চট্টগ্রাম
কুমিল্লায় চালবোঝাই ট্রাক খাদে পড়ে ৭ শ্রমিক নিহত, আহত ৬
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে চালবোঝাইে একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৭ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬ জন।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে দাউদকান্দির হাসানপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন— দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিবপুর গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে সোহরাব হোসেন, আজাদ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আফজাল হোসেন ও ফজলুর রহমানের ছেলে সালেক; বিরামপুর উপজেলার ভাইঘর গ্রামের পলাশ মিয়ার ছেলে সুমন, একই গ্রামের বাসিন্দা বিষু, মাজহারুল ইসলামের ছেলে আবুল হোসেন ও রকিবুল্লার ছেলে আব্দুর রশিদ।
পুলিশ জানায়, আজ (মঙ্গলবার) ভোরে দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী চালবোঝাই একটি ট্রাক মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনের দাউদকান্দির হাসানপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের খাদে পড়ে যায়। এ সময় ট্রাকের ওপরে থাকা ১৩ জন শ্রমিক ট্রাক উল্টে এর নিচে চাপা পড়ে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, দুর্ঘটনার খবর শুনে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকের নিচ থেকে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করি। এছাড়া আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মরদেহগুলো দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। দুর্ঘটনার শিকার ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ঘটনার পর ট্রাকচালক বা সহকারী কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. এরশাদ হোসেন বলেন, আমরা রাত পৌনে ৩টার দিকে খবর পেয়ে আমাদের টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। সেখানে ট্রাকের নিচ থেকে ৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় আমরা ৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছি।
১৪ ঘণ্টা আগে
পাহাড়ে বর্ষবরণ উৎসবের বর্ণিল সূচনা
পাহাড়ে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ উৎসব। খাগড়াছড়িতে চাকমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ফুল বিজুর মধ্য দিয়ে এ উৎসবের সূচনা হয়েছে।
চেঙ্গী ও মাইনী নদী এবং আশপাশের ছড়া ও খালে ফুল উৎসর্গের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে চাকমাদের ফুল বিজু।
খাগড়াছড়ির খবংপুড়িয়া ও রিভারভিউ পয়েন্ট দিয়ে রবিবার (১২ এপ্রিল) ভোর থেকেই শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ দলবদ্ধভাবে নদীতে গিয়ে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল নিবেদনের মাধ্যমে এই উৎসবের সূচন করেন।
এ সময় রঙিন ফুলে সাজানো চেঙ্গী নদীর দুই তীর যেন উৎসবের বর্ণিল রূপ ধারণ করে। পুরনো বছরের দুঃখ-গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রতীক হিসেবেই ছিল এই আয়োজন।
ফুল পূজা দেখতে ও অংশ নিতে নদীর পাড়ে ভিড় করেন শত শত মানুষ। এ সময় ফুল পূজা পরিদর্শন করেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইয়ার সহধর্মিনী জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা জাকিয়া জিনাত বিথী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএন আবছারসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।
আগামীকাল বাংলা বছরের শেষ দিন চাকমাদের মূল বিজু। মূল বিজুর দিন পাহাড়ি পল্লীর ঘরে ঘরে নানা ধরনের সবজি মিশিয়ে রান্না করা হবে একধরনের সুস্বাদু নিরামিষ জাতীয় সবজি, যা ‘পাজন’ নামে পরিচিত।
পাজনের স্বাদই অন্যরকম। একেবারেই আলাদা। এই পাজনের সবজি দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। সঙ্গে থাকে নানা ফল, ঐতিহ্যবাহী ঘরে তৈরি পিঠা। সেদিন সবার দুয়ার খোলা থাকে। এ যেন পারস্পরিক সম্পর্কের সম্মিলন।
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পালিত হবে চাকমাদের ‘গইজ্জা পইজ্জা’ উৎসব। সেদিন হবে পাড়া পাড়া ঘুরে বেড়ানো। আর আনন্দ স্নাত উল্লাস।
২ দিন আগে
ফেনীতে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ, ক্লিনিক সিলগালা
ফেনীতে শহরের ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসকের ভুল অস্ত্রোপচারে নাঈমা আক্তার লিজা (২১) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ওই ক্লিনিক থেকে সংকটাপন্ন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর ক্লিনিকটি সিলগালা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
নিহত লিজা ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের সৌদি প্রবাসী মুজিবুল হকের স্ত্রী।
নিহতের স্বজনরা জানান, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) লিজার প্রসব বেদনা শুরু হলে প্রথমে তাকে লস্করহাটের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানকার এক নার্সের মাধ্যমে তাকে শহরের শহিদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে দ্রুত সিজারিয়ান অপারেশন করানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ অপারেশনের জন্য ২২ হাজার টাকায় চুক্তিও করা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে ওই ক্লিনিকে লিজার সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করেন ডা. নাসরিন আক্তার মুক্তা। অপারেশনের পরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের পর থেকেই লিজার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়, কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাতে গুরুত্ব দেয়নি। একাধিকবার জানানো হলেও বিষয়টি তারা স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যান। পরদিন তাকে কয়েক দফা রক্ত দেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। এরপর স্বজনরা তাকে ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
নিহতের স্বজন এমরান হোসেন বলেন, অপারেশনের পর থেকেই তার রক্তক্ষরণ হচ্ছিল, কিন্তু চিকিৎসকরা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক ও নার্সরা ক্লিনিক ছেড়ে চলে যান। আমাদের ধারণা, অপারেশনের সময় তার জরায়ু বা কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের খালা আক্তার বানু নামে বলেন, তাদের এমন অবহেলায় দুনিয়াতে আসার মাত্র ২০ ঘণ্টার মধ্যেই ছোট এই ছেলেটি এতিম হয়ে গেছে। বর্তমানে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানি না এই সন্তানের ভাগ্যে এখন কী আছে!
