বৈদেশিক-সম্পর্ক
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশ-কানাডার উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের আশা
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে দুই দেশ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তারা এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে তৈরি পোশাকের বাইরে হালকা প্রকৌশল ও যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময় নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কানাডায় বসবাসরত এক লাখের বেশি বাংলাদেশি প্রবাসীর অবদানের কথা তুলে ধরেন।
তিনি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় কানাডার অব্যাহত সহায়তার জন্য দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
অন্যদিকে হাইকমিশনার মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনে কানাডার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের সভাপতিত্বের প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জলবায়ু নেতৃত্ব ও জলবায়ু অর্থায়নে কানাডার সহযোগিতা কামনা করেন।
কানাডার হাইকমিশনার দুই দেশের মধ্যে কৃষি খাতে সহযোগিতার একটি কাঠামো প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। এ সময় দুই পক্ষ জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়েও মতবিনিময় করে।
উভয় পক্ষ পুনর্ব্যক্ত করে, বাংলাদেশ-কানাডা সম্পর্ক বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আস্থার ওপর ভিত্তি করে অব্যাহত রয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের সঙ্গে সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী ইতালি
বাংলাদেশ ও ইতালির দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং আগামী দিনে এ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো স্পিকারের কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, ১৯৭২ সালে ইতালি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সূচনা হয়।
তিনি বাংলাদেশি অভিবাসীদের প্রতি ইতালির সহযোগিতার প্রশংসা করে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ইতালি বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের অন্যতম প্রধান গন্তব্য।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে আবারও যাত্রা শুরু করেছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের বিস্তারের ফলে বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিরাপদ ও আইনি অভিবাসন নিশ্চিত করতে ইতালি কাজ করে যাচ্ছে।
রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসনে বাংলাদেশকে ইতালির আর্থিক সহায়তারও প্রশংসা করেন স্পিকার।
তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের ক্ষেত্রে ইতালি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। ইতালির বিভিন্ন মেশিনারি ও যন্ত্রপাতি বাংলাদেশের বাজারে ব্যাপকভাবে পাওয়া যায়।
ইতালি ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রচলিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সামনে আরও কৌশলগতভাবে বিস্তার লাভ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন স্পিকার।
অন্যদিকে ইতালির রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ইতালির পুরনো বন্ধু এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ইতালি সরকার সবসময় দৃঢ় সমর্থন দিয়ে আসছে।
বাংলাদেশ-ইতালি সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন এবং সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়ের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতি জোরদারে ইতালির আগ্রহের কথা জানান তিনি।
আলেসান্দ্রো বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও সিরামিকপণ্য ইতালিতে রপ্তানি করে।
বৈঠকে দুই দেশের সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, চলমান রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খননের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাসের মজুত অনুসন্ধান ও উত্তোলনে ইতালির কোম্পানিগুলোকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান স্পিকার।
বৈঠকে ইতালির দূতাবাসের কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৯ ঘণ্টা আগে
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর প্রথমবার ভাষণ ২৪ সেপ্টেম্বর
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বর্তমান সরকারের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
একই অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে জানান তিনি।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
সিয়াম বলেন, অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়ে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তার আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু করবেন। ওই দিন সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য দেওয়া স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেবেন তিনি। এরপর সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে যোগ দেবেন।
সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন। পরে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেন আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ক সভায় বক্তব্য দেবেন।
বিকেলে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন তিনি।
১১ ঘণ্টা আগে
