বাংলাদেশ
শিক্ষাখাতে যুগোপযোগী সংস্কারে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার
শিক্ষাখাতে সময়োপযোগী ও মানসম্মত সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে বিশেষ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত—যেমন পরীক্ষা বন্ধ বা অটোপাস—নেওয়া হয়েছিল। তবে সেগুলো কখনোই কাঙ্ক্ষিত বা স্থায়ী সমাধান ছিল না। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী, মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর মধ্যে আনা।
আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রতিবন্ধকতা যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষকদের দলীয়করণ এবং শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকতার মূল দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের পাঠদান। দাবি-দাওয়া থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে; তবে ক্লাস ফেলে রাজপথে নামা গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান বজায় রেখে দাবি বিবেচনায় সমাধানের পথেই অগ্রসর হবে।
শিক্ষার মান রক্ষায় নকলবিরোধী অবস্থান অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আর বিশেষ অভিযানের প্রয়োজন হবে না; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা ও অধ্যয়নচর্চা জোরদারের মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই নকল প্রবণতা কমে আসবে।
উপকূলীয়, চর ও হাওর অঞ্চলে বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে শিক্ষাব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম পর্যালোচনা ও পরিমার্জনের বিষয়ে তিনি জানান, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের কারিকুলাম বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে। শিক্ষা কমিশন গঠনের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন ও মনিটরিং জোরদার করা হবে। শিক্ষক নিয়োগ, বদলি ও শৃঙ্খলাজনিত বিষয়ে জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি নীতিমালার আওতায় আনতে পর্যায়ক্রমে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। কোনো প্রতিষ্ঠান সরকারি বিধিবিধানের বাইরে পরিচালিত হতে পারবে না। অনিবন্ধিত বা অস্থায়ী অবকাঠামোয় স্কুল পরিচালনা গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অগ্নি নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত মানদণ্ড বাধ্যতামূলক করা হবে এবং নিবন্ধন ছাড়া কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ থাকবে না।
তফসিল ঘোষণার সময়কালে ব্যাপক বদলি ও সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো খতিয়ে দেখা হবে। নির্বাচন কমিশনের বিধান লঙ্ঘন বা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করা হবে। প্রায় ১,৭০০ এমপিও আবেদন চূড়ান্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি পর্যালোচনা করে বাজেট বরাদ্দ ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দুর্নীতির প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ ভাতা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার বিষয়ে মন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সংশ্লিষ্ট ট্রাস্ট দ্রুত পুনর্গঠন এবং বকেয়া ভাতা পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কারিগরি ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান কারিগরি শিক্ষায় তত্ত্বের তুলনায় ব্যবহারিক শিক্ষার ঘাটতি রয়েছে—এটি সমন্বয় করা হবে। পলিটেকনিক ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে প্র্যাকটিক্যাল অংশ বৃদ্ধি, শিল্পখাতের সঙ্গে সংযোগ জোরদার এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী সরকারের তাৎক্ষণিক তিনটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন—শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনতে উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি, জাতীয় কারিকুলাম রিভিউ ও পরিমার্জন এবং কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন।
ঘোষিত ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক—সব পর্যায়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ১৮০ দিনের রোডম্যাপের মাধ্যমে কোন পর্যায়ে কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের মান ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে মনিটরিং জোরদার করা হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, শিক্ষা খাতে দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় নৈতিকতা, জবাবদিহিতা ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
৭ ঘণ্টা আগে
বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার হিরো আলম
