ক্রিকেট
টেস্টে হ্যাটট্রিক করা বাংলাদেশের প্রথম পেসার হাসান মাহমুদ
আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টানা তিন বলে তিন উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করা বাংলাদেশের প্রথম পেসার হয়েছেন হাসান মাহমুদ।
রবিবার (১১ অক্টোবর) জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ইনিংসের ৮৩তম ওভারে ইসমত আলম, কায়েস আহমেদ ও জিয়া-উর-রহমানকে টানা তিন বলে আউট করে এই কীর্তি গড়েন তিনি।
২৬ বছর বয়সী হাসান মাহমুদ ১৩ বছর পর টেস্টে বাংলাদেশের তৃতীয় হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়লেন। এর আগে ২০১৩ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অফ স্পিনার সোহাগ গাজী এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। তার আগে ২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম হ্যাটট্রিক করেছিলেন অলক কাপালি।
হাসান প্রথমে ইসমতকে এক রানে বোল্ড করেন। বলটি তার ব্যাটের নিচ দিয়ে স্টাম্পে আঘাত করে। পরের বলে কায়েসের ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যাচটি নেন লিটন।
পরের বলেই জিয়াকে এলবিডব্লিউ করেন হাসান। মাঠের আম্পায়ার প্রথমে আবেদন নাকচ করলেও বাংলাদেশ রিভিউ নেয়। বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায়, বলটি স্টাম্পে আঘাত করত।
হাসানের হ্যাটট্রিকে ৮২.৫ ওভারে ২২০ রানে আট উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে আফগানিস্তান। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ৩৪৬ রানের চেয়ে তখনও ১২৬ রানে পিছিয়ে ছিল তারা।
আফগানিস্তানের ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করছিলেন রহমত শাহ। তার ৮৬ রানের ইনিংসের মধ্যে হাসানের এই ঝলক দলটির ব্যবধান কমানোর আশায় বড় ধাক্কা দেয়।
হাসান ১৭.৫ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে চার উইকেট নেন। আরেক পেসার এবাদত হোসেন নেন ৫২ রানে তিন উইকেট। এতে ম্যাচে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হয়।
১ দিন আগে
এশিয়ান গেমসে ফেডারেশনগুলোর পারফরম্যান্স মূল্যায়নে কমিটি গঠন হবে: প্রতিমন্ত্রী
এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়া প্রত্যেকটি ফেডারেশনের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সসহ সার্বিক বিষয় মূল্যায়নে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
রবিবার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে ‘ক্রীড়া কার্ড’-এর আওতায় ক্রীড়াবিদদের বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে সভার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ফুটবল দলের ফলাফলের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আমিনুল হক বলেন, বাংলাদেশের ফল অত্যন্ত হতাশাজনক। তবে শুরুতেই ফল নিয়ে অতিরিক্ত হতাশ হওয়ার কারণ নেই। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে ভালো ফল করার চেষ্টা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন তাদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করেই বর্তমান কোচকে নিয়োগ দিয়েছে। তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায়, এশিয়ান গেমস কিংবা ফুটবলের ফল নিয়ে তিনি খুব বেশি হতাশ নন। কারণ তারা একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন এবং এর ফল পরবর্তীতে পাওয়া যাবে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালককে একটি মূল্যায়ন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়া প্রত্যেকটি ফেডারেশন ও এশিয়ান অঞ্চলের ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ফেডারেশনগুলোর খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সসহ সার্বিক বিষয় মূল্যায়ন করা হবে।
