বরিশাল
পটুয়াখালীতে হামলা ও ছিনতাই মামলায় ছাত্রদল সভাপতি কারাগারে
পটুয়াখালীর বাউফলে হামলা, মারধর ও ছিনতাইয়ের মামলায় উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২২ জুন) পটুয়াখালীর বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার প্রধান আসামি ফাহাদ জামিন আবেদন করেন। তবে আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরীন করিম শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী ফাহাদ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। বিচারক শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করেন এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের মার্চ মাসে বাউফল পৌর শহরের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে ফজলুল হক মৃধা নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে বাউফল থানায় মামলাটি করেন।
এজাহারে বাদীর অভিযোগ, পূর্ব বিরোধের জেরে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি দলবল নিয়ে বাদী, তার ভাই ও সহযোগীদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তার দোকানের ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর, মারধর এবং নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। হামলায় আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ওই ঘটনায় ফাহাদকে প্রধান আসামি করে মোট ৭ জনের নামে মামলা করা হয়।
এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেবে।
১০ ঘণ্টা আগে
ভোলায় দুবার কবর খোঁড়া হলেও বাবার মরদেহ দাফনে বাধা
ভোলার চরফ্যাশনে সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবার মরদেহ দাফনকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের বাধার মুখে দুইবার কবর খোঁড়া হলেও দীর্ঘ সময় মরদেহ দাফন করা সম্ভব হয়নি। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে জানাজা শেষে তড়িঘড়ি করে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
শনিবার (২০ জুন) চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানাধীন রসুলপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নিহত জলিল পণ্ডিতের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জলিল পণ্ডিত জীবদ্দশায় চারটি বিয়ে করেছিলেন। বর্তমানে তার দুই স্ত্রী ও সাত ছেলেমেয়ে রয়েছেন। গত শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হলে স্বজনরা গতকাল (শনিবার) সকালে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নেন। এ সময় কয়েকজন সন্তান দাফনে আপত্তি জানান। তাদের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে জলিল পণ্ডিত তার সম্পত্তির একটি বড় অংশ ছোট স্ত্রীর মেয়ে খাদিজা আক্তারের নামে দলিল করে দিয়েছেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
অভিযোগ রয়েছে, সেই বিরোধের জের ধরেই কয়েকজন সন্তান বাবার মরদেহ দাফনে বাধা দেন। প্রথমে পারিবারিক কবরস্থানে কবর খোঁড়া হলেও সেখানে মরদেহ দাফন করতে দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়লে পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ির উঠানে দ্বিতীয়বার কবর খোঁড়েন। কিন্তু সেখানেও আপত্তি জানানো হয়। একপর্যায়ে মরদেহ বাড়ির উঠানে রেখে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দাফনকে কেন্দ্র করে কয়েক ঘণ্টা ধরে উত্তেজনা বিরাজ করে। মরদেহ দাফন নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একাধিক দফায় বাগ্বিতণ্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এমনকি মরদেহ বাড়ির উঠানে রেখে ভাইবোনদের মধ্যে মারামারিও হয়।
খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে, পুলিশের উপস্থিতিতেও কয়েক দফা উত্তেজনা ও হাতাহাতি হয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী উভয় পক্ষকে শান্ত করার উদ্যোগ নেন।
দীর্ঘ আলোচনার পর স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় বিরোধের অবসান ঘটে। পরে বাড়ির উঠানে দ্রুত জানাজা শেষে জলিল পণ্ডিতের গতকাল বিকেলে মরদেহ দাফন করা হয়।
এদিকে, ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে একজন মৃত ব্যক্তির দাফন বিলম্বিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকেই এমন ঘটনাকে মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পুলিশ জানায়, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জীবদ্দশায় সম্পত্তি নিয়ে যে বিরোধের সূচনা হয়েছিল, মৃত্যুর পরও তার অবসান হয়নি। বাবার মরদেহ দাফনকে কেন্দ্র করে সন্তানদের সংঘর্ষে হতবাক রসুলপুরবাসী।
১ দিন আগে
খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ উপহার দেওয়া সেই সোহাগ মৃধা গ্রেপ্তার
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ নামে একটি গরু উপহার দিয়ে আলোচনায় আসা মো. সোহাগ মৃধাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মারামারি, হত্যাচেষ্টা, নারী নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার (১৪ জুন) গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার সোহাগ মৃধা উপজেলার ৩ নম্বর আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সারমিন সুলতানা, তার স্বামী শাহরিয়ার আহম্মেদ এবং ননদ মাহিনুর বেগম তাদের বাড়ির বৈঠকখানায় বসে পারিবারিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এ সময় পূর্ব বিরোধের জেরে সোহাগ মৃধাসহ কয়েকজন অভিযুক্ত সংঘবদ্ধভাবে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালান।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, হামলাকারীরা শাহরিয়ার আহম্মেদকে টেনে-হিঁচড়ে উঠানে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে সোহাগ মৃধা হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি সরে যাওয়ায় কোপটি তার বাঁ চোখের ভ্রুর ওপর লাগে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
