ইউরোপ
ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রুশ হামলায় নিহত অন্তত ৮
কিয়েভসহ ইউক্রেনের অন্যান্য শহরে আবাসিক ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছে বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোররাতে এসব হামলা হয়। এর আগের দিন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়া বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে এক্সে সতর্ক করেছিলেন।
চেরনিহিভ অঞ্চলের উত্তরের শহর প্রিলুকিতে ক্ষেপণাস্ত্র একটি বহুতল আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। এতে হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ভিয়াচেস্লাভ চাউস। ঘটনাস্থলে সব ধরনের জরুরি সেবা সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে।
রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা বিভাগের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেখানে অন্তত চারজন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনটি শিশুও রয়েছে।
চাউসের প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, আবাসিক ভবনটির একটি প্রবেশপথ আংশিকভাবে ধসে পড়েছে।
রাজধানী কিয়েভেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। মধ্যরাত ৩টার দিকে শহরের কেন্দ্রজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে দুজন নিহত হয়েছে বলে নগর সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে।
সামরিক প্রশাসন আরও জানায়, কিয়েভের পডিলস্কি জেলায় রকেট একটি অনাবাসিক ভবনে আঘাত হানলে সেখানে আগুন ধরে যায়। অন্য একটি হামলায় দারনিতস্কি জেলায় একটি গ্যারেজ কমপ্লেক্সে আগুন লাগে। পরে আগুন নেভানো হয়। এছাড়া কাছের একটি খোলা জায়গাতেও রকেটের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে।
কিয়েভের আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো বলেন, বৃহত্তর কিয়েভ অঞ্চলেও ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে। ওবুখিভ জেলায় তিনটি উৎপাদন ও গুদাম স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।
পোলতাভা অঞ্চলের ক্রেমেনচুকে দুজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ভিতালি দিয়াকিভনিচ। সেখানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনজুড়ে ফ্লামিঙ্গো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন ও সংরক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্প স্থাপনা লক্ষ্য করে রাতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) স্বাধীনভাবে এ দাবি যাচাই করতে পারেনি।
মস্কো শুধু সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলে এলেও রুশ বাহিনী ইউক্রেনের আবাসিক এলাকা, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ও বেসামরিক অবকাঠামোতে নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, কিয়েভ ও এর আশপাশের অঞ্চল, চেরনিহিভ, কিরোভোহরাদ, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, পোলতাভা ও খারকিভ অঞ্চলের স্থাপনাগুলোও হামলার লক্ষ্য ছিল। পাশাপাশি ওডেসা অঞ্চলে বন্দর ও জাহাজ মেরামতের স্থাপনা এবং ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর জন্য পণ্য বহনকারী জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে।
১৫ দিন আগে
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন
মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কার এবং আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে অবদানের জন্য এ বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সিস হালজেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এ পুরস্কার ঘোষণা করে।
নোবেল কমিটির পদার্থবিজ্ঞানবিষয়ক চেয়ারম্যান মার্ক পিয়ার্স এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘ফ্রান্সিস হালজেন গবেষক ও প্রকৌশলীদের একটি আন্তর্জাতিক দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যারা আমাদের একটি অসাধারণ যন্ত্র দিয়েছেন। তার অধ্যবসায় ও বৈজ্ঞানিক দূরদর্শিতা নতুন ধরনের জ্যোতির্বিজ্ঞানের পথ তৈরি করেছে।’
এদিন ইতালি থেকে ফোনে নোবেল কমিটির সঙ্গে কথা বলেন হালজেন। তিনি বলেন, ‘এটি বড় ধরনের বিস্ময় এবং আমি অবশ্যই এটি প্রত্যাশা করিনি।’
