অন্যান্য
জাতীয় মৎস্য পক্ষ শুরু রবিবার, স্বর্ণপদক পাচ্ছে ১৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান
‘রূপালি মৎস্য স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে আগামী রবিবার (১৬ আগস্ট) থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬। মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সাফল্য, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, নিরাপদ ও মানসম্মত মাছ উৎপাদন, জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এবারের আয়োজন।
এবার জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে ১৩টি ক্যাটাগরিতে ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক (স্বর্ণপদক) দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন ঘোষণা এবং পদক বিতরণ করবেন।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টিতে মৎস্যখাতের অবদান দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে জাতীয় জিডিপিতে মৎস্যখাতের অবদান ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপিতে এ খাতের অবদান ২২ দশমিক ০৩ শতাংশ।
প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২ কোটি ৬ লাখ মানুষ মৎস্যখাতের সঙ্গে যুক্ত, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীও রয়েছেন। এ খাতের প্রবৃদ্ধির হারও সন্তোষজনক বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, মৎস্যখাত বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সরকারের দূরদর্শী নীতি, গবেষণা ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং অংশীজনদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ খাতকে আরও আধুনিক, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই পর্যায়ে উন্নীত করার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, দেশে মাছের প্রাপ্যতার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে মাথাপিছু দৈনিক মাছের প্রাপ্যতা ৬৭ দশমিক ৮০ গ্রাম, যেখানে জাতীয় পুষ্টিচাহিদা নির্ধারিত ৬০ গ্রাম। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় মাছের প্রাপ্যতা ইতোমধ্যে বেশি।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৫১ দশমিক ১১ লাখ টন মাছ উৎপাদন হয়েছে। মৎস্যজীবী, মৎস্যচাষি, গবেষক, উদ্যোক্তা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক পরিসরেও বাংলাদেশের মৎস্যখাতের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার’ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় এবং বদ্ধ জলাশয়ে চাষের মাছ উৎপাদনে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।
ইলিশ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম, তেলাপিয়া উৎপাদনে অষ্টম, ক্রাস্টেশিয়ান আহরণে ষষ্ঠ এবং উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে ১৩তম অবস্থানে রয়েছে। এসব অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মৎস্যখাতের সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৮ লাখ ১১ হাজার ৫৫২ জন। এর মধ্যে ইলিশ আহরণকারী ৬ লাখ ৫০ হাজার ২৫১ জন, হাওরাঞ্চলের ২ লাখ ৮৫ হাজার ৬৪৮ জন এবং সমুদ্রগামী জেলে ৩ লাখ ২৫ হাজার ২১১ জন।
তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে মাছের প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা সম্ভব নয়। এ জন্য নিষেধাজ্ঞাকালে জেলেদের বিকল্প খাদ্য ও আয়ের নিশ্চয়তা প্রয়োজন। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নিষিদ্ধ মৌসুমে ৪০ হাজার ইলিশ জেলেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচির ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞাকালে ১৫ হাজার ৫০৩ দশমিক ৫০১ টন ভিজিএফ চাল, জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় চার মাসে ৫৮ হাজার ৭২০ দশমিক ১৬১ টন চাল, সমুদ্রে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞাকালে ২৪ হাজার ১৬৫ দশমিক ৬২৫ টন চাল এবং কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের ১ হাজার ৬১০ দশমিক ৭০১ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাছ ধরতে গিয়ে নিহত ২৬ জেলের পরিবারকে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা, নিখোঁজ ১৩ জেলের পরিবারকে একই পরিমাণ অর্থ এবং অক্ষম একজন জেলেকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার ২৯৫ জন উপকারভোগীকে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, সবজি বাগান ও ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে মৎস্যখাত নিয়ে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে জলমহাল, উপকূলীয় খাল ও হাওরের ইজারা প্রথা বিলুপ্ত করে ‘জাল যার, জলা তার’ নীতির ভিত্তিতে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, চিংড়ির একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা এবং বিদেশের সুপারশপগুলোতে মানসম্মত চিংড়ি সরবরাহের ব্যবস্থা সহজ করার মাধ্যমে রপ্তানি আয় বাড়াতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত সচিব ইমাম উদ্দীন কবির, অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৫ মিনিট আগে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন মির্জা ফখরুল
দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনীত করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। সংসদে বিএনপির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তিনিই হতে যাচ্ছেন ২৩তম রাষ্ট্রপ্রধান।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকে মির্জা ফখরুলকে দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার সভাপতিত্বেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, বৈঠকের শুরুতে দেওয়া বক্তব্যের শেষদিকে তারেক রহমান এ ঘোষণা দেন।
‘তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন,’ রুমন বলেন।
তিনি জানান, বৈঠকে উপস্থিত দলীয় নেতারা দীর্ঘক্ষণ করতালির মাধ্যমে এ ঘোষণাকে স্বাগত জানান।
বৈঠক শেষে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের জানান, মির্জা ফখরুল ইতোমধ্যে দলের মহাসচিব ও মন্ত্রিসভার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
৭৮ বছর বয়সী মির্জা ফখরুল ২০১৬ সাল থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার মনোনয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে অভিজ্ঞ এই বিএনপি নেতাকে নির্বাচনি দৌড়ে নিয়ে এলো।
এর আগে, বিএনপির স্থায়ী কমিটি দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব তারেক রহমানকে দিয়েছিল।
৩ ঘণ্টা আগে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদের মনোনয়নপত্র দাখিল
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা ১১ টা ৪৯ মিনিটে তার পক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
অলি আহমদের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হয়েছেন ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। আর সমর্থক হয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি ও এনসিপির নেতা আব্দুল্লাহ আল আমিন।
রাজধানীর শেরেবাংলানগরে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ও এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী নির্বাচনি কর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা এবং কয়েকজন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে দুপুরে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল করা হবে বলে জানা গেছে।
তফসিল অনুযায়ী, আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪টার মধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। ভোটগ্রহণ সংসদ অধিবেশনকক্ষে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত।
গত ২৪ জুলাই মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর সম্প্রতি নির্বাচনের তফসিল দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।
একাধিক প্রার্থী থাকায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হবে। এর আগে, একক প্রার্থী থাকায় ১৯৯১ সালের পর প্রতিটি নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
৩ ঘণ্টা আগে
জেলা পর্যায়ে চালু হচ্ছে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’, পিছিয়ে পড়াদের অগ্রাধিকার: মাহ্দী আমিন
জেলা পর্যায়ে চালু হচ্ছে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’, যেখানে পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেছেন, প্রাথমিক পর্যায়েই আমরা ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালু করতে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে এ নিয়ে বেশ কয়েকটি আলোচনা ও পরামর্শ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে আয়োজিত এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো বাস্তবায়ন: নীতি, অংশীদারত্ব ও অগ্রাধিকার শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন।
‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্’ চালু প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আমরা সরাসরি জেলা পর্যায়ে পৌঁছে যাব এবং সেখানকার স্থানীয় নিয়োগকর্তা ও চাকরিপ্রার্থী, যারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন এবং যারা কাজ খুঁজছেন উভয় পক্ষকে একটি মেলবন্ধনে আবদ্ধ করব। অফলাইন ও অনলাইন উভয় প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আমরা তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দেব।
এই উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা সৃষ্টি, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একটি কার্যকর রেফারেল সিস্টেম গড়ে তোলা হবে, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেসরকারি খাতকে সরাসরি যুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি জানান, এই সময়োপযোগী উদ্যোগটি প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে শুরু হয়ে পরবর্তীতে সারা দেশের প্রতিটি জেলায় প্রসারিত হবে।
মাহ্দী আমিন বলেন, আমাদের একটি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থাকলেও, সেখানে প্রকৃতপক্ষে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সমন্বয় নিয়ে সরাসরি কাজ করার কাঠামো এতদিন ছিল না। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এই অ্যামপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে প্রত্যক্ষ সংযোগ স্থাপন করা।
পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুফল পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সমাজের কোনো নাগরিক যেন জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন প্রবাহ থেকে পিছিয়ে না পড়েন, সেটিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সুবিধা বঞ্চিতদের জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার মূলধারায় পূর্ণাঙ্গভাবে একীভূত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
দ্বিতীয় অধিবেশনের বিষয় ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদী কৌশলগত কাঠামো (জুলাই ২০২৬-জুন ২০৩১) এবং এসডিজি।
দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সার্বিক ভাগ্য পরিবর্তন ও টেকসই নাগরিক সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র। দীর্ঘ সময় পর জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রশাসনিক জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতা আরও জোরালো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক অভিমত ও ভোটাধিকারের ভিত্তি করে এই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। নির্বাচনি এই নিরঙ্কুশ বিজয়ে সর্বস্তরের জনগণের অসামান্য অবদান রয়েছে। ফলে প্রতিটি নাগরিকের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
উপদেষ্টা বলেন, শুধু সাময়িক উন্নয়ন নয়, বরং এমন একটি প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে যেখানে প্রতিটি নাগরিকের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের পাশাপাশি তাদের নিজস্ব ভাগ্যোন্নয়ন ঘটে। দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই সরকার এই অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাবে।
প্রথম বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, তৃণমূলের মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটাসহ সাতটিরও বেশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে কর ও ভ্যাট কমানো হয়েছে। এর ফলে বাজারে কোনো অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও সরকার কঠোর ব্যবস্থাপনায় দেশের বাজারে তেলের দাম সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, যেন নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষ স্বস্তিতে থাকতে পারেন।
অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, সংসদ সদস্য মাধবী মারমা প্রমুখ।
২১ ঘণ্টা আগে
এআই যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে: তথ্যমন্ত্রী
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশের ফলে বিশ্বে যে নতুন বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় যুবসমাজকে উপযুক্ত জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়ে গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থায় যুবসমাজই সভ্যতার সবচেয়ে বড় শক্তি ও সম্পদ।
বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে ঢাকার ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের মধ্য দিয়ে যে নতুন ইকোসিস্টেম তৈরি হয়েছে, তা সভ্যতার জন্য একদিকে যেমন আশীর্বাদ, অন্যদিকে তেমনি নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি করছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সভ্যতার জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন বাস্তবতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তি ও নতুন জ্ঞান গ্রহণের ক্ষেত্রে যুবকদের সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে এআই-নির্ভর ভবিষ্যৎ পৃথিবীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের উপযুক্ত জ্ঞান, দক্ষতা ও মানসিক প্রস্তুতি দিয়ে গড়ে তোলা রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আমরা যে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তার গভীরতা এতটাই বেশি যে আগামীকাল বা পরশু আমরা কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হব, তা অনেকাংশেই অনুমান করা কঠিন। তাই পুরোনো জ্ঞান ও প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি নতুন জ্ঞান, নতুন দক্ষতা ও নতুন সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, তরুণদের শুধু প্রচলিত শিক্ষায় শিক্ষিত করলেই হবে না; তাদের ডিজিটাল সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, নতুন ইকোসিস্টেমের জন্য নতুন ধরনের প্রতিষ্ঠান ও জ্ঞানব্যবস্থা প্রয়োজন। প্রতিটি রাষ্ট্রের জন্য তরুণদের উপযুক্ত জ্ঞান ও দক্ষতা দেওয়া এখন আর শুধু একটি উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নয়; বরং ভবিষ্যৎ সভ্যতার জন্য এটি একটি অনিবার্য বিনিয়োগ।
সম্প্রচারমন্ত্রীর কথায়, যুবসমাজ শুধু একটি দেশের সম্পদ নয়; তারা সমগ্র মানবসভ্যতার সম্পদ। তারা পুরোনো প্রজন্মের চেয়ে বেশি অভিজ্ঞ ও জ্ঞানসম্পন্ন। তাই তরুণদের শুধু ভবিষ্যতের নাগরিক হিসেবে নয়, বর্তমানের পরিবর্তনের অংশীদার হিসেবেও বিবেচনা করতে হবে।
বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুবসমাজকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। খেলাধুলা, সৃজনশীলতা, যুবসমাজের বিকাশ এবং পরিবর্তন ও জলবায়ু-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের ভূমিকার বিষয়গুলো ইতোমধ্যে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্ব পেয়েছে। সরকারের এ অবস্থান প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে যুবসমাজকে একটি প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে তারা শুধু বাংলাদেশের নয়, বৈশ্বিক সভ্যতার অগ্রগতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাকে যুবসমাজকে কেন্দ্র করে আরও ব্যাপক কর্মসূচি, সচেতনতা সৃষ্টি এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে যুবসমাজকে প্রস্তুত করা মানে শুধু তাদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করা নয়; বরং ভবিষ্যৎ সভ্যতার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব এসএম জোবায়েদ হোসেন অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন স্বাগত বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিওর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
২২ ঘণ্টা আগে
সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের দাবি
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগসহ হাইকোর্ট বিভাগের বিভিন্ন বেঞ্চের বিচারকক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ)। দাবি বাস্তবায়ন না হলে সাংবাদিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকক্ষে প্রবেশের ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (১২ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে এলআরএফ আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সংহতি জানিয়ে অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, গত ৭ জানুয়ারি থেকে আপিল বিভাগসহ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিভিন্ন বিচারকক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বিচারাধীন মামলার কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ এবং নির্ভরযোগ্যভাবে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা পেশাগতভাবে বাধার মুখে পড়ছেন।
আদালতের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ না থাকায় বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, উন্মুক্ত বিচারব্যবস্থা এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মুহাম্মদ ইয়াছিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আরাফাত মুন্নার সঞ্চালনায় অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সাবেক সভাপতি ও ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন, ডিআরইউর সাবেক সভাপতি ও আরটিভির হেড অব নিউজ ইলিয়াস হোসেন, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ, রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশনের সভাপতি শাফি উদ্দীন আহমদ, রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির সভাপতি কাজী জেবেল, ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সাবেক সভাপতি এম বদি উজ-জামান, আশুতোষ সরকার ও শামীমা আক্তার প্রমুখ।
সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর বলেন, একটি রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের পর গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক অধিকার ও সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সেই সময়ে আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণকে জানানোর কথা। অথচ বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্ব জনগণকে তথ্য জানার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।
তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন সরকার যখন আদালত বা বিচার বিভাগের টুঁটি চেপে ধরেছে, তখন সংবাদমাধ্যম বিচার বিভাগের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। সেই সংবাদমাধ্যম যখন তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের বাধার মুখে পড়ে, তখন বিচার বিভাগের নেতৃত্বের গণতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
নূরুল কবীর বলেন, প্রকাশ্য আদালতে বিচার করা বাংলাদেশের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। সংবিধান প্রদত্ত অধিকার রক্ষার দায়িত্ব যাদের ওপর ন্যস্ত, সেই বিচার বিভাগই যদি মানুষের তথ্য জানার অধিকার ক্ষুণ্ন করে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক, দুর্ভাগ্যজনক ও লজ্জাজনক।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত কোনো অবস্থাতেই সংবিধানের প্রকাশ্য আদালতে বিচার পরিচালনার নির্দেশনা লঙ্ঘন করে নিজেদের সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করবেন না—এটাই সম্পাদক পরিষদের প্রত্যাশা। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ চেয়েও পাওয়া যায়নি বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমের ভুল হতে পারে। বিচারকরাও ভুল করেন বলেই বিচারব্যবস্থায় আপিলের ব্যবস্থা রয়েছে। গণমাধ্যমে ভুল হলে তা সংশোধনের সুযোগও রয়েছে। কিন্তু বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ অভিভাবকেরা দিনের পর দিন, মাসের পর মাস জেনেশুনে একটি সিদ্ধান্ত বহাল রাখবেন, এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সাংবাদিকদের আদালতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো বাস্তব সমস্যা থাকলে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান সম্ভব বলে মনে করে নূরুল কবীর। সর্বোচ্চ আদালতের কর্তৃপক্ষ যেন সাংবাদিকদের বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দিকে ঠেলে না দেয়, সে আহ্বানও জানান তিনি।
