মধ্যপ্রাচ্য
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বৃদ্ধি করছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন দফার শান্তি আলোচনা স্থগিত থাকা অবস্থায় এবং পূর্বনির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র একদিন আগে তিনি এই ঘোষণা দেন। এ পদক্ষেপের ফলে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত প্রশমিত হয়েছে।
দ্বিতীয় দফার এই আলোচনার আয়োজন করার পরিকল্পনা করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু তেহরান আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টায় সাড়া না দেওয়ায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পরিকল্পিত ইসলামাবাদ সফর স্থগিত করে হোয়াইট হাউজ।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে ট্রাম্পের এই ঘোষণায় ইরান এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে উভয় দেশই এর আগে সতর্ক করেছিল যে, কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে তারা পুনরায় লড়াই শুরু করতে প্রস্তুত।
উভয় দেশকে আলোচনায় বসাতে মরিয়া পাকিস্তান
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তান সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উভয় পক্ষকে দ্বিতীয় দফার যুদ্ধবিরতি আলোচনায় রাজি করাতে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
পরবর্তীতে শাহবাজ শরিফ পাকিস্তানের অনুরোধ সদয়ভাবে গ্রহণ করার জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলো এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন যে, আরও আলোচনায় বসবেন কি না সে বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি এর কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ডের’ কথা উল্লেখ করেন, যা মূলত ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধকেই ইঙ্গিত করে।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ সফর আপাতত স্থগিত করায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জারেড কুশনার মঙ্গলবার বিকেলে ওয়াশিংটনে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্প যেকোনো সময় তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেন। তবে ভবিষ্যতে কী ঘটবে সে বিষয়ে কোনো পূর্বাভাস দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, পুনরায় বিমান হামলা শুরু করা ছাড়াও ট্রাম্পের হাতে আরও বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে।
এখনও অনড় উভয় পক্ষ
এদিকে, যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণার আগে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন যে, বুধবারের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে প্রচুর বোমা বর্ষণ শুরু হবে। অন্যদিকে, ইরানের প্রধান আলোচক বলেছিলেন যে, তেহরানের কাছে রণক্ষেত্রের নতুন কিছু তুরুপের তাস রয়েছে যা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একজন ঊর্ধ্বতন কমান্ডার হুমকি দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলে তিনি এই অঞ্চলের তেল শিল্প ধ্বংস করে দেবেন। জেনারেল মজিদ মৌসাভি একটি ইরানি নিউজ সাইটকে বলেন, যদি দক্ষিণের প্রতিবেশীরা শত্রুকে ইরানের ওপর হামলা চালাতে তাদের স্থাপনা ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদনকে তাদের বিদায় জানাতে হবে।
আলোচনার কেন্দ্রে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ
জাতিসংঘে নিযুক্ত তেহরানের দূত মঙ্গলবার বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে প্রস্তুত বলে তেহরান কিছু সংকেত পেয়েছে।
রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি জানান, অবরোধের অবসানই ইরানের শান্তি আলোচনায় ফেরার প্রধান শর্ত। তিনি বলেন, যখন এটি ঘটবে, আমি মনে করি তখনই পরবর্তী আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
যুদ্ধের পূর্বে বিশ্বের ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালিটির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র এই অবরোধ আরোপ করেছিল।
এই প্রণালিতে ইরানের কঠোর অবস্থানের কারণে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অপরিশোধিত তেলের দাম মঙ্গলবার ব্যারেল প্রতি প্রায় ৯৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে, যা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরান আক্রমণের দিন) থেকে ৩০ শতাংশেরও বেশি।
যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ছিল। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, জাহাজগুলোকে আবারও কোনো বাধা ছাড়াই চলাচলের অনুমতি দিতে হবে।
গত সপ্তাহের শেষের দিকে ইরান জানিয়েছিল যে তারা ওয়াশিংটনের কাছ থেকে নতুন প্রস্তাব পেয়েছে, তবে তারা এটিও জানিয়েছিল যে দুই পক্ষের মধ্যে এখনও বড় ধরনের দূরত্ব রয়েছে গেছে।
ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি, তাদের আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীসমূহ এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের মতো ইস্যুগুলো নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় গত দফার আলোচনা ব্যর্থ হয়েছিল।
নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন বাহিনীর আরোহণ
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে, এশিয়ায় ইরানি অপরিশোধিত তেল পাচারের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে তল্লাশি চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে পেন্টাগন জানিয়েছে যে, মার্কিন বাহিনী কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ‘এম/টি টিফানি’ নামক জাহাজে আরোহণ করেছে।
দেশটির সামরিক বাহিনী জাহাজটিতে ঠিক কোথায় তল্লাশি চালানো হয়েছে তা জানায়নি, তবে জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী মঙ্গলবার টিফানি শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যবর্তী ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছিল। পেন্টাগনের বিবৃতিতে আরও বলা হয় যে, আন্তর্জাতিক জলসীমা নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজের জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় নয়।
এর আগে, গত রবিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি ইরানি কন্টেইনার জাহাজ জব্দ করেছিল, যা ছিল অবরোধ চলাকালীন প্রথম কোনো জাহাজ আটকের ঘটনা। তেহরানের যৌথ সামরিক কমান্ড এই সশস্ত্র অভিযানকে জলদস্যুতা এবং যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
আলোচনা নিয়ে আশাবাদী পাকিস্তান
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, ইরানও আলোচনার জন্য একটি প্রতিনিধি দল পাঠাবে। এর আগে, ১১ ও ১২ এপ্রিল প্রথম দফার আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছিল।
পাকিস্তান জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার মঙ্গলবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কূটনীতিকদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন। উল্লেখ্য, চীন ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার।
এদিকে, পুরো ইসলামাবাদজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করেছে এবং টহল বৃদ্ধি করেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন, মহাসচিব এই যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধিকে উত্তেজনা প্রশমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনীতি এবং আস্থা তৈরির একটি প্রয়োজনীয় সুযোগ সৃষ্টি করবে।
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হবে
লেবাননে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, গত শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির পর তারা প্রথমবারের মতো ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তারা একে ইসরায়েল কর্তৃক প্রকাশ্য ও নথিবদ্ধ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেছে।
তাদের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা এবং তাদের ঘরবাড়ি ও গ্রাম ধ্বংস করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে, তারা হিজবুল্লাহর রকেট লঞ্চারে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা দক্ষিণ লেবাননে একটি ‘বাফার জোন’ বা নিরাপদ অঞ্চল বজায় রাখতে চান—যেখানে অনেকগুলো গ্রামের বাসিন্দাদের এখনও ফিরে আসার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ইসরায়েলি, লেবাননি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, আগামী বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে। পর্দার আড়ালের এই আলোচনার গুরুত্ব বিবেচনায় তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দিয়েছেন।
গত সপ্তাহে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতরা সরাসরি কূটনৈতিক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। ইসরায়েল বলছে, এই আলোচনার লক্ষ্য হলো হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ এবং লেবাননের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে যৌথ হামলা চালানোর দুই দিন পর ইসরায়েল ও ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই শুরু হয়। লেবাননে এই লড়াইয়ে এ পর্যন্ত ২ হাজার ২৯০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে অন্তত ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েলে ২৩ জন এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে এক ১০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে ১৫ জন ইসরায়েলি সৈন্য এবং ১৩ জন মার্কিন সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
২০ ঘণ্টা আগে
গাজা পুনর্গঠনে এক দশকে ৭১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ প্রয়োজন: প্রতিবেদন
