ইউরোপ
স্পেন-মরক্কো সীমান্তে নিহত অভিবাসীর সংখ্যা বেড়ে ৬৭
স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় মরক্কো সীমান্তে সৃষ্ট অভিবাসন সংকটে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭ জনে পৌঁছেছে। নিহতদের মধ্যে কেউ সাগরে ডুবে এবং কেউ সীমান্তের ব্রেকওয়াটার (সীমান্তসংলগ্ন সমুদ্রের ঢেউ প্রতিরোধী বাঁধ) পার হওয়ার সময় পদদলিত হয়ে মারা গেছেন বলে জানিয়েছে স্পেন সরকার।
সংকট মোকাবিলায় শনিবার (১ আগস্ট) সমুদ্রের দিকে থাকা সীমান্তের ব্রেকওয়াটার এলাকায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ একটি প্রতিরোধক (কনটেইনমেন্ট) নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে স্পেন।
বৃহস্পতি ও শুক্রবারের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী সেউতার সীমান্ত অতিক্রম করে স্পেনের এ ছোট ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন।
শনিবার সকালে সাঁতরে সেউতার তারাহাল সৈকতে পৌঁছানো কয়েকজন ক্লান্ত অভিবাসীকে স্প্যানিশ সেনারা আটক করে আবার সীমান্ত পেরিয়ে মরক্কোয় ফিরিয়ে দেন।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের এই ভূখণ্ডে প্রবেশ করা অধিকাংশ অভিবাসী ইতোমধ্যে মরক্কোয় ফিরে গেছেন।
১৪ ঘণ্টা আগে
চাপের মুখে বিশ্বকাপের স্বত্ত্ব বিক্রির পরিকল্পনা বাদ দিলেন ফিফা সভাপতি
ফুটবল বিশ্বে তীব্র সমালোচনা, ইউরোপীয় ফুটবলের বয়কট হুমকি এবং নিজ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের মুখে বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের স্বত্ব বা শেয়ার বেসরকারি খাতে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
শনিবার (১ আগস্ট) এক বিবৃতিতে তিনি এ ঘোষণা দেন।
বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘সব পক্ষের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনার পর স্পষ্ট হয়েছে, এই প্রকল্পটি এমন বিভাজনের সৃষ্টি করেছে, যা সমর্থনের মাত্রা যাই হোক না কেন, এর মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য সবসময়ই মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং ফুটবলের উন্নয়ন ঘটানো। তাই এই প্রস্তাব আর এগিয়ে নেওয়া হবে না।’
বিশ্বকাপ পরিচালনায় দুই হাজার কোটি ডলারের একটি নতুন কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। এতে কুশনার পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদার করার পরিকল্পনা ছিল। তবে গত মঙ্গলবার পরিকল্পনাটি প্রকাশের পর থেকেই এর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
এরপর গত বৃহস্পতিবার উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশ ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও (এএফসি) এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে।
উয়েফা এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘কিছু বিষয় বিক্রির জন্য নয়। ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্পদ। এটি সবসময়ই ফুটবলেরই থাকবে। ইউরোপের কণ্ঠস্বর যতদিন থাকবে, ততদিন এটি বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হবে না।’
এদিকে, এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুক্রবার ফিফার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লস কর্দেইরো পদত্যাগ করেন। এর আগে হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সে ফিফার প্রতিনিধি ছিলেন তিনি।
পদত্যাগের পর কর্দেইরো বলেন, ‘বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব বিক্রির বিষয়টি বিবেচনা করছে—এমন অবস্থায় আমি নীরব থাকতে পারি না।’
এর কয়েক ঘণ্টা আগে অবশ্য ফিফা দাবি করেছিল, ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না।’
পরে ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) কেভিন লামুর বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ইনফান্তিনো গত কয়েক মাস ধরে পরিকল্পনাটি নিয়ে যথেষ্ট স্বচ্ছতা দেখাননি এবং এতে ফিফার কর্মকর্তারা বিভ্রান্ত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এটি কেবল একজন ব্যক্তির প্রকল্প। শুধু এই প্রকল্পই বন্ধ হওয়া উচিত নয়, ফুটবলের রাজনৈতিক নেতৃত্বেরও এখন নিজেদের প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।’
ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপ এবং ক্লাব বিশ্বকাপসহ ফিফার বাণিজ্যিক কার্যক্রম একটি ২০ বিলিয়ন বা ২ হাজার কোটি ডলারের সহযোগী প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হতো। এর ২০ শতাংশ মালিকানা থাকত বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে।
ফিফার তথ্যমতে, এই প্রকল্পের প্রধান বিনিয়োগকারী হওয়ার কথা ছিল নিউইয়র্কভিত্তিক একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান, যা প্রতিষ্ঠা করেছেন জশুয়া কুশনার। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ছোট ভাই।
