বরিশাল
ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের আত্মসংশোধনের আহ্বান স্পিকারের
ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের আত্মসংশোধনের আহ্বান জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, অতীতে কোনো রাজনৈতিক দল নিজেদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে আপসহীন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে ভোলার লালমোহন উপজেলা মাল্টিপারপাস হলরুমে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, ‘যারা ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী, তারা নিজেদের সংশোধন করুন। ইতোমধ্যে দেখেছেন, ঢাকায় এক নারী সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে হাসপাতাল দখলের অভিযোগ ওঠার পর প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনও পদত্যাগ করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইশরাক হোসেন কাজটা ভালোই করেছেন। একদল মাদকসেবীকে দমন করতে গিয়েছেন। তবে তার হাতে অস্ত্র নেওয়াটা ঠিক হয়নি। একজন নেতা বা মন্ত্রীর হাতে আইনি বা বেআইনি অস্ত্র শোভা পায় না।’
এ কারণে প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘তবে তার কাজটা ভালো। তিনি দুর্বৃত্ত দমন করতে গিয়েছেন। সেই জন্য সাধারণ মানুষ পরবর্তীতে কোনো একসময় মূল্যায়ন করবেন।’
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শেখ হাসিনা ও তার দলের সংসদ সদস্যরা ব্যাপক লুটপাট করেছেন। তারা দেশের সম্পদ বিদেশে নিয়ে প্রাসাদ তৈরি করেছেন।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তারা বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন বলেও অভিযোগ করেন স্পিকার।
তিনি বলেন, ‘তারা মনে করেছিলেন, কেয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন। আওয়ামী লীগের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেশে হতে দেওয়া হবে না।’
লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষসহ সরকারি কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আন্তর্জাতিক পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পিকারকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠান শেষে স্পিকার উপজেলার ১৫০ জন অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করেন।
১ দিন আগে
বরিশালে ছাত্রলীগের সশস্ত্র মিছিল, ৭৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
বরিশালে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সশস্ত্র মিছিলের ঘটনায় ৭৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফেরদৌস বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
এর আগে গত শনিবার সকালে বরিশাল নগরীর বাংলাবাজার এলাকায় সশস্ত্র অবস্থায় মিছিল করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সে সময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণও ঘটান তারা। এতে করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন নগরীর বাসিন্দারা।
মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। নামধারী আসামিরা হলেন সাদ, মিরাজ, লাদেন, রাতুল, রাকিব, আবু বকর সিদ্দিক, রাশেদুল ইসলাম, ফয়সাল আহমেদ মুন্না, তরিকুল ইসলাম রাজা, উজ্জল, খোকা, সীমান্ত ও ইব্রাহিম। তারা সবাই ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মী। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
নগরীর সদর রোডের বাসিন্দা রমিজ হাওলাদার বলেন, বরিশালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে খুবই দুর্বল, তার অন্যতম উদাহরণ একের পর এক ছাত্রলীগের মিছিল ও সমাবেশ। ঢাকার বাইরে একমাত্র বরিশাল নগরীতেই একাধিক মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সদস্যরা।
পুলিশের দুর্বল ভূমিকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এসব কর্মসূচি করার সাহস পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো মনিরুল ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগের মিছিল করার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে।
২ দিন আগে
ভোলায় বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম, সংঘবদ্ধ পিটুনিতে যুবক নিহত
ভোলায় এক স্থানীয় বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগে বিক্ষুব্ধ জনগণের সংঘবদ্ধ পিটুনিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) ভোরে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আসিফ (২৫) নামের ওই যুবকের মৃত্যু হয়। তিনি ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. দলু মিয়া ও হালিমা বেগমের ছেলে।
অন্যদিকে আহত রাজাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হোসেন ম্যানেজার বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পূর্বশত্রুতার জেরে গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যায় রাজাপুরের আনন্দবাজার এলাকায় হোসেন ম্যানেজারের ওপর হামলা হয়। এ সময় তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
পরে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনগণ সংঘবদ্ধ হয়ে অভিযুক্ত আসিফকে পিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
৩ দিন আগে
বরিশালে ২ নদীতে অভিযান, জেলেদের জরিমানা
