রংপুর
রংপুরে যুবককে গলা কেটে হত্যা
রংপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে রাকিব (২০) নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মো. মমিন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের তাতিপাড়া মাছুয়াপাড়া মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাকিব নগরীর বৈরাগী পাড়ার বাসিন্দা আব্দুস সামাদের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, রাকিব মাদক ব্যবসায়ী মো. মমিনের (৪২) সঙ্গে মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। তবে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জেরে রাকিবের বাবা আব্দুস সামাদ গত বছরের ১৪ নভেম্বর মমিনসহ কয়েকজনের নামে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছিলেন।মামলা ও পূর্ব শত্রুতার জেরে গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে নগরীর তাতিপাড়া মাছুয়াপাড়া মোড়ে রাকিবকে একা পেয়ে মমিন ও তার সহযোগীরা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করেন। এরপর তারা সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ‘ক্রাইম সিন’ হিসেবে চিহ্নিত করে ঘিরে রাখে।
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে
সাবেক এমপি সফুরা বেগম রুমীর জামিন নামঞ্জুর
লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সভানেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমীর জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে তাকে লালমনিরহাট আমলী আদালতে হাজির করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দিন তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে, বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে আজ (বৃহস্পতিবার) তাকে লালমনিরহাটে নিয়ে যাওয়া হয়।
গ্রেপ্তার সফুরা বেগম রুমী লালমনিরহাট শহরের তালুক খুটামারা এলাকার বাসিন্দা। তিনি সংরক্ষিত নারী আসন-২ (লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম)-এর সাবেক সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, নাশকতা ও হত্যাসহ ৫টি মামলার আসামি সফুরা বেগম রুমী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে স্থানীয় থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করে লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর আজ বিকেলে তাকে লালমনিরহাট আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।
আদালতে নেওয়ার পর তার পক্ষ থেকে জামিন আবেদন করা হয়। তবে, বিচারক তাকে লালমনিরহাট সদর থানার একটি মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। লালমনিরহাট জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় হামার বাড়ি ভাঙচুর মামলায়ও তাকে জামিন দেওয়া হয়নি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আবু আহাদ খন্দকার লেলিন বলেন, আদালত একটি মামলায় জামিন দিলেও অপর একটি মামলার জামিন শুনানির জন্য দিন ধার্য করে দিয়েছেন। আশা করছি আগামী কার্যদিবসে তিনি জামিন পাবেন।
লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ জানান, লালমনিরহাট সদর থানায় ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারিতে করা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১ দিন আগে
রংপুরে র্যাবের অভিযানে অসাধু ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের জরিমানা
রংপুরে দুটি ভোজ্যতেলের গুদামে যৌথ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও র্যাব-১৩।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম।
এ সময় র্যাব-১৩, রংপুরের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামীর নেতৃত্বে র্যাবের একটি দল অভিযানে সহায়তা করে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নগরীর সেনপাড়া এলাকায় অবস্থিত মেসার্স এস এস ট্রেডার্সের গুদামে তেল মজুদ ও বাজারজাতকরণে নানা অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে ছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় গুদামে সংরক্ষিত ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম না মানা, কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা এবং বাজারে সরবরাহে অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব অনিয়মের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে তাৎক্ষণিকভাবে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এরপরে একই অভিযোগে গোমাস্তপাড়ায় আয়াত ট্রেডার্স নামে প্রতিষ্ঠানের মালিক পারভেজকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার পাশাপাশি দুটি প্রতিষ্ঠানকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
অভিযান শেষে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একই কথা জানান র্যাব-১৩ এর জেষ্ঠ্য সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামীও।
১ দিন আগে
আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি সফুরা বেগম রুমী গ্রেপ্তার
লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সভানেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান।
এর আগে, গতকাল (বুধবার) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সফুরা বেগম সংরক্ষিত নারী আসন-২ (লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম)-এর সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য পদে রয়েছেন।
প্রেস বিজ্ঞাপ্তিতে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, নাশকতা ও হত্যাসহ ৫টি মামলায় অভিযুক্ত নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের নেত্রী অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে স্থানীয় থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তাকে লালমনিরহাট নিয়ে আসা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