স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করতে নরওয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ
স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে নরওয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে কারিগরি সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত আরাল্ড গুলব্রান্ডসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করা, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা এবং স্থানীয় সরকারে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও কারিগরি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে নরওয়ের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হতে পারে।
স্থানীয় সরকারে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৈঠকে নরওয়ের বাংলাদেশ মিশনের ডেপুটি হেড আলেকজান্ডার ফাল্ক-বিল্ডেন, রাজনৈতিক উপদেষ্টা সারোয়ার জাহান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৩ দিন আগে
রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে পাশে থাকার আশ্বাস ওআইসির
রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) দৃঢ় সমর্থন ও পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন সংস্থাটির নবনির্বাচিত মহাসচিব ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত এম জে এইচ জাভেদ নবনির্বাচিত মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের অভিনন্দনপত্র হস্তান্তর করেন। বৈঠককালে ওআইসি মহাসচিব এ আশ্বাস প্রদান করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং নতুন দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ সরকারের পূর্ণ সমর্থনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এ সময় ওআইসি মহাসচিব বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশটির উন্নয়ন অগ্রযাত্রা নতুন গতি পাবে।
ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ জানান, রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধান না হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে, যা সবার জন্যই মারাত্মক ভোগান্তি বয়ে আনবে।
বাংলাদেশের গাজীপুরে অবস্থিত ওআইসির প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ভূমিকা স্মরণ করে মহাসচিব বলেন, ওআইসিভুক্ত দেশগুলোতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারে প্রতিষ্ঠানটির অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইইউটির গবেষণা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি আরও জানান, সফরসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ তার পছন্দের তালিকায় শীর্ষ সারিতে রয়েছে।
বৈঠকে উভয়পক্ষ এ বিষয়ে একমত হন যে, প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পদের ভিন্নতা থাকায় ওআইসিভুক্ত দেশগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। বিশেষ করে চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদ (কনট্রাক্ট ফার্মিং), স্বাস্থ্যসেবা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, আতিথেয়তা এবং শিক্ষাসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে যৌথ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশগুলো ‘উইন-উইন’ ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
বাংলাদেশে জনগণ ও নতুন নেতৃত্বের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শনের জন্য মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রদূত জাভেদ বলেন, আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক যৌথ ইস্যুতে ওআইসি সচিবালয়ের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশ।
৩ দিন আগে
সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ফেরানোর আগ পর্যন্ত কূটনৈতিক কার্যক্রম চলমান থাকবে: শামা ওবায়েদ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও প্রযোজ্য প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নেওয়া হচ্ছে এবং আরও নেওয়া হবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং শহিদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের ফিরিয়ে আনার বিষয়েও প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী কাজ চলছে। এ নিয়ে চিঠিপত্র আদান-প্রদান হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘রায়টা তো গতকালকেই হলো। সেইটার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অফিসিয়ালি যখন আমরা সব কাগজপত্র হাতে পাব, আমরা ডিউ প্রসেসে আমাদের যা যা করার প্রয়োজন, ভারত সরকারের সঙ্গে আমরা সেটা কমিউনিকেট করব।’
আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের আমাদের আইনগত যে ব্যবস্থা নেওয়ার, সেটা অবশ্যই সরকার নেবে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরানোর বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া গেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। তবে ভারত সরকারের কাছ থেকে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, ‘তাদের দিক থেকেও একটা লিগ্যাল প্রসেস হয়তো আছে। তো সেই প্রসেসটা তারা চালাচ্ছে। এখন আমাদের এই কার্যক্রম চলমান থাকবে যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা বাংলাদেশের মাটিতে তাদের ফিরিয়ে আনতে পারছি।’
ভুয়া নথি ঠেকাতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়
