চট্টগ্রাম
কুমিল্লায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে, আহত ৮
কুমিল্লার চান্দিনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এভার গ্রীন নামে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে উল্টে গেছে। এতে অন্তত ৮ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে চান্দিনা উপজেলার কেরণখাল ইউনিয়নের কুড়েরপার এলাকায় ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা ও পুলিশ জানায়, কক্সবাজার বাস টার্মিনাল থেকে ২৫ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। পথিমধ্যে মহাসড়কের চান্দিনা কুড়েরপার এলাকার একটি ব্রিকফিল্ডের সামনে পৌঁছালে দ্রুতগতির বাসটি ব্রেক ফেল করে নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং সড়কের পাশের খাদে উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন এবং আহতদের উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
বাসের যাত্রী আব্দুর রহমান জানান, ‘কক্সবাজার থেকে ছাড়ার পর চট্টগ্রাম অংশেই সাতকানিয়া এলাকায় বাসটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে চান্দিনা পৌঁছালে গাড়িটির ব্রেক আবারও অকার্যকর হয়ে পড়ে, যার ফলে চালক আর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। ফলে বাসটি খাদে পড়ে অন্তত ৮ জন যাত্রী আহত হয়।’
বাসের সুপারভাইজার মাশরাফি জানান, সাতকানিয়া এলাকায় বাসের একটি চাকা পাংচার হয়েছিল। সেখানে চাকা পরিবর্তন করার পর যাত্রা শুরু করলেও কুড়েরপার এলাকায় এসে হঠাৎ ব্রেক ফেল করায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। তিনি আরও জানান, বাসটিতে যাত্রী ছিল ২৫ জন।
ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফারুক হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই হাইওয়ে পুলিশ ও চান্দিনা ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
১ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রামে পরিত্যক্ত কটেজ থেকে অপহৃত ব্যবসায়ী উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৮
চট্টগ্রামে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জে মহামায়া লেক এলাকায় বন বিভাগের পরিত্যক্ত কটেজ থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন পাঁচলাইশ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক।
উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগী মো. হেলাল উদ্দিন (৩৬) হাটহাজারী এলাকার বাসিন্দা এবং পাঁচলাইশ থানার শুলকবহর রওশন বোর্ডিং সংলগ্ন একটি গাড়ির গ্যারেজ পরিচালনা করেন।
অন্যদিকে মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. আবুল হাশেম (৫২) ছাড়াও ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় আকরাম (৩৪), শান্ত মিয়া (৩২), মঈন উদ্দিন রায়হান (২৯), আমজাদ হোসেন (৩৫), মাহবুব রহমান (২৬), মানিক হোসেন (৩০) ও মো. ফারুককে (৩৪) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আবুল হাশেম ভুক্তভোগী হেলাল উদ্দিনের পূর্বপরিচিত ও ব্যবসায়িক অংশীদার। তিনি ৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। এর মধ্যে ৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা হেলাল বিভিন্ন সময়ে পরিশোধ করেন। অবশিষ্ট ৪ লাখ ৬৯ হাজার টাকা নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। পাওনা টাকা আদায়ের জন্য আবুল হাশেম বেশ কিছুদিন ধরে হেলালকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
এর ধারাবাহিকতায় গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে আবুল হাশেমসহ কয়েকজন শুলকবহর রওশন বোর্ডিংয়ের সামনে যান। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে হেলাল উদ্দিনকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর সকালে হেলালের মোবাইল নম্বর থেকে স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে ফোনে করে অপহরণকারীরা ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। টাকা না দিলে হেলালকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর আবার ফোন করে এক লাখ টাকা পাঠাতে বলা হয়।
এ ঘটনায় জেসমিন আক্তার ওই দিনই দণ্ডবিধির ৩৬৫, ৩৮৫, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় মামলা করলে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ তদন্তে নামে। পরে পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের সহায়তায় গতকাল (বুধবার) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আকবরশাহ থানার উত্তর কাট্টলী এলাকা থেকে শান্ত মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচলাইশের মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আবুল হাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আকবরশাহ থানার লতিফপুর এলাকা থেকে আকরামকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার হেফাজত থেকে হেলাল উদ্দিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার শান্ত ও আকরামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, হেলালকে জোরারগঞ্জের মহামায়া লেক এলাকায় রাখা হয়েছে। এরপর আজ (বৃহস্পতিবার) ভোরে মীরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় ওই এলাকায় বন বিভাগের একটি পরিত্যক্ত কটেজে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মঈন উদ্দিন রায়হান, আমজাদ হোসেন, মাহবুব রহমান, মানিক হোসেন ও ফারুককে গ্রেপ্তার এবং হেলাল উদ্দিনকে উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ব্যবসায়িক পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে হেলালকে অপহরণের কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। আবুল হাশেম ও আকরাম মিলে শান্ত মিয়াকে এক লাখ টাকা দিয়ে অন্যদের ভাড়া করে অপহরণে সম্পৃক্ত করেন বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