এলআরএফের সাবেক সভাপতি সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘আজকের এই কর্মসূচি জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য। গত সাত মাস ধরে আদালতে প্রবেশ বন্ধ। এতে আমাদের পেশাগত কাজ বন্ধ নেই। রুটি-রুজিরও প্রশ্ন নেই। তবে সংবিধানে জনগণের তথ্য জানার যে অধিকার দিয়েছে, সেটা আমরা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারছি না।’
তিনি বলেন, সংবিধানের দুটি অনুচ্ছেদে বলা আছে বিচার হবে প্রকাশ্য আদালতে। অথচ সাংবাদিকদের আদালত থেকে বের করে দিয়ে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। জনগণকে বিচার বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে জানার অধিকার দিতে হবে।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, মানুষ যখন অধিকারবঞ্চিত ও অন্যায়ের শিকার হয়, তখন সর্বশেষ আস্থার জায়গা হিসেবে আদালতে যায়। কিন্তু আদালতই যখন মানুষকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, তখন মানুষ কোথায় যাবে?
তিনি বলেন, আজকের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যদি অধিকার প্রতিষ্ঠা না হয়, তাহলে সাংবাদিকরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন।
তথ্যের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে ঠেলে দেওয়া উচিত হবে না।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকদের আদালতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার মতো কী এমন বিষয় রয়েছে, যা জাতি জানতে পারবে না—এ প্রশ্নের জবাব প্রধান বিচারপতিকে দিতে হবে।
এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে ফ্যাসিস্ট আমলে আদালতে ফরমায়েশি রায় হয়েছে এবং সেই রায়ের ভিত্তিতে অনেকের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা বাক্স্বাধীনতা ও লেখার স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করেছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সরকারকে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন আবু সালেহ আকন। অন্যথায় সাংবাদিক সংগঠনগুলো এলআরএফের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামবে বলে জানান তিনি।
এলআরএফের সভাপতি মুহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, সাংবাদিকদের আদালতে প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দাবি মানা না হলে শিগগিরই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকক্ষে প্রবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
অবস্থান কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন এলআরএফের সাবেক সভাপতি সাঈদ আহমেদ খান, ওয়াকিল আহমেদ হরিন, মাশহুদুল হক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, হাবিবুর রহমান, মনিরুজ্জামান মশিন, সিনিয়র সদস্য শংকর মৈত্র, সাজেদুল হক, বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সহসভাপতি আবু সালেহ রনি, যুগ্ম সম্পাদক তানভীর আহমেদ, অর্থ সম্পাদক মনজুর হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ আল আমীন, দপ্তর সম্পাদক মাহমুদুল আলম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুল বাশার, প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌসী মানু, কার্যনির্বাহী সদস্য আসাদুর রহমান, ইলিয়াস সরকার, এস এম নূর মোহাম্মদ, রেজাউল করিম প্রমুখ।
এলআরএফের কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে সম্পাদক পরিষদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব), রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশন (র্যাক) এবং রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) নেতারাসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের দুই শতাধিক সাংবাদিক এতে অংশ নেন।
২২ ঘণ্টা আগে
নতুন কৌশলে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলার চেষ্টায় সরকার
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, গ্যাস সরবরাহের সংকটের কারণে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে যে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে, তা কমাতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, আজ বুধবার সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হবে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যা থেকে আমরা একটা কৌশল নিয়েছি। আশা করছি, আজকে সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হবে, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি জানান, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় সামিট টার্মিনালে একটি এলএনজি কার্গো অপেক্ষমাণ রয়েছে। সমুদ্রের পরিস্থিতির কারণে কার্গোটি এখনো টার্মিনালে এনে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না।
