সিলেট
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের ৫ প্রবাসীর দাফন সম্পন্ন
কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসীর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ২টার দিকে স্থানীয় আকুনি মাদরাসা মাঠে হাজারও মানুষের উপস্থিতিতে সম্মিলিত জানাজা শেষে নিজ নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাদের সমাহিত করা হয়।
এর আগে, আজ (মঙ্গলবার) সকালে কফিনবন্দী পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
এ সময় সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা জানান।
ওয়েজ অনার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে নিহতদের দাফনের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয় এবং ভবিষ্যতে আরও ৩ লাখ টাকা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
মরদেহগুলো অ্যাম্বুলেন্সযোগে নিজ গ্রামে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। প্রিয়জনদের হারিয়ে স্বজনদের বুকফাটা আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন— ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের মস্তাক আহমদ, জুবায়ের আহমদ এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের কাদির আহমদ।
গত ২১ জুন কাতারের শাহানিয়া এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় এই পাঁচ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত হন। এই দুর্ঘটনায় মোট ছয়জন প্রাণ হারিয়েছিলেন, যার মধ্যে পাঁচজনই ছিলেন কানাইঘাটের বাসিন্দা। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন অকাল প্রয়াণে পুরো কানাইঘাট উপজেলাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
৩ দিন আগে
সিলেটে পৌঁছেছে কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ
কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ আজ সকালে সিলেটে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল পৌনে ৭টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। এ সময় প্রিয়জনদের হারিয়ে স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশ তৈরী হয়।
নিহতরা হলেন— সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ী গ্রামের আব্দুল কাদির, মাঝতালুক গ্রামের মুস্তাক আহমেদ আফনান, একই গ্রামের জুবায়ের আহমেদ, আগাতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন এবং আমরপুর গ্রামের জিবাল আহমেদ।
বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো অ্যাম্বুলেন্সে করে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। এ সময় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, নিহতদের দাফন ও শেষকৃত্যের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রতিটি পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরবর্তীতে বোর্ড থেকে আরও তিন লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পর কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের আকুনি মাদ্রাসা মাঠে নিহত পাঁচ প্রবাসীর সম্মিলিত জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাদের নিজ নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে।
এর আগে গত ২১ জুন সকালে কাতারের শাহানিয়া এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হন। ঘটনার দিন ওই পাঁচজন একটি পিকআপ ভ্যানে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। সে সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারালে ঘটনাস্থলেই ছয়জন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিকও ছিলেন। পরে তাদের মরদেহ কাতারের একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
শ্রম কল্যাণ উইং জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ গতকাল (সোমবার) কাতারের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২৬ নম্বর ফ্লাইটে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়। ফ্লাইটটি মঙ্গলবার সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
৩ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
মৃত শিশুটির বাড়ি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায়। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ মাস বয়সী ওই শিশুর মৃত্যু হয়।
গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় সিলেটে বিভাগে নতুন করে ২ জন রোগীর হাম শনাক্ত হয়েছে।
বিভাগীয় অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৭৪ জন ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৯০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৭ জন রোগী ভর্তি আছেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ৯৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে।
এছাড়া, অন্যান্য হাসপাতালের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৭ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৪ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৩ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ১০ জন, জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ জন, আল হারামাইন হাসপাতালে ৫ জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ২ জন, পার্ক ভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ জন এবং উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জন রোগী ভর্তি আছেন। বাকি রোগীদের মধ্যে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জনসহ অন্যান্য উপজেলার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৩৬০ জন ল্যাব নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলায় সর্বোচ্চ ২১০ জন, সিলেটে ১১৭ জন, হবিগঞ্জে ৩৪ জন ও মৌলভীবাজারে ১৬ জন আক্রান্ত হয়েছে।
চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগে হাম ও উপসর্গে ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং বাকিরা হামের উপসর্গে মারা গেছে।
