প্রধানমন্ত্রীর-কার্যালয়
প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পাটের ব্যাগ, পোশাক দেবে সরকার
পাটশিল্প রক্ষা ও পরিবেশ দূষণ রোধে আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাটের তৈরি ব্যাগ ও স্কুলের পোশাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রতিটি উপজেলার দুটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাটজাত ব্যাগ ও স্কুলের পোশাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে শুরু হবে।
রুমন জানান, পাটশিল্পকে রক্ষা এবং পরিবেশকে দূষণের হাত থেকে মুক্ত করতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সাংবাদিকদের বলেন, আগামী জুলাই থেকে প্রতিটি উপজেলায় দুইটি করে স্কুলে এই কর্মসূচি শুরু হবে। এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পের স্কুল নির্বাচন করবে স্থানীয় প্রশাসন।
মাহদী বলেন, প্রথম মাসে এক লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পাটের স্কুল ব্যাগ ও ড্রেস দেওয়া হবে। সরকারের এই কার্যক্রমে প্রথম ধাপে প্রতি উপজেলার ২টি স্কুল পাবে। পর্যায়ক্রমে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পাবে।
তিনি আরও জানান, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের ব্যবহার উৎসাহিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি স্থানীয় শিল্পের প্রসার ঘটাবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা ও ন্যায্যতার বার্তা ছড়িয়ে দেবে। এই উদ্যোগ ধনী-দরিদ্র বৈষম্য কমাতে ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে ও ব্যয়ে তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় করে কাজ করবে।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, পাট শিল্পের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনাই আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য। পলিথিনের কারণে যে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, সেখান থেকে জনগণকে সরিয়ে নিয়ে আসতে শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব পণ্য পৌঁছে দিতে এই কর্মসূচি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
১৫ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্কাউটের কার্যনির্বাহী কমিটির সাক্ষাৎ
বাংলাদেশ স্কাউটের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, বুধবার (২২ এপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সম্মেলনকক্ষে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি আরও জানান, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।
রুমন জানান, সাক্ষাৎকালে স্কাউটের নেতারা তাদের চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী স্কাউটের কর্মপরিকল্পনা শুনেছেন এবং তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ, দেশপ্রেমিক ও মানবিক নাগরিক হিসেবে তুলতে স্কাউটিং আন্দোলনের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
প্রতিনিধিদল আগামী ডিসেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য একটি আন্তর্জাতিক স্কাউট সম্মেলন সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীকে একটি স্কাউট স্কার্ফ পরিয়ে দেওয়া হয়।
এ সময় স্কাউট প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন এবং এসব কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারের ধারাবাহিক সহযোগিতা কামনা করেন।
বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. এহসানুল হকসহ জাতীয় স্কাউটের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
১৭ ঘণ্টা আগে
ফাতেমা এখন আমাদের পরিবারের সদস্য: প্রধানমন্ত্রী
সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের পরিচারিকা ফাতেমা বেগমকে নিয়ে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফাতেমা এখন আমাদের পরিবারেরই একজন সদস্য হয়ে উঠেছেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) সম্মেলন-২০২৬’-এ ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, একটি নামের সঙ্গে মনে হয় আপনারা সবাই না হলেও বেশ কিছু মানুষ পরিচিত আছেন, ফাতেমা। এই মেয়েটি আমার আম্মার (খালেদা জিয়া) সঙ্গে জেলেও ছিলেন। যেহেতু আম্মা অসুস্থ ছিলেন। সে অনেকদিন অনেক বছর ধরে আছে, আমাদের পরিবারের একজন সদস্য হয়ে গিয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এই সম্মেলনের আয়োজন করে, যেখানে সারা দেশ থেকে ৫০০-এর বেশি ইউএইচএফপিও অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছয়টি ক্যাটাগরিতে সেরা পারফরম্যান্সকারী কর্মকর্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
সাম্প্রতিক একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ফাতেমার এক আত্মীয় দুদিন আগে বরিশালে তার বাড়িতে প্রসবকালীন জটিলতার সম্মুখীন হন। তখন তাকে বরিশাল হাসপাতালে নেওয়া হলো। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা বিভিন্ন জটিলতার কথা উল্লেখ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, তিনি পরে তার স্ত্রীর মাধ্যমে জানতে পারেন যে স্থানীয় পর্যায়ে, এমনকি কিছু মৌলিক চিকিৎসাও প্রদান করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, তারা তাকে সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। ফাতেমা বিষয়টি আমার স্ত্রীকে জানান এবং আমার স্ত্রী কয়েকজন মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, যার ফলে তার সেই আত্মীয় উন্নত চিকিৎসা পেতে সক্ষম হন।
তবে এমন সুযোগ সবার জন্য নেই উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ তারেক রহমান বলেন, সবাই তো আর ফাতেমা নন, আর সবাই তার আত্মীয়ও নন। সেই পরিচয়ের কারণে আমার স্ত্রী বিষয়টি জানতে পেরেছিলেন এবং তদারকি করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্তরা যদি আরও একটু মনোযোগী হতেন, তবে অনেক জটিলতা এড়ানো সম্ভব হতো। দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা যদি একটু বেশি সতর্ক এবং যত্নশীল হতেন, তবে সব না হলেও অন্তত বড় ধরনের অনেক সমস্যাই এড়ানো যেত।
