অন্যান্য
টেকসই উত্তরণের লক্ষ্যেই এলডিসি প্রস্তুতিকাল বাড়াতে চায় সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়াতে চাইলেও এর উদ্দেশ্য উত্তরণ বিলম্বিত করা নয়; বরং একটি টেকসই, স্থিতিশীল ও সুশৃঙ্খল উত্তরণ নিশ্চিত করা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আগারগাঁওয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশস প্রিপেয়ার্ডনেস ফর এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন অ্যান্ড দ্য র্যাশনাল ফর এক্সটেনশন অব দ্য প্রিপারেটরি পিরিয়ড’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সেমিনারটির আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, ‘উত্তরণের এই অতিরিক্ত সময় আমরা কোনো বিলম্বের জন্য চাই না; বরং একটি টেকসই, স্থিতিশীল এবং কার্যকর অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য চাই।’
তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বর্তমান সরকার জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (ইউএনসিডিপি) কাছে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর আবেদন জানায়।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রস্তুতিমূলক সময়ে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্থিরতা, ভূরাজনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্নসহ একাধিক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এসব কারণে সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। তাই সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা।
তিনি জানান, জাতিসংঘের ওএইচআরএলএলএস পরিচালিত গ্র্যাজুয়েশন প্রস্তুতি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এলডিসি উত্তরণের জন্য যথেষ্ট অনুকূল নয়। সে কারণেই অতিরিক্ত প্রস্তুতির সময় প্রয়োজন।
সরকার ইতোমধ্যে ২৫টি অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার নিয়ে একটি রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংস্কার, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ (ডিরেগুলেশন), প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন।
মন্ত্রী বলেন, ব্যবসা শুরু করতে বর্তমানে যে সময় লাগে, তা এক বছর থেকে কমিয়ে ১৪ দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে, যাতে কোনো উদ্যোক্তা ১৫তম দিনেই যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারেন।
এছাড়া ব্যবসা নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান জটিলতা ও কাজের পুনরাবৃত্তি দূর করে ব্যবসার সময় ও ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
২ ঘণ্টা আগে
যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা আরও বাড়াবে বাংলাদেশ-জাইকা
বাংলাদেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা—জাইকা’র প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনবিষয়ক মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, মেট্রোরেল প্রকল্প, সড়ক ও সেতু অবকাঠামো, এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, কারিগরি সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রকল্পে জাইকার সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া এবং জাইকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর আধুনিকায়নে জাইকা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে মেট্রোরেল, সড়ক, সেতু এবং অন্যান্য কৌশলগত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার নিরাপদ, আধুনিক, টেকসই ও সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে গণপরিবহন, স্মার্ট পরিবহন ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় জাইকা ভবিষ্যতেও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে। চলমান প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনাময় খাতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ মেট্রোরেল প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন, মাতারবাড়ী অঞ্চলের সমন্বিত উন্নয়ন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারে একমত হন।
এ সময় বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।
২ ঘণ্টা আগে
এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম কমল ৩৫৭ টাকা
ভোক্তাপর্যায়ে এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩৫৭ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৫২৮ টাকা। জুন মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল এক হাজার ৮৮৫ টাকা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নতুন এ দাম ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
নতুন দর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে কার্যকর হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম ও জাহাজভাড়া (ফ্রেইট চার্জ) কমে আসায় এ মূল্য হ্রাস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।
বিইআরসি জানিয়েছে, চলতি (জুলাই) মাসে অটোগ্যাসের দাম ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা থেকে কমিয়ে ৭০ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজারে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়। এ মাসে প্রতি কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা, যা আগে ছিল ১৫৭ টাকা ৬ পয়সা।
