মধ্যপ্রাচ্য
মোজতবা খামেনি সম্ভবত জীবিত, তবে গুরুতর আহত: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্ভবত এখনো জীবিত আছেন, তবে সম্প্রতি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার পর তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, হামলার সময় খামেনি আহত হয়ে থাকতে পারেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
ফক্স নিউজের উপস্থাপক ব্রায়ান কিলমিডকে ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি, তিনি জীবিত আছেন। আমার মনে হয় তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন, তবে কোনো না কোনোভাবে তিনি সম্ভবত বেঁচে আছেন।
গত বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে খামেনির পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রচার করার পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম বার্তা।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে সাইপ্রাসে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন। ওই হামলায় তার বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হন।
রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য মার্কিন গণমাধ্যমের আগের সেই প্রতিবেদনগুলোরই প্রতিধ্বনি, যেখানে বলা হয়েছিল, হামলায় মোজতবা খামেনি জখম হয়েছেন।
৬ ঘণ্টা আগে
লেবাননে ইসরাইলের বিমান হামলায় নিহত ৮, বাস্তুচ্যুত বহু মানুষ
লেবাননের বৈরুতে রামেত আল বাইদা উপকূলে বিমান হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ৩১ জন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইসরায়েল এ হামলা চালায় বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে প্রকাশিত এক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পাম-লাইনড সমুদ্র তীরে কয়েকটি জানালা ভাঙা গাড়ি, কতিপয় অ্যাম্বুলেন্স এবং বেশ কিছু মানুষ বিধস্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন।
ওই এলাকাটিতে সৈকত থাকায় ঘনবসতি রয়েছে। ইসরায়েলি হামলার ফলে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইসরায়েলের আরবি ভাষার সামরিক মুখপাত্র আভিচায় আদরাইয়ের মতে, বৃহস্পতিবার সারা রাত লেবাননজুড়ে ‘হিজবুল্লাহর সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা’ শুরু করেছে ইসরায়েল।
তিনি বলেন, ইসরায়েলি সৈন্যরা প্রায় ডজনখানেক রকেট উৎক্ষেপণ স্থান ধ্বংসসহ বেশ কয়েকজন হিজবুল্লাহ সদস্যকে হত্যা করেছে। তারা ইসরায়েলে রকেট হামলার গোপন তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করছিল।
আদরাইয়ি আরও বলেন, বৈরুতের দক্ষিণ দিকে ‘সন্ত্রাসীদের সদর দপ্তর’ হিসেবে ব্যবহৃত কুখ্যাত ১০টি ভবনেও ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে।
১ দিন আগে
আহত হওয়ার গুঞ্জনের মধ্যে ‘নিরাপদে আছেন’ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা
ইরানে চলমান যুদ্ধের মধ্যে আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লেও ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি নিরাপদে এবং সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন ইরান সরকারের এক উপদেষ্টা।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ইউসেফ পেজেশকিয়ান তার ইনস্টাগ্রামে অনুসারীদের উদ্দেশে বলেন, তিনি মুজতবা খামেনির বিষয়ে জানতে বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। পরে সেখান থেকে তিনি নিশ্চিত হন যে মুজতবা খামেনির কোনো শারিরীক ক্ষতি হয়নি।
এর আগে, দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে খামেনিকে রমজান যুদ্ধের একজন আহত প্রবীণ যোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে সেখানে তার আঘাতের বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য বলা হয়নি।
২ দিন আগে
আঞ্চলিক দেশগুলো ইরানের শত্রু নয়, আলোচনায় ফেরার আহ্বান কাতারের
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানকে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আল-খুলাইফি বলেছেন, আঞ্চলিক দেশগুলো ইরানের শত্রু না। এভাবে হামলা চলতে থাকলে কাতার ও ওমান আর মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে না।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ বিন আল-খুলাইফি বলেছেন, ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর যে হামলা চালাচ্ছে, তা কারও জন্যই কোনো উপকার বয়ে আনবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো বোমা হামলার জবাবে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানিনির্ভর আঞ্চলিক অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
