নির্বাচন
ঠাকুরগাঁও-১ উপ-নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল গতকাল (বুধবার) বিকেল ৪টা পর্যন্ত। সময়সীমা শেষ হওয়ার পর এ আসনে পাঁচটি দলের পাঁচজন প্রার্থী রয়েছেন।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি ও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিন পেয়েছেন ধানের শীষ প্রতীক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম পেয়েছেন হাতপাখা, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলীম নিজামী পেয়েছেন বটগাছ ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক পেয়েছেন ডাব প্রতীক।
এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন আগামী ২৯ অক্টোবর উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে।
ঠাকুরগাঁও সদর, নবগঠিত রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন।
৪ ঘণ্টা আগে
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে পাঁচ দলের ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে পাঁচটি রাজনৈতিক দলের ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম যাচাই-বাছাই শেষে মনোনয়নপত্রগুলো বৈধ ঘোষণা করেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ্ মাসুদ, ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. খাদেমুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী মো. আব্দুল আলীম নিজামী ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, পাঁচটি রাজনৈতিক দলের ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন এবং তারা সবাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। আজ (মঙ্গলবার) তফসিল অনুযায়ী যাচাই-বাছাইয়ের তারিখ ছিল।
এ সময় তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকটি দলের প্রার্থী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সবার প্রতি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ আগামী ৭ অক্টোবর। এরপর ৮ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামী ২৯ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে তিনি ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
৯ দিন আগে
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে এখন পর্যন্ত ছয়জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া আসনটির উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন তার ছোট ভাই ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন। এছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদও মনোনয়ন দাখিল করেছেন।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন মির্জা ফয়সল আমিন। এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে দুপুর দেড়টার দিকে মনোনয়ন দাখিল করেন ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। এ সময় তার সঙ্গে বিএনপির কয়েকজন কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
পয়গাম আলী জানান, বিএনপির পক্ষ থেকে দুজন মনোনয়ন দাখিল করেছেন। সব কিছু ঠিক থাকলে প্রার্থী হিসাবে মির্জা ফয়সল আমিনই চূড়ান্ত হবেন।
মনোনয়ন দাখিল করা বাকি চার প্রার্থী হলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলীম নিজামি ও বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির হোসেন মোহাম্মদ ওমর ফারুক।
কামরুল ইসলাম বলন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সবার সহযোগিতা কামনা করছি। সবাই মিলে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন সম্পন্ন করতে চাই।’
মনোনয়নপত্র দাখিলের পর মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ভোটারা আমাকেই নির্বাচিত করবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তিনি কাজ করতে চান। নির্বাচনে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অন্যদিকে ওবায়দুল্লাহ মাসুদ বলেন, ‘বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেতে তিনজন আবেদন করেছিলেন। পরে দল থেকে দুজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাদের একজন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন ও অন্যজন আমি।’
জামায়াতের দেলোয়ার হোসেন জানান, গ্রামে তিনি ভোটারদের ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছেন। বর্তমানে বিএনপির কার্যকলাপ মানুষ ভালো চোখে দেখছে না। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের উচ্চমূল্য, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, দুর্নীতি, চুরি, ডাকাতি দেখে ভোটাররা আর বিএনপিকে ভোট দেবে না। তাই জয়লাভের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। জামায়াতে ইসলামের কর্মীরা আগে থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত আপিল করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তি হবে ৬ অক্টোবর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৭ অক্টোবর এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৮ অক্টোবর। এরপর ২৯ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আসনটি ঠাকুরগাঁও সদর, নব গঠিত রুহিয়া ও ভূল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত। আর এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন।
