স্বাস্থ্য
রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে শিশুদের হামের টিকা কার্যক্রম
আগামী রবিবার (৫ এপ্রিল) থেকে জরুরি ভিত্তিতে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (১ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে গ্যাভির (ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনার বৈশ্বিক জোট গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন ইনিশিয়েটিভ) কাছ থেকে ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ হামের ভ্যাকসিন নিয়ে দেওয়া হবে। এটা ধার নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এটা তাদের দিয়ে দেওয়া হবে।
এ কর্মসূচি পরিচালনায় আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্য মন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমরা আগামী রবিবার থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করব। এ উলক্ষ্যে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে আমরা মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সমস্ত ছুটি আমরা প্রত্যাহার করে নিলাম। এখন কোনো ছুটি থাকবে না। ভ্যাকসিন যারা দেবেন, তারা সবাই স্থানীয় কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে তারা থাকবে মাঠে থাকবেন এবং কাজ করবেন।
বুধবার ও বৃহস্পতিবারের মধ্যে সিরিঞ্জ সংগ্রহ করে যেসব উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত, সেগুলোসহ প্রত্যেকটা উপজেলায় এসব টিকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামী দুইদিনের ভেতরে ভ্যাকসিন ও সিরিঞ্জ আমরা গ্রামাঞ্চলে পাঠিয়ে দেব। রবিবার সকাল থেকে আমরা নিজেরা বিভিন্ন জায়গায় এটার উদ্বোধন করব ইনশআল্লাহ।
হাম মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত বলেন, যত ভয়াবহভাবে হাম আমাদের আক্রমণ করেছে, আমরা তার তার চেয়ে দ্রুতগতিতে ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করেছি। কিছু প্রাণহানি হয়েছে, তারপরও বলব—এটা আমাদের অনেকটা সার্থকতা।
তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গায় সঠিকভাবে ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করেছি। অতি তড়িৎ গতিতে বেসরকারি খাত থেকে ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করেছি, বাচ্চারা যাতে অক্সিজেনের অভাবে মারা না যায়।
মন্ত্রী জানান, হামের সঙ্গে নিউমোনিয়া আক্রান্তদের মৃত্যুহার বেশি। নিউমোনিয়া আক্রান্ত হলে ফুসফুসের ভেতর শ্লেষ্মা হয়। যার ফলে ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায় যা রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।
হামের প্রাদুর্ভাব ও এর আনুষঙ্গিক নিউমোনিয়াজনিত শিশুমৃত্যু রোধে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আইসিডিডিআরবি যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও জানান, আইসিডিডিআরবির পক্ষ থেকে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ভাবনী ও সাশ্রয়ী ‘বাবল সিপ্যাপ’ প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যা শিশুদের শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।
সম্প্রতি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামের সংক্রমণ বাড়ছে। হাম নিয়ে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ও শিশু মৃত্যুর ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঢাকা ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় হাম আক্রান্ত হয়ে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই চিকিৎসকদের সেবায় এগিয়ে আসতে হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই চিকিৎসকদের সেবার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হার্ট ফেইলিউর বিভাগ এবং বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি আয়োজিত ‘ব্রিজ দ্য গ্যাপ বিটুইন ড্রাগস, ডিভাইসেস অ্যান্ড সার্জারি ইন হার্ট ফেইলিউর’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক হার্ট ফেইলিউর কনফারেন্সের সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। জনগণের প্রতি সেই দায়বদ্ধতা থেকেই চিকিৎসকদের সেবার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, হৃদরোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক ব্যাধি ও সংক্রামক ব্যাধির প্রতিকার বা প্রতিরোধের জন্য সরকারের যে প্রতিষ্ঠিত কাঠামো রয়েছে, সেই কাঠামোকে আরও কার্যকর, সমন্বিত এবং জনমুখী করতে হবে, যাতে করে চিকিৎসাসেবা দেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। কনফারেন্সে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. শফিউদ্দিন।
জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে হৃদরোগীদের চিকিৎসার জন্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজেস (এনআইসিভিডি) প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে এটি হৃদরোগ চিকিৎসায় অন্যতম প্রধান বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, হার্টের রোগের বিভিন্ন ক্যাটাগরি রয়েছে যা পুষ্টিগত গুণাগুণ কিংবা নারী-পুরুষ ও ধনী-দরিদ্র কোনো শ্রেণিভেদে নির্ধারিত হয় না; এ রোগ সবার হয়।
জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে হৃদরোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা হৃদরোগীর সংখ্যার তুলনায় কম। উপস্থিত চিকিৎসকদের হৃদরোগবিদ্যার টেকনিক্যাল এক্সপার্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনারাই নির্ধারণ করবেন কীভাবে আপনারা হৃদরোগীদের সেবা দেবেন। দেশের নীতি-নির্ধারকদের আপনারাই রাস্তা দেখাবেন, কীভাবে এই সেক্টরে উন্নয়ন হবে।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের মধ্যে সম্ভাবনা রয়েছে। আপনারা যারা হৃদরোগবিদ্যার প্রশিক্ষক রয়েছেন জুনিয়র ডাক্তারদের বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তাদের দায়িত্ব নিতে হবে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দক্ষ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা বৃদ্ধি, চিকিৎসা অবকাঠামোর সম্প্রসারণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে হৃদরোগীদের জন্য বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আপনাদেরই দায়িত্বশীল এবং অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি তার বক্তব্যে বাংলাদেশের প্রখ্যাত কয়েকজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের স্মরণ করেন এবং প্রথমবারের মতো এ ধরনের সম্মেলন আয়োজনের জন্য আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
আশাবাদ ব্যক্ত করে মন্ত্রী আরও বলেন, এ ধরনের সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, হৃদরোগবিদ্যায় প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সর্বোপরি, হৃদরোগীদের সেবার মানোন্নয়নের জন্য এটি একটি শক্তিশালী ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি এবং সরকারকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
চিকিৎসাকে মহান পেশা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পেশার মহত্ত্বই সমাজে অন্যদের থেকে তাদের আলাদা মর্যাদা দেয়। তিনি চিকিৎসকদের মানবিকতার ব্রত নিয়ে রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা দেওয়ার আহ্বান জানান। দেশের চিকিৎসাখাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য চিকিৎসকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সম্মেলনের সমাপনী পর্বের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বাংলাদেশ হার্ট ফেইলিউর অ্যাসোসিয়েশনের কমিটি ঘোষণা করা। এ কমিটিতে সভাপতি হিসেবে অধ্যাপক ডা. আতাহার আলী, সাধারণ সম্পাদক ডা. ডিএমএম ফারুক ওসমানী খোকন এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ডা. এস এম ই বাকেরের নাম ঘোষণা করা হয়।
দুইজন প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কে এম এইচ এস সিরাজুল হক এবং অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলামকে হৃদরোগবিদ্যায় বিশেষ অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ ছাড়াও ডা. শহিদুল হকের হার্ট ফেইলিউরের ওপর লিখিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ। সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল জুরিখ থেকে আগত অধ্যাপক ড. রবার্ট মানকা, যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ হাসপাতালের হার্ট ফেইলিউর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক থেরেসা এ. ম্যাকডোনাঘ, রয়্যাল প্যাপওর্থ হাসপাতালের অ্যাডভান্সড হার্ট ফেইলিউর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক স্টিফেন পেটিট, এবং অধ্যাপক ফ্র্যাঙ্ক রুশিৎসকাসহ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বৈজ্ঞানিক সভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।
সম্মেলনের প্রাক-আয়োজনে মেডিকেল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং কার্ডিয়াক চৌম্বকীয় অনুরণন ইমেজিং (এমআরআই) বিষয়ক বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
মালয়েশিয়া থেকে আগত আধুনিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. সুতান কাভেরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সেশন পরিচালনা করেন, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। দেশি-বিদেশি ৮০০ জন কার্ডিওলজিস্ট এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
১ দিন আগে
১৯ মার্চ ও ২২ মার্চ খোলা থাকবে বিএমইউ-র বহির্বিভাগ
