শেয়ারবাজার
পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুঁজিবাজারে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও কারসাজির সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে সরকার বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেছেন, সরকার ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পণ্যের বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসার ইত্যাদির মাধ্যমে উন্নত ও টেকসই পুঁজিবাজার গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উত্থাপিত হয়।
সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারীর পক্ষে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের শেয়ার মার্কেটের ধারাবাহিক পতনের প্রধান কারণগুলো কী কী ছিল, শেয়ার মার্কেটের ধারাবাহিক পতন ঘটিয়ে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব করার জন্য যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা?
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির অভিযোগ দুদকের মাধ্যমে অনুসন্ধান ও কতিপয় ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে মামলাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির সঙ্গে আরও অন্যান্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত কিনা তা উদঘাটনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের শেয়ার বাজারের ধারাবাহিক পতনের কারণ উদঘাটনে বিভিন্ন সময় বিশেষজ্ঞ, বিনিয়োগকারী সংগঠন এবং বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। পরিচালিত কার্যক্রমে শেয়ার বাজারের ধারাবাহিক পতনের পেছনে নিম্নোক্ত কারণগুলো সক্রিয় ছিল।
সংসদ নেতা বলেন, বাজার কারসাজি ও কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো-কমানো, কিছু কোম্পানির আইপিও, বন্ড ও অন্যান্য ইস্যুতে অনিয়ম, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দীর্ঘমেয়াদি দুর্বল তদারকি এবং সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া, কর্পোরেট সুশাসনের ঘাটতি ও আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ এবং বাজারে আস্থার সংকট, নীতিগত অসঙ্গতি ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও পুঁজিবাজার বান্ধব করনীতির অভাব ইত্যাদি কারণ রয়েছে।
তিনি বলেন, শেয়ার মার্কেট কারসাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এক হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া দায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণে গঠিত তদন্ত কমিটির গঠন ও প্রদত্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে উন্নত ও টেকসই পুঁজিবাজার গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরপর তিনি পুঁজিবাজার সংস্কারে সরকারের ১৭টি অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
পুঁজিবাজার সংস্কারে সরকারের পদক্ষেপ
১. বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকার ৪ জুন পুঁজিবাজার বিষয়ে দক্ষ এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন চেয়ারম্যান ও তিনজন কমিশনারকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে নিয়োগ প্রদান করেছে।
২. নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বাজারে বিদ্যমান ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করেছে।
৩. লাভজনক সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিসমূহের শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তিকরণে উদ্বুদ্ধ করা। এ ছাড়াও, বহুজাতিক কোম্পানিসহ উচ্চ মূলধনসম্পন্ন কোম্পানিসমূহের শেয়ারও স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তিকরণের সুযোগ সৃষ্টি করা।
৪. এসএমই কোম্পানিসহ ভাল মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিসমূহকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা।
৫. পুঁজিবাজার কারসাজি বন্ধে অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ ও প্রদানকারীর (হুইসেলব্লোয়ার) প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও উৎসাহ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৬. তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের হিসাব নিরীক্ষা, উপর্যুক্ত অডিটরের মাধ্যমে নিরীক্ষার নিমিত্ত ‘এনলিস্টমেন্ট অব প্যানেল অব অডিটরস অ্যান্ড অডিট ফার্মস’ নীতিমালা প্রণয়ন করা।
৭. ফরেন পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট (এফপিআই) অনবোর্ডিং পোর্টাল চালু, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান সংস্কার, ওয়ান স্টপ সিকিউরিটিজ কাস্টডিয়ান সার্ভিস চালু, ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স হ্রাসকরণ, লভ্যাংশ আয়ে দ্বৈত কর বাতিল এবং বিও অ্যাকাউন্ট খোলা ও মূলধন প্রত্যাবসান প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা।
৮. পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা দায়ের সংক্রান্ত বিধান সিকিউরিটিজ আইনে অন্তর্ভুক্ত করা।
৯. পুঁজিবাজারের সংস্কারকল্পে একটি 'পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন' এবং অনিয়ম তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করা।
১০. পুঁজিবাজারে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মার্কেট ও পণ্য উভয়ই সম্প্রসারিত করা।
১১. ই-কেওয়াইসি-এর মাধ্যমে অনলাইন ও মোবাইল ভিত্তিক বিও হিসাব খোলা ও ট্রেডিং সুবিধা চালু করা।
১২. বিনিয়োগবান্ধব ও যুক্তিসঙ্গত করনীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া।