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পোল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ ফিফার পরবর্তী টুর্নামেন্ট। উয়েফার সদস্যদেশগুলো এই আসরও বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যর্থ উদ্যোগ ইনফান্তিনোর জন্য রাজনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল হতে পারে। বিশেষ করে ফিফার শীর্ষ দুই কর্মকর্তা কার্লোস কর্দেইরো ও কেভিন লামুরের প্রকাশ্য বিরোধিতা তার অবস্থানকে দুর্বল করে দিতে পারে।
২০১৯ ও ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত ইনফান্তিনো ফিফার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আরও একবার চার বছরের জন্য সভাপতি পদে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। আগামী নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর এবং ভোট হবে মরক্কোর রাজধানী রাবাতে।
দীর্ঘদিন ধরেই তার নেতৃত্বের ধরন এবং অজনপ্রিয় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও এবার বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বিক্রির ব্যর্থ পরিকল্পনা তার ভবিষ্যৎ অবস্থানকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।
১৫ ঘণ্টা আগে
ফ্রান্স-স্পেনে দাবানল, জরুরি বৈঠক ডেকেছেন মাক্রোঁ
ফ্রান্সে কয়েক দিন ধরে চলা ভয়াবহ দাবানল পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ আজ সোমবার একটি জরুরি সংকট বৈঠক ডেকেছেন। দেশটিতে আগুনে বিশাল এলাকা পুড়ে যাওয়ায় আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
একই সময়ে স্পেনেও একাধিক দাবানল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ফ্রান্সে সবচেয়ে বড় দাবানলটির বিস্তার এখন কিছুটা ধীর হওয়ায় কিছুটা স্বস্তির আভাস মিলেছে।
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরন্দ অঞ্চলে দাবানলে ইতোমধ্যে প্যারিস শহরের আয়তনের চার গুণেরও বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। গত কয়েক দিন ধরে ভয়াবহ এই আগুন ধীরে ধীরে বিশ্বের বিখ্যাত ওয়াইন উৎপাদন অঞ্চল বোর্দোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।
তবে এরই মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, গতরাতে দাবানল পরিস্থিতি আগের তুলনায় স্থিতিশীল ছিল। আগুনের বিস্তার কিছুটা কমে আসায় পরিস্থিতি নিয়ে আশার আলো দেখা যাচ্ছে।
দেশুটিতে নতুন করে কোনো এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে আগস্ট মাসে ফ্রান্সে পর্যটনের সবচেয়ে ব্যস্ত মৌসুম শুরু হয়। সেটি মাথায় রেখে জিরন্দ কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের ওই এলাকা থেকে দূরে রাখতে আরও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পরিচালিত সকল ছুটির ক্যাম্প বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে, ফ্রান্সে আগুন নিয়ন্ত্রণে স্থল ও আকাশ—দুই দিক থেকেই ব্যাপক অগ্নিনির্বাপণ অভিযান চলছে। এমনকি, পানি ও অগ্নিনির্বাপক রাসায়নিক বহনকারী বিমান আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে, এমন পূর্বাভাস রয়েছে। তাই আগে থেকেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন।
৫ দিন আগে
নরওয়েতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক বাড়ি ভস্মীভূত
নরওয়েতে স্মরণকালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় শতাধিক বাড়ি পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
দক্ষিণ নরওয়ের ড্রামেন শহরের একটি টাউনহাউসে স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ড্রামেন শহরটি নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার (২১ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন আশপাশের এলাকায় এবং কাছের বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে যা নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে দমকলকর্মীদের। শনিবার সকালেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দমকলকর্মীরা।
নরওয়ের বেসামরিক সুরক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, আধুনিক সময়ে এ ধরনের সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ড এটি।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে জানায়, অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে শত শত মানুষকে একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো বাসিন্দা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
১৪ দিন আগে
ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে বড় অস্ত্রচুক্তি উন্মোচন করবে ন্যাটো
প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ন্যাটো। এ লক্ষ্যে জোটটি শত শত কোটি ডলারের নতুন অস্ত্রচুক্তি ও সামরিক প্রকল্প ঘোষণা করবে। এর মাধ্যমে ন্যাটো ট্রাম্পকে দেখাতে চায়, সংগঠনটির সদস্য দেশগুলো শুধু প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না, বাস্তবেও নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি ও ন্যাটোর নজরদারি সক্ষমতা শক্তিশালী করা এবারের সম্মেলনে গুরুত্ব পাবে।