এদিকে, সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
এর আগে ১৯ এপ্রিল ১২ কেজি এলপিজির দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১,৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তার ১৭ দিন আগে, ২ এপ্রিল, ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে দাম করা হয়েছিল ১,৭২৭ টাকা।
অর্থাৎ, দুই দফায় ১২ কেজি এলপিজির দাম মোট ৫৯৯ টাকা বাড়ানো হয়। এরপর জুন মাসে ১২ কেজির দাম ১,৯৪০ টাকা থেকে কমিয়ে ১,৮৮৫ টাকা এবং অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৮৯.৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ৮৬.৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে এলপিজি খাতে নজিরবিহীন অরাজকতা চলছে। বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম আদায় করছেন। মার্চ মাসে নির্ধারিত মূল্য ছিল ১,৩৪১ টাকা। তবে বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকায় বিক্রির খবরও রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো এলপিজির দর ঘোষণা করে বিইআরসি। তখন জানানো হয়, সৌদি আরবের কনট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) অনুযায়ী ভিত্তিমূল্য প্রতি মাসে সমন্বয় করা হবে। আর কমিশন, জাহাজভাড়া, আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার কমিশনে পরিবর্তন আনতে হলে গণশুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ওই ঘোষণার পর থেকেই প্রতি মাসে এলপিজির নতুন দর ঘোষণা করে আসছে বিইআরসি।
২ ঘণ্টা আগে
প্রতিবন্ধীদের জন্য ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুনর্বাসন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, আইনি সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় সব সেবা এক জায়গা থেকে দেওয়ার লক্ষ্যে দেশের অন্তত ১০টি জেলা বা উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে প্রতিবন্ধী অধিকার ও সেবা সুরক্ষাবিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
ফারজানা শারমীন বলেন, প্রাথমিকভাবে অন্তত ১০টি জেলা বা উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এ সেবা চালু করা হবে। সেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ, আইনি সহায়তা এবং অভিভাবকদের জন্য আয়বর্ধক কার্যক্রমসহ প্রয়োজনীয় সেবা এক জায়গা থেকে দেওয়া হবে।
তিনি জানান, বিশেষায়িত প্রশিক্ষক তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। যেসব অভিভাবক সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘ সময় সেবাকেন্দ্রে অবস্থান করবেন, তাদের জন্যও আয়বর্ধক কার্যক্রমের সুযোগ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য দেওয়া সেবাকে দান বা অনুগ্রহ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তাদের প্রাপ্য অধিকার। সেই অধিকার নিশ্চিত করতেই সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পৃথক আইনি সহায়তা কার্যক্রম চালুর বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য তাদের জীবনকে আরও সহজ করা এবং মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করে দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার জাতীয় পর্যায়ে দুটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করেছে। এর মধ্যে স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আর বাস্তবায়নের জন্য গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভাপতি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এবং সহ-সভাপতি সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও প্রতিনিধিরা এ কমিটির সদস্য।
তিনি জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কড়াইল বস্তিতে ‘শিশুস্বর্গ’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় এক হাজার প্রতিবন্ধী শিশুর স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শুরু করেছে। চলতি অর্থবছরে দেশের ২০ থেকে ২৫টি উপজেলায় এ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে। এর আওতায় তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিবন্ধী শিশুদের শনাক্তকরণ, কমিউনিটিভিত্তিক প্রাথমিক শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও রেফারেলের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, প্রতিটি প্রতিবন্ধী শিশুর জন্য পৃথক ফাইল খোলা হবে, যেখানে তাদের প্রয়োজনীয় সেবার তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। পরবর্তীতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান এবং অন্যান্য অধিকার নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এম এ মুহিত জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নতুন ক্রীড়া অবকাঠামোয় প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষ সুযোগ রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে। বিশেষ অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিকে সফল ক্রীড়াবিদদের সংবর্ধনা ও আর্থিক সহায়তাও অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, সরকারি ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণে প্রতিবন্ধীবান্ধব নকশা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে সরকারি প্রকল্প মূল্যায়নের সময় প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো রয়েছে কি না, সেটিও অন্যতম মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করবে পরিকল্পনা কমিশন। নতুন সরকারি ভবনে র্যাম্প, প্রয়োজনীয় লিফট এবং অন্তত একটি প্রতিবন্ধীবান্ধব টয়লেট রাখার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের ব্যবস্থা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে চালু হতে যাওয়া বৈদ্যুতিক (ইভি) বাসে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের ওঠানামার সুবিধা রাখারও সুপারিশ করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী ২ থেকে ১০ শতাংশের বেশি মানুষ কোনো না কোনো ধরনের প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে বসবাস করছেন। সংখ্যাটি প্রায় দুই কোটির কাছাকাছি। তাই এসব কর্মসূচি স্বল্পমেয়াদি নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও চলমান উদ্যোগ হিসেবে বাস্তবায়ন করা হবে।
পাইলট প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, কড়াইল বস্তির কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বাকি পরীক্ষামূলক প্রকল্পগুলোও আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে।
৩ ঘণ্টা আগে
ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের নীতিগত সমর্থন অব্যাহত থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে আসছে। ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের এই নীতিগত ও নৈতিক সমর্থন সর্বদা অব্যাহত থাকবে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের অনুকূলে ভিসা ইস্যুকরণ সহজতর করাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করা হয়।
বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতকে আন্তরিক স্বাগত জানান। রাষ্ট্রদূত মন্ত্রীকে তার নতুন পোর্টফলিওতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে আসছে। তিনি বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তৎকালীন সময়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে জোরালো জনমত ও সমর্থন আদায়ে অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের এই নীতিগত ও নৈতিক সমর্থন সর্বদা অব্যাহত থাকবে।
আলোচনায় ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি ছাত্র-ছাত্রী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। তিনি ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে আগমন ও পড়াশোনা নির্বিঘ্ন করতে অন-অ্যারাইভাল ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ সহযোগিতা কামনা করেন।
মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর জন্য রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান।
রাষ্ট্রদূত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে ফিলিস্তিনের কোনো নাগরিক বা শিক্ষার্থী বাংলাদেশের ভিসার জন্য আবেদন করলে তা যথাযথ যাচাইয়ের লক্ষ্যে আবেদনের একটি অনুলিপি ঢাকার ফিলিস্তিন দূতাবাসে পাঠানোর অনুরোধ করেন।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একটি মুসলিম ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে আমরা ফিলিস্তিনকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে ভালোবাসি ও বিশ্বাস করি। ফিলিস্তিনের নাগরিকদের কল্যাণে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ একটি প্রগতিশীল ও উদারপন্থি মুসলিম রাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের দেশকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের যেকোনো অপচেষ্টা বা অপপ্রচার কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই ধরনের সাইবার অপরাধ ও অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হবে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক পরিচালক (ইন-চার্জ) ফুয়াদ হাসান পরাগ এবং ঢাকাস্থ ফিলিস্তিন দূতাবাসের প্রথম সচিব নূর এইচ ও আলাইদি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৩ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশে সবুজ অবকাঠামোতে বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে জলবায়ু অর্থায়ন প্ল্যাটফর্ম চালু
বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য শক্তি, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পানি শোধন প্রকল্পের বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে একটি বিশেষায়িত ক্লাইমেট ফাইন্যান্স (জলবায়ু অর্থায়ন) প্ল্যাটফর্ম চালুর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি ট্রানজিশন ফান্ড।
জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং জাতীয় কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ যখন কাজ করছে, তখন ব্যাংকযোগ্য (ব্যাংক ফাইন্যান্সের উপযোগী) সবুজ অবকাঠামো প্রকল্পের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে এ প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লক্ষ্যভিত্তিক সরকারি ও বেসরকারি মূলধনের সমন্বয় এবং নিয়মতান্ত্রিক প্রকল্প মূল্যায়নের মাধ্যমে স্থানীয় জলবায়ু অগ্রাধিকারগুলোকে বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পে রূপান্তর করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
