বিএনপি
এনসিপির নেতারা এখন গণঅভ্যুত্থানের একক কৃতিত্ব দাবি করার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন: রাশেদ খাঁন
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, এনসিপির নেতারা এখন গণঅভ্যুত্থানের একক কৃতিত্ব দাবি করার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। তিনি বলেছেন, দলটি (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে গেছে। এনসিপির এখন নিজস্ব কোনো অস্তিত্ব নেই, তারা মূলত জামায়াতের অঙ্গসংগঠনে পরিণত হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মুরারীদহ এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘মিয়ার দালান’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ডাক বা এক দফার ঘোষণা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, ‘এক দফার ঘোষণা নাহিদ ইসলাম দিয়েছিলেন, এ কথা আমরা স্বীকার করি। তবে এই এক দফা আন্দোলনের মূল প্রেক্ষাপট ও ভিত্তি তৈরি করেছিল এ দেশের সাধারণ জনগণ।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, এনসিপির নেতারা এখন গণঅভ্যুত্থানের একক কৃতিত্ব দাবি করার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। তিনি বলেন, নাহিদ ইসলাম ও মাহফুজ আলম বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে নিজেদের এই গণঅভ্যুত্থানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন। মূলত মাহফুজ আলমই নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন।
এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান ও সম্প্রতি দলটিতে ঘটা ভাঙন প্রসঙ্গে এই রাজনীতিক বলেন, ডা. তাসনিম জারাসহ গণতন্ত্র ও প্রগতিশীল চিন্তার অনেক তরুণ নেতা এনসিপি ছেড়ে চলে গেছেন। কারণ দলটি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে গেছে। এনসিপির এখন নিজস্ব কোনো অস্তিত্ব নেই, তারা মূলত জামায়াতের অঙ্গসংগঠনে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘একসময় এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম জামায়াতকে স্বাধীনতা বিরোধী এবং দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছিলেন। অথচ সেই বক্তব্যের পর তারাই আবার জামায়াতের পকেটে বন্দি হয়েছেন। এনসিপির যেসব প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের যাবতীয় নির্বাচনি ব্যয় জামায়াতই বহন করেছে।’
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকার বিরোধী দলের এমপিদের সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের মতোই সমান সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। অথচ অতীতে আওয়ামী শাসনামলে বিরোধী দল কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধাই পেত না।
তিনি বলেন, ‘সরকারি দল মূল্যায়ন করার পরও জামায়াত ও এনসিপির এমপিরা সরকারের বিরুদ্ধে অনবরত বিষোদগার করে যাচ্ছেন। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, সুখে থাকতে ভূতে কিলানোর মতো দশা হয়েছে তাদের।’
এর আগে, ঝিনাইদহের ঐতিহাসিক মিয়ার দালান পরিদর্শনকালে রাশেদ খাঁনের সঙ্গে ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রাজিব হাসান, গণঅধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি প্রভাষক মো. সাখাওয়াত হোসেন ও নেতা সুলাইমান হোসেনসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
২ ঘণ্টা আগে
সরকারের কাজে কোনো গাফিলতি হলে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারের কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমলাতন্ত্রের কেউ হোক কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি, দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে প্রধানমন্ত্রী শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্র্যাব মিলনায়তনে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান সম্পাদিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ মাসের উন্নয়ন যাত্রা গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন ও আগামীর বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বই অন্ধকার ঘোচাতে বাতির মতো কাজ করে, একটি বড় প্রদীপের কাজ করে। মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। আজ আমরা মাইক্রোফোনে কথা বলছি, টেলিভিশন ক্যামেরায় ছবি ধারণ হচ্ছে, অডিও রেকর্ড হচ্ছে এবং সাংবাদিকেরা আমাদের বক্তব্য লিখে রাখছেন, এ সবই বিজ্ঞানের অবদান।
তিনি বলেন, বিজ্ঞানীরা যেসব তত্ত্ব ও থিওরি লিখেছেন, সেগুলো বই আকারে প্রকাশিত হয়েছিল বলেই পরবর্তী প্রজন্ম সেগুলো পড়েছে, চর্চা করেছে এবং সেখান থেকে প্রতিবছর ও প্রতিটি শতাব্দীতে নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করেছে। তাই বইয়ের কোনো বিকল্প তৈরি হয়নি।
বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, আমরা যদি বই না পড়ি, জ্ঞান অর্জন না করি এবং ন্যূনতম শিক্ষায় শিক্ষিত না হই, তাহলে আমাদের মনের জগত ও বিশ্বজগত, দুটোই অন্ধকার হয়ে থাকবে। বই হচ্ছে মনের জগতের পাসপোর্ট। এই পাসপোর্ট অর্জন করতে পারলেই মনের জগতের পাশাপাশি বহির্জগতের অন্ধকারও দূর করা সম্ভব।
সরকারের পাঁচ মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার তারেক রহমানের সরকারকে নিয়ে নানা কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এই পাঁচ মাসে সরকার কী করেছে, তার পরিসংখ্যানসহ বিভিন্ন ঘটনাবলি বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। জাতি এসব জানে এবং দেখেছে। তবে সব তথ্য একত্র করে সুগ্রন্থিতভাবে উপস্থাপন করা হলে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন এবং সামনে হেলথ কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। গ্যাস সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তারও একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় আসার পরপরই সেগুলো বাস্তবায়নে তিনি বাংলাদেশের মাঠে-মাঠে, হাটে-ঘাটে ও বন্দরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দিনরাত তিনি কাজ করছেন এবং তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা নিজেই দেখছেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি করছেন না। কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। সে আমলাতন্ত্রের লোক হোক, বুরোক্রেসির লোক হোক কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি হোক। গাফিলতির বিরুদ্ধে তিনি শক্ত হাতে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে যারা কাজ করছেন, তাদের অনুপ্রাণিত করছেন এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করার জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি বা জোট সরকার জনকল্যাণ, জনস্বার্থ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও বিস্তৃত করার জন্য যেসব উদ্যোগ নিয়েছে এবং যেগুলো বাস্তবায়ন হতে চলছে, সেসবের মোটামুটি বিস্তৃত বর্ণনা বইটিতে পাওয়া যাবে।
সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, আজকে যারা সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে, কলঙ্ক লেপনের চেষ্টা করছে এবং নানাভাবে সরকারের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে, এই বই তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড এবং জনগণের প্রতি তার নিবেদনের তথ্য-উপাত্ত ও পরিসংখ্যানসহ কোনো গ্রন্থ রচিত হলে সেটি সবার হাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে থাকবে।
তিনি বলেন, তখন মানুষ বুঝতে পারবে, যারা সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং মিথ্যাভিত্তিক কথা বলছে, তারা মূলত সরকারের ভালো কাজগুলোকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
সংগঠনের উপদেষ্টা রোটারিয়ান নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সভাপতি সাইদুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান, ছাত্রদলের সহসভাপতি তৌহিদ আউয়াল প্রমুখ।
৩ ঘণ্টা আগে
ভারত আবারও শেখ হাসিনাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে: রিজভী
ভারত আবারও শেখ হাসিনাকে ‘টুল’ বা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যে দেশ নিজেদের বৃহত্তর গণতান্ত্রিক দেশ বলে দাবি করে, তারা এটিকে প্রশ্রয় দিয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতাকে অপমান করা হয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশকে অবজ্ঞা করার জন্য।
জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) শহিদ পরিবারকে অনুদান প্রদান ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ‘শহিদ জুলাই স্মৃতি সংসদ’।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আগে ভারত শেখ হাসিনাকে দিয়ে বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও এখন আর পারছে না। সে কারণে শেখ হাসিনাকে আবারও ‘টুল’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, রক্তপান করা দানবকে বাংলাদেশ থেকে তাড়ানো হয়েছে। এখন একটি প্রশ্ন এসেছে— একজন পলাতক আসামি কি সেই দেশ (ভারত) থেকে রাজনীতি করার সুযোগ পেতে পারেন? ভারত আশ্রয় দিয়েছে, সেখানে থাকুক। কিন্তু সেখান থেকে বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য অনর্গল অডিও রেকর্ড ও বার্তা পাঠানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যে তারিখে শেখ হাসিনার পতন হয়েছে, সেই তারিখেই আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের সরকার এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিন্তু ভারতের সরকার বলেছে, এটার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে এ ধরনের একটি অনুষ্ঠান করতে গেলে তো সরকারের অনুমতি লাগে। সরকারের ‘গ্রিন সিগনাল’ না থাকলে একজন খুনি, পলাতক আসামি এবং তার ছেলে কীভাবে সংবাদ সম্মেলন করেন?
