অন্যান্য
আজকের পদক্ষেপই আগামীর জলবায়ু নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে: পরিবেশমন্ত্রী
জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আজকের পদক্ষেপই আগামীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারলেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একবিংশ শতাব্দীর টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সর্বনিম্ন কার্বন নিঃসরণ, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, দূষণমুক্ত উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, দাবদাহ ও খরাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ ও তীব্রতা বাড়ছে। বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় ও নিম্নাঞ্চলীয় দেশের জন্য এসব ঝুঁকি গভীর উদ্বেগের বিষয়।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাপ) ২০২৩-২০৫০ প্রণয়ন করেছে। পাশাপাশি জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান প্রণয়ন করে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি স্বল্প-নিঃসরণ উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন ও অংশীদারত্ব জোরদারে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সঙ্গে পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়গুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িত। উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি মনে করেন, সরকারের পাশাপাশি জনগণের সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, শিশু-কিশোরদের ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা, পলিথিন ব্যবহার পরিহার, শব্দদূষণ রোধ, বিদ্যুৎ ও পানির সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং বৃক্ষ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সচেতন করে তুলতে হবে।
তিনি বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ী ও পরিবেশ মেলায় অংশগ্রহণকারী শ্রেষ্ঠ স্টলের পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন চরম বাস্তব। সাম্প্রতিক সময়ে নেপালের ঘটনা এই বাস্তবতার বাইরে নয়। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমবাহ গলে এই ভয়াবহ বন্যা। বাংলাদেশেও ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা হঠাৎ বন্যা বেড়ে গেছে। এখন শুধু হাওর বা নিচু অঞ্চলেই বন্যা হচ্ছে না, বরং পাহাড়ি অঞ্চলেও হচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অগ্রিম সতর্কতা জারি কৃষির ক্ষতি ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে ইতিবাচক ফল দেবে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির তথ্যচিত্র প্রদর্শন এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ী ও পরিবেশ মেলায় অংশগ্রহণকারী শ্রেষ্ঠ স্টলের মধ্যে পুরস্কার, ক্রেস্ট, সনদ ও প্রাইজমানি বিতরণ করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ী ও তাদের অভিভাবক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
৫ ঘণ্টা আগে
সরকারি বাসা বরাদ্দে নতুন সিদ্ধান্ত আবাসন পরিদপ্তরের
‘বাংলাদেশ অ্যালোকেশন রুলস, ১৯৮২’-এর রুল-৬ অনুসরণ করে এ, বি ও সি শ্রেণির সরকারি বাসা বা বাড়ি সরাসরি বরাদ্দ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। এখন থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে যথাযথ কোটা সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব আবাসন বরাদ্দ দিতে হবে।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তর থেকে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিবদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ অ্যালোকেশন রুলস, ১৯৮২’-এর রুল-৬ অনুযায়ী এ, বি ও সি শ্রেণির সরকারি বাসা বা বাড়ি বরাদ্দ দেওয়ার কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সম্পন্ন করে থাকে। অন্যদিকে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের দায়িত্ব হলো এ, বি ও সি শ্রেণির আবাসনের কোটা বিন্যাস ও সমন্বয় করা।
এতে আরও বলা হয়, তিন মাসের বেশি সময় খালি পড়ে থাকা এ, বি ও সি শ্রেণির সরকারি বাসাগুলো সরকারি রাজস্ব আদায় এবং সুষ্ঠু বরাদ্দ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে আবাসনের পুলে এনে প্রাধিকারভুক্ত কর্মচারীদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে কিছু বাসা উপযুক্ত কর্মচারীদের অনুকূলে বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে খালি বাসার তথ্যসহ বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের বাসা বরাদ্দ কমিটি-১-এর গত ৩০ জুনের সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় ‘বাংলাদেশ অ্যালোকেশন রুলস, ১৯৮২’-এর রুল-৬ অনুযায়ী এ, বি ও সি শ্রেণির বাসা বা বাড়ি এ দপ্তর থেকে বরাদ্দ না দিয়ে যথাযথভাবে কোটা সমন্বয় করার বিষয়ে সুপারিশ গৃহীত হয়।
এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে অনুরোধ জানিয়েছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর।
৬ ঘণ্টা আগে
লিটারে ৫ টাকা বাড়ল বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম
আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও আমদানি ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। এতদিন প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৯ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে খোলা সয়াবিন তেল ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের মূল্য বৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে আমদানিকারকরা দাম সমন্বয়ের আবেদন করেছিলেন। বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সরকার সীমিত পরিসরে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০৪ টাকা করা হয়েছে। তবে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।’
বাণিজ্য সচিব জানান, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আরও বেশি মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) প্রতি লিটারে ১০ টাকা বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। তবে ভোক্তা স্বার্থ ও সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার তুলনামূলক কম হারে দাম সমন্বয় করেছে।
৬ ঘণ্টা আগে
আরও ৪ কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন
দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) ২৩.৯৮ থেকে ২৮.০৩ ডলার দরে চার কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
চার কার্গোর মধ্যে তিনটি ২০২৫ সালের সরকারি ক্রয় বিধিমালার (পিপিআর) ১০৫(৩)(ক) বিধি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কোটেশন প্রক্রিয়ায় এবং অপরটি সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ব্যবস্থায় সৌদি আরবের আরামকোর ট্রেডিং শাখা থেকে কেনা হবে।
প্রস্তাবগুলো ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি কাছে উপস্থাপন করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
আন্তর্জাতিক কোটেশন প্রক্রিয়ায় ৪৯তম এলএনজি কার্গোটি ২৫ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সরবরাহের জন্য আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৭.৫৪ ডলার দরে কেনা হবে।
৫০তম কার্গোটি ১ থেকে ২ অক্টোবরের মধ্যে সরবরাহ করবে বিপি সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড। এর দাম পড়বে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৮.০৩ ডলার।
আর ৫১তম কার্গোটি ৫ থেকে ৬ অক্টোবরের মধ্যে সরবরাহ করবে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ভিটল এশিয়া পিটিই লিমিটেড। এর দাম প্রতি এমএমবিটিইউ ২৬.৬৬৮৮ ডলার ধরা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দর অনুযায়ী এই তিনটি কার্গো কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করে কমিটি।
এছাড়া আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৩.৯৮ ডলার দরে আরও এক কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।
সরকার-টু-সরকার ব্যবস্থার আওতায় আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড ও পেট্রোবাংলার মধ্যে স্বাক্ষরিত স্বল্পমেয়াদি এলএনজি বিক্রয় ও ক্রয় চুক্তির (এলএনজি এসপিএ) ৭.২(খ) ধারা অনুযায়ী অতিরিক্ত এই এলএনজি কেনা হবে।
ওই এলএনজি আগামী ১০ সেপ্টেম্বর সরবরাহের কথা রয়েছে। বিদ্যমান চুক্তির আওতায় এটি ‘অতিরিক্ত পরিমাণ’ হিসেবে কেনা হবে।
দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনে ঘাটতি পূরণ এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বর্তমানে আমদানি করা এলএনজির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে বাংলাদেশ।
৯ ঘণ্টা আগে
মকবুল আহমেদ চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের বাবা, বিশিষ্ট কেমিক্যাল ব্যবসায়ী মরহুম আলহাজ মকবুল আহমেদ চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মকবুল-আশুরা ট্রাস্টের আয়োজনে মোহাম্মদপুরের শেরশাহসুরী রোডের জামিয়া ইসলামিয়া বাইতুল ফালাহ মাদ্রাসা ও এতিমখানা, সলিমুল্লাহ রোডের জামিয়া ইসলামিয়া ওয়াহিদিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা এবং মরহুমের প্রতিষ্ঠিত লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ফাতেমা (রা.) মহিলা আলীম মাদ্রাসায় মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