তিনি স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরও দায়িত্বশীল এবং সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, এই দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমি আপনাদের অনুরোধ করছি, আমাদের এবং সরকারকে সহায়তা করুন যাতে ফাতেমার ঘটনার মতো কাউকে ব্যক্তিগত পরিচয়ের ওপর নির্ভর করতে না হয়। প্রত্যেকটি মানুষ যেন অন্তত মৌলিক স্বাস্থ্যসেবাটুকু পায়।
আরও মানবিক এবং জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে দেশের সর্বত্র ন্যায্য ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি।
৪ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিচলিত না হয়ে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিচলিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে বাহুল্যতা বর্জন এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে অমিতব্যয়িতা পরিহার করার অনুরোধ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সব দেশে তেল-ডিজেলের দাম বাড়ানো হলেও আমরা জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এখন পর্যন্ত এ সিদ্ধান্তটি নিইনি। এ খাতে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে হলেও সরকার চেষ্টা করছে আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে।
তিনি বলেন, জনগণের সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কারণ বর্তমান সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার।
তিনি আরও বলেন, আমি আশ্বস্ত করতে চাই, জনগণের বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে আমরা যেন সবাই রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে, এমনকি পারিবারিক পর্যায়ে অমিতব্যায়িতা পরিহার করি, তার জন্য আমি দেশের সব মানুষকে অনুরোধ জানাচ্ছি।
দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে কারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি, দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসনকাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
দেশে বর্তমানে এক বিশাল সংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে। কর্মক্ষম এই জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করাই এই মুহূর্তের বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারপ্রধান বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায়ও বিপর্যয় নেমে আসে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরেনি দুঃখজনকভাবে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে দেশে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক এবং কর্মমুখী করতেই হবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করার কাজটিও আমরা ইতোমধ্যেই শুরু করে দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, নারীদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে না পারলে আমাদের কোনো উদ্যোগই সহজে সফল হবে না। এভাবে প্রতি খাতকে চিহ্নিত করে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে সরকার।
৬ দিন আগে
সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়: প্রধানমন্ত্রী
সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয় বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই এই বাহিনীর একমাত্র পবিত্র দায়িত্ব। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দল ও মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশকে ধারণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
রবিবার (১২ এপ্রিল) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর দরবার হলে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, পরিবার কিংবা দলের সম্পত্তি নয়। সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের শক্তি এবং মর্যাদার প্রতীক। রাষ্ট্রীয় সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জনগণের অবিচল আস্থাই হতে হবে সশস্ত্র বাহিনীর পথ চলার প্রধান ভিত্তি। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই আমাদের প্রতিটি সদস্যের একমাত্র এবং পবিত্র দায়িত্ব।
তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে নানা ঘটনা ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই ঘটনার মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে বাহিনীকে বিতর্কিত করার প্রচেষ্টা দেখা গেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী এবং অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো আমলে সেনাবাহিনীর ভূমিকা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সেনাবাহিনী স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। ভবিষ্যতের নির্বাচনসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাহিনীর ভূমিকা আরও স্বচ্ছ ও পেশাদার হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময় থেকে সেনাবাহিনীর মধ্যে যে দেশপ্রেম ও শক্তিশালী মনোভাব গড়ে উঠেছিল, তা অব্যাহত রাখা জরুরি। একটি ঐক্যবদ্ধ সশস্ত্র বাহিনী থাকলে বাংলাদেশকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণকে একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের সময়েই এই অর্জন আন্তর্জাতিকভাবে আরও উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
সরকারপ্রধান বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কেবল যুদ্ধকালীন প্রয়োজনেই একটি অবশ্যম্ভাবী শক্তি নয়, বরং দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রীয় সীমানার বাইরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সদস্য হয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায়ও বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীর ভূমিকা বিশ্ব-স্বীকৃত।
তিনি বলেন, আমরা এমন এক সশস্ত্রবাহিনী চাই যাদেরকে বহি:শক্তি সমীহ করবে আর দেশের জনগণ আস্থায় রাখবে। পেশাদারত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস না করে সশস্ত্রবাহিনীকে সবসময় একটি সুউচ্চ আদর্শিক অবস্থানে থাকতে হবে।
এদিন অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
