আজকের খবর - 22-01-2026
দেশের ভেতরে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, সবাইকে সজাগ থাকতে হবে: তারেক রহমান
দেশের ভেতরের কোনো কোনো মহল ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যারা এদেশ থেকে পালিয়ে গেছে, তারা যেভাবে ভোট ডাকাতি করেছিল, ঠিক একইভাবে সেই ষড়যন্ত্র আবার শুরু হয়েছে। সেই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধ সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে বিএনপির প্রথম নির্বাচনি জনসভায় তিনি এই আহ্বান জানান।
সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের পর স্থানীয় জনসভায় ভাষণের মাধ্যমে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রচারণা শুরু করেছে বিএনপি। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বহু মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে দেশ গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে উপস্থিত লাখো জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, কিন্তু আমরা লক্ষ করছি, দেশের ভেতরের কোনো কোনো মহল ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে। গত কয়েকদিনে পত্রপত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছে—মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটগুলো কীভাবে ডাকাতি করা হয়েছে। যারা এদেশ থেকে পালিয়ে গেছে, তারা যেভাবে আপনাদের ভোট ডাকাতি করেছিল, ঠিক একইভাবে সেই ষড়যন্ত্র আবার শুরু হয়েছে। সেই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধ আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশের মানুষ দেখিয়ে দিয়েছে, জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো ষড়যন্ত্রকে তারা প্রতিহত করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, সবকিছুর মালিক আল্লাহ। অথচ নির্বাচনের আগেই একটি দল এই দেব, ওই দেব বলছে। সেটা যদি তারা বলে, তাহলে শিরকি করা হচ্ছে। কাজেই আগেই আপনাদের ঠকাচ্ছে, নির্বাচনের পরে তাহলে আপনাদের কেমন ঠকানো ঠকাবে, বোঝেন এবার। তারা শুধু আপনাদের ঠকাচ্ছেই না, যারা মুসলমান তাদের শিরকি করাচ্ছে, নাউজুবিল্লাহ!
তিনি বলেন, কেউ কেউ বলে—অমুককে দেখেছি, তমুককে দেখেছি, এবার একে দেখেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় অনেকের ভূমিকা আমরা দেখেছি। যাদের ভূমিকার কারণে এদেশের লাখ লাখ ভাইয়েরা শহিদ হয়েছে, এদেশের লাখ লাখ মা-বোনেরা সম্মানহানি হয়েছেন। কাজেই তাদের তো বাংলাদেশের মানুষ দেখেই নিয়েছে। এই কুফরি, হঠকারিতা ও মিথ্যার বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
বক্তেব্যের শুরুতে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আজ আপনারা লাখ লাখ মানুষ এখানে সমবেত হয়েছেন। এই সমবেত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য গত ১৫ বছরে হাজারো মানুষ প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে। আপনাদের যে রাজনৈতিক অধিকার, কথা বলার—বাকস্বাধীনতার অধিকার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য আজ যে এখানে আপনারা উপস্থিত হয়েছেন, এই অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে আমরা ইলিয়াস আলীকে হারিয়েছি, জুনায়েদ, দিনারকে হারিয়েছি।
এই নেতা বলেন, এখানে বহু মুরুব্বি উপস্থিত আছেন যারা কালের সাক্ষী যে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় কীভাবে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র রচিত হয়েছিল, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় কীভাবে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি রচনা করা হয়েছিল। দেশের তথাকথিত উন্নয়নের নামে কীভাবে দেশ থেকে মানুষের অর্থ লুটপাট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন করতে চাই।
এই অবস্থার পরিবর্তন করতে কী আপনারা আমার সঙ্গে আছেন?—তারেক রহমানের এই আহ্বানে উপস্থিত লাখো জনতা হ্যাঁ-সূচক ধ্বনিতে তাদের সমর্থন জানান।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা সারা বাংলাদেশের কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে চাই। যদি আপনারা আগামী ১২ তারিখে (১২ ফেব্রুয়ারি) ধানের শীষকে জয়যুক্ত করেন, আমরা সারা দেশের কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে পারব।
তিনি বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় যেভাবে সারা বাংলাদেশে খাল খনন করা হয়েছিল, তার মাধ্যমে কৃষকদের সেচ সমস্যাসহ মানুষের পানির সমস্যার সমাধান হয়েছিল। নির্বাচনে জয়ী হলে আমরা আবার সেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করতে চাই। আমরা দেশের খাল-বিল, নদীতে পানি নিয়ে আসব।