একই সময়ে এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালও বর্তমানে আংশিক সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে হলে প্রায় ৭২ ঘণ্টার জন্য সেটি বন্ধ রেখে প্রয়োজনীয় কাজ করতে হবে। তবে কখন সেই কাজ শুরু করা হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ইটস দ্য বিগেস্ট চ্যালেঞ্জ (এটি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ)। এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কিন্তু খুব কঠিন। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি। আজ বিকেলে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমার সঙ্গে বৈঠক করতে আসবে। কোন সময় এ কাজটা করলে সবচেয়ে কম জনদুর্ভোগ হতে পারে, আমরা ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে সেই সিদ্ধান্ত নেব।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে দুটি টার্মিনালের মাধ্যমে এলএনজি সরবরাহ করা হয়—একটি সামিট টার্মিনাল এবং অন্যটি এক্সিলারেট টার্মিনাল। বয়লার ত্রুটির কারণে এক্সিলারেট টার্মিনাল এমনিতেই ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে, সেটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় সামিট টার্মিনালে একটি এলএনজি কার্গো খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে।
৭২ ঘণ্টার জন্য এক্সিলারেট টার্মিনাল বন্ধ রাখার কাজ কবে শুরু হবে এবং কত দিন লাগবে—এমন প্রশ্নের জবাবে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এই সিদ্ধান্তটা আমরা নিইনি তো এখনও।
তিনি বলেন, গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকলে বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয় না এবং এর প্রভাব বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের ওপর পড়ে। তবে, গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা থেকে আমরা একটা কৌশল নিয়েছি। আশা করছি, আজকে সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হবে, ইনশাআল্লাহ।
মালয়েশিয়ায় পাঠানো চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী জানান, চিঠি পাঠানোর পর দেশটির সঙ্গে তিনি এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের একটি দল মালয়েশিয়া সফর করেছে এবং দেশটির দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে। সেখান থেকে কমপক্ষে এক কার্গো এলএনজি পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানি করতে হলে আলাদা একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কারণ বাজারে প্রয়োজনীয় আইএসও ট্যাংক সহজলভ্য নয়। এটি মধ্যমেয়াদি সমাধানের একটি বিষয় এবং সরকার এ নিয়েও কাজ করছে।
সব বিকল্প নিয়েই কাজ করছে সরকার
বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকার কী বিকল্প চিন্তা করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকারের হাতে থাকা সব বিকল্প নিয়েই কাজ করা হচ্ছে। তার কথায়, ‘আমাদের হাতে যতগুলো বিকল্প ছিল, আমরা সকল বিকল্প নিয়ে কাজ করছি।’
তিনি বলেন, মঙ্গলবার ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত একটি সেমিনারে জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মতামত দিয়েছেন। সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও আলোচনা করছে এবং সংকট মোকাবিলায় তাদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। এমনকি কোনো বুদ্ধি-পরামর্শ থাকলে তা দিতে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি সম্পর্কে সরকার জনগণকে নির্দিষ্ট কোনো বার্তা দিতে পারছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়ার মতো অবস্থানে তিনি নেই।
এ ব্যাপারে তার ভাষ্য, ‘সরকারের কাছে অবশ্যই জনগণ মেসেজ জানতে চায়। মেসেজ দেবার মতো জায়গায় যদি আমি থাকতাম, অবশ্যই আমি দিতাম। শুধু আমি আপনাকে এটুকু বলব—জনদুর্ভোগকে বিবেচনায় নিয়ে আমরা প্রাণান্তকর চেষ্টা করছি। এটা আমার ধারণা জনগণ বোঝে। আমাদের চেষ্টার ন্যূনতম কোনো ত্রুটি নেই।’
প্রকৃতি-সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সরকারের কিছু করার সীমাবদ্ধতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় সামিট টার্মিনালে এলএনজি খালাস করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাজনিত কারণে এক্সিলারেট টার্মিনালও এখনও পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ সীমিত। কারণ দেশীয় উৎপাদন রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয় এবং এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
বর্তমান সংকটের পেছনে অতীতের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের নীতিগত দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, বিগত সরকারগুলো কোনো মধ্যমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খোঁজেনি; বরং তাৎক্ষণিক সমাধানের পথে হাঁটার কারণে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যখন ভুল নীতি আপনি গ্রহণ করবেন, একটি সময় তার মাশুল দিতে হবে। বিগত সরকারগুলো কোনো মধ্যমেয়াদি, কোনো দীর্ঘমেয়াদি, কোনো সমাধানসূত্র খোঁজেননি। তাৎক্ষণিক সমাধানের পথে গেছেন বলে আজকে হঠাৎ করে একটি সংকট হয়েছে।’