এ সময় শাহরিয়ার আহম্মেদকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সারমিন সুলতানা ও মাহিনুর বেগমও হামলার শিকার হন। হামলার সময় মাহিনুর বেগমের গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া সে সময় দুই নারীর শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ভুক্তভোগীদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। সে সময় অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ঘটনায় মির্জাগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছেন উপপরিদশর্ক (এসআই) অনুপ দাস।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর সোহাগ মৃধার পিসিপিআর যাচাই করে তার বিরুদ্ধে মারামারি, পর্নোগ্রাফি, নারী ও শিশু নির্যাতন, চাঁদাবাজি, মাদক ও চুরিসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া মির্জাগঞ্জ থানার একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত)-এর বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ রয়েছে।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোহিদুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার সোহাগ মৃধাকে আজ (রবিবার) আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
২০২৫ সালে প্রয়াত সাবেক প্রধান মন্ত্রী খালেদা জিয়াকে কালা মানিক নামের একটি গরু ঈদে উপহার দিয়েছিলেন সোহাগ মৃধা। ট্রাকে করে সাজিয়ে ঢাকা নেওয়ার পর খালেদা জিয়া গরুটি উপহার হিসেবে গ্রহণ করেন। পরে এলাকার নেতাকর্মীদের নিয়ে ঈদ করার জন্য গরুটি সোহাগকে ফেরত দেওয়া হয়। তবে এ বছর পরে কালা মানিক গরুটি ঢাকায় নিয়ে ২১ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন সোহাগ।
৮ দিন আগে
পটুয়াখালীতে আর্জেন্টিনা সমর্থক চিকিৎসকের ব্যতিক্রমী ঘোষণা
ফুটবল বিশ্বকাপের আবহে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন পটুয়াখালীর ব্যথা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মো. হাবিবুর রহমান। আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের দীর্ঘদিনের সমর্থক এই চিকিৎসক ঘোষণা দিয়েছেন, বিশ্বকাপ চলাকালে তার চেম্বারে আর্জেন্টিনার জার্সি পরে চিকিৎসা নিতে এলে রোগীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভিজিট ফি নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, বিশ্বকাপ চলাকালীন আর্জেন্টিনার জার্সি পরে চেম্বারে আসলে ভিজিট ফি হাফ।
ডা. হাবিবুর রহমান জানান, তার চেম্বার পটুয়াখালী শহরের কাজীপাড়ায় অবস্থিত গ্রিনভিউ হাসপাতালে। বর্তমানে তার নিয়মিত ভিজিট ফি ৬০০ টাকা। তবে এই বিশেষ অফারের আওতায় আর্জেন্টিনার জার্সি পরে আসা রোগীদের জন্য ফি হবে ৩০০ টাকা।
ঘোষণাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পরপরই ব্যাপক সাড়া পড়ে। অনেকেই এটিকে বিশ্বকাপ উন্মাদনার আনন্দঘন প্রকাশ হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ চিকিৎসাসেবার সঙ্গে ফুটবলপ্রেমকে যুক্ত করার এই উদ্যোগকে অভিনব ও ব্যতিক্রমী বলেও মন্তব্য করেছেন।
বর্তমানে ডা. হাবিবুর রহমান পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনেস্থেশিয়া বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ব্যথা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন।
এ নিয়ে ডা. হাবিব বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমি আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক। বিশ্বকাপকে ঘিরে মানুষের মধ্যে যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়, সেই আনন্দকে ভিন্নভাবে উদযাপন করার ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ। এটি সম্পূর্ণ খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা ও আনন্দ ভাগাভাগির উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এটি আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য আমার পক্ষ থেকে একটি বিশেষ শুভেচ্ছা। এতে কেউ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না; বরং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আনন্দের একটি উপলক্ষ তৈরি হবে।
চিকিৎসকের এমন ঘোষণায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যেও বেশ উৎসাহ দেখা গেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি শেয়ার করে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
পটুয়াখালী শহরের বাসিন্দা সাকিল ইসলাম বলেন, বিশ্বকাপ উপলক্ষে নানা ধরনের অফার দেখা গেলেও কোনো চিকিৎসকের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগ সত্যিই ব্যতিক্রমী।
আরেক সমর্থক জুবায়ের আহম্মেদ বলেন, আমি নিজেও আর্জেন্টিনার ভক্ত। ডাক্তারের এই ঘোষণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে এবং বিশ্বকাপের আমেজ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বিশ্বকাপেও ডা. হাবিবুর রহমান আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য দুটি খাসি জবাই করে ভোজের আয়োজন করেছিলেন। এবারও তার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
১৫ দিন আগে
