ইউরোপ
তবে কি নতুন প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে ব্রিটেন?
২০২২ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পদত্যাগ করার সময় বলেছিলেন, যেসব রাজনীতিক একসময় তাকে নিঃশর্ত সমর্থন দিয়েছিলেন, তারাই পরে তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। সে সময় তিনি তার ভাগ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘পালের (রাজনৈতিক গোষ্ঠী) প্রবৃত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী, আর এই পাল যখন একবার চলতে শুরু করে, তখন তা চলতেই থাকে।’
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির বিপুল জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হওয়া কিয়ার স্টারমারকে নিয়েও এখন একই প্রশ্ন উঠছে। গত সপ্তাহ শেষে তার ঘনিষ্ঠতম সহকারীর পদত্যাগ ছিল গত ১৮ মাসে সরকারের ওপর নেমে আসা ধারাবাহিক বিপর্যয়ের সর্বশেষ ঘটনা।
এর ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে অসন্তোষ ও হতাশা স্পষ্ট হলেও এখনও সম্মিলিতভাবে স্টারমারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি সবাই।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের অভিমত, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্টারমারের সময় প্রায় শেষের দিকে।
স্টারমারের প্রধানমন্ত্রীত্ব নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে
গত ১০ বছরে স্টারমার যুক্তরাজ্যের ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী। এর আগে, ২০১৬ সালের জুলাই মাসে ডেভিড ক্যামেরন প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার পর একে একে টেরিজা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস এবং ঋষি সুনাকও পদত্যাগ করেন ।
স্টারমারের নিজের দলের অনেক সংসদ সদস্যই মনে করছেন, তার সময় শেষ হয়ে এসেছে, কিন্তু খুব কম সংখ্যকই তা প্রকাশ্যে বলার সাহস দেখিয়েছেন।
তবে স্থানীয় সময় সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। তখন স্কটল্যান্ডের লেবার পার্টির নেতা আনাস সারোয়ার প্রকাশ্যে স্টারমারকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই বিশৃঙ্খলা শেষ হওয়া দরকার এবং ডাউনিং স্ট্রিটের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসা উচিত।
তবে সারোয়ারের পর অন্য কেউ তাৎক্ষণিকভাবে এই পথে হাঁটেননি, বরং এক ঘণ্টার মধ্যেই স্টারমারের মন্ত্রিসভার প্রায় সব জ্যেষ্ঠ সদস্য তার পাশে থাকার ঘোষণা দেন।
তা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান বর্তমানে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। গত রবিবার পদত্যাগ করেছেন তার চিফ অব স্টাফ মর্গান ম্যাকসুইনি। তিনি বিশ্বজুড়ে, এমনকি খোদ ব্রিটেনেও খুব পরিচিত না হলেও তার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। তিনি ছিলেন সেই রাজনৈতিক কৌশলবিদ, যার পরিকল্পনা স্টারমারকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল।
নেপথ্যে এপস্টাইন ফাইল
ব্রিটনের প্রধানমন্ত্রী এখন আগের চেয়ে বেশি একা হয়ে পড়েছেন। ম্যাকসুইনির পদত্যাগ এবং স্টারমারের ওপর তীব্র চাপের মূল কারণ ‘এপস্টাইন ফাইল’। লাখ লাখ নথিপত্রের মধ্যে সাংবাদিকরা এমন কিছু ইমেল ও তথ্য পেয়েছেন যা প্রমাণ করে, প্রভাবশালী ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টাইনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
ম্যান্ডেলসন গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। গত গ্রীষ্মে তার সঙ্গে এপস্টাইনের সম্পর্কের কথা জানাজানি হলে তিনি পদত্যাগ করেন। কিন্তু তখন থেকে ম্যান্ডেলসন বলেছেন যে তার ক্ষমা চাওয়ার কিছু নেই এবং তিনি এপস্টাইনের ঘনিষ্ঠ কেউ নন।
কিন্তু তার এ দাবি ধোপে টেকেনি। সপ্তাহ দুয়েক আগে প্রকাশিত নথি থেকে জানা যায়, তিনি এপস্টাইনের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ২০০৮ সালে ম্যান্ডেলসন যখন লেবার সরকারের সদস্য ছিলেন, তখন তিনি এপস্টাইনের সঙ্গে বাজার-সংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল তথ্য জানিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইতিহাসবিদ অ্যান্থনি সেলডন এই ঘটনাকে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কারণে অভিযোগের তীর উঠছে স্টারমারের দিকেই। যদিও ব্রিটেন প্রধানমন্ত্রীর চিপ অব স্টাফ ম্যাকসুইনি ম্যান্ডেলনের নিয়োগের ব্যাপারে ভুল পরামর্শ ছিল বলে দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন।
রবিবার এক বিবৃতিতে ম্যাকসুইনি বলেন, পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। তিনি আমাদের দল, দেশ এবং রাজনীতির ওপর মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। আমাকে জিজ্ঞেস করা হলে আমি প্রধানমন্ত্রীকে এই নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছিলাম এবং সেই পরামর্শের সম্পূর্ণ দায় আমি নিচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রীর সমর্থকরা আশা করছেন, এই পদত্যাগ স্টারমারকে সরকার নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার কিছুটা সময় দেবে। তবে সমালোচকদের মতে, স্টারমারের শেষ প্রতিরক্ষাবলয়টি সরে গেছে। তার সরে যাওয়াও এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ানের রাজনৈতিক সম্পাদক পিপা ক্রেরার বলেন, স্টারমারের পুরো কর্মজীবনে আইনজীবী হিসেবে এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে একটি ধারাবাহিক বিষয় ছিল সহিংস পুরুষদের বিরুদ্ধে এবং নারীদের পক্ষে তার অবস্থান।
তিন আশা প্রকাশ করেন, এপস্টাইন কেলেঙ্কারি তাকে গভীরভাবে আঘাত করবে। বর্তমান ক্ষোভ একসময় অনুশোচনায় রূপ নিতে পারে, যা তাকে নিজের অবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে। তবে তিনি যদি দায়িত্বে থাকতে চান, কিছু শক্তি হয়তো তাকে আরও কিছুদিন ধরে রাখতে পারে।
নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় যারা
লেবার পার্টিতে এখন স্টারমারের কোনো স্পষ্ট উত্তরসূরি নেই। একসময়ের উপ-প্রধানমন্ত্রী বামপন্থী অ্যাঞ্জেলা রেইনারকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কর-সংক্রান্ত বিষয়ে তাকে স্টারমারের মন্ত্রিসভা ছাড়তে হয়েছে, যা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।
সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডানপন্থী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের নামও আলোচনায় আছে। তিনি দক্ষ বক্তা হলেও ব্রিটিশ রাজনীতিতে বিভাজন সৃষ্টিকারী ব্যক্তিত্ব।
স্টারমার পদত্যাগ করলে তাদের কেউ কি লেবার পার্টিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারবেন? বিগত রক্ষণশীল সরকারের অবিরাম নাটক, পদত্যাগ এবং কেলেঙ্কারিতে বিরক্ত এমন একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কি তারা আরও ভালো হতে পারবেন?
