ফরিদপুর-৩
ফরিদপুরের চার আসনে বিএনপির ৩, জামায়াতের ১ প্রার্থী জয়ী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনে তিনটিতে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী এবং একটিতে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ‘দাড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যা বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল ঘোষণা করেন। কোন ধরনের সহিংসতা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় জেলা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ফরিদপুর-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা, ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল বিজয়ী হয়েছেন।
চারটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হিসেবে রয়েছেন ফরিদপুর-১ আসনের জামায়াতের ইসলামী প্রার্থীর বিজয়। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে এই প্রথম আসনটিতে জামায়াতের কোনো প্রার্থী বিজয় অর্জন করলেন বলে জানান স্থানীয়রা। বরাবরই এই আসনটি আওয়ামী লীগের দূর্গ বলা হয়। তবে আইনানুগ কারণে দলের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি।
মো. কামরুল হাসান মোল্যার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা) আসনে ২৭ হাজার ৬৬৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৪৫ ভোট পেয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির খন্দকার নাসিরুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৭৬ ভোট। এ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ৬২ শতাংশ ভোট পড়েছে ফরিদপুর-১ আসনে।
ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ৮৯ হাজার ৩০৫ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন ১১ দলীয় জোটের মাওলানা শাহ আকরাম আলী। এ আসনে ছয়জন প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শামা ওবায়েদ ৩২ হাজার ৩৮৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। । মোট ভোটের ৬৬ শতাংশ প্রয়োগ হয় এ আসনে।
ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট। জামায়াতের অধ্যাপক আব্দুত তাওয়াব ১ লাখ ২৪ হাজার ১১৫ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন। নায়াব ইউসুফ ২৪ হাজার ৪৩০ ভোট বেশি পেয়ে এ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। এ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ৫৮ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ।
ফরিদপুর-৪ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা ছরোয়ার হুসাইন পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৮০৫ ভোট। এখানে ৮ জন প্রার্থী সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এ আসনে ৫৩ শতাংশ ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন ।
ফরিদপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার চারটি আসনে ৬৫৭টি ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে গতকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এ জেলায় মোট ভোটার সংখ্য্যা ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৯২৩ জন। চারটি আসনে মোট ২৮ প্রার্থী ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নির্বাচনি নিরাপত্তায় ৭১৬ জন সেনা সদস্য, ১৩ প্লাটুন বিজিবি, ৩৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৪ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন ছিল।
১৭ ঘণ্টা আগে
ফরিদপুর-৩ আসন: নৌকার দুটি ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মারধরের অভিযোগ
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে সহিংসতা বেড়েই চলেছে। গত কয়েক দিনে নৌকা ও স্বতন্ত্র ঈগর প্রতীকের প্রার্থীদের দাবি অনুযায়ী ২৫টি হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে নৌকা প্রতীকের দুইটি নির্বাচনী অস্থায়ী ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে।
ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক নিয়াজ জামান সজিব দাবি করেন, ফরিদপুর পৌর এলাকার ১নং ওয়ার্ডের শোভারামপুর ও সদর উপজেলার মাচ্চর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের দয়ারামপুর এলাকায় গভীররাতে অগ্নিসংযোগ করে ক্যাম্পে থাকা চেয়ার, টেবিল ও পোস্টার পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
তিনি জানান, এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
আরও পড়ুন: ফরিদপুর-১ আসন: আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে নৌকা প্রার্থীর প্রতিনিধিকে জরিমানা
এদিকে শুক্রবার সকালে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের উপর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ১নং কেন্দ্রের সদস্য সচিব এবং বয়োজ্যেষ্ঠ কর্মী সিদ্দিক শেখ, আব্দুল আজিজকে মারধর করা হয়।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী সম্বনয়কারি সোয়েবুল ইসলাম অভিযোগ তুলে জানান, কোনো উস্কানি ছাড়াই নর্থচ্যানেল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মোফাজ্জল হোসেন সকালের দিকে লোকজন নিয়ে অতর্কিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের কয়েকজন কর্মীকে মারধর করে। এ সময় তারা বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখায় ।
এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘উভয় ঘটনাই পুলিশ তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে গিয়েছে। আমরা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন: ফরিদপুর-৩ আসন: হামলায় আ. লীগ প্রার্থীর ২ সমর্থক আহত
ফরিদপুর-৩: ঈগল প্রতীকের নির্বাচনী অফিসে নৌকার কর্মীদের হামলা, আহত ৫
৭৭৭ দিন আগে
ফরিদপুর-৩: ঈগল প্রতীকের নির্বাচনী অফিসে নৌকার কর্মীদের হামলা, আহত ৫
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের পরবর্তী প্রচারণার নবমতম দিনে হামলার ঘটনা ঘটেছে ফরিদপুর-৩ সদর নির্বাচনী এলাকায়।
গত কয়েকদিন ধরে এই সংসদীয় এলাকায় আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা একে অপরের উপর হামলার অভিযোগ তুলছেন।
এমতাবস্থায় মঙ্গলবার(২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পৌর এলাকার ১৪ নং ওয়ার্ডে মাহমুদপুর এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী একে আজাদের নির্বাচনী অফিসে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা অতর্কিত হামলার চালিয়েছে। এতে একে আজাদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান ঝনক সহ আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন।
আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আশরাফ হোসেন, পরেশ চন্দ্রসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনের মতো প্রচারণা শেষে আজও আমরা অফিসে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করছিলাম। এমন সময় পৌরসভার কাউন্সিলর মোবারক খলিফা, আতিয়ার শেখের নেতৃত্বে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন নৌকার নেতা-কর্মী স্লোগান দিয়ে আমাদের অফিসে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা আমাদের অফিসের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা বুধবার
হামলা প্রসঙ্গে স্থানীয় পৌরসভার কাউন্সিলর মোবারক খলিফা বলেন, ওই নির্বাচনী অফিসের সামনে দিয়ে আমাদের গাড়ি বহর যাচ্ছিল। এসময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন স্লোগান দিয়ে আমাদের গাড়িবহরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে হয়তো পেছন থেকেও পাল্টা ইট ছোড়া হয়। তবে ওরা যে অভিযোগ দিচ্ছে সেটি সঠিক নয়।
এ ব্যাপারে ফরিদপুর সদর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, খবর পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: রংপুরে নৌকা সমর্থকদের হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১০ জন সমর্থক আহত
৭৮০ দিন আগে
ফরিদপুর-৩ আসন: হামলায় আ. লীগ প্রার্থীর ২ সমর্থক আহত
ফরিদপুর-৩ আসনের (সদর) ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের উপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সমর্থকদের ২ জন আহত হয়েছেন। এদেরকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) রাত ৯ টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।
ফরিদপুর সদর আসনের নৌকার প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শামীম হক বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে তার সমর্থকদের উপর হামলা করে আসছে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদের কর্মীরা। আজ (সোমবার) রাত ৯ টার দিকে ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নে আমার কর্মীদের উপর হামলা করা হয়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছে। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: ফরিদপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে নৌকার ক্যাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ
স্থানীয় নৌকার কর্মী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের কর্মীরা ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে পোস্টার লাগাচ্ছিল। রাত ৯টার দিকে একটি মাইক্রোবাস ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে কিছু লোক আসে। এ সময় আমাদের কর্মীরা নৌকার পোস্টার লাগাচ্ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওই মাইক্রো ও মোটরসাইকেল থেকে লোকজন নেমে নৌকার কর্মী সমর্থকদের মারধোর করে। এ সময় দৌড়ে অনেকে পালিয়ে যায় এবং ২ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে কামরুল মোল্যা ও সেলিম শেখের অবস্থা গুরতর। তাদের প্রথমে জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।’
আরও পড়ুন: অর্থের কাছে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নতজানু হয়ে গেছেন: কাজী জাফর উল্যাহ
ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার অহিমুল ইসলাম ফাহিম বলেন, ‘২ জন এসেছিল, তাদের অবস্থা গুরতর। একজনের মাথায় আঘাত রয়েছে, অপরজনের শরীরে একাধিক স্থানে আঘাত রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
এই বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদের নির্বাচনী সমন্বয়কারী মো. শোয়েবুল ইসলাম গনমাধ্যমকে বলেন, ‘এটা পুরোপুরি একটা সাজানো নাটক। গত কয়েকদিন ধরে ওই ইউনিয়নে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের উপর ধারাবাহিকভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। এই বিষয়ে থানায় অভিযোগও দেওয়া আছে। সেইসব ঘটনাকে আড়াল করতেই পরিকল্পিতভাবে হামলার নাটক সাজিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে নৌকার প্রার্থী।’
এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অপারেশন) আব্দুল গফ্ফার হোসেন বলেন, ‘হামলার খবর পেয়ে আমারা হাসপাতাল ও ঈশান গোপালপুরের পুলিশ পাঠিয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: ফরিদপুর-২ আসন: নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুই সমর্থককে অর্থদণ্ড
৭৮১ দিন আগে
ফরিদপুর-৩ আসনে ইসির সিদ্ধান্ত বহাল রাখলেন হাইকোর্ট
ফরিদপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শামীম হকের দ্বৈত নাগরিকত্বের জন্য প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর মধ্যদিয়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সব আইনি পথ হারিয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শামীম।
আদালতে শামীম হকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক ও আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা, আইনজীবী তানজিব উল আলম এবং ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান।
গত ৫ ডিসেম্বর ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল আহসান তালুকদার স্বতন্ত্র প্রার্থীর আপত্তি সত্ত্বেও মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় বৈধ ঘোষণা করেন।
তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা বিষয়টিকে সমর্থন করে বলেন, বাদী তাদের অভিযোগের পক্ষে কোনো দলিল জমা দিতে পারেননি।
গত ৮ ডিসেম্বর ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদ দ্বৈত নাগরিকত্বের জন্য শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে ইসিতে আবেদন করেন।
পরদিন শামীম হক হলফনামায় দ্বৈত নাগরিকত্ব ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে এ কে আজাদের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে ইসিতে পাল্টা আবেদন করেন।
গত ১৫ ডিসেম্বর ব্যবসায়ী এ কে আজাদের আপিল গ্রহণ করে ফরিদপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শামীম হক ইসির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেন।
৭৮৮ দিন আগে
ফরিদপুর-৩ আসনে আ. লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শামীম হক নেদারল্যান্ডসের নাগরিক- এমন অভিযোগ করে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) প্রার্থীতা বাতিলের জন্য আবেদন করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদ।
শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) এ কে আজাদের পক্ষে তার আইনজীবী মো. গোলাম কিবরিয়া আপিল আবেদন জমা দেন।
৫ ডিসেম্বর মনোনয়ন বাছাইয়ের সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদ লিখিত অভিযোগ করলে রিটার্নিং কর্মকর্তা শামীম হকের মনোনয়নপত্র বাতিল না করে বৈধ ঘোষণা করেন।
রিটরিং কর্মকর্তা কামরুল আহসান তালুকদার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ দেওয়ার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত না থাকায় তা আমলে আনা হয়নি।’
আরও পড়ুন: মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে ৩৩৮ প্রার্থীর আপিল: ইসি
রিটার্নিং কর্মকর্তার এই আদেশের বিরুদ্ধে শুক্রবার আপিল দায়ের করা হয়েছে।
আব্দুল কাদের আজাদের আইনজীবী গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘শামীম হকের নেদারল্যান্ডসের পূর্ববর্তী পাসপোর্ট নম্বর ‘BESHC8751’, জন্ম তারিখ ২১ অক্টোবর ১৯৬০ লেখা আছে। শামীম হক সম্প্রতি তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যু করার জন্য ফরিদপুর পাসপোর্ট কার্যালয়ে এক দরখাস্ত দাখিল করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘দরখাস্তের ২৫নং কলামে দ্বৈত নাগরিকত্বের ঘরে তিনি টিক মার্ক দিয়েছেন। ২৬নং কলামে অন্য দেশের নাগরিক থাকলে সেই দেশের নামের জায়গায় নেদারল্যান্ডস উল্লেখ আছে। ২৭নং কলামে তার বর্তমান নেদারল্যান্ডসের পাসপোর্ট নম্বর ‘BY60F0J74’ উল্লেখ করা আছে।’
আরও পড়ুন: নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন: নওগাঁয় ২ প্রার্থীকে শোকজ
আইনজীবী গোলাম কিবরিয়া বলেন, সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদ এবং ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২(১) (৬) অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে শামীম হক একজন বিদেশি নাগরিক হওয়ায় তিনি সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারে না, তিনি অযোগ্য প্রার্থী।
এছাড়াও, তিনি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২(২)(ক) অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রদত্ত এফিডেভিটে এই বিষয়টি গোপন করায় তার ঘোষণাটি মিথ্যা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সে কারণেও তার মনোনয়ন বাতিল হওয়ার কথা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ৬৬(২) (গ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ‘কোনো ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন।’ সংবিধানের উক্ত অনুচ্ছেদের অনুরূপ বিধানই গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২(১)(৬) অনুচ্ছেদে সন্নিবেশিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন: ফেনীতে নৌকার প্রার্থীকে শোকজ
৭৯৮ দিন আগে