সারাদেশ
আবরার ফাহাদ হত্যার ৭ বছর পরও রায় কার্যকরের অপেক্ষায় পরিবার
বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পরও তার পরিবার মামলার রায় কার্যকর হওয়ার জন্য অপেক্ষায করছে।
২০২১ সালের ডিসেম্বরে ঢাকার একটি আদালত দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও আরও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। হাইকোর্টও ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ সাজা বহাল রাখেন।
তবে আপিল বিভাগে আসামিদের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকায় আলোচিত এ হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
আবরারের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, আদালতের একের পর এক রায় এলেও তাদের অপেক্ষার শেষ নেই। বিশেষ করে রায় কার্যকরের অগ্রগতি নিয়ে তারা এখন হতাশ।
আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বলেন, তার ভাইয়ের হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারকে নয়, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাকেও নাড়া দিয়েছিল। আবরারকে হত্যার পর মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে তার প্রভাব ছিল বলে তিনি মনে করেন।
মুঠোফোনে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ বিদায়ের সূত্রপাত হয়েছিল আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। কিন্তু যাদের কারণে আজ পরিবর্তন এসেছে, তাদের হত্যার বিচারই এখনও শেষ হয়নি।
ফাইয়াজ জানান, ২০২৫ সালের মার্চে হাইকোর্ট রায় দেওয়ার পরও তারা রায় কার্যকর হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করলেও তাদের বলা হয়, মামলা সিরিয়াল অনুযায়ী এগোবে।
তার অভিযোগ, সিরিয়াল এগিয়ে আনা যায়। কিন্তু তারা সিরিয়াল এগিয়ে আনতে দ্বিধাবোধ করছেন।
ফাইয়াজ বলেন, ‘আমরা যেখানে যেখানে যোগাযোগ করা দরকার, করেছি। এখন অপেক্ষা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই। রায় কার্যকর করতে বাধা কোথায়, সেটা আমাদের পরিবারের জানা নেই। এখন মনে হচ্ছে এটা অবহেলা ছাড়া আর কিছুই না।’
২ দিন আগে
রাষ্ট্রপতির সই-সিল জাল, মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ গ্রেপ্তার ২
সাভারের আশুলিয়ায় রাষ্ট্রপতির সই ও সিল জাল করার অভিযোগে একটি মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৭ অক্টোবর) আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভোরে আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ নিয়ামতুল্লাহ (৫০) ও উপপরিচালক (প্রশাসন) সৈয়দ সানজিদ (৪৫)।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত পাঁচজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন মাদরাসার পরিচালক সৈয়দ আলী রায়হান ওরফে রুন্নান, জামগড়ার বাসিন্দা গাজী লিটন ও বিপ্লব।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় অবস্থিত তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদরাসার প্রস্তাবিত এডহক কমিটির একটি তালিকা অনুমোদনের জন্য মাদরাসার নিজস্ব প্যাডে একটি আবেদন তৈরি করা হয়। এরপর রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সিল ও রাষ্ট্রপতির সই জাল করে আবেদনটি ঢাকার বছিলায় অবস্থিত ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।
প্রক্রিয়ার একপর্যায়ে বিষয়টি রাষ্ট্রপতির নজরে আসার পর তিনি এ নিয়ে অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সইটি তার নয় এবং এটি জাল। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসারের (পিএলও) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার (এসপি) ও ডিআইজি কার্যালয়কে বিষয়টি অবহিত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর আশুলিয়া থানার একটি দল অভিযান চালিয়ে দুজনকে হেফাজতে নেয়।
আসামিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে কোনো এক সময়ে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কার্যালয়ে বসেই আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে রাষ্ট্রপতির সই ও সিল জাল করেন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ এজাহারভুক্ত দুজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
২ দিন আগে
ভারতের সঙ্গে চুক্তি হলে মোগলহাট স্থলবন্দর চালুর আশা
ভারতের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হলে লালমনিরহাটের মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালু করার আশ্বাস দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান।
রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে জেলার সদর উপজেলায় মোগলহাট স্থলবন্দর এলাকা পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারা এ আশ্বাস দেন।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, মোগলহাট স্থলবন্দর একটি আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর। সে কারণে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের সঙ্গে আমাদের একটা চুক্তি করতে হবে। আর অবকাঠামোগত সংস্কার আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তা আমরা করতে পারব। ভারতের আগ্রহ থাকলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চুক্তি করতে হবে বলেও জানান তিনি।
স্থলবন্দরটি চালু হলে এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আসাদুল হাবিব দুলু। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য শুরু হলে দুই দেশের অর্থনীতি মজবুত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই প্রত্যাশা নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
অন্যদিকে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয় চায় এ বন্দরটি পুনরায় চালু হোক। মানুষের দৈনন্দিন চাহিদাগুলো পূরণ হোক। স্থলবন্দরটি পুনরায় চালু করতে যে অবকাঠামো বা জনবল দরকার তা পূরণ করতে আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভারত সরকার না চাইলে তো এককভাবে আমরা চালু করতে পারব না। তাই ভারতের সঙ্গে আগে চুক্তি করা দরকার।
রাজিব আহসান বলেন, অতীতে আমরা ভারতের আগ্রহের কথা শুনেছি। যেহেতু অতীতে এ বন্দরটি চালু ছিল, তাই তারাও বিষয়টি অবগত রয়েছে। খুব অল্প সময়ে চুক্তি করে এ বন্দরটি পুনরায় চালু করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৫ দিন আগে
কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়াম
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী তিনটি বিশেষ লড়ি সেনাবাহিনীর কড়া প্রহরায় পাবনায় পৌঁছেছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছায় গাড়িবহরটি। বিষয়টি নিশ্চিত করেন পাবনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) আমিনুল ইসলাম।
ডিসি আমিনুল বলেন, রূপপুর প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম ইউরেনিয়ামের চালান এটি। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আজ (শনিবার) দুপুর সাড়ে ১২টার পর এটি রূপপুরে পৌঁছেছে।
তিনি আরও জানান, গতকাল (শুক্রবার) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়ামবাহী বিশেষ কার্গো বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর আজ (শনিবার) সকাল সোয়া ৭টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় বিমানবন্দর থেকে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহরটি রূপপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিনটি লরিতে ইউরেনিয়াম ও অপর একটি গাড়িতে অন্যান্য সরঞ্জাম নেওয়া হয়। গাড়িবহরের সঙ্গে রাশিয়া থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরাও ছিলেন। নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, এসআরবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোড করার মাধ্যমে ইউনিট-১-এর আনুষ্ঠানিক কমিশনিং ধাপ শুরু হয়। ১২ মের মধ্যে রিঅ্যাক্টরে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপনসহ ৯০টিরও বেশি মৌলিক সিস্টেম পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি ও প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিং কাজের জন্য দুটি—সব মিলিয়ে মোট ৯টি চালানে এই জ্বালানি দেশে আনা হচ্ছে। ডিসেম্বরের মধ্যে সবগুলো চালান সফলভাবে সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০২৩ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য জ্বালানি দেশে আনা হয়েছিল। চলতি বছরের মে মাসে সেই জ্বালানি পারমাণবিক চুল্লিতে স্থাপন করা হয়। শিগগিরই সেখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দুটি ইউনিটের মাধ্যমে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণ শুরু হয় ২০১৩ সালে। রাশিয়ার সহযোগিতায় এটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার ওপরে।
সব প্রস্তুতি সময় মতো সম্পন্ন হলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানির (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানান, বিকল হয়ে যাওয়া ভাল্ব প্রতিস্থাপনের পর গত বুধবার পিওআরভি/পিওএসভি ব্যবস্থার ১৬ মেগা প্যাসকেল উচ্চচাপ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। পরবর্তী ধাপে শিগগিরই ১৮ মেগা প্যাসকেল চাপে আরেকটি উচ্চচাপ পরীক্ষা চালানো হবে।
তিনি আরু বলেন, পিওআরভি/পিওএসভি হলো পরমাণু চুল্লির একটি অন্যতম প্রধান সুরক্ষাব্যবস্থা, যা প্রাথমিক কুলিং সার্কিটের অতিরিক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ করে কাঠামোগত ক্ষতি রোধ করে। গত জুলাইয়ের শুরুতে প্রাথমিক পিওআরভি পরীক্ষার সময় নিরাপত্তা ভাল্ব ঠিকভাবে কাজ না করায় ১ নম্বর ইউনিটকে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নেওয়া যায়নি।
