ইউরোপ
পিএসজির চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পর উত্তাল ফ্রান্স, গ্রেপ্তার ৪ শতাধিক
গতরাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরেছে প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি)। তবে তাদের শিরোপা জয়ের উৎসব মুহূর্তেই রূপ নিয়েছে সহিংসতায়। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই ফ্রান্সজুড়ে পুলিশ ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার পর ৪ শতাধিকের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
স্থানীয় সময় রবিবার (৩১ মে) ভোর পর্যন্ত মোট ৪১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে শুধু প্যারিস থেকেই গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৮০ জন। এ ঘটনায় ৭ জন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।
২ দিন আগে
কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা: নিহত ২, আহত ২১
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারি ভবন আবাসিক এলাকা ও স্কুলসহ অন্তত ৪০টি স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় অন্তত দুজন নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (২৪ মে) সারা রাত কিয়েভজুড়ে বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বেজেছিল। হামলার পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে ধোঁয়া উঠতে থাকে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকরা কিয়েভ শহরের কেন্দ্রে এবং সরকারি ভবনের আশপাশে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। সূর্য ওঠার পরও কিয়েভে হামলা চলছিল। এ সময় কিয়েভের দিকে আরও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা কথা জানিয়েছেন তারা।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো এক টেলিগ্রামে পোস্টে জানান, রাজধানীর বিভিন্ন জেলার অন্তত ৪০টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এ হামলায় বিভিন্ন স্থানে আবাসিক ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাজারে ২২ বছর ধরে কাজ করাছেন কিয়েভের বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী স্বিতলানা অনোফ্রিয়িচুক। তিনি বলেন, ‘গতরাত ছিল ভয়াবহ এক রাত। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ চলার পুরো সময়টতে এমন বিস্ফোরণ আগে কখনও ঘটেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘অত্যন্ত কষ্ট নিয়ে বলছি, এখন আমার কিয়েভ ছেড়ে চলে যেতে হবে। আমি আর এখানে থাকছি না। এখানে থাকার কোনো উপায়ই নেই। হামলায় পুরো বাজার পুড়ে গেছে। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।’
৭৪ বছর বয়সী কিয়েভবাসী ইয়েভহেন জোসিন বলেন, হামলার সময় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি তার কুকুরটিকে আনতে দৌড়ে যান। তিনি বলেন, ‘তার ঠিক পরপরই আরেকটি বিস্ফোরণ হয়। সেই বিস্ফোরণের আঘাতে আমি আর আমার কুকুর দুজনই ছিটকে পড়ি। আমরা দুজনই প্রাণে বেঁচে গেলেও আমার বাসা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।’
অন্যদিকে, কিয়েভের শেভচেঙ্কো এলাকায় পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, ওই আবাসিক ভবনে একজন নিহত হয়েছেন।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, হামলার সময় মানুষ একটি স্কুল ভবনে আশ্রয় নিয়েছিল। পরে সেই স্কুল ভবনটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া হামলার ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সুপারমার্কেট ও গুদামঘরেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
আঞ্চলিক গভর্নর মাইকোলা কালাশনিক জানান, এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কিয়েভ অঞ্চলের একাধিক এলাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া তাদের ওপর হাইপারসনিক ‘ওরেশনিক’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিনি এ সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। পরে ইউক্রেনের বিমান বাহিনীও রাশিয়ার ওরেশনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সম্ভাবনার কথা জানায়।
রাশিয়া প্রথম ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ইউক্রেনের দনিপ্রো শহরে ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছিল। এ বছরের জানুয়ারিতে পশ্চিম ইউক্রেনের লভিভ অঞ্চলে দ্বিতীয়বার রাশিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপারে জানিয়েছেন, ওরেশনিক শব্দের অর্থ হলো হ্যাজেল বাদাম গাছ। ক্ষেপণাস্ত্রটি শব্দের গতির চেয়ে প্রায় ১০ গুণ গতিতে ছুটতে সক্ষম। এটি মাটির নিচে অনেক গভীরে থাকা বাঙ্কারও ধ্বংস করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এই অস্ত্রটি উল্কাপিণ্ডের মতো ছুটে যায়। বিশ্বের কোনো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এটিকে থামাতে পারবে না। পুতিনের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত পারমাণবিক হামলার মতোই ভয়াবহ হতে পারে। ওয়ারহেড বহন করেও এর আঘাত প্রতিহত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
