বাংলাদেশ
অনুপ্রবেশ বা অপরাধের ক্ষেত্রে হত্যাকে ‘বর্ডার কিলিং’ বলা ঠিক হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অন্য দেশের অভ্যন্তরে অপরাধে জড়িত থাকা বা অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনায় কোনো ব্যক্তি নিহত হলে সেটিকে ‘বর্ডার কিলিং’ বলা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সীমান্তে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা যেটাকে বর্ডার কিলিং বলছেন, সে সম্পর্কে যদি বিস্তারিত জানেন তাহলে খুশি হব। যদি অন্য দেশের বাহিনী আমাদের সীমান্তে বা শূন্য রেখায় এসে কাউকে হত্যা করে, সেটাকে আমরা বর্ডার কিলিং বা সীমান্ত হত্যা বলতে পারি। কিন্তু আমাদের সীমানার ভেতরে কিংবা তাদের সীমানার ভেতরে কেউ কোনো অপরাধে জড়িত থাকলে বা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করলে, সেটি তারা তাদের নিজস্ব আইন অনুযায়ী মোকাবিলা করবে। এটাকে ‘বর্ডার কিলিং’ বলা ঠিক হবে না।
আগামী বিএসএফ ও বিজিবির মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের বৈঠকে কোন বিষয়গুলো উত্থাপন করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত অনুষ্ঠিত একটি বৈঠক।
মন্ত্রী বলেন, প্রতি বছরই এ বৈঠক হয়। একবার এপারে, আরেকবার ওপারে। সীমান্তসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়, উভয় পক্ষের সমস্যা এবং সেগুলোর সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ই সেখানে উত্থাপিত হবে।
পশ্চিমবঙ্গে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষকে সীমান্ত এলাকায় জড়ো করার অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা যেকোনো ধরনের অবৈধ পুশইন বা পুশব্যাকের বিপক্ষে। তবে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক যদি কোনো কারণে সে দেশে গিয়ে থাকেন এবং জাতীয় পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে তার নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হয়, এরপর ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সেই তালিকা যদি আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়, তবে নিয়মানুযায়ী আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের প্রত্যাবাসন করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, বর্তমানে এ ধরনের কোনো বিষয় সরকারের কাছে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় নেই। অতীতে কোনো বিষয় থেকে থাকলে তা আইন অনুযায়ী সমাধান করা হবে।
৭ ঘণ্টা আগে
আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের সহ-সভাপতি নির্বাচিত বাংলাদেশ
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের সহ-সভাপতি পদে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান এ পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক শ্রম কূটনীতিতে বাংলাদেশ নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে।
সোমবার (১ জুন) জেনেভায় শুরু হওয়া আইএলওর বার্ষিক এ সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উরুগুয়ের শ্রম ও সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী জুয়ান কাস্টিলো। সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশের নাহিদা সোবহানের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার জেরার্ডো মার্টিনেজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টেন কফম্যান।
এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার জেনেভায় জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, আইএলওর ১৮৭টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সর্বসম্মত সমর্থনে নাহিদা সোবহানের এ নির্বাচিত হওয়াকে বৈশ্বিক শ্রম ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে শোভন কর্মসংস্থান, সামাজিক ন্যায়বিচার, শ্রমিক অধিকার সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার গণতন্ত্রায়ন বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা ও সমর্থনেরও প্রতিফলন ঘটেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক শ্রমবাজারের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বহুপাক্ষিক কূটনীতি জোরদার করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা এই নির্বাচনের মাধ্যমে আরও সুদৃঢ়ভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
সম্মেলনের সহ-সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার, কর্মসংস্থান এবং শ্রম খাতসংক্রান্ত বিভিন্ন বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আইএলওর সদস্য রাষ্ট্র ও অংশীজনদের মধ্যে নীতিগত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
আইএলওর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনকে সর্বোচ্চ ফোরাম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ‘বিশ্বের শ্রম সংসদ’ হিসেবে পরিচিত এ সম্মেলনে প্রতিবছর বিভিন্ন দেশের সরকার, শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে শ্রম খাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন।
এ বছরের সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।
৭ ঘণ্টা আগে
বাস্তুচ্যুতির ৯ বছর: রোহিঙ্গাদের ভুলে না যাওয়ার আহ্বান
এ বছর মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের গণহারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়ার নয় বছর পূর্ণ হবে। বিশেষ এই দিনে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা—ইউএনএইচসিআর ও মানবিক সহায়তা অংশীদাররা।
মঙ্গলবার (২ জুন) জেনেভার পালে দে নাসিওঁতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বাবর বালোচ তার বক্তব্য এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, এ বছর মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের গণহারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়ার নয় বছর পূর্ণ হবে। ইউএনএইচসিআর তার অংশীদারদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, যেন তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ভুলে না যায়। এদের বেশিরভাগই কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পে বসবাস করছেন।
ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বলেন, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গারা তাদের ঘরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে আসছেন। বাংলাদেশ সত্তরের দশকের শেষভাগ থেকে পর্যায়ক্রমে আসা এই শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। সবচেয়ে বড় ঢলটি আসে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে, যখন প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদার সহায়তা তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, এমন এক সময়ে ইউএনএইচসিআর এই আহ্বান জানাচ্ছে যখন বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীলতা এবং মানবিক সংকটের চাপ বাড়ছে। এর ফলে সীমিত সম্পদের মধ্যে কঠিন অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য অপরিহার্য সেবাগুলো হুমকির মুখে পড়ছে।
ইউএনএইচসিআরের তথ্যমতে, গত মাসে বাংলাদেশে জাতিসংঘ এবং এর অংশীদাররা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন করে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের আবেদন করেছে। প্রয়োজন বাড়তে থাকলেও এই অতিগুরুত্বপূর্ণ চাহিদাভিত্তিক আবেদনটি গত বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম।
২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী কার্যক্রমে মানবিক অর্থায়ন বাংলাদেশকে জীবন রক্ষাকারী সহায়তা বজায় রাখতে এবং শরণার্থীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষায় বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জনে সহায়তা করেছে। তবে উল্লেখযোগ্য মানবিক চাহিদা রয়ে গেছে এবং অব্যাহত আন্তর্জাতিক সংহতি ছাড়া রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর দুর্দশা আরও বাড়বে।
বাবর বালোচ বলেন, মানবিক ও উন্নয়ন সহায়তায় বড় ধরনের কাটছাঁটের প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা এখনও ব্যাপকভাবে ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল। সীমিত অর্থনৈতিক সুযোগ এবং কমে যাওয়া সহায়তা পরিবারগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে নারী ও কন্যাশিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ এবং ২০২৪ সালের শুরু থেকে রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা আরও প্রায় দেড় লাখ নতুন আগত মানুষের জন্য।
তিনি আরও জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতা, নিপীড়ন এবং সংঘাত অব্যাহত থাকায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আশা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। ফলে অনেক শরণার্থী মরিয়া সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন, প্রাণহানির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও অনেক শরণার্থী ভালো জীবনের আশায় অন্য দেশে যেতে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ বেছে নিচ্ছেন।
তার মতে, ২০২৫ সাল ছিল এ ধরনের যাত্রার ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর। আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটে সহায়তার আবেদনটি সবচেয়ে জরুরি মানবিক প্রয়োজনগুলোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের মর্যাদা ও ভবিষ্যতের আশা ধরে রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদে ত্রাণ সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে তাদের আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ।
ইউএনএইচসিআর জানায়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই অতি জরুরি সহায়তা আবেদনে ইতোমধ্যে সাড়া দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অর্থের ৬০ শতাংশ পাওয়া গেছে। তবে শুধু ন্যূনতম সহায়তা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। পর্যাপ্ত সহায়তা না পেলে শরণার্থীদের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে সংকট মোকাবিলায় আরও বেশি ব্যয় ও জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সংস্থাটি আরও জানায়, মিয়ানমারে সংঘাত ও সহিংসতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে থাকতে হবে। একইসঙ্গে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরিতে প্রচেষ্টা চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
৮ ঘণ্টা আগে
বিআইডব্লিউটিএ’র নতুন চেয়ারম্যান মুহিদুল ইসলাম
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. মুহিদুল ইসলাম।
মুহিদুল ইসলামকে প্রেষণে এই পদে নিয়োগ দিয়ে তাঁর চাকরি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করে মঙ্গলবার (২ জুন) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যানের পদে রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফার স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি।
এর আগে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (নিরাপত্তা) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ ও রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন জেলায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
মুহিদুল ইসলাম ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের অধীন বিশ্ব নৌ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
৮ ঘণ্টা আগে
রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই উপায়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নরওয়ে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বৈঠকে উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৯৭২ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে নরওয়ের প্রারম্ভিক স্বীকৃতি এবং বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বৈদেশিক নীতিতে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যার মূল ভিত্তি হলো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান, নরওয়ে এখন চিরাচরিত উন্নয়ন সহযোগিতা থেকে সরে এসে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির দিকে বিশেষভাবে মনোযোগ দিচ্ছে।
মন্ত্রী নরওয়ের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ থেকে নরওয়েতে রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেন।
তিনি নরওয়ের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প, চামড়াজাত পণ্য, আইটি সেবা, পাটজাত পণ্য এবং হস্তশিল্পের মতো উচ্চমূল্যের পণ্য রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জাহাজ নির্মাণ এবং প্যাকেজিং শিল্পে নরওয়ের উদ্যোক্তাদের বড় আকারের বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নরওয়ের আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে থাকা অন্যতম প্রধান দেশ। গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড এবং নরওয়ের ক্লাইমেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পরিবেশবান্ধব ও কম কার্বন প্রযুক্তির প্রকল্পসমূহে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।।
এ ছাড়াও, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, ডিজিটাল উদ্ভাবন, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিময় বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে নরওয়ের শিক্ষাবৃত্তির আওতা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সম্প্রসারণের অনুরোধ জানান।
রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে মন্ত্রী কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) প্রতি নরওয়ের ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা এবং নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের সক্রিয় কার্যক্রমের জন্য ধন্যবাদ জানান।
এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই উপায়ে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নরওয়ে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যকার অভিন্ন মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করে আশ্বস্ত করে বলেন, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুই দেশের একাত্মতা ও সহযোগিতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সুরক্ষায় নরওয়ে সবসময় পাশে থাকবে।
সাক্ষাৎকালে নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা সারোয়ার জাহান চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং রাজনৈতিক-৩ শাখার উপসচিব মো. আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৮ ঘণ্টা আগে
বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড়, ডাক্তারের ফি না নেওয়ার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলো ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ বেড সংরক্ষণ করবে। এসব রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ভিজিট ফি নেওয়া হবে না। পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যয়ে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্যবিষয়ক) এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলো ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ বেড সংরক্ষণ করবে। এসব রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ভিজিট ফি নেওয়া হবে না। রোগীকে শুধু ওষুধ ও খাবারের খরচ বহন করতে হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যয়ে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতালকে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য কতটি শয্যা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, কী পরিমাণ স্যালাইন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তরলজাতীয় চিকিৎসা উপকরণ মজুত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে কত সংগ্রহ করা হবে, তার বিস্তারিত তথ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে।
ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের কয়েকটি দেশে ডেঙ্গুর টিকা ব্যবহার হলেও এটি এখনো সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত নয়। তাই আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত ছাড়া বাংলাদেশে তাৎক্ষণিকভাবে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হবে না। এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ফাঁকে ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তা প্রচারের আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় সিটি করপোরেশনগুলোকে পরিত্যক্ত শৌচাগার, গ্যারেজ ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানিতে মশার প্রজননরোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরামর্শ দেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, যারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিজেদের থেকে করবে না তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। করোনার সময়ের মতো সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। চিকিৎসক, নার্স, হাসপাতাল মালিক, গণমাধ্যম ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
ডেঙ্গু রোগীর সেবা কার্যক্রম তদারকিতে রোগীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে হাসপাতালগুলো ঘোষিত সুবিধা দিচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আগামী শনিবার সকাল ১০টায় ঢাকা সিটি উত্তর, ঢাকা সিটি দক্ষিণ এবং সকল বিভাগীয় শহর, সকল জেলা শহরে একযোগে আমরা ব্যানার নিয়ে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে র্যালি করব। টিভি ও পত্রিকায়ও আমরা বিজ্ঞপ্তি দিতে যাচ্ছি। মাইকিং করব পুরো শহরে।
