রাজনীতি
এমপি মনির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান ছাত্রদল সভাপতির
জুলাই আন্দোলন নিয়ে বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনির বক্তব্যকে ‘অযাচিত’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে রাকিব লেখেন, ‘প্রিয় নিলোফার চৌধুরী মনি আপা, এমপি, আপনি দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের সারথি ছিলেন। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আপনার অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি টেলিভিশন টকশোতে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আপনার অযাচিত বক্তব্যে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত এবং ক্ষুব্ধ। আপনার বক্তব্য আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করলাম।’
নিলোফার চৌধুরী মনিকে উদ্দেশ করে রাকিব আরও লেখেন, ‘আমরা অবগত রয়েছি, আপনি জুলাইয়ের চেতনা ধারণকারী একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ। তাই জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বক্তব্যে আপনি আরও বেশি সংযত ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন সেটাই প্রত্যাশা করি।’
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি এক টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি প্রশ্ন তোলেন, জুলাই আন্দোলনে স্নাইপার চালিয়েছিলেন কারা।
তিনি বলেন, ‘অনেক কিছুই আমি বলতে চেয়েও বলতে পারি না। কারণ অনেক কিছু বললে অনেকের কাপড়-চোপড় ঠিক থাকবে না। যারা আজ কথা বলে, তারা কখন কোথায় কীভাবে সেনাবাহিনীর সঙ্গে দেখা করে এই কাজগুলো করেছিল? তাদের কতটা ভূমিকা ছিল? যাদের বলা হয় যে তারাই (আন্দোলনের) মেইন; এই আন্দোলনে কারা মেইন ছিল, কেউ জানে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আন্দোলনে অংশ নেওয়াদের একজন আরেকজনকে চেনে নাই। পাশে হাঁটতে গেছে, আন্দোলন করতে গেছে; পাশের একজন পড়ে গেছে। মনে করছে যে নরমাল পড়েছে। আসলে সে মারা গিয়েছে। গুলিটা সামনে থেকে আসছে না পিছন থেকে আসছে, সেটাও জানে না। গুলির কোনো শব্দ হয় নাই, এটা স্নাইপারের গুলি ছিল। অনেকেই যারা পড়ে গেছে।’
তখন সঞ্চালক প্রশ্ন করেন, ‘তার মানে এটা কি কোনো ডিজাইন ছিল বা ষড়যন্ত্র?’ জবাবে নিলোফার চৌধুরী বলেন, ‘ডিজাইন তো অবশ্যই ছিল, ষড়যন্ত্র কিনা আমি বলতে পারবো না।’
জুলাই আন্দোলনে এমন নিঃশব্দে হত্যাযজ্ঞ কারা চালিয়েছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘কারা মারল, কেউ জানে না। সামনে কোনো পুলিশও ছিল না। পুলিশের গুলি হলে তো সামনেই হতো। হতে পারে কোনো বাসা থেকে টার্গেট করে, ওপরতলা থেকে টার্গেট করে হয়তো গুলি করা হয়েছে। আমার নিজের কাছে অনেক প্রশ্নের উত্তর নাই।’
১৯ মিনিট আগে
‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী
মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে রচিত ‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিন খণ্ডে প্রকাশিত গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি।
বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক কালাম ফয়েজী রচিত গ্রন্থটিতে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্র পরিচালনা, নেতৃত্ব, উন্নয়ন দর্শন এবং জাতীয় জীবনে তার বহুমাত্রিক অবদান তুলে ধরা হয়েছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
১ ঘণ্টা আগে
মামলা করতে বাধা নেই বলেই ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিগত ১০-১৫ বছরের তুলনায় দেশে খুন, ডাকাতিসহ সার্বিক অপরাধ কমলেও মামলা করতে কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক বাধা না থাকায় এখন ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ এবং এর ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি গণমাধ্যমের খবর উদ্ধৃত করে গত এপ্রিল ও মার্চ মাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘পুরো বাজেটের সবটাই যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া হয় বা এই মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তারপরও কতটুকু উন্নয়ন হবে, তা আমরা জানি না। তারপরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বক্তব্য দেন সারা দেশ মুগ্ধ হয়ে শোনে। আমি একজন আইনের শিক্ষার্থী, আমিও উনার ডিবেট মুগ্ধ হয়ে শুনি। কিন্তু উনার এই মুগ্ধতা যদি উনি উনার মন্ত্রণালয়ে ছড়িয়ে দিতে পারতেন এবং তার মন্ত্রণালয়ের কাজের মাধ্যমে, তাহলে এটি ছাঁটাই করার... প্রস্তাব আমি রাখতাম না।’
