বৈদেশিক-সম্পর্ক
ইতালিতে বৈধ পথে আরও বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর
বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথে আরও বেশি অভিবাসী গ্রহণের জন্য ইতালি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে নিজের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ইতালির বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতালি বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য।
মন্ত্রী গণযোগাযোগ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সম্প্রচার খাতে ইতালির সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে ইতালির অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন থেকে জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রেও আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
ইতালির রাষ্ট্রদূত বলেন, ইতালিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি অভিবাসী সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন এবং তারা বাংলাদেশ ও ইতালি উভয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
এ সময় তিনি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সমুদ্রপথে ইতালিতে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনের বিষয়টি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদারে পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দেন।
তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথে ইতালিতে অভিবাসন বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
জবাবে ইতালির রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে বৈধ অভিবাসন কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং গত এক বছরে বাংলাদেশ থেকে ২০ হাজার মানুষ ইতালিতে অভিবাসী হয়েছেন।
২ দিন আগে
বাংলাদেশের ৫টি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকে কর্মী নিতে আগ্রহী কাতার
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আজ কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলি বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররির নেতৃত্বে কাতারের প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ-কাতার সপ্তম যৌথ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের ৫ নির্দিষ্ট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডিং সেক্টরে কর্মী নিতে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন কাতারের শ্রমমন্ত্রী।
সোমবার (১৮ মে) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী কাতারের শ্রমমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করায় আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যকার ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীদের সমস্যা সমাধান ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণে কাতার সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জরুরি চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে কাতারের আমির যে মানবতার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন, সেজন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান মন্ত্রী।
আরিফুল হক চৌধুরী কাতারকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় শ্রমবাজার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে চার লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মী কাতারের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অবদান রাখছেন।
মন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালে ১ লাখ ৭ হাজার ৫৯৮ জন বাংলাদেশি কর্মী কাতারে গিয়েছেন। চলতি বছর কাতার কর্তৃপক্ষ এই সংখ্যার দ্বিগুণ কর্মী গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শ্রমমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কাতারগামী কর্মীদের জন্য বর্তমানে ঢাকায় মাত্র একটি ভিসা ও মেডিকেল সেন্টার রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ সময় স্বল্প সময়ে ভিসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে কাতারের ভিসা সেন্টার ও মেডিকেল সেন্টার স্থাপনের জন্য কাতারের শ্রমমন্ত্রীকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মন্ত্রণালয়ের অধীন ১১০টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট ৫৫টি ট্রেডে মানসম্মত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক কাতারের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, নার্স, কেয়ারগিভার, ইমাম, মোয়াজ্জিন, খতিব ও ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের জন্য কাতারের শ্রমমন্ত্রীকে আহ্বান জানান।
বৈঠকে কাতারের শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশের কর্মীদের কর্মদক্ষতার প্রশংসা করে জানান, বর্তমানে কাতারে প্রায় ৪ লাখ ৭৩ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন, যার মধ্যে ৩০ শতাংশ উন্নয়ন খাতে এবং বাকিরা অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের ৫টি নির্দিষ্ট কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকে ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডিং সেক্টরে কর্মী নিতে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
ড. আলি বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররি জানান, কাতারে অদক্ষ কর্মীদের দক্ষ করে তুলতে ইতোমধ্যে দুইটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বিভাগীয় শহরে ভিসা সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধির অনুরোধের প্রেক্ষিতে তিনি আশ্বস্ত করেন, বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করবেন।
যৌথ কমিটির এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত আলি মাহদি সাঈদ আল-কাহতানি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৩ দিন আগে
শান্তি প্রতিষ্ঠা, টেকসই উন্নয়ন ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, টেকসই উন্নয়ন, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একইসঙ্গে তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের রাজনৈতিক, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিভাগের মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও অঙ্গীকার তুলে ধরেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং মানবাধিকার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সামাজিক-অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও দুর্বলতা মোকাবিলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে চলমান তারল্য সংকটের মধ্যেও শান্তিরক্ষা ম্যান্ডেট অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এছাড়া সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।