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির মধ্যে রোগীদের সুবিধার্থে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) বহির্বিভাগ আগামী ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার এবং ২২ মার্চ রবিবার খোলা থাকবে। ওই দুই দিন রোগীরা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ-সেবা নিতে পারবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে পরিচালককে (হাসপাতাল) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯ মার্চ ও ২২ মার্চ ছাড়া ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত বিএমইউ-র বহির্বিভাগ বন্ধ থাকবে। বন্ধের দিনগুলোতে হাসপাতালের ইনডোর ও জরুরি বিভাগ প্রচলিত নিয়মে খোলা থাকেবে। তবে ক্লাস, অফিস, বৈকালিক বিশেষায়িত চিকিৎসা পরামর্শ সেবা, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের চিকিৎসা পরামর্শ সেবা ও পিসিআর ল্যাব বন্ধ থাকবে।
ঈদের ছুটি শেষে মঙ্গলবার ২৪ মার্চ থেকে হাসপাতালের সব কার্যক্রম প্রচলিত নিয়মে শুরু হবে। ওই দিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ঈদুল ফিতর-পরবর্তী ঈদ পুনর্মিলনী-২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে।
১৭ দিন আগে
স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, হাসপাতালগুলোকে দুর্নীতি ও দালালমুক্ত করা এবং সাধারণ মানুষ যাতে হাসপাতালে এসে তাদের প্রাপ্য সেবাটুকু পায়—সে লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন তিনি। পরে সিংগাইর পৌরসভার আয়োজনে মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার চায় সাধারণ মানুষ যেন সরকারি হাসপাতালে এসে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয়। হাসপাতালগুলোকে দুর্নীতি ও দালালমুক্ত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।’
তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ সরবরাহে দুর্নীতি, রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবার ঠিকমতো না দেওয়া এবং ডাক্তার-নার্সদের সময়মতো হাসপাতালে উপস্থিত না থাকার মতো অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মো. সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, গ্রামের সাধারণ মানুষ যাতে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পায়, সেজন্য উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাবেল উদ্দিন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাফসান রেজা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম এবং হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৮ দিন আগে
আকস্মিক পরিদর্শনে ঢামেক হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আকস্মিক পরিদর্শনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (৪ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে ঢামেক হাসপাতাল পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাসপাতালের পুরোনো ভবনের বেশ কিছু ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগের অপারেশন থিয়েটার ও বার্ন ইউনিট পরিদর্শন করেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এখানে রোগীর তুলনায় সুযোগ-সুবিধা কম। আরও চিকিৎসক দরকার। হাসপাতালে স্টাফ, নার্সদেরও স্বল্পতা রয়েছে।
তিনি বলেন, আগে যেমন দেখতাম রোগীর বিছানা তেলাপোকায় ভরা, এখন সেটি কম। রোগীরা অনেক ওষুধ পাচ্ছেন না, এমন অভিযোগ রয়েছে। একটি বাদে বাকি অপারেশন থিয়েটার উন্নত না। অ্যানেসথেসিয়ার চিকিৎসক স্বল্পতা রয়েছে। হাসপাতালের বেডশিটসহ বিভিন্ন কাপড় নিম্নমানের ওয়াশ করানো হয়; এ জন্য হাসপাতালের পরিচালককে বলেছি, বিল কেটে নেওয়ার কথা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আজকে আমি কোনো দালাল দেখিনি। হাসপাতালে কাউকে দালালি করতে দেব না। ট্রলি ভাড়া দিয়ে টাকা নিতে দেব না। দালালদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। আমরা সীমিত সম্পদের মধ্যেই স্বাস্থ্যসেবা সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই।
২৮ দিন আগে
স্বাস্থ্যখাতে চীনের সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
স্বাস্থ্যখাতে চীনের চলমান সহযোগিতার প্রশংসা করে তা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কীট ও সরঞ্জাম সরবরাহ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ও গবেষকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করতে সহযোগিতা চান।
আশা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেছেন, বাংলাদেশে ১ হাজার বেডের হাসপাতালে নির্মাণে চীন তার সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।
সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য সচিব (রুটিন দায়িত্ব) খোরশেদ আলম ও ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং উপস্থিত ছিলেন।
চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রস্তাবিত এক হাজার বেডের হাসপাতাল নির্মাণে সহযোগিতা করতে তারা পিছুপা হবেন না, তা সাধারণ হাসপাতাল হোক বা বিশেষায়িত হাসপাতাল।
