বিশ্ব
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ অব্যাহত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পুলিশের দমন অভিযান উপেক্ষা করে আজ বৃহস্পতিবারও হাজারো তরুণ বিক্ষোভকারী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। মেডিকেল কলেজে ভর্তি ও সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এ আন্দোলন এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নয়াদিল্লির নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল জন্তর মন্তরে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল (বুধবার) রাতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে। চলতি সপ্তাহে পুলিশ দ্বিতীয়বারের মতো বিক্ষোভকারীদের দমনে এই অভিযান চালায়।
এর আগে, সোমবারও হাজারো বিক্ষোভকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সংসদের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে সেই বিক্ষোভ ছত্ভঙ্গ করে।
‘ককরোচ’ নামে পরিচিত এই আন্দোলনটি গত এক মাসেরও আগে থেকে শুরু হয়। মেডিকেল কলেজে ভর্তি ও সরকারি চাকরির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ আন্দোলনের সূচনা হলেও পরে এটি শুধু ওই ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ধীরে ধীরে এতে পেশাজীবী ও পরিবারের সদস্যরাও যোগ দেন। ফলে আন্দোলনটি সামগ্রিক জনঅসন্তোষে রূপ নেয়।
এদিকে, গতকালের পুলিশি অভিযানের পর আজ সকালে পুলিশের কড়াকড়ি অমান্য করে বিক্ষোভকারীরা আবারও বিক্ষাভস্থলে জড়ো হতে থাকে। এ সময় তারা সড়কে থাকা ব্যারিকেড উপেক্ষা করে বিক্ষোভস্থলে ফিরে আসেন।
অপরদিকে, আন্দোলনে মানুষের অংশগ্রহণ সীমিত করতে কর্তৃপক্ষ মধ্য দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশনে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছে।
প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি ভারতের লাখো তরুণের ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার ও প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।
আজ ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, ‘আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই!’
১৪ ঘণ্টা আগে
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল আদায়ের দাবি বিপজ্জনক: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এশীয় নেতাদের সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরানের টোল আদায়ের দাবি বাস্তবায়িত হলে তা শুধু বিশ্ব অর্থনীতির জন্যই নয়, আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ নৌ চলাচলের নীতির জন্য বিপজ্জনক নজির সৃষ্টি করবে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২২ জুলাই) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বার্ষিক বৈঠকের শুরুতে রুবিও এ মন্তব্য করেন।
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় এর প্রভাব নিয়ে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ এখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের দিকে থাকলেও রুবিও আসিয়ান নেতাদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমরা সব সময় আসিয়ানের সঙ্গে আছি।’
তিনি বলেন, ‘যদি আমরা মধ্যপ্রাচ্যে জলপথে টোল নেওয়ার নজির তৈরি করি, যেখানে কোনো রাষ্ট্র একটি আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ন্ত্রণ করবে, সেখানে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল নেবে এবং কেউ সেই টোল না দিলে তাদের জাহাজ হামলার শিকার হবে, তাহলে এমন সিদ্ধান্ত অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি উদাহরণ তৈরি করবে। পরে বিশ্বের অন্য অঞ্চলগুলোতেও একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।’
এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই বৈঠকে অংশ নিতে ম্যানিলায় অবস্থান করছেন। বুধবার ব্রিটেনের সদ্য নিয়োগ পাওয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড. মিলিব্যান্ডও ম্যানিলায় পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে তার দপ্তর।
আসিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি রুবিও যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও জাপানকে নিয়ে গঠিত চারদেশীয় জোট ‘কোয়াড’-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে প্রযুক্তি, মানবিক সহায়তা, জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়া, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আন্তঃসীমান্ত নিরাপত্তাসহ দেশগুলোর বিভিন্ন অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে কোয়াডভুক্ত দেশগুলো একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। এতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগে তারা নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
যৌথ বিবৃতিতে কোয়াড নেতারা জানান, তারা এ বিষয়ে একমত যে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামুদ্রিক এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির ভিত্তি।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রুবিও বলেন, ‘কোয়াড আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ বছরের শেষের দিকে আমরা আবারও বৈঠকে বসব।’
