ইউএস-ও-কানাডা
হকি ম্যাচ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলা, বন্দুকধারীসহ হতাহত ৬
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলের রোড আইল্যান্ডের একটি যুব হকি ম্যাচ চলাকালে বন্দুক হামলায় হামলাকারীসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ফেব্রুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
পটাকেটের পুলিশের প্রধান টিনা গনসালভেস সাংবাদিকদের জানান, সোমবার বিকেলে হকি খেলার মাঠে মূলত বন্দুক হামলাটি হয়। এ সময় মাঠে উপস্থিত এক ব্যক্তি হামলাকারীকে থামানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। হামলাকারীদের ভেতর একজন মূলত তার আত্মীয়ের খেলা দেখতে ওই মাঠে এসেছিলেন। পরে তিনি নিজের গুলিতেই নিজে নিহত হন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এটি উদ্দেশ্যমূলক হামলা। পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হামলা হয়ে থাকতে পারে।’
হামলাকারীর নাম রবের্ত দোরগান, এই লোকটি রবের্তা এসজোসিত নামেও পরিচিত ছিলেন। ১৯৬৯ সালে বলে তিনি জন্মগ্রহণ করেন বলে জানান পুলিশপ্রধান টিনা গনসালভেস।
হামলাকারী বা নিহতদের বিষয়ে খুব বেশি তথ্য দেননি পটাকেট পুলিশ। নিহত দুজনই প্রাপ্তবয়স্ক ধারণার কথা জানিয়েছে তারা।
টিনা আরও জানান, তদন্তদল ঘটনাস্থল ডেনিস এম লিঞ্চ আরেনায় পৌঁছে সেখানে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এমনকি সেখানকার ভিডিও ফুটেজগুলোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশিকিছু ভিডিওতে দেখা যায়, গুলির শব্দ শোনার পর খেলোয়াড়রা মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন। দর্শকরা হুড়োহুড়ি করে আসন ছেড়ে পালাতে ব্যস্ত।
স্টেডিয়ামের বাইরের ভিডিওতে দেখা যায়, বাসে চড়ে স্বজনদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আগে আতঙ্কিত পরিবারগুলো খেলোয়াড়দের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
প্রায় দুই মাস আগে রোড আইল্যান্ডে আরেকটি বন্দুক হামলায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বন্দুকধারী সে সময় দুই শিক্ষার্থীকে হত্যা করেন। ওই ঘটনায় আরও ৯ জন আহত হন।
সেদিনের ঘটনায় পরবর্তী সময়ে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) এক অধ্যাপককেও গুলি করে হত্যা করেন হামলাকারী। এরপর নিউ হ্যাম্পশায়ারের একটি গুদামের পাশে ৪৮ বছর বয়সী ক্লাউদিও নেভেস ভালেন্তেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। নিজের গুলিতেই তিনি আত্নঘাতী হয়েছিলেন বলে ধারণা ছিল পুলিশের।
পটাকেটের মেয়র ডন গ্রেবিয়েন বলেন, ‘যদিও দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই, তবুও বিষয়টি মর্মান্তিক।’
পটাকেট শহরটি প্রভিডেন্সের ঠিক উত্তরে এবং ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্য সীমান্তের একদম নিচে অবস্থিত। ৮০ হাজারেরও কম জনসংখ্যার এই শহরটি খেলনা, বোর্ড গেম ও মিডিয়া বিনোদন নিয়ে কাজ করা বহুজাতিক কোম্পানি হাসব্রোর সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত।
২ দিন আগে
কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় বন্দুক হামলা, হামলাকারীসহ নিহত ১০
কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার একটি স্কুলে বন্দুক হামলায় সন্দেহভাজন হামলাকারীসহ আটজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা একটি বাড়িতে আরও দুজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় প্রশাসন এ তথ্য জানিয়েছে।
রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) জানিয়েছে, টাম্বলর রিজ সেকেন্ডারি স্কুলে ওই হামলার ঘটনায় ২৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনসংখ্যার টাম্বলর রিজ শহরটি ভ্যাঙ্কুভার থেকে এক হাজার কিলোমিটার উত্তরে, আলবার্টা সীমান্তের কাছে অবস্থিত। প্রাদেশিক সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, টাম্বলর রিজ সেকেন্ডারি স্কুলে সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৭৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
আরসিএমপির সুপারিনটেনডেন্ট কেন ফ্লয়েড সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তকারীরা হামলাকারীর পরিচয় শনাক্ত করেছেন, তবে এখনই তার নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।
হামলার উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কেন বা কী কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, তা আমরা এখনো বুঝতে পারছি না। (ওই বাড়িতে) নিহতরা কীভাবে হামলাকারীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।’
আরসিএমপি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘গুলির ঘটনার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে পুলিশ হামলার উৎস খুঁজে বের করতে স্কুলটিতে প্রবেশ করে। সেখানে তল্লাশির সময় কর্মকর্তারা একাধিক ভুক্তভোগীকে খুঁজে পান। হামলাকারী বলে ধারণা করা একজন ব্যক্তিকেও সেখানে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই ব্যক্তির শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজনসহ সাতজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
পিস রিভার সাউথ স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানায়, গুলির ঘটনায় সেকেন্ডারি স্কুল ও টাম্বলর রিজ এলিমেন্টারি স্কুল, দুটিতেই ‘লকডাউন ও সিকিউর অ্যান্ড হোল্ড’ জারি করা হয়েছে।
পিস রিভার সাউথ এলাকার সংসদ সদস্য ল্যারি নিউফেল্ড কানাডার পার্লামেন্ট থেকে সাংবাদিকদের বলেন, ওই এলাকায় পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ অতিরিক্ত বাহিনী ও সহায়তা পাঠানো হয়েছে। তবে চলমান অভিযানের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি বিস্তারিত তথ্য দিতে চাননি।
ব্রিটিশ কলম্বিয়ার প্রিমিয়ার (প্রাদেশিক সরকারপ্রধান) ডেভিড এবি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আজ রাতে টাম্বলর রিজের যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জন হারিয়েছেন, তাদের জন্যে আমরা গভীল সমবেদনা জানাচ্ছি। এই অকল্পনীয় হৃদয়বিদারক ঘটনা পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সামনের দিনগুলোতে কমিউনিটির সদস্যদের জন্য সরকার সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করবে।’
যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা বাড়লেও কানাডায় এ ধরনের ঘটনা বিরল।
মঙ্গলবারের এই হামলা ২০২০ সালের পর কানাডায় সবচেয়ে প্রাণঘাতী সহিংস ঘটনা। ওই বছর নোভা স্কোশিয়ায় এক বন্দুকধারী ১৩ জনকে গুলি করে হত্যা করেন এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আরও ৯ জন নিহত হন।
ওই ঘটনার পর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে কানাডা সরকার। সম্প্রতি তাদের দৃষ্টিতে আক্রমণাত্মক অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত সব ধরনের বন্দুকের ওপর নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারিত করা হয়েছে।
৮ দিন আগে
গর্ভবতী অবস্থায় নারী কাঁচা দুধ পান করায় নবজাতকের মৃত্যু!