মিলাদ ও দোয়া শেষে মোহাম্মদপুর ঈদগাহ মাঠে মরহুমের কবরে ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করা হয়।
প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মকবুল-আশুরা ট্রাস্টের পক্ষ থেকে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ফাতেমা (রা.) মহিলা আলীম মাদ্রাসার ৩৪৩ জন, পানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০৭ জন এবং রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮০ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়।
ঢাকায় অনুষ্ঠিত মিলাদ ও দোয়ায় মরহুমের জ্যেষ্ঠ পুত্র হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ, ছোট ছেলে হোসেন আহমেদ চৌধুরী কাজল, পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান ও মকবুল-আশুরা ট্রাস্টের সভাপতি হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, মৃত্যুর পরও মানুষ তার কর্মগুণে বেঁচে থাকে। ক্ষমতা ও ধন-দৌলত যা-ই থাকুক, সবাইকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হয়। মৃত্যু এক অনিবার্য সত্য।
তিনি বলেন, মানুষ বেঁচে থাকা অবস্থায় তার মহৎ কাজগুলোর জন্যই স্মরণীয় হয়ে থাকে। তাই জীবদ্দশায় সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করা উচিত।
হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ আরও বলেন, তিনি ও তার পরিবার মরহুম বাবার সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে অসমাপ্ত ইচ্ছাগুলো পূরণে সর্বাত্মকভাবে সচেষ্ট থাকবেন।
১ দিন আগে
খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে চলমান লোডশেডিং কমে আসবে: তথ্য উপদেষ্টা
দেশে চলমান লোডশেডিং খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে বেশ খানিকটা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে যে লোডশেডিং হচ্ছে, তার বোঝা এবার শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, লোডশেডিং নিয়ে একটা বিস্তারিত ডেটা আপনাদের দেওয়ার চেষ্টা করছি। লোডশেডিং, জ্বালানি নিয়ে অনেক কথাবার্তা চলছে। তবে আশা করছি, যে পরিমাণ লোডশেডিং আছে, সেটা বেশ খানিকটা কমে আসবে খুব অল্প সময়ের মধ্যে।
তিনি বলেন, ঢাকায় বসবাসকারীরা সাম্প্রতিক সময়ে এমন লোডশেডিং দেখছেন, যা আগে তুলনামূলকভাবে কম ছিল। অতীতে ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে গ্রামাঞ্চলে বেশি লোডশেডিং দেওয়া হতো। তবে বর্তমান সরকার সংকটের বোঝা সবাইকে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, একটি বড় শহরে পাওয়ারফুল মানুষরা থাকে বলে বিদ্যুৎ বেশি দেওয়া হয় তা কিন্তু না, বরং বড় শহরগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি থাকে বলেই লোডশেডিং কম দেওয়া হয়। সেই কারণে নীতিগতভাবে একটা প্রবণতা আছে। কিন্তু সরকার যেহেতু এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে লোডশেডিংটা সবাই ভাগ করে নেবে, তাই ঢাকায় এখন লোডশেডিং দেখছি আমরা।
তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘আনইন্টারাপ্টেড বিদ্যুৎ’ বা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের যে দাবি করা হয়েছিল, বাস্তবে তখন কতটা লোডশেডিং হয়েছিল, তার তথ্যও প্রকাশ করা হবে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ওই সময়ও কী পরিমাণ লোডশেডিং আসলে ছিল, কত মেগাওয়াটের লোডশেডিং হয়েছে, আগামী সপ্তাহে আপনাদের সেই ডেটাটাও দেব। ওই ডেটা নিয়ে আমি কাজ করছি। পাশাপাশি দেশবাসীকেও ওই তথ্য খুঁজে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উপদেষ্টার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় লোডশেডিংয়ের বড় অংশ গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে এই সরকার সরে এসেছে। জনগণ সরকারের এই সিদ্ধান্ত বুঝবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা চাহিদার কারণে সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির একটি স্বাভাবিক প্রবণতা তৈরি হয়। এর ফলে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তুলনামূলকভাবে এই চাহিদা কম ছিল বলে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা মন্তব্য করেন।
চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং এড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) ও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) আওতাধীন এলাকায় প্রয়োজনীয় মাত্রায় লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে। সাশ্রয় করা বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর ফলে ঢাকার বাইরে শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকশ্রেণিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের চাপ কমছে এবং সামগ্রিকভাবে লোডশেডিংয়ের বোঝা তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে বণ্টন করা সম্ভব হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, আমরা একটা সংকটের মধ্যে আছি এবং এই সংকটটা আমাদের সবাইকে ভাগ করে নিতে হবে। এই কষ্টটা যে খুব দীর্ঘ সময় হবে, সেটাও আমরা মনে করি না। সে ব্যাপারে নিশ্চয়ই যথেষ্ট উদ্যোগ আছে।
লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
প্রেস ব্রিফিংয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে ডেনমার্কের সহযোগিতায় নির্মিতব্য লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের গ্রাউন্ডব্রেকিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ৩০ আগস্ট চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তীরে লালদিয়া প্রকল্প এলাকায় এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে জানান তিনি।
সার সংকট নেই, বিতরণে সাময়িক সমস্যা ছিল
দেশে সার সংকট নেই বলেও দাবি করেছেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সারের সরবরাহে কোনো সংকট নেই, বিতরণ পর্যায়ে দুয়েকটি স্থানে সাময়িক সমস্যা হয়েছিল, যা সরকার সমাধান করেছে।
উপদেষ্টা বলেন, আমি আবারও বলি, সংকট নেই। আমি গত ব্রিফিংয়েও বলেছি। বিতরণ পর্যায়ে দুয়েকটা জায়গায় সমস্যা হয়েছিল।
সারের বর্তমান মজুতের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে বর্তমানে মোট ১২ দশমিক ৮৬১ লাখ টন সার মজুত রয়েছে। গত বছরের একই সময়ে মজুত ছিল ১২ লাখ টন। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার সার মজুত সমান বা কিছুটা বেশি রয়েছে।
সার বিতরণে যে সমস্যা হয়েছিল সেটা ঠিক হয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
১ দিন আগে
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানে তড়িঘড়ি নয়, দেশের স্বার্থে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্তের আহ্বান
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’-তে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদানের বিষয়ে তড়িঘড়ি না করে দেশের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞ।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিডিবিএল ভবনে ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ কথা বলেন।
‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান: কৌশলগত নিরাপত্তার হিসাব-নিকাশ’ শীর্ষক এ বৈঠকে চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাব্য সুবিধা ও ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয়।
ভয়েস ফর রিফর্ম-এর সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন ও বৈঠক সঞ্চালনা করেন।
তিনি বলেন, মক্কা চুক্তি নিয়ে আলোচনা এতদিন রাজনৈতিক, আমলাতান্ত্রিক ও কূটনৈতিক বৃত্তে সীমাবদ্ধ ছিল। জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নাগরিক সমাজের মতামতও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হওয়া উচিত।
প্রবন্ধে বলা হয়, গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত চুক্তির কেন্দ্রীয় ধারা অনুযায়ী, কোনো এক সদস্যদেশের ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে সব সদস্যের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে চুক্তির কমান্ড কাঠামো, সৈন্য বা সামরিক সহায়তার পরিমাণ, পারস্পরিক পরামর্শের প্রক্রিয়া এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির পদ্ধতি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এছাড়া ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পরিস্থিতিতে কোনো সদস্যদেশের দায়িত্ব কী হবে, প্রকাশিত দলিলে সে বিষয়েও স্পষ্ট কিছু বলা নেই।
সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি ‘ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রবন্ধে বলা হয়, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্তাবলি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংবিধানের ৬৩ ও ১৪৫(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী চুক্তিটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়।