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে ফিলিপাইনের মতো ছোট দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে ফিলিপাইন এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরোনো মিত্র।
দক্ষিণ চীন সাগরের এ আঞ্চলিক বিরোধে তাইওয়ানের পাশাপাশি আসিয়ানভুক্ত ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেই জড়িত। মঙ্গলবার ম্যানিলায় শুরু হওয়া তিন দিনের বৈঠকের আলোচ্যসূচির অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল এসব আঞ্চলিক বিরোধ।
পরে রুবিও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, ওই বৈঠকে আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ ও ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কহার কমানোর বাণিজ্য চুক্তির মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পিগট বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ও মন্ত্রী জয়শঙ্কর অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তিটি দ্রুত চূড়ান্ত করার গুরুত্বের বিষয়ে একমত হয়েছেন। চুক্তিটি এখন প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে।’
ম্যানিলা উপসাগর-সংলগ্ন কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের ফাঁকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গেও রুবিওর পৃথক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
১ দিন আগে
ছাত্র বিক্ষোভ ঘিরে মোদির বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের অবস্থান, রাতভর থাকার ঘোষণা রাহুল গান্ধীর
ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশের বলপ্রয়োগের প্রতিবাদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। দলটির নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি রাতভর আন্দোলনে থাকবেন।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নেতৃত্বে দলটির নেতাকর্মীরা খাড়গের বাসভবন থেকে মিছিল করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে যান।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মানে দেশের প্রতিটি পরিবারের ওপর হামলা। প্রধানমন্ত্রী মোদি মনে করেন, তিনি কোনো জবাবদিহি ছাড়াই পার পেয়ে যাবেন। এবার তা হবে না। আমি সব দেশপ্রেমিক ভারতীয়কে আহ্বান জানাই, যারা মনে করেন যে শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচার পাওয়ার যোগ্য, তারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে আমাদের অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিন।’
আন্দোলন চলাকালে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেন। তবে ওই আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি বলে কংগ্রেস নেতারা জানান।
কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সৈয়দ নাসির হুসেইন বলেন, ‘তারা আমাদের আন্দোলন প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু আমাদের দাবিগুলো পূরণ না হওয়ায় আমরা রাজি হইনি। আমরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সংসদে আলোচনা চাই। আরও সংসদ সদস্য, কংগ্রেস কর্মী ও সাধারণ মানুষ আমাদের আন্দোলনে যোগ দেবেন।’
এই বিক্ষোভের পটভূমিতে রয়েছে সোমবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আয়োজিত সংসদ অভিমুখে মিছিল। প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে দেশটির পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে অভিযোগ করে সংগঠনটি। তাদের দাবি, এতে অনেক বিক্ষোভকারী আহত হন।
রাহুল গান্ধী বলেন, সোমবারের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ওপর ‘নৃশংসতার’ জন্য সরকারকে জবাবদিহির মুখোমুখি করতেই এ কর্মসূচি। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগও দাবি করেন।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর গতকালের নৃশংসতার জবাব চাইতে আমরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে এসেছি। সরকার কোনো জবাবদিহি করতে চায় না, সংসদেও এ নিয়ে আলোচনা করতে চায় না। দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার দায়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।’
২ দিন আগে
ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার চেয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে লেবাননের প্রেসিডেন্টের বৈঠক
চার দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরের শেষ দিনে আজ মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের বৈঠক করার কথা। ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে কয়েক মাসের যুদ্ধের পর দেশটিতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ ও এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিশ্চিত করা।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বর্তমানে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা চলছে। লেবাবননের সরকারের প্রত্যাশা, এসব আলোচনার মাধ্যমে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় দীর্ঘদিন হিজবুল্লাহর প্রভাব ছিল, সেখানে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় লেবাননের সেনাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবে।