এর আগে চলতি বছরের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন দেলোয়ার হোসেন। ওই নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী দেলোয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল ৯৭ হাজার ৮১৯।
১০ দিন আগে
জানুয়ারি থেকে ইউপি নির্বাচন শুরুর কথা ভাবছে ইসি
স্কুলগুলোর বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরু করা কঠিন হবে, তাই আগামী জানুয়ারি থেকে ইউপি নির্বাচন শুরুর কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে ভোটগ্রহণের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এ তথ্য জানান।
ইসি আনোয়ারুল বলেন, ‘সাধারণত নভেম্বর-ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা হয়। সেটি বিবেচনায় নিয়ে আমরা তফসিল নির্ধারণ করব। ডিসেম্বরের মধ্যে এসব পরীক্ষা শেষ হলে ইনশাআল্লাহ জানুয়ারির দিকে নির্বাচন আয়োজন করতে পারব।’
এর আগে চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি), যার প্রথম ধাপে ১২ নভেম্বর ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা ছিল।
এরপর গত ১৭ সেপ্টেম্বর এ পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করে কমিশন। সেখানে সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ইউপি নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে না।
সভার পর নির্বাচন কমিশন জানায়, স্থানীয় নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করার আগে আরও আলোচনা করা হবে।
এদিকে সরকারের চাপে ইসি সম্ভাব্য নির্বাচনের তারিখ থেকে সরে এসেছে—এমন অভিযোগ নাকচ করেছেন ইসি আনোয়ারুল।
তিনি বলেন, ‘অনেকে অনেক কথা বলবে। কিন্তু আপনাদের কাছে কি মনে হয়েছে যে ইসি কারও চাপে এ পর্যন্ত কোনো কাজ করছে? নির্বাচন কমিশন বাস্তবতাবিবর্জিত কোনো কাজ করে না, আইনের বাইরে যায় না, সংবিধানের বাইরে যায় না। সংবিধান, আইন ও বাস্তবতা বিবেচনায় আমরা কাজ করি।’
এছাড়া নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা সমীচীন নয় বলেও জানান আনোয়ারুল ইসলাম।
সেই সঙ্গে তিনি বলেন, স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয় এবং শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সে জন্য নভেম্বর-ডিসেম্বরের পর ইউপি নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করছে কমিশন।
১৩ দিন আগে
ইউপি নির্বাচনের সময়সীমা পর্যালোচনা করা হবে: ইসি সানাউল্লাহ
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমা নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার মতামত পর্যালোচনা করে নির্বাচনের তফসিল চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচনের তফসিল চূড়ান্ত করার আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার মতামত পর্যালোচনা করা হবে। তবে সবাই একমত হয়েছেন, আগামী ৬ জুনের আগেই নির্বাচন শেষ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে জাতীয় উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে বেলা আড়াইটায় সভা শুরু হয়। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ ২০টির বেশি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
ইসি সানাউল্লাহ জানান, সভায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা নির্বাচনের সময় নিয়ে বেশ কয়েকটি অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তারা অনুরোধ করেছেন, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে স্কুলগুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে—বিষয়টি যেন আমরা বিবেচনায় নিই।
কমিশনার বলেন, জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য কিছুটা সময় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার মধ্যবর্তী সময়েও আরেকটি সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, রমজান শেষ হওয়ার পরপরই এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। এরপর ৬ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে।
গত সোমবার ঘোষিত সাত ধাপে ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ প্রসঙ্গে সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছিলাম, ১৭ সেপ্টেম্বরের সভার পর এটি চূড়ান্ত করব।’
সভায় চার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে ইসি গত সোমবার সারা দেশে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করে। এর প্রথম ধাপের নির্বাচন ১২ নভেম্বর আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার দুই মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, ইসি সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করার আগে সরকার এ বিষয়ে অবগত ছিল না।
২১ দিন আগে
