স্বাস্থ্য
চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় ৫০০ হাসপাতালে মোতায়েন হচ্ছে ১০ জন করে আনসার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও অন্যান্য বড় হাসপাতালে ১০ জন করে সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সম্প্রতি কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ-চীন জয়েন্ট সার্জিকাল ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের সম্মানিত ডাক্তারদের ওপর মাঝেমধ্যেই আঘাত আসে। প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। উনি নির্দেশনা দিয়েছেন যে সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ৫০০ হাসপাতালে ১০ জন করে সশস্ত্র আনসার সদস্য নিয়োগ করতে যাচ্ছি। চিকিৎসকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই নিয়োগ হবে। আগামী কিছুদিনের ভেতরেই তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হামের টিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে আগামী ছয় মাসের টিকা মজুত আছে। পরবর্তী ৬ মাস এটি দিতে কোনো সমস্যা হবে না। যক্ষ্মাসহ কোনো ধরনের টিকার সংকট নেই। লোকবল সংকট নিরসনে শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ সময় জয়েন্ট সার্জারি ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) সঙ্গে চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ উপলক্ষে বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে আজ (বুধবার) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিশেষ করে বাংলাদেশের গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে চীনের সহায়তা কামনা করেন।
মন্ত্রী বলেন, এই অনুষ্ঠান দুই দেশের দীর্ঘ সম্পর্কের প্রতিফলন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চীন সরকার ও হাসপাতাল প্রশাসনকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এই সমঝোতার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমাদের স্বাস্থ্যখাতকে গ্রাম পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষা প্রসার করা আমাদের গুরুদায়িত্ব। আমরা জানি, চীনের সেবা ও শিক্ষা অনেক উন্নত। আজকে যে দুই প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠিত হলো, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এই অনুষ্ঠানটি শুধু দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অংশীদারত্বই নয়, বরং সীমান্ত অতিক্রম করে স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা এবং সার্জিকাল উৎকর্ষতা উন্নয়নের একটি যৌথ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। আজকের এই উদ্যোগ আমাদের স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতায় একটি নতুন ও মূল্যবান মাত্রা যোগ করেছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন এবং বাংলাদেশ সব সময় একে অপরকে সহযোগিতা করেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশদুটি একসঙ্গে কাজ করছে। চীন দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত উন্নয়নে বিনিয়োগ করে আসছে। রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন, কার্ডিওভাস্কুলার ক্লিনিকসহ নানা প্রতিষ্ঠান গড়তেও ভূমিকা রেখেছে। চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় একটি অত্যাধুনিক মানের মেডিকেল প্রতিষ্ঠান। আমরা চীন-বাংলাদেশ মেডিকেল সহযোগিতার নতুন অধ্যায় রচনা করব।
সভাপতির বক্তব্যে বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, জয়েন্ট সার্জারি ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়াকে দেশের স্বাস্থ্যখাতে একটি যুগান্তকারী অর্জন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রোগীরা উপকৃত হবেন। দেশে জটিল সার্জারির ক্ষেত্রে নবদিগন্তের সূচনা হলো। শুরুতে ইউরোলজিক্যাল জটিল সার্জারি সেবা প্রদান করা হলেও পর্যায়ক্রমে সকল ধরনের জটিল জটিল সার্জারি সেবা প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যে চীনের সহায়তায় রোবটিক ফিজিওথেরাপি রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে। আগামীতে রোবটিক সার্জারির মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ চিকিৎসাসেবা যুক্ত করা হবে। চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ফলে জটিল সার্জারি, ট্রেনিং প্রোগ্রাম, ফ্যাকাল্টি এক্সচেঞ্জ, চিকিৎসাসেবা ও মেডিকেল শিক্ষায় পারস্পরিক জ্ঞানের জ্ঞানের আদান-প্রদান হবে যা বিএমইউর শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্টদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটি ইউরোলজি বিষয়ের অধ্যাপক লি জিয়ংমিং, কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির পরিচালক অধ্যাপক লি ওয়েনলিয়াং, ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক হি ইয়ংওয়েন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১৪ ঘণ্টা আগে
মোবাইল ইউনিটে গ্রামেই হবে হৃদরোগের জটিল চিকিৎসা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, মোবাইল সার্জিক্যাল ইউনিটের মাধ্যমে হৃদরোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।
তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচনি ইশতেহারে আমরা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আমূল বদলে দেওয়ার যে রূপকল্প এবং মিশন তুলে ধরেছি, এই উদ্যোগটি সেটাকে আরও বেগবান করবে। সরকার স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে এমনভাবে সংস্কার ও পুনর্গঠন করবে, যাতে সরকারি হাসপাতালের সুবিধা প্রকৃত অর্থে সাধারণ জনগণের চাহিদা মেটাতে পারে।’
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চীন-বাংলাদেশ স্বাস্থ্য খাত সহযোগিতার অংশ হিসেবে অত্যাধুনিক ‘মোবাইল মেডিকেল অ্যান্ড সার্জিক্যাল ইউনিট’ (ভ্রাম্যমাণ ভ্যান) হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
‘মোবাইল মেডিকেল অ্যান্ড সার্জিক্যাল ইউনিট’ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ড. মুহিত বলেন, অসংক্রামক ব্যাধি, বিশেষ করে হৃদরোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। এই চমৎকার মোবাইল ভেহিকেলটি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কাজগুলোকে শুধু ঢাকা নয়, বরং ঢাকার বাইরের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও পৌঁছে দেওয়ার এক দারুণ সুযোগ তৈরি করবে। এর মাধ্যমে হৃদরোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।
তিনি জানান, অসংক্রামক ব্যাধির কারণে মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব কমানোই বর্তমানে সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, অন্যান্য খাতের মতো স্বাস্থ্য খাতও গত ১৫ বছরে দুর্নীতি, তদারকির অভাব এবং সঠিক পরিকল্পনার অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে আমরা স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে এমনভাবে সংস্কার ও পুনর্গঠন করতে চাই, যাতে সরকারি হাসপাতালের সুবিধা প্রকৃত অর্থে সাধারণ জনগণের চাহিদা মেটাতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত এইচ ই ইয়াও ওয়েনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এই ভ্রাম্যমাণ ইউনিটটি আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বাড়াতেও সহায়ক হবে।’
ড. মুহিত বলেন, আমাদের জাতীয় স্বাস্থ্য খাতের অগ্রাধিকারগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে হাসপাতাল সম্প্রসারণ, চিকিৎসা গবেষণা এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে আমাদের অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। গবেষণা ও সেবা প্রদান উভয় ক্ষেত্রেই এই দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে কীভাবে আমাদের লক্ষ্যগুলো আরও দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়, সেই সাধারণ ক্ষেত্রগুলো আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে একটি স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছি, যা আমাদের বর্তমান ও তাৎক্ষণিক প্রয়োজনগুলো মেটাতে সাহায্য করবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ উপস্থিত অন্যান্যরা।
১৪ ঘণ্টা আগে
২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ শিশুর মৃত্যু
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৩ জন হাম আক্রান্ত হয়েই মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাম ও হাম সন্দেহে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত হামে ৩৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ১৭৪ জন।
১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ১৯২ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ২১ হাজার ৪৬৭ জন।
এ পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৩ হাজার ৮৯৮ জন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১১ হাজার ২৪৩ জন।
৫ দিন আগে
সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হামসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হামসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও রবিবার (১২ এপ্রিল) থেকে ঢাকা দক্ষিণসহ গুরুত্বপূর্ণ চারটি সিটি করপোরেশনে (ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, ময়মনসিংহ ও বরিশাল) একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে দেশের বাকি অংশে এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন অডিটরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে আজ (রবিবার) এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এ সময় তিনি বলেন, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রতিটি শিশুকে যদি আমরা সফলভাবে টিকার আওতায় আনতে পারি, তবেই আমরা এই আত্মঘাতী রোগ থেকে রক্ষা পাব। তিনি প্রতিটি অলিগলিতে এই কর্মসূচি পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
তবে হাম-রুবেলা নিয়ন্ত্রিত হলেও সামনে ডেঙ্গুর বড় চ্যালেঞ্জ আসছে বলে সতর্ক করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সামনেই ডেঙ্গুর একটি ধাক্কা আসতে পারে। আমরা দুই-তিন দিন আগেই এটা নিয়ে কাজ শুরু করেছি।
