ইউএস-ও-কানাডা
শুধু তামাশা করার জন্য হলেও খার্গ দ্বীপে আবার হামলা চালাতে পারি: ট্রাম্প
তেহরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপের তেল রপ্তানিকেন্দ্রে শুধু তামাশা করার জন্য হলেও হামলা চালাতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৪ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া ৩০ মিনিটের এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের দাবি, ইরান সরকার একটি চুক্তি করতে চায় এবং সেই চুক্তির শর্তাবলি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থি।
হোয়াইট হাউস থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ঠিক কতদিন যুদ্ধ চলবে, এই বিষয়ে সংশয় দূর করতে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় খার্গ দ্বীপের বেশিরভাগ স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে তামাশা করার জন্য হলেও আরও কয়েকবার হামলা চালাতে পারে মার্কিন বাহিনী।
এনবিসি নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমরা খার্গ দ্বীপের অনেক অংশ পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছি। তবে একটা বিষয়ে নিশ্চয় আপনারা অবগত যে, আমি জ্বালানি পাইপলাইন বা বিদ্যুৎ লাইনের ওপর কোনো ধরনের হামলা করিনি, কারণ সেগুলো মেরামত করতে বহু বছর লেগে যেত।’
কোনো সূত্র উল্লেখ না করে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা সংশয়ের মধ্যে ট্রাম্প প্রশ্ন তোলেন, ‘আসলেও তিনি জীবিত আছেন তো?’
তিনি আরও জানান, ইরান হরমুজ প্রণালিতে মাইন পুতে রেখেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
দুই সপ্তাহ আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অচল হয়ে পড়েছে। এই প্রণালি দিয়ে মূলত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সারা বিশ্বে পরিবাহিত হয়।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার কারণে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম ইতোমধ্যে আকাশ ছুঁয়েছে।
এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শক্তভাবে ওই প্রণালিতে নজরদারি চালাব এবং আমরা মনে করি, এই তেল পরিবহনের সঙ্গে যেসব দেশের স্বার্থ জড়িত, তারাও এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে যোগ দেবে।’
তবে কতদিন এই প্রক্রিয়া চলবে বা কোন কোন দেশ এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবে, তা এখনও তিনি স্পষ্ট করেননি।
শনিবার অন্যান্য দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। এর সঙ্গে তিনি যুক্ত করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে এই বিষয়ে সমন্বয় করবে।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সামরিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সব দিক থেকে ইরানকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করেছে। কিন্তু বিশ্বের যেসব দেশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল গ্রহণ করে, তাদেরই এই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরাও সাধ্য অনুযায়ী তাদের সহযোগিতা করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ওই দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করবে যাতে সবকিছু দ্রুত, সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়। এটি সর্বদা একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা হওয়া উচিত ছিল এবং বিশ্বের এই পরিস্থিতিতে তা হবে বলেও আশা করছি। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা বিশ্বকে সম্প্রীতি, নিরাপত্তা এবং চিরস্থায়ী শান্তির দিকে ধাবিত করবে।’
তবে মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাবে কি না, সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি আপাতত আপনাদের কিছু জানাতে চাচ্ছি না।’
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বর্তমানে সংকট নিরসনে ট্রাম্পের এই একত্রিত হওয়ার আহ্বানকে তার আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছে। কারণ এর আগে তিনি বলেছিলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে পরিচালিত হামলা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ছিল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ক্ষমতার প্রদর্শন এবং এর জন্য তারা আন্তর্জাতিক অনুমতির পরোয়া করে না।
ট্রাম্প আরও বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকেও ইরান লক্ষ্যবস্তু করেছে যা অত্যন্ত বিস্ময়কর ব্যাপার। তিনি বলেন, এসব দেশের ওপর হামলা পুরোপুরি অযৌক্তিক। সেই সঙ্গে ইরানের এই সিদ্ধান্তকে তিনি সব সিদ্ধান্তের মধ্যে সবচেয়ে বড় অবাক করা বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
১ দিন আগে
মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের ফি ৮০ শতাংশ কমিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করার জন্য যে ফি দিতে হয়, তার প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। চূড়ান্ত বিধিতে বিদ্যমান ফি ২ হাজার ৩৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৪৫০ ডলার করা হয়েছে।
বহু বছর ধরে নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে ইচ্ছুক আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৪ মার্চ) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত একটি চূড়ান্ত বিধিতে এই ফি কমানো হয়। শুক্রবার থেকেই নতুন ফি কার্যকর হয়েছে।
