নাহিদ ইসলাম
সীমান্ত হত্যা, পুশইন প্রতিরোধ করতে না পারলে দল থেকে ‘জাতীয়তাবাদী’ শব্দটি কেটে ফেলুন: সরকারকে নাহিদ
সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধে সরকার ব্যর্থ হলে বিএনপির নাম থেকে ‘জাতীয়তাবাদী’ শব্দটি বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে রংপুর বিভাগীয় ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, তারেক রহমানের প্রতি আমাদের আহ্বান, যদি দেশ পরিচালনা সঠিকভাবে করতে হয়, তাহলে আপনাকে অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। অবিলম্বে অর্থনৈতিক সংস্কার করতে হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। সীমান্তে পুশইন ও সীমান্ত হত্যা প্রতিরোধ করতে হবে।
তিনি বলেন, যদি সীমান্ত হত্যা, পুশইন প্রতিরোধ করতে না পারেন, তাহলে নিজেদের দল থেকে ‘জাতীয়তাবাদী’ শব্দটি কেটে ফেলে দেন। জাতীয়তাবাদের নামে ব্যবসা করবেন, নিজেদের দেশপ্রেমিক দেখাবেন, অথচ সীমান্ত হত্যা, পুশইন রোধ করতে পারবেন না, তাহলে দেশের জনগণ আপনাদের ক্ষমতায় থাকার ম্যান্ডেন্ট দেবে না।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের অর্জন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ।
তিনি বলেন, কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরে গিয়েছিলেন। আমরা বিরোধীদলের পক্ষ থেকে সংসদে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। এরপরে হয়তো কিছু বলা উচিত না, কিন্তু বলতে বাধ্য হচ্ছি, চীন সফরের অর্জন কোথায়? চীন সফরের অর্জন হচ্ছে শূন্য। চীন সফরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আমরা কোনো কমিটমেন্ট (প্রতিশ্রুতি) পাই নাই। রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্সন নিয়ে কোনো কমিটমেন্ট পাই নাই।
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, দেশে যদি জাতীয় ঐক্য না থাকে, তারেক রহমান পৃথিবীর কোনো দেশ থেকে কোনো ধরনের সাহায্য পাবে না। অলরেডি আইএমএফ তাদের (সরকারকে) বলে দিয়েছে যে আর কোনো ঋণ দেবে না। পৃথিবীর কোনো দেশই তাদের সহযোগিতা করবে না। গণঅভ্যুত্থান ও সংস্কারের সঙ্গে প্রতারণা করলে কেউই সহযোগিতা করবে না।
তিনি আরও বলেন, রংপুর থেকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ গণঅভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছিল; গণঅভ্যুত্থানের সিপাহ সালার ছিল। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম, নির্বাচনের পরে বিএনপি গণভোটের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পরে সবার দাবি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমেই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল এবং এসেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অস্বীকার করেছিল। তার ফলাফল কী হয়েছিল? বিএনপিকে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলে রাজপথে নির্যাতিত হতে হয়েছিল।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, যে গণঅভ্যুত্থান, গণভোট, সংস্কার ও জুলাই সনদের কারণে বিএনপি আজ ক্ষমতায় আসতে পেরেছে, এখন সেই গণভোটের সঙ্গেই তারা প্রতারণা করেছে। বিএনপি ৩১ দফার সঙ্গে প্রতারণা করেছে, জুলাই সনদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, গণতন্ত্রের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
নাহিদ আরও বলেন, সারা বাংলাদেশে বিদ্যুৎ নেই। বাংলাদেশে গ্রামেগঞ্জে আবার মানুষ হারিকেন জ্বালাতে বাধ্য হয়েছে। এই সরকার বিগত সময়েও হারিকেন দিয়েছে, এবারও বাংলাদেশের মানুষের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে। বিদ্যুৎ দিতে পারছে না, কর্মসংস্থান দিতে পারছে না।
জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই বাজেটে কোনো অর্থনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা রাখা হয়নি। ব্যাংকগুলো কীভাবে ঠিক হবে, দেশ থেকে পাচার হওয়া টাকা কীভাবে ফেরত আসবে—কোনো ধরনের সুপরিকল্পনা এই সরকারের নেই। ফলে আমরা বলব, আপনি (তারেক রহমান) এভাবে দেশ চালাতে পারবেন না। দেশ চালাতে অলরেডি ব্যর্থ হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়েছেন। সংস্কার দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ডিসেম্বরে কেউ একজন দেশে আসার পরিকল্পনা করছে। আমরা ফাঁসির দঁড়ি রেডি করে অপেক্ষা করছি। আপনি (শেখ হাসিনা) ডিসেম্বরে আসুন আর যখনই আসুন, ফাঁসির দঁড়িতে ঝুলতেই হবে। বাংলাদেশ থেকে যে পালিয়ে যায়, সে আর বাংলাদেশে কখনও ফিরে আসে না। পাকিস্তানিরাও এর থেকে সম্মানজনকভাবে বিদায় নিয়েছিল, ইংরেজরাও এর থেকে সম্মানজনকভাবে বিদায় নিয়েছিল; কিন্তু শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সরকার এত অসম্মানজনকভাবে, কাপুরুষোচিত ভাবে এই দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে ভারতের কোলে আশ্রয় নিয়েছে যে তিনি আর এই দেশে আসার সৎসাহস কখনও রাখবেন না।
নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা আসবে কি আসবে না, এটা দিল্লির সঙ্গে ঢাকাকে নির্ধারণ করতে হবে। এই সরকার থেকে দিল্লিকে মেসেজ (বার্তা) দিতে হবে। শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ফ্যাসিস্ট মিডিয়ার দোসররা সেইসব তথ্য প্রচার করছে। বাংলাদেশের জনগণ এটা মেনে নেবে না।
এ সময় সংস্কার, গণভোট, জুলাই সনদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের দাবি বাস্তবায়নে অচিরেই নতুন করে আন্দোলনের ডাক আসবে বলে জানান তিনি। সেই আন্দোলনে সফল হবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে, বক্তব্যের শুরুতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, রংপুর বিভাগ বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে আঞ্চলিক বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। আমরা আশা করেছিলাম, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী এবারের নির্বাচনে যে সরকার গঠিত হয়েছে, তাদের প্রথম বাজেটে রংপুর বিভাগের প্রতি সুদৃষ্টি, সুনজর দেওয়া হবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, এবারের বাজেটেও রংপুর বিভাগের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে। রংপুর বিভাগের বেশিরভাগ আসন বিরোধী দলের হওয়ার কারণে পরিকল্পিতভাবে বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রংপুরে কোনো বড় উন্নয়ন প্রকল্প রাখা হয়নি। বরাদ্দ সব যাচ্ছে বগুড়ার শিবগঞ্জে। গোপালগঞ্জ প্রতিস্থাপিত হয়েছে বগুড়ার শিবগঞ্জে। কিন্তু যারা প্রকৃত বৈষম্যের শিকার, সেই রংপুরবাসী কোনো বরাদ্দ পাচ্ছে না। সরকারি দলের এমপিরা যে বরাদ্দ পান, বিরোধী দলের এমপিরা সেই বরাদ্দের তিনভাগের একভাগও পাচ্ছেন না।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
রংপুর বিভাগীয় এ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলী আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁনও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
এ ছাড়াও সমাবেশের শুরুতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুল মালেকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
৫ দিন আগে
নাহিদ ইসলামকে প্রধান উপদেষ্টার বার্তা
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সাফল্য অর্জন করায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় নাহিদ ইসলামের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যে সাহস, দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছে, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। মাত্র এক বছর আগে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে জন্ম নেওয়া একটি নবীন রাজনৈতিক দল হিসেবে ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা, তার মধ্যে ছয়টিতে বিজয় অর্জন করা এবং আরও কয়েকটি আসনে তীব্র ও সম্মানজনক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা—এ এক অসাধারণ অর্জন। এই সাফল্য কেবল নির্বাচনি পরিসংখ্যানের বিষয় নয়; এটি তরুণ প্রজন্মের আত্মপ্রত্যয়, স্বপ্ন ও গণতান্ত্রিক চেতনার শক্তিশালী প্রকাশ।
তিনি বলেন, ‘চব্বিশের সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা আজও আমাদের স্মৃতিতে অম্লান। আপনার নেতৃত্ব, সাহসিকতা ও অদম্য মনোবল সেই আন্দোলনকে সুশৃঙ্খল ও লক্ষ্যাভিমুখী করে তুলেছিল। আপনার সহযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও দৃঢ় অবস্থান জাতির হৃদয়ে গভীর কৃতজ্ঞতার অনুভূতি জাগ্রত করেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং জাতির পক্ষ থেকে আপনাদের সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনাকে কিছুদিন উপদেষ্টা পরিষদে সহকর্মী হিসেবে পাওয়ার সুযোগ আমার জন্য এক মূল্যবান অভিজ্ঞতা। সেই সময়ে আপনার কর্মদক্ষতা, বিষয়ভিত্তিক গভীরতা, নীতিগত দৃঢ়তা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বোঝার আগ্রহ আমাকে মুগ্ধ করেছে।’