এ পরিস্থিতি নিয়ে কাতার অত্যন্ত উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন আল-খুলাইফি। তিনি বলেন, বিশেষ করে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলার ঘটনাগুলো নিয়ে কাতারের মানুষ গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখন যে পরিস্থিতিতে দাড়িয়ে আছি, তা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। আমরা বিশ্বাস করি, একটি টেকসই ও স্থায়ী সমাধানের পথ হলো আবার আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা।’
দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাতারের সার্বভৌমত্বকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করে—এমন অযৌক্তিক ও উস্কানিমূলক হামলাকে দোহা কঠোর ভাষায় নিন্দা জানায়। এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের সুরক্ষার জন্য সবধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেবে কাতার।
আল-খুলাইফি বলেন, এই সংঘাতের একটি বৈশ্বিক সমাধান প্রয়োজন, যাতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে। কারণ চলমান সংঘাতের কারণে সেখানে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ইরান কাতার ও ওমানের মতো দেশগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে, যারা অতীতে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে। এছাড়া এই দেশগুলো পূর্বে ইরান ও পশ্চিমাদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির চেষ্টা করেছে। তবে হামলা চলতে থাকলে কোনো দেশই আর চুপ করে বসে থাকবে না বলেও জানান তিনি।
আল-খুলাইফি জানান, কয়েক দিন আগে ইরানের সঙ্গে ফোনালাপে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল তানি তেহরানকে এই বিষয়গুলোই বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। সে সময় তিনি ইরানকে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে আল-খুলাইফি বলেন, ‘আঞ্চলিক দেশগুলো ইরানে শত্রু নয়। কিন্তু ইরান এই বিষয়টি বুঝতে পারছে না।’
তিনি আরও জানান, কাতার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে সহযোগী কূটনীতিকদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগের পথ সব সময় খোলা রয়েছে। আমরা সবসময় শান্তির পথকে উৎসাহিত করি এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংঘাত সমাধানের পক্ষে থাকি।’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি যে এই যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত দেশগুলো একটি সমাধানের পথ খুঁজে পাবে, সামরিক অভিযান বন্ধ করবে এবং তারা আবার আলোচনার টেবিলে ফিরে আসবে।’
২ দিন আগে
লেবাননে বিতর্কিত সাদা ফসফরাস ব্যবহার করে ইসরায়েলের হামলার অভিযোগ
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রামে বিতর্কিত অগ্নিসংযোগকারী রাসায়নিক ‘সাদা ফসফরাস’ ব্যবহার করে অবৈধভাবে গোলাবর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইট ওয়াচ।
সোমবার (৯ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ অভিযোগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
লেবাননের সাতটি ছবির ভৌগলিক অবস্থান যাচাইয়ের মাধ্যমে হিউম্যান রাইট ওয়াচ জানিয়েছে, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের ইয়োহমোর গ্রামে কামানের মাধ্যমে সাদা ফসফরাস নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সতর্কবার্তা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরপরই ঘটনাটি ঘটায়।
মানবাধিকার সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ঘটনার সময় এলাকায় কোনো বাসিন্দা ছিলেন কি না বা কেউ হতাহত হয়েছে কি না, তা তারা ভালোভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তবে এর আগে তারা বলেছিল, সাদা ফসফরাস তারা ধোঁয়ার আড়াল তৈরির জন্য ব্যবহার করেছে; সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষ্যে নয়।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাদা ফসফরাস ব্যবহার করা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ। এই রাসায়নিক পদার্থটি অত্যন্ত উত্তপ্ত অবস্থায় নিক্ষেপ করা হলে ভবনে আগুন লাগাতে পারে এবং মানুষের শরীর দগ্ধ হয়ে হাড় পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। এমনকি পোড়া ক্ষত সামান্য থাকলেও বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা সংক্রমণ, বিকলাঙ্গ হওয়া বা শ্বাসযন্ত্রের জটিলতার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
হিউম্যান রাইট ওয়াচের লেবানন-বিষয়ক গবেষক রামজি কাইস বলেন, ‘আবাসিক এলাকার ওপর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অবৈধভাবে সাদা ফসফরাস ব্যবহার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।’
হিউম্যান রাইট ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর মতো সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এক বছরেরও বেশি আগে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে শেষ যুদ্ধে দক্ষিণ লেবাননে অনেক সাধারণ মানুষ উপস্থিত থাকা অবস্থায়ও একাধিকবার এই ধরনের গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছিল।
