অর্থনীতি
একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের ধাপে ধাপে টাকা ফেরত দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক
একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে একটি নির্দিষ্ট স্কিম প্রণয়ন করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী ধাপে ধাপে আমানত ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) মতিঝিলে সেনা কল্যাণ ভবনে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে এই বার্তা দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিক।
এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে একীভূত ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা বিক্ষোভ করেন।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ফেরত পেতে আরও কিছুটা ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে শাহরিয়ার সিদ্দিক বলেন, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে একটি নির্দিষ্ট স্কিম প্রণয়ন করা হয়েছে। সেই স্কিম অনুযায়ী ধাপে ধাপে আমানত ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। এ স্কিম অনুযায়ী আমানতকারীরা প্রথম দিন থেকেই ন্যূনতম দুই লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারছেন। পরবর্তী ধাপে প্রতি তিন মাস পরপর এক লাখ টাকা করে তোলা যাবে। এভাবে ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ ২১ মাসের মধ্যে পুরো অর্থ উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, শুধু সাধারণ সঞ্চয়ী বা চলতি হিসাব নয়, এফডিআর (মেয়াদী আমানত) ও ডিপিএসসহ বিভিন্ন ধরনের আমানতের ক্ষেত্রেও অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব এফডিআর বা ডিপিএস মেয়াদপূর্তির সময়ে পৌঁছাবে, সেগুলো থেকে প্রাথমিকভাবে এক লাখ টাকা উত্তোলন করা যাবে। বাকি অর্থ নতুন করে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নবায়ন করা হবে। প্রতিবার নবায়নের সময় আমানতকারী তাদের মুনাফা তুলে নেওয়ার সুযোগ পাবেন, যদিও মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, তিন মাস মেয়াদি আমানতের ক্ষেত্রে তিনবার নবায়নের সুযোগ থাকবে। ছয় মাস মেয়াদি আমানতের ক্ষেত্রে দুইবার এবং এক বছর বা দুই বছর মেয়াদি আমানতের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পুনর্নবায়নের মাধ্যমে ধাপে ধাপে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ থাকবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সহকারী মুখপাত্র জানান, সাধারণ উত্তোলন সীমার বাইরে গুরুতর অসুস্থ বা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত আমানতকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। কিডনি রোগী বা অন্যান্য জটিল রোগে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিরা চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী সীমাহীন অর্থ তুলতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে চিকিৎসা সংক্রান্ত যথাযথ নথিপত্র জমা হবে।
এছাড়া অন্য যেকোনো অসুস্থতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রশাসক সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুমোদন দিয়ে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দিতে পারবেন। যদি এর চেয়েও বেশি অর্থ প্রয়োজন হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট শাখার মাধ্যমে আবেদন করলে বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি বিবেচনা করে অতিরিক্ত অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করবে।
তিনি বলেন, যদি কোনো আমানতকারী নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অর্থ তুলতে গিয়ে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে বা সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিষয়টি জানাতে পারবেন।
এ বিষয়ে তার ভাষ্য, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। আমানতকারীরা দীর্ঘদিন ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন এবং সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন ব্যবস্থাপনা গঠনের প্রক্রিয়াও চলছে বলে এ সময় জানান তিনি। বলেন, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে নতুন করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। আবেদনপত্র সংগ্রহ করে সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। সরকারের অনুমোদন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক শিগগিরই তা অনুমোদন দেবে। একইভাবে ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে এবং সেটিও দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শাহরিয়ার সিদ্দিক বলেন, পাঁচ ইসলামী ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত হওয়ায় এখন মানবসম্পদ, শাখা এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার সমন্বয় (ইন্টিগ্রেশন) করা হচ্ছে। অনেক এলাকায় একই স্থানে একাধিক ব্যাংকের শাখা রয়েছে। সেগুলোকে ধাপে ধাপে একীভূত করে একটি কার্যকর শাখায় রূপান্তর করা হবে, যাতে পরিচালন ব্যয় কমে এবং দক্ষতা বাড়ে। এছাড়া পাঁচ ব্যাংকের আলাদা আলাদা হেড অফিসের প্রয়োজন নেই। যেসব প্রধান কার্যালয় ভাড়া করা ভবনে পরিচালিত হচ্ছিল, সেগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া পাঁচটি ব্যাংকে বর্তমানে পাঁচ ধরনের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব সফটওয়্যারকে একীভূত করে একটি সমন্বিত প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মে আনার জন্য বিশেষজ্ঞরা কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