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশে শেখ হাসিনা এলে দেশে আবারও রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে। তিনি কাউকে বাঁচতে দেবেন না।’
তিনি বলেন, সংগত ন্যায়বিচার আওয়ামী লীগের আমলে কেউ করেনি। শেখ হাসিনার আমলে কোনো আদালত, কোনো বিচারকই ন্যায় বিচার করেননি। যদি কেউ বিচার করার চেষ্টা করতেন, তবে তার গুম হওয়ার সম্ভাবনা থাকত এবং তাকে প্রাণের ভয়ে দেশ ছেড়ে পালাতে হতো।
২ দিন আগে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের পাশে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ আন্দোলনে বহু মানুষ শহিদ হন, অসংখ্য ব্যক্তি আহত হন এবং অনেক পরিবার তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে গভীর অর্থনৈতিক ও মানসিক সংকটে পড়ে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আহত ব্যক্তি ও শহিদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনের নেতৃত্বে দেশব্যাপী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেওয়া, তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মানবিক সহায়তা প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়।
এর অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দল দেশের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে আহত ব্যক্তি ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে তাদের বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা, আর্থিক সহায়তা, শিক্ষা সহায়তা, জীবিকা পুনর্বাসন এবং ঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
এই প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জীবনসংগ্রাম, তাদের বেদনা, আশা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পের পাশাপাশি ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর মানবিক কার্যক্রমের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এটি শুধু সহায়তার গল্প নয়; বরং দায়বদ্ধতা, সহমর্মিতা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য মানবিক উদ্যোগের দলিল।
২ দিন আগে
হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগটি ভারতীয় নীতি-নির্ধারকদের পরিকল্পিত: রিজভী
গ্লোবাল জার্নালিস্ট ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার প্রোগ্রামে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি ভারতের নীতি-নির্ধারকদের পরিকল্পিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পলাতক একজন আসামি। তার মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া খুনসহ বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় তার বিচার চলছে। তিনি একটি দেশে পালিয়ে গেছেন। আমাদের দেশের ২০১৩ সালের এক্সট্রাডিশন আইনের মাধ্যমে সে দেশ শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে পারে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য সরকার সেদেশে চিঠি দিয়েছে, কিন্তু সেই চিঠির কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। একজন পলাতক আসামিকে প্রত্যর্পনের জন্য, তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য যে আইন, সেই আইনে দুই দেশ সই করেছে, এগ্রিমেন্ট করেছে। অথচ তারপরও তাকে ফিরিয়ে না দিয়ে তাকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মনে করেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া মানে আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি একটা অপমান। এই অপমান পার্শ্ববর্তী দেশ—যাকে আমরা বন্ধু রাষ্ট্র বলি, আমরা সমমর্যাদার ভিত্তিতে পরস্পর অবস্থান করব—আর অন্যান্য দেশ যারা রয়েছে, সেখানে একজন পলাতক আসামিকে তার রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরার জন্য সুযোগ করে দেওয়া হলো তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সহযোগিতায়। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
এতে দুদেশের পারস্পরিক বিশ্বাস এবং সম্মানকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষিত করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিতভাবে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এই সংবাদ যখন বাংলাদেশ সরকার পেয়েছে, তখন সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি জানিয়েছে ভারতের সরকারকে। কিন্তু ভারত সরকার তাতে কোনো সাড়া দেয়নি। গত ৫ই আগস্ট—যেদিন তার পতনের দিন, এ দেশের জনগণ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার অধিকার আদায়, বাকস্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে এক অভূতপূর্ব গণজাগরণ ও মহাবিপ্লব সম্পন্ন করেছিল এবং তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন—ঠিক সেই দিনটিতেই দিল্লিতে এই ধরনের একটি প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়েছে। আর সেখানে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার মতো সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এটা সম্পূর্ণরূপে ভারতীয় নীতি-নির্ধারকদের পরিকল্পিত একটি বিষয়।
বিএনপির এই নেতা বলেন, যে গণবিপ্লবে হাজারেরও বেশি তরুণ, কিশোর ও শিক্ষার্থীদের জীবন চলে গেল, তাদের রক্ত ঝরল রাজপথে, বাংলাদেশে এক ভয়ঙ্কর বিয়োগান্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে পালাতে বাধ্য হলো এক ভয়ঙ্কর রক্তপিপাসু স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট, তাকে পার্শ্ববর্তী একটি দেশ, যেটি পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র বলে তারা নিজেরা দাবি করে, সেই দেশে তাকে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে!