সম্মেলনে ‘বিগ রিভিল’ নামের অনুষ্ঠানে ন্যাটোর কয়েকজন নেতার প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে নতুন একাধিক চুক্তি ঘোষণা করার কথা রয়েছে। তবে এসব চুক্তির বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে হবে।
ট্রাম্প এর আগে ন্যাটোকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। তার দাবি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও নেতৃত্ব ছাড়া ন্যাটো কার্যকরভাবে চলতে পারবে না।
এদিকে, সম্মেলনের আগের দিন ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে সাংবাদিকদের জানান, ‘আমরা কয়েক দশক বিলিয়ন ডলারের নতুন চুক্তি ঘোষণা করব, যা ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে প্রতিরোধ ও আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে।’
এর কয়েক সপ্তাহ আগে ন্যাটোতে প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করেছিলেন রুটে। সে সময় তিনি ‘দ্য ট্রাম্প ট্রিলিয়ন’ শিরোনামের একটি চার্ট উপস্থাপন করেন। সেখানে দেখানো হয়, ২০১৭ সাল থেকে ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো ও কানাডা প্রতিরক্ষা খাতে মোট ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।
তবে তাতেও সন্তুষ্ট হননি ট্রাম্প। সে সময় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ন্যাটোর কয়েকটি সদস্য দেশ অংশ না নেওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তাদের অর্থ আমাদের দরকার নেই। আমাদের কিছুই দরকার নেই। আমি শুধু বিশ্বস্ততা চাই।’
নতুন নজরদারি বিমানবহর কেনার পরিকল্পনা
ন্যাটোর চুড়ান্ত চুক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, তাদের পুরোনো নজরদারি বিমান বদলে নতুন বিমান কেনার পরিকল্পনা। এসব চুক্তির বেশিরভাগই সম্মেলনের আগেই প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া কিছু চুক্তিতে ইতোমধ্যে সইও হয়েছে।
ন্যাটো একটি জোট হিসেবে নিজস্ব কোনো অস্ত্রের মালিক নয়। অস্ত্রগুলো ৩২টি সদস্য রাষ্ট্রের মালিকানাধীন। তবে সংগঠনটির প্রায় ৫০ বছর পুরোনো এডব্লিউএসি নজরদারি বিমান ও কিছু আধুনিক নজরদারি ড্রোন রয়েছে।
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা ঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে কয়েকটি প্রকল্পের অর্থায়ন হবে। এই কর্মসূচির আওতায় পুঁজিবাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৭০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হবে।
রুটে জানান, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, অর্থনৈতিক শক্তিকে আমরা সামরিক সক্ষমতায় রূপ দিতে পারছি। প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—সব ক্ষেত্রেই এই অর্থ কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে।’
সম্মেলনটি তুরস্কের আঙ্কারায় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের বিশাল প্রাসাদ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিকে, ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি সেখানে তুর্কি প্রেসিডেন্টের জন্য কিছু ‘উপহার’ নিয়ে যেতে পারেন।
তুরস্কের কাছে যুদ্ধবিমান বিক্রির বিরোধিতা নেতানিয়াহুর
অন্যদিকে, সোমবার ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এরদোয়ান ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে চান।
তুরস্ক ও ইসরায়েলের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই তিক্ত। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় শুরু হওয়া যুদ্ধ নিয়ে এরদোয়ান প্রায়ই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলে আসছেন।
এর আগে ২০১৯ সালে রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ন্যাটো সম্মেলনের তার আঙ্কারা সফরের আগেই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, খুব শিগগিরই তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রি শুরু হতে পারে।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রি হলে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হবে। সেই ভারসাম্য মূলত মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।’
এদিকে, ইসরায়েলি বিমানবাহিনী শত শত মার্কিন যুদ্ধবিমানের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে রয়েছে এফ-৩৫, এফ-১৬ এবং এফ-১৫।
২৫ দিন আগে
ইউক্রেনে ফের রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ১৮
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে এ হামলা চালানো হয়।
এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই অবশ্য রাজধানীতে রাশিয়ার আরেকটি বড় ধরনের হামলা হতে পারে সতর্ক করেছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, এ হামলায় কিয়েভের একাধিক আবাসিক বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপে জীবিত কাউকে খুঁজে পেতে অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো এক টেলিগ্রাম পোস্টে বলেন, রাশিয়া আবাসিক ভবনগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এসব ভবনে মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমাত। এখানে তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করত।
