মার্কিন ভিসা
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন শর্ত আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের হালনাগাদ ভিসা বন্ড তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের নাম। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ ও ব্যবসা ভিসা পেতে বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা ফেরতযোগ্য জামানত জমা দিতে হবে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ভিসা বন্ডের আওতাভুক্ত দেশগুলোর হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে।
এই কর্মসূচির আওতায়, নতুন করে যুক্ত হওয়া দেশগুলোর পাসপোর্টধারীদের অন্যান্য সব যোগ্যতা পূরণ থাকলে ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলারের বন্ড দিতে বলা হতে পারে। এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘পে ডট গভ’ (pay.gov)-এর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।
হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এই নীতির আওতায় থাকা দেশের সংখ্যা বর্তমানে ৩৮টিতে দাঁড়িয়েছে। তালিকাভুক্ত অধিকাংশ দেশই দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলভুক্ত।
বাংলাদেশের পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, কিউবা, নেপাল, নাইজেরিয়া ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশ। নতুন এই শর্ত ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করে অবস্থান (ওভার স্টে) নিরুৎসাহিত করতেই বন্ডের এই শর্ত আরোপ করা হয়েছে। তবে বন্ডটি ফেরতযোগ্য। যদি ভিসার মেয়াদ থাকাকালীন সময়ের মধ্যে কিংবা মেয়াদের শেষ দিন কেউ প্রস্থান করে তাহলে তার জামানতের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এছাড়া ভিসার মেয়াদের মধ্যে ভ্রমণ না করলে অথবা ভিসা আবেদনের পর প্রত্যাখ্যান করা হলে জামানতের অর্থ ফেরত দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া ভিসার মেয়াদের পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে অথবা আশ্রয় প্রার্থনা করলে জামানতের শর্ত ভঙ্গ বলে বিবেচনা করা হবে।
উন্নয়নশীল দেশের অনেক আবেদনকারীর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ কার্যত নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা তুলে ধরে আরোপিত এই নীতিটি সমালোচিত হয়েছে।
এর আগে ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্য কিছু ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা বন্ড চালুর উদ্যোগ নেয়, কিন্তু পরে তা বাতিল করে।
১ দিন আগে
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী
বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটাধিকারসহ সব অধিকার নিশ্চিত করলেও বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভয়েস অফ আমেরিকার (ভিওএ) বাংলা সার্ভিসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা আন্দোলন, সংগ্রামের মাধ্যমে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করেছি। জনগণ তাদের ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতন। আমরা এটা করেছি। এখন হঠাৎ করে এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে কোনো যৌক্তিকতা দেখছি না।’
আরও পড়ুন: গণমাধ্যম কর্মীরাও ভিসা নীতির মুখোমুখি হতে পারে: হাস
তিনি বলেন, 'আজ তারা (যুক্তরাষ্ট্র) নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে, ভবিষ্যতে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। এটা তাদের উপর নির্ভর করে।’
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের জনগণের অধিকার, তাদের ভোটাধিকার, মৌলিক অধিকার এবং বেঁচে থাকার অধিকার- এগুলো আমরা নিশ্চিত করেছি।’
যুক্তরাষ্ট্রে সফররত প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা, মানবাধিকার, বিদেশে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সংবিধানসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে এখন পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি দেশটিতে বাংলাদেশের মানুষের প্রবেশে বাধা দেয়, তাহলেও কোনো সমস্যা নেই।
আরও পড়ুন:মার্কিন ভিসা নীতির কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে না: আইজিপি
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা, সেটা র্যাব হোক বা পুলিশ, কেউ অন্যায় করলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বিচার হয়। 'বিচার থেকে কেউ রেহাই পাবে না।'
তিনি বলেন, ‘তারা যদি মানবাধিকার বা ভোটাধিকারের কথা বলে, আমরাই আওয়ামী লীগই ভোটাধিকারের জন্য লড়াই করেছি, আমাদের দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রক্ত ঝরিয়েছে। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমরা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’
