বিশ্ব
ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় ইউরোপে মুদ্রাস্ফীতি পৌঁছেছে ৩ শতাংশে
ইরান যুদ্ধে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে গোটা ইউরোপ। এই সময়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম থাকায় ভোক্তা ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারকদের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট জানায়, জ্বালানি তেলের দাম শতকরা ১০.৯ শতাংশ বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ।
সংস্থাটির জরিপ মতে, ইউরো ব্যবহারকারী ২১টি দেশের বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি মার্চে ২ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে চলতি মাসে ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে, ৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে যা ছিল ৭৩ ডলারে কাছাকাছি। এছাড়া চলতি বছরের প্রথম থেকেই ইউরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল হতাশাজনক।
গোটা বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল পরিবহনকারী হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। এই জলপথ দিয়ে আগে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সারা বিশ্বে তেল সরবরাহ করা হতো। তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি দ্রুতই পেট্রোল পাম্প এবং বিমান জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
মুদ্রাস্ফীতির এই সমস্যা ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ সৃষ্টি করতে পারে বলে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ হলো এমন একটি বিরল ও জটিল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, যেখানে একইসঙ্গে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি (দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি) ও ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেখা দেয়।
ইউরোপে মুদ্রাস্ফীতির এই বৃদ্ধি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ এটি এমন সময়ে ঘটছে যখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ধীর। সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ায়, কিন্তু এতে ঋণের খরচ বেড়ে গিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও কমে যেতে পারে। যদি মুদ্রাস্ফীতি সাময়িক বলে মনে হয়, তবে সাধারণত এটিকে উপেক্ষা করা হয়, কারণ সুদের হার পরিবর্তনের প্রভাব অর্থনীতিতে পড়তে কয়েক মাস সময় লাগে।
অন্যদিকে, যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেরি করে এবং মুদ্রাস্ফীতি খাদ্য, শিল্পপণ্য ও মজুরি বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে স্থায়ীভাবে ঢুকে যায়, তাহলে পরে কঠোর সুদবৃদ্ধির মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
এই সপ্তাহে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ উভয়ই তাদের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডও আজ (বৃহস্পতিবার) একই সিদ্ধান্ত নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফলে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এখন একপ্রকার স্থবির অবস্থায় রয়েছে। তারা মুদ্রাস্ফীতির এই ঢেউ অর্থনীতিতে কীভাবে প্রভাব ফেলছে, তা সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
৩ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধ নিয়ে টানা দ্বিতীয় দিন ডেমোক্র্যাটদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে হেগসেথ
ক্যাপিটল হিলে দ্বিতীয় দিনের মতো ডেমোক্র্যাটদের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ইরান যুদ্ধ মোকাবিলায় পেন্টাগনপ্রধানের ভূমিকা নিয়ে সিনেটররা প্রথমবারের মতো তাকে প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন।
এর আগে, গতকাল (বুধবার) প্রায় ৬ ঘণ্টার হাউজ আর্মড সার্ভিস কমিটির শুনানির সময় হেগসেথ ডেমোক্র্যাট ও কয়েকজন রিপাবলিকানের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। সে সময় তাকে যুদ্ধের খরচ, প্রাণহানি এবং গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া নিয়ে তীব্র প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়।
আর্মড সার্ভিস কমিটির শুনানিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৭ সালের সামরিক বাজেট প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা করা হবে। এই আলোচনায় প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়ে দেড় ট্রিলিয়ন ডলারে নেওয়ার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
এ ছাড়াও বেশি বেশি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যুদ্ধজাহাজের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেবেন হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।
একইসঙ্গে তারা ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিয়েও কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন। কারণ গতকাল (বুধবার) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটোর মিত্র জার্মানিকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে দিতে পারে, কারণ ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মেয়াৎর্সের বিরোধ চলমান।
বুধবারের অভিজ্ঞতা যদি কোনো ইঙ্গিত দেয়, তবে রিপাবলিকান সিনেটররা মূলত সামরিক বাজেটের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন এবং ইরানে সামরিক অভিযানের প্রতি সমর্থন জানাবেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা এই সংঘাতের কৌশল নিয়ে জবাব চাইবেন। পাশাপাশি হেগসেথের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলবেন।
ডেমোক্র্যাটরা এই যুদ্ধকে ব্যয়বহুল এবং অপ্রয়োজনীয় বলে আখ্যা দিচ্ছেন। কংগ্রেসের অনুমোদন বা তদারকি ছাড়াই শুরু হয়েছে এই যুদ্ধ। তবে কংগ্রেস নিজেই একাধিক ‘ওয়ার পাওয়ারস’ প্রস্তাব পাস করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই প্রস্তাব সামরিক পদক্ষেপের আগে আইনপ্রণেতাদের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করত।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আইনপ্রণেতারা যেসব প্রশ্ন করতে চেয়েছিলেন, তার কিছু বুধবারের শুনানিতে উত্তর দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, যার বেশিরভাগই অস্ত্র-গোলাবারুদের পেছনে। কিন্তু যুদ্ধ আর কতদিন চলবে বা আরও কত খরচ হতে পারে, এ বিষয়ে হেগসেথ কোনো উত্তর দেননি।
হেগসেথ আরও বলেন, একটি ইরানি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৬৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অনেক শিশু ছিল। এই বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান প্রমাণে ইঙ্গিত মিলছে যে এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী হতে পারে। ওই স্কুলটি একটি রেভল্যুশনারি গার্ড ঘাঁটির পাশেই ছিল।
ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি প্যাট রায়ান জানতে চান, কুয়েতে ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনার মৃত্যু প্রতিরোধ করা যেত কি না। হেগসেথ সরাসরি এর উত্তর দেননি, তবে বলেন, মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে সেনাবাহিনী আগাম পদক্ষেপ নিয়েছিল।
আরেকটি উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে হেগসেথ ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি অ্যাডাম স্মিথকে বলেন, গত জুনে মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে স্মিথ প্রশ্ন তোলেন, তাহলে এর এক বছরেরও কম সময় পরে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার যুক্তি কী?
