ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সীমান্ত হত্যা মামলায় ৩ ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড
নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এআইইউবি) কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়াজেদ আলম সীমান্ত হত্যা মামলায় তিন ছিনতাইকারীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: অনিক, আকাশ খান ও চান্দি বাবু।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজিবুল্লাহ বিপু জানান, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর ভোর ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন সীমান্ত। এ সময় ছিনতাইয়ে বাধা দিলে ছিনতাইকারীদের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তারা সীমান্তকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে তার ব্যাগ ও মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা হাজী আলম বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজিবুল্লাহ বিপু বলেন, উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে এবং দ্রুত তা কার্যকর হবে বলে প্রত্যাশা করছি।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত সীমান্তের বাবা হাজী আলমও। ছেলের হত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
১০ ঘণ্টা আগে
শরীয়তপুরে সংস্কারের দুই মাসেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং
চার কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা শরীয়তপুর পৌরসভার পাকার মাথা থেকে আটং তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে গর্ত তৈরি হয়েছে। সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার দুই মাস না যেতেই সড়কের এমন বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। সড়কে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। এ সময় তারা সড়কের নির্মাণকাজের মান যাচাই, অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারকাজ চলাকালে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তা যথাযথভাবে তদারকি করা হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পৌরসভার সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের যোগসাজশে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং নির্মাণকাজে অনিয়ম করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের অভিযোগ, কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে যাওয়ায় নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, জনগণের অর্থে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার দুই মাস না যেতেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এত অল্প সময়ে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া স্বাভাবিক নয়। তাই নির্মাণসামগ্রীর মান, কাজের পরিমাণ ও প্রকৌশলগত মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
স্থানীয় ইমামুল হক বেপারি বলেন, ‘সড়কটি সংস্কারের পর আমরা ভেবেছিলাম দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। কিন্তু দুই মাস না যেতেই বিভিন্ন জায়গায় পিচ উঠে গর্ত হয়ে গেছে। এত টাকা খরচ করে করা কাজ যদি এভাবে নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে এর দায় কে নেবে?’
১ দিন আগে
ডেমরায় শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসলে নেমে শিশুর মৃত্যু
রাজধানীর ডেমরায় শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে ফাহাদ (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডেমরার সারুলিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ফাহাদের বাড়ি ডেমরার সারুলিয়ায়। তার বাবার নাম ফারুক।
নিহতের দাদা মো. জাহাঙ্গীর জানান, ফাহাদ আমার সঙ্গে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমেছিল। এক পর্যায়ে অসাবধানতাবশত সে পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অনেকে খোঁজার পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ফাহাদকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, বর্তমানে মরদেহটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় অবগত করা হয়েছে।
৩ দিন আগে
নরসিংদীতে ট্রেনের ছাদ থেকে নামতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু
নরসিংদী রেলস্টেশনে তিতাস কমিউটার ট্রেনের ছাদ থেকে নামতে গিয়ে দুই বগির মাঝে পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম মো. আমীর হোসেন (২৮)। তিনি নরসিংদী সদর উপজেলার নগর বানিয়াদী গ্রামের মৃত সামসুল হকের ছেলে।
