রাজনীতি
দেশের ভেতরে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, সবাইকে সজাগ থাকতে হবে: তারেক রহমান
দেশের ভেতরের কোনো কোনো মহল ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যারা এদেশ থেকে পালিয়ে গেছে, তারা যেভাবে ভোট ডাকাতি করেছিল, ঠিক একইভাবে সেই ষড়যন্ত্র আবার শুরু হয়েছে। সেই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধ সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে বিএনপির প্রথম নির্বাচনি জনসভায় তিনি এই আহ্বান জানান।
সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের পর স্থানীয় জনসভায় ভাষণের মাধ্যমে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রচারণা শুরু করেছে বিএনপি। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বহু মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে দেশ গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে উপস্থিত লাখো জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, কিন্তু আমরা লক্ষ করছি, দেশের ভেতরের কোনো কোনো মহল ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে। গত কয়েকদিনে পত্রপত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছে—মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটগুলো কীভাবে ডাকাতি করা হয়েছে। যারা এদেশ থেকে পালিয়ে গেছে, তারা যেভাবে আপনাদের ভোট ডাকাতি করেছিল, ঠিক একইভাবে সেই ষড়যন্ত্র আবার শুরু হয়েছে। সেই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধ আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশের মানুষ দেখিয়ে দিয়েছে, জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো ষড়যন্ত্রকে তারা প্রতিহত করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, সবকিছুর মালিক আল্লাহ। অথচ নির্বাচনের আগেই একটি দল এই দেব, ওই দেব বলছে। সেটা যদি তারা বলে, তাহলে শিরকি করা হচ্ছে। কাজেই আগেই আপনাদের ঠকাচ্ছে, নির্বাচনের পরে তাহলে আপনাদের কেমন ঠকানো ঠকাবে, বোঝেন এবার। তারা শুধু আপনাদের ঠকাচ্ছেই না, যারা মুসলমান তাদের শিরকি করাচ্ছে, নাউজুবিল্লাহ!
তিনি বলেন, কেউ কেউ বলে—অমুককে দেখেছি, তমুককে দেখেছি, এবার একে দেখেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় অনেকের ভূমিকা আমরা দেখেছি। যাদের ভূমিকার কারণে এদেশের লাখ লাখ ভাইয়েরা শহিদ হয়েছে, এদেশের লাখ লাখ মা-বোনেরা সম্মানহানি হয়েছেন। কাজেই তাদের তো বাংলাদেশের মানুষ দেখেই নিয়েছে। এই কুফরি, হঠকারিতা ও মিথ্যার বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
১ ঘণ্টা আগে
সিলেটে বিএনপির নির্বাচনি জনসভা শুরু, সমাবেশস্থলে তারেক রহমান
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিএনপির। সিলেট থেকে বরাবরের মতো এবারও প্রচারণা শুরু করতে যাচ্ছে দলটি। এ উপলক্ষে আলিয়া মাদরাসা মাঠের জনসভায় দুপুর সাড়ে ১২টায় উপস্থিত হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির নির্বাচনি জনসভা শুরু হয়েছে। সেখানে বিএনপির স্থানীয় নেতারা বক্তব্য শুরু করেছেন।
সিলেট জেলা ও মহানগর এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে এ জনসভার আয়োজন করেছে। এতে সভাপতিত্ব করছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি বক্তব্য দেবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বেলা ১১ টার দিকে সভাস্থলে পৌঁছান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করছেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।
জনসভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি এহসান। এ সময় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ধানের শীষ নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সুদীপ জ্যোতি (এষ) বলেন, ‘আজকের দিনটি আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো। আমাদের স্বপ্ন ছিল দলের চেয়ারম্যানকে নিয়ে সিলেটে জনসভা করা। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখার সময় এসেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করে নতুন স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।’
মঞ্চে আছেন বিএনপি সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, সিলেট–২ আসনের তাহসিনা রুশদীর প্রমুখ। এ ছাড়া সুনামগঞ্জের বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার সংসদ সদস্য প্রার্থীরা আছেন। এ ছাড়া সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা উপস্থিত রয়েছেন।