শাহরিয়ার সিদ্দিক বলেন, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক চাইছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে একটি দক্ষ, লাভজনক এবং টেকসই ব্যাংকে পরিণত করতে। এজন্য সব ধরনের প্রশাসনিক ও কাঠামোগত সংস্কারের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
২ দিন আগে
একনেকে ৪৮৩ কোটি টাকার ৫ প্রকল্প অনুমোদন
৪৮৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকার পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে সরকার অর্থায়ন করবে ৩৯০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা এবং ৯২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা প্রকল্পঋণ থেকে নেওয়া হবে।
সোমবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় মোট পাঁচটি প্রকল্পের মধ্যে তিনটি সংশোধিত এবং দুটি মেয়াদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রকল্প ছিল।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প রয়েছে। সেগুলো হলো: সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২ (জিএসআইডিপি-২) (প্রথম সংশোধন) এবং চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রকল্প-৪ (সিডিএসপি-৪) (তৃতীয় সংশোধন)।
এছাড়া, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল তৈরি এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন (কম্পোনেন্ট-২): দেশের ৮টি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক ইমেজিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ (১ম সংশোধিত)’ এবং ‘গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্প। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় পরিকল্পনা ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৩ দিন আগে
ঋণ ব্যবস্থাপনা ও করের আওতা বাড়ানোর ওপর জোর বাণিজ্যমন্ত্রীর
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ঋণ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং করের আওতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং চলমান সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে খুব দ্রুতই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) পরিকল্পনা কমিশনে এনইসি সম্মেলনকক্ষে ‘ন্যাশনাল মাল্টিস্টেকহোল্ডার কনসালটেশন অন বাংলাদেশ গ্রাজুয়েশন রিডনেস অ্যাসেসমেন্টের’ শীর্ষক সেমিনারের সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি চ্যালেঞ্জপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে যা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। এই অবস্থায় দেশের অর্থনীতিকে সুশৃঙ্খল ও স্থিতিশীল করতে সুপরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি উল্লেখ করেন, অতীতের কিছু বড় প্রকল্প যথাযথ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি ছাড়া গ্রহণ করায় দেশের ওপর ঋণের চাপ বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের ব্যয় ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থেকে গেছে, যা অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে যে ঋণ নেওয়া হয়েছে, তা যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যতে নতুন প্রকল্প গ্রহণে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে বাস্তবসম্মত ও ফলপ্রসূ প্রকল্প নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
কর ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত সন্তোষজনক নয় এবং তা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তবে করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে করের আওতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনও করের আওতার বাইরে রয়েছে। তাই করের হার বাড়ানো নয়, বরং করের আওতা বিস্তৃত করে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করতে হবে।’
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানোর মাধ্যমে বিদ্যমান ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং একই সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রমকে টেকসই ধারায় এগিয়ে নিতে হবে।
এ সময় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীর সভাপতিত্বে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং জাতিসংঘের ইউএন-ওএইচআরএলএলএসের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ব্যাংক লেনদেনের নতুন সময়সূচি প্রকাশ
