অর্থনীতি
ইউনিসেফের মাধ্যমে ৪১২.৭১ কোটি টাকার টিকা কিনবে বাংলাদেশ
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) মাধ্যমে ৪১২ কোটি ৭১ লাখ টাকার টিকা ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
বুধবার (১০ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি এই টিকা কেনার জন্য একটি প্রস্তাব উত্থাপন করে কমিটির অনুমোদন চেয়েছে।
ক্রয় কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এটি অনুমোদনের সুপারিশ করেছে। মূলত টিকা সরবরাহের জন্য ইউনিসেফ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ক্রয় সংস্থা হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, টিকা দিয়ে প্রতিরোধ করা যায়—এমন সব মারাত্মক রোগ থেকে শিশুদের পাশাপাশি অন্যান্য লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে ইপিআই কার্যক্রমের আওতায় এই ভ্যাকসিনগুলো ব্যবহার করা হবে।
এই ক্রয়ের ফলে পুরো অর্থবছরজুড়ে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৬ ঘণ্টা আগে
পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে সংস্কারকাজ চলছে: অর্থমন্ত্রী
দেশের অভ্যন্তরীণ মূলধন বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনতে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সংস্কারের মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার কাজ চলছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুড়িগ্রাম-২ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পুঁজিবাজারের উন্নয়ন এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এর কার্যকর অবদান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।’
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্বীকার করেন যে বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজার দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
বাজারের বিকাশ ও সম্প্রসারণে সহায়ক বেশ কয়েকটি আর্থিক পণ্য এখনও পুরোপুরি বিকশিত হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংস্কার কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী জানান, বাজার তদারকি ও কার্যকারিতা বাড়াতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠন করা হয়েছে। সংস্থাটির সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে কমিশনে অভিজ্ঞ ও দক্ষ পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও চলমান সংস্কার কার্যক্রমের ফলে আগামী দিনে পুঁজিবাজারে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং এর মাধ্যমে জনগণের সঞ্চয়কে উৎপাদনশীল বিনিয়োগে রূপান্তরের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।
অর্থনীতির টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পুঁজিবাজারকে একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য অর্থায়নের উৎস হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
১ দিন আগে
বাজেট-পূর্ব একনেক বৈঠকে উন্নয়ন প্রকল্প ও প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার মাত্র দুই দিন আগে আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সকাল ১০টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠক শুরু হয় এবং দুপুর সোয়া ১টায় তা শেষ হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াসিন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
এছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সচিবগণ বৈঠকে অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন এবং সেগুলোর ওপর আলোচনা করেন।
আগামী ১১ জুন সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ করার কথা রয়েছে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর।
এর আগে, গত ১৮ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) আগামী অর্থবছরের জন্য ৩,০৮,৯২৪.৮৩ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করে।
তারও আগে, গত ১২ মে ৩৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ের পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পসহ নয়টি বড় প্রকল্প অনুমোদন করেছিল একনেক।
১ দিন আগে
বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে বাড়ল ১ টাকা ৫২ পয়সা
খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এর ফলে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর রমনায় কমিশনের শুনানিকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন এ মূল্য ঘোষণা করে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।
ঘোষণা অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। সেই সঙ্গে সঞ্চালন চার্জ বাড়ানো হয়েছে ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ। পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা করা হয়েছে। আর সঞ্চালন চার্জ ৩১ দশমিক ৩৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩৮ দশমিক ৮৬ পয়সা করা হয়েছে।
নতুন মূল্য গত ১ জুন থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।
এর আগে, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গত ২০ ও ২১ মে দুই দিনব্যাপী গণশুনানি আয়োজন করে বিইআরসি। সেখানে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, পিডিবি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা, আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির আবেদন করেছিল।
বিইআরসির কারিগরি কমিটি সুপারিশ করেছে, বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিদ্যুতের দাম গড়ে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানো যেতে পারে।
এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছিল। একই সময়ে পাইকারি দাম ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছিল।
৭ দিন আগে
বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশসহ অন্তত ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার (২ জুন) এক ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) এই প্রস্তাব প্রকাশ করেছে।
সংস্থাটির দাবি, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় পরিচালিত তদন্তে দেখা গেছে, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করা বা কার্যকরভাবে তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করছে এবং মার্কিন শ্রমিকদের জন্য অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করছে।
এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে ইউএসটিআর।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, ‘আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদাররা জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। এতে মার্কিন শ্রমিকরা বৈশ্বিক বাজারে অসাম্য প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আর এই বৈষম্য মেনে নেব না। কিছু দেশ ইউএসএমসিএ এবং পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় প্রাথমিক পদক্ষেপ নিলেও জোরপূর্বক শ্রমকে উৎসাহিত ও স্থায়ী করে তোলে—এমন বাণিজ্যিক পরিবেশ রোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
ইউএসটিআরের প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করেছে, অথবা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
অন্যদিকে, বাকি দেশগুলোর পণ্যের ওপর অতিরিক্ত সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু দেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রপণ্যের জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে, যার আওতায় নির্ধারিত পরিমাণ আমদানি কম হারের শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে।
ইউএসটিআর জানিয়েছে, প্রস্তাবিত পদক্ষেপ নিয়ে জনমত গ্রহণের জন্য আগামী ৭ জুলাই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানিতে অংশ নিতে আগ্রহীদের ২২ জুনের মধ্যে আবেদন ও সাক্ষ্যের সারসংক্ষেপ জমা দিতে হবে। লিখিত মতামত জমা দেওয়ার শেষ সময় ৬ জুলাই।
চলতি বছরের ১২ মার্চ ইউএসটিআর স্বপ্রণোদিত হয়ে ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে জনমত গ্রহণ ও প্রকাশ্য শুনানির আয়োজন করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬০ জন সাক্ষীর বক্তব্য এবং ৫০০টির বেশি পাল্টাপাল্টি মন্তব্য গ্রহণ করা হয়।
তদন্ত শেষে ইউএসটিআর সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, সংশ্লিষ্ট প্রতিটি দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করা এবং সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে।
বাংলাদেশসহ ৫৪টি এমন দেশ চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণেই ব্যর্থ হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, জাপান, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরও অনেক দেশ।
অন্যদিকে কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান ও ইকুয়েডরকে এমন দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ইউএসটিআরের মতে, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ ও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা বৈশ্বিকভাবে শ্রম শোষণ নির্মূলের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে। একই সঙ্গে এটি জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কম খরচে উৎপাদনের সুযোগ দিয়ে বাজারে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট করে এবং শ্রম মানদণ্ড মেনে চলা প্রতিষ্ঠানগুলোর লাভজনকতা কমিয়ে দেয়।
এ ছাড়া এই ব্যর্থতা মার্কিন বাজার ও রপ্তানি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদকদের জন্য অন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
৭ দিন আগে
মিথ্যা প্রতিবেদনের মাধ্যমে দুর্বল কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
মিথ্যা প্রতিবেদনের মাধ্যমে দুর্বল কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে, যার ফলে যোগ্য ও মৌলিক কোম্পানিগুলো বাজারে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
দেশে সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে এবং পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতের প্রতি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
বুধবার (২০ মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল কর্তৃক ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) এবং ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) যৌথ সহযোগিতায় আয়োজিত এফএআর সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এবারের সামিটের মূল প্রতিপাদ্য ছিল— ট্রাস্টওয়ার্দি ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং: হোয়াট রিয়েলি ম্যাটার্স।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি অস্থির সময় পার করেছে। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা, তদারকি ব্যবস্থা ও পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাসমূহ প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ায় আর্থিক খাতে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এছাড়া মিথ্যা প্রতিবেদনের মাধ্যমে দুর্বল কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে, যার ফলে যোগ্য ও মৌলিক কোম্পানিগুলো বাজারে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।
