সিলেট
সিলেটে তিনজনকে গলাকেটে হত্যা: ৪ দিনের রিমান্ডে আটক বাবুল
সিলেট নগরীর রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকায় ৩ জনকে হত্যার ঘটনায় বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের মাধ্যমে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (১৬ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিপলু চৌধুরী।
তিনি জানান, আজ (রবিবার) বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে বিচারক ফারহানা সুলতানা চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট সকালে রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের (১৫) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে মামলা করেন।
এ ঘটনায় বাবুল মিয়া (৪০) নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে সম্পর্ক কিংবা কথাকাটাকাটির জেরে বাবুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে তিনজনকে হত্যা করেন।
তবে, পুলিশের এ বক্তব্য নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে নিহতদের পরিবার। তাদের দাবি, আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। গৃহকর্মীর সঙ্গে বাবুলের কোনো সম্পর্ক ছিল না বলেও দাবি করেছেন তারা।
মামলার বাদী সেলিনা সুলতানা বলেন, একজনের পক্ষে একসঙ্গে তিনজনকে হত্যা করা সম্ভব নয়। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। তার অভিযোগ, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে গৃহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে। গৃহকর্মী তাহমিনার পিতাও একই দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না তা নিশ্চিত করতে গভীর ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
ঘটনার পর ১৩ আগস্ট সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তার বাবুল মিয়া পরিকল্পিতভাবে ছুরি নিয়ে বাসায় প্রবেশ করে ধারাবাহিকভাবে তিনজনকে হত্যা করেছে। অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি খালি প্লট থেকে রক্তমাখা ব্যাগ ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসার ভেতরে বেসিনে হাত ও ছুরি ধোয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং বিভিন্ন স্থানে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা আলামত পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং রক্তের নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল দাবি করেছে, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। তাহমিনার খারাপ আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে। প্রথমে তাহমিনার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে বাধা দিতে আসলে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও শেষে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তারকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর ভেতর থেকে দরজা আটকে দিয়ে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান বাবুল। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এছাড়া ওই বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। কোনো মূল্যবান জিনিস বা গুরুত্বপূর্ণ নথি খোয়া গেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে পুরো নগরজুড়ে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
১ দিন আগে
সাদাপাথরে পানিতে ডুবে এক পর্যটকের মৃত্যু
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে পানিতে গোসল করতে নেমে মাইনুল ইসলাম রিফাত (২১) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তিনি বন্ধুদের সঙ্গে সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে বেড়াতে গিয়েছিলেন।
নিহত রিফাত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিজয়েশ্বর গ্রামের হাতিম মিয়ার ছেলে। তিনি নবীনগর সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চার বন্ধু মিলে আজ (শনিবার) ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে বেড়াতে যান। দুপুর ১২টার দিকে তারা পর্যটনকেন্দ্রের পানিতে গোসল করতে নামলে একপর্যায়ে রিফাত পানিতে তলিয়ে যান। তাকে আশপাশে দেখতে না পেলে বিষয়টি তার বন্ধুদের নজরে আসে। এরপর তারা স্থানীয়দের সহযোগিতায় সাদাপাথর থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে ধলাই নদীর কালিরডর এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করেন। এরপর তার বন্ধুরা নৌকা ও গাড়ি যোগে দ্রুত তাকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সিলেট থেকে নিহতের বন্ধু সাব্বির রহমান জানান, তারা চার বন্ধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সিলেটের সাদাপাথর বেড়াতে আসেন। এরপর বেলা ১১টার দিকে পর্যটনকেন্দ্রে পৌঁছে তারা নদীতে গোসল করতে নামেন। কিছুক্ষণ পর রিফাতকে নদীর পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নাতিকুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায়, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই রিফাতের মৃত্যু হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম গাজী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গণি জানান, সাদাপাথর বেড়াতে এসে এক পর্যটক নিহত হয়েছেন। মরদেহ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
২ দিন আগে
তৃতীয় দফায় চলছে শাহজালাল মাজারের টাকা গণনা
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে স্থাপন করা নতুন দানবাক্স থেকে তৃতীয়বারের মতো টাকা গণনা চলছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল থেকে উন্মুক্তভাবে এ গণনা শুরু হয়েছে।
মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে গঠিত কমিটির সদস্য এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আজ (শনিবার) সকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে টাকা গণনা শুরু হয়েছে। গণনা শেষে প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ সবার জন্য প্রকাশ করা হবে।
এর আগে, গত ১২ জুন হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে গিয়ে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তার নির্দেশে ১৮ জুন ডেগ সিলগালা এবং নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হলে স্থানীয় প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে টানাপোড়ন দেখা দেয়।
বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে ‘রুটিন বদলি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাজারের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
