অন্যান্য
কসমস আর্ট ইকোর ১৩তম পর্বে তৈয়বা বেগম লিপির সঙ্গে শিল্পসংলাপ
বাংলাদেশের বিশিষ্ট সমকালীন শিল্পী তৈয়বা বেগম লিপিকে নিয়ে গ্যালারি কসমস ও কসমস আঁতেলিয়ের-৭১ আয়োজন করতে যাচ্ছে কসমস আর্ট ইকো: সেশন ১৩।
‘বিইং অ্যান্ড বিলং’ শীর্ষক এই আর্ট টকে তৈয়বা বেগম লিপি তার দীর্ঘ শিল্পযাত্রা, সৃজনশীল চর্চা এবং শিল্প, পরিচয় ও অন্তর্ভুক্তির ধারণা নিয়ে কথা বলবেন। অনুষ্ঠানটি শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় ঢাকার মালিবাগের ৬৯/১ নিউ সার্কুলার রোডে অবস্থিত কসমস সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে।
চলমান কসমস আর্ট ইকো উদ্যোগের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই সেশনে শিল্পী, শিল্পচর্চাকারী, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও শিল্পবোদ্ধাদের বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমকালীন শিল্পীর সঙ্গে সরাসরি ও ভাবনাপ্রসূত সংলাপে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। আলোচনায় তৈয়বা বেগম লিপির শিল্পীজীবন, তার সৃজনশীল অন্বেষণ এবং শিল্প, পরিচয়, অন্তর্ভুক্তি ও সমকালীন জীবন নিয়ে তার ভাবনা উঠে আসবে।
বাংলাদেশের গাইবান্ধায় জন্ম নেওয়া তৈয়বা বেগম লিপি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে চারুকলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের বৃত্ত আর্টস ট্রাস্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি। সমকালীন শিল্পচর্চা এবং আন্তর্জাতিক শিল্পবিনিময়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
দীর্ঘ শিল্পজীবনে তৈয়বা বেগম লিপি দেশে ও বিদেশে ১৭টি একক প্রদর্শনী করেছেন। এছাড়া তার স্বামী ও শিল্পী মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে তার ছয়টি দ্বৈত প্রদর্শনী রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তিনি অসংখ্য দলীয় প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। সিঙ্গাপুর, ইস্তাম্বুল, লন্ডন, ঢাকা, নিউইয়র্ক, হংকং, দিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে তার একক প্রদর্শনী ও শিল্প প্রকল্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তার শিল্পচর্চা বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উপস্থাপিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সলোমন আর গুগেনহাইম মিউজিয়াম, নিউইয়র্ক; টেট মডার্ন, লন্ডন; এলি অ্যান্ড এডিথ ব্রড আর্ট মিউজিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র; সাংহাইয়ের মডার্ন আর্ট মিউজিয়াম; আর্নহেম মিউজিয়াম; রয়্যাল অন্টারিও মিউজিয়াম, টরন্টো; সেন্ট্রাল মিউজিয়াম, নেদারল্যান্ডস; এবং কুন্সথাউস জুরিখ।
আন্তর্জাতিক শিল্পাঙ্গনে তৈয়বা বেগম লিপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর মধ্যে ২০১১ সালের ৫৪তম ভেনিস বিয়েনালে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়নের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন অন্যতম। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আয়োজিত শিল্প, প্রদর্শনী ও বিভিন্ন শিল্প আয়োজনে জুরি ও সহ-জুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আয়োজিত শিল্পকর্মশালা, শিল্পী রেসিডেন্সি ও আর্ট টকে অংশ নিয়েছেন তিনি। তার শিল্পচর্চা ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশে ও বিদেশে তিনি বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন।