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এর আগেও তিনি সংসদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়টি ডেটাসহ তুলে ধরেছেন। খুনের চিত্র, ধর্ষণের চিত্র, নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র, ডাকাতির সংখ্যা মাসওয়ারী দিয়েছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্বে আসার পর থেকে এই পর্যন্ত সমস্ত ডেটায় আমরা ঐতিহাসিকভাবে এগিয়ে আছি, উন্নত আছি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ষণের কেস রেকর্ডের ক্ষেত্রে আমরা একটু বেশি ধর্ষণের চিত্র পেয়েছি। তার একটা কারণ আছে, আগে ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিরা রেকর্ড করতে থানায় যেতেন না বা যেতে পারতেন না, সামাজিক বা রাজনৈতিক বিভিন্ন হস্তক্ষেপের কারণে। এখন থানায় গেলেই অথবা অনলাইনে জিডিসহ অন্যান্য কিছু দায়ের করতে পারেন। এফআইআর দাখিল করতে পারেন। এখানে কোনো ইন্টারফেয়ারেন্স নেই। যার কারণে সংখ্যাটা একটু বেড়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তবে সুখের কথা হলো, ধর্ষণ যেখানেই হোক, শিশু হোক, নারী হোক, যে অবস্থাতে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বিভাগ গ্রেপ্তারসহ চার্জশিট প্রদানের জন্য এবং মামলায় সহযোগিতা করার জন্য সাক্ষী উপস্থাপনসহ ট্রায়েলের সমস্ত ক্ষেত্রে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেখা গেছে।
তিনি বলেন, পল্লবী শিশু হত্যার বিচার হয়েছে ১৫ থেকে ১৭ দিনের মধ্যে। এটা বাংলাদেশের রেকর্ড। তনু হত্যার আসামিদের ডিএনএ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে গ্রেপ্তার করা সক্ষম। বাকিগুলোও হবে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, পুলিশ দলীয় পরিচয় দেখে কাউকে গ্রেপ্তার করে না; অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত করে। বিরোধী দলের কোনো নেতা-কর্মী অপরাধে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলও দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে, যা তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়কে আমরা কখনও প্রাধান্য দেব না। দেশের শান্তি, উন্নয়ন, অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতার জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকা দরকার।
মন্ত্রী বলেন, গ্রাম পুলিশ থেকে শুরু করে আইজিপি পর্যন্ত সবাই কাজ করে। কিন্তু জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া কোনো দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন হয় না। এ সময় সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোকেও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে স্বয়ংসম্পূর্ণ বিভাগ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। সেখানে ডগ স্কোয়াড, অস্ত্র ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলায় মাদক পরীক্ষাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অনলাইন ও অফলাইন জুয়া এবং সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হচ্ছে। ১৮৬৭ সালের পুরোনো জুয়া আইনের পরিবর্তে আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে জুয়া ও বেটিং নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
২ দিন আগে
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ছাত্রদলের মাসব্যাপী কর্মসূচি
ছাত্র-জনতার জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপনে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলমের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলটি এ তথ্য জানায়।
আজ (মঙ্গলবার) রাত ১১টা থেকে এ কর্মসূচির সূচনা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান স্মরণ, শহিদ ও আহতদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন, ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ, সকল অংশীজনদের অবদানের স্বীকৃতি ও ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার দীর্ঘ ধারাবাহিক লড়াইয়ের বীরোচিত বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কর্মসূচির প্রথম ধাপে আগামী ১ জুলাই প্রথম প্রহরে জাতীয় শহিদ মিনারে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘আলোয় আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ শিরোনামে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের হুইপ এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল।
২ দিন আগে
অন্য কোনো নামে আওয়ামী লীগ কর্মসূচি পালন করতে পারবে না: তথ্য উপদেষ্টা
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অন্য কোনো নাম ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ কর্মসূচি পালন করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রবীণ আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ গঠন হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সফট বা হার্ড আওয়ামী লীগ না। আমি আগেও বলেছি, এই নির্বাচনে (স্থানীয় সরকার নির্বাচন) বিএনপিও তো নাই, আছে কি? স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কি বিএনপি আছে? জামায়াত, এনসিপি আছে? নেই। এক সময় ছিল, মানে যে আইনটা মাঝখানে পরিবর্তিত হয়েছিল আওয়ামী লীগের সময়, সেখানে একটা নির্বাচনে দল ছিল, সেটা হচ্ছে চেয়ারম্যান বা মেয়র। তখনও কিন্তু মেম্বার এবং কমিশনার নির্বাচনে কোনো দল অংশগ্রহণ করত না। এখন এটা তুলে দেওয়া হয়েছে, মানে আমরা আগের জায়গায় চলে গেছি।’