পরে নিয়ন্ত্রণ ভাল্বগুলোর কার্যকারিতা সফলভাবে যাচাই করা হয়। এ ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট প্রধান সেফটি ভাল্বের অপারেশন ও প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় ভাল্বের খোলা ও বন্ধ হওয়ার গতি, অ্যালার্ম ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্যারামিটার গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে বলেও জানান ড. জাহেদুল।
তিনি বলেন, অপারেশনের আগে ও চলাকালীন যোগাযোগব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা ও তেজস্ক্রিয়তা সুরক্ষার শর্তগুলোও পুরোপুরি যাচাই করা হয়েছে। পরীক্ষাটি অনুমোদিত পদ্ধতি ও নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে করা হয়েছে। কমিশনিং প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
৬ দিন আগে
মিরপুরে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত, ডিএনসিসির গাড়িতে আগুন
রাজধানীর মিরপুর-১০-এ উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হকার ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ পর্যন্ত ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সকাল ১০টার দিকে হোপ মার্কেটের সামনের ফুটপাতে এ সংঘর্ষ হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএনসিসির এক কর্মকর্তা ইউএনবিকে জানান, সংঘর্ষের সময় ডিএনসিসির দুটি ময়লার ট্রাকে আগুন দেওয়া হয় এবং তিনটি বুলডোজার ভাঙচুর করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশের একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে।
হকাররা দাবি করেন, ডিএনসিসির কর্মীরা ফুটপাতের দোকান সরাতে শুরু করলে প্রথমে একটি বৈদ্যুতিক তার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনে কিছু পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হকাররা উচ্ছেদ অভিযানে জড়িতদের লক্ষ্য করে লাঠি ও ইট ছুড়তে থাকেন। পরে ডিএনসিসির দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া হয়।
ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের সময় বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীও হামলার শিকার হয়েছেন। যমুনা টেলিভিশনের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এছাড়া সময় টিভির একজন প্রতিবেদক ও একজন ক্যামেরাপারসনকে মারধর করা হয়েছে।
সমকালের ফটোসাংবাদিক মাহবুব হোসেন নবীনও কয়েকজন হকারের হামলায় আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১০ এলাকার সড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার বলেন, সংঘর্ষে পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
৯ দিন আগে
সূত্রাপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে অগ্নিসংযোগে আরও একজনের মৃত্যু
রাজধানীর সূত্রাপুরের শ্যামবাজার এলাকার চামারটুলিতে পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দগ্ধদের মধ্যে তানিয়া আক্তারও (১৭) মারা গেছেন।
এর আগে একই ঘটনায় তার মামাতো ভাই ইমন ও মামা সিদ্দিক বেপারীর মৃত্যু হয়। তানিয়ার মৃত্যুর পর এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল তিনজনে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তানিয়ার মৃত্যু হয়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সূত্রাপুরের শ্যামবাজারে আগুনে তানিয়া আক্তারের শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে একই ঘটনায় চিকিৎসাধীন তানিয়ার মামা সিদ্দিক বেপারী (৫৫) মারা যান। তার শরীরের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। গত ২০ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে মারা যান সিদ্দিকের ছেলে ইমন (২৫), যার শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সূত্রাপুরের শ্যামবাজার এলাকার চামারটুলিতে পারিবারিক বিরোধের জেরে ইমন নিজের ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় ঘরে থাকা তার বাবা সিদ্দিকসহ পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বাসার সামনে জমে থাকা ময়লা পানি পরিষ্কার করা নিয়ে ইমনের বোন সুলতানার সঙ্গে তানিয়ার বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে সুলতানা বিষয়টি মোবাইল ফোনে ইমনকে জানালে তিনি দেশে ফিরে আসেন।
১৩ দিন আগে
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ২ হাজতির মৃত্যু
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হওয়া দুই হাজতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মারা গেছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মোহাম্মদ ইফতেখার মাহমুদ (৩৬) ও মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসাইন পলাশের (৩৮) মৃত্যু হয়।
