আইনশৃঙ্খলা
মন্ত্রীদের পিএস হিসেবে বিচারকদের নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টের রুল
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের তিন সদস্যকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে পদায়ন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
সেই সঙ্গে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নির্বাহী বিভাগে নিয়োগ বা পদায়ন থেকে বিরত রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিচারপতি মো. তৌফিক এনামের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
বিচারিক দায়িত্বের বাইরে নির্বাহী বিভাগে বিচারকদের পদায়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত এ রুল জারি করেন।
আইন সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস।
এর আগে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের তিন সদস্যকে দুই মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে পদায়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ২১ সেপ্টেম্বর রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাশেদুল হক খোকন।
রিটে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালা, ২০২৫-এর ৪(১) বিধির উল্লেখ করে বলা হয়, বিধিমালার তফসিলে নির্ধারিত পদগুলো জুডিশিয়াল সার্ভিসের ক্যাডার পদ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। তবে সম্প্রতি তিন বিচারককে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে যেসব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো ওই তফসিলে অন্তর্ভুক্ত নয়।
রিট আবেদনে বলা হয়, আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব জি এম ফারহান ইসতিয়াককে (যুগ্ম জেলা জজ) প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করে গত ৯ মার্চ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনে আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব কামরুল হাসানকে (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে বদলি করা হয়।
এছাড়া চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিককে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (সিনিয়র সিভিল জজ) হিসেবে পদায়ন করে গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনগুলোতে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শের কথা উল্লেখ রয়েছে বলেও আবেদনে জানানো হয়েছে।
নিয়োগ বা পদায়ন-সংক্রান্ত এসব স্মারক বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক রাখার সাংবিধানিক কাঠামো, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালা, ২০২৫-এর তফসিলে নির্ধারিত কাঠামো ও মাসদার হোসেন মামলায় আপিল বিভাগের ঘোষিত নীতিমালার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে রিটে যুক্তি দেওয়া হয়।
রিটটি গত ২৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চের কার্যতালিকায় শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন অবকাশকালীন বেঞ্চ রিটটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন। পরে হাইকোর্টের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য রিটটি উপস্থাপন করা হয়।
২২ ঘণ্টা আগে
সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর কারণ প্রাথমিক তদন্ত ও ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পর জানা যাবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও ময়নাতদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সব বিষয় জেনে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ সংঘটনের পর সরকার সফলভাবে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করছে, তদন্ত পরিচালনা করছে এবং বিচার নিশ্চিত করছে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকতে পারে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও দাবি করেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বোমা হামলা কিংবা হেফাজতে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে একই দিনে নৌ পুলিশ জানায়, ঢাকার তুরাগ নদী থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদীর রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে ভাসমান মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মরদেহের সঙ্গে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
ফিরোজ উদ্দিন জানান, মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া উত্তরখান থানার ডিউটি অফিসার শাহিনুর জামান জানান, বুধবার বিকেলে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন। বিষয়টি নৌ পুলিশের আওতাধীন হওয়ায় তাদের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি নিয়ে গেছেন।
নৌ পুলিশের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধারের সময় তাহসিফ সাউরির পরনে ছিল সাদা পায়জামা ও কালো শার্ট। তার হাতে একটি হাতঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া গেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও তাহসিফ ধারণ করেছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে।
১ দিন আগে
পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতায় পুলিশকে সেবার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির ঐতিহাসিক প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টরের (২০০৬ ব্যাচ) ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
পুলিশকে ভয়ভীতি, পক্ষপাতিত্ব উপেক্ষা করে জনগণকে আইনি সেবা ও সুরক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানুষের পাশে থেকে, মানুষকে সেবা দিয়ে, জনগণের আস্থা অর্জন করে, সত্যিকার অর্থেই জনগণের পুলিশ হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভঙ্গুর পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠিত করে দক্ষ, আধুনিক ও মানবিক সেবামুখী বাহিনীতে রূপান্তর করতে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এ জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন, জনবল বৃদ্ধি, যানবাহন ক্রয়, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো নির্মাণ ও লজিস্টিক সরবরাহের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, প্রায় দুই দশকের প্রতীক্ষা, আইনি প্রক্রিয়া ও নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এই ব্যাচের সদস্যরা দেশসেবার মহান পেশায় যোগ দিয়েছেন।