আর্থিক খাতের বর্তমান সংকট উত্তরণে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন একটি ক্রসরোডে (মোড়ে) দাঁড়িয়ে আছি। বর্তমান সরকার এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকবে।
তিনি বলেন, এফআরসি, আইসিএবি এবং আইসিএমএবির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে কাজ করছে, তার ওপরই অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। কোনো নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার পক্ষে প্রতিদিন ভুল বের করা সম্ভব নয়। তাই হিসাববিদদের নিজেদের এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সবার আগে ‘সেলফ-রেগুলেট’ বা স্বপ্রণোদিত নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা নিতে হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি খাতের ওপর বিশ্বাস রেখে অতীতে বিজিএমইএকে যেভাবে ইউডি সার্টিফিকেট প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তারা সফল হয়েছিল, ঠিক তেমনি আইসিএবি এবং আইসিএমএবি-কে কেবল বার্ষিক সাধারণ সভা বা ডিনারের আয়োজক হিসেবে সীমাবদ্ধ না থেকে তাদের সদস্যরা কীভাবে কাজ করছে এবং সঠিক অডিট করছে কি না, তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
মন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতি তৈরি হওয়া নতুন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, বিশ্বের বড় বড় ফান্ড ম্যানেজার এবং বিনিয়োগকারীরা এখন বাংলাদেশের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছে। জেপি মরগ্যানসহ বিশ্বখ্যাত ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে আসতে চায়। আমরা হংকং ও লন্ডনে বাংলাদেশ ডেডিকেটেড ফান্ড ফ্লোট করার পরিকল্পনা করছি, পাশাপাশি ডোমেস্টিক বন্ড চালু করতে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, এই বিশাল বিদেশি বিনিয়োগ বা ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট (এফডিআই) আকর্ষণের প্রথম শর্তই হলো নির্ভরযোগ্য আর্থিক প্রতিবেদন। বিনিয়োগকারীরা যদি অডিট প্রতিবেদনের ওপর আস্থা না পায়, তবে কোনো সংস্কারই কাজে আসবে না।
স্বল্পমেয়াদি সুবিধা নয়, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে একটি বৈশ্বিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার জন্য পুঁজিবাজার, এনবিআর এবং আর্থিক খাতের চলমান সংস্কার কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম ভাইস প্রেসিডেন্ট বিটিএমএ। অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন এফআরসির চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া।
২১ দিন আগে
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত থাকবে আর্থিক খাত: অর্থমন্ত্রী
পুঁজিবাজারসহ দেশের বিনিয়োগ ও আর্থিক খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের আর্থিক খাত স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে এবং বিনিয়োগ ও ঋণ বরাদ্দে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হবে না।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ স্টার্ট-আপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির (বিএসআইসি) উদ্বোধনী ফান্ড ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের উদ্যোক্তা খাতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে ৩৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক যৌথভাবে বিএসআইসি চালু করেছে, যা বাংলাদেশের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিচালিত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্ল্যাটফর্ম। প্রাথমিকভাবে ৪২৫ কোটি টাকার তহবিল নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য স্টার্টআপ খাতের বিদেশি অর্থায়নের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক খাতে সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। বিনিয়োগ বরাদ্দের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক প্রভাব থাকবে না—এটি সরকারের স্পষ্ট নীতিগত অবস্থান।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে যাতে এটি তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যেতে পারে। সরকারের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক রূপান্তরের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে উৎপাদনশীলতা, প্রযুক্তি ও বেসরকারি খাতের উদ্ভাবন হবে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি।
তিনি আরও বলেন, বিএসআইসি বৈশ্বিক মানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে তরুণ উদ্যোক্তাদের সক্ষমতার প্রতি আমাদের আস্থার প্রতিফলন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানান, ৩০ জুনের পর বাংলা কিউআর কোড ছাড়া পেমেন্ট করা যাবে না।
গভর্নর আশাপ্রকাশ করে বলেন, নতুন প্রজন্মের অর্থায়নে সফল হবে স্ট্যার্টআপ কোম্পানি। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে, এমন প্রকল্প বাছাইয়ের আহ্বান জানান তিনি।
ব্যাংকগুলোর প্রাথমিক ৪২৫ কোটি টাকার বিনিয়োগের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক ভেঞ্চার ক্যাপিটালের জন্য পুনঃঅর্থায়ন তহবিল হিসেবে আরও ৫০০ কোটি টাকা দেবে।
গত পাঁচ বছরের নিট মুনাফার ১ শতাংশ অবদান রেখে ব্যাংকগুলো এ তহবিল গঠন করেছে। এটি সিড, লেট সিড ও সিরিজ-এ পর্যায়ের বিনিয়োগের জন্য ধারাবাহিক তহবিলচক্র হিসেবে পরিচালিত হবে।
বিএসআইসির চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন বলেন, ২০১০ সাল থেকে ৪৫০টির বেশি চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্টার্টআপ খাতে ১০০ কোটির বেশি ডলার বিনিয়োগ এলেও এর ৭ শতাংশেরও কম এসেছে দেশীয় উৎস থেকে।