তিনি আরও বলেন, গানের সৃষ্টি করা হচ্ছে ঢাকার দুটা সিটি করপোরেশনে। গানের তালে তালে মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য ডেঙ্গু সচেতনতা সৃষ্টি করব। কমিউনিটি মিটিংয়ের মাধ্যমে, উঠান বৈঠক করে আমাদের সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জনসচেতনতা সৃষ্টি করবেন। ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সামাজিক লড়াই, সামাজিক আন্দোলনও করতে হবে।
আগামী শনিবার থেকে তিন মাস ব্যাপী এ কর্মসূচি চলবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
১১ ঘণ্টা আগে
হাম ও উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে ৫৯৪, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ প্রাণহানি
দেশে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৩৪টি শিশু।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৫০৪টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯০টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৫৯৪টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৪২টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৯২। এই সময়ে ১ হাজার ২০৪টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ৯০টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৭৩ হাজার ৩৬২, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ১৩৬। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৫৯ হাজার ১০৫ রোগী, যাদের মধ্যে ৫৪ হাজার ৮১২ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
১১ ঘণ্টা আগে
ইসলামী ব্যাংকের সামনে টানা দ্বিতীয় দিন বিক্ষোভ কর্মসূচি
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের একদল গ্রাহক নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম এবং ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সকল সদস্যের পদত্যাগের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো মতিঝিলের দিলকুশায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ৯টার দিকে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন।
তাদের অভিযোগ, ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় সাম্প্রতিক পরিবর্তনে অনিয়ম হয়েছে। তারা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ জলকামান, সাঁজোয়া যান এবং অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে।
বিক্ষোভকারীরা খুরশীদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ তোলেন এবং তাকে অবিলম্বে বরখাস্তের দাবি জানান।
এর আগে, গতকাল (সোমবার) ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান, টিয়ার শেল এবং সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়, যার ফলে বিক্ষোভকারী এবং পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
১২ ঘণ্টা আগে
আর কোনো বাবা-মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়: রামিসার বাবা
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন শিশুটির বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা। এ সময় ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসে তিনি মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করে বলেছেন, ‘আর কোনো বাবা-মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়।’
আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আমি আদালতের কাছে আমার নিষ্পাপ সন্তানের ওপর সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও বর্বরোচিত ধর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি। একইসঙ্গে এই বিচারের দ্রুত কার্যকর বাস্তবায়ন দেখতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘আমি চাই না, আর কোনো বাবা-মায়ের বুক এভাবে খালি হোক, কোনো পরিবার সন্তান হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়ুক কিংবা বিচার চেয়ে আদালতের বারান্দায় দাঁড়াতে বাধ্য হোক।
সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে এই সন্তানহারা বাবা বলেন, ‘এমন একটি আইন প্রণয়ন করা হোক যাতে কোনো আসামি স্বীকারোক্তি দিলে এক মাসের মধ্যেই মামলার রায় দেওয়া এবং তা কার্যকর করার ব্যবস্থা থাকে। দেশের মানুষও দ্রুত ও কার্যকর বিচার প্রত্যাশা করে। আমিও সেই প্রত্যাশাই করছি।’
এদিন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আব্দুল হান্নান মোল্লা। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় কিছু ধরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে পরে তাকে বসার জন্য একটি চেয়ার দেওয়া হয়।
তিনি জানান, ঘটনার দিন সকালে তিনি অফিসের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। তার অফিস কাকলি এলাকায় হওয়ায় ক্যান্টনমেন্ট হয়ে সেখানে যাচ্ছিলেন। সকাল আনুমানিক ১০টা থেকে সোয়া ১০টার মধ্যে তার স্ত্রী পারভীন আক্তার ফোন করে জরুরি ভিত্তিতে তাকে বাসায় ফিরতে বলেন।
আদালতকে তিনি বলেন, ‘ফোন পাওয়ার পর বাসায় ফিরতে আমার ২৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগে। এসে দেখি আমাদের ফ্ল্যাটের সামনে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছে। দ্রুত ওপরে উঠে যাই। তখন আমার স্ত্রী অনেকক্ষণ ধরে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ডাকাডাকি করছিল, কিন্তু কেউ দরজা খুলছিল না।’
হান্নান মোল্লা জানান, পরে তিনি নিজেও দরজা খোলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে হাতুড়ি দিয়ে দরজার লক ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। তার কথায়, ‘ভেতরে ঢুকে টয়লেটের সামনে সামান্য রক্ত দেখতে পাই।’
সাক্ষ্যগ্রহণকালে তিনি আদালতকে আরও জানান, ঘটনার আগে তিনি আসামিদের চিনতেন না। ‘আমি আসামিকে জীবনেও দেখিনি’, বলেন তিনি।