স্মিথ বলেন, ‘আপনি তো ৬০ দিন আগে বলেছিলেন, এই যুদ্ধ শুরু করতে হয়েছে, কারণ পারমাণবিক অস্ত্র একটি আসন্ন হুমকি। এখন আপনি বলছেন, সেগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে?’
জবাবে হেগসেথ বলেন, ইরান তাদের ‘পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ ত্যাগ করেনি এবং তাদের কাছে এখনও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।
স্মিথ বলেন, ‘এই যুদ্ধ আমাদের ঠিক সেই অবস্থাতেই রেখে গেছে, যেখানে আমরা আগেও ছিলাম।’
সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে আরও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে সরানো হয়েছে। হেগসেথ এসব প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘নতুন নেতৃত্ব দরকার ছিল।’
তবে তার এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ক্রিসি হাউলাহান। তিনি বলেন, ‘আপনি কেন এত অসাধারণ একজন মানুষকে বরখাস্ত করলেন, তার কোনো উপযুক্ত ব্যাখ্যা আপনার কাছে নেই।’ তখনই হেগসেথ তাকে থামিয়ে দিয়ে আবার বলেন, ‘আমাদের নতুন নেতৃত্ব দরকার ছিল।’
৫ ঘণ্টা আগে
বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম, চার বছরে সর্বোচ্চ
ইরান যুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপের নতুন পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্রিফ করতে যাচ্ছে—এমন খবরের পর বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১২৬ ডলার (৯৪ পাউন্ড) ছাড়িয়েছে, যা গত চার বছরে সর্বোচ্চ।
সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট অ্যাক্সিওসের বরাতে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে আলোচনার অচলাবস্থা ভাঙার লক্ষ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড তেহরানের ওপর এক দফায় সংক্ষিপ্ত ও শক্তিশালী হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে।
শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়া এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ থাকায় এই সপ্তাহে জ্বালানির দাম ক্রমাগত বেড়েছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ইরানের অবকাঠামো থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অন্য একটি পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালির একাংশ দখল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যাতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য এটি পুনরায় খুলে দেওয়া যায়। এটি করতে গেলে স্থলসেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে লেনদেন হওয়া ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড অয়েলের দামও ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০৯ ডলারে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তেহরান যতদিন হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে হুমকি দেওয়া অব্যাহত রাখবে, ততদিন তারা ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রাখবে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
ইরান তার ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে এই জলপথে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে। এ প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।
ওয়াশিংটন ইরানের ওপর একটি দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন খবরের পর বুধবার তেলের দাম ৬ শতাংশ বেড়েছিল।
এদিকে, মার্কিন ভোক্তাদের ওপর যুদ্ধের প্রভাব কীভাবে কমানো যায় তা নিয়ে আলোচনার জন্য মঙ্গলবার জ্বালানি খাতের নির্বাহীরা ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এটি বাজারে জ্বালানি সরবরাহ দীর্ঘকাল বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
১০ ঘণ্টা আগে
মন্ত্রিসভার বৈঠক এড়িয়ে যাওয়ায় দ. কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ৭ বছরের জেল
মন্ত্রিসভার বৈঠক এড়িয়ে যাওয়া এবং নিজের গ্রেপ্তার আটকানোর অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়লকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৯ এপ্রিল) সিউলের একটি আপিল আদালত এই রায় দেন।
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে স্বল্প সময়ের জন্য সামরিক আইন জারি করেন ইয়ল। তার ওই কর্তৃত্ববাদী পদক্ষেপ দক্ষিণ কোরিয়ার গণতন্ত্রকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকটে ফেলেছিল।
এর আগেই অবশ্য তিনি বিদ্রোহ-সংক্রান্ত মামলায় আজীবন কারাদণ্ডের শাস্তি ভোগ করছেন। ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা ও অন্যান্য অভিযোগে পাওয়া এই দণ্ড তার সঙ্গে যুক্ত হলো।
এদিন সিউল হাইকোর্টের বিচারক ইউন সুং-সিক বলেন, সাবেক এই রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট সামরিক আইন জারির আগে আইন অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠক এড়িয়ে যান, সেই ত্রুটি গোপন করতে নথিপত্র জাল করেন এবং তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করতে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ‘ব্যক্তিগত বাহিনী’র মতো ব্যবহার করেন।
রায় ঘোষণার সময় ইউন নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশটির নিম্ন আদালত ইয়লকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। তবে সামরিক আইন জারির আগে মন্ত্রিসভার বৈঠক-সংক্রান্ত ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থেকে সে সময় তাকে আংশিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আদালতের রায়ে তখন বলা হয়, বৈঠকে আমন্ত্রিত দুই সদস্যের অনুপস্থিতির জন্য তিনি দায়ী নন। কিন্তু সিউল হাইকোর্ট সেই রায় বাতিল করে তাকে সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে।
আদালত রায়ে উল্লেখ করে, তিনি শুধু ওই দুই সদস্যের অধিকারই লঙ্ঘন করেননি, বরং মন্ত্রিসভার আরও সাতজন সদস্যকে না জানিয়ে সীমিত কয়েকজনকে নিয়ে একটি বৈঠকের অভিনয় করে আইনি প্রক্রিয়া ভঙ্গ করেছেন।