আলোচনায় কয়েকজন বক্তা বলেন, বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রের নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী না হওয়ায় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি একটি বড় নিরাপত্তা কবচ হতে পারে। তবে অন্যরা সতর্ক করে বলেন, চুক্তিতে যোগ দেওয়ার ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য সব দিক গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর অনুষ্ঠানে বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ অংশ নিলে এশিয়ার পরাশক্তি চীনের আগ্রহ ও সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে এখনও পরিষ্কার অবস্থান না নিলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফজলে এলাহী আকবর বলেন, বাংলাদেশকে মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই পরাশক্তিরই সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ও ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সাবেক উপ-প্রধান জন এফ. ড্যানিলোউইজ বলেন, এখন পর্যন্ত মক্কা জোটের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ইতিবাচক। তবে মিসর, জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ এ জোটে যোগ দেবে কি না, তা আরও কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে।
তিনি বলেন, তুরস্ক ও ইসরায়েল বর্তমানে পরস্পরবিরোধী অবস্থানে থাকায় ইসরায়েল জোটটির সম্প্রসারণ ও অতিরিক্ত ক্ষমতায়নের বিষয়ে সতর্ক থাকবে।
ড্যানিলোউইজ আরও বলেন, ন্যাটোর মতো জোটেও একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামরিকভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা খুবই কম। ফলে বাংলাদেশ মক্কা জোটে যোগ দিলেও ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে বাংলাদেশের জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা খুব কম।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শাহাব এনাম খান, এফএসডিএস-এর প্রিন্সিপাল রিসার্চ ফেলো ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাফায়াত আহমেদ, নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিসের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান নাসির, সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, দৈনিক ওয়া’দার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ, মানবাধিকারকর্মী রুবি আহমতুল্লাহ এবং ভয়েস ফর রিফর্ম-এর সৈয়দ হাসিব উদ্দিন হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
এডিপির প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নের নির্দেশ জনপ্রশাসন উপদেষ্টার
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
চলমান প্রকল্পগুলোর ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনার পাশাপাশি বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা থাকলে তা দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এডিপিভুক্ত প্রকল্পগুলোর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই মাসের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভায় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আধুনিকায়ন ও ডিজিটাইজেশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, কোনো প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে থাকলে এবং তা বাস্তবায়নে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। তবে মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনোভাবেই প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো যাবে না।
সভা শুরুর আগে ‘সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা ২০২৬’, ‘ওঅ্যান্ডএম ম্যানুয়্যাল’-এর প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড এবং ‘সরকারি কর্মচারীদের পরিসংখ্যান ২০২৫’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. এহছানুল হকের সভাপতিত্বে সভায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন, যুগ্মসচিব মুহাম্মদ আব্দুস সালাম, পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন প্রকল্পের পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরাও অনলাইনে যুক্ত হয়ে সভায় অংশ নেন।
২ দিন আগে
কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে ঢাকায় ‘ডিপ্লোম্যাটিক ইনডোর গেমস’
ক্রীড়ার মাধ্যমে কূটনীতি, বন্ধুত্ব ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকার (আইএসডি) ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘দ্বিতীয় ডিপ্লোম্যাটিক ইনডোর গেমস ২০২৬’।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে গত ২৮ ও ২৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত এ আয়োজন ছিল ‘স্পোর্টস ডিপ্লোমেসি ইনিশিয়েটিভ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী আসর।
বিভিন্ন দূতাবাস, হাইকমিশন, জাতিসংঘ সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
