আফ্রিকা
উগান্ডায় ট্রাক-যাত্রীবাহী ভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ১৪
উগান্ডায় যাত্রীবাহী একটি ট্যাক্সি ভ্যান ও বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে দেশটির কালুঙ্গু জেলার কামুঙ্গা ট্রেডিং সেন্টার এলাকায় একটি মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এক বিবৃতিতে দেশটির পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল (সোমবার) রাতে কালুঙ্গু জেলার একটি মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি ট্যাক্সি ভ্যানের সঙ্গে বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহত সবাই ট্যাক্সি ভ্যানটির যাত্রী ছিলেন। এছাড়া আরও ৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে ট্রাকচালক পালিয়ে গেছেন। তারা ট্রাকচালককে খুঁজছে।
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মতো উগান্ডাতেও সড়ক দুর্ঘটনা একটি বড় সমস্যা। সেখানে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এসব দুর্ঘটনার জন্য যানবাহনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, অতিরিক্ত গতি ও সড়কের বেহাল অবস্থাকে দায়ী করেন বিশেষজ্ঞরা।
এর আগে, জুলাই মাসে পূর্ব উগান্ডায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি বাস মনোরম এক জলপ্রপাত এলাকা থেকে ফেরার পথে সড়ক থেকে ছিটকে উল্টে যায়। ওই বাসটিতে করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শিক্ষাসফর শেষে ফিরছিলেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ শিশু ও ১ জন প্রাপ্তবয়স্ক নিহত হয়েছিল।
৫ দিন আগে
কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা ৯৩০ ছাড়াল
কঙ্গোতে চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এদিকে, ইতুরি প্রদেশে স্বাস্থ্যকর্মীদের অসন্তোষের কারণে চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৯ জুলাই) দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, শনিবার ২ হাজার ৩৪৪ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা।
গত ১৫ মে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই এটি আগের সব রেকর্ড ভেঙে সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবে পরিণত হয়েছে। এ প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বান্ডিবুগিও ভাইরাসটি ইবোলা সৃষ্টিকারী অন্যান্য ভাইরাসের তুলনায় কম পরিচিত। এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনও কোনো অনুমোদিত টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা নেই।
এদিকে, ইবোলার প্রাদুর্ভাবে কঙ্গোতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইতুরি প্রদেশ। সেখানে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঝুঁকির কারণে স্বাস্থ্যকর্মীদের পক্ষে অনেক এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে চিকিৎসা কার্যক্রম সীমিত হয়ে যাওয়ায় ইতুরি প্রদেশে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।
শনিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, মে মাসের মাঝামাঝি প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর অন্তত ১২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে বেতন না পাওয়ার প্রতিবাদে অনেক স্বাস্থ্যকর্মী কর্মবিরতি পালন করছেন।
কঙ্গোতে এ পর্যন্ত ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩৬ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ৭২৪ জন রোগী হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পাশাপাশি সরকার আক্রান্ত এলাকাগুলোতে রোগ মোকাবিলার কার্যক্রম আরও জোরদার করছে।
২০ দিন আগে
সুদানে ছয় মাসে ৩ শতাধিক শিশু হতাহত: ইউনিসেফ
সুদানের চলমান যুদ্ধে গত ছয় মাসে ৩ শতাধিক শিশু নিহত বা আহত হয়েছে, যার বেশিরভাগই ড্রোন হামলার শিকার বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে যুদ্ধ চলছে।
ইউনিসেফ জানায়, বর্তমানে করদোফান, দারফুর ও ব্লু নাইল অঙ্গরাজ্যগুলোতে সংঘাত সবচেয়ে তীব্র। এসব এলাকায় মোট হতাহতের প্রায় ৬০ শতাংশ ঘটছে ড্রোন হামলার কারণে।
উত্তর করদোফানের কৌশলগত শহর এল-ওবেইদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের লড়াইয়ের মধ্যে সম্ভাব্য নৃশংসতা নিয়ে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সোমবার (৬ জুলাই) জেনেভায় জাতিসংঘ-সমর্থিত মানবাধিকার পরিষদ পাঁচটি ইউরোপীয় দেশের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব ভোট ছাড়াই অনুমোদন করে। এতে এল-ওবেইদ এবং আশপাশের এলাকায় আরএসএফ ও তাদের মিত্রদের সহিংসতা বৃদ্ধির নিন্দা জানানো হয়।
