সারাদেশ
ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, নীরব চাঁদপুরের ব্যস্ত ঘাট
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে চাঁদপুর জেলার পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকারের ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার প্রথম দিন থেকেই জেলার মেঘনা নদী ও মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ফাঁকা ও জনমানবহীন হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে জেলার বৃহত্তম ও শতবর্ষী বড়স্টেশন মৎস্যঘাট, টিলাবাড়ী ও লঞ্চঘাট এলাকায় গিয়ে নদীর পাড় প্রায় পুরোটাই ফাঁকা দেখা যায়। কোনো মাছ ধরার নৌকা বা ট্রলারও চোখে পড়েনি।
এ সময় জেলেদের সচেতন করতে জেলা মৎস্যজীবী সংগঠনের সদস্যদের ট্রলারে করে নদীর বিভিন্ন অংশে মাইকিং করতে দেখা যায়।
সাধারণত জনমুখর ও ব্যস্ত থাকা বড়স্টেশন মৎস্যঘাটে বিরাজ করছে অস্বাভাবিক নীরবতা। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার ঠিক আগের দিন বুধবার রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্তও পুরো এলাকাজুড়ে কেনাবেচা ও হাঁকডাক ছিল।
জেলা টাস্কফোর্সের সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী এই ২২ দিন জেলার সব বরফকলও বন্ধ থাকবে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা স্থানীয় পুকুর, খাল, বিল ও হ্রদে চাষ করা মাছের ওপর প্রযোজ্য হবে না।
ঘাটের ইলিশ ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম, জালাল হাজী ও আলী আকবর জানান, তারা সাধারণত সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আড়তেই অবস্থান করেন। তবে আড়তে আজ কাজ না থাকলেও তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাধারণ সময়ে এই ঘাটে প্রায় ১৫০ জন দিনমজুর নানা ধরনের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন বলে জানান মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ শবেবরাত সরকার।
৪৯ মিনিট আগে
সিলেটে শব্দদূষণের দায়ে ৮ ব্যক্তি ও যানবাহনকে জরিমানা
সিলেট সদর উপজেলার মুরাদপুর এলাকায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আট ব্যক্তি ও যানবাহনকে মোট সাড়ে চার হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় অবৈধ ও উচ্চ শব্দযুক্ত ১০টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আক্তারের নেতৃত্বে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, শব্দদূষণকারী ও অবৈধ উচ্চ শব্দযুক্ত হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বায়ুদূষণ, পাহাড়-টিলা কর্তন, অবৈধ ইটভাটা ও নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ টেকনিশিয়ান আল মামুন প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এ সময় পুলিশ সদস্য ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযানে সহযোগিতা করেন।
১ ঘণ্টা আগে
সুন্দরবনে ১০ আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৪ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার
সুন্দরবনের শেলা নদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতদের ব্যবহৃত ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৪ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। তবে এ সময় ডাকাতদলের কোনো সদস্যকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) কোস্ট গার্ডের মোংলা বেইসের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
এর আগে গতকাল (বু্ধবার) রাতে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় সুন্দরবনের শেলা নদী ফরেস্ট অফিস-সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড।
উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ছয়টি একনলা বন্দুক, তিনটি এয়ারগান ও একটি পাইপগানের ট্রিগার। এছাড়া ১৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। এগুলোর বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, শেলা নদী ফরেস্ট অফিস-সংলগ্ন এলাকায় একটি ডাকাতদল ডাকাতির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাতে সেখানে বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
এ সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতদলের সদস্যরা সুন্দরবনের গহিনে পালিয়ে যান। পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ছয়টি একনলা বন্দুক, তিনটি এয়ারগান, একটি পাইপগানের ট্রিগার ও ১৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনে সক্রিয় সব বনদস্যু বাহিনী নির্মূল ও উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামের দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ অভিযান চালানো হয়।
১ ঘণ্টা আগে
সৌদি আরবে নিহত দুই প্রবাসীর দাফন সিলেটে সম্পন্ন
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের দুই প্রবাসী আবদুল করিম ও খালিদ আহমদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি আকুনি মাদরাসায় জানাজা শেষে নিজ গ্রামে তাদের দাফন করা হয়। দুজনেরই বাড়ি কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের লামার তালুক গ্রামে।
এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২৩৬ ফ্লাইটে তাদের মরদেহ সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বলে জানান স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন।
তাদের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর স্বজনদের আহাজারিতে বিমানবন্দরের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। স্বজনরা জানান, দীর্ঘ তিন বছর পর দেশে ফেরার কথা ছিল তাদের। অবশেষে তারা ফিরলেন, তবে নিথর দেহে ।
