আইনশৃঙ্খলা
পলাতক বা শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পলাতক বা শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার অনুকম্পা দেখানো হবে না। ইতোমধ্যে আলোচিত কর্মকর্তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী একাধিক বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অপরাধী যেই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাম্প্রতিক দেশব্যাপী তিনটি সাড়া জাগানো ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের প্রশংসনীয় অবদান ও কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমান সরকার ‘শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন’ এবং ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতিতে গভীরভাবে বিশ্বাসী। এই নীতির আলোকে নৈতিক মনোবল বৃদ্ধির মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীকে আরও সেবামুখী ও জনবান্ধব করতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভালো কাজের স্বীকৃতি ও মন্দ কাজের জন্য তিরস্কারের এই প্রক্রিয়া পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে আরও বেশি কর্তব্যপরায়ণ, আন্তরিক ও ন্যায়নিষ্ঠ হতে অনুপ্রাণিত করবে।
তিনি বলেন, অতীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন সচরাচর দেখা যায়নি। সাধারণত রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স বা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের বার্ষিক অনুষ্ঠানে এ ধরনের পদক বা ব্যাজ প্রদান করা হয়ে থাকে। তবে মাঠপর্যায়ে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের তাৎক্ষণিক মনোবল বৃদ্ধি এবং নৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের আইনানুগ ব্যবস্থা বজায় রাখা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ৫ই আগস্টের পর পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার সফল হয়েছে। পুলিশ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জনবান্ধব এবং জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
বিগত ২০২৪ ও ২০২৫ সালের অপরাধ চিত্রের তুলনামূলক পরিসংখ্যান উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বিগত বছরগুলোর তুলনায় বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং প্রতিটি ক্যাটাগরিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে।
বিগত সময়ে পলাতক থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্টভাবে জানান, পলাতক বা শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার অনুকম্পা দেখানো হবে না। ইতোমধ্যে আলোচিত কর্মকর্তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী একাধিক বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। একইসঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে আইসিটি অ্যাক্ট বা দণ্ডবিধির অধীনে মামলা রয়েছে, তারা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে বিচারের সম্মুখীন হবেন। অপরাধী যেই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রী তিনটি বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ ঘটনায় সর্বমোট ১৫ জন পুলিশ সদস্যের হাতে সনদ ও আর্থিক পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রত্যেককে মন্ত্রণালয়ের বিশেষ তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয় এবং ৩ জন নৌ পুলিশ সদস্যকে আইজি ব্যাজ প্রদান করা হয়।
পুরস্কারের আওতায় আসা ঘটনা তিনটি হলো যথাক্রমে পল্লবী থানার রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নৌ পুলিশের বীরত্ব এবং মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ক্লু-লেস কিশোরী হত্যাকাণ্ড।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ-সহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৮ ঘণ্টা আগে
টিআইবির প্রতিবেদন পত্রিকার কাটিংনির্ভর, তারা তদন্ত করে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনকে ‘পত্রিকার কাটিংনির্ভর’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, টিআইবি কোনো তদন্ত করে না; তাই প্রকৃত তথ্য জানতে পুলিশ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপরাধ-পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর করা উচিত।
সম্প্রতি আলোচিত তিনটি মামলার তদন্তে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের পুরস্কার প্রদান উপলক্ষে রবিবার (৮ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় সাংবাদিকরা জানতে চান, সরকারের ১০০ দিন পূর্তির পর পুলিশ জনগণের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে কি না এবং টিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে ৬ শতাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে; এই অবস্থায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সন্তোষজনক মনে করেন কি না।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার কাছে সেই রিপোর্টটা সামনে নাই। আমরা মাসভিত্তিক অপরাধের পরিসংখ্যান প্রস্তুত করি। ডাকাতি, খুন, হত্যা, ধর্ষণ—এসব অপরাধ জাতীয়ভাবে প্রতি মাসে এবং বছরওয়ারী কতটা ঘটছে, তার হিসাব আমাদের কাছে থাকে। এরপর আগের বছরের একই সময়ের সঙ্গে তা তুলনা করি।