স্টারমার যদি মে মাস পর্যন্ত টিকে যান, তাহলে তার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের বিকেন্দ্রীভূত পার্লামেন্ট এবং ব্রিটেনজুড়ে স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনের ফলাফলের ওপর। এসব নির্বাচনে লেবার পার্টির ফল খুব খারাপ হলে স্টারমারের ওপর চাপ অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে। তখন তার নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বীরা হয়তো প্রকাশ্যে সামনে আসবেন।
৮ দিন আগে
যুদ্ধ শেষ করতে জুনের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছানোর সময় বেঁধে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: জেলেনস্কি
প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইউক্রেন ও রাশিয়াকে জুন মাসের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জুনের সময়সীমার মধ্যে শর্ত পূরণ না হলে ইউক্রেন-রাশিয়া উভয় পক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমেরিকানরা প্রস্তাব করছে যে গ্রীষ্মের শুরুতেই যুদ্ধ শেষ না করলে তারা এই সময়সূচি অনুযায়ীই যুদ্ধরত পক্ষগুলোর ওপর চাপ দেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বলছে যে জুনের মধ্যেই তারা এ বিষয়ে সবকিছু সমাধান করতে চায় এবং যুদ্ধ শেষ করতে যা যা করা প্রয়োজন, তার সবই তারা করার জন্য প্রস্তুত। তারা (যুক্তরাষ্ট্র) মূলত সব ঘটনার একটি স্পষ্ট সময়সূচি চায়।’
তবে স্থানীয় সময় শনিবার সকাল পর্যন্ত তার এ মন্তব্য প্রকাশ করা নিষেধ ছিল।
জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব করেছে যে পরবর্তী ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আগামী সপ্তাহে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হবে। ইউক্রেন সেখানে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে।
সম্প্রতি আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় একটি চুক্তিতে যুদ্ধরত দেশগুলোর অনঢ় অবস্থান দেখে যুদ্ধ অবসানে সময়সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
ইউক্রেনে লড়াই ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ডনবাস অঞ্চল থেকে সরে যাওয়ার জন্য রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যা কিয়েভ কখনোই মেনে নেবে না বলে জানিয়েছে। জেলেনস্কি বলেন, ‘জটিল বিষয়গুলো এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। আমরা আমাদের অবস্থানেই অটল। আমাদের মতে, আজকের দিনে যুদ্ধবিরতির জন্য এটিই উত্তম পন্থা।’
তবে সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলো ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য সংরক্ষিত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
১১ দিন আগে
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব মানতে এখনো প্রস্তুত নন জেলেনস্কি: ট্রাম্প
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তিতে সই করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এখনো প্রস্তুত নন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন প্রশাসনের প্রস্তাব নিয়ে মতপার্থক্য কমানোর লক্ষ্যে স্থানীয় সময় শনিবার (৬ ডিসেম্বর) মার্কিন ও ইউক্রেনীয় আলোচকরা তিন দিনের বৈঠক শেষ করার পর জেলেনস্কির সমালোচনা করেন ট্রাম্প। পরের দিন রবিবার রাতে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আলোচনা এগিয়ে নিতে বাধা দিচ্ছেন।
কেনেডি সেন্টারে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কিছুটা হতাশ যে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এখনো প্রস্তাবটি পড়েননি। অন্তত কয়েক ঘণ্টা আগ পর্যন্ত পরিস্থিতি এমনই ছিল। তার প্রতিনিধিরা এটি পছন্দ করেছে, কিন্তু তিনি পড়েননি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি রাশিয়া এতে সম্মত আছে, কিন্তু জেলেনস্কির সম্মতি আছে কি না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত নই। তার প্রতিনিধিরা এটি পছন্দ করেছে, কিন্তু তিনি এখনো প্রস্তুত নন।’
অন্যদিকে, ট্রাম্প বললেও হোয়াইট হাউসের পরিকল্পনায় এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে অনুমোদন দেননি পুতিন। যদিও মূল খসড়াটি ব্যাপকভাবে মস্কোর পক্ষে ছিল, তবে গত সপ্তাহে তিনি বলেছিলেন যে ট্রাম্পের প্রস্তাবের কিছু দিক গ্রহণযোগ্য নয়।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে জেলেনস্কির সঙ্গে তার সম্পর্ক অনেকটা অম্লমধুর। তবে, ট্রাম্প জোর দিয়ে বলে আসছেন যে এই যুদ্ধ মার্কিন করদাতাদের অর্থের অপচয়। প্রায় চার বছর ধরে চলা এই সংঘাত শেষ করতে তিনি বারবার ইউক্রেনকে রাশিয়ার কাছে ভূমি ছেড়ে দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় সময় শনিবার জেলেনস্কি বলেন, ফ্লোরিডায় বৈঠকে থাকা আমেরিকান কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার ফলপ্রসূ ফোনালাপ হয়েছে। বৈঠকে থাকা মার্কিন ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা তাকে ফোনে পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য জানিয়েছেন।
এরপর সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘প্রকৃত শান্তি অর্জনের লক্ষ্যে ইউক্রেন আমেরিকার সঙ্গে সদিচ্ছার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।’
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বার্তা সংস্থা তাসকে বলেছেন, নতুন কৌশলগত চুক্তিটি মস্কোর পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বলেন, এই চুক্তিতে সংঘাতের বিরুদ্ধে এবং সংলাপ ও ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার পক্ষে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে এটি ইউক্রেনের সঙ্গে সমঝোতায় ওয়াশিংটনের আরও গঠনমূলক সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গত শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত নথিতে বলা হয়েছিল, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ শেষ করা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মূল বিষয়, যাতে রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যায়।