২০২৩ সালে এ ফি কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এতদিন তা বাস্তবায়ন হয়নি। এখন এই ফি ২০১০ সালে যখন প্রথমবার নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেই সময়কার সমান পর্যায়ে ফিরে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করা একটি জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আবেদনকারীদের একাধিক লিখিত ও মৌখিক ঘোষণার মাধ্যমে পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার কর্মকর্তাকে নিশ্চিত করতে হয় যে তারা এই সিদ্ধান্তের পরিণতি সম্পর্কে অবগত। এরপর তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব ত্যাগের শপথ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় এবং পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যালোচনা করে পররাষ্ট্র দপ্তর।
২০১৫ সালে নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে আগ্রহীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় প্রশাসনিক ব্যয় মেটানোর যুক্তিতে ফি ৪৫০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৩৫০ ডলার করা হয়েছিল। বিশেষ করে বিদেশে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন কর প্রতিবেদন বিধির কারণে অনেকেই নাগরিকত্ব ত্যাগে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
ফি এত বেশি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ফ্রান্সভিত্তিক ‘অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাক্সিডেন্টাল আমেরিকানস’-সহ বিভিন্ন সংগঠন তীব্র বিরোধিতা করে। সংগঠনটি মূলত এমন ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব করে, যারা শুধু যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়ার কারণে মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছেন, কিন্তু বিদেশেই বসবাস করছেন।
সংগঠনটি ফি আরোপের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একাধিক মামলা করে, যার মধ্যে একটি মামলায় এখনো দাবি করা হচ্ছে যে নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য কোনো ফি থাকা উচিত নয়।
সংগঠনটির সভাপতি ফাবিয়েন লেহাগ্রে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। এটি স্বীকার করে যে মৌলিক এই অধিকারটি সবার জন্য সহজলভ্য হওয়া জরুরি। ছয় বছরের নিরলস আইনি লড়াই ও প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য এসেছে।’
আদালতে সংগঠনটি জানিয়েছে, ২০২৩ সালে ফি কমানোর ঘোষণা দেওয়ার পরও অন্তত ৮ হাজার ৭৫৫ জন মার্কিন নাগরিক নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য পূর্ণ ২ হাজার ৩৫০ ডলার ফি পরিশোধ করেছেন। তবে মোট কতজন মার্কিন নাগরিক নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করার জন্য যে ফি দিতে হয়, তার প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। চূড়ান্ত বিধিতে বিদ্যমান ফি ২ হাজার ৩৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৪৫০ ডলার করা হয়েছে।
বহু বছর ধরে নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে ইচ্ছুক আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৪ মার্চ) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত একটি চূড়ান্ত বিধিতে এই ফি কমানো হয়। শুক্রবার থেকেই নতুন ফি কার্যকর হয়েছে।
২০২৩ সালে এ ফি কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এতদিন তা বাস্তবায়ন হয়নি। এখন এই ফি ২০১০ সালে যখন প্রথমবার নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেই সময়কার সমান পর্যায়ে ফিরে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করা একটি জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আবেদনকারীদের একাধিক লিখিত ও মৌখিক ঘোষণার মাধ্যমে পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার কর্মকর্তাকে নিশ্চিত করতে হয় যে তারা এই সিদ্ধান্তের পরিণতি সম্পর্কে অবগত। এরপর তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব ত্যাগের শপথ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় এবং পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যালোচনা করে পররাষ্ট্র দপ্তর।
২০১৫ সালে নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে আগ্রহীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় প্রশাসনিক ব্যয় মেটানোর যুক্তিতে ফি ৪৫০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৩৫০ ডলার করা হয়েছিল। বিশেষ করে বিদেশে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন কর প্রতিবেদন বিধির কারণে অনেকেই নাগরিকত্ব ত্যাগে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
ফি এত বেশি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ফ্রান্সভিত্তিক ‘অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাক্সিডেন্টাল আমেরিকানস’-সহ বিভিন্ন সংগঠন তীব্র বিরোধিতা করে। সংগঠনটি মূলত এমন ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব করে, যারা শুধু যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়ার কারণে মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছেন, কিন্তু বিদেশেই বসবাস করছেন।
সংগঠনটি ফি আরোপের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একাধিক মামলা করে, যার মধ্যে একটি মামলায় এখনো দাবি করা হচ্ছে যে নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য কোনো ফি থাকা উচিত নয়।
সংগঠনটির সভাপতি ফাবিয়েন লেহাগ্রে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। এটি স্বীকার করে যে মৌলিক এই অধিকারটি সবার জন্য সহজলভ্য হওয়া জরুরি। ছয় বছরের নিরলস আইনি লড়াই ও প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য এসেছে।’
আদালতে সংগঠনটি জানিয়েছে, ২০২৩ সালে ফি কমানোর ঘোষণা দেওয়ার পরও অন্তত ৮ হাজার ৭৫৫ জন মার্কিন নাগরিক নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য পূর্ণ ২ হাজার ৩৫০ ডলার ফি পরিশোধ করেছেন। তবে মোট কতজন মার্কিন নাগরিক নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
২ দিন আগে
মার্কিন বাহিনীকে হামলায় ইরানকে তথ্য দিয়েছে রাশিয়া!
