আইনশৃঙ্খলা
হাসিনা গণহত্যাকারী ও পলাতক আসামি হিসেবে কারাগারে যাবেন: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে আসলে গণহত্যাকারী ও পলাতক আসামি হিসেবে কারাগারে যাবেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘আগামী শৈলকূপা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা খুন, গুম ও গণহত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না, এ কথা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি যদি সত্যের মুখোমুখি হতে চান, তবে অবশ্যই তার দেশে ফিরে আইনি লড়াই চালানো উচিত।
তিনি আরও বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে এবং এর হাত অনেক লম্বা। হাসিনা নিজেই ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা বলেছেন। আইনও চায় তিনি দেশে ফিরে আসুক, গণহত্যার দায় স্বীকার করুক এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারাগারে যাক।
শেখ হাসিনার বক্তব্য ও সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া অডিও বার্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি ভিডিও কনফারেন্সে আসার সাহস পাননি, কেবল একটি অডিও ক্লিপ পাঠিয়েছেন, যা অনেকেই এআই-জেনারেটেড বলছেন। আমার দৃষ্টিতে তিনি একজন পরোয়ানাভুক্ত ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। চার-সাড়ে চার হাজার মানুষকে ক্রসফায়ারে হত্যা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চৌদ্দশত মানুষকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যার প্রধান অভিযুক্ত তিনি। এতদিনেও কি তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা এসেছে? তিনি কি এতগুলো অপরাধের জন্য জনগণের কাছে মাফ চেয়েছেন?’
বিচার বিভাগের আধুনিকায়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমার স্বপ্নের বিচার বিভাগ হবে সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল। সৃষ্টিকর্তার পরেই যেন মানুষ বিচার বিভাগের ওপর নিজের আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারে, সেই পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। অবকাঠামো বা পদ্ধতিগত সংকটের চেয়েও বিচার বিভাগের প্রধান সমস্যা হলো মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিচারকের অভাব। বিচারকদের মনে রাখতে হবে, এটি কেবল আর দশটা চাকরির মতো কোনো পেশা নয়; ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং জনগণের আমানত রক্ষা করাই তাদের মূল দায়িত্ব।’
উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এই মতবিনিময় ও স্মরণসভায় অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান, শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহফুজুর রহমান এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
১ দিন আগে
হাইকোর্টে ১১ কার্যদিবসে ৫০ হাজারের বেশি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ১৪টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে মাত্র ১১ কার্যদিবসে ৫০ হাজার ৩২৫টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) হাইকোর্ট বিভাগের ১৪টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে নতুন করে ৬ হাজার ৯৬৮টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে এ সংখ্যা অর্ধলাখ ছাড়িয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৫৭ হাজার ২৩২টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ ও রিট মোশন বেঞ্চগুলোতে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, মামলা জট কমানো এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া এ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
গত ৭ মে থেকে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন ও রিট মোশন বেঞ্চের বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও রিট মামলা নিষ্পত্তির এ বিশেষ কার্যক্রম শুরু করেন।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
২ দিন আগে
তনু হত্যা মামলা: সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
কুমিল্লার কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান ওরফে তনু হত্যা মামলায় হাটইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়া সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানের জামিন বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। সেই সঙ্গে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশকে নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) তার জামিন স্থগিত করে এ আদেশ দেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক।
এর আগে, গত রবিবার হাফিজুর রহমানকে ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। তবে তার এই জামিনাদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ।
এ নিয়ে শুনানি শেষে চেম্বার আদালত হাফিজুর রহমানের জামিন আগামী রবিবার (৯ আগস্ট) পর্যন্ত স্থগিত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যথায়, তাকে গ্রেপ্তার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর ফেরেননি তনু। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোঁপের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ওই সময় মরদেহ দেখে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। এর পরদিন তনুর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরাণীগঞ্জের বাসভবন থেকে সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