রেলওয়ে পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই বন্ধুর সঙ্গে আমীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কেল্লা শাহের মাজারে গিয়েছিলেন। তারা রাতভর সেখানে থেকে শুক্রবার সকালে তিতাস কমিউটারের ছাদে উঠে নরসিংদী ফিরছিলেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ট্রেনটি নরসিংদী রেলস্টেশনে পৌছায়।
এ সময় ভিড়ের মধ্যেই ছাদে উঠা লোকজন স্টেশনে নামছিল। ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে কোথাও টান লেগে আমীর নিয়ন্ত্রণ হারান এবং ট্রেনের দুই বগির মাঝখানে পড়ে যান। এ সময় ট্রেনটি তাকে অন্তত ৩০ গজ দূরে টেনে নিয়ে যায়।
রেলস্টেশনে উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতাল নেওয়া হয়। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, ট্রেনে কাটা পড়া ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার মরদেহ রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আমীরের ঠিক আগে ট্রেনের ছাদ থেকে নেমেছেন তার বন্ধু আক্রাম হোসেন। তিনি বলেন, ‘একসঙ্গেই আমরা তিন বন্ধু কেল্লা শাহর মাজারে গিয়েছিলাম। ভোরে ট্রেনে উঠার সময় ভিড়ের কারণে ভেতরে যেতে না পেয়ে ট্রেনের ছাদে উঠি। নরসিংদী আসার পর দুজন ছাদ থেকে নামতে পারলেও আমীর পারেনি। চলতে শুরু করা ট্রেনের দুই বগির মাঝে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।’
নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক দিলীপ চন্দ্র সরকার বলেন, আমীরের পরিবারের সদস্যদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
৩ দিন আগে
রাজধানীর পৃথক স্থানে দুই যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর ও বাড্ডায় পৃথক বাসা থেকে দুই যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতরা হলেন: অটোরিকশাচালক মো. নয়ন (৩০) এবং প্রাইভেটকারচালক মো. রবিউস সানি (৩১)।
নয়ন শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার বয়াতি কান্দি গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে কামরাঙ্গীরচরে থাকতেন।
কামরাঙ্গীরচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াদ মাহমুদ নাহিদ জানান, আমরা খবর পেয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল পৌনে ৯টার দিকে কামরাঙ্গীরচর এলাকার হাসান নগর সিকদার স্কুল গলির একটি নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনের সিঁড়ি-সংলগ্ন বাঁ পাশের একটি কক্ষ থেকে নয়নের মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা ময়নাতদন্তের ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারি, নিহত নয়ন পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন। তার পাঁচ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। মার্চ মাসে তার স্ত্রী তাদের একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যান। নয়ন বেশ কিছুদিন ধরে আর্থিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। এসব বিষয় নিয়ে নানা চিন্তাভাবনায় রাতে কোনো এক সময় তিনি নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে কালো ফিতা দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
অপরদিকে, উত্তর বাড্ডার স্বাধীনতা সরণির একটি ভবন থেকে রবিউস সানি (৩১) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত রবিউস সানি কুমিল্লা সদরের আদর্শ নগর এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। বর্তমানে তিনি উত্তর বাড্ডার জামতলা এলাকায় থাকতেন।
বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জয়ন্ত দত্ত জানান, খবর পেয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উত্তর বাড্ডার স্বাধীনতা সরণির জামতলা স্বাধীন সরণির স্বর্ণা ড্রিমস প্রাইভেটের সাততলার ৬-ডি ইউটার্নের পূর্ব পাশের কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তে জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, নিহত রবিউস সানি পেশায় একজন প্রাইভেট কারচালক ছিলেন। পারিবারিক ও অফিশিয়াল বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। এসব নানা বিষয় নিয়ে ভোরে কোনো এক সময় জানালার লোহার গ্রিলের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেন তিনি। পরে আমরা খবর পেয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠাই। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
৪ দিন আগে
রাজবাড়ীতে গ্রাম পুলিশ ও নারীকে গলায় জুতার মালা ও কোমরে রশি বেঁধে নির্যাতন
রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়নে প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগ তুলে এক গ্রাম পুলিশ সদস্য ও এক নারীকে রশি দিয়ে বেঁধে ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে ঘুরিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও গত দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
নির্যাতনের শিকার গ্রাম পুলিশ সদস্য বর্তমানে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রয়েছেন। তিনি পাচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে কাজ করেন। এ ঘটনার পর নির্যাতনের শিকার নারীও বর্তমানে ওই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ঘরের মধ্যে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তির সঙ্গে ওই নারী ও গ্রাম পুলিশ সদস্য কথা বলছেন। সেখানে ওই নারী কোনো অনৈতিক কাজ হয়নি দাবি করে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তির সঙ্গে তর্ক করছেন। গ্রাম পুলিশ সদস্যও কলা বিক্রির টাকা নিতে গিয়ে তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করছেন।
অন্য একটি ভিডিওতে ওই দুজনের গলায় জুতার মালা ও কোমরে রশি বেঁধে টেনে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে উৎসুক নারী-পুরুষ ও শিশুদের দেখা গেছে।
ভুক্তভোগী ওই গ্রাম পুলিশ সদস্য দাবি করেন, তিনি রাজবাড়ীর শ্রীপুর বাজারে কলা বিক্রি করেন, পাশাপাশি স্থানীয় দোকানগুলোতে পাইকারি কলা সরবরাহও করে থাকেন। গেল রবিবার সকাল ৭টার দিকে তিনি শ্রীপুর বাজারে কলা বিক্রি করছিলেন। সে সময় পাশের আলীপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর এলাকার পূর্বপরিচিত এক নারী তার কাছ থেকে কলা কেনেন। সে সময় এক হাজার টাকার নোটের ভাঙতি না থাকায় ওই নারী পরে টাকা দেবেন বলে চলে যান।
তিনি বলেন, পরে সকাল ৮টার দিকে কল্যাণপুর বাজারের ইটভাটার কাছে গিয়ে ওই নারীকে ফোন করলে তিনি তাকে তার বাড়িতে যেতে বলেন। তার বাড়ির কাছে যাওয়ামাত্রই স্থানীয় অটোরিকশাচালক লাভলু বেপারী (২৫) নামের এক যুবক তাকে জোর করে একটি ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। পরে তার পরণের প্যান্ট খুলতে বলে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে ওই নারীর সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে বলে চিৎকার করতে থাকেন।
গ্রাম পুলিশ সদস্যের অভিযোগ, এ সময় তার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উপস্থিতরা তাকে মারধর শুরু করেন। পরে আশপাশের লোকজনকে ডেকে এনে তাকে ও ওই নারীকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাদের দুজনের গলায় জুতার মালা ও কোমরে রশি বেঁধে এবং ওই নারীর চুল কেটে এলাকায় ঘোরানো হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি মুক্ত হন।
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান দেখছেন। আমাদের সঙ্গে চরম অন্যায় করা হয়েছে। ঘরে বয়স্ক ছেলে থাকা অবস্থায় কোনো নারী অনৈতিক কাজ করতে পারেন না। এছাড়া ঘরের দরজা খোলা ছিল। লাভলুর সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্ক ভালো না থাকায় তারা নির্যাতন করে আমার দুটি দাঁত ভেঙে ফেলেছে। এ ঘটনার পর লজ্জায় আমার স্ত্রী ও সন্তান এখন পর্যন্ত আমাকে দেখতে আসেনি।’
পাচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবর রহমান বলেন, ভিডিওটি ফেসবুকে দেখেছি। মারধরের পর কয়েকজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে ওই গ্রাম পুলিশ সদস্যকে ইউনিয়ন পরিষদে দিয়ে যান। এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের কারণে তাকে মারধরা করা হয়েছে বলে জানান তারা।
তিনি বলেন, আমরা ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছি। গ্রাম পুলিশ সদস্য অপরাধ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ প্রমাণিত না হলেও বিষয়টি দেখা হবে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা ও তাদের পরিবার আইনগত পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেবেন।
এ ধরনের ভিডিও নজরে এসেছে জানিয়ে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার কেউ অভিযোগ দেয়নি। ভিডিওতে যা দেখেছি, তা খুবই দুঃখজনক। এভাবে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৪ দিন আগে
মুন্সীগঞ্জে কুলসুম হত্যা মামলায় এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে কুলসুম বেগম (৩৫) হত্যা মামলায় মো. সুমন হোসেন ওরফে সুমন শেখকে (৩৯) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক শরীফুল আলম ভূঁইয়া এ রায় দেন। ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
নিহত কুলসুম বেগম ও দণ্ডিত সুমন শেখ দুজনই শ্রীনগর উপজেলার পূর্ব হাসাড়গাঁও গ্রামে পাশাপাশি বাড়িতে থাকতেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি বিকেলে পূর্ব হাসাড়গাঁওয়ে স্বামীর বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর নিখোঁজ হন কুলসুম। সে সময় তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি।