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলায় ইরানকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছে রাশিয়া। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে অবগত এমন দুইজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তারা বলেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ হামলা এবং এর বিপরীতে মার্কিন সামরিক ঘাটি ও মিত্রদের ওপর ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাঝে রাশিয়া এ তথ্য দিয়ে ইরানকে নির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ নিতে বলছে কি না—এমন কোনো প্রমাণ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখনও পায়নি।
তবুও, এক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে মস্কোর জড়িত থাকার বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তেহরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এমন গুটিকয়েক দেশের মধ্যে রাশিয়া অন্যতম। অন্যদিকে, পারমাণবিক কর্মসূচি চালু রাখা, হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুথি বিদ্রোহীদের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের কারণে ইরান বছরের পর বছর ধরে আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসে ক্রীড়াবিদদের বেতন-সংক্রান্ত একটি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় এ প্রসঙ্গ তোলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাংবাদিককে তিরস্কার করেন।
ফক্স নিউজের সাংবাদিক পিটার ডুসিকে তিনি বলেন, আমি আপনাকে অনেক সম্মান করি, আপনি সব সময় আমার প্রতি খুব সদয় ছিলেন। কিন্তু এই সময়ে এই প্রশ্নটি বোকামিপূর্ণ নয় কি? আমরা এখন অন্য বিষয় নিয়ে কথা বলছি।
হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা এই প্রতিবেদনগুলোকে গুরুত্ব না দিলেও রাশিয়া যে এ অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে ইরানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করছে, তা অস্বীকার করেননি।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ইরানে আমাদের সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে এটি স্পষ্টতই কোনো পার্থক্য আনছে না, কারণ আমরা তাদের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিচ্ছি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ শুক্রবার সিবিএসের ‘৬০ মিনিটস’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, রাশিয়া ইরানকে সহায়তা করছে কি না, সে বিষয়সহ যুক্তরাষ্ট্র সবকিছুর ওপর নজর রাখছে এবং আমাদের যুদ্ধ পরিকল্পনায় তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, আমেরিকার জনগণ আশ্বস্ত থাকতে পারেন যে, তাদের কমান্ডার-ইন-চিফ (প্রেসিডেন্ট) ভালো করেই জানেন, কে কার সঙ্গে কথা বলছে। জনসম্মুখে হোক বা গোপনে, অনুচিত যেকোনো কিছুকেই কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধে রাশিয়ার সহায়তার বিষয়ে ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন কি না বা তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে লেভিট কিছু বলতে রাজি হননি।
অন্যদিকে, ইরানকে কোনো সামরিক সহায়তা দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, তেহরানের পক্ষ থেকে এমন কোনো অনুরোধ আসেনি।
শুক্রবার তিনি বলেন, আমরা ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছি এবং অবশ্যই তা চলবে। তবে যুদ্ধ শুরুর পর মস্কো কোনো সামরিক বা গোয়েন্দা সহায়তা দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তার কারণে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এর আগে, বাইডেন প্রশাসন দাবি করেছিল যে, ইরান রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করছে এবং রাশিয়ায় ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপনে সহায়তা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রথম প্রকাশ করেছিল মার্কিন গণমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে এই তথ্য প্রকাশ ট্রাম্পের বিশ্বাসকে টলিয়ে দিয়েছে কি না যে, পুতিন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কোনো শান্তি চুক্তি করতে সক্ষম, লিভিট বলেন, আমি মনে করি রাষ্ট্রপতি বলবেন যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে শান্তি এখনও অর্জনযোগ্য একটি লক্ষ্য।
অপরদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্ররা ইরানের শাহেদ ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগাতে চাইছে। তেহরান ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য রাশিয়াকে যে ড্রোন দিচ্ছে, এখন সেগুলোই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান এবং কুয়েতের সঙ্গে কথা বলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলগা স্টেফানিশিনা বলেন, ইউক্রেন জানে কীভাবে শাহেদ ড্রোনের হামলা থেকে রক্ষা পেতে হয়। আমাদের অংশীদারদের প্রয়োজনে আমরা সবসময় সাহায্য করতে প্রস্তুত।
এদিকে, ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। জেলেনস্কির সঙ্গে তার সম্পর্কও উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি প্রায়ই ইউক্রেনকে রাশিয়ার দাবি মেনে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছেন; এর মধ্যে রয়েছে এখনও ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড মস্কোকে ছেড়ে দেওয়া।
অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের ফলে মার্কিন অস্ত্রের মজুদ কমে যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে পেন্টাগন প্রশ্নের মুখে থাকায় ট্রাম্প এই সপ্তাহে অভিযোগ করেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের উচ্চমানের অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন। ফলে তিনি মার্কিন অস্ত্রের মজুদ পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
৯ দিন আগে
ইরানে যুদ্ধ সম্প্রসারণে ট্রাম্পকে সিনেটের সমর্থন
মার্কিন সিনেটে ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক অভিযান বন্ধের উদ্দেশ্যে আনা ‘যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাব’ রিপাবলিকানরা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (৪ মার্চ) আনা প্রস্তাবটি ৪৭-৫৩ ভোটে পরাজিত হয়। এর ফলাফল মূলত দলীয় মেরুকরণ অনুযায়ীই এসেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেনটাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল তার দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন।
এ আইনটির লক্ষ্য ছিল ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো পরবর্তী মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জন্য কংগ্রেসের পূর্ব অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা। প্রস্তাবের সমর্থকরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধ ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব বজায় রাখা জরুরি; বিশেষ করে যখন কোনো স্পষ্ট যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পরিকল্পনা ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা তীব্রতর হচ্ছে।
এই ভোটাভুটির ফলে আইনপ্রণেতারা এমন একটি সংঘাতের বিষয়ে প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান জানালেন, যা মার্কিন সেনা সদস্যদের ভাগ্য নির্ধারণ করছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে এবং যার সুদূরপ্রসারী বৈশ্বিক পরিণতি রয়েছে।
রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদেও একই ধরনের প্রস্তাব বৃহস্পতিবার সকালে ভোটের জন্য ওঠার কথা রয়েছে, তবে সেখানেও এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
সিনেটের এই সিদ্ধান্তটি যুদ্ধ বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক বিভাজনকেই প্রতিফলিত করে। সমালোচকরা যেখানে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করছেন, সেখানে সমর্থকরা প্রশাসনের পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বলে রক্ষা করছেন।
১১ দিন আগে
প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা সীমিতকরণে ভোট দেবেন মার্কিন সিনেটররা
কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সময় বুধবার মার্কিন সিনেটে যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, প্রস্তাবিত বিষয়ে বিতর্ক স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় শুরু হবে এবং ভোট হবে বিকেল ৪টায়।
যথাযথ আইনি অনুমোদন ছাড়া মার্কিন প্রেডিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ইরান হামলার প্রেক্ষাপটে এ প্রস্তাবটি পেশ করা হবে। অনেক আইনপ্রণেতা ও মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের এ হামলার সমালোচনা করছেন।
ডেমোক্রেট আইনপ্রনেতারা দাবি করেন, কংগ্রেসের সংবিধানিক ভূমিকা পুনঃস্থাপনের জন্য ভোট প্রয়োজন, যা সামরিক পদক্ষেপ অনুমোদনের অধিকার নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা বাতিল করতে উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়। রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে এটি পাস করা দুরূহ হয়ে উঠবে। আইনপ্রণেতারা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং মার্কিন সামরিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রকাশ্যে তাদের অবস্থান তুলে ধরার জন্য ভোট গ্রহণের আয়োজন করছেন।
এদিকে, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে প্রায় ২ হাজার লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।
কুপার বলেছেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যে এ প্রজন্মে সর্ববৃহৎ মার্কিন সামরিক অভিযান। এর মধ্যে রয়েছে ৫০ হাজারেরও অধিক সৈন্য, প্রায় ২০০টি যুদ্ধবিমান, দুইটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার এবং বোমারু বিমান।
হামলায় ইরানের শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ড্রোন এবং ১৭টি নৌযান ধ্বংস হয়েছে। ইরানও পাল্টা হামলায় ৫০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ড্রোন ব্যবহার করে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীকে লক্ষ্য করেছে। তবে কুপার দাবি করেছেন, তেহরানের হামলার ক্ষমতা কমতে শুরু করেছে।
মার্কিন সমারিক ঘাঁটি ও কূটনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলা শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। বেসামরিক নাগরিক হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারও প্রভাবিত হচ্ছে।
১২ দিন আগে
‘সংঘাত গভীরতর’, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর তিনি দেশটির অবশিষ্ট নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
স্থানীয় সময় রবিবার (১ মার্চ) তিনি এ কথা জানান। এমন সময়ে তিনি এ মন্তব্য করেন যখন ইরানের শহরগুলোতে দ্বিতীয় দিনের ব্যাপক বোমাবর্ষণ চলছে এবং তেহরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ভীতি তৈরি করেছে।