সকালে গ্র্যান্ড সিলেট হোটেলে ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এতে সিলেটের ১৯টি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অরাজনৈতিক শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
জনসভায় যোগ দিতে গতকাল (বুধবার) রাত ৮টার দিকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আকাশপথে সিলেটে আসেন। পরে তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পাশাপাশি তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ কবরস্থানে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর কবরও জিয়ারত করেন।
এরপর তিনি নগরের উপকণ্ঠে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বিরাইমপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে উপস্থিত নেতা-কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি। শ্বশুরবাড়িতে কিছু সময় অবস্থান করে সিলেট বিমানবন্দর–সংলগ্ন হোটেলে ফেরেন তিনি।
উল্লেখ্য, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জিয়াউর রহমান এবং সদ্যপ্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও প্রতিবার নির্বাচনের আগে মাজার জিয়ারতের পাশাপাশি সিলেটে প্রথম নির্বাচনি জনসভা করতেন।
৩ ঘণ্টা আগে
চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেবে বিএনপি: তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে দেশের চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। পরিবারের প্রধান নারীকে এ কার্ড দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে সিলেটের একটি পাঁচ তারকা হোটেলের কনফারেন্স রুমে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
এই কার্ডের সুবিধাদি প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, এর মাধ্যমে মাসিক ভিত্তিক একটি পরিবারকে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া দেওয়া হবে খাদ্যসামগ্রী।
তিনি আরও বলেছেন, বিদেশ গমনেচ্ছুদের জন্য বহুমাত্রিক দক্ষতা বাড়াতে কারিগরি শিক্ষা আধুনিকায়ন করা হবে। বিভিন্ন দেশের ভাষা শিক্ষায়ও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
‘দ্য প্ল্যান, ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে তরুণদের কথা শুনেন তারেক রহমান। তরুণদের উদ্দেশে নিজেও দিকনির্দেশনা দেন।
এতে উপস্থিত তরুণরা সকলেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত সাধারণ শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। এই মতবিনিময় পর্ব শেষে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় যোগ দেবেন তারেক রহমান।
৪ ঘণ্টা আগে
আজ সিলেট থেকে ভোটের প্রচারণা শুরু করবেন তারেক রহমান
মর্যাদার সিলেট-১ আসন থেকে বরাবরের ন্যায় এবারও নির্বাচনি জনসভা করতে যাচ্ছে বিএনপি। ইতোমধ্যে নির্বাচনি জনসভাকে ঘিরে সিলেটের ঐতিহাসিক সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে জড়ো হতে শুরু করেছেন দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় আলিয়া মাদরাসা মাঠে সিলেটবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে জনসভাকে কেন্দ্র করে আলিয়ার মাঠে জড়ো হতে থাকেন দলটির নেতা-কর্মীরা। অনেকেই সিলেটের দূর-দূরান্ত থেকে এসে বুধবার রাতেই মাঠে অবস্থান নিতে দেখা যায়। তারেক রহমানের আগমনে সিলেট বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসবের আমেজ।
আজ সিলেট থেকে জনসভার মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করবেন তারেক রহমান।
এর আগে, বুধবার রাত ৮টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখান থেকে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে দিবাগত রাত ১টার দিকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বিরাইমপুরে তার শ্বশুরবাড়িতে যান।
বিরামপুরে তারেক রহমান হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।
এ সময় তারেক রহমান বলেন, ‘ড. জুবাইদা যেমন আপনাদের সন্তান, আমিও আপনাদের সন্তান। আমার দাবি রয়ে গেল যাতে ১২ তারিখে এই এলাকা থেকে ধানের শীষ বিজয়ী হয়। আপনাদের কাছ থেকে এই জবান নিয়ে গেলাম।’