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে, গত কয়েক বছর আগে কীভাবে ওই পাশ থেকে (ভারত থেকে) পানি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, সারা সিলেট শহর ভেসে গিয়েছিল বন্যার পানিতে। গত ১৫-১৬ বছর কীভাবে এই দেশকে অন্য দেশের কাছে বন্ধক দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেজন্যই আমি বলেছি, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
তারেক রহমান বলেন, আমি বলেছিলাম, ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ।’ আমরা তার অর্ধেক পথে, মাঝপথে এসে গিয়েছি। দেশকে আমরা স্বৈরাচারমুক্ত করেছি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যাত্রা শুরু করেছি। ১২ তারিখে ধানের শীষকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে গণতন্ত্রের সেই যাত্রা শুরু হবে।
তিনি বলেন, ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ মানে শুধু গণতন্ত্রের রক্ষা নয়, এর সঙ্গে আরও কথা আছে। খাল খনন, কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানো—শুধু এখানে থেমে থাকলেই চলবে না। আমাদের দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে মা-বোনেরা, অর্থাৎ নারী সমাজ। আমরা নির্বাচিত হলে তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই।
তারেকের কথায়, যাদের সংসার আছে জানেন, স্বামী-স্ত্রী দুইজনে মিলেই সংসার সুন্দর হয়। আমাদের মা-বোনেরা যাতে আপনাদের পাশে থেকে সংসার স্বচ্ছলভাবে গড়ে তুলতে পারেন, তার জন্য আমরা গ্রামে গ্রামে, শহরে শহরে সকল দুঃস্থ, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এই কার্ডের মাধ্যমে আপনার মা, বোন বা স্ত্রীর মাধ্যমে আপনার পরিবার সহযোগিতা পাবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে।
টেক ব্যাক বাংলাদেশের আরেকটি কাজ বাকি আছে। আমাদের দেশের লাখ লাখ যুবক-যুবতী, অর্থাৎ তরুণ-যুবসমাজের সদস্যরা বেকার হয়ে বসে আছেন। এই বেকারদের জন্য আমরা কর্মসংস্থান তৈরি করতে চাই।
সিলেটের মানুষ বেশিরভাগ লন্ডনে যায়, অন্য দেশেও যায়। এই দেশের মানুষ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে, এই মানুষগুলোকে আমরা প্রশিক্ষণ দিতে চাই। প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে আমরা এই মানুষগুলোকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে চাই। সরকারে গেলে আমরা সেই ব্যবস্থা করব, যাতে দক্ষ মানুষগুলোকে আমরা শুধু দেশে নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দিতে পারি।
তারেক রহমান বলেন, আমরা দেশকে স্বৈরাচার থেকে মুক্ত করেছি, এখন মানুষের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। শুধু ভোট, কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করলে হবে না, মানুষকে স্বাবলম্বী করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মতো করে গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের প্রতিটি মানুষ যাতে খেয়ে-পরে ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারে, নিরাপদে রাস্তায় চলতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। সেটিই হচ্ছে টেক ব্যাক বাংলাদেশ।
বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে একটিই কথা বলতে চাই—আগামী দিনে বিএনপি সরকার গঠিত হলে আমরা নবী করিম (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে দেশকে পরিচালনা করব, ইনশাআল্লাহ।
৪ মিনিট আগে
নাটোরে জিয়া পরিষদ সদস্যকে হত্যা, সন্দেভাজনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগে এক বৃদ্ধা নিহত
নাটোরের সিংড়ায় জিয়া পরিষদ সদস্য ও কলেজ শিক্ষক রেজাউল করিমকে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একই এলাকার এক ব্যক্তির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে ক্ষুব্ধ জনতা। অগ্নিকাণ্ডে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত ১১টার পরে উপজেলার কলম ইউনিয়নের কুমারপাড়া এলাকার এ ঘটনা ঘটে।
রেজাউল করিম উপজেলার বিল হালতি ত্রিমোহনী কলেজের সহকারি অধ্যাপক এবং উপজেলা জিয়া পরিষদের সদস্য ছিলেন।
রেজাউলের পরিবার জানায়, রাতে মোটরসাইকেলে একদল ব্যক্তি বাড়ির সামনে গিয়ে রেজাউলকে ডাক দেয়। বাড়ি থেকে বের হতেই তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে তারা চলে যায়।
স্থানীয়রা জানান, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একই এলাকার আব্দুল ওহাব নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে ঘরের ভেতরে আগুনে পুড়ে আব্দুল ওহাবের বৃদ্ধা মা সাবিহা নিহত হন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুড়ে যাওয়া ঘর থেকে মরহেদ উদ্ধার করে।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুর নূর বলেন, দুই মৃত্যুর ঘটনারই রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। দুজনের মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
১ ঘণ্টা আগে
সিলেটে বিএনপির নির্বাচনি জনসভা শুরু, সমাবেশস্থলে তারেক রহমান
