ইউএস-ও-কানাডা
মেক্সিকোতে ধর্মীয় উৎসবে আতশবাজি বিস্ফোরণ, নিহত ১০
মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে এক ধর্মীয় উৎসবে আতশবাজির উপকরণ বিস্ফোরণে একটি দেয়াল ধসে অন্তত ১০ জন নিহত ও ৬৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময়ে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে মেক্সিকো স্টেটের তেমাসকালসিঙ্গো পৌরসভার নুয়েস্ত্রা সেনোরা দে লা লুস গির্জার পাশে এ বিস্ফোরণ ঘটে।
প্রায় ৬৬ হাজার বাসিন্দার এ পৌরসভার শত শত মানুষ ধর্মীয় উৎসবের অংশ হিসেবে আতশবাজির প্রদর্শনী দেখতে জড়ো হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মধ্যেই বিস্ফোরণটি ঘটে।
তেমাসকালসিঙ্গো দেশটির রাজধানী মেক্সিকো সিটি থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।
বিস্ফোরণের কারণ এখনও জানা যায়নি। এ ঘটনায় মেক্সিকো স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় এক বিশপ জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে দুইজন যাজকও রয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বিস্ফোরণের পরের দৃশ্য দেখা গেছে। এতে ধোঁয়া ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কয়েক বেশ কিছু মানুষকে জীবিতদের সন্ধান করতে দেখা যায়।
মেক্সিকোতে আতশবাজি-সংক্রান্ত বিস্ফোরণ প্রায়ই ঘটে। দেশটিতে বিভিন্ন রাস্তার উৎসব ও ধর্মীয় আয়োজনে আতশবাজির ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
বছর চারেক আগে দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় হিদালগো রাজ্যের হুয়েহুতলা পৌরসভার একটি গ্রামে শক্তিশালী আতশবাজির বিস্ফোরণে ১৭ জন আহত হয়েছিলেন।
১৪ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে যানবাহনে আঘাত করে আগুন ধরে যায়। এ দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মায়ামিতে পৌঁছানোর পর স্থানীয় সময় রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে রানওয়ে ছেড়ে যায়। পরে বিমানবন্দরসংলগ্ন গুদাম ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ব্যবহার করেন এমন একটি সড়কের ওপর দিয়ে গিয়ে কয়েকটি যানবাহনে আঘাত করে।
মায়ামি-ডেড কাউন্টির কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে জানান, এ দুর্ঘঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তবে পাঁচজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিমানের পাইলটরা বেঁচে আছেন কি না কিংবা নিহত সবাই বিমানটির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনের ভেতরে ছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মায়ামি-ডেড রেসকিউ ফায়ার বিভাগের প্রধান রে জাদাল্লাহ বলেন, দুর্ঘটনায় পাইলট ও কো-পাইলট ককপিটে এবং কয়েকজন যাত্রী বিমানের যাত্রীবাহী অংশের ভেতরে আটকা পড়েন। একটি যাত্রীবাহী অংশের নিচে আটকে পড়া একজনকেও উদ্ধারকারীদের বের করে আনতে হয়েছে।
ঘন কালো ধোঁয়ায় আকাশ ছেয়ে যাওয়ার পর ব্যস্ত এই বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল বেশ কিছু সময় বন্ধ ছিল। দুর্ঘটনার পরপরই প্রায় ২০০ জরুরি উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেন। বিমানের ইঞ্জিনের জটিল অংশে আগুন ধরে যাওয়ায় প্রচণ্ড ধোঁয়া ও আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল বলে জানিয়েছে দমকল বিভাগ।
দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এতে আবহাওয়ার কোনো ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় বজ্রঝড় এবং ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৮ কিলোমিটার বেগে বায়ু প্রবাহ ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্তে মায়ামিতে একটি দল পাঠাচ্ছে সংস্থাটি। এই তদন্তে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে অ্যামাজন।
১৪ দিন আগে
চীনের হয়ে কাজ করার দায়ে মার্কিন সাংবাদিকের ২ বছরের কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রের এক সাংবাদিককে দেশটির ভেতরে বিদেশি সরকারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করার দায়ে দুই বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
টেক্সাসের বাসিন্দা ৫১ বছর বয়সী থমাস ওয়েয়ার পাউকেন দ্বিতীয় চলতি বছরের শুরুতে দোষ স্বীকার করেন। তার আইনজীবী চার্লস বার্নহ্যাম জানান, পাউকেনের আপিল করার কোনো পরিকল্পনা নেই।
বিচার বিভাগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পাউকেন আরও ৩৬ মাস নজরদারির অধীনে মুক্ত থাকবেন। তবে এ সময়ে তিনি বিদেশ ভ্রমণ করতে পারবেন না। তাকে ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকার মধ্যে যথাযথভাবে তথ্য প্রকাশ না করে চীনা সরকারের হয়ে কাজ করার অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফেডারেল পর্যায়ে মামলা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ঘটনা এটি।
