লাইফস্টাইল
তক্ষশিলায় শিশুদের রঙিন উৎসব
রঙ-তুলিতে ক্যানভাসে ফুটে উঠল শিশুদের চোখে দেখা বাংলাদেশ, ইতিহাস ও আগামীর স্বপ্ন। রাজধানীর তক্ষশিলা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রঙিন আয়োজনে মেতে ওঠে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) ২৭ ধানমণ্ডির উদ্যোগে এবং তক্ষশিলা বিদ্যালয়ের সহযোগিতায় ‘সংস্কৃতিই জাগরণের প্রথম সূর্য’ শীর্ষক চিত্রাঙ্কন উৎসব-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শিশুদের সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি ও শিল্পচর্চায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ উৎসবে রাজধানীর ১০টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রথম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
এদিন সকালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমাদের ভয় কাহারে’ সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। তক্ষশিলা বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নাদিমুল ইসলাম ও ২৭ ধানমণ্ডির ফজলুল কবীর তুহিন শিশুশিল্পী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে গানটিতে অংশ নেন।
এরপর শুরু হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। বয়সভিত্তিক তিনটি বিভাগে শিক্ষার্থীদের ভাগ করা হয়। প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘হৃদয়ে আঁকা বাংলাদেশ’ এবং চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘আমার আঁকায় অমর যাঁরা’ বিষয়ে ছবি আঁকে। সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিষয় ছিল ‘ছোট হাতে বড় শপথ’।
১ দিন আগে
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ প্রাণহানি, আক্রান্ত ৯৪৩
দেশে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৩টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৯৪৩টি শিশু।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮৬৪টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৯৬৩টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৫৭টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৮৬৪। এই সময়ে ৭৮৪টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮০৭টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬৭৮, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৮৫৩। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৫৭ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
১ দিন আগে
বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী আজ
আজ ১০ আগস্ট, বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী। ১৯২৩ সালের এই দিনে নড়াইলের মাছিমদিয়ায় এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবার নাম মেছের আলী এবং মায়ের নাম মাজু বিবি।
গ্রামীণ জীবন, কৃষক-শ্রমিক এবং তাদের পেশিশক্তিকে রং-তুলির ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছিলেন শিল্পী সুলতান। চিত্রকলায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি একুশে পদক, স্বাধীনতা পদকসহ দেশ-বিদেশে অসংখ্য পদক ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।
১০৩তম জন্মবার্ষিকীতে কর্মসূচি
শিল্পী সুলতানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কোরআন খতম, শিল্পীর মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলি, শিশুকিশোরদের চিত্রাঙ্কন উৎসব, আর্ট ক্যাম্প, চিত্রপ্রদর্শনীর উদ্বোধন, আলোচনা সভা এবং এসএম সুলতান সম্মাননা পদক বিতরণ।
এ বছর সুলতান সম্মাননা পদক পাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী, প্রিন্টমেকার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলাসহ অন্যান্য অতিথি উপস্থিত থাকবেন।