৯ দিন আগে
মস্কোর কাছে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, নিহত ৪
রাশিয়ায় মস্কোর কাছাকাছি এলাকায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির পর থেকে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত এই হামলাটিকে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে অন্যতম বড় হামলা হিসেবে দেখছে রুশ কর্তৃপক্ষ।
রাশিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের এ হামলার ফলে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি এলাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি এতে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।
মস্কোর স্থানীয় গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানান, মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত খিমকি শহরে একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানলে তাতে এক নারী নিহত হন। মস্কো থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরের পোগোরেলকি গ্রামে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় আরও ২ জন পুরুষ নিহত হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোরোবিয়ভ আরও জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘতে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ হামলার ফলে কয়েকটি বহুতল ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, মস্কোর একটি তেল শোধনাগারের কাছে অবস্থানরত ১২ জন এ হামলায় আহত হয়েছেন। তবে হামলায় তেল শোধনাগারের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন মেয়র।
এদিকে, রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মস্কোর দিকে আসা ৮১টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। তারা আরও জানিয়েছে, এই ইউক্রেনীয় হামলাটি মস্কোর ওপর সাম্প্রতিক সময়ে করা সবচেয়ে বড় হামলা।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে তারা মোট ৫৫৬টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে।
রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন একটি ট্রাককে আঘাত করে। এতে এক রুশ নাগরিক নিহত হয়েছেন।
মস্কোর সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর শেরেমেতিয়েভো সূত্র জানায়, ইউক্রেনের হামলায় বিমানবন্দর এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। তবে এতে সেখানে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, একই রাতে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর ২৮৭টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ২৭৯টি ড্রোন ধ্বংস করেছে দেশটির বিমানবাহিনী।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে মধ্যাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে ৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দনিপ্রো শহরে ৩ জন, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহে ৪ জন এবং সিনেলকোভে ১ জন আহত হয়েছেন। রাশিয়ার এ হামলায় তিনটি স্থানেই আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
১৬ দিন আগে
জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বিস্মিত ইউরোপ
জার্মানি থেকে হাজার হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় নেতারা। তবে সোমবার তাঁরা বলেছেন, এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ইউরোপকে এখন নিজের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে। ।
গত সপ্তাহে পেন্টাগন ঘোষণা দেয়, তারা জার্মানি থেকে প্রায় ৫ হাজার সেনা সরিয়ে নেবে। তবে ট্রাম্প শনিবার (২ মে) সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সেনাসংখ্যা অনেক কমিয়ে আনছি। এই সংখ্যা ৫ হাজারের চেয়েও অনেক বেশি হবে।’
তবে কেন এই সিদ্ধান্ত, সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেননি। আকস্মিক এই ঘোষণায় উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট—ন্যাটো অনেকটা অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়েছে।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেয়ার্সের সঙ্গে ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান বিরোধের মধ্যেই এই ঘোষণা এল। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে ইউরোপীয় মিত্রদের সম্পৃক্ত হতে অনাগ্রহের কারণে ট্রাম্প বেশ ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে।
সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্তোরে বলেন, ‘আমি এটাকে অতিরঞ্জিত করব না। তবে, আমরা আশা করছি, ইউরোপ নিজের নিরাপত্তার জন্য আরও বড় ভূমিকা নেবে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাস বলেন, ‘ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আলোচনা অনেক দিন ধরেই চলছে। তবে হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত সত্যিই বিস্ময়কর।’
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এখন থেকে ন্যাটোর ইউরোপীয় অংশকে আমাদের আরও শক্তিশালী করতে হবে।’
মেয়ার্সকে শাস্তি দিতে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নে কাল্লাস বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনের ভেতরে কী চলছে, তা আমি জানি না। তাই বিষয়টি তাকেই ব্যাখ্যা করতে হবে।’
গত সপ্তাহের শেষে ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট বলেন, ৩২টি দেশের এই সামরিক জোটের কর্মকর্তারা জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিস্তারিত বুঝতে কাজ করছেন।’
গত বছর পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইউরোপীয় মিত্ররা এবং কানাডা জানত যে ট্রাম্প ইউরোপ থেকে সেনা প্রত্যাহার করবেন। অক্টোবরেই কিছু মার্কিন সেনা রোমানিয়া ছেড়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নিরাপত্তা শূন্যতা এড়াতে তারা ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করেই যেকোনো পদক্ষেপ নেবেন।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে এই পদক্ষেপকে ছোট করে দেখিয়ে বলেন, ‘এই মুহূর্তে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপের সমর্থনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হতাশা রয়েছে।’
বিশেষ করে ফ্রান্স, স্পেন ও যুক্তরাজ্য তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। স্পেন তাদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতিও দেয়নি।
তবে ট্রাম্প নেতৃত্বের সমর্থক হিসেবে পরিচিত রুটে বলেন, ‘আমি বলব ইউরোপীয়রা বার্তাটি শুনেছে। তারা এখন নিশ্চিত করছে যে সব দ্বিপাক্ষিক ঘাঁটি-সংক্রান্ত চুক্তি এখন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো পরবর্তী ধাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ আগে থেকেই নির্দিষ্ট স্থানে মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া হিসেবে জানান, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা রক্ষায় অংশ নেবে না।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ পুনরায় খুলতে প্রস্তুত থাকে, তাহলে সেটা ভালো। শুরু থেকেই আমরা সেটাই চাইছিলাম।’
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপ এমন কোনো অভিযানে অংশ নিতে প্রস্তুত নয় যা ‘আমাদের কাছে পরিষ্কার মনে নয়’।
মেয়ার্সের সঙ্গে উত্তেজনার আরেকটি কারণ হিসেবে ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি না মানার অভিযোগ তুলেছেন এবং আগামী সপ্তাহে ইইউয়ে উৎপাদিত গাড়ি ও ট্রাকের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। ট্রাম্পের এই আদেশ বড় গাড়ি উৎপাদনকারী দেশ জার্মানির জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকারক।
ট্রাম্প বা যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লিয়েন বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি করেছে এবং এখন মেক্সিকোর সঙ্গে কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘একই মানসিকতার বন্ধুদের সঙ্গে আপনার সরবরাহশৃঙ্খল স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য থাকে এবং সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির নেটওয়ার্ক ইউরোপেরই রয়েছে।’
২৯ দিন আগে
ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় ইউরোপে মুদ্রাস্ফীতি পৌঁছেছে ৩ শতাংশে
ইরান যুদ্ধে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে গোটা ইউরোপ। এই সময়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম থাকায় ভোক্তা ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারকদের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট জানায়, জ্বালানি তেলের দাম শতকরা ১০.৯ শতাংশ বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ।