গত ৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের তায়েফ থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে আল-খুরমা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন এই দুই প্রতিবেশী।
১ ঘণ্টা আগে
ঢাকা সরকারি বধির হাইস্কুলে দিনব্যাপী আনন্দমেলা
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সৃজনশীলতা ও আনন্দের সুযোগ করে দিতে রাজধানীর ঢাকা সরকারি বধির হাইস্কুলে সম্প্রতি দিনব্যাপী এক আনন্দমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ব্র্যাক ইউথ প্ল্যাটফর্মের স্টোরিজ অব ইনক্লুশন গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) স্কুল প্রাঙ্গণে এ আনন্দমেলার আয়োজন করে।
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে শিশু অধিকার দিবসের বিশেষ গুরুত্বকে কেন্দ্র করে এ আনন্দমেলার আয়োজন করা হয়।
শিশুদের সৃজনশীলতার স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ এবং তাদের জন্য আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি করাই ছিল আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
৪ ঘণ্টা আগে
প্রসূতির মৃত্যু: চিকিৎসক, দালালসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি
নওগাঁয় বেসরকারি এক হাসপাতালে প্রসূতির পেটে গজ কাপড় রেখেই অস্ত্রোপচার শেষ করা এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসক ও দালালসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে নওগাঁ সদর ১ নম্বর আমলী আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এই আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক ফাবলিহা সাদিয়া শাফীন (২৯), অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগকারী চিকিৎসক মো. আখেরুজ্জামান রবি (৩৩), হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রিপন আলী (৩৭), অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ সালমা বিবি নাজমা (৩২) এবং দালাল মো. রাশেদুল ইসলাম হিরু (৩৩) ও মো. নাহিদ বাবু (২২)।
জানা যায়, গত ৬ এপ্রিল নওগাঁ শহরের দক্ষিণ সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা প্রসূতি রাহী মুনী সন্তান প্রসবের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে এক দালাল ভালো সিজারিয়ান সেকশনের প্রলোভন দেখিয়ে আট হাজার টাকার চুক্তিতে তাকে শহরের বেসরকারি মেট্রো হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই দিন রাতেই চিকিৎসক ফাবলিহা সাদিয়া শাফীন তার অস্ত্রোপচার করেন।
তার পর থেকেই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং তার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়। অবস্থার আরও অবনতি হলে পরদিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করে পেট থেকে গজ কাপড় বের করে। এতেও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়ার শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ৯ এপ্রিল সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম মেট্রো হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং এটি একটি অনিবন্ধিত হাসপাতাল বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা গত ১৩ এপ্রিল আদালতের নজরে আসে। আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
গত ২২ আগস্ট পিবিআই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল (বুধবার) আদালত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এসব আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
৫ ঘণ্টা আগে
সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর প্রাণহানি, মৃত্যু বেড়ে ১৮৫
সিলেটে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৫ জনে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া দুই শিশুর একজনের বাড়ি সিলেটের গোয়াইনঘাটে এবং অন্যজনের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায়। দুজনেরই বয়স এক বছরের কম।
৯ মাস বয়সী গোয়াইনঘাটের শিশুটি সিলেটের শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি ছিল। অন্যদিকে ৬ মাস বয়সী দিরাইয়ের শিশুটি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিল।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ২২৯ জন ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮৮ জন ভর্তি হয়েছে শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৬৬, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৬, পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে ১২ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে সাতজন ভর্তি হয়েছে।
এছাড়া জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে চারজন ও ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন করে নতুন ভর্তি হয়েছে।
নতুন রোগী ভর্তির পাশাপাশি বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে ৫৫২ শিশু। তাদের মধ্যে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০৩ জন ভর্তি রয়েছে। এছাড়া শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৭০ ও সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৭৭ জন রয়েছে।
পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে ২৮, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২৭, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ১০ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮ জন ভর্তি আছে।