মূল্যায়ন প্রতিবেদন পাওয়ার পর সার্বিক বিষয়গুলো সবার সামনে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ করা উচিত ছিল বলে তদন্ত কমিটি মত দেওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু শাস্তি দিলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বিশেষের ব্যক্তিগত ইচ্ছার কারণে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেনি। ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির সিদ্ধান্তের কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত যেন নেওয়া না হয়, সেই বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে এ ঘটনায় নতুন করে কোনো পদক্ষেপ নিতে চান না জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, যা হয়ে গেছে তা আর ফেরত পাওয়া যাবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড যাতে না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
৮ দিন আগে
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে টাইগারদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট ম্যাচ জয়ের ঐতিহাসিক সাফল্যে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (১৬ আগস্ট) ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে স্মরণীয় এই জয় তুলে নেয় টাইগাররা।
দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেই এই সাফল্য অর্জন করল বাংলাদেশ।
টাইগার দল যখন এই ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে, তখন কিশোরগঞ্জের পথে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন এবং ঐতিহাসিক জয়ের জন্য তাদের অভিনন্দন জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকেও দলের খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদের মাটিতে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় দেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। দলের খেলোয়াড়দের দৃঢ় মনোবল, আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা ও দলগত প্রচেষ্টার ফলেই এই অসাধারণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান।
একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, পরের টেস্টেও বাংলাদেশ ভালো খেলবে এবং সিরিজ জয়ের এই সম্ভাবনাকে সাফল্যে রূপ দেবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবার টেস্ট র্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ।
৫৭ দিন আগে
টাইগারদের হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়
চট্টগ্রামে লড়াকু বাংলাদেশকে মাত্র ৭ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সিরিজ জয়ও নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। অজিদের ছুড়ে দেওয়া ১৯৬ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে স্বাগতিক বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ১৮৯ রানে থমকে যায়।
হাই-স্কোরিং ম্যাচের শেষ ওভারে চরম নাটকীয়তার মাঝে নিজের স্নায়ু ধরে রাখেন অ্যারন হার্ডি। শেষ বলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৮ রান। তবে হার্ডির করা শেষ বলে ৩৫ রান করা বাংলাদেশ অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় আউট হলে ৬ উইকেটে ১৮৯ রানে থামে স্বাগতিকদের ইনিংস।
শেষ ৬ বলে বাংলাদেশের দরকার ছিল ২৩ রান। ওভারটিতে দুটি ওয়াইড দেওয়ার পাশাপাশি হৃদয়ের কাছে একটি ছক্কা ও একটি চার হজম করে বসেন হার্ডি। তবে অজি পেসারের করা শেষ স্লোয়ার বলটি কাভার করতে গিয়ে ডিপ লং-অন অঞ্চলে টিম ডেভিডের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হৃদয়, আর তাতেই নিশ্চিত হয় অস্ট্রেলিয়ার জয়।
১৯৭ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ারপ্লেতেই ১ উইকেটে ৭২ রান তুলে উড়ন্ত সূচনা করেছিল বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান ১৫ বলে ৩০ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলে ম্যাট রেনশর শিকার হন। এরপর মিডল ওভারে ৩৩ বলে ৪২ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলের হাল ধরেন সাইফ হাসান।
অন্যদের মধ্যে সৌম্য সরকার দ্রুত ১৫ রান এবং পারভেজ হোসেন ইমন ২২ বলে ৩৬ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। ১৩তম ওভারে ২ উইকেটে ১৩০ রান তুলে বাংলাদেশ যখন ম্যাচ জয়ের সুবাস পাচ্ছিল, ঠিক তখনই দ্রুত গতিতে ইমন ও সাইফের বিদায় স্বাগতিকদের রান তোলার গতিতে বড় ধাক্কা দেয়।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে নাথান এলিস তার ৪ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের রানের চাকা টেনে ধরেন। অন্যদিকে হার্ডি ৪০ রান খরচায় নেন ২ উইকেট, যার মধ্যে ছিল ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী শেষ উইকেটটি। এছাড়া অ্যাডাম জাম্পা ও জোয়েল ডেভিস একটি করে উইকেট নেন।