মশার ওষুধ ছিটানোর ক্ষেত্রে সঠিক মাত্রায় রাসায়নিক মিশ্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ওষুধের মান ঠিক থাকলে তবেই পূর্ণবয়স্ক মশা মারা সম্ভব হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, হামের বিস্তার রোধে আইসোলেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সকল পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে রোগীদের জন্য বিশেষ আইসোলেশন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচিকে একটি আন্দোলন হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, এটি কোনো একক ব্যক্তি বা স্বাস্থ্যকর্মীর পক্ষে সফল করা সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি আহমেদ জামশেদ মোহামেদ, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ এমানুয়েল অ্যাব্রিউক্স। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, হঠাৎ করে এ বিষয়টা (হামের প্রাদুর্ভাব) এসেছে এমন নয়। বিগত সরকারের অসাবধানতার কারণে আজকে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডের স্থায়ী ইপিআই কেন্দ্রগুলোতে এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশু এমআর টিকা পাবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নগরবাসীর সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রচার- চালানো হচ্ছে। অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে টিকা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
১০ দিন আগে
জেলা পর্যায়ে পুনরায় ১০ শয্যার আইসিইউ চালুর প্রতিশ্রুতি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
করোনা মহামারিকালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বিভিন্ন জেলায় স্থাপিত ও পরবর্তীতে মেয়াদ শেষ হওয়া ১০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) ইউনিটগুলো আগামী সপ্তাহ থেকে পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে রাজধানীর ক্রাউন প্লাজা হোটেলে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমসিএ) বার্ষিক সম্মেলন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাকালে জেলা পর্যায়ে ১০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ইউনিট চালু করা হয়েছিল। তবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তা বন্ধ হয়ে যায়। আমরা আগামী সপ্তাহ থেকে তা পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
মেডিকেল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও নৈতিকতায় একজন ভালো ডাক্তার হিসেবে তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মেডিকেল শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মানুষকে বাঁচাতে হলে ভালো ভালো ডাক্তার প্রয়োজন। এ ব্যাপারে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের আরও বেশি উৎসাহ দিতে হবে। তাদের নিয়মিত কাউন্সেলিং করতে হবে, যেন তারা চাপের মুখে পড়ে হতাশায় না ভোগেন।
শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষায় গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে বেসরকারি খাতগুলোর অবদান অনস্বীকার্য। আমাদের প্রত্যাশা আপনারা আপনাদের দায়িত্ব মানবিকতা ও সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পালন করবেন। রোগীরা সৃষ্টিকর্তার পরে ডাক্তারকে সবচেয়ে বেশি আস্থার স্থানে রাখেন। তাই মেডিকেলে নৈতিকতাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।’
তিনি বলেন, আমরা স্বাস্থ্য শিক্ষার আধুনিকায়নের উপায় খুঁজছি। শিক্ষার্থীরা যেন ভালো শিক্ষা পায় কিন্তু অতিরিক্ত চাপ অনুভব না করে সেটাও নিশ্চিত করা হবে।
এ সময় তিনি মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অধিক হারে আত্মহত্যা প্রবণতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মেডিকেল শিক্ষায় ঋণের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের নানা দেশে এই ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা এ বিষয়ে ইতিবাচক, কিন্তু আমাদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করতে হবে। একইসঙ্গে রিকোভারির বিষয়টিও ভাবতে হবে। আমি এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশের হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আগামী ২০ এপ্রিল সারা দেশে টিকা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ডাক্তাররা যথেষ্ট ত্যাগ ও ধৈর্য নিয়ে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। করোনাকালেও তারা রোগীদের জন্য অসামান্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে উষ্ণ সংবর্ধনা ও ফুলেল শুভেচ্ছা দেওয়া হয়। বিপিএমসিএর সভাপতি ডা. শেখ মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মোহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের রেজিষ্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. হুমায়ুন কবির তালুকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. নাদিম আহম্মদ প্রমুখ।
১০ দিন আগে
হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান রিজভীর
দেশে ক্রমবর্ধমান হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস, ২০২৬ উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক র্যালির উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। র্যালিটি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।
রিজভী বলেন, টিকাবিরোধী অপপ্রচার, কুসংস্কার এবং স্বাস্থ্যখাতে অবহেলার কারণে হামের ঝুঁকি বেড়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
