শিক্ষা
দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সেই সঙ্গে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে নীতি ও নৈতিকতার আলোয় ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
চীন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন নলেজ ইন্টিগ্রেশন অ্যান্ড এডুকেশনাল লিডারশিপ-২০২৬ সম্মেলনে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী। বর্তমানে তিনি বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলন-২০২৬-এ যোগ দিতে চীনে অবস্থান করছেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের মূল নৈতিক ভিত্তি থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছি, যা গভীরভাবে ভেবে দেখার বিষয়। আর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হবে।’
চীন সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বের ১০০টি দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত সম্মেলনে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে চীনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এ সমঝোতার আওতায় বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে ছয়টি অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ জন্য শিক্ষা কার্যক্রমে সমন্বয় করা হবে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (বিআইআইটি) ও আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, নাইজেরিয়া, ভারত, পাকিস্তানসহ প্রায় ১৫টি দেশের গবেষক, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা অংশ নেন।
তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তারা আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় জ্ঞান ও নৈতিকতার সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে বলেন, ‘নৈতিক শিক্ষার সঙ্গে জাগতিক শিক্ষার আমরা কোনো সমন্বয় করতে পারছি না। আমাদের গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে সমাজের চাহিদা অনুযায়ী উপযুক্ত দক্ষতার অভাব দেখা যাচ্ছে। যেখানে দেশে সাধারণ বেকারত্বের হার প্রায় ৩.৫ শতাংশ, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা বেকারের হার ১৩.৯ শতাংশ, যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং একটি জাতীয় ব্যর্থতা।’
সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিআইআইটির মহাপরিচালক অধ্যাপক আবদুল আজিজ।
এছাড়া স্বাগত বক্তব্য দেন আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল হক ও এক্সটেনশন সার্ভিসেস সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সরওয়ার মোর্শেদ এবং ইউনিভার্সিটি সেইনস ইসলাম মালয়েশিয়ার লিডারশিপ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ফ্যাকাল্টির ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রুশদান মাহাদ জিলানী।
পাশাপাশি শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান।
অনুষ্ঠান শেষে আয়োজক ও সহ-আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য দেন ইউনিভার্সিটি সেইনস ইসলাম মালয়েশিয়ার অধ্যাপক ড. মো. ইউসুফ আলী।
১ দিন আগে
সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের তথ্য হস্তান্তর করল ঢাবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সব তথ্য-উপাত্ত আনুষ্ঠানিকভাবে আজ বুধবার ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে।
ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে উপাচার্যের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমানের কাছে এসব তথ্য-উপাত্ত হস্তান্তর করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এ সময় অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের তথ্য-উপাত্ত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের মাধ্যমে নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে বলেও জানান ঢাবি উপাচার্য।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের তথ্য-উপাত্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে হস্তান্তর করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণসাধন এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালমা বেগম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন ও রেজিস্ট্রার উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ভবনে অবরুদ্ধ চুয়েট উপাচার্য
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে পদত্যাগের আলটিমেটাম দিয়ে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-২-এর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। তার পর থেকে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ভবনে অবরুদ্ধ রয়েছেন উপাচার্যসহ বেশ কয়েকজন।
এদিকে ভিসির সঙ্গে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাবেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল ও বর্তমান উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনকারীরা।