২৩ ঘণ্টা আগে
সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে কুবিতে মানববন্ধন
সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
তাদের দাবি, ভাইভার নম্বর বাড়ানো হলে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মানববন্ধনে এই সিদ্ধান্ত বালিত না করলে কঠিন আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে মানববন্ধনের আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘কোটা গেছে যেই পথে, ভাইভা যাবে সেই পথে’, ‘ভাইভার নামে দলীয়করণ—বন্ধ কর, করতে হবে’, ‘ভাইভা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘দোয়েল, কোয়েল, ময়না, টিয়া—ভাইভায় এসো ঘুষ নিয়া’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে উদ্দেশ্য করে ‘ছি ছি ধিক্কার—জাহেদ তুই চাটুকার’ বলেও স্লোগান দিতে দেখা যায়।
মানববন্ধনে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী বায়েজিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা জুলাই আন্দোলনের কথা না ভুললেও আমাদের সরকার হয়তো ভুলে গেছে। মানুষ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়, কিন্তু আমরা দেখতে পারছি, বর্তমান সরকার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। যে জুলাই অভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল কোটা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, আবার তা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে সরকারি চাকরিতে বৈষম্য, সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ এবং ভাইবার নামে আবার কোটাকে ফেরানোর চেষ্টা করছে সরকার।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির ১৯৯০–১৯৯৬-এর ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, সরাসরি প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ ও সরকারি চাকরিতে হস্তক্ষেপ করার প্রথম প্রচেষ্টা চালায় তারা। আমি সরকারের উদ্দেশ্যে বলছি এসব বন্ধ করুন, তা না হলে পালানোর জায়গা পাবেন না।’
জাতীয় ছাত্রশক্তি কুবি শাখার সদস্যসচিব সৈয়দা নাজিফা নাফিল বলেন, ‘আমরা সব সময় বলে থাকি যে কোটা না মেধা—মেধা মেধা। কিন্তু এখন আমরা দেখছি যে কোটা আবার নতুনভাবে ফিরে আসছে। আজকে আমরা কারো নিজের সুবিধার জন্য এখানে আসিনি। সরকারের এই সিদ্ধান্ত এভাবে বাড়তে দিলে এক পর্যায়ে এই সরকার ফ্যাসিবাদের দিকে এগিয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যারা চব্বিশের আন্দোলন দেখেছি। এরপরও যদি আমরা না শুধরাই, আমাদের জন্য যা অপেক্ষা করছে, তা হবে আরও ভয়ংকর। তাই এই ব্যবস্থা প্রতিহত করা আমাদের দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্ব থেকেই আজকে আমি এখানে দাঁড়িয়েছি। আমাদের একটি ইচ্ছা থাকে যে পড়াশোনা করে দেশের জন্য কাজ করব কিন্তু এখন দেশের জন্য কাজ করার সেই পথটাই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই এখন আমাদের এই ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলা দরকার, প্রতিবাদ করা দরকার এবং যার যার জায়গা থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন।’
ফার্মেসি বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের বারবার যে কোনো বিষয় নিয়ে রাজপথে নামা লাগে, অথচ এই সরকার হওয়ার কথা ছিল জনগণের। কিন্তু সরকার হয়ে যায় তার নিজের দলের। এর থেকে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটা সরকার কীভাবে সবকিছুতে দলীয়করণ করে তা আশপাশে তাকালেই দেখতে পাবেন। এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নাই যেখানে দলীয়করণ করা হয়নি। আমরা তারেক সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই, ১৪০০ শহীদের রক্তের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশের যদি আবার ফ্যাসিবাদী কায়দা প্রতিষ্ঠা করতে চায়, সেটা আর কখনো হবে না। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা তা কখনোই মেনে নেবে না।’
কুবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে ভাইভা পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে মেধার অবমূল্যায়ন এবং দলীয় লোকদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার প্রতিবাদেই আজকের এই মানববন্ধন। আপনারা লক্ষ করেছেন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আমাদের প্রায় ১ হাজার ৪০০ ভাই শহীদ হয়েছেন। বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, যাদের অনেকে এখনও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অথচ তাদের সুস্থ হওয়ার আগেই তাদের রক্তের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় এসে সরকার আবারও বৈষম্যের পথ বেছে নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমরা সরকারকে স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে আমাদের এই প্রতিবাদ সারা বাংলাদেশে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়বে। আমরা আরও লক্ষ করছি, সরকার দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক কাঠামোকে দুর্বল করার মতো নানা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ভাইভা পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে মেধাবী শিক্ষার্থীদের চাকরি পাওয়ার জন্য রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দ্বারস্থ হতে হবে। আমরা মনে করছি, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে দলীয় ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের যে অপচেষ্টা চলছে, সরকারকে সেখান থেকেও ফিরে আসতে হবে। ভাইভা নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাহার করে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।’
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এক্ষেত্রে একাদশ ও দ্বাদশ গ্রেডের সরকারি চাকরিতে বর্তমানে ভাইভার নম্বর ১০, নতুন প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ৫০ নম্বর করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ত্রয়োদশ থেকে ষোড়শ গ্রেডের সরকারি চাকরিতেও বর্তমানে ভাইভার নম্বর ১০, প্রস্তাবিত বিধিমালায় তা বাড়িয়ে ৪০ নম্বর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সপ্তদশ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে বর্তমানে ভাইভার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ২৫ নম্বর করার কথা বলা হয়েছে।
২ দিন আগে
তিন সপ্তাহ পরও উদঘাটন হয়নি বীনা রাণী হত্যার রহস্য
কুমিল্লার চান্দিনায় ঘরে ঢুকে বীনা রাণী রায় (৫৮) নামের এক গৃহকর্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। কারা, কী কারণে ও কী উদ্দেশ্যে ওই নারীকে হত্যা করেছে, তা এখনও অজানা। মামলা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় হতাশা বাড়ছে নিহতের স্বজনদের।
গত ১৭ আগস্ট সন্ধ্যার পর উপজেলার বরকইট গ্রামে নিজ ঘরে ধর্মীয় আচার হিসেবে মালা জপছিলেন বীনা রাণী রায়। ওই সময় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ঘরে প্রবেশ করে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছোট ছেলে তাপস কুমার রায় বলেন, ‘কারা ও কেন আমার মাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। এ কারণে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেছি। কিন্তু প্রায় তিন সপ্তাহ হয়ে গেলেও এখনও মায়ের হত্যার রহস্য জানতে পারিনি। আদৌ জানতে পারব কি না, সেটাও বুঝতে পারছি না।’
স্বামী দিলীপ কুমার রায় জানান, তিনি অবসরপ্রাপ্ত ডাকঘর কর্মী। তাদের তিন ছেলে দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত থাকায় বাড়িতে শুধু তারা দুজনই থাকতেন। ঘটনার দিন রাত পৌনে ৮টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে যান। এ সময় তার স্ত্রী ঘরে বসে মালা জপছিলেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে লোকমুখে জানতে পারেন, তার স্ত্রীকে কে বা কারা পিটিয়ে আহত করেছে। খবর পেয়ে দ্রুত বাড়িতে ফিরে তিনি দেখতে পান, তার স্ত্রীর মাথা ফেটে রক্ত বের হচ্ছে এবং তিনি অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আমার স্ত্রী ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দিয়েছিল। সাধারণত পরিচিত ব্যক্তি ছাড়া রাতে সে দরজা খুলত না। কিন্তু হামলার পর ঘরের দরজা স্বাভাবিকভাবেই খোলা ছিল। দরজা বা অন্য কোথাও ভাঙচুরের চিহ্নও পাওয়া যায়নি। এ কারণে আমার ধারণা, পরিচিত কেউই তাকে হত্যা করেছে।’
নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বলছেন, ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাদের দাবি, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত কি না, হামলাকারীরা কীভাবে ঘরে প্রবেশ করল, হত্যার পেছনে কোনো পূর্বশত্রুতা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হোক।
কুমিল্লা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র সরকার বলেন, হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে না পারা এবং হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়া প্রশাসনের জন্য অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। সেই সঙ্গে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে তিনি অনতিবিলম্বে প্রকৃত হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘এ ঘটনা নিয়ে আমরা কাজ করছি, মামলাটির তদন্তের স্বার্থে এই মুহুর্তে বিস্তারিত কিছুই বলা যাচ্ছে না।’
২ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কনটেইনার গায়েবের অভিযোগ তদন্তে কমিটি
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে তিন কোটি টাকার কাপড়ের রোলভর্তি কনটেইনার গায়েবের অভিযোগে বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) প্রতিষ্ঠান এসআরএস সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এ কমিটি গঠন করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-২ বার্থে এমভি এমসিসি ডানাং জাহাজ কনটেইনার খালাস করে। ওই জাহাজে ৪০ ফুট এফসিএল কনটেইনারে সাভারের রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠান গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেডের ৬৬৮ বেল ফেব্রিকস আনা হয়।
