রংপুর
পঞ্চগড়ে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত
পঞ্চগড়ে ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে ২ জন নারী নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে জেলার বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন সদর উপজেলার আমলাহা এলাকার মৃত ধীরেন রায়ের স্ত্রী খৈটালি বালা (৫২) এবং ঠাকুরগাঁও জেলার ভূল্লি থানার বোর্ড অফিস কাঠালতলি এলাকার আব্দুল সাত্তারের স্ত্রী চম্পা খাতুন (৪৫)।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনাস্থলেই নিহত হন খৈটালি বালা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হলে সেখানে মারা যান চম্পা খাতুন । এই ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪ জন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৩ জনকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে এবং ১ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহতরা হলেন নাছরিন আক্তার, হিমেল, নাসিমা ও মকলেছার।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা কয়েকজন যাত্রী নিয়ে দেবীগঞ্জ থেকে বোদা এলাকার দিকে যাত্রা করে। পথের মাঝে বিপরীত দিক থেকে আসা পাথরভর্তি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে মাথা ও শরীরে আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই খৈটালিবালা নিহত হন। অটোরিকশার বাকি যাত্রীরা আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পথচারীরা তাৎক্ষণিক তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে চম্পা খাতুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হবে। এ ছাড়াও অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১ দিন আগে
ভোট এলেই দেওয়া হয় সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি
ভোট এলেই কদর বাড়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের রামনাথের ভিটা এলাকার দশ গ্রামের মানুষের। আর ভোট শেষ হলেই জনপ্রতিনিধিদের কাছে আর পাত্তা পাওয়া যায় না—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
বছরের পর বছর জনপ্রতিনিধিদের মুখে একই প্রতিশ্রুতি শুনতে শুনতে গ্রামগুলোর ভোটাররা এখন চরমভাবে বিরক্ত। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘আর প্রতিশ্রুতি শুনতে চাই না। ভোট দেব তাকেই, যিনি লিখিতভাবে অঙ্গীকার করবেন, সাঁকোর জায়গায় স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে দেবেন।’
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের আলাই নদীতে একটি সেতু না থাকায় দশ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না। নদী পার হতে হয় নড়বড়ে কাঠ ও বাঁশের সাঁকো দিয়ে। অসুস্থ রোগীকে ঘাড়ে করে পার করতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকোর কারণে নারী শিক্ষার্থীসহ অন্তত সাড়ে তিনশ দরিদ্র শিশু-কিশোর নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না। বর্ষা মৌসুমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় অনেকেই।
আলাই নদীবেষ্টিত এই এলাকায় রয়েছে জামাইপাড়া, মফুরজান, গোয়ালবাড়ি, রামনাথের ভিটা, পোড়াগ্রাম, সর্দ্দার পাড়াসহ অন্তত দশটি গ্রাম। এসব গ্রামের বাসিন্দাদের নদী পার হওয়ার একমাত্র ভরসা রামনাথের ভিটা স্টেশন বাদিয়াখালী এলাকার পাকা সড়কের সঙ্গে সংযোগকারী একটি সাঁকো। এখানকার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। কেউ কৃষিশ্রমিক, কেউ ঢাকায় গিয়ে রিকশা চালান, কেউ পোশাক কারখানায় কাজ করেন। আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় নদীবেষ্টিত এসব গ্রামেই তাদের বসবাস। পান না উল্লেখযোগ্য কোনো নাগরিক সুবিধা।
কিছু পরিবারের সামান্য জমিজমা থাকলেও উৎপাদিত ফসল বিক্রির মতো কাছাকাছি কোনো হাটবাজার নেই। এলাকায় তরিতরকারি ও সবজির আবাদ ভালো হলেও যানবাহন চলাচলের সুযোগ না থাকায় নড়বড়ে সাঁকো পার হয়ে, পায়ে হেঁটে বা ঘাড়ে করে সবজি বহন করতে হয়।
স্টেশন বাদিয়াখালীর বাসিন্দা ও মানবাধিকারকর্মী কাজী আব্দুল খালেক বলেন, ‘এসব গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই কাঠ ও বাঁশের তৈরি সাঁকো। দশ গ্রামের মানুষ নিজেরাই চাঁদা তুলে প্রতি বছর সাঁকো তৈরি করেন। ভেঙে গেলে গ্রামে গ্রামে চাঁদা তুলে সেটি মেরামত করেন। নিজেদের টাকায় বাঁশ ও কাঠ কিনে সাঁকো বানানো ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাজার হাজার নারী-পুরুষের দাবি থাকা সত্ত্বেও এখানে দীর্ঘদিনেও একটি সেতু নির্মাণ হয়নি। ভোট এলেই প্রার্থীরা এসে বলেন—ভোট দিলে সেতু করে দেব। সেই প্রতিশ্রুতি শুনতে শুনতে মানুষ এখন ক্লান্ত।’
