রাজশাহী
স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ, তদন্ত কমিটি গঠন
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা খাবার খেয়ে ১২ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ ঘটনার পর খাবারের গুণগত মান যাচাই ও শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সাইফুল ইসলাম বলেন, গতকাল (বুধবার) দুপুরে উপজেলার লহলামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খাওয়ার পর ১২ শিক্ষার্থীর পেটে ব্যথা ও বমি হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পর সবাই সুস্থ হয়ে পরে ওই দিনই বাড়ি ফিরে গেছে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে আহ্বায়ক এবং শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ও জেলা স্যানিটারি পরিদর্শককে সদস্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাইফুল ইসলাম ।
তদন্ত কমিটিকে স্কুল ফিডিংয়ের সরবরাহ করা খাবারের গুণগত মান যাচাই, শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং এর জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরও জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর খাবারের মান ও শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
৭ ঘণ্টা আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভটভটি খাদে পড়ে বাবা-ছেলেসহ নিহত ৩
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভটভটি খাদে পড়ে বাবা, ছেলেসহ তিনজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলার চৌডালা-কানসাট সড়কের পুসকুনি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের পুলিশমাইল ঝাবুবাজার এলাকার শরিফুল ইসলাম ও তার বাবা আইসুদ্দিন এবং শিবনারায়ণপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে আব্দুল হামিদ।
পুলিশ জানায়, তারা নাচোলের সোনাইচণ্ডী গরুর হাট থেকে গরু বিক্রি করে ভটভটিযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পুসকুনি এলাকায় ভটভটিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে দুর্ঘটনাস্থলেই মারা যান আইসুদ্দিন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে শরিফুল ইসলাম ও আব্দুল হামিদকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আবুল হায়াত। অন্যদিকে আহত আটজনের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় পাঁচজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ জানান, পুলিশ নিহতদের দেহ উদ্ধার করেছে এবং এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
১০ ঘণ্টা আগে
নওগাঁয় আজও বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ
নওগাঁয় চতুর্থ দিনের মতো যান চলাচল বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করছেন পরিবহন শ্রমিকরা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালেও গাড়ি বন্ধ রেখে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ধর্মঘট শুরু করেন শ্রমিকরা।
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ও বাসশ্রমিকদের মধ্যে মারামারির জেরে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ ও কয়েকটি আন্তঃজেলা রুটে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।
বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মালিক ও শ্রমিকরা জানান, গত ২৬ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকের সঙ্গে ‘মহন্ত পরিবহন’ নামের একটি বাসের চালক ও সহকারীর বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জেরে দুপুর ১টার দিকে পত্নীতলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাসচালক রুবেল হোসেন ও তার সহকারীকে মারধর করেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে নওগাঁ থেকে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট ও বগুড়া রুটে বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন।
বাস বন্ধ রাখার পাশাপাশি বাস শ্রমিকরা সকাল থেকে সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলও বন্ধ করে দেয়। বাস শ্রমিকদের বাধা উপেক্ষা করে যেসব চালক সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালানোর চেষ্টা করেছেন, তাদের ওপর বাস শ্রমিকরা হামলা চালান বলেও অভিযোগ ওঠে ।
পরে গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পর অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু দুই ঘণ্টাও সেই সিদ্ধান্ত টেকেনি। এরপর গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে বদলগাছীতে একটি যাত্রীবাহী বাস গেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা আবারও বাসচালকের ওপর হামলা চালান। ফলে ফের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এদিকে টানা চার দিন ধরে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিকল্প বাহন হিসেবে অন্য যানবাহন ব্যবহার করতে গিয়ে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া এবং নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সময়।