৪ দিন আগে
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী
ইসারয়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন ও পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। আর এতে করে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ছে লাগামহীনভাবে।
সোমবার (৯ মার্চ) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছে গেছে। এতে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারেও বড় ধাক্কা লেগেছে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দিনের শুরুতে ব্যারেলপ্রতি ১১৯ দশমিক ৫০ ডলারে উঠে যায়। পরে অবশ্য তা কমে দাঁড়ায় ১০৭ দশমিক ৮০ ডলারে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হালকা ও স্বল্প সালফারযুক্ত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ব্যারেলপ্রতি ১১৯ দশমিক ৪৮ ডলারে উঠলেও পরে কমে ১০৩ ডলারে নেমে আসে।
যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে বেসামরিক স্থাপনাতেও। বাহরাইন অভিযোগ করেছে, ইরান তাদের একটি লবণমুক্তকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্টে হামলা চালিয়েছে, যা পানীয় জল সরবরাহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, ইসরায়েলের রাতভর হামলার পর তেহরানের তেলের ডিপোগুলোতে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।
যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পারস্য উপসাগর থেকে তেল ও গ্যাস উৎপাদন এবং পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলো এতে জড়িয়ে পড়ায় তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে।
তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি–৭-এর কিছু সদস্য বাজারের চাপ কমাতে কৌশলগত তেলের মজুদ ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশিত হলেও এখনও অবশ্য তা নিশ্চিত নয়। তবে খবরটি প্রকাশের পর তেলের দাম কিছুটা কমে আসে।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির কৌশলগত তেল মজুদ ব্যবহার করার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব না দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে পর্যাপ্ত জ্বালানি রয়েছে এবং শিগগিরই দাম কমে আসবে।
স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দেড় কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়, যা বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় কার্যত ওই প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ইরানের উত্তরে অবস্থিত এই প্রণালি দিয়ে সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানের তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়।
এদিকে, রপ্তানির সুযোগ কমে যাওয়ায় তেল উৎপাদক দেশগুলোর মজুদ ট্যাংক দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। ফলে ইরাক, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশ তেল উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রও তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যা সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বাড়ায় জ্বালানির মূল্যও বাড়ছে, যার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে অন্যান্য শিল্পে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এশিয়ার দেশগুলো এতে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এর আগে, সর্বশেষ ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর পর ব্রেন্ট ও মার্কিন ক্রুড তেলের দাম এ ধরনের উচ্চতায় উঠেছিল।
জ্বালানির উচ্চমূল্য সাধারণত মূল্যস্ফীতি বাড়ায়, যা পরিবার-পর্যায়ে বাজেটের ওপর চাপ ফেলে। এতে করে ভোক্তা খরচ কমিয়ে দেয়, আর এর ফলে দেশের অর্থনীতিতের বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সোমবার টোকিওর প্রধান শেয়ার সূচক নিক্কেই–২২৫ সূচক ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। অন্য বাজারগুলোরও অবস্থাও ছিল দুর্বল। যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার বাজারও ১ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি নিচে নেমে যায়।
শুক্রবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে যায় এবং ডাও জোন্স সূচক একপর্যায়ে ৯৪৫ পয়েন্ট পর্যন্ত পড়ার পর প্রায় ৪৫০ পয়েন্ট কমে লেনদেন শেষ হয়। নাসডাক কম্পোজিট সূচক কমে ১ দশমিক ৬ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত গ্যাসোলিনের দাম রবিবার গ্যালনপ্রতি ৩ দশমিক ৪৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় প্রায় ৪৭ সেন্ট বেশি বলে জানিয়েছে এএএ মোটর ক্লাব। একই সময়ে ডিজেলের দাম ছিল গ্যালনপ্রতি প্রায় ৪ দশমিক ৬০ ডলার, যা এক সপ্তাহে প্রায় ৮৩ সেন্ট বেড়েছে।
মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে বলেন, খুব বেশি সময় লাগবে না, গ্যাসোলিনের দাম আবার গ্যালনপ্রতি ৩ ডলারের নিচে নেমে আসবে।
তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট করে সময়ের হিসাব বলা কঠিন, তবে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতেও এটি কয়েক সপ্তাহের ব্যাপার মাত্র; কয়েক মাসের নয়।’
তবে বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীদের মতে, তেলের দাম যদি দীর্ঘ সময় ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকে, তাহলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রবিবার ভোরে তেহরানের তেল ডিপো ও একটি পেট্রোলিয়াম স্থানান্তর টার্মিনালে ইসরায়েলের হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর দাবি, ওই ডিপোগুলো ইরানের সেনাবাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছিল।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধের প্রভাব তেল শিল্পে আরও বিস্তৃত হতে পারে।
বর্তমানে ইরান প্রতিদিন প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করে, যার বেশিরভাগই চীনে যায়। যুদ্ধের কারণে এ রপ্তানি ব্যাহত হলে চীনকে অন্য উৎস থেকে তেল সংগ্রহ করতে হতে পারে, যা বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তেলের মতো না হলেও যুদ্ধের মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও বেড়েছে। রবিবার রাত পর্যন্ত প্রতি ১ হাজার ঘনফুট গ্যাসের দাম ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৩৩ ডলার, যা শুক্রবারের সমাপনী দামের (৩ দশমিক ১৯ ডলার) তুলনায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। গত সপ্তাহে এ দাম প্রায় ১১ শতাংশ বেড়েছিল।
৪ দিন আগে
মোজতবা খামেনিই হলেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর ঠিক এক সপ্তাহ পর তারই ছেলে মোজতবা খামেনিকে তাদের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মনোনীত করেছে ইরান।
মোজতবা খামেনিকে এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ৪৭ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে হবে।
স্থানীয় সময় রবিবার (৮ মার্চ) ৫৬ বছর বয়সী মোজতবাকে ধর্মীয় নেতারা তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করেন। ইরানের প্রভাবশালী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ নেতারা নতুন নেতার নাম ঘোষণার পরপরই তার প্রতি আনুগত্য ও সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরানের নিরাপত্তা কৌশল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি নতুন সর্বোচ্চ নেতার নেতৃত্বে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে অনুসরণ করা একটি ধর্মীয় ও জাতীয় দায়িত্ব।
মোজতবা খামেনি কখনও কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি বা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হননি। তবে গত কয়েক দশক ধরে তিনি তার বাবার ঘনিষ্ঠ বৃত্তে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং আইআরজিসির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবাকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে ইরানের শাসনব্যবস্থায় কট্টরপন্থি অংশটিই ক্ষমতা ধরে রেখেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদক আলি হাশেম মোজতবাকে তার বাবার দ্বাররক্ষক হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইস্যুতে তিনি তার বাবার অবস্থানই বজায় রাখেন। তাই আমরা একজন আপসহীন নেতাকেই প্রত্যাশা করছি, কোনো নমনীয়তা নয়।
তিনি বলেন, যদি এই যুদ্ধ শেষ হয় এবং তিনি তখনও বেঁচে থাকেন এবং তিনি দেশ পরিচালনা চালিয়ে যেতে সক্ষম হন, তাহলে ইরানের জন্য নতুন পথ খুঁজে বের করার বিশাল সম্ভাবনা থাকবে।
আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুতের পাবলিক পলিসি ফেলো রামি খুরি বলেন, মোজতবার নিয়োগ ইরানের অবিচ্ছিন্নতা নির্দেশ করছে, তবে নতুন নেতা যুদ্ধ শেষ করার জন্য আলোচনার চেষ্টা করেন কি না সেটি দেখার বিষয়।
তিনি বলেন, যেকোনো দিকেই দেখ, এটি প্রতিরোধের একটি পদক্ষেপ। ইরান মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বলছে, ‘তোমরা আমাদের ব্যবস্থা ধ্বংস করতে চেয়েছিলে? দেখ, যাকে হত্যা করেছ, তার চেয়েও কট্টর একজনকে আমরা নেতা বানিয়েছি।’
সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনকারী অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সদস্য হায়দারি আলেকাসির বলেন, প্রয়াত খামেনির পরামর্শ ছিল, ইরানের শীর্ষ নেতা এমন হওয়া উচিত যাকে শত্রু ঘৃণা করবে। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের একটি বক্তব্যের সূত্র ধরে বলেন, এমনকি ‘মহা শয়তান’ (যুক্তরাষ্ট্র) তার নাম উল্লেখ করেছে (যেখানে ট্রাম্প বলেছিলেন মোজতবা তার কাছে গ্রহণযোগ্য নন)।