তিনি জানান, পোদিলস্কি জেলায় একটি আবাসিক ভবনের একটি অংশ ধসে পড়েছে। এছাড়া দারনিৎসিয়া জেলায় কয়েকটি বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকে পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, এ হামলায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোনও ব্যবহার করা হয়েছে। দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দে পুরো কিয়েভ শহর কেঁপে উঠেছিল। এ সময় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনেক মানুষ মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন।
গত সপ্তাহে কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছে। তার কয়েক দিনের পরেই আবারও সোমবার এই হামলা করল রাশিয়া।
গত রবিবার গভীর রাতে টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে ইউক্রেনে আরও বেশি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেনের কাছে এসব ক্ষেপণাস্ত্র পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করা কঠিন হবে। এতে রাশিয়া আরও হামলা চালাতে উৎসাহিত হবে। এর ফলে চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হবে।
২৬ দিন আগে
কিয়েভে রাতভর রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত অন্তত ১৩
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এ হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৮৬ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোর পর্যন্ত চলা এ হামলার পর উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
একই সঙ্গে দেশটির সরকার মিত্র দেশগুলোর প্রতি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ব্যালিস্টিক, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে চালানো এ হামলায় শহরের বিভিন্ন ভবন ও বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার প্রথম সতর্কবার্তা জারির পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষের আহ্বানে সেখানের বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য মেট্রো স্টেশনে চলে যান।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, হামলায় কিয়েভে ১৩ জন নিহত ও ৮৬ জন আহত হয়েছেন। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, এ ঘটনায় শহরের অন্তত ৩০টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে, যার বেশিরভাগই আবাসিক ভবন ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা।
এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহর ক্লিমেঙ্কো জানান, শহরজুড়ে অন্তত ২০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানায়, হামলার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রায় ৫০০ জন কর্মী এবং ১০০টি বিশেষায়িত যান মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হেলিকপ্টারও রয়েছে।
৩০ দিন আগে
ছাত্র-আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের ঘোষণা
টানা ১৮ মাস ধরে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচ।
সোমবার (২৯ জুন) তিনি বলেছেন, ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমি পদত্যাগ করব।’ একই সঙ্গে দেশটিতে আগাম প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সার্বিয়ার উত্তরাঞ্চলের নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুচিচ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সূচনা হয়। ওই রেলস্টেশন দুর্ঘটনার পর থেকে বিক্ষোভকারীরাসহ বিরোধী দল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে থাকে যে রেলস্টেশনে ছাউনি ধসের দুর্ঘটনার জন্য নির্মাণ প্রকল্পে সরকারের ব্যাপক অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি দায়ী। এরপর চাপের মুখে অবশেষে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন গত ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ভুচিচ।
সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেদে সরকারপন্থিদের এক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আর মাত্র কয়েক সপ্তাহই আমি প্রেসিডেন্ট আছি, এরপর আমি পদত্যাগ করব।’
তবে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং আগাম সংসদ নির্বাচনে তার দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টিকে (এসএনএস) জয়ী করতে তিনি কাজ করবেন বলেও এ সময় তিনি উল্লেখ করেন।
সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আমার প্রস্তাব হচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে আমাদের বিজয়ী জোটের নাম হবে “ইউনাইটেড সার্বিয়া”।’