এসএম সুলতানের জীবন ও কর্ম
চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ডাকনাম ছিল ‘লাল মিয়া’। তার বাবা পেশায় ছিলেন রাজমিস্ত্রি ও কৃষক। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায় বেশি দূর এগোতে পারেননি সুলতান। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার পর তার স্কুলজীবনের ইতি ঘটে। এরপর তিনি বাবার সঙ্গে রাজমিস্ত্রির কাজ শুরু করেন।
তবে ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি তার প্রচণ্ড আগ্রহ ছিল। বাবার সঙ্গে রাজমিস্ত্রির কাজ করার পাশাপাশি তিনি দালানকোঠার ছবি আঁকা শুরু করেন। ১৯৩৮ সালে তিনি কলকাতার আর্ট স্কুলে ভর্তি হয়ে প্রায় তিন বছর চিত্রকলার ওপর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখেই তিনি বেরিয়ে পড়েন।
সুলতান পাকিস্তান, কাশ্মীর ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। ভ্রমণ ও সাধনার মাধ্যমে নিজেকে একজন বিশ্বমানের চিত্রশিল্পী হিসেবে গড়ে তোলেন।
জীবদ্দশায় কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ছবির প্রদর্শনী বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৪৬ থেকে ১৯৫১ সালের মধ্যে তিনি এসব দেশে বেশ কয়েকটি একক ও যৌথ প্রদর্শনীতে অংশ নেন। দেশের ভেতরে ঢাকা ও নড়াইলে তার বিখ্যাত চিত্রকর্মের প্রদর্শনী হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে এবং ১৯৮৭ সালে গ্যোথে ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীগুলো তার খ্যাতি ছড়িয়ে দেয়।
বিশ্বখ্যাত এই বাংলাদেশি চিত্রশিল্পীর চিত্রকর্মের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল গ্রামীণ জীবন ও অতিবলিষ্ঠ পেশিবহুল কৃষক সমাজ। তার বিখ্যাত শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে ‘চর দখল’, ‘ধান কাটা’, ‘পাট কাটা’, ‘কৃষকের সংগ্রাম’ ও ‘আমার গ্রাম’ উল্লেখযোগ্য।
চিত্রশিল্পে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এসএম সুলতান ১৯৮২ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। এ ছাড়া তিনি দেশ-বিদেশে অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
২০ দিন আগে
বিশ্বের প্রথম অনুমোদিত কঠিন টিউমারের কোষভিত্তিক ক্যান্সার চিকিৎসার প্রয়োগ শুরু করল ফোসুন হেলথ
চীনের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ফোসুন হেলথ বিশ্বের প্রথম অনুমোদিত কঠিন টিউমারের কোষভিত্তিক ক্যান্সার চিকিৎসা কাইলিমেই (Kailimei®️)-এর চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে গ্রেটার বে এরিয়ায় পাকস্থলীর ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রথম রোগীর কোষ সংগ্রহ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
ফোসুন হেলথের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ফোসুন হাসপাতাল গুয়াংজু সম্প্রতি এই কোষ সংগ্রহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ফোসুন হাসপাতাল গুয়াংজুর আন্তর্জাতিক চিকিৎসাকেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক চেন তাও বলেন, প্রথম রোগীর কোষ সংগ্রহ সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে ফোসুন হেলথে বিশ্বের প্রথম অনুমোদিত কঠিন টিউমারের কোষভিত্তিক ক্যান্সার চিকিৎসার মানসম্মত প্রয়োগ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। এর ফলে অগ্রসর পর্যায়ের পরিপাকতন্ত্রের ক্যান্সারে আক্রান্ত উপযুক্ত রোগীদের জন্য নতুন চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, কোষ সংগ্রহ এই চিকিৎসা প্রক্রিয়ার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এরপর রোগীর কোষ ব্যবহার করে ব্যক্তিকেন্দ্রিকভাবে চিকিৎসার উপকরণ প্রস্তুত, শরীরে তা প্রয়োগের প্রস্তুতি, চিকিৎসাকালীন পর্যবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অনুসরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