ইসরায়েলি আগ্রাসনে বিধ্বস্ত গাজার পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের জন্য আগামী ১০ বছরে ৭১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ প্রয়োজন হবে বলে একটি নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রকাশিত গাজা র্যাপিড ড্যামেজ অ্যান্ড নিডস অ্যাসেসমেন্টের (আরডিএনএ) চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।
চূড়ান্ত এই প্রতিবেদনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই সংঘাত গাজায় মানব উন্নয়নে ‘ভয়াবহ প্রভাব’ ফেলেছে এবং সেখানে খুব শিগগিরই প্রচুর পরিমাণ অর্থ সহায়তার প্রয়োজন।
প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, গাজা পুনর্গঠনের প্রথম ১৮ মাসেই জরুরি পরিষেবা পুনরুদ্ধার, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে ২৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে।
প্রতিবেদনটির পৃষ্ঠপোষক ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজার ভৌত অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।
গাজায় অক্টোবর মাসে একটি দুর্বল ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হয়েছিল। তবে চুক্তি লঙ্ঘন করে বারবার হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় উপত্যকার ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, শুধু যুদ্ধবিরতির পর থেকেই নিহত হয়েছেন ৭৭৭ জন। এর মধ্যে চলতি বছরের এপ্রিলের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৩২ জন নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে আল জাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশাহও রয়েছেন। তিনি ৮ এপ্রিল গাজা সিটির পশ্চিমে একটি ড্রোন হামলায় নিহত হন।
গাজার সরকারি গণমাধ্যম অফিস জানায়, ইসরায়েল ‘যুদ্ধবিরতি’ লঙ্ঘন করে মোট ২ হাজার ৪০০টি অপকর্মের ঘটনা ঘটিয়েছে। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ড, গ্রেপ্তার, অবরোধসহ নানান ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত।
ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া জনপদ
জাতিসংঘ জানায়, ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে যুদ্ধবিধস্ত গাজায় ৬১ মিলিয়ন টনের বেশি ধ্বংসস্তূপ তৈরি হয়েছে, যার ফলে অনেক জনপদ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। আরডিএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮৮৮টি আবাসিক ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৫০ শতাংশের বেশি হাসপাতাল অকার্যকরসহ প্রায় সব স্কুল ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজার অর্থনীতি ৮৪ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে আবাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্য ও কৃষি। এই সংঘাত গাজার মানব উন্নয়নকে ৭৭ বছর পিছিয়ে দিয়েছে।
জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয়ই ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে শাসন হস্তান্তরকে সমর্থন করে এমন দেশের প্রতি গাজা পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছে।
১ দিন আগে
ইরানি জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র; তীব্র জবাবের হুঁশিয়ারি তেহরানের
রবিবার হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানি পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজে হামলা চালিয়ে তা জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনার কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড। এদিকে, উভয় দেশের এমন আচরণ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে উভয় দেশের মধ্যে নতুন করে আলোচনা অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
গত সপ্তাহে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ শুরু হওয়ার পর এটিই প্রথম কোনো জাহাজ আটকের ঘটনা। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির যৌথ সামরিক কমান্ড এই সশস্ত্র অভিযানকে জলদস্যুতা এবং যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
প্রণালিটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এদিকে, আগামী বুধবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হবে। ইরানের সঙ্গে নতুন আলোচনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের ঘোষণার বর্তমান অবস্থা কী, তা এখন স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, মার্কিন আলোচকরা সোমবার পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হবেন।
এই অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বেড়ে গেছে। এর ফলে গত কয়েক দশকের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ তুসকাকে থামার সংকেত দেয়। কিন্তু তারা না থামলে জাহাজের ইঞ্জিনরুমে বোমাবর্ষণ করে সেটিকে থামিয়ে দেওয়া হয়। মার্কিন নৌসেনারা বর্তমানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ওই জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং এর ভেতরে কী আছে, তা দেখছে!
এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এ বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি, তবে তারা জানিয়েছে যে, ছয় ঘণ্টা ধরে বারবার জাহাজটিকে সতর্কবার্তা দিয়েছিল তারা।
২ দিন আগে
ট্রাম্প ও তেহরানের অদূরদর্শী প্রচারণায় থমকে গেছে শান্তি প্রক্রিয়া
মার্কিন প্রেডিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তেহরানের পক্ষ থেকে একের পর এক অদূরদর্শী ও অবিবেচনাপ্রসূত বার্তার কারণে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি চুক্তির পথে অর্জিত অগ্রগতি থমকে গেছে।
এই ভুল পদক্ষেপগুলোর চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে ইরান ঘোষণা করেছে যে, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর পুনরায় সম্পূর্ণ অবরোধ আরোপ করবে। দেশটি তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কোনো অংশই দেশের বাইরে রপ্তানি করতে দেবে না।
দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাপ্রবাহের সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার। সেদিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজার খোলার পরপরই ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দেন। তিনি লিখেছিলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বন্দর ও সমুদ্রবিষয়ক সংস্থা কর্তৃক পূর্বঘোষিত সমন্বিত রুট অনুযায়ী যুদ্ধবিরতির বাকি সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে সকল বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা করা হলো।
তার এই ঘোষণার ফলে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম এক ধাক্কায় ১২ ডলার কমে যায়। দুপক্ষকে ফের আলোচনার টেবিলে নেওয়ার চেষ্টায় থাকা পাকিস্তানও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য ইরানের শর্তাবলি নির্ধারণের লক্ষ্যে ইসলামাবাদের কর্মকর্তারা তিন দিন ধরে তেহরানে অবস্থান করছিলেন।
দ্য গার্ডিয়ানের কূটনীতিক সম্পাদক প্যাট্রিক উইন্টুরের ভাষ্য, আরাগচির পোস্টটি সম্ভবত ভুলভাবে সাজানো অথবা অসম্পূর্ণ ছিল, যা ইরানে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করে তোলে তেলের দরপতন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে খবরটিকে অতিরঞ্জিতভাবে ব্যাখ্যা করা। ট্রাম্প ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়ে দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে এবং তাদের ইউরেনিয়ামের মজুদ যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে রাজি হয়েছে তেহরান।
ইরানের ভেতরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, আরাগচির পোস্টটি বাজার নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল। ইরানি সংসদ সদস্য মোর্তজা মাহমুদী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি না থাকলে আরাগচিকে তার এই অসময়ের বক্তব্যের জন্য অভিশংসনের মুখোমুখি হতে হতো।
৩ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ বন্ধের ঘোষণা ইরানের
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তারা। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে আবারও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তেহরান। ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না বলে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দেওয়ার পর তেহরান এই পদক্ষেপ নিল।
যুক্তরাজ্যের একটি সামুদ্রিক সংস্থা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় একটি ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর জাহাজ থেকে গুলি চালানো হয়েছে। একটি ভারতীয় পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজও এই জলপথে আক্রান্ত হয়েছে।
ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া যৌথ সামরিক কমান্ডের বরাতে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার তেহরান প্রণালিটিকে তার পূর্ববর্তী অবস্থায় (বন্ধ) ফিরিয়ে নিয়েছে এবং এটি এখন সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি ইরান থেকে যাওয়া এবং ইরানের দিকে আসা জাহাজগুলো চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত না করে, তবে এই বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খতিবজাদেহ এবং আইআরজিসির নৌ কমান্ড এই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন।
শনিবার ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, তবে পারমাণবিক ইস্যু এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে এখনও মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
গত সপ্তাহের আলোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু আমাদের মধ্যে এখনও বড় দূরত্ব রয়ে গেছে। কিছু বিষয়ে আমরা অনড়... তাদেরও কিছু রেড লাইন (চরম সীমা) আছে। তবে এই অমীমাংসিত ইস্যুগুলো মাত্র একটি বা দুটি হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের খুব ভালো আলোচনা চলছে। তবে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ে কোনো ধরনের ব্ল্যাকমেইল বা জিম্মি করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধের মিত্র ইসরায়েলের প্রশংসা করে বলেন, অন্য মিত্ররা সংঘাত ও চাপের মুহূর্তে তাদের প্রকৃত স্বরূপ প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন বাকি আছে। তবে শনিবারের আলোচনার অবস্থা নিয়ে কোনো পক্ষই বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