১৩. ব্যাংক ও এমএফএসের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে টাকা জমা ও উত্তোলনের সুবিধা প্রদান করা।
১৪. এআইভিত্তিক শক্তিশালী নজরদারির মাধ্যমে বাজারের অনিয়ম ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্তকরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ চলমান রাখা।
১৫. তালিকাভুক্ত ইস্যুয়ার কোম্পানিসমূহে সুশাসন জোরদারকরণে সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে অর্জিত সুদ আয়ের অংশ বিশেষ বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিলে জমা করার বিধান প্রণয়ন করা।
১৬. আইনকানুন যুগোপযোগী করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ আরও সুরক্ষিত করা।
১৭. সরকারি সিকিউরিটিজসমূহের (ট্রেজারি বন্ড, ট্রেজারি বিল ও সরকারি সুকুক) লেনদেন স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে নিষ্পন্ন করার মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা ইত্যাদি।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হবে।
৭ দিন আগে
শেয়ারবাজার ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে: অর্থমন্ত্রী
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগামী দিনে দেশের শেয়ারবাজার ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম সফরকালে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতে পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি আর চলবে না। পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য সরকারের নানা পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বাজেট কোনো গতানুগতিক বাজেট হবে না। অর্থনৈতিকভাবে দেশ উত্তোরনের পথে হাঁটবে। শেয়ারবাজার ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে।’
তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কর্মসংস্থান। জনগণ যাতে অর্থনীতির সুফল পায়, সরকার সেই পথেই কাজ করবে। বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং বন্দর কার্যক্রমকে আরও উন্নত করা হবে। ধীরে ধীরে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। তবে অগ্রাধিকার থাকবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে। চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন। কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়ানো—এই দুই বিষয়কে সামনে রেখে আমরা এগোব।
আমির খসরু জানান, চট্টগ্রামকে প্রকৃত অর্থেই বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যক্রম শুরু হবে। বিশেষ করে বন্দর আধুনিকায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বন্দরকে আরও আধুনিক ও সক্ষম করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।
এদিকে, বিকেলে নগরীর মেহেদীবাগের বাসায় অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারীদের এক সভায় অর্থমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে যেন কোনো পণ্যের দাম না বাড়ে এবং রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায় এমন কিছু না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি।
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বন্দরকে ঘিরে এমন কিছু রয়েছে যা পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে, যা বহন করছে সাধারণ মানুষ। এ সময় তিনি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ারও কথা বলেন। আন্তঃমন্ত্রণালায় বৈঠকের মাধ্যমে এসব সমস্যা শিগগিরই সমাধান হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি বন্দরকে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় বন্দরের ট্যারিফ যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারনের দাবি জানানো হয় অংশগ্রহনকারীদের পক্ষ থেকে।
বৈঠকে চট্টগ্রামের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ছাড়াও চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার, চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবহারকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
১৪৪ দিন আগে
বড় উত্থানে লেনদেন চলছে ঢাকা-চট্টগ্রামের পুঁজিবাজারে
সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে সূচকের বড় উত্থানে লেনদেন চলছে ঢাকা-চট্টগ্রামের পুঁজিবাজারে, বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সারা দিনের লেনদেনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৬২ পয়েন্ট। বাকি দুই সূচক শরীয়াভিত্তিক ডিএসইএস বেড়েছে ৮ এবং বাছাইকৃত কোম্পানির ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ বেড়েছে ৩৬ পয়েন্ট।
লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৭টি কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ১১২টি কোম্পানির এবং অপরিবর্তিত আছে ৭৬টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
প্রথম দুই ঘণ্টায় ঢাকার বাজারে ৫০০ কোটি টাকার ওপরে শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
আরও পড়ুন: লেনদেনের প্রথমার্ধে ঢাকায় উত্থান, চট্টগ্রামে পতন
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক বেড়েছে ২০২ পয়েন্ট।
চট্টগ্রামে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮২টি কোম্পানির মধ্যে ১০৫টি কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ৫৭টির এবং অপরিবর্তিত আছে ২০টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সিএসইতে ৩ কোটি টাকার ওপরে শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