ফেনী জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল হাই হুমায়ুন বলেন, এমন ঘটনা দুঃখজনক। এর ফলে প্রকৃতপক্ষে যারা হাসপাতাল ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদেরও বদনাম হয়। ঘটনাটি জানার পর হাসপাতালের মালিককে কয়েকবার ফোন করেও সাড়া মেলেনি। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, প্রসূতির মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা ওই ক্লিনিক পরিদর্শন করেছি। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফেনী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মজিবুর রহমান বলেন, বেসরকারি ক্লিনিক এবং ল্যাবরেটরি নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-১৯৮২ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি বেশকিছু ধারা লঙ্ঘন করেছে। অনৈতিক ও বেআইনিভাবে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এসব অপরাধে সিভিল সার্জনের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আইন অমান্য করে প্রতিষ্ঠানটি চালু করার চেষ্টা করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, এর আগেও ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়েছিল। তবে শর্তসাপেক্ষে পুনরায় চালুর অনুমতি পেয়েছিল। এখন প্রাথমিকভাবে অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ গুরুত্বের সঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করছে। প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাঈমা আক্তার লিজা (২১) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ওই ক্লিনিক থেকে সংকটাপন্ন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর ক্লিনিকটি সিলগালা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
নিহত লিজা ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের সৌদি প্রবাসী মুজিবুল হকের স্ত্রী।
নিহতের স্বজনরা জানান, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) লিজার প্রসব বেদনা শুরু হলে প্রথমে তাকে লস্করহাটের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানকার এক নার্সের মাধ্যমে তাকে শহরের শহিদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে দ্রুত সিজারিয়ান অপারেশন করানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ অপারেশনের জন্য ২২ হাজার টাকায় চুক্তিও করা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে ওই ক্লিনিকে লিজার সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করেন ডা. নাসরিন আক্তার মুক্তা। অপারেশনের পরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের পর থেকেই লিজার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়, কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাতে গুরুত্ব দেয়নি। একাধিকবার জানানো হলেও বিষয়টি তারা স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যান। পরদিন তাকে কয়েক দফা রক্ত দেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। এরপর স্বজনরা তাকে ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
নিহতের স্বজন এমরান হোসেন বলেন, অপারেশনের পর থেকেই তার রক্তক্ষরণ হচ্ছিল, কিন্তু চিকিৎসকরা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক ও নার্সরা ক্লিনিক ছেড়ে চলে যান। আমাদের ধারণা, অপারেশনের সময় তার জরায়ু বা কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের খালা আক্তার বানু নামে বলেন, তাদের এমন অবহেলায় দুনিয়াতে আসার মাত্র ২০ ঘণ্টার মধ্যেই ছোট এই ছেলেটি এতিম হয়ে গেছে। বর্তমানে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানি না এই সন্তানের ভাগ্যে এখন কী আছে!