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গণতন্ত্র তখনই বিকশিত হয়, যখন নতুন কণ্ঠস্বর উঠে আসে, নতুন ধারণা স্থান পায় এবং প্রজন্মান্তরের সেতুবন্ধন তৈরি হয়। আপনার দলের এই অল্প সময়ের সাফল্য প্রমাণ করে—বাংলাদেশের জনগণ, বিশেষত তরুণ সমাজ, নীতিনিষ্ঠ ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতির প্রতি আস্থা রাখতে প্রস্তুত। এই আস্থা রক্ষা করা এখন আপনাদের বড় দায়িত্ব।
তিনি বলেন, সংসদে অর্জিত প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে আপনারা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, বিশেষত তরুণদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা তুলে ধরার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ পেয়েছেন। আমি প্রত্যাশা করি, আপনার নেতৃত্বে জাতীয় নাগরিক পার্টি গঠনমূলক, যুক্তিনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আজকের এই অর্জন আগামী দিনের আরও বড় দায়িত্বের পূর্বাভাস। সংগ্রামের পথ থেকে রাজনীতির মূলধারায় প্রবেশ—এই রূপান্তর যেন আদর্শ ও মূল্যবোধকে অক্ষুণ্ন রাখে, সেটিই আমাদের সবার প্রত্যাশা।
১৫৩ দিন আগে
সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে ১১ দলীয় জোট: নাহিদ ইসলাম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডার এ কে এম রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমি নীরব ও সুন্দর পরিবেশে ভোট দিলাম। ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানাব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোট কেন্দ্রে আসুন। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীকে ভোট দিন।
এ সময় তিনি সেনাবাহিনী, প্রশাসন, অন্য বাহিনী ও গণমাধ্যমের প্রতি নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘সরকার গঠনের জন্যই আমরা জোটবদ্ধ নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আমরা মনে করছি, ১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, যদি ভোট সুষ্ঠু হয়, তবে আমরা বিজয়ী হয়ে বেরিয়ে আসব।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ বলেন, ‘দেশের মানুষ নির্বাচন সুষ্ঠু বললে, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক তা মেনে নেব।’
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, গত রাতে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। তবে ব্যালটে জনগণের আশা প্রতিফলিত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ভোটের ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকব এবং নির্বাচনের প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হলে ফলাফল মেনে নেব।
ঢাকা-১১ (বাড্ডা-ভাটারা-রামপুরা) সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন একাধিক প্রার্থী। এ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনীত হয়েছেন ড. এম এ কাইয়ুম এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া বিভিন্ন দলের আরও প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।
১৫৫ দিন আগে
দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে নাহিদের প্রার্থিতা স্থগিত চেয়ে রিট
দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলামের প্রার্থিতা স্থগিত চেয়ে রিট করেছেন ঢাকা ১১ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) সমর্থিত প্রার্থী শামীম আহমেদ।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দেশের সর্বোচ্চ আদালতে এ রিট করা হয়। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), নির্বাচন কমিশন সচিব, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নাহিদ ইসলামকে বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, নাহিদ ইসলাম ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল ক্যারিবিয়ান দ্বীপ রাষ্ট্র ডোমিনিকার নাগরিকত্ব নেন। রিটটি গতকাল (রবিবার) দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শামীম আহমেদের আইনজীবী মোহাম্মদ মজনু মোল্যা।
তিনি বলেন, আগামীকাল (মঙ্গলবার) রিটটি শুনানির জন্য হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হবে।
