চট্টগ্রাম
পাহাড়ি ঢলে সেতু ধ্বসে রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের স্রোতের তোড়ে রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়কের চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের সুখবিলাস দুধপুকুরিয়া এলাকার রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এতে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
এরই মধ্যে শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাতে পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়কের গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজঘাট সেতু মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে একপর্যায়ে ভেঙে পড়ে। ফলে আজ শনিবার সকাল থেকে ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
বাঙ্গালহালিয়া সিএনজি সমিতির সাধারণ সম্পাদক লিটন দাশ এবং ওই সড়কে চলাচলকারী স্থানীয় সিএনজি চালক নুনু বাদশা ও মানিক জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি ছড়া ও নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পানির চাপ সহ্য করতে না পেরে দুধপুকুরিয়া এলাকার রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় পানির তীব্র স্রোতে ব্রিজঘাট সেতুও ভেঙে পড়েছে।
দুধপুকুরিয়া ব্রিজঘাট এলাকার বাসিন্দারা মো. তুষার এবং মো. টিপু বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এই এলাকায় পাহাড়ি ঢলের কারণে একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকায় মানুষের দুর্ভোগ কমছে না। তারা দ্রুত বেড়িবাঁধ পুনর্নিমাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সেতু সংস্কার বা নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানান।
সড়ক ও জনপদ বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বান্দরবান সওজ-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ পুনর্স্থাপনের জন্য আমাদের একটা টিম গাড়িসহ প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু ওই সড়কের বালাঘাটা ও স্বর্ণমন্দির এলাকায় সড়কে পানি থাকায় আমরা রওনা দিতে পারছি না।
১৮ ঘণ্টা আগে
১৫ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সকল পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা
সম্প্রতিক সময়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলায় অব্যাহত ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঝুঁকির আশঙ্কা সৃষ্টি হওয়ায় এবং বিদ্যমান আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে আগামী ১৫ই জুলাই পর্যন্ত সকল পর্যটন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই আদেশ জারি করা হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, উক্ত সময়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলার সকল পর্যটনকেন্দ্র, ঝর্না, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনসহ জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে, গত চার দিনের টানা বর্ষণে বান্দরবান জেলার জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বর্ষণের কারণে বান্দরবান-চট্টগ্রাম, বান্দরবান-রাঙ্গামাটি এবং বান্দরবান-কক্সবাজার সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়াও অভ্যন্তরীণ সড়কে যান চলাচল এবং নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের সূত্র অনুযায়ী, বান্দরবানের ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১০০ জন দূর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। দুর্গতদের জেলা প্রশাসন, বান্দরবান পৌরসভা, সেনাবাহিনী এবং বিজেবির পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের ত্রাণ সহায়তাসহ শুকনো ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
১ দিন আগে
চট্টগ্রামে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে আরও দুই শিশু নিহত
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে ২ শিশু নিহত হয়েছে। এ নিয়ে গত দুই দিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পানিতে ডুবে ৪ শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, আজ (শুক্রবার) বাঁশখালীর বাহারছড়া এলাকায় বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে যায় দুই শিশু মোহাম্মদ আশিক (৮) ও মো. মিরাজ (৬)।
বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম ইউনুছ জানান, বাহারছড়া ইউনিয়নের মধ্যম ইলশা গ্রামের আশিককে উদ্ধার করে বাঁশখালীর গুনাগরী বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একইদিনে ওই ইউনিয়নের রত্নপুর গ্রামের মেহের আলী বাড়ির প্রবাসী কামাল উদ্দিনের ছেলে মিরাজ নিখোঁজ হয়। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তাকে পানি থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। নিহত মিরাজ প্রবাসী কামাল উদ্দিনের ছেলে।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সহায়তা দেওয়া হবে।
এদিকে, গত দুই দিনে হাটহাজারী, আনোয়ারা ও সাতকানিয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে এক যুবদলকর্মীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনিকেত দাস (২) ও মো. ইশতিয়াক (৬) নামে দুই শিশুও রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, গতকাল (বৃহস্পতিবার) জেলার সাতকানিয়ার সাঙ্গু নদীর পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন আবদুল আলম (৩৫) নামে এক যুবদলকর্মী। পরে শুক্রবার ভোরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
