রংপুর
১১ দিনের ছুটিতে বুড়িমারী স্থলবন্দর
পবিত্র শবে কদর, ঈদুল ফিতর ও মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরে টানা ১১ দিন আমদানি-রপ্তানিসহ সব ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসাধারী যাত্রীদের পারাপার স্বাভাবিক থাকবে।
বুড়িমারী কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ছুটির এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রবিবার (১৫ মার্চ) অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাপ্তাহিক ছুটিসহ আগামী ১৭ মার্চ থেকে শুরু হয়ে এই ছুটি চলবে ২৭ মার্চ পর্যন্ত। টানা ১১ দিন আমদানি-রপ্তানিসহ সব ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর ২৮ মার্চ থেকে বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ এই ছুটির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এএসএম নিয়াজ নাহিদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশন, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন, বিজিবি, ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা কাস্টমস, বিএসএফ এবং ভুটানের সংশ্লিষ্ট শুল্ক কর্তৃপক্ষসহ উভয় দেশের পরিবহন ও শ্রমিক সংগঠনকে দেওয়া হয়েছে।
ফারুক হোসেন বলেন, পবিত্র শবে কদর, ঈদুল ফিতর এবং স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ১১ দিন বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও দুই দেশের মানুষের যাতায়াতে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।
বুড়িমারী স্থলবন্দর পুলিশ অভিবাসন চৌকির (ইমিগ্রেশন) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুর রহমান জানান, আমদানি-রপ্তানি বন্ধের চিঠি তারা পেয়েছেন। তবে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসাধারী যাত্রীদের পারাপার অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক থাকবে।
বুড়িমারী স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মাহমুদুল হাসান বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে ১১ দিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ রাখার বিষয়ে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন আমাদের চিঠি দিয়েছে। মূলত ব্যবসায়ীরা কাজ না করলে বন্দরের কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ থাকে।
অন্যদিকে, বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশনের উপকমিশনার মুহাম্মদ মহি উদ্দিন জানান, ১৭ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়টি তারা লিখিতভাবে জেনেছেন। তবে এ সময়ে যাত্রী পারাপার চালু থাকার পাশাপাশি কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ দাপ্তরিক কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু থাকবে।
১১ ঘণ্টা আগে
রংপুরে শিশুকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা
রংপুরে নিজের দেড় বছরের শিশু সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর এক মা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাজাপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে।
নিহত ওই নারীর নাম সূচনা ঘোষ। শিশুপুত্র জয়দেব ঘোষকে হত্যার পর নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন তিনি।
পুলিশ জানায়, নগরীর সাজাপুর এলাকার শংকর ঘোষের (৪৫) স্ত্রী সূচনা ঘোষ (৪০) তার দেড় বছরের পুত্রসন্তান জয়দেব ঘোষকে শ্বাস রোধ করে হত্যার পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে নিজে আত্মহত্যা করেন। আত্মাহত্যার ঘটনাটি জানালার ফাঁক দিয়ে প্রথমে দেখতে পান তার দশম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে পুষ্পিতা ঘোষ। ওই গৃহবধূর পূজা ঘোষ নামের বড় আরেকটি মেয়ের বিয়ে হয়েছে। গৃহবধূর স্বামী একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং ক্ষুদ্র মুদি দোকানি। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
শংকর ঘোষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন তার স্ত্রী। বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছে তাকে। তার ধারণা, মানসিক সমস্যা থেকেই সন্তানকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেন সূচনা।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, মূলত অভাব অনটনের কারণে পারিবারিক অশান্তি ছিল পরিবারটিতে। তবে পারিবারিক কলহ নাকি মানসিক অসুস্থতার কারণে এ ঘটনা ঘটছে, তা তদন্তের পর জানা যাবে।
১ দিন আগে
হঠাৎ বৃষ্টিতে কপাল পুড়ল উত্তরের আলু চাষিদের