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে বরিশাল সদর উপজেলার কীর্তনখোলা ও কালাবদর নদীতে অভিযান চালিয়ে চার জেলেকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফরিদা সুলতানার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকার প্রতিরোধ ও মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় ও ১৫ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।
এছাড়া জব্দ করা ১০ কেজি ইলিশ মাছ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযানে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জামাল হোসাইন ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা করেন।
৩ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ড থেকে এক নবজাতককে চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
চুরি হওয়া নবজাতকটি জেলার বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের চান্দুরা গ্রামের শামীম মিয়া ও মরিয়ম বেগম দম্পতির প্রথম সন্তান।
শিশুটির পরিবার জানায়, গত সোমবার প্রসবব্যথা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি হন মরিয়ম বেগম। পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী বোরকা পরিহিত এক নারী অন্য এক রোগীর স্বজন পরিচয়ে মরিয়ম ও তার মায়ের সঙ্গে পরিচিত হন। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন ওই নারী।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, মরিয়মের পেটে ব্যথা অনুভূত হলে সহযোগিতার কথা বলে নবজাতককে কোলে নেন ওই নারী। কিছুক্ষণ পর শিশুটিকে নিয়ে কক্ষের দরজার কাছে যান তিনি। এ সময় মরিয়ম তাকে কক্ষের ভেতরে আসতে বলেন। কিন্তু তার কথা উপেক্ষা করে মুহূর্তের মধ্যে শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যান ওই নারী।
এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির সন্ধান পাননি। খবর পেয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ওই নারীকে শিশুটি নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে।
নবজাতকের নানি মমতাজ বেগম বলেন, দুপুরে ওই নারী এসে অন্য এক রোগীর স্বজন পরিচয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি আমাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে মরিয়মের পেটে ব্যথা শুরু হলে তিনি শিশুটিকে কোলে নেন। এরপর তিনি মুহূর্তের মধ্যে শিশুটিকে নিয়ে চলে যান।
শিশুটির মা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘বিয়ের তিন বছর পর আমার প্রথম পুত্রসন্তান হয়েছে। ওই নারী প্রতারণা করে আমার শিশুটিকে চুরি করে নিয়ে গেছে। আমি আমার বুকের ধনকে ফেরত চাই। সরকার ও পুলিশ যেন দ্রুত উদ্ধার করে আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দেয়। ওই নারীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।’
শিশুটির বাবা শামীম মিয়া বলেন, ‘আমি আমার সন্তানকে ফেরত চাই। সন্তানকে না নিয়ে হাসপাতাল থেকে যাব না। সরকারি হাসপাতাল থেকে শিশু চুরি হয়ে যাবে, এটা কী করে হয়? এখানে নিরাপত্তা কোথায়?’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালী বলেন, ‘হাসপাতালে সবসময় রোগীদের স্বজনদের অতিরিক্ত ভিড় ও চাপ থাকে। শিশু চুরির খবর আমরা পেয়েছি। পরিবারের লোকজনের অসচেতনতার কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক আনসার নিয়োজিত থাকলে সুবিধা হয়। সিসিটিভিগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। সেগুলো পরিবর্তন করে নতুন সিসিটিভি স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন মহলে আবেদন করা হয়েছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে শিশুটির পরিবার ও আশপাশের লোকজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ওই নারীকে শনাক্ত ও শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
১২ দিন আগে
অন্তঃসত্ত্বা নারীর পেটে ‘লাথি’, গর্ভপাতে নবজাতকের মৃত্যু
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় তানিয়া বেগম (২৫) নামের সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন যুবকের বিরুদ্ধে। পরে তানিয়ার গর্ভপাত হয় এবং কিছুক্ষণ পর নবজাতকের মৃত্যু হয়।
ঘটনাস্থলে তানিয়ার স্বামী হাবিব পাহলান (৪৫) ও বাবা দুলাল হাওলাদার (৫৫) মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার চাকামাইয়া ইউনিয়নের মুন্সী বাড়ি স্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, অটোরিকশাচালক হাবিব চাকামাইয়ার বেতমোর গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে স্ত্রী তানিয়া ও শ্বশুর দুলালকে নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। পথে মুন্সী বাড়ি স্ট্যান্ড-সংলগ্ন সড়কে সোহাগ (২০), মামুন ও শাওন সিকদার (২২) দাঁড়িয়ে ছিলেন। এতে হাবিবের অটোরিকশা সামনে যেতে পারছিল না। পরে হাবিব তাদের সড়ক থেকে সরে দাঁড়াতে বললে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা হাবিব ও দুলালকে মারধর শুরু করেন।
এ সময় অন্তঃসত্ত্বা তানিয়া বাধা দিতে এগিয়ে গেলে তার পেটে লাথি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তাদের প্রায় দেড় ঘণ্টা সেখানে দাঁড় করিয়েও রাখা হয়।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে প্রবেশের সময় তানিয়ার গর্ভপাত হয় এবং এর কিছুক্ষণ পর নবজাতকের মৃত্যু হয়।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৪ দিন আগে
