ঢাকা
ফরিদপুরে শিশু আইরিন হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩
ফরিদপুরে নিখোঁজের ছয়দিন পর উদ্ধার হওয়া ৭ বছর বয়সী শিশু আইরিন আক্তার বিনা ওরফে কবিতা হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় ফরিদপুরের কোতয়ালী থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন তিন জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— ইসরাফিল মৃধা (২৪), শেখ আমিন (১৯) এবং নাছিমা বেগম (৪৫)।
আইরিন আক্তার বিনা ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের বাখুন্ডা পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা বাকা মিয়া বিশ্বাসের মেয়ে। সে স্থানীয় বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আইরিন বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন ২৫ এপ্রিল কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে এলাকাবাসীকেও বিষয়টি জানানো হয়।
এরপর কয়েকদিন ধরে পুলিশ ও স্বজনরা মিলে আইরিনের খোঁজ চালাতে থাকেন। তবে নিখোঁজের ৬ দিন পর ৩০ এপ্রিল সকালে স্থানীয় দুই ব্যক্তি কমিউনিটি ক্লিনিকের পূর্ব পাশে রেললাইনের ঢালে অবস্থিত একটি কলাবাগানে কাজ করতে গিয়ে দুর্গন্ধ পান। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তারা একটি পঁচাগলা মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি আইরিনের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। একইসঙ্গে হত্যা মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ ও ডিবি।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুরে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে তারা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানায়, প্রধান আসামি ইসরাফিল মৃধা শিশুটিকে চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে আশ্রয়ন কেন্দ্রের একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। এতে শিশুটি বাধা দিলে এবং বিষয়টি তার মাকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে ইসরাফিল তাকে গলা টিপে হত্যা করেন।
হত্যার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তিনি মরদেহটি পাশের একটি বাড়ির বাথরুমের সেফটি ট্যাংকের ভেতর লুকিয়ে রাখেন। কয়েকদিন পর ওই বাড়ির মালিক নাছিমা বেগম টয়লেটে সমস্যা বুঝতে পেরে বিষয়টি তার ছেলেদের জানান। পরে ট্যাংক খুলে তারা ভেতরে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান।
পুলিশ জানায়, এরপর নাছিমা বেগম তার ছেলে শেখ আমিন ও আরেক ছেলে রহমানকে মরদেহটি সরিয়ে ফেলতে বলেন। তারা মরদেহটি একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে দূরের একটি কলাবাগানে ফেলে রেখে আসে যাতে কেউ তাদের সন্দেহ না করে।
ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগীর পরিহিত কাপড়, স্যান্ডেল, মরদেহ বহনে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ড্রাম এবং একটি কম্বল উদ্ধার করেছে পুলিশ ।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালিয়েছি। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যব্স্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৮ ঘণ্টা আগে
কামরাঙ্গীরচরে মেশিনের বোর্ডের আঘাতে শ্রমিকের মৃত্যু
রাজধানীর কামরাঙ্গীচরে সিটি প্লাইউডের কারখানায় কাজ করার সময় মেশিনের আঘাতে মো. মিরাজ (১৯) নামের এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মিরাজকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মিরাজ ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া থানার আমুয়া গ্রামের মো. শাহজাহান মিয়ার ছেলে। তিনি কামরাঙ্গীরচরের ওই কারখানায় থাকতেন।
মিরাজকে হাসপাতালে নিয়ে আসা কারখানার সুপারভাইজার মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান জানান, রাতে কারখানায় কাজ করার সময় মেশিনের বোর্ডের আঘাতে গুরুতর আহত হন মিরাজ। পরে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, মিরাজ এই কারখানায় প্রায় সাত বছর শ্রমিকের কাজ করতেন।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
১০ ঘণ্টা আগে
নিখোঁজের সাত দিন পর ফরিদপুরে শিশুর গলিত মরদেহ উদ্ধার
ফরিদপুরে সাত দিন ধরে নিখোঁজ থাকা কবিতা আক্তার নামে এক সাত বছর বয়সী মেয়ে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর সদরের গেরদা ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের অধীনে বাখুন্ডা রেল স্টেশন-সংলগ্ন কলাবাগান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
কবিতা বাখুন্ডা আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা বাকা বিশ্বাসের মেয়ে ছিল। পাঁচ বোনের মধ্যে কবিতা ছিল সবার ছোট। শিশুটি বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
নিহতের স্বজনরা জানান, গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে কবিতা নিখোঁজ ছিল। এ ঘটনায় শিশুটির মা তাহমিনা বেগম গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