রাত ১টার দিকে চুয়েট চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও টেকনোলজিস্ট বাসুদেব প্রশাসনিক ভবন-২-এ প্রবেশ করে অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। উপাচার্য মুঠোফোনে চিকিৎসককে ডেকে পাঠানোর পর আলোচনার মাধ্যমে তাদের ভবনে প্রবেশের অনুমতি দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় একজনের রক্তচাপ বেশি পাওয়ায় তাকে চুয়েট চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শে ভবনের ভেতরে অবস্থানরত অন্যদের স্যালাইন দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘আমাদের দুজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী উচ্চ রক্তচাপের জটিলতায় ভুগছেন। তাই আমি অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক ডেকেছি। এখানে যেহেতু সবাই দীর্ঘ সময় ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন, তাই সবাই অসুস্থ ও ক্লান্ত অনুভব করছেন।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল ৯টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে পৌঁছান উপাচার্য শরীফুল আলম। ফটকে নিজেকে ‘শিক্ষক’ পরিচয় দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন তিনি। পরে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে যান এবং নির্ধারিত চেয়ারে বসেন।
এ সময় তার কক্ষে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।
বিষয়টি জানতে পেরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছেড়ে যাওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন না ছাড়লে সেটিকে ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা, ফটকে তালা দেওয়া এবং বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে বলে জানান।
আলটিমেটামের সময় শেষ হলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের ভেতরের ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। একই সঙ্গে ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এ সময় তারা ‘তালা, তালা, তালা হবে, ভিসি ভবন তালা হবে’ এবং ‘প্রত্যাখ্যান, প্রত্যাখ্যান, অনলাইন ভিসি প্রত্যাখ্যান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদ এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে এ কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন। এ কারণে টানা ২০ দিন ধরে চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।
৮ দিন আগে
মন্ত্রীর আশ্বাসে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের আশ্বাসে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, শিক্ষকসংকট নিরসনসহ বিভিন্ন দাবিতে চলমান আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউসে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রীর আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা এ সিদ্ধান্ত নেন। পরে রাতে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
সভায় মন্ত্রী সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ, শিক্ষকসংকট নিরসন এবং কলেজটিকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) বিভাগের অধীনে স্থানান্তরের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করার আশ্বাস দেন।
এছাড়া সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী কলেজে একটি খেলার মাঠ নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন।
এরপর সভায় বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে সন্তোষ প্রকাশ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের চলমান আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে আগামীকাল (রবিবার) থেকে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন তারা।
সভায় শিক্ষার্থীরা সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন।
এ সময় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির তাদের যৌক্তিক দাবিগুলোর প্রতি সরকারের ইতিবাচক মনোভাব তুলে ধরে বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক চাহিদার প্রতি সবসময় সংবেদনশীল।
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবির বিষয়ে মন্ত্রী উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে জানান, এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
তবে এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।
এর আগে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও কলেজের শিক্ষার্থীদের তাদের দাবি পূরণসহ কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তার পরও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। তারও আগে শিক্ষার্থীদের নিয়ে জেলা প্রশাসক ও সিসিক প্রশাসক কয়েক দফা সমঝোতা বৈঠক করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানালেও শিক্ষার্থীরা মানেননি।
কলেজটিকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতামুক্ত করে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে যাওয়ার দাবিতে দুই সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ভবনে ১৪ শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে তারা এ কর্মসূচি শুরু করেন।
২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত স্নাতক পর্যায়ের এ প্রকৌশল কলেজের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগ, পুরকৌশল বিভাগ এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের পাঁচটি ব্যাচে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী আছেন, যার বেশির ভাগই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
দাবি মেনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব ও একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণাও দেন তারা।
এদিকে আন্দোলন চলাকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সহযোগী অধাপক মো. আসাদুজ্জামানকে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে এবং সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাহিদ ইকবালকে বদলি করে। তবে এসব সিদ্ধান্তেরও বিরোধীতা করেন শিক্ষার্থীরা।
