রংপুর
তিস্তার পানি বাড়ছে, প্লাবনের শঙ্কায় নিম্নাঞ্চল
উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারেজের সবকটি প্রয়োজনীয় জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আজ (বুধবার) সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৪ মিটার। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। অর্থাৎ নদীর পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি বেড়ে লালমনিরহাট সদর আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
১ দিন আগে
গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধের ৩১ স্থানে ফাটল, আতঙ্কে শহরবাসী
কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধের অন্তত ৩১টি স্থানে বড় ধরনের গর্ত ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ঘাঘট নদীর পানির চাপে বাঁধ ভেঙে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য বন্যার আতঙ্কে রয়েছেন বাঁধসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, বাঁধ ভেঙে গেলে শহরের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি পরিদর্শনে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো প্রতিকার হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
গাইবান্ধা পৌর বিএনপির নেতা শহিদুজ্জামান শহীদ জানান, শহর রক্ষা প্রকল্পের আওতায় ঘাঘট নদীর লুপ কাটিং করে শহরের শেষ প্রান্ত দিয়ে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। এরপর গাইবান্ধা শহরকে বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতে ঘাঘট নদীতে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়।
তিনি বলেন, নদীর তীর রক্ষায় প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকায় কংক্রিটের (সিসি) ব্লক স্থাপন করা হয়। বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কোটি কোটি টাকা জরুরি মেরামতের নামে ব্যয় করলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও ২০১৯ সালে বন্যার পানির তোড়ে গাইবান্ধা পৌর এলাকার কুঠিপাড়া এলাকায় ঘাঘট নদীর শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙে যায়। তখন পানির স্রোতে বেশকিছু বাড়িঘর ও অবকাঠামো ভেসে যায়। প্রবল স্রোতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বুকসমান ও কোথাও কোমরসমান পানি জমে যায়।
সেদিন ঘাঘট নদীর পানি উপচে ডেভিট কোম্পানি পাড়া, স্টেশন রোড, ডিবি রোড, কাচারি বাজার, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, হাসপাতাল, ভি-এইড রোড, মুন্সিপাড়া, পূর্বপাড়াসহ শহরের অধিকাংশ এলাকার বাড়িঘর, স্কুল-কলেজ ও সরকারি-বেসরকারি অফিস পানিতে তলিয়ে যায়। এতে গাইবান্ধা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়ে।
৫ দিন আগে
নীলফামারীতে বিয়ে শেষে ফেরার পথে মাইক্রোবাস খাদে, নিহত ২
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় বিয়ে শেষে কনেকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে সাত মাস বয়সী এক শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বর-কনেসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কিশোরগঞ্জ-টেংগনামারী সড়কের শাল্টিবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নের বন্দরপাড়া এলাকার জিকরুল ইসলামের সাত মাস বয়সী ছেলে জীবন ইসলাম এবং একই এলাকার মোজা মিয়ার ছেলে রিয়াদ ইসলাম (১৮)। রিয়াদ চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার কচুকাটা বন্দরপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোরছালিনের সঙ্গে কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেশবা গ্রামের শরিফ মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ে শেষে বরযাত্রীরা কনেকে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে বাড়ি ফিরছিলেন। মাইক্রোবাসে মোট ১৪ জন আরোহী ছিলেন।
রাত ৩টার দিকে শাল্টিবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে মাইক্রোবাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বর-কনেসহ মাইক্রোবাসের সব আরোহী আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ১২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেব বলেন, রাতে ১৪ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার পর দুইজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। আহত ১২ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহত দুইজনের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
৫ দিন আগে
ক্ষমতায় যারাই আসবে, তাদের শাসক নয়, সেবক হতে হবে: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, বাংলাদেশে যারাই ক্ষমতায় আসবে, তাদের জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করতে হবে। ক্ষমতায় আসলে শুধুমাত্র শাসক নয়, জনগণের সেবক হতে হবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জুলাই শহিদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী ও জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এ কথা বলেন।
