ময়মনসিংহ
জামালপুরে গৃহবধূকে অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
জামালপুরে গৃহবধূ অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ আদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— জামালপুর পৌর এলাকার খুপিবাড়ী গ্রামের বুলবুল আহমেদ (৪৭), পাথালিয়া নাওভাঙ্গা চর গ্রামের কালাম ওরফে মাক্কু (৫২) এবং একই গ্রামের রুকু (৫৭)।
জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, শহরের পাথালিয়া নাওভাঙ্গা চর গ্রামের মো. ফরহাদ তার স্ত্রীকে নিয়ে বাসার পাশে শাহ জামাল (রহ.) মাজারের সামনে একটি চায়ের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। সে সময় বুলবুল আহমেদ, কালাম ওরফে মাক্কু ও রুকু প্রায়ই তাদের দোকানের সামনে এসে ওই গৃহবধূর দিকে খারাপ নজর ও কুপ্রস্তাব দিতেন। এতে বাধা দিলে তারা ওই নারীকে অপহরণ করে ধর্ষণ করার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
এর জের ধরে ২০২৩ সালের ১৪ মে রাত ১০টার দিকে শাহ জামাল (রহ.) মাজারের সামনে থেকে ভুক্তভোগীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে অপহরণ করেন আসামিরা। তারা প্রথমে তাকে খুপিবাড়ী গ্রামের বুলবুলের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে রুকুর সঙ্গে তাকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। ভুক্তভোগী বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে মারধর করেন। এরপর তিন আসামি মিলে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে তারা অটোরিকশায় করে নাওভাঙ্গা চর গ্রামের রুকুর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে আবারও ধর্ষণ করা হয়। পরদিন ১৫ মে ওই গৃহবধূ পালিয়ে এসে তার স্বামীকে ঘটনার বিস্তারিত জানান।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর স্বামী ফরহাদ বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা করেন। পরে মামলাটি জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ স্থানান্তর করা হয়।
মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক আজ এ রায় ঘোষণা করলেন।
এ ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট ফজলুল হক এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোকাম্মেল হক ও এস এম কামরুল হাসান উল্লাস।
২ দিন আগে
মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে দশ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ১৬ শিশুর মৃত্যু হলো।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৭ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৬৫ শিশু। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা মেঝে ও বারান্দায় স্থান নিয়েছেন।
হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গত ১৮ এপ্রিল ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে দশ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে হাম পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় শিশুটি মারা যায়।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালটিতে মোট ৭৪৮ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৬৬৭ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এবং ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৭ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী ভর্তি আছে। তবে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বাবল সিপ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
২ দিন আগে
শেরপুর সেতু দিয়ে ৩ দিন বন্ধ থাকবে যান চলাচল
জরুরি মেরামত কাজের জন্য আগামী শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) থেকে টানা তিন দিনের জন্য ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শেরপুর সেতু দিয়ে যান চলাচল সাময়িক বন্ধ থাকবে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, ঢাকা-সিলেট জাতীয় মহাসড়কের (এন-২) ১৮৬তম কিলোমিটারে কুশিয়ারা নদীর ওপর অবস্থিত শেরপুর সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত ডেকস্ল্যাব মেরামতের কাজ আগামী ২৪ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ২৬ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত চলমান থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২৪ এপ্রিল (শুক্রবার) সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এক লেনে যান চলাচল করবে। তবে ওই দিন রাত ১১টা থেকে ২৫ এপ্রিল (শনিবার) সকাল ৯টা পর্যন্ত সেতুর ওপর দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এছাড়া ২৫ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে ২৬ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সেতুর এক লেনে সীমিতভাবে যান চলাচল করবে। মেরামত কাজ শেষে ২৬ এপ্রিল (রবিবার) সকাল ৮টার পর সেতুটি পুনরায় যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
এদিকে, সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ থাকাকালীন বিকল্প পথ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। মহাসড়কে চলাচলকারী শায়েস্তাগঞ্জ–শেরপুর–সিলেট রুটের যানবাহনের জন্য শায়েস্তাগঞ্জ–মিরপুর (বাহুবল)–শ্রীমঙ্গল–মৌলভীবাজার–ফেঞ্চুগঞ্জ–সিলেট সড়ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়াও শেরপুর (মৌলভীবাজার)–সিলেট রুটের যানবাহনের জন্য মৌলভীবাজার–ফেঞ্চুগঞ্জ–সিলেট সড়ক এবং ঢাকা–সিলেট–সুনামগঞ্জ রুটের যানবাহনের জন্য নবীগঞ্জের সৈয়দপুর বাজার–রানীগঞ্জ–জগন্নাথপুর–সুনামগঞ্জ সড়ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
৩ দিন আগে
ময়মনসিংহে শিক্ষার্থী ইকবাল হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২১ সালে ময়মনসিংহের তারাকান্দার কলেজ শিক্ষার্থী ইকবাল হত্যা মামলায় সাতজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই নারীকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জাকির হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: উপজেলার পলাশকান্দা টানপাড়া গ্রামের মো. ইউনুছ আলী ওরফে ইন্নছ আলী (৬২), তার ভাই মোহাম্মদ আলী (৫২), মো. গোলাম হোসেন ওরফে গুলু (৫১) ও শামছুল হক (৪৪); আসিফ রানা নাঈম (২৪), মো. আব্দুল হেলিম (৫১) এবং মো. ফরিদ আহম্মেদ ওরফে বাবু (১৯)।
