অর্থনীতি
দেশে ১৪ দিনে রেমিট্যান্স এল ১৫৪ কোটি ডলার
নতুন অর্থবছর ২০২৬-২৭-এর শুরুতেই প্রবাসী আয় প্রবাহে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। জুলাইয়ের প্রথম ১৪ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৫৪ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।
বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ১৫৪ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১২৬ কোটি ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, শুধু ১৪ জুলাইই দেশে এসেছে ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স।
নতুন অর্থবছরের শুরুতে রেমিট্যান্সে ২১ দশমিক ৮ শতাংশের এই প্রবৃদ্ধি প্রবাসী আয় প্রবাহের ঊর্ধ্বমুখী ধারারই প্রতিফলন। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবৃদ্ধি দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
৫ দিন আগে
সরকারের আর্থিক খাতের সংস্কার নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে আইএমএফ: অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকারের আর্থিক খাতের সংস্কার, শেয়ারবাজার ও পুঁজিবাজারের উন্নয়ন এবং রাজস্ব আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সন্তোষ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে সরকারের আর্থিক সংস্কার কর্মসূচি ও একটি রাজনৈতিক সরকারের জনকল্যাণমূলক দায়বদ্ধতার প্রতিও সংস্থাটি সম্মান জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বাংলাদেশ ও হংকংবিষয়ক মিশনপ্রধান আইভো ক্রজনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের আগামী দিনের নতুন কর্মসূচির ভিত্তি, ধাপভিত্তিক বাস্তবায়ন (সিকোয়েন্সিং) এবং নীতিমালার সার্বিক দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, আইএমএফের সঙ্গে নতুন কর্মসূচি কোন ভিত্তির ওপর পরিচালিত হবে, তা পরিষ্কার করা হয়েছে এবং প্রস্তাবিত ভিত্তিসমূহের ওপর তারা সম্পূর্ণ একমত পোষণ করেছেন। সংস্কার কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে ধাপে ধাপে (সিকোয়েন্সিং) পরিবর্তনগুলো আনা হবে। রাতারাতি কোনো বড় পরিবর্তন সম্ভব নয় এবং আইএমএফ এ বিষয়ে সহমত প্রকাশ করেছে।
আমির খসরু বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোন সংস্কার কখন করা প্রয়োজন, সেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ক্রমান্বয়ে পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। আইএমএফ এই সিকোয়েন্সিংয়ের নীতিতে সায় দিয়েছে। এছাড়া একটি রাজনৈতিক সরকারের জনকল্যাণমূলক দায়বদ্ধতা এবং রেসপন্সিবিলিটিকে আইএমএফ বিশেষভাবে সম্মান জানিয়েছে। দেশের মানুষের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের চার মাসের মেয়াদে আর্থিক খাতের সংস্কার, শেয়ারবাজার ও পুঁজিবাজারের উন্নয়ন এবং রাজস্ব আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতিতে আইএমএফ প্রতিনিধি দল সন্তোষ প্রকাশ করেছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাত্র চার মাসে ট্যাক্স আদায়কে একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ইতিবাচক ধারা বজায় রেখে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত আরও বাড়াতে সরকারের প্রস্তাবনাসমূহ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
ভর্তুকির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এখনই সুনির্দিষ্ট ডিটেইলস বা শর্ত নিয়ে আলোচনা হয়নি। মূলত নতুন কর্মসূচির মূল ভিত্তি তৈরি নিয়ে কথা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত আলোচনার টেবিলে সকল বিষয়গুলো আসবে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় এ বিষয়ে পরবর্তী আলোচনা হবে। বর্তমান সরকারের সংস্কারমুখী পারফরম্যান্সে আইএমএফ সন্তুষ্ট এবং এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই আগামী দিনের নতুন প্রোগ্রাম চূড়ান্ত করা হবে।
৭ দিন আগে
জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশ
খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি কমে আসায় জুন মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ।
সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবিএসের মাসিক মূল্যস্ফীতি প্রতিবেদনে দেখা যায়, জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ হয়েছে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও সামান্য কমে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ।
জাতীয় ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) মে মাসের ১৪৫ দশমিক ৬১ পয়েন্ট থেকে বেড়ে জুনে ১৪৬ দশমিক ১১ পয়েন্টে পৌঁছেছে। অর্থাৎ মাসভিত্তিক মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও বার্ষিক মূল্যস্ফীতির গতি কিছুটা কমেছে।
মাসওয়ারি হিসাবে জুনে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ।
খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমলেও তা এখনও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে রয়েছে। জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ, যা এক বছর আগে একই মাসে ছিল ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