প্রস্তাবে সুদান থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোকে আরও বেশি সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে যুদ্ধে ‘সব ধরনের বহিরাগত হস্তক্ষেপের’ নিন্দা জানানো হয়।
সংঘাতে সুদানে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত, প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। দেশটির বহু এলাকা দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে। বর্তমানে দেশটিতে তিন কোটির বেশি মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।
ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণে স্কুল, বাজার, জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং পানি সরবরাহকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অনেক এলাকায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বেসামরিক মানুষ প্রায় অবরুদ্ধ অবস্থায় জীবনযাপন করছে।
সুদানে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, ‘শিশুরা অবিরাম সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও বঞ্চনার এক নির্মম চক্রের মধ্যে আটকে পড়েছে।’
এমন পরিস্থিতিতে সংঘাতের সব পক্ষের প্রতি বেসামরিক মানুষ ও বেসামরিক অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখা, নিরাপদ, দ্রুত ও বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করা এবং শিশুদের ক্ষতি থেকে রক্ষায় সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
৩৪ দিন আগে
ঈদের দিন সুদানের গ্রামে চালানো হামলায় নিহত ২৭
সুদানের উত্তর কর্ডোফান অঞ্চলে একটি গ্রামে ঈদুল আজহার সময় চালানো হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে দেশটির চিকিৎসকদের সংগঠন সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক । এ হামলার জন্য আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) বাহিনীকে দায়ী করেছে সংগঠনটি।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৯ মে) সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক অভিযোগ করে, আধাসামরিক আরএসএফ বাহিনী বৃহস্পতিবার নর্থ কর্ডোফানের বারাহ শহরের পশ্চিমে অবস্থিত আল-মুররাহ এলাকার কয়েকটি গ্রামে হামলা চারিয়েছে। মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনে হামলা চালানো হয় ।
সংগঠনটি জানায়, সামপ্রতিক যুদ্ধের কারণে সুদানে সাধারণ মানুষ যে ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এই হামলা চলমান পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত চলে আসছিল। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে এই দুই বাহিনীর মধ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে কর্ডোফান অঞ্চল সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে। বিভিন্ন ফ্রন্টে তাদের মধ্যে লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
আরএসএফ ও তাদের মিত্ররা বর্তমানে পশ্চিম দারফুর অঞ্চল এবং দক্ষিণ সুদানের সীমান্তঘেঁষা কর্ডোফান অঞ্চলের কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এই দুই অঞ্চলই তেলক্ষেত্র ও স্বর্ণখনিতে সমৃদ্ধ। এছাড়া বারাহ শহর নিয়েও আরএসএফের সঙ্গে সেনাবাহিনীর একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে।
সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক তাদের বিবৃতিতে জানায়, গ্রাম ও বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলা এবং এভাবে নাগরিকদের হত্যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে দক্ষিণ সুদানের সাউথ কর্ডোফানে বিদ্রোহী গোষ্ঠী সুদান পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট নর্থ বাহিনী এবং ওতোরো গোত্রের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে ৬১ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৯ টি শিশুও ছিল।
এছাড়া গত সপ্তাহে মধ্য দেশটির একটি ব্যস্ত বাজারে ড্রোন হামলায় ২৮ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও কয়েক ডজন মানুষ।
সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, সেই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ।
