এশিয়া
চীনে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় ১২ জন নিহত
চীনে চলতি সপ্তাহে প্রবল বৃষ্টি ও বন্যায় বিভিন্ন অংশে আঘাত হেনেছে। এ ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি বুধবার (২০ মে) জানিয়েছে, মধ্য চীনের হুনান প্রদেশের শিমেন কাউন্টিতে প্রবল বৃষ্টির পর ৫ জন নিহত এবং ১১ জন নিখোঁজ হয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চলছে।
এদিকে, চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে ১৯ হাজারেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সিনহুয়া আরও জানায়, সোমবার (১৮ মে) সকাল ৭টায় শেষ হওয়া ২৪ ঘণ্টায় কাউন্টিটিতে মোট ৩৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল একটি শহরেই মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে যা ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
পার্শ্ববর্তী হুবেই প্রদেশে কিছু রাস্তা নদীতে পরিণত হয়েছে এবং উদ্ধারকারীদের আটকে পড়া বাসিন্দাদের সাহায্য করতে ফোলানো নৌকা ব্যবহার করতে হয়েছে। সিনহুয়া জানিয়েছে, কিছু বাড়ি পানিতে ডুবে গেছে বা ধসে পড়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার) সকাল পর্যন্ত তিনজন নিহত এবং আরও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
সিসিটিভি মঙ্গলবার আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের গুইঝোউ প্রদেশে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় ৪ জন নিহত এবং আরও ৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন। কিছু এলাকায় বাড়িঘর প্লাবিত, রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
সংস্থাটি আরও বলে, একটি এলাকায় ৩ হাজার ৭০০-এরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
চীনে বন্যাজনিত হতাহতের ঘটনা নিয়মিত ঘটে থাকে। গত জুলাইয়ে বৃষ্টি ও বন্যায় বেইজিংয়ে শ’খানেক মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
২৩ ঘণ্টা আগে
চীনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ২ জন নিহত, ৭ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে
চীনে ৫.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন। এ দুর্যোগে একাধিক ভবন ধসে পড়েছে এবং লিউঝো শহর থেকে ৭ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ মে) ভোরে দক্ষিণ চীনের গুয়াংশি অঞ্চলে এ ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
নিখোঁজ কয়েকজন বাসিন্দার অনুসন্ধান কাজ আজ (সোমবার) দুপুরের দিকে শেষ হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সর্বশেষ আটকে পড়া ৯১ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধ জীবিত এবং সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারক সিসিটিভি প্রচারিত ছবিতে দেখা গেছে, এক্সকেভেটর দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানো হচ্ছে। সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৩টি ভবন ধসে পড়েছে এবং ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট ভূমিধস এলাকার রাস্তাগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। লিউঝো এলাকায় ট্রেন চলাচলও বাতিল বা বিলম্বিত করা হয়েছে।
দক্ষিণ চীনে মাঝে মাঝে ভূমিকম্প হয়ে থাকে, তবে তীব্র ভূমিকম্প সাধারণত পশ্চিমের পার্বত্য অঞ্চলে অথবা তাইওয়ানের দিকে পূর্বাঞ্চলে বেশি দেখা যায়।
সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বিধ্বংসী ভূমিকম্পটি ছিল ২০০৮ সালে দক্ষিণ-পশ্চিমের সিচুয়ান প্রদেশে, যেখানে ৭.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ৮৭ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং নিখোঁজ হয়েছিলেন।
২ দিন আগে
অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে ‘যৌন নিপীড়ন’, ইন্দোনেশিয়ায় বন্ধ হলো মেয়েদের আবাসিক স্কুল
ইন্দোনেশিয়ার মধ্য জাভার এনধোলো কুসুমো নামে মেয়েদের একটি ইসলামিক আবাসিক স্কুলে শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগ উঠেছে স্কুলটির তত্ত্বাবধায়ক কিয়াই আশারির (৫৮) বিরুদ্ধে। এরপর স্কুলটি বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, নিপীড়নের অভিযোগ প্রকাশ হওয়ার পর গত ২ মে বিক্ষুদ্ধ জনতা ওই আবাসিক স্কুলটি ঘেরাও করেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ব্যানার হাতে বিক্ষোভ করেন।
তত্ত্বাবধায়ক আশারির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি কয়েক বছর ধরে স্কুলটির বহু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন করে আসছেন। এসব শিক্ষার্থীর বেশিরভাগই ছিল দরিদ্র পরিবারের সন্তান ও এতিম।
এই ঘটনাটি দেশটির ইসলামিক আবাসিক স্কুলগুলোতে যৌন নির্যাতনের দীর্ঘদিনের সমস্যাকে সামনে এনেছে।