এছাড়া গোলাপগঞ্জে ৭, বিশ্বনাথে ৫, কোম্পানীগঞ্জে ৪, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৩, উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালে ৩, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৩, ফেঞ্চুগঞ্জে ২ ও ধর্মপাশায় ২ জন চিকিৎসাধীন।
অন্যদিকে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৯৫ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৪২২, সুনামগঞ্জে ৩৫৭, হবিগঞ্জে ১৫৮ ও মৌলভীবাজারের ১৫৮ জন। হবিগঞ্জের সংখ্যার মধ্যে দুজন রুবেলা রোগীও রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম ও হাম সন্দেহে মোট ১৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে হামের উপসর্গে মৃত্যু ১৭৫ জনের ও নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের।
৫ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রাম ইপিজেডে মোটরসাইকেলে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কা, নিহত ২
চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড এলাকায় পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেলআরোহী দুই পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে ইপিজেড এলাকার ৫ নম্বর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন তামান্না (২৩) ও মো. খলিল (৩৮)। তামান্নার বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ এলাকায়। তিনি কলসির দীঘিরপাড় ওয়াসিম চৌধুরী পাড়ায় বসবাস করতেন। খলিলও ইপিজেড থানার ফ্রি পোর্ট নিউমুরিং এলাকার বাসিন্দা।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসাপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল আলম আশেক জানান, সকালে দুই পোশাক শ্রমিক মোটরসাইকেলে করে কারখানায় যাচ্ছিলেন। তারা ইপিজেড এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যান ধাক্কা দেয়। এতে দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
৬ ঘণ্টা আগে
কৃষক হত্যা মামলায় ৩ ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড
ময়মনসিংহের নান্দাইলে জমি নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে কৃষককে হত্যার দায়ে তিন ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তাদের বাবাসহ আরও ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সেই সঙ্গে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহের প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সামছুদ্দিন আহাম্মেদ এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন নান্দাইলের চর লক্ষীদিয়া এলাকার আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে মোজাম্মেল হক স্বপন মিয়া (৪৬), আপন মিয়া (৪৩) ও রিপন মিয়া (৪১)।
অন্যদিকে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আবু বকর সিদ্দিক (৭১) ও তার আরেক ছেলে কাঞ্চন মিয়া (৩৬), রুবেল (২৯), পারভেজ (৩১), মোফাজ্জল হোসেন (৫৬), কাশিদ (৫৯), আল-আমিন (৩১), সুমন মিয়া (৩৬), নয়ন মিয়া (২৯) ও আসাদুল (২৯)।
আসামিদের মধ্যে রিপন মিয়া ও আসাদুল পলাতক রয়েছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নান্দাইলের চর ভেলামারীর হযরত আলীর ছেলে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবির সঙ্গে আবু বকর সিদ্দিকসহ অন্য আসামিদের জমি নিয়ে পূর্ববিরোধ ছিল।
২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি চর ভেলামারী চৌরাস্তা খেয়াঘাটে একটি কাপড়ের দোকানে বসে ছিলেন শফিকুল। এ সময় আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন।
ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে নান্দাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী আনোয়ার আজিজ টুটুল এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম আমানউল্লাহ বাদল।
১ দিন আগে
নওগাঁয় চালকলে বয়লার বিস্ফোরণ, শ্রমিক নিহত
নওগাঁ সদর উপজেলায় চালকলের বয়লার বিস্ফোরণে এক শ্রমিক নিহত ও চার শ্রমিক আহত হয়েছেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার হাঁপানিয়া এলাকার হাজি ইসারত আলী চালকলে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল খালেক (৪৫) সদর উপজেলার হাঁপানিয়া পাড়া এলাকার বছির উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতো আজ (বুধবার) সকালেও শ্রমিকরা চালকলে ধান সিদ্ধ করার কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে হঠাৎ করে বিকট শব্দে বয়লারটি বিস্ফোরিত হয়। এতে চার দিক কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। এ সময় শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন।
পরে ধোঁয়া কিছুটা কমলে শ্রমিকরা চাতালে গিয়ে আব্দুল খালেককে পড়ে থাকতে দেখেন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আহত চার শ্রমিক নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এদিকে ঘটনার পর থেকে চালকলের মালিক পলাতক রয়েছেন।
ঘটনার সময় চাতালে কাজ করা নারী শ্রমিক হামিদা বেগম বলেন, ‘হঠাৎ করেই বিকট শব্দ হয়। তারপর আর ধোঁয়াতে কিছু দেখা যাচ্ছিল না। ফিরে এসে দেখি খালেক ভাই পড়ে আছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়। চালকলগুলোতে আমাদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নাই। আমরা নিরাপত্তার সঙ্গে কাজ করতে চাই।’
নওগাঁ সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে আমরা ঘটনাস্থলে রয়েছি। তদন্ত শেষে বিস্ফোরণের কারণ জানা যাবে।
নিহত আব্দুল খালেকের দেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
১ দিন আগে