নিজেদের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে কোনো প্রকার বৈষম্য ও অন্যায়ের চর্চা না করার জন্য তিনি তাদের নির্দেশ দেন।
পুলিশের পোশাক ও অর্পিত দায়িত্বকে কেবল সাধারণ চাকরির গণ্ডিতে আবদ্ধ না রেখে জনগণের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার এক মহান অঙ্গীকার হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
১ দিন আগে
তুরাগ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার
ঢাকার তুরাগ নদী থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ।
নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে বুধবার বিকেলে নদীর রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পরিদর্শক ফিরোজ জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদীর রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে ভাসমান মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, মরদেহের সঙ্গে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
উত্তরখান থানার ডিউটি অফিসার শাহিনুর জামান বৃহস্পতিবার সকালে জানান, বুধবার বিকেলে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন। বিষয়টি নৌ পুলিশের আওতাধীন হওয়ায় তাদের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি নিয়ে গেছেন।
ফিরোজ উদ্দিন জানান, মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নৌ পুলিশের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধারের সময় তাহসিফ সাউরির পরনে ছিল সাদা পায়জামা ও কালো শার্ট। তার হাতে একটি হাতঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া গেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও তাহসিফ ধারণ করেছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে।
১ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার দায়ে হানিফের মৃত্যুদণ্ড
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় অন্য তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান। মামলার চার আসামির সবাই পলাতক রয়েছেন।
রায়ে আসামিদের অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এসব সম্পত্তি জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে হতাহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৫ মার্চ এ মামলার তদন্ত শুরু হয়। একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত সংস্থা। পরে ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৫, ১৭ ও ৩০ জুলাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে উপস্থিত থেকে তার উসকানিমূলক বক্তব্যকে সমর্থন করেন হানিফ। এছাড়া ২৯ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় আন্দোলনকারীদের ‘জামায়াত’, ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘সাম্প্রদায়িক’ আখ্যা দিয়ে তাদের হত্যা ও নির্যাতনের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা দেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হানিফের নির্দেশে ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সদর উদ্দিন খান, আজগর আলী, আতাউর রহমানসহ দলের অন্য নেতারা সভা করেন। ওই সভায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সভা থেকে কুষ্টিয়া শহরে আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, চার আসামির নির্দেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালান। এতে ছয়জন নিহত হন। তারা হলেন আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী, আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, বাবুল ফরাজী ও ইউসুফ শেখ।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে গত ২ নভেম্বর মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।
গত ১০ জুন মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও সাক্ষী ও নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়। এসব সাক্ষ্য ও নথিপত্রের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে।
গত ৭ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর আবারও মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। গত মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২ আদেশ দেন, বৃহস্পতিবার এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।
১ দিন আগে
মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের গডফাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ পুলিশ সদর দপ্তরের
মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত গডফাদারদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পুলিশ সদর দপ্তরে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. সায়েদুর রহমান বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।
এ সময় তিনি মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত গডফাদারদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
সেই সঙ্গে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের মাধ্যমে পুলিশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করার আহ্বান জানান অতিরিক্ত আইজিপি।
দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ জনগণের সঙ্গে মানবিক আচরণ করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ডাকাতির মামলা নথিভুক্ত করতে এবং দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে নির্দেশ দেন অতিরিক্ত আইজিপি।
সাজার হার বাড়াতে ধর্ষণ মামলার তদন্ত নিবিড়ভাবে তদারকির নির্দেশও দেন তিনি।
এছাড়া সার্বিকভাবে মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়ানোর ওপর জোর দেন করেন সায়েদুর রহমান।
অতিরিক্ত আইজিপি সমাজের সুনামধারী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।