আলোচিত কন্টেন্ট নির্মাতা আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমকে বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শাজাহানপুর উপজেলার ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের মাঝিড়া বন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–১ এ হাজির করা হলে পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তার গতিবিধির ওপর নজরদারি চলছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে মাঝিড়া বন্দরের কাছে তার অবস্থান নিশ্চিত হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মহাসড়কে ব্যারিকেড দেন। একপর্যায়ে ধাওয়া দিয়ে গাড়ি থামিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। গত ১০ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–১-এর বিচারক আনোয়ারুল হক তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন। তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করলে বিচারক অভিযোগটি আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ দেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সাদিয়া রহমান মিথিলাকে নায়িকা বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে হিরো আলম বিয়ের আশ্বাস দেন। পরে তাকে ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন এবং গর্ভপাত করাতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগ অস্বীকারের পর ২১ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
তদন্ত সূত্র জানায়, মামলার প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের কিছু সত্যতা পাওয়া গেছে বলে পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
৮ ঘণ্টা আগে
মবের মাধ্যমে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়: বাসস ইস্যুতে তথ্যমন্ত্রী
বিধি-বিধানের বাইরে কোনো কিছু বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, মব বা চাপ সৃষ্টি করে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়; সবকিছুর সমাধান হবে সংবিধান ও বিধিবদ্ধ নিয়মের মধ্য দিয়েই।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো ঘটনা ও সংকটের সমাধান হবে সংবিধান ও বিধিবদ্ধ নিয়মের মধ্য দিয়ে। কেউ মনে করার কারণ নেই যে মব করলেই সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে।’
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালককে মবের মাধ্যমে সরানো এবং এখন টিভিতে কয়েকজন রিপোর্টারকে চাকরিচ্যুত করার ঘটনায় দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও গতকালকে সন্ধ্যার দিকে ঘটনাটা শুনেছি এবং এটা একটা দুঃখজনক ঘটনা। তবে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, যেটা একটা সরকারি সংস্থা এবং এখানে নিয়োগ এবং নিয়োগ বহাল বা বাতিল—এই সমস্ত কিছুরই কিন্তু একটা বিধিবদ্ধ নিয়ম আছে এবং অবশ্যই সরকার সবকিছু বিধিবদ্ধ নিয়মের মধ্যেই বিবেচনা করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাসসে ঘটে যাওয়া যে দুঃখজনক ঘটনা সেটাও আলাপ-আলোচনার সাপেক্ষে আমরা বিধি-বিধান অনুযায়ী সমাধান বের করবো। আর ব্যক্তিগত যে মিডিয়া হাউজে সমস্যা হয়েছে, সম্ভবত এখন টিভিতে—এটাও কেবল শুনেছি। সংশ্লিষ্ট যারা সংক্ষুব্ধ যে কয়জন এবং এখন টিভির মালিক পক্ষ, আমি উভয়ের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টা একটু ভালো করে বুঝে সমঝোতার মধ্যে সমাধান করা যায় কিনা উদ্যোগ নেব।’
বাসসে যা ঘটেছে তা বিধিবদ্ধ নিয়মে হয়নি, বরং মব করে হয়েছে—এমন মন্তব্যের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি সেটাই বলছি যে ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে আমি কোনো মন্তব্য করছি না। কিন্তু যেকোনো ঘটনাকে নিষ্পত্তি করবো বিধি-বিধানের মধ্য দিয়ে। আমরা বারবারই বলছি, আমরা একটি প্রতিহিংসামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার কাজে হাত দিয়েছি এবং অবশ্যই আমরা সাংবিধানিক পদ্ধতির মধ্যে কিন্তু দাঁড়িয়ে আছি।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন জাতীয় সংসদে যে শপথ অনুষ্ঠান সংক্রান্ত বিষয়েও আমরা সংবিধান নির্দেশিত পথের বাইরে যাইনি। অতএব দেশ থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান—যেখানেই যাই না কেন, আমরা চেষ্টা করবো সবসময় বিধি-বিধানের মধ্যে যেতে। বিধি-বিধানের বাইরে আমরা কোনো কিছুকেই বাস্তবায়ন করতে দেবো না।’
মত ভিন্নতার কারণে চাকরি চলে যাওয়া উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘যদি ব্যক্তিগত কোনো প্রতিষ্ঠান কাকে চাকরি দিবেন, কাকে চাকরি দিবেন না—এটা সম্পূর্ণই তাদের ব্যাপার। তবে তথ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি যেকোনো সাংবাদিক যখন সংক্ষুব্ধ হবে, আমি চেষ্টা করবো সেটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও সাংবাদিকের অধিকার সংরক্ষণ করে এগোনো হচ্ছে কি না, সেটা সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব আমার।’
৯ ঘণ্টা আগে
তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ট্রাম্পের চিঠি
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঐতিহাসিক নির্বাচনি বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউস থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তিনি মার্কিন জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন এবং তার সফল মেয়াদ কামনা করছেন।
চিঠিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তিশালী ও সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে দুই দেশের অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষক ও শ্রমিকদের জন্য ইতিবাচক সুফল বয়ে আনা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, তিনি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বাংলাদেশকে উন্নতমানের মার্কিন সামরিক সরঞ্জামে প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
চিঠির শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রীকে আগামী দিনগুলোর জন্য শুভকামনা জানান।
৯ ঘণ্টা আগে
চিকিৎসকদের সেবা সরেজমিন তদারকি করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
চিকিৎসকরা ঠিকমতো সেবা দিচ্ছেন কিনা, সেটার সরেজমিন তদারকি করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালগুলোতে আমরা সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন, যে বার্তা দিয়েছেন, সে অনুযায়ী কাজ করব।
তিনি বলেন, দায়িত্বরত চিকিৎসকরা ঠিকমতো সেবা দিচ্ছেন কিনা, তা দেখতে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে যাব, দেখব। সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে। আমাদের কার্যক্রম দ্বারা যেন জনসাধারণ উপকৃত হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা কোনো সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেব না।
স্বাস্থ্যসচিব মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।
তিনি বলেন, আমাদের বিভিন্ন বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানে প্রচুর শূন্য পদ আছে, ফলে মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা বঞ্চিত হচ্ছে। শূন্য পদ পূরণে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এছাড়া আমাদের মেডিকেল শিক্ষার মান উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য সচিব।
সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অধীনস্থ দপ্তর বা সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
১০ ঘণ্টা আগে
জানুয়ারিতে ৫৫৯ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৮৭
নতুন বছরের জানুয়ারি মাসে দেশে ৫৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮৭ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৯৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬৮ জন নারী ও ৫৭ জন শিশু। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ২০৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৯৬ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট প্রাণহানির ৪০.২৪ শতাংশ। মোট দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেলের সম্পৃক্ততার হার ৩৭.২০ শতাংশ। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় ১৩২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৭.১০ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৭ জন (১৩.৭৫ শতাংশ)।
এ সময়ে ৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ৭ জন আহত হন। এছাড়া ৪১টি রেল দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।
যানবাহনভিত্তিক প্রাণহানি
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী ১৯৬ জন (৪০.২৪ শতাংশ), বাসযাত্রী ২১ জন (৪.৩১ শতাংশ), ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর আরোহী ২৮ জন (৫.৭৪ শতাংশ), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-জীপ আরোহী ৯ জন (১.৮৪ শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী ৭৭ জন (১৫.৮১ শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৩ জন (২.৬৬ শতাংশ) এবং বাইসাইকেল আরোহী ১১ জন (২.২৫ শতাংশ)।
দুর্ঘটনার স্থান ও ধরন
পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ১৫৬টি (২৭.৯০ শতাংশ) দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে, ২০৭টি (৩৭.০৩ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৮৫টি (১৫.২০ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে, ১০৩টি (১৮.৪২ শতাংশ) শহরের সড়কে এবং ৮টি (১.৪৩ শতাংশ) অন্যান্য স্থানে ঘটেছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৩৫টি (২৪.১৫ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২০৯টি (৩৭.৩৮ শতাংশ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৩৭টি (২৪.৫০ শতাংশ) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেওয়া, ৭২টি (১২.৮৮ শতাংশ) যানবাহনের পেছনে আঘাত এবং ৬টি (১.০৭ শতাংশ) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
সম্পৃক্ত যানবাহন ও সংখ্যা
