ময়মনসিংহ
জামালপুরে অটোরিকশা-ভটভটি সংঘর্ষে নিহত ২
জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ সড়কের মেলান্দহ উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ভটভটির সংঘর্ষে দুই নারী নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার বেতমারি গ্রামের কাছে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত দুইজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আহতরা হলেন— দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কাঠারবিল এলাকা বাসিন্দা মজিবর (৫৫), জীবন মিয়া (৩৫) ও তুষার (৩৮) ।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার সময় দেওয়ানগঞ্জ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জামালপুর যাচ্ছিল। অটোরিকশাটি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ভটভটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশায় থাকা ৫ জন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে হাসপাতালে নিয়ে যান।
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. উজ্জ্বল কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে দুই নারী হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যুবরণ করেন। বাকি তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান ডা. উজ্জ্বল কুমার সরকার।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম মাহমুদুল হক বলেন, দুর্ঘটনায় দুই নারী নিহত হয়েছেন। খবর পাওয়ার পরপরই জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৪ ঘণ্টা আগে
ময়মনসিংহে চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই
ময়মনসিংহের সদর উপজেলায় অটোরিকশাচালককে কুপিয়ে হত্যা করে তার অটোরিকশা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাত ১২টার দিকে সদর উপজেলার শম্ভুগঞ্জ-পরানগঞ্জ সড়কের ৬ নম্বর চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়নের চর হরিপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত চালকের নাম রাজিব ইসলামকে (২৫)। তিনি নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঈশ্বরদিয়া ছাইতান কান্দা এলাকার এবাদুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গতকাল (শনিবার) রাত সাড়ে ১১টার দিকে একটি ছিনতাইকারী চক্র শম্ভুগঞ্জ থেকে জয়বাংলা বাজারে যাওয়ার কথা বলে রাজিবের অটোরিকশা ভাড়া করে। পথিমধ্যে তারা চর হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়-সংলগ্ন নির্জন স্থানে পৌঁছালে চালককে কুপিয়ে হত্যা করে তার অটোরিকশাটি ছিনতাই করে।
এ সময় তাদের পেছনে আসা অন্য একটি অটোরিকশার চালক ও যাত্রীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে। তবে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ছিনতাইকারীরা রাজিবকে হত্যা করে মরদেহ সড়কের পাশে ফেলে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
খবর পেয়ে রাতেই সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান শাকিল ও কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ওসি শিবিরুল ইসলাম বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, অটোরিকশা ছিনতাই করতেই চালককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অটোরিকশাটি ছিনতাইকারীরা নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
১০ ঘণ্টা আগে
ভালুকায় ইটিপি ট্যাংক পরিষ্কার করতে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে দুই শ্রমিকের মৃত্যু
ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি সিরামিকস কারখানার নির্মাণাধীন ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) পরিষ্কার করতে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পাড়াগাঁও এলাকায় অবস্থিত এক্সিলেন্ট সিরামিকস কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার নকসা গ্রামের ফারুক গাজীর ছেলে ও মেকানিক্যাল ওয়েল্ডার শফিকুল ইসলাম (২৮) এবং নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়ি উপজেলার বল্লী গ্রামের কুহিল মিয়ার ছেলে ও সিভিল হেলপার রুমেল মিয়া (২৫)।
সহকর্মীদের অভিযোগ, কাজ করার সময় প্রথমে শফিকুল ইসলাম ইটিপি প্ল্যান্টের ট্যাংকে নামেন। বেশকিছু সময় তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রুমেল মিয়া নিচে নামেন। তিনিও বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে অন্য শ্রমিকরা তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে এর আগেই কারখানা কর্তৃপক্ষ অসুস্থ দুই শ্রমিককে উদ্ধার করে মমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ দুটি বর্তমানে মমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ময়মনসিংহ শিল্প পুলিশ-৫-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনছার উদ্দিন বলেন, এ ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে কারখানা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি বা উদ্ধারকাজে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১ দিন আগে
শেরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় অটোরিকশাচালকসহ নিহত ২
