অন্যান্য
অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার ধারণা বদলে নোবেল পেলেন ২ অর্থনীতিবিদ
অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার মডেল নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া দুই অর্থনীতিবিদ রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড।
তাদের গবেষণায় তৈরি মডেলগুলো জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির মতো অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সহায়তা করেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে বলে, এই দুই অর্থনীতিবিদের গবেষণা অর্থনৈতিক উত্থান-পতন মোকাবিলায় নীতিনির্ধারকদের সহায়তা করছে।
এক বিবৃতিতে একাডেমি আরও বলেছে, ‘বিজয়ীরা অর্থনীতির উত্থান-পতন মসৃণ করতে আমাদের সহায়তা করেছেন।’
রবার্ট ই হল ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাইকেল উডফোর্ড নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত।
এদিন নিউইয়র্ক থেকে ফোনে পুরস্কার কমিটির সঙ্গে কথা বলেন উডফোর্ড। তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত সম্মানের বিষয়, একই সঙ্গে বিস্ময়কর।’
অর্থনীতিতে পুরস্কার দেওয়ার কমিটির চেয়ারম্যান জন হাসলার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘বিজয়ীদের কাজ এমন মডেলের স্থিতিশীল তাত্ত্বিক ভিত্তি তৈরি করেছে, যা এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার ব্যবহার করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এসব মডেলের মাধ্যমে জ্বালানি সংকট কিংবা পরিবারের ভোগব্যয়ের আকস্মিক পরিবর্তনের মতো অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলায় আমরা আরও ভালোভাবে প্রস্তুত।’
সরাসরি সম্প্রচারিত সংবাদ সম্মেলনে ফোনে দেওয়া বক্তব্যে উডফোর্ড বলেন, তার গবেষণায় ‘বাজারে থাকা ও ব্যয়সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া মানুষদের বোঝার’ ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার কী করছে, তা জনগণকে বোঝানোর সুযোগ তৈরি করে—এমন একটি কাঠামো গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। বিশ্লেষণধর্মী কাঠামো তৈরির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল শুধু মানুষের ওপর এটি প্রয়োগ করা নয়, বরং কেন কী করা হচ্ছে, তা মানুষকে বোঝানোও।’
গত বছর ব্যবসায়িক উদ্ভাবন নিয়ে গবেষণার জন্য তিনজন গবেষক এই পুরস্কার পেয়েছিলেন। নতুন পণ্য ও উদ্ভাবন কীভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানুষের কল্যাণ বৃদ্ধি করে, এমনকি পুরোনো কোম্পানিগুলোকে পেছনে ফেলে দেয়—তা ব্যাখ্যা করেছিলেন তারা।
পুরস্কারটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে ব্যাংক অব সুইডেন পুরস্কার’। ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ পুরস্কার চালু করে। এর আগে ঊনবিংশ শতাব্দীর সুইডিশ ব্যবসায়ী ও রসায়নবিদ আলফ্রেড নোবেল ডিনামাইট আবিষ্কার করেন এবং পাঁচটি নোবেল পুরস্কার প্রতিষ্ঠা করেন।
নোবেল পুরস্কারের বিশুদ্ধতা নিয়ে যারা কঠোর অবস্থান নেন, তারা মনে করিয়ে দেন, অর্থনীতির এই পুরস্কার আসলে নোবেল পুরস্কার নয়। তবে নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকী ১০ ডিসেম্বর অন্য পুরস্কারগুলোর সঙ্গে এটিও দেওয়া হয়।
গত সপ্তাহে চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
এ বছর পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমান। একজন ব্যক্তি, একাধিক বিজয়ীর ছোট দল কিংবা কোনো সংস্থা—পুরস্কার যে-ই পাক, অর্থমূল্য একই থাকবে।
১২ ঘণ্টা আগে
শান্তিতে নোবেল পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার নাভি পিল্লাই
আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সাবেক প্রধান ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) বিচারক নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ওয়াটনে ফ্রাইদনেস বিজয়ী হিসেবে ৮৫ বছর বয়সী এই দক্ষিণ আফ্রিকান বিচারকের নাম ঘোষণা করেন।
শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রসারে তার অসামান্য অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত সকল মানুষের জন্য পিল্লাইয়ের কর্মজীবন আশা ও অনুপ্রেরণার এক অনন্য উৎস।’