কাস্টমস সূত্রে আরও জানা যায়, আমদানিকারকের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এসআরএস সিন্ডিকেট পণ্য খালাসের জন্য কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভারে গত ২২ আগস্ট বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। পরে কাস্টমস ও বন্দরের সব ধরনের রাজস্ব পরিশোধ করে ৩০ আগস্ট বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে কনটেইনারটি খালাসের জন্য গেলে বন্দর কর্তৃপক্ষ তা ডেলিভারি দিতে ব্যর্থ হয়।
এসআরএস সিন্ডিকেটের মালিক মো. হাফিজুর রহমানের অভিযোগ, ৩০ আগস্ট কনটেইনারটি ডেলিভারি নিতে গেলে বন্দর কর্তৃপক্ষ কনটেইনারটি নামিয়ে দিতে পারেনি। এরপর কয়েকদিন খোঁজাখুঁজি করে কনটেইনার না পেয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, গায়েব হওয়া কনটেইনারে প্রায় তিন কোটি টাকার কাপড় ছিল। এখন নির্ধারিত সময়ে কাপড়গুলো না পেয়ে গ্রাহকও বিপাকে পড়েছে। তারা নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হবে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, কনটেইনার গায়েবের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান।
২ দিন আগে
কক্সবাজারে ঘরে ঢুকে গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগ
মহেশখালীর হোয়ানকে ঘরে ঢুকে শিল্পী রানী শীল (৫০) নামের এক গৃহবধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার হোয়ানকের কালাগাজীর পাড়ায় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিল্পী শীল ওই এলাকার রবি শীল সওদাগরের স্ত্রী।
রবি শীলের ভাইপো নিকাশ শর্মা জানান, তার কাকা বাজারে দোকান করেন। কাকি বাড়িতে একা থাকেন। তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে শুনে দ্রুত বাড়িতে গিয়ে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানান, রবি সওদাগরের পরিবারের সঙ্গে কারো বিরোধ নেই। রবি ও শিল্পী দম্পতির সন্তানরা পড়াশোনার কারণে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় থাকেন।
নিজ বাড়িতে গৃহকর্ত্রী খুনের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জানতে চাইলে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস সুলতান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে মহেশখালী থানা পুলিশ। কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৩ দিন আগে
কুমিল্লায় মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের বাস খাদে, আহত ২০
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের একটি ভ্রমণ বাস খাদে পড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার জিংলাতলী এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতরা সবাই শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী। তারা বার্ষিক ভ্রমণে বরিশাল থেকে কক্সবাজারে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা ভ্রমণ বাতিল করে ফিরে গেছেন।
আহতরা হলেন: যাওয়াত, ফেরদৌস, কৌশি, মিরাজ, মুরসালিন, ইমন মৃধা, আরিফ, শফিকুল ইসলাম, মালিহা মেহনাজ, রায়হান, সাজিয়া, তাসপিয়া, আরিফুল ইসলাম, সামিউল, রাজর্ষি, তাসনীম, হুমায়রা, মিলা, নিসা ও তানজিনা।
এদের মধ্যে ৯ জনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নূর উদ্দিন বাহার বলেন, আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করি। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিতে মোট ৪০ জন ছাত্র ছিলেন। তাদের মধ্যে আহত হন ২০ জন। ৯ জনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
৩ দিন আগে
এক বছরেও শেষ হয়নি কুবি শিক্ষার্থী সুমাইয়া হত্যার বিচার
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন রিনথী ও তার মা তাহমিনা বেগম হত্যার এক বছর পূর্ণ হলেও এখনও শেষ হয়নি বিচারিক কার্যক্রম। আসামি গ্রেপ্তার ও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পরও মামলাটি এগোচ্ছে ধীরগতিতে। এ পর্যন্ত পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে। আরও চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ বাকি রয়েছে।
গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরের কালিয়াজুড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় সুমাইয়া ও তার মা তাহমিনা বেগমকে হত্যা করা হয়। পরদিন বিষয়টি জানাজানি হলে ওই দিনই অভিযুক্ত মোবারক হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ঝাড়ফুঁকের সূত্রে সুমাইয়ার পরিবারের সঙ্গে মোবারকের পরিচয় হয়। ঘটনার আগে এক মাস ধরে তিনি ওই বাসায় যাতায়াত করেন।
স্বীকারোক্তিতে মোবারক আরও জানান, সুমাইয়াকে ঝাড়ফুঁক করার সময় ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। বিষয়টি মা তাহমিনা বেগম দেখে ফেলায় প্রথমে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে সুমাইয়াকেও হত্যা করা হয়।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছেন সুমাইয়ার পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এক বছরেও বিচার শেষ না হওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
সুমাইয়ার সহপাঠী মেহেদি হাসান শাহিন বলেন, ‘আমাদের বান্ধবী সুমাইয়া ধর্ষণ ও হত্যার এক বছর হলেও এখনও কোনো দৃশ্যমান ফলাফল দেখা যায়নি। আমরা আশা করি, ধর্ষক যেন কোনোভাবেই ছাড় না পায়।’
আরেক সহপাঠী মুনিয়া আফরোজ বলেন, ‘পুরো একটা বছর শেষ হয়ে গেছে, সুমাইয়া ও তার মায়ের হত্যাকাণ্ডের। আদালতে তারিখের পর তারিখ পিছিয়েছে, কিন্তু এখনও কোনো রায় আমরা পাইনি। ভবিষ্যতে পাব কি না, তা নিয়েও সন্দিহান। তবুও আমরা বিচার বিভাগের ওপর ভরসা রাখতে চাই। দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানাই।’
সুমাইয়ার সহপাঠী হুমাইরা তাসনিম প্রমি বলেন, ‘আমরা প্রতিশোধ চাই না, কারও বিরুদ্ধে অন্যায় কিছু চাই না। আমরা শুধু চাই এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য সামনে আসুক এবং যারা দায়ী, তাদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’
সুমাইয়ার বড় ভাই মো. আল আমিনও দ্রুত বিচার পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘(আদালতের) পরবর্তী তারিখ আগামী মাসের ১৭ তারিখ। পরে আরও বিস্তারিত জানাতে পারব।’
নিহত পরিবারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহেল হোসাইন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পাঁচজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনটি শুনানি হয়েছে। আরও চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ বাকি রয়েছে। আগামী মাসের ১৭ তারিখ মামলার শুনানি রয়েছে। আশা করছি, এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম খুব দ্রুত শেষ হবে। ’
৩ দিন আগে
মাদকাসক্ত যুবকের অগ্নিসংযোগে পুড়ল ১১ পরিবারের ঘর
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগে সোহেল হোসেন নামের এক যুবককে সংঘবদ্ধ পিটুনি দিয়েছেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় ১১টি পরিবারের বসতঘর পুড়ে গেছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে রায়পুর উপজেলার বাসাবাড়ি এলাকার আশক আলী ব্যাপারি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মাদকের টাকা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সোহেলের প্রায়ই ঝগড়া হতো। তারই জেরে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি নিজের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ১১টি পরিবারের বসতঘর ও রান্নাঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
খবর পেয়ে রায়পুর ও লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে আগুন দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়রা সোহেল হোসেনকে আটক করে সংঘবদ্ধ পিটুনি দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আছেন।
লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রনজিত কুমার দাস আগুনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে মাদকাসক্ত যুবক সোহেল নিজের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ১১টি পরিবারের বসতঘর পুড়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে সংঘবদ্ধ পিটুনি দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
৫ দিন আগে
ফেনীতে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ডভ্যানে বাসের ধাক্কা, নিহত ৪
ফেনীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কাভার্ডভ্যানকে পেছন থেকে ইউনিক পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দেওয়ায় ৪ জন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া থানাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে পুরাতন মুহুরীগঞ্জ দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—চট্টগ্রামের কনফুলী এলাকার মৃত সফর আলীর ছেলে কাভার্ডভ্যান চালক আব্দুর আজিজ (৭০) ও কেরানীগঞ্জের পারগেন্ডারিয়া এলাকার সফি মিয়ার ছেলে বাসচালক আবুল হোসেন (৬২) ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর গ্রামের রসুল আহমেদের ছেলে মো. হোসেন (২৮) ও ইউনিক বাসের সুপারভাইজার ঝিনাইদহের শৈলাকুপা এলাকার শামীম হোসেন (৫৫)।
ফাজিলপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনাস্থলে একটি কাভার্ডভ্যান দাঁড়িয়ে ছিল। পরে সেটি সরানোর জন্য একটি লং ভেহিকেলের সহায়তা নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি ইউনিক পরিবহনের বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ডভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে কাভার্ডভ্যানের চালক ও সহকারী এবং ইউনিক বাসের চালকসহ চারজন গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার একটি মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. গোলাম নবী পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কাভার্ডভ্যানের চালক, সহকারী ও ইউনিক বাসের চালককে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আহত একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাদীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।
ফেনী ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু নোমান জানান, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাভার্ডভ্যান, ইউনিক বাস এবং লং ভেহিকেল হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
৬ দিন আগে