বিচার বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন এ আইজেনবার্গ বলেন, চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের (এমএসএস) কার্যক্রমে সহায়তা, নিয়োগ ও সম্ভাব্য এজেন্টদের কাছ থেকে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের জন্য পাউকেন অর্থের বিনিময়ে নিজের দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
২০১০ সালে চীনে যাওয়ার পর পাউকেন বিভিন্ন চীনা সংবাদ সংস্থায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিও রয়েছে। সর্বশেষ তিনি চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার একজন সম্পাদক হিসেবে কাজ করছিলেন। ২০২৪ সাল থেকে তিনি এই পদে ছিলেন।
তার আইনজীবী বলেন, পাউকেন তার দায় স্বীকার করেছেন এবং আদালতের সাজাকে সম্মান করেন। তবে সরকার আদালতে স্বীকার করেছে, পাউকেন চীনাদের কোনো গোপনীয় তথ্য দেননি।
আদালতের নথি অনুযায়ী, অন্তত ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাউকেন এমন কয়েকজনের নির্দেশনায় কাজ করেন, যারা চীনা সরকারের হয়ে কাজ করেন বলে তিনি জানতেন। তাদের মধ্যে একজনের নাম ‘ক্যাথি’, যার সঙ্গে তার ২০১৭ সালে পরিচয় হয় ।
এফবিআইয়ের বিশেষ এজেন্ট টিমোথি জে হিলির ২৭ ফেব্রুয়ারি দাখিল করা ফেডারেল আদালতের হলফনামা অনুযায়ী, ‘ক্যাথি’ তাকে বলেছিলেন, তার তৈরি প্রতিবেদনগুলো চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পড়তেন।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ‘ক্যাথি’র সঙ্গে কাজ করার জন্য পাউকেন অন্তত এক লাখ ডলার পেয়েছেন।
প্রতিবেদন লেখার পাশাপাশি ‘ক্যাথি’ পাউকেনকে গোপনীয় তথ্য সরবরাহ করতে সক্ষম ব্যক্তিদের নিয়োগ করতেও বলেছিলেন। এক ঘটনায় হলফনামায় ‘পারসন ১’ হিসেবে চিহ্নিত এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করে তাকে একটি স্যামসাং ফোন, একটি কম্পিউটার এবং সিগন্যাল ও টেলিগ্রামের পাসওয়ার্ড দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাকে নেটডিস্ক ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার কথাও ছিল।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের (সিবিপি) কর্মকর্তারা পাউকেনকে থামান। সিবিপি ও এফবিআই কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাউকেন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনে চাকরি পাওয়ার চেষ্টা করা ওই ব্যক্তি চীনকে গোপনীয় তথ্য সরবরাহ করবেন—এ বিষয়ে তিনি ‘৮০ শতাংশ নিশ্চিত’ ছিলেন। তবে হলফনামা অনুযায়ী, পাউকেন ওই ব্যক্তিকে তা না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
হলফনামায় বলা হয়, পাউকেন তদন্তকারীদের আরও জানিয়েছিলেন, বছরের পর বছর ‘ক্যাথি’ সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে তার ভ্রমণের খরচ বহন করতেন এবং প্রায়ই তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠাতেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এ রায় নিয়ে মন্তব্যের জন্য করা অনুরোধের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি।
চীনের সঙ্গে কাজ করার সময় টেক্সাসের বাসিন্দা পাউকেন তার বাবার অনুরোধে ‘টম ম্যাকগ্রেগর’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। তার বাবার নামও থমাস পাউকেন এবং তিনি চীনে ছেলের কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চেয়েছিলেন।
পাউকেন তার আসল নাম থমাস ডব্লিউ পাউকেন দ্বিতীয় নামে দুটি বইও প্রকাশ করেন। এর একটি ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক নিয়ে এবং অন্যটি ২০২৩ সালে চীনের মূল ভূখণ্ডে হংকংয়ের বিপরীতে অবস্থিত শহর শেনঝেন নিয়ে প্রকাশিত হয়।
পাউকেনের বাবা ১৯৯০-এর দশকে টেক্সাস রিপাবলিকান পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন এবং এক দশকেরও বেশি আগে গভর্নর পদে নির্বাচন করেছিলেন।
ম্যাকগ্রেগরের নামে ফেসবুকে সর্বশেষ পাবলিক পোস্টে পাউকেন তার স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে ভ্রমণের ছবি শেয়ার করে লিখেছিলেন, ‘আমি ও আমার পরিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ভ্রমণ উপভোগ করছি।’ ওই মাসের পরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৮ দিন আগে
আট মাস পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরে যাচ্ছে মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকন
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন অবশেষে নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছে। প্রায় আট মাস মধ্যপ্রাচ্যের সমূদ্রে অবস্থানের পর রণতরীটি ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর প্রণালি অতিক্রম করেছে।
ইন্দোনেশিয়ার বাতাম দ্বীপে অবস্থানরত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সাংবাদিকরা স্থানীয় সময় রবিবার রাত ১টার কিছু পর সিঙ্গাপুরের কাছাকাছি জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অন্যতম বৃহৎ এই রণতরীটি দেখতে পান।
