সিলেট
স্কুল ফিডিংয়ে অনিয়ম সহ্য করা হবে না: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচিতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতি সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে সুনামগঞ্জ প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচিতে অনিয়মের ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত খাবার বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। সপ্তাহে নির্ধারিত পাঁচ দিনের খাদ্যতালিকায় কোনো ব্যত্যয় ঘটলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় তিনি স্বীকার করেন যে, কর্মসূচির শুরুর দিকে কিছু গাফিলতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। তবে বর্তমানে তা শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও শিক্ষা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত খাবারের মানের ক্ষেত্রে কোনো রকম আপস করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
হাওরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, এ অঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতাকে মাথায় রেখে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। হাওরের শিশুদের শিক্ষার মূল স্রোতে ধরে রাখা ও শিক্ষার সার্বিক মান বাড়াতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। স্থানভিত্তিক সুনির্দিষ্ট চাহিদা চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন ত্বরান্বিত করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় পদায়নে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সকল নিয়মকানুন সম্পন্ন করে প্রায় ১৪ হাজার নতুন শিক্ষককে পদায়ন করা হবে। পদায়নের পর তাদের দুই মাসের নিবিড় প্রশিক্ষণ দিয়ে দ্রুত শ্রেণিকক্ষে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান, পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহনলাল দাসসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পিটিআইয়ের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা ও পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
১৭ ঘণ্টা আগে
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সিলেটে চা শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ
দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, ৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির বিতর্কিত গেজেট বাতিল, ভূমির মালিকানা প্রদান এবং চা শ্রমিক ইউনিয়নের (সিবিএ) নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন সিলেটের চা শ্রমিকরা।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে সিলেটের খাদিম চা বাগানে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশ চলাকালে শ্রমিকরা দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন এবং সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ করেন।
চা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি সবুজ তাঁতীর সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সমন্বয়ক মনীষা ওয়াহিদের সঞ্চালনায় আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ, উপদেষ্টা সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক দীপ্ত নায়েক, বুরজান চা-কারখানার শ্রমিকনেতা সুশান্ত চাষা প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির সঙ্গে চা শ্রমিকদের বর্তমান মজুরি কাঠামো অত্যন্ত অমানবিক। প্রতি বছর মাত্র ৮ টাকা করে মূল্য বৃদ্ধি চা শ্রমিকদের সঙ্গে এক ধরনের প্রহসন ও তামাশা। বর্তমানে নির্ধারিত দৈনিক মাত্র ১৮৭ টাকা মজুরিতে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বেঁচে থাকার জন্য সম্মানজনক ন্যায্য মজুরি আজ দেশের প্রতিটি চা শ্রমিকের প্রাণের দাবি।
ভূমির অধিকার বিষয়ে বক্তারা আরও বলেন, এই ভূখণ্ডে চা শ্রমিকদের বসবাসের ২০০ বছর হতে চলল। অথচ, আজও তারা ভূমিহীন। ভূমির নিজস্ব মালিকানা না থাকায় সকল নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও সাংবিধানিক অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই ভূমির মালিকানা নিশ্চিত করা সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ তার বক্তব্যে বলেন, চা শ্রমিকরা আজও চরম রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের শিকার। স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও এই জনগোষ্ঠী আধুনিক দাসত্বের জীবনযাপন করছেন। দেশের সবচেয়ে অবহেলিত শ্রমজীবী মানুষ হয়েও তারা সবচেয়ে কম মজুরিতে কাজ করেন। দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি আদায়ের জন্য সব বাগানের শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি সবুজ তাঁতী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আজকে আমরা স্বল্প সময়ের জন্য রাজপথে নেমে সড়ক ছেড়ে দিলেও সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছি, পরবর্তী কর্মসূচিতে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আর রাজপথ ছাড়ব না।
এর আগে, খাদিম চা বাগানের লোহার পুল এলাকা থেকে একটি বিশালাকার বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বাগানের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে চা শ্রমিকরা সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
২ দিন আগে
সিলেটে ১৪ বছর পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
সিলেটে প্রায় ১৪ বছর ধরে পরিচয় গোপন করে আত্মগোপনে থাকা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জৈন্তাপুর মডেল থানার পুলিশ।
বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গোয়াইনঘাট থানার হরুখেল এলাকার খাটারীগাংয়ে পাথর শ্রমিক আব্দুল জলিলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানায় হত্যা মামলা করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এজাহারভুক্ত আসামি জৈন্তাপুর উপজেলার জীবন বক্তারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