এই রোগের বিস্তার রোধে সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যৌথভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি।
দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে জড়িত সবার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এ বছরের প্রতিপাদ্য— ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান এবং সুরক্ষিত সবার জীবন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রতিপাদ্যের মূল কথাই হচ্ছে, সবাইকে বিজ্ঞানের সঙ্গে থাকতে হবে। বিজ্ঞানের সঙ্গে না থাকলে সঠিক রোগ নির্ণয়, সুস্বাস্থ্য এবং কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
এই বিএনপি নেতা বলেন, আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা বিজ্ঞানেরই ফল। মানুষ প্রত্যাশা করে, যেকোনো মহামারি বা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও উপকরণ নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রকোপ বাড়ার অন্যতম কারণ হলো টিকাবিরোধী প্রচারণা ও ভুল ধারণা। উন্নত বিশ্বেও ‘টিকাবিরোধী’ একটি গোষ্ঠী সক্রিয়। এর ফলে সমাজে এখনও অন্ধত্ব, ভুল ধারণা ও কুসংস্কার ছড়িয়ে আছে।
বিগত ১৫ বছরের স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং তারা সক্রিয়, তবে জনস্বাস্থ্যের ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। গত দেড় দশকে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সময়েও স্বাস্থ্যখাত পর্যাপ্ত মনোযোগ পায়নি বলে আক্ষেপ করেন তিনি।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে রিজভী জানান, গত ১২–১৩ মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে ৩৮ জনের জীবন গেছে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ময়মনসিংহ এখন হামের ‘হটস্পট’। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যভিত্তিকভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, বিজ্ঞান মানুষকে সুস্বাস্থ্য ও উন্নতমানের চিকিৎসার পথ দেখায়। আজ মানুষ মহাকাশের বহু দূর পর্যন্ত যেতে পারছে। অথচ হাম এমন একটি রোগ যা বহু আগে থেকেই শিশুদের আক্রমণ করে আসছে। এত দিনেও কেন এই রোগ নির্মূল হলো না, সেটি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশে একটি মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল আছে, কিন্তু সেখানে গবেষণার জন্য বরাদ্দ খুবই কম। মাত্র ২ থেকে ৫ লাখ টাকা দিয়ে অর্থবহ গবেষণা সম্ভব নয়। এছাড়া জার্নাল রিভিউয়ের ওপর ২৩ শতাংশ ভ্যাটের কারণে গবেষণার খরচ আরও বেড়ে যায়। তিনি বিজ্ঞান ও গবেষণায় উচ্চতর বরাদ্দের ওপর জোর দেন।
চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা হাম ও এই জাতীয় জনস্বাস্থ্য হুমকি মোকাবিলায় সক্রিয় ও সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
১৫ দিন আগে
এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রায় ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংসদে সরকারি দলের সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর (নওগাঁ-৪) টেবিলে উপস্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও সেবা প্রদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি জানান, চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ৪৮তম বিসিএস-এর মাধ্যমে ২ হাজার ৯৮৪ জন সহকারী সার্জন, ২৭৯ জন ডেন্টাল সার্জন এবং ৪৪তম বিসিএসের মাধ্যমে ৯৮ জন সহকারী সার্জন (এমবিবিএস) ও ২২ জন ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ২৭তম বিসিএসের মাধ্যমে ১৬২ জন সহকারী সার্জন (এমবিবিএস ডাক্তার) নিয়োগ দেওয়া হয়।
ফেনী-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের টেবিলে উত্থাপিত আরেক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০২০-২১ থেকে এ যাবৎ করোনা ভাইরাস মৌসুমে মহামারি মোকাবিলায় সরকার কর্তৃক ভ্যাকসিনসহ করোনা সরঞ্জাম আমদানি ও কেনাকাটায় ৪ হাজার ৬৪৫ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ২৯৭ টাকা বরাদ্দ করা হয়। সেই বরাদ্দ থেকে ভ্যাকসিন ক্রয়ে ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা। সিরিঞ্জ ক্রয়ে ব্যয় হয়েছে ৩০ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ভ্যাকসিন এবং সিরিঞ্জ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দিতে পরিবহন ব্যয় হয়েছে ১৯ কোটি ৫৭ লাখ ৩ হাজার ৩৫৪ টাকা। সিরিঞ্জ শিপিং চার্জ হিসেবে খরচ হয়েছে ৯৯ লাখ ৯৮ হাজার ৯৮০ টাকা।
তিনি জানান, ভ্যাকসিন ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে সরকার সর্বদা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৫ দিন আগে
করোনার টিকা কেনায় অনিয়মের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
করোনা মহামারির সময় টিকা কেনাকাটায় অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংসদে ফেনী-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের টেবিলে উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় জয়নাল আবদিন জানতে চান, কোভিড মহামারির সময় সরকার টিকাসহ বিভিন্ন করোনা সরঞ্জাম আমদানি ও কেনাকাটায় কত টাকা বরাদ্দ ও ব্যয় করেছে এবং টিকা আমদানিতে কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে কি না।
জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। যদি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে তা যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোভিড-১৯ টিকা সংগ্রহের বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি।
মন্ত্রী জানান, ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিকাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম আমদানি আর কেনাকাটার জন্য ৪ হাজার ৬৮৫ কোটি ২২ লাখ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে টিকা কিনতে ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা। সিরিঞ্জ কেনায় ব্যয় হয়েছে ৩০ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। টিকা ও সিরিঞ্জ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দিতে খরচ হয়েছে আরও ১৯ কোটি ৫৭ লাখ ৩ হাজার ৩৫৪ টাকা। সিরিঞ্জ পরিবহন খাতে ব্যয় হয়েছে ৯৯ লাখ ৭৮ হাজার ৯৮০ টাকা।
নওগাঁ-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সরকারি দলের সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী প্রায় ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ৪৮তম বিসিএসের মাধ্যমে ২ হাজার ৯৮৪ জন সহকারী সার্জন এবং ২৭৯ জন ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৪৪তম বিসিএসের মাধ্যমে ৯৮ জন সহকারী সার্জন (এমবিবিএস) এবং ২২ জন ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ পেয়েছেন। এর আগে, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ২৭তম বিসিএসের মাধ্যমে ১৬২ জন সহকারী সার্জন (এমবিবিএস ডাক্তার) নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
১৫ দিন আগে
অবহেলিত শিশুরা দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, অবহেলিত শিশুরা যেন বড় হয়ে সমাজের বোঝা না হয়ে বরং দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে ওঠে এবং স্বাবলম্বী হয়, সে লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার।
একইসঙ্গে শিশুদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এ ব্যাপারে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল থাকবে বলে উল্লেখ করেছেন মন্ত্রী।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রংপুর নগরের মর্ডান মোড়ে অবস্থিত সরকারি শিশু পরিবার ঝটিকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, সমাজের অবহেলিত শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। তারা যেন নিজেদের পরিবারহীন বা সুবিধাবঞ্চিত মনে না করে, সে ধরনের সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। উত্তরবঙ্গসহ সারাদেশের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বলেও তিনি জানান।
১৮ দিন আগে
৩০ উপজেলায় জরুরি হাম টিকাদান শুরু রবিবার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রবিবার (৫ এপ্রিল) থেকে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
তিনি বলেছেন, আগামীকাল সকাল ৯টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিভিন্ন জেলায় উদ্বোধনে অংশ নেবেন, যা সরকারের সর্বাত্মক প্রস্তুতির প্রতিফলন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে কিছু এলাকায় হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশেষ করে ছোট শিশুদের ওপর বেশি প্রভাব ফেলছে। সরকার এই পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করছে।’
তিনি জানান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে জাতীয় টিকাদান বিষয়ক কারিগরি পরামর্শক কমিটি (নিটাগ) জরুরি এই টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণের সুপারিশ করেছে। এর লক্ষ্য দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
মন্ত্রী বলেন, ‘এই কর্মসূচির আওতায় ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তারা আগে টিকা নিয়ে থাকুক বা না থাকুক। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, কোনো শিশুই সুরক্ষার বাইরে না থাকে।’
কর্মসূচিটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ৩০টি উপজেলায় কার্যক্রম শুরু হয়ে পরবর্তীতে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী ২১ মে’র মধ্যে, পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এই কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসুন। তবে যেসব শিশুর জ্বর বা অসুস্থতা রয়েছে, তারা সুস্থ হওয়ার পর টিকা গ্রহণ করবে।’
মন্ত্রী জানান, হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হবে, যা রোগের জটিলতা কমাতে সহায়ক।
তিনি বলেন, ‘টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, কোল্ড চেইন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই কর্মসূচি সফল করতে অভিভাবক, স্থানীয় নেতৃত্ব, গণমাধ্যমসহ সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। গুজব প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’
দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘ব্যবহৃত টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে আমরা হাম রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হব।’
১৮ দিন আগে