নিখোঁজের ১৯ দিন পর ৫ ফেব্রুয়ারি পূর্ব হাসাড়গাঁও গ্রামের পশ্চিম চকের একটি পতিত জমি থেকে মানুষের হাড়, মাথার খুলি, স্যান্ডেল, মাথার ক্লিপ ও কাপড়ের অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের ছেলে কামরুল হাসান অয়ন ও পরিবারের অন্য সদস্যরা এসব আলামত দেখে কঙ্কালটি কুলসুমের বলে দাবি করেন। পরে আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আলামত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়।
ডিএনএ পরীক্ষায় আলামতগুলো কুলসুম বেগমের বলে প্রমাণিত হওয়ার পর তার ছেলে কামরুল হাসান অয়ন বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি মুন্সীগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর করা হয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে, কামরুলকে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে সুমন বিভিন্ন সময়ে ৬ লাখ টাকা নেন। পরে আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নেওয়া এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে কুলসুমের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সুমন কুলসুমকে পূর্ব হাসাড়গাঁওয়ের একটি অনাবাদি জমিতে ডেকে নিয়ে ধারালো দা দিয়ে মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ঘাসের স্তূপের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। হত্যায় ব্যবহৃত দা ও ভ্যানিটি ব্যাগ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত সুমনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
রায়ের পর মামলার আইনজীবী ও সাবেক সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. হালিম হোসেন বলেন, আদালতের রায়ে তিনি সন্তুষ্ট ও খুশি। এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে, বাদী ও নিহতের ছেলে কামরুল হাসান অয়ন বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম আসামির ফাঁসির আদেশ হবে। সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তবে আদালতের রায়কে আমরা সম্মান করি।
৫ দিন আগে
সাভারে উদ্ধার হওয়া বস্তুটি ‘প্রেসার কুকার বোমা’, নিষ্ক্রিয় করল বোম ডিসপোজাল ইউনিট
সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের সাধাপুর এলাকায় স্কচটেপে মোড়ানো উদ্ধার হওয়া বস্তুটি একটি ‘প্রেসার কুকার বোমা’ বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধারের পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বোম ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি নিরাপদভাবে নিষ্ক্রিয় করেছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে বোমাসদৃশ বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করেন ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সাধাপুর গোপের বাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতরে কাপড়চোপড়, কোরআন শরীফ এবং একটি প্রেসার কুকার দেখতে পান স্থানীয়রা। সন্দেহজনক বস্তুটি ড্রাম থেকে বের করে মাঠে রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাতের বেলা অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তি ড্রামটি মসজিদের মাঠে রেখে চলে যান। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমরান হোসাইন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল এটি একটি প্রেসার কুকার বোমা। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। ইউনিটের সদস্যরা ৪ ঘণ্টা চেষ্টার পর আজ (বুধবার) বিকেলে বোমাসদৃশ বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করেন।
এর আগে, গত ৩০ জুলাই রাতে আশুলিয়ার খেজুর বাগান এলাকায় ‘জয়ী জেনারেল স্টোর’-এর সামনে একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ থেকে একটি প্রেসার কুকার বোমা উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সেবারও ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিট নিরাপদ স্থানে নিয়ে সেটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে।
এদিকে, গতকাল রাতে সাভারের হেমায়েতপুরের শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচটি তাজা হাতবোমাসহ আরিফ হোসেন নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন একটি চারতলা ভবনের নিচতলায় অভিযান চালিয়ে আরও নয়টি পাইপ বোমাসদৃশ বস্তু, জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) বেশ কিছু লিফলেট এবং বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির উপকরণ ও সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