তিনি জানান, বিএসআইসি শুধু একটি তহবিল নয়; এটি এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম, যা স্থানীয় আস্থার সঙ্গে বৈশ্বিক ভেঞ্চার মানদণ্ডের সংযোগ ঘটাবে। প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতেও এ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান তিনি।
বিএসআইসি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তারা প্রথম তিনটি বিনিয়োগ সম্পন্ন করতে চায়। এ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের মধ্যে একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল খাতে দেশীয় ব্যাংকগুলোর এই প্রাতিষ্ঠানিক প্রবেশ করপোরেট সুশাসনকে শক্তিশালী করবে এবং স্থানীয় স্টার্টআপগুলোকে বিদেশি অংশীদারদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
২৯ দিন আগে
বাংলাদেশের সাফল্যের গল্প বিশ্বে তুলে ধরতে অংশগ্রহণমূলক অর্থনীতি প্রয়োজন: অর্থমন্ত্রী
বাংলাদেশের সাফল্যের গল্প বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে দলমত নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্র কেবল রাজনীতিতে থাকলে চলবে না, অর্থনীতিতেও সাধারণ মানুষের সমান অধিকার থাকতে হবে।
বিশ্বব্যাংক ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) যৌথ উদ্যোগে রবিবার (১০ মে) ঢাকায় পিকেএসএফ অডিটরিয়ামে আয়োজিত ‘স্টেপিং ফরোওয়ার্ড: দ্য ইনঅগারেশন অব রেইজ-২’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইকোনমিক ডেমোক্র্যাটাইজেশন বা অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র কেবল রাজনীতিতে থাকলে চলবে না, অর্থনীতিতেও সাধারণ মানুষের সমান অধিকার থাকতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের প্রত্যেকটি নাগরিককে জাতীয় অর্থনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দেওয়া এবং উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া।
তিনি বলেন, সরকারি অর্থের জবাবদিহিতা এবং জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে জনকল্যাণমুখী ও কর্মসংস্থানবান্ধব প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগের বিপরীতে সুফল এবং পরিবেশগত সুরক্ষার শর্তগুলো পূরণ করা হবে।
এছাড়া অতীতে অপরিকল্পিতভাবে নেওয়া অলাভজনক প্রকল্প বর্তমানে পর্যালোচনা বা বাতিলের তালিকা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পিকেএসএফের কর্মতৎপরতার প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন এবং পিকেএসএফের কার্যক্রমের মধ্যে মিল রয়েছে। পিকেএসএফের কাজের পরিধি আরও বৈচিত্র্যময় করার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে সরকারের নতুন উদ্যোগ, যেমন: ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার, শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতের প্রসারে পিকেএসএফের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আমির খসরু বলেন, সরকার সরাসরি নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পরিবারের বাজেট রক্ষক হিসেবে নারীদের সরাসরি অর্থ স্থানান্তর করার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে চাহিদা বৃদ্ধি এবং সঞ্চয় প্রবণতা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য সরাসরি সেবা এবং স্বাস্থ্য খাতে সহায়তার বিষয়েও সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অর্থমন্ত্রী দেশের কামার-কুমার, তাঁতি এবং ক্ষুদ্র শিল্পীদের কথা তুলে ধরে বলেন, আমরা ‘ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট’ (একটি গ্রাম, একটি পণ্য) ধারণাটি বাস্তবায়ন করতে চাই। যেমন: বরিশালের শীতল পাটিকে নকশায় সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অ্যামাজন বা আলিবাবার মতো গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে নেওয়া যায়, তবে তা জিডিপিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। এছাড়া থিয়েটার, খেলাধূলা এবং গানকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে জিডিপিতে এগুলোর অবদান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, অতীতের অর্থনৈতিক বোঝা এবং বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সাফল্যের গল্প বিশ্বে তুলে ধরতে হলে দলমত নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের (আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ) সচিব নাজমা মোবারেক। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত ডিভিশন ডাইরেক্টর ড. গেইল এইচ মার্টিন, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, পিকেএসএফের কর্মকর্তা এবং রেইজ প্রকল্পের তৃণমূল পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীগণ।
৩১ দিন আগে
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হওয়া মানবতাবিরোধী মামলাগুলো যাচাই-বাছাই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর, অর্থাৎ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে হওয়া মানবতাবিরোধী মামলাগুলো যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য জেলা পর্যায়ে থেকে মামলাগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের চতুর্থ ও শেষ দিনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান। স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ অধিবেশন হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের পরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু মামলা হয়েছে, যেগুলো গণহত্যার মামলা এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা। জেলা পর্যায়ে কতগুলো মামলা সেরকম দাখিল হয়েছে, আজকে সে ব্যাপারে আমরা তাদের (ডিসি) কাছে তালিকা চেয়েছি। এগুলো প্রত্যন্ত জেলাগুলোতে হয়তো কম, কিন্তু মহানগরগুলোতে সংখ্যাটা একটু বেশি। অনেক মামলার মধ্যে হাজার হাজার মানুষকে আসামি করা হয়েছে, সেগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব প্রকৃত অর্থে প্রকৃত আসামি কারা। তদন্ত কর্মকর্তারা এ বিষয়ে তদন্ত করে দেখবেন যাতে স্বল্প সময়ের ভেতরে সেগুলোর নিষ্পত্তি করা যায়।