বর্তমান সরকারের মেয়াদ এক বছর হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে একটি পরিসংখ্যান দেখেছি, সেখানে ২০২৫ সালের তুলনায় আমাদের সময়ে অপরাধ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। প্রায় সব ক্যাটাগরিতেই অপরাধ কমেছে। ২০২৫ সাল বা ২০২৪ সালের সঙ্গে যদি মাসিক হিসাব করি, তাহলে তো তুলনাই চলে না। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা আপনি যেটা বললেন, সেটা আমার সামনে নাই। তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব না।
পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, জনগণই এ বিষয়ে চূড়ান্ত বিচার করবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব বাহিনীতে রূপান্তর করতে পেরেছি বলে আমার মনে হয়। তাদেরকে মানসিকভাবে উৎসাহিত করা দরকার, যাতে তারা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী, আইন অনুযায়ী এবং আইনের শাসন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করতে পারে।’
সরকারের নীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা ‘রিওয়ার্ড অ্যান্ড পানিশমেন্ট’ (পুরস্কার ও শাস্তি) নীতিতে বিশ্বাস করি। ভালো কাজের জন্য স্বীকৃতি এবং মন্দ কাজের জন্য শাস্তি। শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন—এটাই আমাদের নীতি। আমরা বাস্তবে সেটা ইনশাআল্লাহ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি, সামনের দিনে দেখা যাবে যে আমরা কতটুক সফল হয়েছি।’
টিআইবির মূল্যায়ন সরকার গ্রহণ করছে নাকি প্রত্যাখ্যান করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘টিআইবি তো সরকারি সংস্থা নয়। আপনারা পরিসংখ্যান নেবেন পুলিশ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। তারপর আপনারাই বিচার করবেন, জনগণ বিচার করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘টিআইবি রিপোর্ট করে পত্রিকার কাটিংয়ের ভিত্তিতে। টিআইবি কোনো তদন্ত করে না। প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে তারপর কোনো স্টেটমেন্ট দেয় না।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের সামনে যেটা আছে, সেটা হলো পুলিশের অপরাধ চিত্র; সেটি আমরা জেলা পর্যায় থেকে নিয়মিত সংগ্রহ করি, সেটা আমাদের রুটিন ওয়ার্ক এবং সেটাই প্রকৃত তথ্য।
তিনি বলেন, পত্রিকান্তরে অনেক খবর প্রকাশিত হয়, সেগুলো আমরা অবশ্যই নজরে আনি এবং খোঁজখবর নেই। প্রত্যেকটা ঘটনা যে সঠিক, সেরকম বলা যাবে না। তবে যেহেতু পত্রিকার লেখার স্বাধীনতা আছে, আমরা সেগুলো যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য পাঠাই।
তার কথায়, ‘আমি সমস্ত পত্রিকার কাটিংগুলো সকালে না দেখতে পারলেও দেখি; সারা দিনের মধ্যেই দেখি। দেখে আমি কনসার্নড ডিপার্টমেন্টের (দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগ) কাছে পাঠাই যে এ বিষয়ে আপনারা এক্সামিন করে (খতিয়ে দেখে) আমাকে মতামত দেন, প্রকৃত ঘটনা কী। তো টিআইবির রিপোর্টটা তো শুধু পেপার কাটিংয়ের ওপরে হয়ে থাকে। তাই সে বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’
তদন্ত কার্যক্রমে পুলিশ সদস্যদের ভাতা ও আর্থিক বরাদ্দ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পুলিশের আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং সরকার সে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত।
তিনি বলেন, তদন্ত কার্যক্রম, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট কিংবা পুলিশ টহলের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে যেন পর্যাপ্ত আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করা যায়, সে জন্য আমরা চেষ্টা করব।
৯ ঘণ্টা আগে
রামিসা হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকরে সহায়তা করবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার বহুল আলোচিত মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানি আইনানুগভাবে দ্রুত এগিয়ে আনতে সরকার সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রবিবার (৭ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও এই বিষয়টা সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনব এবং অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে বলব, যাতে রামিসা হত্যার এই ডেথ রেফারেন্স শুনানিটা আইনানুগভাবে কিছুটা এগিয়ে আনা যায়।’
