌবহর ব্যবহার করে আসছে।
রবিবার ফ্রান্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ে মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর আগে ফ্রান্সও শ্যাডো ফ্লিট-সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি জাহাজ আটক করেছিল।
এ বিষয়ে স্টারমার বলেন, ‘এই অভিযান পুতিনের বিরুদ্ধে আরও একটি বড় আঘাত হানবে। পাশাপাশি যারা ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পুতিনকে যুদ্ধের রশদ যোগান দিচ্ছে, তারা কেউই লুকিয়ে থাকতে পারবে না।’
এদিকে, যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযান রাশিয়ার নৌসম্পদের ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছে। মহাসাগরে চলাচলকারী এসব ছায়া বহর ইউরোপসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে আসছিল। নৌপথে মিত্র দেশগুলোর সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে এমন অভিযান আব্যাহত থাকলে ইউরোপীয় দেশগুলোতে রাশিয়ার হুমকি দেওয়ার ক্ষমতা কমে আসবে।
২৮ দিন আগে