জানা যায়, মঠের পূর্ব পাশে নির্মাণাধীন মঞ্চের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। মঞ্চের সামনে প্রায় ৩০ ফুট এলাকাজুড়ে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। ব্যারিকেডের ভেতরের উত্তর অংশে জুলাইয়ের শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের বসার জন্য আলাদা জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। সমাবেশস্থল থেকে সিলেট বিভাগে ১৯টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন তারেক রহমান।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা সাড়ে ১১টায় আলিয়া মাদরাসা মাঠের জনসভায় বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। ওই সমাবেশে সিলেট জেলার ছয়টি এবং সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচটি আসনে দল ও জোট মনোনীত প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে।
৫ ঘণ্টা আগে
রাজশাহীতে জাপা প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ, নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণা এনসিপি নেতার
রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ চলাকালে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী আফজাল হোসেনের অংশগ্রহণের সময় প্রতিবাদ জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা।
প্রতীক বরাদ্দের সময় আফজাল হোসেনের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে হাতে উঁচু করে বক্তব্য দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও জেলা এনসিপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম সাজু।
এ সময় মাইক নিয়ে নাহিদুল ইসলাম সাজু বলেন, গত ১৭ বছর ধরে আমরা দেখেছি আওয়ামী লীগ কীভাবে খুনি ও দোষীদের সহযোগিতা করেছে। যারা তাদের সহযোগিতা করেছে, তাদের যদি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়, তাহলে আমরা ডিসি অফিস ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি দেব। জাতীয় পার্টি বা আওয়ামী লীগের দোসরদের প্রতীক বরাদ্দ দিলে রাজশাহীতে কোনো জাতীয় নির্বাচন হবে না। আমরা অবশ্যই এর প্রতিবাদ করব।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার তার অভিযোগ গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন যে নির্দেশনা দেবে, আইন মেনে সেই অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী প্রতীক গ্রহণ করেন। এ সময় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সভাকক্ষে কিছু সময়ের জন্য হৈচৈ সৃষ্টি হয়।
পরে নাহিদুল ইসলাম সাজু সাংবাদিকদের জানান, তারা লিখিত অভিযোগ জমা দেবেন এবং নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা প্রতিহত করার কর্মসূচি নেবেন।
২৩ ঘণ্টা আগে
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বিএনপি: মাহদী আমীন
ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটে বিএনপি ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষ নেবে বলে জানিয়েছেন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমীন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের আমরা বলেছি, নির্বাচনি প্রচারণায় গণভোটে আমরা হ্যাঁ-এর পক্ষে অবস্থান নেব।’
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
গণতন্ত্রে ভিন্ন মত ও ভিন্ন পথ থাকবে এটাই স্বাভাবিক উল্লেখ করে মাহদী আমীন বলেন, ‘যেসব নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, সেগুলো নিয়ে আমরা সংসদে আলোচনা করব।’
তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানে আমরা দেখেছি মূল রাষ্ট্র কাঠামোর একটা পরিবর্তন করা। সরকারের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছ থাকবে, জবাবদিহিমূলক থাকবে সবার আগে কাজগুলো বিএনপি করেছে। আমাদের যে ৩১ দফা রয়েছে সেখানে সংস্কারের সবচাইতে মৌলিক ভিত্তিগুলো ধারণ করে। সুতরাং আমরা বলছি, গণভোটে হ্যাঁ ভোটে অবস্থান নেব।’
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কার, কঠোর বার্তা আর বিভিন্ন পর্যায়ে সমঝোতা ও আলোচনার পরও ৭৯টি আসনে বিএনপি অন্তত ৯০ জন দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রার্থী হয়েছেন।
এ বিষয়ে দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এই মুখপাত্র বলেন, ‘দেখুন গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, তার আগে ফ্যাসিবাদবিরোধী একটা আন্দোলন ছিল। দীর্ঘ সময় দেশের সাধারণ মানুষ যেমন ভোট দিতে পারেন নাই, একইসঙ্গে এটা সত্য, অনেক ত্যাগী সংগ্রামী রাজনীতিবিদ রয়েছেন, যারা কখনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। ফলে এতে দীর্ঘ সময় পরে যখন নির্বাচন হচ্ছে, বিএনপির মতো একটা বড় রাজনৈতিক দল, এখানে অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা থাকবে; কিন্তু প্রতিটি আসনে তো একজনের বেশি মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয় না!’