এ ধরনের সংকট যে কোনো সময় সামনে আসতে পারত এবং কোনো না কোনো পর্যায়ে এর মুখোমুখি হতেই হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে গ্রীষ্মের এই সময়েই দেশের মানুষকে সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
২৩ ঘণ্টা আগে
হাতির আবাসস্থল রক্ষা হলে মানুষের ভবিষ্যৎও সুরক্ষিত হবে: পরিবেশমন্ত্রী
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, হাতির আবাসস্থল রক্ষা মানে শুধু হাতিকে রক্ষা করা নয়; এর মাধ্যমে বন, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের ভবিষ্যৎও সুরক্ষিত হয়।
তিনি বলেন, হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বন বিভাগের মাঠকর্মী, বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষার্থী, তরুণ প্রজন্ম, গবেষক, গণমাধ্যমকর্মীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এ কাজে সম্পৃক্ত হতে হবে।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে বিশ্ব হাতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এ বছরের বিশ্ব হাতি দিবসের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য ‘ব্রিঙ্গিং দ্য ওয়ার্ল্ড টুগেদার টু হেল্প এলিফ্যান্টস’ যার বাংলা প্রতিপাদ্য ‘বিশ্বজুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি’। হাতি ও এর আবাসস্থল সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, একসময় দেশে প্রচুর হাতি থাকলেও বর্তমানে এ প্রাণীর সংখ্যা ক্রমেই কমছে। আবাসস্থল দখল ও ধ্বংস, বন উজাড়, অবৈধ শিকার এবং বন্যপ্রাণী অপরাধ হাতির অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, হাতি রক্ষার সঙ্গে বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই হাতির আবাসস্থল রক্ষা করা গেলে শুধু একটি বিপন্ন প্রাণীই রক্ষা পাবে না, একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য এবং মানুষের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী জানান, ২০১৫ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বন্যহাতির সংখ্যা ২৬৮টি, পরিযায়ী বন্যহাতি ৯৩টি এবং পোষা হাতি ৯৬টি। ২০২৭ সালের মধ্যে পুনরায় হাতি জরিপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাতি সংরক্ষণে ৪০টি অগ্রাধিকার কার্যক্রম
হাতি সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে পরিবেশমন্ত্রী জানান, হাতি সংরক্ষণে ‘বাংলাদেশ এলিফ্যান্ট কনজাভেশন অ্যাকশন প্ল্যান (২০১৮-২০২৭)’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে ৪০টি অগ্রাধিকার কার্যক্রম চিহ্নিত রয়েছে। এসব কার্যক্রম বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মানুষ-হাতি সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত জানমালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা, ২০২১’ অনুযায়ী নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ৩ লাখ টাকা, আহত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা এবং জানমালের ক্ষতির জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, ২০১২ সাল থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত নিহত ৩২২ জনের পরিবার, আহত ১৬৯ জন এবং ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতির শিকার ৩ হাজার ২১৫টি পরিবারকে মোট প্রায় ১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।
হাতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দ্রুততম সময়ে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য বন অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।
মানুষ-হাতি সংঘাত কমাতে ১৫৯টি ইআরটি
মানুষ-হাতি সংঘাত মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, হাতি অধ্যুষিত এলাকায় এ পর্যন্ত ১৫৯টি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) গঠন করা হয়েছে।
এসব দল হাতির আগমন সম্পর্কে দ্রুত সতর্কবার্তা প্রদান, প্রাণীটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপদ উপায়ে মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাত কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
‘হাতি সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। স্থানীয় জনগণকে বাদ দিয়ে হাতি সংরক্ষণ কখনোই টেকসই হবে না,’ বলেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল তার সংসদীয় আসনের এলাকায় হাতির আক্রমণ ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে অপর বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষায় হাতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এজন্য হাতি রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি মনে করিয়ে দেন, মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, হাতি শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বেই বিপন্ন। হাতি রক্ষা হলে এর সুফল কতটা বিস্তৃত হবে, তা সাধারণভাবে অনুধাবন করা কঠিন। ফলে নতুন প্রকল্প অনুমোদন পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।