সংস্থাটির জরিপ মতে, ইউরো ব্যবহারকারী ২১টি দেশের বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি মার্চে ২ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে চলতি মাসে ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে, ৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে যা ছিল ৭৩ ডলারে কাছাকাছি। এছাড়া চলতি বছরের প্রথম থেকেই ইউরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল হতাশাজনক।
গোটা বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল পরিবহনকারী হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। এই জলপথ দিয়ে আগে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সারা বিশ্বে তেল সরবরাহ করা হতো। তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি দ্রুতই পেট্রোল পাম্প এবং বিমান জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
মুদ্রাস্ফীতির এই সমস্যা ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ সৃষ্টি করতে পারে বলে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ হলো এমন একটি বিরল ও জটিল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, যেখানে একইসঙ্গে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি (দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি) ও ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেখা দেয়।
ইউরোপে মুদ্রাস্ফীতির এই বৃদ্ধি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ এটি এমন সময়ে ঘটছে যখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ধীর। সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ায়, কিন্তু এতে ঋণের খরচ বেড়ে গিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও কমে যেতে পারে। যদি মুদ্রাস্ফীতি সাময়িক বলে মনে হয়, তবে সাধারণত এটিকে উপেক্ষা করা হয়, কারণ সুদের হার পরিবর্তনের প্রভাব অর্থনীতিতে পড়তে কয়েক মাস সময় লাগে।
অন্যদিকে, যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেরি করে এবং মুদ্রাস্ফীতি খাদ্য, শিল্পপণ্য ও মজুরি বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে স্থায়ীভাবে ঢুকে যায়, তাহলে পরে কঠোর সুদবৃদ্ধির মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
এই সপ্তাহে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ উভয়ই তাদের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডও আজ (বৃহস্পতিবার) একই সিদ্ধান্ত নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফলে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এখন একপ্রকার স্থবির অবস্থায় রয়েছে। তারা মুদ্রাস্ফীতির এই ঢেউ অর্থনীতিতে কীভাবে প্রভাব ফেলছে, তা সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
৩৩ দিন আগে
চেরনোবিল দুর্ঘটনার ৪০ বর্ষপূর্তিতে রাশিয়া নিয়ে ইউক্রেনের নতুন উদ্বেগ
ইউক্রেন, রুশ-অধিকৃত অঞ্চল এবং রাশিয়াজুড়ে গত এক দিনে চালানো পাল্টা হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে চেরনোবিল পারমাণবিক দুর্ঘটনার ৪০তম বার্ষিকী উপলক্ষে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে ইউক্রেন। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়ার চালানো আগ্রাসনগুলোর মধ্যে চেরনোবিল পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশে হামলা সব থেকে বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৬ এপ্রিল) এসব কথা জানায় দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই বার্ষিকী উপলক্ষে সতর্ক করে বলেছেন, চেরনোবিলের আশপাশে রাশিয়ার হামলা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে।
তিনি একটি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘রাশিয়া আবারও বিশ্বকে একটি মানবসৃষ্ট বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। রুশ-ইরানি শাহেদ ড্রোনগুলো নিয়মিত ওই পারমাণবিক স্থাপনার ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় এই যে, এগুলোর মধ্যে একটি গত বছর স্থাপনার সুরক্ষা অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বকে অবশ্যই এই পারমাণবিক সন্ত্রাসবাদ বন্ধে এগিয়ে আসতে হবে। এ বিষয়ে সবার আগে রাশিয়াকে তাদের বেপরোয়া হামলা থামাতে বাধ্য করতে হবে।’
দেশটির আঞ্চলিক প্রধান ওলেক্সান্দর হাঞ্ঝা গতকাল (রবিবার) জানান, রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছে।
এদিকে, রাশিয়ার মস্কো-সমর্থিত এক কর্তৃপক্ষ জানায়, রাশিয়ার দখলকৃত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপল বন্দরনগরীতে ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। এই উপদ্বীপটি ২০১৪ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের কাছ থেকে দখলে নিয়েছিল।