তার উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক শিল্পসম্পৃক্ততার মধ্যে রয়েছে ২০১৩ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্ক, সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ে আয়োজিত গুগেনহাইম ইউবিএস ম্যাপ প্রদর্শনী; ২০১৬ সালের সন্সবিক, আর্নহেম; ২০২৩ সালের থাইল্যান্ড বিয়েনালে, চিয়াং রাই; টরন্টোর রয়্যাল অন্টারিও মিউজিয়ামে ‘বিইং অ্যান্ড বিলং’; নেদারল্যান্ডসের সেন্ট্রাল মিউজিয়ামে ‘স্টেটমেন্ট চেয়ার্স’; কাঠমান্ডু ও কলম্বোয় ‘ফেমিনিস্ট ফিউচার্স: আর্ট, অ্যাক্টিভিজম অ্যান্ড সাউথ এশিয়ান উম্যানহুড’; এবং ফ্রান্সের লিল-সুর-লা-সর্গে ফঁদাসিওঁ ভিলা দাত্রির ‘স্কালপচার কঁতেম্পোরেন’।
বৃত্ত আর্টস ট্রাস্টের অংশ হিসেবে তৈয়বা বেগম লিপি কাসেলে ডকুমেন্তা ফিফটিন, কুন্সথাউস জুরিখে ‘রিকলেক্ট’, যুক্তরাজ্যের হেয়ারউড বিয়েনালে, এশিয়া নো প্যারিস, রিয়াদে দ্বিতীয় দিরিয়াহ বিয়েনালে, রোমের ম্যাক্সিতে ‘ওয়ান প্লাস ওয়ান রিলেশনাল ইয়ার্স’ এবং ২০১১ ও ২০১৫ সালের ৫৪তম ও ৫৬তম ভেনিস বিয়েনালেসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ও শিল্প প্ল্যাটফর্মে যুক্ত ছিলেন।
তার শিল্পকর্ম বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় জাদুঘর, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সংগ্রহে সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সলোমন আর গুগেনহাইম মিউজিয়াম, নিউইয়র্ক; টেট মডার্ন, লন্ডন; কুন্সথাউস জুরিখ; রয়্যাল অন্টারিও মিউজিয়াম; সেন্ট্রাল মিউজিয়াম, নেদারল্যান্ডস; ন্যাশনাল তাইওয়ান মিউজিয়াম অব ফাইন আর্টস; ফ্যাশন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, নিউইয়র্ক; স্মিথ কলেজ মিউজিয়াম অব আর্ট; দেবী আর্ট ফাউন্ডেশন, ভারত; শেরম্যান কনটেম্পোরারি আর্ট ফাউন্ডেশন, সিডনি; বাংলাদেশের বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ও সামদানি আর্ট ফাউন্ডেশনসহ আরও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগ্রহ।
তার শিল্পকর্ম ও শিল্পচর্চা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রকাশনা ও গ্রন্থেও স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘ফিফটি কনটেম্পোরারি উইমেন আর্টিস্টস: গ্রাউন্ডব্রেকিং কনটেম্পোরারি আর্ট ফ্রম নাইনটিন সিক্সটি টু নাও’, যা জন গসলি ও হেদার জিসেসের সম্পাদনায় ও এলিজাবেথ স্যাকলারের ভূমিকায় ২০১৮ সালে শিফার পাবলিশিং থেকে প্রকাশিত হয়। এছাড়া রয়্যাল অন্টারিও মিউজিয়ামের ‘বিইং অ্যান্ড বিলং’ এবং এলি অ্যান্ড এডিথ ব্রড আর্ট মিউজিয়ামের ‘আর্টিস্ট অ্যাজ অ্যাক্টিভিস্ট’-সংক্রান্ত প্রকাশনা ও প্রদর্শনী ক্যাটালগেও তার কাজ ও শিল্পচর্চা নথিভুক্ত হয়েছে।
এই আয়োজনটি কসমস আঁতেলিয়ের-৭১-এর সদস্য ও শিল্পবোদ্ধাদের জন্য বিশেষভাবে আয়োজিত। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা তৈয়বা বেগম লিপির সঙ্গে তার শিল্পচর্চা, সৃজনশীল ভাবনা ও সমকালীন শিল্প নিয়ে সরাসরি আলোচনা ও মতবিনিময়ের সুযোগ পাবেন।
১ দিন আগে
জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত: তথ্য উপদেষ্টা
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরসহ আরও যাদের প্রচুর পরিচিতি ও ভাইরাল জনপ্রিয়তা রয়েছে, তারা ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার পর তোলা চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে উপদেষ্টা বলেন, সালমান মুক্তাদির প্রথমে বিএনপির লোকজন চাঁদা চেয়েছে বলে অভিযোগ করলেও পরে বলেছেন, তার কাছে চাঁদা চাওয়া হয়নি। এ সময় তিনি প্রশ্ন রাখেন, এভাবে কোনো ব্যক্তি অপতথ্য ছড়ালে তা বন্ধে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে।