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নোবেল কমিটি উল্লেখ করে, ‘সংঘাত ও যুদ্ধের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া এবং আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারক ও আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে পড়ার এই কঠিন সময়ে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুত্ব মনে করিয়ে দিতেই এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন মেনে বলপ্রয়োগ বা সহিংসতা ছাড়াই যেকোনো সংকট সমাধান করা সম্ভব।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘শান্তিপূর্ণ বিশ্বের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো এমন একটি আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা যেখানে যুদ্ধাপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয় এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পান।’
এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭টি মনোনয়ন জমা পড়েছিল, যার এক-চতুর্থাংশের বেশি ছিল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকসই শান্তি, আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি এবং শান্তিকামী সংস্থাগুলোর নীরব ও ধারাবাহিক কাজকে নোবেল কমিটি সবসময় অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে।
গত বছর দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় গণতান্ত্রিক উত্তরণের সংগ্রামে নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান দেশটির বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো। অন্ধকারের মাঝেও গণতন্ত্রের শিখা জ্বালিয়ে রাখার অনন্য সাহসিকতার জন্য তাকে সম্মানিত করা হয়েছিল।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক ইনস্টিটিউটের পরিচালক, সাবেক নোবেলজয়ী এবং নোবেল কমিটির সদস্যরা বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সংস্থাকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে থাকেন।
এর আগে, চলতি সপ্তাহে আরও চারটি বিভাগে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে আলো ব্যবহারের মাধ্যমে মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালী উন্মোচনের পদ্ধতি আবিষ্কার করায় তিন বিজ্ঞানী চিকিৎসায় নোবেল লাভ করেন। পদার্থবিজ্ঞানে বিরল নিউট্রিনো কণার রহস্য উন্মোচনের স্বীকৃতি পান এক বিজ্ঞানী। রসায়নশাস্ত্রে অণুর প্রতিবিম্ব রূপ উন্মোচনের মাধ্যমে নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের পথ সুগম করায় পুরস্কার পান দুই বিজ্ঞানী।
অন্যদিকে, ধ্রুপদী ও আধুনিক সাহিত্যের সংমিশ্রণে অনন্য রচনার জন্য গত বৃহস্পতিবার নোবেল সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেন কানাডীয় কবি ও অনুবাদক অ্যানে কার্সন। আগামী সোমবার অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হবে।
এ বছর বিজয়ী ব্যক্তি বা সংস্থা পুরস্কারমূল্য হিসেবে পাবেন ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার)।
১২৫তম বর্ষে নোবেল শান্তি পুরস্কার
১৯০১ সালে প্রবর্তনের পর থেকে এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার ১২৫তম বার্ষিকীতে পদার্পণ করেছে। এ পর্যন্ত ১১২ জন ব্যক্তি ও ২৮টি প্রতিষ্ঠানকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রেড ক্রস তিনবার এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) দুইবার এ পুরস্কার পেয়েছে।
বিশ্বযুদ্ধের সময়সহ মোট ১৯ বার এই পুরস্কার প্রদান স্থগিত ছিল। ১৯৪৮ সালে মহাত্মা গান্ধী হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার বছরও কাউকেই পুরস্কৃত করা হয়নি। উল্লেখ্য, তাকে মোট ১২ বার মনোনীত করা হলেও তিনি কখনও নোবেল পাননি।
এমনকি ১৯৩৯ সালে সুইডেনের এক সংসদ সদস্য অ্যাডলফ হিটলারের নাম নোবেল শান্তির জন্য প্রস্তাব করেছিলেন, যদিও পরে তিনি এটি নিছক কৌতুক ছিল জানিয়ে তা প্রত্যাহার করে নেন।
৩ দিন আগে
সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় কবি ও প্রাবন্ধিক অ্যান কারসন
কানাডীয় কবি ও প্রাবন্ধিক অ্যান কারসন সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। ‘ধ্রুপদী ঐতিহ্যের সঙ্গে সরস সংলাপের মধ্য দিয়ে সমকালীন সাহিত্যের জন্য নতুন নতুন রূপ সৃষ্টি করা সাহসী ও সৃজনশীল সাহিত্যকর্মের’ জন্য তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্টকহোমে সুইডিশ একাডেমি পুরস্কারটি ঘোষণা করে।
সুইডিশ একাডেমির স্থায়ী সচিব ইংগ্রিড কার্লবার্গ বলেন, একাডেমি যখন কারসনকে পুরস্কার জয়ের খবর জানাতে যোগাযোগ করে, তখন তিনি আইসল্যান্ডে ‘বাতাসের শব্দ শুনছিলেন’।
নোবেল পাওয়ার খবর পেয়ে কারসন ‘খুবই বিস্মিত হয়েছেন’ বলেও জানান কার্লবার্গ।
টরন্টোতে জন্ম নেওয়া ৭৬ বছর বয়সী কারসন তার সাহিত্যকর্মে প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সাহিত্যের বিষয়বস্তু ও কাহিনি ব্যবহার করেন, যেখানে প্রায়ই কবিতা, প্রবন্ধ ও কথাসাহিত্যের বিভিন্ন উপাদানের মিশ্রণ দেখা যায়।