উত্তরের জেলাগুলোতে আলুর দামে ধস নামার মধ্যেই অকাল বৃষ্টিতে নতুন করে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিতে আলুখেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় বৃষ্টির পানিতে খেত তলিয়ে যাওয়ায় আলুতে পচন ধরার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। দরপতনের হাহাকারের মাঝেই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন আলুচাষিরা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এবং শুক্রবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত হওয়া বৃষ্টিতে রংপুর নগরীর মাহিগঞ্জ, আমাশু কুকরুল, সদরের পালিচড়া ও পীরগাছা উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর, ছাওলা, অন্নদানগর ও কান্দি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ আলুখেত পানিতে তলিয়ে আছে। ফসল রক্ষায় খেত থেকে পানি সরানোর চেষ্টা করছেন কৃষকরা।
উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘১০ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করছি, ফলনও ভালো হইছে। কিন্তু হঠাৎ করে ঝড়বৃষ্টিতে আলুর অনেক ক্ষতি হইল। সকালে এসে দেখি আলুখেতে অনেক পানি জমে গেছে। এখন পানি কমানোর চেষ্টা করতেছি।’
তিনি বলেন, ‘বাজারে আলুর দাম নাই, কেজি মাত্র ৮ থেকে ১০ টাকা। এখন বৃষ্টির কারণে কেজিপ্রতি আরও দুই টাকা কমে যাবে। এ অবস্থায় মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে গেল এই বৃষ্টি।’
আলুচাষি এমদাদুল হক বাবু বলেন, সারের সংকট ও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ধারদেনা করে আলু চাষ করে এখন বিপাকে আছি। বাজারে দাম নেই। কোল্ড স্টোরে রাখতে হলে বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে। না হয় কালোবাজারি ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কাছে অল্প দামে আলু বিক্রি করতে হবে। এ কারণে খেতের মধ্যেই আলু রেখেছিলাম। দাম ভালো মিললে বিক্রি করব। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেল।
২ দিন আগে
রংপুরে নকল কোমল পানীয়র কারখানার সন্ধান, লক্ষাধিক টাকা জরিমানা
রংপুরে পৃথক দুটি স্থানে দুটি কোমল পানীয়র কারখানায় অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ সময় মোজো, সেভেন আপ, ফ্রুটো ও টেন আপের নকল পণ্য উদ্ধার করা হয়। এ অপরাধে দুটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকার বেশি জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় নগরীর কুটিরপাড়া ও কামালকাছনা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার তমাল আজাদ ও নুসরাত আরা এ জরিমানা করেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নগরীর কুটিরপাড়া এলাকায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে মেসার্স দানিস ট্রেডার্স ও মেসার্স রুমন ট্রেডার্সের গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে মোজো, সেভেন আপ, টেন আপের নকল পণ্য উদ্ধার এবং বিপুল পরিমাণ মালামাল জব্দ করা হয়। শিশুদের জন্য ক্ষতিকর পণ্য তৈরি ও বাজারজাতের জন্য গুদামজাত করার অপরাধে দুটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার। পরে জব্দ করা বিপুল মালামাল বিনষ্ট করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ মালামাল সংরক্ষণ ও বাজারজাত না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ রংপুরের এফএসও মো. লোকমান হোসাইন বলেন, এনএসআইয়ের তথ্য অনুযায়ী দুটি কারখানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণে শিশুদের জন্য ক্ষতিকর মোজো, সেভেন আপ, ফ্রুটো, টেন আপের নকল পণ্য উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে দুটি কারখানার মালিককে জরিমানাসহ সতর্ক করা হয়। এ রকম অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এফএসও।
৬ দিন আগে
বোনকে কুপ্রস্তাবে প্রতিবাদ করায় বড় বোনকে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানায় ছোট বোনকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার প্রতিবাদ করায় বড় বোনকে গলা কেটে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. আবুল কালামকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত পৌনে ১০টার দিকে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার স্টেশন রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কালাম কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চর হরিকেশ এলাকার মৃত হোসেন আলীর ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, কালাম ও তার সহযোগীরা শাহিদা খাতুনের ছোট বোনকে পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে অনৈতিক সম্পর্কের কুপ্রস্তাব দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে শাহিদা ও তার ছোট ভাই প্রতিবাদ করেন এবং এ বিষয়ে গ্রাম্য সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে আসামি সালিশে উপস্থিত না হওয়ায় বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে যায়।