কঠিন টিউমারের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা
কাইলিমেই®️ বিশ্বের প্রথম অনুমোদিত কোষভিত্তিক ক্যান্সার চিকিৎসা, যা কঠিন টিউমারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এর অনুমোদনের মাধ্যমে এতদিন রক্তের ক্যান্সারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা এই প্রযুক্তি এখন কঠিন টিউমারের চিকিৎসাতেও ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
এই চিকিৎসা অগ্রসর পর্যায়ের পাকস্থলীর ক্যান্সার এবং পাকস্থলী-খাদ্যনালির সংযোগস্থলের এক ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত উপযুক্ত রোগীদের জন্য নতুন চিকিৎসা বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
৩৪ দিন আগে
সিকিমে পাঁচ দিনের মাথায় মোছা হলো ‘সুবোধ’ গ্রাফিতি
বাংলাদেশের রহস্যময় স্ট্রিট আর্টিস্ট হবেকি?-এর আইকনিক ‘সুবোধ’ গ্রাফিতির প্রথম আন্তর্জাতিক উপস্থিতি সিকিমের রংপোর একটি দেওয়াল থেকে পাঁচ দিনের মাথায় মুছে ফেলা হয়েছে।
গ্যাংটক-রংপো সড়কের মাজিতার নালা সেতুর কাছে গত ৩০ জুন আঁকা বড় আকারের স্টেনসিল ম্যুরালটি প্রথম প্রকাশ্যে আসার পরই বাংলাদেশ ও ভারতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এটি ছিল বাংলাদেশের বাইরে হবেকি?-এর কাজের প্রথম উপস্থিতি। সীমান্তের দুই পারেই সংবাদপত্র, টেলিভিশন, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি ব্যাপক আলোচিত হয়।
ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ম্যুরালটিকে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করে। কেউ একে সমসাময়িক স্ট্রিট আর্টের একটি ব্যতিক্রমী নিদর্শন হিসেবে দেখেছে, আবার কেউ সংবেদনশীল সীমান্তবর্তী রাজ্যে এমন শিল্পকর্মের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে সম্ভাব্য নিরাপত্তাজনিত দিক নিয়েও আলোচনা করেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি জনপরিসরের বিতর্কে পরিণত হয়; শিল্পের গণ্ডি ছাড়িয়ে সীমান্ত, পরিচয়, কূটনীতি ও জনপরিসর নিয়েও শুরু হয় আলোচনা।
শিল্পীর কাজ নিয়ে নথিপত্র সংরক্ষণকারী আর্ট এজেন্সি আর্টকন (ARTCON) জানিয়েছে, ম্যুরালটি ইতোমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে এটি কে বা কারা অপসারণ করেছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ দায় স্বীকার করেনি। এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি। ফলে গ্রাফিতিটি কীভাবে বা কেন সরানো হলো, তা এখনও অজানা।
অবশ্য এক অর্থে এটি স্ট্রিট আর্টের স্বাভাবিক পরিণতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণই বলা চলে। খোলা দেওয়ালে আঁকা গ্রাফিতি নিয়মিতই আবহাওয়া, উন্নয়নকাজ, পুনরায় রঙ করা, রাজনৈতিক পোস্টার কিংবা বিজ্ঞাপনের কারণে হারিয়ে যায়। বাংলাদেশেও এমন বহু গুরুত্বপূর্ণ গ্রাফিতি রয়েছে, যা আঁকার কয়েক দিন বা কয়েক মাসের মধ্যেই হারিয়ে গেছে।
তবে দক্ষিণ এশিয়ার স্ট্রিট আর্টে হবেকি?-এর কাজের অবস্থান আলাদা। শিল্পীর পরিচয় গোপন রাখা, সহজে চেনা যায় এমন স্বতন্ত্র চিত্রায়ণ এবং নিজের কোনো শিল্পকর্মের ব্যাখ্যা না দেওয়ার মতো প্রতিটি অবস্থান ‘সুবোধ’-এর নতুন নতুন ম্যুরালকে আলাদা গুরুত্ব দিয়েছে। প্রতিবারই তাদের নতুন শিল্পকর্ম জনমনে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে, নানা ধরনের ব্যাখ্যা জন্ম দিয়েছে এবং কখনও কখনও বিতর্কেরও কারণ হয়েছে। একই কারণে বাংলাদেশেও শিল্পীর বেশ কয়েকটি আলোচিত ম্যুরাল জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণের অল্প সময়ের মধ্যেই হারিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে সমাজচিন্তক অধ্যাপক মানস চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল শিল্প প্রায়ই সমাজের একটি অংশের মধ্যে অস্বস্তির জন্ম দেয়। শক্তিশালী প্রতীকী অর্থবহ গ্রাফিতি বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে বারবার হারিয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে।