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় সৃষ্ট জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ব্যাংকি লেনদেনের সময় কমানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য নতুন অফিস ও লেনদেন সময়সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
শনিবার (৪ এপ্রিল) এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আগামীকাল রবিবার থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল রবিবার থেকে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ব্যাংকিং লেনদেন চলবে। তবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস কার্যক্রম চলবে। আর আগের মতোই ব্যাংকে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে।
অন্যদিকে, সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকের শাখা, উপশাখা অথবা বুথে আগের মতো ২৪ ঘণ্টাই ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু থাকবে বলে সার্কুলারে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মো. আবদুল মান্নান বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার অধীনে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নতুন সময়সূচি কার্যকর হওয়ায় ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৫ দিন আগে
হজযাত্রীদের সেবায় ৬৬ সদস্যের প্রশাসনিক সহায়ক দল গঠন
চলতি বছর হজ উপলক্ষে সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সেবায় ৬৬ সদস্যের প্রশাসনিক সহায়তাকারী দল গঠন করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২২’ (সংশোধিত)-এর বিধি ২৫ অনুযায়ী এ দল গঠন করে তাদের সৌদি আরব গমনাগমনে সরকারের সম্মতি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে আদেশ জারি করেছে মন্ত্রণালয়।
হজযাত্রীদের সেবায় গঠিত এ দলে গাড়িচালক, অফিস সহায়ক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, গানম্যান, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, কম্পিউটার অপারেটর ও ফটোকপি অপারেটরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দলে মোট ৯ জন গাড়িচালক রয়েছেন। তারা হলেন—মন্ত্রীর দপ্তরের মো. আলমগীর ও আক্তারুজ্জামান সরকার, সচিবের দপ্তরের মো. সাইদুল ইসলাম ও মো. টিটু মিয়া বেপারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (প্রেষণে হজ অনুবিভাগ) মো. মাসুদুর রহমান ও গোলাম মাওলা, হজ অফিসের মো. সালাহ উদ্দিন, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়ের মো. হাসান আলী এবং প্রশাসন শাখার মো. আবদুস সবুর বিশ্বাস।
এছাড়া দলে ২৫ জন অফিস সহায়ক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে আইন শাখার সম্রাট, সচিবের দপ্তরের মো. আনোয়ার হোসেন ও মো. সোহাগ, হজ-২ শাখার মো. রাশেদুল ইসলাম, সমন্বয় শাখার ইলিয়াছ আহমেদ ও মোছা. হাফিজা আক্তার, বাজেট ও অনুদান অনুবিভাগের মো. কামরুল হোসেন, প্রশাসন অনুবিভাগের তানিয়া আক্তার ও সাইয়্যিদা মারজিয়া রুবিনা, অনুদান শাখার পারুলী আক্তারী ও মনিরুল ইসলাম, উন্নয়ন অধিশাখার মো. নুরুল হুদা, হজ-১ শাখার মো. আশরাফুল ইসলাম, উপদেষ্টার দপ্তরের মো. অলিউল্লাহ, মো. আরমান হোসেন ও মাসুম বিল্লাল, হজ অনুবিভাগের কাজী জুয়েল মিয়া, পরিকল্পনা-১ শাখার সাদ্দাম বিশ্বাস, প্রশাসন-১ শাখার মনির হোসেন, আইসিটি শাখার মুহাম্মদ রাশেদ মিয়াজি, হজ অধিশাখার সারোয়ার মাহমুদ, বাজেট শাখার শারমিন সুলতানা, হজ-৩ শাখার মো. আলমগীর হোসেন এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংযুক্ত মো. টিপু সুলতান ও হজ অফিস ঢাকার হাবিবুর রহমান রয়েছেন।
দলে দুইজন গানম্যান (বন্দুকধারী) রয়েছেন। তারা হলেন— সচিবের দপ্তরের মো. আব্দুল হাকিম এবং মন্ত্রীর দপ্তরের মো. আবুল কাশেম।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতি বছর হজযাত্রীদের সেবায় প্রশাসনিক দল, প্রশাসনিক সহায়তাকারী দল ও কারিগরি দল গঠন করে সরকারি ব্যয়ে সদস্যদের সৌদি আরবে পাঠিয়ে থাকে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এ বছরের হজ ফ্লাইট শুরু হবে ১৮ এপ্রিল থেকে।
তবে প্রতি বছরই বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ে এ ধরনের দল পাঠানো হলেও অনেক সময় সদস্যদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ হজযাত্রীদের সেবার পরিবর্তে ব্যক্তিগত কাজে বা ভ্রমণে ব্যস্ত থাকেন।
প্রায় প্রতিবছরই হজের সময় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সহায়তাকারী দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে।
২১ দিন আগে
আয়কর রিটার্ন দেওয়ার সময় আরও বাড়ল
আয়কর রিটার্নের সময় আরও এক মাস বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ২৮ ফেব্রুয়ারি পরিবর্তে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে এ সম্পর্কিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আয়কর আইন-২০২৩-এর ধারা ৩৩৪ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, জনস্বার্থে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার করদাতাগণের ২০২৫-২৬ করবর্ষের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি-২০২৬ তারিখের পরিবর্তে ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখ নির্ধারণ করা হলো।