গত শনিবার রিগ্যান ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোরামে কথা বলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেন-বিষয়ক বিদায়ী দূত কিথ কেলগ বলেন, যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টা আর ‘১০ মিটার দূরে’। তিনি বলেন, চুক্তি এখন দুটি প্রধান অমীমাংসিত বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে— ‘ভূখণ্ড, মূলত ডনবাস’ এবং জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
রাশিয়া বর্তমানে ডনবাসের (দোনেৎস্ক ও পাশের লুহানস্ক অঞ্চল) অধিকাংশ অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। তিন বছর আগে ইউক্রেনের দক্ষিণের আরও দুটি অঞ্চলের সঙ্গে এই এলাকাগুলো দখল করেছিল রাশিয়া। এ ছাড়া জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ইউক্রেনে আগ্রাসনের শুরু থেকেই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অবশ্য বর্তমানে এটি চালু নেই।
এদিকে, আজ (সোমবার) লন্ডনে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির নেতাদের জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।
৭৩ দিন আগে
গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে নৌকাডুবি, অন্তত ১৮ অভিবাসী নিহত
গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের উপকূলে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে একটি ফোলানো নৌকা উল্টে গিয়ে কমপক্ষে ১৮ জন অভিবাসী নিহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (৬ ডিসেম্বর) তুরস্কের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবতে থাকা নৌকাটিকে দেখতে পায়। এরপর তারা গ্রিস কর্তৃপক্ষ জানায়।
নৌকাটিতে আরও কেউ ছিল কিনা, তা জানতে উদ্ধার অভিযান চলছে। নৌকাটি কোথা থেকে ছেড়ে এসেছিল, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের একটি জাহাজ ও একটি উড়োজাহাজ, গ্রিক কোস্টগার্ডের একটি হেলিকপ্টার এবং তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ অংশ নিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার দারিদ্র্য ও সংঘাতপীড়িত অঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা মানুষের জন্য ইউরোপের দেশগুলোতে প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ গ্রিস উপকূল। তবে এ যাত্রাপথে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে থাকে।
ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অল্প দূরত্ব হওয়ায় ফোলানো ডিঙ্গি বা ছোট নৌকায় করে তুরস্কের উপকূল থেকে গ্রিসের নিকটবর্তী দ্বীপগুলোতে যাতায়াতের এই নৌপথ ছিল অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রধান রুট। তবে স্থানীয় নৌ-পুলিশের টহল বৃদ্ধি এবং ক্রমাগত পুশব্যাকের কারণে সম্প্রতি এই পথে অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের চাপ কমে গেলেও বিকল্প পথ হিসেবে গত কয়েক মাসে লিবিয়া থেকে ক্রিট দ্বীপে তাদের আনাগোনা বেড়েছে।
৭৪ দিন আগে
ইউক্রেন শান্তি চুক্তি যে আর দূরে নয়, তা নিশ্চিত: ক্রেমলিন
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা গঠনমূলক হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ। তবে সফল চুক্তিতে পৌঁছাতে আরও কাজ বাকি আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সময় বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ক্রেমলিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে তিনি একথা জানান উশাকভ।
শান্তি চুক্তিতে পৌঁছার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পুতিন। তবে কোনো পক্ষই আলোচনার ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি।
উশাকভ এই আলোচনাকে কার্যকর, গঠনমূলক ও বাস্তবসম্মত বলে অভিহিত করেছেন। সুনির্দিষ্ট বিষয়ে আলোচনার পরিবর্তে শান্তি চুক্তির কাঠামো নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন বলে জানান তিনি।
শান্তি চুক্তির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে পুতিনের এই উপদেষ্টা বলেন, ‘সেটি যে আর দূরে নয়, তা নিশ্চিত।’
তিনি বলেন, ‘তবে মস্কো ও ওয়াশিংটনে এখনো অনেক কাজ বাকি আছে। এ বিষয়ে উভয় পক্ষই সম্মত হয়েছে এবং যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।’
৭৮ দিন আগে
ট্রাম্পের শান্তি আলোচনা এগোলেও ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা জটিলতাই প্রধান অন্তরায়
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শান্তি উদ্যোগ জোরালো হওয়ার মাঝেই কূটনীতিকরা এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত প্রাথমিক শান্তি প্রস্তাবে দুটি মুখ্য বিষয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে—ইউক্রেনের ভূখণ্ড ছাড় দেওয়া এবং কিয়েভের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা।
গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মার্কিন আলোচকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইউক্রেনের প্রতিনিধি দল। এবার রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করতে এ সপ্তাহেই ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা মস্কো সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
গত মাসে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশের পর তা রাশিয়ার স্বার্থের অনুকূলে বলে কিয়েভ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মাঝে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে গত সপ্তাহে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের এক দফা আলোচনার পর পরিকল্পনায় সংশোধন আনা হয়।
এরপর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, সংশোধিত পরিকল্পনাটি ‘কার্যকর করার মতো’। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একে ভবিষ্যৎ শান্তি চুক্তির ‘সম্ভাব্য ভিত্তি’ বলে উল্লেখ করেন। আর গেল রবিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘চুক্তিতে পৌঁছানোর ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।’