সিকিমের ম্যুরালটি দ্রুত মুছে ফেলার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, এটি একটি জটিল অনুভূতির জন্ম দেয়। কারণ, অবস্থানগত কারণে অধিকাংশ মানুষের এই চিত্রকর্মটি সরাসরি দেখারই সুযোগ হওয়ার কথা ছিল না, অথচ এটি এত দ্রুত মুছে ফেলা হলো।
তিনি আরও বলেন, ‘হবে কি’ বা ‘সুবোধ’ সিরিজের একাধিক কাজ ঢাকার বিভিন্ন দেওয়ালে এখনও টিকে আছে, আবার কিছু কাজ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। তবে সিকিমের এই ম্যুরালটির কৌশলগত অবস্থান এবং অল্প সময়েই যে গুরুত্ব অর্জন করেছিল, তাতে এটি হারিয়ে যাওয়ার অনুভূতি আরও গভীর এবং এক ধরনের অদ্ভুত শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।
কোনো সরাসরি ব্যাখ্যা না দিয়েই সিকিমের এই ম্যুরালটি দর্শকের ব্যাখ্যার জন্য উন্মুক্ত ছিল। এতে দেখা যায়, ‘সুবোধ’ কাঁটাতারের বোনা একটি দোলনায় শুয়ে আছে। তার হাতে একটি তার কাটার যন্ত্র, নিচে রাখা একটি বালতি এবং পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তিস্তা নদী। হবেকি?-এর অন্যান্য কাজের মতোই এ শিল্পকর্মের অর্থ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে শিল্পী কোনো মন্তব্য করেননি।
শিল্প বিশ্লেষক এবং আর্টকন-এর প্রতিষ্ঠাতা এআরকে রিপন বলেন, দেওয়াল থেকে চিত্রটি মুছে গেলেও এটি যে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল, তা এখনও চলমান। তার ভাষ্য, অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রিট আর্টের মতোই এই ম্যুরালের দৃশ্যমান অস্তিত্ব হয়তো স্বল্পস্থায়ী ছিল, কিন্তু এর সাংস্কৃতিক প্রভাব আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে আমার বিশ্বাস।
৫০ দিন আগে
এসএক্সএসডব্লিউ লন্ডনে আত্মপ্রকাশ করছে ‘বাংলা হাউস’
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, সংগীত, শিল্প ও উদ্ভাবনকে বৈশ্বিক মঞ্চে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে আগামী ২ থেকে ৪ জুন ২০২৬ যুক্তরাজ্যের এসএক্সএসডব্লিউ লন্ডনে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে ‘বাংলা হাউস’।
এসএক্সএসডব্লিউ লন্ডনের সহযোগিতায় লন্ডনের ব্রিক লেনের ‘কবি নজরুল সেন্টারে’ তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবেন মুবারক আলী ফাউন্ডেশনের আমরিন বশির আলী ও তানভীর আলী, দুর্জয় বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের দুর্জয় রহমান, এবং ব্রিটিশ বাংলাদেশি পাওয়ার অ্যান্ড ইনস্পিরেশনের আয়েশা কুরেশি ও আবদাল উল্লাহ।
বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে নামকরণ করা এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানটি ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের ইতিহাস ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক।
আয়োজকদের মতে, এসএক্সএসডব্লিউ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বব্যাপী সৃষ্টিকর্তা, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের একত্র করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। সেই ধারাবাহিকতায় ‘বাংলা হাউস’ বাংলাদেশের ও প্রবাসী বাঙালিদের সৃজনশীলতা, উদ্যোক্তা সক্ষমতা ও সাংস্কৃতিক প্রভাবকে বৈশ্বিক পরিসরে তুলে ধরার একটি নতুন উদ্যোগ।
তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিনিয়োগ, স্টার্টআপ, স্বাস্থ্যসেবা উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ফ্যাশন, সংগীত, গণমাধ্যম, খাদ্য, শিল্পকলা এবং সাংস্কৃতিক কূটনীতি বিষয়ক বিভিন্ন প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বিনিয়োগকারী রাহাত আহমেদ, ফ্যাশন আইকন বিবি রাসেল এবং অ্যামি পুরস্কারবিজয়ী সংগীত পরিচালক শামস আহমেদসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে সমসাময়িক বাংলাদেশি এবং প্রবাসী ঘরানার সংগীতের প্রতিনিধিত্বকারী শীর্ষস্থানীয় শিল্পী যেমন জেফার, সূর্য সেন এবং ফারুক ভাই প্রজেক্টসহ বেশ কয়েকজন শিল্পীর পরিবেশনা থাকবে।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও প্রবাসের উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, শিল্পী, নীতি-নির্ধারক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের একত্রিত করার মাধ্যমে বাংলা হাউস মূলত বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতি এবং ভবিষ্যতের বৈশ্বিক আলোচনায় অর্থপূর্ণ অবদান রাখবে।
এসএক্সএসডব্লিউ লন্ডনে বাংলা হাউসের এই আয়োজনটি সবার জন্য উন্মুক্ত ও বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ থাকবে। বাংলাদেশি ও প্রবাসী প্রতিভাদের এই উদযাপন এবং শক্তির অংশীদার হতে সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বিস্তারিত তথ্যের জন্য @banglahouse.sxsw এবং www.banglahouse.org ফলো করতে বলা হয়েছে।
৯৮ দিন আগে
চাঁদ দেখা গেছে, ২৮ মে ঈদুল আজহা
বাংলাদেশের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এর ফলে মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকে ১৪৪৭ হিজরি সনের জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে।
সে অনুযায়ী আগামী ১০ জিলহজ, অর্থাৎ ২৮ মে দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হবে।
সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সভা শেষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, দেশের আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে।
তিনি জানান, মঙ্গলবার থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে এবং আগামী ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হবে।
আগামী ৯ জিলহজ (২৭ মে)পবিত্র আরাফাতের দিন পালিত হবে এবং পরদিন ১০ জিলহজ, অর্থাৎ ২৮ মে সারা দেশে উদ্যাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা।
সভায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি ও ধর্মীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
১০৪ দিন আগে
কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শিল্পকলার বড় আয়োজন
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী আগামীকাল ২৫ বৈশাখ (৮ মে)। এ উপলক্ষে চার দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।
আগামী ২৫ থেকে ২৮ বৈশাখ, অর্থাৎ ৮ থেকে ১১ মে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ৪ দিনব্যাপী ‘শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে শিল্পকলা একাডেমি।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেল সাড়ে ৫টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এদিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল।
প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং সভাপতিত্ব করবেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশণ করা হবে।
দ্বিতীয় দিন (৯ মে) বিকেল সাড়ে ৫টায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
এ দিনের অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সংগীত, গানের সঙ্গে নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশিত হবে।
আয়োজনের তৃতীয় দিন (১০ মে) বিকেল ৫টায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তৃতীয় দিনের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক সচিব কানিজ মওলা। এদিন স্বাগত বক্তব্য রাখবেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