হালজেন বলেন, এর আগে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, তিনি নোবেল পুরস্কার পাবেন, তবে ঘোষণা শোনার পরও তার ‘অদ্ভুত’ অনুভূতি হয়েছে।
বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া ৮২ বছর বয়সী এই বিজ্ঞানী যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন–ম্যাডিসনের সঙ্গে যুক্ত।
আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি অ্যান্টার্কটিকার দক্ষিণ মেরুতে অবস্থিত একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলে এর ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন–ম্যাডিসন এর মূল প্রতিষ্ঠান।
নিউট্রিনো অত্যন্ত ক্ষুদ্র মহাজাগতিক কণা, যাদের ভর অকল্পনীয় রকম কম। তবু এগুলো সর্বত্র রয়েছে, সূর্যের মতো নক্ষত্র থেকে এগুলো নির্গত হয় এবং প্রতি সেকেন্ডে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন নিউট্রিনো আমাদের মাঝ দিয়ে চলে যায়।
বিজ্ঞানীরা চারপাশে ছুটে চলা এই রহস্যময় ‘ভূতুড়ে কণা’কে সরাসরি দেখতে পারেন না। বরং এই ক্ষুদ্র কণাগুলোর সঙ্গে পদার্থের অন্যান্য কণার সংঘর্ষের সময় কী ঘটে, তা পরিমাপ করেন।
হালজেন বিরল এক ধরনের নিউট্রিনো নিয়ে গবেষণা করেছেন। দক্ষিণ মেরুতে নিউট্রিনো শনাক্ত করার বিষয়ে তার গবেষণা বিংশ শতাব্দীর আশির দশক থেকে শুরু হয়।
এ বছর পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১২ লাখ ডলার), যা কোনো একক ব্যক্তি, কয়েকজন বিজয়ীর ছোট দল বা কোনো প্রতিষ্ঠান—যে কারও জন্য একই।
গত বছর কোয়ান্টাম টানেলিং গবেষণার জন্য তিন বিজ্ঞানী পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।
এ বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণার শুরু হয় সোমবার চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার মধ্য দিয়ে। মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে তা বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক আলোকনির্ভর একটি প্রযুক্তি তৈরিতে অবদানের জন্য তিন বিজ্ঞানীকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
বুধবার রসায়নে, বৃহস্পতিবার সাহিত্যে, শুক্রবার শান্তিতে ও সোমবার অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হবে।
১৬ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা থেকে ৮৬ টন সোনা লন্ডনে সরিয়ে নিল নেদারল্যান্ডস
‘ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার’ কথা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় রাখা নিজেদের ৮৬ টন সোনা যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সরিয়ে নিয়েছে নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংকটের সময় দ্রুত সোনা ব্যবহার বা লেনদেন করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।
স্থানীয় সময় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্য নেদারল্যান্ডস ব্যাংক (ডিএনবি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
ডিএনবির মতে, নিউইয়র্ক ও অটোয়ার তুলনায় লন্ডনে রাখা সোনা দ্রুত ও সহজে লেনদেন করা যায়। ফলে সংকটের সময় তা দ্রুত কাজে লাগানো সম্ভব।
এ বিষয়ে ডিএনবির প্রেসিডেন্ট ওলাফ স্লেইপেন বলেন, ‘এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা আমাদের সোনার মজুত ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়িয়েছি। আমরা আশা করি, আমাদের কখনোই এসব সোনা ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে না। তবে আমাদের প্রস্তুতি ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।’
ডিএনবি আরও জানায়, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ নেদারল্যান্ডসের মোট সোনার মজুত ছিল ৬১২ দশমিক ৪ টন। ওই সময় এর মূল্য ছিল ৭২ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরো, যা প্রায় ৮৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।
সোনা সরানোর আগে নেদারল্যান্ডসের মোট সোনার ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল নিউইয়র্কে। আর ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল কানাডার রাজধানী অটোয়ায়।
৮৬ টন সোনা সরিয়ে নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা—উভয় দেশেই নেদারল্যান্ডসের মোট সোনার মজুতের পরিমাণ কমে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে।