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোতে এক নকজাতকের মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গর্ভাবস্থায় ওই নারী অপরিশোধিত কাঁচা দুধ পান করেছিলেন। তা থেকে সংক্রমণেই নবজাতক শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
শিশুটির মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে চলতি সপ্তাহজুড়ে মানুষকে পাস্তুরিত নয় এমন দুগ্ধজাত পণ্য খাওয়া থেকে এড়িয়ে চলতে সতর্ক করেছেন নিউ মেক্সিকোর কর্মকর্তারা।
সাম্প্রতি ‘মেক আমেরিকা হেলদি অ্যাগেইন’ নামে স্থানীয় পর্যায়ে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আন্দোলন শুরু করেছেন স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র। ওই আন্দোলনের প্রভাবে কাঁচা দুধের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কাঁচা দুধের বিক্রিও বেড়েছে।
সরকারি কর্মকর্তারা গোপনীয়তা রক্ষার উদ্দেশ্যে মৃত নবজাতক ও তার পরিবারের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। অবশ্য এখন পর্যন্ত শিশুটির মৃত্যুর সঠিক কারণ শনাক্ত করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। তবে অপাস্তুরিত দুধই শিশুটির রোগে সংক্রমিত হওয়ার সবচেয়ে সম্ভাব্য উৎস ছিল বলেও উল্লেখ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে এক কর্মকর্তা বলেছেন, তদন্তের সময় সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ ধারণা করা হচ্ছে। শিশুটির শরীরে সংক্রমণের সময় এবং গর্ভাবস্থায় তার মা কাঁচা দুধ পান করেছিলেন এমন তদন্তে উঠে এসেছে।
কাঁচা দুধে লিস্টেরিয়াসহ বেশ কয়েকটি রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু থাকে। এটি এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া যা মায়ের গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব, অকাল প্রসব অথবা নবজাতকের মধ্যে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
১৪ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে তুষার ঝড়ের প্রভাবে ৩০ জনের মৃত্যু
ভয়াবহ তুষার ঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তীব্র ঠান্ডা ও ঝড়ের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় তাপমাত্রার চরম অবনতি হয়। ঝড়ের কারণে গতকাল দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক তুষারপাত হয়েছে এবং দক্ষিণের বিভিন্ন অঞ্চল তুষারের চাদরে ঢেকে যায়। বহু মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ভয়াবহ ঠান্ডার মধ্যে রাত কাটাতে বাধ্য হন।
বাতাসের মান নির্ণয়কারী প্রতিষ্ঠান ও দেশটির আবহাওয়া অফিসের প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, আরকানসাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকাজুড়ে ১ ফুটের বেশি তুষারের আস্তরণ জমেছে। এর ফলে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, অসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায় এবং বেশিরভাগ স্কুলগুলোই বন্ধ হয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা দপ্তর জানায়, পিটসবার্গের উত্তরের এলাকাগুলোতে কোথাও কোথাও ২০ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাত হয়েছে। সোমবার গভীর রাত থেকে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত বাতাসের সঙ্গে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রচণ্ড শীত শিগগিরিই কমার কোনো লক্ষণ নেই। সোমবার জানানো হয়, নতুন করে আর্কটিক অঞ্চল থেকে হিমশীতল বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় ইতোমধ্যে বরফ ও তুষারে ঢাকা এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা আরও দীর্ঘ সময় ধরে হিমাঙ্কের নিচে থাকবে। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহে দেশটির পূর্ব উপকূলে আবারও একটি তুষার ঝড় আঘাত হানতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক সিটিতে তীব্র ঠান্ডায় সপ্তাহজুড়ে মোট আটজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ম্যাসাচুসেটস ও ওহাইয়োতে তুষার পরিষ্কারকারী গাড়ির (স্নোপ্লো) চাপায় নিহত দুই ব্যক্তিও রয়েছেন। এছাড়া রয়েছে আরকানসাস ও টেক্সাসে স্লেডিং দুর্ঘটনায় নিহত কয়েকজন কিশোর। সর্বশেষ কানসাসে একটি পানশালার বাইরে এক নারীর মরদেহ তুষারে ঢাকা অবস্থায় পাওয়া যায়।
লাখো মানুষ বিদ্যুৎহীন
সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজারের বেশি বাড়ি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল বলে জানিয়েছে ‘পাওয়ার আউটেজ ডটকম’। এর মধ্যে বেশিরভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ঘটনাই ঘটেছে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে। সপ্তাহজুড়ে হিমবৃষ্টি ও ঝড়ে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি করেছে সেখানে। উত্তর মিসিসিপি ও টেনেসির কিছু এলাকায়ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে।