তিনি বলেন, ওই যেদিন তার পতনের দিন, যেদিন ভয়ঙ্কর রক্তঝরানো পথ পেরিয়ে বিপ্লব সাধিত হলো, সেই দিন তাকে বক্তব্য রাখতে দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, ওই শহিদদের প্রতি, যাদের রক্ত ঝরিয়েছে শেখ হাসিনা, তাদের অপমান করার জন্যই এই সুযোগটা করে দেওয়া হয়েছে তাকে বক্তব্যে সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে। তিনি আবারও এই ঘৃণ্য প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানান।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর যখন উদ্যোগ নেওয়া হয়, ঠিক ওই সময় আন্তর্জাতিক নানা চক্রান্ত শুরু হয়। জিয়াউর রহমান যখন এই জাতিকে ক্ষুধামুক্ত করেছেন, এই জাতিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছেন খাদ্যে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র এনেছেন, তখন তাকে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক চক্রান্তে হত্যা করা হয়েছে। ঠিক এখনও নানা আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা চলছে বলে তিনি দাবি করেন।
২ দিন আগে
বিরোধীদলের নেতারা হাসিনার ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছেন: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন আমাদের সম্মানীয় বিরোধীদলীয় নেতারা যে ভাষায় কথা বলছেন, ৫ বছর ক্ষমতায় থাকতে দেবেন না বলে হুমকি দিচ্ছেন, ঠিক একই রকম কথা অতীতে শেখ হাসিনাও বলতেন।
১৯৯১ ও ৯৬ সালে আওয়ামী লীগও বর্তমান বিরোধীদলের মতো একই সুরে সরকারকে শান্তিতে থাকতে না দেওয়ার কথা বলেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বিরোধীদলের নেতাদের উদ্দেশে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, আমরা তাদের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল এবং আমরা মনে করি যে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে, কার্যকর করতে হলে বিরোধীদলকে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। তারা অবশ্যই সমালোচনা করবেন, অবশ্যই তারা বিরোধিতা করবেন এবং যে ভুলগুলো সরকার করবে সেগুলো দেখিয়ে দেবেন। কিন্তু সেটা সংসদের মধ্যে হলেই গণতান্ত্রিক পরিবেশটা ঠিক থাকে।
তিনি আফসোস করে বলেন, দুর্ভাগ্য আমাদের, সেই আগের মতো রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করা, জটলা তৈরি করা আবার শুরু হয়েছে। এটাতে তো আপত্তি নেই, এটা আপনাদের গণতান্ত্রিক নীতি; কিন্তু সেটা এমন পর্যায়ে যেন না যায়, যে পর্যায়ে গিয়ে একটা সংঘাতের রূপ নেয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা অবশ্যই নিন্দা জানাই, যে সমস্ত জায়গাগুলোতে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এটা নিন্দনীয় এবং এটা অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আমরা মনে করি।
বিএনপি একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির সংগ্রাম মূলত ছিল একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা এবং সেই লক্ষ্যে বিএনপি কাজ করেছে। এই ১৭-১৮ বছরে প্রায় ৬০ লাখ বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে যার মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার মামলা হয়েছে মিথ্যা মামলা।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, একটা মহল থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে বিএনপি জুলাই সনদ পালন করছে না। এটা কিন্তু পুরোপুরিভাবে একটি ভ্রান্ত ধারণা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমি এটার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। কারণ বিএনপিই হচ্ছে সেই দল যারা সংস্কারের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেছে। একদলের শাসন ব্যবস্থাকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে নিয়ে এসেছে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা নিয়ে এসেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