আজ (সোমবার) লেবাননে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্যবস্তু করে বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। আগের দিন খামেনির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল হিজবুল্লাহ।
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি বলেন, বর্তমানে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবে না। আমরা নিজেদের রক্ষা করছি এবং আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সংঘাত শুরু করেনি। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার প্রচেষ্টা চালানোর খবর অস্বীকার করেন।
জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি শনিবার নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে জানান যে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় শত শত বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তারা একাধিক শহরের বেসামরিক এলাকাগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, বোমাবর্ষণের দ্বিতীয় দিনের পর মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার দক্ষিণের শহর মিনাবের একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বোমা হামলায় ১৬৫ জন নিহত হয়েছে।
এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহতদের মধ্যে খামেনি ছিলেন। ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে শাসন করছিলেন তিনি।
বেশ কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিআইএ গত কয়েক মাস ধরে খামেনির গতিবিধি অনুসরণ করছিল।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, খামেনি যখন তেহরানে তার কার্যালয়ে শীর্ষ প্রতিরক্ষা সহযোগীদের নিয়ে বৈঠক ডাকেন, তখন সিআইএ ইসরায়েলকে সে তথ্য দেয়, যা হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নেতৃত্বকে অপ্রস্তুত রাখতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী একটি কৌশল অবলম্বন করেছিল। অভিযানের দিন সকালে সেনা কর্মকর্তাদের বলা হয়েছিল, তারা যেন তাদের গাড়িগুলো নিয়মিত জায়গায় পার্ক না করেন, যাতে ইরানের গোয়েন্দারা কিছু বুঝতে না পারে। এমনকি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির বাড়িতেই অবস্থান করছেন—এমন ভুল তথ্যও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
কর্মকর্তাদের বরাতে চ্যানেলটি জানিয়েছে, হামলার প্রথম ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ৩০ জন উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তাকে হত্যা করে।
১৪ দিন আগে
‘বন্ধুত্বপূর্ণভাবে’ কিউবা দখলের ‘আবদার’ ট্রাম্পের
বিএনপি সরকার গঠনের পর আগের সরকারের সময়ে চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া সচিবদের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে। একই সঙ্গে কয়েকজন সচিবকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রশাসনিক শীর্ষ পদে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া নয়, এমন জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিবদের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়। এরা সবাই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন। প্রায় সবার মেয়াদই চলতি বছরের শেষের দিকে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ওইদিন গত সরকারের সময়ে সচিব হওয়া তিনজন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, প্রশাসনে ১৩টি সচিবের পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের পদ খালি রয়েছে।
এছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের সচিব পদমর্যাদায় তিনজন সদস্যের পদ খালি রয়েছে। ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য, আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য এবং শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য পদেও কোনো কর্মকর্তা নেই।
আবার জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদও শূন্য রয়েছে। মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) জ্যেষ্ঠ সচিবদের পদটিও খালি রয়েছে।
এসব পদে নিয়োগ পেতে কর্মকর্তাদের দৌড়ঝাঁপ চলছে। সরকার আস্থাভাজন হিসেবে অবসরে যাওয়া কিছু কর্মকর্তাকে এসব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে ফেরাতে চাইছে বলে জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্র।
তবে সরকারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের উদ্যোগের কারণে কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি অবসরপ্রাপ্ত সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে এক বছরের চুক্তিতে স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। নতুন সরকারের শপথ নেওয়ার এক দিন আগে ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়ার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদও বাতিল করা হয়। তিনিও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন।
১৬ দিন আগে
ট্রাম্প আরোপিত ‘বেআইনি’ শুল্কের ১৭৫ বিলিয়ন ডলার ফেরতের দাবি
মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক আদায়কে বেআইনি বলে রায় দেওয়ার পর দেশটির তিন ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার ফেরতের দাবি জানিয়েছেন। অবৈধভাবে শুল্কারোপের মাধ্যমে ওই অর্থ যুক্তরাষ্ট্র সংগ্রহ করেছে দাবি করে এ বিষয়ে বিল উত্থাপনের উদ্যোগও নিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ওরেগনের সিনেটর রন ওয়াইডেন, ম্যাসাচুসেটসের এড মার্কি এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারের জিন শাহিন একটি বিল উত্থাপন করতে চলেছেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও সীমান্ত প্রতিরক্ষা বিভাগকে ১৮০ দিনের মধ্যে ওই অর্থ ফেরত এবং ওই অর্থের ওপর উপযুক্ত সুদ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, ছোট ব্যবসাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থ ফেরত দিতে হবে এবং আমদানিকারক, পাইকার ও বড় কোম্পানিগুলোকে গ্রাহকদের কাছে সেই অর্থ পৌঁছে দিতে হবে।
ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভেনিয়ার পেন হোয়ার্টন বাজেট মডেলের হিসাব অনুযায়ী, মোট শুল্ক ফেরতের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১৭৫ বিলিয়ন ডলার, যা গড়ে প্রত্যেক মার্কিন পরিবারের জন্য প্রায় ১ হাজার ৩০০ ডলারের সমান।
তবে ফেরত দেওয়ার কাঠামো নির্ধারণ করা কঠিন হবে, কারণ শুল্কের ব্যয় সরাসরি গ্রাহকদের ওপর পড়েছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে আমদানিকারকেরা তা আংশিকভাবে নিজেরা বহন করেছেন বা পণ্যের দামের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন।
ওরেগনের সিনেটর ওয়াইডেন বলেন, ট্রাম্পের অবৈধ কর পরিকল্পনা এরই মধ্যে মার্কিন পরিবার, ছোট ব্যবসা ও উৎপাদন খাতকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। একের পর এক নতুন শুল্কের চাপে পড়েছেন তারা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ সমস্যার সমাধানের গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হলো, দ্রুত ছোট ব্যবসায়ী ও উৎপাদনকারীদের হাতে অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া।
যদিও বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম, তারপরও ডেমোক্র্যাটরা যে জনমতের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেছেন, এ বিষয়টি দলটির মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
অপরদিকে, সুপ্রিম কোর্ট গত শুক্রবার রায় দেওয়ার পরও ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক ফেরত দেওয়ার বিষয়ে খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি।
এই রায়ের পর আগামী নভেম্বরে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাটরা জনগণকে জানাতে শুরু করেছেন যে, ট্রাম্প অবৈধভাবে কর বাড়িয়েছেন এবং এখন সেই অর্থ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।
নিউ হ্যাম্পশায়ারের সিনেটর শাহিন বলেন, অতিরিক্ত শুল্কের কারণে বাজারে পণমূল্যের ওপর যে প্রভাব পড়েছে, তা পুষিয়ে নেওয়ার প্রথম ধাপ হলো, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেআইনিভাবে আদায় করা শুল্ক জনগণকে ফেরত দেওয়া।
ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর মার্কি বলেন, ছোট ব্যবসায় মুলধন থাকে না বললেই চলে এবং তাদের জন্য অর্থ ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ হতে পারে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, তাদের হাত বাঁধা, কারণ কোনো অর্থ ফেরত দেওয়া হলে তা আদালতের পরবর্তী মামলার মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত।
রিফান্ড বা অর্থ ফেরতের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের কোনো ভূমিকা থাকা উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুল্ক ব্যবহার করে বাস্তব ফল এনে দিয়েছেন, যেখানে ডেমোক্র্যাটরা শুধু কথার খই ফোটাচ্ছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প ও জনগণের সাফল্য খর্ব করতে উঠেপড়ে লেগেছে। এটি দুর্ভাগ্যজনক হলেও আশ্চর্য নয়।
ডেমোক্র্যাটদের এ বার্তা রিপাবলিকানদের জন্য চাপ তৈরি করতে পারে, কারণ সরকার কেন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অর্থ ফেরত দিচ্ছে না—এ প্রশ্নের জবাব দিতে তাদের বেগ পেতে হতে পারে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা গত বছর ট্রাম্পের সই করা আয়কর ছাড়ের আইনকে সামনে রেখে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। সে সময় তারা বলেছিলেন, এ বছরের কর ফেরত জনগণকে সহায়তা করবে।
রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় কোষাগারমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সিএনএনকে বলেছেন, অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রসঙ্গ তোলা ‘ভুল উপস্থাপন’, কারণ সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। প্রশাসনের অবস্থান হলো, ফেরত দেওয়া হবে কি না, তা বিচারব্যবস্থায় চলমান মামলাগুলোর মাধ্যমে নির্ধারিত হবে; প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে নয়।
তিনি বলেন, এটি প্রশাসনের বিষয় নয়, বিষয়টি নিম্ন আদালতের। অর্থ ফেরত বিষয়ে আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করবেন বলেও জানান।
ট্রাম্প ১৯৭৭ সালের ‘আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন’ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি বাণিজ্য অংশীদারের ওপর বিস্তৃত শুল্ক আরোপের পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমদানির ওপর করারোপের তার ক্ষমতা সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটাতে, নতুন ফেডারেল রাজস্ব আনতে এবং বাণিজ্য কাঠামো নিয়ে আলোচনার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে সহায়তা করেছে।