তার বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘ইরোস দ্য বিটারসুইট’, যেখানে প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যে আকাঙ্ক্ষার আনন্দ ও বেদনা তুলে ধরা হয়েছে; পদ্য উপন্যাস ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’; কবিতা ও গদ্যের সংকলন ‘মেন ইন দ্য অফ আওয়ার্স’, যা ২০০১ সালে কবিতার জন্য কানাডার গ্রিফিন পুরস্কার জিতেছিল; এবং ‘নরমা জিন বেকার অব ট্রয়’, যেখানে মেরিলিন মনরো ও ট্রয়ের হেলেনের তুলনা করা হয়েছে।
কারসন প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যের বেশ কিছু রচনাও অনুবাদ করেছেন, যেগুলোকে সুইডিশ একাডেমির মতে ‘নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে’।
কারসন উত্তর আমেরিকার বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ধ্রুপদি সাহিত্য পড়িয়েছেন। তিনি আইসল্যান্ডেও বসবাস করেছেন, যেখানে তিনি ও তার স্বামী রবার্ট কারি ২০২২ সালে নাগরিকত্ব পান।
গত বছর হাঙ্গেরীয় লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। তার পরাবাস্তব ও নৈরাজ্যবাদী উপন্যাসগুলোতে বিষণ্ন বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে তীক্ষ্ণ রসবোধের মিশ্রণ রয়েছে।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনটি বিজ্ঞান পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে তা বোঝার ক্ষেত্রে আলো ব্যবহার করে, এমন একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবনে অবদান রাখায় তিন বিজ্ঞানী চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন।
এছাড়া বিরল একটি শ্রেণির নিউট্রিনোর রহস্য উন্মোচনের প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে একজন বিজ্ঞানী পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন। আর অণুর রহস্যময় দর্পণ-প্রতিবিম্ব নিয়ে গবেষণার জন্য দুই বিজ্ঞানী রসায়নে নোবেল পেয়েছেন, যাদের আবিষ্কার অসংখ্য ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে।
এ সপ্তাহের নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর্ব শেষ হবে শুক্রবার শান্তি পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে। অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার ঘোষণা করা হবে সোমবার।
এ বছর পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার)।
৪ দিন আগে
অণুর ‘দর্পণ-প্রতিবিম্ব’ গবেষণায় রসায়নে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী
রাসায়নিক অণুর রহস্যময় দর্পণ-প্রতিবিম্ব নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে এ রহস্যের সমাধানে অবদানের জন্য রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন অঁরি বি কাগান ও কেনসো সোয়াই।
বুধবার (৭ অক্টোবর) স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এই দুই বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে।
নোবেল কমিটি ফর কেমিস্ট্রির চেয়ারম্যান হাইনার লিঙ্কে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘অঁরি কাগান ও কেনসো সোয়াই এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো একটি রাসায়নিক রহস্যের সমাধান দিয়েছেন—কীভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হোমোকাইরালিটি সৃষ্টি হতে পারে। তারা যে রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলো উদ্ভাবন করেছেন, সেগুলো অসাধারণ।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এই দুই বিজ্ঞানীর আবিষ্কার ‘ওষুধ তৈরির জন্য রাসায়নিক বিক্রিয়া নকশা করা রসায়নবিদদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে’।
ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করা ৯৫ বছর বয়সী কাগান ফ্রান্সের ওর্সেতে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি প্যারিস-সুদে যুক্ত রয়েছেন। অন্যদিকে জাপানে জন্ম নেওয়া সোয়াই টোকিও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্সের সঙ্গে যুক্ত।
নোবেল কমিটি থেকে ফোন পেলে সোয়াই জানান, তখন তিনি নিজের বাড়ির কাছাকাছি একটি দোকানে কেনাকাটা করছেন।
গত বছর তিন বিজ্ঞানী রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান। বিপুল পরিমাণ গ্যাস আটকে রাখতে সক্ষম নতুন ধরনের আণবিক কাঠামো উদ্ভাবনের জন্য তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়। তাদের উদ্ভাবন বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস শোষণ করা কিংবা মরুভূমি এলাকায় বাতাসের আর্দ্রতা সংগ্রহের সম্ভাবনার পথ তৈরি করেছে।
