চট্টগ্রাম
শিশুকে উত্ত্যক্ত করে টিকটকে ভিডিও, যুবক আটক
ফেনীতে টিকটক ভিডিও বানানোর সময় ছয় বছরের এক মেয়ে শিশুকে উত্যক্ত, হাত ধরে টানাটানি এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মোজাম্মেল হোসেন প্রকাশকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় তাকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় তিন যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
আটক মোজাম্মেল হোসেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মৈশাইল এলাকার মনির হোসেনের ছেলে। তিনি পরিবারের সঙ্গে ফেনী সদর উপজেলার উত্তর সিলোনিয়া মাদানিয়া মাদরাসা-সংলগ্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন পশ্চিম সিলোনিয়া এলাকার মৃত জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে সালমান (২০) এবং যাত্রাসিদ্ধি এলাকার মনির আহাম্মদের ছেলে মাহফুজ (১৯)।
পুলিশ জানায়, গত ২৮ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার গোবিন্দপুরে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে উত্ত্যক্ত করে ওই তিন যুবক। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। পরে সন্ধ্যায় শহরতলীর লালপোল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শিশুটি স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন যুবক তার পথরোধ করেন। তাদের মধ্যে দুজন শিশুটির হাত ধরে টানাটানি ও অশালীন আচরণ করেন। তারা শিশুটিকে শ্লীলতাহানি ও উত্ত্যক্ত করে। অপর একজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে পরে টিকটকে পোস্ট করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পরদিন শিশুটি তার বাবাকে পুরো ঘটনা জানায়। পরে ৩০ জুলাই সকালে স্বজনদের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি দেখে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত করে শিশুটির বাবা ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে শিশুটি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এবং প্রায়ই কান্নাকাটি করছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এ ব্যাপারে ফেনী মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে এক শিশুকে উত্ত্যক্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের নজরে আসে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত মোজাম্মেল হোসেনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন।
ওই মামলায় আটক যুবককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এছাড়া অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
১ দিন আগে
তিন মামলায় ডেভিড ইমন ও সহযোগীরা কারাগারে
ভারতের পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোর সীমান্তে আটক চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন ও তার ৩ সহযোগীকে ফটিকছড়ি থানার তিনটি পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলাগুলোর মধ্যে দুটি অস্ত্র আইনের এবং একটি হত্যা মামলা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ সায়মা আফরিন হিমার আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সেশন জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের ফটিকছড়ি থানার তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে দুটি অস্ত্র মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ডেভিড। একটি মামলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে দায়ের করা হয়েছিল এবং অপরটি আজ বৃহস্পতিবার দায়ের করা হয়।
তিনি আরও বলেন, অপর মামলাটি একটি হত্যা মামলা। ওই মামলার অন্য এক আসামির আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ডেভিড ইমনের নাম উঠে আসে। এ কারণে তাকে এজাহারবহির্ভূত সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী আরও বলেন, শুনানির সময় ডেভিড ইমনের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়া এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোনো মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ওসি (প্রসিকিউশন) হাবিবুর রহমান বলেন, ডেভিড ইমনকে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রবিবার তাকে রিমান্ডে নিতে আদালতে আবেদন করা হবে।
এদিকে, বুধবার রাতে মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি ভারতীয় আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে জেলা পুলিশ।
পুলিশের দাবি, শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর পরামর্শে তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ওপারে তাকে গ্রহণ করার জন্য লোকজনও প্রস্তুত ছিল।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
তিনি বলেন, পুলিশের তৎপরতার খবর পেয়ে ডেভিড ইমন দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করেন। বুধবার সকাল ৬টার দিকে তার সীমান্ত পার হওয়ার কথা ছিল। তবে তার আগেই যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। তার কাছ থেকে ভারতের আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আরও তথ্য জানানো হবে।