বিকল ট্রলারে ভাসতে থাকা ১৮ জেলেকে চার দিন পর উদ্ধার
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচর-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে বিকল ট্রলারে ভাসতে থাকা ১৮ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ট্রলারের বিকল হওয়ার চার দিন পর বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে ভুক্তভোগীদের স্বজনরা একটি মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জের জোবায়ের এন্টারপ্রাইজের মৎস্য আড়তদার ফরহাদ হোসেন পাটোয়ারী। তিনি বলেন, ‘একটি ট্রলার পাঠিয়ে জেলেদের উদ্ধার করা হয়েছে।’
উদ্ধারকারী ট্রলারে থাকা বিকল ট্রলারের মালিক হানিফ মাঝির ভাই ফিরোজ জানান, তার ভাইসহ ট্রলারের ১৮ জন মাঝি-মাল্লাকেই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টার দিকে সোনারচর-সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এখন তাদের চরফ্যাশনের হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের পাচকপাট স্লুইস গেট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ট্রলারটির পাখা ভেঙে যায়। তার পর থেকে সোনারচর ও রূপারচরের মাঝামাঝি এলাকায় বিকল অবস্থায় নোঙর করে ছিল ট্রলারটি। গত ২২ সেপ্টেম্বর মোবাইল ফোনে নেটওয়ার্ক পাওয়ার পর হানিফ মাঝি বিষয়টি তার এলাকার আড়তদার ফরহাদ হোসেন পাটোয়ারীকে জানান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চাওয়া হয়।
তিন নম্বর সতর্ক সংকেতের মধ্যে উত্তাল সাগরে উদ্ধার অভিযান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় গতকাল (বুধবার) পর্যন্ত তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শেষে আজ সকালে আড়তদারের পাঠানো ট্রলারে তাদের উদ্ধার করা হলো।
২৭ দিন আগে
উত্তাল সাগরে ট্রলারডুবি, উদ্ধার ৯ মাঝি-মাল্লা
বঙ্গোপসাগরে ঢেউয়ের কবলে পড়ে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। তবে অন্য একটি ট্রলারের মাধ্যমে ডুবে যাওয়া ট্রলারের ৯ মাঝি-মাল্লাই উদ্ধার হয়েছেন।
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এলাকায় থেমে থেমে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে এবং গভীর সাগর উত্তাল রয়েছে। এর মাঝে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ট্রলারটি ডুবে যায়।
এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের যুগিরহাওলা গ্রামের জহির প্যাদার মালিকানাধীন একটি ট্রলার ঢেউয়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। ওই ট্রলারেও ৯ জন মাঝি-মাল্লা ছিলেন। পরে পাশের একটি ট্রলার দ্রুত এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে তা ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ কারণে পায়রাসহ চার সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলো মৎস্যবন্দর আলীপুর-মহিপুরসহ বিভিন্ন চ্যানেলে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে জেলার সোনারচর সংলগ্ন সাগরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে গত শনিবার থেকে আটকা পড়ে আছেন ১৮ জেলে। ট্রলারটি সোনারচর-সংলগ্ন মোহনার ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে অবস্থান করছে।
উত্তাল সাগরের কারণে আশপাশের ট্রলারগুলো তাদের উদ্ধারে যেতে পারছে না বলে জানিয়েছেন জেলেদের স্বজনরা। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশকে জানানো হয়েছে।
রাঙ্গাবালী কোস্ট গার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। সেখানে যাওয়ার মতো উপযুক্ত নৌযান, জনবল ও উদ্ধার সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে রাঙ্গাবালী নৌপুলিশ জানায়, সাগরে থাকা অন্য জেলেদের মাধ্যমে আটকা পড়া ১৮ জেলেকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
২৭ দিন আগে
ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে চার দিন ধরে সাগরে ভাসছেন ১৮ জেলে
মাছ ধরার ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে গত শনিবার থেকে বঙ্গোপসাগরে ভাসছেন ১৮ জেলে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচর-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে তাদের ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয় বলে জানা গেছে। তাদের অবস্থান মোহনার ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে।
এদিকে ভুক্তভোগী জেলেদের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট মৎস্য ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশের সহায়তা চাওয়া হলেও নিরাপত্তা ও সক্ষমতার কারণে উদ্ধার অভিযান চালাতে অপারগতা জানিয়েছে তারা।
রাজধানীর রামপুরা এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী ফরহাদ পাটোয়ারীর ছেলে জুনায়েত হাসান বলেন, গত শনিবার সকালে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলা থেকে ১৮ জন মাঝি-মাল্লা নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যান ট্রলারের মালিক ও মাঝি হানিফ মিয়া। পরে তাদের ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এরপর হানিফ মিয়া জুনায়েতের বাবাকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানিয়ে সহযোগিতা চান।
হানিফ মাঝির সঙ্গে জুনায়েতের বাবা ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে ব্যবসা করছেন। ঘটনাটি জানতে পেরে জুনায়েত ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। এছাড়া রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশকে একাধিকবার ফোন করে জেলেদের উদ্ধারে সহায়তা চেয়েছেন তিনি।