প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ইয়ল ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর যে সামরিক আইন জারি করেছিলেন, তা দেশটিকে গভীর রাজনৈতিক সংকটে ফেলে দেয়। এটি রাজনীতি ও উচ্চপর্যায়ের কূটনীতিকে অচল করে দেয় এবং দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির করে তোলে। এরপর গত বছরের জুন মাসে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে উদারপন্থি লি জে মিয়ং জয়ী হওয়ার পর এই অস্থিরতা প্রশমিত হয়।
২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর উদারপন্থি রাজনীতিকদের নেতৃত্বাধীন আইনসভা তাকে অভিশংসনের মাধ্যমে সাময়িকভাবে ক্ষমতা থেকে বরখাস্ত করেন। এরপর ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সাংবিধানিক আদালত তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অপসারণ করেন।
ক্ষমতা থেকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর ইউন সিউলের একটি আদালতের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করার পরোয়ানা মানতে অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনায় দেশটিতে এক ধরনের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারির শুরুতে কয়েকজন তদন্তকারী প্রেসিডেন্টের বাসভবনে পৌঁছালেও প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বাহিনী ও যানবাহনের ব্যারিকেডের কারণে তারা বাধাপ্রাপ্ত হন। ওই মাসের শেষের দিকে তাকে আটক করা হয়, তবে মার্চে আরেকটি আদালত তাকে মুক্তি দেয়। পরে জুলাই মাসে আবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর থেকে তিনি হেফাজতেই রয়েছেন। আর তার বিরুদ্ধে চলমান একাধিক ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
১ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১৪
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কাছে একটি কমিউটার ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের সকলেই নারী।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ এপ্রিল) জাকার্তার বাইরে বেকাসি তিমুর স্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আজ (মঙ্গলবার) উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত কমিউটার ট্রেনের একটি বগি থেকে হতাহতদের উদ্ধার কাজ শেষ করেছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি দূরপাল্লার ট্রেন স্টেশনে থেমে থাকা ওই কমিউটার ট্রেনটির পেছনের বগিতে ধাক্কা দেয়। এতে কমিউটার ট্রেনটির শেষ বগিটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বগিটি শুধুমাত্র নারীদের জন্য নির্ধারিত ছিল। নারীদের হয়রানি প্রতিরোধে তাদের জন্য আলাদা এ বগির ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
রাষ্ট্রায়ত্ত্ব রেলওয়ে কোম্পানি পিটি কেরেটা আপি ইন্দোনেশিয়ার সিইও ববি রাস্যিদিন জানান, এ দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় মোট ৮৪ জনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আর নিহতদের মরদেহ শনাক্তকরণের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উদ্ধারকারী দল মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রেনটির ভেতর থেকে সকল হতাহতদের উদ্ধার করেছে। এ তথ্য নিশ্চিত করে জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ স্যাফি বলেন, ঘটনাস্থলে আর কোনো হতাহত নেই।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ দুর্ঘটনায় দূরপাল্লার ট্রেনের বাকি ২৪০ জন যাত্রী নিরাপদে আছেন।
ঘটনাস্থলে জাকার্তা পুলিশের প্রধান আসেপ এদি সুহেরি সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় এক লিখিত বিবৃতিতে জানায়, প্রথমে বেকাসি তিমুর স্টেশনের কাছে একটি আটকে পড়া ট্যাক্সিকে কমিউটার ট্রেনটি ধাক্কা দেয়। এর ফলে রেলের কর্মীরা ওই কমিউটার ট্রেনকে স্টেশনে থামিয়ে দেন। এ সময় কমিউটার ট্রেনটিকে একই ট্র্যাকে ঢুকে আরেকটি দূরপাল্লার ট্রেন এসে ধাক্কা দেয়।
ববি রাস্যিদিন বলেন, দুর্ঘটনার কারণ জানতে আমরা জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা কমিটির তদন্তের ওপর নির্ভর করছি।
উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ার পুরনো রেলপথ ব্যবস্থায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পশ্চিম জাভা প্রদেশে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত হয়েছিল।
২ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা মামলার বিচার শুরু
যুক্তরাষ্ট্রে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়েহর (২৬) বিরুদ্ধে আদালতে তোলা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে এই শুনানি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, আবুঘারবিয়েহর বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার করে দুটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি মৃত্যুদণ্ড পেতে পারেন। তবে প্রসিকিউটররা এখনও বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৯টার স্ট্যাটাস কনফারেন্সে তিনি উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনও জানা যায়নি। পাবলিক ডিফেন্ডার জেনিফার স্প্রাডলি গতকাল (সোমবার) জানান, তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না।
বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী ২৭ বছর বয়সী জামিল লিমন এবং নাহিদা বৃষ্টি বিয়ের কথা ভাবছিলেন বলে তাদের এক স্বজন জানিয়েছেন। গত ১৬ এপ্রিল তারা নিখোঁজ হন। লিমনকে সর্বশেষ দেখা যায় ক্যাম্পাসের বাইরে একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে, যেখানে তিনি আবুঘারবিয়েহ এবং আরও এক রুমমেটের সঙ্গে থাকতেন।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে লিমনের মরদেহ যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়, গোয়েন্দারা মোবাইল ফোনের অবস্থান এবং লাইসেন্স প্লেট রিডার তথ্য ব্যবহার করে আবুঘারবিয়েহর গাড়ি এবং লিমনের ফোনের গতিপথ অনুসরণ করে সেই সেতু পর্যন্ত পৌঁছান।
মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত শেষে লিমনের দেহাবশেষে অসংখ্য ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানিয়েছেন মেডিকেল পরীক্ষক।
অন্যদিকে, বৃষ্টিকে খুঁজে পেতে এখনও তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন ডেপুটিরা। রবিবার (২৬ এপ্রিল) শেরিফের কার্যালয় জানায়, সেতুর কাছাকাছি একটি জলাশয় থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তবে সেটির পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর যখন গোয়েন্দারা আবুঘারবিয়েহ এবং অপর রুমমেটকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন, তখন তারা লক্ষ করেন আবুঘারবিয়েহর কনিষ্ঠ আঙুলে ব্যান্ডেজ বাঁধা। তবে লিমনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় কোনো সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন আবুঘারবিয়েহ।
লিমনের আরেক রুমমেট গোয়েন্দা পুলিশকে জানান, ১৬ এপ্রিল রাতে আবুঘারবিয়েহ একটি ট্রলি ব্যবহার করে তার কক্ষ থেকে কার্ডবোর্ডের কয়েকটি বাক্স আবর্জনা ফেলার স্থানে নিয়ে যান। সেখান থেকেই গোয়েন্দারা লিমনের মানিব্যাগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, চশমা এবং রক্তের দাগযুক্ত পোশাক উদ্ধার করেন।
পরবর্তীতে আবুঘারবিয়েহর কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে গোয়েন্দারা রান্নাঘর থেকে তার শয়নকক্ষ পর্যন্ত রক্তের চিহ্ন দেখতে পান এবং তার কক্ষের কার্পেটে রক্তের দাগ শনাক্ত করেন। লিমনের কক্ষে তারা বৃষ্টির বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি এবং ক্রেডিট কার্ডও খুঁজে পান।
প্রসিকিউটরদের দাখিল করা এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নিখোঁজের কয়েকদিন আগে আবুঘারবিয়েহ চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, যদি কোনো মানুষের দেহ একটি প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে কী হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটি ওই প্রশ্নটিকে বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করে সতর্ক করেছিল।
২ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার ও যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ খুলে দেবে ইরান
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেয় এবং চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটায়, তবে হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করবে ইরান। একইসঙ্গে দেশটি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথাও জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ এপ্রিল) যুদ্ধে মধ্যস্ততার সঙ্গে যুক্ত দুইজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই প্রস্তাব পৌঁছানো হয়েছে। তাদের দাবি, ইসলামাবাদ-ভিত্তিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ চলছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন বলে মনে হচ্ছে না। পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকানদের কাছে পৌঁছানো এই প্রস্তাবে সেই মতবিরোধগুলো অমীমাংসিতই থেকে যাচ্ছে, যার জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধে জড়িয়েছিল। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এমন কোনো চুক্তি নাকচ করে দিয়েছেন যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত নেই।
সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ‘আমরা তাদের পার পেয়ে যেতে দিতে পারি না। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, যেকোনো চুক্তি বা সমঝোতা যেন এমন হয় যা তাদের যেকোনো মূল্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দৌড় থেকে নিশ্চিতভাবে বিরত রাখে।’
একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালি নিয়ে অচলাবস্থায় আটকে আছে। যুদ্ধোত্তর সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হতো। মার্কিন অবরোধের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে তাদের তেল বিক্রি করা থেকে বিরত রাখা, যাতে তারা গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে যেখানে তেল সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় তেহরানকে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হবে।
অন্যদিকে, প্রণালিটি বন্ধ থাকায় ট্রাম্পের ওপরও চাপ বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেল ও গ্যাসোলিনের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এটি তার উপসাগরীয় মিত্রদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছে, যারা তাদের তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য এই জলপথ ব্যবহার করে।
অবরোধ অবসানের নতুন দাবি
মধ্যপ্রাচ্যের এ সংকটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশে সার, খাদ্য এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বজুড়ে অনেক দেশের মধ্যে এ নিয়ে হতাশা বাড়ছে। সোমবার নতুন করে অবরোধ অবসানের দাবি করেছে বিভিন্ন দেশ।
ইরানের প্রস্তাবে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী কোনো তারিখ পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্প বলেছিলেন, তার যুদ্ধে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস করা।
প্রস্তাবটি সম্পর্কে অবগত দুই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, চলতি সপ্তাহে ইরান ও পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের মধ্যে এই রুদ্ধদ্বার আলোচনা হয়েছে। ইরানের এই প্রস্তাবের কথা প্রথম প্রকাশ করে সংবাদ সংস্থা অ্যাক্সিওস।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাশিয়া সফরে রয়েছেন। মস্কো দীর্ঘকাল ধরে তেহরানের প্রধান সমর্থক। রাশিয়া ইরানকে এখন কোনো সাহায্য করবে কি না বা করলে কী ধরনের সাহায্য করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। অপরিশোধিত তেলবোঝাই ট্যাঙ্কারগুলো উপসাগরে আটকা পড়ে আছে, কারণ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ কেন্দ্রে পৌঁছানোর কোনো উপায় নেই।
সোমবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ (অপরিশোধিত তেল) তেলের বাজারদর ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলারের উপরে গিয়ে ঠেকেছে, যা যুদ্ধ শুরুর সময়কার দামের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবিতে অনেক দেশের
বাহরাইনের নেতৃত্বে একটি যৌথ বিবৃতিতে বেশ কিছু দেশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সোমবার নিরাপত্তা পরিষদে বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে মানবিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। এই চাপের প্রভাব এখন খালি তেলের ট্যাঙ্কে, খালি তাকে (দোকানের শেলফ) এবং শূন্য থালায় গিয়ে পড়ছে।’
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস কোনো কৌশল ছাড়াই যুদ্ধে নামার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের সংঘাতের সমস্যা সবসময় একই রকম; এটি কেবল যুদ্ধে জড়ানো নিয়ে নয়, আপনাকে এ থেকে বেরোনোর পথও জানতে হবে।’
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাঁ-নোয়েল বারোট সব পক্ষেরই সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কোনো স্পষ্ট লক্ষ্য ছাড়াই এবং আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইরানে হামলা করার পর এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে তিনি প্রণালি বন্ধ করার জন্য ইরানকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, প্রণালি হলো বিশ্বের ধমনী। এগুলো কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।
রাশিয়ায় পুতিনের সঙ্গে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকের বৈঠক
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ৭ এপ্রিল করা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়েছেন, যার ফলে লড়াই অনেকটা থেমেছে। কিন্তু একটি স্থায়ী সমাধান এখনও অধরা।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সোমবার সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করেছেন। পুতিন ইরানি জনগণের প্রশংসা করে বলেছেন যে তারা সাহস ও বীরত্বের সঙ্গে তাদের সার্বভৌমত্বের জন্য লড়ছেন। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে রাশিয়া সম্ভাব্য সবকিছু করবে।
আরাঘচি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টিভির একজন সাংবাদিককে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের নেতারা এই যুদ্ধে তাদের কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেননি। এ কারণেই তারা আলোচনার জন্য বলছে। আমরা এখন এটি বিবেচনা করছি।’
পাকিস্তান যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে থমকে যাওয়া আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে, তখনই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। এ সপ্তাহের শুরুতে ইসলামাবাদে এই আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তবে ট্রাম্প তার প্রতিনিধিদের সফর বাতিল করেন এবং ফোনে আলোচনার পরামর্শ দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তার মতে, ইরান ওমানের সঙ্গে প্রণালিটি ভাগ করে নেয়। তারা এখন ওমানকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে যাতে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ‘টোল’ বা মাশুল আদায়ের একটি ব্যবস্থা চালু করা যায়। তবে ওমানের প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মধ্যস্থতার সঙ্গে জড়িত ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরান নতুন আলোচনার আগে মার্কিন অবরোধ অবসানের দাবিতে অনড়। পাকিস্তান-নেতৃত্বাধীন মধ্যস্থতাকারীরা দুই দেশের মধ্যকার এই বিশাল দূরত্ব ঘুচানোর চেষ্টা করছেন।
তেহরান অনেক ভালো প্রস্তাব দিয়েছে: ট্রাম্প
শনিবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি পাকিস্তানে প্রতিনিধিদের সফর বাতিল করার পর তেহরান একটি অনেক ভালো প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি, তবে জোর দিয়ে বলেছেন যে তার অন্যতম শর্ত হলো ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। অপরদিকে, ইরান দাবি করে আসছে যে তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সরিয়ে ফেলতে চায়, যা বোমা তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে অন্তত ৩ হাজার ৩৭৫ জন এবং লেবাননে ২ হাজার ৫২১ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই শুরু হয়েছিল ইরান যুদ্ধ শুরুর দুই দিন পর থেকে। এছাড়া ইসরায়েলে ২৩ জন এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে ১২ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ লেবাননে ১৫ জন ইসরায়েলি সৈন্য, ১৩ জন মার্কিন সেনা এবং ৬ জন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। এই সাময়িক বিরতি সত্ত্বেও উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। হিজবুল্লাহ এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় চলা এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি।
২ দিন আগে
চেরনোবিল দুর্ঘটনার ৪০ বর্ষপূর্তিতে রাশিয়া নিয়ে ইউক্রেনের নতুন উদ্বেগ