অন্যদিকে লন্ডনে থাকা সোনার পরিমাণ ১৮ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে। আর নেদারল্যান্ডসের নিজস্ব ভূখণ্ডে এখনও মোট সোনার ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ রয়েছে।
ডিএনবি বলছে, সোনা সরানোর ক্ষেত্রে শুধু শারীরিকভাবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়া হয়নি। এর পাশাপাশি কিছু সোনা কেনাবেচাও করা হয়েছে।
ব্যাংকটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ২৭ টনের বেশি সোনা সরাসরি নেদারল্যান্ডসের জেইস্টে নেওয়া হয়। পরে একই পরিমাণ সোনা জেইস্ট থেকে লন্ডনে পাঠানো হয়। এতে সোনার বারগুলো গলিয়ে নতুন করে তৈরি করার প্রয়োজন হয়নি।
ডিএনবি বলেছে, ‘কেনাবেচা ও সরাসরি পরিবহনের সমন্বয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সোনা সরানোর ঝুঁকি ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।’
চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে ব্যাংকটি জানিয়েছে।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসভিত্তিক ন্যাশনাল গোল্ড কাউন্টারের প্রেসিডেন্ট লরেন্ট শোয়ার্টজ বলেন, এক দশক ধরে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের সোনার মজুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে আসছে। এসব ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও কিছু কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সোনা রাখার জন্য অন্য জায়গাকে অগ্রাধিকার দিতে উৎসাহিত করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, লন্ডনের সোনার বাজার বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও তারল্যপূর্ণ বাজারগুলোর একটি। তাই সংকটের সময় সেখানে থাকা সোনা দ্রুত ব্যবহার করা সহজ।
শোয়ার্টজ বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো অন্য ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সহজে তাদের সোনা ঋণ দিতে পারে।’
সিটে জেস্টিওন প্রাইভেট ব্যাংকের বিশ্লেষক জন প্লাসার্ড বলেন, নেদারল্যান্ডসের এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হলো ‘কোনো সংকট দেখা দিলে সোনার আরও তাৎক্ষণিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।’
তিনি আরও বলেন, আপাতত এটি বেশ একক একটি পদক্ষেপ। তবে অন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও একইভাবে সোনা সরিয়ে নিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
চলতি বছরের শুরুতে নিউইয়র্কে থাকা জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনার মজুতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুন্দেসব্যাংক আপাতত নিউইয়র্ক থেকে তাদের সোনার মজুত সরিয়ে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জানুয়ারিতে জার্মানির সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এআরডিকে বুন্দেসব্যাংক জানিয়েছিল, নিউইয়র্ক ফেড তাদের সোনা সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
৪৯ দিন আগে
ইউক্রেনের কিয়েভ অঞ্চলে রুশ হামলায় নিহত বেড়ে ৩৭
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে বুচা জেলায় রাতভর রাশিয়ার হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) স্থানীয় কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
কিয়েভের আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো জানান, হামলায় অন্তত ৫০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পর একটি বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়, যা কয়েকটি বাড়ি ও একটি রেস্তোরাঁয় ছড়িয়ে পড়ে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে জানান, মিলা গ্রামের একটি গুদামে হামলা চালানো হলে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে।
ঘটনাস্থল সম্পর্কে বিস্তারিত না জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, সরকারি অবহেলার অভিযোগে এ ঘটনায় ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নিয়মকানুন রয়েছে—বাড়িঘর বা অন্যান্য আবাসিক এলাকার কাছে গোলাবারুদ সংরক্ষণ করা যাবে না।’