১১ দিন আগে
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খাবারের মান ও পুষ্টি নিশ্চিতের সুপারিশ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির
প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চলমান খাদ্য কর্মসূচির খাবারের সঠিক মান ও পুষ্টি নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। এর ব্যত্যয় হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) কমিটির সভাপতি মাহমুদা হাবিবার সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কমিটির সদস্যরা উপস্থাপিত বিষয়ের ওপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করে দেশের সব শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালায়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধির সুপারিশ করে। পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের সব শূন্য পদ দ্রুত পূরণের জন্য সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট, প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিটের খাতভিত্তিক বাজেট ও ব্যয় বিভাজন নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অর্থবছরে খাতভিত্তিক বিভাজন ও ব্যয় পরিকল্পনা পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে তুলে ধরা হয় হয়।
বিভিন্ন খাতে বরাদ্দকৃত বাজেট যাতে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় সে বিষয়ে সুপারিশ করে কমিটি।
প্রাথমিক শিক্ষা লেভেলে নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে চালু করার জন্যও কমিটির পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়।
এছাড়া কমিটির পক্ষ থেকে সব সদস্যকে প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু থাকা অবস্থায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সরজমিনে পরিদর্শনের পরামর্শ দেওয়া হয়।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত দিয়ে বৈঠক শুরুর পর কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উপস্থিত কর্মকর্তাদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, লুৎফর রহমান খান আজাদ, মো. আব্দুস সালাম, মো. সাদিক রিয়াজ, মো. ইলিয়াস মোল্লা, মো. মোক্তার আলী ও মাহফুজা হান্নান অংশ নেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান ও জাতীয় সংসদ সচিবালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
১৩ দিন আগে
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: হল প্রভোস্টকে অব্যাহতি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিটসহ বিভিন্ন অভিযোগে আন্দোলনকারীদের দাবির মুখে শহিদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে আন্দোলনরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম।
উপাচার্য বলেন, ‘সাংবাদিকদের সেন্টিমেন্টের প্রতি আমরা সম্মান জানিয়ে জিয়া হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি দিয়েছি। বাদ-বাকি বিষয়গুলো তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’
এ সময় আন্দোলনরত সাংবাদিকরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তারা ছয়টি দাবি জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে হল প্রভোস্টকে অব্যাহতির দাবি প্রশাসন মেনে নিয়েছে। বাকি পাঁচটি দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসন তিন দিন সময় চেয়েছে।
তারা আরও বলেন, ‘আমরা চাই, এই তিন দিনের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ ওঠে হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে। হামলার সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হলেও তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনরত সাংবাদিকরা। পরবর্তীতে হামলার গুরুত্বপূর্ণ ওই ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগও ওঠে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলার সময় ও পরবর্তী পরিস্থিতিতে হল প্রভোস্টের উপস্থিতি থাকলেও তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেননি। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রভোস্টকে অব্যাহতির দাবি জানান তারা।
তবে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হল প্রভোস্ট। তার দাবি, হলের সংস্কারকাজ চলায় সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল এবং সেখানে কোনো ফুটেজ সংরক্ষিত ছিল না।
এর আগে গত রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়। এতে চার সাংবাদিক গুরুতর আহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হলের সামনে প্রতিপক্ষের ওপর হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সাংবাদিকরা দেশীয় অস্ত্রের ছবি তুলতে থাকেন। ছবি ও সংবাদ সংগ্রহের কারণে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়।
১৫ দিন আগে
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি এ ঘটনায় হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে গতকাল (রবিবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়। এতে চার সাংবাদিক গুরুতর আহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিবসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রাতে তারা শহিদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে প্রতিপক্ষের ওপর হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সাংবাদিকরা দেশীয় অস্ত্রের ছবি তুলতে থাকেন। ছবি ও সংবাদ সংগ্রহের কারণে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়।