এর আগে, আশারির বিরুদ্ধে মুখ খোলা একাধিক সাক্ষী নিজেদের বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। তবে, একজন ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়ায় অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী তার যৌন লালসার শিকার হয়েছেন।
ভুক্তভোগীর আইনজীবী আলি ইউসরন বিবিসিকে বলেছেন, ‘যৌন সহিংসতার শিকার ভুক্তভোগীদের মধ্যে ৩০ থেকে ৫০ জন শিশু রয়েছে। আমি একজন ভুক্তভোগীর হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করছি, কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ায় আরও অনেক ভুক্তভোগীর তথ্য উঠে এসেছে। আমার মক্কেলই কিয়াই আশারির সব গোপন কর্মকাণ্ড প্রকাশ করে দিয়েছেন।’
গত ৪ মে ইন্দোনেশিয়া পুলিশ জানিয়েছিল, ২৮ এপ্রিল কিয়াই আশারিকে সন্দেহভাজন ‘যৌন নিপীড়ক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে তখনও তাকে আটক করা হয়নি, কারণ পুলিশ মনে করেছিল যে তিনি পালাবেন না। কিন্তু পরে পুলিশের ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়। ওই দিনই আশারি পাতি এলাকা ছেড়ে পর্যায়ক্রমে বোগর, জাকার্তা ও সলো শহরে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ৬ মে রাতে মধ্য জাভার ওনোগিরির একটি মসজিদ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এরপর ৭ মে পাতি পুলিশের প্রধান জাকা ওয়াহিউদি জানান, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে অন্তত ১০ বার অভিযোগকারী ওই ভুক্তভোগীকে নির্যাতন করেছেন আশারি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, আশারি শরীরে ম্যাসাজ চাওয়ার অজুহাতে ভুক্তভোগীর কক্ষে প্রবেশ করতেন। এরপর তিনি তাকে পোশাক খুলতে বাধ্য করতেন। তার শরীরে স্পর্শ ও চুম্বনের মতো অশালীন কাজ করেছেন আশারি।
প্রায় দশবার তার সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা ঘটার পর ভুক্তভোগী বিষয়টি তার বাবাকে জানান। এরপর তার পরিবার থানায় অভিযোগ করে।
আগেও ছিল অভিযোগ
এবারই প্রথম নয়, এর আগেও আশারির বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল।
এনধোলো কুসুমো স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আশারি। ২০২২ সাল থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এসছে। এ ব্যাপারে আইনজীবী আলি ইউসরন বলেন, ভুক্তভোগীরা সকলেই নারী শিক্ষার্থী।
২০২৪ সালে কিয়াই আশারির বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের অভিযোগ পায় পাতি পুলিশের নারী ও শিশু সেবা ইউনিট। তবে পরে অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে পাতি পুলিশের প্রধান জাকা বিবিসিকে বলেন, ২০২৪ সালে আশারির বিরুদ্ধে করা মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছিল। সে সময় তার ব্যাপারে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদও হয়েছিল। কিন্তু তদন্তে নানা বাধা আসে।
তিনি জানান, পরে চারজন অভিযোগকারী তাদের বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেন। ভুক্তভোগীদের পরিবার বিষয়টি আপসের মাধ্যমে মীমাংসা করতে চেয়েছিল। তাদের সন্তানদের ভবিষ্যতে সম্মানহানি হবে, এমন উদ্বেগ থেকে কয়েকজন সাক্ষী পরে সাক্ষ্য দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
এর প্রায় দুই বছর পর গত মাসে আবারও কিয়াই আশারির বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন এক ভুক্তভোগী। এ মামলার পর পুলিশ আশারিকে ‘সন্দেহভাজন নিপীড়ক’ ঘোষণা করে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত সমস্যা
পুলিশপ্রধান জাকা আরও বলেন, পুলিশ এখনও আশারির যৌন সহিংসতার শিকার মোট ভুক্তভোগীর সংখ্যার বিষয়ে তদন্ত করছে। তা বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি নারী শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্তিকর মতবাদ শেখাতেন। তিনি নিজেকে অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন বলে দাবি করতেন। নিজেকে নবীর বংশধর বলেও পরিচয় দিতেন তিনি।
পেনগুরুস বেসার নাহদলাতুল উলামার (পিবিএনইউ) যৌন সহিংসতা প্রতিরোধ ইউনিটের সদস্য এবং জাতীয় নারী নির্যাতন কমিশনের সাবেক কমিশনার ইমাম নাহেই বলেন, ইসলামিক আবাসিক স্কুলগুলোতে যৌন সহিংসতার ঘটনাগুলো প্রায় একই ধরনের। এসব প্রতিষ্ঠানের যৌন নিপীড়করা প্রায়ই এমন ভুল মতবাদ শেখান যার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
তিনি বলেন, ‘তারা কেউ কেউ নিজেদের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক দাবি করেন। শিক্ষার্থীদের তারা এমনভাবে প্রলুদ্ধ করেন যেন তাদের কথা না মানলে জাহান্নামে যেতে হবে।’
ইমাম নাহেই জানান, অনেক আবাসিক স্কুলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যৌন আচরণকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখা হয়। তার মতে, আবাসিক স্কুলগুলোর এই চুপ থাকার সংস্কৃতি যৌন সহিংসতাকে স্বাভাবিক করে তোলে।