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিএনপির। সিলেট থেকে বরাবরের মতো এবারও প্রচারণা শুরু করতে যাচ্ছে দলটি। এ উপলক্ষে আলিয়া মাদরাসা মাঠের জনসভায় দুপুর সাড়ে ১২টায় উপস্থিত হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির নির্বাচনি জনসভা শুরু হয়েছে। সেখানে বিএনপির স্থানীয় নেতারা বক্তব্য শুরু করেছেন।
সিলেট জেলা ও মহানগর এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে এ জনসভার আয়োজন করেছে। এতে সভাপতিত্ব করছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি বক্তব্য দেবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বেলা ১১ টার দিকে সভাস্থলে পৌঁছান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করছেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।
জনসভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি এহসান। এ সময় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ধানের শীষ নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সুদীপ জ্যোতি (এষ) বলেন, ‘আজকের দিনটি আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো। আমাদের স্বপ্ন ছিল দলের চেয়ারম্যানকে নিয়ে সিলেটে জনসভা করা। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখার সময় এসেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করে নতুন স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।’
মঞ্চে আছেন বিএনপি সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, সিলেট–২ আসনের তাহসিনা রুশদীর প্রমুখ। এ ছাড়া সুনামগঞ্জের বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার সংসদ সদস্য প্রার্থীরা আছেন। এ ছাড়া সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা উপস্থিত রয়েছেন।
সকালে গ্র্যান্ড সিলেট হোটেলে ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এতে সিলেটের ১৯টি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অরাজনৈতিক শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
জনসভায় যোগ দিতে গতকাল (বুধবার) রাত ৮টার দিকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আকাশপথে সিলেটে আসেন। পরে তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পাশাপাশি তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ কবরস্থানে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর কবরও জিয়ারত করেন।
এরপর তিনি নগরের উপকণ্ঠে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বিরাইমপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে উপস্থিত নেতা-কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি। শ্বশুরবাড়িতে কিছু সময় অবস্থান করে সিলেট বিমানবন্দর–সংলগ্ন হোটেলে ফেরেন তিনি।
উল্লেখ্য, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জিয়াউর রহমান এবং সদ্যপ্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও প্রতিবার নির্বাচনের আগে মাজার জিয়ারতের পাশাপাশি সিলেটে প্রথম নির্বাচনি জনসভা করতেন।
২ ঘণ্টা আগে
চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেবে বিএনপি: তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে দেশের চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। পরিবারের প্রধান নারীকে এ কার্ড দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে সিলেটের একটি পাঁচ তারকা হোটেলের কনফারেন্স রুমে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
এই কার্ডের সুবিধাদি প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, এর মাধ্যমে মাসিক ভিত্তিক একটি পরিবারকে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া দেওয়া হবে খাদ্যসামগ্রী।
তিনি আরও বলেছেন, বিদেশ গমনেচ্ছুদের জন্য বহুমাত্রিক দক্ষতা বাড়াতে কারিগরি শিক্ষা আধুনিকায়ন করা হবে। বিভিন্ন দেশের ভাষা শিক্ষায়ও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
‘দ্য প্ল্যান, ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে তরুণদের কথা শুনেন তারেক রহমান। তরুণদের উদ্দেশে নিজেও দিকনির্দেশনা দেন।
এতে উপস্থিত তরুণরা সকলেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত সাধারণ শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। এই মতবিনিময় পর্ব শেষে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় যোগ দেবেন তারেক রহমান।
২ ঘণ্টা আগে
সুন্দরবনে বাঘ বাড়লেও অবাধ হরিণ শিকারে বাড়ছে উদ্বেগ
সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে নানা বয়সী বাঘের আনাগোনা বেড়েছে। ছয় বছরের ব্যবধানে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আশার আলো দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে একইসঙ্গে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণের সংকট। অমাবস্যা ও পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে নিয়মিত হরিণ শিকারের ফলে বাঘের খাদ্যভিত্তি মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।
বনবিভাগের তথ্য অনুসারে, ২০১৮ সালের জরিপে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১১৪টি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জরিপে তা বেড়ে ১২৫টিতে দাঁড়িয়েছে। বাঘের মোট খাদ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে হরিণের মাংস থেকে। বাকি ২০ শতাংশ আসে শূকর, বনবিড়াল ও বানর থেকে। তবে নিয়মিত হরিণ শিকারের কারণে বনে বাঘের প্রয়োজনীয় শিকারের প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানান, গহীন বনে পাতার ফাঁদ ও চেতনানাশক ট্যাবলেট ব্যবহার করে হরিণ শিকার করা হচ্ছে। এর ফলে চাঁদপাই, শরণখোলা, সাতক্ষীরা ও খুলনা রেঞ্জে বাঘের খাদ্যসংকট তীব্র হচ্ছে। খাদ্যের অভাবে বাঘ নদী ও খাল পেরিয়ে লোকালয়ে চলে আসার ঝুঁকিও বাড়ছে। একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘের সপ্তাহে কমপক্ষে ৫০ থেকে ৬০ কেজি মাংসের প্রয়োজন হয় বলে জানান তারা।
৩ ঘণ্টা আগে
আজ সিলেট থেকে ভোটের প্রচারণা শুরু করবেন তারেক রহমান
মর্যাদার সিলেট-১ আসন থেকে বরাবরের ন্যায় এবারও নির্বাচনি জনসভা করতে যাচ্ছে বিএনপি। ইতোমধ্যে নির্বাচনি জনসভাকে ঘিরে সিলেটের ঐতিহাসিক সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে জড়ো হতে শুরু করেছেন দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় আলিয়া মাদরাসা মাঠে সিলেটবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে জনসভাকে কেন্দ্র করে আলিয়ার মাঠে জড়ো হতে থাকেন দলটির নেতা-কর্মীরা। অনেকেই সিলেটের দূর-দূরান্ত থেকে এসে বুধবার রাতেই মাঠে অবস্থান নিতে দেখা যায়। তারেক রহমানের আগমনে সিলেট বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসবের আমেজ।
আজ সিলেট থেকে জনসভার মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করবেন তারেক রহমান।
এর আগে, বুধবার রাত ৮টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখান থেকে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে দিবাগত রাত ১টার দিকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বিরাইমপুরে তার শ্বশুরবাড়িতে যান।
বিরামপুরে তারেক রহমান হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।
এ সময় তারেক রহমান বলেন, ‘ড. জুবাইদা যেমন আপনাদের সন্তান, আমিও আপনাদের সন্তান। আমার দাবি রয়ে গেল যাতে ১২ তারিখে এই এলাকা থেকে ধানের শীষ বিজয়ী হয়। আপনাদের কাছ থেকে এই জবান নিয়ে গেলাম।’
জানা যায়, মঠের পূর্ব পাশে নির্মাণাধীন মঞ্চের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। মঞ্চের সামনে প্রায় ৩০ ফুট এলাকাজুড়ে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। ব্যারিকেডের ভেতরের উত্তর অংশে জুলাইয়ের শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের বসার জন্য আলাদা জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। সমাবেশস্থল থেকে সিলেট বিভাগে ১৯টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন তারেক রহমান।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা সাড়ে ১১টায় আলিয়া মাদরাসা মাঠের জনসভায় বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। ওই সমাবেশে সিলেট জেলার ছয়টি এবং সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচটি আসনে দল ও জোট মনোনীত প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে।
৩ ঘণ্টা আগে
ফেনীতে সংস্কার হয়নি ২৮৪ প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান
ফেনী জেলার প্রায় দুই শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং অর্ধশতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে এখনও পাঠদান ও সহশিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এতে চরম ঝুঁকি ও আতঙ্কে রয়েছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এসব বিদ্যালয়ে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলায় মোট ৫৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ২০২৪ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৮৪টি বিদ্যালয়ের ভবন এখনও সংস্কার হয়নি। এর মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় ১৫১টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১০টি, দাগনভূঞা উপজেলায় ১০২টির মধ্যে ১৬টি, সোনাগাজী উপজেলায় ১১০টির মধ্যে ৭৭টি, ছাগলনাইয়া উপজেলায় ৭৮টির মধ্যে ৬৫টি, পরশুরাম উপজেলায় ৭টি এবং ফুলগাজী উপজেলায় ৯টি বিদ্যালয়ের ভবন ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে