অর্থনীতি
দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক
দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিন সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় মূলত টানা পাঁচ দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার ব্যাংকগুলোতে ছুটি থাকবে। তবে ১৭ অক্টোবর (শনিবার) স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী ব্যাংকিং কার্যক্রম চলবে।
গত ৭ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
তবে ২০ থেকে ২২ অক্টোবরের সরকারি ছুটি এবং ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংক শাখা, বুথ ও উপশাখাগুলোতে সীমিত পরিসরে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত কাজ চালু থাকবে।
বিদ্যমান নির্দেশনা অনুসরণ করে এসব শাখা স্থানীয় প্রশাসন ও বন্দর বা শুল্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
৭ ঘণ্টা আগে
ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: গভর্নর
ব্যাংক খাতকে ব্যাপক ‘আর্থিক লুটপাট ও কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি’ থেকে পুনরুদ্ধারে পাঁচ থেকে আট বছর পর্যন্ত জাতীয় বাজেট থেকে প্রতিবছর ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) ওয়ান ব্যাংক পিএলসি আয়োজিত বাংলা কিউআর লেনদেনের প্রচার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আর্থিক খাতের অর্থপাচার ও অনিয়মের ব্যাপকতা তুলে ধরে গভর্নর বলেন, তিনি যখন গভর্নরের দায়িত্ব নেন, তখন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট তহবিলের এক-তৃতীয়াংশই লুট হয়ে গিয়েছিল।
আর্থিক খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগব্যয় তুলে ধরে গভর্নর বলেন, এই পরিমাণ অর্থ দিয়ে সরকার দুই কোটি পরিবারকে সহায়তা দিতে পারত অথবা পদ্মা সেতুর মতো দুটি বড় অবকাঠামো প্রকল্প নির্মাণ করতে পারত।
ব্যাংকিং ব্যবস্থার তারল্য সংকটের জন্য দায়ীদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ অপরাধের ভয়াবহতা বোঝাতে প্রচলিত শব্দ যথেষ্ট নয়।
মোস্তাকুর রহমান বলেন, লুটেরা গোষ্ঠী জনগণের অর্থ লুট করেছে। এটি সাধারণ চুরি নয়; এটি ছিল লুটপাট।
গভর্নর আশ্বস্ত করে বলেন, ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং লুট হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে ইতোমধ্যে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
২ দিন আগে
রামপাল সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ ১৬,২০৮ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) রামপাল সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১০টি নতুন, দুটি সংশোধিত ও একটি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এসব প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ হিসেবে ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে সাতটি প্রকল্প। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন; রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর উন্নয়ন; রংপুর সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসন; এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনে সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ।
একনেক সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পও অনুমোদন করা হয়েছে।
এছাড়া সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃজন, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনীও অনুমোদন করা হয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও আটটি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ প্রকল্পটি তৃতীয় সংশোধনীতে অনুমোদন করা হয়েছে।
এছাড়া ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহের মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণের একটি রেল প্রকল্পও অনুমোদন করা হয়েছে।
ফ্রান্সের প্যারিসে ক্রয় করা চ্যান্সারি ভবনটি ব্যবহারোপযোগী করতে সংস্কার ও আধুনিকায়নের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পও একনেক সভায় অনুমোদন করা হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। এর একটি হলো ভজনপুর (নিজবাড়ী)-আটোরখাড়ি-ময়নাগুড়ি-আমতলী-মিরগড়-পঞ্চগড় (জেড-৫০৬০) সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণ এবং অন্যটি থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী।
এদিকে ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদিত একটি প্রকল্প সম্পর্কে একনেক সভাকে অবহিত করা হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় জয়পুরহাট জেলার নন্দাহার ও হারাবতী নদী এবং নুনগোলা ও খাড়োয়া খাল পুনঃখনন করা হবে।
৫ দিন আগে
২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য বাংলাদেশের: তিতুমীর
ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ নতুন উন্নয়নযাত্রা শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টসের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ক্ষমতাচ্যুত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণে সরকার পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠন—এই তিন ‘আর’ (থ্রি-আর) কৌশলের ভিত্তিতে নতুন উন্নয়ন মডেল বাস্তবায়ন করছে। এতে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শিল্পের বহুমুখীকরণ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে ড. তিতুমীর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপনে প্রবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তিনি তরুণ প্রকৌশলী ও উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানো, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা গড়ে তোলা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান হস্তান্তর এবং সম্ভাবনাময় দেশীয় স্টার্টআপগুলোর জন্য বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও বাজারের দ্বার উন্মুক্ত করতে প্রবাসী পেশাজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান।
ড. তিতুমীর বলেন, আপনাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও পেশাগত যোগাযোগও বাংলাদেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের ব্যক্তিগত সাফল্যকে বাংলাদেশের জন্য সম্মিলিত সম্ভাবনায় রূপান্তর করার আহ্বান জানান তিনি।
সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী মনির জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ডেবি ডিঙ্গেল ও মিশিগান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মেগান ক্যাভানাহ। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিরা অংশ নেন।
১৫ দিন আগে
জুলাই থেকে কার্যকর নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। চলতি বছরের জুলাই থেকে এ বেতন কাঠামো কার্যকর হবে বলে এতে জানানো হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ শিরোনামে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা সংশোধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ পাবেন।
চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত তারা এই হারে বেতন পাবেন। বর্ধিত অর্থ ৩০ জুন প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে।
এরপর ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মীরা বর্ধিত মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীরা ৭৫ শতাংশ পাবেন। বাকি অংশ ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। ওই সময় বার্ষিক বেতন বৃদ্ধিও প্রযোজ্য হবে।
এছাড়া নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীরা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে বর্ধিত বেতনের বাকি অংশ বকেয়া হিসেবে পাবেন।
নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা, যেমন বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও মোবাইল ভাতা বৃদ্ধি ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
পেনশনভোগীরাও চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে নিজ নিজ পেনশন স্ল্যাব অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পাবেন।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর গত ৩১ আগস্ট সরকার নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করে।
সরকার দুই অর্থবছরে তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে।
সবচেয়ে নিচের ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এতে বেতন বেড়েছে ১৪২ শতাংশ। অন্যদিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ১ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে নির্ধারিত সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।
সিনিয়র সচিবদের বেতন ৮২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের বেতন ৮৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে নির্ধারিত ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা হবে।
বর্তমানে দেশে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ এবং পেনশনভোগীর সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বশেষ বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে।
২৩ দিন আগে
পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারণে এডিবির ১৭.৫ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্প্রসারণে ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের স্বল্পসুদে ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ উদ্যোগের মাধ্যমে জীবিকা উন্নয়ন, জরুরি সেবার মানোন্নয়ন এবং দেশের অন্যতম দুর্গম অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এডিবির ‘সাসটেইনেবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কমিউনিটি এমপাওয়ারমেন্ট ইন দ্য চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস প্রজেক্ট’-এর আওতায় খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলার ২৬টি দুর্গম উপজেলায় বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করা হবে।
এর মাধ্যমে অন্তত ৮৮ হাজার অতিরিক্ত পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রায় ৩৫ হাজার পরিবার রয়েছে।
এ বিষয়ে এডিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় ছয়টি ৩৩/১১ কিলোভোল্ট সাবস্টেশন নির্মাণ করা হবে, যার মাধ্যমে ৮০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার সক্ষমতা যুক্ত হবে। পাশাপাশি কম বিদ্যুৎ ক্ষয় হয় এমন কন্ডাক্টর ব্যবহার করে ৫ হাজার ৩২ কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হবে। পুরোনো ১ হাজার ৮৭৪ কিলোমিটার বিতরণ লাইন, চারটি সাবস্টেশন, একটি সুইচিং স্টেশন এবং একটি জোনাল মেরামত কর্মশালাও সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হবে।
এসব উন্নয়নের ফলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সিস্টেম লস ও পরিচালন ব্যয় কমবে, গ্রিডের দক্ষতা বাড়বে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে বছরে অন্তত ১৯ হাজার ৩০০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন এড়ানো সম্ভব হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় ১৮ লাখ ৪০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। তাদের অর্ধেকেরও বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতায়নের হার ৯৯ শতাংশে পৌঁছালেও পার্বত্য চট্টগ্রামে গ্রিড সংযোগের হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম। খাগড়াছড়িতে এ হার ৪৯ শতাংশ, রাঙামাটিতে ৪৩ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪১ শতাংশ।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২০৩২ সালের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে গ্রিড-সংযোগের হার ৬৮ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুৎ ও পিকো-হাইড্রোপাওয়ারসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের উপযোগী করে গ্রিডকে প্রস্তুত করা হবে।
সামাজিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে অন্তত ৩০টি সৌরবিদ্যুৎচালিত নিরাপদ পানির ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এসব ব্যবস্থাপনা করবে স্থানীয় কমিউনিটি সংগঠন, যেখানে নেতৃত্বের অন্তত ৩০ শতাংশ পদে নারী থাকবেন।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় পরিষ্কার জ্বালানির মাধ্যমে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকার অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠানেও সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক ব্যাকআপ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এর আওতায় স্কুল, হাসপাতাল, মন্দির ও ক্লিনিক থাকবে।
