আইনশৃঙ্খলা
ঈদের ছুটিতে ডিএমপির বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা, মূল্যবান সামগ্রী রাখা যাবে থানায়
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
যেসব নগরবাসীর কোনো আত্মীয়-স্বজন নেই এবং ঈদের ছুটিতে বাসায় মূল্যবান সামগ্রী রেখে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তারা প্রয়োজনে তাদের স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র নিরাপদ হেফাজতে থানায় জমা রাখতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
রবিবার (১৫ মার্চ) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান।
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার জানান, ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল, একটি লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিটের কালোবাজারি এবং যাত্রী হয়রানি রোধে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে।
মো. সরওয়ার বলেন, ঈদের সময় রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী এবং কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্লক রেইড ও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঈদের ছুটিতে রাজধানী অনেকটা ফাঁকা হয়ে যায়। ওই সময়ে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হবে এবং আবাসিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক এলাকায় বিশেষ নজরদারি থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ডগ স্কোয়াড, সোয়াট টিম, বোম ডিসপোজাল ইউনিট এবং মাউন্টেড পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলেও তিনি জানান।
ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সরওয়ার নগরবাসীকে ঈদের ছুটিতে বাসা ত্যাগ করার আগে দরজা-জানালা সঠিকভাবে তালাবদ্ধ করা, সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা এবং বাড়ির আশপাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এছাড়া তিনি যাত্রীদের ভ্রমণের সময় অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার গ্রহণ না করতে এবং নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী নিজ হেফাজতে রাখার পরামর্শ দেন। প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে এবং যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।
তিনি জানান, ঈদ চলাকালীন পুরো রাজধানীজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে যাতে নগরবাসী নিরাপদে উৎসব উদযাপন করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন ছাড়া ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল ঈদের আগে ও পরে তিন দিন বন্ধ থাকবে। ঢাকার প্রধান প্রবেশ ও বহির্গমন পথগুলোতে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলেও উল্লেখ করেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার।
১৫ ঘণ্টা আগে
ঈদে লক্কড়-ঝক্কড় বাস নামালেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী থেকে বিভিন্ন জেলায় যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে লক্কড়-ঝক্কড় বাসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সারওয়ার বলেছেন, সড়কে কোনো অযোগ্য বাস চলতে দেওয়া হবে না। লক্কড়-ঝক্কড় বাস রাস্তায় নামালেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর বৃহত্তর বাস টার্মিনালে ‘ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে ও চাঁদামুক্ত করার লক্ষ্যে মালিক-শ্রমিক মতবিনিময় সভা’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার বলেন, কোনোভাবেই লক্কড়-ঝক্কড় বাস রাস্তায় নামানো যাবে না। কারণ একটি বাস বিকল হলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া বাসের ছাদে যাত্রী নেওয়া, অতিরিক্ত গতি এবং অসুস্থ চালক দিয়ে গাড়ি চালানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, যাত্রীদের সুবিধার জন্য বাস টার্মিনালে হেল্পডেস্ক চালু রাখা হবে এবং সেখানে বাসের ভাড়া তালিকা ও সময়সূচি টানিয়ে রাখতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট কালোবাজারি বা যাত্রী হয়রানির অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিরাপত্তার বিষয়ে ঈদকে কেন্দ্র করে বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশন এলাকায় প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।