১ দিন আগে
লালমনিরহাটে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি কৃষক আহত
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মিজানুর রহমান মিজান (২৪) নামে এক বাংলাদেশি কৃষক গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পাটগ্রাম ইউনিয়নের রহমতপুর সীমান্তের গাডিয়ার ভিটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত মিজান ওই গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে তিনি সীমান্তের পাশে ধানখেতে ঘাস কাটতে যান। এ সময় ভারতের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার সরকারপাড়া ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট (গুলি) ছোড়েন। একটি গুলি মিজানের শরীরে বিদ্ধ হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দ শুনে এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে রংপুর মেডিকেলে কলেজ (রমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মিজান নামে একজন কৃষক আহত হওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তবে এখনও এ ঘটনায় বিজিবির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
৪ দিন আগে
বীরগঞ্জে নিখোঁজ যুবকের মরদেহ উদ্ধার
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থেকে আব্দুল জলিল (২৭) নামক নিখোঁজ হওয়া এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। তার মৃত্যুর কারণ এখনও জানা যায়নি।
রবিবার (৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার সময় খবর পেয়ে নিহতের বাড়ির পাশের ভুট্টাখেত থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করে স্থানীয় থানা পুলিশ।
আব্দুল জলিল বীরগঞ্জের ৬ নম্বর নিজপাড়া দামাইক্ষেত্র প্রামাণিক পাড়ার দুলাল মিয়ার ছেলে ছিলেন।
বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, গতকাল (রবিবার) রাতে হাবলুহাট বাজার থেকে বাড়ি ফিরে রাতের খাবার শেষ করে পাশের একটি বাজারে গিয়েছিলেন আব্দুল জলিল। বাজার থেকে ফিরে ঘরে শুয়েছিলেন তিনি। পরে ঘরে গিয়ে তাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার স্বজনরা। কয়েক ঘন্টা ধরে তল্লাশি চালানোর একপর্যায়ে বাড়ির পাশেই ভুট্টাখেতের আইলে জলিলের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখতে পান তার চাচাতো ভাই আইনুল এবং প্রতিবেশী বেলাল।
বীরগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শাওন কুমার সরকার জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখযোগ্য কোনো আলামত চোখে পড়েনি তাদের। মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহটি উদ্ধার করে আজ (সোমবার) দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ মর্গে প্রেরণ করেছেন তারা।
৪ দিন আগে
বিএসএফের হাতে আটকের ১১ মাস পর লাশ হয়ে দেশে ফিরলেন ঠাকুরগাঁওয়ের আজিজুর
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার দিনমজুর আজিজুর রহমানের জীবনের করুণ পরিণতি নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো জেলার মানুষকে। সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফের হাতে আটক হওয়ার প্রায় ১১ মাস পর অবশেষে লাশ হয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে তার মরদেহ দেশে আনা হয়। সকালেই মরদেহ হস্তান্তরের কথা থাকলেও স্বজনরা বিকেল ৪টার দিকে মরদেহটি গ্রহণ করেন।
আজিজুরের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার শাহানাবাদ গ্রামে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারি ও শোকের মাতমে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এ সময় তার স্ত্রী তাসকারা বারবার চিৎকার করে বলেন, ‘বিএসএফের নির্যাতনেই আমার স্বামী মারা গেছে। ঘাস কাটতে যাওয়া কোনো অন্যায় হতে পারে না।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সারোয়ার মোহাম্মদ শাহরিয়ার খানের সই করা ২ এপ্রিলের এক আদেশে জানানো হয়, গত ২২ মার্চ ভারতে মৃত্যুবরণকারী আজিজুর রহমানের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে আনতে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে মরদেহটি প্রত্যাবর্তন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৩ মে দুপুরে রাণীশংকৈল উপজেলার শাহানাবাদ গ্রামের দিনমজুর আজিজুর রহমানসহ চারজন সীমান্ত এলাকায় ঘাস কাটতে যান। তারা সীমান্ত পিলার ৩৭৩/১-এসের কাছে পৌঁছালে ভারতের ১৮৪ আমবাড়ী ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করেন। এ সময় তিনজন পালিয়ে এলেও আজিজুর রহমান ধরা পড়েন।
আজিজুরের স্ত্রী তাসকারা বেগম অভিযোগ করেন, আমার স্বামীকে অন্যায়ভাবে ধরে নিয়ে গিয়ে বিএসএফ সদস্যরা পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়েছে। নির্যাতনের কারণে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘ ১১ মাস ভারতে বন্দি অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২২ মার্চ ভারতের ইসলামপুরের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ভারতে অবস্থানরত আত্মীয়দের মাধ্যমেই আমরা এই মর্মান্তিক সংবাদ জানতে পারি।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজীর আহমেদ জানান, দেশে আনার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা আরও কঠোর অবস্থানে যাব। একইসঙ্গে নিজেদের নিরাপদ রাখতে সীমান্তের মানুষদের কাঁটাতারের বেড়া ও নো ম্যানস ল্যান্ড এলাকায় না যাওয়ার জন্য আমরা নিষেধ করেছেন তিনি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়ার পর রাতেই তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। মরদেহ নষ্ট হতে শুরু করায় তা আর রাখা সম্ভব হয়নি বলেই দ্রুত দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সীমান্তের মানুষের মনে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সীমান্তে যে কোনো ঘটনার জন্য আইনি প্রক্রিয়া থাকা সত্ত্বেও লাশ হয়ে ফিরে আসার ঘটনা মানতে নারাজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তের বাসিন্দারা।