তবে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে এখনও অনেক পথ বাকি বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। কারণ ইউক্রেন নিজেদের ভূমি ছাড়বে কিনা এবং ভবিষ্যতে তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে কতটা নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে—এমন মূখ্য কিছু বিষয় নিয়ে এখনও কোনো মীমাংসা হয়নি।
কিয়েভের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, এবার মস্কো
ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে ইউক্রেনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। ফ্লোরিডার হ্যাল্যারেন্ড বিচের শেল বে ক্লাবে স্থানীয় সময় রবিবার (৩০ নভেম্বর) ৪ ঘণ্টাব্যাপী চলে ওই আলোচনা।
বৈঠকে ইউক্রেনের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান রুস্তেম উমেরভ, সেনাপ্রধান অ্যান্ড্রি নাটভ এবং প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ওলেক্সান্দার বেভজসহ আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা। আর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
বৈঠকের পর রুবিও জানান, ইউক্রেনের প্রতিনিধি দলের বৈঠক ফলপ্রসু হয়েছে, তবে যুদ্ধের অবসানে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আরও অনেক কাজ বাকি। অপরদিকে, উমেরভ যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রশংসা করলেও আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেননি।
এবার মস্কোর আলোচকদের সঙ্গে মার্কিন আলোচকরা বৈঠকে বসবেন।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে রাশিয়ায় পাঠাবেন। এব বিষয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সোমবার নিশ্চিত করেছিলেন যে, প্রেসিডেন্ট পুতিন স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে উইটকফের সঙ্গে দেখা করবেন।
এমনকি, এই চুক্তির আশানুরূপ অগ্রগতি হলে ট্রাম্প ভবিষ্যতে পুতিন ও জেলেনস্কির সঙ্গে বসতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন।
দুই পক্ষের কার কী অবস্থান
ট্রাম্পকে খুশি করতে কিয়েভ ও মস্কো উভয় পক্ষ থেকেই শান্তি পরিকল্পনার বিষয়টিকে স্বাগত জানানো হয়েছে। কিন্তু ইউক্রেনে হামলা বন্ধ করেনি রাশিয়া। ফলে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো যে এখনো অনেক দূরের বিষয়, তার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
গত সপ্তাহে পুতিন বলেন, তিনি তার লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের যে চারটি অঞ্চল দখল করেছে, ইউক্রেন যদি সেখান থেকে তাদের সেনাবাহিনী পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেয়, কেবল তখনই তিনি হামলা বন্ধ করবেন।
যদিও ওই অঞ্চলগুলোতে এখনও পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি রাশিয়া, তারপরও পুতিনের দাবি, ‘যদি তারা (ইউক্রেনীয় বাহিনী) না সরে, আমরা জোর করে তা আদায় করব, ব্যাস।’
এর মধ্যে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেছেন, এটি ‘ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি’ হতে পারে। কিন্তু চূড়ান্ত করতে হলে এ বিষয়ে ‘গুরুতর আলোচনা’ প্রয়োজন।
অন্যদিকে, জেলেনস্কি নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে কথা না বলে কেবল ট্রাম্পকে তার (শান্তি স্থাপন) প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি চান, এই প্রক্রিয়ায় ইউরোপের যুক্ত থাকুক, কারণ এতে ইউরোপের স্বার্থও সম্পৃক্ত। এ ছাড়া ইউক্রেনের স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের উপস্থাপিত পরিকল্পনার প্রাথমিক খসড়ায় রাশিয়ার কয়েকটি মূল দাবি মেনে নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, ইউক্রেন যেগুলোকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে খারিজ করে দেয়। দাবিগুলো ছিল, ইউক্রেনের যেসব অঞ্চল রাশিয়া এখনও পুরোপুরি দখল করেনি, সেগুলোও রাশিয়াকে ছেড়ে দিতে হবে, ন্যাটোর সদস্য হওয়ার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে ইত্যাদি।
জেলেনস্কি বারবার বলেছেন যে ভূখণ্ড ত্যাগ করা কোনো বিকল্প হতে পারে না। গত বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে ইয়েরমাকও দ্য আটলান্টিককে বলেন, জেলেনস্কি ভূখণ্ড ছাড়ার শর্তে কোনো চুক্তিতে সই করবেন না।
জেলেনস্কির মতে, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সবচেয়ে সহজ পথ হলো দেশটিকে ন্যাটোর সদস্যপদ দেওয়া। ন্যাটোর ৩২ সদস্য দেশও গত বছর বলেছিল যে, ইউক্রেনকে ন্যাটোয় অন্তর্ভূক্তির বিকল্প নেই। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ন্যাটোর সদস্যপদ নিয়ে আর কোনো আলোচনা হবে না।
ওদিকে, ইউক্রেনের ভূখণ্ডে পশ্চিমা শান্তিরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে তীব্র বিরোধিতা করে রাশিয়া বলছে, ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্য হতে না দেওয়াই ছিল চলমান এই হামলা শুরুর মূল উদ্দেশ্য।
সময় পুতিনের পক্ষে
এদিকে, নিজ দেশেই সম্প্রতি রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন জেলেনস্কি। ইয়েরমাকের পদত্যাগ জেলেনস্কির জন্য বড় ধাক্কা, যদিও দুজনের কারো বিরুদ্ধেই কোনো অনিয়মের অভিযোগ আনেননি তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া চায় ইউক্রেন ভুল করুক। কিন্তু আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ভুল পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। আমাদের কাজ চলমান, আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে। একে শেষ পর্যন্ত না নিয়ে যাওয়ার অধিকার আমাদের নেই।
ইয়েরমাকের পদত্যাগে সাময়িক চাপে পড়লেও দীর্ঘ মেয়াদে তা ইউক্রেনের জন্য মঙ্গলজনক বলে মনে করেন দেশটির বেসরকারি দুর্নীতি দমন কেন্দ্রের অ্যাক্টিভিস্ট ভ্যালেরিয়া রাডচেঙ্কো। তার মতে, এর ফলে সরকারের মধ্যে একটি ‘সংস্কারের সুযোগ’ তৈরি হবে।
তবে, এর মধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে দাবি করে তা নিয়ে গর্ব করছেন পুতিন। এ বিষয়ে কার্নেগি রাশিয়া ও ইউরেশিয়া সেন্টারের তাতিয়ানা স্তানোভায়া এক্স-এ লিখেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট যুদ্ধের ময়দানে সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন। তিনি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী। তাই তিনি (পুতিন) কিয়েভের পরাজয় মেনে নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতায় বাধ্য হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন।
স্তানোভায়া বলেছেন, ‘আমেরিকা যদি সমস্যা সমাধানের এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সহযোগিতা করে, তাহলে ভালো। আর যদি না করে, সেক্ষেত্রে তিনি (পুতিন) জানেন কীভাবে এগিয়ে যেতে হবে। এটিই হচ্ছে ক্রেমলিনের বর্তমান যুক্তি।’
ধাঁধায় ইউরোপ
ইউক্রেন ইস্যুতে এ সপ্তাহে বেশ কিছু বৈঠক করছে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
সোমবার প্যারিসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠক করেছেন জেলেনস্কি। অন্যদিকে, ব্রাসেলসে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেনিস শ্মিহালের সঙ্গে বৈঠক করছেন ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে। একইসঙ্গে সামরিক সহায়তা ও নিজেদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীগণ ইউক্রেনের আলোচনা করছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) আবারও ব্রাসেলসে ন্যাটো পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসবেন।
ইইউয়ের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, বেলজিয়ামে জব্দ করা রুশ সম্পদের কী হবে? ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার প্রাথমিক খসড়ায় অবশ্য এগুলো যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইউক্রেনের পুনর্গঠনে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
ইউরোপীয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লিয়েন এসব তহবিল ইউক্রেনকে সাহায্য করতে ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি রাশিয়ার ওপরও চাপ বজায় রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু খোদ বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী জব্দ করা এই সম্পদ ইউক্রেনের জন্য ব্যবহারের পক্ষে নন। এর আইনি বৈধতা, ইইউয়ের ওপর প্রভাব এবং রাশিয়ার প্রতিশোধের বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের নাইজেল গোল্ড-ডেভিস বলেছেন, ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার ফলে যে নতুন কূটনীতি শুরু হয়েছে, তা ইউরোপের দুর্বলতাকে ‘নিদারুণভাবে’ উন্মোচিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তাকারী হিসেবে উল্লেখ করে গোল্ড-ডেভিস বলেন, (ইউক্রেন) যুদ্ধ কূটনীতিতে প্রায় উপেক্ষিত। খসড়া প্রস্তাবে কিছু সংশোধন ছাড়া কিছুই করতে পারেনি তারা।’
৭৯ দিন আগে
রাশিয়ায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ, ক্ষুব্ধ জনগণ
রাশিয়ায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় দৈনন্দিন কাজে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছে দেশটির নাগরিকেরা। গণপরিবহনের ভাড়া দেওয়া থেকে শুরু করে অসুস্থ শিশুদেরও কর্মক্ষেত্র থেকে পর্যবেক্ষণ করতে পারছে না তাদের বাবা-মায়েরা।
দেশটির সরকারের দাবি, ইন্টারনেটের এই শাটডাউন ইউক্রেনের ড্রোন হামলা থেকে তাদের রক্ষা করার জন্য। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শাটডাউনের এই পদ্ধতি ড্রোন আক্রমণ কমাতে পারে না।
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের চলাকালে সরকার অনুমোদিত কিছু তালিকাভুক্ত ওয়েবসাইটে কেবল প্রবেশ করা যাচ্ছে। এর ফলে জনগণের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল স্বাধীনতা হারানোর ব্যাপারে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
নতুন এই বিধিনিষেধের কারণে বিদেশি ও অব্যবহৃত সিম কার্ড বন্ধ করে দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির মতো জরুরি পরিষেবার মিটার ও গাড়িসহ বিভিন্ন ডিভাইস, যেগুলো মোবাইল নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো চালাতে সমস্যা হচ্ছে।
বার্তা আদানপ্রদানের জনপ্রিয় অ্যাপ টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ চালাতেও সমস্যা হচ্ছে। এর পরিবর্তে রাশিয়ার নিজস্ব বার্তা আদানপ্রদানের অ্যাপ ‘ম্যাক্স’ ব্যবহারে উৎসাহিত করছে সরকার, যাকে ব্যক্তি-নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি এই অ্যাপ ব্যবহারকারীর তথ্য শেয়ার করতে পারে বলেও জানিয়েছেন তারা।
রাষ্ট্র-আরোপিত এই বাধাকে উপেক্ষা করে অনেকে অবশ্য ভিপিএন ব্যবহার করে ইন্টারনেট চালাচ্ছেন। তবে তাদেরও নিয়মিতভাবে ব্লক করে দিচ্ছে সরকার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এর মাধ্যমে সরকার জনগণকে রাষ্ট্র অনুমোদিত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারনেট ব্যবহারে আরও কঠোর বিধিনিষেধ আসতে পারে।
৮৮ দিন আগে
ইউক্রেনে ৫ শতাধিক ড্রোন ও মিসাইল ছুড়েছে রাশিয়া
ইউক্রেনে পাঁচ শতাধিক ড্রোন ও অন্তত দুই ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া। কিয়েভের বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষত জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে মস্কো এসব হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে জেলেনস্কি প্রশাসন। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা জোরদারের চলমান তৎপরতার মধ্যেই এ হামলা চালাল মস্কো।
স্থানীয় সময় বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতভর এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ। পশ্চিম ও মধ্য ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়েছে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