এ বছরের নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয় গত সোমবার চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে। মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে, তা বোঝার ক্ষেত্রে আলো ব্যবহার করে এমন একটি পদ্ধতি উদ্ভাবনে অবদানের জন্য তিন বিজ্ঞানীকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
এরপর মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল দেওয়া হয় মহাবিশ্ব থেকে আসা বিরল এক ধরনের নিউট্রিনোর রহস্য উন্মোচনে এক বিজ্ঞানীর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে।
বৃহস্পতিবার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হবে। শুক্রবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর সোমবার অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হবে।
এ বছর নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার)। একজন ব্যক্তি, কয়েকজন নোবেলজয়ীর ছোট একটি দল কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠান—যে ক্ষেত্রেই পুরস্কার দেওয়া হোক, অর্থের পরিমাণ একই থাকবে।
৫ দিন আগে
চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন ৩ বিজ্ঞানী
মস্তিষ্ক কীভাবে পৃথক স্নায়ুকোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে, সেই প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণার জন্য তিন বিজ্ঞানীকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সুইডেনের স্টকহোমের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটে পুরস্কারটি ঘোষণা করা হয়।
কার্ল ডেইসেরোথ (৫৪), পিটার হেগেমান (৭১) ও জর্জ নাগেল (৭৩) আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিকস নিয়ে গবেষণা করে এ পুরস্কার পেয়েছেন।
নোবেল অ্যাসেম্বলি এই তিন বিজ্ঞানীর কাজের প্রশংসা করে এক্সে লিখেছে, এই পদ্ধতি ‘মস্তিষ্কের রহস্য উন্মোচনে এখন বিশ্বজুড়ে গবেষণাগারে ব্যবহার করা হচ্ছে’।
অ্যাসেম্বলি জানিয়েছে, ডেইসেরোথ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে, হেগেমান জার্মানির বার্লিনের হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ও নাগেল জার্মানিরই ভুরৎসবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত।
অপটোজেনেটিকসের মাধ্যমে নিউরোসায়েন্সে একটি নতুন যুগের সূচনা হয়েছে বলে নোবেল অ্যাসেম্বলি জানিয়েছে।
তারা আরও বলেছে, মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ ও সার্কিটের কার্যক্রম আলো দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার এই পদ্ধতি মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে তা আরও ভালোভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে আচরণ ও রোগের দিকে নিয়ে যাওয়া বিভিন্ন স্নায়ুপথের রহস্য উন্মোচনের পথও খুলেছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে নোবেল সপ্তাহের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো। এ বছর পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার)।
গত বছর রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণার জন্য তিন বিজ্ঞানীকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।
মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞান, বুধবার রসায়ন ও বৃহস্পতিবার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। এরপর শুক্রবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার পর আগামী ১২ অক্টোবর অর্থনীতিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হবে।
৭ দিন আগে
তাইওয়ান সফরের করায় নিউজিল্যান্ডের ৪ আইনপ্রণেতার ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
তাইওয়ান সফর করায় নিউজিল্যান্ডের চার আইনপ্রণেতার ওপর এক বছরের জন্য চীন, হংকং ও ম্যাকাওয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে চীন। একইসঙ্গে তাইওয়ান সফরের জন্য চীনের কাছে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতাদের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পাঠানো এক বার্তায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ওয়েলিংটনে অবস্থিত চীনের দূতাবাস। পরে সংসদীয় কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বার্তাটি নিউজিল্যান্ডের চার আইনপ্রণেতার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