তিনি বলেন, ‘অনেক আসনে অনেক প্রার্থী রয়েছেন, অনেক ত্যাগী অনেক সংগ্রামী তারা। দলের জন্য অনেক ভূমিকা রয়েছে। কারো কারো ভেতরে অনুভূতি রয়েছে, উনি আসনটিতে মনোনয়ন পেতে পারতেন। (মনোনয়নপত্র) প্রত্যাহারের সময় চলে গেছে। এখন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি থেকে আলাপ-আলোচনা করা হবে, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে আলোচনা করা হবে। তারপরে যদি কেউ প্রার্থী থাকেন, অবশ্যই দল থেকে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ সময় নির্বাচন আচরণবিধি পূর্ণাঙ্গভাবে অনুসরণের মধ্য দিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে হবে জানান তিনি। একইসঙ্গে সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে এ নির্বাচন একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী বলেন, বাসায় বাসায় গিয়ে ভোটার আইডি কার্ড ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি জনগণকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, কিছু জায়গায় পোস্টাল ব্যালটের নামে সংগঠিতভাবে আইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো অনাকাঙ্ক্ষিত এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করে। এ ছাড়া বিএনপি নেতাদের ইতিবাচক রাজনীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার আহ্বান জানানো হবে এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে বলা হবে বলেও জানান মাহদী।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হলে এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রকৃত অর্থে মূল্যায়িত হলে বিএনপি জনগণের রায় নিয়ে সরকার গঠন করবে।’
২৩ ঘণ্টা আগে
সিলেট সফরের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করছেন তারেক রহমান
আগামীকাল ২২ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিলেট সফরের মধ্য দিয়ে এই প্রচারণার সূচনা হবে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে ৯০ নম্বর রোডের নির্বাচনি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, ঘোষিত তফসিল মোতাবেক, তিনি (তারেক রহমান) আজ (বুধবার) রাত সোয়া ৮টায় বিমানযোগে সিলেট জেলায় পৌঁছাবেন। এরপর গভীর রাতে হজরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন এবং আগামীকাল সকালে সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে নির্বাচনি সমাবেশে যোগ দেবেন।
মাহদী আমিন জানান, নির্বাচনি প্রচারণা উপলক্ষে আজ দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে ঢাকার লেকশোর হোটেলে দলের নির্বাচনি ‘থিম সং’ উন্মোচন করা হবে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন।
তিনি জানান, সিলেটের জনসভা শেষ করে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। যাত্রাপথে তিনি মৌলভীবাজারের শেরপুর, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, নরসিংদী এবং নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার বা রূপগঞ্জে নির্বাচনি পথসভা ও সমাবেশে অংশ নেবেন। এরপর রাতেই ঢাকায় গুলশানের বাসভবনে ফেরার কথা রয়েছে তার।
বিএনপি চেয়ারম্যানের এই সফরে দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ত্যাগী ও শীর্ষ নেতাদের সফরসঙ্গী করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে চিঠির মাধ্যমে এই কর্মসূচির বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। আমরা বিশ্বাস করি, ইতিবাচকভাবে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনি প্রচারণায় গুরুত্ব দিয়ে, প্রতিটি রাজনৈতিক দল সর্বোচ্চ সহনশীলতা ও সহাবস্থান নিশ্চিত করবে। সব রাজনৈতিক দলের কাছে আমরা আহ্বান জানাই, নির্বাচনি আচরণবিধি পূর্ণাঙ্গ প্রতিপালনের মাধ্যমে বহুল আকাঙ্ক্ষিত নির্বাচনে যেন জনপ্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটে। আমাদের সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে এই নির্বাচন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে, ইনশাআল্লাহ।
১ দিন আগে
নির্বাচনে নির্ধারিত হবে দেশ গণতান্ত্রিকদের হাতে থাকবে, নাকি উগ্রপন্থিদের হাতে যাবে: ফখরুল
আগামী নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, সামনের নির্বাচনে নির্ধারিত হবে দেশ উদার গণতান্ত্রিকদের হাতে থাকবে, নাকি উগ্রপন্থি-রাষ্ট্রবিরোধী লোকদের হাতে যাবে। আমাদের অবশ্যই উদারপন্থি রাস্তা বেছে নিতে হবে, গণতান্ত্রিক রাস্তা বেছে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেকে বলছেন নির্বাচন হবে কিনা, বলছেন বাধা দেবে, নির্বাচন করতে দেবে না...কিন্তু তাদের তিনটা ভোটও নেই। তারাই আবার বড় গলায় কথা বলে। জনগণ যদি আমাদের চায় আমরা থাকব, বাদ দিলে বিরোধী দলে থাকব। তবে আগে থেকেই গলাবাজি কেন?’
তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের এই পরীক্ষাটা খুব কঠিন পরীক্ষা। এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে যে, এই দেশ কি লিবারেল ডেমোক্রেটদের হাতে থাকবে? নাকি আপনার সমস্ত উগ্রপন্থি রাষ্ট্রবিরোধী লোকজনের মধ্যে থাকবে?
