চট্টগ্রাম
চাঁদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের ২১ সদস্য আটক
চাঁদপুর জেলা শহরে কিশোর গ্যাংয়ের ২১ সদস্যকে আটক করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত শহরের হাসান আলী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, লেকেরপাড়, স্টেডিয়াম রোড, মাদরাসা রোড, পৌর পার্ক, কবরস্থান রোড, প্রেসক্লাব রোডসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়েজ আহমেদ।
এ সময় ওসি (তদন্ত) মিন্টু দত্ত, সেকেন্ড অফিসার ফেরদৌস নূর, এসআই বিল্লাল হোসেন, নাজমুল হোসেন, মোখলেছ, কালাম গাজী, নূরুল আলমসহ অন্য সদস্যরা সঙ্গে ছিলেন।
আটকরা হলেন— ফয়সাল খান (১৪), জাহিদুল (১৬), রবিউল (১৬), আসিফ (২৩), রোকন (১৮), তানভির (১৭), লাবিব (১৭), মাহমুদ (১৮), শাকিব (১৭), শাফিউন (১৮), হামিম (১৯), রায়হান (১৭), ফাহিম (১৭), আল আমিন (১৭), আল সামির (১৫), ফাইয়াজ (১৫), তাওহিদ (১৫), আবরার (১৮), দ্বিন ইসলাম (১৮), সাফিন (১৯) ও মিহাম (১৮)।
ওসি মো. ফয়েজ আহম্মেদ বলেন, পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রবিউল হাসানের নির্দেশে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে কিশোর গ্যাংয়ের ২১ সদস্যকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
তিনি বলেন, আটকদের যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
১২ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রামে আবাসিক ভবনে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৯
চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহরের একটি ভবনে গ্যাস লাইনের বিস্ফোরণে ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। এদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কন্ট্রোলরুম কর্মকর্তা।
দগ্ধদের মধ্যে ৮ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন— শিপন (৩০), সুমন (৪০), শাওন (১৭), আনাস (০৭), আইমান (০৯), শাখাওয়াত (৪৬), আয়েশা (০৪) ও পাখি (৩৫)।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন জানান, আজ (সোমবার) সকাল পৌনে ৬টার দিকে হালিশহর থানার আবাহনী ক্লাবের মাঠের সামনে ছয় তলা আবাসিক ভবনের তৃতীয় তলায় গ্যাসের লাইনের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে আমাদের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে এর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিভিয়ে ফেলেন। অগ্নিদগ্ধদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
আগুনের ক্ষয়ক্ষতি তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।
১৮ ঘণ্টা আগে
অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৪ গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধা দিতে গিয়ে বালু ব্যবসায়ীদের ছোড়া ছররা গুলিতে চারজন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— ওই গ্রামের আলিম মিয়া, নূরু মিয়া, সফর মিয়া ও নুরুল মিয়া।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নবীনগরের মেঘনা নদীতে সামিউল ট্রেডার্স ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলন করছে। কিন্তু বালু উত্তোলনকারীরা অবৈধভাবে নির্দিষ্ট সীমা ছেড়ে চরলাপাং গ্রামে এসে বালু উত্তোলন করে থাকে। এতে ওই গ্রামের কৃষি জমিসহ আশপাশের এলাকা ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে।
আজ (রবিবার) সকালে চরলাপাং গ্রামে বালু উত্তোলন করার সময় স্থানীয়রা বাধা দেন। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় পার্শ্ববর্তী রায়পুরা উপজেলার মির্জাচর এলাকা থেকে স্পিডবোট ও নৌকায় করে আসা একদল ‘বালু সন্ত্রাসী’ এলোপাতাড়ি ছররা গুলি ছোড়ে। এতে চারজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়া গ্রামবাসীর ওপর গুলির ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
১ দিন আগে
বাধার মুখে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে পারলেন না রুমিন ফারহানা, মহাসড়ক অবরোধ
বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাধার মুখে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে পারেননি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। উত্তেজিত নেতা-কর্মীরা ছিঁড়ে ফেলেছেন রুমিন ফারহানার পুষ্পস্তবক। এ ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন তার কর্মী-সমর্থকরা।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সরাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কর্মী-সমর্থকদের প্রহরায় শহিদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন রুমিন ফারহানা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহিদ দিবস উপলক্ষে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে রাত পৌনে ১২টার দিকে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছান রুমিন ফারহানা। এ সময় পুষ্পস্তবক নিয়ে শহিদ বেদির সামনে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। তখন সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপির নেতা-কর্মীরা রুমিনের উদ্দেশে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে রুমিনের আনা পুষ্পস্তবকটি ছিঁড়ে ফেলেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে না পেরে কর্মী-সমর্থকদের প্রহরায় শহিদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন তিনি।