দরবারে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন।
বিশেষত, গত ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী সময় থেকে এখন পযর্ন্ত দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিনি সশস্ত্র বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কর্তৃক সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
দরবারে ঢাকায় অবস্থানরত সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানে অবস্থানরত সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন।
১০ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে নতুন সরকারের প্রথম একনেক সভা শুরু
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বর্তমান সরকারের অধীনে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) প্রথম বৈঠক শুরু হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন ও আলোচনার জন্য উপস্থিত রয়েছেন।
১৬ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকটি বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে জনস্বাস্থ্য, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন, পল্লী উন্নয়ন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ব্যবসা সহজীকরণ, প্রযুক্তি অংশীদারত্ব এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর আলোকপাত করা হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় ডেপুটি হাই কমিশনার পবন বাধে উপস্থিত ছিলেন।
১৬ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র হলেন মাহদী আমিন ও সালেহ শিবলী
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম সালেহ (সালেহ শিবলী)।
রবিবার (৫ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬-এর ২৮ (৪) বিধি মোতাবেক মাহদী আমিন এবং সালেহ শিবলী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সরকারি তথ্য প্রেস, মিডিয়া এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে প্রদান ও প্রচারের জন্য মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদাপ্রাপ্ত উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং দলটির মুখপাত্র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নির্বাচনের সময় গুলশানে দলের নির্বাচনি কার্যালয় থেকে তিনি নিয়মিত বিভিন্ন বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরতেন।
অন্যদিকে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সরকার সালেহ শিবলীকে সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়। এর আগে, ৩ জানুয়ারি তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রেস সচিব নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি গত কয়েক দশক ধরে তারেক রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে কাজ করছেন।
সালেহ শিবলী এর আগে বার্তা সংস্থা ইউএনবি, দৈনিক মানবজমিন, দৈনিক বাংলাবাজার, রেডিও টুডে এবং চ্যানেল আইসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। চার দলীয় জোট সরকারের আমলে তিনি কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনে প্রথম সচিব (প্রেস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
১৭ দিন আগে
উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সব ধর্মের মানুষের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও ভালো বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (৫ এপ্রিল) পবিত্র ইস্টার সানডে উপলক্ষে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মন্ত্রিসভাকক্ষে প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ফেডারেশন অব প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চেস ইন বাংলাদেশের সভাপতি বিশপ ফিলিপ পি অধিকারীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল দুপুর পৌনে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অনুষ্ঠানে তিনি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন দেশটাকে গড়ার লক্ষ্যে সব ধর্মের মানুষ, সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ সবাইকে নিয়ে সুখী, সমৃদ্ধ একটা ভালো বাংলাদেশ গড়তে একযোগে কাজ করতে হবে—এই লক্ষ্য নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই।
নিজের সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তারেক রহমান বলেন, আমরা সব ধর্মের মানুষকে এক চোখে দেখি এবং সবাইকে ভালোবাসি একরমভাবে। আমরা বিশ্বাস করি, ধর্ম যার যার, দেশটা সবার।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়েছে। একটা কথা প্রচলিত ছিল যে, অন্য ধর্মের মানুষজন বিএনপিকে ভোট দেয় না। এটা এবারের নির্বাচনে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপিকে সব ধরনের মানুষ ভোট দিয়ে জয়ী করেছে।
পূর্ববর্তী সরকারের আমলের দেশের অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে বিএনপি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, তখন দেশের ভঙ্গুর দশা ছিল। অর্থনৈতিক খাতে ভঙ্গুর অবস্থা, যোগাযোগখাতে ভঙ্গুর দশাসহ বিভিন্ন সেক্টরে যে অবস্থা বিরাজ করছিল মনে হয়েছে একটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের দায়িত্ব নিয়েছি।
এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারের প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন।
১৭ দিন আগে
ইস্টার সানডেতে প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়
পবিত্র ইস্টার সানডে উপলক্ষে প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যালয়ে এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি।
খ্রিস্টানধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব ইস্টার সানডে মূলত যীশু খ্রিস্টের পুনরুত্থানকে স্মরণ করে পালিত হয়। সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ গভীর শ্রদ্ধায় এই দিনটি পালন করে থাকেন।
দিবসটিকে আশা, পুনর্জাগরণ এবং হতাশার বিরুদ্ধে বিজয়ের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রার্থনা, সামাজিক মিলনমেলা এবং আর্তমানবতার সেবামূলক কাজের মাধ্যমেই এই উৎসবের মূল উদযাপন সম্পন্ন হয়।
১৭ দিন আগে