গতকাল বুধবার ভোরে যশোরে যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার হন ডেভিড ইমন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তিনি চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
২ দিন আগে
চট্টগ্রামে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পিছিয়েছে
আগামী আগস্টে চট্টগ্রামে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও বন্যা পরিস্থিতি এবং এইচএসসি পরীক্ষার কারণে তা এক মাস পেছানো হয়েছে। আগামী ৯ বা ১০ সেপ্টেম্বর এই ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই স্মৃতি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন সূচি অনুযায়ী আগামী ৯ বা ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬’ সেপ্টেম্বরে শুরু হতে যাচ্ছে। এই বিশাল আয়োজনের উদ্বোধন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানাতে গেলে তিনি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আয়োজনের নির্দেশ দেন। তারই আলোকে আমরা চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন করতে যাচ্ছি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করবেন।
তিনি জানান, দেশের ৪০ হাজার ২৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় দেড় কোটি শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তৈরি, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং দেশের ক্রীড়া অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপারসহ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে শিক্ষামন্ত্রী চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন।
২ দিন আগে
দেশে মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের ব্যবহার বাড়াবে বিজিবি
কুমিল্লার কোটবাড়িতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১০ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে প্রায় ৫২ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বাংলাদেশে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের ব্যবহার বাড়ানো হবে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে আয়োজিত মাদক ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজিবির উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কুমিল্লা ১০ বিজিবি ও সুলতানপুর ৬০ বিজিবি গত তিন থেকে চার বছরে সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করে। জব্দ করা এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫১ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার ১২৫ টাকা।
৪ দিন আগে
প্রতিবন্ধী লুৎফরের দোকানে ফের চুরি, দিশেহারা পরিবার
কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় মো. লুৎফর রহমান লুতু নামে এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির টং দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নগদ অর্থ ও মালামালসহ প্রায় ১৩ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
রবিবার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নের শোভারামপুরে এ ঘটনা ঘটে। মো. লুৎফর রহমান লুতু শোভারামপুর এলাকার দক্ষিণপাড়া সরদার বাড়ির মরহুম খুরশেদ মিয়ার ছেলে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে লুৎফর জানান, এই ছোট্ট টং দোকানটিই ছিল তার ও তার পরিবারের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। এর আগেও তার দোকান থেকে ২০ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছিল। এবার আবারও নগদ অর্থ ও বিভিন্ন মালামালসহ প্রায় ১৩ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে চোরেরা। একের পর এক এমন ঘটনায় পরিবারটি চরম অসহায় হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে লুৎফরের ক্ষতিপূরণ ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৫ দিন আগে
সাড়ে ৪ হাজার ইয়াবাসহ টেকনাফ উপজেলা আ.লীগ নেতা আটক
কক্সবাজারের ইনানীতে সাড়ে ৪ হাজার ইয়াবাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজ উল্লাহকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে ইনানী মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত এ তথ্য জানান।
আটক হাফিজ উল্লাহ (৬৬) টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড ডেইলপাড়ার বাসিন্দা। তিনি টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মুকিত জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইনানীর কোস্ট গার্ড স্টেশন ওই এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। বাসে থাকা এক সন্দেহভাজন ব্যক্তির কাছ থেকে ৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এবং জব্দ করা ইয়াবার বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
৭ দিন আগে