বিদ্যুৎ পরিষেবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরোপুরি বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হতে কয়েক দিন লেগে যেতে পারে।
১৯৯৪ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ তুষার ঝড়ের কবলে পড়েছে মিসিসিপি। সেখানকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাট, কম্বল, বোতলজাত পানি ও জেনারেটর পাঠাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
মিসিসিপির গভর্নর টেট রিভস জানান, অন্তত ১৪টি বাড়ি, একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ২০টি সরকারি সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
২৩ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে ৮ আরোহীসহ ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত
যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যে ৮ আরোহী নিয়ে একটি ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ের কবলে পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৮টার দিকে ব্যাঙ্গর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোম্বার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার ৬০০ নামের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এ তথ্য জানিয়েছে। তবে বিমানের যাত্রীদের অবস্থা সম্পর্কে তারা প্রাথমিকভাবে কোনো তথ্য দিতে পারেনি। এফএএ ও জাতীয় পরিবহন সুরক্ষা বোর্ড দুর্ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করছে।
রবিবার দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে ব্যাঙ্গরেও টানা তুষারপাত হয়। এই মধ্যে নিউ ইংল্যান্ডসহ দেশটির বেশিরভাগ অঞ্চলে রাতে ঝড় হয়। ঝড়ের মধ্যে পড়ে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
এক বিবৃতিতে ব্যাঙ্গর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটি উড্ডয়নের সময় জরুরি কর্মীরা বিমানবন্দরে ছিলেন। তবে বিমানটি ছেড়ে যাওয়ার পর বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এই বিমানবন্দরটি ওরল্যান্ডো, ফ্লোরিডা, ওয়াশিংটন, ডিসি এবং শার্লট, উত্তর ক্যারোলিনার মতো শহরগুলোতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। বোস্টন থেকে এটি প্রায় ৩২০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।
গত সপ্তাহজুড়ে প্রবল ঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের বেশিরভাগ অংশে শিলাবৃষ্টি এবং তুষারপাত হয়েছে। এর ফলে বহু বিমান ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করা হয়েছে এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অসংখ্য বাড়িঘর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে দেশটির বেশিরভাগ অংশে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
বিমানের ফ্লাইট শনাক্তকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটওয়্যার ডটকমের তথ্য অনুসারে, রবিবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১২ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং আরও অন্তত ২০ হাজার ফ্লাইট ছাড়তে দেরি হয়েছে। ঝড়ের কারণে ফিলাডেলফিয়া, ওয়াশিংটন, বাল্টিমোর, উত্তর ক্যারোলিনা, নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সির বিমানবন্দরগুলোতেও দৈনন্দিন কার্যক্রম প্রভাবিত হয়েছে।
বোম্বার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার ৬০০ হলো একটি চওড়া আকৃতির ব্যবসায়িক জেট বিমান যা ৯ থেকে ১১ জন যাত্রীর জন্য তৈরি। এটি ১৯৮০ সালে ওয়াক-অ্যাবাউট কেবিনসহ প্রথম ব্যক্তিগত জেট হিসেবে চালু হয় এবং এয়ারচার্ট সার্ভিস ডটকমের তথ্য অনুসারে, এটি বর্তমানে একটি জনপ্রিয় ব্যক্তিগত বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
২৪ দিন আগে
গ্রিনল্যান্ড দখলে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন না দিলে শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের
গ্রিনল্যান্ড দখলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে না থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিদলীয় মার্কিন কংগ্রেস প্রতিনিধি দল ডেনমার্কের রাজধানীতে যখন উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে, তার মধ্যেই এমন মন্তব্য করলেন ট্রাম্প।