এছাড়া অপর দুই আসামি মোছা. খালেদা আক্তার ও মোছা. রেহেনা খাতুনকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, শাহীনুর আলম ওরফে ইকবাল ময়মনসিংহ নগরীর রুমডো পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তিনি ২০২১ সালের ৩১ মে রাতে পলাশকান্দা টানপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও না পাওয়া গেলে তার বাবা আব্দুর রউফ তারাকান্দা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের ৫ দিন পর পলাশকান্দা গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ের নিচে পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংক থেকে ইকবালের গলিত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনার পরের দিন, অর্থাৎ ৬ জুন শাহীনুর আলম ওরফে ইকবালের ভাই সেলিম মিয়া বাদী হয়ে সন্দেহভাজন একই গ্রামের গোলাম হোসেনের পুত্র আসিফ রানা নাঈম ওরফে রানাসহ কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলায় সেলিম মিয়া উল্লেখ করেন, তাদের পরিবারের সঙ্গে একই গ্রামের গোলাম হোসেনের পরিবারের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। তারই জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
এরপর পুলিশ তদন্ত শেষে হত্যা মামলার চার্জশিট প্রদান করলে দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে আজ (মঙ্গলবার) বিকেলে জেলা দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোহাম্মদ জাকির হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।
এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. রফিকুল ইসলাম। আসামি পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট এ এইচ এম খালেকুজ্জামান।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান মামলার বাদী সেলিম মিয়া ও তার পরিবার।
৪ দিন আগে
ময়মনসিংহে বিএনপির দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, সংর্ঘষের আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আমিনুল ইসলাম এ আদেশ জারি করেন।
ইউএনও বলেন, স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষ একই এলাকায় একই সময়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আজ (রবিবার) দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে।
তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীর আহমেদ বলেন, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে। উপজেলা সদরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মুফতি মাহমুদুল্লাহর অনুসারীদের সঙ্গে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী ও উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদারের অনুসারীদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধ চলে আসছে।
এই বিরোধের জেরে এর আগে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এতে স্থানীয় যুবদলের রিয়াদ নামের এক নেতা ১১-দলীয় জোট সমর্থিত এমপির পক্ষের সঙ্গে তর্কে জড়ান। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এতে ময়মনসিংহ মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের হোসেন শাকিলের অনুসারী যুবদল নেতা রিয়াদ আহত হন।
মূলত ওই ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার তারাকান্দা উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন শাকিলের অনুসারীরা। এ খবরে মোতাহার হোসেনের সমর্থকরা পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয়রা জানান, বিবাদমান দুটি পক্ষের মধ্যে একটি পক্ষ বিগত সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ধানের শীষের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এ কারণে অল্প ভোটের ব্যবধানে আসনটি হারায় বিএনপি। এ নিয়ে নির্বাচনের পর থেকে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
৬ দিন আগে
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭৮
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৩ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ১৪ শিশুর মৃত্যু হলো। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩৪ শিশু ভর্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৭৮ শিশু।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গত ৯ এপ্রিল কিশোরগঞ্জের সদর উপজেলা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৩ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। এরই মধ্যে গতকাল (শনিবার) দুপুরে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে শিশুটি মারা যায়।
আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন আরও বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৬১১ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৫১৯টি শিশু এবং ১৪টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে আরও ৭২টি শিশু।
তিনি জানান, সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। তবে ৬ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে এখনও শিশুদের আইসিইউ চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থার শিশুদের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডারের বিকল্প বাবল সিপ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে।
৬ দিন আগে
মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ৯ ও ১০ মাস বয়সী দুই ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ১২ শিশুর মৃত্যু হলো। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৬ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৭৩ শিশু।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে হাসপাতালের হাম মেডিকেল দলের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত ২২ মার্চ ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৯ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। এরইমধ্যে শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
এছাড়া ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ১০ মাস বয়সী আরেক ছেলে শিশুকে ১১ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। পরে একই দিন সকালে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