রাজশাহীগামী যাত্রী ইকবার হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসস্ট্যান্ডে এসে শুনি বাস বন্ধ। সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা কয়েক গুণ বেশি ভাড়া চাচ্ছেন। এভাবে আকস্মিক যান চলাচল বন্ধ থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়বে।
আদালতে হাজিরা দিতে আসা পোরশার তারিক হোসেন বলেন, ‘বাড়ি থেকে বের হয়ে শুনি বাস নেই। তিন দফায় ভেঙে ভেঙে বিকল্প যানবাহনে আসায় অতিরিক্ত ১৫০ টাকা বেশি ভাড়া গুনতে হয়েছে, সেই সঙ্গে সময়ও নষ্ট হয়েছে প্রচুর। আমরা চাই দ্রুত এই ভোগান্তির অবসান হোক।’
নওগাঁ জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তার কোনো লিখিত রূপ আমরা পাইনি। ফলে সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে নিরাপত্তার অভাব ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। লিখিত সিদ্ধান্ত পেলে আজ থেকেই বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, তাদের অভ্যন্তরীণ কিছু দ্বন্দ্বের কারণে সাময়িক এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। শ্রমিকদের দাবিগুলো পূরণের জোরালো আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মালি ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুতই সমাধান আসবে।
১ দিন আগে
পাবনায় মিছিলের প্রস্তুতিকালে উপজেলা আ. লীগের সভাপতিসহ আটক ১৫
পাবনা শহরে নাশকতা ও মিছিলের প্রস্তুতিকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সুজানগর উপজেলা সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাবসহ ১৫ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পাবনা শহরের আব্দুল হামিদ রোডের ইন্দিরা মোড়ের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনা জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম। তবে আটকদের মধ্যে আব্দুল ওহাব ছাড়া অন্যদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ওসি আব্দুস সালাম জানান, আটক ব্যক্তিরা শহরে নাশকতার পরিকল্পনা করেছিলেন। তারই অংশ হিসেবে মাইক্রোবাসে করে এসে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পাবনা সদর থানায় পাঠানো হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এর আগে আব্দুল ওহাবকে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মথুরাপুর এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ। কিন্তু তাকে পুলিশ ভ্যানে তোলা হলে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা জোরপূর্বক তাকে ছিনিয়ে নেন। ওই সময় আটজন পুলিশ সদস্য আহত হন। সেই ঘটনার তিন দিন পর ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে জামিনে বেড়িয়ে এসে সুজানগর এলাকায় আবারও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালিয়ে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেন আব্দুল ওহাব ও তার সমর্থকরা। পরে চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল দিবাগত রাতে মথুরাপুরে অভিযান চালিয়ে আব্দুল ওহাবসহ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ২১ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। কয়েক সপ্তাহ পরই তারা জামিনে মুক্তি পান।
১ দিন আগে
বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতিসহ গ্রেপ্তার ৪
কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগের বগুড়া জেলা সভাপতি সাজেদুর রহমান সাহিনসহ চার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি সাজেদুর রহমান সাহিন (৫২), জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি সৈয়দ আবু জাফর সিদ্দিক রিপন (৬০), শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির হোসেন নির্জন ওরফে ভাদু (২৯) ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত ফেরদৌস হোসেন (২৬)।
এদের মধ্যে সাজেদুর রহমান সাহিনের বিরুদ্ধে ১৫টির বেশি মামলা রয়েছে। সাব্বির হোসেন নির্জনের বিরুদ্ধে রয়েছে ১০টির বেশি মামলা। আর ফেরদৌস হোসেনের বিরুদ্ধে অন্তত দুটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বগুড়া জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার বলেন, গ্রেপ্তার চারজনই দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। তারা ঢাকা থেকে একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে কক্সবাজারে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে অভিযান চালানো হয়। গতকাল (সোমবার) রাত ১০টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারদের বগুড়ায় আনা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) তাদের আদালতে হাজির করা হবে।