গত ২৬ জুন লেবানন ও ইসরায়েল একটি ‘ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট’ বা কাঠামোগত চুক্তি ঘোষণা করে। এতে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ও হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি এই দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যতে একটি শান্তিচুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার রূপরেখাও এই চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর প্রায় ৮০ বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং তারা কার্যত যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, পাইলট জোনের (পরীক্ষামূলক এলাকা) আওতাভুক্ত তিনটি গ্রামে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে এ কার্যক্রমের ব্যাপারে বিস্তারিত জানায়নি তারা। ওই তিন গ্রামের মধ্যে ফ্রাউন ও স্রিফায় ইসরায়েলি সেনা নেই এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে জাওতার আল-ঘারবিয়াহ গ্রামের একটি অংশ এখনও ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে, লেবাননের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাওতার আল-ঘারবিয়াহ থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি চলছে। ইসরায়েলি সেনারা সরে গেলে ওই এলাকায় লেবাননের বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী যাতে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে জন্য পাইলট এলাকার একটি স্থানে আমাদের বাহিনীর অবস্থান পুনর্বিন্যাস করা হবে। তবে কোন এলাকায় এ কার্যক্রম চলছে, তা উল্লেখ করেনি তারা।
লেবানন-সংক্রান্ত চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন
স্থানীয় সময় রবিাবর প্রেসিডেন্ট আউন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে রুবিও জানান, লেবানন-সংক্রান্ত ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে এবং এর পূর্ণ বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করবে।
তিনি এ বৈঠককে খুবই ইতিবাচক বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘হিজবুল্লাহ ইস্যুর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত লেবাননে কখনোই পুরোপুরি শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না।’
রুবিও বলেন, ‘হিজবুল্লাহর বিকল্প কীভাবে তৈরি করবেন? তাদের পরাজিত করতে সক্ষম, এমন একটি সরকার গড়ে তুলতে হবে। সেই সরকারই যেন দেশটির একমাত্র সশস্ত্র শক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যথেষ্ট শক্তিশালী হয়।’
তবে লেবাননের অনেক বিশ্লেষকের আশঙ্কা, হিজবুল্লাহর সঙ্গে সামরিক সংঘাত শুরু হলে তা গৃহযুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
এদিকে, দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা দুর্বল হয়ে পড়া রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোয় বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। রুবিও-ও এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এটি শুধু সামরিক বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগগুলো আমরা কীভাবে লেবাননে আনতে পারি, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’
গত সপ্তাহে পাইলট জোনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাব্য কয়েকটি এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী তাদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে। সেখানে তাদের সেনারা টহল দিচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চৌকি স্থাপন করেছে।
২ দিন আগে
ভারতে তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে বিস্ফোরণ, নিহত ১০
হিমালয়ের কোলঘেঁষা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিমে চীনের সীমান্তসংলগ্ন একটি নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে গ্যাস বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে সুড়ঙ্গ ধসে অন্তত ১০ জন নিহত এবং আরও ১৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
রাজ্যের রাজধানী গ্যাংটক থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের সামারদুং গ্রামে সোমবার (২০ জুলাই) এ দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছিল বলে মঙ্গলবার স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা অনুপমা তামলিং জানান, বিস্ফোরণের সময় সুড়ঙ্গের ভেতরে একাধিক শ্রমিক কাজ করছিলেন। যারা প্রাণে বেঁচে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন, তারা জানিয়েছেন, প্রথমে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর সুড়ঙ্গের ভেতরে ধস নামে এবং অনেক শ্রমিক আটকা পড়েন।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশনের (এনএইচপিসি) ছয় কর্মকর্তা উদ্ধারকাজে অংশ নিতে সুড়ঙ্গে প্রবেশ করেন। তবে তারাও ভেতরে আটকা পড়েন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় পুলিশপ্রধান সোনাম দোলমা বলেন, ‘এ পর্যন্ত ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও ১৭ জন সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’