আট সপ্তাহে পা দেওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। সংঘাতটি লেবাননেও ছড়িয়ে পড়েছে। এ যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। সাধারণত বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
তুরস্কের আন্তালিয়ায় একটি কূটনৈতিক ফোরামের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী খতিবজাদেহ বলেন, ইরান সদিচ্ছা নিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত সহজ করার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অবরোধ চাপিয়ে দিতে পারে না।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইআরজিসির নৌ কমান্ড লিখেছে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরান থেকে আসা-যাওয়া জাহাজের চলাচল হুমকির মুখে থাকবে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালির অবস্থা আগের মতোই থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হলে তার যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে শুক্রবার প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল তেহরান। এর আগে, ৪ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই পথ বন্ধ করে দিয়েছিল।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার জানিয়েছে, ওমানের উত্তর-পূর্বে ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি ট্যাঙ্কারকে আইআরজিসির দুটি গানবোট ধাওয়া করে গুলি চালায়। জাহাজের ক্যাপ্টেন জানিয়েছেন, এর আগে রেডিওতে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। তবে ট্যাঙ্কার ও ক্রুরা নিরাপদ আছেন এবং কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত করছে।
ইরানের এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এল, যার আগের দিন ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে তেহরানের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন অবরোধ পুরোদমে বহাল থাকবে। ট্রাম্প তখন জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া ইরানের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতি—যা বুধবার শেষ হওয়ার কথা, তা আর নাও বাড়ানো হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও এর সময় এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। শনিবার মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উভয় পক্ষের মাঝে একটি চুক্তি হতে পারে।
শনিবার সকালে প্রণালিটি সামান্য সময়ের জন্য খোলা থাকার সময় অন্তত আটটি তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কার এই পথ অতিক্রম করেছিল। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এদিকে, লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী রবিবার জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে লড়াই চলাকালীন তাদের একজন সেনা নিহত এবং আরও নয়জন আহত হয়েছেন।
৩ দিন আগে
হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ ঘোষণা ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বহাল থাকায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আবারও নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকা পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হবে।
এর এক দিন আগেই (শুক্রবার) বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালিটি খুলে দিয়েছিল ইরান। তবে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর পাল্টে যায় তাদের অবস্থান।
ট্রাম্প বলেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে, বিশেষ করে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত অবরোধ ‘পূর্ণমাত্রায় বহাল থাকবে’।
তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড জানায়, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে... এবং এটি সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তারা আরও জানায়, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বহাল থাকা পর্যন্ত প্রণালিতে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হবে।
বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এতে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ বৈশ্বিক সরবরাহে আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে। লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে যখন ধারণা করা হচ্ছে, তার মধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খোলার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান।
অন্যদিকে, উত্তেজনা বাড়লেও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২২ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির সময়সীমার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখনও একটি চুক্তির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
চলমান সংঘাতে ইরানে অন্তত ৩ হাজার জন, লেবাননে প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন, ইসরায়েলে ২৩ জন এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে ডজনখানেকের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্যও নিহত হয়েছেন।
৪ দিন আগে
মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের
বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়েছে ইরান। তবে দেশটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বজায় রাখে, তবে তারা আবারও এই জলপথটি বন্ধ করে দেবে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোরে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকলে এই প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে না।