ঘটনার পর সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি হামলায় জড়িত শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিল ও পড়াশোনা শেষ করা ব্যক্তিদের সনদ বাতিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন—এমন অভিযুক্তদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবিও জানানো হয়।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজকের (সোমবার) মধ্যে মামলা দায়েরের আশ্বাস দেওয়া হলে সাংবাদিকরা কর্মসূচি থেকে ফিরে যান।
হামলায় আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু।
এদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এই কাজে ক্যাম্পাস শাখা ছাত্রদল ও হল প্রাধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান জড়িত বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলের সামনের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ার কথা। কিন্তু পরে ওই ফুটেজ আর পাওয়া যায়নি। হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পরিচয় ও ঘটনার প্রকৃত চিত্র আড়াল করতেই ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শহিদ জিয়াউর রহমান হল প্রাধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সংস্কারকাজ চলমান থাকায় তখন সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। সে জন্য কোনো ফুটেজ নেই। ফুটেজ ডিলিট করার অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা।’
অন্যদিকে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. আবদুল আলীম বলেন, ‘তথ্যগুলো সংরক্ষিত আছে। অভিযোগ যে কেউ করতে পারে। ডকুমেন্টসের কোনো অভাব নেই। তদন্ত কমিটি যেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করার সেখান থেকে করছে।’
অবশ্য সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগ বা হল প্রাধ্যক্ষের দাবি অনুযায়ী সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।
১৬ দিন আগে
নিম্নমানের বই সরবরাহে জড়িতদের শাস্তি দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী
নিম্নমানের পাঠ্যবই সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, পাঠ্যবইয়ের মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। ইতোমধ্যে যেসব নিম্নমানের বই পাওয়া গেছে, সেগুলো বাতিল ও নষ্ট করা হয়েছে। নিম্নমানের বই সরবরাহের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পাঠ্যবই ছাপায় গুণগত মানে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কাগজ, কালি ও ছাপাখানার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী চান দেশীয় মুদ্রণশিল্প গড়ে উঠুক। তাই এ বছর বিদেশি কোনো কোম্পানিকে মুদ্রণের কাজ দেওয়া হয়নি।
এর আগে সময়মতো গুণগত মানের বই ছাপানো সম্ভব হয়েছে এবং আগামীতেও তা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এছাড়া মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে ১৫০টি উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল কর্মসূচি চালু রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ কর্মসূচি সারাদেশে বিস্তৃত করা হবে।
মানসম্মত খাবার সরবরাহের লক্ষ্যে মিড ডে মিল কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের জন্য কুপন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। খাদ্য তালিকায় আরও নতুন খাবার যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা কুপন দিয়ে ক্যান্টিন থেকে নিজেদের খাবার কিনতে পারবে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে খাবার সরবরাহ প্রক্রিয়া বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথমে কয়েকটি জেলায় এ ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে পরে সারাদেশে বাস্তবায়ন করা হবে।
চতুর্থ শ্রেণিতে স্পোর্টস ও কালচারাল বই অন্তর্ভুক্তির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে নতুন সিলেবাস প্রণয়ন করা হচ্ছে।
পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে মানবসম্পদ উন্নয়নের বিকল্প নেই উল্লেখ করে এহছানুল হক মিলন জানান, প্রত্যেক উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ভাষা চালু করা হবে। সৌদি আরবেও টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ করা হবে।
আগামীতে পরীক্ষার দুই সেট প্রশ্ন দুই জায়গা থেকে ছাপানো হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র বিজি প্রেস ও আর্মি সিকিউরিটি প্রেস থেকে করা হবে। পরীক্ষা গ্রহণের কারণে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে যাতে সময় নষ্ট না হয়, সে জন্য সময়মতো পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং বর্ষাকালীন দুর্যোগও এড়িয়ে চলা হবে।
পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নের পরিবর্তন বাস্তবতার নিরিখে আনা হয়েছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।
এহছানুল হক মিলন বলেন, বাংলাদেশকে এডুকেশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে ক্রস-বর্ডার এডুকেশন সিস্টেম চালু করা হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিশ্বের শীর্ষ ৫০০-এর মধ্যে থাকা বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে শাখা খুলতে চাইলে তাদের অনুমোদন দিতে বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন করা হবে বলেও জানান তিনি।
