সারাদেশ
চার খুনের রহস্য না কাটতেই অটোচালককে গলা কেটে হত্যা, আতঙ্কে রংপুরবাসী
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের রহস্য পুরোপুরি উদঘাটন না হতেই গলাকাটা অবস্থায় এক অটোচালকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জেলাজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে গজঘণ্টা শান্তিপাড়া এলাকায় একটি বটগাছের নিচ থেকে মুখলেসুর রহমান (৬০) নামে ওই অটোরিকশা-চালকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মুখলেসুর রহমান গঙ্গাচড়া উপজেলার নবনীদাস গ্রামের মৃত হামিদুর রহমানের ছেলে ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শান্তিপাড়া এলাকায় নির্জন স্থানে বটগাছের নিচে মুখলেসুর রহমানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় এক যুবক চিৎকার করে ওঠেন। পরে আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ উদ্ধার করেন।
ঘটনাস্থলে মুখলেসুরের অটোরিকশাটি পাওয়া যায়নি। পুলিশ ধারণা করছে, অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। রিকশাটি উদ্ধারে এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
নিহতের ভাতিজা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, মুখলেসুর গত ২০-২৫ বছর ধরে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা থেকে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি।
গঙ্গাচড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর সবুর বলেন, মুখলেসুরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
৪ খুনের আসামির পক্ষে লড়বে না রংপুর আইনজীবী সমিতি
এদিকে, রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই না করার ঘোষণা দিয়েছে রংপুর আইনজীবী সমিতি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে আইনজীবী সমিতি ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনা নিকৃষ্টতম। আইনজীবী সমিতি এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
নতুন মোটরসাইকেল কিনে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল দুই বন্ধুর
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মীরসরাইয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই বন্ধু নিহত হয়েছেন। নতুন মোটরসাইকেল কিনে বাড়ি ফেরার পথে দ্রুতগতির লরির ধাক্কায় ঘটনাস্থলে দুই বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মধ্যরাতে উপজেলার জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল সড়কের বড়তাকিয়া বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই যুবকের নাম তালাত মাহমুদ শুভ (১৯) ও আব্দুল্লাহ আল ওমর (১৯)।
শুভ উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের মিয়াপাড়া গ্রামের মৃত আমিনুল ইসলামের পুত্র এবং আব্দুল্লাহ আল ওমর একই ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকার প্রবাসী শেখ ফরিদের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় বারৈয়ারহাট বাজার থেকে নতুন মোটরসাইকেল কিনে বাড়ি ফেরার পথে বড়তাকিয়া গেট এলাকায় পৌঁছালে দ্রুতগতির লরির সঙ্গে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে শুভ নিহত হয়। ওমরকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান তিনি।
শুভর ভাই ইমাম হোসেন ফরহাদ ও ওমরের মামা সাইদুল ইসলাম শাহীন জানান, ওরা দুইজন পরস্পরের বন্ধু ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় আবুতোরাব বাজারে একটি ল্যাবে চাকরি করত। বন্ধু ওমরকে নিয়ে শুভ নতুন মোটরসাইকেল কিনতে গিয়েছিল বারৈয়ারহাট। সেখান থেকে ফেরার পথে বড়তাকিয়া বাজার এলাকায় একটি দ্রুতগতির লরির ধাক্কায় দুজনই মারা গেছেন।
মীরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২ ঘণ্টা আগে
চুয়াডাঙ্গা থেকে সব রুটে বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ
ইজিবাইক শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বাস ও মিনিবাস শ্রমিকদের ওপর হামলা, মারধর এবং বাস আটকে রাখার অভিযোগের জেরে চুয়াডাঙ্গা থেকে সব রুটে বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আকস্মিক পরিবহন ধর্মঘটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল কালাম আজাদ।
স্থানীয় ও পরিবহন সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়াড় এলাকায় ব্যাটারিচালিত একটি ইজিবাইকের চালক নিয়মবহির্ভূতভাবে শহরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় সেখানে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য এবং বাস শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা তাকে বাধা দিয়ে ফিরিয়ে দেন।