‘আমাদের অবশ্যই সেই উদারপন্থি রাস্তা বেছে নিতে হবে, গণতন্ত্রের রাস্তা বেছে নিতে হবে, মানুষের কল্যাণের রাস্তা বেছে নিতে হবে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি বিপুল ব্যবধানে জয় পাবে, সেজন্য নানা কিছু শুরু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুষ্টামি করছে তারা, যারা অতীতে বাংলাদেশকেই স্বীকার করেনি, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি, যারা আমাদের মা-বোনদের নির্যাতন করেছে-তুলে নিয়ে গিয়েছিল। সেই হিসাব আমরা ভুলিনি।’
ধর্মের নামে ভোট চাওয়াকে ভণ্ডামি আখ্যা দিয়ে ফখরুল বলেন, ‘রাজনীতি করছেন, রাজনীতি করেন, সিধা রাস্তায় করেন। ধর্মকে ব্যবহার করে, মানুষকে বিভ্রান্ত করে, ভুল বুঝিয়ে নয়।
‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতে যেতে পারবে! চিন্তা করেন। তাহলে আর নামাজ পড়া, আল্লাহর কাছে কমপ্লিট সারেন্ডার (সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ) করা, ঈমান আনা—এগুলো দরকার নাই, নাকি? আমাদের এখানে অনেক উলামা আছেন, তারা বলতে পারবেন।’
সাতচল্লিশ ও একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এরা মুনাফিকি করে মানুষকে ভুল বোঝায়,… তারা এই সমস্ত করে, বরাবর। আজকে না, পাকিস্তান যখন হয় ভারতবর্ষে, যখন স্বাধীন হচ্ছে, যখন যে যার লড়াই করছেন… মুসলমানদের আবাসস্থল পাকিস্তানের জন্য তখন তাদের নেতা মাওলানা মওদুদী আন্দোলন করেননি, বিরোধিতা করেছেন। আজকে বলতে বাধ্য হচ্ছি এসব কথা, কারণ তারা এই কথাগুলো আজকে বিভিন্নভাবে মিথ্যা প্রচার করেন।
‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছেন প্রতিটি মানুষ। তারা (জামায়াত) বিরোধিতা করেছে, ঠিক না? আজকে প্রতিটি মানুষ যখন ভোটের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের রাজনীতি, তারেক রহমানের নতুন রাজনীতি, আধুনিক রাজনীতি যা বাংলাদেশকে পাল্টে দেবে, তা গ্রহণ করবার জন্য মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে, তখন তারা আবার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে ধর্মের নামে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ধর্মে বিশ্বাস করি। আমাদের নেতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেব, তিনি প্রথম কোরআন শরিফের কথা বলেছেন সংবিধানে। তিনি প্রথম সংবিধানের মধ্যে বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম দিয়েছেন। তিনি প্রথম আল্লাহর উপর অবিচল আস্থা বিশ্বাসের কথা বলেছেন।’
সংস্কার বিষয়ে গণভোটের প্রক্রিয়া নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অসৎ উদ্দেশ্যের অভিযোগও করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘অনেকে আমাদের প্রশ্ন করে— আপনারা সংস্কারের পক্ষে না বিপক্ষে? এটা (সংস্কার) তো আমারই সন্তান। আমি তো তার জন্য প্রাণ দিতে পারি। এই যে জিনিসগুলো (প্রশ্ন তোলা) সবসময় বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘সংস্কার প্রস্তাবে সবাই যেখানে একমত হয়েছে, সেখানে অবশ্যই “হ্যাঁ” আছে, সেখানে কোনো না নেই। কিন্তু তারা কারসাজি, বেইমানি করেছে। আমার বলতে কোনো দ্বিধা নেই, যেগুলোতে একমত হইনি সেগুলোও ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে (জুলাই সনদে)। তারপরও আমরা দেশ ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে মেনে নিয়েছি। আমাদের কাছে যেটা গ্রহণযোগ্য নয় সেটাও মেনে নিয়েছি, পরে সংসদে গিয়ে দেখা যাবে।’
জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরে ফখরুল বলেন, ‘একজন অনন্য নেতা ছিলেন তিনি। তার নেতৃত্বে আলাদা একটা ভূখণ্ড তৈরি হয়েছে এবং স্বাধীন একটা ভূখণ্ড তিনি এই জাতিকে উপহার দিয়েছেন।
‘গত কয়েকদিন আগে আমাদের আরেকজন নেত্রী তার সমস্ত জীবন দিয়ে আমাদের জন্য কাজ করে গেছেন, আমাদের গণতন্ত্রকে মুক্ত করেছেন, আমাদের পথ দেখিয়েছেন, সেই নেত্রীকে আমরা হারিয়েছি। এই দেশের কোটি মানুষ সেদিন সমবেত হয়েছিল ওই পার্লামেন্ট চত্বরে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নেত্রী যিনি গৃহবধূ ছিলেন, তিনি বাইরে বেরিয়ে এসে জিয়াউর রহমানের সেই পতাকা আবার উপরে তুলে ধরেছেন। এরপর তাদেরই উত্তরসূরী তারেক রহমান, তিনি সেই পতাকা তুলে ধরেছেন।’