শেরপুরে নালিতাবাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় অটোরিকশাচালক ও এক যাত্রী নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সড়কের নালিতাবাড়ী উপজেলার সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন— নালিতাবাড়ীর বাঘবের খড়িয়াপাড়া গ্রামের একদিল হোসেনের ছেলে অটোরিকশাচালক কামরুল হোসেন (৪০) ও সালেহাবাদ কৃষ্ণপট্টি গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে অটেরিকশার যাত্রী শহিদুল ইসলাম (৪০)।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গতকাল (শুক্রবার) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঢাকা থেকে নালিতাবাড়ী শহরে পৌঁছান শহিদুল ইসলাম। পরে তিনি কামরুল হোসেনের অটোরিকশা নিয়ে পাঁচগাঁও এলাকার সাগরদী কৃষ্ণপট্টিতে তার শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে শেরপুর-নালিতাবাড়ী সড়কের সন্নাসীভিটা এলাকায় বাঘবেড় ইউনিয়ন পরিষদের সামনে তাদে অটোরিকশাটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। সেখানে সড়কের পাশে রাখা বালুর স্তুপের কাছে দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া অটোরিকশা ও দুইজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া অটোরিকশা ও মরদেহ দুটি উদ্ধার করে নালিতাবাড়ী থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, রাতের আঁধারে সড়কের পাশে রাখা বালুর স্তুপে অটোরিকশাটি সজোরে ধাক্কা লেগে কিংবা অজ্ঞাত কোনো ভারী যানবাহনের ধাক্কায় অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
নালিতাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হান্নান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। গতকাল দিবাগত রাতে নালিতাবাড়ী শহর থেকে অটোরিকশাটি পাঁচগাও যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাক কিংবা বাসের ধাক্কায় অটোরিকশাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে।
তিনি বলেন, মরদেহ দাফনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিহতদের মরদেহ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর বিনা ময়নাতদন্তে আজ (শনিবার) দুপুরে নিজ নিজ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
১ দিন আগে
শেরপুরে নদ-নদীতে পানিবৃদ্ধি, ভাঙনে বিলীন ৬৫ বসতভিটা
ভারী বর্ষণ থামলেও উজানের ঢলে নদ-নদীতে পানি বাড়ায় শেরপুরে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নকলা উপজেলার চরমধুয়া নামাপাড়া ও শ্রীবরদী উপজেলার কেকেরচর ইউনিয়নের গড়পাড়া গ্রামে নদীতীরবর্তী অন্তত ৬৫টি পরিবারের বসতভিটা, আবাদি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে স্থানীয় একটি স্কুল, মাদরাসা, মসজিদসহ আরও কয়েকটি স্থাপনা।
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে জনপদ। সব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। নদীভাঙন রোধে জরুরি সহায়তার আকুতি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উজানের ঢলে মৃগী নদীতে পানি বাড়ায় নকলা উপজেলার চরমধুয়া নামাপাড়া এবং শ্রীবরদী উপজেলার কেকেরচর ইউনিয়নের গড়পাড়া গ্রামে এ ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এদিকে, পাহাড়ি ঢলে চেল্লাখালি নদীর ভাঙনে শেরপুর-নালিতাবাড়ী ভায়া গাজীরখামার সড়কের গোল্লারপাড় এলাকায় প্রায় ১০০ ফুট পাকা রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ৫০০ বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে সড়কটি রক্ষার কাজ চলছে।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃগী ও চেল্লাখালি নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবীরও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে বিধ্বস্ত সড়ক জরুরি মেরামতের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, পরবর্তীতে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বাঁধ সংস্কারসহ রাস্তাঘাটের টেকসই উন্নয়ন করা হবে।
৩ দিন আগে
ময়মনসিংহে মিন্টু হত্যা মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনের যাবজ্জীবন
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ময়মনসিংহের ভালুকায় দলিল লেখক আবু জাকারিয়া মিন্টু হত্যা মামলায় দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে এ আদেশ দেন। সেই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ৩০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজাপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— ভালুকার নারাঙ্গীর বাসিন্দা মো.মাসুদ মিয়া (৪১) ও মো. ফরিদ খলিফা (৪৮)।
এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা পেয়েছেন: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ফরিদ খলিফার ভাই আব্দুস ছামাদ (৬৮) ও ভাতিজা আব্দুল মতিন (৪৫); মো. মোশারফ হোসেন (৫৮) ও তার ভাই মো. মোখলেছুর রহমান (৫৩); মো. মোফাজ্জল হোসেন (৫৮) ও তার ভাই তোফাজ্জল হোসেন (৪৮); মো. নাজমুল মিয়া (৪৩), মো. শাহজাহান আকন্দ (৪৮) ও তার ভাই মো. আতিকুল আকন্দ (৩৯) এবং মো. সিদ্দিক মিয়া (৬৩)। আদালতে সব আসামি উপস্থিত থাকলেও সিদ্দিক মিয়া পলাতক রয়েছেন।
বিশেষ দায়রা জজ আদালতের স্টোনোগ্রাফার হাফিজুর রহমান জানান, জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট সকালে ভালুকার নারাঙ্গী এলাকায় দলিল লেখক আবু জাকারিয়া মিন্টুর ওপর তার প্রতিবেশীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান। পরে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই নিহত মিন্টুর স্ত্রী লতিফা খাতুন ভালুকা মডেল থানায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এরপর পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।
মামলার তদন্ত, ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা, আইনজীবীদের তর্ক, শুনানী শেষে আদালতে বিচারক এ আদেশ দেন বলে জানান হাফিজুর রহমান।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. আকরাম হোসেন এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী এ এইচ এম খালেকুজ্জামান মামলাটি পরিচালনা করেন।
৪ দিন আগে