মেঘনা নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে শিক্ষার্থী নিখোঁজ, দুই দিনেও মেলেনি সন্ধান
ভোলার মেঘনা নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া মাদরাসা শিক্ষার্থী মো. হাসিবের দুই দিনেও কোনো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সন্ধানে কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি মাছঘাট-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
১১ বছর বয়সী হাসিব ওই এলাকার বাসিন্দা। সে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম মো. হাফিজুল্লাহর একমাত্র ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটিতে গ্রামে আসা আশপাশের ১০-১১ জন শিশুর সঙ্গে মেঘনা নদীতে গোসল করতে যায় হাসিব। এ সময় বন্ধুদের সঙ্গে মেঘনা নদীর মাঝের একটি চরে সাঁতরে যাওয়ার পর তীরে ফেরার পথে তীব্র স্রোতে পড়ে নিখোঁজ হয় হাসিব। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ড।
নিখোঁজ শিশুটির বাবা মো. হাফিজুল্লাহ বলেন, ‘আমার ছেলে অন্য শিশুদের সঙ্গে নদীতে গোসল করতে গিয়েছিল। সবাই তীরে ফিরলেও হাসিব আর ফিরতে পারেনি। খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। একজন বাবা হিসেবে আমি আমার ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছি। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, অন্তত আমার ছেলের মরদেহটি যেন খুঁজে দেয়।’
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধারে তাদের অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হাসিবের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ভোলা সদরের ইলিশা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান জানান, নিখোঁজ শিশুটির সন্ধানে নদীতে যৌথ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় হাসিবের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
১৮ দিন আগে
কুয়াকাটার গভীর সমুদ্রে ভেসে এল বিশালাকৃতির বেলিন তিমির মরদেহ
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে বিশাল আকৃতির একটি মৃত তিমি ভেসে এসেছে।
বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খবর পেয়ে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সদস্যরা গভীর সমুদ্রে গিয়ে তিমিটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার গভীর সমুদ্রে তিমিটি ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে বেলিন প্রজাতির তিমি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিমিটির দৈর্ঘ্য আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ ফুট।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু। তিনি বলেন, ‘ওয়াটার বাইক চালকদের মাধ্যমে সংবাদ পাওয়ার পর আমরা স্পিডবোট নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। তিমিটি কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার গভীর সমুদ্রে ভাসছিল। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ ফুট হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি প্রায় ৫ থেকে ৬ দিন আগে মারা গেছে। স্রোতের কারণে তীরে পৌঁছাতে আরও সময় লাগতে পারে।’
এ বিষয়ে মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বন বিভাগের বিট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে হচ্ছে তিমিটি প্রায় ৫ থেকে ৬ দিন আগে মারা গেছে। তবে কেবল বাহ্যিক অবস্থা দেখে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাহাজের ধাক্কা, মাছ ধরার জালে আটকে যাওয়া, রোগের সংক্রমণ, সামুদ্রিক দূষণ, খাদ্য সংকট, বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা কিংবা অন্যান্য প্রাকৃতিক কারণেও তিমিটির মৃত্যু হতে পারে। প্রকৃত কারণ জানতে নেক্রোপসি (ময়নাতদন্ত) এবং বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।’
এদিকে, স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা মৃত তিমিটি সংরক্ষণ এবং এর মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে বৈজ্ঞানিক গবেষণার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য ও সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
১৯ দিন আগে
বরিশালে লঞ্চ থেকে পড়ে কিশোর নিখোঁজ
বরিশাল, ২ জুন (ইউএনবি)— বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় কালাবদর নদীতে লঞ্চ থেকে পড়ে মো. রানা (১৭) নামে এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে সোয়া ৭টার দিকে উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চরপশ্চিম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ রানা বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠি গ্রামের বাবুল হাওলাদারের ছেলে। বাবা-মায়ের সঙ্গে জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নে আত্মীয়ের বিয়ের দাওয়াতে গিয়েছিল ছেলেটি। সেখান থেকে ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, দুই দিন আগে রানার পরিবার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের কামরুল মোল্লার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। অনুষ্ঠান শেষে আজ (মঙ্গলবার) সকালে তারা লঞ্চে করে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেন। লঞ্চে ওঠার কিছুক্ষণ পর অসাবধানতাবশত রানা পা পিছলে নদীতে পড়ে যান। সাঁতার না জানায় মুহূর্তেই তিনি স্রোতের টানে তলিয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাসেল বলেন, ঘটনার পরপরই আমরা জাল ও নৌকা নিয়ে তাকে খোঁজার চেষ্টা করি। কিন্তু দ্রুত স্রোতের কারণে তাকে আর পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনার পর নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে কালীগঞ্জ নৌ পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