রায় ঘোষণার পর থেকেই জীবন বক্তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে নিজের পরিচয় পরিবর্তন করে ‘মো. আল-আমিন’ নামে নতুন পরিচয় গ্রহণ করেন। এমনকি ভোটার তালিকায়ও নাম পরিবর্তন করে বাঘছড়া চা বাগান এলাকায় বসবাস শুরু করেন। ভুয়া পরিচয় ব্যবহারের কারণে দীর্ঘদিন তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লার সার্বিক দিকনির্দেশনায় গতকাল (বুধবার) দিবাগত রাত ২টা ৪০ মিনিটে এসআই (নিরস্ত্র) সজল দাস ফোর্সসহ বাঘছড়া চা বাগান এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন এবং জীবন বক্তার ওরফে আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।
গ্রেপ্তার আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ তথ্য নিশ্চিত করে ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, আইনের হাত থেকে কেউ চিরদিন পালিয়ে থাকতে পারে না। পরিচয় পরিবর্তন করে দীর্ঘ ১৪ বছর আত্মগোপনে থাকলেও পুলিশের ধারাবাহিক গোয়েন্দা তৎপরতা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সাজাপ্রাপ্ত এই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। জৈন্তাপুর মডেল থানা অপরাধ দমনে এবং সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
৪ দিন আগে
সিলেটে আদলত চত্বরে হত্যা মামলার আসামির ওপর ফের হামলা
সিলেটে আদালত চত্বরে শিশু ফাহিমা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনের ওপর আবারও হামলা হয়েছে। হামলাকারীরা এ সময় জাকিরকে মারধর করেন। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের সরিয়ে দেয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে জাকিরকে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণেই এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এর আগে, ২৩ জুন একইভাবে আদালত চত্বরে জাকিরকে মারধর করেন ফাহিমার স্বজন ও প্রতিবেশিরা।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টার দিকে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে কারাগার থেকে জাকিরকে আদালতে আনা হয়। আগে থেকেই আদালত চত্বরে অপেক্ষায় ছিলেন শিশু ফাহিমার স্বজন ও প্রতিবেশিরা। প্রিজন ভ্যান থেকে জাকিরকে আদালত ভবনে নেওয়ার সময় তারা সংঘবদ্ধ হামলা চালান। এ সময় পুলিশের হেফাজতে থাকা জাকিরকে মারধর করেন তারা। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে হামলাকারীদের সরিয়ে দেয়।
তবে হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে ফাহিমার এক চাচা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ওপর ক্ষুব্ধ। তিনি আসামিদের পক্ষে কথা বলছেন। এতে ন্যায়বিচার নিয়ে আমরা শঙ্কিত।
বারবার আদালত চত্বরে হামলার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে।
তবে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. মনজুরুল আলম বলেন, জাকিরকে যথেষ্ট পুলিশি পাহারার মাধ্যমেই আদালতে আনা-নেওয়া করা হয়। তারপরও কীভাবে হামলার ঘটনা ঘটল, আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ মে রাতে ফাহিমাকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন।
এদিকে, শিশু ফাহিমা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার ঘটনার মাত্র এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর মরদেহ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে আসামি করা হয়েছে তার দুই ভাই জয়নাল ও কালামকে। অভিযুক্তরা ফাহিমার প্রতিবেশী ও সম্পর্কে চাচা। তাদের মধ্যে জাকিরকে ঘটনার পরই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দুই দফা জাকিরদের বাড়ি ভাঙচুর করে।
নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দির গাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে ছিল।
হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. জাকির হোসেন (৩০) একই গ্রামের পশ্চিম পাড়া ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। এর দুদিন পর গত ৮ মে ভোর ৪টার দিকে ফাহিমার মরদেহ ঘরের সামনে নুরুল হক নামের একজনের মালিকানাধীন ডোবায় ফেলে পানিতে ডুবিয়ে রাখার চেষ্টা করেন জাকির। পরে মরদেহ ডোবার পানিতে ভেসে ওঠায় আসামি মরদেহটি পানি থেকে তুলে ডোবার পশ্চিম পাশে উঠানের পূর্ব পাশে বাঁশ ও নারিকেল গাছের নিচে রেখে দেন। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।
গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় এ ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন জাকির।
তবে, সম্প্রতি আদালতে তোলার সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে জাকির অভিযোগ করেছেন, পুলিশ জোর করে তার জবানবন্দি আদায় করে।
এর আগে, গত ১২ মে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠানো হয়। শিশুটি সিগারেট এনে দেওয়ার পর তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন জাকির। এ সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় আসামি। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশের দাবি, আসামির জবানবন্দি অনুযায়ী, একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয়। এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে পরে মরদেহ সরিয়ে বাড়ির পেছনে রাখা হয়। সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে মরদেহ পানিতে না ডোবায় পাশেই রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত জাকির।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অভিযুক্তের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব আলামত জব্দ করে তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হবে। এই হত্যার ঘটনায় সিলেটজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ফাহিমা হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন।
৪ দিন আগে
সিলেটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪
সিলেট নগরীর শাহপরান থানার একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন লেগে চারজন দগ্ধ হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে টিলাগড় এলাকার আল জালাল সিএনজি ফিলিং স্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দগ্ধরা হলেন— আল জালাল সিএনজি স্টেশনের কর্মী আবু সাঈদ (২০) ও আবু সুফিয়ান (২২) এবং স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল (২০) ও হাবিব (২২)।