যুদ্ধের ফলে দেশটির বহু এলাকায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে সুদানে ৩ কোটিরও বেশি মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
৭২ দিন আগে
কেনিয়ায় গার্লস স্কুলের হোস্টেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ১৬ শিক্ষার্থী নিহত
কেনিয়ায় মেয়েদের একটি আবাসিক স্কুলের ডরমিটরিতে (হোস্টেল) রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এতে আরও ৭৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও জানা যায়নি। এ ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাতে কেনিয়ার গিলগিল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দেশটির শিক্ষা মন্ত্রী জুলিয়াস ওগামবা জানান, গিলগিল এলাকার উতুমিশি নামের মেয়েদের স্কুলটিতে আগুন লাগার ঘটনায় ৭৯ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। স্কুলটিতে ৮ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে।
তিনি বলেন, এ অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও নির্ণয় করা যায়নি। স্কুলটির অগ্নি নিরাপত্তা নির্দেশিকা যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে দেশটির পুলিশ জানিযেছে, তারা স্কুলটিতে উদ্ধার অভিযান এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উতুমিশি স্কুলটি রাজধানী নাইরোবি থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
কেনিয়ার সরকারি এই মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি কেনিয়া পুলিশের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হয়। এখানে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা অনেকে পুলিশ কর্মকর্তাদের সন্তান। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
ঘটনাস্থলে থাকা এক ব্যক্তি ওয়ামবুই নদেরিতু বলেন, সে সময় ডরমিটরির তত্ত্বাবধায়ক দুটি দরজার মধ্যে একটি দরজা খুলে দিয়েছিলেন। তবে তখন তিনি শিশুদের বের হয়ে যাওয়ার জন্য আগে থেকে কোনো সতর্ক সংকেত দেননি।
তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় দরজাটি বন্ধই ছিল। আমার চাচাতো বোন সেখান থেকে পায়ে আঘাত পেয়ে জীবন নিয়ে কোনোভাবে বের হতে পেরেছে। পরে আমাদের জানানো হয়েছে, সেখানে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে এবং অনেক শিশু আহত হয়েছে।’
কেনিয়া রেড ক্রস জানায়, স্কুলটির আহত শিক্ষার্থীদেরউদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সংস্থাটি জানিযেছে, এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারকে সহায়তা দিতে তারা মানসিক সহায়তা দল নিয়োজিত করেছে।
কেনিয়ায় স্কুল অগ্নিকাণ্ডের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে ২০০১ সালে। তখন মাচাকোস কাউন্টির একটি ডরমিটরি অগ্নিকাণ্ডে ৬৭ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।
২০২৪ সালে মধ্য কেনিয়ার একটি স্কুলে অগ্নিকাণ্ডে ২১ জন শিক্ষার্থী পুড়ে মারা যায়। পরে প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন।
এর আগে, ২০১৭ সালে নাইরোবির একটি স্কুলে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়। ওই ঘটনায় একজন শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
৭৩ দিন আগে
আফ্রিকাজুড়ে ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি
আফ্রিকা মহাদেশজুড়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো ক্রমেই সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি এবং ব্যাটারি স্টোরেজকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। কয়লা ও বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধের পরিবর্তে সরকার ও বিনিয়োগকারীরা এখন সস্তা, দ্রুততর এবং আরও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুতের সন্ধানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন।
এই পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রমাণ মেলে চলতি মে মাসের শুরুতে চীন ও জাম্বিয়ার মধ্যে সম্পাদিত ১৫০ কোটি ডলারের একটি জ্বালানি চুক্তিতে, যেখানে সৌর, বায়ু ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের ৩টি পৃথক ৩০০ মেগাওয়াট প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চুক্তিতে কয়লার উপস্থিতি মহাদেশটির স্থিতিশীল বেসলোড বিদ্যুতের চাহিদাকে তুলে ধরলেও ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি ব্যয়, অনির্ভরযোগ্য গ্রিড এবং ক্রমবর্ধমান শিল্প চাহিদার মুখে আফ্রিকার দেশগুলো এখন এমন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের দিকে ঝুঁকছে, যেগুলো প্রচলিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় দ্রুত ও কম খরচে স্থাপন করা সম্ভব।