তিনি জানান, এই গ্রামগুলোতে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা কম নয়, অথচ কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিক কিংবা হাটবাজার নেই। তেল-লবণ কিনতে হলেও যেতে হয় স্টেশন বাদিয়াখালী হাটে। মাথাব্যথা, পেটব্যথাসহ জরুরি ওষুধ কিনতেও সাঁকো পার হয়ে ওই হাটে যেতে হয়। দশ গ্রামের অন্তত সাড়ে তিনশ শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হয়ে এপারের সরকারি স্কুলগুলোতে আসতে হয়।
এলাকাবাসীর দাবী, আলাই নদীতে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে গ্রামগুলোর মানুষের জীবনধারায় বড় পরিবর্তন আসবে। শত শত শিশু নিরাপদে স্কুলে যাতায়াত করতে পারবে। গ্রামের উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও গরুর দুধ হাটবাজারে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করা সহজ হবে। পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে এসব অবহেলিত গ্রামে রাস্তাঘাট, হাটবাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাই দ্রুত নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করে হাজারো গ্রামবাসীর দুর্দশা লাঘবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রকৌশলী বাবলু মিয়া বলেন, সেতু নির্মাণের বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা পরিষদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। চেয়ারম্যানের সুপারিশে সেখানে বাঁশ ও কাঠের সাঁকো নির্মাণের বরাদ্দ এসেছে। তবে স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য প্রকল্প তৈরি করা হলেও এখনও প্রয়োজনীয় বাজেট পাওয়া যায়নি।
২ দিন আগে
আত্রাই নদী থেকে উদ্ধার ২ মরদেহের পরিচয় শনাক্ত, হত্যার কারণ এখনও অজানা
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের আত্রাই নদী থেকে গতকাল (সোমবার) উদ্ধার হওয়া দুই যুবকের মরদেহের পরিচয় পাওয়া গেছে। তবে তাদের হত্যার রহস্য এখনও উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।
নিহত দুই যুবকের একজন হলেন মোহাম্মদ রাসেল মিয়া (২৫)। তিনি উপশহরের ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকার সাইদুল ইসলামের ছেলে। অপরজন নিমনগর দক্ষিণ বালুবাড়ী লাইন পাড়ের বাসিন্দা মৃত নূর মোহাম্মদের ছেলে আল আমিন (২৮)। তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
সোমবার (১২ জানিয়ারি) চিরিরবন্দরের ভিয়াইল ইউনিয়নের বানিয়াখাড়ি দোল্লা গ্রামের লক্ষ্মীতলা সেতুর কাছে আত্রাই নদী থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
চিরিরবন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আহসান হাবিব জানান, মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির একটি বিশেষ টিম কাজ করেছিল। তাদের আঙুলের ছাপের মাধ্যমেও পরিচয় বের করতে পারেনি সিআইডি। পরে বিকেলে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ (দিমেক) হাসপাতালের মর্গে পরণের কাপড় দেখে তাদের শনাক্ত করেন স্বজনেরা।
পরিবারের বরাতে পুলিশ পরিদর্শক জানান, রাসেল ও আল আমিন প্রায়ই একসঙ্গে বের হয়ে ৫ থেকে ৭ দিন পর বাড়ি ফিরতেন। গত ৬ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা একসঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল, এরপর আর ফেরেনি। এমনকি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল তাদের।
তিনি আরও জানান, গতকাল (সোমবার) পরিবারের স্বজনরা বিচলিত হয়ে থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে এসেছিলেন। পাশাপাশি কোনো খোঁজ পেলে তাদের জানানোর জন্য ফোন নম্বর দিয়ে রেখেছিলেন। পরে দিমেক হাসপাতালের মর্গে মরদেহ আসার পর তাদের খবর দেওয়া হলে মর্গে গিয়ে পরণের পোশাক দেখে দুই যুবককে শনাক্ত করেন তাদের স্বজনেরা। টানা কয়েকদিন মরদেহ পানিতে ডুবে থাকায় চেহারা বিকৃত হয়ে গিয়েছিল দুই যুবকের।
হত্যার কারণ জানতে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চালাচ্ছেন বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
৯ দিন আগে
দিনাজপুরে আত্রাই নদী থেকে ২ যুবকের মরদেহ উদ্ধার
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে আত্রাই নদী থেকে দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের বয়স ২৪-২৫ বছর বলে ধারণা করছে পুলিশ।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ভিয়াইল ইউনিয়নের বানিয়াখাড়ি দোল্লা গ্রামের লক্ষ্মীতলা সেতুর কাছ থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। ৫ থেকে ৭ দিন আগে তারা হত্যার শিকার হয়েছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