আহতদের প্রথমে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গতকাল (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে এ তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আবু সাঈদের শরীরের ১৫ শতাংশ, আবু সুফিয়ানের ৯ শতাংশ, জুয়েলের ১২ শতাংশ এবং হাবিবের ৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের জরুরি বিভাগের পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে সবাই বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
আল জালাল সিএনজি স্টেশনের ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান জানান, গতকাল সকালে একটি বাসে গ্যাস নেওয়ার সময় হঠাৎ বাসটির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। আগুন নেভাতে গিয়ে স্টেশনের দুই কর্মীসহ চারজন দগ্ধ হন। পরে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
৫ দিন আগে
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে অপহরণ, যুবক গ্রেপ্তার
সিলেটে এক তরুণীকে অপহরণ মামলার প্রধান আসামি জয় দাসকে (২৩) নেত্রকোনা জেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯ ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি)। এ সময় যৌথ অভিযান চালিয়ে অপহৃত তরুণীকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) র্যাব-৯ এর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার জয় দাস নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী থানার শিবপুর গ্রামের হরিধন দাসের ছেলে।
বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী তরুণীকে সিলেট মহানগরীর জালালাবাদ থানাধীন করেরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় করেরপাড়া সিটি মডেল স্কুল থেকে সদ্য এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে জয় প্রায়ই তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি ভুক্তভোগী তরুণী তার পরিবারকে জানালে, তার বাবা অভিযুক্তের বোন জামাই রিংকু দাসের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ করেন। তখন রিংকু দাস ওই তরুণীকে আর বিরক্ত করা হবে না বলে আশ্বাস দেন।
গত ১৬ জুলাই দুপুর ৩টার দিকে ভুক্তভোগী হাওলাদারপাড়ায় তার খালার বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি সেখানে না পৌঁছালে তার পরিবার খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে তারা প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জানতে পারেন, করেরপাড়া পয়েন্ট এলাকা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় জয় ও অজ্ঞাতনামা ২ থেকে ৩ জন মিলে জোরপূর্বক ওই তরুণীকে অপহরণ করে নিয়ে গেছেন।
র্যাব জানায়, এই ঘটনায় তরুণীর বাবা বাদী হয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) জালালাবাদ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব-৯।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার র্যাব-৯ (সদর কোম্পানি) ও এসএমপি পুলিশের একটি যৌথ দল নেত্রকোনার খালিয়াজুরী থানার মুরাদপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি জয়কে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়।
আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে উদ্ধার হওয়া তরুণী ও গ্রেপ্তার আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
৫ দিন আগে
সিলেটে হাম ও উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে ১০৩
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে হাম ও রোগটির উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৩ জনে।
সোমবার (২০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে ২টি শিশুর বাড়ি সুনামগঞ্জে ও ১টি শিশুর বাড়ি হবিগঞ্জে। তদের সবার বয়স দুই বছরের কম। সিলেটে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ১০৩ জনের মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক, বাকি সবাই শিশু।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৫৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছে।
বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়। এ জেলায় এ পর্যন্ত মারা গেছে ৪৭ শিশু। এছাড়া মৃত শিশুদের মধ্যে ৩৫ শিশুর বাড়ি সিলেটে, ১২ শিশুর বাড়ি মৌলভীবাজারে ও ৯ শিশুর বাড়ি হবিগঞ্জে ।
এদিকে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৬৫ জন রোগী ভর্তি আছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৫৩৪ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০টি ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৪টি আইসিইউ বেড স্থাপন করা হয়েছে।
৭ দিন আগে
শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে দুই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আবাসিক হলের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়।
বহিষ্কৃতরা হলেন— শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক হাসিবুর রহমান ও সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান। তারা শাহপরান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নির্দেশক্রমে তাদের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, গতকাল (শনিবার) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খাইরুল খন্দকারকে মারধর করেন অভিযুক্ত ওই দুই নেতা। এর আগে, শাহপরান হলের খাবারের মান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে খাইরুলকে মন্তব্য করেন খাইরুল। সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। এর জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তরা তার ওপর চড়াও হন। ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তরা সবাই শাহপরান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমেদ বলেন, ‘এখানে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। কাউকে মারার জন্য মদদও দেইনি। হলের সমস্যা নিয়ে কোনো শিক্ষার্থী অভিযোগ করলে আমি আমার কক্ষে ডেকে তার সঙ্গে কথা বলে সমাধান করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী আমার কাছে সমান।’