ইউক্রেন, রুশ-অধিকৃত অঞ্চল এবং রাশিয়াজুড়ে গত এক দিনে চালানো পাল্টা হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে চেরনোবিল পারমাণবিক দুর্ঘটনার ৪০তম বার্ষিকী উপলক্ষে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে ইউক্রেন। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়ার চালানো আগ্রাসনগুলোর মধ্যে চেরনোবিল পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশে হামলা সব থেকে বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৬ এপ্রিল) এসব কথা জানায় দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই বার্ষিকী উপলক্ষে সতর্ক করে বলেছেন, চেরনোবিলের আশপাশে রাশিয়ার হামলা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে।
তিনি একটি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘রাশিয়া আবারও বিশ্বকে একটি মানবসৃষ্ট বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। রুশ-ইরানি শাহেদ ড্রোনগুলো নিয়মিত ওই পারমাণবিক স্থাপনার ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় এই যে, এগুলোর মধ্যে একটি গত বছর স্থাপনার সুরক্ষা অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বকে অবশ্যই এই পারমাণবিক সন্ত্রাসবাদ বন্ধে এগিয়ে আসতে হবে। এ বিষয়ে সবার আগে রাশিয়াকে তাদের বেপরোয়া হামলা থামাতে বাধ্য করতে হবে।’
দেশটির আঞ্চলিক প্রধান ওলেক্সান্দর হাঞ্ঝা গতকাল (রবিবার) জানান, রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছে।
এদিকে, রাশিয়ার মস্কো-সমর্থিত এক কর্তৃপক্ষ জানায়, রাশিয়ার দখলকৃত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপল বন্দরনগরীতে ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। এই উপদ্বীপটি ২০১৪ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের কাছ থেকে দখলে নিয়েছিল।
রাশিয়ার এই দখলদারত্ব বিশ্বব্যাপী অধিকাংশ দেশই অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করে। দখলের পর থেকে এটি যুদ্ধের সময় রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও সরবরাহকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের লুহানস্ক অঞ্চলে রাশিয়া-নিযুক্ত গভর্নর লিওনিদ পাসেচনিক জানান, রাশিয়ার একটি গ্রামে রাতভর ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। এর আগে, শনিবার (২৫ এপ্রিল) ভোরে তিনি আরও ২ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
এ মাসের শুরুতে রাশিয়া দাবি করে, তারা পুরো লুহানস্ক অঞ্চল দখল করেছে। তবে এ বিষয় পুরোপুরি অস্বীকার করেছে ইউক্রেন। আবার রাশিয়ায় ইউক্রেনের হামলাগুলো সম্পর্কেও কোনো মন্তব্য করেনি কিয়েভ। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও (এপি) স্বাধীনভাবে ঘটনাগুলো যাচাই করতে পারেনি।
এসব ঘটনার আগেও রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় একজন নারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী রবিবার জানায়, তারা রাশিয়ার ভেতরে ইয়ারোস্লাভল এলাকায় একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। এতে সেখানে আগুন ধরে যায়। এই স্থাপনাটি বছরে প্রায় দেড় কোটি টন তেল প্রক্রিয়াজাত করে এবং রাশিয়ার সেনাবাহিনীর জন্য পেট্রোল, ডিজেল ও বিমানের জ্বালানি উৎপাদন করে। তবে রাশিয়া এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
৩ দিন আগে
চাদে পানি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ৪২
উত্তর-মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদের পূর্বাঞ্চলে পানি ব্যবহারের একটি জায়গাকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের সংঘর্ষে অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে সুদান সীমান্তের কাছে ওয়াদি ফিরা প্রদেশের ইগোটে গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী লিমানে মাহামাত। আহতদের প্রাদেশিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মাহামাত বলেন, প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ওই দুই পক্ষ এতটাই মরিয়া হয়ে উঠেছিল যে তারা বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বাধ্য হয়ে সেনাবাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর ‘দ্রুত পদক্ষেপ’ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেছে এবং এখন পরিস্থিতি ‘নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে।
গ্রামটিতে একটি প্রচলিত ‘মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া’ শুরু এবং অপরাধমূলক দায় নির্ধারণে বিচারিক কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দিয়েছেন উপ-প্রধানমন্ত্রী।
মধ্য আফ্রিকার এই দেশে সম্পদ নিয়ে আন্তঃসাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ নতুন কিছু নয়। গত বছর দক্ষিণ-পশ্চিম চাদে কৃষক ও পশুপালকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৪২ জন নিহত হয়। ওই ঘটনার সময় বহু ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
মাহামাত বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্থিতিশীলতা রোধে সরকার ‘সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ গ্রহণ করবে।
চাদের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো কয়েক মাস ধরে সুদানের যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে। এর ফলে তাদের সম্পদ ও নিরাপত্তার ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে। সুদানে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে লাখ লাখ শরণার্থী সীমান্ত পেরিয়ে চাদে আশ্রয় নিচ্ছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ সুদানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দেয় চাদ। তারা মনে করে, যুদ্ধরত সুদানি পক্ষগুলোর যোদ্ধারা একাধিকবার সীমান্ত অতিক্রম করায় সংঘাত তাদের দেশেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সুদানের যুদ্ধে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, তবে সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।
এই সংঘাত বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে, যেখানে ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এটি রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়িয়েছে এবং সুদানের কিছু অংশকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