দীর্ঘ এই মোতায়েনকালে লিংকন মোট ২৬৬ দিন বেশি সমুদ্রে অবস্থান করেছে। এর মধ্যে ২০০ দিনের বেশি সময় কোনো বন্দরে না থেমে সমুদ্রে কাটিয়েছে রণতারীটি, যা আধুনিক যুগে রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও চলতি মাসের শুরুতে জানান, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মোট ২৬৬ দিন মোতায়েন ছিল, যার মধ্যে ২০০ দিন ছিল যুদ্ধাঞ্চলে। এ সময় এর স্ট্রাইক গ্রুপ ১০ হাজারের বেশি অভিযান পরিচালনা করে এবং প্রায় ১৫ লাখ পাউন্ড গোলাবারুদ নিক্ষেপ করে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি ইউএসএস অ্যাব্রাহাম লিঙ্কন দক্ষিণ চীন সাগর থেকে আরব সাগর ও ভারত মহাসাগর-সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছায় এবং অপারেশনাল উপস্থিতি শুরু করে।
তবে দীর্ঘ এই মোতায়েন এবং জাহাজে বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি রণতরীটিতে থাকা প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্যের মনোবল কমে যাওয়া, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ এবং খাবার ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীর সাময়িক ঘাটতির খবর প্রকাশিত হয়।
২২ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায় ৩০ বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা, নিহত ৫
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ বন্যায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এ বন্যায় স্থানীয় সময় শনিবারও ব্যাপক বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
বৃষ্টির মধ্যেই উদ্ধারকর্মীরা নৌকা ব্যবহার করে পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করছেন বলে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
খবরে বলা হয়, অঙ্গরাজ্যের রাজধানী ইন্ডিয়ানাপোলিসের মেয়র জো হগসেট এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা বন্যাপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের সম্ভাব্য উচ্ছেদের সতর্কতা মেনে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইন্ডিয়ানাপোলিস ফায়ার বিভাগের উপপ্রধান জেরি মার্টিন বলেন, ‘ছয় ইঞ্চি পানি যেকোনো গাড়িকে অচল করে দিতে পারে। আট ইঞ্চি পানি গাড়িগুলো সড়ক থেকে ভাসিয়ে নিতে পারে। এমনকি তিন ইঞ্চি পানিও একজন মানুষকে ফেলে দিতে পারে। বন্যার পানি অত্যন্ত বিপজ্জনক।’
নগরীর গণপূর্ত বিভাগের পরিচালক টড উইলসন বলেন, ‘পানির উচ্চতা এখনও বাড়ছে। সারা দিনই এটি বাড়তে থাকবে।’
অঙ্গরাজ্যের আরও পূর্বে ডেলাওয়্যার কাউন্টিতে গেল শুক্রবার শেরিফের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ৫৮ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন। ধারণা করা হচ্ছে, বন্যার পানির মধ্য দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় তার মৃত্যু হয়।
এছাড়া নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর বুধবার থেকে নিখোঁজ থাকা এক কিশোরের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে জেনিংস কাউন্টিতে একটি গাছের নিচে চাপা পড়ে চার বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়।
এদিকে, মধ্য ইন্ডিয়ানার উত্তর-পূর্ব হেনড্রিকস কাউন্টি ও উত্তর মারিয়ন কাউন্টিতে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে এমন ভয়াবহ বন্যা আর দেখা যায়নি। জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কিছু এলাকায় দুই দিনে ২৮ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
অ্যান্ডারসন ও নোবলসভিল এলাকায় হোয়াইট নদীর পানি ৭ দশমিক ৩২ মিটার ছাড়িয়ে গেছে, যা ১৯১৩ সালে রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
অভূতপূর্ব এ বন্যায় উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঐতিহাসিকভাবে বন্যার ঝুঁকি ছিল না এমন এলাকাতেও এবার পানি ঢুকেছে।
ইন্ডিয়ানার রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ব্রাউন শনিবার নিশ্চিত করেছেন, বন্যা মোকাবিলা ও পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য তার করা ফেডারেল সম্পদের অনুরোধ অনুমোদনের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্মতি দিয়েছেন।
অন্যদিকে, উত্তর ইন্ডিয়ানাপোলিসের কিছু এলাকা থেকে অন্তত ৪০০ মানুষ নিজ উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন। গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, ডেলাওয়্যার কাউন্টিতে ৩৫০ জনের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। টিপটন কাউন্টির একটি প্রবীণদের ভ্রাম্যমাণ আবাসনও খালি করা হচ্ছে। ফায়েত কাউন্টিতে উদ্ধার ও বাসিন্দাদের খোঁজ নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
ইন্ডিয়ানাপোলিস ফায়ার বিভাগের মুখপাত্র রিটা রেইথ জানান, শনিবার বিকেল পর্যন্ত ৯৫ জন মানুষ ও ৪৫টি পোষা প্রাণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। দিনভর জরুরি সেবার জন্য শত শত ফোনকল পেয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