কারারক্ষী আমিনুল ইসলাম জানান, ইফতেখার মাহমুদ হাজতি হিসেবে কারাগারে ছিলেন। তিনি রাজধানীর মিরপুরের পীরেরবাগের মাহবুব আলমের ছেলে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর কারাগারে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই দিনই তাকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক তাকে মেডিসিন বিভাগের ৬০১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। সেখানেই গতকাল (বুধবার) রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে কারারক্ষী মাসুম জানান, হাজতি তোফাজ্জল হোসাইন পলাশ রাজধানীর দারুস সালাম থানার বাগবাড়ী এলাকার আলী হোসেনের ছেলে। গতকাল রাতে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে ঢামেক হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ১১টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে এ দুই হাজতি কোন কোন মামলায় কারাবন্দি ছিলেন, সে বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
১৫ দিন আগে
ভারতীয় ইলিশ আমদানি বন্ধ, বাতিল শতাধিক এনওসি
ইলিশ আমদানির জন্য মৎস্য অধিদপ্তর থেকে দেওয়া ১০৩টি অনাপত্তি সনদ (এনওসি) বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। ফলে ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়া এখন বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সই করা এক চিঠিতে এসব অনাপত্তি সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের একটি চিঠি আমাদের কাছে এসেছে। সেখানে অনেকগুলো অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে ইলিশ আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে আমদানিকারকরা বিপাকে পড়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইলিশ আমদানিকারক সৈয়দ মহিদুল হক রুবাই বলেন, হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ করায় আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি। আমদানির উদ্দেশ্যে ভারতে তাদের ইলিশ মাছ কিনে রাখা হয়েছিল। এখন কম দামে তা ফেরত দিতে হবে। এছাড়া আমদানি খরচের লোকশানের কথাও জানান তিনি।
১৬ দিন আগে
ঢাকা উদ্যানে লেগুনার চাপায় শিক্ষার্থী নিহত
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার ঢাকা উদ্যান এলাকায় লেগুনার চাপায় সাগর নামে পঞ্চম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় লেগুনা চালক রিফাত উরফে ডেঞ্জারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা উদ্যান তিন নাম্বার রোডের সি ব্লকের শেষ মাথায় এই ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা শেষে রাত ৮টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সাগর ঢাকা উদ্যান এক নম্বর রোডের সি ব্লকের ৮৯ নাম্বার বাসায় থাকত। তার বাবার নাম মো. ফিরোজ। সে মোহাম্মদপুরের তুরাগ ন্যাশনাল স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল। পাশাপাশি সে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাত।
নিহত সাগরের বাড়িওয়ালা রবিউল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যার দিকে ঢাকা উদ্যান তিন নাম্বার রোডের সি ব্লকে একটি লেগুনা ঘোরানোর সময় সাগরকে চাপা দেয়। এতে সাগর গুরুতর আহত হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর স্থানীয়রা ওই লেগুনাচালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। নিহত সাগরের বাবা ফিরোজ তাদের অনেক আগেই ফেলে রেখে চলে গেছেন। তারা আমাদের বাসায় দশ বছর যাবত ভাড়া থাকে।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো হাবিবুর রহমান জানান, মরদেহটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার বিষয়টি মোহাম্মদপুর থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
১৬ দিন আগে
ধানমন্ডি লেক থেকে ভাসমান মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর ধানমন্ডি লেক থেকে এক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ধানমন্ডি ১০ নম্বর রোডের লেকের পাড়ে আবেশ অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ৭ নম্বর শাখার পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
মৃত ব্যক্তির নাম মো জাভেদ আহম্মেদ (৫১)। তিনি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকে বসবাস করতেন।
ধানমন্ডি থানা পুলিশ জানায়, সকালে মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে মরদেহের পকেটে একটি এনআইডি কার্ড খুঁজে পায়। পরে নিহতের পরিবারকে খবর দিলে তার স্ত্রী শাহানা জাবিন খান তার মরদেহ শনাক্ত করেন।
শাহানা পুলিশকে জানিয়েছেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন বেকার ছিলেন এবং আর্থিক সংকটের কারণে বিপর্যস্ত ছিলেন।
তবে কীভাবে তিনি ওই লেকে গিয়ে মারা গেলেন বা তার আর্থিক সংকট এই মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কিনা, সেসব বিষয়ে প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গফুরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তবে জাভেদ আহম্মেদের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
১৭ দিন আগে