৩ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল না আসলেও মধ্যস্থতা এগিয়ে যাচ্ছে: ইসলামাবাদ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করেছেন। তবে পাকিস্তানের নেতারা রবিবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করছেন তারা।
মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত একজন কর্মকর্তা বলেছেন, পাকিস্তান নেতৃত্বাধীন মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উল্লেখযোগ্য ব্যবধান ঘোচাতে কাজ করছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নতুন দফা আলোচনা শুরুর আগে নিজেদের বন্দরের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবিতে তেহরান এখনও অটল রয়েছে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি তার শীর্ষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে এই সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাকিস্তানে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেছেন, ‘ওরা যদি কথা বলতে চায়, তাহলে শুধু ফোন করলেই হবে!’
ইরানের আইএসএনএ এবং তাসনিম সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, দেশটির রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান শনিবার রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে ফোনে বলেছেন যে, নতুন দফা আলোচনার সুযোগ করে দিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত প্রথমে অবরোধসহ কার্যনির্বাহী বাধাগুলো দূর করা।
যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতেও অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন করা হয় এবং ইরান এই জরুরি জলপথে চলাচল সীমিত করে রেখেছে।
সোমবার ভোরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, অবরোধ চলাকালে তারা এ পর্যন্ত ৩৮টি জাহাজ ফিরিয়ে দিয়েছে।
পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় বেড়েছে তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা আবারও থমকে যাওয়ায় রবিবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম বেড়ে যায়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হালকা অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট রবিবার ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৫০ ডলারে বিক্রি হচ্ছিল, যা শুক্রবার বাজার বন্ধ হওয়ার পর থেকে ২ শতাংশ বেশি। এই দাম ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের দামের চেয়ে ৪৪ শতাংশ বেশি ছিল।
ব্রেন্ট ক্রুড (অপরিশোধিত তেল) রবিবার ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৭৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছিল, যা শুক্রবারের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ এবং যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৪৮ শতাংশ বেশি। যুদ্ধ শুরুর সময় তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলার।
রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদে একটি সংক্ষিপ্ত সফর করেছেন। এর মাত্র একদিন আগেই তিনি শহরটি ছেড়ে গিয়েছিলেন, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল।
ইসলামাবাদে সর্বশেষ এই তিন ঘণ্টার সফরের আগে তিনি হরমুজ প্রণালির অপর প্রান্তে অবস্থিত ওমানে গিয়েছিলেন। এরপর রবিবার গভীর রাতে তিনি রাশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য পাকিস্তানে কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি, তবে পাকিস্তান মধ্যস্থতা অব্যাহত রেখেছে। দেশটির দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, পরোক্ষ আলোচনা এখনও চলছে।
আরাঘচির এবারের অনাড়ম্বর সফরটি তার আগের সফরের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন ছিল। আগের সফরে তিনি পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং ওই অঞ্চলে সংঘাত নিরসনে তেহরানের প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা ফোনে কথা বলতে পারেন: ট্রাম্প
ফক্স নিউজ চ্যানেলে রবিবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, প্রতিনিধিদলকে ১৭ ঘণ্টার দীর্ঘ ফ্লাইটে পাঠানোর চেয়ে তিনি এই সিদ্ধান্তই (ফোনে কথা বলা) নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘সব তুরুপের তাস আমাদের হাতে। তারা যদি কথা বলতে চায়, তবে তারা আমাদের কাছে আসতে পারে অথবা আমাদের কল করতে পারে।’
শনিবার তেহরানের শীর্ষ কূটনীতিক পাকিস্তান ত্যাগ করার পর আলোচনা ভেস্তে গেছে বলে মনে হচ্ছিল। এর পরপরই ট্রাম্প জানান যে, তিনি প্রতিনিধিদের ইসলামাবাদ সফর না করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ন্যাটো সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন যে, তিনি এই সামরিক জোটের ওপর খুবই হতাশ। ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর সদস্য দেশগুলো তার সহায়তার আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এই জোট ত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বহু বছর ধরে তাদের সেবা দিয়ে আসছি, ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করছি; অথচ যখন আমাদের সাহায্যের প্রয়োজন হলো তখন তাদের পাওয়া যায়নি। তাই আমাদের বিষয়টি মনে রাখতে হবে।’
এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড সোমবার ভোরে জানিয়েছে যে, ইরানের ওপর চলমান অবরোধের সময় তারা এ পর্যন্ত ৩৮টি জাহাজকে ঘুরিয়ে দিয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলের হামলা
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে কামান ও বিমান হামলা চালিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে লড়াই তীব্র হওয়ায়, তারা তথাকথিত ‘ফরওয়ার্ড ডিফেন্স লাইন’-এর উত্তরে হিজবুল্লাহ এবং রকেট লঞ্চার ও অস্ত্রাগারসহ বিভিন্ন অস্ত্রাগারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫০৯