তিনি দেশটির সুমেনেপের একটি স্কুলের উদাহরণ দিয়ে বলেন, স্কুলটিতে ২০১৭ সাল থেকে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চলে আসছিল, কিন্তু সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। এর মানে হলো, এতদিন ভুক্তভোগী ও আশপাশের মানুষেরা চুপ ছিলেন।
ইমাম নাহেই নিজেও একটি বড় ইসলামিক আবাসিক স্কুলে শিক্ষকতা করেন। তিনি জানান, তিনি সহকর্মীদের জিজ্ঞাসা করে দেখেছেন, তারা যৌন নিপীড়ন কী, সেটাই বোঝেন না। তারা মনে করেন, যৌন নিপীড়ন মানেই কেবল ধর্ষণ বা শারীরিক মিলন। মৌখিক যৌন নিপীড়নকে তারা শুধু ‘পাপ’ মনে করেন। এক্ষেত্রে সরকারি নজরদারির ঘাটতিকে আরও বড় সমস্যা বলে মনে করেন তিনি।
ইন্দোনেশিয়ার ধর্ম মন্ত্রণালয় ২০২২ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন সহিংসতা মোকাবেলায় আইন জারি করেছে। তবে ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক আবাসিক স্কুলগুলো এই আইনের বাইরে থেকে গিয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে যৌন নির্যাতন হলে অভিযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, ইসলামিক আবাসিক স্কুলে স্পষ্ট নীতিমালা ও টাস্কফোর্স গঠনে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে আরও জোরালো ভূমিকা নিতে হবে। নতুন করে গড়ে ওঠা ইসলামিক আবাসিক স্কুলগুলোর ওপর মন্ত্রণালয় ও সমাজের তদারকি আরও কঠোর হওয়া জরুরি।
এনধোলো কুসুমো স্কুল বন্ধ ঘোষণা
এনধোলো কুসুমো আবাসিক স্কুলটি ২০২১ সাল থেকে অনুমোদন পেয়েছিল। স্কুলটিতে অন্তত ২৫২ জন শিক্ষার্থী ছিল। সাম্প্রতিক যৌন সহিংসতার এ অভিযোগের পর স্কুলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দেশটির ধর্ম মন্ত্রণালয় স্কুলটির লাইসেন্স বাতিল করেছে।
অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে অনলাইন ক্লাস বা অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের ইসলামিক আবাসিক স্কুল বিভাগের পরিচালক বাসনাং সাঈদ জানান, তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে করতে এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই স্কুলটি বন্ধ করা হয়েছে। এই সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত স্কুলটিতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ থাকবে। একইসঙ্গে, স্কুলটিতে শিশু সুরক্ষা, তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মানদণ্ড পূরণ হচ্ছিল কি না, সেটিও যাচাই করা হবে। যদি স্কুলটি এসব মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় আরও সুপারিশ করেছে, যেসব শিক্ষক বা তত্তাবধায়কের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠবে, তাদের অবিলম্বে বরখাস্ত ও আবাসিক ক্যাম্পাস থেকে বহিষ্কার করা হবে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইন্দোনেশিয়ার সব ইসলামিক আবাসিক স্কুলকে নতুন শিক্ষক নিয়োগের আহ্বানও জানিয়েছে সরকার। এসব শিক্ষককে দক্ষ ও নৈতিকভাবে সৎ হতে হবে বলে শর্ত দেওয়া হয়েছে।
৬ দিন আগে
ভারতের উত্তরপ্রদেশে ধূলিঝড় ও বজ্রপাতে ৯৬ জন নিহত
ভারতের উত্তরপ্রদেশে ধূলিঝড়, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতে কমপক্ষে ৯৬ জন নিহত হয়েছেন। প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে আরও অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হওয়াসহ ঘরবাড়ি এবং অন্যান্য স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তরপ্রদেশের বেশ কয়েকটি জেলায় আঘাত হানে বলে আজ বৃহস্পতিবার দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, গাছ উপড়ে পড়া, ঝড়ে মৃত্যুসহ বজ্রপাত ও স্থাপনা ধসে পড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও দুর্যোগ মোকাবেলা দল বেশ কয়েকটি জেলায় সড়ক ও রেলপথ থেকে উপড়ে পড়া গাছ সরাতে চেইন স এবং ক্রেন ব্যবহার করেছে।
প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মে উত্তর ভারতে ঝড়-বজ্রপাত একটি নিয়মিত ঘটনা।
স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা নরেন্দ্র এন শ্রীবাস্তব জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি পরিষেবা দল মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঝড়ে বিশেষত গ্রাম এলাকার ঘরবাড়ি, ফসল ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তীব্র বাতাসে আতঙ্কের বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রয়াগরাজ জেলায় বাসিন্দা রাম কিশোর বলেন, ‘হঠাৎ করে ঝড় উঠে কয়েক মিনিটের মধ্যে আকাশ সম্পূর্ণ অন্ধকার হয়ে যায়। ঝড়ে তোড়ে বাড়িঘরের টিন উড়ে যাচ্ছিল। সজোরে গাছ পড়ার শব্দও শুনতে পাচ্ছিলাম। আতঙ্কে সবাই দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছিল।’
পার্শ্ববর্তী ভদোহি জেলার সাবিত্রী দেবী জানান, ঝড়ের তীব্রতায় তাদের মাটির ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনোমতে তার পরিবার রক্ষা পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তীব্র বাতাসের কারণে ঘরের দেওয়াল কাঁপতে শুরু করলে আমরা ছুটে বাইরে বের হয়ে যাই। কিছুক্ষণ পরেই আমাদের ছাদটা ধসে পড়ে। রাতটা কোনোমতে আমরা এক আত্মীয়ের বাড়িতে কাটিয়েছি।’
