ঋণ পরিশোধ
পদ্মা সেতুতে চার বছরে টোল আদায় ৩৪২৯ কোটি, ২৫১৬ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ
উদ্বোধনের পর থেকে চলতি বছরের ২৯ জুন পর্যন্ত পদ্মা সেতু দিয়ে ২ কোটি ৬৮ লাখ ৬২ হাজার ৮০৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময়ে টোল বাবদ আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৪২৯ কোটি ৪৫ লাখ ২৫ হাজার ৫৫০ টাকা। আদায় হওয়া টোল থেকে সরকারের ঋণের ১৬টি কিস্তিতে ২ হাজার ৫১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার ৭৭০ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা সেতু ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধনের পরদিন থেকে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এরপর থেকে সেতুটি দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
এতে বলা হয়, ২৯ জুন পর্যন্ত সেতু দিয়ে মোট ২ কোটি ৬৮ লাখ ৬২ হাজার ৮০৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময়ে টোল বাবদ মোট ৩ হাজার ৪২৯ কোটি ৪৫ লাখ ২৫ হাজার ৫৫০ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। একই সময়ে আদায় করা টোল থেকে সরকারের কাছে ঋণের ১৬টি কিস্তিতে মোট ২ হাজার ৫১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমানে কোনো কিস্তি বকেয়া নেই।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও অর্থ বিভাগের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী ১ শতাংশ সুদে ৩৫ বছরের মধ্যে মোট ৩৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। বছরে চার কিস্তি হিসেবে মোট ১৪০ কিস্তিতে এ অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এছাড়া টোল থেকে ভ্যাট বাবদ এখন পর্যন্ত ৪৩৬ কোটি ৭ লাখ ৭৪ হাজার ২২১ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, ‘২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়। ওই সময়ের সমীক্ষা, নকশা ও মাওয়া-জাজিরা অ্যালাইনমেন্ট অনুমোদনের ফলে পরবর্তী সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ সহজ হয়।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে পদ্মা সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক, স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে চলছে।’ আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সরকারের সব ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ইউনিফায়েড ন্যাশনাল ইটিসি (ইউএনইএফ) ফ্রেমওয়ার্কসহ বিভিন্ন জনবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়নে সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে।
১৬ দিন আগে
ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় বিআরডিবি অফিসে তালাবদ্ধ নারী
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ঋণের টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ না করতে পারায় এক অসুস্থ নারীকে (৪৭) অফিস কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) এক মাঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় জীবননগর উপজেলা বিআরডিবি কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, এক বছর দুই মাস আগে বিআরডিবি থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন ওই নারী। কিস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার চার মাস পরও তারা পুরো টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। এ নিয়ে গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে অফিসে ডেকে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।
গতকাল সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীর ছোট ছেলে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার মা অসুস্থ। অনেক কষ্টে আজ ১০ হাজার টাকা নিয়ে অফিসে এসেছিলাম। কিন্তু পুরো টাকা না দিতে পারায় তারা আমার মাকে অফিসের বারান্দায় তালা লাগিয়ে আটকে রেখেছে।’
আরও পড়ুন: লালমনিরহাটে শ্রেণিকক্ষ থেকে ‘ঋণগ্রস্ত’ স্কুল কর্মচারীর মরদেহ উদ্ধার
৩৭১ দিন আগে
বাংলাদেশের রাজস্ব আয়ের ৩৩ শতাংশ ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয়: ড. দেবপ্রিয়
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বাংলাদেশ একটি অনিশ্চিত আর্থিক অবস্থার মধ্যে রয়েছে, যেখানে রাজস্বের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ঋণ পরিশোধে ব্যয় করা হয়।
ড. ভট্টাচার্যের মতে, সরকারের মোট ঋণের দুই-তৃতীয়াংশ অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসে, যার ফলে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ প্রায় ৮৫০ ডলারে পৌঁছায়।
বৃহস্পতিবার(৪ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে এশিয়া ফাউন্ডেশন-বাংলাদেশের অংশীদারিত্বে সিপিডি আয়োজিত 'বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ও ঋণ পরিশোধের পরিস্থিতি: উদ্বিগ্ন হওয়ার কি কোনো কারণ আছে?' শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
ড. দেবপ্রিয় বাংলাদেশের ঋণ কাঠামোর জটিলতার ওপর আলোকপাত করেন সেমিনারে।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান।