গ্রামের তুলনায় শহরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কম ছিল।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকায় জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ হয়েছে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে, শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে।
গ্রামীণ এলাকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ হয়েছে।
তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে। জুনে গ্রামীণ এলাকায় এ হার ছিল ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।
এদিকে সর্বশেষ মজুরি হার সূচকেও (ওয়েজ রেট ইনডেক্স) মজুরি বৃদ্ধির গতি সামান্য কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
জুনে জাতীয় পর্যায়ে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মজুরি হার বেড়েছে ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। তবে এটি আগের বছরের জুন মাসের সমান রয়েছে।
দেশের ৬৪ জেলার তথ্যের ভিত্তিতে এ সূচক প্রস্তুত করা হয়েছে।
খাতভিত্তিক হিসাবে, কৃষি খাতে জুনে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। মে মাসে এ হার ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ এবং এক বছর আগে ছিল ৮ দশমিক ৪০ শতাংশ।
শিল্প খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার মে মাসের ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ থেকে জুনে ৮ দশমিক ১১ শতাংশে নেমে এলেও, ২০২৫ সালের জুনের ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশের তুলনায় বেশি রয়েছে।
সেবা খাতে জুনে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। মে মাসে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং এক বছর আগে ছিল ৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনটি প্রধান খাতেই মাসওয়ারি মজুরি বৃদ্ধির হার সামান্য কমলেও সামগ্রিকভাবে মজুরি প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল রয়েছে।
এদিকে, ১২ মাসের চলমান গড় মূল্যস্ফীতি আরও কমে এসেছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। এতে সামগ্রিক মূল্যচাপ ধীরে ধীরে কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি আগের অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ১০ দশমিক ৩ শতাংশ।
একই সময়ে গড় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। আর গড় খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ হয়েছে।
বিবিএস জানায়, ২০২১-২২ অর্থবছরকে ভিত্তিবছর ধরে এ হিসাব করা হয়েছে। দেশের ১৫৪টি বাজার থেকে ৩৮৩টি পণ্য ও সেবার মূল্য সংগ্রহ করে সিপিআই প্রণয়ন করা হয়েছে। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের জুন মাসের মূল্য ২০২৫ সালের জুন মাসের মূল্যের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
১৪ দিন আগে
নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থা বহাল রাখবে বাংলাদেশ ব্যাংক
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই ২০২৬ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্য নতুন মুদ্রানীতি (মনিটারি পলিসি স্টেটমেন্ট) ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সময়ে বৈশ্বিক ধাক্কা মোকাবিলা, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী আয় বাড়াতে নমনীয় ও বাজারনির্ধারিত বিনিময় হার ব্যবস্থা বহাল রাখবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম হলরুমে এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নররা, বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আর্থিক খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে মুদ্রানীতির মূল প্রবন্ধ বা 'কি-নোট' উপস্থাপন করেন ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান।
নতুন মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি এখনও অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই আগামী ছয় মাসেও সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বহাল থাকবে। ফলে নীতিসুদ অপরিবর্তিত রেখে ১০ শতাংশে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ৭ শতাংশে উঠেছিল। ধারাবাহিক কঠোর মুদ্রানীতির ফলে তা ২০২৬ সালের মে মাসে কমে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। যদিও এই অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, তবে তাদের মতে মূল্যস্ফীতি এখনও স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
নতুন মুদ্রানীতিতে আবারও স্পষ্ট করা হয়েছে, বিনিময় হার হবে বাজারনির্ভর। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার রপ্তানি প্রতিযোগিতা বাড়াবে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করবে এবং প্রবাসী আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
মুদ্রানীতিতে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকেও বড় ঝুঁকি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাংলাদেশের জন্য নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আশঙ্কা, এসব কারণে জ্বালানি তেল, সার ও অন্যান্য কাঁচামালের আন্তর্জাতিক দাম বেড়ে গেলে দেশে আবারও ব্যয়ভিত্তিক মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।
মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, শুধু সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কারণ বর্তমান মূল্যস্ফীতির বড় অংশই সরবরাহ ব্যবস্থা, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, জ্বালানি ব্যয় এবং আমদানি খরচ বৃদ্ধির মতো কাঠামোগত কারণে সৃষ্টি হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বীকার করেছে, দীর্ঘদিনের উচ্চ সুদহার এবং অনিশ্চয়তার কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্প উৎপাদন প্রত্যাশিত গতিতে বাড়ছে না। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান সক্ষমতার চেয়ে কম উৎপাদন করছে। এই পরিস্থিতি থেকে অর্থনীতিকে বের করে আনতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ সহায়তা কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে।
এই তহবিল থেকে শিল্প, কৃষি এবং ক্ষুদ্র, কুটির, মাঝারি ও অতিক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ পাবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই অর্থের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা আসবে ব্যাংকিং খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে এবং বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব উৎস থেকে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারণা, এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং শিল্প উৎপাদনে নতুন গতি আসবে।
মুদ্রানীতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উচ্চ খেলাপি ঋণ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সরকারি ঋণগ্রহণ বৃদ্ধির কারণে ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ বিতরণে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে ২০২৬ সালের মে মাস শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি মাত্র ৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন। ফলে ব্যাংকের উদ্বৃত্ত অর্থ উৎপাদনমুখী খাতে না গিয়ে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ হচ্ছে।
২০ দিন আগে
করের আওতায় আসছে মুদি দোকান, বিউটি পার্লারসহ ১৬টি খাত
২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকার মুদি দোকান ও বিউটি পার্লারসহ ১৬ ব্যবসায়ী খাতকে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিনা সুলতানার টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
সেলিনা সুলতানা প্রশ্ন রেখে বলেন, বিগত অর্থবছরে মূল্য সংযোজন কর ও ভ্যাট বাবদ প্রাপ্ত রাজস্ব আয়ের পরিমাণ কত এবং নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান বা উৎসকে ভ্যাটের আওতায় আনবার পরিকল্পনা আছে কি না এবং থাকলে, সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠান বা উৎসের তালিকা কী?
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান বা উৎসকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। ব্যবসা খাতকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভ্যাটের সুর্নিদিষ্ট করের আওতায় আনা হচ্ছে। সেগুলো হলো: মুদি দোকান, তৈরি পোশাক বা কাপড় বিক্রেতা, কনফেকশনারি, কসমেটিকসের দোকান, প্লাস্টিক ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্যের দোকান, জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার পণ্যবিক্রেতা, ডেকোরেটর; মোবাইল ফোন, এসি, ফ্রিজ, ওভেন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিক্রেতা; পেইন্ট, স্যানিটারি ফিটিংস ও টাইলসের দোকান; ঢেউটিনের দোকান, রড ও সিমেন্টের দোকান, ফার্নিচার, বিউটি পার্লার, মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ও রেস্তোরাঁ।
করের আওতা সম্প্রসারণ এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট বাবদ রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ১ লাখ ৪১ হাজর ৫৮৬ কোটি টাকা ছিল বলেও সংসদকে জানান অর্থমন্ত্রী।
২৬ দিন আগে
ব্যাংক খাতের সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ভিত মজবুত করা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৪৫০ মিলিয়ন বা ৪৫ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক।
বুধবার (২৪ জুন) বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বোর্ড এই ঋণ অনুমোদন করে।
‘ফাইন্যানশিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক এই প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা ও ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। একই সঙ্গে এই ঋণ ব্যাংক খাতের সংকট নিরসন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করবে।
ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাংকের এ অর্থায়ন মূলত আমানত সুরক্ষা তহবিলের মূলধন বৃদ্ধি এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার অগ্রাধিকারকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। এর মধ্যে রয়েছে আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, একটি কার্যকর জরুরি তারল্য সহায়তা কাঠামো প্রতিষ্ঠা, ব্যাংক পুনর্গঠন কৌশল তৈরি এবং সরকারি ব্যাংকগুলোর কাঠামোগত সংস্কার।
বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাত দুর্বল করপোরেট সুশাসন, ঋণ বিতরণে অনিয়ম ও অনৈতিক সুবিধার কারণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের (এনপিএল) হার দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৩২ শতাংশের বেশি, যা দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাংকগুলোর গড় খেলাপি ঋণের (৭.৯ শতাংশ) চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে পুরো ব্যাংকিং খাতের মূলধন ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের অনুপাত ঋণাত্মক ২.৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেসমে বলেন, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার যে লক্ষ্য বাংলাদেশের রয়েছে, তার জন্য একটি স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক খাত অপরিহার্য। তবে দেশের মোট আর্থিক খাতের সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশ ধারণকারী ব্যাংক খাত ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে।
তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাংলাদেশকে এমন কিছু প্রয়োজনীয় হাতিয়ার, ব্যবস্থা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে, যা ক্ষুদ্র আমানতকারীদের রক্ষা করবে, আর্থিক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করবে; যেন এটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
এই প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামো আধুনিকায়ন ও উন্নত করা হবে, যা ক্রমবর্ধমান সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা এবং খাতভিত্তিক তথ্য ও বিশ্লেষণের গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি দূর করতে সহায়তা করবে।
এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, তথ্যনির্ভর ও ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি জোরদার হবে এবং আর্থিক খাতের সামগ্রিক স্থিতিস্থাপকতা বাড়বে।
বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞ এবং প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার তোশিয়াকি ওনো বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) অন্য উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এটি মূলত সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করতে এবং ব্যাংকিং খাতের চাপ ব্যবস্থাপনায় কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
২৬ দিন আগে
ভঙ্গুর থেকে স্থিতিস্থাপক অর্থনৈতিক অবস্থায় পৌঁছাতে দুই বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী
বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে স্থিতিস্থাপক অবস্থায় পৌঁছাতে দুই বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, তৃতীয় বছর হবে উত্তরণের সময় এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হবে দেশের সমৃদ্ধির বছর।
সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর গ্রিন রোডে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) ও ইউএপির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘দ্য ফিসকাল কম্পাস ২০২৬: বিয়ন্ড দ্য নাম্বার্স, শেপিং বাংলাদেশ’স ফিউচার—প্রপোজড ন্যাশনাল বাজেট ২০২৬-২০২৭’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাজেট প্রণয়ন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমাদের হাতে সময় ছিল মাত্র দেড় মাস, অথচ জনগণের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন দেশ অর্থনৈতিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং মানুষ অর্থবহ পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে, তখন ভারসাম্য রক্ষা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।’
তিনি বলেন, ‘ভঙ্গুর অবস্থা থেকে স্থিতিস্থাপক অবস্থায় পৌঁছাতে দুই বছর সময় লাগবে। তৃতীয় বছর হবে একটি ভালো সময়। আর চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হবে সমৃদ্ধির বছর।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণই এবারের বাজেটের অন্যতম কেন্দ্রীয় ধারণা। নাগরিকরা কেবল নিষ্ক্রিয় দর্শক হয়ে থাকবে না; বরং অর্থনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ ও অবদান রাখার সুযোগ পাবে।
তিনি বলেন, বৃহত্তর অংশগ্রহণ, অন্তর্ভুক্তি এবং সুযোগ সৃষ্টির ভিত্তিতে নতুন অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এ দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সৃজনশীল অর্থনীতি, যার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিভাবান জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় আনা হবে।
স্থানীয় পণ্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ইবে ও অ্যামাজনের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বাংলাদেশের কারুশিল্পকে বিশ্ববাজারে তুলে ধরা সম্ভব। একইভাবে সংগীত, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যভিত্তিক শিল্পেও বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, বাজেট কখনোই শুধু একটি অর্থনৈতিক দলিল নয়; এটি একটি রাজনৈতিক হাতিয়ারও, যা সরকারের অগ্রাধিকার ও দিকনির্দেশনা প্রতিফলিত করে। তিনি বলেন, নতুন সরকার একটি উচ্চাভিলাষী বাজেট উপস্থাপন করেছে, তবে এর বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং অর্থায়নের উৎস নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউএপির স্কুল অব বিজনেসের ডিন প্রফেসর ড. এম এ বাকী খলিলী। তিনি বলেন, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটের মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগনির্ভর পুনরুদ্ধার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম জাহান বলেন, যেকোনো বাজেটের কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে মানুষ। বাজেটকে এক বছরের বিচ্ছিন্ন পরিকল্পনা হিসেবে না দেখে আগামী পাঁচ বছরের ধারাবাহিক উন্নয়ন কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখতে হবে। তিনি অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার, ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান, অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ, র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক, সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসীসহ বিভিন্ন খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
২৮ দিন আগে
ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নে জোর দিতে হবে: অর্থমন্ত্রী
সরকার ধীরে ধীরে ব্যাংকঋণনির্ভর অর্থায়ন থেকে বেরিয়ে এসে বিকল্প অর্থায়নের পথ খুঁজছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে একটি বাজারভিত্তিক অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
রবিবার (২১ জুন) রাজধানীতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত বাজেট সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা কেবল বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর দিকে তাকিয়ে থাকতে পারি না। আমাদের নিজেদের সরকারি অর্থায়ন ব্যবস্থার পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।
মন্ত্রী জানান, সরকার বিকল্প অর্থায়নের চ্যানেল তৈরির জন্য কাজ করছে। পাশাপাশি অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে একটি বাজারভিত্তিক অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ব্যবস্থার পরিবর্তন, ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি এবং বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোর কঠোর শর্তের কারণে প্রচলিত অর্থায়ন পদ্ধতি আগের মতো কার্যকর থাকছে না।’ এ পরিস্থিতিতে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সক্ষমতা শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেন তিনি।
স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের ফলে বাজারে তারল্য সংকট সৃষ্টি হয় এবং সুদের হার বৃদ্ধি পায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এতে বেসরকারি খাত ও শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়।’ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সামগ্রিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের বিষয়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৪ বিলিয়ন ডলারের মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার প্রতিকূলতার মুখে পড়েছে এবং দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার প্রতিটি খাতে শত শত কোটি টাকার বকেয়া বিল উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, যে বাজেট তৈরি করতে সাধারণত ছয় মাস সময় লাগে, সেটি প্রস্তুত করার জন্য বর্তমান সরকার মাত্র দেড় মাস সময় পেয়েছে।
তিনি বলেন, আগের সরকারের কাছ থেকে আমরা ১ হাজার ৩০০টি প্রকল্প উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, যার অনেকগুলোই ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প বাতিল বা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আবার যে প্রকল্পগুলোর কাজ ৮০ শতাংশ শেষ হয়ে গিয়েছিল, সেগুলোর রিটার্ন অনিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও কাজ শেষ করা হচ্ছে।
জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেন, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে একটি এডিপি ড্যাশবোর্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি এবং বাস্তবায়নের অবস্থা রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করা যাবে।
বাণিজ্য সহজীকরণের বিষয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশ পর্যায়ক্রমে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) ব্যবস্থা থেকে সরে এসে বৈশ্বিক নিয়মের সঙ্গে মিল রেখে আমদানি-রপ্তানির জন্য সরাসরি পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করবে, যা নির্ভরযোগ্য ব্যবসায়ীদের এলসি খোলা ছাড়াই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করার সুযোগ দেবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনীতির বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যা সমাধান করে টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তুলতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামী দুই বছরের মধ্যে অর্থনীতি বর্তমান সংকটময় অবস্থা থেকে স্থিতিশীলতার পথে এগোবে। তৃতীয় বছর থেকে পুনরুদ্ধারের সুফল দৃশ্যমান হবে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।’
২৯ দিন আগে
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্পূরক বাজেটে ব্যয় ও ঘাটতি সমন্বয় করেছে সরকার: অর্থমন্ত্রী