বেরোবির স্বাধীনতা স্মারক মাঠে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও রংপুর জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, ‘আবু সাঈদ মৃত্যুকে ভয় না করে দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশকে বলেছিলেন, “করো গুলি।” তিনি মৃত্যুকে জয় করেছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সব ছাত্র-জনতা মৃত্যুঞ্জয়ী হয়ে রাজপথে নেমেছিল। মা তার শিশুকে নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন, বাবা অফিস শেষ করে রাজপথে এসেছিলেন। আবু সাঈদ, ওয়াসীম ও মুগ্ধের রক্ত সারা বাংলাদেশকে নাড়া দিয়েছিল।’
আজকের দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক দিন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ ও লালন করে। যারাই ক্ষমতায় আসবে, তাকেই জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করতে হবে। তাই যারাই ক্ষমতায় আসবে, তাদের শাসক নয়, সেবক হতে হবে।’
শহিদ আবু সাঈদের কথা স্মরণ করে আহমেদ আযম খান বলেন, ‘আবু সাঈদ ১৬ জুলাই রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছেন, গণতন্ত্রকে মুক্ত করেছেন। আমরা তার কাছে চিরঋণী।’
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘অনেকে বলে, আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে দ্বিধা করছি। অথচ আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাইকে যথাযথ সম্মান করে সবার আগে আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব।’
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যতগুলো হল হওয়া দরকার, টিএসসি, আবু সাঈদ গেট ও আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভ হওয়া দরকার, সবগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘রংপুরে শিল্পকারখানা তৈরি করা হবে যার ফলে বেকারত্ব হ্রাস পাবে। বর্তমান সরকার শহিদদের চেতনা বুকে ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এগিয়ে যাবে।’
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহিদ আবু সাঈদ। ওই বছরের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এই শিক্ষার্থী পুলিশের গুলিতে নিহত হন। তার মৃত্যুর খবর পুরো বিশ্বকে নাড়া দেয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের ডাক দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
৭ দিন আগে
রায় কার্যকর নিয়ে সংশয়ে শহিদ আবু সাঈদের বাবা-মা ও সহযোদ্ধারা
আজ ইতিহাসের অনন্য অধ্যায় রচনার ১৬ জুলাই। ২০২৪ সালের আজকের এই দিনে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন ইংরেজি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ।
এই দিনে দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দেওয়া সাঈদের সেই ভিডিও ও ছবি দেশ-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়। পতন হয় এ দেশে ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের । এর মধ্যে দিয়ে দেশ ফিরে পায় এক গণতান্ত্রিক ধারা । সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যেন মুক্তির আনন্দে মেতে উঠে ।
তবে দেশ গণতন্ত্র ফিরে পেলেও আজও শহিদ আবু সাঈদ হত্যার প্রধান আসামিগুলোকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি সরকার। আর এজন্য সাঈদের বাবা-মা ও সহযোদ্ধার এখন হতাশ। তাদের প্রশ্ন—বিচার কি আদৌ বাস্তবায়ন হবে?
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
গত ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। এই রায় দ্রুত কার্যকর চান শহিদ আবু সাঈদের বাবা-মা ও সহযোদ্ধারা।
আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, ‘ছেলেটা নাই। খুব দেখতে ইচ্ছে করছে, আজ ওর কথা খুব মনে পড়ছে।’ এভাবেই বলেই হু হু করে কেঁদে ওঠেন তিনি।
চোখের পানি মুছতে মুছতে তিনি বলেন, ‘ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না। ওর হত্যার ঘটনায় আদালত যে রায় দিয়েছে, সেই রায় যদি বেঁচে থাকতে দেখতে পেতাম, তাহলে একটু হলেও মনটা সান্ত্বনা পেত।’ এ সময় তিনি মামলার সকল আসামির দ্রুত ফাঁসি দাবি করে রায় কার্যকর চান।
আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘প্রত্যেকদিন বাবাটার কবরের কাছে যাই, বাবাটার মুখটা খালি ভাসি ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় গেইলে যে কয়দিন আইসে (আসত) না, সেই কয়দিন সকাল-সন্ধ্যা ফোন দিত। এখন আর কেউ ফোন করে বলে না, “মা কেমন আছো।” আদরের ছাওয়া (ছেলে) নাই, বুকে কষ্ট চাপা দিয়া আছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাবাটা সংসারের হাল ধরার কথা ছিল, মোর (আমার) বাবাটা অনেক বড় চিন্তা থাকি (থেকে) দেশের জন্য জান দিছে। বাবাটাকে যারা মারি (মেরে) ফেলাইছে, সবার ফাঁসি চাই।
গুলিবিদ্ধ আবু সাঈদকে বাঁচাতে সর্বপ্রথম এগিয়ে আসা সিয়াম আহসান আয়ান আক্ষেপ করে বলেন, তিনি সংসারের কথা, বাবা-মা, ভাই-বোনের কথা চিন্তা না করে, নিজের জীবনের কথা চিন্তা না করে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করলেন। অথচ তার মামলার রায় হতে অনেক সময় লাগল। সেই রায় দ্রুত কার্যকর করতে কোনো পদক্ষেপ দেখছি না। রায়টা দ্রুত কার্যকর হোক—এই প্রত্যাশা করি সরকারের কাছে।
