ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
কিয়েভে রাতভর রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১২
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৩ জন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত দেশটির রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত কিয়েভে বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল। হামলায় দারনিতস্কি, স্ভিয়াতোশিনস্কি ও সোলোমিয়ানস্কি জেলার ১২টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আবাসিক ভবন, একটি চিকিৎসাকেন্দ্র ও একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। হামলার পর উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
হামলায় দেশটির সোলোমিয়ানস্কি জেলায় একটি ৯ তলা আবাসিক ভবনের দুটি তলা ধসে পড়েছে। ভবনটির অন্যান্য তলাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় দুটি আবাসিক ভবন ও একটি স্কুলের আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ আটকা পড়েছিল।
অশ্রুসজল চোখে কিয়েভের বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী লারিসা বন্দার্যাক বলেন, তার এক প্রতিবেশীর নাতি ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে মারা গেছে। তার নিজের অ্যাপার্টমেন্টও এতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘একটি রকেট তাদের ছাদে আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড শব্দ হয়। এতে একটি দরজা উড়ে যায়। চারদিক থেকে তখন ধোঁয়া ও আগুন, একই সঙ্গে মানুষের চিৎকার ও কান্না ভেসে আসছিল।’
৬ দিন আগে
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করল আরব আমিরাত
ইরানের বিরুদ্ধে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ তুলে দেশটির সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। তবে ইউএইর এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছে ইরান।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের মধ্যে এমন অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত তৎপরতার অংশ বলে দাবি করেছে তেহরান।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিভিন্ন পদক্ষেপ তাদের দেশের শান্তি ও নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধ থাকবে।
এর আগে ইউএইর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। তার মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে এবং অন্যটি আঞ্চলিক জলসীমার ভেতরে গিয়ে পড়েছে।
পরে দেওয়া আরেক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, দেশটির নিরাপত্তা বা এ অঞ্চলের নৌ চলাচল বিঘ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা তারা দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করবে।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিরদ্ধে আনা এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের মধ্যে তাদের বিরদ্ধে প্রতিবেশী দেশের এ ধরনের অভিযোগ একটি একটি পরিকল্পিত তৎপরতার অংশ।
ইসমাইল বাঘাই আরও বলেন, এ ধরনের অভিযোগ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোকেও ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়ানো থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানান।
একই সঙ্গে তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে বর্তমানে চলমান যুদ্ধের মূল্যায়ন করতে হবে।
৭ দিন আগে
মস্কোয় ইউক্রেনের ৮০০ ড্রোন হামলা, ইউক্রেনের গ্রামে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১০
রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলার একটি চালিয়েছে ইউক্রেনের। এই হামলায় রাশিয়ার উদ্দেশে প্রায় ৮০০ ড্রোন ছোড়া হয়েছে জানিয়েছেন কিয়েভের কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলের একটি গ্রামে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং আরও ১৭ জন আহত হয়েছেন। হামলায় বেশ কয়েকটি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতভর এই পাল্টাপাল্টি হামলা চলে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত ক্রিমিয়া এবং কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরের ওপর ৭৯১টি ইউক্রেনীয় ড্রোন রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর এটি রাশিয়ার ওপর দ্বিতীয় বৃহত্তম ড্রোন হামলা।
৮ দিন আগে
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ১৭ জন নিহত
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় আরও অন্তত ৪৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা।
স্থানীয় সময় বুধবার (৫ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত এ হামলা চালানো হয়।
এ বছর গ্রীষ্মে রাশিয়ার বড় আকারের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠেছে। গতরাতের (বুধবার) হামলাটি ছিল সেই ধারাবাহিক হামলার সর্বশেষ একটি ঘটনা।
যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ‘প্যাট্রিয়ট’ নামের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ‘ইন্টারসেপ্টর’ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ইউক্রেনের হাতে সীমিত। একমাত্র ইন্টারসেপ্টরের মাধ্যমেই রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা সম্ভব। বর্তমানে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনের হাতে নেই। তাই রাশিয়া একসঙ্গে অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লে সেগুলো প্রতিহত করা ইউক্রেনের পক্ষে কঠিন হয়ে যায়।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, এ হামলায় রাজধানী কিয়েভের আশপাশের বিস্তৃত অঞ্চলে ১৪ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া দেশটির ব্রোভারি, বুচা ও ফাস্টিভ জেলায় একাধিক স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ফলে হাব্রোভারি শহর ও ভেলিকা ডাইমেরকা, কভিটনেভে ও পেরেমোহা গ্রামের বড় বড় গুদামঘরে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ফাস্টিভ জেলায় একটি প্রতিষ্ঠানের যানবাহনে লাগা আগুন পরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। অন্যদিকে, বুচা জেলার সোফিইভস্কা বরশচাহিভকার একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রে আগুন নেভানো হয়। পরে চাইকি গ্রামের আরেকটি গুদামঘরে আগুন নেভান দমকলকর্মীরা।