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচনে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত কেউই অংশগ্রহণ করছে না। এটা হলো একদম নিশ্চিত কথা। আর দ্বিতীয় কথাটি হচ্ছে, রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের একটা আলাপ মাঝে মাঝে কোথাও কোথাও দেখা যায়, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়।
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কর্মসূচি যত দিন নিষিদ্ধ আছে, তত দিন সে যে নামেই হোক না কেন, রিফাইন্ড হোক বা অন্য কোনো নতুন আওয়ামী লীগ, তৃণমূল আওয়ামী লীগ—যাই বলি না কেন, কোনো নামেই আওয়ামী লীগ কর্মসূচি পালন করতে পারবে না। এই জিনিসটা আমাদের বুঝতে পারতে হবে।’
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা সন্ত্রাস দমন অধ্যাদেশকে বর্তমান সরকার আইনে পরিণত করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তার মানে সরকারের অবস্থান হচ্ছে, সরকার মনে করে আদালত আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কি হবে না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দলটির কর্মসূচি নিষিদ্ধ থাকা উচিত। আমি আগের দিনই বলেছিলাম, এটা আসলে আদালতের এখতিয়ার।
২ দিন আগে
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি: মির্জা ফখরুল
পরবর্তী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, নির্ধারিত সময়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ শেখ মো. রেজাউল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের জন্য রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি চালু করে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং সর্বোচ্চসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিকে এ পদ্ধতির আওতায় আনার জন্য নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে।
গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল করিমের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই মুহূর্তে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বেতন বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা সরকারের কাছে নেই।
তিনি আরও বলেন, জেলা পরিষদ আইন, ২০০০ অনুযায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের অধীন নির্বাচিত কোনো জেলার সংসদ সদস্যগণ উক্ত জেলার পরিষদের উপদেষ্টা হবেন এবং তার পরিষদের কার্যাবলি সম্পাদনে পরামর্শ প্রদান করবেন।
২ দিন আগে
পাচার হওয়া অর্থ ও অপরাধীদের ফেরাতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ চান বিরোধী দলীয় নেতা
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ এবং এ অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, পাচার হওয়া অর্থের মাত্র এক-নবমাংশ উদ্ধার করা গেলেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
শফিকুর রহমান বলেন, গত ১৫ বছরে অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি অংশ দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে। কিন্তু সেই অর্থ কীভাবে ফেরত আনা হবে, সে বিষয়ে বাজেটে কোনো দিকনির্দেশনা নেই।
তিনি বলেন, ‘বাজেট ঘাটতি খুব বেশি নয়। পাচারকৃত অর্থের নয় ভাগের এক ভাগও যদি আগামী অর্থবছরে ফিরিয়ে আনা যায়, তাহলে আমাদের কোনো বাজেট–ঘাটতি থাকবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সম্পদের সঙ্গে কালপ্রিটদেরও (অপরাধী) ফিরিয়ে আনতে হবে। সম্পদ এল, আর কালপ্রিটরা থেকে গেল, তাহলে সঠিক শিক্ষা হবে না।’ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করে দ্রুততম সময়ে অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতের আমীর বলেন, সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল, সবার চিন্তাধারা এক হওয়া সম্ভব নয়। সবার চিন্তা একই রকম হলে এত লোকের বক্তৃতা বা এত সময় খরচের প্রয়োজন হতো না, দুই পক্ষ থেকে একজন করে কথা বললেই চলত। আমরা জনগণের ভালোবাসা এবং ভোটে নির্বাচিত হয়ে মহান আল্লাহর ইচ্ছায় এই সংসদে আসার সুযোগ পেয়েছি। তাই প্রত্যেকেই নিজের বিবেক, মহান আল্লাহ এবং প্রিয় জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।
বাজেট অধিবেশনকে বছরের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ সেশন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এর ভিত্তির ওপরই পুরো বছরটি কেমন যাবে তা নির্ভরশীল এবং সব সদস্য সেই দায়িত্ববোধ থেকেই বক্তব্য দিয়েছেন।
এ সময় তিনি প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, মুক্তিযুদ্ধের সফল নেতৃত্বদানকারী জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী এবং স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনকারী আ স ম আবদুর রবের অবদানের কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি ৯০-এর গণআন্দোলন, ২৮ অক্টোবর, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর এবং সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শহিদ ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
