মধ্যপ্রাচ্য
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করল আরব আমিরাত
ইরানের বিরুদ্ধে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ তুলে দেশটির সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। তবে ইউএইর এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছে ইরান।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের মধ্যে এমন অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত তৎপরতার অংশ বলে দাবি করেছে তেহরান।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিভিন্ন পদক্ষেপ তাদের দেশের শান্তি ও নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধ থাকবে।
এর আগে ইউএইর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। তার মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে এবং অন্যটি আঞ্চলিক জলসীমার ভেতরে গিয়ে পড়েছে।
পরে দেওয়া আরেক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, দেশটির নিরাপত্তা বা এ অঞ্চলের নৌ চলাচল বিঘ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা তারা দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করবে।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিরদ্ধে আনা এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের মধ্যে তাদের বিরদ্ধে প্রতিবেশী দেশের এ ধরনের অভিযোগ একটি একটি পরিকল্পিত তৎপরতার অংশ।
ইসমাইল বাঘাই আরও বলেন, এ ধরনের অভিযোগ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোকেও ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়ানো থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানান।
একই সঙ্গে তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে বর্তমানে চলমান যুদ্ধের মূল্যায়ন করতে হবে।
২ দিন আগে
যুগান্তকারী ভোটে মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করল লেবানন
মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করেছে লেবানন। আরব বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও কঠোর শ্রমের শাস্তি চালু করল দেশটি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ভোটের মাধ্যমে এই আইনটি বিলোপ করে দেশটি।
লেবাননের ১২৮ সদস্যের পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা মৃত্যুদণ্ড বিলোপের পক্ষে ভোট দেন। তবে হিজবুল্লাহর সংসদীয় ব্লক এর বিরোধিতা করে।
পার্লামেন্টে উপস্থিত দেশটির বিচারমন্ত্রী আদেল নাসার এ সিদ্ধান্তকে লেবাননের জন্য ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।
মৃত্যুদণ্ডের ওপর স্থগিতাদেশকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া কিংবা সম্পূর্ণভাবে মৃত্যুদণ্ড বিলোপের আহ্বান জানিয়ে আসা মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।
এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচের লেবাননবিষয়ক গবেষক রামজি কাইস বলেন, ‘লেবানন এমন একটি নিষ্ঠুর শাস্তি থেকে চূড়ান্তভাবে সরে আসছে, যা কখনোই দেওয়া উচিত নয়।’
তিনি বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ড তার নিষ্ঠুরতা ও চূড়ান্ততার দিক থেকে অনন্য এবং এতে স্বেচ্ছাচারিতা, পক্ষপাত ও ভুলের ঝুঁকি থেকেই যায়।’
তবে কঠোর শ্রমের শাস্তি কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কয়েকজন আইনপ্রণেতা বলেছেন, নতুন শাস্তির শর্তগুলো এখনও পরিষ্কার নয়।
লেবাননের আইনে আদালতের রায় ও বিধিবিধানে ‘কঠোর শ্রমের’ শাস্তির উল্লেখ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির আর্থিক সংকট, সম্পদের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত বন্দিতে ঠাঁসা কারাগারগুলোর সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে এই শাস্তিও খুব কমই কার্যকর করা হয়েছে।
লেবাননে মৃত্যুদণ্ড বিলোপের সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন পার্লামেন্টে একটি বিতর্কিত সাধারণ ক্ষমা আইন নিয়ে আলোচনা চলছে। ১৯৯০ সালে দেশটির ১৫ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসানের পর এটিই হবে সবচেয়ে বড় সাধারণ ক্ষমার উদ্যোগ। প্রস্তাবিত আইনের আওতায় কিছু দণ্ড কমানো, এমনকি দণ্ডিত জঙ্গি ও মাদক কারবারিদের মুক্তিও দেওয়া হতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।
ইসলামপন্থি জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর হামলা ও হত্যাকাণ্ডে নিহত লেবাননের সেনা ও নিরাপত্তাকর্মীদের পরিবারের সদস্যরা আইনটির বিরুদ্ধে বারবার বিক্ষোভ করেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন, তারা তাদের স্বজনদের হত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেখতে চেয়েছিলেন, কম মেয়াদের কারাদণ্ড নয়।
ঐতিহাসিক এই ভোটের বিষয়ে হিজবুল্লাহ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। লেবাননের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু নিজস্ব বিচারব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ডকে বৈধ বলে বিবেচনা করা হয়।
ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের ছোট্ট এই দেশটি অবশ্য ২০০৪ সালের জানুয়ারি থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ দিয়ে রেখেছিল। তবে এরপরও দেশটির আদালতগুলোতে বেশ কিছু মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। পরে অবশ্য সেগুলো স্থগিত অথবা কমিয়ে দেওয়া হয়।
১০ দিন আগে
ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার চেয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে লেবাননের প্রেসিডেন্টের বৈঠক