প্রতিযোগিতায় ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিসের বিভিন্ন ক্যাটাগরি ছিল। আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ডেনমার্ক, মিসর, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।
এছাড়া জাতিসংঘ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইউএনডিপি, আইওএম, আইএফসি ও আইএসডির প্রতিনিধিরাও প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে আস্থা ও পারস্পরিক সমঝোতা তৈরির অন্যতম বড় মাধ্যম হলো খেলাধুলা। এ আয়োজন প্রথাগত কূটনৈতিক পরিবেশের বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদার ও স্বাগতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে খোলামেলা আলাপ-আলোচনা ও সম্পর্ক জোরদারের সুযোগ তৈরি করেছে।
আইএসডির ডিরেক্টর মাইক মিলার বলেন, কূটনৈতিক মহলের অতিথিদের ক্যাম্পাসে স্বাগত জানাতে পেরে তারা আনন্দিত। বৈচিত্র্য ও আন্তর্জাতিক চেতনাকে ধারণ করা তাদের আইবি কারিকুলামের মূল লক্ষ্য। বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রতিনিধি ও প্রতিষ্ঠানের এই ক্রীড়াসুলভ মেলবন্ধন সেই দর্শনেরই প্রতিফলন।
আয়োজকেরা জানান, প্রতিযোগিতার বাইরেও এ আয়োজন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদল, স্বাগতিক মন্ত্রণালয় ও সহযোগী সংস্থাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ তৈরি করে। উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান ছাড়াও খেলার বিরতি ও আপ্যায়নের সময় অংশগ্রহণকারীরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত ও মতবিনিময়ের সুযোগ পান।
যারা চ্যাম্পিয়ন
২৯ আগস্ট বিভিন্ন ক্যাটাগরির বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজন শেষ হয়।
ব্যাডমিন্টন পুরুষ দ্বৈতে চ্যাম্পিয়ন হন আইওএমের সোহেল বড়ুয়া ও মো. মোর্শেদুল আলম মুন্না। রানার-আপ হন আইএসডির মানাস ও বৈশাক।
ব্যাডমিন্টন মিশ্র দ্বৈতে চ্যাম্পিয়ন হন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জেসন ও সৈয়দা তাসমিন সুলতানা। রানার-আপ হন ইন্দোনেশিয়ার সাপতো সুদিয়ান্তো ও নূর।
টেবিল টেনিস দ্বৈতে চ্যাম্পিয়ন হন ডব্লিউএইচওর মো. রুহুল কুদ্দুস ও মো. মহসিন আজাদ। একই সংস্থার নিউটন রনি দাস ও মো. সুজা উদ্দিন ভূঁইয়া রানার-আপ হন।
টেবিল টেনিস এককে চ্যাম্পিয়ন হন ইউএনডব্লিউএফপির অয়ন দেওয়ান এবং রানার-আপ হন ডব্লিউএইচওর মো. রুহুল কুদ্দুস।
সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘আলাপ’-এর নির্বাহী সম্পাদক আহরার হোসেন, মধুমতি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নজরুল ইসলাম, ইবিএলের হেড অব ব্র্যান্ড, মার্কেটিং ও কমিউনিকেশনস জিয়াউল করিম, পূর্বাণী লাইফস্টাইল লিমিটেডের হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট শাহজালাল সুমন এবং চেম্বার ওয়ানের আইনজীবী মারিয়া তানজিমাৎ উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নজরুল ইসলাম বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।
২ দিন আগে
আইপিইউ মহাসচিবের জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সেখানে পৌঁছালে জাদুঘরের মহাপরিচালক আইপিইউ মহাসচিব ও তার সফরসঙ্গীদের স্বাগত জানান। পরে তারা জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।
এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সংরক্ষিত আলোকচিত্র, দলিল-দস্তাবেজ, স্মৃতিচিহ্ন, তথ্যচিত্র ও অন্যান্য ঐতিহাসিক নিদর্শন গভীর মনোযোগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
তারা ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে সংঘটিত গুম, খুন ও রাজনৈতিক নিপীড়ন, বিরোধী মত দমন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এর পটভূমি ও ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন। আন্দোলনে ছাত্র-জনতা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ সম্পর্কেও তাদের অবহিত করা হয়।
পরিদর্শনকালে জাদুঘরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আইপিইউ মহাসচিব ও প্রতিনিধি দলের সদস্যদের জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।
পরিদর্শন শেষে আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
এ সময় জাতীয় সংসদের সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী, মানসুরা আক্তার ও ডা. সানসিলা জেবরিন, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, আইপিইউ মহাসচিব বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সংসদ ভবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে দেখেন এবং বৈঠকে অংশ নেন।
২ দিন আগে