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ত্রাণ কার্যক্রম সম্পন্ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ ও জরুরি সহায়তা প্রদানের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
৬ দিন আগে
পাকিস্তানের বাজারে বোমা বিস্ফোরণে ৯ জন নিহত, আহত অর্ধশতাধিক
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি বাজারে রিকশায় বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক মানুষ। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার সর্বশেষ নিদর্শন এটি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১২ মে) এ হামলা ঘটে বলে জানায় দেশটির কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় পুলিশ প্রধান আজমত উল্লাহ জানান, হামলাটি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের লাক্কি মারওয়াত জেলায় সংঘটিত হয়েছে। তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে দুইজন ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন নারী রয়েছেন।
তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না জানালেও বলেন, ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তারা আপাতদৃষ্টিতে এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। বিস্ফোরণে আশপাশের দোকানপাটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহত ও আহতদের অধিকাংশই পথচারী ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত কেউ এ বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি।
এ ধরনের হামলায় সাধারণত পাকিস্তানি তালেবান, ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)’ নামে যারা পরিচিত, তাদের দিকে সন্দেহের আঙুল ওঠে। সংগঠনটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের অভিযান জোরদার করেছে। গোষ্ঠীটি আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের থেকে আলাদা হলেও তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখে।
তবে টিটিপি মঙ্গলবারের এই হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, বিস্ফোরণের বিষয়টি তারা শুনেছে, কিন্তু এই হামলার পেছনে তাদের কোনো হাত নেই।
সর্বশেষ এই হামলার কয়েকদিন আগে পার্শ্ববর্তী বান্নু জেলায় একটি নিরাপত্তা চৌকিতে আত্মঘাতী বোমা হামলা ও সশস্ত্র আক্রমণে ১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। এ ঘটনার পর আফগান কূটনীতিককে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায় ইসলামাবাদ। পাকিস্তান সোমবার (১১ মে) বান্নু জেলার ওই হামলার জন্য আফগানিস্তানভিত্তিক টিটিপিকেই দায়ী করেছে।
অবশ্য, গতকাল (মঙ্গলবার) আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে এক পোস্টে বান্নু জেলার সাম্প্রতিক হামলায় আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আনা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানের ইসলামিক আমিরাত বিশ্বাস করে যে অভিযোগ, হুমকি ও আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্মান ও প্রকৃত সহযোগিতার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।’
মুজাহিদ পুনরায় কাবুলের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, আফগান ভূখণ্ডকে কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী কোনো কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।
পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ মঙ্গলবারে খাইবার পাখতুনখোয়ার হামলাটির নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং জঙ্গিদের দেশের শান্তি ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে দেওয়া হবে না। তিনি কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ দেন।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে। কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, অন্য দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে আফগান মাটি ব্যবহারের সুযোগ কাউকে দেওয়া হয় না।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে জঙ্গি সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আফগানিস্তানের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
২০২১ সালে তালেবান কাবুলের ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে টিটিপি ও অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠী আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে সংঘর্ষে কয়েকশ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এপ্রিলের শুরুতে চীনের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা হয়। তবে বিক্ষিপ্তভাবে সীমান্ত সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে, যদিও আগের তুলনায় তার তীব্রতা কমেছে।