দেশের উন্নয়নের বর্ণনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ এখন অনেক বদলে গেছে। ‘এটি তার আগের অবস্থায় ছিল না। বাংলাদেশে কোনো দুর্ভিক্ষ নেই। বেকারত্বের হার কমে গেছে, এখন তা ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।’
আরও পড়ুন: ভিসা নীতি আমেরিকার নিজস্ব ব্যাপার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন যা খুশি তাই খেতে পারে। বাংলাদেশ এখন ডিজিটালাইজড। মানুষের ইন্টারনেট সুবিধা আছে। দেশকে ওয়াইফাই সংযোগের আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ আছে। বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। মানুষ যাতে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে, সেজন্য সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। আমরা দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ এখন ভোটাধিকার সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন। আমরা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিলাম এবং আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে এটি প্রতিষ্ঠা করেছি।’
আরও পড়ুন: বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার আগে খালেদাকে কারাগারে ফিরতে হবে: ভয়েস অফ আমেরিকাকে প্রধানমন্ত্রী
৮৩১ দিন আগে
বিএনপির ওপর মার্কিন ভিসানীতি প্রয়োগ করা উচিত: ওবায়দুল কাদের
নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকার প্রবেশপথ অবরোধের কর্মসূচি দেওয়ায় বিএনপির মার্কিন ভিসা নীতির আওতায় পড়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
সোমবার (৩১ জুলাই) বেলা ১১টায় সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের (বিএনপির) উদ্দেশ্য তারা একটি লাশ ফেলবে। পুলিশের উপর হামলা করলে পুলিশ তো বাধা দেবেই। ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডের রাস্তা বন্ধ করে দিলে পুলিশ চোখ বন্ধ করে রাখবে? আমি পুলিশকে দোষ দেবো না। জনগণের জানমাল রক্ষা করার দায়িত্ব পুলিশের।
আরও পড়ুন: জনগণের আস্থা ফেরাতে না পারলে মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবে না: জিএম কাদের
তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) যে কোনো মূল্যে, যে কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ক্ষমতা থেকে শেখ হাসিনাকে হটাতে চায়। এটি তাদের টার্গেট। আমাদের তো সেই টার্গেট নেই। আমরা সরকারি দল। আমরা কোনো উত্তেজনায় যাবো না। আমরা নির্বাচন চাই। নির্বাচনে জনগণ চাইলে আমরা আবারো থাকব, না চাইলে থাকব না।
রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকার সরকারের পথেই আছে। সরকারের উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ অবস্থা বজায় রাখা। নির্বাচনের আগেও, নির্বাচনের পরেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা।
আরও পড়ুন: রবিবার সারাদেশে আ. লীগের বিক্ষোভ কর্মসূচি: ওবায়দুল কাদের
৮৯২ দিন আগে
মার্কিন ভিসার আবেদন করার জন্য দালালের দ্বারস্থ হওয়ার প্রয়োজন নেই: দূতাবাস
মার্কিন ভিসা আবেদনকারীদের কাছে প্রতারণামূলক এন্ট্রি ও এক্সিট স্ট্যাম্প বিক্রির অভিযোগে ছয় ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার মার্কিন দূতাবাসের সহযোগিতায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে।
মার্কিন ভিসা আবেদনপত্রে যে তথ্য দেয় এবং সাক্ষাত্কারে যে তথ্য-উপাত্ত দেয় তার দায় আবেদনকারীদের।
সম্ভাব্য ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া নির্দেশিকা ভালোভাবে পড়া।
শুক্রবার ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস এক সংবাদ বিবৃতিতে বলেছে, যেকোনো সহায়ক ডকুমেন্টসসহ সাক্ষাৎকারের জন্য প্রস্তুত থাকুন এবং ভিসা প্রক্রিয়া ও সাক্ষাত্কারের সময় প্রকৃত ও সত্য উত্তর দিন।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বিনিয়োগের বৃহত্তম উৎস: দূতাবাস
দূতাবাসের মুখপাত্র জেফ রিডেনর বলেন, মার্কিন ভিসার জন্য আবেদন করার জন্য দালাল ধরার প্রয়োজন নেই।
মার্কিন ভিসা আবেদনকারীদের অনলাইনে তাদের নিজস্ব আবেদনগুলো পূর্ণ করতে উত্সাহিত করা হয়। কারণ একটি আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য আমাদের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা আবেদনকারীদের সতর্ক করছি যে মিথ্যা তথ্য ও নথি উপস্থাপনের ফলে শুধুমাত্র ভিসা প্রত্যাখ্যানই হতে পারে না; বরং এটি একটি অযোগ্যতার কারণও হতে পারে। যা ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে বাধা হতে পারে।’
আরও পড়ুন: শরণার্থী, অভিবাসন সমস্যা আলোচনায় বাংলাদেশ সফরে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী সচিব নয়েস
স্বাধীন, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ার দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে যুক্তরাষ্ট্র: রাষ্ট্রদূত হাস
১০৮৪ দিন আগে