জীবিকার সুযোগ বাড়াতে অন্তত এক হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণ, দুইশর বেশি উদ্যোক্তাকে ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণে সহায়তা এবং ৩০০ শিক্ষার্থীকে জ্বালানি খাতের ক্যারিয়ার ও দুর্যোগ-সহনশীল জ্বালানি ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
সেবার মান বাড়াতে তিনটি গ্রাহক অভিযোগ কেন্দ্র এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থাসহ তিনটি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কর্মকর্তাদের গ্রাহকসেবা, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ-সহনশীল প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং বলেন, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ কর্মসংস্থান, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কমিউনিটির দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম শক্তিশালী চালিকাশক্তি।
তিনি বলেন, এই প্রকল্প পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম জনগোষ্ঠীকে আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনবে। একই সঙ্গে জীবিকার সুযোগ বাড়াবে, নারীর অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করবে এবং বাংলাদেশকে আরও দুর্যোগ-সহনশীল ও কম কার্বন নিঃসরণভিত্তিক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
এডিবির অর্থায়নের পাশাপাশি জাপান সরকারের অর্থায়নে এডিবির মাধ্যমে জাপান ফান্ড ফর প্রোসপারাস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক থেকে প্রকল্পটিতে ২৭ লাখ ২০ হাজার ডলারের অনুদান দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সরকার প্রকল্পে ৩ কোটি ৬৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং প্রকল্পের নির্বাহী ও বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ৪ কোটি ৫৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার অর্থায়ন করবে।
৪১ দিন আগে
নবম পে-স্কেল অনুমোদন; সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা
সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা অধিকতর যৌক্তিক ও যুগোপযোগী করতে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন বেতনস্কেলে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬’ এবং এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্রবাহিনীর জন্য ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলি ২০২৬’ অনুমোদন করা হয়। এগুলো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
অনুমোদিত নতুন বেতনস্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত বিদ্যমান ১:১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে।
এর ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
পেনশনে ৫৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি
নতুন বেতনস্কেলের পাশাপাশি অবসরভোগী পেনশনধারীদের নিট পেনশন স্ল্যাবভিত্তিক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাসিক ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন আহরণকারীদের পেনশন ১০০ শতাংশ, ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন আহরণকারীদের ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
সরকার জানিয়েছে, দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া এবং তুলনামূলক কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্তে পেনশন বৃদ্ধির পরিমাণ বেশি হবে।
নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী, সামরিক ও অসামরিক উভয় ক্ষেত্রে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বা ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন’ (ওআরওপি) পদ্ধতি চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে সরকারের।
তবে, এ পদ্ধতি একসঙ্গে বাস্তবায়নে বিপুল আর্থিক সংশ্লেষ এবং অসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের আগে অবসর নেওয়া ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকায় সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ওআরওপি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য ভাতা
প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে।
এছাড়া ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যয় বিবেচনায় মোবাইল ভাতার আওতাও বাড়ানো হয়েছে। এতদিন শুধু পঞ্চম গ্রেডের কর্মচারীরা এ ভাতা পেতেন। নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী সব গ্রেডের কর্মচারী মোবাইল ভাতা পাবেন।
দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন
নতুন বেতনস্কেল এ বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হলেও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব বিবেচনায় তা একযোগে বাস্তবায়ন করা হবে না।
চলতি ২০২৬-২৭ ও আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে বেতনস্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বল্প আয়ের বিষয়টি বিবেচনায় দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের ১ জুলাইয়ের মধ্যে মূল বেতন মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর হবে।
পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও একইভাবে ধাপভিত্তিক নিট পেনশন বৃদ্ধি কার্যকর হবে।
সরকার জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়ন করা হলে জাতীয় পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ প্রশমনে সহায়তা করবে।
জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য ইতোমধ্যে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস বেতনস্কেল অনুমোদন করা হবে। এটিও এ বছরের ১ জুলাই থেকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর মতো ধাপে ধাপে কার্যকর হবে।
উপকৃত হবেন প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ
নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন।