গত কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলে আসছেন, ন্যাটো মিত্র ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা উচিত। চলতি সপ্তাহের শুরুতেও তিনি বলেছেন, আর্কটিক অঞ্চলের এই দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে না এলে তা ‘অগ্রহণযোগ্য’ হবে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প উদাহরণ দিয়ে স্মরণ করিয়ে দেন, এর আগে তিনি কীভাবে ইউরোপীয় মিত্রদের ওষুধ খাতে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রেও আমি তা করতে পারি। যদি দেশগুলো গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে একমত না হয়, তাহলে আমি তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারি। কারণ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড আমাদের প্রয়োজন। তাই আমি তা করতেই পারি।’
এর আগে অবশ্য গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে চাপ সৃষ্টি করতে শুল্ক আরোপের কথা বলতে শোনা যায়নি তাকে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন।
ওই বৈঠকে গভীর মতপার্থক্যের নিরসন না হলেও একটি ‘কার্যকরী দল’ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়, যার উদ্দেশ্য নিয়ে পরে ডেনমার্ক ও হোয়াইট হাউস ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা প্রকাশ করে।
ইউরোপীয় নেতারা জোর দিয়ে বলেছেন, এই ভূখণ্ড নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডেরই। চলতি সপ্তাহে ডেনমার্ক জানিয়েছে, মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে।
যে সম্পর্ক ‘লালন করতে হবে’
কোপেনহেগেনে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের একটি দল শুক্রবার ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের আইনপ্রণেতাদের পাশাপাশি দেশটির প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেনসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
প্রতিনিধি দলের নেতা ডেলাওয়ারের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস স্বাগতিকদের বলেন, ‘২২৫ বছর ধরে একজন ভালো ও বিশ্বস্ত মিত্র এবং অংশীদার থাকার জন্য ধন্যবাদ।’ তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতেও কীভাবে এই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে আমাদের শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’
আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকাউস্কি আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বলেন, এই সফর বহু দশকের দৃঢ় সম্পর্কের প্রতিফলন এবং ‘এটি এমন একটি সম্পর্ক, যা আমাদের লালন করতে হবে।’
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডকে কোনো সম্পদ হিসেবে নয়, আমাদের একটি মিত্র হিসেবে দেখা দরকার। আমি মনে করি, এই প্রতিনিধিদলের কাছ থেকেও সেটিই শোনা যাচ্ছে।’
তবে এই সুর হোয়াইট হাউসের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখলের আহ্বানকে ন্যায্যতা দিতে ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, দুর্লভ খনিজ সম্পদে ভরা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে চীন ও রাশিয়ার নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে। আবার হোয়াইট হাউস এই ভূখণ্ড বলপ্রয়োগে দখল করার সম্ভাবনাও নাকচ করেনি।
শুক্রবারের বৈঠকে অংশ নেওয়া গ্রিনল্যান্ডের রাজনীতিক ও ডেনিশ পার্লামেন্ট সদস্য ওহা খিমনিৎস বলেন, ‘সত্যি বলতে, গ্রিনল্যান্ডের ওপর হুমকি নিয়ে আমরা অনেক মিথ্যা ও অতিরঞ্জন শুনেছি। আমার মতে, বর্তমানে যে হুমকিগুলো আমরা দেখছি, তার বেশিরভাগ যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকেই আসছে।’
মারকাউস্কি ব্যয় ও ভোটারদের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ভূমিকার ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা জোর দিয়ে বলা জরুরি—যখন আমেরিকার জনগণকে জিজ্ঞেস করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখল করার ধারণাটি ভালো কি না, তখন বিপুল সংখ্যক, প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোটার বলেছে, আমরা মনে করি না যে এটি ভালো ধারণা।’
নিউ হ্যাম্পশায়ারের ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শাহিনের সঙ্গে মারকাউস্কি একটি দ্বিদলীয় বিল উত্থাপন করেছেন, যাতে কোনো ন্যাটো সদস্যরাষ্ট্রের সম্মতি বা নর্থ আটলান্টিক কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়া গ্রিনল্যান্ড কিংবা কোনো সার্বভৌম ন্যাটো ভূখণ্ড সংযুক্ত বা নিয়ন্ত্রণে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বা পররাষ্ট্র দপ্তরের তহবিল ব্যবহার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের বক্তব্যের সমালোচনায় ইনুইট কাউন্সিল