জেলেনস্কি জানান, হামলায় বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য একটি পরিচর্যা কেন্দ্র এবং আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৩৭০ জনের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধার-উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সেরহি কোরেৎস্কিও হামলার শিকার গুদামটি সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি। তবে তিনি চলতি মাসের শুরুতে কিয়েভের উপকণ্ঠ ভিশনেভেতে একটি গোলাবারুদের গুদামে হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। ওই হামলায় ২২ জন নিহত হন এবং বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে আশপাশের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা ইতোমধ্যে দেখতে পাচ্ছি, ভিশনেভের ভয়াবহ ট্র্যাজেডি কোনো শিক্ষা হয়ে ওঠেনি। পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পঞ্চম বছরে এসে একই ভুল করা অপরাধমূলক অবহেলা। এ ঘটনায় দোষী প্রত্যেককে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, মিলা গ্রামের ওই গুদামে দূরপাল্লার ড্রোনের যন্ত্রাংশ ও উৎক্ষেপণ বুস্টার রাখা ছিল।
রুশ মন্ত্রণালয় আরও দাবি করেছে, তারা মাইকোলাইভ ও ইজমাইলের বন্দর, একটি লজিস্টিক কেন্দ্র এবং কিয়েভ অঞ্চলে ইউক্রেনের ‘ফ্লেমিঙ্গো’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ সংরক্ষণের গুদামে হামলা চালিয়েছে।
কিয়েভে টানা বিমান হামলা তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। এতে ইউক্রেনের রাজধানীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
এদিকে, শনিবার ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় দুইজন নিহত এবং আরও ২৭ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
খেরসন আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্দর প্রকুদিন বলেন, হামলায় বাড়িঘর ও অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
এর আগে, চলতি সপ্তাহে প্রকুদিন বলেন, রাশিয়া এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা জোরদার করেছে। খেরসন অঞ্চলের প্রায় ৭০ শতাংশ বর্তমানে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সম্ভাব্য দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় তিনি অঞ্চলটির কয়েক হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ এলাকায় সরে যাওয়ারও আহ্বান জানান।
৫৪ দিন আগে
ইউক্রেনের কিয়েভ অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় নিহত ২৭
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে বুচা জেলায় রাশিয়ার হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) স্থানীয় কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
কিয়েভের আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো জানান, হামলায় অন্তত ৫০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পর একটি বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়, যা কয়েকটি বাড়ি ও একটি রেস্তোরাঁয় ছড়িয়ে পড়ে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে জানান, মিলা গ্রামের একটি গুদামে হামলা চালানো হলে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে।
ঘটনাস্থল সম্পর্কে বিস্তারিত না জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, সরকারি অবহেলার অভিযোগে এ ঘটনায় ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নিয়মকানুন রয়েছে—বাড়িঘর বা অন্যান্য আবাসিক এলাকার কাছে গোলাবারুদ সংরক্ষণ করা যাবে না।’
জেলেনস্কি জানান, হামলায় বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য একটি পরিচর্যা কেন্দ্র এবং আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৩৭০ জনের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধার-উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
কিয়েভে রাশিয়ার একটানা বিমান হামলা তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। এতে ইউক্রেনের রাজধানীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
প্রতিবেশী দেশটিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় পরও কিয়েভে হামলা অব্যাহত রয়েছে।
৫৪ দিন আগে
কিয়েভে রাতভর রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১২