অবশ্য তিনি কবে পদত্যাগ করবেন বা সংসদ ভেঙে দেবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাননি। বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষের আগেই আগাম সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পূর্বশর্ত হলো সংসদ ভেঙে দেওয়া।
ভুচিচ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্বগ্রহণের পর এর মেয়াদ ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ছিল।
এখানেই ভুচিচের রাজনৈতিক অধ্যায়ের শেষ নয়
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখানেই ভুচিচের রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি হচ্ছে না। তিনি পদত্যাগ করলেও আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তার দল এসএনএস জয়ী হলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন। অর্থাৎ পদবী যাই হোক না কেন, এসএনএস সরকার গঠন করলে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন ভুচিচ।
বিশ্লেষকদের মতে, এসএনএস ক্ষমতায় এলে প্রেসিডেন্ট পদেও নিজের ঘনিষ্ঠ কাউকে বসানোর চেষ্টা করবেন তিনি। এর মাধ্যমে পর্দার আড়াল থেকে তিনিই ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন।
এ ব্যাপারে ওয়ারশ-ভিত্তিক বিশ্লেষক রাদিভোয়ে গ্রুইচ বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত মোটেও ভুচিচের রাজনৈতিক জীবনের শেষ নয়। ইতোমধ্যেই তার একটি পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নয়, বরং তিনি আবারও ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছেন।’
তবে শনিবার ভুচিচের পদত্যাগের ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রেসিডেন্ট পদ থেকে তার সরে দাাঁড়ানোর পেছনে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০০০ সালে স্লোবোদান মিলোসেভিচের পতনের পর ভুচিচ সরকারবিরোধী আন্দোলনই সার্বিয়ার সবচেয়ে বড় আন্দোলন।
কয়েক দিন আগে দেশটির নোভি সাদ শহরে শিক্ষার্থীরা রেলস্টেশন দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণ করেন। এ সময় আগাম সাধারণ নির্বাচনের দাবি জানান তারা। এছাড়া গতকাল (রবিবার) দক্ষিণ-মধ্য সার্বিয়ার ক্রালিয়েভো শহরে আরেকটি ছাত্র সমাবেশ হয়েছে।
ছাত্র নেতৃত্বাধীন এই আন্দোলনের কর্মীরা এবং বিরোধী দল উভয়েই জানিয়েছে, তারা নির্বাচনে ভুচিচ ও তার সমর্থিত দল এসএনএসের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়।
ছাত্রসমর্থিত সরকারবিরোধী আন্দোলন ‘মুভ-চেঞ্জ’-এর প্রধান সাভো মানোইলোভিচ বলেন, ‘পদত্যাগ এবং আগাম প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ভুচিচ তার অনিবার্য পতন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটির জনসমর্থন ছাত্র আন্দোলনের প্রতি।’
রাজনৈতিক সমীকরণ
সার্বিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের প্রার্থী দেশ। তবে দেশটির সঙ্গে এখনও রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ক্ষমতায় থাকার পুরো সময়জুড়ে ভুচিচকে এই ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়েছে।
সার্বিয়ার সামনে চ্যালেঞ্জ হলো ইইউতে যোগ দেওয়ার আগে দেশটিতে আইনের শাসন আরও শক্তিশালী করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা, দুর্নীতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং পররাষ্ট্রনীতি ইইউর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।
শনিবার ভুচিচ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, তার দল দুর্নীতির অবসান ঘটাবে। এছাড়া তিনি পেনশন বৃদ্ধি, দরিদ্রদের জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানো এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নেরও প্রতিশ্রুতি দেন।
তবে বিরোধী দলীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন, ভুচিচ এবং তার সহযোগীরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সহিংসতা, ব্যাপক দুর্নীতি, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পর্ক এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দমনের সঙ্গে জড়িত। অবশ্য ভুচিচ এবং তার সহযোগীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
৩৩ দিন আগে
ফ্রান্সে স্কাইডাইভিং বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১১
ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি স্কাইডাইভিং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আরোহী ১১ জনের সবাই নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (২৮ জুন) ন্যান্সি শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত ন্যান্সি-এসি বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিমানটি যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হয় এবং ‘প্রায় উল্লম্বভাবে’ নিচে আছড়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন মিউর্ত-এ-মোজেল অঞ্চলের প্রিফেক্ট ইভ সেগুই।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বিএফএম-টিভিকে তিনি বলেন, বিমানটি বিমানঘাঁটির কাছাকাছি একটি জনবসতিপূর্ণ এলাকার সীমানায় বিধ্বস্ত হয়।