জুনায়েত বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশের পক্ষ থেকে তাকে বলা হয়েছে, চলমান বৈরি আবহাওয়ার কারণে বঙ্গোপসাগর ও পার্শ্ববর্তী নদীগুলো প্রচণ্ড উত্তাল রয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর জন্য উপযুক্ত নৌযান, জনবল এবং উদ্ধার অভিযানের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকার কথা জানানো হয়েছে কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশের পক্ষ থেকে।’
তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টার দিকে হানিফ মিয়া মুঠোফোনে কল করে উদ্ধারের সহায়তা চেয়েছেন। এরপর তিনিও উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গতকাল রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে ভুক্তভোগী হানিফ মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসানের সঙ্গেও জুনায়েতের কথা হয়। তিনি মুঠোফোনে বলেন, ‘গত শনিবার সকালে তার বাবাসহ ১৮ জন মাঝি-মাল্লা চরফ্যাশন মাছঘাট থেকে সাগরে মাছ ধরতে যান। এরপর ইঞ্জিন বিকল হয়ে তারা একই স্থানে অবস্থান করছেন।’
মেহেদী হাসান জানান, গতকাল রাত ১০টার দিকে তার বাবা জানিয়েছেন, বৈরি আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। তাদের ট্রলারের আশপাশে থাকা কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলারকে হাত ইশারা করে সহায়তা চাওয়া হলেও সাগর উত্তাল থাকায় তারা এগিয়ে আসেনি।
জেলে হানিফ মিয়ার বাড়ি ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায় বলে জানায় তার ছেলে মেহেদী।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী কোস্ট গার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে বিষয়টি তাদের জানানো হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে যাওয়ার মতো উপযুক্ত নৌযান, জনবল ও উদ্ধারকাজে ব্যবহারের কোনো সরঞ্জাম তাদের কাছে নেই।
তিনি আরও বলেন, তাদের টহলদলের বর্তমান অবস্থান রাঙ্গাবালী উপজেলা-সংলগ্ন নদী এলাকায়। আর বিপদগ্রস্ত জেলেদের অবস্থান সোনারচর-সংলগ্ন মোহনা থেকে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে। সেখানে পৌঁছাতে প্রায় ছয় থেকে আট ঘণ্টা সময় প্রয়োজন। সার্বিক বিষয় নিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে তিনি ভোলা কোস্ট গার্ডকে জানিয়েছেন বলে দাবি করেন। ভোলা কোস্ট গার্ডকে জানানোর পর সেখান থেকে পরবর্তী কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
কোস্ট গার্ডের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, তিনি চরমোন্তাজ ট্রলার মালিক সমিতিকেও বিষয়টি জানিয়েছেন এবং জেলেদের উদ্ধারে সহায়তা চেয়েছেন। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযানে যাওয়ার আনুষঙ্গিক খরচ ও নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে তারাও অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
রাঙ্গাবালী নৌপুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জায়েদুর রহমান বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে যাওয়ার মতো নৌযান, উদ্ধার সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় কোনো কিছুই তাদের কাছে নেই। তবে সাগরে থাকা অন্যান্য জেলেদের মাধ্যমে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান বলেন, ‘বিপদগ্রস্ত জেলেদের মালিকের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। জেলেদের উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানানো হয়েছে।’
২৮ দিন আগে
ভোলায় শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, আটক ১
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর মো. ইসমাইল (৭) নামের এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই এলাকার মো. রোকন (২২) নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিমপাড়া-সংলগ্ন একটি খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ইসমাইল ওই এলাকার মো. আকবর হোসেনের ছেলে।
শিশুটির পরিবার জানায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে খেলতে বের হয় শিশু ইসমাইল। পরে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও সে বাড়িতে না ফেরায় চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করা হয়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাকে না পাওয়ায় বাবা আকবর হোসেন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের তিন দিন পর আজ (মঙ্গলবার) সকালে স্থানীয় কয়েকজন বোরহানউদ্দিনের মুসলিমপাড়া-সংলগ্ন খালে একটি বস্তা ভাসতে দেখে সন্দেহ থেকে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ বস্তাবন্দি মরদেহটি উদ্ধার করলে স্বজনরা ইসমাইলকে শনাক্ত করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মোবাইল ফোন কেনাকে কেন্দ্র করে কিছুদিন আগে ইসমাইলের বাবা আকবর হোসেনের সঙ্গে রোকনের বিরোধ হয়েছিল এবং ওই সময় রোকন তাকে হুমকি দিয়েছিলেন।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফউদ্দিন জানান, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে থানায় আনা হয়েছে। তবে শিশুটির মৃত্যুর কারণ এবং তাকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
২৯ দিন আগে