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে সরকার সম্পূরক বাজেটে ব্যয় ও বাজেট ঘাটতিতে সমন্বয় এনেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা শেষে সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ কাঠামোর দুর্বলতা, মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ এবং বৈশ্বিক অস্থিরতা মোকাবিলা করে দেশের অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বর্তমান সরকার গঠনের পর থেকে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে অপচয় কমানো, অগ্রাধিকারহীন ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক ব্যয়ে মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দেওয়া ভর্তুকির বিষয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয় করতে হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানীভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
এসব কার্যক্রমের জন্য সম্পূরক বাজেটে ব্যয় এবং ঘাটতির কিছুটা সমন্বয় করতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারের নিট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। তবে নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে সরকারি ব্যয়, বিশেষ করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়নের গতি কিছুটা মন্থর থাকায় সংশোধিত বাজেটে মোট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে মোট নিট ব্যয় দাঁড়াবে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা।
তিনি জানান, সংশোধিত বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশোধিত বাজেটে ২৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ ৫৬ হাজার ১১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ ৫৯ হাজার ৩৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা কমানো হয়েছে।
সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নেওয়া সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত মঞ্জুরি দাবিগুলো অনুমোদনের জন্য সংসদের প্রতি আহ্বান জানান।
৩৫ দিন আগে
প্রশাসনিক সংস্কার, দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে: অর্থমন্ত্রী
ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমানো, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির চাপ ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ (শুক্রবার) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি কোনো স্বল্পমেয়াদী সমস্যা নয়। এটি গত কয়েক বছরের পুঞ্জীভূত চাপ, বৈশ্বিক সংঘাত, আমদানির উচ্চ খরচ এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতার সম্মিলিত ফল।
তিনি উল্লেখ করেন, গত তিন বছর ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বিভিন্ন বাহ্যিক কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে, ঋণখেলাপি, জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকগুলোতে যে মূলধন সংকট তৈরি হয়েছে, তা তহবিলের খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আমির খসরু বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এ ধরনের বাহ্যিক মূল্যস্ফীতির চাপের ওপর বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ সীমিত। তবে, নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ, প্রশাসনিক সংস্কার ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ব্যবসার খরচ কমিয়ে সরকার দেশের ভেতরে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে পারে।
অর্থমন্ত্রীর মতে, দীর্ঘমেয়াদী অনুমোদন প্রক্রিয়া, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, ঋণের উচ্চ সুদ, বন্দরে অদক্ষতা এবং কর ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়।
তিনি বলেন, বাজারে পুলিশ, নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বা সরকারি কর্মকর্তা মোতায়েন করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এটি সঠিক নীতি এবং দক্ষ প্রশাসনের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে।
বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে আগামী অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
খসরু বলেন, সরকার ব্যবসার সহজীকরণ, অপ্রয়োজনীয় নিয়মকানুন হ্রাস এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বৃহত্তর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেবে। এছাড়া বন্দর, লজিস্টিকস এবং ক্রয় প্রক্রিয়ার সংস্কারও খরচ কমাতে সাহায্য করবে।
দীর্ঘমেয়াদী ক্রয় পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বাজারের ধাক্কা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশের জ্বালানি, খাদ্য ও সারের কৌশলগত মজুত বজায় রাখা উচিত। জ্বালানি আমদানির বিষয়ে অতীতের স্পট মার্কেট নির্ভরতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভালো দাম পেতে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির দিকে এগোতে চায়।
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বিষয়ে খসরু বলেন, দীর্ঘ কয়েক বছর বড় ধরনের কোনো সমন্বয় না হওয়ায়, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচের সঙ্গে সঙ্গতি রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল।
তিনি বলেন, মানুষ যখন আর্থিক সংকটে পড়ে, তখন দুর্নীতির প্রবণতা বাড়ে। বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই চাপ কমবে এবং সরকারি কর্মচারীদের উন্নত জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত হবে।