রাশিয়ার এই দখলদারত্ব বিশ্বব্যাপী অধিকাংশ দেশই অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করে। দখলের পর থেকে এটি যুদ্ধের সময় রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও সরবরাহকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের লুহানস্ক অঞ্চলে রাশিয়া-নিযুক্ত গভর্নর লিওনিদ পাসেচনিক জানান, রাশিয়ার একটি গ্রামে রাতভর ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। এর আগে, শনিবার (২৫ এপ্রিল) ভোরে তিনি আরও ২ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
এ মাসের শুরুতে রাশিয়া দাবি করে, তারা পুরো লুহানস্ক অঞ্চল দখল করেছে। তবে এ বিষয় পুরোপুরি অস্বীকার করেছে ইউক্রেন। আবার রাশিয়ায় ইউক্রেনের হামলাগুলো সম্পর্কেও কোনো মন্তব্য করেনি কিয়েভ। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও (এপি) স্বাধীনভাবে ঘটনাগুলো যাচাই করতে পারেনি।
এসব ঘটনার আগেও রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় একজন নারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী রবিবার জানায়, তারা রাশিয়ার ভেতরে ইয়ারোস্লাভল এলাকায় একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। এতে সেখানে আগুন ধরে যায়। এই স্থাপনাটি বছরে প্রায় দেড় কোটি টন তেল প্রক্রিয়াজাত করে এবং রাশিয়ার সেনাবাহিনীর জন্য পেট্রোল, ডিজেল ও বিমানের জ্বালানি উৎপাদন করে। তবে রাশিয়া এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
৩৬ দিন আগে
রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৫, আহত ৪০ জনের বেশি
ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০ জন।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপিল) এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের প্রধান ওলেক্সান্দর হাঞ্ঝা জানান, রাতভর চালানো ওই হামলার পর একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়ার হামলার পর দিনিপ্রোতে ১১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’
হাঞ্ঝা টেলিগ্রামে লিখেছেন, ‘রাশিয়ানরা প্রায় সারা রাত দিনিপ্রোসহ বিভিন্ন শহর ও বসতিতে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় শহরের বিভিন্ন স্থানে আগুন লাগে এবং একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও একটি ব্যক্তিগত বাড়ি আংশিকভাবে ধ্বংস হয়। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ওডেসা অঞ্চলেও রাতভর ড্রোন হামলায় দুইজন আহত হন।’
ওডেসা অঞ্চলের প্রধান ওলেহ কিপার জানান, ওই অঞ্চলের দক্ষিণে আবাসিক ভবন, বন্দর অবকাঠামো এবং গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শনিবার বিকেলে দিনিপ্রোতে রাশিয়ার পৃথক হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন বলে হাঞ্ঝা জানিয়েছেন। আগের রাতের হামলার শিকার হওয়া একই আবাসিক এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। তিনি জানান, এ ঘটনায় মোট ৪৬ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে ড্রোন হামলায় এক নারী নিহত এবং এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন।
এদিকে, রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার জানায়, ইউক্রেন সীমান্তের কাছে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর গালাতিতে একটি আবাসিক এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এর আগেও একাধিকবার রোমানিয়ার ভূখণ্ডে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।
রাতভর এই হামলার আগে শুক্রবার (২৪ এপিল) রাশিয়া ও ইউক্রেন ১৯৩ জন করে যুদ্ধবন্দি বিনিময় করে।
মাসের পর মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনায় তেমন অগ্রগতি না হলেও কয়েকটি ইতিবাচক দিকের মধ্যে একটি ছিল বন্দি বিনিময়। তবে পাঁচ বছর ধরে চলা রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন বন্ধে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সমাধান এখনও আসেনি।
৩৮ দিন আগে
ধুমপান নিষিদ্ধে যুক্তরাজ্যে বিল পাস
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সিগারেট বা ধুমপানের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে একটি বিল পাস হয়েছে। এ ঘটনায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে দেশটির সচেতন নাগরিকরা।
মঙ্গলবার (২১ এপিল) হাউস অব লর্ডসে আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।