ময়মনসিংহে শিশু নিছামনি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় চাঞ্চল্যকর পাঁচ বছরের শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নদীতে ফেলে হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সেইসঙ্গে তাদের দুই লাখ টাকা করে জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক সুদীপ্তা সরকার এই রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— আরিফ, রাকিব ও সিয়াম। এই মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক অপর আসামি মারুফকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুন বিকেলে ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে শিশু নিছামনিকে ধর্ষণের পর নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়। পরদিন ১৫ জুন নিছামনির বাবা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় মামলা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) বজলুল করিম চৌধুরী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে মামলার মাত্র ৯ দিনে ৪ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঘটনার ২৫ দিনের মধ্যে আদালত তিন আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, রায়ে নিছামনির বাবা-মা সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন। তারা এই রায় কার্যকর করতে সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান।
নিছামনির মা বলেন, ‘এই রায় দ্রুত কার্যকর হলে আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে। আমার মতো আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়।’
বাবা তাজু মিয়া বলেন, আমার মেয়ের বয়স ছিল ৪ বছর ৭ মাস। এই বয়সের একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যার পর পানিতে ফেলে দেয়। এই ঘটনা যে শুনেছে, সে-ই কেঁদেছে। আমি দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই এবং সরকার যেন এই রায় দ্রুত কার্যকর করে, সেই দাবি জানাই।
তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন সরকার।
১০ দিন আগে
ময়মনসিংহে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে নিহত ১
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে আব্দুল বারেক আকন্দ ওরফে মজনু মুন্সি (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
রবিবার (৫ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের বয়ড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মজনু মুন্সি ওই ইউনিয়নের দুর্বারচর গ্রামের আব্বাস আলী আকন্দের ছেলে। তার ছেলে জহরুল ইসলাম আকন্দ কুমিল্লা সীমান্তে বিজিবির সদস্য হিসেবে কর্মরত আছেন।
নিহতের ছেলে জানান, গতকাল (রবিবার) রাতে স্থানীয় বয়ড়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে একদল কিশোর গ্যাং তার বাবার পথরোধ করে। তাদের চিনে ফেলায় দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে তার বাবা দুর্বারচর পশ্চিমপাড়ার তিনজনের নাম উল্লেখ করে গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, তার বাবা বয়ড়া বাজার থেকে ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা অন্য কাউকে ছিনতাই বা হত্যার উদ্দেশ্যে ওঁৎ পেতে ছিল। এ সময় ভুলবশত তারা তার বাবার পথরোধ করে। পরে তাকে বুকে ও পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়।
নিহতের ছেলের অভিযোগ, হামলার পর দুর্বৃত্তদের একজন তার বাবার মোবাইল ফোন থেকে তাকে ফোন দেয়। এ সময় প্রায় ১৩ সেকেন্ড কলটিতে সংযোগ থাকলেও তারা কোনো কথা বলেনি। পরে একই নম্বর থেকে তার বোন মাহিয়া আক্তার বৃষ্টিকে ফোন করে একজন বলেন, আপনার বাবাকে আমি মারিনি, আরেকজন ছুরি মেরেছে।
এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৩ দিন আগে
জামালপুরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৭ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: বকশীগঞ্জ উপজেলার রাশেদুর রহমান, বিজু মিয়া, বাদশা মিয়া, জসিম মিয়া, আজমত আলী, মনিরুজ্জামান ও আশরাফুল ইসলাম। তাদের বাড়ি বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৫ মে রাতে অটোরিকশায় চড়ে ঝগড়ারচর বাজার থেকে জানকীপুর মাজালিয়ায় বাড়ি ফিরছিলেন ওই গৃহবধূ। পথে নিলক্ষিয়া বাজারের কাছে অটোরিকশাচালকের সহায়তায় কয়েকজন তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তারা ভুক্তভোগীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন।
পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাত সাড়ে ৪টার দিকে তার স্বামী নিলক্ষিয়া বাজার এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় বকশীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করা হয়।
তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিজ্ঞ বিচারক ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই মামলায় ইদ্রিস আলী নামে এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ফজলুল হক। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মোকাম্মেল হক।
১৩ দিন আগে
ময়মনসিংহে যুবককে জবাই করে হত্যার অভিযোগ, আটক ২
ময়মনসিংহ নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ছত্রিশ বাড়ী কলোনি এলাকায় রুবেল (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে ও জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করা হয়েছে।
রবিবার (৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ছত্রিশ বাড়ী কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ সুপারসহ পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
নিহত যুবকের নাম মিজানুর রহমান রুবেল ওরফে কাইল্যা রুবেল। তিনি ওই এলাকায় মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আজ (রবিবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রুবেল নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ছত্রিশ বাড়ী কলোনির একটি ভাড়া বাসায় তার নিজ ঘরে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার ঘরে ঢুকে প্রথমে বাঁশ দিয়ে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে তারা তাকে জবাই করে ঘরের ভেতর ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয়রা রুবেলকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে এই ঘটনাটি ঘটতে পারে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করা হয়েছে। প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যহত আছে।
১৪ দিন আগে