নিউজিল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, তাইওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে অতীতে অন্যান্য দেশের আইনপ্রণেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। তবে নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতাদের বিরুদ্ধে এই প্রথম চীন এমন পদক্ষেপ নিল। গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে চীন নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির ওপর চাপ বাড়িয়ে আসছে চীন।
এদিকে, নিউজিল্যান্ডের চার আইনপ্রণেতার মধ্যে দুজন এপিকে জানিয়েছে, তারা চীনের কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্য দুইজনের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে নিউজিল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, তারা এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে চীনের সঙ্গে কথা বলবে।
এ বিষয়ে নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্সের এক মুখপাত্র জানান, চীন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া আইনপ্রণেতারা গত মে মাসে তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেই সফর করেছিলেন। নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতারা কয়েক দশক ধরেই এ ধরনের সফর করে আসছেন।
চীনের দাবি, তাইপেইয়ের নিজস্বভাবে কোনো ধরনের বিদেশি সম্পর্ক পরিচালনার কোনো অধিকার নেই। এছাড়া বিদেশি আইনপ্রণেতাদের তাইওয়ান সফরকে চীনের সার্বভৌমত্বের প্রতি বাধা হিসেবে দেখছে তারা।
নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্সের মুখপাত্র জানান, ‘ওয়ান চায়না’ নীতির আওতায় তাইওয়ানকে চীনের একটি প্রদেশ হিসেবে দাবি করা হয়। নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতার ওই সফর ‘ওয়ান চায়না’ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। এছাড়া তাইওয়ান সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, এমন ১২টি দেশের মধ্যে নিউজিল্যান্ড অন্তর্ভুক্ত নয়।
এপি জানিয়েছে, ওয়েলিংটনে অবস্থিত চীনের দূতাবাস নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টারি সার্ভিসে একটি বার্তা পাঠায়। ওই বার্তার মাধ্যমে তাইওয়ানে সফর করা চার আইনপ্রণেতাকে এক বছরের জন্য চীন, ম্যাকাও ও হংকংয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধের বিষয়টি জানানো হয়। নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টারি সার্ভিস থেকে এই বার্তাটি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতাদের একটি ইমেইলে পাঠানো হয়।
চীনা দূতাবাসের বার্তায় আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতারা যদি তাইওয়ান সফরের জন্য চীনের কাছে ক্ষমা চান, তাহলে তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার চীনা দূতাবাসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানান, নিউজিল্যান্ডসহ যেসব দেশের সঙ্গে চীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, অনেকদিন ধরেই সেসব দেশের আইনপ্রণেতাদের তাইওয়ান সফরের বিরোধিতা করে আসছে চীন। এই ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়। নিউজিল্যান্ডের এ বিষয়ে বিস্মিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
এদিকে, নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র জানান, বিষয়টি নিয়ে বেইজিং ও ওয়েলিংটনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিউজিল্যান্ডের কর্মকর্তারা চীনের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তারা চীন সরকারের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ জানাবেন।
তিনি আরও জানান, বিদেশ সফরে নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতারা কোন অঞ্চলে ভ্রমণ করবেন, সে সিদ্ধান্ততা তারা স্বাধীনভাবে নিয়ে থাকেন। এসব সফরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
লিবার্টারিয়ান অ্যাক্ট পার্টির আইনপ্রণেতা লরা ম্যাকক্লুর জানান, চীনের কাছে ক্ষমা চাওয়ার এই দাবি স্পষ্টতই অপমানজনক। তিনি কোনোভাবেই ক্ষমা চাইবেন না।
অন্যদিকে, মধ্য-বামপন্থি লেবার পার্টির আইনপ্রণেতা ডানকান ওয়েব জানান, নিউজিল্যান্ড গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগের অধিকারকে গুরুত্ব দেয়। এ কারণে যদি আমাকে এক বছরের জন্য চীনে প্রবেশ করতে না দেওয়া হয়, তাহলে সেই মূল্য দিতেও আমি প্রস্তুত।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিউজিল্যান্ড ও চীনের সম্পর্ক ইতিবাচক ছিল। চীন বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। এছাড়া নিউজিল্যান্ডই প্রথম চীনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেছিল।