আইনজীবী মজনু মোল্যা অভিযোগ করে বলেন, নাহিদ ইসলাম ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট উপদেষ্টা পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অপব্যবহার করে রাতারাতি কমনওয়েলথ অব ডমিনিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। নির্বাচনি হলফনামায় তিনি তা গোপন করেন, যা সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ২(গ)-এর সরাসরি লঙ্ঘন। সংবিধানের ৬৬(২) (গ) অনুযায়ী তিনি নির্বাচনের অযোগ্য। তাই বিষয়টি নিয়ে আবেদনকারী আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
গুলশান এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২১, ২২, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২ এবং সবুজবাগ এলাকার ২৩ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-১১ আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৮৭৭ জন। নারী ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯৮ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের ৩ জন ভোটার রয়েছেন।
প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির এম এ কাইয়ুম, এনসিপির মো. নাহিদ ইসলাম, স্বতন্ত্র কোহিনূর আক্তার বীথি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের কাজী মো. শহীদুল্লাহ, গণফোরামের মো. আবদুল কাদের, গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফুর রহমান, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. জাকির হোসেন, ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির মো. মিজানুর রহমান, জাতীয় পার্টির শামীম আহমেদ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ।
১৫৭ দিন আগে
কেউ ভোট চুরির চেষ্টা করলে পরিণতি হবে ফ্যাসিস্টদের মতো: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, কেউ ভোট চুরি করার চেষ্টা কিংবা জালিয়াতি করার চেষ্টা করলে তার পরিণতি হবে ফ্যাসিস্টদের মতো। আসন্ন নির্বাচন হবে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন, সংস্কারের নির্বাচন, ঋন-খেলাপীদের বিরুদ্ধে জনগণের রায়ের নির্বাচন। মা-বোনদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে রায়ের নির্বাচন। দেশকে আধিপত্যবাদী ও ফ্যাসীবাদী মুক্ত করার নির্বাচন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সাভারের শাহীবাগে মাতৃবাগান মসজিদ সংলগ্ন মাঠে ঢাকা-১৯ আসনে ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী দিলশানা পারুলের নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি পক্ষ আমাদের মা-বোনদের ভয় পাচ্ছে। তাই তারা মা-বোনদের প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। তারা ভয় পেয়ে শেরপুরে আমাদের এক ভাইকে হত্যা করেছে। যারা হত্যার মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায় তাদের রাজনীতি রুখে দিতে হবে।
সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, শহিদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের এখনও ধরতে পারেনি সরকার। বিচার দাবিতে তার পরিবার যমুনার সামনে অবস্থান করেছে। হত্যাকারীদের ধরতে না পারা অন্তবর্তীকালীন সরকারের অন্যতম ব্যর্থতা। ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচার দাবীতে এখনও দেশবাসী ও তার পরিবার রাজপথে রয়েছে। হাদির নীতি, আদর্শ ও জুলাই অভ্যুত্থানের আদর্শে নির্বাচনে রায় আসবে।
তিনি বলেন, আমরা আজাদী ও আধিপাত্যবাদ বিষয়ে এক বিন্দুও ছাড় দেব না। আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসবেন। আমাদের বিরুদ্ধে ভোট দিলেও আসবেন। ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভোট কেন্দ্রে যাবেন। গোলামির বিরুদ্ধে রায় দিতে ভোট কেন্দ্রে যাবেন।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আপনারা দেশের মানুষ দাবি প্রতিষ্ঠায় জালেমের বিরুদ্ধে রায় দিবেন। বর্তমান সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময়। আসন্ন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে আধিপত্য দূর করতে পারব। দিল্লীর তাবেদারি দূর করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা কোনো রক্ত চক্ষুকে ভয় পাইনা। একটি দলের নেতা বিদেশ থেকে এসে বলেছেন, আমার একটি প্লান আছে। আমরা সাধুবাদ জানিয়েছিলাম। সম্প্রীতির রাজনীতি করতে চেয়েছিলাম। তাই বলেছিলাম শেয়ার করেন। কিন্তু এখন দেখছি তিনি দেশের কোথায় চিনি কল আছে, কোথায় ইপিজেড আছে, কোথায় সয়াবিন চাষ হয়, কোথায় ভুট্টা চাষ বেশি হয় তা কিছুই তিনি জানেন না। তিনি দেশ ও জনগণ সম্পর্কে জানেন না। তিনি ১৭ বছর দেশে ছিলেন না। এমন কোনো প্লান আমরা কাউকে বাস্তবায়ন করতে দেব না যাতে দেশে আবার ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠা পাবে; দুর্নীতির রাজনীতি আবার ফিরে আসবে। দেশ পিছিয়ে যাবে এমন প্লান বাস্তবায়ন হতে দেব না।