সিটিটিসির একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, ওই ভবনে বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম মজুত রাখা হয়েছিল—এমন তথ্যের ভিত্তিতে সিটিটিসির পাশাপাশি স্থানীয় থানা পুলিশ, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।
বাড়ির মালিক আব্দুল জলিল ও তার মেয়ে ইলমা জানান, গত ২ আগস্ট আব্বাস আলী নামে এক ব্যক্তিসহ দুইজন আমাদের ভবনের একটি বাসা ভাড়া নেন। এ সময় তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বলেছিলেন, তাদের গ্রামের বাড়ি পাবনার হেমায়েতপুরে এবং তারা ড্রাইভিংয়ের কাজ করেন।
পরিবার নিয়ে বসবাস করবেন বলেই তাদের বাসা ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। তারা বাসার ভেতরে বোমা ও বিস্ফোরক লুকিয়ে রেখেছিলেন এমন তথ্য তাদের কাছে ছিল না বলেও জানান তারা।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, ঘটনাগুলোর সঙ্গে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ এবং সিটিটিসি সূত্র।
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, ‘শ্যামপুর এলাকা থেকে মোট ১৪টি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিটিটিসি বিস্ফোরক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।’
সাম্প্রতিক সময়ে সাভারে পরপর দুটি প্রেসার কুকার বোমা উদ্ধার এবং একই এলাকায় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
৫ দিন আগে
ঢামেকে অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ ফেলে পালাল ২ ব্যক্তি
রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ট্রলির ওপর অজ্ঞাতনামা এক কিশোরীর মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়েছে দুই ব্যক্তি।
বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত কিশোরীর বয়স আনুমানিক ১৫ বছর।
হাসপাতালের ট্রলিম্যান আব্দুর রউফ জানান, ৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী দুই পুরুষ একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে ওই কিশোরীকে ঢামেকের জরুরি বিভাগের সামনে নিয়ে আসেন। তাদের দেখে তিনি ট্রলি নিয়ে এগিয়ে গেলে ওই দুই ব্যক্তি মেয়েটিকে ট্রলিতে তোলেন এবং জরুরি বিভাগের টিকিট কাটার কথা বলে কৌশলে সেখান থেকে সরে পড়েন। পরে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মেয়েটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত কিশোরীর গলায় ফাঁস লাগার স্পষ্ট দাগ এবং দুই হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক।
তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের শরীরে আঘাত ও গলায় ফাঁসের চিহ্ন রয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, বা অন্য কী কারণে মারা যেতে পারে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পরিদর্শক মো. ফারুক আরও বলেন, প্রযুক্তির সহায়তায় ওই কিশোরীর নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অটোরিকশাসহ পালিয়ে যাওয়া দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
৫ দিন আগে
গাবতলীতে মাছবাহী গাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণে যুবক নিহত
রাজধানীর গাবতলীতে মাছবাহী ফ্রিজিং গাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ইমরান হোসেন (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গাড়িচালক মো. ফারুক হোসেন (৪০) আহত হয়েছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে গাবতলীর দীপনগর মাছের আড়তের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইমরানের বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়। তার বাবার নাম সারোয়ার মোল্লা। নিহত ও আহত দুজনই দীপনগরের একটি রেফ্রিজারেটরের দোকানে কাজ করতেন।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ১১টার দিকে ইমরানকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ফারুক হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত ইমরানের মামাতো ভাই সবুজ জানান, দীপনগর এলাকায় একটি রেফ্রিজারেটরের দোকানের সামনে মাছবাহী ফ্রিজিং গাড়ি মেরামত ও গ্যাস ভরার কাজ চলছিল। এ সময় হঠাৎ গাড়িটির সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। এতে ইমরান ও ফারুক হোসেন আহত হন। পরে স্থানীয় একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক ইমরানকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, ইমরানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহত ফারুক জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
৮ দিন আগে