ফেনী জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল হাই হুমায়ুন বলেন, এমন ঘটনা দুঃখজনক। এর ফলে প্রকৃতপক্ষে যারা হাসপাতাল ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদেরও বদনাম হয়। ঘটনাটি জানার পর হাসপাতালের মালিককে কয়েকবার ফোন করেও সাড়া মেলেনি। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, প্রসূতির মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা ওই ক্লিনিক পরিদর্শন করেছি। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফেনী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মজিবুর রহমান বলেন, বেসরকারি ক্লিনিক এবং ল্যাবরেটরি নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-১৯৮২ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি বেশকিছু ধারা লঙ্ঘন করেছে। অনৈতিক ও বেআইনিভাবে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এসব অপরাধে সিভিল সার্জনের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আইন অমান্য করে প্রতিষ্ঠানটি চালু করার চেষ্টা করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, এর আগেও ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়েছিল। তবে শর্তসাপেক্ষে পুনরায় চালুর অনুমতি পেয়েছিল। এখন প্রাথমিকভাবে অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ গুরুত্বের সঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করছে। প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে আগুনে পুড়ে ছাই ৯ দোকান
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী ইউনিয়নের পাবলাখালী শান্তিপুর এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর মুহূর্তের মধ্যেই তা আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, আগুন লাগার পরপরই আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান, তবে ততক্ষণে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পরে খবর পেয়ে দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই ৯টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার পঙ্কজ কুমার বড়ুয়া জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এতে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী উৎপল দেওয়ান বলেন, ‘বৈসাবি, বিজু ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আমার কাপড়ের দোকানে প্রায় দেড় লাখ টাকার নতুন মালামাল তুলেছিলাম। রাতে দোকান বন্ধ করে বাসায় যাওয়ার পর আগুনের খবর পেয়ে এসে দেখি আমার দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে আমার প্রায় দুই থেকে তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
চা ও ফটোকপি দোকানদার সুরেশ চাকমা জানান, ‘আমি সকালে খবর পেয়ে এসে দেখি, আমার দোকানের কিছুই অবশিষ্ট নেই, সবকিছু পুড়ে গেছে।’
স্থানীয়দের মতে, অগ্নিকাণ্ডে ৯টি দোকানে মোট ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ আজ সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা হঠাৎ করেই ঘটে এবং এতে ব্যাপক ক্ষতি হয়। বর্তমানে শুকনো মৌসুম চলায় সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।’
৩ দিন আগে
চট্টগ্রামে শপিং কমপ্লেক্সে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট
চট্টগ্রাম মহানগরীর ষোলশহরের দুই নম্বর গেট এলাকার চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্সের নিচ তলায় আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, মার্কেটের নিচ তলায় একটি কাপড়ের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন এখনও পুরোপুরি নেভানো যায়নি। আগুন লাগার খবর পেয়ে নগরীর আগ্রাবাদ বাকলিয়াসহ তিনটি স্টেশন থেকে পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভাতে কাজ করছে।
তিনি আরও বলে, ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনে সূত্রপাত হয়েছে। প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে ফায়ার সার্ভিস এখনও কাজ করছে। অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতি তদন্ত করে পরে জানানো হবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।
৩ দিন আগে
চাঁদপুরে দেড় লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ, ৫ জেলেকে কারাদণ্ড
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় জাটকা ধরার অপরাধে ৫ জেলেকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত কারাদণ্ড দিয়েছেন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে হাইমচর উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও কোস্ট গার্ড যৌথভাবে অংশ নেয়। এ সময় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়।
আটক জেলেদের সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ২০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। পরে তাদের হাইমচর থানা পুলিশের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের চরফতেজংপুর গ্রামের আরশাদ (৩২), আব্দুল কাদির (২০), মো. শাহাদাত হোসেন (৩৩), লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের শরীফ বকাউল (২৭) ও মো. সবুজ (৩২)।
৫ দিন আগে
বৈসাবিকে স্বাগত জানিয়ে খাগড়াছড়িতে বর্ণিল আয়োজন
পাহাড়জুড়ে উৎসবের আমেজ। পুরোনো বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণ করে নিতে রঙ, সুর আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’র আয়োজন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের সূচনা হয়।
জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শান্তির প্রতীক পায়রা ও রঙিন বেলুন উড়িয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। এ সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
শোভাযাত্রাটি জেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে টাউন হল প্রাঙ্গণে গিয়ে এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় মিলিত হয়। পাহাড়ি ও বাঙালি—সব সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এটি পরিণত হয় উৎসবের এক অনন্য বহির্প্রকাশে। ঐতিহ্যবাহী পোশাক, রঙিন অলংকার আর বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে হাজারো নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী ও শিশু-কিশোর অংশ নেয় এই আনন্দযাত্রায়।
৭ দিন আগে
অকটেন না পেয়ে ট্যাগ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ
খাগড়াছড়িতে অকটেন না পাওয়ায় ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তাকে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দিয়েছে কয়েকজন যুবক।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে জেলা সদরের মহাজন পাড়া এলাকায় মেহেরুন্নেছা ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ট্যাগ কর্মকর্তা হেমন্ত চাকমা খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মচারী।
স্থানীয়রা জানান, খাগড়াছড়ি পৌর শহরের মেহেরুন্নেছা ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে জ্বালানি তেল বিতরণ শুরু হয়। এ সময় ৫০০ টাকার অকটেন বিতরণ করা হলেও কয়েকজন যুবক প্লাস্টিকের বোতলে অতিরিক্ত অকটেন দাবি করেন। তবে হেমন্ত চাকমা সরকারি নির্দেশনা মেনে অতিরিক্ত তেল দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এ ঘটনার পর যুবকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে দুপুরে মহাজন পাড়া এলাকায় দুপুরের খাবার খেতে এটি হোটেলে গেলে ওই যুবকরা হেমন্ত চাকমাকে সেখান থেকে বের করে লাঠিসোঠা দিয়ে হামলা চালিয়ে হাত ভেঙ্গে দেয়। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা তাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারিয়া সুলতানা জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
৭ দিন আগে
তনু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে কুমিল্লা আদালতে তলব
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই, ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলামকে আজ সোমবার কুমিল্লার আদালতে তলব করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ ১০ বছরেও বিচার না হওয়া এ মামলায় নতুন করে আশার আলো দেখছে তনুর পরিবার।
মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে সম্প্রতি কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে পিবিআইকে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) চিঠি দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৬ এপ্রিল) তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে মামলার তদন্তের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা রয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, আদালত মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। তবে এখনই মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) কিংবা চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দেওয়া হচ্ছে না। আদালতে গিয়ে মামলার তদন্তের কিছু বিষয়ে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরব। এখন এর বেশি কিছু মন্তব্য করা যাচ্ছে না।
সর্বশেষ গত বছরের ৭ এপ্রিল বিকালে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ওই তদন্ত কর্মকর্তা। সে সময় পিবিআইয়ের তদন্ত দল মামলার বাদী তনুর বাবা, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেনের সঙ্গে তার অফিসে গিয়ে কথা বলেন। মো. তরিকুল ইসলাম এ মামলার ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন নিহতের বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
শুরুতে থানাপুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। পরে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পান পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
মামলার বাদী তনুর বাবা বলেন, মেয়ে হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পার হয়েছে। এ পর্যন্ত অসংখ্যবার সেনানিবাস এলাকা, কুমিল্লা পুলিশ অফিস ও ঢাকার বিভিন্ন দপ্তরে স্বাক্ষ্য দিয়েছি, কিন্তু কোনো ফলাফল পাইনি। তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেছেন আজ আদালতে থাকতে। আমি আদালতে যাব। মরার আগে নতুন সরকারের কাছে মেয়ে হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।
৮ দিন আগে
চট্টগ্রামে দুই গ্রুপের গোলাগুলি: শিশুসহ আহত ৪, আটক ৫
চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়ায় সন্ত্রাসীদের দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে ফাহিম (১২) নামে এক শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৫ এপ্রিল) মধ্যরাতে মহানগরীর বাকলিয়া থানার মিয়াখান নগর ময়দারমিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সিএমপি বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, ময়দার মিল এলাকায় ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ফাহিমসহ কয়েকজন আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
গোলাগুলিতে আহত শিশু ফাহিম ময়দার মিল এলাকার পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা মো. কালামের ছেলে। তার মা জোসনা জানান, সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে সে গুলিবিদ্ধ হয়। বর্তমানে ফাহিম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা স্থিতিশীল এবং পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, ফাহিমের হাঁটুর নিচে গুলির আঘাত রয়েছে। অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। তবে তার প্রাণের আশঙ্কা নেই।
এ ঘটনায় ফাহিম ছাড়াও মো. হাসান, জসিম ও ইসমাইল মিয়া নামে আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিক মিয়া বলেন, কয়েকদিন ধরেই ময়দার মিল এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সাধারণ মানুষ এ ধরনের সহিংসতার শিকার হচ্ছে। তার দাবি, প্রশাসন যেন দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার করে।
স্থানীয়রা জানান, গোলাগুলিতে জড়িত দুই গ্রুপই সরকার দলীয় বিএনপি-সমর্থিত সন্ত্রাসী।
পুলিশ জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী মোরশেদ খানের অনুসারীরা প্রতিপক্ষ আব্দুস সোবাহান ও শওকতের অনুসারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান তারা। মোরশেদ খান নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত ৩০০ সন্ত্রাসীর মধ্যে তার নাম রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মোরশেদ খান এলাকায় ফিরে আসেন। এর আগে তিনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন। এলাকায় ফিরে আসার পর তার প্রতিপক্ষ সোবাহান ও শওকত তাকে মারধর করে এলাকাছাড়া করেন। এই ঘটনার জেরে গতকাল (শনিবার) তার অনুসারীরা প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালান। হামলায় প্রতিপক্ষের কেউ আহত না হলেও সাধারণ মানুষ আহত হন বলে দাবি পুলিশের।
নগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া জানান, অভিযানে ফারুক হোসেন নামে এক ব্যক্তির বাসা থেকে একটি শটগান ও দুটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযানের খবর পেয়ে তিনি পালিয়ে যান। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
৯ দিন আগে