৭ দিন আগে
পাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪
উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানি তালেবানের (টিটিপি) একটি স্বঘোষিত বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১০ মে) সকালে কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানান।
জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদ খান জানান, শনিবার (৯ মে) গভীর রাতে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু জেলায় অবস্থিত একটি চৌকির কাছে একজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী এবং কয়েকজন বন্দুকধারী বিস্ফোরক বোঝাই একটি যানবাহনে বিস্ফোরণ ঘটায়। এই হামলার ফলে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। এতে ঘটনাস্থলেই কিছু কর্মকর্তা নিহত হন এবং বাকিরা ভবন ধসে পড়ার পর প্রাণ হারান।
তিনি আরও জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধারে উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কয়েক ঘণ্টা ধরে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেন। এই হামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে নিরাপত্তা বাহিনীও একটি অভিযান শুরু করেছে।
এদিকে, সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে ‘ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান’ নামক একটি নবগঠিত জঙ্গি গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নামে পরিচিত পাকিস্তানি তালেবানের বিচ্ছিন্ন উপদলগুলো মিলে এটি গঠিত হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ এটিকে টিটিপির একটি ছায়া সংগঠন হিসেবে অভিযুক্ত করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে জঙ্গি সহিংসতার ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে, যার বেশিরভাগেরই দায় টিটিপির ওপর চাপানো হয়। এই গোষ্ঠীটি আফগান তালেবানের একটি মিত্র এবং পৃথক সংগঠন বলে পরিচিত।
ইসলামাবাদ প্রায়ই আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে টিটিপিকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তোলে, তবে কাবুল এই দাবি অস্বীকার করে আসছে।
এটির মতো আরও কিছু বিষয় নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হওয়া লড়াইয়ে উভয় পক্ষের শত শত মানুষ নিহত হয়েছে।
এপ্রিলের শুরুতে চীন মধ্যস্থতা করার পর আফগান ও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা শান্তি আলোচনায় বসেন। তবে আলোচনা সত্ত্বেও বিক্ষিপ্তভাবে আন্তঃসীমান্ত সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে, যদিও এর তীব্রতা আগের তুলনায় কিছুটা কম।
১০ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় অনলাইন জুয়ায় জড়িত ৩২১ বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় একটি অনলাইন জুয়া পরিচালনা কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে ৩ শতাধিক বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।
স্থানীয় সময় শনিবার (৯ মে) পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি দেশটির অবৈধ ডিজিটাল জুয়া নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে পরিচালিত অন্যতম বৃহত্তম অভিযান। গ্রেপ্তারকৃত ৩২১ জন বিদেশি নাগরিকের মধ্যে অধিকাংশই ভিয়েতনামের। জাকার্তার ‘চায়নাটাউন’এলাকার নিকটবর্তী একটি বাণিজ্যিক ভবন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তকারীরা এই ভবনটিকে ৭০টিরও বেশি অনলাইন জুয়া ওয়েবসাইটের কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অভিযানে সংগৃহীত বিপণন রেকর্ড এবং ডিজিটাল প্রমাণ অনুযায়ী, এই চক্রটি মূলত ইন্দোনেশিয়ার বাইরের খেলোয়াড়দের টার্গেট করত।
ইন্দোনেশীয়া পুলিশের জেনারেল ক্রাইম ডিরেক্টর উইরা সত্য ত্রিপুত্র জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে ২২৮ জন ভিয়েতনামি, ৫৭ জন চীনা এবং বাকিরা লাওস, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও কম্বোডিয়ার নাগরিক। তিনি বলেন, এই নেটওয়ার্কের পেছনের মূল পরিকল্পনাকারী এবং অর্থদাতাদের খুঁজে বের করতে তদন্তকারীরা কাজ করছেন।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ত্রিপুত্র বলেন, ‘অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকা অবস্থায় আমরা আসামিদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছি।’
তিনি জানান, এই কার্যক্রম অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে পরিচালিত হতো, যেখানে কর্মীদের কাস্টমার সার্ভিস, টেলি-মার্কেটিং এবং আর্থিক প্রশাসনের মতো বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের ধারণা, এই কেন্দ্রটি প্রায় দুই মাস ধরে চালু ছিল।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে অনেক জুয়া সিন্ডিকেট ঘনঘন তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে এবং ওয়েবসাইট ও কাস্টমার সার্ভিস পরিচালনার জন্য প্রায়ই বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ করে থাকে।