এ ঘটনার জেরে ওই ইজিবাইকচালক তার সহযোগীদের নিয়ে আলুকদিয়া এলাকায় সংগঠিত হয়ে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকারী একটি বাস আটকে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তারা বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি বাসে হামলা চালান এবং তাদের জিম্মি করে রাখেন। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে জিম্মি থাকা চালক ও সুপারভাইজারকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও সাধারণ শ্রমিকরা দৌলতদিয়াড় এলাকায় সড়ক আড়াআড়িভাবে বাস রেখে অবরোধ করেন। পরে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারের মধ্যস্থতায় এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ন্যায্য বিচারের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল (শুক্রবার) দিনভর চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়াসহ জেলার অভ্যন্তরীণ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ ছিল।
আজ শনিবার থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর-হাসাদহ, চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়া রুটের সব বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে গন্তব্যে যেতে না পেরে অনেককে বাস টার্মিনালে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকে আবার অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প যানবাহনে যাতায়াত করছেন।
স্থানীয় বাসযাত্রীরা বলেন, হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় কাজে গন্তব্যে যেতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত ভাড়ার পাশাপাশি সময়ও বেশি লাগছে।
এক যাত্রী বলেন, ‘বাস বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবহন শ্রমিকদের যে দাবি বা সমস্যা রয়েছে, তার দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষকে এ ধরনের দুর্ভোগে পড়তে না হয়।’
এদিকে, মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানিয়েছেন, শ্রমিকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং সড়কে ইজিবাইকের অবৈধ চলাচল বন্ধে প্রশাসন দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা থেকে কোনো রুটে বাস ও মিনিবাস চলাচল করবে না।
৪ ঘণ্টা আগে
কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২০ কিলোমিটার যানজট
নারায়ণগঞ্জের আষাঢ়িয়ারচর সেতুতে সংস্কারকাজের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকা অভিমুখী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে আজ শনিবার সকালে কুমিল্লার মাধাইয়া থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও চালকেরা।
সড়ক বিভাগ জানায়, আষাঢ়িয়ারচর ব্রিজের ঢাকা অভিমুখী লেনে বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে সংস্কারকাজ শুরু করা হয়। এ সময় একটি লেন বন্ধ রেখে অপর লেন দিয়ে উভয় দিকের যানবাহন চলাচল করানো হচ্ছে। এতে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে গতরাত থেকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরে এর প্রভাব দাউদকান্দি ও মেঘনা হয়ে কুমিল্লার মাধাইয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে মাধাইয়া থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে একই স্থানে আটকে থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন দূরপাল্লার বাসের যাত্রী, পণ্যবাহী ট্রাকচালকসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকেরা।
বাসযাত্রী সুরাইয়া বেগম বলেন, ‘তিন ঘণ্টা ধরে একই জায়গায় আটকে আছি। কখন যানজট শেষ হবে, কেউ সঠিকভাবে বলতে পারছে না। এতে খুবই কষ্ট হচ্ছে।’
ট্রাকচালক আতিক বলেন, টানা ১৫ দিন কুমিল্লার আলেখারচর অংশে অসহ্য যানজটে ভুগেছেন তারা। এখন আবার এই এলাকায় এসে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। মহাসড়কে চলাচল এখন চরম ভোগান্তির হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেম দাস রায় বলেন, ‘আষাঢ়িয়ারচর ব্রিজের সংস্কারকাজের কারণেই মূলত এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কারকাজ শেষ হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’
৪ ঘণ্টা আগে
পটুয়াখালীতে বিষমিশ্রিত ঘাস খেয়ে ২৫ মহিষ অসুস্থ, ৩টির মৃত্যু
পটুয়াখালীর বাউফলে চরের ঘাসে বিষপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘাস খেয়ে অন্তত ২৫টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং তিনটি মারা গেছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট)বিকেলে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের লাল চরে এ ঘটনা ঘটে।
মহিষের রাখাল, মালিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাল চরে বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় খামারিরা উন্মুক্তভাবে মহিষ পালন করে আসছেন। চরের সবুজ ঘাস খেয়েই মহিষগুলো প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠে।