এদিকে এ ঘটনার পর ঢাকা সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর প্রথম গেট এলাকা প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তার কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় তারা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা অভিযোগ করে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী আমি প্রথমে শহিদ মিনারে ফুল দিতে যাই। সে সময় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের যদি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। তাই যারা দলের পদ ব্যবহার করে এমন হিংস্রতা করে তাদের বিষয়ে দলের উচ্চ পর্যায় থেকে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তা না হলে দলের জন্য যেমন ক্ষতিকর হবে তেমনি সরকারেরও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।
এ বিষয়ে জেলার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, শহিদ মিনারে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি এবং স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ভিডিও ফুটেজ অ্যানালাইসিস করে পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২ দিন আগে
কুমিল্লায় চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়ায় যুবদল নেতাকে ছুরিকাঘাত
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করতে বাধা দেওয়ায় স্থানীয় যুবদল নেতাকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার।
আহত মো. ওমর ফারুক ভূঁইয়া জেলার ১ নম্বর দক্ষিণ কালিবাজারের বাসিন্দা আব্দুল মালেক ভূঁইয়ার ছেলে এবং তাইফুল হক তার চাচা শামসুল হক ভূঁইয়ার ছেলে ।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, কালির বাজারে মাসুম নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে আসছেন। তার এ কাজে বাধা দেন যুবদল নেতা ওমর ফারুক। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাসুমের নেতৃত্বে একটি দল গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যায় ফারুকের বাড়ির সামনে এসে তার চাচাতো ভাই তাইফুল হক ও তার ওপর হামলা চালান। অভিযুক্ত হামলাকারীরা ফারুকের কাঁধ, পেট ও পিঠে ছুরিকাঘাত করেন। পরে আহত অবস্থায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
বুধবার রাতে তাইফুল বলেন, আজকে (গতকাল) মাগরিবের পর আমার চাচাতো ভাই ও আমি আমাদের বাড়ির সামনে অবস্থান করেছিলাম। তখন ছাত্রলীগ নেতা মাসুমের নেতৃত্বে ‘একদল সন্ত্রাসী’ মোটরসাইকেল করে এসে আমার বড় ভাইকে চা-পাতি দিয়ে কোপাতে থাকেন। আমার ভাইয়ের বাঁ কাঁধে, পিঠে কুপিয়ে জখম করে ‘সন্ত্রাসীরা’। আমি বাধা দিতে গেলে আমার ওপরও তারা হামলা চালায়।
ফারুক বলেন, মাসুম কালির বাজারের সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করলে আমি বাধা দেই। একপর্যায়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়েই আমার বাড়ির সামনে গিয়ে তাদের একটি দল চাপাতি, সুইস গিয়ার (চাকু) দিয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। এ সময় আমার চাচাতো ভাই তাইফুল আমাকে বাঁচাতে এলে তার ওপরও হামলা চালানো হয়।
তার দাবি, বল্লবপুরের মাসুদ আল হাসান মাসুম, হাত কাটা বাইল্লা, রেন্ডি মামুন, বাইল্লার ছেলে অপু, ইউছুফ, আবুল কালাম, আনিস ও মিজান তাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। হামলাকারীরা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত বলেও দাবি করেন ফারুক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাসুমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ হয়েছে বলে জেনেছি। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
৪ দিন আগে
নবীনগরে পূর্বশত্রুতার জেরে যুবক গুলিবিদ্ধ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নবীনগরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে ইমন (২২) নামে এক যুবককে গুলি করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে নবীনগর উপজেলার বরিকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রামের বাদ্যকর পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ ইমন একই এলাকার জসিম মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, বরিকান্দি ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার সন্ধ্যায় ইমন ব্যক্তিগত কাজে বাড়ির পাশের সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা হঠাৎ তাকে ঘিরে ফেলেন এবং খুব কাছ থেকে লক্ষ্য করে তার শরীরে পরপর ৩ রাউন্ড গুলি করে। এতে ইমন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
এ সময় বাজার ও আশপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান। হামলার পর অভিযুক্তরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় ইমনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানান, তার শরীরে তিনটি গুলি করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তার পরিবার জানায়, উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
৬ দিন আগে