নিজের দলকে একটি ‘কষ্টে ভোগা দল’ হিসেবে বর্ণনা করে শফিকুর রহমান বলেন, তাদের বুক থেকে এক এক করে ১১ জন জ্যেষ্ঠ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ১২ নম্বর জন হিসেবে কেবল তিনিই এখন জীবিত আছেন। ড. শফিকুর রহমান ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সব শহিদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী এবং ফ্যাসিবাদী আমলের ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানান।
পিলখানায় বীর সেনাদের নির্মম হত্যাকাণ্ডকে জাতির সূর্য-বীর্যের জায়গায় আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি তাদের শাহাদত কবুলের জন্য দোয়া করেন। সীমাহীন ত্যাগের মধ্য দিয়ে গঠিত এই সংসদকে ‘মজলুমের পার্লামেন্ট’ আখ্যা দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদ এমন কোনও আচরণ করবে না যা মজলুম দেশবাসীকে আঘাত করে, বরং এটি জাতিকে স্বপ্ন দেখাবে, ঐক্যবদ্ধ করবে এবং সামনের দিকে এগিয়ে নেবে।
তোষামোদের নয়, দায়িত্ব পালনের জায়গা
স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘অতীত অভিজ্ঞতা আপনার আছে; আমার নেই। এখানে আরও কয়েকজন আছেন যারা অতীতেও ছিলেন। আমরা বেশিরভাগই নবীন, আর নবীনদের অধিকার থাকে প্রবীণদের কাছ থেকে শেখার। কিন্তু আমরা মন্দটা শিখতে চাই না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা শিখতে চাই ভালোটা। অতীতে এই সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিকে তোষামোদ করার জন্য গান হয়েছে, কবিতা হয়েছে, স্বপ্নবিলাস হয়েছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকা খরচ করে এই সংসদে এটা হওয়া উচিত নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা তোষামোদের জায়গা নয়, এটা দায়িত্ব পালনের জায়গা। দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার জায়গা। দায়িত্ব পালন করা জায়গা। অনেক সময় ব্যক্তিকে খুশি করতে গিয়ে অন্যকে আমরা বেশি করে আঘাত করি। আমি প্রথম দিন অনুরোধ করেছিলাম, অতীতের ব্যাড কালচারকে (খারাপ সংস্কৃতি) আমরা চর্চা না করি; এই সংসদে দাঁড়িয়ে চরিত্র হনন যেন না হয়।’
বিরোধী দলের বক্তব্য ‘কুচি কুচি করে কাটার যন্ত্র’ ফেলে দেওয়ার আহ্বান
সংসদে বিরোধী দলের ওপর বারবার আক্রমণের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটা চমৎকার টেনডেন্সি (প্রবণতা) আমি লক্ষ করেছি—সরকারি দলের প্রায় সব বক্তা বিরোধী দলের বক্তব্য কুচি কুচি করে কাটার পরে বলেন, এগুলো ছাড়েন। আসুন ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা দেশটা চালাই। ওই কুচি কুচি করার যন্ত্রটা আসুন আমরা ফেলে দিই। আমরা একটা বিউটিফুল, ওয়ানডারফুল কম্বিনেশন নিয়ে চলি।’
৩ দিন আগে
করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোসহ বাজেটের বেশকিছু বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি জনমতের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটের কয়েকটি বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহারের জন্য অর্থমন্ত্রীকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার সংশোধনীর প্রস্তাব অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সামনে তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নরমালি দাবিটা বিরোধী দল থেকে হয়ে থাকে। আমি আপাতত ফিজিক্যালি না হলেও মানসিকভাবে ওনাদের পাশে গিয়ে কথা বলতে চাই।’
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ করবর্ষে ৪ লাখ এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই সীমা যথাক্রমে ৪ লাখ, সাড়ে ৪ লাখ এবং ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রাখেন সংসদ নেতা।
স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগের তথ্য প্রদর্শনসংক্রান্ত বিধান নিয়ে জনমনে ‘প্রশ্ন ও উদ্বেগ’ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জমি প্রকৃত মূল্যে নিবন্ধন না হওয়ার কারণে করদাতাদের হয়রানি কমাতেই এ বিধান আনা হয়েছিল। তবে অনেকেই এটিকে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তাই প্রস্তাবিত এই বিধান প্রত্যাহার করার জন্য অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
করের আওতা বাড়াতে ব্যাংক হিসাব খোলা, বণ্টননামা দলিল নিবন্ধন ও সম্পত্তি নামজারির ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবেও জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে বলে এ প্রস্তাবও প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান সরকারপ্রধান।
৩ দিন আগে
যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এটিকে ‘দেশের পানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষিকে সহায়তা দেওয়া এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে’ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সংসদ নেতা বলেন, নদী, খাল ও সেচ অবকাঠামোয় বড় ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘদিনের পানি ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের মানুষের অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয় পানি। সংসদ সদস্যরা নিয়মিত পদ্মা ও তিস্তা নদী নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। আমরা এসব সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছি।
সারা বছর কৃষির জন্য পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা হবে। যেন পুরো শুষ্ক মৌসুম এবং বছরের অন্যান্য সময় কৃষি ও প্রয়োজনীয় খাতে সেই পানি সরবরাহ করা যায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তঃনদী সংযোগের অভাবে বাংলাদেশ ভুগছে। এর ফলে অনেক নদীর নাব্যতা হারিয়ে গেছে এবং বিভিন্ন এলাকায় সেচ ও পানির সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি এমন এলাকা পরিদর্শন করেছি, যেখানে বর্ষায় চারদিকে পানি থাকলেও অল্প দূরের কৃষকরা পানির অভাবে জমিতে সেচ দিতে পারেন না। তবে এই সমস্যা সমাধানে দেশব্যাপী নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান জানান, পানি প্রবাহ, সেচব্যবস্থা এবং বন্যা ব্যবস্থাপনা যাতে উন্নত করা যায়, এ লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি চলছে। গত তিন মাসে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখনন করা হয়েছে।
কৃষকদের জন্য সরকারের সহায়তার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের অন্যতম প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ এবং তার সুদ মওকুফ করা। এতে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন। কৃষকদের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকার বিশেষ কৃষক কার্ড চালু করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষক এই কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা এবং অন্তত ১০টি অতিরিক্ত সেবা পাবেন।
তার ভাষ্য, ‘আমরা কৃষকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছি।’
যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানো এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সেবার পরিধি বাড়াতে সরকার কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে প্রবাসীদের বিভিন্ন সেবা সহজলভ্য করতে এবং বিদেশে তাদের ভোগান্তি কমাতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। বাজেট এ অধিবেশনে প্রথমে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন।
৩ দিন আগে
সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বস্তির কথা ভেবে ‘জীবনবান্ধব’ বাজেট করা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ নামে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এমন একটি বাজেট আমরা উপস্থাপন করতে চেষ্টা করেছি, যাতে করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ কিছুটা হলেও যাতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে।
সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের অষ্টাদশ দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
আজ সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। শুরুতেই বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা তারেক রহমান বক্তৃতা করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে বাজেট উপস্থাপন করছি, এই বাজেটকে আমি একটি নামকরণ দিতে চাই। সেটি হচ্ছে জীবনবান্ধব বাজেট।’
এবার সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পরে নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি দাবি করে তারেক রহমান বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় যেসব জিনিস আছে, এরকম ৬১টি পণ্যের ওপর বলা যায় সম্পূর্ণভাবে আগে যা ট্যাক্স ছিল, সেগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, আমরা অতীতে খেয়াল করেছি যে বাজেট উপস্থাপনের আগে এবং পরে অনেক নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম হঠাৎ করে কোনো কারণ ছাড়া বেড়ে যেত। তবে আল্লাহর রহমতে এ বছর আমরা সেরকম কোনো দৃশ্য দেখিনি। একটি রাজনৈতিক সরকার হিসেবে আমরা মনে করি, আমাদের জনগণের প্রতি যে দায়িত্ব, তার একটু হলেও আমরা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি; কিছুটা হলেও জনগণকে স্বস্তি দিতে পেরেছি।
সংসদ নেতা বলেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই সংসদের যাত্রা শুরু হওয়ার পর আমরা বিভিন্ন চড়াই-উৎরাই অতিক্রম করেছি। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, কোথাও ঐকমত্য হয়েছে, কোথাও মতভেদ হয়েছে। কিন্তু তারপরও আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা দেশের মানুষের সামনে একটি আশার আলো তুলে ধরতে পেরেছি।
৩ দিন আগে