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আর কোনো দুর্বৃত্ত যেন দেশের রাজনীতিতে ফেরত না আসে। এ দেশের মানুষ আর কোনো বেইমান-প্রতারকের হাতে ক্ষমতা দিতে চায় না। ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে দক্ষ লোকের অভাব হবে না। দেশের ও বিদেশের অভিজ্ঞ লোকদের সংযুক্ত করা হবে।
সাভার উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক জুলকারনাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা-১৯ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপি নেত্রী দিলশানা পারুল, জায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও ঢাকা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আফজাল হোসেন, জেলা জামায়াতের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শহীদুল ইসলাম, সাভার জেলা রাজনৈতিক সেক্রেটারী হাসান মাহবুব মাস্টারসহ স্থানীয় নেতারা।
১৬০ দিন আগে
দলে অনুপ্রবেশ করে একটি গোষ্ঠী অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে: নাহিদ ইসলাম
জুলাই যোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীর সঙ্গে ন্যায়বিচার করা হয়নি এবং পুরো বিষয়টি বানোয়াট ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
সেমাবার (৫ জানুয়ারি) রাতেই জামিনে মুক্তি পাওয়া তাসলিমাকে দেখতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, কিছু কিছু মিডিয়া জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গণঅভ্যুত্থানের সামনের সারিতে থাকা ব্যক্তিদের চরিত্র হননের চেষ্টা করছে। সুরভীর ঘটনাটিও তারই ধারাবাহিকতা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, দলের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে একটি গোষ্ঠী দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। সে ব্যাপারে সবাইকে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল সকালে এক সাংবাদিকের করা অপহরণ ও চাঁদাবাজীর মামলায় আদালতে তোলে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এমন খবরে ততক্ষণে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্র জনতা। পরে রিভিশন আবেদন করলে এদিন রাতেই তার রিমান্ড বাতিল করে জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।
এর আগে, গত ২৫ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে টঙ্গী পূর্ব থানার গোপালপুর টেকপাড়া এলাকার নিজ বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সুরভী ওই এলাকার সেলিম মিয়ার মেয়ে।
পুলিশ জানায়, সুরভীর বিরুদ্ধে কালিয়াকৈর থানায় নাইমুর রহমান দুর্জয় নামের এক যুবকের করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। মামলায় চাঁদাবাজি, অপহরণ করে অর্থ আদায় ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া তিনি সেনাবাহিনী প্রধানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতেন বলেও দাবি পুলিশের।
১৯২ দিন আগে
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোটে যোগ দিল এনসিপি
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোটের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছে।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে ৮ দলের ডাকা এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান এ ঘোষণা দেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার আবদুস সালাম হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে সমাজ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে এতদিন ধরে আটটি দল একসঙ্গে কাজ করে আসছিল। আজ আরও দুটি দল আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে, কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রমের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও এনসিপি।’