সৌর ও বায়ুশক্তির জনপ্রিয়তা
জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রন ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আফ্রিকায় ঘোষিত ৩২২টি জ্বালানি প্রকল্পের মধ্যে ১৭৩টিই ছিল সৌরশক্তি প্রকল্প। এরপরে রয়েছে জলবিদ্যুৎ ৪৬টি, বায়ুশক্তি ৩৪টি, গ্যাস ২২টি এবং হাইব্রিড জ্বালানি প্রকল্প ১৪টি।
কেনিয়ার আর্থিক খাতের টেকসই উন্নয়নবিষয়ক ট্রাস্ট ‘এফএসডি কেনিয়া’র জলবায়ু অর্থায়ন প্রধান মুগওয়ে মাঙ্গা বলেন, ‘আফ্রিকা বৈশ্বিক জ্বালানি রূপান্তরের প্রান্তে নয়, বরং এর কেন্দ্রে রয়েছে। এই মহাদেশে বিশ্বের সেরা নবায়নযোগ্য সম্পদ রয়েছে এবং অর্থনীতি এখন স্পষ্টভাবে পরিষ্কার জ্বালানির পক্ষে ঝুঁকে গেছে।’
আফ্রিকা মিনিগ্রিড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এএমডিএ) প্রধান নির্বাহী ওলামিদে নিয়ি-আফুয়ে বলেন, মহাদেশটি জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের ধরনে একটি ব্যাপক কৌশলগত পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে দ্রুত স্থাপনযোগ্য এবং নমনীয় অর্থায়নের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সম্প্রসারণযোগ্য ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মিনি-গ্রিড ব্যবস্থায় সৌরশক্তির ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থার (আইআরইএনএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আফ্রিকা রেকর্ড ১১ দশমিক ৩ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সংযোজন করেছে যা আগের বছরের তিনগুণ। এই প্রবৃদ্ধির বড় একটি অংশ এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর ও ইথিওপিয়া থেকে।
খরচ কম
প্রযুক্তির ক্রমহ্রাসমান মূল্যও এতে বড় ভূমিকা রাখছে। ২০১০ সাল থেকে বৈশ্বিকভাবে ইউটিলিটি-স্কেল সৌরবিদ্যুতের খরচ প্রায় ৯০ শতাংশ কমেছে, আর স্থলভিত্তিক বায়ুশক্তির খরচ কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। ফলে আফ্রিকার অনেক বাজারে নবায়নযোগ্য জ্বালানিই এখন নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদনের সবচেয়ে সস্তা উৎস।
আফ্রিকায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ক্রসবাউন্ডারি এনার্জির প্রধান নির্বাহী ম্যাট টিলার্ড বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন নিঃসন্দেহে মানুষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতিকে প্রয়োজনীয় মেগাওয়াটের সঙ্গে সংযুক্ত করার সবচেয়ে দ্রুত, সস্তা ও বিনিয়োগযোগ্য পথ।’
প্রবৃদ্ধির বড় একটি অংশ আসছে বিতরণমূলক সৌর ও ব্যাটারি সিস্টেম থেকে, যেগুলো সরাসরি খনি, কারখানা, টেলিযোগাযোগ টাওয়ার এবং বাড়িতে স্থাপন করা হচ্ছে।
টিলার্ড বলেন, বেশিরভাগ সরকারি পরিসংখ্যান এখনও পুরনো পদ্ধতিতে জ্বালানি রূপান্তর পরিমাপ করে; জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত মেগাওয়াট গণনা করে। কিন্তু সৌর ও ব্যাটারির জন্য কেন্দ্রীয় ইউটিলিটির প্রয়োজন নেই।
আফ্রিকা সোলার ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য দেখাচ্ছে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ আফ্রিকায় ২৩ দশমিক ৪ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু রয়েছে বলে নথিভুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে, চীনের রপ্তানি পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০১৭ সাল থেকে আফ্রিকান দেশগুলোতে ৫৮ দশমিক ১ গিগাওয়াটের সৌরপ্যানেল রপ্তানি হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয় সরকারি হিসাবে যা ধরা পড়ছে, বাস্তবে সৌরশক্তির প্রসার তার চেয়ে অনেক দ্রুতগতিতে হচ্ছে।
দ্রুত মুনাফা
বিনিয়োগকারীরা ক্রমেই নবায়নযোগ্য প্রকল্পে আগ্রহী হচ্ছেন, কারণ এগুলো দ্রুত মুনাফা দেয় এবং বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যের ওঠানামার ঝুঁকিও হ্রাস করে।
নিয়ি-আফুয়ে বলেন, ‘সৌর ও বায়ু প্রকল্পগুলো এই মুহূর্তে বিশেষভাবে আকর্ষণীয়, কারণ এগুলো শক্তিশালী বাণিজ্যিক ভিত্তি এবং তুলনামূলকভাবে কম বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে সমন্বয় করে।’