জুলাই সনদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদের তথ্য বলা হচ্ছে যে বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না, বিএনপি সরে যাচ্ছে, বিএনপি দূরে চলে যাচ্ছে। কিন্তু সমস্যাতো অন্য জায়গায়। সেটা হচ্ছে গণভোট, যেটার কথা বার বার বলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গণভোটে যে চারটা প্রশ্ন ছিল, সে চারটা প্রশ্নের মধ্যে তিনটাতে আমরা একমতই ছিলাম। কিন্তু একটা প্রশ্নে সংবিধান সংস্কার কমিশনের কারও সঙ্গে পরামর্শ না করে, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ না করে, তারা এটা চাপিয়ে দিয়েছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই জিনিসটা কিন্তু আমরা অনেকেই ভুলে যাচ্ছি। আমরা কখনোই সেটা মেনে নেইনি। আমরা বারবার বলেছি যে আমরা এইখানে একমত নই। ওভাবেই নির্বাচন হয়েছে।
তিনি বলেন, সেভাবেই তো ম্যানিফেস্টো (নির্বাচনি ইশতেহার) দিয়েছি আমরা, সেভাবেই জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে, আমরা সরকারে এসেছি। সরকারে এসে আমরা কিন্তু চেষ্টা করছি জুলাইয়ের ঘোষণার প্রতিটি অংশ অক্ষরে—আমরা যতটুকুতে সম্মত হয়েছি—পালন করতে চাই।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে অনেকগুলো কাজ হয়েছে, সংসদে একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে। জুলাই, সংবিধান অ্যামেন্ডমেন্ট কমিটি বা সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন শুরু হয়েছে শব্দ নিয়ে বিতর্ক—সংস্কার হবে নাকি নাকি সংশোধন হবে।
বিরোধীদলীয় নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আসুন, আমরা আলোচনা করি। সংসদে আলোচনা করি। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেই। কোন কোন জায়গায় আলোচনা আছে, সে বিষয়ে কথা বলি। তখন যদি একমত না হয়ে বেরিয়ে যাবেন, বেরিয়ে যাবেন। তবুও আলোচনা করুন।
৫ দিন আগে
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা রাজনৈতিক ভাওতাবাজি: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশল ভুল ছিল এবং গণতন্ত্রের পরিবর্তে দলটি ফ্যাসিবাদের দিকে ধাবিত হয়েছিল। তার ভাষ্য, জুলাই গণহত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিকভাবে চূড়ান্ত পরাজয় হয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতেই ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে, যা ‘একটি রাজনৈতিক ভাওতাবাজি’।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায় নিয়ে’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
ইশরাক হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে এবং ‘এক ব্যক্তির পূজার’ মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে ছিল।
তিনি বলেন, রাজনীতি ও রাষ্ট্রক্ষমতা এক বিষয় নয়। রাজনীতির সঙ্গে রাষ্ট্রক্ষমতা, সাংস্কৃতিক ও আর্থিক ক্ষমতা, সফট পাওয়ার, আন্তর্জাতিক লবিং এবং জনগণের গ্রহণযোগ্যতার মতো বিষয় জড়িত। তাই শুধু নির্বাচনের ফল দিয়ে রাজনৈতিক জয়-পরাজয় নির্ধারণ করা যায় না।
তার ভাষ্য, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের ফল আওয়ামী লীগের পক্ষে গেলেও সেটিকে রাজনৈতিক অর্জন বলা যায় না। তার মতে, গণতন্ত্র থেকে ফ্যাসিবাদের দিকে ধাবিত হওয়াই ছিল দলটির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল।
জুলাই গণহত্যার পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের সুযোগ নেই দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাইয়ের মতো আরেকটি ঘটনা যদি ঘটে, যেখানে একটি গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, সেইখানে যদি আওয়ামী লীগ যে ফ্যাসিবাদী শক্তি, তারা যদি কোনোভাবে বিজয়ী হয়ে আসে, তাহলেই তারা রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত হতে পারবে বাংলাদেশে। এর বাইরে আমার মনে হয় তাদের আসলে রাজনৈতিক কোনো ভবিষ্যৎ নাই।’
শেখ হাসিনার ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ঘোষণার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাহলে কালকে আসতেছে না কেন দেশে? কালকেই আসুক, ডিসেম্বর কেন লাগবে?’