৩৫৭ দিন আগে
সূচকের পতনে শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শুরু
সূচকের পতন দিয়ে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের দুই শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয়েছে। প্রথম ঘণ্টায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সবকটি সূচকই কমেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) প্রথম ঘণ্টায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৯ পয়েন্ট কমে গেছে। পাশাপাশি শরিয়াভিত্তিক সূচক ডিএসইএস কমেছে ৮ পয়েন্ট এবং ব্লু-চিপ কোম্পানির সূচক ডিএস৩০ কমেছে ১ পয়েন্ট।
আরও পড়ুন: পুঁজিবাজারে লভ্যাংশ না দেওয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কমিশন
সূচক কমলেও বেশিরভাগ শেয়ারের দাম কিছুটা উর্ধ্বমুখী। লেনদেন হওয়া কোম্পানির মধ্যে ১৫৬টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ১০০টির কমেছে এবং ৮৯টি অপরিবর্তিত রয়েছে। ডিএসইতে প্রথম ঘণ্টার লেনদেন ছাড়িয়েছে ৫০ কোটি টাকা।
এদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক কমেছে ৩৫ পয়েন্ট। লেনদেন হওয়া ৬৫ কোম্পানির মধ্যে ২২টির দাম বেড়েছে, ৩১টির কমেছে এবং ১২টি অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রথম ঘণ্টায় সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪০ লাখ টাকার বেশি।
৪১২ দিন আগে
দুই শেয়ারবাজারেই দরপতন, ডিএসইর সূচকে কমেছে ৩৫ পয়েন্ট
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবারের লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন দুপুর পর্যন্ত বাজার স্থিতিশীল থাকলেও বিকালের দিকে পতনমুখী হয়। প্রাথমিক সূচকে ডিএসইএক্স ৩৫ দশমিক ০৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৯৮ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ১২ দশমিক ২৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৮৩ পয়েন্টে এবং ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী ডিএস-৩০ সূচক ৭ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৯৭০ দশমিক ১০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ডিএসইতে সূচক বেড়েছে ৬৭.৫৭ পয়েন্ট
দিনভর ডিএসইতে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৩৯৮টি লেনদেনের মাধ্যমে লেনদেন হয় ১৭ কোটি ১৯ লাখ শেয়ার ও ইউনিট কেনাবেচা হয়, যার মোট মূল্য ৫৭৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। অংশগ্রহণকারী ৪০০টি কোম্পানির মধ্যে দাম কমেছে ২১৬টির, বেড়েছে ১৩৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৮টি কোম্পানির শেয়ারের মূল্য।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) মঙ্গলবার সূচকে পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। সিএএসপিআই সূচক শূন্য দশমিক ২২ পয়েন্ট সামান্য কমে ১৪ হাজার ৮০৮ দশমিক ১৪ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে। সিএসইতে মোট লেনদেন করেছে ২১১টি কোম্পানি। এর মধ্যে কমেছে শেয়ারমূল্য কমেছে ১০৭টির, বেড়েছে ৮৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টি কোম্পানির শেয়ার দর।
সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৬২ লাখ টাকা, যা আগের দিন ছিল ৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। মঙ্গলবার মোট ২ হাজার ৩৭৩টি লেনদেনে ২৪ লাখ ৭৩ হাজার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
আরও পড়ুন: শেয়ার বাজারে টানা দুই কার্যদিবস সূচকের পতন
৬১০ দিন আগে
শেয়ারবাজারে দরপতনের প্রতিবাদে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ
শেয়ারের দরপতনের প্রতিবাদে মতিঝিলে ডিএসই ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বিনিয়োগকারীরা।
সোমবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ পুঁজিবাদী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা।
বিগত চার মাসের মধ্যে রবিবার সূচক সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায় পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।
বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগও দাবি করেন।
আরও পড়ুন: ৪ মাসের মধ্যে ডিএসই সূচকের বড় পতনে উদ্বিগ্ন বিনিয়োগকারীরা
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসইসির এক কর্মকর্তা ইউএনবিকে বলেন, বিএসইসি বাজার কারসাজিতে জড়িত থাকার অভিযোগে আগের সরকারের একদল সুবিধাভোগীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করায় এবং তাদের জরিমানা করায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তারা।
ফলে যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তারা বিএসইসির চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করছেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন: ডিএসইতে ঊর্ধ্বগতি প্রবণতায় ৩৫৮.২২ কোটি টাকার লেনদেন
৬২৫ দিন আগে
ঈদের ছুটি শেষে প্রথম দিনে ডিএসইতে ২৪৬ কোটি টাকার লেনদেন
ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে বুধবার (১৯ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচকের উত্থান দেখা গেছে এবং ঊর্ধ্বমুখী ধারা ধরে রেখে দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে।
সাপ্তাহিক ছুটি ও ঈদুল আজহার ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিন শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ ছিল। ছুটির আগে বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) শেষ লেনদেন হয়।