শহিদ আবু সাঈদের সহযোদ্ধা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন অভিযোগ করেন, জুলাই বিপ্লবের দুই বছরপূর্তিতে এসেও প্রথম শহিদের মামলার রায় কার্যকর হয় না। রায় হয়েছে, রায়টা দ্রুত কার্যকর হোক—এই কামনা করি।
মিছিলের সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন আবু সাঈদ। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে এতে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাধা দেয়। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে।
রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে পুলিশ। এ সময় আবু সাঈদ একাই অবিচল দাঁড়িয়ে তা মোকাবিলার চেষ্টা করেন।
পুলিশের সামনে বুক উঁচিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে দেওয়া আবু সাঈদকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে পুলিশ। একসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন সকালে রংপুরের পীরগঞ্জে বাবনপুর গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়।
৭ দিন আগে
পঞ্চগড়ে বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় মুষলধারে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যে কৃষিকাজ করতে গিয়ে পৃথক ঘটনায় দুই কৃষক নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুরের মধ্যে উপজেলার সদর ও দণ্ডপাল ইউনিয়নে এ দুটি ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাহার মালচণ্ডী পশ্চিম তেলিপাড়া এলাকার খাদিমুল ইসলামের ছেলে মো. মামুন ইসলাম (৩০)। অপরজন দণ্ডপাল ইউনিয়নের শিমুলতলী এলাকার আকাব্বর খান (৬০)।
স্থানীয়রা জানান, আজ (বুধবার) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে নিজ জমিতে পাট কাটার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন মামুন ইসলাম। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আতিকুর রহমান তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একই দিন দুপুরে দণ্ডপাল ইউনিয়নের শিমুলতলী এলাকায় কৃষিজমিতে বৃষ্টির মধ্যে কাজ করার সময় আকাব্বর খান হঠাৎ বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
বজ্রপাতের ঘটনায় পৃথক স্থানে দুই কৃষকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম এমু।
৮ দিন আগে
লালমনিরহাটে তিস্তার পানি নামলেও কাটেনি দুর্ভোগ, নদীভাঙনের আশঙ্কা
উজানের ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি। বরং পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে নতুন করে নদীভাঙনের আশঙ্কা। তিস্তার তীব্র স্রোতে নদীতীরের বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক শূন্য ৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচে। গতকাল রাত ১০টায় এই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
রাতভর ধীরে ধীরে পানি কমলেও বন্যার ক্ষত তেমন কোথাও দেখা যায়নি।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদীর পানি নেমেছে। তবে পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক নয়। উজানে আবার ভারী বৃষ্টি হলে নতুন করে পানি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বাড়ায় পাটগ্রাম উপজেলা এবং কালীগঞ্জে উপজেলার ভোটমারী ও কাকিনা ইউনিয়নের নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী চরে বাদামখেত, ধানের বীজতলা, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
তিস্তায় পানি বাড়ায় নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে অন্তত হাজারখানেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। অনেক বাড়িঘরে এখনও পানি রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট, রান্নার সমস্যা এবং গবাদিপশু নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন দুর্গতরা।
এদিকে, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তার তীব্র স্রোতে বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানি দ্রুত নেমে গেলে ভাঙনের তীব্রতায় বসতভিটা, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় তিস্তার পানি কমছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে উজানে আবার ভারী বৃষ্টি হলে পানি বাড়তে পারে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অনেক পরিবার এখনও পানিবন্দি। শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদিপশু নিয়ে মানুষ চরম দুর্ভোগে আছে। যদি আবারও পরিস্থিতি খারাপ হয়, তখন তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আদীতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, তিস্তা তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও নতুন করে পানি বৃদ্ধি বা নদীভাঙনের মতো ঘটনা ঘটলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৯ দিন আগে
তিস্তার তীররক্ষা বাঁধের শতাধিক স্থানে ধস, আতঙ্কে গাইবান্ধার লক্ষাধিক মানুষ