এর আগে, ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এই অর্থ ফেরত দিলে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ বাড়বে এবং অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তিনি হোয়াইট হাউস ছাড়ার পরও ফেরত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, সম্ভবত আগামী দুই বছর এ নিয়ে মামলা চলবে, পরে সময়সীমা সংশোধন করে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত আমরা পাঁচ বছর পর্যন্ত আদালতেই থাকব।
২০ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে ফের তুষারঝড়ের সতর্কতা, পূর্ব উপকূলে ভয়াবহ ঝড়ের পূর্বাভাস
দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা একটি তুষারঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি, বোস্টন ও নিউওয়ার্ক সিটিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশটির পূর্ব উপকূলবাসিরা ভারী তুষারপাত ও ভয়ঙ্কর ঝড়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দেশটির জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা দপ্তর জানিয়েছে, কয়েক দিন আগে আসন্ন ঝড়টি তুলনামূলক হালকা বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তীতে এটির তীব্রতার মূল্যায়ন বাড়ানো হয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগ বলেছে, অনেক এলাকায় ১ থেকে ২ ফুট পর্যন্ত তুষারপাত হতে পারে। এ কারণে লং আইল্যান্ড, কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, মেরিল্যান্ড, রোড আইল্যান্ড ও ম্যাসাচুসেটসের উপকূলীয় এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তুষারঝড় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, নিউওয়ার্ক ও নিউ জার্সির কিছু অংশে বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ কোডি স্নেল বলেন, ‘ভারী তুষারপাত ও বড় ধরনের প্রভাব নিয়ে আসা উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ঝড় আমরা প্রায়ই দেখি। তবে এত বড় জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে এ মাত্রার ঝড় কয়েক বছর ধরে দেখা যায়নি।’
তিনি জানান, ঝড়টি স্থানীয় সময় রবিবার সকালে ওয়াশিংটন এলাকার আশপাশে আঘাত হানবে। এরপর ফিলাডেলফিয়া ও নিউইয়র্ক সিটির দিকে অগ্রসর হয়ে সন্ধ্যায় বোস্টনে পৌঁছাবে।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, কিছু এলাকায় শুরুতে বৃষ্টিপাত দিয়ে ঝড়টি শুরু হতে পারে, পরে তা আরও তীব্র হবে। রাতে সবচেয়ে বেশি তুষারপাতের আশঙ্কা রয়েছে এবং কিছু এলাকায় কখনও কখনও ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২ ইঞ্চি (৫ সেন্টিমিটার) পর্যন্ত তুষার পড়তে পারে। তবে সোমবার বিকেলের মধ্যে তুষারপাত ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।
তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫৬ কিলোমিটার বেগে স্থায়ী বাতাসসহ এই ঝড়ের মধ্যে ভ্রমণ বিপজ্জনক, এমনকি অসম্ভবও হয়ে পড়তে পারে। তুষারপাতের তীব্রতা ও ঝড়ো বাতাসের কারণে বিচ্ছিন্নভাবে গাছের ডাল ভেঙে পড়া এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কাও রয়েছে।
এর আগে যখন এই ঝড়কে তুলনামূলক সীমিত প্রভাবের বলে মনে করা হচ্ছিল, সে সময় থেকেই এর জন্য প্রস্তুতি নিতে কর্মকর্তারা দ্রুত তৎপরতা শুরু করেন।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে বড় তুষারপাত মোকাবিলায় যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। তবে সোমবার স্কুল খোলা হবে কি না সে বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
মেয়র আরও বলেন, ‘শুক্রবার আমরা ধারণা করছিলাম হয়ত ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি তুষারপাত হতে পারে; কিন্তু খুব দ্রুত সেই পূর্বাভাস বদলে গেছে। তাই আমরা হালনাগাদ ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে চাই।’
তিনি জানান, নিউইয়র্ক শহর বাইরে থেকে অতিরিক্ত তুষার পরিষ্কারের সরঞ্জাম এনেছে। যেসব বাসস্টপ ও ক্রসওয়াক পরিষ্কার করা দরকার, সেগুলো চিহ্নিত করতে জিওকোডিং ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ানোরও পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কয়েক সপ্তাহ আগে ওই একই অঞ্চলে আঘাত হানা তুষারঝড়ের বরফ জমাট অবশিষ্টাংশ গলতে শুরু করার মধ্যেই নতুন এই ঝড়টি এগিয়ে আসছে।
নিউ জার্সির কর্মকর্তারা স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্যাসিনোয় যাওয়া দর্শনার্থীদের রাস্তায় না বের হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে যেসব নিচু এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বেশি, সেখানকার বাসিন্দাদের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শহরের ফায়ার সার্ভিস প্রধান ও জরুরি ব্যবস্থাপনা সমন্বয়ক স্কট ইভান বলেন, ‘এমন প্রায় দুই ডজন রাস্তার নাম বলতে পারি যেখানে আমরা পানি জমবে বলে জানি। তার ওপর তুষারও পড়বে। ফলে দেরি হয়ে যাওয়ার আগে আপনি তা দেখতে পারবেন না, তাই দয়া করে ঘরে থাকুন।’
বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক গির্জা রবিবারের প্রার্থনা ও অন্যান্য কার্যক্রম বাতিল করেছে। এর ক্ষতিপূরণ বা বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে নিউ জার্সির হাউয়েলে অবস্থিত ‘সেন্ট ভেরোনিকা প্যারিশ’ শনিবার সন্ধ্যায় একটি অতিরিক্ত বিশেষ প্রার্থনার (Mass) আয়োজন করেছে।
২২ দিন আগে
আদালতের রায়ের পরও শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা ট্রাম্পের