চিরিরবন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম আহসান হাবীব জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে লক্ষ্মীতলা সেতুর কাছে আত্রাই নদী থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানতে পারিনি। মরদেহ শনাক্তে আঙ্গুলের ছাপ স্ক্যান করার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি কাজ করছে।
হত্যাকারীরা নদীর উজানের কোনো স্থানে মরদেহগুলো ভাসিয়ে দিয়েছিল বলে নিজের ধারণার কথা জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১০ দিন আগে
উত্তরে হাড়কাঁপানো শীত, ২০ দিনে ২৮ জনের মৃত্যু
প্রতি বছরের মতো এবারও রংপুর বিভাগে শীতের তাণ্ডব শুরু হয়েছে। কনকনে শীতে পুরো বিভাগের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতজনিত রোগে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ। সেইসঙ্গে বাড়ছে রোগাক্রান্ত রোগী মৃত্যুর সংখ্যা।
পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে উত্তরের জেলাগুলোতে ঘরের বাইরে টেকা দায় হয়ে পড়েছে বাসিন্দাদের। দিন ও রাতের তাপমাত্রার তারতম্য কমে এসেছে; হিমেল হাওয়া কাঁপন ধরাচ্ছে শরীরে। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছেন নিম্নআয়ের মানুষ। শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন উত্তরের ছিন্নমূলসহ তিস্তা, ধরলা ও যমুনার চর ও বাঁধে আশ্রিতরা।
রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) সুত্র জানায়, শীতের তীব্রতা বাড়ায় রমেক হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে এই বিভাগের ৮ জেলা থেকে আসা শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
বিশেষ করে হাসপাতালগুলোর মেডিসিন ও শিশু ওয়ার্ডে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী বেড়েছে। গত ২০ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ২০ দিনে রমেক হাসপাতালে ১ হাজার ৯১৩ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। শীতজনিত রোগে এই ২০ দিনে মারা গেছেন ২৮ জন। এর মধ্যে মেডিসিন ও শিশু বিভাগে মারা গেছেন ১৭ জন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আশিকুর রহমান বলেন, তীব্র শীত এই অঞ্চলে। তাই শীতজনিত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাইঁ নেই। এ কারণেই প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৬ টায় রংপুর বিভাগে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া একই সময়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ঠাকুরগাঁওয়ে ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি, নীলফামারীর ডিমলায় ১০ ডিগ্রি , রংপুরে ১০ দশমিক ২, কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও দিনাজপুরে ১১ দশমিক ৫, গাইবান্ধায় ১১ দশমিক ৮ এবং লালমনিরহাটে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৫ দিন রংপুর বিভাগ ও নদীর অববাহিকা এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
১১ দিন আগে
বোনের সঙ্গে প্রেমের চেষ্টা করায় বন্ধুকে খুন করল কিশোর
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সাইফুল ইসলাম শাওন (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রকে গলা কেটে হত্যা করেছে তার বন্ধু ও মেয়েটির ভাই। এ ঘটনায় জড়িত দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. হাফিজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— উপজেলার চানগাঁও চকপাড়া এলাকার আবুল কায়েস (১৪) এবং জাহাঙ্গীরপুর এলাকার মো. মাহফুজ রহমান ইমরান (১৬)।
নিহত শাওন কদমশ্রী ভূঁইয়াহাটি গ্রামের দুলাল ভূঁইয়ার ছেলে এবং জাহাঙ্গীরপুর তহুরা আমিন সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, শাওন ও মাহফুজ সহপাঠী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। মাহফুজের ছোট বোন একই বিদ্যালয়ে পড়ত। শাওন তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করলে মাহফুজ ক্ষেপে যায়। এরপর গত ২৮ ডিসেম্বর বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় শাওন। পরদিন সকালে কদমশ্রী হাওরের একটি কৃষিজমি থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করলে পুলিশ তদন্তে নেমে মাহফুজকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে মাহফুজ জানায়, সে তার সহযোগীদের নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শাওনকে হত্যা করেছে।
মাহফুজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ সকালে সহযোগী কায়েসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু, রক্তমাখা গামছা ও গ্লাভস উদ্ধার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এই ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
১৩ দিন আগে
লালমনিরহাটে ইউপি সদস্যসহ আ.লীগের ৬১ জনের বিএনপিতে যোগদান