চট্টগ্রামে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে মা-বাবা খুন
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ছেলের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে তার বাবা-মা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর নিজের ঘর থেকে অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গুজরা এলাকার চৈতন্য মহাজন বাড়িতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহতরা হলেন— ওই বাড়ির স্বপন দাশগুপ্ত (৬৫) এবং তার স্ত্রী কল্পনা দাশগুপ্তা (৫৫)। আটক হওয়া তাদের ছেলের নাম রিমন দাশগুপ্ত (৪২)।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহত কল্পনা দাশগুপ্তার ছোটো জা তিথি দাশগুপ্তা বলেন, ‘ছেলেটি দীর্ঘদিন মাদকে আসক্ত ছিল। কয়েকবার মাদক নিরাময়কেন্দ্রেও ছিল। আজ সকালে তারা মা-বাবা-ছেলে বাইরে গিয়ে দুপুর ১২টার দিকে বাড়ি আসে। এর কিছুক্ষণ পরই ছেলেটা কাঁচি দিয়ে তার মাকে আঘাত করতে থাকে। সে সময় তাকে বাঁচাতে তার স্বামী এগিয়ে গেলে ছেলেটা তাকেও আঘাত করে।’
তিনি বলেন, ‘এ সময় আমরা দৌড়ে আশপাশের মানুষ ডাকতে যাই। এসে দেখি, তার মা ঘটনাস্থলে মরে পড়ে আছে আর বাবাকে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে শুনি, সে-ও মারা গেছে।’
আনোয়ারা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় স্বপন দাশগুপ্তকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আমার তাকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণের সময় তার মৃত্য হয়। বিষয়টি ইতোমধ্যে পুলিশকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘাতক ছেলেটিকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, হাসপাতালেও আরেকটি মরদেহের খবর পাওয়া গেছে। মরদেহগুলোকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
৭ দিন আগে
ফেনীতে শিক্ষিকার ফ্ল্যাট থেকে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
ফেনীর পরশুরামে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার ফ্ল্যাট থেকে ফারজানা আক্তার প্রিয়া (১৪) নামের এক গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ৯টার দিকে উপজেলা পরিষদ গেইট-সংলগ্ন কাদের টাওয়ারের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে কিশোরী গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ফেনী ২৫০ শর্যা জেনারেল হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
নিহত প্রিয়া নোয়াখালী জেলার সেবারহাটের সাইফুল ইসলামের মেয়ে। তবে পুলিশ দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করেও প্রিয়ার মা-বাবা কিংবা কেনো স্বজনের খোঁজ পাননি।
প্রিয়া গত তিন বছর ধরে উপজেলার মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা জাহেদা আক্তার তিমুর বাসায় গৃহকর্মী হিসাবে কাজ করছেন।
শিক্ষিকা জাহেদা উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের দক্ষিণ তালবাড়িয়া গ্রামের মোশাররফ হোসেন তালুকদারের স্ত্রী। তিনি তার ৮ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে একা থাকেন। তার স্বামী ঢাকায় চাকরি করেন। পুলিশ জাহেদাকে প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাদ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, ওই বাসার একটি কক্ষে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে প্রিয়া আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে ‘কে+পি’ লেখা একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে প্রেমঘটিত কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে প্রিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রিয়ার বাবা-মা দুজনের মধ্যে বিচ্ছেদের পর দুইজন বিয়ে করে নিরুদ্দেশ হন। প্রিয়ার নানি এক ব্যক্তির মাধ্যমে ওই শিক্ষিকার বাসায় কাজে দেন। এর আগেও একবার প্রিয়া শিক্ষিকার বাসা ছেড়ে পালিয়ে গেলে পরশুরাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন জাহেদা। খোঁজ পেয়ে তাকে আবার জোরপুর্বক বাসায় কাজে নিয়ে আসেন তিনি। প্রিয়া মুঠোফোন ব্যবহার করতেন না বলে তিনি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, স্কুল শিক্ষিকা গৃহকর্মীকে বিভিন্ন অজুহাতে বকাবকি করতেন। বুধবার রাতেও বকাবকি করায় বাসা থেকে বের হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত কাদের টাওয়ারের ছাদে ছিলেন।
জাহেদা আক্তার বলেন, প্রিয়াকে একা বাসায় রেখে আমি সকালে স্কুলে চলে যাই। বিকেলে বাসায় এসে অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় টাওয়ারের নিজস্ব কর্মচারীর সহযোগিতায় দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে তার মরদেহ ঝুলতে দেখে পুলিশকে খবর দেই। পুলিশ এসে রাত ৯টার দিকে তার মরদেহ উদ্বার করে।
পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো আশ্রাফুল ইসলাম বরেন, ধারণা করা হচ্ছে এটা একটা আত্মহত্যা। তদন্ত করে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
৮ দিন আগে
টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর ৩ সদস্য আটক
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির হাতে দীর্ঘদিন জিম্মি থাকার পর পালিয়ে নাফ নদ পেরিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর তিন সদস্যকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে তাদের আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কক্সবাজার কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আটকরা হলেন— বেইন ডে টেট (৩৮), ক্যায়াউ নাইং (৩৫) ও থেইন জ (৩৩)। তাদের মধ্যে দুজন মিয়ানমার পুলিশের সদস্য ও একজন দেশটির সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গতকাল (সোমবার) দুপুর ১২টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া-সংলগ্ন নাফ নদ সীমান্ত দিয়ে পানির পাত্রের সাহায্যে সাঁতরে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনজন। এরপর সীমান্তে দায়িত্বরত টেকনাফ-২ বিজিবির সদস্যরা তাদের আটক করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা নিজেদের মিয়ানমার সরকারি বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে জানান, তারা প্রায় দুই বছর আগে আরাকান আর্মির হাতে আটক হওয়ার পর থেকে রাখাইনের কাউয়ারবিল ক্যাম্পে জিম্মি ছিলেন। সম্প্রতি তারা সুযোগ বুঝে সেখান থেকে পালিয়ে নাফ নদ পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিজিবি তাদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করে।
ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আটক তিনজনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) কক্সবাজার আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠান।
১১ দিন আগে
চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড
চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী এলাকায় ১০ বছর বয়সী শিশু আবিদা সুলতানা আয়নীকে ধর্ষণের চেষ্টার পর শ্বাসরোধে হত্যা মামলায় আসামি মো. রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক সাইফুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগী আয়নীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে আসামি রুবেল তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করেন। মামলায় তিনটি পৃথক ধারায় আসামিকে পৃথক ৩টি রায় দিয়েছেন বিচারক।
২০২৩ সালের ২৯ মার্চ ভোরে পাহাড়তলী থানার সাগরিকা বাইলেন মুরগি ফার্ম আলমতারা পুকুরপাড় এলাকার ডোবা থেকে আয়নীর মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
২০২৩ সালের ২১ মার্চ বিকাল থেকে আয়নীর খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার। থানায় জিডি করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় ২৮ মার্চ আদালতে গিয়ে অপহরণের মামলা করেন আয়নীর মা। বিচারক তার আর্জি শুনে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।
মামলার পর প্রতিবেশী সবজি বিক্রেতা ৩৫ বছর বয়সী রুবেলকে আটক করা হয়। তাকে আটক করার পরই তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) শিশুটির মরদেহের খবর জানতে পারে। পরদিন আয়নীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২০ মার্চ রাস্তায় বিড়াল ছানা ধরতে গিয়ে সবজি বিক্রেতা রুবেলের ভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা লাগে আয়নীর। বিড়াল ছানা এনে দেবে বলে তখন শিশুটির সঙ্গে পাঁচ মিনিট কথা বলেছিলেন রুবেল।
পরদিন ২১ মার্চ বিকেলে আয়নীর সঙ্গে আসামির আবার রাস্তায় দেখা হলে শিশুটিকে বিড়াল ছানা এনে দেওয়ার কথা বলে তাকে ভ্যান করে নিয়ে যান তিনি। পরে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে, রুবেল শিশুটিকে কাজীর দিঘী এলাকাতেই একটি ভবনের চতুর্থ তলায় নিয়ে যান। ভবনটিতে তার পরিচিত একজনের খালি বাসা ছিল। সেখানে রুবেল তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ওই সময় আয়নী চিৎকার করে দরজা খুলে বাসা থেকে বের হওয়র চেষ্টা করলে তাকে ভয়ভীতি দেখান এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেন তিনি। কিন্তু বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেবে, সেই ভয় থেকে রুবেল শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন। এরপর রাত ৯টার দিকে লোকজন কমে গেলে সুযোগ বুঝে রুবেল ভ্যান নিয়ে আবার সেই বাসায় যান। সেখান থেকে তিনি শিশুটির মরদেহ বস্তায় ভরে আলমতারা পুকুর পাড় এলাকার ডোবায় ফেলে আসেন।
আয়নী পাহাড়তলী এলাকার আব্দুল হাদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তাদের বাসা ছিল পাহাড়তলীর আব্দুর কাজীর দীঘির পাড় এলাকায় ।
শিশুটির মা মোছাম্মৎ বিবি ফাতেমা (২৬) একজন পোশাককর্মী। শিশুটির বাবাও ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের জেরা শেষে আদালত আসামি মো. রুবেলকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেন। আত্মপক্ষ সমর্থন শেষে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক গ্রহণ করে বিচারক আজ এই মামলার রায় দেন।
১২ দিন আগে