শনিবার বিকেল পর্যন্ত উত্তর ইন্ডিয়ানা পাবলিক সার্ভিস কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যে দেড় লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিলেন।
৩৬ দিন আগে
দাবানলের কারণে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি
কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় ভয়াবহ দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে জরুরি অবস্থা জারি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় আগুনে ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে ও অনেক মানুষ আটকা পড়েছেন। পরিস্থিতি সামলাতে ওকানাগান লেকের আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (৮ আগস্ট) ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার মুখ্যমন্ত্রী ডেভিড এবি জরুরি অবস্থা জারি করেন।
শনিবার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশজুড়ে ১০০টিরও বেশি জায়গায় দাবানল জ্বলছিল। এ সময় দাবানলের প্রায় অর্ধেকই নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। প্রচণ্ড গরম, ঝোড়ো বাতাস ও দীর্ঘদিনের খরার কারণে এলাকাগুলোতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এ দুর্যোগে প্রায় ১২ হাজার মানুষের বসবাসের শহর সামারল্যান্ড এলাকা থেকে এক রাতেই সকল বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কাছের শহর পিচল্যান্ড ও এর আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৮ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে আগুনে ঠিক কতটি ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী ডেভিড এবি বলেন, ‘আগুনের কারণে কয়েকজন বাসিন্দা আটকা পড়েছিলেন। পরে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। দাবানল ছড়িয়ে পড়া এলাকাগুলোতে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আজ অনেক পরিবার কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, অনেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আপনাদের মধ্যে অনেকেই এখনও নিঁখোজ স্বজনদের খবরের অপেক্ষায় আছেন।’
এদিকে, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দাবানল নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক ক্লিফ চ্যাপম্যান বলেন, ‘আগুনের কারণে যারা সড়কপথে বের হতে পারছিলেন না, তাদের দমকলকর্মীরা হেলিকপ্টার ব্যবহার করে উদ্ধার করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগুন মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।’
শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথম ব্যাল্ড রেঞ্জ এলাকায় আগুনের খবর পাওয়া যায়। এরপর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আগুন প্রায় ৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে ছোট্ট ফাউল্ডার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরের সামারল্যান্ড পর্যন্তও খুব দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, ক্লিফ চ্যাপম্যান ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দাবানল পরিস্থিতিকে ‘বিস্ফোরণাত্মক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামারল্যান্ডের মতো দাবানল পরিস্থিতির মুখে অন্য এলাকাগুলোও পড়তে পারে।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার জরুরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মন্ত্রী কেলি গ্রিন বলেন, জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে সেখানের প্রাদেশিক সরকারকে অতিরিক্ত কিছু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ওই এলাকায় ভ্রমণ সীমিত করা ও বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় আবাসনের ব্যবস্থা করা।
ওকানাগান-সিমিলকামিন আঞ্চলিক জেলার জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এরিক থমসন বলেন, এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানল এর আগে ওই অঞ্চলে দেখা যায়নি।
থমসন বলেন, একপর্যায়ে তিনি তার কর্মস্থান জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র ছেড়ে নিজের পরিবারকে সরিয়ে নিতে বের হন। শনিবার ভোরে গাড়িতে থাকা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি একটি ভিডিও প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র ছেড়ে পরিবারকে সরিয়ে নিতে যাচ্ছি। আমরা দক্ষিণ দিকে যাচ্ছি।’ সে সময় সড়কে যানজট তৈরি হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার কয়েকটি বাড়িতে আগুন জ্বলছে। দুই পাশের আগুনের মধ্য দিয়েই বাসিন্দারা সড়ক ধরে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছেন।
অপরদিকে, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির মালিক কেরি গোল্ড ও তার স্বামী মাইক এলসিংগা এলাকা ছেড়ে চলে যান। তারা কাছের একটি পাহাড়ের ওপর আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখে বাড়ি থেকে বের হয়ে পড়েন।