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার আটটি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যসহ ৬১ জন বিএনপিতে যোগদান করেছেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও আদিতমারী–কালিগঞ্জ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুলের বাসভবনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা বিএনপিতে যোগ দেন।
এ সময় নবাগত সদস্যরা ফুলের তোড়া দিয়ে রোকন উদ্দিন বাবুলকে শুভেচ্ছা জানান এবং এক গুচ্ছ ধানের শীষ তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন।
বিএনপির প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুল বলেন, বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার আদিতমারী ও কালিগঞ্জ উপজেলায় উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন করতে পারেনি। উন্নয়নের নামে হয়েছে লুটপাট, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি, যার খেসারত দিতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে।
তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের রায়ে নির্বাচিত হতে পারলে এ অঞ্চলের রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক উন্নয়ন করা হবে। আজ আপনাদের পাশে পেয়ে আমি গর্বিত ও অনুপ্রাণিত বোধ করছি।
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
১৪ দিন আগে
লালমনিরহাটে বৃষ্টির মতো পড়ছে শিশির, হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন
লালমনিরহাটে জেঁকে বসেছে শীত, বৃষ্টির মতো পড়ছে শিশির। শীত ও ঘন কুয়াশায় যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ভোর থেকেই ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার (৪ জানুয়ারি) জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে শীতের তীব্রতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শীতের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক ও কৃষিশ্রমিকরা। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই ভোরে কাজে বের হতে পারছেন না।
স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ঠান্ডাজনিত সর্দিকাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি।
এদিকে, ঘন কুয়াশার কারণে সকালবেলায় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে। এতে স্কুলগামী শিশু ও কর্মজীবী মানুষদের পড়তে হচ্ছে বাড়তি দুর্ভোগে।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, লালমনিরহাটে আজ (রবিবার) সকালে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। প্রতিদিনই শীতের সঙ্গে কুয়াশা বাড়ছে। এখন ঠান্ডা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলে শীতের এই প্রবণতা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রা আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে।
১৮ দিন আগে
দিনাজপুরে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ১ জন নিহত, আহত ৩
দিনাজপুরের পাবর্তীপুরে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে একজন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে বদরগঞ্জ সড়কের ক্যানেল ব্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দুর্ঘটনায় নিহত আসিফ ইকবাল (১৯) জেলার পলাশবাড়ীর উত্তর ধোবাকল গ্রামের মৃত আলমের ছেলে।
পাবর্তীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ ফারুক জানান, ক্যানেল ব্রিজ এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা দুইটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে এক মোটরসাইকেলের চালক আসিফ ইকবাল দুর্ঘটনাস্থলে নিহত হন। মোটরসাইকেলে থাকা অপর যাত্রীরা আহন হন। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
২১ দিন আগে
সাত দিন সূর্যের দেখা নেই, লালমনিরহাটে জেঁকে বসেছে শীত
দেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে ঘন কুয়াশা ও তীব্র ঠান্ডায় শীত জেঁকে বসেছে। গত ৭ দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। এতে খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষের জনজীবন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। শীতবস্ত্রের অভাবে সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছে তিস্তা পাড়ের হতদরিদ্র, ছিন্নমূল ও স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। শীতের দাপটে প্রত্যন্ত গ্রাম ও চরাঞ্চলের মানুষ আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বেলা ১১টা পেরিয়ে গেলেও আজ সূর্যের দেখা মেলেনি।
রাজারহাট আবহাওয়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, সামনে শীতের প্রকোপ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ঠান্ডা ও কুয়াশার মাত্রা আরও বাড়তে পারে।
২৩ দিন আগে