এর আগে, গতকাল (শুক্রবার) দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি এখন বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত। লেবাননে ইসরাইল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই ঘোষণা এল।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে এই খবরটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন এবং সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন যে, প্রণালিটি পুরোপুরি উন্মুক্ত এবং যাতায়াতের জন্য প্রস্তুত বলে ঘোষণা করেছে ইরান। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরেই আরেকটি পোস্টে তিনি জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত তেহরানেরর সঙ্গে আমাদের লেনদেন বা চুক্তি শতভাগ সম্পন্ন না হচ্ছে, ততক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
অপরদিকে, ইরানি নেতারা এই অবরোধকে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে সমালোচনা করেছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন বিধিনিষেধ অব্যাহত থাকলে প্রণালিটি পুনরায় বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
জানা গেছে, অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন বাহিনী একাধিক ইরানি জাহাজকে ফিরিয়ে দিয়েছে।
আগামী সপ্তাহে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কোনো চুক্তি না হলে তিনি কী করবেন—শুক্রবার রাতে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি জানি না... তবে সম্ভবত আমি এর মেয়াদ বাড়াব না। সেক্ষেত্রে অবরোধ বহাল থাকবে এবং দুর্ভাগ্যবশত আমাদের আবারও হামলা শুরু করতে হবে। তবে ওয়াশিংটনের পথে এয়ারফোর্স ওয়ানে থাকা সাংবাদিকদের তিনি এটিও বলেন যে, একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কোনো ধরনের বিধিনিষেধ বা টোল (শুল্ক) আদায়ের বিষয়টি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।
পারমাণবিক ইস্যুতে আগের আলোচনাগুলো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, খুব শিগগিরই তেহরানের সঙ্গে নতুন আলোচনা হতে পারে।
সম্ভাব্য আলোচনার এই আশাবাদ বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমিয়ে এনেছে, কারণ হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করতে পারে বলে উদ্বেগ ছিল।
তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দেশটির কিছু আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম প্রণালি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের স্পষ্টতা এবং কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তের জন্য এখনও শীর্ষ নেতৃত্বের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে।
কেপলার নামক একটি ডেটা ফার্ম জানিয়েছে, প্রণালির ভেতর দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনও এমন কিছু করিডোরের মধ্যে সীমাবদ্ধ যা ব্যবহারের জন্য ইরানের অনুমতির প্রয়োজন হয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক্সে জানিয়েছে, গত সোমবার অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন বাহিনী এখন পর্যন্ত ২১টি জাহাজকে ইরানে ফেরত পাঠিয়েছে।
এদিকে, লেবাননে ইসরায়েল এবং ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে বলে মনে হচ্ছে, যা সামগ্রিক উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সহায়ক হতে পারে। তবুও, সব পক্ষ এই যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি মেনে চলবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে এখনও ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতির কারণে।
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরুর পরপরই একটি ইসরায়েলি হামলায় বেশ কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটে। কোনো পক্ষই এখনও চুক্তির শর্তাবলি পুরোপুরি অনুসরণের নিশ্চয়তা দেয়নি।
বর্তমানে মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে প্রধান অমীমাংসিত বিষয়গুলো হলো— ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ।
ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদের বিষয়ে নতি স্বীকার করতে পারে। তবে ইরান বা মধ্যস্থতাকারীদের পক্ষ থেকে এর কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।
৪ দিন আগে
হরমুজ প্রণালি খুলল ইরান, নৌ-অবরোধ বহাল রাখার ঘোষণা ট্রাম্পের
বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিয়েছে ইরান। তবে তেহরান যতক্ষণ পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে না পৌঁছাবে, ততক্ষণ ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ পুরোদমে বহাল থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি এখন বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত। লেবাননে ইসরাইল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই ঘোষণা এল।
ট্রাম্প প্রথমে এই খবরটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন এবং সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন যে, ইরান প্রণালিটি পুরোপুরি উন্মুক্ত এবং যাতায়াতের জন্য প্রস্তুত বলে ঘোষণা করেছে। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরেই আরেকটি পোস্টে তিনি জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে আমাদের লেনদেন বা চুক্তি শতভাগ সম্পন্ন না হচ্ছে, ততক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