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৩ জন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত দেশটির রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত কিয়েভে বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল। হামলায় দারনিতস্কি, স্ভিয়াতোশিনস্কি ও সোলোমিয়ানস্কি জেলার ১২টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আবাসিক ভবন, একটি চিকিৎসাকেন্দ্র ও একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। হামলার পর উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
হামলায় দেশটির সোলোমিয়ানস্কি জেলায় একটি ৯ তলা আবাসিক ভবনের দুটি তলা ধসে পড়েছে। ভবনটির অন্যান্য তলাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় দুটি আবাসিক ভবন ও একটি স্কুলের আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ আটকা পড়েছিল।
অশ্রুসজল চোখে কিয়েভের বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী লারিসা বন্দার্যাক বলেন, তার এক প্রতিবেশীর নাতি ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে মারা গেছে। তার নিজের অ্যাপার্টমেন্টও এতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘একটি রকেট তাদের ছাদে আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড শব্দ হয়। এতে একটি দরজা উড়ে যায়। চারদিক থেকে তখন ধোঁয়া ও আগুন, একই সঙ্গে মানুষের চিৎকার ও কান্না ভেসে আসছিল।’
৬৩ দিন আগে
মস্কোয় ইউক্রেনের ৮০০ ড্রোন হামলা, ইউক্রেনের গ্রামে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১০
রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলার একটি চালিয়েছে ইউক্রেনের। এই হামলায় রাশিয়ার উদ্দেশে প্রায় ৮০০ ড্রোন ছোড়া হয়েছে জানিয়েছেন কিয়েভের কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলের একটি গ্রামে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং আরও ১৭ জন আহত হয়েছেন। হামলায় বেশ কয়েকটি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতভর এই পাল্টাপাল্টি হামলা চলে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত ক্রিমিয়া এবং কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরের ওপর ৭৯১টি ইউক্রেনীয় ড্রোন রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর এটি রাশিয়ার ওপর দ্বিতীয় বৃহত্তম ড্রোন হামলা।
৬৫ দিন আগে
হাঙ্গেরিতে বাস দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত
হাঙ্গেরিতে মহাসড়ক থেকে ছিটকে খাদে পড়ে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৫ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে রাজধানী বুদাপেস্ট থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার পূর্বে মেজোকেরেস্তেশ শহরের কাছে এম-৩ মোটরওয়ের পূর্বমুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বাসটিতে পোল্যান্ডের একদল পর্যটক ছিলেন বলে জানিয়েছে হাঙ্গেরি পুলিশ।
এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চালক ঘুমিয়ে পড়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর চালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
হাঙ্গেরির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষের পরিচালক এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে ৫৭ জন যাত্রী ও দুইজন চালক ছিলেন। বাসটি উল্টে যাওয়ার পর কয়েকজন যাত্রী সেটির নিচে আটকা পড়েন।
এদিকে, পোল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাসিয়েই ভেভিওর পোলিশ সংবাদ সংস্থা পিএপিকে জানান, বাসযাত্রীদের সবাই পোল্যান্ডের নাগরিক ছিলেন।
এ ঘটনার পর পোল্যান্ডের রেৎসেসৎভ শহরের আঞ্চলিক সরকার এক ফেসবুক পোস্টে জানায়, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পডকারপাকি অঞ্চলের বাসিন্দারা বসনিয়া-হার্জেগোভিনায় তীর্থযাত্রা শেষে দেশে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তাদের বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিতার ম্যদিয়ার এক ফেসবুক বিবৃতিতে জানান, দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া উদ্ধারকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।
পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি এ দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমি নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’
৬৭ দিন আগে
ইউক্রেনে হামলায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে মস্কো, অভিযোগ জেলেনস্কির
ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও গ্লাইড বোমা দিয়ে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ৯ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে মঙ্গলবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
একই সময়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মস্কোর বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কো উত্তর কোরিয়া থেকে নতুন করে সামরিক সহায়তা পাচ্ছে।
জেলেনস্কি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া শহরে রাতভর হামলায় রুশ বাহিনী উত্তর কোরিয়ার সরবরাহ করা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই হামলায় ছয়জন নিহত ও ১৯ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া মধ্যাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন ও গোলাবর্ষণে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরসহ আরও তিনজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া পিয়ংইয়ংয়ের কাছ থেকে আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে এবং আরও উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দুই বছরের বেশি সময় আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তিতে সই করেন। চুক্তিতে দুই দেশের যেকোনো একটি দেশ আগ্রাসনের শিকার হলে পারস্পরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
ইউক্রেনে পুতিনের আগ্রাসনকে সমর্থন করতে কিম হাজার হাজার সেনা এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ করেছেন। বিশেষজ্ঞের কারও কারও মতে, মস্কোর সঙ্গে এই সহযোগিতার ফলে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বাড়ছে। জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা উত্তর কোরিয়াকে এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের জন্য আরও বড় হুমকি হয়ে উঠতে সহায়তা করবে।
ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়াচ্ছে। কিয়েভের কাছে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে সক্ষম প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিকে কাজে লাগাতেই মস্কো এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে দাবি ইউক্রেনের। দেশটি আরও বলছে, পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনজুড়ে ১ হাজার ২৫০ কিলোমিটার (৭৭৫ মাইল) দীর্ঘ সম্মুখসারিতে নতুন করে অভিযান চালাতে রাশিয়া সেনা নিয়োগ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি বলেন, ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানো, উত্তর কোরিয়ার সরঞ্জাম আনা, সেনা সমাবেশের প্রস্তুতির মতো রাশিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপই দেখাচ্ছে যে মস্কো শান্তির জন্য নয়, বরং উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। সমঝোতার দিকে অগ্রগতির অভাবে ওয়াশিংটন হতাশ হয়ে পড়েছে এবং ইরান যুদ্ধের দিকে তাদের মনোযোগ সরে গেছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার সোমবার রাতে এক বিশ্লেষণে বলেছে, ‘পুতিন যতক্ষণ মনে করবেন যে তার পূর্ণাঙ্গ লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি কার্যকর সামরিক পথ রয়েছে, ততক্ষণ ক্রেমলিন গুরুতর আলোচনায় প্রবেশ করবে না বা তার দাবিতে বড় কোনো ছাড় দেবে না।’
সংস্থাটি আরও বলেছে, ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি রাশিয়াকে ইউক্রেনের ব্যাপক ক্ষতি করার সুযোগ করে দিচ্ছে। এর ফলে অর্থবহ আলোচনা পিছিয়ে যেতে এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে।
কিয়েভের শিশু হাসপাতালে হামলা
রাতভর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বিভিন্ন এলাকাতেও হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। একটি হামলায় একটি শিশু হাসপাতালের চত্বরে দুটি গর্ত তৈরি হয় এবং জানালার কাচ ভেঙে যায় বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা বিভাগ। তবে শিশু ও চিকিৎসাকর্মীরা বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকায় কেউ আহত হয়নি।