ড. দেবপ্রিয় পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, 'জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যয়ের ৩৪ শতাংশ ঋণ পরিশোধে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, এই পরিসংখ্যানে অভ্যন্তরীণ ঋণের জন্য ২৮ শতাংশ এবং বৈদেশিক ঋণের জন্য ৫ শতাংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা মাত্র তিন বছরে ২৬ শতাংশ থেকে ৩৪ শতাংশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন: এমপিদের সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি তদন্ত করতে হবে: সিপিডির মুস্তাফিজুর রহমান
কোভিড-১৯ মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ২০১৮-১৯ সাল থেকে ঋণ গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, রাজস্ব বাজেট এখন এতটাই টানাটানি যে, উন্নয়ন প্রকল্পে এক পয়সাও অর্থায়ন করা সম্ভব নয়।
ঋণ পরিশোধের বৃহত্তর প্রভাব তুলে ধরে ড. দেবপ্রিয় অর্থনীতিবিদদের সতর্কবাণীর প্রতি নীতিনির্ধারকদের প্রত্যাখ্যানমূলক মনোভাবের সমালোচনা করেন। তিনি ২০২৪ সালে বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে দুই বছর আগে করা নিজের ভবিষ্যদ্বাণীর কথা উল্লেখ করেন। ২০২৫ সাল থেকে শুরু করে ২০২৬ সালে ঋণ পরিশোধে প্রত্যাশিত অস্বস্তির ওপর জোর দেন তিনি।
আরও পড়ুন: আ.লীগ ছাড়া সবাই বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট বন্ধ করতে চায়: সিপিডি
তিনি বেসরকারি খাতের ঋণের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, মোট ঋণের ৮০ শতাংশই সরকারি ঋণ, বাকি ২০ শতাংশ বেসরকারি খাত। তিনি দেশের দায় ও বিনিময় খাতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রভাবের ওপর জোর দিয়ে ব্যক্তিগত ঋণ এবং এর ব্যবহার দেশে বা বিদেশে যেখানেই হোক না কেন, অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের আহ্বান জানান।
বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণ একত্রিত করে ড. ভট্টাচার্য মাথাপিছু দায়বদ্ধতার বোঝার উপর জোর দিয়েছিলেন, যা কেবল বৈদেশিক ঋণের জন্য ৩১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ ঋণের ক্ষেত্রে প্রায় ৮৫০ ডলারে উন্নীত হয়। বাংলাদেশের ঋণ পরিস্থিতির এই সামগ্রিক বিশ্লেষণ সামনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় রাজস্বের ক্ষেত্রে বিচক্ষণতা ও কৌশলগত পরিকল্পনার জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে।
আরও পড়ুন: এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার-সোনালির দাম বেড়েছে ১০-৩০ টাকা
৮৩৩ দিন আগে
বাংলাদেশ থেকে নেওয়া ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ১০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে শ্রীলঙ্কা
মুদ্রা বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের দেওয়া ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণের মধ্যে দ্বিতীয় কিস্তিতে আরও ১০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে শ্রীলঙ্কা।
গত মাসে দেশটি ঋণ পরিশোধের প্রথম কিস্তিতে ৫০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে।
অর্থনৈতিক সংকটের সময় বাংলাদেশ তার বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলার শ্রীলঙ্কাকে ঋণ দিয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেসবাউল হক বলেন, বাকি ৫০ মিলিয়ন ডলার চলতি বছরের মধ্যে পরিশোধ করার কথা রয়েছে।
শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য বাংলাদেশ ঋণ পরিশোধের সময় বাড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে ঋণ নেওয়া ২০০ মিলিয়নের মধ্যে ৫০ মিলিয়ন ডলার শোধ করেছে শ্রীলঙ্কা
বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা মেরিটাইম সেক্টর নিয়ে আরও কাছাকাছি আসতে পারে: নৌপ্রতিমন্ত্রী
১০৪৯ দিন আগে
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ৩১৮ মিলিয়ন ইউয়ানে রাশিয়ার ঋণ পরিশোধের অনুমোদন বাংলাদেশের
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য চীনের মুদ্রা ইউয়ানে রাশিয়ার ঋণ পরিশোধে সম্প্রতি ৩১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ।
সম্প্রতি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এবং রাশিয়ান কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে চীনা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ইউয়ানে রাশিয়ার ঋণ পরিশোধ করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) ইউরোপীয় বিষয়ক প্রধান উত্তম কুমার কর্মকার ইউএনবিকে নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বহুল প্রতীক্ষিত মিশন শুরু হতে যাচ্ছে: আইএইএ প্রধান
তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার ইআরডির বৈঠকে ঋণ পরিশোধে চীনা মুদ্রা ইউয়ান ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ঋণ পরিশোধে চীনা মুদ্রা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এখনো লেনদেন সম্পন্ন হয়নি। অর্থপ্রদানের বিষয়টি স্পষ্ট করা এবং সমাধান করা দরকার।
বিষয়টির কূটনৈতিক সংবেদনশীলতার কথা উল্লেখ করে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঢাকার এই সিদ্ধান্ত মার্কিন ডলারে নিষেধাজ্ঞা-বিধ্বস্ত রাশিয়াকে অর্থ পরিশোধে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বছর ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসনের কারণে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়াকে সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিনান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন বা বিশ্বের অন্যতম অর্থপ্রদান ব্যবস্থা সুইফট থেকে বাদ দিয়েছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার ঋণে বাংলাদেশে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় মার্কিন ডলারে ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালামাল নিয়ে মোংলায় দুটি জাহাজ
ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প বিলম্ব: মন্ত্রী
১১৮৫ দিন আগে
সরকারকে দেওয়া ৩১৬.৯১ কোটি টাকা দিয়ে শুরু হচ্ছে পদ্মা সেতুর ঋণ পরিশোধ
প্রথম দুই কিস্তিতে সরকারকে দেওয়া ৩১৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা দিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য নেওয়া ঋণ পরিশোধ শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঋণের প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির ৩১৬ কোটি ৯০ লাখ ৯৭ হাজার ৪৯ টাকার চেক গ্রহণ করেন।
বুধবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই চেক হস্তান্তর করেন।
অর্থ বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে এই ঋণ নেওয়া হয়।
২০২২ সালের ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা নদীর ওপর দেশের সর্ববৃহৎ ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন।
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতুতে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল শুরু
৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুটি দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলাকে রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করবে এবং এটি জিডিপি প্রবৃদ্ধি এক দশমিক ২৩ শতাংশ ত্বরান্বিত করবে এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মোট বরাদ্দ ছিল ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। তবে মূল সেতুর জন্য বরাদ্দ ছিল ১২ হাজার ১৩৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা (৪০০ কিলোভোল্ট বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও গ্যাস লাইন স্থাপনের জন্য এক হাজার কোটি টাকাসহ)।
এ ছাড়া নদী প্রশিক্ষণ কাজের জন্য ৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, অ্যাপ্রোচ রোড (দুটি টোল প্লাজাসহ থানা ও তিনটি সার্ভিস এলাকার জন্য দুটি ভবন নির্মাণ), বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসনে (প্রকল্পের কারণে সৃষ্ট) এক হাজার ৫১৫ কোটি টাকা এবং ভূমি অধিগ্রহণে দুই হাজার ৬৯৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
পদ্মা সেতু ১০০ বছরের বেশি স্থায়ী হবে বলে আশা করা হলেও আগামী ৩৫ বছরের মধ্যে এর নির্মাণ ব্যয় পুনরুদ্ধার করা হবে।
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু এক্সপ্রেসওয়ের গতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান
১১৯৮ দিন আগে
২০টি মেগা প্রকল্পের ঋণ পরিশোধের জন্য একটি রোডম্যাপ প্রয়োজন: দেবপ্রিয়
অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য দেশের শীর্ষ মেগা প্রকল্পগুলোর ঋণ পরিশোধের জন্য একটি রোডম্যাপের আহ্বান জানিয়েছেন। এসব মেগা প্রকল্প ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে শুরু হবে।
তিনি পরামর্শ দেন, ‘এই মেগা প্রকল্পগুলো অর্থনীতির জন্য উদ্বেগ সৃষ্টিকারী। এগুলোর জন্য ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ২০২৪ ও ২০২৬ সালের মধ্যে অর্থনীতিতে একটি বড় ধাক্কা আসছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য একটি পরিকল্পনা প্রয়োজন।’
বৃহস্পতিবার ‘বাংলাদেশের বৃহৎ বিশটি মেগা প্রকল্প: প্রবণতা ও পরিস্থিতি’-শীর্ষক এক ভার্চুয়াল মিডিয়া ব্রিফিংয়ে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডি’র স্পেশাল ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিদেশি ঋণের সঙ্গে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাত ১ দশমিক ১ শতাংশ, যা ২০২৬ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হতে পারে।
বাংলাদেশ সমস্যায় পড়বে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসলে সে সময় দেশের রিজার্ভ পরিস্থিতি কেমন, অর্থনীতি কতটা চাঙ্গা থাকে তার ওপর নির্ভর করবে।
আরও পড়ুন: বাজেটে নিম্ন-মধ্যম আয়ের জনগণের জন্য কোনো সুখবর নেই: সিপিডি
দেবপ্রিয় আরও বলেন, বড় প্রকল্পের জন্য রাশিয়া, চীন ও জাপানকে বেশি টাকা দিতে হবে। এর মধ্যে চীনের ঋণ পরিশোধের সময়কাল বেশ কম।
তিনি পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল, মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল ও পদ্মা সেতুর রেল সংযোগসহ ২০টি মেগা প্রকল্প বিশ্লেষণ করেন।
এসব প্রকল্পে প্রায় পাঁচ দশমিক ৫৭ লাখ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। এর প্রায় ৬২ শতাংশ বৈদেশিক ঋণ।
দেবপ্রিয় আরও বলেন, ২০০৯ সাল থেকে বড় প্রকল্প হাতে নেয়ার বিষয়ে এক ধরনের জাতীয় ঐকমত্য রয়েছে।
তিনি বলেন, বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা যায় বলে রাজনীতিবিদরা এতে আগ্রহ দেখান।
দেবপ্রিয় বলেন, যদিও ২০টি প্রকল্প ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বর্তমান দশকে সেগুলি সম্পূর্ণ করা সম্ভব হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: উচ্চ মূল্যের সরকারি ঋণ অর্থনীতিতে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করতে পারে: সিপিডি
বিশ্ববাজারের তুলনায় বাংলাদেশে খাদ্যের দাম অনেক বেশি: সিপিডি
১৪৫৬ দিন আগে