নিরাপত্তা জোরদারে সাদা পোশাকের পুলিশ, ডিবি, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, সোয়াট টিম ও ডগ স্কোয়াডও বিভিন্ন টার্মিনালে দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে আইন প্রয়োগে ম্যাজিস্ট্রেট টিমও মাঠে থাকবে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদযাত্রা সহজ করতে সরকার ১৮ মার্চ অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করেছে। এতে যাত্রীদের চাপ এক বা দুই দিনে না পড়ে কয়েক দিনে ভাগ হয়ে যাবে। ফলে ১৬ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়তে পারবেন, যা পরিবহন ব্যবস্থাপনার জন্য সুবিধাজনক হবে। ঈদের ছুটিতে এক কোটিরও বেশি মানুষ ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাবেন, অন্যদিকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করবেন। এই বিপুল যাত্রীর চাপ সামাল দিতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে ঈদের আগে ও পরে মহাসড়কে ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল সীমিত রাখা হবে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে অপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ট্রাক মহাসড়কে না নামানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মো. সারওয়ার বলেন, ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করাই সবার প্রধান লক্ষ্য।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি সাইফুল আলম বাতেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব আব্দুর রহিম বক্স দুদু।
১ দিন আগে
দুর্নীতির মামলায় জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক
এবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক।
বুধবার (১১ মার্চ) বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে এ আদেশ দেন।
আদালতে এ বি এম খাইরুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু ও ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। এ আদেশের ফলে এ বি এম খায়রুল হকের কারামুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
এর আগে, গত ৮ মার্চ জুলাই আন্দোলনে হত্যার অভিযোগ এবং রায় জালিয়াতির অভিযোগের মামলাসহ পৃথক চার মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দেন হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রায় জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলা ও দুদকের করা মামলাসহ পৃথক পাঁচ মামলায় খায়রুল হকের জামিন প্রশ্নে গত ২৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল দেন। মামলাগুলোতে কেন তাকে জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। ৫টির মধ্যে দুদকের করা মামলাটি ছাড়া অপর চার মামলায় খায়রুল হককে গত ৮ মার্চ বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন দেন। আজ (বুধবার) দুদকের মামলায়ও জামিন দিলেন হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ।
উল্লেখ্য, খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন। এই রায়ের মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর বেআইনি রায় দেওয়া ও জাল রায় তৈরির অভিযোগে গত বছরের ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে করা একটি মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে গত ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন একটি মামলা করেন। একই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় গত ২৫ আগস্ট আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা নামের এক ব্যক্তি। এছাড়া বিধিবহির্ভূতভাবে প্লট গ্রহণের অভিযোগে গত আগস্টে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে দুদক।
৪ দিন আগে
অর্থপাচার মামলায় সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ৩৬ জনের বিচার শুরু
অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে করা একটি মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিচার শুরু হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান খান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. মোকাররম হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন ৫ এপ্রিল। একইসঙ্গে পলাতক জাবেদসহ ২৮ আসামির নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা করা হয়েছে। এই মামলায় কারাগারে রয়েছেন ৮ জন। ব্যাংক থেকে ঋণের নামে নিয়ে ২৫ কোটি টাকা লোপাট এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুদক গত বছরের ২৪ জুলাই মামলাটি করে।
সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে এই প্রথম কোনো দুর্নীতি মামলায় বিচার শুরু হলো বলে জানান পিপি মো. মোকাররম হোসাইন ।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময়কালে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির পোর্ট শাখা, চট্টগ্রাম ও প্রধান কার্যালয়, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পরিকল্পিতভাবে এই অপরাধ সংঘটিত হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরামিট লিমিটেডের প্রোটোকল কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামের একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী দেখানো হয়। মিথ্যা তথ্য ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে ১৩ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে ইউসিবি পোর্ট শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই শাখার জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা মো. আকরামউল্লাহ এবং তৎকালীন শাখা প্রধান ও ডেপুটি প্রিন্সিপাল কর্মকর্তা আবদুল হামিদ চৌধুরী কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিধিবহির্ভূতভাবে হিসাবটি অনুমোদন দেন।