হাটহাজারী পৌরসভার মোহাম্মদপুর এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায় শিশু অনিকেত। সে স্থানীয় বাসিন্দা আশিষ কুমার দাসের ছেলে।
একই দিন জেলার আনোয়ারা উপজেলায় বৃষ্টির জমে থাকা পানিতে ডুবে শিশু ইশতিয়াকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অনিন্দিতা। সে বরুমচড়া ইউনিয়নের নলদিয়া এলাকার মোহাম্মদ ইদ্রিসের ছেলে।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানায় , দুপুরে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে ইশতিয়াক নিখোঁজ হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অতিবৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকা একটি ডোবা-সংলগ্ন জমি থেকে তাকে উদ্ধার করেন। তাকে দ্রুত আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
১ দিন আগে
চট্টগ্রাম বোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত
বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতি অবনতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সকল জেলার আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠেয় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অন্যান্য শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন জেলা ব্যাতীত) অন্যান্য জেলার পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে।
আগামীকাল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।
চট্টগ্রাম বোর্ডের জেলাগুলো হলো— চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি।
এর আগে, চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন সব জেলার ৮ জুলাইয়ের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল।
টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। রাঙামাটি ও কক্সবাজারেও টানা ভারী বৃষ্টিতে অনেক এলাকা তলিয়ে গেছে।
১ দিন আগে
সাজেকে আটকে পড়া চার শতাধিক পর্যটক উদ্ধার
রাঙ্গামাটিতে টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সাজেক ভ্যালিতে আটকে পড়া পর্যটকদের মধ্য থেকে এ পর্যন্ত ৪৬১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আজ (শুক্রবার) দ্বিতীয় দফায় ৩১১ জন সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে সাজেক ত্যাগ করেছেন।
সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক ভ্যালিতে মোট ৫৬১ জন পর্যটক আটকা পড়েছিলেন। গতকাল প্রথম দফায় ১৫০ জন ও আজ সকাল ৯টায় দ্বিতীয় দফায় আরও ৩১১ জন পর্যটক সেনাবাহিনীর এসকর্টে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। অবশিষ্ট প্রায় ১০০ জন পর্যটকদেরও পর্যায়ক্রমে নিরাপদে সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।
গতকাল বিকেলে মাচালং বাজার, সীমানাছড়া ও বাঘাইহাট বাজার এলাকায় নৌকা দিয়ে পার করে এরপর সড়ক পথে তাদের নিরাপদ গন্তব্যে পাঠানো হয়। সেনাবাহিনীর বিশেষ উদ্যোগে পানিতে ডুবে থাকা সড়কগুলোতে নৌকা ও ভেলার মাধ্যমে পর্যটকদের পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়।
কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জানান, আটকে পড়া পর্যটকদের বিনা ভাড়ায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে শুধু পানির বিল নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির স্বাভাবিক জনজীবন। পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিচ্ছে জেলা প্রশাসন। এ পর্যন্ত পুরো রাঙ্গামাটি জেলায় ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৫২৪ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
অন্যদিকে, বন্যা পরিস্থিতির কারণে বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি ও জুরাইছড়িতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমিসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে কয়েক হাজার বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যসংকটে মানুষ ভুগছেন।
এছাড়া রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম ও কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সেখানে যেকোনো সময় নতুন করে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস।
১ দিন আগে
ভারী বর্ষণ: সাজেকে আটকা পড়েছে ৫ শতাধিক পর্যটক, রাঙ্গামাটির আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ছুটছে মানুষ
টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির স্বাভাবিক জনজীবন। পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিচ্ছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত পুরো রাঙ্গামাটি জেলায় ৩৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৪ হাজার ২৬৫ জন মানুষ আশ্রয়গ্রহণ করেছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টানা পাঁচ দিনের বর্ষণে পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙ্গামাটিসহ উপজেলাগুলোর সড়কের বিভিন্ন অংশ ভাঙনসহ অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।
এরই মধ্যে রাঙ্গামাটি সদর মগবান ইউনিয়নে দলমনি চাকমা নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল (বুধবার) নদী পার হতে গিয়ে ভেসে যান তিনি। অন্যদিকে, বিলাইছড়িতে বহিরাগত এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ রয়েছেন।