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রবিবার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে জানিয়েছে যে, গত ২ মার্চ শুরু হওয়া সর্বশেষ ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধে ৭ হাজার ৭৫৫ জন আহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হিজবুল্লাহর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইরানকে আক্রমণ করার দুই দিন পর হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালালে যুদ্ধ শুরু হয়।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি ১৭ এপ্রিল কার্যকর হয়েছিল। বৃহস্পতিবার এই যুদ্ধবিরতি আরও তিন সপ্তাহের জন্য বাড়ানো হয়েছে।
রবিবার ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ড ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যেকার যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলছে।
হিজবুল্লাহ বলেছে, ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তাদের এই হামলা ‘একটি বৈধ জবাব।’
বাহিনীটি লেবাননের কর্তৃপক্ষেরও সমালোচনা করে বলেছে, ‘তারা নিজেদের এক বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ফেলেছে যখন তারা এমন একটি জবরদখলকারী ও অবৈধ সত্তার প্রতিনিধিদের পাশে লজ্জাজনকভাবে ছবি তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যে সত্তা লেবাননের ভূমি ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে এবং তার জনগণকে হত্যা অব্যাহত রেখেছে।’
শান্তি প্রচেষ্টা নিয়ে ফোনে কথা বলেছেন ইরান ও কাতারের শীর্ষ কূটনীতিকরা
ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ করার জন্য তার দেশের সর্বশেষ উদ্যোগ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সম্পর্কে কাতারের শীর্ষ কূটনীতিককে অবহিত করেছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রবিবার কাতারের শীর্ষ কূটনীতিক শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।
শান্তি প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য কূটনৈতিক সমন্বয়ের গুরুত্ব দুই মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে আরাঘচি তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে লিখেছেন।
কাতার ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টা নিয়ে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি কাতার ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
মন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক পৃথক আলোচনায় যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখা এবং এর মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান নিশ্চিত করার জন্য কূটনৈতিক পথের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন আবদেলাত্তি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ আলোচনা এগোচ্ছে, বলছেন বিশ্লেষকরা
পাকিস্তানের স্বাধীন রাজনৈতিক বিশ্লেষক সৈয়দ মোহাম্মদ আলী বলেছেন, এই সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া আলোচনায় ট্রাম্পের দূত না পাঠানোর সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অগ্রসর হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ইসলামাবাদ আলোচনার দ্বিতীয় দফার বিলম্বকে যুদ্ধবিরতি আলোচনা ও শান্তি প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা উচিত নয়, তা সঠিক পথেই রয়েছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা রাতারাতি প্রশমিত করা সম্ভব নয় এবং আলোচনা প্রক্রিয়ার জন্য উভয় পক্ষের প্রজ্ঞা ও ধৈর্য প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এটি একটি সংবেদনশীল ও জটিল প্রক্রিয়া এবং এতে উত্থান-পতন থাকবে, যা এ ধরনের বিষয়ে স্বাভাবিক। তবে ভালো দিকটি হলো, যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং উভয় পক্ষই এমনভাবে সংঘাতের অবসান ঘটাতে আগ্রহী, যাতে নিজ দেশে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা এগিয়ে যাচ্ছে
রবিবার দুজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা অব্যাহত রেখেছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সত্ত্বেও পরোক্ষ যুদ্ধবিরতি আলোচনা এখনও চলছে।
ওমানে একটি সংক্ষিপ্ত সফর শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পরপর দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো রবিবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
শনিবার আরাঘচি ইসলামাবাদে ছিলেন এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আঞ্চলিক সংঘাতের অবসানের বিষয়ে তেহরানের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অবরোধ তুলে নিতে বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বরাতে দেশটির গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে রাখলে তার দেশ কোনো আলোচনায় বসবে না।
আইএসএনএ এবং তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, পেজেশকিয়ান শনিবার রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে ফোনে বলেছেন যে, নতুন দফা আলোচনার সুযোগ করে দিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত প্রথমে অবরোধসহ কার্যনির্বাহী বাধাগুলো দূর করা।
পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী এই ফোনকলটিকে একটি আন্তরিক ও গঠনমূলক আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার পাকিস্তানি সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে তার একদিনের সফর শেষ করেছেন।
ট্রাম্প তার দূতদের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করার পর, আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টায় এই সফর কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি।
৩ দিন আগে