ডা. গোলাম মাওলা আরও জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে রবিবার (১২ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৩৯৭ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৩১২ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এবং ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৮ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭৩ শিশু।
তিনি বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী ভর্তি আছে। তবে ৬ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। হাসপাতালে সব রোগীকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
১৩ দিন আগে
হামের উপসর্গ নিয়ে মমেকে আরও দুই শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৩ ও ৮ মাস বয়সী আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ৯ শিশুর মৃত্যু হলো।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে হাসপাতালের হাম মেডিকেল টিমের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গত ১৭ মার্চ নেত্রকোনা সদর উপজেলা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৩ মাস বয়সী একটি মেয়ে শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। এরইমধ্যে গত বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত জটিলতায় শিশুটি মারা যায়।
এছাড়া ময়মনসিংহের ত্রিশাল থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৮ মাস বয়সী একটি ছেলে শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাকেও যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। তবে সেও হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত জটিলতায় মারা গেছে বলে জানান এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
ডা. গোলাম মাওলা জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৩২৪ শিশু মমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ২৩৯টি শিশু এবং ৯টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে আরও ২৬টি শিশু হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭৬টি শিশু।
তিনি বলেন, সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। তবে হাসপাতালে ৬ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
১৬ দিন আগে
ময়মনসিংহে বিএনপি নেতার ফিলিং স্টেশন থেকে ৫৮ হাজার লিটার তেল গায়েব, ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এক বিএনপি নেতার মালিকানাধীন ফিলিং স্টেশন থেকে প্রায় ৫৮ হাজার লিটার তেল উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এরপর প্রশাসনের অভিযানে বেরিয়ে এসেছে তেল মজুদ, তথ্য গোপন ও কালোবাজারির অভিযোগ। এ ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া এলাকায় ডৌহাখলা ইউনিয়নের মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশনে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালান। অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা মনি।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মো. আফসারুল ইসলাম স্টেশনটি পরিদর্শন করেন। এ সময় ভৈরব বাজার ডিপো থেকে প্রাপ্ত চালান ও নথি যাচাই করে দেখা যায়, চলতি মাসের ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ওই ফিলিং স্টেশনে মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু মজুদ ও বিক্রির হিসাব চাইলে ফিলিং স্টেশনটির ব্যবস্থাপক মো. জলিল হোসেন রিফাত (৩০) সন্তোষজনক কোনো তথ্য দিতে ব্যর্থ হন।
তিনি দাবি করেন, ৩ এপ্রিল মাত্র ৯ হাজার লিটার পেট্রোল এসেছে। বাকি তেলের কোনো রেকর্ড তার কাছে নেই।
তার বক্তব্যের সঙ্গে তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়লে প্রশাসনের সন্দেহ আরও জোরদার হয়। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে করা প্রাথমিক তদন্তে বিপুল পরিমাণ তেল অবৈধভাবে মজুদ এবং কালোবাজারির প্রমাণ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় মো. আফসারুল ইসলাম বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫/২৫ডি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জ্বালানি তেল মজুদ ও কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ফিলিং স্টেশনটি গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব হাফেজ আজিজুল হকের মালিকানাধীন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ফিলিং স্টেশনের মালিক হাফেজ আজিজুল হক বলেন, ‘আমি যে পেট্রোল এনেছি তা প্রতিদিন বিক্রি করা হয়েছে। এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।’ মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে অযথা হয়রানি করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
১৭ দিন আগে
ময়মনসিংহে আলামিন হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন
ময়মনসিংহের ত্রিশালে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আলামিন হত্যা মামলায় একই পরিবারের ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— ত্রিশাল উপজেলার মোক্ষপুর ইউনিয়নের সেনের চকপাড়া গ্রামের রশিদ (৪১), জসিম উদ্দিন (৫০) ও তার স্ত্রী হুরেনা খাতুন, তাদের ছেলে রিয়াদ (২৫) এবং জোনাকি আক্তার (৩৮)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, একই গ্রামের হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে জসিম উদ্দিনদের পরিবারের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে ২০২৩ সালের ১৯ জুন দুপুরে জসিম উদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হাফিজুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় তারা হাফিজুলের স্ত্রী নুরজাহান বেগমকে মারধর করেন।
ঘটনার সময় হাফিজুল ইসলামের ভাই আলামিন হামলা ঠেকাতে গেলে আসামিরা তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেন।
ঘটনার পর নিহতের চাচা হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত ৫ জন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রায়ে তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলার অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দেন।
১৭ দিন আগে