অপরদিকে, নিউজিল্যান্ডের নিকটতম প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতাদের ওপর চীনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তাদের সরকারও উদ্বেগ প্রকাশ করবে। এ বিষয়ে বেইজিং এবং ক্যানবেরায় চীনা মিশনের সঙ্গে কথা বলবে অস্ট্রেলিয়া।
বৃহস্পতিবার ক্যানবেরায় সিনেট কমিটির এক বৈঠকে ওয়ং জানান, নিউজিল্যান্ড যে অবস্থান নিয়েছে, অস্ট্রেলিয়াও তার সঙ্গে একমত। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সংসদ সদস্যদের মতো নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতারাও সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজেদের বিদেশ সফরের সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে নিতে পারেন।
এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আইনপ্রণেতাদের ওপর ভ্রমণ-সংক্রান্ত বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করা কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়।’
১৩০ দিন আগে
ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জাতিসংঘের
ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের টেকসই পন্থা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
বৃস্পতিবার (২৮ মে) জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ আহ্বান জানান।
এ সপ্তাহের শেষদিকে ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক হামলার পর নিরাপত্তা পরিষদে ইউক্রেন বিষয়ক এক বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে গুতেরেস সতর্ক করেন, এই সংঘাতের গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
তিনি ভুল হিসাব-নিকাশ ও পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠার ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, এর পরিণতি হবে অজানা ও অনাকাঙ্ক্ষিত। তাই সরাসরি বলতে চাই, বর্তমান পরিস্থিতি অনুকূলে নয়। এই ধারা অবশ্যই বদলাতে হবে। এই মৃত্যুর খেলা থামাতেই হবে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনে ১৫ হাজারও বেশি বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৮ শতাধিক শিশুও রয়েছে। রাশিয়ার প্রতিবেদনেও ক্রমবর্ধমান বেসামরিক হতাহতের তথ্য উঠে আসছে, যার মধ্যে শিশুরাও রয়েছে।
গুতেরেস বলেন, সম্মুখ যুদ্ধরেখা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে এবং ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটছে। বিশেষত জ্বালানি অবকাঠামোসহ বেসামরিক স্থাপনাগুলো বিশাল মাত্রায় ধ্বংস হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবে এখন যা দরকার তা হলো উত্তেজনা প্রশমনের টেকসই পন্থা অবলম্বন। এখন যা দরকার, তা হলো পূর্ণ ও শর্তহীন যুদ্ধবিরতি, আরও কূটনীতি। দরকার এমন পরিবেশ তৈরি করা যা জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী একটি ন্যায়সঙ্গত, স্থায়ী ও সামগ্রিক শান্তির পথ খুলে দেবে।’
এদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত রবিবার জানিয়েছে, রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনের ‘বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার’ প্রতিশোধ হিসেবে রুশ সামরিক বাহিনী ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনাগুলোতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে।
১৩৬ দিন আগে
এ বছরই আসছে ‘এল নিনো’, ২০২৭ সালে ভাঙতে পারে বৈশ্বিক তাপমাত্রার রেকর্ড
জলবায়ু সংকট তীব্রতর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে একটি রেকর্ড-ভাঙা উত্তপ্ত বছরের মুখোমুখি হওয়া প্রায় নিশ্চিত বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। এ বছরের শেষে ‘এল নিনো’র আগমন প্রত্যাশা করে বৈশ্বিক তাপমাত্রার রেকর্ড ২০২৭ সালেই ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
দ্যা গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন ক্রমাগত বাড়ছে, যা বায়ুমণ্ডলে আরও বেশি তাপ আটকে রাখছে এবং ঘন ঘন চরম আবহাওয়ার ঘটনা ঘটাচ্ছে। এরই মধ্যে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে আঘাত হেনেছে রেকর্ড-ভাঙা তাপপ্রবাহ।
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ইতোমধ্যে প্রতি মিনিটে একজন মানুষের প্রাণ যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, এবং দ্রুত কার্বন ডাই-অক্সাইডের নির্গমন না কমালে এই মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়বে।
যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিসের তৈরি ডব্লিউএমওর প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে কমপক্ষে একটি বছর ২০২৪ সালকে ছাড়িয়ে এ পর্যন্ত সবচেয়ে উষ্ণ বছর হওয়ার সম্ভাবনা ৮৬ শতাংশ। ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের পাঁচ বছরের গড় তাপমাত্রা শিল্পপূর্ব যুগের গড়ের চেয়ে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হওয়ার সম্ভাবনাও প্রায় ৭৫ শতাংশ।
জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েল বলেন, ‘ইউরোপে সর্বশেষ তাপপ্রবাহ জলবায়ু সংকটের ঘূর্ণায়মান প্রভাবের একটি নির্মম স্মারক।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের অনেক অঞ্চলও কঠিন আঘাতের মুখে পড়ছে, যেমন ভারত এবং এশিয়ার অন্যান্য অংশ।’
স্টিয়েল বলেন, ‘চরম তাপ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ব্যয় থেকে মানুষের জীবন, ব্যবসা ও অর্থনীতি রক্ষা করা প্রতিটি দেশের মূল দায়িত্ব, আর এটি শুরু হয় জীবাশ্ম জ্বালানির আসক্তি আরও দ্রুত ত্যাগ করার মাধ্যমে।’
তিনি উল্লেখ করেন, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন এখন জীবাশ্ম জ্বালানির চেয়ে সস্তা এবং দ্রুত উৎপাদনযোগ্য।
বিজ্ঞানীরা বারবার সতর্ক করেছেন যে, ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উষ্ণতা আরও তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা, ঝড় ও বন্যার সম্ভাবনা বাড়ায় এবং সমাজের মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। তবে উষ্ণতার প্রতিটি ভগ্নাংশ ডিগ্রি যদি এড়ানো যায়, তাহলেও ক্ষয়ক্ষতি কমে।
প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা শিল্পপূর্ব যুগের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা। এটি ২০ বছরের গড়ের ভিত্তিতে পরিমাপ করা হয়। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এখন অসম্ভব বলেই ধরা হচ্ছে।
অবশ্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার পরবর্তী ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্যমাত্রা এখনও অর্জনযোগ্য। ডব্লিউএমও প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে কোনো একটি বছরে তাপমাত্রা শিল্পপূর্ব যুগের বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রার চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ১ শতাংশেরও কম।
‘এল নিনো’ হলো মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এর প্রভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই প্রাকৃতিক ও চক্রাকার আবহাওয়ার ঘটনাটি এ বছরের শেষে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এল নিনো আসার সম্ভাবনা ৯৬ শতাংশ এবং একটি সুপার এল নিনোর সম্ভাবনাও রয়েছে অন্তত ৩৫ শতাংশ।
প্রশান্ত মহাসাগরে বায়ুর গতিপ্রবাহের পরিবর্তনের কারণে এল নিনো তৈরি হয়, যার ফলে সমুদ্রে জমে থাকা তাপ বায়ুমণ্ডলে মুক্ত হয়। ডব্লিউএমও প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ড. লিওন হার্মান্সন বলেন, ‘২০২৬ সালের শেষে একটি এল নিনোর পূর্বাভাস রয়েছে, যা পরের বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে পরবর্তী রেকর্ড-ভাঙা বছর হওয়ার সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দেয়।’
নতুন প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, আর্কটিকে আগামী পাঁচটি শীতকাল সাম্প্রতিক গড়ের চেয়ে ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উষ্ণ হবে, অর্থাৎ এই অঞ্চলটি বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় তিনগুণেরও বেশি দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তর ইউরোপ, সাহেল অঞ্চল, আলাস্কা ও সাইবেরিয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, আর অ্যামাজন অঞ্চলে কম বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
১৩৭ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা উপেক্ষা করে জলবায়ু সংকটবিষয়ক আইসিজে মতামতের পক্ষে জাতিসংঘের প্রস্তাব গৃহীত
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় রাষ্ট্রগুলোর আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে—আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) এমন উপদেষ্টা মতামতকে সমর্থন জানিয়ে ১৪১-৮ ভোটে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক কার্বন নিঃসরণকারী যুক্তরাষ্ট্র এ প্রস্তাবের বিরোধিতাকারী দেশগুলোর মধ্যে ছিল।