তিনি বলেন, মাইলস্টোন স্কুলে বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসাসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে চীন থেকে চিকিৎসক দল এসেছে। রোবোটিক পুনর্বাসনকেন্দ্রে ৮২টি যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও বাংলাদেশি মেডিকেল কর্মীদের চীনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
এ সময় উচ্চ শিক্ষায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও গবেষকদের জন্য আবাসনের বিষয়ে সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, চীনের সহযোগিতায় প্রস্তাবিত এক হাজার বেডের হাসপাতাল উত্তরবঙ্গে হওয়াটাই যুক্তিযুক্ত, যেহতু উত্তরবঙ্গ অনুন্নত ও অবহেলিত।
৩০ দিন আগে
চিকিৎসকদের সেবা সরেজমিন তদারকি করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
চিকিৎসকরা ঠিকমতো সেবা দিচ্ছেন কিনা, সেটার সরেজমিন তদারকি করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালগুলোতে আমরা সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন, যে বার্তা দিয়েছেন, সে অনুযায়ী কাজ করব।
তিনি বলেন, দায়িত্বরত চিকিৎসকরা ঠিকমতো সেবা দিচ্ছেন কিনা, তা দেখতে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে যাব, দেখব। সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে। আমাদের কার্যক্রম দ্বারা যেন জনসাধারণ উপকৃত হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা কোনো সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেব না।
স্বাস্থ্যসচিব মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।
তিনি বলেন, আমাদের বিভিন্ন বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানে প্রচুর শূন্য পদ আছে, ফলে মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা বঞ্চিত হচ্ছে। শূন্য পদ পূরণে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এছাড়া আমাদের মেডিকেল শিক্ষার মান উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য সচিব।
সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অধীনস্থ দপ্তর বা সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
৪১ দিন আগে
ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ১৭৯, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সতর্কতা
পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিচ্ছে বাংলাদেশের ডেঙ্গু। মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর বলেন, ‘পরিস্থিতি ক্রমশই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। অধিকাংশ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই মারা যাচ্ছেন।’
তিনি জানান, সর্বাধিক মৃত্যু ঘটছে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী রোগীদের মধ্যে। তাদের অনেকেই জ্বর শুরু হওয়ার ছয় থেকে সাত দিন পর চিকিৎসা নিতে আসেন, যা অনেক সময় জটিলতা এড়ানোর জন্য দেরি হয়ে যায়। শিশুদের মধ্যেও মৃত্যুঝুঁকি বেড়েছে বলে জানান তিনি।
যদিও এ বছর সংক্রমণের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় বেশি, তবে সামগ্রিক মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে বলে জানান আবু জাফর। তবু ক্রমবর্ধমান সংখ্যক রোগী গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে যাচ্ছে, যা মৃত্যুহার বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘কারো জ্বর হলে অবিলম্বে ডেঙ্গু পরীক্ষার করানো উচিত। দেরিতে শনাক্ত হলে জটিলতা দেখা দেয় এবং মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। ডেঙ্গুতে মৃত্যুঝুঁকি মোকাবিলায় সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।’
শুধু সরকারি উদ্যোগে এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি বলেন, জনসচেতনতা এবং সতর্কতাও অপরিহার্য।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মইনুল হাসান জানান, প্রতিটি ডেঙ্গু রোগীকে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখতে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সারা দেশের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুতি জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
১৯০ দিন আগে
ডেঙ্গুতে মৌসুমের সর্বোচ্চ ১২ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৭৪০
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা চলতি ডেঙ্গু মৌসুমে একদিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা। এই সময়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৭৪০ জন রোগী।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় এসব মৃত্যু ও আক্রান্তের রেকর্ড করা হয়েছে।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগ ৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২ জন, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।
মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ নারী ও ৬ পুরুষ রয়েছেন। বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মৃত ৪ জনের বয়স ২৬–৩০ বছর, ৩ জনের ৩১–৩৫, ২ জনের ৩৬–৪০ বছরের মধ্যে।
ঢামেকের তৃতীয় তলার ছাদের পলেস্তারা খুলে রোগী আহত
এদিকে, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৪০ জন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৬৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৪৭ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১২২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১১৫ জন, খুলনা বিভাগে ৫২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২২ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৮ জন, রংপুর বিভাগে ৩ জন এবং সিলেট বিভোগে ৯ জন ভর্তি হয়েছেন।
সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৫৬ জনসহ সারাদেশে মোট ২ হাজার ২১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এখন পর্যন্ত, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৯ হাজার ৬৩১ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
আর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৪২০ জন।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছর আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ১৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ ও ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ নারী।
এতে আরও জানানো হয়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে মোট ৪১ হাজার ৮৩১ জন। এর মধ্যে ৬০ দশমিক ৩ শতাংশ পুরুষ ও ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ নারী।
১৯২ দিন আগে
তরুণেরা সক্রিয় থাকলে দেশের কোনো সমস্যা অমীমাংসিত থাকবে না: প্রধান উপদেষ্টা
তরুণদের মেধা, শক্তি ও সৃজনশীলতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, তরুণেরা সক্রিয় থাকলে দেশের কোনো সমস্যাই আর অমীমাংসিত থাকতে পারে না।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আয়োজিত ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ ও তরুণ প্রজন্মের অনুপ্রেরণামূলক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ১২ তরুণের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
তরুণদের উদ্দেশে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমি যুবসমাজের প্রত্যেক সদস্যকে আহ্বান জানাই, তোমাদের মেধা, শক্তি ও সৃজনশীলতা দিয়ে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখো। তোমাদের সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত অর্জনে সীমাবদ্ধ না রেখে অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হোক। আমি বিশ্বাস করি, তরুণেরা সক্রিয় থাকলে দেশের কোনো সমস্যাই আর অমীমাংসিত থাকতে পারবে না।’
তিনি বলেন, তিনি বলেন, ‘আমরা তোমাদের নতুন নীতি, যুগান্তকারী ধারণা ও সামাজিক পরিবর্তনের অগ্রদূত হিসেবে দেখতে চাই। তোমাদের সম্মিলিত প্রয়াসেই বাংলাদেশ একটি উন্নত, মানবিক ও উদ্ভাবনী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।’
আরও পড়ুন: প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন আন্তর্জাতিক গণিত-জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে পদকজয়ী ৬ শিক্ষার্থী
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আজ আমরা তারুণ্যের শক্তিকে উদ্যাপন করছি। এটিই আমাদের জাতির চালিকা শক্তি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যখন একটি দেশের যুবসমাজ সক্রিয় থাকে, উদ্যমী ও উদ্ভাবনী শক্তিতে বলীয়ান হয়, তখন কোনো প্রতিবন্ধকতাই তাদের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে রাখতে পারে না।’
স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ সুরক্ষা, দারিদ্র্য নিরসন ও সামাজিক ন্যায়বিচারে তরুণদের অবদান তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং জাতি গঠনে তাদের নেতৃত্বের ভূমিকাও স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের চলার পথে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে। কখনো তা জনস্বাস্থ্যের সংকট, কখনো শিক্ষার অপর্যাপ্ত সুযোগ, আবার কখনো পরিবেশগত বিপর্যয়। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে হতাশ না হয়ে বরং আমাদের নিজস্ব শক্তি দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে। আমি আশা করি, এ কাজেও আমাদের তরুণেরা নেতৃত্ব দেবে।’
স্বেচ্ছাসেবাকে আত্ম-উন্নয়ন এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের আদর্শ মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তরুণেরা কেবল স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেই থেমে থাকবে না, বরং সমাজের নীতিনির্ধারক, উদ্ভাবক এবং পরিবর্তনের স্থপতি হিসেবে নিজেদের তুলে ধরবে।
১৯৮ দিন আগে