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি-ড্রাম ট্রাক-ট্যাংকার-ময়লাবাহী ট্রাক-রোড রোলার ২৮.৫৮ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১২.২০ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জীপ ৪.৬৩ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২৪.৫১ শতাংশ, থ্রি-হুইলার ১৮.৫৩ শতাংশ, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৩.৯৫ শতাংশ, বাইসাইকেল-রিকশা ২.১৪ শতাংশ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৫.৪২ শতাংশ।
মোট ৮৮৫টি যানবাহন দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে বাস ১০৮টি, ট্রাক ১৪৪টি, কাভার্ডভ্যান ১৬টি, পিকআপ ৩২টি, ট্রাক্টর ২১টি, ট্রলি ১৮টি, লরি ৪টি, ড্রাম ট্রাক ১১টি, ট্যাংকার ৩টি, ময়লাবাহী ট্রাক ২টি, রোড রোলার ২টি, মাইক্রোবাস ১৪টি, প্রাইভেটকার ১৭টি, অ্যাম্বুলেন্স ৪টি, জীপ ৬টি, মোটরসাইকেল ২১৭টি, থ্রি-হুইলার ১৬৪টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৩৫টি, বাইসাইকেল ৮টি, রিকশা ১১টি এবং অজ্ঞাত ৪৮টি।
সময় ও বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণ
সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভোরে ৬.৬১ শতাংশ, সকালে ২৬.৬৫ শতাংশ, দুপুরে ১৫.৫৬ শতাংশ, বিকালে ১৩.৯৫ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১৩.৫৯ শতাংশ এবং রাতে ২৩.৬১ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ২৫.৫৮ শতাংশ ও প্রাণহানি ২৪.৪৩ শতাংশ; চট্টগ্রামে দুর্ঘটনা ২০.৩৯ শতাংশ ও প্রাণহানি ২০.৭৩ শতাংশ; রাজশাহীতে দুর্ঘটনা ১৩.৭৭ শতাংশ ও প্রাণহানি ১৪.৯৮ শতাংশ; রংপুরে দুর্ঘটনা ১১.০৯ শতাংশ ও প্রাণহানি ৯.৮৫ শতাংশ; ময়মনসিংহে দুর্ঘটনা ৮.৯৪ শতাংশ ও প্রাণহানি ৮.২১ শতাংশ; খুলনায় দুর্ঘটনা ৮.৫৮ শতাংশ ও প্রাণহানি ৯.৪৪ শতাংশ; বরিশালে দুর্ঘটনা ৭.৩৩ শতাংশ ও প্রাণহানি ৮.৬২ শতাংশ এবং সিলেটে দুর্ঘটনা ৪.২৯ শতাংশ ও প্রাণহানি ৩.৫৯ শতাংশ।
ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১৪৩টি দুর্ঘটনায় ১১৯ জন নিহত হয়েছেন। সিলেট বিভাগে সর্বনিম্ন ২৪টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ২৬টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৪১ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের পেশাগত পরিচয়
নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য ২ জন, শিক্ষক ১৩ জন, চিকিৎসক ২ জন, সাংবাদিক ৬ জন, আইনজীবী ৪ জন, ব্যাংক-বীমা খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারী ১১ জন, এনজিও কর্মী ১৯ জন, রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ২৭ জন, স্থানীয় ব্যবসায়ী ২১ জন, বিক্রয় প্রতিনিধি ২৬ জন, পোশাক শ্রমিক ৯ জন, নির্মাণ শ্রমিক ৬ জন, প্রতিবন্ধী ৩ জন এবং ৫৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
কারণ, সুপারিশ ও পর্যালোচনা
প্রতিবেদনে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি ও গণপরিবহনে চাঁদাবাজিকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সুপারিশের মধ্যে দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ, বেতন-কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ, সার্ভিস রোড নির্মাণ, মহাসড়কে রোড ডিভাইডার স্থাপন, রেল ও নৌপথ সংস্কার, টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে ১৯.৬১ জন নিহত হলেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে এ হার ১৫.৭০ জনে নেমেছে, যা ১৯.৯৩ শতাংশ কম। তবে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মনে করছে, এ হার টেকসই উন্নতির সূচক নয়; কারণ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান কোনো কাঠামোগত উন্নতি হয়নি।
সংগঠনটি আরও বলেছে, অধিকাংশ দুর্ঘটনা অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটছে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও চালকদের মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পথচারীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জীবনমুখি প্রচারণা জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন শ্রমিকদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত ও নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
১০ ঘণ্টা আগে
রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার ওজিল, সঙ্গে এরদোয়ানপুত্র বিলাল
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের পুত্র বিলাল এরদোয়ান, জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ফুটবলার মেসুত ওজিল এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা টিকার চেয়ারম্যান আরন আবদুল্লাহসহ ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারে পৌঁছেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিনে বিশেষ বিমানে চড়ে তারা কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছেন। এরপর কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ে কমিশনার মহাম্মদ মিজানুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
পরে সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং করেন বিলাল এরদোয়ান। এ সময় তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সম্মানজনক এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কথা বলেন।