সাক্ষ্য শেষে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। পরে আদালত পরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষী রয়েছেন। রামিসার বাবার পাশাপাশি আদালতে মামলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীরা সাক্ষ্য দেবেন। এসব সাক্ষীর মধ্যে রয়েছেন সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রতিবেশীরা। সাক্ষ্যগ্রহণের ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সাক্ষীদের জবানবন্দিও গ্রহণ করা হবে।
আজ সকাল পৌনে ৯টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণের সময় তাদের এজলাসে তোলা হবে।
এর আগে, সোমবার (১ জুন) মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত। মামলায় সাক্ষ্য দিতে ১৭ সাক্ষীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়।
গতকাল (সোমবার) আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের উদ্দেশে চিৎকার করে সোহেল রানা বলেন, ‘ধর্ষণ করছে, মারছে ডলার, ওরে ধরেন। ডলার দুই লাখ টাকা দিচ্ছে।’
নতুন নাম আসা এই ডলারের পরিচয় জানতে চাওয়া হলে সোহেল রানা জানান, ‘সে মিরপুর ১১ নম্বর রোডের এক বাড়ির অনেক টাকাওয়ালা লোক।’ এ সময় নিজের ডিএনএ টেস্ট না করিয়েই ‘অটোমেটিক’ সব লেখা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন এই আসামি।
গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ওইদিন সকালে পাশের ফ্লাটের বাসিন্দা ৩২ বছরের সোহেল শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর ফ্ল্যাটের সাবলেট এই ভাড়াটে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন।
পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে সেদিনই পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে গত ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত অভিযোগপত্রটি দেখে বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় বদলির আদেশ দেন। মামলাটি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ওইদিনই বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
শুরুতে সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিলেও তিনি ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জগঠন শুনানি শুরুর পর গতকাল বিকেলে সাংবাদিকদের কাছে নতুন দাবি করেন তিনি।
১৪ ঘণ্টা আগে
রামিসা হত্যা মামলায় নতুন মোড়, চাঞ্চল্যকর দাবি আসামি সোহেলের
রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার ঘটনায় এবার নতুন মোড় নেওয়ার চেষ্টা করছেন প্রধান আসামি সোহেল রানা। রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় ‘ডলার’ নামের অন্য এক ব্যক্তির ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন তিনি।
সোমবার (১ জুন) আলোচিত এই মামলায় গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জগঠন শুনানি শুরু হয়।
আজ (সোমবার) বেলা ১১টার পরে উভয়কে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে তোলার পর সাংবাদিকদের সামনে সোহেল রানা এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। একইসঙ্গে নিজের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের উদ্দেশে চিৎকার করে সোহেল রানা বলেন, ‘ধর্ষণ করছে, মারছে ডলার, ওরে ধরেন। ডলার দুই লাখ টাকা দিচ্ছে।’
নতুন নাম আসা এই ডলারের পরিচয় জানতে চাওয়া হলে সোহেল রানা জানান, ‘সে মিরপুর ১১ নম্বর রোডের এক বাড়ির অনেক টাকাওয়ালা লোক।’ এ সময় নিজের ডিএনএ টেস্ট না করিয়েই ‘অটোমেটিক’ সব লেখা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন এই আসামি।
এর আগে, সকাল পৌনে ৮টার দিকে কড়া পুলিশি পাহারায় আসামি সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় এনে রাখা হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের পর গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। মামলাটিতে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার দিনই মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি করা হয় এবং আদালত আজ চার্জ গঠনের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। এর মাধ্যমে মামলার প্রাথমিক তদন্ত, ডিএনএ পরীক্ষা, অভিযোগপত্র দাখিল এবং তা আদালতে আমলে নেওয়ার প্রধান চারটি ধাপ শেষ হলো।
দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে মামলার রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু বলেন, মামলাটি যেন দ্রুত শেষ হয়, সে বিষয়ে তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করবেন এবং বাকি সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনাল নিবেন।
প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্রুত বিচারের আশ্বাসের ব্যাপারে তিনি কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য না করে শুধু নিজের আইনি দায়িত্ব পালনের কথা জানান।
এদিকে, মামলার রায় ও তা কার্যকর করার প্রক্রিয়া নিয়ে ঢাকার জেলা লিগ্যাল এইডের নিয়মিত আইনজীবী রায়হানা নাজনীন জুঁই জানান, রামিসার মামলার রায় দ্রুত শেষ হবে মনে হলেও এটি কার্যকর করাটাই আসল চ্যালেঞ্জ যা মূলত উচ্চ আদালতে গিয়ে থমকে যায়। তবে নিম্ন আদালতের পর কারাগারের জেলার এবং প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ পেলে এটি দ্রুত শেষ হবে, না হলে ডেথ রেফারেন্স সংগ্রহসহ বিভিন্ন ধাপ শেষ করতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রামিসার পরিবার ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমে বালতির ভেতর থেকে তার কাটা মাথা উদ্ধার করেন।
ঘটনার পরপরই জানালার গ্রিল কেটে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আদালতে আসামিরা ইতোমধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও আজ শুনানির দিনে এসে প্রধান আসামি নতুন করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেন।
১ দিন আগে