চলমান এই উত্তেজনা গ্রিনল্যান্ডবাসীদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন মঙ্গলবার বলেন, ‘যদি আমাদের এখানে ও এখনই যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে কাউকে বেছে নিতে হয়, সেক্ষেত্রে আমরা ডেনমার্ককে বেছে নিচ্ছি। আমরা ন্যাটোকে বেছে নিচ্ছি। আমরা ডেনমার্ক রাজতন্ত্রকে বেছে নিচ্ছি। আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বেছে নিচ্ছি।’
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলাস্কা, কানাডা, গ্রিনল্যান্ড ও রাশিয়ার চুকোটকা অঞ্চলের প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ইনুইটের প্রতিনিধিত্ব করা নুকভিত্তিক সংস্থা ইনুইট সার্কামপোলার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বলেন, গ্রিনল্যান্ড অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের দখলে থাকতে হবে—হোয়াইট হাউসের এমন ধারাবাহিক বক্তব্য ‘গ্রিনল্যান্ডের মানুষের সম্পর্কে মার্কিন প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতি তাদের দৃষ্টি এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।’
সারা ওলসভিগ নুকে অ্যাসোসিয়েট প্রেসকে বলেন, বিষয়টি হলো ‘বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শক্তি কীভাবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল জনগোষ্ঠীগুলোর দিকে তাকায়। আর সেটি সত্যিই উদ্বেগজনক।’ গ্রিনল্যান্ডের আদিবাসী ইনুইটরা আবারও ঔপনিবেশিক শাসন চান না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
৩৩ দিন আগে
মার্কিন মুসলিম অধিকার গ্রুপকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করলেন ফ্লোরিডার গভর্নর
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম নাগরিক অধিকার ও অ্যাডভোকেসি গ্রুপ আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স কাউন্সিল (কেয়ার)-কে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করেছেন ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেস্যান্টিস। টেক্সাসে গত মাসে নেওয়া একই ধরনের সিদ্ধান্তের পর তিনি এ ঘোষণা দিলেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (৮ ডিসেম্বর) এক্স-এ প্রকাশিত এক নির্বাহী আদেশে কেয়ারের বিরুদ্ধে তিনি এই নির্দেশনা জারি করেন। একইসঙ্গে ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’কেও একই তকমা দেওয়া হয়।
প্রাদেশিক সরকার ‘সন্ত্রাসী’ তকমা দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার কেয়ার বা মুসলিম ব্রাদারহুড—কোনোটিকেই ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করেনি।
ওই আদেশে ফ্লোরিডার বিভিন্ন সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন এসব সংগঠন বা যেসব ব্যক্তি এদের সহযোগিতা করেছেন, তাদের কোনো ধরনের চুক্তি, চাকরি কিংবা অর্থ বরাদ্দ না দেয়।
গভর্নরের ঘোষণার পর ইমেইলে পাঠানো এক বিবৃতিতে কেয়ারের কেন্দ্রীয় ও ফ্লোরিডা শাখা জানিয়েছে, গভর্নর ডেস্যান্টিসের ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘মানহানিকর’ ঘোষণার বিরুদ্ধে তারা মামলা করবে।
১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কেয়ারের যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ২৫টি শাখা রয়েছে।
গত মাসে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট সংগঠনটিকে ‘সন্ত্রাসী’ ঘোষণা দিলে কেয়ার তার বিরুদ্ধেও ফেডারেল আদালতে আবেদন করে। মামলায় তারা বলে, এ ঘোষণা ‘মার্কিন সংবিধানের পরিপন্থী’ এবং এর পক্ষে ‘টেক্সাসের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।’
অন্যদিকে, মিসরভিত্তিক মুসলিম ব্রাদারহুড প্রায় এক শতাব্দী আগে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বিশ্বের নানা দেশে তাদের শাখা রয়েছে। সংগঠনটির নেতারা বলেন, বহু আগেই তারা সহিংসতা পরিত্যাগ করেছেন এবং নির্বাচন ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা কাজ করেন। তবে সমালোচকেরা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সরকার সংগঠনটিকে হুমকি হিসেবে দেখে।
৭২ দিন আগে
ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ৩০টির বেশি দেশে সম্প্রসারিত করবে যুক্তরাষ্ট্র
নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকের ওপর যে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, তা আরও বাড়িয়ে ৩০টিরও বেশি দেশে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি দেশটির ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর অভিবাসন নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে ফক্স নিউজের উপস্থাপক লরা ইনগ্রাহামকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ক্রিস্টি নোম এ কথা জানান।
এর আগে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নোম জানান, চলমান এই বিধিনিষেধ চলতি বছরের জুনে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে এ বছরের জুন মাসে ১২ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। সেইসঙ্গে সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়।