কঙ্গোর কামোয়া-কাকুলা তামার খনি কমপ্লেক্সে ক্রসবাউন্ডারি এনার্জি ২৩৩ মেগাওয়াটের একটি সৌর ও ব্যাটারি প্রকল্প নির্মাণ করছে, যা আফ্রিকার অন্যতম বৃহত্তম তামার খনিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে।
টিলার্ড জানান, চুক্তি সই থেকে মাত্র এক বছরের মধ্যে প্রকল্পটির ৮০ শতাংশেরও বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর তুলনায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ১২ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে এবং বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায়ই এক দশক বা তারও বেশি সময় লেগে যায়।
টিলার্ড বলেন, ‘অথচ, সৌর ও ব্যাটারি প্রকল্পে বিনিয়োগকারীরা মূলধন খাটানোর মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে উপার্জন শুরু করেন।’
নীতি পরিবর্তন সহায়ক হলেও রয়েছে চ্যালেঞ্জ
নীতিগত পরিবর্তনও মহাদেশটির নবায়নযোগ্য জ্বালানির অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করছে। ইথিওপিয়া প্রথম দেশ হিসেবে পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনচালিত যানবাহন আমদানি নিষিদ্ধ করেছে, যা বৈদ্যুতিক যানবাহনের দ্রুত গ্রহণকে উৎসাহিত করছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যক্তিগত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সীমা শিথিল করায় শিল্পখাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের জোয়ার এসেছে।
তবে বড় বাধাগুলো এখনও রয়ে গেছে। আফ্রিকার অনেক বিদ্যুৎ ইউটিলিটি আর্থিক সংকটে রয়েছে, ফলে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করতে ঋণদাতারা সতর্ক থাকছেন।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশ-ঝুঁকির ধারণার কারণে আফ্রিকায় নবায়নযোগ্য প্রকল্পে অর্থায়নের খরচ উন্নত অর্থনীতির তুলনায় তিনগুণ পর্যন্ত বেশি।
তবে আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনসহ (আইএফসি) উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানগুলো রেয়াতমূলক ঋণ, গ্যারান্টি ও ঝুঁকি-ভাগাভাগির কাঠামোর মাধ্যমে এই ব্যবধান পূরণে সহায়তা করছে।
মাঙ্গা বলেন, ‘যা বাকি আছে তা আর প্রযুক্তি বা খরচের প্রশ্ন নয়। এটি এখন অর্থায়ন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং মহাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা তৈরি করতে পারে—এমন বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্প প্রস্তুতের প্রশ্ন।’
৭৪ দিন আগে
কঙ্গোয় ইবোলার প্রকোপ: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩১
কঙ্গোতে ইবোলার প্রাদুর্ভাবে অন্তত ১৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশটিতে ৫১৩ জনের শরীরে ইবোলা সংক্রমণের উপসর্গ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ইতোমধ্যে এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
কঙ্গো সরকারের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশটিতে বিস্তৃত পরিসরে ইবোলা সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) থেকে জানানো হয়েছে, উগান্ডায় ২ ব্যক্তির শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে। সেখানে ইবোলা আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যুও হয়েছে।
কঙ্গোতে প্রাণঘাতী এই রোগের সংক্রমণ ঠেকাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে দেশটির সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা সন্দেহভাজন রোগীদের শরীরে ইবোলার সংক্রমণ শনাক্ত করতে কাজ করছে। এ সময় জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে দেশটির ইতুরি প্রদেশের নিয়াকুন্ডে, নর্থ কিভুর বুটেম্বো, গোমা শহর ও অন্যান্য এলাকায় ইবোলা শনাক্ত হওয়ায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
এদিকে, কঙ্গোতে অবস্থানরত একজন মার্কিন চিকিৎসকেরও ইবোলা শনাক্ত হয়েছে বলে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে। ওই চিকিৎসকের সঙ্গে কাজ করা মেডিকেল মিশনারি গ্রুপ এবং সিডিসি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সিবিএস নিউজকে তারা জানিয়েছে, আক্রান্ত চিকিৎসকের চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে নেওয়া হবে।
আক্রান্ত মার্কিন নাগরিকের নাম প্রকাশ করেনি সিডিসি। তবে তার সঙ্গে কাজ করা মেডিকেল মিশনারি গ্রুপ সার্জে জানিয়েছে, ওই চিকিৎসকের নাম পিটার স্ট্যাফোর্ড।