পরবর্তীতে ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে ভিশন ট্রেডিংয়ের নামে গম, মসুর, ছোলা ও হলুদ মটর কেনার কথা উল্লেখ করে ১৮০ দিনের জন্য ২৫ কোটি টাকার টাইম লোনের আবেদন করা হয়। মিথ্যা স্টক, অভিজ্ঞতা ও গুদাম-সংক্রান্ত তথ্য দেখিয়ে কোনো জামানত ছাড়াই ঋণ প্রদানের সুপারিশ করা হয়।
ইউসিবির কর্পোরেট ব্যাংকিং ও ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের যৌথ কমিটি ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণসহ ঋণ প্রস্তাবটি পরিচালনা পর্ষদের কাছে উপস্থাপন করে। এসব নেতিবাচক দিক উপেক্ষা করেই ১২ মার্চ ২০২০ তারিখে অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ৪৪৮তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় ঋণটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
ঋণ বিতরণের পর অর্থের গতিপথ আড়াল করতে ২০২০ সালের ২৩ ও ২৪ মার্চ যথাক্রমে ১০ কোটি ও ১৫ কোটি টাকা প্রথমে ব্যাংকের জেনারেল লেজার হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। পরে পে-অর্ডারের মাধ্যমে অর্থ চারটি কাগুজে প্রতিষ্ঠান—আলফা ট্রেডার্স, ক্ল্যাসিক ট্রেডিং, মডেল ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের হিসাবে পাঠানো হয়।
দুদক জানায়, এসব প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীরা মূলত সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও সহযোগী। পরবর্তীতে এই অর্থ আরামিট সিমেন্ট পিএলসি ও আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেডের হিসাবে স্থানান্তর করে প্রায় ১৪ কোটি ১১ লাখ টাকা পূর্ব দায় সমন্বয়ে ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া আরামিট গ্রুপের কয়েকজন কর্মচারী ৯ কোটি ৪১ লাখ ৭ হাজার ২০০ টাকা নগদ উত্তোলন করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, এ ঘটনায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী ও ইউসিবি পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান রূকমিলা জামানসহ মোট ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
৪ দিন আগে
দুদকের মামলায়ও আনিস আলমগীরের জামিন, মুক্তি যেকোনো সময়
অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় জামিন পেয়েছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর।
বুধবার (১১ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।
আনিস আলমীগের আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এর আগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গত ৫ মার্চ হাইকোর্ট আনিস আলমগীরকে জামিন দেন। আজ (বুধবার) দুদকের মামলাতেও জামিন পেয়েছেন। তবে তার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা নেই। তিনি যেকোনো সময় মুক্তি পাবেন।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, গত ১৫ জানুয়ারি জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। গত ২৮ জানুয়ারি তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় আদালত।
মামলার এজাহারে বলা আছে, আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসেবে তার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ফলে মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা।
আনিস আলমগীরের বৈধ আয়ের উৎস থেকে মোট আয় পাওয়া গেছে ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর মধ্যে অতীত সঞ্চয় ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২১ টাকা, টক শো ও কনসালটেন্সি থেকে আয় ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টাকা, প্লট বিক্রি থেকে ২২ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ বাবদ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ হিসাবে তার ঘোষিত ও গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া যায়, যা মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ এবং তা জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে করা হয়।
৪ দিন আগে
মোহাম্মদপুরে সেই বিড়াল হত্যার মামলায় আসামির ৬ মাসের কারাদণ্ড
ঢাকার মোহাম্মদপুরে এক ব্যক্তির পোষা বিড়াল হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিবেশী আকবর হোসেন শিবলুকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১১ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আসামি শিবলুকে ছয় মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও এক মাস বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এজন্য আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মনসুর ও শিবলু মোহাম্মদপুরের মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারের বাসিন্দা।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি পিপলস ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ারের পক্ষ থেকে নাফিসা নওরীন চৌধুরী আদালতে বিড়াল হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করেন।
আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে মোহাম্মদপুর থানাকে নির্দেশ দেন। পরে তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। এরপর গত ১৪ জুলাই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় গত ২ ডিসেম্বর। চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের দিন ধার্য করেন। প্রথমে ১৭ ফেব্রুয়ারি রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও পরে তা পিছিয়ে বুধবার রায় ঘোষণা করা হয়।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি দুপুরের দিকে মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারের নবম তলার বাসিন্দা মনসুরের পোষা বিড়ালটি হারিয়ে যায়। পরে ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত আকবর হোসেন শিবলু বিড়ালটিকে লাথি মারছেন। লাথির আঘাতে বিড়ালটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকলেও অভিযুক্ত পাড়া দিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে মামলাটি করা হয়েছিল।
৪ দিন আগে
হাদি হত্যার আসামিদের দেশে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে: আইজিপি
ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার আসামিদের দেশে আনার ক্ষেত্রে কূটনৈতিকভাবে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের নতুন মহাপরির্দশক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
সোমবার (৯ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন শেষে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
আইজিপি বলেন, শহিদ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামিদের ভারতের কোলকাতায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। কুটনৈতিক চ্যানেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটি নিয়ে কাজ করছে। উভয় দেশের সঙ্গে কথাবার্তা হচ্ছে। খুব শিগগিরই সেখান থেকে বিস্তারিত বিষয়ে জানতে পারবেন।
এ সময় তিনি আরও জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সন্ত্রাসী তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ওই তালিকার ভিত্তিতে শিগগির দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করা হবে, যাতে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদারের কথাও জানান আইজিপি। তিনি বলেন, ঈদযাত্রার সময় মহাসড়কে ছিনতাই, ডাকাতি কিংবা চাঁদাবাজির মতো কোনো অপরাধ সংঘটিত হতে দেওয়া হবে না। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকবে।
বেতন-ভাতা নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। একইসঙ্গে জঙ্গিবাদ যাতে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।
পুলিশের দুর্নামের জন্য কতিপয় পুলিশ সদস্য দায়ী মন্তব্য করে আইজিপি বলেন, পুলিশের পদোন্নতি, পদায়নে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি হবে না। সৎ ও যোগ্য লোক থাকবে পুলিশে। দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো।
তিনি আরও বলেন, দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য প্রতিটি থানায় একজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। আর পুলিশের পোশাকের বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।
পুলিশের পোশাক বদলানো বিষয়ে জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, এটি নিয়ে কাজ করছে সরকার। সরকারই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। বিষয়টি সরকার থেকেই জানতে পারবেন। তবে পোশাক পরিবর্তনের চেয়ে মানসিকতা পরিবর্তন জরুরি।
মব নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মব নির্মুল করতেই হবে। আইন নিজের হাতে কেউ তুলে নেবেন না। যত বড় ক্ষমতাশালী হোক আর যে দলেরেই হোক মবকে প্রতিহত করা হবে।
৬ দিন আগে
বাধ্যতামূলক অবসরে নৌ-পুলিশ প্রধানসহ ৫ অতিরিক্ত আইজিপি
নৌ-পুলিশের প্রধান কুসুম দেওয়ানসহ বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার পাঁচজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।
সোমবার (৯ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক পাঁচটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সালের ৫৭ নং আইন)-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হলো। তারা বিধি অনুযায়ী জনস্বার্থে অবসরজনিত সুবিধা প্রাপ্য হবেন।
জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
অবসরে যাওয়া পাঁচজন অতিরিক্ত আইজিপি হলেন— নৌ-পুলিশের প্রধান কুসুম দেওয়ান, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ওএসডি) আবু হাসান মুহম্মদ তারিক, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ওএসডি) মোহা. আবদুল আলীম মাহমুদ, পুলিশ সদর দপ্তরের টিআর মো. মাসুদুর রহমান ভূঞা ও রাজশাহী সারদার প্রিন্সিপাল অতিরিক্ত আইজিপি মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরী। প্রজ্ঞাপনের অনুযায়ী, সরকারি চাকরি আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে তাদের এই বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।
৬ দিন আগে
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ৯ এপ্রিল