২ দিন আগে
মানবতাবিরোধী অপরাধে এবার আসামি হচ্ছেন মাকসুদ কামাল-জাফর ইকবাল
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন উপাচার্য এএসএম মাকসুদ কামাল এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালসহ আটজনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত সংস্থা।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
তিনি জানান, এ ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করে তদন্ত সংস্থা। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন তিনি, বর্তমানে তা পর্যালোচনা চলছে। এরপর ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হবে।
এর আগে, চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে।
আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আরও আছেন সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
এর আগে, জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত শেখ হাসিনার মামলায় সাবেক উপাচার্য মাকসুদ কামালের সঙ্গে শেখ হাসিনার একটি ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, ওই ফোনালাপে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ফাঁসি দেয়ার ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছিলেন শেখ হাসিনা।
২ দিন আগে
পুরুষ নির্যাতন দমন আইন চেয়ে করা রিট খারিজ
‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এ আদেশ দেন।
বাটারফ্লাই হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী ইলিয়াসুর রহমান এবং সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. খলিলুর রহমান গত মে মাসে ওই রিট করেন। রিটের পক্ষে আইনজীবী কাজী ইলিয়াসুর রহমান নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জসিদুল ইসলাম জনি।
রিট আবেদনে বলা হয়, যদি একটি ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়ন করা হয়, তবে আইনের সমতা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে নারীরা ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’-এর অপব্যবহার করতে পারবে না। বিবাদীদের ওপর ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে রিটে।
রিটে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা এবং ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত এবং আইনগতভাবে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না এবং ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ বা ‘যৌতুক আইন’ অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য বিবাদীদের কেন ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হবে না, এই মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়।
রুল শুনানি পেন্ডিং থাকা অবস্থায়, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’-এর অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য বিবাদীদের ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশ দিতে অন্তবর্তীকালীন আদেশ চাওয়া হয় রিটে।
মন্ত্রী পরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিবকে রিটে বিবাদী করা হয়।
২ দিন আগে
অর্থ আত্মসাত: ঢাকা ব্যাংকের সাবেক ৪ কর্মকর্তার ২০ বছরের জেল
জাল জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাতের মামলায় ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চার কর্মকর্তাকে আলাদা তিনটি ধারায় ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১-এর বিচারক মুহা. হাসানুজ্জামান এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—ব্যাংকটির সাবেক কেন্দ্রীয় হিসাব বিভাগ ও ইনভেস্টমেন্ট (বিনিয়োগ) বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু মোহাম্মদ সাঈদ খান, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার প্রবীর কুমার ভৌমিক ও শওকত আলী।
এর মধ্যে বিশ্বাসভঙ্গের অপরাধে প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে। আর জাল-জালিয়াতের দায়ে প্রত্যেককে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে; অনাদায়ে আরও তিন মাসের সাজার রায় দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অর্থ আত্মসাতের দায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের সঙ্গে প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৩ মাস কারাভোগ করতে হবে।
আদালত তার রায়ে উল্লেখ করেন, তিন ধারার সাজা একত্রে চলবে। সেক্ষেত্রে আসামিদের সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আসামিদের মধ্যে শওকত আলী পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বাকি তিন আসামিকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০২ সালের ৪ নভেম্বর মোহাম্মদ ইউসূফ আলী ঢাকা ব্যাংকে হিসাব খুলে ১৭ লাখ টাকা ঋণ নেন। জামানত হিসেবে কনফিডেন্স সিমেন্টের ১ হাজার ও মেঘনা সিমেন্টের সাড়ে ৭ হাজার শেয়ার জমা দেন, পরে ঋণসীমা বাড়িয়ে ২৪ লাখ করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে যাচাইয়ে শেয়ারগুলো ভুয়া প্রমাণিত হয়।
অভিযোগ করা হয়, ভুয়া শেয়ার জমা দিয়ে তিনি ঋণের টাকা আত্মসাৎ করেন এবং হিসাব খোলার সময় শনাক্তকারী শওকত আলী তাকে সহায়তা করেন।