আফগানিস্তান, মিয়ানমার, চাদ, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেনের নাগরিকদের ওপর তখন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। আর বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন, টোগো, তুর্কমেনিস্তান ও ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়।
চলতি সপ্তাহেই ওই ১৯টি দেশের নাগরিকদের ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই স্থগিতাদেশের ফলে দেশগুলোতে গ্রিন কার্ডের আবেদন থেকে শুরু করে নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনসহ সব ধরনের অভিবাসন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
তবে এই তালিকায় নতুন করে আর কোন কোন দেশ যুক্ত হবে, সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু না বলে তিনি জানান, বিষয়টি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মূল্যায়ন করছেন।
৭৫ দিন আগে
১৯ দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের আবেদন স্থগিত
চলতি বছরের শুরুর দিকে যে ১৯টি দেশের নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, সেসব দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ডসহ সব ধরনের অভিবাসন আবেদন গ্রহণ আপাতত স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। সম্প্রতি দেশটির ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর অভিবাসন নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদন প্রক্রিয়া ও অনুমোদনের দায়িত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনায় এ তথ্য জানায়।
এসব দেশের নাগরিকদের ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই স্থগিতাদেশের ফলে দেশগুলোতে গ্রিন কার্ডের আবেদন থেকে শুরু করে নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনসহ সব ধরনের অভিবাসন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
কবে এই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হবে, তা ইউএসসিআইএসের পরিচালক জোসেফ এডলোর ওপর নির্ভর করবে বলে স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে চলতি বছরের জুন মাসে ১২ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। সেইসঙ্গে সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়।
সে সময় আফগানিস্তান, মিয়ানমার, চাদ, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেনের নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। আর বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন, টোগো, তুর্কমেনিস্তান ও ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এসব দেশের অভিবাসীদের বিরুদ্ধে তখন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কিন্তু ইউএসসিআইএসের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন নিজ দেশে হোক বা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত, সব নাগরিকই বাড়তি নজরদারির আওতায় পড়বেন।
সংস্থাটি জানিয়েছে, বাইডেন প্রশাসনের সময় ওইসব দেশে থেকে যারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে, তাদের ‘অনুমোদিত সুবিধার সব আবেদন’ নতুন করে ব্যাপকভাবে যাচাই করা হবে।
নতুন নীতির নির্দেশিকা হিসেবে জারি করা সরকারি স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে, গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যের ওপর হামলায় এক আফগান নাগরিককে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলায় এক সেনা নিহত এবং আরেকজন গুরুতরভাবে আহত হন। ওই ঘটনার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ইউএসসিআইএস বলেছে, ‘চিহ্নিত ঝুঁকি ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের ওপর হুমকি বিবেচনায় ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি বা এর পরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের নাগরিকদের ব্যাপকভাবে পুনরায় যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। প্রয়োজন হলে তাদের ফের সাক্ষাৎকার, জরুরি মনে করলে একাধিক সাক্ষাৎকারও নেওয়া হতে পারে।’
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই স্মারকে সংস্থাটি আরও জানায়, কাদের ব্যাপারে পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে, সে বিষয়ে ৯০ দিনের মধ্যে তারা অগ্রাধিকারমূলক একটি তালিকা তৈরি করবে। প্রয়োজন হলে তাদের অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছেও পাঠানো হবে।