২ দিন আগে
নওগাঁয় আজও বাস ধর্মঘট, যাত্রীদের ভোগান্তি
নওগাঁয় বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে মারধর করার প্রতিবাদে জেলার অভ্যন্তরীণ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছেন পরিবহন শ্রমিকরা। এতে গন্তব্যে পৌঁছাতে চরম বিপাকে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই বাস চলাচল বন্ধ রেখে দ্বিতীয় দিনের ধর্মঘট শুরু করেন তারা। এর আগে গতকাল (রবিবার) সকাল ৭টা থেকে শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে রাজশাহী, জয়পুরহাট, বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ও বাস শ্রমিকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। এর জেরে জেলার পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ডে বাসচালক রুবেল হোসেন ও এক সুপারভাইজারকে মারধর করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা।
গুরুতর আহত অবস্থায় চালক রুবেল হোসেনকে প্রথমে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই ভর্তি রয়েছেন।
এই ঘটনার বিচার ও মহাসড়কে অবৈধ অটোরিকশার দৌরাত্ন বন্ধের দাবিতে গতকাল (রবিবার) সকাল থেকে ধর্মঘটের ডাক দেন শ্রমিকরা।
বাস মালিক ও শ্রমিক নেতারা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা শহরের বাইরে দূরপাল্লার রুটে যাত্রী পরিবহন করতে পারবে না। কিন্তু এই নিয়ম অমান্য করে আঞ্চলিক মহাসড়কে অবাধে এসব অবৈধ বাহন চলাচল করায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘাত হচ্ছে।
মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল বন্ধ না হলে কঠোর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।
এদিকে গতকাল থেকে বাস বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিকল্প বাহন হিসেবে অন্য যানবাহন ব্যবহার করতে গিয়ে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া এবং নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সময়।
রাজশাহী থেকে নওগাঁয় আসা যাত্রী মোহাম্মদ সানি বলেন, রাজশাহী থেকে ফেরিঘাট পর্যন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আসলাম। তারপর অটোরিকশায় করে নওগাঁয় আসলাম। আগে রাজশাহী থেকে আসতে ভাড়া লাগতো ১৮০-১৯০ টাকা। আর আজকে প্রায় ২৫০ টাকা লাগল। বাস বন্ধ থাকার সুযোগে সবাই ভাড়া বেশি নিচ্ছে। ভাড়া বেশি লাগার পাশাপাশি অনেক বেশি সময়ও নষ্ট হচ্ছে।
নিয়ামতপুর থেকে আদালতে হাজিরা দিতে আসা যাত্রী শফিকুল ইসলাম বলেন, বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখি কোনো বাস চলছে না। বাধ্য হয়ে বিকল্প উপায়ে তিন দফায় নওগাঁ শহরে আসতে হয়েছে। সময়ও নষ্ট হয়েছে প্রায় দুই ঘণ্টা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী যাত্রী মাসুদ হোসেন বলেন, বিভিন্ন শহরে ঘুরে ঘুরে হকারির ব্যবসা করি। পার্বতীপুর থেকে নওগাঁয় এসে দেখি বাস-সিএনজিচালিত অটোরিকশা, সব কিছুর চলাচল বন্ধ। চাঁপাইনবাবগঞ্জে এখন কীভাবে যাব বুঝতে পারছি না। বাস শ্রমিক আর অটোরিকশাচালকদের বিরোধের খেসারত সবসময় সাধারণ মানুষকে দিতে হয় বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
নওগাঁ জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে অটোরিকশা (সিএনজিচালিত) মালিকদের সঙ্গে ইতোমধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হলেও এখনও কোনো সুরাহা বা সমাধান হয়নি। এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত দোষীরা গ্রেপ্তার না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই বাস ধর্মঘট ও কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, গতকাল থেকে বাস মালিকদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করা হয়েছে। সদর থানায় তারা একটি অভিযোগও দাখিল করেছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা চলমান।
তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালযয়ে আজ (সোমবার) বাস ও সিএনজিচালিট অটোরিকশার মালিক-শ্রমিকদের নেতাদের নিয়ে আরেকটি সভার ব্যবস্থা করা হয়েছে। খুব দ্রুত বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
৩ দিন আগে
নাটোরে সোনালী ব্যাংকের ৫ কর্মকর্তা বরখাস্ত
গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ, ঋণ জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে নাটোরে সোনালী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার পাঁচ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এছাড়া গত ২৩ সেপ্টেম্বর তাদের মধ্যে দুই কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর ব্যাংকের জিএম মো. শওকত জামানের স্বাক্ষরত চিঠিতে প্রিন্সিপাল অফিসার পদমর্যাদার এই কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
লিটন কুমার ও বিপুল পাল নাটোর থেকে বদলি হয়ে সর্বশেষ নওগাঁ জেলায় কর্মরত ছিলেন। তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া বাকি তিন কর্মকর্তা হলেন এইচ এম রোকনুজ্জামান, হাফিজুর রহমান ও মনিরুজ্জামান। তারা নাটোরের বিভিন্ন শাখায় কর্মরত ছিলেন।
লিটন কুমারের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের প্রায় ৯২ লাখ ৭ হাজার টাকা ও বিপুল পালের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ লাখ ২৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। নাটোরে কর্মরত থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা হিসেবে প্রভাব বিস্তার করে তারা এসব অপকর্মে লিপ্ত হন বলে অভিযোগে রয়েছে।
এছাড়া বাকি তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও বিপুল অঙ্কের ভুয়া ঋণপত্র ও অতিরিক্ত আমানত সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে।
নাটোর সোনালী ব্যাংকের ডিজিএম আহসান রেজা বিষয়গুলো নিশ্চিত করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
৩ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দায় ডুবে ২ তরুণের মৃত্যু
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় মহানন্দা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই তরুণ মারা গেছেন।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের দিয়াড় ধাইনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মহিপুর ভাটোপাড়া এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে সুজন (১৮) ও একই এলাকার সুবাহানের ছেলে আহমেদ (১৯)।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আজ (রবিবার) দুপুর পৌনে ২টার দিকে সুজন ও আহমেদ মহানন্দা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে যান। ঘটনাটি টের পেয়ে স্থানীয়রা তাদের মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
৪ দিন আগে
বগুড়ায় বিনিয়োগকারী রোডশো অনুষ্ঠিত
উত্তরাঞ্চলের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সামনে সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিনিয়োগ সম্ভাবনা, আধুনিক অবকাঠামো ও বিনিয়োগবান্ধব সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরতে ‘বগুড়া বিনিয়োগকারী রোডশো ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল লিমিটেডের উদ্যোগে আয়োজিত এ রোডশোতে বগুড়া অঞ্চলের প্রায় ৭৫ জন স্থানীয় বিনিয়োগকারী অংশ নেন। এছাড়া ব্যবসায়ী ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সামনে সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প স্থাপন ও বিনিয়োগের সুযোগ, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল লিমিটেডের পরিচালক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান স্বাগত বক্তব্যে দেশের শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে এ ধরনের আঞ্চলিক বিনিয়োগ রোডশোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রধান প্রশাসনিক ও মানবসম্পদ কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শরিফুল ইসলাম মূল বিনিয়োগ উপস্থাপনা করেন। তিনি সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সামনে সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিনিয়োগ সম্ভাবনা, অবকাঠামোগত সুবিধা ও শিল্প স্থাপনের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশাররফ হোসেন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা।
এছাড়া বগুড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম আহসানুল তাইয়ব জাকির ও বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এম এস এম আতিকুর রহমান বাদল বক্তব্য দেন।
বক্তারা শিল্পায়ন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল লিমিটেডের চেয়ারম্যান এ মতিন চৌধুরী আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।
সমাপনী বক্তব্যে এ মতিন চৌধুরী রোডশোতে অংশগ্রহণকারী বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী, অতিথি ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে নতুন শিল্প ও বিনিয়োগ আকর্ষণে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রোডশোর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আরও কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলা এবং সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে নতুন শিল্প ও বিনিয়োগের একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল লিমিটেড।