রাজধানীর অন্য একটি এলাকায় রুশ হামলায় একটি গুদামে আগুন ধরে যায়। জরুরি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন প্রায় ১ হাজার ২০০ বর্গমিটার (প্রায় ১৩ হাজার বর্গফুট) এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বাহিনী রাতভর কিয়েভ ও জাপোরিঝঝিয়ার ‘সামরিক শিল্প স্থাপনা এবং পরিবহন ও সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতে’ স্থলভিত্তিক নির্ভুল অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
আজ (মঙ্গলবার) এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি জানায়, কিয়েভে ড্রোন সংরক্ষণ করা হচ্ছিল এমন বেসামরিক গুদাম এবং জাপোরিঝঝিয়া শহরের একটি ধাতু কারখানায় হামলা চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া জাপোরিঝঝিয়া ও কিয়েভে জিরকন অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র ও ইস্কান্দার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ১২০টি দূরপাল্লার হামলা চালানোর ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
রাশিয়ার বৃহত্তম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে আবারও হামলা
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাশিয়ার ১৪টি অঞ্চল ও অধিকৃত ক্রিমিয়ার আকাশে প্রায় ৪০০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজ জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্তবর্তী ভোরোনেজ অঞ্চলে তাদের সরবরাহকেন্দ্রগুলো হামলার শিকার হয়ে আগুন ধরে যায়। তবে পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সেখানে সংরক্ষিত পণ্য ‘বেশিরভাগই অক্ষত’ রয়েছে।
ইউক্রেন এর আগে একাধিকবার ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালিয়ে আসছে দেশটি। কিয়েভের দাবি, পুতিনকে যুদ্ধ অবসানে আলোচনায় বসতে বাধ্য করার কৌশলের অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, রাতভর তাদের বাহিনী রাশিয়ার ওরেনবুর্গ অঞ্চলের ওরস্কনেফতেওরগসিনতেজ তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শোধনাগারটিতে হামলার পর আগুন ধরে যায়।
শোধনাগারটির বছরে প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। সেখানে গ্যাসোলিন, ডিজেল ও উড়োজাহাজের জ্বালানিসহ বিভিন্ন ধরনের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য উৎপাদন করা হয়। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী।
৭২ দিন আগে
অনাকাঙ্ক্ষিত টেলিমার্কেটিং কল নিষিদ্ধ করল ফ্রান্স
ভোক্তাদের বিরক্তিকর বিক্রয় প্রচারণা থেকে সুরক্ষা এবং প্রতারণামূলক বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সুরক্ষায় অনাকাঙ্ক্ষিত টেলিমার্কেটিং বা বাণিজ্যিক কল নিষিদ্ধ করেছে ফ্রান্স। নতুন আইনে ভোক্তার পূর্বানুমতি ছাড়া এ ধরনের ফোনকল করে বিরক্ত করতে পারবে না ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর সরকারের সমর্থিত নতুন এই আইন কার্যকর হয়েছে।
বিভিন্ন দেশ অনাকাঙ্ক্ষিত বিপণন কল বন্ধে ‘অপ্ট-আউট’ ব্যবস্থা চালু করলেও ফ্রান্স আশা করছে, বাধ্যতামূলক ‘অপ্ট-ইন’ ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে।
বছরের পর বছর অভিযোগ
সরকার বলছে, বছরের পর বছর ধরে ভোক্তাদের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই আইনটি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ফ্রান্সের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বিক্রয় কল পান। অনেকেই এর চেয়েও বেশি কল পান।
ফ্রান্সে আগে যারা বিপণনমূলক ফোনকল এড়াতে চাইতেন, তাদের সরকারি একটি সেবায় নিজেদের ফোন নম্বর নিবন্ধন করতে হতো। কিন্তু ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করে আসছিল, কিছু কল সেন্টার ওই তালিকা মানত না।
২০২৪ সালে ১১টি ভোক্তা অধিকার সংগঠন যৌথভাবে এ ধরনের কল নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানায়। তারা ল্যান্ডলাইন ও মোবাইল ফোনে অসংখ্য অনাকাঙ্ক্ষিত টেলিমার্কেটিং কলের মাধ্যমে ভোক্তাদের ‘নিরলস হয়রানির’ নিন্দা জানিয়ে বলেছিল, এ ধরনের হস্তক্ষেপ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নিয়মিত অংশ হয়ে উঠেছে।