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার আবারও ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের অনুমোদন ছাড়া ইরানের পরবর্তী নেতা বেশিদিন টিকবে না।
তবে ইরানের কর্মকর্তারা এই হস্তক্ষেপকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, শুধুমাত্র ইরানিরা তাদের দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারবেন।
ট্রাম্পের এই অবস্থান মোজতবাকে মনোনীত করার সিদ্ধান্তে আরও ক্ষোভ তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
‘এপস্টাইন গ্যাং’ নেতা নির্ধারণ করবে না
৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস রবিবার জানায়, আমেরিকা ও ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর নৃশংস আগ্রাসন সত্ত্বেও তারা নতুন নেতা নির্বাচনে এক মুহূর্তও দ্বিধা করেনি। তারা জানায়, ইমাম খোমেনি ও শহিদ খামেনির পথই বেছে নেওয়া হয়েছে এবং মোজতবা খামেনির নাম অব্যাহত থাকবে।
এর আগে, গত শুক্রবার ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের দাবির পাল্টা সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইরানের ভাগ্য কেবল গর্বিত ইরানি জাতি নির্ধারণ করবে, এপস্টাইন গ্যাং নয়। ( জেফরি এপস্টাইন ছিলেন একজন দণ্ডিত যৌন অপরাধী, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সম্পর্ক ছিল)।
মোজতবা খামেনি কুম শহরের রক্ষণশীল ধর্মগুরুদের তত্ত্বাবধানে পড়াশোনা করেছেন এবং হুজ্জাতুল ইসলাম (মধ্যম পর্যায়ের ধর্মগুরু) মর্যাদা অর্জন করেছেন।
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির স্থলাভিষিক্ত হয়ে ৩৭ বছর ধরে ইরানের নেতৃত্বদানকারী আলি খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইতোমধ্যেই খামেনির যেকোনো বিকল্পকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ কেবল তখনই শেষ হতে পারে, যখন ইরানের সামরিক বাহিনী এবং নেতাদের নিশ্চিহ্ন করা হবে।
এবিসি নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নতুন নেতা আমাদের কাছ থেকে যদি অনুমোদন না পান, তাহলে তিনি বেশিদিন টিকতে পারবেন না।
শুক্রবার ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবিকে উপহাস করেন।
অন্ধকার আকাশ
ইরানে যখন নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছিল, তখন তেহরানের আকাশ ছিল ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। ইসরায়েলি হামলায় রাজধানীর উপকণ্ঠের পাঁচটি তেল শোধনাগারে আগুন লাগার ফলে পুরো শহর বিষাক্ত ধোঁয়ায় ভরে যায়।
যুদ্ধের নবম দিনে আইআরজিসি দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ড্রোন ও ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের কাছে অন্তত ছয় মাসের সরঞ্জাম মজুত রয়েছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনি বলেন, ইরান এ পর্যন্ত কেবল প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের মিসাইল ব্যবহার করেছে, তবে সামনে আমরা আরও উন্নত ও দূরপাল্লার ক্ষেপনাস্ত্র ব্যবহার করব।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়টি নাকচ করেননি এবং তিনি যুদ্ধ জয়ের দাবি করে যাচ্ছেন।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই সংঘাত থামার কোনো সহজ পথ নেই। এটি আরও মাসখানেক বা তারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে।
৪ দিন আগে
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আরও ১২ জন নিহত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশই অবনতির দিকে যাচ্ছে। এরই মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আরও ১২ জন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (৮ মার্চ) ভোরে দেশটির রাজধানী বৈরুতে ও দক্ষিণ লেবাননে আবারও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের লেবানন শাখার কমান্ডারদের লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধের পরবর্তী ধাপের জন্য অনেক চমক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
এদিকে, একঝাঁক মিসাইল ও ড্রোন কুয়েতে আঘাত হানলে দেশটির দুই সীমান্তরক্ষী নিহত হয়েছেন।
শনিবার তেহরানে একটি তেল শোধনাগারেও হামলা চালায় ইসরায়েল। এক ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের আকাশে আগুনের লেলিহান শিখা উড়ছে। এটিই প্রথম কোনো বেসামরিক শিল্প প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইরানে কমপক্ষে ১ হাজার ২৩০ জন, লেবাননে ৩০০ জনেরও বেশি এবং ইসরায়েলে প্রায় ১০-১২ জন মানুষ নিহত হয়েছেন।
ইরানের এফ-১৪ যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে হামলা