বাজেটের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতের বিকাশে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। তরুণ ও শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগ মানেই কর্মসংস্থান। আমাদের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে চাকরির চাহিদা তৈরি করা।
খসরু বলেন, এই বাজেট প্রচলিত ধারা থেকে একটি বড় পরিবর্তন এবং এটি পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন।
অভ্যন্তরীণ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সরকারি ঋণের কারণে অনেক সময় বেসরকারি খাতের ঋণ পাওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়। চলতি অর্থবছরে স্থানীয় ব্যাংক থেকে পরিকল্পিত ঋণ গ্রহণের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় কমানো হয়েছে এবং আগামী বছরগুলোতেও এই ধারা বজায় থাকবে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বাজেটের বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, নিম্নআয়ের এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সহায়তার লক্ষ্যেই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের সহায়তা, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার মতো কর্মসূচিগুলোর উদ্দেশ্য হলো মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং তাদের আরও ভালো কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করা।
অর্থমন্ত্রী সরকারের প্রস্তাবিত ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন, যার লক্ষ্য কারুশিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের মূলধারার অর্থনীতিতে একীভূত করা। তিনি বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পী, তাঁতি, কুমার, সংগীতশিল্পী এবং অন্যান্য সৃজনশীল কর্মীদের অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ, ডিজাইন সহায়তা এবং বাজারের সুযোগ দেওয়া হবে, যারা এতদিন আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বাইরে ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, সৃজনশীল কেন্দ্র, সাংস্কৃতিক জেলা, পর্যটন-সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এবং ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার কর্মসূচিসহ এই সৃজনশীল অর্থনীতি উদ্যোগ চালু করতে সরকার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতাকে অর্থনৈতিক রূপ দেওয়া, যাতে শিল্পী ও কারুশিল্পীরা তাদের জীবিকার উন্নতি করতে পারেন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারেন।
খসরু আরও জানান, সম্পত্তি লেনদেনের মাধ্যমে অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করার সুযোগ বন্ধ করতে সরকার পুরানো মৌজা জমির মূল্যায়ন হার পর্যালোচনা করছে, যা প্রায়ই বাজার মূল্যের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকে। মৌজা রেট সংশোধন করে প্রকৃত বাজার মূল্যের কাছাকাছি আনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে এর জন্য দেশব্যাপী জরিপ প্রয়োজন এবং বাজেটের আগে এটি সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল না।
বাস্তবায়নের বিষয়ে আশঙ্কার জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সংস্কার কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স এবং একটি অনলাইন অভিযোগ প্ল্যাটফর্ম গঠন করবে।
তিনি বলেন, কোনো কাজে বিলম্ব বা অনিয়ম হলে কেউ জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে থাকবে না। আমরা বাস্তবায়নের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এর আগে, প্রারম্ভিক বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এই বাজেটকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট হিসেবে বর্ণনা করেন, যা নতুন সরকার গঠনের পর দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই বাজেট সুবিধাভোগী অর্থনৈতিক মডেল থেকে সরে এসে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রীকরণ’ নিশ্চিত করতে চায়।
মন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি অর্থনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে যা প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়, আর্থিক অব্যবস্থাপনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছিল, যার ফলে বাজেট প্রণয়ন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের সরকারি ব্যয় এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলো চারটি মূল মানদণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে: অর্থের সঠিক মূল্য (ভ্যালু ফর মানি), বিনিয়োগের রিটার্ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত টেকসই স্থায়িত্ব (এনভায়রনমেন্টাল কনসিডারেশন)।
আমির খসরু বলেন, ‘আমাদের বাজেট চিন্তায় ছিল বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষকে নিয়ে আসার। তাদের জীবনযাত্রার মান তাদের ভবিষ্যৎ সবসময় বাজেটে প্রতিফলিত হয় না। এবারের বাজেটে আমরা চেষ্টা করেছি সবাইকে আনার। আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে কোনো শ্রেণি, পেশা, ধর্ম, বর্ণের কেউ এই বাজেটের আওতার বাইরে আছে বলে আমি মনে করি না।’
৩৮ দিন আগে