চার দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরের শেষ দিনে আজ মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের বৈঠক করার কথা। ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে কয়েক মাসের যুদ্ধের পর দেশটিতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ ও এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিশ্চিত করা।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বর্তমানে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা চলছে। লেবাবননের সরকারের প্রত্যাশা, এসব আলোচনার মাধ্যমে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় দীর্ঘদিন হিজবুল্লাহর প্রভাব ছিল, সেখানে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় লেবাননের সেনাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবে।
গত ২৬ জুন লেবানন ও ইসরায়েল একটি ‘ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট’ বা কাঠামোগত চুক্তি ঘোষণা করে। এতে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ও হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি এই দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যতে একটি শান্তিচুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার রূপরেখাও এই চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর প্রায় ৮০ বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং তারা কার্যত যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, পাইলট জোনের (পরীক্ষামূলক এলাকা) আওতাভুক্ত তিনটি গ্রামে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে এ কার্যক্রমের ব্যাপারে বিস্তারিত জানায়নি তারা। ওই তিন গ্রামের মধ্যে ফ্রাউন ও স্রিফায় ইসরায়েলি সেনা নেই এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে জাওতার আল-ঘারবিয়াহ গ্রামের একটি অংশ এখনও ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে, লেবাননের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাওতার আল-ঘারবিয়াহ থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি চলছে। ইসরায়েলি সেনারা সরে গেলে ওই এলাকায় লেবাননের বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী যাতে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে জন্য পাইলট এলাকার একটি স্থানে আমাদের বাহিনীর অবস্থান পুনর্বিন্যাস করা হবে। তবে কোন এলাকায় এ কার্যক্রম চলছে, তা উল্লেখ করেনি তারা।
লেবানন-সংক্রান্ত চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন
স্থানীয় সময় রবিাবর প্রেসিডেন্ট আউন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে রুবিও জানান, লেবানন-সংক্রান্ত ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে এবং এর পূর্ণ বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করবে।
তিনি এ বৈঠককে খুবই ইতিবাচক বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘হিজবুল্লাহ ইস্যুর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত লেবাননে কখনোই পুরোপুরি শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না।’
রুবিও বলেন, ‘হিজবুল্লাহর বিকল্প কীভাবে তৈরি করবেন? তাদের পরাজিত করতে সক্ষম, এমন একটি সরকার গড়ে তুলতে হবে। সেই সরকারই যেন দেশটির একমাত্র সশস্ত্র শক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যথেষ্ট শক্তিশালী হয়।’
তবে লেবাননের অনেক বিশ্লেষকের আশঙ্কা, হিজবুল্লাহর সঙ্গে সামরিক সংঘাত শুরু হলে তা গৃহযুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
এদিকে, দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা দুর্বল হয়ে পড়া রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোয় বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। রুবিও-ও এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এটি শুধু সামরিক বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগগুলো আমরা কীভাবে লেবাননে আনতে পারি, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’
গত সপ্তাহে পাইলট জোনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাব্য কয়েকটি এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী তাদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে। সেখানে তাদের সেনারা টহল দিচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চৌকি স্থাপন করেছে।
৩১ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ পুনর্বহাল, মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি রপ্তানি বন্ধের হুমকি তেহরানের
ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র আবারও নৌ অবরোধ আরোপ করার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব ধরনের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
এদিকে, নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। এর ফলে যুদ্ধ বন্ধে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের লড়াই মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের রাতভর চালানো হামলায় ২৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্রতা আরও বাড়ছে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।
ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবার এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপ করেছিল। পরে জুনের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করে অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষর করে দুই দেশ। স্বাক্ষরের এক দিন পর হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ তুলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাত আবারও তীব্র হওয়ায় শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
এদিকে, ইরানের আধাসামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ড বুধবার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, অবরোধ বহাল থাকলে তারা মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব ধরনের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করে দেবে। তাদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্য থেকে হয় সব দেশই তেল ও গ্যাস রপ্তানি করবে, নয়তো কেউই তা করতে পারবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা দেওয়ার সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ফি আরোপের কথা বলেছিলেন। তবে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর অনুরোধের পর অবরোধ পুনর্বহালের কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি সেই পরিকল্পনা বাতিল করেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা
অবরোধ পুনর্বহালের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ইরানে নতুন করে ব্যাপক হামলা চালায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, সাত ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে তারা বহু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
বুধবার ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর হামলায় হতাহতের তথ্য প্রকাশ করেন। তবে কতজন নিহত হয়েছেন, তা তিনি উল্লেখ করেননি। তিনি জানান, এবারের হামলায় আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আহতের সংখ্যা অনেক বেশি।
ইরান কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে হামলার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে স্থানীয় প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমান উপসাগর-সংলগ্ন ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশে বড় ধরনের হামলা হয়েছে।
অন্যদিকে, বুধবার ভোরে ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় বাহরাইন ও কুয়েতে সতর্কবার্তা জারি করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোকে প্রায় প্রতিদিনই এমন সতর্কতা দিতে হচ্ছে, যা যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।
ইরান জানিয়েছে, তারা বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। জর্ডান জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
সেন্টকম প্রধান মার্কিন নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইরান প্রতিবেশী উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর দিকে বহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। নিরীহ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া ইরানের অযৌক্তিক আগ্রাসনের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে।’
বর্তমানে আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৯টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী ও এক হাজারের বেশি নৌসেনা বহনকারী একটি জাহাজ রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শত শত সামরিক বিমান অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালিতে হামলা করে জাহাজ চলাচলে বাধা দিয়ে আসছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী তেল, সারসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।
সম্প্রতি ইরান ওমানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তত্ত্বাবধানে থাকা একটি বিকল্প নৌপথে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালায়। ওই নৌপথটি ইরানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এ ঘটনাই সাম্প্রতিক সংঘাতের সূত্রপাত ঘটিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, প্রয়োজনে তারা শক্তি প্রয়োগ করে প্রণালিটি আবারও সচল করবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, তা করতে হলে আরও বড় নৌবহর, এমনকি কয়েক দশ হাজার স্থলসেনার প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে, জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি যুক্তরাষ্ট্রের চলমান হামলার কঠোর সমালোচনা করেছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর বরাত দিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবকে লেখা চিঠিতে তিনি জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্রই আগ্রাসনকারী, তারা কোনোভাবেই ভুক্তভোগী নয়।’
হরমুজে ফি বাতিলের বদলে উপসাগরীয় বিনিয়োগের প্রস্তাব
মঙ্গলবার ট্রাম্প জানান, উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের নেতারা তাকে ফোন করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ফি আরোপ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। এর পরিবর্তে তারা যুক্তরাষ্ট্রে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা বলেছেন, তারা জাহাজ চলাচলে ফি আরোপের বদলে যুক্তরাষ্ট্রে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চান।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সেই প্রস্তাবই বেশি পছন্দ করি। কারণ আমার মনে হয়, প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য কারও কাছ থেকে ফি নেওয়া উচিত না।’
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ফি আরোপের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই এ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, আগামী দুই দিনের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আরও হামলা চালানো হবে। আলোচনা এগোতে না পারলে আগামী সপ্তাহে দেশটির সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি সেতুতে হামলা চালিয়েছে।
তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে চুক্তি করুন, না হলে আপনাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’
৩৭ দিন আগে
দুই আইএস সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান
ইসলামিক রিপাবলিকের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের দায়ে দোষী সাব্যস্ত ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর দুই সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই ব্যক্তির নাম মোহিয়েদ্দিন আবদুল্লাহি ও হোসেইন পালানি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের আঞ্চলিক পরাজয়ের পর গড়ে ওঠা একটি আইএস সেলের সদস্য ছিলেন তারা। ওই সেলটি ইরানের ভেতরে হামলার পরিকল্পনা করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই ইরাক সীমান্তসংলগ্ন বামো পার্বত্য এলাকায় সেলটির আস্তানার সন্ধান পায় ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী। পরে সেখানে পরিচালিত অভিযানে কয়েকজন জঙ্গি নিহত এবং অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) তিন সদস্যও নিহত হন। এ সময় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইরানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলে ফাঁসির মাধ্যমে সেই দণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে মৃত্যুদণ্ড কোথায় কার্যকর করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিচার বিভাগ কোনো তথ্য জানায়নি।
৩৮ দিন আগে
হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলা
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর কয়েক ঘণ্টা পরই দেশটির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন, জর্ডান এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। এসব ঘটনায় একজন নাবিক নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছে। ইরানের হামলার পর পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। এর মধ্যেই উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টাপাল্টি হামলা ঘটেই চলেছে।
এদিকে, এই হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৪ ডলারের বেশি হয়েছে। যদিও যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র সময়ে দাম প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছিল, তবুও এ মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পাশাপাশি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ভিত্তিতে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতিও আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ৬০ দিনের ওই চুক্তির প্রায় অর্ধেক সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ওই সমঝোতায় ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচিসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।
হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায় নিয়ে ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্ত
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা আবু মুসা, বান্দার আব্বাস, বুশেহর, চাবাহার, জাস্ক এবং কোনারাক এলাকার আশপাশে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ইরানও এসব এলাকায় হামলার বিষয় স্বীকার করেছে। তবে তারা তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, এই হামলাগুলো ইরানি বাহিনীর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক মানুষ ও বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা চালানোর সক্ষমতা কমে যাবে।
সামরিক বাহিনীর ঘোষণার কিছুক্ষণ পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি বড় হামলা। আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত হানছি। এই অভিযান চলতে থাকবে। এরপর কী হয়, সেটা দেখা যাবে। আমরা তাদের সব ধরনের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ধ্বংস করে দিচ্ছি এবং প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নিচ্ছি। আমরা সেখানে আবারও অবরোধ কার্যকর করছি।’
ট্রাম্প আরও জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে অর্থ নেওয়ার বিষয়ে তিনি নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এর আগে তিনি বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি। এতে আমাদের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তাই এই অঞ্চলে নিরাপত্তা দেওয়ার বিনিময়ে আমাদের অর্থ দিতে হবে।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতির সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সাংঘর্ষিক। এতদিন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিকে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার পক্ষে ছিল এবং সেখানে কোনো ধরনের টোল বা ফি আরোপের বিরোধিতা করে এসেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর আগ পর্যন্তও সেই নীতি বহাল ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান যে পক্ষই হোক, প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অবাধ নৌচলাচলের নীতির লঙ্ঘন হবে। এতে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়বে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উল্লেখ্য, বারবারি যুদ্ধ এবং ১৮১২ সালের যুদ্ধের সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবাধ নৌচলাচলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আবারও হামলা শুরু
এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে ইরান হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এতে একজন নাবিক নিহত এবং ৮ জন আহত হয়েছেন।
দেশটির মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরান ‘মোম্বাসা’ ও ‘আল বাহিয়াহ’ নামের দুটি ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। হামলার পর দুটি জাহাজেই আগুন ধরে যায়। তবে পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ দুটি একটি মাইন পাতা এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল। এরপর তাদের লক্ষ্যবস্তু করে অচল করে দেওয়া হয়েছে। জাহাজ দুটিকে বারবার সতর্ক করার পরও নির্দেশনা উপেক্ষা করছিল।
অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত নাবিক একজন ভারতীয় নাগরিক। এছাড়া আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় ও দুজন ইউক্রেনের নাগরিক রয়েছেন।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিজেদের ভূখণ্ড ও জণগণের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
এর আগেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করেছিল আমিরাত। মঙ্গলবার সকালে দুবাইয়ের আকাশে যুদ্ধবিমানের শব্দও শোনা গেছে।