জেলাজুড়ে ভারী বর্ষণ এবং প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতি বিরাজমান থাকায় জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এদিকে, টানা পাঁচ দিনের বর্ষণে পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা, লংগদু-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন অংশ এবং বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী ও পৌর এলাকার উগলছড়ি সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে করে সাজেকে আটকা পড়েছে প্রায় ৫ শতাধিক পর্যটক।
২ দিন আগে
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিজের স্ত্রী-সন্তানকে ‘জবাই করে হত্যা’
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তার স্ত্রী ও ৫ বছর বয়সী ছেলেকে জবাই করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাদের আরেক ছেলে গুরুতর আহত হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি এ পলাতক রয়েছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কুতুপালং ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-৬ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা এহেসামুল হকের (৩৭) স্ত্রী শহীদ নুর ওরফে সুফিয়া (৩০) এবং শিশু সন্তান মোহাম্মদ শামীম (৫)। এ ঘটনায় আহত হয়েছে তাদের বড় ছেলে মোহাম্মদ আফছার ওরফে বাপ্পী (১৪)।
কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি মোহাম্মদ হুসাইন জানান, গতকাল (বুধবার) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পারিবারিক কলহের জেরে রোহিঙ্গা এহেসামুল হক ও তার স্ত্রী শহীদ নুর ওরফে সুফিয়ার মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে এহেসামুল হক ধারালো দা দিয়ে তার স্ত্রী এবং দুই ছেলে শামীম ও বাপ্পীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে গুরুতর জখম করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার স্ত্রী ও ছোট ছেলে নিহত হয়।
গুরুতর আহত বড় ছেলে বাপ্পীকে স্থানীয় রোহিঙ্গাদের সহায়তায় কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত এহেসামুল হক পালিয়ে গেছেন বলে জানান তিনি।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, বুধবার দিবাগত রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একই পরিবারের দুই সদস্য নিহতের ঘটনায় মরদেহ উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারের পরে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
২ দিন আগে
পাহাড়ি ঢলে কাঁপছে ফেনীর তিন নদী, নির্ঘুম রাতে লাখো মানুষের চোখ বেড়িবাঁধে
আকাশে মেঘের ঘনঘটা আর ভারতের ত্রিপুরা থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে ফেনীর তিন নদী—মুহুরী, কহুয়া আর সিলোনীয়ায় এখন প্রলয়নাচন। প্রতিবছর এই তিন নদী তীরবর্তী মানুষের বুকে যে আতঙ্কের ক্ষত তৈরি হয়, তা যেন আরও একবার তাজা হয়ে উঠেছে। ক্রমাগত বাড়তে থাকা পানির তোড়ে রাত পোহালেই তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় এখন নির্ঘুম রাত কাটছে পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার নদীপাড়ের লাখো মানুষের। তাদের চোখ এখন ত্রাসের কারণ হয়ে ওঠা বেড়িবাঁধের দুর্বল পয়েন্টগুলোতে।
জেলা আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে।
২ দিন আগে
লামায় টানা ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে ঘুমন্ত শিশুসহ নিহত ৫
টানা চার দিনের ভারী বর্ষণের ফলে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় পাহাড় ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় এক শিশুসহ দুই পরিবারের ৫ জন নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি মিশন পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— মো. ইউনুছ (২৮), তার স্ত্রী রানু আক্তার (২২) ও চার বছরের ছেলে মো. সোলেমান এবং অপর পরিবারের মো. জুয়েল ( ২৭) ও তার স্ত্রী কুলসুমা আক্তার (২৩)।
অন্যদিকে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলা শহরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের এক হাজার ঘরবাড়ি প্লাবিত ও পাহাড় ধসে পড়ে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। এছাড়া লামা-আলীকদম সড়কের কেয়ারারঝিরি, রেপারপাড়া আবাসিক ও লাইনঝিরি এলাকা ঢলের পানিতে ডুবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এ ছাড়াও, টানা ভারী বর্ষণে বিভিন্ন ইউনিয়নে চলতি মৌসুমের বীজতলা এবং বিভিন্ন ফসলাদি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সড়কের উপর পাহাড় ধসে পড়ে, সড়ক ধসে ও ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়ে অভ্যন্তরীণসহ লামা-আলীকদম সড়ক যোগযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, উজান থেকে নেমে আসা সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের পানি পৌর এলাকাসহ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের নিচু এলাকায় ঢুকে পড়ে। এতে ওইসব এলাকার ঘরবাড়ি, দোকানপাট, সরকারি-বেসরকারি কার্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়।
মাতামুহুরী নদী, লামা খাল, বমু খাল, ইয়াংছা খাল, বগাইছড়ি খাল, ও পোপা খালসহ বিভিন্ন স্থানের পাহাড়ি ঝিরিগুলোতে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে বিভিন্ন পেশাজীবির প্রায় ১২ হাজার মানুষ। কর্মহীন হয়ে বেকায়দায় পড়েছে ওইসব এলাকার শ্রমজীবি মানুষগুলো।