সার্জে গ্রুপের আরও দুই চিকিৎসক চিকিৎসার সময় ইবোলা রোগীদের সংস্পর্শে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে স্ট্যাফোর্ডের স্ত্রী ডা. রেবেকাহ স্ট্যাফোর্ডও রয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে এখনও কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। এক বিবৃতিতে গ্রুপটি জানায়, তারা সকলে বর্তমানে কোয়ারেন্টাইন নির্দেশনা মেনে চলছেন।
সিবিএস নিউজ আরও জানিয়েছে, কঙ্গোতে চলমান এই ইবোলা প্রাদুর্ভাবে অন্তত ৬ জন মার্কিন নাগরিক ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন।
সিডিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার কঙ্গোতে ইবোলা আক্রান্ত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নিচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কতজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত করা হয়নি।
স্বাস্থ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম স্ট্যাট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কঙ্গোতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের একটি ছোট দলকে নিরাপদে কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থা করছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, তাদের জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতে নেওয়া হতে পারে।
অপরদিকে, স্থানীয় সময় রবিবার (১৭ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে কঙ্গোতে আক্রান্ত মার্কিন নাগরিকদের বিষয়ে সরাসরি প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানায় সিডিসি।
এ বিষয়ে গত সোমবার সিডিসি জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে ইবোলা সংক্রমণের ঝুঁকি কম। তবে যুক্তরাষ্ট্রে রোগটির প্রবেশ ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় আক্রান্ত এলাকা থেকে আসা যাত্রীদের পর্যবেক্ষণ করা হবে। গত ২১ দিনে উগান্ডা, কঙ্গো ও দক্ষিণ সুদানে ভ্রমণ করা অমার্কিন পাসপোর্টধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ হবে।
সিডিসি জানিয়েছে, তারা এয়ারলাইনস ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে যাত্রীদের পরীক্ষা করা এবং হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি জোরদার করবে।
এদিকে, কঙ্গো ভ্রমণে সর্বোচ্চ সতর্কতা হিসেবে চতুর্থ স্তরের ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরতদের কঙ্গোতে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে ইবোলা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হলেও এটি এখনও মহামারি আকার ধারণ করেনি। তবে, সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বর্তমানে যে পরিমাণে ইবোলা শনাক্তের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, প্রকৃত পরিস্থিতি তার চেয়ে ভয়াবহ হতে পারে। ফলে কেবল স্থানীয় নয়, আঞ্চলিক পর্যায়ে ইবোলা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
১৯৭৬ সালে আফ্রিকায় সর্বপ্রথম ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব ঘটে। তখন ২৮ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। সে সময় গিনি, সিয়েরা লিওন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইতালিসহ পশ্চিম আফ্রিকার ভেতরে ও বাইরে একাধিক দেশে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল। এতে ১১ হাজার ৩২৫ জনের মৃত্যু হয়।
আফ্রিকা সিডিসির প্রধান জ্যা কাসেয়া বিবিসিকে জানান, কঙ্গোতে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় টিকা ও ওষুধের অভাব রয়েছে। তাই সেখানকার জনগণকে জনস্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। বিশেষ করে ইবোলা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের দাফন প্রক্রিয়ায় সতর্কতা মানতে বলা হচ্ছে।
কাসেয়া বলেন, ‘আমরা চাই না দাফন করতে গিয়ে কেউ ইবোলায় সংক্রমিত হোক।’
প্রায় এক দশক আগে আফিকায় ইবোলার বড় প্রাদুর্ভাবের সময় পারিবারিক দাফনে মরদেহ গোসল করানোর কারণে বহু মানুষ সংক্রমিত হয়েছিল।
এদিকে, কঙ্গো ও উগান্ডাকে সীমান্তবর্তী এলাকায় স্ক্রিনিং জোরদারের পরামর্শ দিয়েছে ডব্লিউএইচও, যাতে ভাইরাসটি পাশাপাশি দেশগুলোতে ছড়িয়ে না পড়ে। এছাড়া, প্রতিবেশী দেশগুলোকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও কমিউনিটি পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