এর আগে, বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই মাত্র ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল সফরকারীরা। লেগ-স্পিনার নাসুম আহমেদ মাত্র ২৭ রান দিয়ে তুলে নেন জশ ইংলিশ (১১) ও নিখিল চৌধুরীর (৮) উইকেট। এছাড়া নাহিদ রানা ও মুস্তাফিজুর রহমানও শুরুর দিকে আঘাত হেনে যথাক্রমে কুপার কনোলি ও অধিনায়ক মিচেল মার্শকে সাজঘরে পাঠান।
তবে চতুর্থ উইকেটে ৯৭ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়ে অজিদের ম্যাচে ফেরান রেনশ ও ডেভিড। ২৬ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলার পথে চারটি বিশাল ছক্কা হাঁকান ডেভিড। পরে তিনি আব্দুল গফফার সাকলাইনের বলে আউট হন। সাকলাইন ৪ ওভারে ৫৩ রান দেন।
শেষ পর্যন্ত ৫২ বলে ৮৯ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন রেনশ। পাঁচটি ছক্কা ও চারটি চারে সাজানো তার এই নান্দনিক ইনিংসটিই সফরকারীদের ৫ উইকেটে ১৯৬ রানের পুঁজি এনে দেয়।
১১৫ দিন আগে
মিরপুর টেস্ট: শান্ত-মুমিনুলের ব্যাটে প্রথম দিন বাংলাদেশের
নাজমুল হোসেন শান্তর শৈল্পিক নবম টেস্ট সেঞ্চুরিতে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনটি নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার দিন শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকদের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৩০১ রান। মূলত শান্তর অনবদ্য শতক আর মুমিনুল হকের লড়াকু ব্যাটিংয়েই পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় সংগ্রহের মজবুত ভিত পেয়েছে টাইগাররা।
মিরপুরের গুমোট আবহাওয়ায় টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেলেও দ্বিতীয় উইকেটে হাল ধরেন শান্ত ও মুমিনুল। এই জুটির ব্যাট থেকে আসে ১৭০ রানের এক বিশাল সংগ্রহ, যা পাকিস্তানের শক্তিশালী পেস আক্রমণকে রীতিমতো দিশেহারা করে দেয়। মোহাম্মদ আব্বাসের একটি হাফ-ভলিকে কভার দিয়ে সীমানা ছাড়া করে ক্যারিয়ারের নবম ও পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেন অধিনায়ক শান্ত।
১৩০ বলের ইনিংসে ১২টি চার ও ২টি দৃষ্টিনন্দন ছক্কায় ১০১ রান করে যখন শান্ত সাজঘরে ফেরেন, চা-বিরতির ঠিক আগের সেই মুহূর্তটি ছিল পাকিস্তানের জন্য একমাত্র স্বস্তির। আম্পায়ারের অন-ফিল্ড সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউর আবেদন করে শান্তর মূল্যবান উইকেটটি তুলে নেয় সফরকারীরা।
শান্তর বিদায়ের পর অভিজ্ঞ মুমিনুল ইনিংসের হাল ধরে রেখেছিলেন। তবে আক্ষেপ থেকে গেছে তার সেঞ্চুরি না পাওয়ার। ব্যক্তিগত ৯১ রানে স্পিনার নোমান আলির দ্রুতগতির এক ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসা ঝকঝকে ইনিংসটি বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের পথে অনেক দূর এগিয়ে দেয়।
দিনের শেষভাগে দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়লেও অভিজ্ঞতার ঝুলি মেলে ধরেন মুশফিকুর রহিম। বরাবরের মতো ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ৪৮ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন তিনি। তার ব্যাটে ভর করেই ৩০০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করে স্বাগতিকরা। আগামীকাল শনিবার সকালে ৮ রানে অপরাজিত থাকা লিটন দাসকে সঙ্গী করে দ্বিতীয় দিনের লড়াই শুরু করবেন মুশফিক।
মিরপুরের উইকেটে আজ বোলারদের জন্য তেমন কোনো বাড়তি সুবিধা ছিল না। শাহীন শাহ আফ্রিদি, হাসান আলি ও নোমান আলিরা একটি করে উইকেট পেলেও বাংলাদেশের টপ-অর্ডার ব্যাটারদের দৃঢ়তার সামনে তাদের যথেষ্ট ঘাম ঝরাতে হয়েছে। হাতে এখনও ৬ উইকেট থাকায় এবং থিতু হওয়া মুশফিক ক্রিজে থাকায় দ্বিতীয় দিনে পাকিস্তানকে বড় রানের পাহাড়ে চাপা দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।
১৫৭ দিন আগে
নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার আমিনুলের
ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তবে নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়মে জড়িত থাকার কথা নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তার বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
এদিকে, নির্বাচনে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। রবিবার (৫ এপ্রিল) এ তদন্ত প্রতিবেদন এনএসসিতে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হননি আমিনুল।
এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সময়ের অভাবে সশরীরে উপস্থিত হতে না পারলেও তিনি লিখিত জবাব পাঠিয়েছেন। কাউন্সিলর মনোনয়নে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করে তার দাবি, নির্বাচনের সঙ্গে তার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। গঠনতন্ত্র মেনে অ্যাড-হক কমিটির মাধ্যমেই নাম আসার কথা ছিল। নির্দিষ্ট কিছু জেলা ও বিভাগ থেকে পর্যাপ্ত নাম না আসায় পুনরায় চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়াটিতেই কেবল তার সম্পৃক্ততা ছিল।
একের পর এক বোর্ড পরিচালক পদত্যাগ করছেন; উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বর্তমান পর্ষদের সব পরিচালক পদত্যাগ করলে কী করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, তিনি হবেন পদত্যাগকারী শেষ ব্যক্তি।
তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন আমাদের হাতে এসেছে। আমরা এখন আইসিসির সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।
এদিকে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেছেন, বর্তমান বোর্ডের কিছু সদস্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর প্রলোভনে পড়ে পদত্যাগ করেছেন। তবে মন্ত্রী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বোর্ড সভাপতির মতো আসিফ মাহমুদও তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হননি। তিনি অভিযোগ করেছেন, অবৈধভাবে বোর্ড ভাঙার প্রক্রিয়ায় আইসিসি যেন কোনো ব্যবস্থা না নেয় তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একজন স্বনামধন্য ক্রিকেটার লবিংয়ে ব্যস্ত।
আসিফ মাহমুদের এই ইঙ্গিত সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের দিকে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তামিম ইকবাল নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে সোচ্চার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। নির্বাচনের আগে তিনি আমিনুলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চেষ্টা করলেও শেষ মুহূর্তে নাম প্রত্যাহার করে নেন।
সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ অপসারিত হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হয়ে প্রথমবারের মতো বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব পান আমিনুল। পরবর্তীতে অন্যান্য পরিচালকদের ভোটে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর আমিনুল শুরুতে জানিয়েছিলেন তিনি ‘টি-টোয়েন্টি ইনিংস’ খেলতে এসেছেন, যা দিয়ে তিনি স্বল্প মেয়াদে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের আগে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন।
১৮৯ দিন আগে
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ে ক্রিকেট দলকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অভিনন্দন
পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে ১১ রানের জয়ে ইতিহাস গড়ে সিরিজ নিশ্চিত করায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
সোমবার (১৬ মার্চ) তথ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এক অভিনন্দন বার্তায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের ক্রিকেটারদের এই অদম্য স্পৃহা এবং লড়াকু মানসিকতায় আমি অত্যন্ত গর্বিত। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজ জয় আমাদের ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। মাঠের লড়াইয়ে খেলোয়াড়রা যে ধৈর্য ও সাহসিকতা দেখিয়েছেন, তা পুরো জাতিকে আনন্দিত করেছে। খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচ ও বোর্ড-সংশ্লিষ্ট সকলকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ দলের এই জয়ের ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী দল হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
২১০ দিন আগে
ভারত ম্যাচ বয়কট পাকিস্তানের ‘চিন্তাপ্রসূত’ সিদ্ধান্ত: শাহবাজ শরিফ
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে না নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ হিসেবেই বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তান।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ইসলামাবাদে ফেডারেল মন্ত্রিসভার বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা খুব স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছি। খেলার মাঠে রাজনীতি হওয়া উচিত নয়, সে কারণেই আমরা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলব না। এটি আমাদের ভেবেচিন্তে নেওয়া সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি, আমাদের বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো উচিত।’
বাংলাদেশের নিরাপত্তাশঙ্কা আমলে না নিয়ে তাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয় আইসিসি। এরপরই পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দেয়। তবে সিদ্ধান্তটি গত সপ্তাহে ঘোষণা করা হলেও এর কারণ এই প্রথম প্রকাশ করল দেশটির সরকার।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে পর্দা উঠছে ২০২৬ আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে গত রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান সরকারের এক্স হ্যান্ডেল থেকে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, ভারত ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান দল।
গত ৩ জানুয়ারি ভারতের উগ্রবাদীদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর থেকেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসে। মূলত এ কারণেই ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। পরদিনই আইসিসিকে অনুরোধ করা হয় ভেন্যু বদল করে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ রাখার জন্য। তবে মোস্তাফিজের ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন ও অপ্রাসঙ্গিক’ উল্লেখ করে আইসিসি বাংলাদেশের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, ‘আইসিসি ভারতে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমলে নেয়নি, ভারত সরকারও নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করেনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তে অটল থাকার পর আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে নিয়েছে।’
এ ঘটনায় পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি আইসিসির সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে। এর আগে, আইসিসি বোর্ড সভায় ভেন্যু বদলের ভোটাভুটিতেও বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন নাকভি।
২৪৯ দিন আগে
শর্তসাপেক্ষে সাকিবের জন্য খুলল জাতীয় দলের দরজা
দেশের ক্রিকেটের টালমাটাল সময়ে চমকপ্রদ সিদ্ধান্তের কথা জানাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি। একদিকে বাংলাদেশ ভারতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে, অন্যদিকে কিছু শর্ত পূরণ করা সাপেক্ষে জাতীয় দলে ফেরার দরজা খুলছে দেশসেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিসিবিতে পরিচালনা পর্ষদের দীর্ঘ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বিসিবি পরিচালক আমজাদ হোসেন।
আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আপনারা সাকিবের ফেরা নিয়ে অনেক প্রশ্ন করেছিলেন। আপনাদের অবগত করতে চাই, আমাদের বোর্ডে এ ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে।’
বিসিবি পরিচালক অবশ্য সাকিবের ফেরার ক্ষেত্রে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, সাকিবের শারীরিক ফিটনেস এবং খেলার জন্য তার সহজলভ্যতা (অ্যাভেইলেবিলিটি) থাকতে হবে। অ্যাক্সেসিবিলিটির ওপর ভিত্তিতে যেখানে খেলা হবে, সেই ভেন্যুতে তার উপস্থিত থাকার সক্ষমতা (ক্যাপাসিটি) থাকতে হবে। শর্তগুলো পূরণ হলে নির্বাচক কমিটি যেকোনো সিরিজের জন্য তাকে বিবেচনা করতে পারবে।’
সাকিবকে বোর্ড সবুজ সংকেত দিলেও জাতীয় দলে তার নিয়মিত খেলা নিয়ে সরকার থেকে এখনও চূড়ান্ত কোনও নির্দেশনা আসেনি। সাকিবের বিরুদ্ধে থাকা ব্যক্তিগত ও আইনি সমস্যাগুলো সরকার কীভাবে দেখবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর জানান, সাকিবের খেলার পথে বাধাগুলো নিয়ে সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন বিসিবি সভাপতি।
আমজাদ হোসেন জানান, ‘আমাদের সভাপতিকে বলা হয়েছে এই বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করতে। সাকিবের ব্যক্তিগত সমস্যাগুলো তার নিজস্ব। সেগুলো সরকার কীভাবে ফেস (মোকাবিলা) করবে, তা সরকারের সিদ্ধান্ত। তবে আমরা বোর্ডের পক্ষ থেকে সাকিবকে চেয়েছি—এটাই হলো মূল কথা।’
তবে, দেশের ভেতরে তার প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে এখনও বড় বাধা রয়েছে। সাকিব, নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মাগুরা–১ আসন থেকে নির্বাচিত হন সাকিব। ওই বছরের জুলাই–আগস্টে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আর দেশে ফিরতে পারেননি। ওই বছরের অক্টোবরে দেশের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর কথা ছিল তার। সেই ম্যাচ খেলতে দেশের পথে থাকলেও পরে নিরাপত্তা শঙ্কায় তাকে থমকে যেতে হয় মাঝপথেই।
সাকিবের রাজনৈতিক পরিচয় এবারও বাধা হবে কি না জানতে চাইলে আমজাদ হোসেন বলেন, ‘তার রাজনৈতিক পরিচয় সরকার দেখবে। সরকার যদি চায়, তিনি অপরাধী হন বা তাকে যদি বিচার করতে হয়, সেটা বিসিবির ইস্যু নয়।’
তবে দেশের বাইরের টুর্নামেন্টগুলোতেও সাকিবের খেলার কোনো বাধা থাকবে না বলে জানিয়েছেন এ বোর্ড পরিচালক। তার ভাষ্যে, ‘সাকিব আল হাসান অন্যান্য গ্লোবাল টুর্নামেন্টগুলোতেও অংশ নিতে পারবে, কারণ ওখানে বোর্ড এনওসি (অনাপত্তিপত্র) দেবে প্রয়োজনমতো।’
২৬০ দিন আগে
বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ
নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে রাজি নয় বাংলাদেশ। সর্বশেষ আইসিসির বোর্ড সভায় বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল, তবে আগের অবস্থানেই অনড় থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই চেয়েছি আমরা যেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পারি। কিন্তু আমাদের যে নিরাপত্তা ঝুঁকি ভারতে খেলার ক্ষেত্রে সেই নিরাপত্তা ঝুঁকির কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। আমাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এটা কোন বায়োবীয় বিশ্লেষণ বা ধারণা থেকে হয়নি। এটা একটা সত্যিকারের ঘটনা থেকে হয়েছে।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা আশঙ্কা কোনো থিওরেটিক্যাল অ্যানালাইসিস থেকে তৈরি হয়নি। যেখানে আমাদের একজন খেলোয়াড় উগ্রবাদীদের চাপে নিরাপত্তা না পেয়ে কার্যত দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, সেই দেশেই আবার বিশ্বকাপ খেলতে বলা হচ্ছে, এটা কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে?’
তার অভিযোগ, ওই ঘটনার পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করার মতো কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
উপদেষ্টার কথায়, যে ঘটনা থেকে আমাদের আপত্তির জন্ম, সেই বিষয়টি নিয়েই আইসিসি কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। তারা শুধু বলছে, ‘স্ট্যান্ডার্ড সিকিউরিটি প্রোটোকল আছে।’ কিন্তু মোস্তাফিজের ক্ষেত্রে সেই প্রোটোকল কোথায় ছিল, তার কোনো ব্যাখ্যা আমরা পাইনি।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি শুধু খেলোয়াড়দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দলের সঙ্গে থাকা সাংবাদিক, কর্মকর্তাসহ সম্ভাব্য দর্শকরাও একই ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন।
আসিফ নজরুলের মতে, একটি বিশ্বকাপ খেললে আর্থিক বা ক্রীড়াগত লাভ হতে পারে সে কথা ঠিক। কিন্তু মাথা নত করে নিজেদের মানুষকে সত্যিকারের নিরাপত্তার ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিলে যে ক্ষতি হতে পারে, সেটাও আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে।
এই প্রেক্ষাপটে উপদেষ্টার স্পষ্ট বক্তব্য, ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তটি সরকারের। কোনো দেশের নাগরিক অন্য দেশে গেলে নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে কি না, সেটি দেখার দায়িত্ব সরকারের। এটি অন্য কারও বিবেচনার বিষয় নয়। আইসিসি বা অন্য কোনো পক্ষ এই সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে না।
২৬৩ দিন আগে