এরপর গত বছর ফ্রান্সের পার্লামেন্ট আইনটি অনুমোদন করে। এবার নতুন আইনটি বাস্তবায়িত হওয়ায় সেসব জটিলতা দূর হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশটির প্রতিযোগিতা, ভোক্তা বিষয়ক ও প্রতারণা প্রতিরোধ অধিদপ্তরের (ডিজিসিসিআরএফ) চিফ অব স্টাফ অ্যালিস ভিলকট বলেন, ‘ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভোক্তার পূর্বানুমতি ছাড়া তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আবার অনুমতি দিলেও ভোক্তা যেকোনো সময় ওই সম্মতি প্রত্যাহার করতে পারবেন।’
একটি অবৈধ কলেই গুণতে হবে বড় অঙ্কের জরিমানা
অবৈধ টেলিমার্কেটিং কল করা ব্যক্তিকে প্রতি কলের জন্য সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার ইউরো (৮৭ হাজার ডলার) জরিমানা করা হতে পারে। আর কোনো কোম্পানির পক্ষ থেকে অবৈধ কল গেলে প্রতি কলের জন্য সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৭৫ হাজার ইউরো (৪ লাখ ৩৫ হাজার ডলার) জরিমানা গুনতে হতে পারে।
তবে আইনে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। যেমন: কোনো ভোক্তা ফরমে সম্মতির ঘরে টিক চিহ্ন দিয়ে বিপণনমূলক কল পাওয়ার অনুমতি দিতে পারেন। আবার কোনো কোম্পানির সঙ্গে গ্রাহকের আগে থেকেই চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক থাকলে প্রতিষ্ঠানটি তাকে নতুন বাণিজ্যিক প্রস্তাব জানাতে পারবে।
অনাকাঙ্ক্ষিত কলের বিষয়ে মানুষ একটি সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
ভিলকট জানান, আয়ারল্যান্ডভিত্তিক একটি কোম্পানিকে গত বছর ৬০ লাখ ইউরো (৬৯ লাখ ডলার) জরিমানা করা হয়েছিল। ফ্রান্সের আগের টেলিমার্কেটিং বিধি লঙ্ঘন করে ‘নো-কল’ তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের ফোন করার কারণে ওই জরিমানা করা হয়।
ফ্রান্সের নতুন আইনে মরক্কোয় উদ্বেগ
ফ্রান্সের নতুন আইনটি মরক্কোতেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটির কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইউনেস সেক্কুরি আইনপ্রণেতাদের বলেছেন, এতে মরক্কোর কল সেন্টার খাতে ৫০ হাজার পর্যন্ত চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সেক্কুরি বলেন, এ খাতে প্রায় ১০ কোটি ডলার বিনিয়োগ এসেছে এবং এই খাত বছরে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করে।
কম শ্রম ব্যয়, ফরাসিভাষী বিপুল কর্মী এবং তুলনামূলক দুর্বল শ্রমিক ইউনিয়নের কারণে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে মরক্কো আকর্ষণীয় আউটসোর্সিং গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ব্যয় কমাতে চাওয়া ফরাসি কোম্পানিগুলো দেশটির কল সেন্টার খাতের বড় গ্রাহক।
মরক্কোর আউটসোর্সিং সার্ভিসেস ফেডারেশনের সভাপতি ইউসুফ চ্রাইবি স্থানীয় দৈনিক ‘লে মাতাঁ’কে বলেন, ঐতিহাসিকভাবে ফ্রান্সের বাজার দেশটির এ খাতের আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি জোগান দিয়ে থাকে।
তিনি বলেন, ‘শুধু টেলিমার্কেটিং এখন মোট কর্মকাণ্ডের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ।’ একই সঙ্গে খাতটি প্রচলিত কল সেন্টার সেবার বাইরে ক্রমেই বৈচিত্র্য আনছে বলেও জানান তিনি।
অন্য দেশগুলোর পদক্ষেপ
নাগরিকের সুরক্ষায় ফ্রান্স সরকারের এই পদক্ষেপ বিশ্বে নতুন নয়। প্রতিবেশী দেশ জার্মানিতে ২০০৯ সাল থেকেই এ ধরনের কলের ওপর একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
নেদারল্যান্ডস গত মাসে টেলিমার্কেটিং কলের নিয়ম আরও কঠোর করেছে। দেশটিতে আগে থেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত বিক্রয় কল নিষিদ্ধ ছিল। এখন কোনো কোম্পানি পূর্বানুমতি ছাড়া তাদের বিদ্যমান গ্রাহকদেরও প্রচারণামূলক প্রস্তাব দিতে ফোন করতে পারবে না।
অন্য অনেক দেশ অবশ্য ‘অপ্ট-আউট’ ব্যবস্থা অনুসরণ করে।
যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ জাতীয় ‘ডু নট কল’ রেজিস্ট্রিতে নিজেদের নাম নিবন্ধন করতে পারেন। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিক্রয় কল কমে আসে। কানাডা ও যুক্তরাজ্যেও একই ধরনের ‘ডু নট কল’ তালিকা রয়েছে।
যুক্তরাজ্যে যারা অনাকাঙ্ক্ষিত কল বন্ধের তালিকায় নিজেদের নাম নিবন্ধন করেছেন, তাদের ফোন করা কোম্পানিকে প্রতি কলের জন্য সর্বোচ্চ ৫ লাখ পাউন্ড (৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার) জরিমানা করার বিধান রয়েছে।
৭২ দিন আগে