কঙ্গোর প্রতিবেশী দেশ রুয়ান্ডা জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তারা সীমান্তে স্ক্রিনিং আরও কঠোর করবে। অন্যদিকে, নাইজেরিয়া জানিয়েছে, তারা বর্তমানে ইবোলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
৮২ দিন আগে
নাইজেরিয়ায় স্কুলে জঙ্গি হামলা, ৮০টির বেশি শিশু নিখোঁজ
নাইজেরিয়ায় গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন স্কুলে জঙ্গি হামলা ও অপহরণের ঘটনায় অন্তত ৮০টির বেশি শিশু নিখোঁজ হয়েছে। পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিতে সরকার জিহাদি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে দেশটিতে সাম্প্রতিক এসব জঙ্গি হামলা স্কুলশিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৭ মে) নাইজেরিয়ার স্থানীয় কর্মকর্তারা ও মানবাধিকার সংস্থা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রাজধানী আবুজা থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির একাধিক স্কুলে গত এক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিক জঙ্গি হামলায় ৮০ জনের বেশি শিশু নিখোঁজ হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বোর্নো অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা চালায় সশস্ত্র গোষ্ঠী। এ সময় আসকিরা উবা ও চিবক এলাকায় অবস্থিত ওই স্কুল থেকে ৪২ শিশুকে অপহরণ করা হয়।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, বোর্নো রাজ্যের সাম্বিসা বনাঞ্চল-সংলগ্ন মুসা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নাইজেরিয়ায় সাম্বিসা বন জঙ্গি অধ্যুসিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। এই বনে বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেট-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী আইএসডব্লিউএপির শক্ত ঘাটি রয়েছে।
অন্যদিকে, গত শুক্রবার দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওয়ো অঙ্গরাজ্যের দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী।
অ্যামনেস্টির নাইজেরিয়া শাখা জানিয়েছে, এসব হামলায় অন্তত ৪০ শিশুকে অপহরণ করা হয়েছে। ওয়ো অঙ্গরাজ্যে এর আগে অপহরণের ঘটনা সচরাচর দেখা যায়নি।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, অপহরণের আতঙ্কে অনেক শিশু স্কুল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। পাশাপাশি, অনেক পরিবার হামলা থেকে বাঁচাতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছে। এসব মেয়ে শিশুদের বাল্যবিয়েতে বাধ্য করছে তাদের পরিবার।
এদিকে, মুসা গ্রামের সরকারি কর্মকর্তা পিটার ওয়াব্বা জানান, ওয়ো রাজ্যে অপহৃত শিশুদের সংখ্যা ৪৮ জন।
তিনি বলেন, ‘সরকার আমাদের আশ্বাস দিচ্ছে, তারা অপহৃত শিশুদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করছি।’
অপরদিকে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে, কর্তৃপক্ষ প্রায়ই জঙ্গি হামলার ঘটনার তদন্ত ও দোষীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে তা আর বাস্তবায়ন করে না। সংস্থাটি জানায়, এসব হামলার শিকার ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারগুলো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৬ মে) ওয়ো রাজ্যের পুলিশ মুখপাত্র আয়ানলাদে ওলায়িঙ্কা জানান, ওয়ো অঙ্গরাজ্যে স্কুলে হামলার ঘটনায় তিনজন বন্দুকধারীকে আটক করা হয়েছে। হামলাটি করা হয়েছিল ওরিইরে এলাকায়। ওরিইরে লাগোস শহর থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ওলায়িঙ্কা বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানায়নি।
নাইজেরিয়ায়, বিশেষ করে দেশটির উত্তরাঞ্চলে স্কুল থেকে শিশু অপহরণ একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল এই দেশটিতে গত বছরও স্কুলে দুটি বড় ধরনের অপহরণের ঘটনা ঘটে। সে সময় ৩ শতাধিক শিশুকে অপহরণ করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো স্কুলকে তাদের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহার করছে। কারণ, স্কুলে হামলা চালালে দ্রুত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মনোযোগ পাওয়া যায়।
৮৩ দিন আগে
কঙ্গো-উগান্ডায় ইবোলার প্রাদুর্ভাব, বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি
কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এখন পর্যন্ত তিন শতাধিক রোগীর শরীরে ইবোলার উপসর্গ এবং ৮৮ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৭ মে) ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস এই পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, কঙ্গো ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা পরিস্থিতি এখনও কোভিড-১৯-এর মতো বৈশ্বিক মহামারির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তাই এই মুহূর্তে তারা আন্তর্জাতিক সীমান্ত বন্ধ না করার পরামর্শ দিয়েছে।
ইবোলা অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির বমি, রক্ত ও বীর্যের মতো শারীরিক তরলের সংস্পর্শে এলে সহজেই অন্য শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে। ইবোলা তুলনামূলকভাবে বিরল রোগ, তবে রোগটি বেশ গুরুতর। অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
ডব্লিউএইচও কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, বর্তমানে ইবোলার প্রাদুর্ভাবের জন্য বান্ডিবুগি ভাইরাস দায়ী। এই ভাইরাসটি ইবোলার একটি বিরল ধরন। বান্ডিবুগি ভাইরাসের প্রতিরোধে এখনও কোনো অনুমোদিত চিকিৎসা ও টিকা বের হয়নি। এর আগে, কঙ্গো ও উগান্ডায় ২০ বারের বেশি ইবোলার প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। তবে এবারে তৃতীয়বারের মতো সেখানে বাসিন্দাদের শরীরে বান্ডিবুগি ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ইবোলায় আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় সব রোগীই কঙ্গোতে শনাক্ত হয়েছেন। প্রতিবেশী দেশ উগান্ডায় কেবল দুটি সংক্রমণের ঘটনা পাওয়া গেছে।
৮৪ দিন আগে
নাইজেরিয়ায় বাজারে বিমান হামলায় শতাধিক নিহত, দায় অস্বীকার সেনাবাহিনীর
নাইজেরিয়ার জামফারা অঙ্গরাজ্যের একটি বাজারে সামরিক বিমান হামলায় অন্তত ১০০ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তবে দেশটির সেনাবাহিনী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, এ ঘটনায় বেসামরিক কেউ নিহত হয়েছেন, এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল স্থানীয় সময় সোমবার (১১ মে) এক বিবৃতিতে জানায়, রবিবার (১০ মে) জামফারা অঙ্গরাজ্যের তুমফা এলাকার একটি বাজারে সামরিক বিমান হামলা চালানো হয়।
ওই রাজ্যের রেড ক্রস কর্মকর্তা ইব্রাহিম বেলো গারবা এ ঘটনাটি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এই হামলায় একাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নাইজেরিয়ার পরিচালক ইসা সানুসি এপিকে বলেন, হামলায় নিহতদের মধ্যে শুধু একটি গ্রামেই ৮০ জনকে দাফন করা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কেউ সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন কি না, এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি। তারা সবাই সাধারণ মানুষ। নিহতদের বেশিরভাগই ছিল তরুণী ও শিশু।
এদিকে, নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী এপিকে বিমান হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে তারা দাবি করছে, গণমাধ্যমে যেভাবে বেসামরিক হতাহতের দাবি করা হচ্ছে, তার সঠিক প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল মাইকেল ওনোজা বলেন, ‘বেসামরিক মানুষ কখনোই আমাদের লক্ষ্য নয়। সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এড়াতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ ওই এলাকায় সামরিক অভিযান এখনও চলছে বলে জানান তিনি।
গত মাসেও নাইজেরিয়ার বিমান বাহিনীর ভুলবশত চালানো এক হামলায় ১০০ জন নিহত হয়েছিল। অ্যামনেস্টির এই অভিযোগটি নাইজেরিয়ায় বেসামরিক মানুষের ওপর ভুলবশত সামরিক বিমান হামলার আরেকটি ঘটনা সামনে এনেছে। পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটি দীর্ঘদিন ধরে বোকো হারামসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলায় সাধারণ মানুষ নিহতের পেছনে বিমান বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। এর আগেও সেনাবাহিনীর হামলায় শত শত বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
যদিও নাইজেরিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা বরাবরই দাবি করে আসছেন, অভিযানের সময় তাদের হামলার লক্ষ্য থাকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা, কিন্তু সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মিশে থাকে। এ কারণে আলাদা করে তাদের চিহ্নিত করা সেনাবাহিনীর জন্য জটিল হয়ে পড়ে। ফলে নিহত হয় সাধারণ মানুষ।
৮৮ দিন আগে