ত্রিপুত্র জানান, সন্দেহভাজনদের অনেকেই স্বল্পমেয়াদি ভিজিটর ভিসা নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন এবং অনুমতিপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সেখানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি আরও যোগ করেন, ‘জুয়া এবং অর্থ পাচারের মতো অপরাধের পাশাপাশি এখানে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বিষয়টিও উন্মোচিত হয়েছে।’
পুলিশ বিভিন্ন দেশের নগদ অর্থ, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, পাসপোর্ট এবং জুয়ার সাইট পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করেছে। কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, এই গোষ্ঠীটি অন্তত ৭৫টি বেটিং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করত।
ত্রিপুত্র জানান, শনিবার পর্যন্ত আটককৃতদের মধ্যে ২৭৫ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং বাকিরা জিজ্ঞাসাবাদের অধীনে রয়েছেন। দোষী সাব্যস্ত হলে ইন্দোনেশিয়ার ফৌজদারি ও অভিবাসন আইনের অধীনে তাদের সর্বোচ্চ ৯ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ বিলিয়ন রুপিয়াহ (১ লাখ ১৬ হাজার ০০০ ডলার) জরিমানা হতে পারে।
ইন্দোনেশিয়ার ইন্টারপোল ব্যুরোর সচিব উনতুং উইদিয়াতমোকো বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সুরাবায়া, বালি এবং বাতামে একই ধরনের আন্তঃদেশীয় অপরাধের ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। এটি অনলাইন জুয়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রতারণা মোকাবিলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও কঠোর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরেছে।
তিনি আরও জানান, কর্তৃপক্ষ এমন কিছু লক্ষণ শনাক্ত করেছে যা থেকে বোঝা যায় যে, মিয়ানমার এবং কম্বোডিয়ায় কড়াকড়ি শুরু হওয়ার পর সেখানে থাকা অনলাইন জুয়া অপারেটররা ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য দেশে তাদের কার্যক্রম সরিয়ে নিচ্ছে।
উইদিয়াতমোকো বলেন, ‘কম্বোডিয়ায় আইন প্রয়োগের পর আমরা ইন্দোনেশিয়ার দিকে এই পরিবর্তন লক্ষ্য করতে শুরু করি এবং এটি এমন একটি বিষয় যা আমরা আগেই অনুমান করেছিলাম।’
গত বুধবার সিঙ্গাপুরের পাশের ইন্দোনেশীয় দ্বীপ বাতামের একটি অ্যাপার্টমেন্টে অভিবাসন নজরদারি অভিযানে ভিয়েতনাম, চীন ও মিয়ানমারের ৪৭ জন নারীসহ ২১০ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা অনলাইন বিনিয়োগ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে ধারণার কথা জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সুরাবায়ার কর্তৃপক্ষ শুক্রবার ঘোষণা করেছে যে, তারা একটি আন্তঃসীমান্ত টেলিফোন এবং অনলাইন প্রতারণা চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে জাপান ও চীনের ৪৪ জন নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। এরা নিজেদের পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিত।
এর আগে গত মার্চ মাসে পশ্চিম জাভার বোগোর শহর থেকে একই মামলায় ১৩ জন জাপানি পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
গত মাসে পশ্চিম জাভার সুকাবুমী রিজেন্সি থেকে চীন, মালয়েশিয়া এবং তাইওয়ানের ১৬ জন সন্দেহভাজন আন্তর্জাতিক প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ফিলিপাইন ও কেনিয়াসহ ২৬ জন কথিত অনলাইন প্রতারককে বালি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল মুসলিমপ্রধান দেশ ইন্দোনেশিয়ায় অনলাইন জুয়া অবৈধ। সংগঠিত অপরাধ এবং আন্তঃদেশীয় সাইবার কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগের কারণে দেশটি বর্তমানে আইন প্রয়োগে আরও কঠোর হয়েছে।
দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত আরও অনেককে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
১১ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় বাস-তেলবাহী ট্যাঙ্কার সংঘর্ষে নিহত অন্তত ১৬
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে তেলবাহী ট্যাঙ্কার ট্রাকের সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (৬ মে) দুপুরে দক্ষিণ সুমাত্রা প্রদেশের নর্থ মুসি রাওয়াস জেলার ট্রান্স-সুমাত্রা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে মুগোনো নামে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, অন্তত ২০ আরোহী নিয়ে চলা আন্তঃনগর বাসটি দক্ষিণ সুমাত্রার লুবুকলিংগাউ শহর থেকে জাম্বি শহরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, সংঘর্ষের আগে বাসটি থেকে আগুনের স্ফুলিঙ্গ বের হচ্ছিল। এতে চালক বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বাসটিকে সড়কের ডান পাশে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা ট্যাঙ্কারটির সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ এড়ানোর সময় পাননি তিনি।