৪ দিন আগে
শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি যুগোপযোগী ও যৌক্তিক কাঠামো নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে সিলেট সার্কিট হাউসে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সম্প্রতি শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে তালা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ আলোচনা শেষে দরগাহর সার্বিক উন্নয়ন এবং দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে সবাই একমত হন।
বৈঠক শেষে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের বলেন, দরগাহর উন্নয়ন, দানের অর্থের ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক কার্যক্রমের একটি যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার বিষয়ে মাজার কর্তৃপক্ষসহ সবাই ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। সবার মতামতের ভিত্তিতেই এই ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা আগামী এক মাসের মধ্যে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তবে নতুন কাঠামো চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আপাতত বিদ্যমান কমিটিই প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী দানবাক্সের অর্থ গণনা করবে এবং তা মাজারের চলমান ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার, জেলা পরিষদের প্রশাসক, মাজারের মোতোয়াল্লি পরিবারের দুই সদস্য এবং মাজার মাদ্রাসা ও মসজিদের দুই প্রতিনিধি। কমিটির সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সিলেটের জেলা প্রশাসক।
এ সময় বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের পূর্ববর্তী উদ্যোগ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অতীতের কোনো বিষয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি করতে চাই না, বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। যেকোনো কাজ এককভাবে করার চেয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যুক্ত করে করাটা বেশি কার্যকর। সরকার এমন একটি টেকসই উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে কাজের স্বচ্ছতার পাশাপাশি সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় এবং ভবিষ্যতে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া বা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয়।’
এর আগে সকালে সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দরগাহর ঐতিহ্য রক্ষা, বর্তমান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি এবং উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে সিলেটের স্থানীয় রাজনীতিবিদ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, মাজার কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিভাগীয় কমিশনার ড. মোশারফ হোসেন, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. জিল্লুর রহমান, সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।
৭ দিন আগে
সিলেটে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলা থেকে খালাস বাবর, আরিফ ও গৌছ
সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তিনজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।
এই আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আবুল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এর আগে, গত এপ্রিল মাসে আলোচিত এই মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। সেইসঙ্গে গত ৭ এপ্রিল একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ৩৪২ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য জানতে চান বিচারক। শুনানিতে অংশ নিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে শ্রম, কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সংসদের সরকার দলীয় হুইপ জি কে গৌছ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনি এলাকা সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। গ্রেনেড বিস্ফোরণে যুবলীগের এক কর্মী ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং ২৯ জন আহত হন। হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
ওই ঘটনায় দিরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। এরপর ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দুটি মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গৌছসহ ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ১২৩ জন সাক্ষী রয়েছেন।
৮ দিন আগে
বিদায় বেলায় শাহজালালের মাজারে ৫ লাখ টাকা দিলেন ডিসি সারওয়ার
সিলেট থেকে বিদায়ের আগে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ব্যাংক হিসাবে ৫ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন সদ্যবিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম।
সোমবার (২২ জুন) বিকেলে জামিয়া কাসিমুল উলুম দরগাহ হযরত শাহজালাল (রহ.) মাদরাসা কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত চেকে স্বাক্ষর করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) তানভীর হোসাইন সজীব।
তিনি জানান, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর নামে মাজারের সোনালী ব্যাংকের হিসাবে দানবাক্স থেকে পাওয়া ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকার সঙ্গে জেলা প্রশাসক আরও ৫ লাখ টাকার চেক প্রদান করেছেন। ফলে ওই হিসাবে বর্তমানে মোট ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা জমা হয়েছে।
সোমবার হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের চারটি এবং জেলা প্রশাসনের স্থাপন করা আরও চারটিসহ মোট আটটি দানবাক্স খোলা হয়। এসব দানবাক্স থেকে নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়।
এছাড়া সাত আনা স্বর্ণালঙ্কার এবং দুটি সৌদি রিয়ালও পাওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া অর্থ ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী পরবর্তীতে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর নামে সোনালী ব্যাংকের করপোরেট শাখার হিসাবে জমা করা হয়।
১০ দিন আগে
জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণেই থাকছে শাহজালালের মাজারের ডেগ ও দানবাক্স
সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ঐতিহাসিক ডেগ ও দানবাক্স আপাতত জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণেই থাকছে। মাজারে জমা হওয়া দানের টাকা সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামে খোলা একটি হিসাবে (অ্যাকাউন্টে) জমা রাখা হবে। পরবর্তীতে এ টাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন।
সোমবার (২২ জুন) সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘মাজারের টাকা সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামীয় একটি হিসাবে রাখা হবে। সম্প্রতি এই অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। পরবর্তীতে এই টাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডিসি চলে যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা।’
সাঈদা পারভীন বলেন, দানবাক্স জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। যদি সেগুলো ভর্তি হয়ে যায়, তাহলে আবার খুলে গণনা করা হবে। এ ছাড়াও দানবাক্সের পাহারায় আনসার সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন।
এদিকে, গতকাল (সোমবার) দুপুর আড়াইটার দিকে সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের উপস্থিতিতে প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারে স্থাপন করা তিনটি ঐতিহাসিক ডেগ ও একটি দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে গণনা করা হয়। এতে নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা পাওয়া যায়। গণনার সময় দানবাক্সে টাকার পাশাপাশি ৭ আনা সোনা ও বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে রিয়াল, ডলার, পাউন্ড এবং স্বর্ণের চেইন, আংটিসহ ছোট ছোট স্বর্ণের টুকরো।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত মাজার প্রাঙ্গণে এ গণনা কার্যক্রম চলে। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে মাজারে নতুন একটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সময়ে মাজারে থাকা তিনটি ঐতিহাসিক ডেগ সিলগালা করা হয় এবং নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়।
১০ দিন আগে
সিলেটে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার
সিলেটের গোলাপগঞ্জে পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দীপনকে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২১ জুন) ভোররাতে উপজেলার রণকেলী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল ইসলাম বলে, গ্রেপ্তার দেলোয়ার হোসেন দীপন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হওয়া একাধিক মামলার আসামি। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
তিনি আরও জানান, মামলাগুলোর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১১ দিন আগে
সিলেটে ভারতীয় নাগরিক আটক, এনআইডি জালিয়াতির অভিযোগ
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির চেষ্টার অভিযোগে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বাবুর বাজার এলাকার একটি কম্পিউটার ও প্রিন্টিং প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় আধার কার্ডের তথ্য ব্যবহার করে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির উদ্দেশ্যে ওই ব্যক্তি দোকানটিতে যান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মাহবুর সুলতান কৌশলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে জকিগঞ্জ থানা পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র, একটি ভারতীয় আধার কার্ড এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত ভারতীয় বিভিন্ন কাগজপত্রের ছবিও পাওয়া গেছে। এসব নথির সত্যতা যাচাই করছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তি নিজের নাম রাব্বি আহমদ বলে পরিচয় দিয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেন, ভারতে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের কারণে তিনি বাংলাদেশে এসেছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে আগের রাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর ফুফুর বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। বাংলাদেশে চলাচলের সুবিধার্থে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির চেষ্টা করেছিলেন বলেও তিনি পুলিশের কাছে স্বীকার করেন।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আটক ব্যক্তির পরিচয়, বাংলাদেশে প্রবেশের বৈধতা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া কাগজপত্রও যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
১১ দিন আগে
সিলেটের সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের বন্ধ ঘোষণা
টানা বৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাবে সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিন মিয়া।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পর্যটনকেন্দ্রের আশপাশের দোকানপাট পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে পুরো এলাকাজুড়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা প্রশাসন।
কোম্পানীগঞ্জ ইউএনও মোহাম্মদ রবিন মিয়া জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের সাদাপাথরে যাওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে। স্রোত কমে গেলে এবং আবহাওয়া স্থিতিশীল হলে পুনরায় পর্যটনকেন্দ্রটি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, বর্তমান দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি ঘটলেই পুনরায় দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে সাদাপাথর।
১২ দিন আগে