ঈদের ছুটি শেষে ডিএসইএক্স সূচক বিকাল ৩টা ১০ মিনিটে ৪৩ দশমিক ৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে অর্থাৎ শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ১৬১ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
৩৯২টি শেয়ারের মধ্যে লেনদেন শেষে লাভ হয়েছে ২৩২টির, কমেছে ৯৬টির এবং ৬৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
আরও পড়ুন: মূলধন লাভের ওপর নতুন কর আরোপ না করতে ডিএসই চেয়ারম্যানের আহ্বান
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, এদিন ৭ কোটি ৩৭ লাখ ৯৩ হাজার ৮৪ শেয়ারের বিনিময় হয়েছে। এর মধ্যে লেনদেন হয় ৮১ হাজার ৭৬১ কোটি টাকার এবং এদিনের লেনদেন ছিল ২৪৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকার।
বুধবারে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল স্টাইল ক্রাফটের শেয়ার। এরপর সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের। তৃতীয় স্থানে ছিল গোল্ডেন জুবিলি মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এরপর সেরা দশে ছিল যথাক্রমে ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ, মার্কেন্টাইল ইসলামি ইন্স্যুরেন্স, এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ফার ইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স এবং মুন্নু এগ্রো অ্যান্ড জেনারেল মেশিনারি লিমিটেড।
আরও পড়ুন: সমৃদ্ধ শেয়ারবাজার গড়তে মার্চেন্ট ব্যাংকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: ডিএসই চেয়ারম্যান
৭৫৬ দিন আগে
শেয়ার বাজার কারসাজিকারীকে চিহ্নিত করতে ৬-১২ মাস সময় লাগে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম বলেন, শেয়ারবাজারে কারসাজি ঠেকাতে অত্যাধুনিক সফটওয়্যার এবং প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ জনবল প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শেয়ার ব্যবসায় অনৈতিক কার্যক্রম অবিলম্বে চিহ্নিত করতে বিএসইসি দক্ষ সফ্টওয়্যার ইনস্টল করতে কাজ করছে।
শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেটের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বিএসইসি চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।
ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অধ্যাপক শিবলী বলেন, বিদ্যমান ব্যবস্থায় শেয়ারবাজারে জুয়াড়ি শনাক্ত করতে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগে।
তিনি বলেন, ‘স্টক এক্সচেঞ্জ দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দিলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি। সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করতে এবং অপরাধীকে শাস্তি দিতে সাধারণত ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগে। ইতোমধ্যে এই সময়ের মধ্যে, বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়।’
অধ্যাপক শিবলী গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সাংবাদিকরা শেয়ারবাজারের
কারসাজির তথ্য পেলে প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সচেতন করা উচিৎ।
তিনি বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়, মন্ত্রী এমনকি প্রধানমন্ত্রীও পুঁজিবাজারের বিষয়ে অবগত।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে গত দুই বছরে ৩৬টি কোম্পানিকে আইপিও দিয়েছি। এই সময়ে তিন হাজারেরও বেশি লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।’
আরও:বড়দিনে চীন, জাপানের শেয়ার বাজারে দরপতন
পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কত ট্যাক্স দেয় তা সবারই জানা। এগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। তাদের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।
আহমেদের প্রশ্ন হলো- বাংলাদেশে এমএনসি’র ব্যবসা করছে এবং কিন্তু কেউ নির্দিষ্ট করে জানে না তারা কত ট্যাক্স দেয়। তাদের
তালিকাভুক্ত করা হয় না। ‘কেন তারা তালিকাভুক্ত নয়’?
ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের চেয়ারম্যান ও সাবেক মুখ্য সচিব নজিবর রহমান; বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ
সিদ্দিকী এবং ড. এম. খায়রুল হোসেন; বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (ইডি) ড. এজাজুল ইসলাম; ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান; চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম; অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, আইসিএবি, আইসিএমএবি, আইসিএসবি-এর প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বিএমবিএ চেয়ারম্যান সায়েদুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সিএমজেএফের সভাপতি জিয়াউর রহমান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
আরও পড়ুন: শেয়ার বাজারে আসছে ওয়ালটন
১৩৯৬ দিন আগে
বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে অর্থমন্ত্রীর উচ্চাশা
দেশের শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের লক-ইন মেয়াদ কমিয়ে সোমবার সংসদে অর্থবিল ২০২০ অনুমোদন করা হয়েছে।
২২০৭ দিন আগে
ইরানি জেনারেল নিহতের ঘটনায় ঊর্ধ্বমুখী তেলের বাজার, শেয়ারে পতন
ইরাকে মার্কিন বাহিনীর হাতে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার জেরে শুক্রবার তেলের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। সেই সাথে বিশ্বের প্রধান শেয়ার বাজারগুলোতে পতন দেখা দিয়েছে।
২৩৮৫ দিন আগে