এ সময় সম্প্রতি শেষ হওয়া দুর্গাপূজা নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিশ্চিত করায় আইজিপির পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
সভায় মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় গত সেপ্টেম্বর মাসের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি এবং ওই মাসে সংঘটিত উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করা হয়।
এছাড়া ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যা, ধর্ষণ, পুলিশের ওপর হামলা ও অপহরণের মামলা; মুলতবি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তদন্ত ও বিচারের ফলাফল এবং সাজার হার নিয়ে আলোচনা হয়।
২ দিন আগে
সাগর-রুনি হত্যা: টাস্কফোর্স প্রধান ও প্রসিকিউটরকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার অগ্রগতি জানাতে আগামী বছরের ২৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা ও টাস্কফোর্সের প্রধানকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা না দিয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করে আরও এক বছর সময় চায় টাস্কফোর্স। শুনানি শেষে আদালত ছয় মাস সময় মঞ্জুর করেন।
একই সঙ্গে মামলার তদন্তে জব্দ করা সিডি ও অন্যান্য নথি পর্যালোচনার অগ্রগতি জানাতে আগামী বছরের ২৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা ও টাস্কফোর্সের প্রধানকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা তদন্তের নতুন অগ্রগতির বিষয়ে টাস্কফোর্সকে তথ্য দিয়েছেন।
তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বাসা থেকে জব্দ করা বিপুলসংখ্যক সিডি ও ডিজিটাল আলামত পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডের সূত্র খোঁজার চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় জিয়াউল আহসান ও একজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার কথাও শুনানিতে উঠে এসেছে।
তবে এসব তথ্য এখনও আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি, তদন্তের মাধ্যমে সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে।
সাগর-রুনির পরিবারের আইনজীবী শিশির মনির জানান, তদন্তে মোট ৩০০টি সিডি পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৯০টির বিশ্লেষণ শেষ হয়েছে। বাকি ২১০টি সিডি এখনও পর্যালোচনা করা হয়নি।
সিডিগুলো বিশ্লেষণ করে কার্যকর কোনো সূত্র পাওয়া গেলে তা আদালতে উপস্থাপনের প্রত্যাশা করেন তিনি।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরদিন ১২ ফেব্রুয়ারি শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান।
প্রথমে থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করে। পরে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি)। দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করেও কোনো আসামিকে শনাক্ত করতে না পারায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব। তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।
দেশি-বিদেশি পরীক্ষাগারে আলামতের ডিএনএ পরীক্ষা করা হলেও আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে সাগর ও রুনির ডিএনএর মিল পাওয়া যায়নি বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনেও তদন্ত শেষ না হওয়া এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর উচ্চপর্যায়ের চার সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।
পরবর্তীতে মামলার তদন্তে পরিবর্তন আসে। নতুন করে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
টাস্কফোর্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ৯০ জন সাক্ষীকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং ২৪ জনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
গত ৩০ আগস্ট প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান, জিয়াউল আহসানের বাসায় অভিযানে বিভিন্ন ডিজিটাল আলামত জব্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে জিওলোকেশন-সংক্রান্ত তথ্য, খুদে বার্তা ও কল ডিটেইলস রেকর্ডের (সিডিআর) মুদ্রিত কপি রয়েছে। এগুলো পর্যালোচনা করে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সূত্র খোঁজা হচ্ছে।
৩ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা: হানিফসহ ৪ জনের রায় বৃহস্পতিবার
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির রায় বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি রায়ের জন্য তালিকাভুক্ত করার পর বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিন ধার্য করেন।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। মামলার চার আসামিই পলাতক।
আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন মামলা পরিচালনা করছেন। রাষ্ট্রপক্ষে আছেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, চার আসামির বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে, আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য ও অবস্থানকে সমর্থন করা, ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া ও ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়া এবং আন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যায় সংশ্লিষ্টতা।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, আন্দোলন দমনে রাজনৈতিক নির্দেশনা ও সাংগঠনিক তৎপরতার ধারাবাহিকতায় এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। মাহবুব উল আলম হানিফের বিরুদ্ধে টেলিফোনে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাকর্মীদের হত্যাকাণ্ড চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।
এসব অভিযোগ প্রমাণে টেলিফোনে কথোপকথনের রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন।
মামলার যুক্তিতর্কে চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তিও চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