৬ দিন আগে
ভিক্ষুকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার: এমপি বাবুল
ভিক্ষুকদের ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বের করে এনে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) রোকন উদ্দিন বাবুল।
তিনি বলেছেন, ‘ভিক্ষুকরাও একদিন উদ্যোক্তা হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে তারাও ব্যাপক অবদান রাখবে। আমাদের সরকার সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছে।’
শনিবার সকালে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা পরিষদ চত্বরে ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এমপি বাবুল বলেন, ‘ভিক্ষাবৃত্তি একটি অভিশাপ। বর্তমান সরকার এই পেশা নির্মূল করতে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। একদিন তারাও দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। বিগত সরকার ভিক্ষুক পুনর্বাসনের নামে কী করেছে, তা দেশের মানুষ জানে। আমরা তা বলতে চাই না, জনগণই তার মূল্যায়ন করবে।’
এই সংসদ সদস্য জানান, প্রথম পর্যায়ে লালমনিরহাটের প্রতিটি উপজেলায় দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভিক্ষুককে ৫০ হাজার টাকা মূল্যের দোকানঘর ও প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী কিনে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে ব্যবসার মাধ্যমে পরিবার চালাতে পারবেন।
তিনি বলেন, ‘আজ যে কার্যক্রম শুরু হলো, তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করে গোটা দেশকে ভিক্ষুকমুক্ত করা হবে।’
ভিক্ষুকদের মধ্যে দোকানঘর ও ব্যবসার পসরা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিধান কান্তি হালদার, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব সালেবুজ্জামান প্রামানিক, পলাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল ইসলাম এবং উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম অপুসহ অন্যান্যরা।
৬ দিন আগে
রংপুরে ৪৮ ঘণ্টায় সড়কে পুলিশের ৮৮ মামলা, ৫০ যানবাহন আটক
রংপুর মহানগরীতে ট্রাফিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অভিযানে নেমেছে পুলিশ। গত ৪৮ ঘণ্টায় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে ৮৮টি মামলা ও ৫০টি যানবাহন আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নগরীর ডিসির মোড়, মেডিকেল মোড়, মাহিগঞ্জ সাতমাথা, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, শাপলা চত্বর ও মডার্ন মোড়ে বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়। এ সময় ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেট ও বৈধ কাগজপত্র না থাকায় মোটরসাইকেল, ট্রাক ও প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেট এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া কোনো চালককে জ্বালানি তেল না দেওয়ার জন্য পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতিকে লিখিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরএমপি কমিশনার মো. মজিদ আলী বলেন, নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ট্রাফিক ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল রাখা এবং মাদকসহ যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিরোধে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনসাধারণকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
৮ দিন আগে
রংপুরে মাকে বাঁচাতে গিয়ে ছেলে খুন: গ্রেপ্তার ২
রংপুরের মিঠাপুকুরে মাকে বাঁচাতে গিয়ে ছেলে নিহতের ঘটনায় হওয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাব।
বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা ২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী। ঢাকার মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মিঠাপুকুর উপজেলার শালমারা লফিতপুর এলাকার মহুবার রহমানের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম এবং ইকবালপুর এলাকার আবুল কালামের ছেলে মোহন মিয়া।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, মিঠাপুকুরের আবুল কাশেমর সঙ্গে প্রতিবেশী মো. জাহাঙ্গীর আলমের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে আসামিরা গত ৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী লাঠি, লোহার রড ও ছুরি নিয়ে আবুল কাশেমের স্ত্রীর পথরোধ করে তাকে শ্লীলতাহানি করেন। ভুক্তভোগী ওই নারীর চুল ধরে মুখমণ্ডলে চড়-থাপ্পড় দেন তারা। ওই সময় তাকে মেরে রক্তাক্ত করা হয়।
খবর পেয়ে মাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন ছেলে নুরুজ্জামান। এরপর জাহাঙ্গীর আলমের লোকজন তাকেও এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। তারা নুরুজ্জামানের অণ্ডকোষে সজোরে লাথি মারেন, সেইসঙ্গে তাকে গুরুতর জখম করে তারা চলে যান। পরে এলাকাবাসী ও আত্মীয়স্বজন তাকে উদ্ধার করে রংপুর মিঠাপুকুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান। কয়েক ঘণ্টা পর কতর্ব্যরত চিকিৎসক নুরুজ্জামানকে (৩১) মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবুল কাশেম বাদী হয়ে মিঠাপকুর থানায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাবও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। একপর্যায়ে গত ৩১ মার্চ রাতে যৌথ অভিযান চালিয়ে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলম ও অপর আসামী মোহন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র্যাব।
র্যাব কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
৯ দিন আগে