স্থানীয়রা জানান, আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মরদেহটি প্রথম দেখতে পান ওই এলাকার বাসিন্দা সোনা শেখ ও দুলাল মিয়া নামে দুই শ্রমিক। তারা বাখুন্ডা রেলস্টেশনের পাশে অবস্থিত কলাবাগানে পড়ে যাওয়া একটি কলাগাছ অপসারণ করতে গিয়ে প্রথমে দুর্গন্ধ এবং তার সূত্র ধরে মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় ইউপি (ইউনিয়ন পরিষদ) সদস্যকে জানান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মৃতদেহের পরণে কোনো পোশাক ছিল না। সালোয়ার দিয়ে শিশুটির মুখ বাধা ছিল। মরদেহটি উপুড় করা অবস্থায় পড়ে ছিল।
গেরদা ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জাকারিয়া খান জানান, সাড়ে ৯টার দিকে শ্রমিকরা কাজ করতে গেলে তারা দেখেন, বাগানে একটি কলাগাছ পড়ে আছে। সেটি অপসারণ করতে গিয়ে তারা গন্ধ পান। পরে মরদেহটি দেখতে পেয়ে তারা আমাকে জানান।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি জানার পর পুলিশকে খবর দেই। এরপর নিখোঁজ শিশুর মা ও বাবা ঘটনাস্থলে এসে শিশুটিকে শনাক্ত করেন।
মরদেহটি উদ্ধার করেন ফরিদপুর কোতয়ালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পীযূষ কান্তি হালদার। তিনি বলেন, মরদেহটি পঁচে বিকৃত হয়ে গিয়েছিল। তা দেখে ধারণা করা যায়, যেদিন শিশুটি নিখোঁজ হয়, ওই দিনই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে গলিত ও বিকৃত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। শিশুটির পোশাক দেখে তার বাবা-মা তাকে শনাক্ত করেন। ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি হত্যাকাণ্ড।
তিনি বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
১ দিন আগে
টঙ্গীতে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলা, আটক ২৮
গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা। এ ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পৃথক অভিযানে মোট ২৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) টঙ্গীর বিভিন্ন স্থানে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এ অভিযান চালায়।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, গতকাল (বুধবার) রাতে টঙ্গী পূর্ব থানার কেরানীরটেক এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রুনা বেগমের বাসার সামনে ডিবি পুলিশ অভিযানে গেলে ১০-১২ জনের একটি দল পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ডিবি দক্ষিণের সহকারী কমিশনার আছাবুর রহমানের টিমের দুই সদস্য গুরুতর আহত হন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ৪টি সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে আটক করে।
এছাড়া, টঙ্গী পশ্চিম থানার হাজী মাজার বস্তি এলাকায় অপর এক অভিযানে আরও ২১ জন মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে আটক করেছে পুলিশ।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বেলায়েত হোসাইন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১ দিন আগে
শরিয়তপুরে নদীতে মাছ ধরতে নেমে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় কীর্তিনাশা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে রাজিব শেখ (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে নড়িয়া উপজেলার জপসা ইউনিয়নের মাইজপাড়া-সংলগ্ন নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাজিব ওই এলাকার হারুন শেখের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষিকাজ করতেন এবং অবসরে নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (বুধবার) দুপুরের দিকে হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে বৃষ্টি শুরু হয় এবং বজ্রপাত হয়। এ সময় রাজিব নদীতে মাছ ধরছিলেন। বজ্রপাতের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে এলেও তার প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
জপসা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দুলাল মকদম বলেন, ‘হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক উদ্ধার চেষ্টা করলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ূম জানান, বজ্রপাতে এই মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি বলেন, ‘তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে নিহতের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন শোকাহত পরিবারের পাশে রয়েছে।’
১ দিন আগে
সাভারে জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ে বিপাকে পোশাক শিল্প