ইসির স্থানীয় নির্বাচনের সময়সূচি সম্ভাব্য, চূড়ান্ত নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যে সময়সূচি ঘোষণা করেছে, সেটি কেবল ‘সম্ভাব্য’ পরিকল্পনা, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আগামী ১২ নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে ইসির পরিকল্পনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কমিশন যে সময়সূচি উপস্থাপন করেছে, সেখানে সেটিকে স্পষ্টভাবেই ‘সম্ভাব্য’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং এর জন্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ঢাকা শহরে মেগা প্রকল্পের কারণে সৃষ্ট যানজট রোধ-সংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইসির ঘোষণা এবং পরে এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আইন অনুসারে চলে। সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের দুটি দায়িত্ব হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। এর বাইরে আইনে প্রদত্ত অন্যান্য নির্বাচন-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করার কথা বলা আছে।’
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকারগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে আইনের মধ্যে এমন কিছু নেই যে সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ছাড়া নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কাজ করতে পারে। এটি সমন্বয়ের বিষয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন কমিশন গতকাল (সোমবার) ‘টেন্টেটিভ’ একটি পরিকল্পনা দিয়েছে, যার ভিডিও তিনি দেখেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘টেন্টেটিভ’ মানেই তারা ‘সম্ভাব্য’ সময়সূচি দিয়েছে। মনে হয়, গণমাধ্যমে বিষয়টি অন্যভাবে এসেছে, যেন কমিশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। তারা বক্তব্যেই বলেছে, এটি একটি ‘টেন্টেটিভ প্ল্যান’। ‘টেন্টেটিভ’ পরিকল্পনার ওপর কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি।
এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সম্ভবত নির্বাচন কমিশন ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আহ্বান করেছে। ওই সভায় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা অংশ নেবেন।’
আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা যে মতামত দেবেন, তার আলোকে নির্বাচন কমিশন সম্ভাব্য তফসিল সাজাবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এর আগে ইসি যে পরিকল্পনার কথা বলেছে, সেটি ‘টেন্টেটিভ’। তাই সেটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
২২ দিন আগে
আলোচনার পর স্থানীয় নির্বাচনের সময়সূচি পরিবর্তনের সুযোগ আছে: ডা. জাহেদ
ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করলেও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে তা পরিবর্তন, পিছিয়ে দেওয়া কিংবা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
ডা. জাহেদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্ধারিত সময়সীমা নেই। নির্বাচন কমিশন তাদের মতো করে একটি তারিখ ঘোষণা করেছে। সরকার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচন করবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যে সময়সূচি ঘোষণা করেছে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সেটি পরিবর্তন, পিছিয়ে দেওয়া কিংবা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্ধারিত সময়সীমা নেই। এ বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের মতো করে একটি তারিখ ঘোষণা করেছে। প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যই সরকারের কাছে থাকা তথ্য।
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যে তারিখ দিয়েছে ওই তারিখেই নির্বাচন হবেই, আবার হবেই না, ইউ ক্যান নট সে দ্যাট। সরকারের এরকম কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’
সরকারের বিভিন্ন বিবেচনা রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের জন্য সব দিক থেকে প্রস্তুতি ঠিক আছে কি না, তা বিবেচনা করে সময় নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজন হলে সময়সূচি এগোনো বা পেছানো হতে পারে।
সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সরাসরি সাংবিধানিক দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও অন্য নির্বাচনগুলো আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয় বলে জানান উপদেষ্টা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সেই কাঠামোর মধ্যে পড়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়টি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর্যায়ে নির্বাচন কমিশন সংবিধান অনুযায়ী নিজস্ব এখতিয়ারে নির্বাচন আয়োজন করবে। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচির ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, তিনি আগে কখনও বলেননি যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের একক বা একচ্ছত্র এখতিয়ার।
নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করে আইন ভঙ্গ করেছে কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে চাননি উপদেষ্টা। তিনি সাংবাদিকদের নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি জানতে পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘আমি আইন ভঙ্গ করেছে—এভাবেও বলতে চাই না। আমার মনে হয়, সবচেয়ে ভালো হয় আপনারা নির্বাচন কমিশনের কাছে একটু ক্ল্যারিফাই করুন।’
ইসি ও সরকারের সংঘাত নেই
