খুলনা
বেনাপোল বন্দরে ক্রেনের তার ছিঁড়ে শ্রমিক নিহত
বেনাপোল স্থলবন্দরে প্লেনশিট লোড করার সময় ক্রেনের তার ছিঁড়ে শাহজাহান আলী (৪৫) নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেল হোসেন নামে আরও এক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে বন্দরের টিটিআই মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শাহজাহান আলী বেনাপোল পোর্ট থানার পাঠবাড়ি গ্রামের আফতাবের ছেলে। আহত সোহেল হোসেন একই থানার সাদিপুর গ্রামের মোস্তফার ছেলে। তারা দুজনই বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৮৯১-এর সদস্য।
সোহেল জানান, রাতে স্থলবন্দরের টিটিআই মাঠে ক্রেনের সাহায্যে একটি বাংলাদেশি ট্রাকে লোহার ভারী প্লেনশিট লোড করা হচ্ছিল। এ সময় আকস্মিকভাবে ক্রেনের তার ছিঁড়ে প্লেনশিট তাদের শরীরের ওপর পড়ে। এতে তারা দুজনই পিষ্ট হন।
পরে সহকর্মীরা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহজাহান আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া সোহেলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। অপরজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম আহমেদ বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ক্রেনের তার ছিঁড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত শ্রমিকের অবস্থাও গুরুতর বলে জানান তিনি।
১ দিন আগে
নড়াইলে প্রধান শিক্ষকের ‘নিষেধ সত্ত্বেও’ শিক্ষার্থীকে মারধর
শিক্ষক-শিক্ষিকার হাতে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে নড়াইলের লোহাগড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র কৃষ্ণ হালদার (১১)। নিষেধ করার পরও ওই দুই শিক্ষক ছেলেটিকে মারধর করেছেন বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, কৃষ্ণ হালদারকে শিক্ষক রানী চক্রবর্তী ব্ল্যাকবোর্ডের কালি মোছার ডাস্টার দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদম মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এর আগে, গত ১ এপ্রিল বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক দীপক কুমারের বিরুদ্ধেও কৃষ্ণকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগীর পরিবার আরও জানায়, বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমানা আক্তারকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষিপ্ত হয়ে পুনরায় তাকে মারধর করা হয়।
কৃষ্ণের বাবা উত্তম হালদার বলেন, ‘পড়া না পারার অজুহাতে আমার ছেলেকে বারবার মারধর করা হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
মা পল্লবী হালদার বলেন, ‘আমার ছেলে এখন আতঙ্কে রয়েছে। সে স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে। মারধরের কারণে তার শরীরে অনেক ক্ষত হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমানা আক্তার বলেন, শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাটি দুঃখজনক। দুই শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিষেধ করা সত্ত্বেও ওই শিক্ষকরা ছেলেটিকে মারধর করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
২ দিন আগে
নড়াইলে জমির বিরোধে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে জখম
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কৃষ্ণপদ আচার্য্য (৭৩) নামের এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ছোট কালিয়া গ্রামের সাইদের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত কৃষ্ণপদ আচার্য্য উপজেলার ছোট কালিয়া গ্রামের মৃত সন্তোষ আচার্য্যের ছেলে। অভিযুক্তরা হলেন— একই গ্রামের আশিকুর রহমান সুমন (৪০), আকিবুর রহমান মিলন (৩৭) ও মাহিদুল শেখ (৩৫)।
স্থানীয় ও স্বজনরা জানান, রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কৃষ্ণপদ আচার্য্য কালিয়া বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় ছোট কালিয়া গ্রামের সাইদের দোকানের সামনে পৌঁছালে সুমন, মিলন ও মাহিদুল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তারা তাকে মাথা, হাত ও পায়ে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, মনসা মন্দিরের জমি ও আমার পৈতৃক জমি নিয়ে প্রতিবেশী ফজর শেখ ও ওলিয়ার রহমানের সঙ্গে মামলা চলছে। এ মামলার জের ধরে কাল বাজার থেকে ফেরার সময় আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেছে তারা। আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব। আমি এই ঘটনার যথাযথ বিচার চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দোষীদের ধরতে অভিযান চলছে।
৩ দিন আগে
ঝিনাইদহে বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে দুই কৃষক নিহত
ঝিনাইদহের মহেশপুরে বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে দুই কৃষক নিহত হয়েছেন। সম্পর্কে তারা মামা-ভাগ্নে ছিলেন।
রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগানমাঠ গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— রফিকুল সরকার (৫০) ও নুর আলম (৩৫)। রফিকুল ওই গ্রামের মৃত জমশেদ সরকারের ছেলে এবং নুর আলম মৃত আবু সামার ছেলে।
বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা জিন্টু জানান, দুপুরে রফিকুল সরকার বাগানমাঠ এলাকায় নিজের ধানের জমিতে কীটনাশক স্প্রে করছিলেন। এ সময় মাঠের মধ্যে একটি মোটরের বৈদ্যুতিক তার নিচু হয়ে ঝুলে ছিল। অসাবধানতাবশত সেই তার শরীরে স্পর্শ করলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
তিনি আরও জানান, পাশের জমিতে কাজ করা নুর আলম ঘটনাটি দেখে দৌড়ে এসে মামাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, মাঠে কাজ করার সময় মোটরের লিকেজ বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে মামা-ভাগ্নে মারা গেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪ দিন আগে
সুন্দরবনে জলদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি, মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছেন ৬ জেলে
মুক্তিপণের দাবিতে সুন্দরবনে জলদস্যুদের হাতে অপহরণের শিকার ১০ জেলের মধ্যে ৬জন জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়িতে ফিরেছে।
শুক্রবার (৪ মার্চ) সকালে সাদ্দাম, ইউনুস আলী ও সাইফুল ইসলাম এবং আজ (শনিবার) ভোরে আনারুল, ইমরান ও সুশান্ত বাড়িতে ফিরে আসেন। এর আগে অপহরণের শিকার এসব জেলেদের পরিবারের সদস্যরা জলদস্যুদের দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করেন।
ফিরে আসা জেলে ও তাদের স্বজনরা জানিয়েছেন, সাদ্দামের মুক্তিপণ বাবদ ৪০ হাজার, আনারুল, সুশান্ত এবং ইমরানের জন্য মাথাপিছু ৩৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। এছাড়া ইউনুস আলী ও সাইফুল ইসলামের জন্য মাথাপিছু ২৫ হাজার টাকা গুনতে হয়েছে। তবে এনামুল ও হযরতসহ চার জেলের এখনও কোন খোঁজ মেলেনি।
এদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুন্দরবনে যাতায়াতকারী জেলেরা দাবি করেছেন, ১ এপ্রিল বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার নির্দেশনা দেন। তার নির্দেশনার পর র্যাব, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও পুলিশ তৎপর হওয়ার কারণে জলদস্যুরা অপহৃত অপর জেলেদের নিয়ে নিচের দিকে নেমে গেছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন অফিসার মো. ফজলুল হক জানান, অপহরণ কিংবা ফিরে আসার বিষয়ে ভুক্তভোগী জেলেদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের কিছু জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ৩০ মার্চ সুন্দরবনের চুনকুড়ি, মালঞ্চ এবং মামুন্দো নদী থেকে ‘ডন ও ‘আলিফ ওরফে আলিম’ বাহিনীর পরিচয়ে অপর চার জেলের সঙ্গে তাদের অপহরণ করা হয়।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান জানান, এ ধরনের ঘটনায় জেলেরা অনেক সময় নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করার চেষ্টা করেন। অপহৃতদের জীবনের ঝুঁকির কারণে তারা পুলিশকে তথ্য দিতে চায় না। তবে বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি।
এদিকে, বনবিভাগের কর্মকর্তা জানান, সুন্দরবনের নোটাবেঁকী টহল ফাঁড়ি-সংলগ্ন অভয়ারণ্য এলাকায় প্রবেশ করে সাতজনের একটি মৌয়াল দল মধু সংগ্রহ করছিলেন। পরবর্তীতে অভয়ারণ্যে মধু কাটার অভিযোগে স্মার্ট টহল টিমের সদস্যরা তাদের আটক করেছেন। তবে নেটওয়ার্কের বাইরে অবস্থানের কারণে আটক ৭ মৌয়ালের কারও নাম পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
৪ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে এক দিনে ৩ শিশুর মৃত্যু
কুষ্টিয়ায় বেড়েই চলেছে হামের সংক্রমণ। এ নিয়েছে জনমনে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়। সে দৌলতপুর উপজেলার চঞ্চল হোসেনের ছেলে।
এরপর রাত ১২টার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু আইজার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। সে কুষ্টিয়া শহরের রেনউক মোড় এলাকার মমিনের মেয়ে।
তার আগে, ভোর ৬টার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামের উপসর্গ নিয়ে আট মাস বয়সী আফরানের মৃত্যু হয়। সে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া গ্রামের আল আমিনের ছেলে।
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম তিন শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. এ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ইতোমধ্যে হাম রোগীদের জন্য আলাদা ‘হাম কর্নার’ চালু করা হয়েছে। তবে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় অনেককে সাধারণ শিশু ওয়ার্ডেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে আমাদের শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলায় তিনশর বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫টি শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, হামের টিকার স্বল্পতা, সচেতনতার ঘাটতি এবং বাইরের জেলা থেকে মানুষের আগমন সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
তিনি আরও বলেন, আক্রান্ত শিশুদের জন্য জেলার সব হাসপাতালে ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ চালু করা হয়েছে এবং টিকা পাওয়ামাত্র দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।
৫ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি এক শিশুর মৃত্যু