এ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় নেতারা।
গত কয়েক মাস ধরেই আকাশপথে হামলা ও সম্মুখসারির ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ভাঙার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে যুদ্ধ বন্ধের তৎপরতা চালালেও পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনায় জেলেনস্কি সম্মতি জানালেও ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
এদিকে বেইজিং সম্মেলনে গিয়ে পুতিন বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে, টানেলের শেষে একটুখানি আলো আছে। দেখা যাক পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়।’
এ সংঘাত সমাধানে ‘কমন সেন্সের’ প্রাধান্য থাকতে হবে বলে মনে করেন তিনি। তা ছাড়া সমাধান খুঁজতে ট্রাম্পেরও আন্তরিক ইচ্ছা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পুতিন জানান, তিনি জেলেনস্কিকে মস্কোয় আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে রাজি আছেন, তবে বৈঠকটি ‘ভালোভাবে প্রস্তুত’ হতে হবে।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনে ৮২৫ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র
যদিও ক্রেমলিনের কর্মকর্তারা আগেই জানিয়েছেন, যেকোনো শীর্ষ সম্মেলন কেবল তখনই সম্ভব, যখন নিম্নপর্যায়ের বৈঠকে প্রাথমিক চুক্তি চূড়ান্ত হবে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার এ হামলাকে পুতিনের ‘দায়মুক্তি দেখানো’ বলে অভিহিত করেছেন জেলেনস্কি। যুদ্ধ অর্থনীতির ওপর বেশি চাপ না থাকার কারণেই পুতিন এ আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) ফোনালাপ হওয়ার কথা রয়েছে।
বেইজিং বৈঠকে রাশিয়ার সমর্থকরা
সাংহাই কো-অপারেশন অরগানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলন ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কুচকাওয়াজে অংশ নিতে বর্তমানে চীনে অবস্থান করছেন পুতিন। সম্মেলনে তার সঙ্গে ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ ছাড়া কুচকাওয়াজে যোগ দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন।
এই তিন নেতাই ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সমর্থন করছেন বলে অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন। তাদের দাবি, উত্তর কোরিয়া মস্কোকে সেনা ও গোলাবারুদ সরবরাহ করেছে আর চীন-ভারত রুশ তেল কিনে রাশিয়ার অর্থনীতিকে চাঙ্গা রেখেছে।
বুধবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা ইনস্টিটিউটের সম্মেলনে ইইউয়ের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস বলেন, ইউক্রেনে হামলায় রাশিয়া একা নয়, চীনও আছে সঙ্গে। তারা মস্কোকে অস্ত্র সরবরাহ করছে। ফলে ইউক্রেনে হামলা অব্যাহত রয়েছে।
ইউক্রেন ও মিত্রদের নতুন সামরিক সহায়তার আলোচনা
রাশিয়া হামলার মাত্রা বাড়ানোর পর থেকে নিজদেশের প্রতিরক্ষা জোরদারে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
নতুন সামরিক সহায়তা ও কূটনৈতিক সমর্থন পেতে মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) ডেনমার্ক সফর করেছেন জেলেনস্কি। সেখানে গিয়ে তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র আনার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। প্রতি মাসে এ তহবিলে আরও প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার যোগ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: শান্তিচুক্তির বিনিময়ে কী ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পেতে পারে ইউক্রেন
এরপর যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে বুধবার ফ্রান্সে যান জেলেনস্কি। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাঁখো তাকে প্যারিসে সমর্থন জানিয়েছেন।
শান্তি চুক্তি সই হওয়ার দিন থেকেই তারা ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত বলেও জানান মাঁখো। তবে রাশিয়া চুক্তির ব্যাপারে আন্তরিকতা ও প্রতিশ্রুতি অটুট রাখবে কিনা এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে কীভাবে শক্তিশালী করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করতে কিয়েভ সফর করেছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি।
জেলেনস্কি বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, রাশিয়ার কাছ থেকে এখনো আমরা যুদ্ধ শেষ করার কোনো ইঙ্গিত পাইনি। তা সত্ত্বেও ইউরোপ-আমেরিকার সঙ্গে কিয়েভের ঐক্য কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোতে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াবে বলে মনে করেন তিনি।
পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছেন, প্যারিস বৈঠকের পর স্পষ্ট হবে কে কী ধরনের সহায়তা দিতে পারবে।
১৬৮ দিন আগে
কেন জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় বসতে নারাজ পুতিন?
সম্প্রতি আলাস্কা সম্মেলনের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিসহ ইউরোপের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনার পরবর্তী ধাপে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে সবাই একমত হন।
তবে এ বিষয়ে ত্রেমলিনের জবাবের প্রতীক্ষায় ছিল সবাই। এরপর সোমবারের (১৮ আগস্ট) হোয়াইট হাউসের বৈঠকের পর নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে মস্কো এবং তা ইউরোপ-আমেরিকার নেতাদের সঙ্গে মিলছে না।
ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করে ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধি পর্যায় উন্নতকরণের সুযোগের ধারণাটি আলোচনায় এসেছে। তবে কোন নেতা বা প্রতিনিধিকে সেই পর্যায়ে উন্নীত করা হতে পারে— এমন কোনো নাম তিনি উল্লেখ করেননি এবং সুস্পষ্ট করেও কিছু বলেননি।
এরপর মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ আরেকটু সমঝোতার সুরে বলেন, দ্বিপক্ষীয় কিংবা ত্রিপক্ষীয় কোনো কাজই আমরা প্রত্যাখ্যান করছি না। তবে যেকোনো আলোচনায় শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।’
পুতিনের আপত্তির কারণ কী হতে পারে?