এ সময় বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের ভুয়া নথি ব্যবহার এবং দালালচক্রের তৎপরতা ঠেকাতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত ও সহজ করতে সরকার কাজ করছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি মাইগ্রেশন সেল বা উইংও খোলা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি মূলত একটি ‘ব্রেইনস্টর্মিং সেশন’ ছিল উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, বিদেশে যেতে আগ্রহী অনেক বাংলাদেশি দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে ভুয়া ও বিভিন্ন ধরনের নথির আশ্রয় নেন। কীভাবে এ সমস্যা মোকাবিলা করা যায়, বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো কীভাবে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
‘আমরা চাই যে আরও বাংলাদেশি ভাইয়েরা স্কিলড প্রক্রিয়ায়, স্কিলড লেবার বিদেশে যেতে পারে লিগ্যাল প্রক্রিয়ায়। তো সেই জায়গাটা যাতে সুগম হয়, সেটা অ্যাচিভ করার জন্যই কিন্তু এই পদক্ষেপগুলো আমরা নিচ্ছি,’ বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’ চালুর কাজ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে একজন নাগরিকের বিভিন্ন তথ্য একটি ডেটাবেসে একীভূত হলে ভুয়া নথি ব্যবহার এবং দালালচক্রের তৎপরতা আরও সংকুচিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে ওই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত নাগরিকরা যাতে সঠিক নথি নিয়ে বিদেশে যান, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে বলে জানান তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, এ বিষয়ে একটি ফোকাল পয়েন্ট করা হয়েছে। বৈঠকে পাসপোর্ট অফিস, ইমিগ্রেশন, পুলিশ, এসবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
হাইকমিশনারের অ্যাগ্রিমো নিয়ে ‘দাপ্তরিক বিবৃতি’ ছাড়া সংবাদ না করার অনুরোধ
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারের অ্যাগ্রিমো গ্রহণ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অথবা ভারত সরকারের কাছ থেকে কোনো ‘ডেফিনেট স্টেটমেন্ট’ না আসা পর্যন্ত এসব খবরের আমল না দিতে তিনি অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি এখানে আমার একটাই বক্তব্য—বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অথবা ভারত সরকারের কাছ থেকে কোনো ডেফিনেট কোনো স্টেটমেন্ট না আসা পর্যন্ত এসব নিউজের আমল না দিতে আমি অনুরোধ করব এবং নিউজ না করারও অনুরোধ করব।’
৪ দিন আগে
মক্কা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা আল-মুকাররমাহকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানানো হয়।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ মক্কা আল-মুকাররমাহ এবং সৌদি আরবের অন্যান্য পবিত্র স্থানের পবিত্রতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পুনর্ব্যক্ত করছে। একইসঙ্গে এসব স্থান সুরক্ষায় সৌদি আরব ও সেই দেশের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ জোর দিয়ে বলছে, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সর্বদা পূর্ণমাত্রায় নিশ্চিত ও সমুন্নত রাখতে হবে।
৪ দিন আগে
স্বাস্থ্য খাত ও এসডিজি অর্জনে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ হুমায়ুন কবিরের
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বহুপক্ষীয় অংশীদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিজ দপ্তরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনায় জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, রোগ প্রতিরোধ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
৪ দিন আগে
ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার মোহাম্মদ তালহা
ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে খন্দকার মোহাম্মদ তালহাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৯ অনুযায়ী খন্দকার মোহাম্মদ তালহার অভোগকৃত অবসরোত্তর ছুটি ও এ-সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত করে তাকে ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত (গ্রেড-১) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ নিয়োগের মেয়াদ ৩ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
এছাড়া নিয়োগের শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, তাকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম ও সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে।
জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এ নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
পেশাদার কূটনীতিক খন্দকার মোহাম্মদ তালহা ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি প্রথমবারের মতো ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পান।
তিনি ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সংক্রান্ত উইংয়ের মহাপরিচালক, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত লন্ডনে বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার ও ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত চিফ অব প্রটোকল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিদেশে বিভিন্ন দায়িত্বের মধ্যে ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে দায়িত্ব পালন করেন তালহা। সেখানে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অর্থনৈতিক ও আর্থিক কমিটি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক), জাতিসংঘের তহবিল ও কর্মসূচিসহ অন্যান্য বিষয় দেখভাল করেন।