প্রতিদিনের মতো শুক্রবারও রাখালরা শতাধিক মহিষকে ঘাস খাওয়াতে লাল চরে নিয়ে যান। পরে ঘাস খাওয়ার পর প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে রফিজ মৃধা, সুমন মাঝি ও রুহুল আমিনের একটি করে মহিষ মারা গেছে। আরও কয়েকটি মহিষের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রাখাল ও পশু চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, চরের ঘাসে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল এবং ওই ঘাস খাওয়ার কারণেই মহিষগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ে।
চন্দ্রদ্বীপের রায় সাহেবের বাসিন্দা মহিষ মালিক মোস্তফা ফকির বলেন, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে লাল চরে মহিষ পালন করছেন। শত শত মহিষ নিয়মিত চরের ঘাস খেয়ে থাকে, কিন্তু আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি।
তিনি বলেন, ‘শত্রুতার কারণে দুর্বৃত্তরা চরের ঘাসে বিষ প্রয়োগ করে থাকতে পারে। সেই ঘাস খেয়ে মহিষ মারা যাচ্ছে। আমার ১৮টি মহিষের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’
আরেক মহিষ মালিক রুহুল আমিন বলেন, বিষ দেওয়া ঘাস খেয়ে তার একটি মহিষ মারা গেছে। অন্যগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদের চিকিৎসা চলছে।
উপজেলা উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই কয়েকটি মহিষ মারা যায়। অসুস্থ মহিষগুলোর চিকিৎসা চলছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে মহিষগুলোর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া মহিষের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৯ ঘণ্টা আগে
পদ্মায় ফুটবল খেলতে গিয়ে শিশু নিখোঁজ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীতে ফুটবল খেলতে গিয়ে মোস্তাকিম হোসেন (১২) নামে এক মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। এ সময় স্রোতের টানে ভেসে যাওয়া ইব্রাহিম হোসেন (১২) নামে আরেক শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজোত ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ মোস্তাকিম উপজেলার সোনাতলা গ্রামের হায়দারের চর এলাকার রতন জমাদারের ছেলে। উদ্ধার হওয়া ইব্রাহিম একই গ্রামের জিয়ারুল শাহের ছেলে। তারা দুজনই সোনাতলা দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ (শুক্রবার) দুপুরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ছয়জন শিশু ভাগজোত ঘাট এলাকায় পদ্মা নদীর পানিতে ফুটবল খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে তীব্র স্রোতের টানে মোস্তাকিম ও ইব্রাহিম গভীর পানির দিকে চলে যায়। তারা দুজনই পানিতে ডুবে যেতে থাকলে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে ইব্রাহিমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে প্রবল স্রোতের কারণে মোস্তাকিমকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ও ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
ঘটনাস্থলে মোস্তাকিমের মা শিউলি খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে। সকালে খাওয়াদাওয়া শেষে মাদ্রাসায় না গিয়ে ছুটির দিনে বন্ধুদের সঙ্গে নদীর পাড়ে খেলতে গিয়েছিল। পরে নদীতে পড়ে ডুবে যায়। এখনও আমার ছেলের কোনো খোঁজ পাইনি।’
মাদ্রাসার শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, সকালে এক আত্মীয়ের বাড়িতে খাওয়া শেষে মোস্তাকিম বন্ধু ও স্থানীয় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে আসে। পরে অসাবধানতাবশত নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, শিশু নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর পুলিশ সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমিসহ আমাদের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছি। নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় শিশুটি ভেসে অন্যত্র চলে যেতে পারে।’
১৯ ঘণ্টা আগে
নড়াইলে দুই দিনব্যাপী সুলতান উৎসব শুরু
বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জন্মস্থান নড়াইলে দুই দিনব্যাপী সুলতান উৎসব শুরু হয়েছে। নড়াইল সরকারী ভিক্টোরিয়া কলেজ সুলতান মঞ্চ চত্বরে ‘এস এম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশ’ এ উৎসবের আয়োজন করেছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় সুলতান উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি নড়াইল জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় দুই শতাধিক কোমলমতি শিশু অংশগ্রহণ করে। শিশুদের রঙ তুলিতে এসএম সুলতান, প্রাকৃতিক দৃশ্য, গ্রামীণ মেলা, সুলতান মেলা, মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন দৃশ্য ফুটে ওঠে। শিশুদের মধ্যে সুলতানের শিল্পচেতনা ও শিল্পকর্ম ছড়িয়ে দিতেই এমন আয়োজন বলে জানান আয়োজকরা।