গত মঙ্গলবার সকাল থেকে শহরের দোকান ও ঘরবাড়ির মালামালসহ গৃহপালিত পশু নিরাপদে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে বন্যা আক্রান্তরা।
এদিকে, প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসে প্রাণহানির আশঙ্কায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদে আশ্রয় নিতে বিভিন্ন মাধ্যমে মাইকিং শুরু করে উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলো। এর পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা আশিকার উদ্যোগেও দুর্যোগ আগাম বার্তা ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দুর্যোগকবলিতরা আশ্রয় নিতে ৫৫ বিদ্যালয়কে অস্থায়ী আশ্রয়ন কেন্দ্র হিসেবে খুলে দেয় প্রশাসন। এতে কয়েকশ পরিবার আশ্রয়ন নিয়েছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর নাগাদ মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হয়।
টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে ভয়াবহ বন্যাসহ পাহাড় ধসে আরও মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন আজিনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, অব্যাহত ভারী বর্ষণের ফলে আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়ায় আজ ভোর ৪টার দিকে পৃথকভাবে আচমকা পাহাড় ধসে মো. ইউনুছ ও জুয়েল এর বসত ঘরের ওপর পড়ে।
খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করেন। কিন্তু ততক্ষণে দুই পরিবারের ঘুমন্ত ৫ সদস্য নিহত হন।
এর আগে, রাত দেড়টার দিকে ইউনিয়নের উত্তর পাড়ায় আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রেহানা বেগমের ঘরে পাহাড় ধসে পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক জানান, তার ইউনিয়নে ৫০টির মতো ঘরবাড়ি পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানান, পাহাড় ধসে ৫০টি ও ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে ১০০ ঘরবাড়ি। পানিবন্দি হয়েছে ১ হাজার পরিবার।
ফাসিয়াখালী ইউনিয়নে ব্যাপক হারে পাহাড় ধসে ঘরবাড়ি ও রাস্তা ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয় বলে জানান ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জিয়াবুল হক।
এছাড়া গজালিয়া, সরই, রুপসীপাড়া ইউনিয়নেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে জানা গেছে।
পাহাড় ধসে পাঁচজন নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কাইছার হামিদ বলেন, পাহাড় ধসে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক।
এ বিষয়ে লামা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, টানা বর্ষণের শুরুতেই ঢলের পানিতে ও পাহাড় ধসের ঝুঁকিপূর্ণ পৌরবাসিদের যথাসময়ে নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়। শুধু তাই নয়, বাড়ি বাড়ি গিয়েও তাগাদা দেওয়া হয়। এরপরেও পাহাড় ধসে আজিজনগরের মিশন পাড়ায় শিশুসহ ৫ জন নিহত ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে এক হাজারের মত দোকানপাট-ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রসহ বন্যাকবলিতদের মাঝে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হয়। মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল না থাকায় ও রাস্তা-ঘাট ভেঙে তছনছ হওয়ার কারণে আজ পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি।
৩ দিন আগে
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে নিহত বেড়ে ৮
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারী বৃষ্টির মধ্যে পাহাড় ধসে একটি মাদরাসার শিক্ষকসহ আটজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাব-ব্লক এ-৩ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন—উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৩-এর বাসিন্দা আব্দুস শুক্কুরের দুই মেয়ে উম্মে নেছাত (১৩) ও উম্মে সালমা (১১), রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর বাসিন্দা হাশিম উল্লাহর মেয়ে কাওসনা (১১) এবং মাদরাসার শিক্ষক শামসুল আলম।
উখিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, টানা বৃষ্টির মধ্যে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে মাদ্রাসার ছাদের ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়রা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আরও কয়েকজনকে উদ্ধার করেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
রোহিঙ্গা মাঝি ইলিয়াস মিয়া জানান, আজ সকাল থেকেই টানা ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর একটি সাব-ব্লকে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনায় একটি মাদরাসার অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আটকা পড়েছিল। স্থানীয় রোহিঙ্গারা তাদের উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, পাহাড় ধসে আটকা পড়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের উদ্ধারকাজ চলছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হলে ক্ষয়ক্ষতি ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
এ ঘটনার তিন দিন আগে, গত ৬ জুলাই ভোরে জেলার বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিজনিত পৃথক পাহাড়ধসে দুই পরিবারের সাত সদস্যসহ মোট নয়জন নিহত হন।
সর্বশেষ এ ঘটনা মিলিয়ে তিন দিনে কক্সবাজার জেলায় পৃথক পাহাড়ধসে মোট ১৭ জনের মৃত্যু হলো।
৩ দিন আগে