এসব বক্তব্যে এটা পরিষ্কার যে, জেলেনস্কি-পুতিন বৈঠকের বিষয়ে সম্মত হওয়ার মতো অবস্থানে পৌঁছায়নি ক্রেমলিন।
অবশ্য এতে অবাক হওয়ারও কিছু নেই। কারণ এই যুদ্ধ একতরফাভাবে পুতিনই শুরু করেছিলেন। পূর্ব ইউক্রেনের স্বঘোষিত ‘পিপলস রিপাবলিক’ দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে দেশটিতে হামলা শুরু করেছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন: শান্তিচুক্তির বিনিময়ে কী ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পেতে পারে ইউক্রেন
পুতিন এ-ও মনে করেন, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মিক জায়গা থেকে ইউক্রেন রাশিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ইউক্রেনকে আলাদা করা ছিল ‘ঐতিহাসিক ভুল’।
চ্যাথাম হাউসের রাশিয়া ও ইউরেশিয়া কর্মসূচির পরিচালক ওরিসিয়া লুতসেভিচ বলেন, যদি এই বৈঠক হয়, তাহলে পুতিনকে এই ব্যর্থতা মেনে নিতে হবে যে তিনি এমন এক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বসতে যাচ্ছেন, যাকে তিনি হাসির পাত্র বলে পরিহাস করেন এবং যে দেশের অস্তিত্বই তিনি স্বীকার করেন না।
তাছাড়া রাশিয়ার মানুষদেরও বোঝানো কঠিন হবে বলে মনে করেন তিনি। ওরিসিয়া বলেন, দিনের পর দিন রাষ্ট্রায়ত্ত্ব গণমাধ্যমগুলোর মাধ্যমে রুশ নাগরিকদের মগজ ধোলাই করা হয়েছে। তাদের বোঝানো হয়েছে যে, জেলেনস্কি একজন নাৎসি, ইউক্রেন হলো পশ্চিমাদের হাতের পুতুল রাষ্ট্র… জেলেনস্কির সরকার অবৈধ। তাহলে হঠাৎ তিনি কেন তার সঙ্গে কথা বলতে যাবেন? ক্রেমলিন এই প্রশ্নের কী উত্তর দেবে— বৈঠক হলে সেটিই হয়ে উঠবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মস্কো যে শুধু জেলেনস্কি সরকারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে চলেছে, তা-ই নয়। তারা দেশটির নির্বাচনের স্থগিতাবস্থা নিয়েও বারবার প্রশ্ন তুলেছে। যদিও সামরিক আইনের আওতায়ই ইউক্রেনে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।
সর্বশেষ শান্তি আলোচনার প্রস্তাবে যেকোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির আগে ইউক্রেনে নির্বাচনের দাবি করেছে মস্কো। এমনকি তারা জেলেনস্কির নামও মুখে নেন না, বলে কিয়েভ প্রশাসন।
একটু পেছনে ঘুরে তাকালে দেখা যাবে, এ বছরের মে মাসের মাঝামাঝি তুরস্কে ইউক্রেনের সঙ্গে প্রথম সরাসরি আলোচনায় জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করতে এক ইতিহাসের বই লেখকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছিলেন পুতিন।
কার্নেগি রাশিয়া ইউরেশিয়া সেন্টারের সিনিয়র ফেলো এবং রাশিয়া বিষয়ক খবর ও বিশ্লেষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আর পলিটিকের প্রতিষ্ঠাতা তাতিয়ানা স্তানোভায়ার ভাষ্যে, আসলে ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিনের সঙ্গে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না পুতিন। তার কাছে এই যুদ্ধ মূলত ইউক্রেনের সঙ্গে নয়, বরং পশ্চিমাদের মোকাবিলা করার উদ্দেশ্যে। তবে পুতিন যদি মনে করেন যে বৈঠক সফল হতে পারে, তাহলে আবার এতে রাজি হতেও পারেন।
তাতিয়ানা আরও মনে করেন, বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে সেখানে অবশ্যই মূল বিষয়গুলো আলোচনার জন্য থাকতে হবে। এর মধ্যে, ইউক্রেনের ভূখণ্ড ছাড়ার মতো বিষয় রয়েছে। কিন্তু জেলেনস্কি শুরু থেকেই মস্কোর এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। আর এক্ষেত্রে ট্রাম্প পরিবর্তন আনতে পারেন বলে ধারণা পুতিনের।
আরও পড়ুন: ‘দনবাস’ কেন রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনার কেন্দ্রে
তিনি বলেন, রাশিয়া যা চাইছে তা অর্জনে ট্রাম্প সহায়ক হতে পারে বলে মনে করে মস্কো। এ কারণে রুশ দাবিগুলো নিয়ে কিয়েভকে আরও নমনীয় ও খোলামেলা হতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তাতিয়ানা।
তার ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রকে পাশে রাখতে এবার হয়তো উশাকভের প্রস্তাব অনুযায়ী ইস্তানবুলে বৈঠকে বসতে রাজি হতে পারেন পুতিন। সেখানে প্রতিনিধি দলে উশাকভ ও ল্যাভরভকেও পাঠাতে পারেন প্রেসিডেন্ট। তবে জেলেনস্কির সঙ্গে এমন কোনো বৈঠকে বসবে না ত্রেমলিন, যেখানে তাদের সব দাবি প্রত্যাখ্যান করা হবে।
এদিকে, সোমবার রাতে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানান, তিনি প্রেসিডেন্ট পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে এক বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
ওই পোস্ট দিয়ে তিনি ঘুমাতে গেলেন, আর উঠে বুঝতে পারলেন যে বিষয়টি এখনো চূড়ান্তই হয়নি। পরে সুর বদলে ফক্স নিউজে বলেন, আমি একভাবে পুতিন আর জেলেনস্কির মধ্যে সেট-আপটা করেছিলাম। তবে জানেনই তো, সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তো তাদের! আমরা তো ৭ হাজার মাইল দূরে।’
কিন্তু কোনো ছাড় না দিয়েই পুতিন যখন আলাস্কায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সম্মানিত হয়েছেন, তখন বর্তমান পরিস্থিতিতে তার এই বৈঠকে রাজি হওয়ার কোনো কারণ নেই। এমনকি আগস্টের শুরুর দিকে ইউক্রেনে ড্রোন হামলার মাত্রা সামান্য কমালেও সোমবার রাত থেকে আবার তা বাড়িয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনে সোমবার রাতভর মোট ২৭০টি ড্রোন ও ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে মস্কো।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, জেলেনস্কির ওপর ট্রাম্পের চাপে যদি কাঙ্ক্ষিত ফল না পায় রাশিয়া, তাহলে তাদের সামরিক শক্তি তো আছেই।
তবে যে প্রশ্নের উত্তর আসলে কেউই জানে না, সেটি হলো— এই আলোচনা ব্যর্থ হলে এর দায় কার ঘাড়ে চাপাবেন ট্রাম্প?