কুমিল্লায় নারী-শিশুসহ ৩ জনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
কুমিল্লার হোমনায় এক নারী ও দুই শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার ঘারমোড়া ইউনিয়নের উত্তর মনিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— সৌদি প্রবাসী জহিরুল ইসলামের স্ত্রী সুখী আক্তার, ছেলে হোসাইন (৪) এবং ভাই জোবায়েদ (৬)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। সকালে স্বজনরা রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে হোমনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এ বিষয়ে হোমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীনেশ দাশগুপ্ত বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে তাদের হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
৬ দিন আগে
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের ৪ সদস্যসহ ৫ বাংলাদেশি নিহত
সৌদি আরবে ওমরাহ করে বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের একই পরিবারের চারজনসহ মোট ৫ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা) আবহা নামক এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্বজনদের এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবর শুনে নিহতের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
নিহতরা হলেন— মিজানুর রহমান (৪২), তার স্ত্রী মেহের আফরোজ সুমি (৩০), দুই মেয়ে মোহনা (১৩), ও সুবাহ। তারা উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের পাঁচরুখি গ্রামের অসিম উদ্দিন ব্যাপারী বাড়ির বাসিন্দা ছিলেন। এ ঘটনায় তাদের আরও একটি মেয়ে ফাইজা আক্তার (১১) মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাদের পরিবারের লোকজন।
এছাড়া একই দুর্ঘটনায় গাড়িচালক একই উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের বিষ্ণুপুরের আবুল হোসেন পাটোয়ারীর ছেলে হোসেন মোহাম্মদ জিলানী ওরফে বাবর (৩০) নিহত হন।
মিজানুর রহমানের বড় ভাই বাহারুল আলম বলেন, আমার ছোট ভাই দীর্ঘদিন থেকে সৌদি আরবের আবহা শহরে হোটেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি তার স্ত্রী ও তিন মেয়েকে পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে নিয়ে যান।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দীন চৌধুরী জানান, বিষয়টি শুনেছি। মরদেহ দেশে আনার ব্যপারে সিদ্ধান্ত হলে পুলিশ সার্বিক সহযোগিতা করবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
৭ দিন আগে
চাঁদপুরে ৩৬ প্রার্থীর ২৫ জনই জামানত হারিয়েছেন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে ৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৫ জনই জামানত হারিয়েছেন।
নির্বাচনি বিধান অনুযায়ী, কোনো সংসদীয় আসনের প্রার্থী বৈধ ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। অর্থাৎ, কোনো প্রার্থী যদি মোট প্রদত্ত ভোটের ঐ নির্দিষ্ট অংশ (১২.৫ শতাংশ) পেতে ব্যর্থ হন, তবে নির্বাচনের আগে কমিশনের কাছে জমা দেওয়া নির্দিষ্ট অংকের টাকা (বর্তমানে বাংলাদেশে ২০,০০০ টাকা) আর ফেরত পাবেন না।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর জেলার ৫টি আসনের ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ৩৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৫ জনই নির্বাচন কমিশনের নির্ধারণ করে দেওয়া ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগ ভোটও পাননি। এমনও প্রার্থী আছেন যারা ১ হাজার ভোটও পাননি। ফলে তাদের জামানত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
চাঁদপুর জেলা জাতীয় পার্টি জেলার ৪টি আসনে অংশ নিয়ে মোট ভোট পেয়েছে ৩ হাজার ৭৪৬। গণফোরাম ৩টি আসনে পেয়েছে ৮৭৬ ভোট। সেই তুলনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৪টি আসনে পেয়েছে ৩৮ হাজার ৬৩০ ভোট।
অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট হওয়া বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চাঁদপুর জেলার ৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবার পেয়েছে ৭ হাজার ১৫৪ ভোট। ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল বাহাদুর শাহও চাঁদপুর-৫ আসনে জামানত হারিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের হিসাব মতে, চাঁদপুর জেলায় ভোটার সংখ্যা ২৩ লাখ ৩১ হাজার ১৯৫। এবারের নির্বাচনে জেলায় ভোট দিয়েছেন ৫৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ভোটার।
চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী মো. নাসির উদ্দিন, গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আজাদ হোসেন, জাতীয় পার্টির হাবিব খান ও গণঅধিকার পরিষদের মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন জামানত হারিয়েছেন। এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জামায়াতের প্রার্থী আবু নছর আশরাফীকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-দক্ষিণ) আসনে লেবার পার্টি মনোনীত প্রার্থী নাসিমা নাজনীন সরকার, রিপাবলিকান পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ ফয়জুন্নুর, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মোহাম্মদ গোলাফ হোসেন, নাগরিক ঐক্য মনোনীত প্রার্থী মো. এনামুল হক, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মানসুর আহমদ, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মো. এমরান হোসেন মিয়াও জামানত হারিয়েছেন। এই আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী মো. জালাল উদ্দিন ১১ দলীয় ছাতা প্রতীকের প্রার্থী (এলডিপি) মো. বিল্লাল হোসেনকে বিপুল ভোটে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর-হাইমচর) আসনে ইসলামী আন্দোলনে মনোনীত প্রার্থী (হাতপাখা) মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন শেখ, কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত প্রার্থী ও তরুণ নেতা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ও সাংবাদিক এএইচএম আহসান উল্লাহ, গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট সেলিম আকবর ও গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী ও সাংবাদিক মো. জাকির হোসেন জামানত হারিয়েছেন। এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়াকে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মালেক, গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ মুনির চৌধুরী, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহমুদ আলম, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মকবুল হোসাইন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন জামানত হারিয়েছেন। এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব এমএ হান্নান বিএনপির প্রার্থী লায়ন হারুনুর রশিদকে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনে ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ বাহাদুর শাহ, ইনসানিয়াত বিপ্লব মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মাদ মাহমুদ আলম, জাতীয় পার্টি মনোনীত মির্জা গিয়াস উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী পাটওয়ারী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেনও জামানত হারিয়েছেন। এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক এলডিপির নেয়ামুল বশিরকে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে এ এইচ এম আহসান উল্লাহ বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মোমবাতি প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন। জামানত হারানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামানত হারানোর কারণ হচ্ছে প্রার্থীদের দলগুলোর তৃণমূলে সাংগঠনিক কাঠামো নাই বা থাকলেও দুর্বল। তাই নির্বাচনে ভালো করা কঠিন। এক্ষেত্রে দলগুলোকে আগামীতে আরও বেশি সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় হতে হবে।
চাঁদপুরের সুশাসনের জন্যে নাগরিকের (সুজন) সভাপতি অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন বলেন, নিজেদের পরিচিতি ও অস্তিত্ব জানান দেওয়ার জন্য নির্বাচনে অনেকে প্রার্থী হন। আবার নির্বাচন কমিশনের শর্ত পূরণের জন্যেও দলের প্রার্থী হয়ে নিয়ম রক্ষা করেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের মতে, ছোট দলগুলোর জয়-পরাজয় বা জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়াটা তাদের জন্যে বড় বিষয় নয়। দলকে টিকিয়ে রাখতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাটাই বড়ো বিষয়। আবার দেখা গেছে, অনেকে নির্বাচনে দাঁড়ায় বটে, কিন্তু নির্বাচনের কয়েকদিন আগে পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষার জন্য সম্ভাব্য বিজয়ী দলের প্রার্থীর সঙ্গে আঁতাত করে হাত মেলায়।
৭ দিন আগে
চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আগুন
চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ফের আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে চাঁদপুর আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভবনের তৃতীয় তলায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
আগুনের খবর শুনে অনেক মানুষ ভিড় করে। একপাশে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও অন্যপাশে মানুষ থাকায় ওই সড়কে প্রায় ৩০/৪০ মিনিট যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১০টার দিকে হঠাৎ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের ওপরে কালো ধোঁয়া দেখা যাচ্ছিল। পরে তৃতীয় তলায় গিয়ে দেখা যায় আগুন জ্বলছে। আগুনের প্রচণ্ড তাপে কাছে যাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনার খবর পেয়ে চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
উল্লেখ্য, এর আগে ৫ আগস্টের ঠিক আগে ও পরে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়েছিল। এতে অফিসের সব কিছুই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে এখন কে বা কারা এ অগ্নিসংযোগ করেছে তা জানা যায়নি।
চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহাম্মদ ।
চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসেরর সহকারি উপপরিচালক সৈয়দ মোরশেদ আলম জানান, আগুনের খবর শুনে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। আগুন নিয়ন্ত্রনণ আনা হয়েছে। তবে কীভাবে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনও বলা যাচ্ছে না।
৯ দিন আগে