গত ১৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শাহিদা বাড়ির উঠানে রান্নার চাল ধোয়ার জন্য যান। সে সময় তাকে একা পেয়ে কালাম ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন।
এ ঘটনায় শাহিদার বাবা মো. সাইফুর রহমান বাদী হয়ে কচাকাটা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
র্যাব-১৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ হত্যাকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-১৩।
১০ দিন আগে
দিনাজপুরে সাত বছরের শিশু হত্যার রহস্য উদঘাটন
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সাত বছর বয়সী শিশু সিরাজুল আল শামস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের রহস্য উদঘাটন হয়েছে। তাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে তারই আপন চাচাতো ভাই আমানুর রহমান আমান (২১)। চাচার সম্পত্তি ওয়ারিশ-শূন্য করতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি।
রবিবার (৩ মার্চ) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে হত্যার রহস্যের বিষয়টি ব্রিফ করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস) আনোয়ার হোসেন।
অভিযুক্ত আমান আমরুলবাড়ী ডাঙ্গাপাড়ার মজিদুল ইসলামের ছেলে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, আপন চাচা মমিনুল ইসলামের একমাত্র সন্তান সিরাজুল আল্ শামসকে গত শুক্রবার ইফতারির পর গলা টিপে এবং ছুরিকাঘাতে নৃশংসভাবে হত্যা করেন আমান। গলা ও হাত-পায়ের রগ কাটা ছাড়াও নৃশংসতার অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন ছিল শিশুটির পুরো শরীরজুড়ে।
তিনি আরও জানান, আটকের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আমান হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিসহ অন্যান্য আলামত পুলিশের কাছে তুলে দিয়েছেন তিনি।
১৫ দিন আগে
সীমিত সম্পদ দিয়ে হলেও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের স্বাস্থ্যসেবার মান আগের চেয়ে উন্নত হচ্ছে। সিভিল সার্জন এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে যারা রয়েছেন তাদের বলব, নিজেদের সীমিত সম্পদ দিয়ে হলেও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
রবিবার (১ মার্চ) সকালে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য এবং স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন, তত্ত্বাবধায়ক সেগুলোর চাহিদা প্রেরণ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়াও রোগী ও স্বজনদের চলাচলের জন্য একটি লিফট জেলা প্রশাসন পক্ষ থেকে ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।
ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল ও জেলার সার্বিক স্বাস্থ্য সেবার বিষয়ে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে, যেন এখানকার সব মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত হতে পারে।
নীতিমালায় রয়েছে একজন ডাক্তার একই কর্মস্থলে ৩ বছরে বেশি কর্মরত থাকতে পারবে না, কিন্তু হাসপাতালগুলোতে ৫-৭ বছর ধরে ডাক্তাররা কর্মরত রয়েছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিষয়টি আমরা দেখব। দায়িত্ব গ্রহণের কেবল ১০-১২ দিন হলো, আস্তে আস্তে সব ঠিক করা হবে।
এ সময় মির্জা ফখরুলের সঙ্গে আরও ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেনসহ স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মকর্তারা।
১৫ দিন আগে
গাইবান্ধায় উপবৃত্তির প্রলোভনে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, মাদরাসা অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় উপবৃত্তির প্রলোভন দেখিয়ে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ করে তা প্রকাশ করে দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগে এক মাদরাসার অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মো. রঞ্জু মিয়া (৫৫) উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় পণ্ডিতপুর আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রী গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের জরিপপুর গ্রামের বাসিন্দা। চার মাস আগে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হন। ভর্তির পর থেকেই অধ্যক্ষ রঞ্জু মিয়া ওই ছাত্রীর পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার অজুহাতে তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন এবং তাকে সরকারি উপবৃত্তি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