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আফরান নামে ৮ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।
আফরান কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া গ্রামের আল আমিনের ছেলে।
শিশুটির বাবা আল আমিন বলেন, হঠাৎ ঠান্ডা, জ্বর ও শরীরে লালচে ফোঁটা ফোঁটা দাগ দেখা দিলে আফরানকে কুষ্টিয়ায় এক চিকিৎসকের চেম্বারে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই চিকিৎসকের পরামর্শে শিশুটিকে দ্রুত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
শিশুটির মৃত্যুতে তার বাবা অভিযোগ করেন, ‘গতকাল (বৃহস্পতিবার) আফরানের অবস্থার অবনতি হতে থাকে। আজ ভোরের দিকে অবস্থা খুব খারাপ হলে চিকিৎসক ও নার্সদের ডাকা হয়। কিন্তু নার্সরা সঠিকভাবে সহযোগিতা করেনি। পরে মরদেহ নিয়ে বাড়ি চলে আসি।’
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ভর্তির দিন থেকেই শিশুটির অবস্থা খারাপ ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু রোগীর স্বজনরা যাননি। তবুও আমরা আমাদের সাধ্যমত চিকিৎসা দিয়েছি। শুক্রবার ভোরের দিকে শিশুটি মারা যায়।
৬ দিন আগে
মাগুরায় মুদি দোকান থেকে অবৈধ পেট্রোল উদ্ধার
মাগুরায় এক মুদি দোকান থেকে অবৈধভাবে ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক দামে পেট্রোল মজুদ ও বিক্রির দায়ে এক দোকানিকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ অভিযানে মোট ১২ লিটার অবৈধ পেট্রোল জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মহম্মদপুর উপজেলার একটি মুদি দোকানে অভিযান চালিয়ে এই অবৈধ তেল জব্দ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) মহম্মদপুর উপজেলার একটি মুদির দোকানে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযোগ ছিল, ওই দোকানে কোনো বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই দাহ্য পদার্থ মজুদ রাখা এবং তা সাধারণ মানুষের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছিল।
অভিযানের সময় দোকানের মালিক বাকী মোল্লাকে হাতেনাতে ধরা হয় এবং তার কাছ থেকে ১২ লিটার অবৈধ পেট্রোল জব্দ করা হয়। জননিরাপত্তা ঝুঁকি ও আইন অমান্য করার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক তাকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দাহ্য পদার্থ বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট লাইসেন্স ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
৭ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় মাঝারি তাপপ্রবাহ, মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা
চুয়াডাঙ্গায় গরম এবার যেন শুরুই হলো আগুনঝরা রূপে। মৌসুমের শুরুতেই জেলায় রেকর্ড হয়েছে সর্বোচ্চ ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। বইছে মাঝারি তাপপ্রবাহ। ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে অস্বস্তি আর ক্লান্তি। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার এ তাপমাত্রা রেকর্ড করে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩৪ শতাংশ। এ পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আজ দুপুর গড়াতেই শহরের রাস্তাঘাট যেন আগুন ছড়াতে থাকে। খোলা আকাশের নিচে দাঁড়ানো দায় হয়ে যায়। বাতাসও যেন গরম চুল্লির আঁচের মতো মুখে এসে লাগছিল। কয়েকদিন আগেও যেখানে হালকা শীতের আমেজ ছিল, সেখানে হঠাৎ এমন তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ছন্দ হারিয়েছে জনজীবন।
সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পৌরসভার সামনে সড়কসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পিচ গলে উঠে গেছে; কোথাও কোথাও তা জমে গেছে। যানবাহন চলাচলের সময় সেই পিচ টায়ারে লেপ্টে গিয়ে তৈরি করছে বাড়তি ভোগান্তি।
শহরের এক পথচারী বলেন, এ জেলায় আবহাওয়া সবসময়ই চরম। কিন্তু গরম শুরু হওয়ার আগেই যদি এমন হয়, তাহলে সামনে কী হবে—ভাবতেই ভয় লাগছে!
চৌরাস্তা মোড়ে বসে তরমুজ বিক্রি করছিলেন মোহাম্মদ শাজাহান। কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছিল তার।
তিনি বলেন, রোদে বসে থাকতে থাকতে শরীর পুড়ে যাচ্ছে। তরমুজও ঠিকমতো বিক্রি হচ্ছে না। একটু পরপর পানি না ঢাললে টিকেই থাকা যায় না।
৭ দিন আগে
মাগুরায় মধুমতী নদী থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার
মাগুরার সদর উপজেলায় মধুমতী নদী থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে উপজেলার কছুন্দি ইউনিয়নের খোর্দ কছুন্দি গ্রামে সজল মীরের ইটভাটার পাশের মধুমতী নদী থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান বলেন, মধুমতী নদীতে এক নারীর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
তিনি জানান, অজ্ঞাত ওই নারীর পরিচয় পেতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কাজ করছে। মরদেহটি মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এ হত্যার ঘটনায় মাগুরা থানায় মামলা করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত চলছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
৮ দিন আগে