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর উত্থাপিত প্রস্তাবটি আইসিজের জুলাই ২০২৫-এর উপদেষ্টা মতামতকে সমর্থন করে। ওই মতামতে বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবেলায় রাষ্ট্রগুলোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ২৮টি দেশ অংশ নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও সৌদি আরব, রাশিয়া, ইসরায়েল, ইরান, ইয়েমেন, লাইবেরিয়া ও বেলারুশ প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজক তুরস্ক, ভারত এবং তেল উৎপাদনকারী কাতার ও নাইজেরিয়া ভোটদানে বিরত থাকে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভোটের পর এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনে আইসিজের উপদেষ্টা মতামত সংক্রান্ত সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব গ্রহণকে আমি স্বাগত জানাই। এটি আন্তর্জাতিক আইন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, বিজ্ঞান এবং জনগণকে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট থেকে রক্ষার রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের একটি শক্তিশালী স্বীকৃতি বলা যায়।’
তিনি আরও বলেন, সরকারগুলো নাগরিকদের ‘ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট’ থেকে রক্ষার দায়বদ্ধতার স্বীকৃতি দিয়েছে।
যদিও আইসিজের এ মতামত আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়, তবু এটি ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে জলবায়ুবিষয়ক মামলায় ব্যবহার হচ্ছে এবং বিভিন্ন আদালতের বিচারকরা রায়ে এর উল্লেখ শুরু করেছেন। তবে কূটনৈতিক পর্যায়ে এটি জটিলতা তৈরি করেছে। বেলেমে গত বছরের ইউএনএফসিসিসি জলবায়ু আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি; সৌদি আরব চূড়ান্ত নথিতে এর অন্তর্ভুক্তিকে ‘লাল, লাল রেখা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিসহ বেশ কয়েকটি পরিবেশবিষয়ক চুক্তি থেকে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করেছে।
জাতিসংঘে মার্কিন উপরাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস বলেন, ‘প্রস্তাবটিতে জীবাশ্ম জ্বালানি সংক্রান্ত অনুপযুক্ত রাজনৈতিক দাবি রয়েছে।’
১৪৪ দিন আগে
বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম, চার বছরে সর্বোচ্চ
ইরান যুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপের নতুন পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্রিফ করতে যাচ্ছে—এমন খবরের পর বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১২৬ ডলার (৯৪ পাউন্ড) ছাড়িয়েছে, যা গত চার বছরে সর্বোচ্চ।
সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট অ্যাক্সিওসের বরাতে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে আলোচনার অচলাবস্থা ভাঙার লক্ষ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড তেহরানের ওপর এক দফায় সংক্ষিপ্ত ও শক্তিশালী হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে।
শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়া এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ থাকায় এই সপ্তাহে জ্বালানির দাম ক্রমাগত বেড়েছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ইরানের অবকাঠামো থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অন্য একটি পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালির একাংশ দখল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যাতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য এটি পুনরায় খুলে দেওয়া যায়। এটি করতে গেলে স্থলসেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে লেনদেন হওয়া ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড অয়েলের দামও ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০৯ ডলারে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তেহরান যতদিন হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে হুমকি দেওয়া অব্যাহত রাখবে, ততদিন তারা ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রাখবে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
ইরান তার ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে এই জলপথে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে। এ প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।
ওয়াশিংটন ইরানের ওপর একটি দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন খবরের পর বুধবার তেলের দাম ৬ শতাংশ বেড়েছিল।
এদিকে, মার্কিন ভোক্তাদের ওপর যুদ্ধের প্রভাব কীভাবে কমানো যায় তা নিয়ে আলোচনার জন্য মঙ্গলবার জ্বালানি খাতের নির্বাহীরা ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এটি বাজারে জ্বালানি সরবরাহ দীর্ঘকাল বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
১৬৫ দিন আগে