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী রবিবার জানিয়েছে, তারা প্রাক-বিপ্লবী যুগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা ইরানের একঝাঁক যুদ্ধবিমানের ওপর হামলা চালিয়েছে। তেহরানের দক্ষিণে ইসফাহান বিমানবন্দরে থাকা এফ-১৪ বিমানগুলো ছিল ইরানি বিমান বাহিনীর প্রধান স্তম্ভ। তবে বিমানগুলো ধ্বংস হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেনি ইসরায়েল। এছাড়া তারা রাডার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় হামলার দাবিও করেছে।
বাহরাইনে হামলায় আহত ৩, পানি শোধন প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রবিবার সকালে বাহরাইনের মুহারাগ শহরের একটি বিশ্ববিদ্যালয় ভবনের ওপর ইরানের মিসাইল হামলায় ৩ জন আহত হয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি ড্রোন হামলায় তাদের একটি লবণাক্ত পানি শোধন প্ল্যান্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৫ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি: ভ্রমণ বিপর্যয়ে দিশেহারা হজযাত্রীরা
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে সৃষ্ট ভ্রমণ বিপর্যয়ে বিপাকে পড়েছেন ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যাওয়া হজযাত্রীরা। ইতোমধ্যে অনেক যাত্রী সেখানে আটকা পড়েছেন এবং ঘরে ফেরার বিকল্প পথ খুঁজছেন। আবার অনেককে তাদের পরিকল্পিত সফর পুরোপুরি বাতিল করতে হয়েছে।
ওমরাহ সম্পন্নকারী অনেকের মনেই ইসলামের পবিত্র স্থান দর্শনের অভিজ্ঞতার ওপর বিষাদের ছায়া ফেলেছে যুদ্ধ পরিস্থিতি।
ইন্দোনেশিয়ার হজ ও ওমরাহবিষয়ক উপমন্ত্রী দাহনিল আনজার সিমানজুন্তাকের মতে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পর্যন্ত ৫৮ হাজার ৮৬০ জনেরও বেশি ইন্দোনেশীয় ওমরাহযাত্রী সৌদি আরবে আটকা পড়েছেন।
তিনি জানান, আটকা পড়া যাত্রীদের হোটেল এবং ফ্লাইটের বাড়তি খরচের বোঝা কমাতে সরকার সৌদি কর্তৃপক্ষ এবং এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে। এছাড়া নিরাপত্তার খাতিরে আরও প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে তাদের ওমরাহ যাত্রা এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইচসান মার্শা একে একটি জরুরি মানবিক ও লজিস্টিক সমস্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আর্থিক ও মানসিক ধকল
সৌদি আরবে আটকা পড়া জানিরাহ ফারিস নামের এক ওমরাহযাত্রী ইন্দোনেশিয়ার আইনিউজ টিভিকে জানান, তার ফেরার ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়েছে এবং তার নতুন ফ্লাইট আগামী ১২ মার্চ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আটকা পড়া যাত্রী, বিশেষ করে যাদের এই বিলম্বের কারণে বাড়তি খরচ বহনের সামর্থ্য নেই, তাদের সাহায্য করার জন্য ইন্দোনেশিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
জানিরাহ বলেন, সবার পক্ষে হোটেলে অতিরিক্ত থাকার খরচ মেটানো সম্ভব নয়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মানসিক যন্ত্রণা। আমি খুব হতাশ, কারণ আমার সন্তানরা আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতি বছর, বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে লাখ লাখ মানুষ ওমরাহ করতে সৌদি আরব যান।
জেদ্দায় মালয়েশিয়ার কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ জারাইফ রাজা আব্দুল কাদির গত মঙ্গলবার দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা বারনামাকে জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার প্রায় ১ হাজার ৬০০ ওমরাহযাত্রী সৌদি আরবে আটকা পড়েছেন। তিনি জানান, যাত্রীরা ভালো আছেন। তার কার্যালয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি ২৪ ঘণ্টার অপারেশন রুম খুলেছে।
রবিবার পর্যন্ত সৌদি আরবের জেদ্দা এবং মদিনা থেকে অস্থায়ীভাবে যাত্রী ফেরত পরিষেবা পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস।
এদিকে, মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আটকা পড়া নাগরিক ও ওমরাহযাত্রীদের সরিয়ে নিতে কূটনৈতিক মিশন, আঞ্চলিক সরকার এবং এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে কাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলো ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ার যাত্রীদের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ হাব হিসেবে কাজ করে যা বর্তমানে এই যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত।
আকস্মিক পরিবর্তন ও পরিবারের পুনর্মিলন
৪৪ বছর বয়সী মিসরের নাগরিক মাগেদ খোলাইফ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (যেদিন যুদ্ধ শুরু হয়) সৌদি আরব থেকে কুয়েতে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার ফ্লাইট বাতিল হয়ে কয়েক দিন পিছিয়ে যায়।
তিনি বলেন, ওমরাহর আধ্যাত্মিক ও আনন্দময় পরিবেশ থেকে এটি ছিল এক আকস্মিক ও নেতিবাচক পরিবর্তন।