গুলির ওই ঘটনার পর থেকে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ও দেশটিতে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক অভিবাসীদের ওপর বাড়তি নজরদারির জন্য একাধিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে সমালোচকেরা বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এসব পদক্ষেপ সমষ্টিগতভাবে অভিবাসীদের ওপর শাস্তি আরোপের সামিল।
৭৮ দিন আগে
ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে, তবে চুক্তিতে পৌঁছাতে আরও কাজ বাকি: রুবিও
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রতিনিধি দলের বৈঠক ফলপ্রসু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে যুদ্ধের অবসানে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আরও অনেক কাজ বাকি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
ফ্লোরিডার হ্যাল্যারেন্ড বিচের শেল বে ক্লাবে স্থানীয় সময় রবিবার (৩০ নভেম্বর) ৪ ঘণ্টাব্যাপী চলে ওই আলোচনা।
বৈঠক শেষে রুবিও বলেন, আমরা আজকে যে আলোচনা করেছি, তা শুধু যুদ্ধ বন্ধের জন্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে ইউক্রেনকে কীভাবে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাওয়া যায় তাও ছিল এই বৈঠকের আলোচ্য।… আমি মনে করি, এর ওপর ভিত্তি করেই আজকে আমরা (আলোচনা) শুরু করেছি, কিন্তু আরও অনেক কাজ বাকি রয়েছে।’
রুবিও ছাড়াও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এই বৈঠকে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন।
এদিকে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মস্কোয় পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, সম্প্রতি দুর্নীতির অভিযোগের নিজ দেশে কিছুটা কোণঠাঁসা হয়ে পড়া ইউক্রেন সরকারকে নিয়ে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, ‘দুর্নীতি কেলেঙ্কারি নিয়ে ইউক্রেন সরকার কিছুটা সমস্যায় রয়েছে। তা সত্ত্বেও, চুক্তিতে পৌঁছানোর ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।’
সম্প্রতি জ্বালানি খাতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে ১০ কোটি ডলার আত্মসাৎ করার অভিযোগ আনা হয়েছে জেলেনস্কি সরকারের বিরুদ্ধে। এর ফলে নিজ দেশেই চাপের মধ্যে রয়েছে ক্ষমতাসীন নেতারা।
এরই মধ্যে ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে তৈরিকৃত যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার পুনঃনিরীক্ষা করেছেন কিয়েভের কুটনীতিকরা। প্রস্তাবিত প্রাথমিক ওই পরিকল্পনায় রাশিয়ার স্বার্থকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে এর সমালোচনা করেন তারা। তবে, রবিবার বৈঠক শুরুর সময় রুবিও ইউক্রেনকে ওই প্রস্তাব পুনর্মূল্যায়নের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন।
বৈঠকে রুবিও আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু শান্তি নয়, বরং যুদ্ধের এমন একটি অবসান নিশ্চিত করা যা ইউক্রেনকে ‘সার্বভৌম, স্বাধীন ও প্রকৃত সমৃদ্ধির পথে’ নিয়ে যাবে।
ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান রুস্তেম উমেরভ যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টার জন্য রুবিওর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্দেশেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অথচ, এর আগে তিনিই দাবি করেছিলেন যে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার জন্য ইউক্রেন কৃতজ্ঞ নয়।
বৈঠক শুরুর আগে উমেরভ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের কথা শুনছে, তারা আমাদের সমর্থন দিচ্ছে এবং আমাদের পাশে থেকে কাজ করছে।’ তবে আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়েছে কি না, বৈঠকের পর সে ব্যাপারে তিনি কিছু বলেননি।
রুবিও জানান, যুদ্ধ শেষ করার চুক্তি ছাড়াও আলোচনায় আরও অন্যান্য বিষয় উঠে আসে। ট্রাম্প বারবার বলেছেন, ইউক্রেন যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলে, তবে তা ভবিষ্যতে রুশ আগ্রাসন ঠেকাতে সহায়তা করবে। এ লক্ষ্যে এই বসন্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার মাধ্যমে ইউক্রেনের বিশাল খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকার পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্পের খসড়া শান্তি প্রস্তাবে ‘ইউক্রেন উন্নয়ন তহবিল’ তৈরির কথা রয়েছে। এই তহবিল থেকে প্রযুক্তি, ডেটা সেন্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) দ্রুত বর্ধনশীল শিল্পে বিনিয়োগ করা হবে। প্রস্তাবে ইউক্রেনের প্রাকৃতিক গ্যাসের পাইপলাইন ও মজুতসহ এর জন্য অবকাঠামো পুনঃনির্মাণ, উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও পরিচালনায় যৌথভাবে কাজ করার কথাও বলা হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে রাশিয়া।
৮০ দিন আগে