আজ (রবিবার) ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বহুল আলোচিত রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। মাত্র ১৭ দিনের বিচারিক কার্যক্রম শেষে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী বলেন, সরকারের নীতি হলো ভালো কাজের জন্য পুলিশকে পুরস্কৃত করা এবং ব্যর্থতার ক্ষেত্রে তিরস্কার করা। তবে বর্তমানে পুলিশ বাহিনীর অর্জন প্রশংসার দাবি রাখে।
তিনি বলেন, সমস্ত অগ্রগতিগুলো আমরা যেমন পুলিশকে পুরস্কৃত করব তাদের ভালো কাজের জন্য, তিরস্কারের সময় তিরস্কৃত করব। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের পুলিশ বাহিনীর যে অ্যাচিভমেন্ট (অর্জন), এগুলো প্রশংসার দাবি রাখে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার নৃশংস ঘটনায় সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ এবং চার্জশিট আদালতে দাখিল করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ড নিয়ে সারা দেশে একটা তোলপাড় অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল, জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে দ্রুততার সঙ্গে ডিএনএ টেস্ট করে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং চার্জশিট আদালতে দাখিল করেছি। খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে এই বিচারকার্য পরিচালনায় সহযোগিতা করেছি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঈদের ছুটির মধ্যেও আদালত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। আদালত তাদের ছুটি বাতিল করে কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তারা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সেটা করেছেন।
তিনি জানান, বিচার প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো অবিচার না হয়, সে জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর পাশাপাশি আসামিপক্ষের জন্যও আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল। এছাড়া চিকিৎসক ও পুলিশ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা সাক্ষ্য দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখানে আসামি দুইজন, ১৬৪ ধারায় তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে, ডিএনএ টেস্ট এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে মামলাটি প্রমাণ করা খুব বেশি কঠিন ছিল না। আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আদালত ন্যায়বিচার করেছেন, আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে এবং পুলিশের গ্রেপ্তার ও তদন্ত কার্যক্রমের ইতিহাসে এটা একটি মাইলফলক। এভাবেই আমরা ইনশাআল্লাহ জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আশা করি, আমরা সকলের সহযোগিতা পাব।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মৃত্যুদণ্ডের রায় হলে সেটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে শুনানি হতে হয়। সাধারণত পুরোনো মামলার শুনানি আগে এবং নতুন মামলার শুনানি পরে হয়। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও দেখা গেছে।
তিনি আরও বলেন, ডেথ রেফারেন্স শুনানির পর যদি মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে, তাহলে কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিলম্ব হবে না।
১ দিন আগে
রামিসা হত্যা মামলার রায়ে সরকার আপাতত সন্তুষ্ট: আইনমন্ত্রী
পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার বহুল আলোচিত মামলার রায়ে সরকার আপাতত সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
রবিবার (৭ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আইনের প্রত্যেকটি ধাপ পেরিয়ে ছয় কার্যদিবসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। বিচারে ঘোষিত শাস্তিতে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট। আশা করি, এটি উচ্চ আদালতে গেলেও রায় বহাল থাকবে।’
এর আগে একই দিন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মাত্র ১৭ দিনের বিচারিক কার্যক্রম শেষে মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হয়েছে।
বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এত কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।
অবশ্য এর আগে তিন কার্যদিবসে মাদক মামলা নিষ্পত্তির নজির রয়েছে। আর গত বছর মাগুরায় আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হয় ১৪ কার্যদিবসে। ওই মামলায়ও আসামির সর্বোচ্চ সাজার রায় আসে।
১ দিন আগে
শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: সোহেল রানা ও স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি সোহেল রানাকে ৫ লাখ ও স্বপ্না খাতুন ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
রবিবার (৭ জুন) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
এ সময় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কাছগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।
এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।
বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এত কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।
অবশ্য এর আগে তিন কার্যদিবসে মাদক মামলা নিষ্পত্তির নজির রয়েছে। আর গত বছর মাগুরায় আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হয় ১৪ কার্যদিবসে। ওই মামলায়ও আসামির সর্বোচ্চ সাজার রায় আসে।
ঘটনা ঘটে গত ১৯ মে। সেদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে প্রতিবেশী সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে তাদের কক্ষে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত রামিসা। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। একই ভবনের একটি সাবলেট কক্ষে থাকতেন সোহেল ও স্বপ্না। মামলার তদন্তে উঠে এসেছে, রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং দুই হাতও কাঁধের কাছ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয় এবং কাটা মাথা বাথরুমের একটি বালতিতে রাখা হয়। এরপর সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে সোহেল ও স্বপ্নার কক্ষের সামনে রামিসার স্যান্ডেল দেখতে পান তার মা। ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে মাথাবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমের বালতিতে কাটা মাথা দেখতে পান তিনি। এ সময় স্বপ্না আক্তার কক্ষের ভেতরেই উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার দিন রাতেই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর ১৯ মে দিবাগত রাতে শিশুটির বাবা হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন।
পরদিন আদালতে হাজির করার পর সোহেল রানা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান তার জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালত জবানবন্দি গ্রহণ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একইদিন পৃথক আবেদনের পর সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হক।
মামলাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দেশজুড়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি গুরুত্ব পায়। একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানক এ ঘটনার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং সর্বোচ্চ শাস্তির কথা উল্লেখ করেন।
ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায়, ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ওইদিনই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত বলে মত দেন এবং তা ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একইদিন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
এরপর ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হলেও মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে বিচারিক কার্যক্রম চালু রাখা হয়। আদালতের অবকাশকালীন কার্যক্রম সীমিত থাকলেও এ মামলার শুনানির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
১ জুন আদালত দুই আসামির উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে ২ জুন বাদীসহ ১৮ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।
২ জুন মামলার বাদীসহ ১৬ জন সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দেন। আসামিদের উপস্থিতিতেই তাদের জেরা ও সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিচারক ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য করেন।
৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের দায় স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অব্যাহতি চান। শুনানি শেষে বিচারক ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন।
৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল রহমান দুলু এবং রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কালিমুল্লাহ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত। অপরদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী সোহেল রানার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং স্বপ্না আক্তারের জন্য ৭ বছরের সাজা প্রার্থনা করেন।
সবশেষে আদালত আজ ৭ জুন রায়ের দিন ধার্য করেন। অভিযোগ গঠন থেকে যুক্তিতর্ক শেষ হওয়া পর্যন্ত পুরো বিচার কার্যক্রম মাত্র চার কার্যদিবসে সম্পন্ন হয়।
১ দিন আগে
বিসিবি নির্বাচন ও অস্ট্রেলিয়া সিরিজ ঘিরে ডিএমপির বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন-২০২৬ এবং বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলের মধ্যকার সিরিজকে কেন্দ্র করে মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম-সংলগ্ন সড়কে বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