ইশরাকের দাবি, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলছে। নিজেদের সম্পদ ও অস্তিত্ব রক্ষার পাশাপাশি অনুসারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করতেই এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।
তবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সামাজিক অবস্থান পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়িক অঙ্গনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান এখনও রয়েছে। তাই আগামী দিনের রাজনীতিতে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে যত বিভেদ সৃষ্টি হবে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে ফিরে আসার সুযোগ তত বাড়বে। এ সুযোগ কোনোভাবেই দেওয়া উচিত নয়।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দেশত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে ইশরাক হোসেন বলেন, পরাজয় নিশ্চিত দেখে তারা সাধারণ নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এটি আওয়ামী লীগের ‘কাপুরুষোচিত’ রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রকাশ।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের শেখ হাসিনা ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কিন্তু এখানে তো পরাজিত হয়েছে আওয়ামী লীগ! সন্ত্রাসী তো তারা! ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলবে তারা!’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
‘জুলাই হত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরাজয়ের চেয়ে সামাজিক পরাজয় বেশি’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় গণ বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) বিতার্কিকরা বিজয়ী হন।
প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক আরিফুজ্জামান মামুন, সাংবাদিক মাইদুর রহমান রুবেল এবং সাংবাদিক জাকির হোসেন লিটন। শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
৭ দিন আগে
এনসিপি নতুন বন্দোবস্তের কথা বলে ‘নতুন ভণ্ডবস্তের’ রাজনীতি শুরু করেছে: রাশেদ খান
এনসিপি বাংলাদেশে নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বলে আসলে ‘নতুন ভণ্ডবস্তের’ রাজনীতি শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান বলেন, এনসিপি বাংলাদেশে নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বলে আসলে ‘নতুন ভণ্ডবস্তের’ রাজনীতি শুরু করেছে।
তিনি বলেন, এনসিপির রাজনীতি এখন জামায়াতের পরামর্শে ও মস্তিষ্ক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। তিনি জামায়াতকে একটি ‘চালাক ও ধুরন্ধর দল’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং এনসিপিকে গঠনমূলক রাজনীতি করার পরামর্শ দেন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি চিরতরে শেষ হয়ে গেছে এবং তা দিল্লিতে দাফন হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি না যে, আওয়ামী লীগ আর কখনও দেশের রাজনীতিতে ফিরতে পারবে।
এ সময় এনসিপির কিছু নেতাকর্মী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিনীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছেন বলে অভিযোগ করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, এনসিপি নেতা নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্যান্য নেতারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এমপি ও মন্ত্রীদের গালিগালাজ করছেন। রাশেদ খান সতর্ক করে বলেন, এনসিপির নেতারা যদি রাজনীতির পরিবেশ নষ্ট করেন, তাহলে তার ‘উত্তম জবাব’ এবং জামায়াত-এনসিপির সব ষড়যন্ত্রের ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত আছেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রতিহিংসার রাজনীতি করেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন এবং দেশটা সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে গড়ার কথা বলছেন।
এর আগে, রাশেদ খান জেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক এমএ মজিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতা ও সুধীজনরা। সভায় রাশেদ খান জেলার সার্বিক উন্নয়ন এবং মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ ও প্রশাসনের সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর জোর দেন।
৯ দিন আগে
বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে গিয়ে জুলাই শহিদদের অবমাননা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার: মীর হেলাল
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে গিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি অবমাননা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অন্তর থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগকে ধারণ করেন। তিনি কর্মের মাধ্যমে শহিদদের যথাযথ মর্যাদা ও মূল্যায়নের চেষ্টা করছেন।
রবিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে জেটেব আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
মীর হেলাল বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যারা সরকার পরিচালনা করেছেন এবং যাদের প্রভাবে সরকার পরিচালিত হয়েছে, তারা জুলাই স্পিরিট, অর্থাৎ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আবেগ, অনুভূতি ও চেতনা, সমুন্নত রাখতে পারেননি। একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে গিয়ে তারা জুলাই শহিদদের প্রতি অবমাননা করেছেন বলে আমি মনে করি।’
তিনি বলেন, ‘যাদের স্মরণে আজ আমরা কিছু কথা বলতে দাঁড়িয়েছি, যাদের বাবা-মায়ের আর্তনাদ আমরা শুনেছি, এরকম হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ আর্তনাদ আমাদের গত ১৭ বছর শুনতে হয়েছে। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী নৃশংসভাবে হত্যা, গুমের শিকার হয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাই নয়, এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গত ১৭ বছরে যারা বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ করেছেন, তারাও গুম, খুন, হামলা-মামলা ও কারানির্যাতন থেকে মুক্তি পাননি।’
মীর হেলাল বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ, জনরোষ ও প্রতিবাদের চূড়ান্ত ফলাফল।’
তিনি বলেন, ‘কোনো গণঅভ্যুত্থান কোনো এক ব্যক্তি বা এক গোষ্ঠীর মাধ্যমে সম্ভব হয় না। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ, গণতন্ত্রপ্রেমী ও দেশপ্রেমিক মানুষ, যখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তখনই এই গণবিস্ফোরণের মুখে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই শহিদদের পাশাপাশি ওই অবৈধ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে আমাদের দলের নেতাকর্মীসহ মতবিরোধী হাজার হাজার মানুষের শহিদ হওয়ার কাহিনীও এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে কাজ করেছে।’
মীর হেলাল বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে আমাদের উপলব্ধি হওয়া দরকার যে, দেশপ্রেমকে সমুন্নত রেখে, দেশের মানুষের স্বার্থকে সবার ঊর্ধ্বে রেখে দেশ পরিচালনায় আত্মনিয়োগ করা। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা দিন-রাত সেই কাজ করে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদের জ্যেষ্ঠ সদস্য, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সবাই একটি প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন যেন জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন, বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে পৃথিবীর মানচিত্রে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ মানুষের স্বার্থ সমুন্নত রেখে তাদের জীবনমানের উন্নয়নের জন্যও কাজ করা হচ্ছে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে আমরা এসব আলোচনা শুনছি। কিন্তু খেয়াল করলে দেখা যাবে, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এমপি শুরু থেকে আজ পর্যন্ত নেপথ্যে থেকে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।’
তিনি বলেন, ‘যেভাবে তিনি নেপথ্য থেকে নেতৃত্ব দিয়ে জুলাই আন্দোলন সফল করতে সহযোগিতা করেছিলেন, একইভাবে এখনো বাংলাদেশ পুনর্নির্মাণে ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। তিনি নিজের কৃতিত্ব বা ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য কিছু করছেন না।
‘তিনি অন্তর থেকে বিশ্বাস করেন— ২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গণতন্ত্রকে পুনরায় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনতে যত ত্যাগ, আত্মাহুতি ও শহিদের রক্ত ঝরেছে, তাদের প্রতি মর্যাদা দেখাতে হলে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করা ছাড়া কোনো পথ নেই।’
মীর হেলাল বলেন, ‘নির্বাচনের আগেও এবং এখনও তারেক রহমান যে বিষয়টি ধারণ করছেন, সেটি হলো—সবার আগে বাংলাদেশ। রাষ্ট্র পরিচালনা, সমাজ পরিচালনা কিংবা যেকোনো কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে সবার আগে চিন্তা করতে হবে, এই কর্ম বা কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের মানুষ উপকৃত হচ্ছে কি না।’
মীর হেলাল বলেন, ‘আজকে আমাদের যে কর্মসূচিগুলো রয়েছে, তার মধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেওয়া “ফ্যামিলি কার্ড” অন্যতম। এই ফ্যামিলি কার্ডের উপকারিতা প্রান্তিক পর্যায়ের নারীরা পাচ্ছেন। যারা প্রান্তিক মানুষের জীবনযাপন দেখেন না, তারা এর গুরুত্ব বুঝতে পারবেন না।’