ভারী বর্ষণে গাইবান্ধার কামারজানি থেকে সুন্দরগঞ্জ পর্যন্ত তিস্তানদীর তীররক্ষা বাঁধের প্রায় ১৮ কিলোমিটার এলাকায় শতাধিক স্থানে বড় ধরনের ধস শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীতে ভাঙনও বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৩ সালে ৯৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁধে মাটির পরিবর্তে বালু ব্যবহার করায় বর্তমানে বাঁধের বিভিন্ন অংশে নতুন করে ধস শুরু হয়েছে। এতে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় তিস্তা তীরবর্তী লক্ষাধিক মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
কামারজানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকারের সময়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল ইসলাম বাঁধ রক্ষায় কংক্রিট ব্লক বসানোর কাজের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেন। নিয়ম অনুযায়ী দূর থেকে মাটি এনে বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু দলীয় প্রভাব খাটিয়ে পাউবো কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম বাঁধের পাশ থেকেই ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণের সুযোগ করে দেন।
তিনি বলেন, সে কারণে ঠিকাদার যেনতেনভাবে বাঁধ নির্মাণ করে জুলাই আন্দোলনের আগে হাজার কোটি টাকার বিল তুলে চলে যান। নির্মাণের বছরই তিস্তা নদীতীর রক্ষা প্রকল্পের কংক্রিট ব্লক নদীতে ধসে যেতে শুরু করে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর চাপে পাউবো তড়িঘড়ি করে বাঁধের ভাঙন প্রতিরোধে প্রায় ৪০ লাখ টাকার আলাদা বিল করেন। পরে সেই বিল অন্য ঠিকাদারের নামে তুলে তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজুল ইসলাম রংপুরে বদলি হয়ে চলে যান।
এ বছর বর্ষার শুরুতে ভারী বর্ষণে তিস্তা ও যমুনার তীররক্ষা বাঁধের কামারজানি থেকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর মওলানা ভাসানী ব্রিজ পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার বাঁধের শতাধিক স্থানে ছোটবড় গর্ত ও খাদের সৃষ্টি হয়েছে। এসব খাদ ও গর্ত দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। তাতে বাঁধ আরও ভাঙনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বাঁধের এই ১৮ কিলোমিটার এলাকায় পশ্চিম পাশে খুব কাছে অন্তত লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করে। ইতোমধ্যে বাঁধের খুব কাছে গর্ত করে বালু উত্তোলন করে সেই বালু বাঁধে ব্যবহার করায় তিস্তা নদী তীর রক্ষার বাঁধে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া, শ্রীপুর, হরিপুর, চণ্ডীপুর, বেলকা, কছিমবাহার, বাবুর বাজার, লাল চামার, পুটিমারী, দত্তের খামার, গাছুর বাজার, জয়বাংলা ও বটতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় তিস্তা নদীর ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ভাঙন যত প্রবল হচ্ছে, বাঁধের পাশের বাসিন্দারা আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। নদী ভাঙনের পাশাপাশি নদী তীররক্ষা প্রকল্পের বাঁধ ধসের কারলে আতঙ্কিত স্থানীয়রা দিনরাত বাঁধ এলাকায় পাহারা বসিয়েছেন।
পোড়ার চরের বাসিন্দা রেজাউল মেম্বার জানান, অনেক পরিবার নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাঁধের ওপর এসে বসে থাকছেন।
কাপাসিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনজু মিয়ার অভিযোগ, তিস্তায় নদীরক্ষা বাঁধ যখন নির্মাণ করা হয় তখন আমরা বাধা দিয়েছি, কারণ কাজ হয়েছে নিম্নমানের। যেখানে মাটি দেওয়ার কথা, সেখানে বালু দেওয়া হয়েছে। মোটকথা, বালু দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করে ওপর দিয়ে শুধু মাটি ছিটিয়ে দিয়ে হাজার কোটি টাকা বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। এলাকার লোকজন ও জনপ্রতিনিধিরা কোনো কথা বলতে গেলেই পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল ও ঠিকাদারের মাস্তান বাহিনী সাধারণ মানুষকে কোনো পাত্তা দেয়নি।
আক্ষেপ করে তিনি বলেন, তখন যদি বালু না দিয়ে মাটি দিয়ে বাঁধ তৈরি করা হতো, তাহলে আর ধসের মুখে পড়তে হতো না। নদীর তীররক্ষা বাঁধের কংক্রিট ব্লকের বিভিন্ন অংশে ভাঙন শুরু হতো না। কিন্তু কাজটি করা হয়েছে শুধু লুটপাটের জন্য; পেট ভরেছে ঠিাকাদার আর কর্মকর্তাদের। এখন ভুগতে হচ্ছে আশে পাশের লাখ লাখ মানুষের। সারা রাত মানুষ বাঁধে বসে থাকে, কখন বালুর বাঁধ নদীর প্রবল স্রোতে ধসে যায়, সেই আতঙ্কে।
এ ব্যাপারে গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের ৬০টি পয়েন্টে ভাঙন শুরু হয়েছে। এছাড়া ১৮ কিলোমিটার নদীতীর রক্ষা বাঁধে রেইন কাট হয়েছে। তবে ভাঙন প্রতিরোধ ও ধসে যাওয়া অংশে মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে।’
৯ দিন আগে
লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বিপৎসীমার উপরে, ফের বন্যার আশঙ্কা
ভারী বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তাবিধৌত জেলা লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৮ মিটার, যা বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজানে ভারতে কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। হালকা বৃষ্টি আর উজানের এ ঢলের কারণে বাংলাদেশ অংশের ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ বিপৎসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