কেরি গোল্ড বলেন, ‘এটি ভয়ংকর পরিস্থিতি। আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ‘
সম্প্রতি এই দম্পতি ভ্যানকুভার শহর থেকে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় এসেছেন। এখানে দাবানল পরিস্থিতিতে আগে থেকেই ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছিলেন। তারা তাদের বিড়ালকে নেওয়ার জন্য একটি ক্যারিয়ার প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। পাশাপাশি তারা তাদের এক শারিরীক প্রতিবন্ধী বন্ধুকে দাবানল থেকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে আগেহ থেকেই পরিকল্পনা করেছিলেন।
এলসিংগা বলেন, ‘আমরা নিজেদের বাড়ি রক্ষা করতে চাই। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা কেউই আগুনের মধ্যেও আটকা পড়তেও চাই না।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডায় ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। এসব দাবানলের কারণে সরকারকে বহু মানুষকে একসঙ্গে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
৪৩ দিন আগে
আজই হতে পারে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার চুক্তি: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আজ বুধবারই একটি চুক্তি হতে পারে। এদিকে, ইরান ও ওমান ওই জলপথ পুনরায় চালুর লক্ষ্যে একটি সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে, যা চলমান যুদ্ধের অবসানেও সহায়ক হতে পারে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে তেহরানের সরকারকে উৎখাত এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবসানকে যুদ্ধের লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করলেও বর্তমানে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। ইরানের হামলা ও হুমকির কারণে ওই জলপথে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস একসময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে অজনপ্রিয় এ যুদ্ধের ইতি টানার চাপেও রয়েছেন ট্রাম্প।
বুধবারই ঘোষণা আসতে পারে
ক্যালিফোর্নিয়ায় সফরকালে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় সাংবাদিকরা অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, বুধবার হরমুজ প্রণালি নিয়ে ঘোষণা আসতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এটা হতে পারে। আগামীকাল (বুধবার) বা তার পরের দিন। অনেক অগ্রগতি হয়েছে।’
সম্ভাব্য চুক্তির আশায় বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ৪৩ ডলারে নেমে আসে।
গত জুনেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিল। তবে পরে আবারও হামলা শুরু হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প একদিকে বড় ধরনের সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন, অন্যদিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন।
ইরান ও ওমানের নিয়ন্ত্রণে পৃথক নৌপথের প্রস্তাব
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, আলোচনায় যে সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখা উঠে এসেছে, তাতে জাহাজগুলো পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করবে ইরানের নিয়ন্ত্রিত নৌপথ দিয়ে এবং বের হবে ওমানের নিয়ন্ত্রিত পথ দিয়ে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য সেবা ফি নেওয়া হবে।
সংবেদনশীল আলোচনা হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা এসব তথ্য দেন।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছিল, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে যায়, এমন কোনো চুক্তি তারা মেনে নেবে না।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগে এটি আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত জলপথ ছিল।
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প আবারও প্রণালিতে টোল আরোপের বিরোধিতা করে বলেন, ‘আমি তাদের টোল নিতে দেব না। যদি কেউ টোল নেয়, তাহলে আমরাই নেব।’
তবে আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনা এখনও চলছে এবং চূড়ান্ত চুক্তির ধরন পরিবর্তিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি বন্দর অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টিও এ চুক্তির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
অগ্রগতির কথা বলছে ওয়াশিংটন ও তেহরান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মঙ্গলবার বলেন, হরমুজ প্রণালিকে নৌযানের ‘নিরাপদ প্রবেশ ও বহির্গমন নৌপথ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে ওমানের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে।
তার ভাষায়, এসব নৌপথ ‘ইরান ও ওমানের সার্বভৌম অধিকার বজায় রাখার পাশাপাশি উভয় দেশের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নেবে।’ তিনি বলেন, ‘আলোচনা শেষ হলে এর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-ও আলোচনা এগোনোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি বলেন, এখনও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