গত বছরের ৫ অক্টোবর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরদিন ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২ আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। গত ২৩ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে অতিরিক্ত প্রমাণ উপস্থাপনের পর আবারও যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।
৩ দিন আগে
সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ারে যেতে পারে পুলিশ: আইজিপি
সরকার অনুমতি দিলে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে প্রয়োজন হলে পুলিশ ক্রসফায়ারের পথ বেছে নিতে পারে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ইসলামী ব্যাংকিং সেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, পুলিশ কঠোর হলে বলা হয় ফ্যাসিস্ট পুলিশ, আর নীরব থাকলে বলা হয় দুর্বল পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, সরকার অনুমতি দিলে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে ক্রসফায়ারের প্রয়োজন হলে, আমরা সেটাই করব।
মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশকে অকার্যকর করার অপচেষ্টা সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, পুলিশকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করা হলে কিংবা দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হলে সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হবে।
অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত পুলিশ সদস্যদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, বাহিনীর নিজস্ব জবাবদিহি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের কিছু সদস্য মাদকের বিস্তারে পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন। পুলিশের কিছু সদস্যও মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিলেন।
আলী হোসেন ফকির বলেন, বর্তমানে পাড়া-মহল্লার সব জায়গায় মাদকের ব্যাপক বিস্তার দেখা যায়। এই পরিস্থিতি কে তৈরি করেছে? ভালোভাবে খোঁজ নিলে দেখা যাবে, তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা এতে পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্যও এতে জড়িত ছিলেন, এখনও কেউ কেউ আছেন।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম দূর করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত দুই মাসে প্রায় ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান আইজিপি।
তিনি বলেন, আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, আমরা প্রথমে নিজেদের ঘর পরিষ্কার করছি। অথচ এ বিষয়টি নিয়েও নানা অপব্যাখ্যা ছড়ানো হচ্ছে।
সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পুলিশকে আরও ক্ষমতায়নের আহ্বান জানিয়ে মহাপরিদর্শক বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আইন প্রয়োগের সুযোগ না দিলে সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না।
আইজিপি জনগণকে গুজব ও অপতথ্য এড়িয়ে চলার পাশাপাশি সংবিধান ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে কমিউনিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলী হোসেন ফকির ইসলামী ব্যাংকিংয়ে নৈতিক চর্চা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বর্তমান ব্যবস্থাপনার ওপর আস্থা রাখার জন্য গ্রাহকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থাপনায় অতীতের অনিয়ম বা সংকটের পুনরাবৃত্তির কোনো সুযোগ থাকবে না।
মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) তদারকি আরও জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
কার্যকর ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়তে কাজ চলছে: আইজিপি
জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) লাইনসে কমিউনিটি পুলিশিংবিষয়ক এক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপি জানান, পুলিশ জনগণের আস্থা ফিরে পেতে চায় এবং মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। আরও মানবিক ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে ওঠাই পুলিশের লক্ষ্য।
খুলনায় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদ দমনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) এ সভার আয়োজন করে।
আইজিপি বলেন, গত ১৭ বছরে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা নিরসন করাই অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
৫ আগস্টের পর পুলিশ নতুন প্রত্যয় নিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং দায়িত্ব পালন করছে বলেও জানান তিনি।
মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে আলী হোসেন ফকির বলেন, সমাজে মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং থাকবে না। এসব অপরাধ নির্মূলে সব পক্ষ একসঙ্গে কাজ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বর্তমানে যৌথ অভিযান চলছে বলেও জানান আইজিপি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও বেগবান করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
এ লক্ষ্যে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় একটি কাঠামো অনুমোদন করেছে বলেও জানান তিনি।
কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কিছু সদস্যর বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষকে হয়রানি, ভয়ভীতি দেখানো ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ স্বীকার করে আইজিপি বলেন, এ ধরনের ঘটনা আর ঘটতে দেওয়া যাবে না। এ জন্য আইনি কাঠামোর মধ্যে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সাংবাদিকদের সমাজের দর্পণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমে তাদের সহযোগিতা কামনা করেন।
ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কেএমপি কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম এবং পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, খুলনার কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) এ কে এম মোশাররফ হোসেন মিয়াজী।
এ সময় স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
পরে আইজিপি খুলনা রেঞ্জের ডিআইজির কার্যালয়ে খুলনার বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
৬ দিন আগে