ভারতের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীসহ (এনডিআরএফ) উদ্ধারকারী দলগুলো ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের কারণে আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। কর্মকর্তারা জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
এনডিআরএফ কর্মকর্তা নিতীন কুমার বলেন, ‘সুড়ঙ্গের ভেতরে মিথেন, কার্বন মনোক্সাইড ও হাইড্রোজেন সালফাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস শনাক্ত করা হয়েছে।’ তিনি জানান, উদ্ধারকারীরা বিশেষ শ্বাস-প্রশ্বাসের সরঞ্জাম ব্যবহার করে বিপজ্জনক পরিবেশে জীবিতদের খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভারতে দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে নির্মাণ দুর্ঘটনা নতুন নয়। দুর্বল ভূতাত্ত্বিক গঠন, নির্মাণ ত্রুটি, বৈরী আবহাওয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে।
বিশেষ করে, হিমালয় অঞ্চলে ভঙ্গুর পাহাড়, ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা এবং অনিশ্চিত ভূগর্ভস্থ অবস্থার কারণে সুড়ঙ্গ নির্মাণ প্রকল্পগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ২০২৩ সালে উত্তরাখণ্ডে একটি সুড়ঙ্গ ধসে ৪১ শ্রমিক ১৭ দিন আটকা থাকার পর উদ্ধার হন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তিস্তা নদী অববাহিকা ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। এ এলাকায় তুলনামূলক নবীন ও ভঙ্গুর শিলাস্তর, অসংখ্য ফাটল এবং ভূগর্ভে আটকে থাকা প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতি রয়েছে।
পাশের মেঘালয় রাজ্যের নর্থ-ইস্টার্ন হিল ইউনিভার্সিটির ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. দেবেশ ওয়ালিয়া বলেন, এলাকাটিতে কয়লাবাহী শিলাস্তরসহ তুলনামূলক নবীন ভূতাত্ত্বিক গঠন রয়েছে। মিথেনসহ অন্যান্য গ্যাস ভূগর্ভে জমে বিস্ফোরণের সূত্রপাত ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
২ দিন আগে
কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা ৯৩০ ছাড়াল
কঙ্গোতে চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এদিকে, ইতুরি প্রদেশে স্বাস্থ্যকর্মীদের অসন্তোষের কারণে চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৯ জুলাই) দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, শনিবার ২ হাজার ৩৪৪ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা।
গত ১৫ মে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই এটি আগের সব রেকর্ড ভেঙে সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবে পরিণত হয়েছে। এ প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বান্ডিবুগিও ভাইরাসটি ইবোলা সৃষ্টিকারী অন্যান্য ভাইরাসের তুলনায় কম পরিচিত। এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনও কোনো অনুমোদিত টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা নেই।
এদিকে, ইবোলার প্রাদুর্ভাবে কঙ্গোতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইতুরি প্রদেশ। সেখানে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঝুঁকির কারণে স্বাস্থ্যকর্মীদের পক্ষে অনেক এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে চিকিৎসা কার্যক্রম সীমিত হয়ে যাওয়ায় ইতুরি প্রদেশে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।
শনিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, মে মাসের মাঝামাঝি প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর অন্তত ১২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে বেতন না পাওয়ার প্রতিবাদে অনেক স্বাস্থ্যকর্মী কর্মবিরতি পালন করছেন।
কঙ্গোতে এ পর্যন্ত ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩৬ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ৭২৪ জন রোগী হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পাশাপাশি সরকার আক্রান্ত এলাকাগুলোতে রোগ মোকাবিলার কার্যক্রম আরও জোরদার করছে।
৩ দিন আগে
নরওয়েতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক বাড়ি ভস্মীভূত
নরওয়েতে স্মরণকালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় শতাধিক বাড়ি পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
দক্ষিণ নরওয়ের ড্রামেন শহরের একটি টাউনহাউসে স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ড্রামেন শহরটি নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার (২১ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন আশপাশের এলাকায় এবং কাছের বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে যা নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে দমকলকর্মীদের। শনিবার সকালেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দমকলকর্মীরা।
নরওয়ের বেসামরিক সুরক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, আধুনিক সময়ে এ ধরনের সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ড এটি।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে জানায়, অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে শত শত মানুষকে একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো বাসিন্দা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
৫ দিন আগে
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় নিহত ৮, আহত অন্তত ৬০
রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে রাতভর ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় আটজন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন রুশ কর্মকর্তারা।
রাশিয়ার ওপর ইউক্রেনের ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। কিয়েভের বাহিনী রাশিয়ার অভ্যন্তরে জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। মস্কোর যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে দুর্বল করা এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার দীর্ঘস্থায়ী আগ্রাসনের প্রভাব রুশ নাগরিকদের অনুভব করানোই এই হামলার উদ্দেশ্য।
রুশ কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে রাশিয়ার বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের দুটি বড় গুদামে আগুন ধরে যায়। এর একটি তামবভ অঞ্চলের কতোভস্ক শহরে, যেটি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার দূরে। অন্যটি মস্কোর প্রায় ৫০ কিলোমিটার পূর্বে ইলেকট্রোস্তাল শহরে অবস্থিত।
হামলার পর দুটি গুদামেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে ওয়াইল্ডবেরিজের প্রতিষ্ঠাতা তাতিয়ানা কিম শনিবার সকালে জানান, কতোভস্কের গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, রুশ অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে ইলেকট্রোস্তালের স্থাপনায় ব্যাপক আগুন এবং আকাশে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানান, ইলেকট্রোস্তালের উত্তরে নোগিনস্ক শহরের একটি তেলের ডিপোতেও ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানে। এতে সেখানেও আগুন ধরে যায়। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আশপাশের একটি প্রসূতি হাসপাতাল ও একটি আবাসিক ভবন থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার টেলিগ্রাম পোস্টে জানিয়েছেন, ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলায় মস্কো ও তামবভ অঞ্চলের দুটি ‘গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক স্থাপনা’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আগ্রাসী দেশ (রাশিয়া) এসব স্থাপনা ব্যবহার করে ড্রোন ও নেভিগেশন সরঞ্জাম তৈরির জন্য নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত উপাদান সরবরাহ করত।’ এছাড়া একটি তেল স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
তামবভ অঞ্চলের গভর্নর ইয়েভগেনি পারভিশভ জানান, কতোভস্কের গুদামে রাতের শিফটে কাজ করা সাতজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর ভোরোবিয়ভ জানান, সেখানে ৩৭ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন পরে হাসপাতালে মারা যান।
ইলেকট্রোস্তাল শহরে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ একটি কিন্ডারগার্টেন ভবনেও আঘাত হানে বলে জানান ভোরোবিয়ভ। এতে আগুন ধরে গেলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এছাড়া মস্কো থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ভ্লাদিমির শহরে একটি আবাসিক ভবনে ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানে বলে জানান ওই অঞ্চলের গভর্নর আলেক্সান্ডার আভদেয়েভ। এ ঘটনায় অল্প সময়ের জন্য আগুন ধরে গেলেও কেউ হতাহত হয়নি।
জেলেনস্কি আরও জানান, ইউক্রেনের বিশেষ বাহিনী আজভ সাগর ও রাশিয়ার দখল করা এলাকাগুলোতে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাশিয়ার ১৯টি অঞ্চল, অবৈধভাবে সংযুক্ত ক্রিমিয়া, আজভ সাগর ও কৃষ্ণসাগরের ওপর দিয়ে ৩৭৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস বা প্রতিহত করেছে।
৫ দিন আগে
চীনে ভূমিধসে অন্তত ৮ জন নিহত, নিখোঁজ ৩৪
দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের চংকিং শহরে ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত আটজন নিহত এবং ৩৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। ওই অঞ্চলে এখনও টানা বৃষ্টি হচ্ছে। তবে, তার মধ্যেই উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে চংকিং পৌরসভার পেংশুই কাউন্টির উপকণ্ঠে পাহাড়ের ঢাল থেকে বিপুল পরিমাণ পাথর ও মাটি ধসে পড়ে। এতে ১০টির বেশি আবাসিক ভবন মাটিচাপা পড়ে বলে জানায় দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ দুর্ঘটনায় ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে এক হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পেংশুই কাউন্টি চংকিংয়ের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এবং হুবেই ও গুইঝৌ প্রদেশের সীমানা ঘেঁষে অবস্থিত।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, খাড়া পাহাড়ি এলাকায় ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের ওপরের অংশ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে এবং আরেকটি ভবনের পাশে একটি গাড়ি অর্ধেক মাটিচাপা অবস্থায় রয়েছে। ধসে পড়া একটি পাথরের আকার ছিল বহুতল ভবনের চেয়েও বড়।
পেংশুই কাউন্টির পরিকল্পনা ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের প্রধান ওয়াং চুয়ানজুন শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ভূমিধসে প্রায় ১৮ হাজার ঘনমিটার পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় একটি পাথরের আয়তন প্রায় তিন হাজার ঘনমিটার।