এদিকে, আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও দুবাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বুধবার পর্যন্ত সব ধরনের কনস্যুলার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করা হয়েছে।
অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে মঙ্গলবার ভোরে বাহরাইনেও নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইরান।
হামলার সময় বাহরাইনে তিন দফা ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কসংকেত বাজানো হয় এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়। তবে এ হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, জর্ডানের সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পেত্রা জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশটি ইরানের হামলারও শিকার হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে ইরান
সোমবার রক্ষণশীল রেডিও উপস্থাপক হিউ হিউইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, গত মাসে হওয়া চুক্তি ইরানকে পরীক্ষা করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আপনি যখন প্রতারকদের সঙ্গে কাজ করেন, তখন চুক্তির তেমন কোনো মূল্য থাকে না। তবে তারা সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি।’
অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে, অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজন হলে ফি আদায়ের অধিকার তাদের রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই দাবির বিরোধিতা করছে।
ইরানের অভিযোগ, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ওমান উপকূল ঘেঁষে এমন একটি বিকল্প নৌপথ চালুর চেষ্টা করেছে, যা ইরানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকবে।
তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তি লঙ্ঘন করছে। তাই ইরান ওই বিকল্প নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। এরপর ইরানও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত আরব দেশগুলোর ওপর হামলা শুরু করে।
সাম্প্রতিক এসব পাল্টাপাল্টি হামলা অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ওই চুক্তির অংশ হিসেবে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্র যে অবরোধ তুলে নিয়েছিল, তা আবারও পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার কথাও উল্লেখ ছিল।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমরা আবারও ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ পুনর্বহাল করছি। অন্য সব দেশ হরমুজ প্রণালি ন্যায্য ও উন্মুক্তভাবে ব্যবহার করতে পারবে।’
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে ব্যয় হবে, তার খরচ ওঠাতে যুক্তরাষ্ট্র পণ্যবাহী জাহাজের কার্গোর মূল্যের ২০ শতাংশ পরিমাণ অর্থ টোল পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দুবাইয়ের স্থানীয় সময় বুধবার মধ্যরাত থেকে ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে অবরোধ আবারও কার্যকর করা হবে।
৩৮ দিন আগে
ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেনতারা এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির ভাইয়েরা প্রকাশ্যে অংশ নিয়েছেন। জানাজা অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বান জানিয়ে স্লোগান দেওয়া হয়েছে, যা দুই দেশের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
খামেনির শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা স্থগিত রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজধানী তেহরানে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের প্রকাশ্যে দেখা যাবে—এটি শুরুতে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। কারণ, যুদ্ধের শুরুতেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চালানো বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সী খামেনি, তার পরিবারের সদস্য এবং আরও কয়েকজন কর্মকর্তা নিহত হন। এর আগে যুদ্ধ চলাকালে যেসব নেতাদের প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছেল, তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল।
তবে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এখনও প্রকাশ্যে আসেননি। ধারণা করা হচ্ছে, যে বিমান হামলায় তার বাবাকে হত্যা করা হেয়েছিল, একই বিমান হামলায় তিনিও আহত হয়েছিলেন। তারপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। ইসরায়েল তাকেও হত্যারও হুমকি দিয়েছে।
এসবের মধ্যেই তিনি ধর্মতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি তার নেতৃত্বাধীন শীর্ষ কর্মকর্তারা যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। কারণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
জানাজায় অংশ নেওয়া ৪২ বছর বয়সী নার্স জিবা নাদেরি জানান, দেশের বিষয়ে মোজতবা খামেনি যা নির্দেশ দেবেন, ইরানের সেটিই অনুসরণ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিশোধের আহ্বান শুনেছি। কিন্তু আমাদের করণীয় কী, তা আমাদের নেতাই ঠিক করে দেবেন। আমরা তার নির্দেশ মেনে চলতে বাধ্য।’
জানাজায় দোয়া ও প্রতিশোধের আহ্বান
তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় ৯৭ বছর বয়সী শিয়া আলেম আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি প্রয়াত খামেনি এবং তার পরিবারের নিহত সদস্যদের জানাজার নামাজে ইমামতি করেন।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন খামেনির ছেলে মাসউদ, মেইসাম ও মোস্তাফা। তাদের সবাইকে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম প্রকাশ্যে দেখা গেছে। এছাড়া, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রধান জেনারেল আহমদ বাহিদিকেও জনতার মধ্যে দেখা যায়।
যুদ্ধ শুরুর পর বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো তার ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সাংবাদিকরা তাকে কালো বেসবল ক্যাপ পরে সাধারণ পোশাকধারী নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে দেখতে পান।