এ জন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। মিডিয়াম টার্ম বাজেটারি ফ্রেমওয়ার্ক (এমটিবিএফ) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অর্থবছরগুলোর বাজেটে এ অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে।
সরকার মনে করে, নতুন বেতনস্কেল সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও নির্দেশনা জারি করবে। এসব নির্দেশনায় বেতন নির্ধারণ পদ্ধতি, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন ও অবসর-পরবর্তী অন্যান্য সুবিধাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত বিধান থাকবে।
৪২ দিন আগে
লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণে প্রযুক্তিনির্ভর লজিস্টিক হাবের পথে আরও এগোবে চট্টগ্রাম: অর্থমন্ত্রী
ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালসের বিনিয়োগে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ চট্টগ্রামকে প্রযুক্তিনির্ভর লজিস্টিক হাবে পরিণত করার পথে আরও একধাপ এগিয়ে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, ‘লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণে এপিএম টার্মিনালসের বিনিয়োগ চট্টগ্রামকে লজিস্টিক হাবে পরিণত করার ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রেও এটি একটি মাইলফলক।’
রবিবার (৩০ আগস্ট) চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রকল্প এলাকায় লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম যৌথভাবে টার্মিনালটির আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন।
লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণে বিশ্বখ্যাত ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস ৫৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে।
৪৩ দিন আগে
একনেকে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১০ প্রকল্প অনুমোদন করেছে। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৮ হাজার ৪৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৯৩৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প রয়েছে। এগুলো হলো—ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনা প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ এবং ১০টি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৯টি আধুনিক ছাত্রাবাস (প্রথম সংশোধন) নির্মাণ।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ‘বাংলাদেশে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে সেতুর স্মার্ট রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তির সক্ষমতা উন্নয়ন’ প্রকল্পটিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি প্রকল্প রয়েছে। এর একটি ধরলা নদীর ডান তীরের ভাঙন থেকে লালমনিরহাট সদর উপজেলা রক্ষা এবং অন্যটি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট ও ফেরিঘাট থেকে কুমিরা ঘাট পর্যন্ত উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালীকরণ।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে একনেক।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সক্ষমতা জোরদার করার একটি প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতের দুটি প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। এগুলো হলো: জামালপুরের মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত) এবং ঢাকার ডেসকো এলাকায় বৈদ্যুতিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (প্রথম সংশোধন) প্রকল্প।
এ ছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রামু সেনানিবাসের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
এদিকে, ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরও নয়টি প্রকল্প পরিকল্পনামন্ত্রী ইতোমধ্যে অনুমোদন করেছেন বলে সভায় জানানো হয়।
এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বিএসএল-৩ গবেষণাগার স্থাপন এবং ভ্যাক্সিন ও বায়োলজিক্যাল গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (বেস্ট) প্রথম সংশোধিত প্রকল্প, সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্প, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ট্রান্সমিশন গ্রিড সম্প্রসারণ (দ্বিতীয় সংশোধিত), ঢাকার গুলশানে ১৩২/৩৩/১১ কেভি ভূগর্ভস্থ গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণ, ডিপিডিসির আওতাধীন বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন (দ্বিতীয় সংশোধিত), মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (চতুর্থ পর্যায়), জনসেবা প্রদানে নিউ মিডিয়ার সর্বোত্তম ব্যবহার এবং কক্সবাজার জেলা ও নোয়াখালীর ভাসানচরে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন (প্রথম সংশোধন)।
৫৪ দিন আগে
ব্যাংকিংসহ সামগ্রিক আর্থিক খাত সংস্কারে বাংলাদেশ ব্যাংককে সহযোগিতার আশ্বাস এডিবির
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, পুনর্গঠন ও পুনঃমূলধনীকরণ এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি)।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (দক্ষিণ, মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া) জনাব ইংমিং ইয়াংয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠকে এই আশ্বাস দেওয়া হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, পুনর্গঠন ও পুনঃমূলধনীকরণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এ ক্ষেত্রে এডিবির সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ব্যাংকিং খাতসহ সামগ্রিক আর্থিক খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।
এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট এ সংস্কার কার্যক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানান এবং সংস্কার প্রক্রিয়ায় এডিবির সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশে আরও শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও টেকসই আর্থিক খাত গড়ে তুলতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. হাবিবুর রহমান ও ড. মো. কবির আহমেদ ও ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্টের (এফএসএসএসপিডি) সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
৬০ দিন আগে