এ ঘটনায় ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সিরাজুল হক ২০০৮ সালের ৩১ মে মতিঝিল থানায় মামলাটি করেন। ওই বছর ১৪ ডিসেম্বর শওকত আলীকে একমাত্র আসামি করে চার্জশিট দেয় দুদক। পরে অধিকতর তদন্তে ২০২৩ সালের ২২ অগাস্ট ৪ জনকে অভিযুক্ত করে নতুন চার্জশিট দেওয়া হয়।
২ দিন আগে
সাবেক যুগ্ম সচিব জগলুল পাশা সাত দিনের রিমান্ডে
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সমাবেশে যোগদানে বাধা দিতে গুলশানের বাসভবনের সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং পেপার স্প্রে ব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম তার জামিন আবেদন নাকচ করে সাত দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
এর আগে, বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তাকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন। একই দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) আনোয়ার হোসেন জগলুল পাশার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
গত ৩ আগস্ট রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন গুলশান থানায় ১১১ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর জগলুল পাশাসহ এজাহারভুক্ত আসামিরা মারাত্মক অস্ত্রসহ খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনের সামনে সকাল থেকে অবস্থান নেন এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মারধর করেন।
এতে আরও বলা হয়, আসামিরা অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সড়ক বন্ধ করে এবং খালেদা জিয়া যাতে সমাবেশে যোগ দিতে না পারেন, সে জন্য এলাকায় ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করেন। কর্মসূচি অনুযায়ী ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে খালেদা জিয়া সফরসঙ্গীদের নিয়ে সমাবেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে আসামিরা বালুভর্তি ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন দিয়ে সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, খালেদা জিয়া বারবার চেষ্টা করেও বের হতে পারেননি। এ সময় আসামিরা পেপার স্প্রে ব্যবহার করলে খালেদা জিয়াসহ তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা আহত হন।
এ মামলার পাশাপাশি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ‘জাল নথি প্রস্তুত ও আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে জগলুল পাশার বিরুদ্ধে।
২ দিন আগে
জুলাই আন্দোলনে হামলা: দীপু মনি-মায়া চৌধুরীসহ ২৭৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
চাঁদপুরে ২০২৪ সালে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় ২৭৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন ৩৫০ জন। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মধ্যে ২৭৫ জনকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে চার্জশিট দাখিলের তথ্য নিশ্চিত করেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ।
তিনি জানান, ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরে হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম কোনো মামলার চার্জশিট দাখিলের ঘটনা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নুরুল আলম জানান, গত ১৪ জুন আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে নির্ধারিত তারিখে আদালত চার্জশিট গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি নোয়াখালী জেলায় বদলি হয়ে কর্মরত আছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, মামলার এজাহারে ৩৫০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি ছিলেন আরও ২৫০ জন। এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে অনেকের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা পাওয়া যায়নি। আবার কয়েকজনের নাম এজাহারে একাধিকবার নাম উল্লেখ করা হয়েছিল।
এ ছাড়াও এজাহারভুক্ত আসামি থেকে মৃত্যুবরণ করেছেন ৩ জন। তদন্তে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে ২৭৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ এবং চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও দক্ষিণ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল।
বাদ কেবল ফরিদগঞ্জের সাবেক এমপি, প্রখ্যাত সাংবাদিক শফিকুর রহমান ও হাজীগঞ্জের সাবেক এমপি মেজর (অব:) রফিকুল ইসলাম।
কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিদের নাম ও পরিচয় যাচাই এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের মাধ্যমে চলবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন মোক্তার আহমেদ পাটওয়ারী নামের এক ব্যক্তি। তিনি হাইমচরের নয়ানী লক্ষ্মীপুরের পাটোয়ারি বাড়ির বাসিন্দা।
২ দিন আগে
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য চিফ প্রসিকিউটরের
জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট সব মামলার তদন্ত ও বিচার আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। একই সঙ্গে গুম ও কথিত ক্রসফায়ারের ঘটনাগুলোর তদন্তও চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত বছরের আগস্ট থেকে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে দুটি ট্রাইব্যুনাল বিচারকাজ পরিচালনা করছে। তদন্ত সংস্থায় ২৩ জন এবং প্রসিকিউশন টিমে ২০ জন কর্মকর্তা কাজ করছেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধের মামলায় তদন্ত ও বিচার দুই প্রক্রিয়াই সময়সাপেক্ষ। এখন পর্যন্ত ছয়টি মামলার রায় হয়েছে। প্রতিটি মামলার বিচার শুরুর আগে দীর্ঘ সময় তদন্ত হয়েছে। সাক্ষ্য গ্রহণ, যুক্তিতর্কসহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে রায় দেওয়া হয়েছে।