৫ দিন আগে
সংস্কারকাজ ফেলে ঠিকাদার উধাও, সাপাহার হাসপাতালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুর্ভোগে রোগীরা
নওগাঁর সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংস্কারকাজ মাঝপথে ফেলে ঠিকাদার চলে যাওয়ায় হাসপাতালের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে বহির্বিভাগের আশপাশে মল-মূত্র ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। দুর্গন্ধে রোগী ও সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের সংস্কারকাজের দায়িত্ব পান ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন। তবে কাজ পুরোপুরি শেষ না করেই তিনি চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফলে নষ্ট হয়ে যাওয়া টয়লেটের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা আর সংস্কার করা হয়নি। বর্তমানে আউটলেট ট্যাংকির ভাঙা অংশ দিয়ে মল-মূত্র বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে হাসপাতালের বহির্বিভাগের চারপাশে সৃষ্টি হয়েছে দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা জানান, দূরদূরান্ত থেকে বিভিন্ন বয়সের মানুষ চিকিৎসা নিতে এই হাসপাতালে আসেন। কিন্তু বহির্বিভাগের সামনে পৌঁছানোর পরই তাদের নাকে রুমাল চাপা দিতে হচ্ছে। টিকিট কাটা থেকে চিকিৎসকের কক্ষের সামনে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা—পুরো সময়ই তাদের দুর্গন্ধের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।
হাসান আলী নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘আমার এক আত্মীয়কে দেখতে হাসপাতালে এসেছিলাম। এসে দেখি টয়লেটের দুর্গন্ধ পুরো চত্বরে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে মানুষ সুস্থ হতে আসে, সেখানে এসে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়ার জোগাড় হয়েছে! দ্রুত এই সমস্যার একটা স্থায়ী সমাধান করা দরকার।’
আরেক রোগীর স্বজন সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘হাসপাতালে মানুষ আসে একটু স্বস্তি পেতে, কিন্তু এখানে এসে দেখছি উল্টো ভোগান্তি। টয়লেটের মল-মূত্র বাইরে ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাতে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়বে। কর্তৃপক্ষের কি এদিকে কোনো নজরই নেই?’
চিকিৎসা নিতে আসা রোগী মোস্তফা কামাল বলেন, ‘অসুস্থ শরীর নিয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এমনিতেই কষ্টকর, তার ওপর এই পচা গন্ধের চোটে এখানে এক মুহূর্তও টিকতে পারছি না। ডাক্তার দেখানোর আগেই বমি আসার মতো অবস্থা তৈরি হয়ে গেছে।’
কাজ ফেলে যাওয়ার বিষয়ে জানতে ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাশিদ নায়ীব সিজান বলেন, ‘শুধু রোগ নির্ণয় বা ওষুধ লিখে দেওয়াই চিকিৎসা নয়; সবার সেবা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। ঠিকাদারের এ ধরনের অসমাপ্ত কাজ চিকিৎসাসেবা ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা সেবার মানের সঙ্গে কোনো আপস করতে চাই না।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘রোগী ও স্বজনদের সীমাহীন দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে এই সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে আমরা একাধিকবার লিখিত অনুরোধ জানিয়েছি।’
নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংস্কারকাজ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই), রাজশাহী থেকে করা হচ্ছে। কোনো কারণ ছাড়াই ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে রেখেছে। ঠিকাদার কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যাওয়ায় রোগীসহ সেবা গ্রহীতারা চরম দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে পড়েছে বলে জানান তিনি।
ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী নওরোজ মোহাম্মদ তারেকের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানিয়েছেন, পুরোনো ঠিকাদারকে দিয়ে হোক অথবা নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করেই হোক, অতি দ্রুত বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।
কেন ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখে চলে গেছেন এবং কবে নাগাদ সমস্যার সমাধান হবে—এ বিষয়ে জানতে শুক্রবার নওরোজ মোহাম্মদ তারেকের মোবাইল ফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
৬ দিন আগে