দীর্ঘদিন ধরে এই আইনের পক্ষে প্রচারণা চালানো সংস্থা অ্যাকশন অন স্মোকিং অ্যান্ড হেলথের প্রধান নির্বাহী হ্যাজেল চিজম্যান বলেন, ধূমপান নিশ্চিতভাবে মানুষের ভয়াবহ ক্ষতি করে। আইনটি হলে টোব্যাকো অ্যান্ড ভ্যাপস বিলের আওতায় ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য সারা জীবনের জন্য সিগারেট কেনা নিষিদ্ধ করা হবে।
আইনটি কার্যকর হওয়ার আগে রাজা তৃতীয় চার্লসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে, যা একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। এই আইনটি সরকারকে তামাক, ভ্যাপিং ও নিকোটিনজাত পণ্য নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দেবে, যার মধ্যে ফ্লেভার ও প্যাকেজিংও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
যুক্তরাজ্যে বর্তমানে ১৮ বছরের কম বয়সীদের কাছে সিগারেট, তামাকজাত পণ্য বা ভ্যাপ বিক্রি করা অবৈধ। তবে নতুন নিয়মে প্রতি বছর সিগারেট কেনার ন্যূনতম বয়স বাড়তে থাকবে, ফলে আজকের অধিকাংশ তরুণ-তরুণী সারা জীবনই এই নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হবে।
বিল পাসের মধ্যে দিয়ে যুক্তরাজ্য বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর ধূমপানবিরোধী ব্যবস্থাগুলোর একটি গ্রহণ করল। এই আইনটি অনেকটা ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতাদের পাস করা আইনের মতো, যদিও পরে নতুন সরকার সেটি বাতিল করে দিয়েছিল।
১৯৭০-এর দশক থেকে এখন পর্যন্ত ব্রিটেনে ধূমপায়ীর সংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশ কমেছে। তবে সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেখানে এখনও প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ ধুমপান করে। এটি যুক্তরাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশ।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধূমপানের কারণে দেশটিতে প্রতি বছর প্রায় ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় । এটি মৃত্যু, অক্ষমতা ও স্বাস্থ্যহানির এক নম্বর কারণ যেটা প্রতিরোধযোগ্য।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছেন, ‘যুক্তরাজ্যের শিশুরা হবে প্রথম ধূমপানমুক্ত প্রজন্মের অংশ, যারা আজীবনের এই আসক্তি ও ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত থাকবে।’
৪০ দিন আগে
ইউক্রেনে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৬, পুলিশের পাল্টা গুলিতে আততায়ীর মৃত্যু
ইউক্রেনে এক বন্দুকধারী নিজস্ব অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে ৬ জনকে হত্যা করেছে। পরে পুলিশের ভয়ে জিম্মিদের নিয়ে একটি সুপারমার্কেটের ভেতর আত্মগোপন করেন তিনি। এরপর পুলিশ খোঁজ পেয়ে ওই স্থানে পৌঁছে তাকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১৪ জন আহত হয়েছেন এবং তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ এপ্রিল) দেশটির রাজধানী কিয়েভের হলোসিভস্কি জেলায় একটি শপিং সেন্টারের সামনে এই হামলা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীর বয়স ৫৮ বছর। তবে তার নাম ও পরিচয় প্রাথমিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে কিয়েভে এমন গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। এ হামলায় রাস্তায় মানুষের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা আতঙ্ক হয়ে পড়েন। প্রাণ বাঁচাতে তারা পালাতে থাকেন।
এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘হামলাকারীকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তিনি কিছু মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিলেন। দুঃখের বিষয় এই যে, তাদের মধ্যে একজনকে তিনি হত্যা করেন। এ ছাড়াও রাস্তায় আরও ৪ জনকে তিনি হত্যা করেছেন। জিম্মিদের মধ্যে এক নারীকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান।’
তিনি আরও বলেন, একটা বিষয় নিশ্চিত যে, হামলাকারী রাস্তায় বের হওয়ার আগে একটি অ্যাপার্টমেন্টে আগুন লাগিয়েছিল। তার নামে আরও বেশ কিছু অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন এবং জন্মসূত্রে একজন রাশিয়ান।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লিমেঙ্কো জানান, ইউক্রেনের বিশেষ কৌশলগত পুলিশ ইউনিটগুলো আলোচনার মাধ্যমে তাকে আত্মসমর্পণে রাজি করানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলে পুলিশ দোকানটিতে অভিযান চালায়। দু্ষ্কৃতিকারী যাদের জিম্মি করেছিল, তারা ছিল ওই সুপারমার্কেটের ক্রেতা ও কর্মচারী।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কারণ আমরা ভেবেছিলাম, দোকানের ভেতরে কেউ আহত অবস্থায় রয়েছে। এমনকি রক্তপাত বন্ধ করার জন্য টুর্নিকেট দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলাম, তবুও তিনি কোনো সাড়া দেননি। ফলে বাধ্য হয়ে তাকে নিষ্ক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়। হামলাকারীর বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ এই হত্যাকাণ্ডকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা হামলাকারীকে চিনতেন।