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
২ দিন আগে
নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে দুটি দল: মির্জা আব্বাস
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মির্জা আব্বাস দাবি করেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং করে (কারসাজি) ক্ষমতায় যেতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। এ বিষয়ে তিনি নিজ দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই অভিযোগ করেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘দেশ এখন ক্রান্তিলগ্নে। আশঙ্কা করছি, আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে কিছু আসনে জয়লাভ করবে তারা। দুটি রাজনৈতিক দল—একটি বড়, আরেকটি তাদের বাচ্চা। বিএনপিকে হারিয়ে এই দুটি দল যেন ক্ষমতায় আসতে পারে, এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায়ের লোকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে তারা।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে কিছু কিছু ছেলে-পেলে খুব আজেবাজে কথা বলছে। তারা নিজেরা চাঁদাবাজি করে বিএনপির নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে, অথচ সরকার তাদের। তাই এখন পর্যন্ত একজন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করেনি। আরেকটি দল বলছে, আমাদের একবার দেখেন। আমরা বলব, একাত্তরে তোমাদের দেখেছি কত মানুষকে কচুকাটা করেছ।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি বাচ্চা দল নিজেদের জুলাই যোদ্ধা দাবি করেছে। তারা আমাদের বিরুদ্ধে নানা কথা বলছে। তোরা যা কিছু কর, আমি কিছু কমু না। আমার গলায় সাইনবোর্ড নিয়ে চলতে হবে না যে আমার বাড়ি শাহজাহানপুর, কিন্তু তাদের সারাক্ষণ নিজেদের পরিচয় জাহির করতে হয়। আমরা কোনো ধান্দাবাজ ও কসাইয়ের কাছে দেশ তুলে দেব না।’
‘জিয়ার জন্ম না হলে আধুনিক বাংলাদেশ হতো না ও দেশ স্বাধীনতা পেত না’ উল্লেখ করে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘যে যাই বলুক, আমরা আমাদের কথা বলেই যাব। অনেক সেক্টর কমান্ডার ভারত থেকে যুদ্ধ করেছেন। আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সিলেটে থেকে যুদ্ধ করেছেন। বাংলাদেশের ক্রান্তিলগ্নে জিয়া ও খালেদা জিয়ার আবির্ভাব ঘটেছে। বর্তমানেও ক্রান্তিলগ্ন চলছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে তা অতিক্রম করব।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
২ দিন আগে
কুষ্টিয়া জামায়াতের আমির হাশেমের জানাজা সম্পন্ন, সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও কুষ্টিয়া জেলা আমির অধ্যাপক আবুল হাশেমের জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে শহরের হাউজিং চাঁদাগাড়া ঈদগাহ মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় জমায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মী ছাড়াও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর উপজেলা ফুটবল মাঠে তৃতীয় জানাজা শেষে উপজেলার ওয়াপদা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে, গতকাল (সোমবার) রাতে তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগরে প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ও আলোচিত ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে গতকাল (সোমবার) শহরে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয় জেলা জামায়াত। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তৃতা করছিলেন আবুল হাশেম। একপযার্য়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তৎক্ষণাৎ তাকে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকায় বেসরকারি হাসপাতাল মান্নান হার্ট ফাউন্ডেশনে নেওয়া হয়। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আবুল হাশেমের এমন মৃত্যুতে জামায়াতের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরাও। আবুল হাশেম এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা ছিলেন।
২ দিন আগে