তিনি বলেন, ‘একইভাবে কৃষক কার্ড, বিভিন্ন ধর্মের ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের সম্মানী, স্পোর্টস কার্ড এবং খেলোয়াড়দের সম্মানীসহ যতগুলো গণমুখী ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, এগুলো প্রমাণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অন্তর থেকে জুলাই এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগকে ধারণ করেন।
‘তিনি সেই চেতনা ধারণ করে কর্মের মাধ্যমে শহিদদের সঠিক মর্যাদা ও মূল্যায়নের চেষ্টা করছেন।’
মীর হেলাল বলেন, ‘এখানে যারা শহিদ পরিবারের সদস্য রয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে সীমিত সম্পদের মধ্যেও তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করা হবে। দল হিসেবেও আমরা তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব। আশা করি, দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দরাও তাদের পাশে থাকবেন।’
তিনি বলেন, ‘বিপ্লবের গল্প শুনে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে না। এজন্য প্রয়োজন দেশ ও দেশের মানুষকে নিয়ে কাজ করা এবং দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই নেতৃত্বই দিচ্ছেন।’ তিনি সবাইকে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
জেটেবের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. ফখরুল আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এ বি এম রুহুল আমীন আকন্দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সংগঠনটির নেতাকর্মী ও জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
১৩ দিন আগে
সরকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা মানুষের ইচ্ছা আমলে নেওয়া খারাপ কিছু নয়: দুদু
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘রাস্তায় নেমে রক্ত ও শ্রম দিয়ে যারা বর্তমান সরকারকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তাদের দাবি থাকতেই পারে। জীবন দিয়ে যারা এই সরকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের কথা বলার অধিকার রয়েছে এবং তাদের ইচ্ছাকে আমলে নেওয়ায় খারাপ কিছু নেই।’
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (ডিইএব)-এর সেমিনার হলে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘রক্তাক্ত জুলাই এবং পেশাজীবীদের ভুমিকা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ডিইএব-এর ডিপিডিসি শাখা।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে মানুষের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের দাবিগুলো যৌক্তিক। সরকার যখন তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং আমলে নেয়, তখন সেবামূলক কাজ মানুষ উপভোগ করতে পারে। কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি আবেগের বশে কোনো মন্তব্য করতেই পারেন, তবে সেটিকে সরকারের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।’
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে আহত, ক্ষতিগ্রস্ত ও চাকরি হারানো ব্যক্তিদের স্মরণ করে দুদু বলেন, ভাষা, স্বাধীনতা ও অধিকারের জন্য বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি পেশাজীবীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কোনো আন্দোলন পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ ছাড়া সফল হয় না।
তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, নারী-পুরুষ, এমনকি শিশু সন্তানকে কোলে নিয়েও অনেকে রাজপথে নেমেছিলেন। তাই তাদের চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন এবং এ বিষয়ে সরকার সচেতন।
সরকারপ্রধান তারেক রহমানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, পেশাজীবীদের সমস্যা ও দাবিগুলো প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন এবং সেগুলোর সমাধান করবেন।
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, আন্দোলন একটা তারাই করতে চায়, যারা পার্শ্ববর্তী দেশের সেবাদাস। ১৮ বছর তারা জোর করে ক্ষমতা দখল করেছিল। আর এই সরকার তো ভোটের মধ্য দিয়ে এসেছে। এই সরকার তো মানুষের সমর্থন, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে।
জনগণের সরকার হিসেবে সংশ্লিষ্টদের দাবিগুলো সরকার আমলে নেবে এবং মীমাংসা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংগঠনের আহ্বায়ক প্রকৌশলী মীর হোসেন পাটোয়ারীর (মিলন) সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান জুয়েলের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রকৌশলী তরিকুল হক, প্রকৌশলী রেজাউল করিম, শ্রমিক দল নেতা দেলোয়ার হোসেন, প্রকৌশলী আবুল মনসুর, প্রকৌশলী এএসএম তারেক তুষার, প্রকৌশলী ওবায়দুল আলম প্রমুখ।
এদিন প্রধান অতিথি শামসুজ্জামান দুদুকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে অনুষ্ঠানের সভাপতি মীর হোসেন পাটোয়ারীর হাতেও ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি শামসুজ্জামান দুদু।
১৪ দিন আগে