বৈঠকে সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদান এবং শান্তি ও নিরাপত্তা উদ্যোগে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
৬ দিন আগে
সবুজ প্রযুক্তিনির্ভর টেক্সটাইল শিল্পে বাংলাদেশ-চীন অংশীদারত্ব জোরদারের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পকে আরও টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে চীনের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ-চীন গ্রিন টেক্সটাইল এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, চীনের শিল্পায়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। তিনি চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে অর্থবহ বিনিয়োগের আহ্বান জানান, যাতে উভয় দেশের জন্য ‘উভয়ের লাভজনক’ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
খন্দকার মুক্তাদির বলেন, চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চীনা প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি বন্ধ রাষ্ট্রীয় মিল-কারখানা পুনরুজ্জীবন, পাটখাতের আধুনিকায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সবুজ শিল্পায়নে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে বিশ্বের সর্বাধিক সংখ্যক সবুজ সনদপ্রাপ্ত পোশাক কারখানা রয়েছে, যা দেশের উদ্যোক্তাদের পরিবেশ সচেতনতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করে টেক্সটাইল শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই করতে হবে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ-চীন যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ ধরনের প্রদর্শনী প্রযুক্তি বিনিময়, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং টেকসই শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
৭ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ওআইসির সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা—ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর জোরালো সমর্থন ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে ওআইসি সদস্যভুক্ত দেশগুলোর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানো হয়।
সদস্য রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, টেক্সটাইল ও ওষুধশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি বাংলাদেশের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
৯ দিন আগে
অবৈধ অভিবাসনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানাল সরকার
সাম্প্রতিক সময়ে ‘বাংলাদেশ-লিবিয়া-ইতালি’ রুটে অনিয়মিত অভিবাসনের সময় ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে কয়েকজন বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানিয়েছে সরকার।
এ লক্ষ্যে সোমবার (১১ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড মোবিলিটি-বাংলাদেশ সিচুয়েশন’ শীর্ষক এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এতে পররাষ্ট্র সচিব, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত, লিবিয়া দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত এবং ঢাকাস্থ আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মিশন প্রধান অংশ নেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার অবৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।
তিনি অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত অসাধু সিন্ডিকেটগুলোকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আলোচনায় ইতালির রাষ্ট্রদূত জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন চলতি বছরের জুনে রাজনৈতিক আশ্রয় ও অভিবাসন বিষয়ে নতুন বিধিমালা কার্যকর করতে যাচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
বৈঠকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন সম্প্রসারণের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও ভাষাগত পারদর্শিতা অর্জনের পাশাপাশি নিয়মিত অভিবাসন প্রক্রিয়াকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় ও গ্রহণযোগ্য করে তোলার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, নিয়মিত অভিবাসন সফলভাবে পরিচালনার জন্য গন্তব্য দেশের কর্মসংস্থানের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি নিতে হবে। একই সঙ্গে নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করার মতো অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আরও সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে তারা রেমিট্যান্স, বিনিয়োগ, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ ভিশন বাস্তবায়নে আরও বেশি অবদান রাখতে পারেন।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা অবৈধ অভিবাসন রোধ, নিয়মিত অভিবাসনকে উৎসাহিত করা এবং পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়াকে মানবিক, নিয়মিত ও অধিকারভিত্তিক রাখতে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন।
১০ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করে দেখার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সমালোচনার জবাব দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, এ ধরনের চুক্তিকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেখে মূল্যায়ন করা উচিত।
তার ভাষ্যে, ‘বাংলাদেশের চুক্তিটি যখন পাঠ করবেন, তখন ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, অন্যান্য যারা চুক্তি করেছে, তাদেরটা পাশে নিয়ে পাঠ করলে পরে আপনি জিনিসটা ভালো করে বুঝবেন।’
মঙ্গলবার (৫ মে) যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
চুক্তির শর্ত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা নিয়ে আলোচনা হওয়া খুব ভালো এবং মুক্ত আলোচনা হওয়াই উচিত, যেকোনো চুক্তিরই। আর আপনি যেটা বললেন, বাংলাদেশ ১৩১টাতে ‘শ্যাল’ বলেছে না? আমরা তো একা এই চুক্তি করিনি, বিশ্বের অন্য দেশগুলো করেছে। ইন্দোনেশিয়া ২৩১টাতে এইরকম ‘শ্যাল’ বলেছে। সুতরাং বাংলাদেশের চুক্তিটি যখন পাঠ করবেন, তখন ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, অন্যান্য যারা চুক্তি করেছে, তাদেরটা পাশে নিয়ে পাঠ করলে পরে আপনি জিনিসটা ভালো করে বুঝবেন।
এদিকে, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির একই দিনে বলেন, ‘যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি দুই পক্ষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। এতে উভয় পক্ষের স্বার্থের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। কাজেই এই চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের কিছু নেই।’