মুগোনো বলেন, ‘সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটিতে আগুন ধরে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা গোটা বাসে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে দুটি যানবাহনই আগুনে পুড়ে গেছে। এ সময় অনেক যাত্রী ভেতরে আটকা পড়েন।’
নিহতদের মধ্যে বাসচালক, ১৩ জন যাত্রী এবং ট্যাঙ্কারের চালক ও তার সহকারী রয়েছেন। তারা সবাই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন।
দুর্ঘটনার পর বাসের চার যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন এবং একজন সামান্য আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের তালিকা এখনও যাচাই করা হচ্ছে। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করতে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।
দেশটির জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থার প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ঘন কালো ধোঁয়া ও আগুনের শিখা উঠছে। সড়কে বাস ও ট্যাঙ্কারের পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে। আর দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।
উদ্ধারকর্মী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার এবং ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চালান। কয়েকজন যাত্রী যানবাহনের ভেতরে আটকা পড়ে থাকায় উদ্ধারকাজ জটিল হয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কিছুক্ষণ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
আজ (বৃহস্পতিবার) নর্থ মুসি রাওয়াস ট্রাফিক পুলিশের প্রধান মুহাম্মদ করিম জানান, লুবুকলিংগাউয়ের সিতি আইশাহ হাসপাতালে ১৬টি মরদেহ শনাক্তের জন্য রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, দক্ষিণ সুমাত্রা পুলিশের ডিজাস্টার ভিকটিম আইডেন্টিফিকেশন (ডিভিআই) দল এখন পর্যন্ত পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তাদের মধ্যে বাসচালক, বাসের দুই কর্মী, ট্যাঙ্কারচালক এবং একজন যাত্রী রয়েছেন। বাকি ১১ জনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
সব মরদেহই মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে, ফলে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য প্রাদেশিক রাজধানী পালেমবাংয়ের ভায়ানগকারা পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, পুলিশ আগের প্রাথমিক তথ্য থেকে সরে এসে বলেছে, বাসটি সড়কের একটি গর্ত এড়াতে গিয়ে বিপরীত লেনে চলে গিয়েছিল। এতে সংঘর্ষ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিম্নমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
গত সপ্তাহেও রাজধানী জাকার্তার বাইরে একটি স্টেশনের কাছে বিকল হয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্যাক্সিকে ধাক্কা দেওয়ার পর দূরপাল্লার একটি ট্রেনের সঙ্গে একটি কমিউটার ট্রেনের সংঘর্ষে হয়। ওই ঘটনায় নারী যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত বগিতে থাকা অন্তত ১৫ নারী যাত্রী নিহত হন।
১৪ দিন আগে
চীনে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ২৬
চীনের একটি মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশে অবস্থিত আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৬১ জন।
চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ মে) জানায়, গতকাল (সোমবার) বিকেলে দেশটির হুনান প্রদেশের চাংশা শহরের একটি আতশবাজি কারখানায় এ বিস্ফোরণ ঘটেছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম চায়না ডেইলি জানিয়েছে, কারখানাটি হুয়াশেং ফায়ারওয়ার্কস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড ডিসপ্লে কোম্পানি পরিচালনা করত। এটি মূলত চাংশা অধ্যুষিত কাউন্টি-স্তরের শহর লিউইয়াংয়ে অবস্থিত। কারখানাটি আতশবাজি উৎপাদনের জন্য সুপরিচিত।
চাংশার মেয়র চেন বোঝাং জানান, ঘটনাস্থলে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে, তবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ এখনও চলমান।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশনে (সিসিটিভি) আজ (মঙ্গলবার) প্রকাশিত আকাশচিত্রে দেখা যায়, ঘটনাস্থলের কিছু অংশ থেকে এখনও সাদা ধোঁয়া উঠছে। অনেক স্থাপনা ধসে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সিনহুয়া নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৫০০ জন উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় এবং বিস্ফোরণস্থলের কাছে থাকা দুটি কালো বারুদের গুদাম থেকে উচ্চ ঝুঁকির কারণে আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ এই বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধান করছে এবং পুলিশ ওই কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আটক করেছেন বলে জানিয়েছে সিনহুয়া।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা এবং আহতদের উদ্ধার করতে ‘সর্বাত্মক প্রচেষ্টা’ চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দ্রুত ঘটনার কারণ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতে ঝুঁকি নিরূপণ ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং জননিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার নির্দেশও দেন তিনি।
উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে নতুন দুর্ঘটনা এড়াতে উদ্ধারকর্মীরা পানি ছিটানো ও আর্দ্রতা বৃদ্ধি করার মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানো যায়। অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য তিনটি রোবটও মোতায়েন করেন তারা।
লিউইয়াংয়ের আতশবাজি উৎপাদনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস জানায়, চীনা ফায়ারক্র্যাকার নামে প্রথম নথিভুক্ত আতশবাজি লিউইয়াংয়ের কাছে বসবাসকারী এক সন্ন্যাসী লি তিয়ান তৈরি করেছিলেন। এই সন্ন্যাসী চীনের তাং রাজবংশের (প্রায় ৬১৮ থেকে ৯০৭ খ্রিস্টাব্দ) সময়ে বাস করতেন। তিনি একদিন লক্ষ করেন, ফাঁপা বাঁশের ভেতরে গানপাউডার ভরে দিলে জোরে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর তিনি এগুলো একসঙ্গে বেঁধে ঐতিহ্যবাহী নববর্ষের আতশবাজি তৈরি করেন। এই আতশবাজিগুলো অশুভ আত্মা তাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হতো বলে গিনেস জানায়।
এর আগে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে চন্দ্র নববর্ষ উপলক্ষে চীনে আতশবাজির দোকানে দুটি প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল।
১৬ দিন আগে
ফিলিপাইনে মেয়ন আগ্নেয়গিরিতে লাভা উদগীরণ, ঘরবাড়ি ছেড়েছে ৩ শতাধিক পরিবার
ফিলিপাইনে গত সপ্তাহের শেষে মেয়ন আগ্নেয়গিরিতে ফের লাভা উদগীরণ শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় আশপাশের ৩ শতাধিক পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (৪ মে) আগ্নেয়গিরির ঢালে জমে থাকা লাভার স্তর ধসে পড়ায় বিপুল পরিমাণ ছাই আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
ফিলিপাইন আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্পবিদ্যা প্রতিষ্ঠানের পরিচারক তেরেসিতো বাকোলকল জানান, মেয়ন আগ্নেয়গিরিতে এখন পর্যন্ত কোনো বিস্ফোরণ ঘটেনি। তবে জানুয়ারি থেকে কয়েকবার অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছে। স্থানীয় সময় শনিবার (২ মে) সন্ধ্যার আগে আগ্নেয়গিরির দক্ষিণ-পশ্চিম ঢালে জমে থাকা বিপুল লাভা হঠাৎ ধসে পড়ে। এর ফলে গরম পাথর, ছাই ও গ্যাসের প্রবল ধারা নিচে নামতে থাকে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট ঘন ছাই তিনটি শহরের ৮৭টি গ্রামের ওপর ছড়িয়ে পড়ে। এতে ওইসব এলাকার মানুষেরা হঠাৎ বিপাকে পড়েন। ছাইয়ের কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় সড়কে যান চলাচলও ধীর হয়ে যায়।
মেয়ন আগ্নেয়গিরির পাদদেশের কাছে অবস্থিত কামালিগ শহরের মেয়র ক্যালয় বালদো বলেন, ‘ছাই পড়ার পর পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে মহাসড়কে কোনো কিছু দেখা যাচ্ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় ওইসব এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
ক্যালয় বালদো জানান, ছাই ছড়িয়ে পড়ার কারণে কামালিগ শহরে সবজির খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দম বন্ধ করা গ্যাসে চারটি মহিষ ও একটি গরু মারা গেছে।
কামালিগ শহরটি আলবাই প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ৮ হাজার জনসংখ্যার একটি শহর। ইতোমধ্যে এখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়েছে।
তেরেসিতো বাকোলকল বলেন, ‘এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে। তবে মেয়নে অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে।’
উল্লেখ্য, মেয়ন আগ্নেয়গিরি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ৪৬২ মিটার (৮ হাজার ৭৭ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত। নিখুঁত শঙ্কু আকৃতির হওয়ায় আগ্নেয়গিরিটি ফিলিপাইনের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ। তবে দেশটির ২৪টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির মধ্যে এটি অগ্ন্যুৎপাতে সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। তাই এই আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকিও বেশি।
আগ্নেয়গিরিটি থেকে জানুয়ারিতে ধারাবাহিক অগ্ন্যুৎপাত, বড় আকারের পাথর গড়িয়ে পড়া এবং প্রাণঘাতী পাইরোক্লাস্টিক প্রবাহ দেখা গেছে।
১৬ দিন আগে