শনিবার (৬ জুন) ডিএমপির এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ৭ জুন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন এবং বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল ও অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলের মধ্যকার অনুশীলন ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া ৯ জুন প্রথম ওয়ানডে, ১১ জুন দ্বিতীয় ওয়ানডে এবং ১৪ জুন তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এ কারণে উল্লিখিত তারিখগুলোতে শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম-সংলগ্ন প্রশিকা সড়ক সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যানবাহন চলাচলের জন্য বন্ধ থাকবে।
ডিএমপি নগরবাসী ও যানবাহন চালকদের ওই সড়ক পরিহার করার অনুরোধ জানিয়েছে। সেই সঙ্গে বিকল্প সড়ক হিসেবে প্রশিকা ক্রসিং-শিয়ালবাড়ি ক্রসিং-রাইনখোলা-ঈদগাহ মাঠ হয়ে মিরপুর-১ অভিমুখে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
২ দিন আগে
রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায় ৭ জুন
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার নামে আট বছর বয়সী স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আগামী ৭ জুন (রবিবার) রায়ের দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এই দিন ধার্য করেন। এর আগে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু।
এদিন সকাল ৮টার দিকে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে শুনানির সময় তাদের এজলাসে তোলা হয়।
এরপর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি আজিজুল রহমান দুলু আদালতে বলেন, সাক্ষীদের সাক্ষ্য, জব্দ আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কালিমুল্লাহ আসামিদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। একই সময়ে ভুক্তভোগী রামিসার পরিবারের পক্ষেও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।
এর আগে, গতকাল বুধবার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে স্বপ্না খাতুন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান। এছাড়া সোহেল রানা আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, ‘স্যার, আমি নির্দোষ। খালাস চাই। আমাকে মাফ করে দেন। আমার সঙ্গে ডলার ছিল, সেটা কেউ দেখেনি। তাকে ধরেন স্যার, সেও তো দোষী।’
উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক ও শুনানি শেষে আদালত আগামী রবিবার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন।
গত মঙ্গলবার (২ জুন) এ মামলার গ্রহণ শেষ হয়। ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য নেন আদালত। একই আদালত সোমবার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ওইদিন সকালে পাশের ফ্লাটের বাসিন্দা ৩২ বছরের সোহেল শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন। পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে সেদিনই পল্লবী থানায় মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করে গত ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত অভিযোগপত্রটি দেখে বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় বদলির আদেশ দেন।
মামলাটি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ওই দিনই বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
৪ দিন আগে
বিসিবি নির্বাচন বাতিলের রিট খারিজ, নির্ধারিত সময়েই হবে ভোট
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালনা পরিষদ নির্বাচন-২০২৬-এর তফসিল ঘোষণা ও ভোটার তালিকা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে আগামী ৭ জুন নির্ধারিত বিসিবি নির্বাচন অনুষ্ঠানে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না বলে জানিয়েছেন বিসিবির আইনজীবী। বিসিবির সাবেক ৬ জন কাউন্সিলর এ রিট দায়ের করেছিলেন।
বুধবার (৩ জুন) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
বিসিবির আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান জানান, পূর্বর্ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ পর্যন্ত বিসিবির বোর্ড সংক্রান্ত চারটি রিট হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়েছেন।
বিসিবির আইনজীবী আরও বলেন, একের পর এক রিট করে আইসিসির কাছে ক্রিকেটের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিসিবির সার্বিক পরিস্থিতি জানতে, দুবাই থেকে আইসিসির দুই জন প্রতিনিধি ঢাকায় অবস্থান করছেন। তাদেরও ক্রিকেট বোর্ডের সার্বিক পরিস্থিতি জানানো হয়েছে।
গত ১৬ মে এক বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি পরিচালনা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে হাইকোর্টের গঠিত নির্বাচন কমিশনার।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৭ জুন পরিচালনা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সেদিনই ফলাফল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনে সরাসরি ভোটে ২৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। পাশাপাশি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনয়নে আরও দুজন পরিচালক হবেন। ২৫ জন পরিচালকের ভোটে একজন সভাপতি নির্বাচিত হবেন।