এছাড়া ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানিও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতির মধ্যেই গ্র্যান্ড মোসাল্লাজুড়ে টাঙানো পোস্টার ও দেয়াললেখায় ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার আহ্বান জানানো হয়।
জানাজার অনুষ্ঠান শুরুর আগে সঞ্চালনার দায়িত্বে থাকা কবি মোহাম্মদ রাসুলি জনতার মধ্যে স্লোগান তোলেন, ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ ও ‘ইসরায়েলের মৃত্যু হোক’।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাসুলি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্য মানুষটি এখনও কেন বেঁচে আছে?’ এ কথা শুনে উপস্থিত জনতা উল্লাসে ফেটে পড়ে। এরপর রাসুলি যখন বলেন, ‘পৃথিবী এখন আর ট্রাম্পের জন্য নিরাপদ জায়গা নয়’, তখন জনতা আরও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। খামেনির জানাজার এই আয়োজনেই ইরানে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে কেউ ট্রাম্পের প্রণনাশ নিয়ে সরাসরি হুমকি দিল।
৪৭ দিন আগে
ইরানে খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠান শুরু
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনকে কেন্দ্র করে আজ শনিবার থেকে কয়েক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচি শুরু হয়েছে। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিনের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী তেহরানে শত শত হাজার মানুষ জড়ো হয়েছে। শোকাহত জনতা বুক চাপড়ে শোক প্রকাশের পাশাপাশি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের স্লোগান দিচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধের শুরুর দিকে এক বিমান হামলায় নিহত হন ৮৬ বছর বয়সী খামেনি। তার মৃত্যু ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থা এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির নেতৃত্বকে আরও সুসংহত করার সুযোগ এনে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এমন সময়ে এই শোকানুষ্ঠান শুরু হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজের প্রভাবকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল আবারও হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কাও পুরোপুরি কাটেনি।
অনুষ্ঠানস্থল থেকে ইরানের প্রধান আলোচক কাজেম গারিবাবাদি ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যৌথ টহলের সম্ভাবনা নিয়ে তাদের মন্তব্য উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
৪৮ দিন আগে
সৌদি আরবে আরামকোর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ১৪ আরোহী নিহত
সৌদি আরবে বিশ্বের বৃহত্তম তেল কোম্পানি আরামকোর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ১৪ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৮) সকাল ৬টার দিকে রাস তানুরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের সবাই সৌদি নাগরিক বলে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হেলিকপ্টারটি সৌদি আরব সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন তেল কোম্পানি আরামকোর ছিল। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আরামকোকে নতুন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর সৃষ্ট বিঘ্ন এড়াতে তারা কিছু তেল রপ্তানি পাইপলাইনের মাধ্যমে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।
৫৪ দিন আগে
কাতারের গ্যাস রপ্তানি টার্মিনালে বিস্ফোরণ, আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮
ইরানের হামলার পর পুনরায় কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা চলাকালে কাতারের প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি টার্মিনালে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিস্ফোরণে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫৪ জন আহত এবং আরও অন্তত ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (২১ জুন) রাতে কাতারের রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
কাতার বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ। এ বিস্ফোরণ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
এর আগে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণের কারণে ক্রেতাদের কাছে জ্বালানি পাঠানো সম্ভব না হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রেখেছিল কাতার।
যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যে ইরান প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল করায় কাতার রপ্তানি টার্মিনাল পুনরায় চালুর কাজ শুরু করে। গতকাল রাতে সেই কাজ চলাকালে বারজান গ্যাস সরবরাহ স্থাপনায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি।
বিস্ফোরণের পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। শুরুতে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, অল্প কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পর কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনেক বেশি হতাহতের তথ্য প্রকাশ করে।
বারজান প্ল্যান্টের দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ছিল প্রায় ১৪০ কোটি ঘনফুট। কাতার মূলত স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আরব উপদ্বীপের মরু অঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো পরিচালনায় এই গ্যাস ব্যবহার করত।
প্ল্যান্টটির প্রায় পুরো মালিকানাই কাতারের, তবে এর একটি ছোট অংশের মালিক যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ জানানো হলেও প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
গত মার্চে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র রাস লাফানে আঘাত হানলে সেখানে আগুন ধরে যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ইরানি হামলার কারণে তার আগেই সেখানে উৎপাদন বন্ধ রেখেছিল কাতার।
৬০ দিন আগে