এর আগে রুবিও সতর্ক করে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে গেলে তা বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথের জন্যও ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির’ তৈরি করবে।
দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সিএনবিসিকে বলেন, ‘আজ বা আগামীকালের মধ্যেই প্রণালি খুলে দেওয়া এবং সংঘাতকে আরও স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
এর আগে, সোমবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং এটিই তেহরানের জন্য ‘শেষ সুযোগ’; অন্যথায় তাদের নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের মুখে পড়তে হবে।
তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তেহরানের দাবি, আলোচনা কেবল ওমানের সঙ্গেই চলছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘প্রথম ধাপ হলো প্রণালি খুলে দেওয়া। দ্বিতীয় ধাপ হবে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ। আর সেটি সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লাগবে।’
৪৭ দিন আগে
‘নতুন সমঝোতায়’ পৌঁছানোর পর ইরানে হামলা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখতে তিনি মার্কিন বাহিনীকে নির্দেশ দেবেন। তার দাবি, পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্ররা একটি সমঝোতার মৌলিক কাঠামোয় পৌঁছেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পে এ ঘোষনা দেন।
পোস্টে তিনি বলেন, নতুন এই চুক্তির আওতায় ‘হরমুজ প্রণালি তাৎক্ষণিক, সম্পূর্ণ ও পুরোপুরি উন্মুক্ত করা’ এবং ‘ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান’ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তিনি লেখেন, ‘এই অনুরোধের ভিত্তিতে আমি বিশ্বের ভবিষ্যৎ স্বার্থ এবং একই সঙ্গে একটি সফল ও সমৃদ্ধ ইরানের টিকে থাকার কথা বিবেচনা করে দ্রুত একটি চুক্তি করা সম্ভব হবে—এই শর্তে হামলা বাতিল করতে সম্মত হয়েছি।’
ট্রাম্প আরও বলেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্নের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকার বিষয়ে ইসরায়েলও সম্মত হয়েছে।
তবে এ ঘোষণার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর এক দিন আগেই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তেহরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। সেই অবস্থান থেকে তার সর্বশেষ ঘোষণা সংঘাতে নতুন মোড় আনল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর মাধ্যমে যুদ্ধের সূচনা করে। ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তাদের সমর্থন বন্ধ করাই এ অভিযানের লক্ষ্য। তবে যুদ্ধের উদ্দেশ্য ও সময়সীমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে। এর আগে জুনের মাঝামাঝি সংঘাত বন্ধে হওয়া একটি সমঝোতাও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভেঙে যায়।
ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা নিয়ে উদ্বিগ্ন সৌদি আরব
শনিবার সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান টেলিফোনে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন। পরে ওই আলোচনার বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তির বরাত দিয়ে জানানো হয়, ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঘোষণার আগে হওয়া ওই ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত বাড়ানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সৌদি যুবরাজ।
ওই সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অন্য দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে রিয়াদ। যুবরাজ সম্ভাব্য নতুন পদক্ষেপ সম্পর্কে ট্রাম্পের কাছ থেকে স্পষ্ট ধারণা জানতে চান বলেও ওই ব্যক্তি জানান।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আলোচনার বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান।
চলমান সংঘাতের অংশ হিসেবে ইরান এর আগে তাদের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা বিভিন্ন জাহাজে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভ্রমণ সতর্কতা
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর শনিবার নতুন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ এবং অন্যান্য ভ্রমণ-সংক্রান্ত বিঘ্নের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
বাহরাইন, ইসরায়েল, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
৫০ দিন আগে