এছাড়া ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে দায়িত্ব পালনকালে তিনি জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা সংক্রান্ত বিষয় দেখভাল করেন। দুই জায়গাতেই তিনি বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) গ্রুপের সমন্বয় করেন।
এর আগে ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তেহরানে বাংলাদেশ মিশনের উপ-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
নিউইয়র্কে দায়িত্ব পালনের সময় ২০০৪ সালে জাতিসংঘের জনসংখ্যা ও উন্নয়ন কমিশনের ভাইস-চেয়ারও নির্বাচিত হন তালহা। এছাড়া জেনেভায় দায়িত্ব পালনের সময় ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কাউন্সিলের ৯৯তম অধিবেশনে র্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
তালহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) থেকে এমবিএ এবং মেলবোর্নের মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বৈদেশিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
৫ দিন আগে
সীমান্তের ওপারে বিএসএফের গুলি: আসাদুলের মরদেহ দেশে, গুলিবিদ্ধ দুজন ভারতের কারাগারে
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তের ওপারে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক আসাদুল হকের মরদেহ দেশে ফিরেছে। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে বেঁচে যাওয়া আরও দুই বাংলাদেশি মোস্তাকিম ও শ্রী উদাকে ভারতে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোরে পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট সীমান্তের ৩৩৩ নম্বর পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আসাদুল হক (৩৮) পীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদের ছেলে। আহত মোস্তাকিম একই উপজেলার উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে এবং শ্রী উদা নারায়ণের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোররাতে কয়েকজন বাংলাদেশি যুবক চান্দেরহাট বিওপির আওতাধীন সীমান্ত দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। এ সময় ভারতের উত্তর দিনাজপুরের ৬৩ নম্বর চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহলদল তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
এতে আসাদুল, মোস্তাকিম ও শ্রী উদা গুলিবিদ্ধ হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসাদুলকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
পরে ভারতীয় পুলিশ আসাদুলের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। অন্যদিকে চিকিৎসা দেওয়ার পর মোস্তাকিম ও শ্রী উদাকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ।
তাদের বিরুদ্ধে ভারতের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫-এর ২১ ধারাসহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার কয়েকটি ধারায় মামলা করা হয়। পরে তাদের রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
আসাদুলের মরদেহ দেশে ফেরাতে বিজিবি বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চান্দেরহাট সীমান্তের শূন্যরেখায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে দিনাজপুর ৪২ বিজিবি এবং ভারতের পক্ষে বিএসএফের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেখানে আসাদুলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার রাত ১০টার দিকে বিএসএফ আসাদুলের মরদেহ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।
আসাদুলের স্বজনেরা বলেন, আসাদুল আর কোনোদিন তাদের মাঝে ফিরবেন না—এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। তারা ভেবেছিলেন, আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে হয়তো তিনি বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার মরদেহ ফিরেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।
মোস্তাকিমের পরিবারের সদস্যরা বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই তারা দুশ্চিন্তায় আছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর তাকে ভারতীয় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে জানতে পেরে তারা আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। মোস্তাকিম বেঁচে আছেন, এটিই এখন তাদের সবচেয়ে বড় স্বস্তি। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।
শ্রী উদার পরিবারের সদস্যরাও তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। তারা বলেন, গুলিতে আহত হওয়ার পর শ্রী উদা বেঁচে আছেন, কিন্তু এখন ভারতের কারাগারে। পরিবারের সঙ্গে আবার কথা বলতে পারাটাই তাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া।
বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. শাহাজাহান আলী বলেন, বিএসএফের গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। তার বাড়ি ওই এলাকায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর জানার পর বিষয়টি বিজিবিকে জানানো হয়। পরে বিজিবি বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করে। রোববার রাতে আসাদুলের মরদেহ দেশে ফেরত আনা হয়েছে। অন্য দুইজনকে ভারতের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। নিহতের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা করা হয়। প্রক্রিয়া শেষে রবিবার রাত ১০টার দিকে বিএসএফ আসাদুলের মরদেহ ফেরত দিয়েছে।
৬ দিন আগে