স্ত্রী ও শাশুড়িসহ আটকা পড়া খোলাইফ কুয়েতে থাকা সন্তানদের কাছে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কুয়েত থেকে পরিচিতদের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন, সেখানে সাইরেন এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। খোলাইফ বলেন, ‘সবাই খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল।’
পরে তিনি সড়কপথে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর মঙ্গলবার কুয়েতে পৌঁছালে পরিবারের সঙ্গে এক আবেগঘন পুনর্মিলন ঘটে তার। তিনি বলেন, ‘সন্তানদের চোখের সামনে দেখা এবং বুকে জড়িয়ে ধরার পর যতক্ষণ আমরা একসঙ্গে আছি, আর কী ঘটবে তা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা থাকে না।’
কঠিন সিদ্ধান্ত ও সফর বাতিল
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের বাসিন্দা ৪৭ বছর বয়সী জাভেদ খিজের জানান, তিনি তার পরিবারের ওমরাহ সফর বাতিল করেছেন। তুরস্ক ও কাতার হয়ে সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল তাদের।
তিনি বলেন, আমরা খবর দেখে বুঝতে পারছিলাম যে পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। সিদ্ধান্তটি (সফর বাতিল) কঠিন ছিল। কে জানে আগামী রমজানে আমি বেঁচে থাকব কি না? কোনো নিশ্চয়তা নেই।
ধর্মীয় আচারে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা
যুক্তরাষ্ট্র থেকে সপরিবারে ওমরাহ করতে আসা ৫২ বছর বয়সী মজিদ মুঘল বলেন, আমরা পবিত্র ভূমিতে (সৌদি আরব) আসাকে আল্লাহর ডাক হিসেবে গণ্য করি। রমজান মাসে আসাটা অনেক সওয়াবের কাজ। তবে যুদ্ধ শুরু হবে জানলে আসতেন না বলে জানান তিনি।
মুঘল জানান, সৌদি আরবে আসার পথে তারা হামলার খবর পান। অন্য রুটের অনেক যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়লেও তাদের ফ্লাইটটি স্বাভাবিকভাবেই অবতরণ করেছে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিক আছে, আলহামদুলিল্লাহ। এখানে কোনো সমস্যা নেই। রমজানের কারণে প্রচুর ভিড়, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও স্বাভাবিক দেখছি এবং আমরা অনিরাপদ বোধ করছি না।
এই পরিবারটি যুদ্ধের কথা ভুলে এখন রোজা, নামাজ এবং ধর্মীয় আচারে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে খবর থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের জন্য। দেশে থাকা আত্মীয়স্বজনদের বারবার আশ্বস্ত করতে হচ্ছে যে, তারা ভালো আছেন।
সবশেষে তাদের মনে বাড়ি ফেরা নিয়ে উদ্বেগ কাজ করছে। মুঘল বলেন, ফ্লাইটগুলো চালু আছে কি না, নিশ্চিত হতে আমরা প্রতিদিন ফ্লাইটের খুঁটিনাটি যাচাই করছি। আমার সন্তানদের স্কুলে ফিরতে হবে; আমাকেও কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।
৬ দিন আগে
খামেনির ছেলেই কি হচ্ছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা?
ইরানের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার দৌড়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিবেচিত হয়ে আসছেন। এমনকি গত সপ্তাহে যুদ্ধ শুরুর দিকে ইসরায়েলি হামলায় তার বাবার মৃত্যুর অনেক আগে থেকেই এই গুঞ্জন ছিল। তবে তিনি আগে কোনো সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেননি।
ইসলামিক রিপাবলিকের ভেতরে রহস্যময় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত মোজতবা খামেনিকে গত শনিবারের পর থেকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। সেদিন সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি বিমান হামলায় তার ৮৬ বছর বয়সী বাবা নিহত হন। ওই হামলায় মোজতবার স্ত্রী জহরা হাদ্দাদ আদেলও নিহত হয়েছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, মোজতবা খামেনি এখনও বেঁচে আছেন এবং ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত থাকায় তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানায়নি।
বিমান হামলার পর আলোচনায় খামেনিপুত্র
বাবার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম বারবার আলোচনায় আসছে। যদিও অতীতে এই বিষয়টির সমালোচনা করা হয়েছিল এই বলে যে, এটি ইরানের সাবেক বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের একটি ধর্মতান্ত্রিক সংস্করণ তৈরি করতে পারে।
কিন্তু বর্তমানে তার বাবা এবং স্ত্রীকে কট্টরপন্থিরা আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের শহিদ হিসেবে গণ্য করায়, ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর বয়োজ্যেষ্ঠ আলেমদের কাছে মোজতবার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্যানেলই দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে।
যিনিই নেতা হোন না কেন, তিনি বর্তমানে যুদ্ধে লিপ্ত ইরানি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ পাবেন এবং সেই সঙ্গে পাবেন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশাল ভাণ্ডার, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।