প্রাথমিকভাবে তিনটি খাতে বিনিয়োগে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এগুলো হলো—নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পানি শোধন।
· নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে স্থানীয় পর্যায়ের সৌর ও বায়ুশক্তি এবং বিকেন্দ্রীভূত বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় অর্থায়ন করা হবে, যাতে আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।
· জ্বালানি দক্ষতা খাতে বস্ত্রশিল্পসহ উচ্চ জ্বালানি-নির্ভর শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো আধুনিকায়নের মাধ্যমে জ্বালানির অপচয় কমানো এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
· পানি শোধন খাতে জলবায়ু সহনশীল পানি বিশুদ্ধকরণ ও শোধন অবকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি ট্রানজিশন ফান্ডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এডগার কেয়ার্কভাইক বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো স্থানীয় পর্যায়ে দৃশ্যমান ও কার্যকর পরিবর্তন আনা। প্রাতিষ্ঠানিক ও বেসরকারি মূলধনকে টেকসই ও ব্যাংকযোগ্য প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে, যা জাতীয় জলবায়ু ও অবকাঠামোগত অগ্রাধিকারের বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।’
তিনি জানান, প্ল্যাটফর্মটিতে একটি বিশেষ পোর্টাল রয়েছে, যেখানে প্রকল্প উদ্যোক্তারা প্রকল্প প্রস্তাব জমা দিতে, বিনিয়োগ নির্দেশিকা পর্যালোচনা করতে, প্রকল্প মূল্যায়নের মানদণ্ড জানতে এবং তহবিলের পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন কাঠামো সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন।
সহ-প্রতিষ্ঠাতা থেও ওয়েস্টগেস্ট বলেন, টেকসই অবকাঠামো বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং কার্যকর মূলধন বরাদ্দের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।
আরেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ খান বলেন, ‘এই কাঠামোর মাধ্যমে আমরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের জন্য বাংলাদেশের নিম্ন-কার্বন ভবিষ্যতের লক্ষ্যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগের একটি বাস্তবসম্মত পথ তৈরি করছি। উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনাকে বাস্তব প্রকল্পে রূপ দিতে বাংলাদেশের এমন অর্থায়ন কাঠামো প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘এই প্ল্যাটফর্ম নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পানি শোধন খাতে ব্যাংকযোগ্য স্থানীয় প্রকল্পের সঙ্গে বেসরকারি অর্থায়নের সংযোগ তৈরি করে সবুজ অর্থায়নের ঘাটতি কমাতে সহায়তা করবে এবং আঞ্চলিক জনগোষ্ঠীর জন্য আরও সহনশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত আমদানি করা জ্বালানির ওপর বাড়তি নির্ভরতা, দেশীয় গ্যাসের মজুত কমে যাওয়া এবং শিল্পের জন্য নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বাড়তি চাপের মুখে রয়েছে। এ কারণে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন ও সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।
একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় অনেক পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও পানি শোধন প্রকল্প উচ্চ প্রাথমিক বিনিয়োগ ব্যয়, জমির স্বল্পতা এবং বিশেষায়িত ঋণ সুবিধার অভাবে বাস্তবায়নের পথে বাধার মুখে পড়ছে।
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এনার্জি ট্রানজিশন ফান্ড প্রাথমিক পর্যায়ের প্রকল্প সহায়তা, ঝুঁকি প্রশমন এবং সাশ্রয়ী অর্থায়নের মাধ্যমে টেকসই অবকাঠামো প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর প্রকল্প বাজারে আনার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে।
আগ্রহী প্রকল্প উদ্যোক্তা, পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি উদ্ভাবক এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের তহবিলের অফিশিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে বিনিয়োগ নির্দেশিকা পর্যালোচনা বা অর্থায়ন দলের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনে চেয়ারম্যান ও পরিসংখ্যান ব্যুরোয় নতুন মহাপরিচালক
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনে নতুন চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোতে (বিবিএস) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
এ নিয়োগ দিয়ে বুধবার (১ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মীর হোসেনকে প্রেষণে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এজন্য তার চাকরি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