তিনি বলেন, যাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাদের যাতে নিষ্কৃতি দেওয়া হয়, সেই সুপারিশ আমরা করেছি। তবে এটা আইনানুগভাবে, আইনি প্রক্রিয়ায় হবে।
ডিসিদের মামলাগুলো পাঠানোর জন্য কত দিন সময় দেওয়া হয়েছে—জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমরা বলেছি এটা যথাশীঘ্র সম্ভব পাঠাতে। মৌখিকভাবে বলেছি সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে পাঠাতে। তবে কোনো ক্ষেত্রে কেউ যদি বিলম্ব করে থাকে, আমরা ন্যায়বিচারের স্বার্থে সেটা বিবেচনা করব। আশা করি যারা মামলা প্রত্যাহার চান, তারা বিলম্ব করবেন না।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছে। এতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার, পাবলিক প্রসিকিউটর (সরকারি কৌঁসুলি) এবং আরও একজন প্রতিনিধি আছেন। এই কমিটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জানিয়েছে, যদি কারও বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা ভুয়া/মিথ্যা মামলা হয়ে থাকে, তাহলে তিনি নির্দিষ্ট একটি ফরমে আবেদন করতে পারবেন।
তিনি জানান, আবেদনের সঙ্গে এফআইআর, এজাহার বা চার্জশিট (যদি হয়ে থাকে) এবং মামলাটি কোন আদালতে চলছে—এসব তথ্য দিতে হবে। এরপর কমিটি যাচাই-বাছাই করে দেখবে, মামলাটি সত্যিই এ ধরনের কি না। যদি তা প্রমাণিত হয়, তাহলে তারা মামলা প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করবে।
মন্ত্রী জানান, এই আবেদনগুলো প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাবে। সেখানে সঙ্গে সঙ্গে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। পরে সেগুলো আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইনমন্ত্রীর সভাপতিত্বে থাকা একটি কমিটি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে। তারা যদি মনে করে কোনো মামলা প্রত্যাহারের উপযুক্ত, তাহলে তা আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারার অনুযায়ী মামলাগুলো প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সময়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় বা হয়রানিমূলক উদ্দেশ্যে যেসব ভুয়া ও গায়েবি মামলা করা হয়েছিল, সেগুলোর বিষয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর আবারও একটি পত্র দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কিছু মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তবে তখন কিছু ধরনের মামলা এর আওতায় আনা হয়নি, যেমন: হত্যা, অস্ত্র, নারী নির্যাতন, মাদক পাচার ও মানব পাচারের মামলা।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক সরকার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখেছি, আমাদের বিরুদ্ধেও অনেক হত্যা ও অস্ত্র মামলা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও অন্তত দুই-তিনটি হত্যা মামলা ছিল—যাত্রাবাড়ী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে। চৌদ্দগ্রামের মামলাসহ আমার বিরুদ্ধেও একই ধরনের মামলা ছিল; অস্ত্র মামলাও ছিল। আমাদের অনেক নেতার বিরুদ্ধে মাদক ও নারী নির্যাতনের মামলাও দেওয়া হয়েছিল, যাতে যেকোনোভাবে আটক রাখা যায়।
৩৫ দিন আগে
সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ সক্ষমতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধির পূর্বশর্ত: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সার্কুলার অর্থনীতিতে (সিই) রূপান্তর এখন আর শুধু পরিবেশগত আলোচনার বিষয় নয়, এটি বাংলাদেশের শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা-সক্ষমতা, টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারে অবস্থান শক্তিশালী করার অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত।
বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন—বিজিএমইএ’র যৌথ আয়োজনে বাংলাদেশে ‘সুইচ টু সিই পাইলট উদ্যোগের মাধ্যমে সার্কুলার অর্থনীতির রূপান্তর ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিশ্ববাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। টেকসই উৎপাদন এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার অন্যতম নির্ধারক। ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও ভোক্তারা এখন এমন উৎপাদন ব্যবস্থার প্রতি বেশি আগ্রহী যা দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পরিচয় বহন করে।
তিনি বলেন, ‘সুইচ টু সার্কুলার ইকোনমি’ কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত পাইলট কার্যক্রম ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে যে সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর কোনো কল্পনাপ্রসূত ধারণা নয়; বরং এটি বাস্তবসম্মত, অর্জনযোগ্য এবং এর বাস্তবায়ন ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, এইচঅ্যান্ডএম গ্রুপ ও বেস্টসেলারের সহযোগিতায় পরিচালিত পাইলট কার্যক্রমগুলো বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে সার্কুলার অর্থনীতির প্রয়োগে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখিয়েছে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুর রহিম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত প্রধান মাইকেল মিলার এবং বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
৩৫ দিন আগে