মার্কিনভিত্তিক চাপ প্রয়োগকারী গোষ্ঠী ‘ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরান’-এর মতে, মোজতবা খামেনি তার বাবার প্রশাসনে অনেকটা ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা রুহুল্লাহ খোমেনির ছেলে আহমেদ খোমেনির মতো ভূমিকা পালন করতেন, যা ছিল সহকারী, বিশ্বস্ত সহযোগী, দ্বাররক্ষক এবং ক্ষমতাধর মধ্যস্থতাকারীর এক সংমিশ্রণ।
ভিন্নমতের মাঝে জন্ম
১৯৬৯ সালে মাশহাদ শহরে মোজতবা খামেনির জন্ম। এটি ছিল ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের প্রায় ১০ বছর আগে, যখন তার বাবা শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিলেন।
আলি খামেনির জীবনীতে উল্লেখ আছে, একবার শাহের গোপন পুলিশ বাহিনী সাভাক তাদের বাড়িতে ঢুকে এই আলেমকে মারধর করে। খামেনির সন্তানরা তখন ঘুম থেকে জেগে উঠলে মোজতবা ও অন্যদের বলা হয়েছিল যে তাদের বাবা ছুটিতে যাচ্ছেন।
প্রয়াত খামেনির ভাষ্যমতে, তখন আমি বলেছিলাম, মিথ্যে বলার দরকার নেই। আমি তাদের সত্যিটা বলেছিলাম।
শাহের পতনের পর খামেনি পরিবার তেহরানে চলে আসে। মোজতবা পরবর্তীতে ইরান-ইরাক যুদ্ধে রেভল্যুশনারি গার্ডের হাবিব ইবনে মাজাহির ব্যাটালিয়নের হয়ে যুদ্ধ করেন। এ ইউনিটের অনেক সদস্যই পরে খামেনি পরিবারের সমর্থনে বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা পদে আসীন হন।
১৯৮৯ সালে তার বাবা সর্বোচ্চ নেতা হন। এরপর মোজতবা খামেনি এবং তার পরিবার ইরানের অনেক রাষ্ট্রীয় শিল্প এবং শাহের একসময়ের অন্যান্য সম্পদ থেকে তহবিল সংগ্রহকারী ফাউন্ডেশনগুলিতে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ডলার এবং ব্যবসায়িক সম্পদের মালিকানা পান।
বাবার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ক্ষমতার উত্থান
তেহরানে বাবার কার্যালয়ে কাজ করার মাধ্যমেই মোজতবার নিজস্ব ক্ষমতার উত্থান ঘটে। ২০০৮-০৯ সালের দিকে উইকিলিকস কর্তৃক প্রকাশিত মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তায় মোজতবাকে রাজপোশাকের পেছনের আসল ক্ষমতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। একটি নথিতে দাবি করা হয়, মোজতবা স্বয়ং তার বাবার ফোন ট্যাপ করতেন। তার প্রধান দ্বাররক্ষক হিসেবে কাজ করতেন এবং দেশের ভেতরে নিজস্ব ক্ষমতার বলয় তৈরি করছিলেন।
২০০৮ সালের একটি নথিতে বলা হয়েছিল, মোজতবাকে শাসনব্যবস্থার ভেতরে একজন সক্ষম ও শক্তিশালী নেতা এবং ব্যবস্থাপক হিসেবে দেখা হয়, যিনি ভবিষ্যতে জাতীয় নেতৃত্বের অন্তত একটি অংশের উত্তরাধিকারী হতে পারেন; তার বাবাও হয়তো তাকে সেই দৃষ্টিতেই দেখেন। তবে সেখানে তার থিওলজিক্যাল বা ধর্মীয় যোগ্যতার অভাব এবং বয়সের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের মতে, মোজতবা খামেনি রেভল্যুশনারি গার্ডের কুদস ফোর্স এবং বাসিজ বাহিনীর কমান্ডারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন—যারা গত জানুয়ারিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করেছিল।
২০১৯ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে বাবার আঞ্চলিক অস্থিরতা তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ দমনমূলক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কাজ করার অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মোজতবার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
সর্বোচ্চ নেতার ক্ষমতা এখন ঝুঁকির মুখে
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরানে সর্বোচ্চ নেতার পদে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘটনা আগে মাত্র একবারই ঘটেছে। প্রথম নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ৮৬ বছর বয়সে মারা যাওয়ার পর আলি খামেনি দায়িত্ব পেয়েছিলেন।
এখন নতুন নেতা এমন এক সময়ে দায়িত্ব নেবেন যখন ইসরায়েলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধ শেষ হয়েছে এবং মার্কিন-ইসরায়েলি জোট ইরানের পারমাণবিক হুমকি ও সামরিক শক্তি নির্মূল করতে চাইছে। একইসঙ্গে তারা আশা করছে, ইরানি জনগণও হয়তো এই ধর্মতন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।
ইরানের জটিল ক্ষমতা ভাগাভাগির এই ধর্মতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতাই হলেন কেন্দ্রবিন্দু এবং রাষ্ট্রের সব বিষয়ে তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি সামরিক বাহিনী ও রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রধান কমান্ডার। এই রেভল্যুশনারি গার্ড কেবল মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রতিরোধের অক্ষ এর নেতৃত্বই দেয় না, বরং ইরানের অর্থনীতি এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের ওপরও তাদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
৯ দিন আগে