তিনি সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সরকারের সঙ্গে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরণ্যক ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. আব্দুল মোতালেব হাতি নিয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে হাতি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এবং ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
২৩ ঘণ্টা আগে
হালাল অর্থনীতি হতে পারে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা: বাণিজ্যমন্ত্রী
বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রচলিত রপ্তানি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন সম্ভাবনাময় খাতের দিকে নজর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ ক্ষেত্রে তিনি নির্ভরযোগ্য সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা তৈরির মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হালাল অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘আসিয়ান অঞ্চলে হালাল ইকোসিস্টেম: বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, হালাল অর্থনীতিকে এখন আর শুধু খাদ্য ও পানীয় খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। এটি বর্তমানে খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনী, মোডেস্ট ফ্যাশন, পর্যটন, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি বৃহৎ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।
তিনি বলেন, রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য প্রথমে আমাদের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এজন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও আকর্ষণীয় পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক হালাল বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দেশে একটি স্বাধীন, নির্ভরযোগ্য ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এটি বাংলাদেশের পণ্যের প্রতি বৈশ্বিক আস্থা বাড়াবে এবং নতুন বাজার তৈরিতে সহায়তা করবে।
তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার বিনিয়োগ আকর্ষণের অন্যতম প্রধান শর্ত। এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের রপ্তানি সুবিধা ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হালাল পণ্যের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। শুধু খাদ্য নয়, বরং ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন, পর্যটন ও জীবনধারাভিত্তিক পণ্যেও হালাল মানের গুরুত্ব বাড়ছে। এ বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ ও সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা।
আলোচনায় উঠে আসে, আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ার হালাল ইকোসিস্টেম বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে। দেশটি হালালকে শুধু একটি পণ্য হিসেবে দেখেনি; বরং উৎপাদন থেকে শুরু করে গবেষণা, সার্টিফিকেশন, বিপণন ও রপ্তানি পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় রূপ দিয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের রয়েছে বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, শক্তিশালী কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাত, ওষুধ শিল্প, চামড়া শিল্প এবং পোশাক খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। এসব সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বৈশ্বিক হালাল সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে।
সেমিনারে বাংলাদেশের হালাল খাতকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে রয়েছে—আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য জাতীয় হালাল নিশ্চয়তা কাঠামো তৈরি করা, আধুনিক পরীক্ষাগার ও উন্নত লজিস্টিক সুবিধাসহ বিশেষায়িত হালাল শিল্প ক্লাস্টার গড়ে তোলা, বিদ্যমান উৎপাদন খাতগুলোকে আন্তর্জাতিক মান ও প্রতিযোগিতার উপযোগী করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), গবেষক ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করা এবং অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ হালাল ব্র্যান্ড’কে বিশ্ববাজারে প্রতিষ্ঠিত করা।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রেদওয়ানুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালাল সার্টিফিকেশন (লাইভস্টক) বিভাগের উপপরিচালক আকতার হোসেন এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) উপপরিচালক (হালাল সার্টিফিকেশন) এস এম আবু সাঈদ।
১ দিন আগে
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জন বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জন বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম খানকে পদোন্নতি দিয়ে একই মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে।
আর কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব (চুক্তিভিত্তিক) রফিকুল আই মোহাম্মদকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জন বিভাগে সচিব (চুক্তিভিত্তিক) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
অন্যদিকে, জন বিভাগে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খান মো. নূরুল আমীনকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব (সংযুক্ত) করা হয়েছে।
১ দিন আগে