হামলায় রাজধানী কিয়েভে একজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে, কিয়েভ সিটি মিলিটারি প্রশাসন জানিয়েছে, ওবোলনস্কি, সভিয়াতোশিনস্কি, হলোসিয়িভস্কি ও দেসনিয়ানস্কি এসব জেলায় হামলার ফলে সৃষ্ট আগুন জরুরি সেবা কর্মীরা নিয়ন্ত্রণে এনেছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা সেরহি বেসক্রেস্টনভ বলেন, ‘এই যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি এখন নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। শত্রুপক্ষ নির্বিচারে সবকিছুতে হামলা চালাচ্ছে। খুচরা পণ্যের গুদাম, খাদ্য সংরক্ষণাগার, লজিস্টিকস হাব, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নির্মাণসামগ্রীর গুদামঘর কোনো কিছুই তারা বাদ রাখেনি।’
রাশিয়ার বড় ধরনের হামলার শিকার হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি হলো ‘এপিসেন্টর’। এটি ইউক্রেনের অন্যতম বৃহৎ খুচরা বিক্রয় ও নির্মাণসামগ্রী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।
ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ‘প্রতিষ্ঠানটি কয়েক দশক ধরে যা গড়ে তুলেছিল, মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র তা ধ্বংস করে দিয়েছে। হামলায় প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মী নিহত ও আরও ৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া রাশিয়ার হামলায় প্রতিষ্ঠানটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস হাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়াও সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে প্রতিষ্ঠানটির সিরামিক টাইলস কারখানার উৎপাদন বিভাগ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে কোম্পানিটি সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে তা বিদেশে স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে তাদের প্রায় ২ বছর সময় লাগতে পারে।
এপিসেন্টর আরও জানায়, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য ইউক্রেনীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিও তারা সংহতি প্রকাশ করছে। কারণ, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পেছনে কত বছরের পরিশ্রম, চেষ্টা, বিশ্বাস ও দায়বদ্ধতা রয়েছে, তা তারা ভালোভাবেই জানে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনও রাশিয়ার খুচরা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি দেশটি রাশিয়ার অ্যামাজন নামে পরিচিত ওয়াইল্ডবেরিজের একাধিক গুদামে হামলা চালিয়েছে। বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে মস্কোর অর্থনীতিতে ক্ষতি করা ও রাশিয়ার জনগণকে যুদ্ধের মূল্য উপলব্ধি করাতে ইউক্রেন এসব হামলা চালাচ্ছে।
২১ দিন আগে
ইউক্রেনে ফের রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ১৮
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে এ হামলা চালানো হয়।
এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই অবশ্য রাজধানীতে রাশিয়ার আরেকটি বড় ধরনের হামলা হতে পারে সতর্ক করেছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, এ হামলায় কিয়েভের একাধিক আবাসিক বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপে জীবিত কাউকে খুঁজে পেতে অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো এক টেলিগ্রাম পোস্টে বলেন, রাশিয়া আবাসিক ভবনগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এসব ভবনে মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমাত। এখানে তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করত।
তিনি জানান, পোদিলস্কি জেলায় একটি আবাসিক ভবনের একটি অংশ ধসে পড়েছে। এছাড়া দারনিৎসিয়া জেলায় কয়েকটি বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকে পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, এ হামলায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোনও ব্যবহার করা হয়েছে। দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দে পুরো কিয়েভ শহর কেঁপে উঠেছিল। এ সময় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনেক মানুষ মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন।
গত সপ্তাহে কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছে। তার কয়েক দিনের পরেই আবারও সোমবার এই হামলা করল রাশিয়া।
গত রবিবার গভীর রাতে টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে ইউক্রেনে আরও বেশি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেনের কাছে এসব ক্ষেপণাস্ত্র পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করা কঠিন হবে। এতে রাশিয়া আরও হামলা চালাতে উৎসাহিত হবে। এর ফলে চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হবে।
৫১ দিন আগে
কিয়েভে রাতভর রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত অন্তত ১৩
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এ হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৮৬ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোর পর্যন্ত চলা এ হামলার পর উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
একই সঙ্গে দেশটির সরকার মিত্র দেশগুলোর প্রতি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ব্যালিস্টিক, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে চালানো এ হামলায় শহরের বিভিন্ন ভবন ও বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার প্রথম সতর্কবার্তা জারির পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষের আহ্বানে সেখানের বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য মেট্রো স্টেশনে চলে যান।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, হামলায় কিয়েভে ১৩ জন নিহত ও ৮৬ জন আহত হয়েছেন। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, এ ঘটনায় শহরের অন্তত ৩০টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে, যার বেশিরভাগই আবাসিক ভবন ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা।
এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহর ক্লিমেঙ্কো জানান, শহরজুড়ে অন্তত ২০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানায়, হামলার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রায় ৫০০ জন কর্মী এবং ১০০টি বিশেষায়িত যান মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হেলিকপ্টারও রয়েছে।
৫৫ দিন আগে
এবার ইসরায়েল-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের আশঙ্কা
প্রায় দুই মাসের যুদ্ধবিরতির পর আবারও ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। এদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে। নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৮ জুন) উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা সৌদি আরবের একটি এলাকার দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরান ইসরায়েলের দিকে দুই দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। হামলার সময় ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে। তারপরও ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এর আগে, সোমবার ভোরে ইসরায়েল মধ্য ও পশ্চিম ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। তাদের দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়। গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘর্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কয়েকদিন আগে ইসরায়েলকে সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সে আহ্বান উপেক্ষা করে স্থানীয় সময় রবিবার (৭ জুন) বৈরুতের দক্ষিণ উশহরে হামলা চালায় ইসরায়েল। এর পরপরই ইরান পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। এর আগে, ট্রাম্প বেনিয়মিন নেতানিয়াহুকে বলেছিলেন, ইসরায়েলের আর কোনো পাল্টা হামলার প্রয়োজন নেই।
ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুথিদের
এদিকে, ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, লোহিত সাগরে চলাচলকারী ইসরায়েলের জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে আবারও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে।
হুথিদের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারির হামলার এ বিবৃতি গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচার করা হয়।
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে হুথিদের এই ঘোষণায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এ সময় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও সাম্প্রতিক এসব ঘটনার কারণে সেখানের পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।
৭৯ দিন আগে
অবরোধ ভাঙার চেষ্টা: বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে থামিয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
স্থানীয় সময় শনিবার (৩০ মে) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, গাম্বিয়ার পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘লিয়ান স্টার’ একটি ইরানি বন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। এ সময় মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে ২০টিরও বেশি সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও জাহাজটি সেগুলো উপেক্ষা করে।
সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে সেটিকে থামিয়ে দেওয়া হয়।
এই সামরিক অভিযান সম্পর্কে অবহিত এক মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জাহাজটি বর্তমানে ওমান উপসাগরে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। মার্কিন বাহিনী এখন পর্যন্ত জাহাজটিতে চড়েনি।
সেন্টকম জানিয়েছে, সর্বশেষ এই অভিযানের মাধ্যমে অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা মোট ছয়টি জাহাজকে থামানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজকে গন্তব্যে যেতে দেওয়া হয়। এছাড়া আরও ১১৬টি জাহাজকে অন্য পথে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় এর প্রতিক্রিয়ায় ১৭ এপ্রিল থেকে এই অবরোধ কার্যকর করে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে পাকিস্তানের প্রচেষ্টায় ৭ এপ্রিল থেকে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। বর্তমানে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয় কি না, তা নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে সব পক্ষ। ওই সময়ের মধ্যে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং সারসহ সংশ্লিষ্ট পণ্যের বড় অংশের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ভোক্তা ও খাদ্য উৎপাদকদের ওপর চাপ বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধের লক্ষ্য হচ্ছে, ইরানের নিজস্ব রপ্তানি সীমিত করা এবং দেশটির অর্থনীতিতে নগদ অর্থের প্রবাহ আরও কমিয়ে আনা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে তিনি এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। ইরান জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো চুক্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় অনেক কম হলেও প্রণালিটি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। যদিও ইরান দাবি করে আসছে, এই পথে যেকোনো নৌযান চলাচলের জন্য তাদের অনুমোদন প্রয়োজন।
শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড সতর্ক করে বলেছে, ‘এই বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজের নিরাপদ চলাচল গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়বে।’ পাশাপাশি তারা হুঁশিয়ারি দেয়, এ বিষয়ে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা যেকোনো সামরিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
ইরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায় করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শান্তিপূর্ণ নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের একটি মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান বিন হাসান বিন আলী আল থানি শনিবার বলেন, তারা প্রণালি ব্যবহারে ফি আরোপের বিরোধী। তবে সাময়িকভাবে মাইন অপসারণ বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কাজে ওই অর্থ ব্যবহার করা হলে তা আলোচনার বিষয় হতে পারে এবং তা হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল পুনরুদ্ধারেও সহায়ক হতে পারে।
এর আগে, একই মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কোনো মাইন শনাক্ত বা ধ্বংস করতে পারেনি।
৮৭ দিন আগে
যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যে ইসরায়েলে ইরানের হামলা, নিহত ৪
যুদ্ধবিরতের আলোচনা চলার মধ্যেই ইসরায়েলে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। দক্ষিণ ইসরায়েলের বেয়ার শেভা শহরের একটি আবাসিক ভবনে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে চারজন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৪ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ)।
এর আগে প্রায় ৪০ বছর বয়সী একজন পুরুষ, প্রায় ৩০ বছর বয়সী একজন নারী ও প্রায় ২০ বছর বয়সী এক তরুণ মারাত্মকভাবে আহত হন বলে জানায় এমডিএ।
সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানান, আরও ছয়জনকে হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার আঘাত নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে তারা এবং বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলের সঙ্গে এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়নি: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
এদিকে, সোমবার (২৩ জুন) সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ও ইসরায়েল সম্পূর্ণ ও পুরোপুরি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে।
তবে মঙ্গলবার (২৪ জুন) ভোরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, ইসরায়েলের সঙ্গে এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বা সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েল যদি তেহরানের স্থানীয় সময় অনুযায়ী ভোর ৪টার মধ্যে ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে তাদের অবৈধ আগ্রাসন বন্ধ করে, তাহলে আমরা আর পাল্টা হামলা চালিয়ে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা রাখি না।’
সূত্র: সিএনএন
৪২৮ দিন আগে
ইসরায়েলে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের, নিহত ৫
ইসরায়েলে আরও এক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান, এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এ হামলার মধ্য দিয়ে ইসরায়েল-ইরানের চলমান উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ জুন) ভোরে এই হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলের জাতীয় জরুরি সেবার কর্মকর্তা মাগেন দাভিদ আদোম এই হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছেন।
এ ছাড়া, এই হামলায় তেল আবিবের মার্কিন দূতাবাসের অবকাঠামোগত সামান্য ক্ষতি হলেও সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে সামাজিকমাধ্যম এক্সে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন দূত মাইক হাকাবি।
এদিকে, ইসরায়েলে প্রায় ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি করেছে তেহরান। ইসরায়েলের চালানো হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত ২২৪ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এর জবাবেই ইসরায়েলে হামলার কথা জানিয়েছে তেহরান।
এদিকে, সোমবারের হতাহতের পর ইসরায়েলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এই হামলার জবাবে ইরানের কুদস বাহিনীর ১০টি কমান্ড সেন্টার জীবাণুমুক্ত করার জন্য আক্রমণ চালানোর দাবি করেছে তেল আবিব।
কুদস বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিট, যা বিদেশি অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত।
এদিকে, ইরানের হামলায় তেল আবিবের নিকটবর্তী পেতাহ তিকভা শহরে স্থানীয়রা জানান, সেখানে একটি আবাসিক ভবনে সরাসরি আঘাতে কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট ও জানালা ভেঙে গেছে।
মাগেন দাভিদ জানান, নিহতদের মধ্যে দুইজন পুরুষ এবং দুইজন বুদ্ধ নারী, সঙ্গে আরও এক ব্যক্তি। এছাড়া আরও ৮৭ জন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে একজন নারী গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন।
এর আগে, ইসরায়েল হামলা অব্যাহত রাখলে কোনো যুদ্ধবিরতির কথা বিবেচনা করবে না বলে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী কাতার ও ওমানকে স্পষ্ট জানিয়েছে ইরান। তবে অভিযান আরও কঠিন হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয় ইসরায়েল। এর জবাবে ইরানও কঠোর প্রতিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তেহরান বলেছে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তারা ‘নরকের দরজা খুলে দেবে’।
এদিকে, ইরানের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে দেশটিতে ইসরায়েলের হামলায় দুই শতাধিক নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন অন্তত ১ হাজার ২০০ মানুষ।
শুক্রবার (১৩ জুন) ভোরে রানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক স্থানে হামলা চালায় ইসরায়েল। এই অপারেশনের নাম দেওয়া হয়েছে রাইজিং লায়ন। এর পর পরই পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি মনে করে ইসরায়েল। ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির শেষ ধাপ পর্যন্ত না পৌঁছাতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে তেল আবিব।
তবে এ অভিযানকে সম্পূর্ণরূপে বেসামরিক বলে আখ্যা দিয়েছে ইরান। এ ছাড়া, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে না বলে দাবি করেছে তারা।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলের হামলার মধ্যেই যুদ্ধবিরতির আলোচনা প্রত্যাখান ইরানের
৪৩৬ দিন আগে