এছাড়া নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি নিয়ে সরকার ও কমিশনের মধ্যে কোনো ‘গ্যাপ’ তৈরি হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টিকে সংঘাত বা গ্যাপ হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই।
তিনি আরও বলেন, সরকার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করেই নির্বাচন করবে। নির্বাচন অবশ্যই হবে। তবে কবে হবে, সে বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত ও বিভিন্ন বাস্তবতা বিবেচনা করা হবে।
ডা. জাহেদ বলেন, বিষয়টিকে সংঘাতের মতো করে দেখার চেষ্টা করা হচ্ছে, এরকম কিছু তিনি মনে করেন না।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল সরাসরি অংশ নিচ্ছে না জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে না। ব্যক্তিরাই প্রার্থী হবেন।
ডা. জাহেদ জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীক ছিল। সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হয়েছে। এবার সে ব্যবস্থা নেই।
তিনি বলেন, ‘আগামী যে লোকাল গভর্মেন্ট ইলেকশন আছে, তাতে কোনো দল নির্বাচন করছে না। ওখানে নির্বাচন করছে ব্যক্তিরা।’
তবে বিভিন্ন দলের সমর্থিত প্রার্থী থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন দল ইতোমধ্যে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করছে। ফলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, একই দল থেকে একাধিক প্রার্থীও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। অন্য দলের প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দলীয় প্রতীকের বাইরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আগের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ফিরে আসবে বলে আশা করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আইন পরিবর্তনের প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান জানান, ভবিষ্যতে আইন পরিবর্তন করে উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সরকার সরাসরি পরিচালনা করবে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তাও করা সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি কখনও এমন আইন করি যে উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সরকার পরিচালনা করবে নিজে সরাসরি, নির্বাচন কমিশনকে আমরা এই দায়িত্ব দেব না, ধরুন, এরকম যদি সিদ্ধান্ত হয়, উই ক্যান ডু দ্যাট।’
২৩ দিন আগে
ইউপি নির্বাচনের তারিখ নিয়ে সরকার কিছু জানে না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছু জানে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
গতকাল (সোমবার) বিকেলে নির্বাচন কমিশনের কমিশনের প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আমরা ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপের নির্বাচন করতে পারব।
এ ধাপে তিনি প্রায় ৮০টি উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদের ভোটগ্রহণ আয়োজনের আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক সময়সূচি অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন হবে ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ১২ এপ্রিল ও সপ্তম ধাপ ২৭ মে অনুষ্ঠিত হবে।
এ বিষয়ে আজ (মঙ্গলবার) মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনাদের মতো আমরাও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পত্রিকায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং টেলিভিশনগুলোতে দেখেছি যে, নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কয়েক ধাপে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। আমি আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে শুধু এইটুকুই জানাতে চাই, এ ব্যাপারে সরকার কিছু জানে না এবং সরকারের সঙ্গে কোনো পত্র যোগাযোগ বা অন্য কোনোভাবে আলোচনা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন স্বাধীন। তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতা আছে নির্বাচন করার। কিছু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর প্রস্তুতি সভা বা আইনশৃঙ্খলা কমিটি, এ ধরনের সভা করার পরেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। বাজেটসহ বিভিন্ন বিষয় থাকে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আবারও রিপিট করছি, নির্বাচন কমিশন যে তারিখগুলো ঘোষণা করেছে, এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। সরকার এ ব্যাপারে কিছু জানে না।’
২৩ দিন আগে
প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচন ১২ নভেম্বর
দেশজুড়ে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সে অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপে ৬৩ জেলার ৮০টি উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কমিশনের প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব প্রাথমিক সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, আমরা ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপের নির্বাচন করতে পারব। এ ধাপে তিনি প্রায় ৮০টি উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদের ভোটগ্রহণ আয়োজনের আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক সময়সূচি অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন হবে ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ১২ এপ্রিল ও সপ্তম ধাপ ২৭ মে অনুষ্ঠিত হবে।
