বাংলাদেশ
মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের গডফাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ পুলিশ সদর দপ্তরের
মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত গডফাদারদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পুলিশ সদর দপ্তরে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. সায়েদুর রহমান বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।
এ সময় তিনি মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত গডফাদারদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
সেই সঙ্গে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের মাধ্যমে পুলিশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করার আহ্বান জানান অতিরিক্ত আইজিপি।
দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ জনগণের সঙ্গে মানবিক আচরণ করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ডাকাতির মামলা নথিভুক্ত করতে এবং দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে নির্দেশ দেন অতিরিক্ত আইজিপি।
সাজার হার বাড়াতে ধর্ষণ মামলার তদন্ত নিবিড়ভাবে তদারকির নির্দেশও দেন তিনি।
এছাড়া সার্বিকভাবে মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়ানোর ওপর জোর দেন করেন সায়েদুর রহমান।
অতিরিক্ত আইজিপি সমাজের সুনামধারী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।
এ সময় সম্প্রতি শেষ হওয়া দুর্গাপূজা নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিশ্চিত করায় আইজিপির পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
সভায় মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় গত সেপ্টেম্বর মাসের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি এবং ওই মাসে সংঘটিত উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করা হয়।
এছাড়া ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যা, ধর্ষণ, পুলিশের ওপর হামলা ও অপহরণের মামলা; মুলতবি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তদন্ত ও বিচারের ফলাফল এবং সাজার হার নিয়ে আলোচনা হয়।
১৪ ঘণ্টা আগে
সাগর-রুনি হত্যা: টাস্কফোর্স প্রধান ও প্রসিকিউটরকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার অগ্রগতি জানাতে আগামী বছরের ২৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা ও টাস্কফোর্সের প্রধানকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা না দিয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করে আরও এক বছর সময় চায় টাস্কফোর্স। শুনানি শেষে আদালত ছয় মাস সময় মঞ্জুর করেন।
একই সঙ্গে মামলার তদন্তে জব্দ করা সিডি ও অন্যান্য নথি পর্যালোচনার অগ্রগতি জানাতে আগামী বছরের ২৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা ও টাস্কফোর্সের প্রধানকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা তদন্তের নতুন অগ্রগতির বিষয়ে টাস্কফোর্সকে তথ্য দিয়েছেন।
তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বাসা থেকে জব্দ করা বিপুলসংখ্যক সিডি ও ডিজিটাল আলামত পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডের সূত্র খোঁজার চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় জিয়াউল আহসান ও একজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার কথাও শুনানিতে উঠে এসেছে।
তবে এসব তথ্য এখনও আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি, তদন্তের মাধ্যমে সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে।
সাগর-রুনির পরিবারের আইনজীবী শিশির মনির জানান, তদন্তে মোট ৩০০টি সিডি পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৯০টির বিশ্লেষণ শেষ হয়েছে। বাকি ২১০টি সিডি এখনও পর্যালোচনা করা হয়নি।
সিডিগুলো বিশ্লেষণ করে কার্যকর কোনো সূত্র পাওয়া গেলে তা আদালতে উপস্থাপনের প্রত্যাশা করেন তিনি।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরদিন ১২ ফেব্রুয়ারি শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান।
প্রথমে থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করে। পরে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি)। দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করেও কোনো আসামিকে শনাক্ত করতে না পারায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব। তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।
দেশি-বিদেশি পরীক্ষাগারে আলামতের ডিএনএ পরীক্ষা করা হলেও আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে সাগর ও রুনির ডিএনএর মিল পাওয়া যায়নি বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনেও তদন্ত শেষ না হওয়া এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর উচ্চপর্যায়ের চার সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।
পরবর্তীতে মামলার তদন্তে পরিবর্তন আসে। নতুন করে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
টাস্কফোর্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ৯০ জন সাক্ষীকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং ২৪ জনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
গত ৩০ আগস্ট প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান, জিয়াউল আহসানের বাসায় অভিযানে বিভিন্ন ডিজিটাল আলামত জব্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে জিওলোকেশন-সংক্রান্ত তথ্য, খুদে বার্তা ও কল ডিটেইলস রেকর্ডের (সিডিআর) মুদ্রিত কপি রয়েছে। এগুলো পর্যালোচনা করে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সূত্র খোঁজা হচ্ছে।
১৬ ঘণ্টা আগে
জুলাই জাদুঘরে বিনা মূল্যে হুইলচেয়ার সেবা চালু
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দর্শনার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে হুইলচেয়ার ব্যবহারের সেবা চালু করেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে চালু হওয়া এ সেবার আওতায় শারীরিক প্রতিবন্ধী দর্শনার্থীরা জাদুঘরের প্রধান প্রবেশপথ থেকে হুইলচেয়ার নিতে পারবেন।
দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে জাদুঘরের অবকাঠামো ও প্রদর্শনী কক্ষগুলোতে বাধামুক্ত ও হুইলচেয়ার চলাচলের উপযোগী পথ রাখা হয়েছে।
নতুন এ ব্যবস্থায় পরিবারের সদস্য বা অন্য কারও সঙ্গে আসা দর্শনার্থীরা নিজেরাই হুইলচেয়ার পরিচালনা করে জাদুঘর ঘুরে দেখতে পারবেন।
এছাড়া একা আসা দর্শনার্থীদের সহায়তায় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করেছে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। তারা পরিদর্শনের পুরো সময় দর্শনার্থীদের পথ দেখানোসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবেন।
জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ বলেন, এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য জুলাই জাদুঘর স্মৃতি ও অনুভূতির জায়গা।
তিনি আরও বলেন, শারীরিক সীমাবদ্ধতা যেন ইতিহাস জানা ও জাদুঘর পরিদর্শনের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই লক্ষ্যেই এ বিশেষ সেবা চালু করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের সহায়তায় তাদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও প্রস্তুত থাকবেন, যাতে তারা কোনো ঝামেলা ছাড়াই পুরো জাদুঘর ঘুরে দেখতে পারেন।