৫ দিন আগে
মিয়ানমার উপকূলে দুই নৌকাডুবি, ৫ শতাধিক রোহিঙ্গা নিহতের আশঙ্কা
মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের বহনকারী দুটি নৌকা বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ৫ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যদিও ঘটনাগুলোর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, তবুও সম্ভাব্য এই ভয়াবহ প্রাণহানিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
ইউএনএইচসিআর ও আইওএমের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জুনের শেষ দিকে দুটি নৌকা মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করে। নৌকা দুটিতে বেশিরভাগই রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে আসা রোহিঙ্গারাও যাত্রা করেছিলেন। এর মধ্যে একটি নৌকায় প্রায় ২৫০ জন আরোহী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যাত্রা শুরুর কিছু সময় পরই নৌকাটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
অন্যদিকে, গত ৮ জুলাই প্রায় ২৮০ জন আরোহী বহনকারী আরেকটি নৌকা মিয়ানমারের আয়েয়ারওয়াডি উপকূলের কাছে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইওএম ও ইউএনএইচসিআর বিবৃতিতে বলেছে, এই ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সম্ভাব্য এই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনায় ইউএনএইচসিআর ও আইওএম গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
এদিকে, মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ভারপ্রাপ্ত পুলিশ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোয়ে লিন অং এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও দেশটির আয়েয়ারওয়াডি অঞ্চলের সরকারের মুখপাত্রদের কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নৌপথে পালিয়ে যাচ্ছে। তবে বছরের এই সময়ে তারা সাধারণত এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা এড়িয়ে চলেন। কারণ, এ সময়ে মৌসুমি বৃষ্টিপাত বেশি হয় ও সমুদ্র উত্তাল থাকে।
আইওএম ও ইউএনএইচসিআর তাদের বিবৃতিতে আরও বলেছে, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও বন্যার কারণে এই অঞ্চলে সমুদ্রপথে যাত্রা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল।
মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতার মুখে পালিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রাষ্ট্রহীন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রোহিঙ্গা এখনও বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাস করছেন। এসব শরণার্থীর নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, ২০১৭ সালে হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছিল মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে ঘোষণা করেছিল, যারাই এখনও মিয়ানমারের ক্ষমতায় রয়েছে।
মিয়ানমারে বসবাসরত রোহিঙ্গারা কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। তাদের অনেককে অন্তরীণ শিবিরে আটকে রেখেছে সরকার।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে খাদ্য সহায়তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দেশটির সামরিক বাহিনী ও একটি জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।
মিয়ানমারে এই অস্থিরতার কারণে ক্রমেই সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গারা নৌকায় করে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সমুদ্রে বিপজ্জনক যাত্রাপথে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নবজাতক, শিশু ও গর্ভবতী নারীরাও রয়েছেন। এছাড়া দেশটির স্থানীয় সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ অনেক ক্ষেত্রেই সাগরে ভাসমান রোহিঙ্গাদের উদ্ধার না করে ফেলে রাখে। এমনকি তারা বিপদে পড়া নৌকার খবর পেয়েও অনেক সময় কোনো ব্যবস্থা নেয় না।
বৃহস্পতিবার আইওএম ও ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, সর্বশেষ এই সম্ভাব্য নৌ-দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে, রোহিঙ্গাদের জন্য এখনও কোনো টেকসই সমাধান হয়নি। তাই বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাগুলো।
তারা বলেছে, রোহিঙ্গাদের সমুদ্রপথে অভিবাসন বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী অভিবাসন রুটে পরিণত হয়েছে। এসব পথে প্রাণহানি ঠেকাতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও জোরালো উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এ জন্য অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার, আশ্রয় ও সুরক্ষা নিশ্চিত এবং মানবপাচার ও চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা নৌপথে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৯০০ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। নৌপথে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করা রোহিঙ্গাদের জন্য এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর। এছাড়া বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থী ও অভিবাসীদের সমুদ্রপথগুলোর মধ্যে এই পথেই মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
৭ দিন আগে