সারা দেশে মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ইসি সানাউল্লাহ।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করবে কমিশন। ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে ইসি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিটি রাজনৈতিক দল থেকে দুজন করে প্রতিনিধি এসব সংলাপে আমন্ত্রণ পাবেন বলে জানিয়েছেন ইসি সালাউল্লাহ।
এছাড়া ইসি জানিয়েছে, ঠাকুরগাঁও ছাড়া দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে ইউপি নির্বাচন শুরু করার চেষ্টা করা হবে। কারণ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে ইসি। আগামী ২৯ অক্টোবর ওই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
২৩ দিন আগে
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে ইসি
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন কিনা নির্বাচন কমিশন সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, ‘নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতাটা তৈরি করে নির্বাচন কমিশন। এখন নির্বাচন কমিশন আমাদের আইন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যে নীতিমালা সবকিছু নিয়ে ঠিক করবে যে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি পারবেন না।’
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের আইনে আছে, তিনি প্রজাতন্ত্রের বা পরিষদের বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মে লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে যদি অধিষ্ঠিত থাকেন, তাহলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এটা হচ্ছে নির্বাচনি আইন।’
তিনি বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ব্যাপারে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—স্কুল ও কলেজ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৫-এর বিধি ১১.১৭-এর ‘ক’ ও বিধি ১১.১৭-এর ‘খ’-তে বলা হয়েছে যে এই পদটি লাভজনক। মানে শিক্ষকদের পদটি লাভজনক। তাহলে আইনের সঙ্গে এখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালাটা কাছাকাছি মিলে যাচ্ছে।’
মীর শাহে আলম জানান, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক একই সঙ্গে একাধিক পদ বা চাকরিতে কিংবা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। এমপিও নীতিমালার বিধি ১১.১৭-এর ‘খ’-তে আর্থিক লাভজনক পদের সংজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে।
১১.১৭-এর ‘খ’-তে বলা হয়েছে, আর্থিক লাভজনক পদ বলতে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত যেকোনো ধরনের বেতন, ভাতা, সম্মানী এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, আইন পেশাসহ কর্মের বিনিময়ে প্রদত্ত বেতন, ভাতা, সম্মানীকে বোঝাবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনি বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। স্থানীয় সরকার আইন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালা বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশনই সিদ্ধান্ত নেবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না।
এ বিষয়ে তার ভাষ্য, নির্বাচন কমিশনের আইনগত কোনো মতামত, বিস্তারিত তথ্য বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে তারা বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারে। সেক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে আইন করছে বলে অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার আইনে লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আগে থেকেই বিধান রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালাতেও শিক্ষকদের আর্থিক লাভজনক পদের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি তো ক্লিয়ার (পরিষ্কার) করলাম আইনে কী আছে। এখন জামায়াত যদি সরকারের ওপর কোনো দায় চাপায়, এটা দায় চাপালে তো হবে না। কারণ এই বিলগুলো পার্লামেন্টে পাস করার সময় তারা তো সংসদে উপস্থিত ছিল। আমরা সবাই মিলেই তো বিলগুলো পাস করেছি।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন কি না, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘না, কোনো প্রয়োজন নাই।’
তিনি বলেন, ‘এমপিদেরই তো নাই! আমি যে এমপি হয়েছি, আমারই তো শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন হয়নি ফর্মে!’
প্রতিমন্ত্রী জানান, সংসদ সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই। একই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পাঁচটি আইনেও জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘কারণ আইনে নাই তো, সংবিধানে নাই তো! এবং যেহেতু সংসদ সদস্যদের যোগ্যতার প্রশ্ন ওঠে না, লোকাল গভর্নমেন্টের যে পাঁচটা আইন করেছি, ওখানে আইনেও আমরা রাখিনি কারণ এটা মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে। কারণ একজন সমাজসেবক তো লেখাপড়া নাও করতে পারে, স্বশিক্ষিত হতে পারে।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে আলাদা বয়সের বাধ্যবাধকতাও নেই। ভোটার হলেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
২৫ দিন আগে