১৭ দিন আগে
খুবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীদের নিয়ে করা ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক যুবককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। ক্যাম্পাসে তাকে আটকে রাখার খবর পেয়ে স্থানীয়দের একটি অংশ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে তাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়াও হয়।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮ থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের পাশে হল রোডে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও শিক্ষকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ভুক্তভোগী যুবক সজলের স্বজনরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদক পরিস্থিতি ও হল রোডের কয়েকটি বাসায় অনৈতিক কার্যকলাপ নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করেন সজল। তারই জেরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কয়েকজন ছাত্র সজলকে মারতে মারতে ক্যাম্পাসের ভেতরে নিয়ে যান। খবর পেয়ে সজলের বন্ধু ও স্থানীয়রা হল গেটে জড়ো হলে স্থানীয় এক বয়স্ক লোককেও মারধর করা হয়।
অন্যদিকে ছাত্রদের পক্ষ থেকে লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যক্তি ছদ্মনাম ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেন। এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সজলকে খাজা গেট এলাকায় ডাকেন। এ সময় কতিপয় রাজনৈতিক ব্যক্তির মদদে সেখানে একদল লোক জড়ো হয়। তারা ওই ব্যক্তিকে মারতে মারতে সেখান থেকে নিয়ে যেতে শুরু করেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তখন তাকে ফিরিয়ে এনে তাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।
ছাত্ররা অভিযোগ করেন, জড়ো হওয়া লোকেরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সরাসরি হামলা চালায় এবং তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে শিক্ষার্থীরা আঘাতপ্রাপ্ত হন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কোনো হামলা শুরু করা হয়নি, বরং তাদের ওপর আক্রমণ ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের মাধ্যমেই পরিস্থিতি সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উগ্র আচরণে আশপাশের বাড়ির মালিকরা অতিষ্ঠ। তুচ্ছ কারণে স্থানীয়দের মারধরের এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। বিষয়টির স্থায়ী সুরাহার দাবি জানান তারা।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন বলেন, পুলিশ ও শিক্ষকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। কী নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে তা খুঁজে বের করা হচ্ছে। ছাত্রদের হেফাজতে থাকা যুবককে হরিণটানা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নগরীর হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়। এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুই পক্ষ আলোচনা করে আজ (শনিবার) তাদের পদক্ষেপ জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
১৮ দিন আগে
দিনভর অনশন, মধ্যরাতে নিয়োগপত্র পেলেন ২০ শিক্ষকপ্রার্থী
এনএসআইয়ের নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ আটকে থাকা ময়মনসিংহের ২২ প্রার্থীর মধ্যে ২০ জন অবশেষে নিয়োগপত্র পেয়েছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিনভর অনশনের পর মধ্যরাতে তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। তবে বাকি দুই প্রার্থীর নিয়োগের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
আজ (বৃহস্পতিবার) ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ২০ জনের নিয়োগপত্র ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নিয়োগপত্র পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে ওই ২০ প্রার্থীর মধ্যে। তবে বাকি দুই প্রার্থীর নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
এর আগে এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে নেতিবাচক তথ্য আসার কথা জানিয়ে ময়মনসিংহ জেলা থেকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ২২ জন প্রার্থীর নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়। পরে নিয়োগপত্র না পেয়ে গতকাল (বুধবার) বেলা সোয়া ১১টা থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অনশন শুরু করেন তারা।
অনশনরত প্রার্থীদের অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছিল না। এমনকি এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে কী ধরনের নেতিবাচক তথ্য রয়েছে, সে বিষয়েও তাদের কিছু জানানো হয়নি।
অনশনকারীদের একজন ফুলপুরের কাজী অনিক। নিয়োগপত্র পাওয়ার পর তিনি বলেন, মধ্যরাতে ওয়েবসাইটে নিয়োগপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। নিয়োগপত্র পেয়ে আমরা খুশি। আজকেই যোগদান করব।
তবে নিয়োগপত্র পাননি গফরগাঁওয়ের জাহিদ হাসান। তিনি বলেন, দিনভর জানার চেষ্টা করেছি, কেন আমাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। আমি রাজনৈতিক কোনো পদ-পদবিতে ছিলাম না। তবুও নিয়োগপত্র কেন পেলাম না, তা জানি না।
ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে মধ্যরাতে ২০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। বাকি দুজনের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। নিয়োগপত্র পাওয়া ২০ জন আজকেই যোগদান করবেন বলে জানান তিনি।
২০ দিন আগে