হালকা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে সোমবার সন্ধ্যায় আবারও তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বেড়ে গিয়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করে। সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে তিস্তা নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল রাতে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
ইতোমধ্যে তিস্তা চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। জেলার ৫টি উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ নদীতীরবর্তী এলাকার উঁচু সড়কগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করা এসব বাঁধ চলতি বন্যায় বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এসব নিয়ে কাজ না করে ফেলে রাখে। এর ফলে পানির সময় এসব বাঁধের ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা দুষ্কর হয়ে পড়ে।
হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তার তীর-সংলগ্ন গোবর্দ্ধন গ্রামের বাসিন্দা সহিদার রহমান জানান, বিকেল থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। ক্রমেই বেড়ে চলেছে তিস্তা নদীর পানি। ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের বেশকিছু বাড়িতে পানি উঠেছে।
তিনি বলেন, পানির চাপ দেখে মনে হচ্ছে, বড় বন্যা হতে পারে। বড় বন্যা হলে দীর্ঘদিন সংস্কার না করা বাঁধগুলো ভেঙে যেতে পারে। এমন হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। বন্যার সময় আমাদের নদীপাড়ের মানুষদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়।
আদিতমারী উপজেলার নদীপাড়ের গরিবুল্লাহরটারী গ্রামের সাজু মিয়া বলেন, কয়েক দিন ধরে তিস্তার পানি বাড়া-কমা করছিল। আজকে বাড়ার পরিমাণটা বেশি। চরাঞ্চলের অনেক বাড়িতে পানি উঠে গেছে। তারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, পানিবন্দি এলাকায় শিশু, বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম কষ্টে থাকতে হয়। গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি নিয়েও আমাদের কষ্টের শেষ নেই। এ সবের মাঝেও থাকে সাপ-কোপের প্রাদুর্ভাব। বন্যা যতদিন, আমাদের কষ্ট তার চেয়েও বেশি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, উজানের পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকায় ডালিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা বেড়েছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চলে হালকা বন্যা দেখা দিতে পারে।
তবে বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা।
লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, উজানের ঢলে আজ সোমবার দুপুর থেকে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বেড়ে গেছে। ডালিয়া পয়েন্টে সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে। উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘ হতে পারে। উজানের ঢলের ওপরই নির্ভর করছে পানির চাপ।
১০ দিন আগে
নীলফামারীতে ট্রাকচাপায় এক পরিবারের ৪ জন নিহত
নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় যাত্রীবাহী ব্যাটারিচালিত ‘মিথিলা’ ভ্যানের চালকসহ একই পরিবারের ৪ জন নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জলঢাকা-ডোমার আঞ্চলিক সড়কের একবট নামক স্থানে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ হাবিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
নিহতরা হলেন— ডোমার উপজেলার পাঙ্গামটকপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়াডের নদীয়াপাড়ার ওলি বর্ম্মনের ছেলে ভ্যানচালক পরিমল বর্ম্মন (৪০), নিহত পরিমলের ছোট ভাই প্রদীপ বর্ম্মনের স্ত্রী প্রতিমা বর্ম্মন (৩০), তার দুই সন্তান বিপাশা বর্ম্মন (৮) ও যাদব বর্ম্মন (৪)।
এ সময় নিহত প্রতিমার জমজ অপর এক সন্তান নম্রত বর্ম্মন (৪) ও অপরযাত্রী সহিদুল ইসলামকে (৪০) আহত অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেলে কলেজ (রমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিবারটি ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের মোড়ালের ডাঙ্গা এলাকায় বিয়ের অনুষ্ঠানের দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। এ সময় জলঢাকা থেকে ডোমারের দিকে একটি ট্রাক দ্রুতগতিতে এসে ওই সড়কের একবট নামক স্থানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী মিথিলাকে ধাক্কা দেয়। এরপর ট্রাকটি সড়কের ধারে পড়ে যায়। এতে ভ্যানচালক ও ৩ যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় নিহত প্রতিমার সন্তান নম্রত বর্ম্মন ও অপর যাত্রী সহিদুল ইসলাম আহত হয়।
ওসি হাবিবুল্লাহ হাবিব জানান, খবর পেয়ে ডোমার ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও এলাকাবাসী নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে ডোমার হাসপাতালে নেয়। সেখান থেকে আহত দুইজনকে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে রমেক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
১১ দিন আগে