অপরদিকে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শামীমুল হককে প্রেষণে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এজন্য তার চাকরি পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে থাকাই বাংলাদেশের আবহমান কালের মূল্যবোধ: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অপশক্তি নিজেদের হীন দলীয় স্বার্থে মানুষের মধ্যে বিভেদ-বিরোধ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালালেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে থাকাই বাংলাদেশের মানুষের আবহমান কালের মূল্যবোধ। বর্তমান সরকার এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণে কাজ করছে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে বসবাস করবে। শুধু মানুষের নিরাপত্তাই নয়, কোনো প্রাণীও যেন মানুষের হিংস্রতার শিকার না হয়, সরকার সেটিও নিশ্চিত করতে চায়।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সারা দেশে একযোগে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ উদ্যাপন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আজ সকালে সচিবালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ উদ্যাপন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিন দিনব্যাপী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর লোগো ও স্মারক ডাকটিকিটও উন্মোচন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ না করলেও তার হৃদয়জুড়ে ছিল বাংলাদেশ, আর বাংলাদেশও তাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে। কিশোর বয়সে ১৯১৪ সালে তিনি প্রথমবারের মতো ময়মনসিংহের ত্রিশালে এসেছিলেন। কবির স্মৃতিবিজড়িত সেই ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেছে।
তিনি বলেন, বিদ্রোহ, প্রেম, বিরহ, তারুণ্য ও বাংলাদেশের ঐতিহ্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় নাম। পরাধীন, পর্যুদস্ত ও পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তার আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো। পরাধীনতা, জুলুম, নির্যাতন, শোষণ, অসাম্য, বৈষম্য, কুসংস্কার, তথা যা কিছু অন্যায়, অবিচার ও অসুন্দর, তার বিরুদ্ধে কবির কলম ছিল শাণিত অস্ত্র। বিপ্লব, বিদ্রোহ কিংবা রণসংগীত; ইসলামী মূল্যবোধের গান অথবা ভজন-কীর্তন কিংবা শ্যামাসংগীত; প্রেম, প্রকৃতি কিংবা মানবিক মূল্যবোধ; কৈশোরের আনন্দ কিংবা যৌবনের উম্মাদনা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরুল আমাদের শুদ্ধ প্রকাশ।
৫ ঘণ্টা আগে
দুদক চেয়ারম্যান-কমিশনার নিয়োগে সিভি আহ্বান
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) আহ্বান করেছে এ বিষয়ে গঠিত বাছাই কমিটি।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১৩ জুলাই সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাংলাদেশ সচিবালয়ের নির্ধারিত স্থানে জীবনবৃত্তান্ত ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া যাবে। তবে যারা ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দিয়েছেন, তাদের পুনরায় আবেদন করার প্রয়োজন হবে না।
এতে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৭ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ পাঠানোর লক্ষ্যে গঠিত বাছাই কমিটি চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে নিয়োগে আগ্রহীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগ্রহী ব্যক্তিদের আইনের ধারা ৮(১) অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে ধারা ৮(২)-এ উল্লিখিত অযোগ্যতার আওতাভুক্ত কোনো ব্যক্তি কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য বিবেচিত হবেন না।
জীবনবৃত্তান্তে প্রার্থীর নাম, পিতা ও মাতার নাম, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, জন্ম তারিখ, জাতীয়তা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, চাকরি ও অভিজ্ঞতার বিস্তারিত বিবরণ (মেয়াদকালসহ), মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা উল্লেখ করে স্বাক্ষরসহ জমা দিতে হবে।
এছাড়া জীবনবৃত্তান্তের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার স্বপক্ষে সব সনদপত্রের কপি সংযুক্ত করতে হবে। খামের ওপর ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান/কমিশনার পদের জন্য জীবনবৃত্তান্ত’ উল্লেখ করতে হবে।
জীবনবৃত্তান্ত সচিবালয়ের কেন্দ্রীয় পত্র গ্রহণ কেন্দ্র (মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ সচিবালয়, গেট নম্বর-৫) অথবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি নীতি শাখা, কক্ষ নম্বর-৯৩৫, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, ভবন নম্বর-১ (নতুন), বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকায় জমা দেওয়া যাবে।
জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ১৩ জুলাই সোমবার বিকেল ৪টা।
৫ ঘণ্টা আগে
নজরুল বর্ষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
সারা দেশে একযোগে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ উদ্যাপন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে সচিবালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
তিন দিনব্যাপী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর লোগো ও স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেন।
৭ ঘণ্টা আগে