গত এক বছরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত বিস্তৃত আমদানি শুল্কের বড় অংশ বাতিল করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। তবে এর পরের দিনই ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি বৈশ্বিক আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করতে চান।
স্থানীয় সময় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আদালত তার ক্ষমতায় লাগাম টানলেও তিনি শুল্ক বাড়ানোর নীতি অব্যাহত রাখতে চান। বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতি নতুনভাবে সাজানো এবং আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের প্রধান হাতিয়ার হিসেবেই তিনি শুল্ককে ব্যবহার করে আসছেন।
শুক্রবার আদালত জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় প্রায় সব দেশের ওপর ট্রাম্প আরোপিত শুল্ক বাতিল করে দেয়। তবে বিপরীতে তিনি জানিয়েছেন, তুলনামূলক সীমিত হলেও ভিন্ন আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করবেন তিনি।
আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্টেট অব দ্য ইউনিয়নে ভাষণ দেবেন। তিনি ইতোমধ্যে এমন একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন, যার মাধ্যমে কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ওইদিন থেকেই বিশ্বব্যাপী আমদানির ওপর ১০ শতাংশ কর আরোপ করা যাবে। তবে আইন অনুযায়ী, এই শুল্ক ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে, যদি না আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তার মেয়াদ বাড়ানো হয়।
তবে শুল্ক ১৫ শতাংশ নির্ধারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প হালনাগাদ আদেশে কবে সই করবেন—এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কিছু জানায়নি।
ট্রাম্প সামাজিকমাধ্যমে লিখেছেন, আগের দিনের ‘অযৌক্তিক, দুর্বলভাবে রচিত এবং চরমভাবে আমেরিকাবিরোধী’ শুল্কসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার ভিত্তিতেই তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা ৬-৩ ভোটের ব্যবধানে রায় দিয়েছেন যে, ট্রাম্পের এককভাবে শুল্ক নির্ধারণ বা পরিবর্তন করা অসাংবিধানিক। কারণ কর আরোপের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত।
অন্যদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, বাণিজ্য বিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন এমন ফেডারেল আইনের অন্যান্য ধারার মাধ্যমেও তিনি শুল্ক আরোপের পথ খুঁজছেন।
তিনি বলেন, আগামী কয়েক মাসে ‘আইনসম্মত নতুন শুল্ক’ নির্ধারণ ও জারি করবে আমাদের প্রশাসন যা আমেরিকাকে আবার মহান করে তোলার আমাদের অসাধারণ সফল প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে।’
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর মার্কিন প্রেডিডেন্ট তার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া বিচারপতিদের ওপর অস্বাভাবিক ব্যক্তিগত আক্রমণ চালিয়েছেন। এমনকি তার প্রথম মেয়াদে নিয়োগ পাওয়া বিচারপতি নিল গোরসাচ এবং অ্যামি কোনি ব্যারেটকেও তিনি ছাড়েননি।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, এই পরিস্থিতি তাদের পরিবারের জন্যও একটি লজ্জাজনক বিষয়।
ওইদিন রাতে তিনি সামাজিকমাধ্যমে গরসাচ, ব্যারেট ও প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসকেও সমালোচনা করেন।
পরদিন (শনিবার) সকালে আরেক পোস্টে তিনি বিচারপতি ব্রেট কাভানফকে ‘নতুন নায়ক’ আখ্যা দেন, যিনি এই রায়ের বিপক্ষে ৬৩ পৃষ্ঠার একটি ভিন্নমত পোষণকারী নোট লিখেছেন। এ ছাড়াও তিনি বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস এবং স্যামুয়েল আলিতোরও প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, কারও মনেই সন্দেহ নেই যে তারা আমেরিকাকে আবার মহান করে তুলতে চান।
ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিতে শুল্ক ছিল কেন্দ্রীয় বিষয়। তার দাবি, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, মার্কিন উৎপাদন পুনরুজ্জীবিত করা এবং মাদক পাচার দমন বা দেশগুলোর মধ্যে সংঘাত বন্ধে চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব।
তবে তিনি বারবার বলেছেন, বিদেশি সরকারগুলোই এসব শুল্ক দেবে, মার্কিন ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়।
ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় প্রেসিডেন্টের আরোপিত আমদানি শুল্ক থেকে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত কোষাগারে ১৩৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি জমা হয়েছে। এই অর্থ জাতীয় ঋণ পরিশোধ বা করদাতাদের লভ্যাংশ হিসেবে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা এই বিপুল অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে, সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কিছু বলা হয়নি।
এদিকে, ট্রাম্পের নতুন এই শুল্ক হুমকির পর ডেমোক্র্যাটরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। হাউস ওয়েজ অ্যান্ড মিনস কমিটির ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেন, উচ্চ শুল্ক ঘোষণা করে ট্রাম্প ‘আমেরিকান জনগণের পকেট কেটে নিচ্ছেন।’
তাদের ভাষ্য, শুল্ক অবৈধ ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি খরচ বাড়ানোর পথ খুঁজছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্যাভিন নিউসম বলেন, তিনি আপনাদের কথা ভাবেন না।
২২ দিন আগে