আয়কর রিটার্নের এ সময় বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে চলতি কর বছরে চারবার আয়কর রিটার্ন দেওয়ার সময় দেওয়া হলো।
৪২ দিন আগে
কমার এক দিন পরই আগের জায়গায় স্বর্ণের দাম
দাম কমার এক দিন পর আজ (শনিবার) দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। ভালো মানের বা ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিপ্রতি ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে এই মানের সোনার নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ভরিপ্রতি ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে এ নতুন দর কার্যকর হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।
বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) স্বর্ণের দাম বাড়ায় স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা।
এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা।
স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।
এর আগে গতকাল (শুক্রবার) বিশ্ববাজারে সোনার দরপতনের প্রেক্ষিতে দেশের বাজারে সোনার দাম ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমানো হয়েছিল। আজ আবার ঠিক একই অঙ্কে দাম বাড়ানো হলো। গতকাল সোনার পাশাপাশি রুপার দামও ভরিপ্রতি ১৭৫ টাকা কমানো হয়েছিল।
গত সপ্তাহজুড়ে দেশের বাজারে সোনার দামে ব্যাপক অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার সোনার দাম ভরিপ্রতি ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়ানো হয়। তার আগের দিন সোমবার সকাল ও বিকেলে দুই দফায় সোনার দাম কমে মোট ১২ হাজার ১৪ টাকা। এরও আগে, গত ২৯ জানুয়ারি ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ানো হলে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
মূলত বিশ্ববাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করা হয়। শুক্রবার বিশ্ববাজারে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৯৮ ডলার ৫৮ সেন্ট বেড়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিশ্ববাজারে সোনার দাম দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৯৬৬ ডলার ২৬ সেন্ট।
৬১ দিন আগে
পাঁচ ব্যাংকের অডিটরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: অর্থ উপদেষ্টা
সম্প্রতি একীভূত হওয়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা কোন প্রেক্ষাপটে শেয়ার কিনেছেন, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এই পাঁচটি ব্যাংকের অডিটরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক তিনি এ কথা জানান।
পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার আগে আপনি বলেছিলেন সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে? এরইমধ্যে পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার শূন্য করে নতুন একটি ব্যাংক করা হয়েছে। সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আপনারা কী ভাবছেন?—সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন করা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়টি কমপ্লিকেটেড (জটিল)। বললেই তো হবে না, ডিমান্ড করে শেয়ার এত সহজে কিন্তু এইসব জিনিসের ডিসিশন নেওয়া যায় না!
তিনি বলেন, ‘আমরা যেটা বলছি ডিপোজিটররা টাকা পাবেন, এটা ভেরি সিমপল। যার টাকা জমা আছে, সে টাকা পাবে। আর শেয়ারহোল্ডাররা শেয়ার কিনেছে কোন কনটেক্সটে কিনেছে, মার্কেট প্রাইসে কিনেছে, শেয়ারহোল্ডার ওয়ান্টেড টু বি ওনার। ওরা ভলান্টারি তো বোঝে।’
শেয়ারহোল্ডাররা তো বলছেন তারা আর্থিক প্রতিবেদন দেখে শেয়ার কিনেছেন এবং ৫ আগস্টের (২০২৪ সালের ৫ আগস্ট) আগের আর্থিক প্রতিবেদনে ব্যাংকগুলো মুনাফা দেখিয়েছে—সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন কথা বলা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সেটা তো আমরা দেখব। ওইটাই তো এক্সামিন (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) করছি, কোন কনটেক্সটে কিনেছে এবং দেখি কী করা যায়।
৫ আগস্টের আগে এই পাঁচ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন যারা অডিট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ব্যবস্থা তো নেওয়া হবেই। সেটা দেখা হচ্ছে। যাই হোক এখন সব কথা বলা যাবে না।
৮৬ দিন আগে
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু, আমানত তুলতে পারায় স্বস্তিতে গ্রাহকরা
সংকটাপন্ন পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর ফলে গ্রাহকরা স্বাভাবিক লেনদেনের পাশাপাশি আমানতকারীরা তাদের জমানো অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শাখায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক শাখায় পুরোনো সাইনবোর্ড সরিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নামে নতুন ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে।
একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো— এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, আজ বৃহস্পতিবার থেকে স্বাভাবিকভাবে টাকা জমা ও উত্তোলন করা যাচ্ছে। আমানত সুরক্ষা আইনের আওতায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত একবারে উত্তোলনের সুযোগ পাচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
দীর্ঘদিন পর টাকা তুলতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন আমানতকারীরা। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ধানমণ্ডি শাখায় টাকা তুলতে আসা গ্রাহক মনির হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে টাকা তুলতে গেরে ভালো লাগছে। এই অর্থটা আমার জন্য খুবই জরুরি ছিল।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত করা স্কিম অনুযায়ী গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় নির্দিষ্ট নীতিমালা ঘোষণা করা হয়েছে:
১. দুই লাখ টাকা পর্যন্ত: যাদের আমানত ২ লাখ টাকা পর্যন্ত, তারা যেকোনো সময় একবারে পুরো টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।
২. দুই লাখ টাকার বেশি: যাদের জমা ২ লাখ টাকার বেশি, তারা প্রতি তিন মাস অন্তর সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা করে আগামী দুই বছর পর্যন্ত তুলতে পারবেন।
৩. বিশেষ সুবিধা: ৬০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিক এবং ক্যানসার বা কিডনি ডায়ালাইসিসের মতো গুরুতর রোগে আক্রান্ত আমানতকারীরা চিকিৎসার প্রয়োজনে সীমার বাইরেও টাকা তোলার সুযোগ পাবেন।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাংকগুলোর শাখায় এরই মধ্যে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগানো শুরু হয়েছে। ব্যাংকিং কার্যক্রম সহজ করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানানো হয়েছে:
নতুন কোনো কাগজপত্র সংগ্রহের ঝামেলা ছাড়াই আগের ব্যাংকের চেকবই, ডিপোজিট স্লিপ ও ভাউচার দিয়ে লেনদেন করা যাবে।
আমানতকারীরা তাদের জমার বিপরীতে ২০ শতাংশ পর্যন্ত এবং নতুন আমানতের বিপরীতে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা নিতে পারবেন।
ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা প্রদান করেছে।
৯৮ দিন আগে
আয়কর রিটার্ন জমার সময় আরও এক মাস বাড়ল
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আবারও এক মাস বাড়িয়েছে। এর ফলে ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত জমা দেওয়া যাবে।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) জারি করা এক বিশেষ আদেশে কর কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
এনবিআরের জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ৩৩৪-এর ক্ষমতা অনুযায়ী সরকারের পূর্ব অনুমোদন নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, করদাতাদের বিভিন্ন সমস্যার কারণে রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় এক মাস বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর করা হয়েছিল।
চলতি করবর্ষের জন্য অনলাইনে রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি ও মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধির মাধ্যমে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন তারা। তবে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে এ বিধান শিথিল রাখা হয়েছে। তারা চাইলে ই-রিটার্নও দাখিল করতে পারবেন।
করদাতার পক্ষে তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিও এ বছর অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন। এছাড়া বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশির ক্ষেত্রে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও তার পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ই-মেইল অ্যাড্রেস ইত্যাদি তথ্য দিয়ে বিদেশে বসেই ই-রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রয়েছে।
বর্তমানে কোনো নথি বা দলিলাদি আপলোড ছাড়াই অনলাইনে রিটার্ন দেওয়া যাচ্ছে। ব্যাংকিং সেবার যে কোনো মাধ্যম বা মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে আয়কর পরিশোধ করে সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয় ই-রিটার্ন দাখিলের স্বীকারপত্র পাচ্ছেন করদাতারা।
ই-রিটার্ন সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যায় করদাতাদের সহায়তা প্রদানের জন্য ০৯৬৪৩৭১৭১৭১ নম্বরটি চালু রয়েছে। তাছাড়া সারা দেশের সব কর অঞ্চলে স্থাপিত ই-রিটার্ন হেল্প-ডেস্ক থেকেও সহায়তা মিলছে।
চলতি করবর্ষে শনিবার পর্যন্ত ২৮ লাখ ৮৫ হাজার করদাতা রিটার্ন দাখিল করেছেন।
গত বছর কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি শেষ সময় দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও জরিমানা দিয়ে রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আয়কর আইন অনুযায়ী মাসিক ২ শতাংশ হারে বিলম্ব সুদ দিতে হবে।
১০২ দিন আগে