তিনি বলেন, একটু আগে আমাদের সঙ্গে এনসিপির বৈঠক সমাপ্ত হয়েছে। তারা বৈঠকে সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারেননি। এনসিপির নাহিদ ইসলাম আমাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন এবং তাদের সিদ্ধান্ত আমাদের অবহিত করেছেন। তারা আলাদা একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের সিদ্ধান্ত ও আমাদের ঐক্যের ভিত্তি আপনাদের জানিয়ে দেবেন।
তিনি আরও বলেন, এটি আমাদের একটি মজবুত নির্বাচনী সমঝোতা। সারা বাংলাদেশের ৩০০ আসনে আমরা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে আসন বণ্টন নির্ধারণ করেছি। যেহেতু দুটি দল একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, তাই কিছু বিষয় এখনো চূড়ান্ত করা বাকি রয়েছে।
তিনি জানান, আরও কয়েকটি দল এই জোটে যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। তবে সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে এই মুহূর্তে তাদের সম্পৃক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
জামায়াত আমীর বলেন, আমাদের আসন সমঝোতা প্রায় সম্পন্ন। যেসব বিষয় সামান্য বাকি রয়েছে, মনোনয়নপত্র দাখিলের পর আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোও সুন্দরভাবে সমাধান করা হবে বলে আমরা আশা করছি।
উল্লেখ্য, জামায়াতসহ আটটি দল বিভিন্ন দাবিতে অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় ছিল। জামায়াতে ইসলামী ছাড়া জোটের অন্যান্য দলগুলো হলো—ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।
২০০ দিন আগে
শোকজের জবাব: নাহিদের সম্মতিতেই কক্সবাজার গিয়েছেন হাসনাত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ কারণ দর্শানোর নোটিশের (শোকজ) জবাবে জানিয়েছেন, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সম্মতি দেওয়ার পরেই তিনি কক্সবাজার গিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন বরাবর দেওয়া শোকজ নোটিশের জবাবে হাসনাত লেখেন, ৪ আগস্ট রাতে প্রথমে তিনি নাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাকে না পেয়ে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে কক্সবাজার ভ্রমণ প্রসঙ্গে জানান এবং অনুরোধ করেন নাহিদকে জানাতে।
প্রায় ৩০ মিনিট পর নাসীরুদ্দীন জানান, নাহিদ হাসনাতকে কক্সবাজার যাওয়ার সম্মতি দিয়েছে। পরবর্তীতে তার সঙ্গে এনসিপির বাকি নেতারা যুক্ত হোন বলে জানান হাসনাত।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তির দিনে কক্সবাজার সফরে যাওয়ার কারণ জানিয়ে হাসনাত লেখেন, ‘সরকারের উচিত ছিল এমন একটি ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা, যা সেই মানুষগুলোর আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিনিধিত্ব করবে। কিন্তু আমি এবং অনেকেই ব্যথিত হই, যখন দেখি যে এই ঘোষণাপত্র প্রণয়নের সময় সেই মানুষদের কথা সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করা হয়েছে, যারা অভ্যুত্থানের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন। শহীদ পরিবার, আহত এবং নেতৃত্বদানকারীদের অনেকেই মতামত প্রদানের সুযোগ পাননি এমনকি অন্তর্ভুক্তির ন্যূনতম সম্মানটুকুও পাননি।’
‘আমার এ সফর ছিল অসম্পূর্ণ জুলাই ঘোষণাপত্রের প্রতি আমার নীরব প্রতিবাদ।’ লেখেন হাসনাত।
তিনি বলেন, 'ঘোষণাপত্রের চূড়ান্ত খসড়ায় এমন কিছু উপাদান দেখি, যা অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যেমন— ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে সংবিধান সংস্কারের জন্য জনগণ পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর দায়িত্ব অর্পণের অভিপ্রায় প্রকাশ করেছে। এই দাবিটি অসত্য এবং সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তন আনার পথে একটি বড় অন্তরায়।'
পড়ুন: শোকজের জবাব দিয়েছেন এনসিপি নেতারা, সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে পরে
শোকজের জবাবে হাসনাত বলেন, 'আমরা শুরু থেকেই দাবি করে আসছি গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে, যা রাষ্ট্রের কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তন আনবে এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ঘটাবে। উপরন্তু, ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় জানতে পারি যে আমাদের আন্দোলনের আহত এবং নেতৃত্বদানকারী অনেক ভাইবোনকে এই অনুষ্ঠান থেকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি আমার কাছে শুধু রাজনৈতিক নয়, নৈতিক ব্যর্থতা বলেই মনে হয়েছে।'