তিনি বলেন, তুরস্কের সরকার ও জনগণ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে থাকবে এবং তাদের মানবিক সহায়তা দিয়ে যাবে।
সেখান থেকে তারা সড়কপথে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির দেখতে যান। এছাড়া ক্যাম্প ৯-এ তুরস্কের ফিল্ড হাসপাতাল, ক্যাম্প ১৬-তে তুরস্কের সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থার শিক্ষা-সংস্কৃতি কেন্দ্র ঘুরে দেখবেন তারা। রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির পরিদর্শনকালে তারা একটি সংক্ষিপ্ত প্রীতি ফুটবল ম্যাচের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ করবেন। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে রোজার প্রথম ইফতার করবেন তারা।
১০ ঘণ্টা আগে
একুশে পদক পাচ্ছেন ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যান্ড ওয়ারফেজ
বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদক-২০২৬ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠান শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এবারের মনোনীতদের তালিকায় অভিনয়ে রয়েছেন ফরিদা আক্তার ববিতা। চারুকলায় নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সাত্তার। স্থাপত্যে মনোনয়ন পেয়েছেন মেরিনা তাবাসসুম। সংগীতে মরণোত্তর সম্মাননা পাচ্ছেন আইয়ুব বাচ্চু। নৃত্যে স্বীকৃতি পাচ্ছেন অর্থী আহমেদ এবং পালাগানে ইসলাম উদ্দিন পালাকারকে এই বিশিষ্ট সম্মানে ভূষিত করা হচ্ছে।
এছাড়া সাংবাদিকতায় মনোনীত হয়েছেন শফিক রেহমান। শিক্ষাক্ষেত্রে নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার এবং ভাস্কর্যে স্বীকৃতি পাচ্ছেন তেজস হালদার জস। সেই সঙ্গে সংগীতাঙ্গনে অবদানের জন্য জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজকে একুশে পদকে ভূষিত করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
একুশে পদক বাংলাদেশের একটি জাতীয় এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে দেশের ভাষাসৈনিক, ভাষাবিদ, সাহিত্যিক, শিল্পী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক, অর্থনীতিবিদ, দারিদ্র্য বিমোচনে অবদানকারী এবং বিভিন্ন সামাজিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পর্যায়ে সম্মানিত করতে ১৯৭৬ সাল থেকে এ পদক প্রদান করা হয়ে আসছে।
১১ ঘণ্টা আগে
ঈদের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড
আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড চালু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে এ সংক্রান্ত বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ডের ইস্যু বিস্তারিত উল্লেখ আছে। এটা কার্যকর কীভাবে করবে, সেটা নিয়ে আজকে আলোচনা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে আজকে।
কত পরিবারকে দেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি কিন্তু সর্বজনীন। এটাতে কোনো রেস্ট্রিকশন (বিধিনিষেধ) থাকবে না। তবে একটি কমিটি করা হয়েছে—হয়তো শুরু করবে হতদরিদ্র থেকে আরম্ভ করে, তারপরে দরিদ্র, তারপরে মধ্যবিত্ত, এভাবে যাবে।
এই রমজানেই এটি শুরু হবে কিনা জানতে চাইলে পরিবেশমন্ত্রী জানান, ঈদের আগেই পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে এটি চালু হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী চান পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ঈদের আগেই শুরু করতে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিবি) বলেছে যে, আগামী অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ড যদি চালু না হয়, তাহলে এর নেতিবাচক প্রভাব নির্বাচনের ওপর পড়বে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা তো চালু হবে, এটা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। এটা আমাদের খালি মেকানিজমটা বের করছে, মানে কার্যক্রমটা কীভাবে চালু করবে সেটা নিয়েই কথা হয়েছে।
১১ ঘণ্টা আগে
২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু একুশে বইমেলা
অমর একুশে বইমেলা পিছিয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেলা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে প্রকাশকদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবারের বইমেলা ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ভাড়া মওকুফ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বৈঠকে।
সভায় আরও জানানো হয়, যেসব প্রকাশক এখনও স্টল বরাদ্দ নেননি, তারা বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। সেই ভিত্তিতে আজ সন্ধ্যা ৬টায় তাদের লটারির ভিত্তিতে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হবে।
আগে যারা আবেদন করেছেন, তাদের নতুন করে আবেদন করা লাগবে না বলেও জানিয়েছে মেলা কর্তৃপক্ষ।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান এবং প্রকাশক প্রতিনিধিরা। এ সময় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বইমেলা সম্পর্কিত সর্বশেষ পরিস্থিতি জানান।
১১ ঘণ্টা আগে