কর্তৃপক্ষ জুলাই জাদুঘরকে সবার জন্য সম্পূর্ণ অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্মুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চায় বলেও জানান মহাপরিচালক।
দর্শনার্থীরা বা তাদের পরিবারের সদস্যরা জাদুঘরে পৌঁছে প্রধান ফটকে যোগাযোগ করলেই তাৎক্ষণিকভাবে এ সেবা নিতে পারবেন।
১৭ ঘণ্টা আগে
শেখ হাসিনা ফিরলে মব নয়, ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হবেন: ডা. জাহেদ
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে কোনো ধরনের মব বা বেআইনি পরিস্থিতি নয়, বরং ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে স্বাগত জানানো হবে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, তিনি দেশে ফিরতে চাইলে সরকার বাধা দেবে না। তবে দেশে ফেরার পর তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যাকে চাই, তিনি যদি নিজেই আসেন, তাহলে তো ভালো। তাকে আর ধরে-বেঁধে আনতে হবে না। তিনি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তিনি আসলে বিচারের মুখোমুখি হবেন।’
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ বলেন, এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। ফলে অনুমানের ভিত্তিতে আলোচনা না করাই ভালো।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের কথা বলছেন। পরে হয়তো জুনের কথা বলবেন। এভাবে ছয় মাস পরপর একই আলোচনা চলতে পারে। তাই নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা বা বাস্তব অগ্রগতি ছাড়া বিষয়টি নিয়ে কথা বলা অর্থহীন।
সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তার বিচার হবে। তার বিরুদ্ধে কোনো মব বা বেআইনি আচরণ করা হবে না। তিনি ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হবেন।
সরকার ন্যায়বিচারের মাধ্যমে শেখ হাসিনার অন্যায়ের জবাব দিতে চায় বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
১৭ ঘণ্টা আগে
খাদ্যে ভেজাল বন্ধ না হলে মৃত্যুর মিছিল থামবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
সাধারণ মানুষের জন্য ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত না করে শুধু ডায়ালাইসিস মেশিন ক্রয় বা হাসপাতাল নির্মাণ করে মৃত্যুর মিছিল থামানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, জনগণের চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ করা অর্থের একটি টাকাও দুর্নীতির গহ্বরে যেতে দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিশ্ব আয়োডিন দিবসে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য খাতের মূল ভিত্তি হলো রোগ প্রতিরোধের ওপর জোর দেওয়া। তবে চিকিৎসাসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ভেজাল খাদ্য ও দুর্নীতি জনস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বড় অন্তরায়।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় ডায়ালাইসিস মেশিন ও বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করা হলেও ভেজাল খাদ্য বন্ধ না হলে কিডনিসহ বিভিন্ন ক্রনিক রোগের রোগীর সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সবার জোরালো ভূমিকা কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী।
স্বাস্থ্য খাতে কয়েকদিনের মধ্যে ১৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডারেরর কথা উল্লেখ করে এম এ মুহিত বলেন, বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিকে বিন্দুমাত্র বরদাশত করবেন না। যত শক্তিশালী ব্যক্তিই হোক না কেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি দৃঢ় আশ্বাস দেন।
আয়োডিনের ঘাটতি দূর করার উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আয়োডিনযুক্ত লবণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়ায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীতার হার অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
২০২৬ সালের সমীক্ষার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, এখনও প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ আয়োডিনবিহীন লবণ খাচ্ছে। সুনির্দিষ্ট গবেষণার মাধ্যমে তাদের কাছে আয়োডিনযুক্ত লবণ পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক), গেইন, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল এবং শিল্প ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।
বিসিকের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকের হোসেন খান, গেইনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. রুদাবা খন্দকার, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. এ কে এম মুসা ও বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির।
১৭ ঘণ্টা আগে
ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ ১১ প্রাণহানি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪০০
দেশে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে ২ হাজার ৭১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ এ মৃত্যুর পর চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০০ জনে।
অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, নতুন মৃত্যুর ঘটনাগুলোর মধ্যে খুলনা বিভাগে ছয়জন, ঢাকা বিভাগে তিনজন এবং চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে একজন করে মারা গেছে।
এর আগে গত ৬ ও ১৫ অক্টোবর দেশে ডেঙ্গুতে ১০ জন করে মারা গিয়েছিল।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১ লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ১ লাখ ২১ হাজার ৪২২ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৬ হাজার ৪১৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে।
১৮ ঘণ্টা আগে
হাম ও উপসর্গে আরও ৭ মৃত্যু, আক্রান্ত ১,২৯৫
দেশে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৯৫ শিশু।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও এক শিশুর।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ১ হাজার ১৩৫ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০৫ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ১ হাজার ২৪০ শিশু মারা গেছে।
এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৬৩ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৩২। এই সময়ে ১ হাজার ১২৮ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ৫৪ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৪, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৫৪১। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৯৯ হাজার ১২৭ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৯১ হাজার ৯০ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
১৯ ঘণ্টা আগে
কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা: হানিফসহ ৪ জনের রায় বৃহস্পতিবার
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির রায় বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি রায়ের জন্য তালিকাভুক্ত করার পর বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিন ধার্য করেন।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। মামলার চার আসামিই পলাতক।
আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন মামলা পরিচালনা করছেন। রাষ্ট্রপক্ষে আছেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, চার আসামির বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে, আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য ও অবস্থানকে সমর্থন করা, ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া ও ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়া এবং আন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যায় সংশ্লিষ্টতা।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, আন্দোলন দমনে রাজনৈতিক নির্দেশনা ও সাংগঠনিক তৎপরতার ধারাবাহিকতায় এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। মাহবুব উল আলম হানিফের বিরুদ্ধে টেলিফোনে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাকর্মীদের হত্যাকাণ্ড চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।
এসব অভিযোগ প্রমাণে টেলিফোনে কথোপকথনের রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন।
মামলার যুক্তিতর্কে চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তিও চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
গত বছরের ৫ অক্টোবর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরদিন ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২ আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। গত ২৩ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে অতিরিক্ত প্রমাণ উপস্থাপনের পর আবারও যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।
২০ ঘণ্টা আগে
জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর
জাপানে সরকারি সফরের অংশ হিসেবে দেশটির চিবা প্রিফেকচারের ইচিকাওয়া শহরে নিটসু (নিপ্পন এক্সপ্রেস) লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন জানান, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে তিনি স্থাপনাটি পরিদর্শন করেন।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম, প্রটোকল কর্মকর্তা-২ কামরুল ইসলাম ও গবেষণা কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীও পরিদর্শন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এছাড়া পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
২০ ঘণ্টা আগে
জ্বালানি, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে জাপানের সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে জাপানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে বড় পরিবহন প্রকল্প বাস্তবায়নেও সহায়তা চেয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কানতেইয়ে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে তিনি এসব প্রস্তাব দেন ও আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শিল্পায়নে জাপান সরকার ও দেশটির বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তারেক রহমান।
বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন (৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য শিগগিরই বাংলাদেশে জাপানি প্রতিনিধিদল পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে তারেক রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণায় অগ্রগতি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি ছিল জাপান। তার পর থেকে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতিতেও দেশটি দীর্ঘদিন ধরে অবদান রেখে আসছে।
তিনি তার বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাপান সফর এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে অবদানের কথা স্মরণ করেন। দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে তারেক রহমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় সম্প্রতি দেওয়া ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের কথা উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানের বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রযুক্তি ও অবকাঠামো
প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন তারেক রহমান।
এ পার্কের মাধ্যমে জাপানি কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ মেধাবী, উদ্যোক্তা ও দক্ষ পেশাজীবীদের সংযোগ স্থাপনের কথা বলেন তিনি।
প্রস্তাবিত টেক পার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রকৌশল ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক এবং দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নির্মাণসহ আধুনিক ও সমন্বিত পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
এসব বড় অবকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়ন, কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও অর্থায়নে জাপানের সহযোগিতা চান তিনি। জাপানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক পরিবহনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হতে পারে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ
বাংলাদেশে নতুন জাপানি বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে তার সরকার বিধিবিধান, করনীতি, শুল্ক ছাড়করণ ও অর্থ স্থানান্তরের প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য ও কার্যকর করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, চুক্তিটির সুফল দুই দেশের জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে উভয় পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়
আন্তর্জাতিক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের বহুপক্ষীয়তা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার অভিন্ন অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে জাপানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। বহুপক্ষীয়তা জোরদার ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্ব্যক্ত করে তারেক রহমান আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ, নির্বিঘ্নে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টায় জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তারেক রহমান। রাখাইনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য টোকিওর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি জোর দেন।
যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব
সমাপনী বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, এ শীর্ষ বৈঠক বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
আরও গভীর আস্থা, বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শক্তিশালী বিনিয়োগ সম্পর্ক এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে এ সম্পর্ক এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দুই দেশের অগ্রাধিকার খাতগুলো চিহ্নিত করা, বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং সহযোগিতার সম্ভাবনাকে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দিতে মন্ত্রী পর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি।
পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে আমন্ত্রণ জানান তারেক রহমান।
পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরও গভীর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে কানতেইয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির এ দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক শুরু হয়। এর আগে সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা, গার্ড অব অনার প্রদান এবং দুই নেতার নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
২০ ঘণ্টা আগে