এদিকে, শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক খায়রুল ইসলামের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচি থেকে ঘটনার প্রতিবাদ ও অভিযুক্তদের বিচারের দাবি জানানো হয়। রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপাচার্য তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
ইতোমধ্যে সামাজিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন: বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আ ফ ম জাকারিয়া ও সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. বেলাল হোসেন সিকদার। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য বলা হয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। ঘটনার যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে।
৮ দিন আগে
সিলেটে খনন হচ্ছে নতুন তিনটি কূপ, ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার আশা
দেশের গ্যাস সংকট মোকাবিলা এবং ব্যয়বহুল এলএনজির ওপর আমদানি নির্ভরতা কমাতে নতুন তিনটি গ্যাস ও তেলের কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড। কূপগুলোর কাজ শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন আরও ৩ কোটি (৩০ মিলিয়ন) ঘনফুট গ্যাস যোগ হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমানে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ১৭টি কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৪ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে। নতুন কূপ চালু হলে এ সরবরাহ আরও বাড়বে।
সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফারুক হোসেন জানান, খননের জন্য নির্ধারিত ৮টি কূপের মধ্যে এখনও তিনটির কাজ বাকি রয়েছে। এগুলো হলো: রশিদপুর-১৩, ডুপিটিলা-১ ও কৈলাশটিলা-৯।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন ১৪২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে। বাকি তিনটি কূপের ড্রিলিং শেষ হলে আরও ৩০ মিলিয়ন (৩ কোটি) ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ করা সম্ভব হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবছর বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে এলএনজি আমদানির পরিবর্তে দেশীয় গ্যাস ও তেল অনুসন্ধানে আরও জোর দিতে হবে। তাদের মতে, স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রেও উল্লেখযোগ্য গ্যাস ও তেলের মজুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দ্রুত সমন্বয়ের মাধ্যমে অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্প্রসারণ জরুরি।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এম ফরহাদ হাওলাদার বলেন, দেশীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত অনুসন্ধান কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
১৯৫৫ সালে দেশের প্রথম প্রাকৃতিক গ্যাস আবিষ্কার করে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড। পেট্রোবাংলার অধীন রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত জ্বালানি তেল বর্তমানে দেশের পেট্রোলের ৩০-৩৫ শতাংশ, অকটেনের ১২-১৫ শতাংশ, ডিজেলের প্রায় ৯ শতাংশ এবং কেরোসিনের প্রায় ২ শতাংশ চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছে।
৮ দিন আগে
সিলেটে হাম ও উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে ১০০
সিলেটে হাম ও রোগটির উপসর্গ নিয়ে আজ রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট ১০০ জনে।
রবিবার (১৯ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত শিশুটির নাম আবু সাঈদ। ৯ মাস বয়সী শিশুটি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সাহাব উদ্দিনের ছেলে। সিলেট শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৮৫ জন ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৮ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৫ জন ও বাকি ১২ জন শিশু বিভিন্ন হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে।
বিভাগের চার জেলার মধ্যে আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে সুনামগঞ্জ। সুনামগঞ্জে এ পর্যন্ত ২৮৭টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে ও মৃত্যু হয়েছে ৪৪ জনের। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সিলেট জেলায় আক্রান্ত ১৮০ জন ও মৃত্যু হয়েছে ৩৩ জনের। এছাড়া হবিগঞ্জ আক্রান্ত ৫৫ জন ও মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের এবং মৌলভীবাজার জেলায় ২২টি শিশু আক্রান্ত ও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট আক্রান্তের অর্ধেকেরও বেশি রোগী সুনামগঞ্জ জেলার। দুর্গম হাওর অঞ্চল ও অসচেতনতার কারণে ওই এলাকায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়েছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
এছাড়া, অন্যান্য হাসপাতালের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৭ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৪ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৩ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ১০ জন, জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ জন, আল হারামাইন হাসপাতালে ৫ জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ২ জন, পার্ক ভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ জন এবং উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জন রোগী ভর্তি আছেন। বাকি রোগীদের মধ্যে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জনসহ অন্যান্য উপজেলার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সিলেট শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. মো. মিজানুর জানান, আজ (রবিবার) হাসপাতালে নতুন করে আরও ২৮টি শিশু ভর্তি হয়েছে। তাদের অনেকের নানা ধরনের শারিরীক জটিলতা রয়েছে। আজ সকাল পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ১০০ শয্যার বিপরীতে ৯৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৫৪৪ জন ল্যাব নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং বাকিরা হামের উপসর্গে মারা গেছে।
৮ দিন আগে