তৃতীয় দিন বিকেল সাড়ে ৫টায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তির সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে এবং বিকেল ৫টায় জাতীয় চিত্রশালা ভবনের গ্যালারি-২-এ চারুকলা বিভাগের আয়োজনে ‘রবির চিত্র চিত্রে রবী’ শীর্ষক চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হবে। প্রদর্শনী চলবে আগামী ২৩ মে প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।
আগামী ১১ মে অনুষ্ঠানের সমাপনী দিন সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী। সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং স্বাগত বক্তব্য দেবেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন। আলোচনা শেষে নাট্যদল প্রাচ্যনাট মঞ্চস্থ করবে নাটক ‘অচলায়তন’। নাটকটির নির্দেশনায় থাকবেন আজাদ আবুল কালাম।
এছাড়া দেশের সকল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে কবিগুরুর স্মরণে আলোচনা ও তার সৃষ্টিকর্ম নিয়ে নানা অনুষ্ঠানমালা পরিবেশিত হবে। সকল আয়োজন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছে শিল্পকলা একাডেমি।
১১৫ দিন আগে
প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মাকালু শিখরে বাবর আলী
প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের পঞ্চম উচ্চতম শৃঙ্গ মাউন্ট মাকালু জয় করে নতুন ইতিহাস গড়েছেন পর্বতারোহী বাবর আলী।
স্থানীয় সময় শনিবার (২ মে) ভোর পৌনে ৬টার দিকে তিনি নিজের পঞ্চম আটহাজারি পর্বত হিসেবে স্পর্শ করেছেন মাউন্ট মাকালুর শিখর। নেপালের মহালাঙ্গুর হিমালয়ে অবস্থিত ৮ হাজার ৪৮৫ মিটার (২৭ হাজার ৮৩৮ ফুট) উচ্চতার এই পর্বতে এটিই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সফলতা।
৮ হাজার বা ততোধিক উচ্চতার পর্বতশৃঙ্গ আছে পৃথিবীতে ১৪টি। ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই ১৪টি পর্বত চূড়ার মধ্যে চারটি চূড়া ছুঁয়েছেন পর্বতারোহী বাবর আলী, যে কৃতিত্ব আর অন্য কোনো বাংলাদেশির নেই। আর আজ (শনিবার) ভোরে তিনি নিজেকে নিয়ে গেলেন আরেকটু উচ্চতায়।
‘এক্সপিডিশন মাকালু: দ্য ফিফথ ফ্রন্টিয়ার’ শীর্ষক এই অভিযানের আয়োজক পর্বতারোহণ ক্লাব ‘ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স’। এই ক্লাবের সভাপতি ফরহান জামান নেপালের আউটফিটার ‘মাকালু অ্যাডভেঞ্চার’-এর সত্ত্বাধিকারী মোহন লামসালের সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
শিখরে বাবরের সঙ্গে ছিলেন আং কামি শেরপা। বাবরের এই অভিযানে পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন ভিজুয়াল নিটওয়ারস লিমিটেড, সামুদা স্পেক-কেম লিমিটেড, মাই হেলথ, চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন এবং রহমান্স গ্রোসারিজ।
ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স ক্লাবের সভাপতি জানান, ‘গ্রেট ব্ল্যাক ওয়ান’ বা ‘মহা-কালো খ্যাত এই চূড়া আরোহণের উদ্দেশে বাবর ৭ এপ্রিল দেশ ছাড়েন। আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি শেষে তিনি ৯ এপ্রিল বিমানে উড়ে যান টুমলিংটার এবং সেখান থেকে গাড়িতে সেদুয়া গ্রামে। এরপর পায়ে চলা শুরু করে ১৮ এপ্রিল পৌঁছান পর্বতের উচ্চতর বেস ক্যাম্পে। এরপর উচ্চতার সঙ্গে শরীরকে মানিয়ে নিতে ২১ এপ্রিল তিনি ক্যাম্প-১ ও পরদিন ক্যাম্প-২-এ ঘুমিয়ে ৭ হাজার মিটার উচ্চতা ছুঁয়ে বেসক্যাম্পে নেমে আসেন।
দ্বিতীয় দফায় ২৭ এপ্রিল তিনি পর্বতে চড়ে ক্যাম্প-২-এ এক দিন কাটিয়ে পরদিন নেমে আসেন বেসক্যাম্পে। এরপর শুরু হয় ভালো আবহাওয়ার জন্য অপেক্ষার পালা।
১২০ দিন আগে
লামায় কেন্দ্রীয় জলকেলি উৎসবে মাতলেন হাজারো মারমা