ইভ সেগুই বলেন, ‘দুর্ঘটনাটি যদি আর কয়েক মিটার দূরে ঘটত, তাহলে আরও হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত।’
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটি একটি স্কাইডাইভিং ক্লাবের মালিকানাধীন ছিল এবং প্যারাশুট জাম্প কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছিল।
দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য সংগ্রহ করছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
৩৪ দিন আগে
দলীয় চাপে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার
নিজের দলের চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। স্থিতিশীল নেতৃত্ব ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুই বছর আগে ভূমিধস বিজয় অর্জন করলেও ধারাবাহিক ভুল পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্তে ভোটারদের আস্থা হারানোর পর শেষ পর্যন্ত তাকে সরে দাঁড়াতে হচ্ছে।
সোমবার (২২ জুন) স্টারমার জানান, ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি নতুন নেতা নির্বাচিত না করা পর্যন্ত তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাকে স্থলাভিষিক্ত করতে সাবেক গ্রেটার ম্যানচেস্টার মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
ইতোমধ্যে বার্নহ্যাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেছেন, ‘আমি এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করব।”
অন্যদিকে, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, যাকে বার্নহ্যামের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল, তিনি বার্নহ্যামকে সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ উপনির্বাচনে বার্নহ্যামের জয়ই স্টারমারের পদত্যাগের সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় এক দশক গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি পুনরায় পার্লামেন্টে ফিরছেন এবং সোমবারই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, কেবল সংসদ সদস্যরাই দলের নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
স্ট্রিটিংয়ের সমর্থনের ঘোষণায় নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই বার্নহ্যাম নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।
স্টারমার গত এক দশকে ব্রিটেনের ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী, যিনি ডাউনিং স্ট্রিটের ১০ নম্বর বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিলেন। তার এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্যাগের পক্ষে (ব্রেক্সিট) ব্রিটেনের গণভোটের দশম বার্ষিকী পালিত হবে। সিদ্ধান্ত এখনও দেশটির অর্থনীতি ও রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিজের পদ ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত স্টারমার নতুন নেতৃত্বের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের ক্রমবর্ধমান চাপের কাছে নতি স্বীকার করলেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তিনি লেবার পার্টিকে বড় জয় এনে দিয়েছিলেন, তবে এরপর থেকে তার এবং দলের জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে।
কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন নেতা
দুই বছর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ভাষণ দেওয়া সরকারি বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়েই পদত্যাগের ঘোষণা দেন স্টারমার। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের শেষ দিকে তার কণ্ঠ আবেগে ভারী হয়ে ওঠে। এ সময় তার দপ্তরের কর্মী, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং অসংখ্য সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
স্টারমার বলেন, ‘আমার দল এখন যে প্রশ্নটি করছে তা হলো, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কি না। এ বিষয়ে আমার সংসদীয় দলের উত্তর আমি শুনেছি এবং সৌজন্যের সঙ্গে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছি।’
তিনি জানান, সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানাতে তিনি ব্রিটেনের সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে কথা বলেছেন।
বার্নহ্যামের উপনির্বাচনে জয়ের পর পুরো সপ্তাহাজুড়ে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করেন স্টারমার। তিনি জানান, আগামী ৯ জুলাই থেকে নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে এবং গ্রীষ্মকালীন বিরতি শেষে ১ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্ট পুনরায় বসার আগেই নতুন নেতা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
তবে বার্নহ্যাম যদি একমাত্র প্রার্থী হন, তাহলে আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝিতেই নেতৃত্ব পরিবর্তন সম্পন্ন হতে পারে।
৪০ দিন আগে