তার ভাষায়, দেড় বছরের মধ্যে ছয়টি মামলার বিচার শেষ করা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্ভব হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, চলতি মাসেই আরও তিনটি মামলার রায় হতে পারে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মামলায় যুক্তিতর্ক চলছে। মাহবুবুল আলম হানিফের মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। এছাড়া যাত্রাবাড়ীতে তাইম ভূঁইয়া হত্যা মামলার যুক্তিতর্কও শিগগির শুরু হবে। আরও কয়েকটি মামলা বিচারিক প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে যাতে অন্তত জুলাইয়ের সমস্ত বিচার আমরা শেষ করতে পারি, সেই বিষয়ে আমরা একটা কমিটমেন্ট (প্রতিশ্রুতি) নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের মামলাগুলো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেলেও গুম ও কথিত ক্রসফায়ারের ঘটনাগুলোর তদন্তও সমানভাবে এগিয়ে চলছে। কক্সবাজারের কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা এবং শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ১২টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হচ্ছে।
ছয়টি মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের অধিকাংশই পলাতক। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণের আগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব নয়। তবে যেসব মামলায় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও অর্থদণ্ডের আদেশ রয়েছে, সেগুলো কার্যকর করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে অর্থ দেওয়ার নজির না থাকায় বিষয়টি নিয়ে আইনি দিকগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তদন্তে ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ বা বাছাই করে আসামি করার অভিযোগ নাকচ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কাজ করেন। প্রসিকিউশন তদন্তে হস্তক্ষেপ করে না। কোনো তদন্ত নিয়ে গ্রহণযোগ্য অভিযোগ এলে তা পর্যালোচনা করা হয়। প্রয়োজন হলে তদন্ত প্রতিবেদন ফেরত পাঠানো বা নতুন করে অভিযোগ গঠনও করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামির আপিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনে ‘অটোমেটিক আপিল’ বলে কিছু নেই। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির আপিল ‘অ্যাজ অব রাইট’ হলেও পলাতক অবস্থায় সেই সুবিধা কার্যকর হয় না।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়া প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে এতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের সঙ্গে বড় ধরনের কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় দেখা যাচ্ছে না। পরিকল্পিত ও ব্যাপক আকারে সংঘটিত গুম মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে বিচারযোগ্য হবে, আর বিচ্ছিন্ন গুমের ঘটনা নতুন আইনের আওতায় ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিচার হবে।
তিনি আরও জানান, একই ধরনের ঘটনার পৃথক তদন্তের পরিবর্তে একাধিক ঘটনাকে একত্র করে তদন্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে তদন্ত ও বিচার—উভয় প্রক্রিয়াই আরও কার্যকর ও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
৪ দিন আগে
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে ডিএমপির নিরাপত্তা জোরদার
আগামীকাল ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দিবসটিকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের নাশকতা, অপ্রীতিকর ঘটনা বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা মোকাবেলায় এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজধানীজুড়ে পিকেট ও চেকপোস্ট ডিউটি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিশেষ করে মহানগরের সকল প্রবেশপথে তল্লাশি কার্যক্রম ও চেকপোস্ট পরিচালনা জোরদার থাকবে। পাশাপাশি ডিবি ও সিটিটিসি সাদা পোশাকে সকল গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুতে অপারেশনাল কাজে মোতায়েন থাকবে। যেসব স্থানে সাধারণ মানুষের সমাগম বেশি হবে, সেখানে সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং ডগ-স্কোয়াড ইউনিটের মাধ্যমে বিশেষ সুইপিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এছাড়া, সকল অনুষ্ঠানস্থল এবং জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ এলাকাকে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের নজরদারিতে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে সাদা পোশাকে সিটিএসবি ও আইএডির গোয়েন্দা কার্যক্রম পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে পর্যাপ্ত সংখ্যক কুইক রেসপন্স টিম।
নিয়মিত মোতায়েনের পাশাপাশি ডিএমপির অতিরিক্ত ফোর্সসহ র্যাব ও সিআইডি যৌথভাবে মহানগরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠে সক্রিয় থাকবে। সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য সকল উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে ডিউটি তদারকি করবেন।
৪ দিন আগে