৭৫ বছর বয়সী হান্না কুলিক বলেন, ‘আমি তাকে চিনতাম। তিনি অত্যন্ত শিক্ষিত ও ভদ্র মানুষ বলে মনে হতো। আমি কখনও ভাবিনি যে তিনি কোনো অপরাধী হতে পারেন। লোকটি খুব বেশি মানুষের সঙ্গে মিশতেনও না। কারো সঙ্গে দেখা হলে শুধু শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি চলে যেতেন। একাই থাকতেন তিনি।
৪৪ দিন আগে
টাইটানিক থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট নিলামে বিক্রি
আবারও সামনে এসেছে ইতিহাসের পাতায় অমলিন হয়ে থাকা আরএমএস টাইটানিক জাহাজ। জাহাজটি যখন আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যাচ্ছিল, তখন একটি লাইফবোটের সাহায্যে প্রাণ বাঁচিয়ে ফেরা এক যাত্রীর ব্যবহৃত লাইফ জ্যাকেট নিলামে উঠেছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইংল্যান্ডের ডেভাইজেসে লাইফ জ্যাকেটটি নিলামে ৬ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ডে (প্রায় ৯ লাখ ৬ হাজার ডলার) বিক্র হয়েছে।
এই লাইফ জ্যাকেটটি পরেছিলেন বিলাসবহুল ওই জাহাজের প্রথম শ্রেণির যাত্রী লরা মেবেল ফ্রাঙ্কাতেলি। জ্যাকেটিতে লরা এবং একই লাইফবোটে থাকা অন্য বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের স্বাক্ষরও রয়েছে।
পশ্চিম ইংল্যান্ডের ডিভাইজেসে নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ‘হেনরি অলড্রিজ অ্যান্ড সন’-এর টাইটানিকের স্মারক বিক্রির আয়োজনে এই জ্যাকেটটিই ছিল আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু। নিলামের আগে এটির দাম আনুমানিক আড়াই লাখ থেকে সাড়ে ৩ লাখ পাউন্ডের মধ্যে ধরা হলেও শেষ পর্যন্ত অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি টেলিফোনে ধারণার চেয়েও অনেক বেশি দামে এটি কিনে নেন।
একই নিলামে টাইটানিকের একটি লাইফবোটের সিট কুশন বা বসার গদি ৩ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে (৫ লাখ ২৭ হাজার ডলার) বিক্রি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির পিজন ফোর্জ এবং মিসৌরির ব্র্যানসনে অবস্থিত দুটি টাইটানিক জাদুঘরের মালিক এটি কিনে নেন। উল্লেখ্য, বিক্রিত এই দামের মধ্যে নিলামকারী প্রতিষ্ঠানের ফি বা ‘বায়ার্স প্রিমিয়াম’ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নিলামকারী অ্যান্ড্রু অলড্রিজ বলেন, ‘রেকর্ড সৃষ্টিকারী এই দামগুলো প্রমাণ করে যে টাইটানিকের গল্পের প্রতি মানুষের আগ্রহ আজও কতটা প্রবল। একইসঙ্গে সেইসব যাত্রী ও ক্রুদের প্রতি এটি এক গভীর সম্মান প্রদর্শন যাদের জীবনকাহিনী এই স্মারকগুলোর মাধ্যমে অমর হয়ে আছে।’
বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল এবং কার্যত ‘ডোবার অযোগ্য’ হিসেবে প্রচারিত টাইটানিক জাহাজটি ১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল ইংল্যান্ড থেকে নিউইয়র্ক যাওয়ার প্রথম যাত্রায় নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে একটি বিরাট বরফখণ্ডের সঙ্গে ধাক্কা খায়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এটি সমুদ্রের তলদেশে হারিয়ে যায়। জাহাজের ২ হাজার ২০০ যাত্রী ও ক্রুর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
টাইটানিক নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখনও মানুষের মাঝে এক ধরনের মোহ কাজ করে। আংশিকভাবে এর কারণ ছিল জাহাজে থাকা দরিদ্র থেকে শুরু করে প্রচণ্ড প্রভাবশালী—সব স্তরের মানুষের সরব উপস্থিতি।
লরা ফ্রাঙ্কাতেলি সেই জাহাজে তার নিয়োগকর্তা তথা ফ্যাশন ডিজাইনার লুসি ডাফ গর্ডন এবং লুসির স্বামী কসমো ডাফ গর্ডনের সঙ্গে ভ্রমণ করছিলেন। তারা তিনজনই টাইটানিকের ১ নম্বর লাইফবোটে চড়ে বেঁচে ফিরতে সক্ষম হন। ৪০ জন যাত্রী ধারণক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ওই লাইফবোটটি মাত্র ১২ জন নিয়ে পানিতে নামানো হয়েছিল। তখন সমুদ্রের বরফশীতল পানি থেকে অন্য ডুবন্ত মানুষকে উদ্ধার না করায় পরবর্তীতে এ ঘটনাটি ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
টাইটানিকের স্মারক হিসেবে নিলামে সর্বোচ্চ দামে বিক্রির বিশ্বরেকর্ডটি বর্তমানে ১৫ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ডের (তৎকালীন হিসেবে প্রায় ২০ লাখ ডলার)। ২০২৪ সালে আরএমএস কার্পেথিয়া জাহাজের ক্যাপ্টেনের একটি সোনার পকেট ঘড়ি এই দামে বিক্রি হয়েছিল। কার্পেথিয়া ছিল সেই উদ্ধারকারী জাহাজ, যেটি টাইটানিকের ৭০০ জন জীবিত যাত্রীকে উদ্ধার করেছিল।
৪৪ দিন আগে