তিনি আরও বলেন, সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে সরকার সহানুভূতি রেখে কথা বলছে, কারণ তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং হামলার শিকার হয়েছেন। তবে ওই অবস্থায় তিনি যেভাবে বিষয়টি বলেছেন, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পরে সালমান মুক্তাদির নিজেই ওই বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন এবং স্বীকার করেছেন যে বিষয়টি আসলে সেভাবে ঘটেনি। শুধু সালমান মুক্তাদিরের স্থাপনা নয়, অন্যান্য স্থাপনাও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ডা. জাহেদ বলেন, কোনো রকম ভায়োলেন্সের সাফাই সরকার গাইছে না। এটি হওয়া উচিত হয়নি, এটি আটকাতে পারা উচিত ছিল। এখন অন্তত সরকারের কাজ হবে দ্রুত এ ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা। আপনারা দেখছেন, ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসের প্রসঙ্গ তুলে তথ্য উপদেষ্টা জানান, সালমান মুক্তাদিরের ভিডিও দেখার পর তিনি চাঁদাবাজির বিষয়টি উল্লেখ করে সরকারকে দায়ী করে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ওই স্ট্যাটাস এখনও রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতার ফেসবুকে তো ওই স্ট্যাটাসটি এখনও রয়ে গেছে। শুধু তিনিই নন, এনসিপির অনেক সিগনেচার (বিশিষ্ট) নেতা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় শুধু বিএনপিকে না, বিএনপি ও এই সরকারের প্রধানকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন। কেউ কিন্তু সেগুলো সরায়নি।’
অপতথ্য ছড়ানোর বিষয়টি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবসের প্রতিপাদ্যেও এখন অপতথ্যের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি, সালমান মুক্তাদিরদের মতো মানুষ, যাদের প্রচুর রিচ আছে, ভাইরাল ট্র্যাকশন আছে, তারা দায়িত্বশীল হবেন।’
ভবিষ্যতে অপতথ্য মোকাবিলায় জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি আইনি পরিসরের মধ্যে বিষয়গুলো নিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের কথা বলছি, জনগণকে সচেতন করা এবং এর সঙ্গে আইনি পরিমণ্ডলের মধ্যে এগুলো নিয়ে আসার সুযোগ (রয়েছে), আপনারা জানেন একটা আইন নিয়ে কাজ হচ্ছে, সাইবার সুরক্ষা আইন। সেই আইনটা আসলে আমরা আশা করি সেই আইনি পরিসীমার মধ্যে এগুলো নিয়ে কাজ করা যাবে।’
১০ দিন আগে
কলাগাছের ভেলাবাইচ দেখতে উপচে পড়া ভিড়
নৌকাবাইচের প্রচলন থাকলেও কলাগাছের ভেলায় চড়ে বাইচ সচরাচর চোখে পড়ে না। সম্প্রতি এমনই এক ব্যতিক্রমী ও আনন্দদায়ক আয়োজনের সাক্ষী হয়েছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের বড়ুরিয়া খাল।
গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা দেখতে খালের দুই পাড়ে উপচে পড়া ভিড় জমেছিল। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধসহ সব বয়সের হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
১১ দিন আগে
৯২ বছর বয়সে চলে গেলেন আশা ভোঁসলে
চিরসবুজ ও বহুমাত্রিক কণ্ঠে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সংগীতপ্রেমীদের মুগ্ধ করা বর্ষীয়ান সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
রবিবার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, আশা ভোঁসলের ছেলে আনন্দ ভোঁসলে মায়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, ‘তিনি আর নেই। আগামীকাল বিকেল ৪টায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।’
সংবাদ প্রতিদিনের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বুকে সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন আশা ভোঁসলে। এমার্জেন্সি কেয়ার ইউনিটে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল তাকে। হাসপাতালে নিয়ে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, কিংবদন্তী এই সংগীতশিল্পীর শারীরিক অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক।
দ্রুত তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু, শেষ রক্ষা হয়নি। তার মৃত্যুতে সংগীতের একটা যুগের অবসান ঘটল।
চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ৯৩ বছরে পা দিতেন ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘কাজরা মোহাব্বত ওয়ালা’, ‘রঙ্গিলা রে’ ও ‘দিল চিজ ক্যা হ্যায়’-এর মতো অসংখ্য জনপ্রিয় গানের জন্য খ্যাত আশা ভোঁসলে। তার প্রয়াণে সংগীত জগতে এবং তার গান শুনে বড় হওয়া অগণিত ভক্তের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মাত্র ১০ বছর বয়সে ১৯৪৩ সালের মারাঠি চলচ্চিত্র ‘মাঝা বাল’-এ ‘চালা চালা নব বালা’ গান দিয়ে চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক শুরু করেন তিনি। শুরুতে ‘ও হাসিনা জুলফোঁওয়ালি’-র মতো আইটেম গানের জন্য তার ওপর একটি নির্দিষ্ট তকমা লেগে গিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ‘দিল চিজ ক্যা হ্যায়’-এর মতো গজল এবং ‘তোরা মন দর্পণ কহলায়’-এর মতো ধ্রুপদী সংগীতে নিজের গভীরতা প্রমাণ করেন আশা।
১৮০ দিন আগে
চার বছর পর মঞ্চে ফিরছে বিটিএস
চার বছরের বিরতির ভেঙে মঞ্চে ফিরছে জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস। শনিবার (২১ মার্চ) সিউলে বিশাল এক ফ্রি কনসার্টের মাধ্যমে মঞ্চে প্রত্যাবর্থন করছে ব্যান্ডটি।
বিটিএসের অনুষ্ঠান ঘিরে সিউলে হাজারো ভক্তের সমাগম ঘটেছে। রাজধানীর গোয়াংহওয়ামুন স্কয়ারে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠান উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আশপাশের সড়কে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই কনসার্টের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়াজুড়ে একাধিক শো নিয়ে দীর্ঘ বৈশ্বিক সফরের সূচনা হচ্ছে বিটিএসের।
ব্যান্ডের সাত সদস্য—আরএম, জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি ও জাং কুক সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার বাধ্যতামূলক সামরিক দায়িত্ব শেষ করেছেন। এবার তারা আবারও বিশ্বসেরা পপ তারকাদের কাতারে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
এক ঘণ্টার এই কনসার্টের আগের দিন ব্যান্ডটি তাদের পঞ্চম অ্যালবাম আরিরাঙ (ARIRANG) প্রকাশ করে। অ্যালবামটির ঘোষণার পর জানুয়ারি মাস থেকে এ পর্যন্ত লাখ লাখ কপি প্রি-অর্ডার পেয়েছে বিটেএস।
ব্যান্ডটির ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান হাইব (HYBE) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মহড়ার সময় আরএমের গোড়ালিতে চোট লাগে, তবে কিছু সীমাবদ্ধতা নিয়ে তিনি মঞ্চে পারফর্ম করবেন।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই কনসার্টে দুই লাখের বেশি মানুষ উপস্থিত থাকতে পারেন। এর মধ্যে ২২ হাজার দর্শক নির্ধারিত স্থানে বসে সরাসরি উপভোগ করবেন এবং অন্যরা আশপাশের বড় পর্দায় অনুষ্ঠানটি দেখবেন। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে নেটফ্লিক্স।
২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করা বিটিএসের বিশ্বজুড়ে বিশাল ভক্তগোষ্ঠী রয়েছে, যাদের ‘আর্মি’ নামে ডাকা হয়। ২০২০ সালে তাদের প্রথম ইংরেজি গান ডিনামাইট (Dynamite) বিলবোর্ড হট ১০০-এর শীর্ষে উঠে কে-পপ ইতিহাসে নতুন মাইলফলক গড়ে।
২০১ দিন আগে
মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেহজাবিন চৌধুরী
পারিবারিক ব্যবসার অংশীদার হিসেবে রাখার বিনিময়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলা থেকে মডেল ও অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরী ও তার ভাই আলিশান চৌধুরীকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে এই মামলার শুনানি নিয়ে ঢাকার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আদনান জুলফিকার এই আদেশ দেন। মেহজাবিনের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বাদীর সঙ্গে দীর্ঘদিন পরিচয়ের সুবাদে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আসামি মেহজাবীন চৌধুরীর নতুন পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার (অংশীদার) হিসেবে রাখবে বলে নগদ অর্থ এবং বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে মোট ২৭ লাখ টাকা দেন। এরপর মেহজাবীন ও তার ভাই দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ না নেওয়ায় বাদী বিভিন্ন সময় টাকা চাইতে গেলে দীর্ঘদিন কালক্ষেপণ করেন।