বাংলাদেশসহ ৫০ দেশে ভিসা বন্ড স্থায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশসহ ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য চালু থাকা মার্কিন ভিসা বন্ড কর্মসূচি স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ ১৫ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩১ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, প্রায় এক বছরের পর্যালোচনায় কর্মসূচিটি ভিসার শর্ত প্রতিপালন নিশ্চিত করতে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ফলে এটি স্থায়ীভাবে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিটি সোমবার (৩ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং সেদিন থেকেই নতুন বিধিমালা কার্যকর হবে।
বর্তমানে কর্মসূচির আওতায় থাকা ৫০টি দেশের মধ্যে ৩০টিই আফ্রিকার দেশ। বাংলাদেশও এই তালিকায় রয়েছে। ভবিষ্যতে এ তালিকায় আরও দেশ যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের খবরে বলা হয়েছে, নতুন বিধিমালার আওতায় তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক (বি-১) ও পর্যটন (বি-২) ভিসার সাক্ষাৎকারের আগে নির্ধারিত অঙ্কের বন্ড জমা দিতে হবে।
পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ বন্ড ছিল ১৫ হাজার ডলার। এছাড়া কনস্যুলার কর্মকর্তার বিবেচনায় ৫ হাজার বা ১০ হাজার ডলারের বন্ড নির্ধারণের সুযোগ ছিল। নতুন নিয়মে সর্বোচ্চ বন্ড ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে এবং ৫ হাজার ডলারের নিম্নসীমা বাতিল করা হয়েছে।
তবে ভিসা আবেদন বাতিল হলে কিংবা ভিসা পাওয়ার পর আবেদনকারী নির্ধারিত শর্ত মেনে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে জমা দেওয়া বন্ড ফেরত দেওয়া হবে।
ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারীদের সংখ্যা কমানো এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন গত বছরের আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে এ কর্মসূচি চালু করে।
মার্কিন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানকারী একজন বিদেশিকে গ্রেপ্তার ও নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে গড়ে প্রায় ১৮ হাজার ডলার ব্যয় হয়।
তবে ভিসা বন্ড কর্মসূচি চালু হওয়ার পর থেকে এটি অত্যন্ত সফল বলে দাবি করেছেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে কর্মসূচির আওতাভুক্ত ৫০টি দেশের প্রায় ৪৫ হাজার ৫০০ দর্শনার্থী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছিলেন। কিন্তু পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালুর পর প্রথম ১০ মাসে ওই দেশগুলোর নাগরিকদের মধ্যে ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও অবস্থানকারীর সংখ্যা ৫০ জনেরও নিচে নেমে আসে।
তবে এ নীতির সমালোচকেরা বলছেন, এটি দরিদ্র দেশগুলোর নাগরিকদের ওপর অপ্রয়োজনীয় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে দেখা করা, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ বা ব্যবসায়িক সুযোগ অনুসন্ধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যেতে আগ্রহীদের জন্য এই বন্ড একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম বছরে স্টেট ডিপার্টমেন্টের ধারণা ছিল, প্রায় দুই হাজার ভিসা আবেদনকারীকে বন্ড দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে প্রায় ২০ হাজার আবেদনকারী এ শর্তের আওতায় পড়েন।
এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক আবেদনকারী বন্ড জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসা ইস্যুর সংখ্যা ৮৩ শতাংশ কমে যায়।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভাষ্য, নতুন এই স্থায়ী বিধিমালা কর্মসূচির আওতাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের বি-১ ও বি-২ ভিসার আবেদনের প্রবণতা আরও কমাতে ভূমিকা রাখবে।
৫১ দিন আগে
ট্রাম্পের পরিকল্পনায় ধাক্কা, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখল যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে নিশ্চিত করা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার বহাল রেখেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। এর মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসী-বিরোধী এজেন্ডার একটি প্রধান স্তম্ভ অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছে আদালত।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিন ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যাতে অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসী ও অস্থায়ী বৈধ বাসিন্দাদের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব না দেওয়ার প্রস্তাব ছিল।
তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকদের পক্ষে রায় লিখতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, এই আদেশ মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর লঙ্ঘন।
রায়ে রবার্টস লেখেন, ‘অতীতে যেমন, এখনও তেমনই নাগরিকত্ব মানে অধিকার ভোগের অধিকার; আমাদের রাজনৈতিক সমাজে স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণের অধিকার। চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতারা এ দেশের “প্রত্যেক স্বাধীনভাবে জন্ম নেওয়া ব্যক্তির” জন্য সেই প্রতিশ্রুতি সম্প্রসারিত করেছিলেন। আজ আমরা সেই প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করছি।’