ট্রাম্প আরও জানান, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় প্রণালি থেকে সব মাইন অপসারণের কাজ করছে।
লেবাননে হামলার জেরে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করলে ট্রাম্প চলতি সপ্তাহের শুরুতে এই অবরোধ আরোপ করেছিলেন। তখন ইরান দাবি করেছিল, ওই যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন। সে সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানকে প্রণালি খুলে দিতে বাধ্য করতে এই নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে।
ইরানের ঘোষণার পরেও অবরোধ অব্যাহত রাখার ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত তেহরানের ওপর চাপ বজায় রাখার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত সপ্তাহে হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। গত সপ্তাহের শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়, কারণ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয়ে দেশ দুটি ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে।
৫ দিন আগে
ইসরায়েল নয়, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ দেওয়া উচিত: ইরান
ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ বলেছেন, ইসলামাবাদে চলমান মার্কিন-ইরান উচ্চপর্যায়ের আলোচনার ফলাফল সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকারের ওপর।
শনিবার (১১ এপ্রিল) আল জাজিরার বরাত দিয়ে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এ তথ্য জানিয়েছে।
আরিফ সামজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, যদি মার্কিন প্রতিনিধিরা তাদের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ (আগে আমেরিকা) নীতির দিকে মনোনিবেশ করেন, তবে একটি পারস্পরিক সুবিধাজনক চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, তবে, যদি আমরা ‘ইসরায়েল ফার্স্ট’ (আগে ইসরায়েল) নীতি অনুসরণকারী প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হই, তবে কোনো চুক্তি হবে না। সেক্ষেত্রে আমরা অনিবার্যভাবে আগের চেয়ে আরও জোরালোভাবে আমাদের প্রতিরক্ষা বজায় রাখব এবং বিশ্ব আরও বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে টেলিভিশনে ভাষণ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হোয়াইট হাউসের
এদিকে, তিনজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি জাতীয় টেলিভিশন ভাষণ দেওয়ার কথা ভাবা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করেছে হোয়াইট হাউস। এর কারণ হিসেবে জানা গেছে, ট্রাম্পের কিছু সহকারী ও উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, প্রাথমিক পর্যায়ের চুক্তিটি নিয়ে এখনই অতিরিক্ত প্রচারণা হিতে বিপরীত হতে পারে।
সূত্রগুলো জানায়, ট্রাম্পকে এই ভাষণ না দেওয়ার জন্য বুঝিয়ে রাজি করানো হয়েছিল। তবে হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে এই আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছে, এটি একটি ভুয়া খবর। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এ ধরনের কোনো বিষয় নিয়ে কখনোই আলোচনা হয়নি।
এই সিদ্ধান্তটি ট্রাম্প প্রশাসনের এক ধরনের ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টাকেই ইঙ্গিত করে। প্রশাসন একদিকে লড়াই থামানো এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার এই চুক্তির বিষয়ে আত্মবিশ্বাস দেখাতে চেয়েছিল, আবার অন্যদিকে উপদেষ্টারা আলোচনার ব্যর্থতা সম্পর্কেও সচেতন ছিলেন। ট্রাম্পের এই জাতীয় ভাষণের আলোচনার বিষয়টি এর আগে সংবাদমাধ্যমে আসেনি।
১১ দিন আগে
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব, এখনও মেলেনি সাড়া
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি খসড়া প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (৫ এপ্রিল) মধ্যরাতে এই প্রস্তাবটি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মধ্যপ্রাচ্যের দুজন কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।
তারা জানান, মিসর, পাকিস্তান এবং তুরস্কের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের পক্ষ থেকে দেওয়া এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, সাময়িকভাবে লড়াই বন্ধ করা, যাতে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করা যায়। তবে কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত এর জবাব দেয়নি।
এদিকে, অঞ্চলজুড়ে এখনও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। তেহরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, রিভল্যুশনারি গার্ডের গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো এক হামলায় নিহত হয়েছেন। রবিবার থেকে ইরানজুড়ে বিমান হামলায় ২৫ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের হাইফা শহরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাত শুরু হয়। এ যুদ্ধ ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংঘাতের ফলে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। বেসামরিক এলাকায় হামলার কারণে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়েও গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও যুদ্ধবিরতির এই প্রস্তাব গৃহীত হবে কি না, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। কারণ, উভয় পক্ষই তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং নিজেদের অনড় অবস্থানে অটল রয়েছে।
১৬ দিন আগে