১৮২ দিন আগে
‘দনবাস’ কেন রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনার কেন্দ্রে
গত শুক্রবারের আলাস্কা সম্মেলনে ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধের প্রধান শর্ত হিসেবে পুরো দনবাস অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ চেয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক নিয়ে দনবাস অঞ্চল গঠিত। এটি পূব ইউক্রেনে অবস্থিত। এর মধ্যে লুহানস্ক প্রায় পুরোপুরি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ক্রামাতোরস্ক ও স্লোভিয়ানস্ক শহরসহ দোনেৎস্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো এখনো ধরে রেখেছে ইউক্রেন। তাই ইউক্রেনের শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত দোনেৎস্ক অঞ্চল পুরোপুরি দাবি করেছেন পুতিন।
তবে ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব বরাবরই প্রত্যাখান করে আসছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। কিয়েভ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোসিওলজির পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী, ইউক্রেনের কোনো ভূখণ্ড আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার কাছে হস্তান্তরের বিরোধিতা করছেন দেশটির প্রায় ৭৫ শতাংশ নাগরিক। ফলে দনবাস অঞ্চলটি ঘিরেই শান্তি আলোচনায় একপ্রকার অচলাবস্থা তৈরির আশঙ্কা করছেন বিষেশজ্ঞরা।
দ্য গার্ডিয়ান বলছে, দোনেৎস্ক অনেক আগে থেকে মস্কোর প্রধান লক্ষ্যবস্তু। ২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো এ অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করে রুশ বাহিনী। পরে ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু পর অঞ্চলটির বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় রাশিয়া।
বর্তমানে দনবাসের ৪৬ হাজার ৫৭০ বর্গ কিলোমিটার বা ৮৮ শতাংশই রাশিয়ার দখলে। এর মধ্যে লুহানস্কের পুরোটাই এবং দোনেৎস্কের এক তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করছে মস্কো। তবে দোনেৎস্কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর বেশিরভাগই এখনও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে ইউক্রেন। এর জন্য অবশ্য চড়া মূল্যও দিতে হয়েছে কিয়েভের। এই অঞ্চলের দখল ধরে রাখতে হাজার হাজার মানুষের জীবন গিয়েছে।
দনবাসের অবস্থান এবং কেন এটি চান পুতিন?
দনবাস আসলে দোনেৎস বেসিনের সংক্ষিপ্ত রূপ। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত দনবাস মূলত কয়লা ও ভারী শিল্পে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চলের অনেক মানুষই রুশ ভাষায় কথা বলেন। সোভিয়েত ইউনিয়েনের সময়ে সেখানকার কয়লা খনি ও ইস্পাত কারখানাগুলো সোভিয়েতে শিল্পায়নের মূল চালিকাশক্তি ছিল।
সোভিয়েত ভেঙে যাওয়ার পরও রাশিয়ার প্রতি এই অঞ্চলের মানুষের রাজনৈতিক আনুগত্য বজায় ছিল। তবে ২০১৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত ক্রেমলিনপন্থি প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়ার পর দনবাসে সংঘাত শুরু হয়।
আরও পড়ুন: ইউক্রেন দোনেৎস্ক ছেড়ে দিলে শান্তিচুক্তি সম্ভব: ট্রাম্প
এর পরপরই ক্রিমিয়া দখল করে মস্কো এবং পূর্ব ইউক্রেনজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। রুশ অস্ত্র ও যোদ্ধাদের সহায়তায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দোনেৎস্ক ও লুহানস্কে স্বঘোষিত ‘পিপলস রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়।
এই বিচ্ছন্নতাবাদীদের তৎপরতা দোনেৎস্কতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়িয়ে তোলে। এরপর ২০১৯ সালে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে সংঘাতের অবসান ঘটানোর অঙ্গীকার নিয়ে প্রচার চালান বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি নিজেও রুশভাষী। এই নির্বাচনে দোনেৎস্কের মানুষই জেলেনস্কিকে নির্বাচিত করেন।
এরপর ২০২২ সালে দনবাসের অধিবাসীদের সুরক্ষা দেওয়ার অজুহাতেই ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করেন পুতিন। এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি দাবি করেছিলেন, দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের স্বঘোষিত ‘পিপলস রিপাবলিক’ তার কাছে সাহায্য চেয়েছে, কারণ কিয়েভ সেখানকার রুশভাষী অধিবাসীদের ওপর ‘গণহত্যা’ চালাচ্ছে।
তবে এটি নিছক একটি অজুহাত বলেই মত দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। কারণ মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই এই অঞ্চল ছাড়িয়ে কিয়েভ অভিমুখে অগ্রসর হতে শুরু করে রুশ সেনাবাহিনী। জেলেনস্কি সরকারকে উৎখাত করে পুরো ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই মস্কোর উদ্দেশ্য ছিল।
১৮৩ দিন আগে