রবার্টসের সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করেন উদারপন্থি বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়র, এলেনা কেগান ও কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন এবং রক্ষণশীল বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট।
তবে রক্ষণশীল বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানফ রায়ের সঙ্গে একমত হলেও আংশিক ভিন্নমত দিয়ে বলেন, নির্বাহী আদেশটি ফেডারেল আইনের পরিপন্থি হলেও সংবিধান লঙ্ঘন করেনি। এছাড়া অপর তিন রক্ষণশীল বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো ও নিল গরসাচ ভিন্নমত দেন।
১৯৪ পৃষ্ঠার রায়ের মধ্যে প্রায় ৯০ পৃষ্ঠাই বিচারপতি থমাসের ভিন্নমত, যা সুপ্রিম কোর্টে তার দায়িত্বকালে সবচেয়ে দীর্ঘ ভিন্নমত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ট্রাম্প এই রায়কে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি বিষয়টি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানান।
নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লেখেন, ‘দীর্ঘ ও জটিল কোনো সাংবিধানিক সংশোধনীর প্রয়োজন নেই। জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের মতো ব্যয়বহুল ও দেশের জন্য অন্যায্য ব্যবস্থা বন্ধে কংগ্রেসের আজই কাজ শুরু করা উচিত। এতে আমার পূর্ণ সমর্থন থাকবে।’
এদিকে, নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো এবং ডেমোক্র্যাটরা এ রায়কে আধুনিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলেছে, এ রায়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক সাংবিধানিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
মামলাটি পরিচালনা করে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)। সংগঠনটির জাতীয় আইন বিষয়ক পরিচালক সিসিলিয়া ওয়াং এই রায়কে একটি ‘বড় বিজয়’ হিসেবে উদযাপন করেছেন।
ওয়াং বলেন, ‘আদালতের সিদ্ধান্ত আমেরিকার একটি মৌলিক প্রতিশ্রুতিকে পুনর্ব্যক্ত করেছে—আপনি যদি এখানে জন্ম নেন, তাহলে আপনি একজন নাগরিক। কোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাহী আদেশ দিয়ে সংবিধান পরিবর্তন করতে পারেন না।’
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতির বিরোধিতা করে আসছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে তার অভিবাসন নীতির অন্যতম লক্ষ্য ছিল মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতার ব্যাখ্যা নতুনভাবে নির্ধারণ করা।
এর আগে তিনি বারাক ওবামা কেনিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছেন এবং তিনি প্রেসিডেন্ট পদের জন্য অযোগ্য—এমন বর্ণবাদী প্রচারণা ছড়িয়েছিলেন। এমনকি কমলা হ্যারিসের জন্মের সময় তার মা-বাবার অভিবাসন মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে তিনি হ্যারিসের ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসের যোগ্যতার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন।
তার প্রশাসনের দাবি ছিল, চতুর্দশ সংশোধনীতে ব্যবহৃত ‘subject to the jurisdiction thereof’ বা ‘যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারের অধীন’ বাক্যাংশের অর্থ হলো, যেসব শিশুর বাবা-মা বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন না বা কেবল অস্থায়ী বৈধ মর্যাদা নিয়ে আছেন, তারা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাবেন না।
নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছিল, ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে এ নীতি কার্যকর হবে এবং এর ফলে প্রতি বছর জন্ম নেওয়া কয়েক লাখ শিশুর নাগরিকত্বের ওপর প্রভাব পড়বে।
তবে এক বছরের বেশি সময় ধরে আদালতে এ আদেশের বৈধতা নিয়ে শুনানি চলার পর সুপ্রিম কোর্ট চূড়ান্তভাবে জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বা অস্থায়ীভাবে অবস্থানকারী বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুরাও চতুর্দশ সংশোধনীর নাগরিকত্ব ধারার আওতায় জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন নাগরিক।
ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস বলেছেন, চতুর্দশ সংশোধনী ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের অসাংবিধানিক আক্রমণ’ প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান স্পিকার মাইক জনসন রায়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিধান ‘অপব্যবহার’ হয়েছে।
সহমতসূচক পৃথক মতামতে বিচারপতি কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন লেখেন, চতুর্দশ সংশোধনীর ‘সর্বজনীন লক্ষ্য’ বংশপরিচয়কে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের ভিত্তি করার যেকোনো দাবির অবসান ঘটানোর জন্যই প্রণীত হয়েছিল।
৮২ দিন আগে