ঢাকা
রাজবাড়ীতে তেল পাম্পে ট্রাকের চাপায় পৃথক দুই ট্রাকের চালক ও সহকারী নিহত
রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড়ের একটি পাম্পে তেল নিতে আসা এক ট্রাকের চাপায় অপর ড্রাম ট্রাকের চালক এবং আরেক ট্রাকের সহকারী নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় সপ্তবর্ণা ফিলিং স্টেশন নামক তেল পাম্পে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ব্রাকপাড়ার ইদ্রিস পাটোয়ারীর ছেলে ডাম ট্রাকচালক সোবাহান পাটোয়ারী (৪৫) ও অপর আরেক ট্রাকের সহকারী স্বপন মিয়া (২২) ঢাকার ধামরাই উপজেলার নান্নার গ্রামের সরল মিয়ার ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ড্রাম ট্রাকের চালক সোবাহান পাটোয়ারী তেল নেওয়ার জন্য সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ওই তেল পাম্পে আসেন। এ সময় ট্রাক থেকে নেমে ডিজেল সরবরাহকারী ফুয়েল ডিসপেনসার মেশিনের সামনে তিনি দাঁড়ান।
অন্যদিকে, ঢাকা থেকে বেনাপোলগামী অপর একটি ট্রাকের সহকারী স্বপন মিয়াও ট্রাক সিরিয়ালে রেখে ফুয়েল ডিসপেনসার মেশিনের সামনে দাঁড়ান। একই সময় মেশিন থেকে তেল নিচ্ছিল একটি মাহেন্দ্র গাড়ি। মাহেন্দ্র গাড়িটির তেল নেওয়া শেষ হওয়ায় ওই সময় পাম্পে তেল নিতে আগে থেকে অপেক্ষায় থাকা অপর আরেকটি ট্রাকের চালক গাড়ি চালু করা মাত্র নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মাহেন্দ্র গাড়িটিকে ধাক্কা দেন। এ সময় গাড়িটি ফুয়েল ডিসপেনসার মেশিনের সামনে থাকা সোবাহান পাটোয়ারী ও স্বপন মিয়াকে চাপা দেয়। এতে গুরুতর আহত হন সোবহান পাটোয়ারী ও স্বপন মিয়া। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হারুন-অর-রশিদ আজ (সোমবার) সকালে বলেন, স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর ওই ট্রাকের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে রবিবার মধ্যরাতে ফরিদপুর থেকে ট্রাকচালক সোবহানের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি খানখানাপুর নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপর ট্রাকের সহকারী স্বপনের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি ধামরাই নিয়ে গেছে তার পরিবার। দাফনের কাজ শেষে নিহতের পরিবারকে আসতে বলা হয়েছে। তারা আসার পর পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
১২ ঘণ্টা আগে
গাজীপুরে বস্তিতে বিশেষ অভিযান, আটক ৫৪
গাজীপুরের টঙ্গীর মাজার বস্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানে মোট ৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
রবিবার (১৫ মার্চ) ওই এলাকার বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম ফয়েল পেপার, দেয়াশলাইট, ইয়াবা, একটি চাপাতি, দুইটি চাকু ও নেশা করার সরঞ্জামাদির পাশাপাশি বেশ কিছু ভোটার আইডি কার্ডও উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অভিযানে পুলিশকে সহযোগিতা করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (তদন্ত)।
অভিযান সম্পর্কে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার জানান, এলাকায় মাদক ও অপরাধ দমনে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
১৩ ঘণ্টা আগে
নরসিংদীতে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ মিলল প্রতিবেশীর ছাদে
নরসিংদীর রায়পুরায় নিখোঁজের এক দিন পর প্রতিবেশীর ছাদে মিলেছে ৬ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ।
রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের চরমরজাল এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আজ (রবিবার) সকালে চরমরজাল গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার একতলা বাড়ির ছাদে আব্দুর রহমান নামের এক শিশুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন ওই বাড়ির লোকজন। পরে বিষয়টি স্থানীয়রা পুলিশকে জানান। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত আব্দুর রহমান ওই এলাকার প্রবাসী শুকুর আলী ও সুমি আক্তারের ছেলে ছিল।
পরিবারের দাবি, গতকাল (শনিবার) কোনো একসময় বাড়ি থেকে শিশুটি নিখোঁজ হয়ে যায়। এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় রায়পুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়। নিখোঁজের পর থেকে পরিবার ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন, কিন্তু শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে আজ সকালে ইদ্রিস মিয়ার বাড়ির ছাদে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ওসি মো. মজিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তিনি। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। তবে প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ বলা যাচ্ছে না। শিশুটির শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্নও নেই। আমরা ক্রাইম সিন টিমকে খবর দিয়েছি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
এ ঘটনার কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের মাধ্যমে আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
১ দিন আগে
রাজধানীর হোটেলে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন, দগ্ধ ৪
রাজধানীর খিলক্ষেতে রিজেন্সি হোটেলের নিচ তলায় এসির কাজ করার সময় শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডে ৪ জন দগ্ধ হয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের নিয়ে যাওয়া হয়।
দগ্ধরা হলেন— মো. মনসুর আলী (৩২), মো. আব্দুল মতিন (৬৭), মোহাম্মদ মাহি (১৭) ও মো. আব্দুল জলিল (৬৭)।
তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সহকর্মী মো. ইমরান জানান, সকালের দিকে খিলক্ষেতের রিজেন্সি হোটেলের নিচ তলায় এসির কাজ করার সময় শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের ঘটনায় ৪ জন দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়েছে। আহতরা সবাই ওই হোটেলের কর্মচারী বলে জানান তিনি।
বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, খিলক্ষেতের একটি হোটেল থেকে দগ্ধ ৪ জন আমাদের এখানে এসেছেন। তাদের মধ্যে মনসুরের শরীরের ২১ শতাংশ, মো. আব্দুল মতিনের শরীরের ৫ শতাংশ, মো. মাহিরের শরীরের ৫ শতাংশ ও মো. আব্দুল জলিলের শরীরের ৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং অপর তিনজন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
২ দিন আগে
চাঁদপুরে তারাবির পড়তে গিয়ে নিখোঁজ রুবেলের মরদেহ মিলল বাঁশঝাড়ে
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে তারাবির নামাজ পড়তে গিয়ে নুরানী মাদরাসায় পড়ুয়া আট বছর বয়সী শিশু রুবেল নিখোঁজ হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ে মিলেছে তার রক্তাক্ত মৃতদেহ। এ সময় শিশুটির গলায় আঘাতের চিহ্ন ও নাকে মুখে রক্ত বের হচ্ছিল।
বুধবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের শোশাইরচর গ্রামের মাইজের বাড়ির পাশের বাশঁঝাড়ে মরদেহটি পড়ে ছিল।
নিহত মো. রুবেল হোসেন মাইজের বাড়ির দিনমজুর আব্দুল কাদেরের ছোট ছেলে। সে সানকিসাইর মাদরাসার নুরানি বিভাগের ছাত্র ছিল।
তার মৃত্যু কখন হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে তার খেলার সাথীরা জানায়, তারাবির নামাজের সময় রুবেলকে দেখা যায়নি, তখনই থেকেই নিখোঁজ ছিল সে।
পরিবারের স্বজনরা জানান, বুধবার ইফতারের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রুবেল ঘর থেকে বের হয়ে যায় তারাবির নামাজ পড়তে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। রাত ১০টার দিকে স্বজনরা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও সন্ধান না পেয়ে একপর্যায়ে এলাকাজুড়ে মাইকিং করেন।
পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে বাড়ির পশ্চিম পাশের একটি বাঁশঝাড়ে টর্চলাইটের আলো ফেললে রুবেলের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখতে পায় পাশের বাড়ির কালু নামের এক ব্যক্তি। এ সময় তার নাক ও মুখ রক্তাক্ত অবস্থায় ছিল। তার চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে তারা নিশ্চিত হন যে শিশুটি মারা গেছে।
খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) এমদাদুল হক ও উপপরিদর্শক (এসআই) বোরহান উদ্দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। প্রাথমিক সুরতহালে শিশুটির গলায় ফাঁসের দাগ এবং নাক-মুখে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
এদিকে শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। তবে কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানান থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দীন।
নিহত রুবেলের বাবা আব্দুল কাদের ও মা পরান বেগম আহাজারি করতে করতে বলেন, ‘আমাদের কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। আমাদের নিষ্পাপ সন্তানকে কেন এমন নির্মমভাবে হত্যা করল। সে কী অপরাধ করেছিল?’
স্থানীয় বাসিন্দারা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ফরিদগঞ্জ থানার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ‘ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। শিশুটিকে হত্যা করে থাকলে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নেওয়া হবে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
৪ দিন আগে
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন
ফরিদপুরে যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় স্ত্রী রুবাইয়া বেগমকে (২৫) হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে স্বামী আহাদ শেখকে (৩৩) যাবজ্জীবন স্বশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ আদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আহাদ শেখ ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়ন কাজী বল্লভদী গ্রামের বাসিন্দা। হত্যাকাণ্ডের শিকার রুবাইয়া একই উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে রুবাইয়া ও আহাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের একটি কন্যা সন্তান হয়। বিয়ের তিন বছর পর আহাদ সৌদি আরব যাওয়ার জন্য বউয়ের কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। চাহিদা অনুযায়ী তিন লাখের মধ্যে এক লাখ টাকা দেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, স্বামীর দাবি অনুযায়ী আরও দুই লাখ টাকা দিতে না পারায় ২০১৮ সালের ১ আগস্ট আহাদ তার স্ত্রীকে প্রথমে মারধর এবং পরে মুখে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করেছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা রোমেছা বেগম (৫৪) বাদী হয়ে আহাদ শেখ ও তার মা এবং তিন ভাইসহ মোট পাঁচজনকে আসামি করে সালথা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর জেলা সিআইডি কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. আমিনুজ্জামান। তিনি তদন্ত করে রুবাইয়াকে হত্যার দায়ে আহাদ শেখ ও তার দুই ভাই মোহাম্মদ শেখ (৩৮) ও মাহিম শেখকে (৩৪) অভিযুক্ত করে ২০১৯ সালের ২৩ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী বলেন, আহাদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। আহাদের দুই ভাই মোহাম্মদ শেখ ও মাহিম শেখের অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে আদালত বেকুসুর খালাস দেন।
তিনি বলেন, এ ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক এবং সুস্থ সমাজে যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধি কাম্য নয়। আজকের এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।
৪ দিন আগে
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়াঘাটে নদীতে পড়ে যাওয়া তেলবাহী লরি উদ্ধার
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া তেলবাহী (লরি) ট্রাক উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ভোরে ক্রেন দিয়ে টেনে নদীতে ডুবে যাওয়ায় ট্রাকটি তীরে টেনে আনা হয়। উদ্ধারকৃত ট্রাকটি এখন উপরে তোলার কাজ করছে উদ্ধারকারীরা।
বুধবার (১০ মার্চ) রাত ৮টার দিকে পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ঘাটে শাহ মখদুম ফেরি থেকে নামতে গিয়ে তেলবাহী ট্রাকটি নদীতে পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ট্রাকচালক শরীফুল ইসলাম ও সহকারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পরে রাত ১২টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডুবে যাওয়া ট্রাকটি উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। দীর্ঘ চেষ্টায় আজ ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ট্রাকটি টেনে তীরের কাছে আনা হয়।
বিআইডব্লিউটিএ-এর আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল আলম বলেন, ভোরে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা লরিটি উদ্ধার করলেও এখনও পন্টুনে তোলা সম্ভব হয়নি।
দশ চাকার লরিটি ১৭ হাজার লিটার তেল নিয়ে যশোর থেকে নারায়ণগঞ্জে যাচ্ছিল। পথে দৌলতদিয়া ঘাট হয়ে ফেরিতে পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ঘাটে নামে। ফেরি থেকে পন্টুন হয়ে সড়কে ওঠার সময় লরিটির ব্রেক হঠাৎ বিকল হয়ে যায়। এ সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পেছনের দিকে সরে গিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
৪ দিন আগে
গাজীপুরে ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ, আগুনে দগ্ধ ৩
গাজীপুরের শ্রীপুরে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণে আগুন ধরে পাশের একটি মার্কেটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় তিনজন দগ্ধ হয়েছেন।
বুধবার (১১ মার্চ) রাত পৌনে ১১টার দিকে শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় এলাকার আ. সাহিদ সুপার ভিউ নামের একটি মার্কেটের সামনে বৈদ্যুতিক খুঁটির ট্রান্সফরমারে বিস্ফোরণ হয়। ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণে সৃষ্ট আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় তিনজন দগ্ধ হন। আগুন ছড়িয়ে পড়লে ওই মার্কেটের কয়েকটি কক্ষের মালামাল পুড়ে যায়।
শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউস ইন্সপেক্টর নুরুল করিম জানান, খবর পেয়ে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দগ্ধ তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় আল হেরা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানকার কর্মরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি তিনি।
৪ দিন আগে
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় সহ্য করা হবে না: হাইওয়ে ডিআইজি
হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি (অপারেশনস, উত্তর) মো. রফিকুল হাসান গণি বলেছেন, ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কোনভাবেই সহ্য করা হবে না। ভাড়া সরকার থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কোনভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই।
বুধবার (১১ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চন্দ্রা-কেন্দ্রিক সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিবহন মালিকদের উদ্দেশে ডিআইজি বলেন, ‘আপনারা ফিটনেসবিহীন কোনো গাড়ি চালাবেন না। এ ছাড়াও দক্ষ চালক ছাড়া গাড়ি চালাতে দেবেন না। মহাসড়কে কোনো ধরনের গাড়ি পার্কিংয়ের সুযোগ নেই।’
এ ছাড়াও মহাসড়ক ও ফুটপাতে যেন কোনো দোকান বসতে না পারে এজন্য পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেন তিনি।
গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রহমত উল্লাহর সভাপতিত্বে আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী খ. মো. শরীফুল আলম, কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন, বিআরটিএ গাজীপুর সার্কেলের সহকারী পরিচালক এস এম মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।
এ সময় নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওগাতুল আলমসহ পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
৫ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে অনুমোদনহীন ৬ ইটভাটাকে জরিমানা
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় অনুমোদনহীন ৬টি ইটভাটার মালিককে সাড়ে ১৯ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেইসঙ্গে অবৈধভাবে ইট প্রস্তুত করায় দুটি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রায়গঞ্জ উপজেলায় দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সূত্রে জানা গেছে, অভিযান চলাকালে মেসার্স বর্ণ ব্রিকস মালিককে ২ লাখ টাকা, মেসার্স প্রত্যয় ব্রিকসের মালিককে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মেসার্স এডিবি ব্রিকসের মালিককে ৩ লাখ টাকা, মেসার্স লামইয়া ব্রিকসের মালিককে ৩ লাখ টাকা, মেসার্স মামা-ভাগ্নে ব্রিকসের মালিককে ৫ লাখ টাকা ও মেসার্স আরএফবি ব্রিকসের মালিককে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম, প্রসিকিউটর শাহিন আলম, র্যাব, পুলিশ ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুমোদনহীন ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধে এ ধরনের অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
৫ দিন আগে