কালীগঞ্জ নৌ পুলিশের পরিদর্শক মো. এনামুল বলেন, ‘নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং স্থানীয় জেলেরা যৌথভাবে নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’
এ ঘটনায় লঞ্চটির চলাচলের সময়সূচি স্থগিত করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ। নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সলেমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি মেসার্স মোল্লা ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির মালিক আব্দুস সালাম মোল্লার কাছে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মেসার্স মোল্লা ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির এমএল লিমা এক্সপ্রেস ৪ লঞ্চটি মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লেঙ্গুটিয়া থেকে বরিশালের উদ্দেশে যাওয়ার সময় ভোলাইবাড়ির সামনে লঞ্চের ছাদে অবস্থানরত এক যাত্রী নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়। লঞ্চের ছাদে যাত্রী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সেখানে যাত্রী বহন করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
২০ দিন আগে
পটুয়াখালীতে বিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কিশোরকে হত্যা, আটক ৩
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তাজুল ইসলাম (১৬) নামের এক কিশোরকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে দুর্বত্তরা। এ ঘটনায় তিন যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩০ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তাজুল ওই গ্রামের ফারুক হাওলাদারের ছেলে ছিল। আটকরা হলেন— ওই গ্রামের রিয়াদ (১৭), সজীব খান (১৭) ও হৃদয় মোল্লা (১৮)
স্থানীয়দের বরাত পুলিশ জানায়, রাতে ওই এলাকার কামাল মৃধার বাড়িতে তার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। ওই অনুষ্ঠান থেকে তাজুলকে বাড়ির পেছনের বিলে ডেকে নিয়ে তলপেটে ছুরিকাঘাত করে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে আমতলী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর পরই স্থানীয়রা সন্দেহভাজন হিসেবে ওই তিন যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ওই তিন যুবককে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত চলছে।
২২ দিন আগে
পটুয়াখালীতে মোটরসাইকেল-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ২
পটুয়াখালীতে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) গলাচিপার গ্রামীণ ব্যাংকের সামনে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
গলাচিপা পুলিশ জানায়, উপজেলার কালিকাপুর থেকে গলাচিপার উদ্দেশে বেপরোয়া গতিতে চলা মোটরসাইকেলটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশাটির সংঘর্ষ হয়। মোটরসাইকেলে গতি অতিরিক্ত থাকার কারণে চালক তামিম নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ফলে অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষের পর পাশে থাকা একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে পুনরায় সজোরে ধাক্কা লাগে সাইকেলটির।
এতে মোটরসাইকেলচালক তামিম হাওলাদার ঘটনাস্থলেই এবং আরোহী মন্নান হাওলাদার (২৫) গুরুতর আহত হয়ে বরিশাল মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে বলে জানায় পুলিশ।
২৫ দিন আগে
মুসলমানদের বিরুদ্ধে আর্ন্তজাতিক ষড়যন্ত্র চলছে: স্পিকার
দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বলেছেন, মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহ পরাশক্তির নির্যাতনের কারণে পিষ্ট। মুসলমানদের বিরুদ্ধে আর্ন্তজাতিক ষড়যন্ত্র চলছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে ভোলার লালমোহন ঈদগাহে ঈদুল আযহার নামাজ আদায় শেষে গণমাধ্যমে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, এই মহান ঈদুল আজহা আমাদের জন্য ত্যাগের বাণী নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। অনেক ত্যাগ-তীতিক্ষার পর আজকে গণতান্ত্রিক অবস্থা ফিরে পেয়েছি। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী দিনগুলোতে অর্থনৈতিক মুক্তি আমাদের কাছাকাছি আসবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার এদেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করবে এটাই কামনা করি।
বিগত দিনের কথা উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘ দিনের দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়েছে ছাত্র-জনতা, রাজনৈতিক কর্মীরা। যার ফলে দেশে ভয়ের আবহ কেটে গেছে। একটি গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হবে।
তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্র সমূহ পরাশক্তির নির্যাতনের কারণে পিষ্ট। মুসলমানদের বিরুদ্ধে আর্ন্তজাতিক ষড়যন্ত্র চলছে।
ঈদের নামাজ শেষে স্পিকার তার নির্বাচনি এলাকার রাজনৈতিক দলের নেতারা, সাধারণ জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এ সময় লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবাল সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুলসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
২৫ দিন আগে