সকালে নিজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ব্রেন্ডান লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এই চুক্তির সূচনাকারী নয়, তবে রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এটি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো নয় যে ইচ্ছামতো বাতিল করা যাবে। এটি একটি বাস্তবতা এবং আমরা সেটিকে দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে চাই।
চুক্তি বাতিলের প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই সরকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সবসময় দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। কোনো চুক্তির কোনো ধারা যদি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তা সংশোধনের সুযোগ সেই চুক্তির মধ্যেই রয়েছে।
তিনি এটিকে ‘সেলফ কারেক্টিং এলিমেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, চুক্তির মধ্যেই সংশোধন বা সমন্বয়ের প্রয়োজনীয় বিধান রয়েছে। তাই এটি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ বা আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।
১৬ দিন আগে
বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক
বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাংলাদেশে ডেনিশ বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ একটি বিনিয়োগবান্ধব দেশ এবং দক্ষ জনশক্তি, বৃহৎ বাজার ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক তরুণ কর্মশক্তি শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে, যা শিল্প ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, লজিস্টিকস দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসা সহজীকরণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে। খন্দকার মুক্তাদির ডেনমার্কের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো ও শিল্প খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ-ডেনমার্ক সম্পর্ক উন্নয়ন সহযোগিতা থেকে ব্যবসায়িক অংশীদারত্বে উত্তরণের একটি সফল উদাহরণ।
তিনি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং ডেনমার্ক বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ডেনমার্কের বিভিন্ন কোম্পানি—বিশেষ করে মার্স্ক বাংলাদেশে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করছে। তিনি আরও জানান, ডেনমার্ক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংস্কার কার্যক্রমকে সমর্থন করে এবং এসব উদ্যোগ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে। বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি ও ডেইরি ভ্যালু চেইন কার্যক্রম পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আব্দুর রহিম খান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
২১ দিন আগে
এনপিটি সম্মেলনে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে জোরালো পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ
পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে বৈশ্বিক অঙ্গীকার নবায়ন এবং সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)-এর একাদশ পর্যালোচনা সম্মেলনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া বক্তব্যে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এ আহ্বান জানান।
সালাহউদ্দিন নোমান বলেন, জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার আট দশক অতিক্রান্ত হলেও পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব প্রতিষ্ঠা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। অব্যাহত পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে এবং বৈশ্বিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
নিরস্ত্রীকরণের প্রতি বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক ও প্রচলিত উভয় ধরনের অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে এবং পারমাণবিক অস্ত্রধারী অঞ্চলে অবস্থান করেও স্বেচ্ছায় অপারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে রয়েছে। তিনি পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রগুলোকে এনপিটির অনুচ্ছেদ-৬ অনুযায়ী তাদের আইনগত বাধ্যবাধকতা পূরণের আহ্বান জানান এবং নিরস্ত্রীকরণসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির সর্বজনীনীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, গঠনমূলক সংলাপ, পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগের মাধ্যমে পারমাণবিক হুমকি থেকে মুক্ত একটি নিরাপদ বিশ্ব গড়ে তুলতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ অব্যাহত রাখবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও নিরাপদ বিশ্ব নিশ্চিত করা যায়।
২২ দিন আগে
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে ভুটানের আগ্রহ প্রকাশ
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কর্মা হামু দর্জি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌর ও জলবিদ্যুৎ খাতে যৌথ উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত জিডিপি প্রায় ৫৯ ট্রিলিয়ন ডলার হলেও পারস্পরিক বাণিজ্য মাত্র ১ শতাংশের কাছাকাছি, যা সম্ভাবনার তুলনায় অত্যন্ত কম। এ অবস্থায় প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার অপরিহার্য।
তিনি জানান, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে আঞ্চলিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ।
জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় স্বল্প দূরত্বে জলবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন পারস্পরিকভাবে লাভজনক হতে পারে।
ভুটানের রাষ্ট্রদূত খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে বাণিজ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক বেশ নিবিড়। এ সম্পর্ক আরও জোরদারে তারা আগ্রহী।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বুড়িমারি সীমান্ত থেকে ভুটানের দূরত্ব একশত কিলোমিটারের কাছাকাছি। নিকটবর্তী দেশ হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সুবিধাজনক ও লাভজনক।
তিনি জানান বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীরা পড়তে আসেন এবং ভুটানে ফিরে সেদেশের মানুষের সেবায় নিয়োজিত হন। এতে করে দুই দেশের মধ্যে সংস্কৃতিরও বিনিময় হচ্ছে।
এ বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার এবং ভুটানের মিনিস্টার কাউন্সিলর (ট্রেড) দাওয়া শেরিং উপস্থিত ছিলেন।
২৩ দিন আগে