পুরোনো বছরের সব গ্লানি, দুঃখ, অপশক্তিকে দূর করে ধুয়ে মুছে দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে মারমা জনগোষ্ঠীর ‘জলকেলি উৎসব’।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে বাংলা নববর্ষ ও সাংগ্রাই উৎসব উপলক্ষে ‘জিনামেজু অনাথ আশ্রম’ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এই উৎসব।
উৎসবের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন। উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা জিনামেজু অনাথ আশ্রমের পরিচালক উ. নন্দ মালা মহাথেরের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ও মারমা স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়।
এ উৎসবের মধ্য দিয়ে উপজেলায় শেষ হলো মাহা সাংগ্রাই। এর আগে উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পাড়ায় পাড়ায়ও এ উৎসব পালন করা হয়।
এদিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত মারমা তরুণ-তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে দুই লাইনে দাঁড়িয়ে মারমা কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী ও যুবক-যুবতীরা সামনে পাত্রভর্তি পানি, আর সেই পানি একে অপরের গায়ে অবিরাম বর্ষণ করেন। এর পাশাপাশি বাজনা ও গানের তালে তালে নেচে গেয়ে মেতে ওঠেন মারমা কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী ও যুবক-যুবতীরা। এতে সম্মিলন ঘটে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষের।
জনশ্রুতিতে রয়েছে, জলকেলি উৎসবের মাধ্যমে মারমা যুবক-যুবতীদের একে অন্যের সহচর্যে আসার সুযোগ হয়। এ সময় তারা তাদের প্রিয় মানুষটিকে বেছে নেওয়ার কাজটিও সফলভাবে করে নেন। এ উৎসবে মারমা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী গান ও নাচ পরিবেশন করা হয়।
আনাই মারমা নামের এক নারী বলেন, পুরোনো বছরের সকল দুঃখ, কষ্ট, বেদনাকে ভুলে গিয়ে একে অন্যের প্রতি শুদ্ধতা আর সুন্দর আগামীর বার্তা দিতেই এমন পানি বর্ষণ। তিনি বলেন, জলকেলি উৎসবে যুবক-যুবতীরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে ও বাজনার তালে তালে নেচে গেয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন।
সাংগ্রাই এখন শুধু মারমা সম্প্রদায়ের নয়, এটি পাহাড়ের সব জাতি-গোষ্ঠীর সম্প্রীতির উৎসবে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ইউএনও মো. মঈন উদ্দিন।
জীনামেজু অনাথ আশ্রমের পরিচালক উ. নন্দ মালা মহাথের জানান, সাংগ্রাই উৎসব পার্বত্য অঞ্চলের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্যবাহী উৎসব যা সম্প্রীতি, আনন্দ ও নতুন বছরের বার্তা বহন করে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ১২ মাসের দেশ, ছয় ঋতুর দেশ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এটি মারমা সম্প্রদায়ের উৎসব হলেও পাহাড়ের সকল জাতিগোষ্ঠি এই উৎসবে শামিল হয়েছেন।’
এই উৎসবে সরকারি মাতামুহুরী কলেজের সাবেক অধ্যাপক অংথিং রাখাইন, ডা. সাইনপ্লানু মার্মা, জিনামেজু অনাশ আশ্রমের দাতা সদস্য বাবু প্রুমং রাখাইন, আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অং থোয়াইহ্লা মারমা, আশ্রমের জমিদাতা সদস্য মো. জসিম উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা অতিথি ছিলেন।
প্রসঙ্গত, প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষ বরণ উপলক্ষে তিন পার্বত্য জেলায় চাকমারা বিজু, মারমারা সাংগ্রাই, ত্রিপুররা বৈসু, তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু, রাখাইনরা চাংক্রান, অহমিয়া জনগোষ্ঠী বিহু এবং অন্যান্য সম্প্রদায় নিজ ভাষা-সংস্কৃতির নামে তাদের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব পালন করেন। ১২, ১৩ ও ১৪ এপ্রিল ঘরে ঘরে তিন দিনের উৎসব শেষে ১৫ এপ্রিল থেকে বিভিন্ন এলাকায় জলকেলির আয়োজন করে মারমা সম্প্রদায়।
১২৭ দিন আগে