হাসনাত বলেন, 'আমি ব্যক্তিগতভাবে এই অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। যেখানে ঐক্যের পরিবর্তে বিভাজনকে, শহীদ ও আহতদের পরিবর্তে কিছু মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীর কথা এবং মতামতকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, সেখানে উপস্থিত থাকার কোনো ইচ্ছা বা প্রয়োজন আমি বোধ করিনি। কাজেই, এরপরের দিন ঢাকার বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। উদ্দেশ্য ছিল এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টিতে পূর্বে গৃহীত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বোঝার চেষ্টা করা এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে চিন্তা করা।'
কক্সবাজার ভ্রমণ প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, কক্সবাজার ঘুরতে যাওয়ার পর যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিমানবন্দর থেকে এনসিপি নেতাদের প্রতিটি পদক্ষেপের ছবি ও ভিডিও করে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা মিডিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কিছু মিডিয়া সেখানে ক্রাইম মুভির মিউজিক জুড়ে ইচ্ছেমতো মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অভিযোগসহ সেইসব উপস্থাপন করেছে।
ক্ষোভ ঝেড়ে হাসনাত বলেন, ‘কিছু মিডিয়া ও গোয়েন্দা সংস্থার যোগসাজশে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপকে অপরাধপ্রবণ এবং সন্দেহজনক হিসেবে উপস্থাপন করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। এমনকি গুজব ছড়ানো হয়েছে, যে আমরা পিটার হাসের সঙ্গে গোপন বৈঠকে যাচ্ছি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করতে। অথচ তিনি তখন বাংলাদেশেই ছিলেন না।
‘রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এই প্রবণতা, যেখানে কাউকে টার্গেট করে রাষ্ট্রদ্রোহী বানিয়ে ফেলা যায়, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে চলতে পারে না। গোয়েন্দা সংস্থা ও মিডিয়ার এই সম্মিলিত ডিমোনাইজেশন টেকনিক আজকে আমাদের টার্গেট করেছে। ভবিষ্যতে অন্য যে কাউকে করতে পারে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক ব্যাপার হলো, গোয়েন্দা সংস্থা এবং কিছু মিডিয়া এই একই প্যাটার্নে হাসিনার আমলেও বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতাদের নামে প্রোপাগান্ডা ক্যাম্পেইন পরিচালনা করত। নতুন বাংলাদেশেও গোয়েন্দা সংস্থা এবং কিছু মিডিয়ার এই পুরনো অপরাধপ্রবণতা আমাকে একইসঙ্গে অবাক এবং ক্ষুব্ধ করে।’ বলেন হাসনাত।
৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অনুষ্ঠানে যোগ না দিয়ে কক্সবাজারে ঘুরতে যান এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা ও যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ। পরদিন দলের পক্ষ থেকে তাদের শোকজ করা হয়।ৎ
৩৪৩ দিন আগে
এনসিপির নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার প্রকাশ
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের এক দফা দাবির এক বছর পূর্তিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বহুল আলোচিত ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
‘জুলাই আন্দোলনের’ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দলটি বিচার প্রতিষ্ঠা, কাঠামোগত সংস্কার এবং একটি নবতর রাজনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরা হয়েছে। ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন আন্দোলনের সময়কার ছয় কেন্দ্রীয় সমন্বয়কের একজন ও বর্তমানে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
এনসিপির ঘোষণায় বলা হয়েছে—নতুন সংবিধান তৈরি, গত বছরের জুলাই গণআন্দোলনের স্বীকৃতি, সেই সময় নিপীড়নের শিকারদের বিচার, বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি এবং দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।
দলটির নেতারা বলেন, ‘জুলাইতে ছাত্র আন্দোলনের ডাকের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সরকার পতন হয়েছিল। এবার সেই জুলাই ঘোষণাপত্রকে সংবিধানে যুক্ত করতে হবে।’
তারা গত এক বছরে গুম, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় বিচার নিশ্চিত না করায় জনগণের কাছে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন।
দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র অবশ্যই সংবিধানে জায়গা পেতে হবে। জনগণই এখন নতুন বাংলাদেশের রক্ষক।’
তিনি বলেন, ‘বিচারব্যবস্থা যেন আর কোনো রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণে না থাকে। সরকার যা করবে, তা জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করে করতে হবে।’
দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘যদি আমাদের ভয় দেখানো হয়, আমরা রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধ করব। প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও আমাদের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করব।’
এনসিপির ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা
৩৪৭ দিন আগে
জুলাই অভ্যুত্থানে শিবিরের নির্দেশে কাজ করার তথ্য মিথ্যা: নাহিদ ইসলাম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা থেকে একক নেতৃত্ব দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এ সময়ে শিবিরের নেতৃত্বে কাজ করার তথ্যকেও ‘মিথ্যাচার’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, শিবির নেতা সাদিক কায়েম সম্প্রতি একটি টকশোতে বলেছেন, ছাত্রশক্তির গঠনপ্রক্রিয়ায় শিবির যুক্ত ছিল। শিবিরের নির্দেশে আমরা কাজ করতাম— এটা মিথ্যাচার।
‘সাদিক কায়েম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো সমন্বয়ক ছিলেন না। কিন্তু ৫ আগস্ট থেকে এই পরিচয় তিনি ব্যবহার করেছেন। অভ্যুত্থানে শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে সাদিক কায়েমকে প্রেস ব্রিফিংয়ে বসার সুযোগ দেওয়া হয়।’
অভ্যুত্থান শিবিরের একক ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, ‘সাদিক কায়েমরা অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ঢালাও প্রচারণা চালিয়েছে যে, এই অভ্যুত্থানে ঢাবি শিবিরই নেতৃত্ব দিয়েছে, আমরা শুধু সামনে পোস্টার ছিলাম। অভ্যুত্থানে শিবিরের ভূমিকা কেউ অস্বীকার করেনি। কিন্তু এই অভ্যুত্থান শিবিরের একক ছিল না, শিবিরের নির্দেশ বা নেতৃত্বও ছিল না। আমরা সব পক্ষের সাথে যোগাযোগ করেই সিদ্ধান্ত নিতাম। আর কারা ক্ষমতার ভাগ–বাঁটোয়ারা করতে চাইছে, গোষ্ঠীস্বার্থ রক্ষা করতে চাইছে— সে বিষয়ে অন্যদিন বলব।’
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘গুরুবার আড্ডা’ পাঠচক্রের সাথে জড়িত একটি অংশ এবং ঢাবি ছাত্র অধিকার থেকে পদত্যাগ করা একটি অংশ মিলে ছাত্রশক্তি গঠিত হয়। সঙ্গে জাবির একটি স্টাডি সার্কেলও যুক্ত হয়। একটি নতুন ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুবার আড্ডা পাঠচক্রে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা হয়েছে।
‘আমরা ক্যাম্পাসে আট বছর রাজনীতি করেছি। ফলে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সব সংগঠন ও নেতৃত্বকে আমরা চিনতাম এবং সব পক্ষের সাথেই আমাদের যোগাযোগ ও সম্পর্ক ছিল। সেই কারণে ঢাবি শিবিরের সাথেও যোগাযোগ ছিল। তবে যোগাযোগ, সম্পর্ক বা কখনো সহযোগিতা করা মানেই এই নয় যে তারা আমাদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল।’
আওয়ামী লীগের টানা ১৫ বছরের শাসনামলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে রাজনীতি করার সুযোগ পায়নি ইসলামী ছাত্রশিবির। তবে জামায়াতে ইসলামীর এ ছাত্র সংগঠন যে গোপনে সক্রিয় ছিল, তা প্রকাশ্যে আসে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদিক কায়েম ২১ সেপ্টেম্বর এক ফেসবুক পোস্টে জানান, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি।
সমন্বয়কের তালিকায় নাম না থাকলেও জুলাই মাসে চলা ছাত্র আন্দোলনে সামনের কাতারেই ছিলেন সাদিক কায়েম। তালিকাভুক্ত সমন্বয়কদের সঙ্গে বিভিন্ন ছবিতেও তাকে সে সময় দেখা যায়।
সম্প্রতি একটি টেলিভিশনের আলোচনা অনুষ্ঠানে সাদিক কায়েম বলেন, ২০১৭ সাল থেকে লম্বা সময় ধরে যখন তার যে পদ ছিল, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলমরা তা জানতেন।
সাদিক কায়েম বলেন, পরিচয় জেনে কো-অর্ডিনেশন করে আমরা সবাই মিলে একসাথে কাজ করেছি। সুতরাং এখানে পরিচয় গোপন করার কিছু নেই। ওই সময়ে পরিচয় ঘোষণা দিয়ে কাজ করার মতো পরিস্থিতি ছিল না। সে কারণে শিক্ষার্থীদের সব দাবির সঙ্গে ছিলাম, কিন্তু ঘোষণা দিয়ে কাজ করার মতো অবস্থা ছিল না। কারণ, আমাদের মেরে ফেলা বৈধ ছিল।
৩৫১ দিন আগে