পরবর্তীতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তারা ১৬ মার্চ হাতিরঝিল রোডের পাশে একটি রেস্তোরাঁয় আসতে বলেন। ওইদিন ঘটনাস্থলে গেলে মেহজাবীন ও তার ভাইসহ আরও অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তারা বলেন, এরপর তুই আমাদের বাসায় টাকা চাইতে যাবি না; তোকে বাসার সামনে আবার দেখলে জানে মেরে ফেলব।
এসব কথা বলে তারা বাদীকে জীবননাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এরপর বিষয়টি সমাধানের জন্য বাদী সংশ্লিষ্ট ভাটারা থানায় গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়।
পরে আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/ ১১৭(৩) ধারায় মামলা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলাটিতে আসামি মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই আলিসান চৌধুরীর আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ১০ নভেম্বর আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এ আফরোজা হক তানিয়ার আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তারা। সেদিন শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেছিলেন।
২৭০ দিন আগে
আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন মেহজাবীন
অর্থ আত্মসাৎ, হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন মডেল ও অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী এবং তার ভাই আলিসান চৌধুরী। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত জবাব দাখিলের জন্য আগামী ১৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
রবিবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এর বিচারক আফরোজা তানিয়া তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মেহজাবীন চৌধুরীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট তুহিন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, বাদীর আর্জির সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। তিনি ঘটনাস্থল উল্লেখ করেছেন হাতিরঝিল, কিন্তু মামলা করতে গেছেন ভাটারা থানায়। পরে সেখানে মামলা না নেওয়ায় সরাসরি আদালতে মামলা দায়ের করেন বাদী।
এর আগে গত ১০ নভেম্বর এ মামলায় মেহজাবীন ও তার ভাই আলিসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার একটি আদালত।
গত ১০ নভেম্বর মামলাটিতে আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার দিন ধার্য ছিল। তবে তারা আদালতে হাজির হননি। এ জন্য আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, আমিরুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘদিন পরিচয়ের সুবাদে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মেহজাবীন চৌধুরীর নতুন পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখার কথা বলেন। এ কারণে বাদী নগদ অর্থে এবং বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ২৭ লাখ টাকা দেন। এরপর মেহজাবীন ও তার ভাই দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ না নেওয়ায় আমিরুল ইসলাম বিভিন্ন সময় টাকা চাইতে গেলে কালক্ষেপণ করতে থাকেন আসামিরা।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে আবারও পাওনা টাকা চাইতে যান তিনি। তখন তাকে ১৬ মার্চ হাতিরঝিল রোডের পাশে একটি রেস্টুরেন্টে আসতে বলা হয়। ওই দিন ঘটনাস্থলে গেলে মেহজাবীন ও তার ভাইসহ আরও অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন তাকে গালিগালাজ করেন। তারা বলেন, ‘এরপর তুই আমাদের বাসায় টাকা চাইতে যাবি না। তোকে বাসার সামনে আবার দেখলে জানে মেরে ফেলব।’
বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভাটারা থানায় গেলে কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। এ ঘটনায় আমিরুল ইসলাম ২৪ মার্চ বাদী হয়ে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।
৩২৬ দিন আগে
ঢাকায় উনা হাইল্যান্ডের একক প্রদর্শনী: আইরিশ-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সম্পর্কে নতুন দিগন্ত
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কোনো আইরিশ শিল্পীর একক প্রদর্শনী হিসেবে উদ্বোধন করা হয়েছে খ্যাতনামা আইরিশ শিল্পী উনা হাইল্যান্ডের প্রদর্শনী ‘অ্যান দুআনায়ার: ভিজুয়াল পোয়েমস অব দ্য ডিসপসেসড’।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর বারিধারার গার্ডেন গ্যালারিতে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ঢাকায় নিযুক্ত আয়ারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত কেভিন কেলি। অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন বাংলাদেশে আয়ারল্যান্ডের অনারারি কনসাল মাসুদ খান।
গ্যালারি কসমস ও আয়ারল্যান্ড দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আয়ারল্যান্ড-বাংলাদেশ আর্ট একচেঞ্জ প্রোগ্রাম’র অংশ হিসেবে এই আয়োজন দেশদুটির মধ্যে সাংস্কৃতিক সংলাপ ও শিল্প বিনিময়ের একটি গতিশীল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত কেভিন কেলি বলেন, ঢাকায় তিন সপ্তাহের এক সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন উনা হাইল্যান্ড। বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগে অংশ নেওয়া প্রথম আইরিশ শিল্পী তিনি। ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি পেশাদার শিল্পী হিসেবে কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করেন কেভিন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আয়াল্যান্ডের দূতাবাস না থাকলেও তারা উন্নয়ন, বাণিজ্য ও অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সহযোগী। এ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত জানান, ঢাকায় অবস্থানকালে উনা শিল্পের মাধ্যমে স্মৃতি, নিরাময় ও সম্মিলিত প্রতিফলনের সম্পর্ক অনুসন্ধান করবেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃজনশীলতাকে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শক্তি হিসেবে দেখার দর্শন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাস ও শিল্পের দৃঢ়তাকে তার কাজে তুলে ধরবেন।
এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আয়ারল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যে আরও গভীর শিল্প-সহযোগিতা সৃষ্টি করবে বলে আশা প্রকাশ করেন কেভিন। তার মতে, এই উদ্যোগের ফলে শুধু আইরিশ শিল্পীরাই বাংলাদেশে আসবেন না, বরং বাংলাদেশের শিল্পীরাও আয়ারল্যান্ডে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
অনুষ্ঠানে আগত দেশ ও বিদেশের সব অতিথিকে স্বাগত জানিয়ে কসমস গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ খান বলেন, ‘শুরুতে আমি একটু চিন্তিত ছিলাম— যথেষ্ট সময় পাবো কি না, সবকিছু ঠিকভাবে হবে কি না। কিন্তু আমাদের সবার প্রচেষ্টা, আর বিশেষ করে উনা’র অক্লান্ত পরিশ্রমে সবকিছু দারুণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’
আইরিশ এই শিল্পীকে অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ, পরিশ্রমী ও দারুণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী হিসেবে উল্লেখ করে মাসুদ বলেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে আশা করি তিনি আবারও বাংলাদেশে আসবেন।’