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হবে ৯ এপ্রিল।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এ সিদ্ধান্ত জানায়।
এর আগে ২৭ জানুয়ারি প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছিল ট্রাইব্যুনাল।
রংপুরে আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ৩০ জুন ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এ মামলায় বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহসহ মোট ২৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ ৩০ আসামির মধ্যে মামলার গ্রেপ্তার ৬ আসামি হলেন— বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী আকাশ।
মামলা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়েছে বলে দাবি প্রসিকিউশনের। তাই সর্বোচ্চ সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করছে তারা।
১০ দিন আগে
সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারে শিগগিরই অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
খুব শিগগিরই দেশব্যাপী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর রমনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদর দপ্তরে ডিএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, আজকের মতবিনিময় সভায় দুটি বিষয়ে অনুশাসন দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো— আমরা চাঁদাবাজদের তালিকা প্রস্তুত করে খুব শিগগিরই দেশব্যাপী, বিশেষ করে ঢাকা থেকে অভিযান শুরু করব। সেজন্য চাঁদাবাজদের তালিকা প্রস্তুত করে সেই হিসেবে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, যারা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, দাগি আসামি, যারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের একটি স্বচ্ছ তালিকা প্রস্তুত করে সে হিসেবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানতম অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং এর মাধ্যমে জনমনে স্বস্তি প্রদান করা ও দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি বলেন, আমরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আর এক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা অগ্রগণ্য। যেহেতু বাংলাদেশ বিগত সময়ে একটা ফ্যাসিবাদী সরকারব্যবস্থার মধ্যে ছিল, সে সময় অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশের এই প্রতিষ্ঠানটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই জায়গা থেকে ক্রমান্বয়ে আজকের এই পর্যায়ে এসেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানুষ যেন পুলিশকে সত্যিকার অর্থেই জনগণের বন্ধু মনে করে, আমরা পুলিশ বাহিনীকে সে লক্ষ্যে পরিচালিত করছি। আজকের মতবিনিময় সভায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ রাজনীতিক বলেন, ‘পুলিশ কোনো ব্যক্তির স্বৈরতান্ত্রিক নির্দেশে চলবে না বা কোনো পিতৃতান্ত্রিক সিস্টেম এখানে চলবে না; পুলিশ চলবে আইনানুগভাবে।’
মন্ত্রী বলেন, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পুলিশ বাহিনীকে পরিচালনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে বিষয়ে তারা আজ সংকল্প ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন। তিনি বলেন, আমি পুলিশ বাহিনীকে জনগণের পক্ষে বর্তমান সরকারের যে প্রতিশ্রুতির বিষয়গুলো আছে, তা স্মরণ করে দিয়েছি। আমি আশা করছি, তারা জনগণের পক্ষে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করবেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পুলিশ বাহিনীকে ‘চেইন অব কমান্ড’ বজায় রেখে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরাসরি মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না। তবে মন্ত্রী যদি চান, যেকোনো স্তরের কর্মচারীর সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। কিন্তু ‘চেইন অব কমান্ড’ ভঙ্গ করে একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না।
ঢাকার যানজটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনারকে আমরা একটা সেল বা কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দিয়েছি। তিনি ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে বসে যানজট নিয়ন্ত্রণে করণীয় ও সুপারিশমালা প্রস্তুত করে আমাকে একটি প্রতিবেদন দেবেন।
এ সময় ঢাকা শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশার আধিক্য নিয়েও কথা বলেন তিনি। বলেন, ঢাকার প্রধান ও ভিআইপি সড়কে, যেখানে ব্যাটারিচালিত রিকশা থাকার কথা নয়, সেখানেও তারা চলাচল করছে। এটা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়—সে বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমরা পরীক্ষামূলকভাবে উত্তরা এয়ারপোর্ট রোড থেকে সচিবালয় পর্যন্ত রাস্তায় ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ করব। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য প্রধান ও ভিআইপি সড়কে এটি করা হবে।
ব্রিফিংয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ারসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
১১ দিন আগে