৫ দিন আগে
রামিসা হত্যা মামলায় নতুন মোড়, চাঞ্চল্যকর দাবি আসামি সোহেলের
রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার ঘটনায় এবার নতুন মোড় নেওয়ার চেষ্টা করছেন প্রধান আসামি সোহেল রানা। রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় ‘ডলার’ নামের অন্য এক ব্যক্তির ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন তিনি।
সোমবার (১ জুন) আলোচিত এই মামলায় গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জগঠন শুনানি শুরু হয়।
আজ (সোমবার) বেলা ১১টার পরে উভয়কে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে তোলার পর সাংবাদিকদের সামনে সোহেল রানা এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। একইসঙ্গে নিজের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের উদ্দেশে চিৎকার করে সোহেল রানা বলেন, ‘ধর্ষণ করছে, মারছে ডলার, ওরে ধরেন। ডলার দুই লাখ টাকা দিচ্ছে।’
নতুন নাম আসা এই ডলারের পরিচয় জানতে চাওয়া হলে সোহেল রানা জানান, ‘সে মিরপুর ১১ নম্বর রোডের এক বাড়ির অনেক টাকাওয়ালা লোক।’ এ সময় নিজের ডিএনএ টেস্ট না করিয়েই ‘অটোমেটিক’ সব লেখা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন এই আসামি।
এর আগে, সকাল পৌনে ৮টার দিকে কড়া পুলিশি পাহারায় আসামি সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় এনে রাখা হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের পর গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। মামলাটিতে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার দিনই মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি করা হয় এবং আদালত আজ চার্জ গঠনের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। এর মাধ্যমে মামলার প্রাথমিক তদন্ত, ডিএনএ পরীক্ষা, অভিযোগপত্র দাখিল এবং তা আদালতে আমলে নেওয়ার প্রধান চারটি ধাপ শেষ হলো।
দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে মামলার রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু বলেন, মামলাটি যেন দ্রুত শেষ হয়, সে বিষয়ে তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করবেন এবং বাকি সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনাল নিবেন।
প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্রুত বিচারের আশ্বাসের ব্যাপারে তিনি কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য না করে শুধু নিজের আইনি দায়িত্ব পালনের কথা জানান।
এদিকে, মামলার রায় ও তা কার্যকর করার প্রক্রিয়া নিয়ে ঢাকার জেলা লিগ্যাল এইডের নিয়মিত আইনজীবী রায়হানা নাজনীন জুঁই জানান, রামিসার মামলার রায় দ্রুত শেষ হবে মনে হলেও এটি কার্যকর করাটাই আসল চ্যালেঞ্জ যা মূলত উচ্চ আদালতে গিয়ে থমকে যায়। তবে নিম্ন আদালতের পর কারাগারের জেলার এবং প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ পেলে এটি দ্রুত শেষ হবে, না হলে ডেথ রেফারেন্স সংগ্রহসহ বিভিন্ন ধাপ শেষ করতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রামিসার পরিবার ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমে বালতির ভেতর থেকে তার কাটা মাথা উদ্ধার করেন।
ঘটনার পরপরই জানালার গ্রিল কেটে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আদালতে আসামিরা ইতোমধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও আজ শুনানির দিনে এসে প্রধান আসামি নতুন করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেন।
৭ দিন আগে
রামিসা হত্যা: সোহেল রানা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিচার শুরু
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু জানান, আদালত এই মামলায় সাক্ষীদের জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন।
এদিন, বেলা ১১টার দিকে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসায় সোহেল রানা কর্তৃক আবদুল হান্নান মোল্লার মেয়ে রামিসা আক্তার ধর্ষিত ও খুন হয়। অভিযুক্ত সোহেল রানা তাদের পার্শ্ববর্তী একটি ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া ছিলেন। তিনি শিশুটিকে কৌশলে তার কক্ষে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে রামিসার ছিন্নভিন্ন মরদেহ বিছানার নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় এবং তার কাটা মাথা বাথরুমের একটি বালতির ভেতর থেকে পাওয়া যায়।
ঘটনার সময় স্বপ্না আক্তারকে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। তবে সোহেল রানা পালিয়ে যান। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
৭ দিন আগে