মাসুদ খান বলেন, শিল্পীদের স্থিতিশীলতা দিতে হবে, যাতে তারা নিজেদের কাজ উন্নত করতে পারেন, উদ্ভাবন করতে পারেন এবং শিল্পক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। এই দিক থেকে আয়ারল্যান্ড অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। আমাদের একে অপরের কাছ থেকে শেখার অনেক কিছু আছে।
৩৩৭ দিন আগে
ক্যাফে: কোক স্টুডিও বাংলায় হৃদয়ের সুর আর পুরনো দিনের স্মৃতির এক দারুণ ফিউশন
কিছু গান শুধু শোনা হয়, আর কিছু গান আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে—যেন একটা নতুন জায়গায় নিয়ে যেতে চায়। ঠিক তেমনি ‘ক্যাফে’ গানটি শুনলে মনে হবে বাংলা ও ল্যাটিন সুরের মিশ্রণ ঘটেছে, কারণ এটি একটি আধুনিক বাংলা গান যা ল্যাটিন সঙ্গীতের প্রভাবকে ধারণ করে।
শায়ান চৌধুরী অর্ণবের এই নতুন কাজ, ‘ক্যাফে’ ঠিক সেইরকম একটি গান ও আধুনিক বাংলা সংগীতের অংশ। যেখানে ঐতিহ্যবাহী বাংলা গানের সঙ্গে ল্যাটিন সুরের মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে।
এছাড়া একটা উষ্ণ, আবছা আলোয় ভরা ঘরকে যদি শব্দ দিয়ে ধরে রাখা যেত, সেটা এই গানটাই হতো। এটি মূলত একটি সংগীত শৈলী, যা দুইটি ভিন্ন ধারার সুর ও তালকে একত্রিত করে।
তাছাড়াও এই গানটি আমদের মধ্যে নতুন ও আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা প্রদান করে। একইসঙ্গে মনে করিয়ে দেয় যে— জীবনের "Real Magic" আসলে দুটো মনের নীরবতার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।
আরো পড়ুন: ঢাবিতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ক্যাম্পাস স্ট্যান্ডআপ কমেডি শো ‘হাসির আড্ডা'
গানটিতে বাংলা গানের স্বাভাবিক ঢঙ এবং ল্যাটিন সঙ্গীতের ছন্দ, যেমন সালসা বা অন্যান্য ল্যাটিন নাচের গানের সুরের প্রভাব থাকে। বিশেষ করে ঐতিহ্য আর নতুনত্বের দারুণ বোঝাপড়া।
এই গানের শেকড়টা মজবুত দুটো জায়গায়— একটা হলো গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের (মহীনের ঘোড়াগুলি) সেই প্রিয় নস্টালজিক সুর "আমার প্রিয় ক্যাফে", আর অন্যটা হলো এডি পালমিয়েরির ক্লাসিক "Café"-এর দারুণ ছন্দ। এছাড়া প্রযোজক শুভেন্দু দাশ শুভ খুব দক্ষতার সঙ্গে দুটো ভিন্ন ধারাকে এমনভাবে এক করে দিয়েছেন যে সুরটা শুনতে একইসঙ্গে চেনা আর দারুণ ফ্রেশ লাগে।
এদিকে তানযীর তুহিনের কণ্ঠস্বরে বাংলার সেই চেনা "নস্টালজিয়া" দারুণভাবে ফুটে উঠেছে। ক্যাফে যেন ছোট ছোট ব্যক্তিগত গল্পের একটি জীবন্ত বই। এই গানের ভেতরের কথাগুলো তার আন্তরিক উষ্ণতায় যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে।
গাবুর পারকাশন যেন সেই পুরনো ছন্দের ধারক, একটা জটিল অথচ মসৃণ রিদম তৈরি করেছে। আর লিভিয়া মাত্তোসের অ্যাকর্ডিয়ন ইউরোপীয় ফোক-জ্যাজের একটা জাদুকরী, মিষ্টি ছোঁয়া দিয়েছে। যখন ব্রাস সেকশন (ফ্র্যান্সিস আর অপূর্ব) বাজনা শুরু করে, তখন শান্ত গানটা যেন উড়তে শুরু করে, ভেতরের সেই নীরব ভাবনাগুলো একটা প্রাণবন্ত নাচে বদলে যায়।
আরো পড়ুন: ‘আমিই নজরুল সম্মাননা’ পেলেন খিলখিল কাজী, ইয়াসমিন মুশতারী ও অনুপম হায়াৎ
‘ক্যাফে’কে একটা ফিউশন বলার চেয়ে আগে একটা অনুভূতি বলাই ভালো। গানের নোটে বলা সেই শান্ত শক্তিকে এটা ধরে রেখেছে: শেষ বিদায়, প্রথম দেখা, বা দুটো মনের মাঝে একটুখানি চুপ থাকা। এই দারুণ মিউজিক পিসটা প্রমাণ করে যে কিছু আবেগ—যেমন নিখুঁত কফি বা নীরব মুহূর্ত—ভাষা বা দেশের সীমানা বোঝে না।
এই একটা গান তৈরি করতে যতজন যুক্ত ছিলেন, সবার জন্যেই এটা একটা দারুণ অর্জন। মিথুন চক্রবর্তী, প্রদ্যুৎ চ্যাটার্জিয়ার মতো শিল্পীরা তো আছেনই, সঙ্গে আছেন ফয়জান আর আহমদ (বুনো) এবং সৈয়দ গাউসুল আলম শাওনের নেতৃত্বে থাকা বিশাল ক্রিয়েটিভ আর সাউন্ড টিম।
তারা শুধু একটা গান বানাননি; তারা এমন একটা জায়গার নীরবতা ধরে রেখেছেন যেখানে সবার ব্যক্তিগত গল্পের টুকরোগুলো মিশে থাকে।