সুলতান উৎসবে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ছাড়াও রয়েছে শিশুদের আঁকা ছবির প্রদর্শনী, সুলতানের জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ হায়দার আলী দেওয়ান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম, এসএম সুলতান চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ হানিফ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক চিত্রশিল্পী বিমানেষ বিশ্বাস, এসএম সুলতান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক অনাদী বৈরাগী, সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জী, সহকারি কিউরেটর মেহেদী হাসান রানাসহ সুলতানপ্রেমীরা।
২২ ঘণ্টা আগে
সৌদি আরবে আগুনে পুড়ে নওগাঁর নিহত ৭ জনের জানাজা সম্পন্ন
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে পুড়ে নিহত নওগাঁর ৭ জনের মরদেহ দেশে আসার পর জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল সোয়া ১০ টায় নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে একসঙ্গে সাত জনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডে পরিচয় সনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ দেশে আসে। এদের মধ্যে সাত জনের বাড়িই নওগাঁর আত্রাই উপজেলাতে। মরদেহগুলো বিমানবন্দর থেকে প্রশাসনের সহায়তায় রাত দেড়টার দিকে আত্রাই উপজেলাতে আসে। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত মরদেহবাহী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সগুলো আত্রাই থানা চত্বরে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়।
জানাজা নামাজে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.মনিরুজ্জামান, আত্রাই থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয়রা অংশগ্রহণ করেন৷
জানাজা নামাজ শেষে মরদেহগুলো নিহতদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বজনরা মরদেহগুলো নিয়ে নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা করেন।
নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, নিহতদের পরিবারগুলোকে ওয়েজ অর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। তাদের ভবিষ্যতেও সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। বাকি মরদেহগুলো দেশে আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, সৌদি দূতাবাস থেকে পাঠানো তালিকায় সনাক্ত হওয়া নওগাঁর সাতজন হলেন আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো: ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামানিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং উপজেলার পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডোগোলী গ্রামের ৪ জন, বিষা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের একজন, সাহাগোলা ইউনিয়নের উদনপৈ গ্রামের একজন, পারকাসুন্দা গ্রামের একজনকে বিকেলে গ্রামে গ্রামে জানালা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
২৩ ঘণ্টা আগে
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১৫১
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫১ জনে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
একই সময়ে বিভাগে নতুন করে ছয়জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১ জনে।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের একজনের বয়স পাঁচ মাস এবং অপরজনের বয়স ১১ মাস। এছাড়া সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে নয় মাস বয়সী আরও এক শিশু।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১২৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৫৯ জন, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬০ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নয়জন ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত ৩৫৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৪০ জন এবং এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১০ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যরা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম উপসর্গ নিয়ে ১৪১ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫১ জনে।
১ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে ডুবে ৫ শিশু নিহত
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবিনগর ইউনিয়নের চর চাকলা এলাকায় মরা পাগলা নদীতে গোসল করতে নেমে ৫ শিশু নিহত হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো— চর চাকলা এলাকার মাসুদ আলীর দুই মেয়ে সুমাইয়া (১০) ও আরিফা (৮), নেজাম উদ্দিনের দুই মেয়ে সুরাইয়া (৯) ও সুমাইয়া (১১) এবং অপরজন হলো শরিফুল ইসলামের মেয়ে সরিফা (১১)।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার দেবীনগর ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর চাকলা এলাকায় মরা পাগলা নদীতে গোসল করতে নামে বেশ কিছু শিশু। গোসলের এক পর্যায়ে পাঁচ শিশু পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা নদীতে তল্লাশী চালিয়ে একে এক ৫ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে।
তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
১ দিন আগে