নতুন দানবাক্স স্থাপনের চার দিন পর ২২ জুন প্রথম দফায় তা খুলে গণনা করা হয়। এতে নগদ ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। প্রথম গণনার ১৮ দিন পর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খোলা হয়। তখন পাওয়া যায় নগদ ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এ সময় একাধিক দেশের মুদ্রাসহ বিভিন্ন সামগ্রীও পাওয়া যায়।
এবার দ্বিতীয় দফা গণনার ৩৪ দিন পর তৃতীয়বারের মতো দানবাক্স খোলা হয়েছে। গণনা শেষে এবার কত টাকা পাওয়া যায়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।
২ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১৩৩
সিলেটে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্য হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে একজনের বয়স ১৭ মাস ও একজনের ছয় মাস।
এ নিয়ে চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ছয়জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। বাকিদের মধ্যে হামের উপসর্গ ছিল।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪২ জনে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১১৯ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৪৮ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৭ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৩ জন ও রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ জন ভর্তি হয়েছে। বাকিরা সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলায়। এ পর্যন্ত সুনামগঞ্জে ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও সিলেটে ৪৮ জন, হবিগঞ্জে ১৭ জন ও মৌলভীবাজারে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
৩ দিন আগে
সিলেটে ময়লার স্তূপ থেকে মানুষের খণ্ডিত পায়ের পাতা উদ্ধার
সিলেটে ময়লার স্তূপ থেকে সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় মানুষের একটি খণ্ডিত পায়ের পাতা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে নগরের আম্বরখানা এলাকায় আম্বরখানা-এয়ারপোর্ট সড়ক থেকে এটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে আম্বরখানা পয়েন্ট এলাকায় সড়কের পাশে ময়লার স্তূপে সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় মানুষের একটি খণ্ডিত পায়ের অংশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পায়ের অংশটি উদ্ধার করে।
এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুর রহমান বলেন, ময়লার স্তূপে মানুষের একটি খণ্ডিত পায়ের অংশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে এটিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পায়ের অংশটির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কোনো রোগীর অস্ত্রোপচারের সময় কেটে ফেলা পায়ের অংশ কেউ ময়লার স্তূপে ফেলে রেখে গেছেন। পায়ের অংশটিতে কিছুটা পচন ধরা ছিল।
৩ দিন আগে
ওসমানী হাসপাতালের ৫ তলা থেকে লাফ দিয়ে রোগীর ‘আত্মহত্যা’
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের পাঁচতলা থেকে লাফ দিয়ে আলমগীর হোসেন (২৮) নামে চিকিৎসাধীন এক রোগীর আত্মহননের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আলমগীর হোসেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার খোয়াজ আলীর ছেলে। তিনি গত ১১ আগস্ট চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।
ওসমানী হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ভারপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আলমগীর হাসপাতালের নতুন ভবনের পাঁচতলার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে সিঁড়ির পাশের ফাঁকা অংশ দিয়ে তিনি নিচে লাফ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৪ দিন আগে
সিলেটে স্বামী-স্ত্রী ও গৃহকর্মীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
সিলেট মহানগরীর রায়নগর আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে এক দম্পতির ও তাদের গৃহকর্মীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রায়নগরের মিতালী ১১১ নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতরা হলেন: রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার বাসিন্দা মৃত আবরু মিয়ার ছেলে এমএ সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) এবং একই বাসার গৃহকর্মী নগরীর জল্লারপাড় এলাকার তাহমিনা (২৫)।
পুলিশ জানায়, ৪ তলা ভবনের দুতলার ফ্লাটে মালিক আব্দুস সত্তার মিয়া, তার স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাই শুধু থাকতেন। বাকি ফ্লাটগুলোতে ভাড়াটেরা থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুস সত্তার মিয়া আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সদস্য ছিলেন। রায়নগরে নিজের বাসায়ই থাকতেন তিনি। আজ সকালে তার বাসা থেকে চিৎকার শোনা গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
এই দম্পত্তির চার সন্তানের মধ্যে দুই সন্তান লন্ডনে ও দুই সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।
নিহত দম্পতির ভাগ্নে মুন্না মিয়া জানান, রায়নগরের এই বাসায় আমার মামা-মামি একাই থাকতেন। তাদের সঙ্গে থাকত এক গৃহকর্মী। তিনি বলেন, আজ সকাল ৯টার দিকেও তাদের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তার পরে কোনো সময় তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা মুন্না মিয়ার।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. মনজুরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সকালে রায়নগর আবাসিক এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসার ভেতরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ গৃহকর্মীকে খুন করেছে।
তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহ সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মঈনুল জাকির বলেন, হাজী আব্দুস সত্তার মিয়া, তার স্ত্রী ও গৃহকর্মীকে দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকে খুন করেছে। আব্দুস সত্তার মিয়া ওই এলাকার প্রবীণ মুরব্বি হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এসএমপির কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম বলেন, আজ সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় একজন আমাকে ফোন করে বলেন, মিতালী ১১১ নম্বর বাসার দোতলার ফ্ল্যাটের বন্ধ দরজার ভেতর থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের একটি দল নিয়ে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। ওই বাসায় গিয়ে দরজা খুলে দেখতে পাই, বাসাটির মালিক এমএ সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ক্রাইম সিন ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করেছে। পিবিআই ও সিআইডির ক্রাইম সিন বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তদন্তের জন্য একটা স্পেশাল টিম গঠন করা হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘এই বাড়ির এক ভাড়াটিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, সকালে তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি শুনেছেন। সে হিসেবে ঘটনাটি সকালেই ঘটেছে বলে ধারণা করছি।’
তিনি বলেন, বাসাটির পরিবারের সদস্যদের ব্যবহৃত ওয়ারড্রোব ও আলমারিগুলো খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেখান থেকে স্বর্ণালংকার বা অন্য কোনো মূল্যবান জিনিস সরানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি ডাকাতি, নাকি এর পেছনে পারিবারিক কোনো শত্রুতা বা পূর্ববিরোধ রয়েছে, সেটি আমরা তদন্ত করে দেখছি। এখানে একটি দলিলও পাওয়া গেছে। সেটিও আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’ শিগগিরই হত্যাকাণ্ডের কারণ ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
খবর পেয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সকালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
৫ দিন আগে
হবিগঞ্জে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৩
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পিকআপ ভ্যানের চালকসহ আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের রোকনপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কারখানা গ্রামের সুফি মিয়ার ছেলে মশহুদ আহাম্মদ (৪০), ইনাতগঞ্জ দক্ষিণ গ্রামের ময়না মিয়ার ছেলে আবুল কাশেম (৫০) এবং ইনাতগঞ্জ বাজারের ফাহিম মিয়া (৩০)। তারা সকলেই সবজি ব্যবসায়ী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে ইনাতগঞ্জ বাজারের কয়েকজন সবজি ব্যবসায়ী ও কর্মচারী পিকআপ ভ্যানযোগে বাহুবল উপজেলার দিগাম্বর বাজারে কাঁচামাল আনতে যাচ্ছিলেন। পথে রোকনপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা লাকি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে পিকআপ ভ্যানটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মশহুদ আহাম্মদ নিহত হন। গুরুতর আহত পিকআপ ভ্যানের চালকসহ চারজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে আবুল কাশেম ও ময়না মিয়ার মৃত্যু হয়। বর্তমানে পিকআপ ভ্যানের চালকসহ আরও দুইজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খবর পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। পরে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি আউশকান্দি এলাকায় আটক করা হয়। বাস ও পিকআপ ভ্যানটি হাইওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শেরপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জসিম উদ্দিন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাস ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে একজন নিহত হন। পরে সিলেটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
৭ দিন আগে
সিলেটে পাসের হার ৫৮.৩৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৮৩৬ জন
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন। ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় সিলেট শিক্ষাবোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বিলকিস ইয়াসমিন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার আরও কমেছে। গেল বছর পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
তবে পাসের হার কমলেও এবার বেড়েছে জিপিএ-৫। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন। যা গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ বেশি পেয়েছে ২২২ জন।
এ বছর সিলেট শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ৮৯ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তার মধ্যে পাস করেছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৯ হাজার ৮৮৯ জন ছেলে ও ৩২ হাজার ৬৮ জন মেয়ে।
৭ দিন আগে
চার দফা দাবিতে সিলেটে চা শ্রমিকদের মিছিল, ডিসির কাছে স্মারকলিপি
সিলেটে চার দফা দাবিতে মিছিল ও সমাবেশ করে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন চা শ্রমিকরা। একই সঙ্গে দাবি আদায়ে ১৫ দিনের আল্টিমেটামও দিয়েছেন তারা।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে সিলেটের মালনীছড়া চা বাগান এলাকা থেকে শ্রমিকদের মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক আম্বরখানা, চৌহাট্টা ও জিন্দাবাজার হয়ে কোর্ট পয়েন্টে গিয়ে সমবেত হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে চা শ্রমিকরা তাদের দাবি তুলে ধরেন।
চা শ্রমিকদের চার দফা দাবি হলো— দৈনিক মজুরি বাড়িয়ে ন্যূনতম ৫০০ টাকা নির্ধারণ, ৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির গেজেট বাতিল, চা জনগোষ্ঠীর জন্য ভূমির মালিকানা নিশ্চিতকরণ এবং দ্রুত চা শ্রমিক ইউনিয়নের সিবিএ নির্বাচন আয়োজন। এসব দাবি আদায়ে শ্রমিকরা বিভিন্ন সময়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বিদ্যমান মজুরিতে জীবনধারণ করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তারা জানান, তাদের সার্বিক দাবি নিয়ে দুই দিন আগে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনায় ১৫ দিনের সময় নেওয়া হয়েছে। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে আপাতত আন্দোলন স্থগিত রাখা হবে।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সিলেটের ২৩টি চা বাগানের শ্রমিকরা একত্র হয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানান বক্তারা।
সমাবেশ শেষে শ্রমিকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক বলেন, শ্রমিকদের দাবিসংবলিত স্মারকলিপি দ্রুতই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। সরকার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, শ্রমিকদের চার দফা দাবির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন, যেটি ইতোমধ্যে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় এর জন্য ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শিগগিরই নির্বাচনের আয়োজন করবে।
৮ দিন আগে