আরো পড়ুন: ধ্রুপদী সঙ্গীতে মুগ্ধতা ছড়াল সিদ্ধেশ্বরী ’৬৯ ব্যাচের সঙ্গীতানুষ্ঠান
৩৪৮ দিন আগে
ধ্রুপদী সঙ্গীতে মুগ্ধতা ছড়াল সিদ্ধেশ্বরী ’৬৯ ব্যাচের সঙ্গীতানুষ্ঠান
‘সঙ্গীত সেই বিশ্বজনীন সেতুবন্ধন, যা হৃদয়কে যুক্ত করে, শব্দের সীমা ছাড়িয়ে আত্মাকে ছুঁয়ে যায়’—এই ভাবনা কেন্দ্র করেই বুধবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারের একটি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক হৃদয়গ্রাহী ধ্রুপদী সঙ্গীতানুষ্ঠান ও আলোচনা সভা।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সিদ্ধেশ্বরী ’৬৯ ব্যাচ। বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া এই কনসার্টে কানায় কানায় পূর্ণ অডিটোরিয়াম পরিণত হয় সুর, তাল ও আবেগের অপূর্ব মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন আদ্দীন মেডিকেল কলেজের উপদেষ্টা ডা. মুনশি আনোয়ার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিদ্ধেশ্বরী ব্যাচ ’৬৯-এর কনভেনার ফজলুল করিম আবিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রতিষ্ঠানের গর্বিত প্রাক্তন ছাত্র ও প্রজন্মের অনুপ্রেরণা— প্রফেসর মোস্তফিজুর রহমান।
ভারতের লখনৌয়ের পণ্ডিত রবিশঙ্কর ঘরানার অধীনে পণ্ডিত সমরেশ চৌধুরীর শিষ্য শ্রী অদিত্য নির্মল ছিলেন অনুষ্ঠানের প্রধান শিল্পী ও উপস্থাপক। তিনি মনোমুগ্ধকর সুরযাত্রার মধ্য দিয়ে ধ্রুপদী সঙ্গীত ও সংস্কৃতির আন্তঃসম্পর্কিত ইতিহাস তুলে ধরেন। তার পরিবেশনায় ধ্রুপদ, খেয়াল, ঠুমরি ও ভজন ধারার বিবর্তন বাঙলা ভাষা, মানুষ ও সংস্কৃতির ইতিহাসের সঙ্গে মিলেমিশে এক হয়ে ওঠে।
বাঙলায় বর্ণনার পাশাপাশি অদিত্য নির্মল পরিবেশন করেন রাগ কৌশিক ধ্বনি, রাগ খামাজ, রাগ ভৈরবী, রাগ যামন ও রাগ বসন্ত। তিনি ছোট খেয়াল ও বাংলা খেয়ালের ধারায় পরিবেশন করে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন—যার জন্য তাকে বাংলাদেশের নবপ্রবর্তক হিসেবে গণ্য করা হয়। পরিবেশনার ফাঁকে তিনি ব্যাখ্যা করেন বাংলা ভাষা, জাতিসত্তা ও ভারতীয় ধ্রুপদী সঙ্গীতের পারস্পরিক সম্পর্ক, সমাজ-ধর্ম-সংস্কৃতির সংযোগ, এবং নজরুলগীতি, হাম্দ-নাত ও রবীন্দ্রসঙ্গীতের ঐক্যসূত্র।
সন্ধ্যায় পরিবেশিত হয় নজরুলগীতির মধ্যে ‘বাগিচায় বুলবুলি তুই’ ও ‘ভরিয়া পুরণ’, যা অদিত্য নির্মল নিজেই হরমোনিয়ামে পরিবেশন করেন। পাশাপাশি আরও একটি নজরুলগীতি, কয়েকটি রবীন্দ্রসঙ্গীত এবং ঠুমরি ‘কাকরু সাজনি’ পরিবেশন করেন ধ্রুপদী ঘরানার গভীর আবেগে।
যন্ত্রসঙ্গীতে ছিলেন শ্রী দিলীপ বিশ্বাস (হরমোনিয়াম), পণ্ডিত উজ্জ্বল রায় ও রাহুল চ্যাটার্জি (তবলা)। তাঁরা তিনতাল লহরায় যুগলবন্দি পরিবেশন করে শ্রোতাদের মন জয় করেন। পণ্ডিত উজ্জ্বল রায় ভারতের খ্যাতনামা তবলাশিল্পী, যিনি পণ্ডিত স্বপন চৌধুরী, পণ্ডিত অশোক মেহতা, পণ্ডিত সুরেশ তালওয়ালকর, পণ্ডিত যোগেশ সামসি ও পণ্ডিত স্বরাজ ভট্টাচার্যের শিষ্য। রাহুল চ্যাটার্জি তাঁর শিষ্য এবং দিলীপ বিশ্বাস প্রশিক্ষণ নিয়েছেন পণ্ডিত জ্যোতি গোহো’র কাছে।
ধ্রুপদী ও যন্ত্রসঙ্গীত ছাড়াও পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলগীতি, ঠুমরি ও কবীর সুমনের বাংলা খেয়াল। সঙ্গে যুক্ত হয় জীবনানন্দ দাশ, কাজী নজরুল ইসলাম ও জসীমউদ্দিনের কবিতা ও দর্শনভিত্তিক ভাবনা, যা হাম্দ পরিবেশনার সঙ্গে মিলিত হয়ে অনুষ্ঠানে এনে দেয় আধ্যাত্মিক ও সাহিত্যিক পরিমিতি।
পুরো বিকেলজুড়ে অডিটোরিয়াম প্রতিধ্বনিত হয় করতালির শব্দে। প্রতিটি আলাপ, তান ও তালের ছন্দে বিমুগ্ধ শ্রোতারা যেন অনুভব করেন—সঙ্গীতই সেই ভাষা, যা শব্দের সীমা ছাড়িয়ে হৃদয়কে এক সূত্রে বেঁধে রাখে।
আয়োজনে নিখুঁত সমন্বয় ও আন্তরিকতার ছাপ রাখে সিদ্ধেশ্বরী ’৬৯ ব্যাচ, যাদের প্রচেষ্টা ধ্রুপদী ঐতিহ্য সংরক্ষণে প্রশংসিত হয় দর্শক-শ্রোতাদের কাছে।
৩৫০ দিন আগে