গত ১৮ ডিসেম্বর সকালে অধ্যক্ষ ওই ছাত্রীকে ফোন করে জানান, উপবৃত্তি ফরমে স্বাক্ষর করার জন্য জরুরিভিত্তিতে তার পান্থাপাড়ার বাসায় যেতে হবে। অধ্যক্ষের কথায় মেয়েটি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার বাসায় যান। সেখানে কেউ না থাকার সুযোগে রঞ্জু মিয়া তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় অত্যন্ত কৌশলে মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ধারণ করে রাখেন তিনি। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় ।
গতকাল আবারও গোপন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে মেয়েটিকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন তিনি। পরে বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী বাড়িতে গিয়ে তার মা-বাবার কাছে বিষয়টি খুলে বলেন। পরিবারের পরামর্শে অবশেষে মেয়েটি নিজে বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার পর পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে। গতকাল (শুক্রবার) রাতে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। আমরা রাতেই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আসামিকে আজ (শনিবার) আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে।
১৬ দিন আগে
কুড়িগ্রামের সীমান্তে আটকের ৭ ঘণ্টা পর দুই ভারতীয়কে প্রত্যর্পণ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সীমান্তে অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক দুই ভারতীয় যুবককে ৭ ঘণ্টা পর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষাফেরুষা সীমান্তের আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৩৬-এর পাশে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ১৫ মিনিটব্যাপী পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে আটক দুই যুবককে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আটক দুই যুবক হলেন— ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার নট্টবাড়ী এলাকার আখিরুল খন্দকার (২২) এবং একই জেলার সাহেবগঞ্জ থানার কিশামত করলা এলাকার ফারুক মিয়া (২২)।
এর আগে, গতকাল বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বালারহাট সীমান্তে আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৩৫-এর সাব পিলার ৩এস থেকে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে প্রবেশের সময় তাদের আটক করে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন বালারহাট ক্যাম্পের টহলদল। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নায়েক সুবেদার লিটন মিয়া। আটক হওয়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমামের নির্দেশে কোম্পানি পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন শিমুলবাড়ী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আব্দুর রহীম এবং বালারহাট ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার লিটন মিয়া। অপরদিকে ভারতীয় ৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের করলা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার (ইন্সপেক্টর) সুনীল কুমার বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন।
এ প্রসঙ্গে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, আটক দুই ভারতীয় নাগরিককে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল কার্যক্রম জোরদার রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
১৬ দিন আগে
দিনাজপুরে ৭ বছরের শিশুকে নৃশংসভাবে খুন
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের ৭ বছরের এক শিশুকে ছুরিকাঘাতে গলা এবং হাতপায়ের রগ কেটে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহভাজন ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের পর সন্ধ্যায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
শিশুটির নাম সিরাজুল আল শামস। সে আমরুলবাড়ী ডাঙ্গাপাড়ার বেকারী ব্যবসায়ী মমিনুল ইসলামের একমাত্র সন্তান ছিল। দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল সে।
স্থানীয়রা বলেন, গতকাল (শুক্রবার) ইফতারের আগ থেকে শামসকে খুঁজে পাচ্ছিল না তার স্বজনরা। এরপর খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয় মাদরাসার পেছনে ভূট্টা এবং ধানখেতের মাঝে রক্তাক্ত অবস্থায় তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। শিশুটির ওপর চালানো নৃশংসতার চিহ্ন রয়েছে পুরো শরীরজুড়ে। গলা ও হাত-পায়ে ধারালো অস্ত্রের একাধিক গভীর ক্ষত রয়েছে। উদ্ধার করে দ্রুত পাশের উপজেলা ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তাকে নিয়ে যাওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আফতাবগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, শিশুটির হত্যার কারণ এখনও জানা যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার দুই চাচাকে আটক করা হয়েছে।
১৬ দিন আগে