শিল্প অধ্যুষিত সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় পোশাক কারখানায় জ্বালানি তেলের সংকট, সীমাহীন লোডশেডিং ও মূল্য বৃদ্ধির কারণে স্থবিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে পোশাক কারখানাগুলোতে ব্যাপক লোডশেডিং ও জ্বালানি তেলের সংকটে উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। চলমান পরিস্থিতিতে কারখানাগুলোর উৎপাদন ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সাভারের হেমায়তেপুরে অবস্থিত পোশাক কারখানা একেএইচ গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম জানান, জ্বালানি সংকট ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং ব্যাপক লোডশেডিংয়ের জন্য প্রতিদিন গড়ে শতকরা ১০ শতাংশ উৎপাদন কম হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে পণ্য পরিবহনে। জ্বালানি সংকটের কারণে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
তিনি বলেন, পোশাক উৎপাদন কিছুটা কম হলেও সমস্যা নেই, কিন্তু উৎপাদিত পোশাক সময়মতো শিপমেন্ট না করতে পারলে বড় সমস্যা। জ্বালানি তেলের অভাবে সকালের পণ্যবোঝাই কাভার্ড ভ্যান বিকেলে পাঠাতে হচ্ছে। কোনো কোনো সময় পথেই তেল শেষ হওয়ায় কাভার্ড ভ্যান পথে আটকে যাচ্ছে। এ কারণে সঠিক সময়ে শিপমেন্ট করা যাচ্ছে না, ফলে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান তাদের ক্রয়াদেশ ধীরে ধীরে কমিয়ে দিচ্ছে।
বর্তমান এই সংকটের কারণে পোশাক কারখানাগুলোর ‘মহাবিপদের’ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পোশাক শিল্প খাত সচল রাখার জন্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
সাভার পৌর এলাকায় অবস্থিত বৃহত্তর শিল্প প্রতিষ্ঠান আল মুসলিম গ্রুপ এবং জে কে গ্রুপের কারখানায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় নিজস্ব গ্যাসচালিত জেনারেটর দিয়ে তারা কারখানার যাবতীয় কাজ পরিচালনা করছে।
এ বিষয়ে জে কে গ্রুপের কারখানার মহাব্যবস্থাপক মাহবুব আলম জানান, জ্বালানি তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধির কারণে তাদের পোশাক কারখানায় উৎপাদন কম হচ্ছে। যেখানে প্রতিদিন ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হতো, সেখানে এখন ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। শুধু উৎপাদনই নয়, জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদিত পণ্য শিপমেন্টের জন্য চট্টগ্রামে পাঠাতে পণ্য বহনকারী কাভার্ড ভ্যান তেলের অভাবে পথিমধ্যে আটকে পড়ছে। ফলে সময়মতো পণ্য ডিপোতে পৌঁছাতে পারছে না। এ কারণে অনেক কারখানার মালিককে নিজ খরচে বিমানযোগে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে। এতে করে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ব্যাপক লোডশেডিংয়ের কারণে গ্যাস দিয়ে জেনারেটর চালাতে গিয়েও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পোশাক কারখানার মালিকরা।
কর্ণপাড়ার স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের স্টিচেস লিমিটেড পোশাক কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় তারাও নিজস্ব জেনারেটর দিয়ে কারখানার কার্যক্রম সচল রেখেছে।
ওই কারখানার প্রধান উৎপাদন পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এভাবে আর কয়েকদিন চলতে থাকলে কারখানা চালানো কষ্টকর হয়ে পড়বে। এ কারখানায় প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক রয়েছে। প্রতিদিন এখানে ১৫ থেকে ২০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হলেও এখন সেটা কমে ১০ হাজারে নেমে এসেছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক আকতার উজ্জামান লস্কর বলেন, চাহিদার চেয়ে বিদ্যুতের উৎপাদন কম হওয়ায় এবং চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের যোগান না পাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই উৎপাদন বাড়বে। এতে করে বিদ্যুতের সরবরাহ ঘাটতি পূরণ হবে।
২ দিন আগে
গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে আহত ২০
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২০ যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে গোপালগঞ্জ-পিরোজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার মালেকের বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক শিপলু আহমেদ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, উপজেলার মালেক বাজার নামক এলাকায় পিরোজপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ইমাদ পরিবহনের একটি বাস অতিরিক্ত গতি নিয়ে ওয়েলকাম পরিবহনের অপর একটি যাত্রীবাহী বাসকে ওভারটেক করতে যায়। এ সময় ইমাদ পরিবহনের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে বাসটি ফেলে দেন। এতে বাসের অন্তত ২০ যাত্রী আহত হন।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
২ দিন আগে
রাজবাড়ীতে বজ্রপাতে বাবার মৃত্যু, কোল থেকে ছিটকে বাঁচল মেয়ে
রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুরে বাড়ির পাশে দোকানে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে সুমন মন্ডল (৩৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় সুমনের কোলে থাকা সাড়ে ৩ বছরের মেয়ে কোল থেকে ছিটকে পড়ে প্রাণে বেঁচে যায়।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের মজ্জৎকোল গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমন ওই গ্রামের সিদ্দিক মন্ডলের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, আজ (বুধবার) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মেয়ে সাফিয়াকে কোলে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি দোকানে যাচ্ছিলেন সুমন। বৈরী আবহাওয়াতে হঠাৎ বজ্রপাত হলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এ সময় শিশুটি তার কোল থেকে ছিটকে দূরে পড়ে যায়।
স্থানীয় লোকজন সুমনকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে কোল থেকে ছিটকে পড়লেও শিশুটি আশঙ্কামুক্ত ও সুস্থ রয়েছে।
মিজানপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি)দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান বলেন, সুমন মন্ডলের এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।
২ দিন আগে
পদ্মার এক পাঙাশ এবার বিক্রি হলো ৭১ হাজার টাকায়
এবার রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীর এক পাঙাশ মাছ বিক্রি হয়েছে ৭১ হাজার টাকায়। আজ মঙ্গলবার ভোরে পদ্মা নদীতে জেলেদের জালে ২৫ কেজি ওজনের এই পাঙাশ মাছটি ধরা পড়ে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া বাজারে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বাজার থেকে নিলামে ৭০ হাজার টাকায় মাছটি কিনে কুষ্টিয়ার এক ব্যবসায়ীর কাছে ৭১ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আজ ভোরে গোয়ালন্দ উপজেলার বাহিরচরের ছাত্তার মেম্বার পাড়ার এরশাদ শেখ জাল নিয়ে নদীতে যান। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের মাঝামাঝি পদ্মা নদীর মোহনায় জাল ফেললে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জাল টেনে নৌকায় তুলেই দেখেন বড় আকারের একটি পাঙাশ। পরে সেটি বিক্রির জন্য দৌলতদিয়া ঘাট বাজারের রেজাউল মন্ডলের আড়তে গিয়ে মাছটি ওজন দিয়ে দেখেন প্রায় ২৫ কেজি হয়েছে। এরপর নিলামে তোলা হলে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ফেরিঘাট এলাকার ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা পাঙাশ মাছটি কিনেন।
মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা জানান, এ বছরের সবচেয়ে বড় পাঙাশটি বিক্রির জন্য নিলামে তোলা হলে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ২ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে ২৫ কেজি ওজনের পাঙাশটি ৭০ হাজার টাকায় কিনি। পরে কুষ্টিয়ার এক বড় ব্যবসায়ী মাছটি কেজি প্রতি ৫০ টাকা করে লাভ দিয়ে ৭১ হাজার টাকায় কিনেন।
তিনি আরও বলেন, এই মৌসুমে এটিই সবচেয়ে বড় বড় পাঙাশ মাছ। এর আগে, ১৮ কেজি ওজনের একটি পাঙাশ মাছ বাজারে উঠেছিল।
২৫ কেজি ওজনের পাঙাশ মাছটি আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মোটরসাইকেল যোগে কুষ্টিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহাবুব উল হক বলেন, সাধারণত এই শুস্ক মৌসুমে বড় বড় মাছ ধরা পড়ে। নদীর গভীরতা বেড়ে গেলে এ ধরনের মাছ সহসা ধরা পড়বে না। এ ধরনের বড় মাছ ধরা পড়ায় জেলে ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্যও সুখবর।
৩ দিন আগে
ফরিদপুরে ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক গ্রেপ্তার
ফরিদপুর সদর উপজেলার আলোচিত তিন হত্যাকাণ্ডের একমাত্র অভিযুক্ত আকাশ মোল্লাকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশের যৌথ দল।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোরে সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে তার বাড়ির পাশের একটি কলাবাগান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে ভোরের দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া র্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) গাজী মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালানো হয়। তাকে বাড়ির পাশের কলাবাগান থেকে আটক করা হয়েছে। আটককালে তার কথাবার্তা অসংলগ্ন ছিল, যা তার মানসিক অবস্থার বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।’
গতকাল (সোমবার) রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামের আজগর মোল্লার বাড়ির উঠানে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হঠাৎ করেই আকাশ কোদাল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই রাহেলা বেগম (৫০), আমেনা বেগম (৭৫) ও কাবুল (৪৫) নিহত হন। একই ঘটনায় রিয়াজ মোল্লা (৪৫) গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আকাশ মানসিক ভারসাম্যহীন। তবে তার এই আচরণের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা পরিকল্পনা ছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আকাশকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করা হবে।
৩ দিন আগে