ময়মনসিংহ
ল্যাম্প পোস্ট চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত, দুই যুবক নিহত
ময়মনসিংহ নগরীর জিলা স্কুল হোস্টেল মাঠে বিদ্যুতায়িত হয়ে দুই যুবক নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহতরা হলেন— নগরীর মাদরাসা কোয়ার্টার এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে হৃদয় (২৫)। অপরজনের নাম রাকিব মিয়া, তবে তার পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নগরীর জিলা স্কুল হোস্টেল মাঠের পরিত্যক্ত টিনশেডের পেছনে অকেজো ল্যাম্প পোস্ট চুরি করতে ওঠেন রাকিব। তিনি ল্যাম্প পোস্টে উঠে কাটার সময় পাশে থাকা বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে লেগে তার শরীর ঝলসে যায়। বিষয়টি তার অন্য বন্ধু হৃদয় দেখতে পেয়ে তাকে বাঁচাতে যান। বাঁচাতে গিয়ে তিনিও বিদ্যুতায়িত হন। এতে ঘটনাস্থলেই রাকিবের মৃত্যু হয়, গুরুতর আহত হন হৃদয়। পরে স্থানীয়রা টের পেয়ে দুজনকে উদ্ধার করে মমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
২ দিন আগে
ময়মনসিংহে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ১
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় নির্বাচনি কার্যালয় উদ্বোধন নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নজরুল ইসলাম (৪০) নামে একজন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর ধোবাউড়া উপজেলার এরশাদ বাজারে ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের সমর্থকদের মাঝে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত নজরুল ইসলাম উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের রামসিংহপুর গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী রুবেলের কর্মী ছিলেন।
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যার পর ধোবাউড়া উপজেলার এরশাদ বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের নির্বাচনি কার্যালয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যান সালমান ওমর রুবেল। উদ্বোধন শেষে ফিরে আসার সময় এমরান সালেহ প্রিন্সের সমর্থকরা হঠাৎ রুবেলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করেন। এ সময় নজরুলকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে সালমান ওমর রুবেল বলেন, আমাদের অফিস উদ্ধোধন করে বের হওয়ার সময় পেছন থেকে অতর্কিত হামলা করে প্রিন্স ভাইয়ের লোকজন। আমার কর্মী নজরুল হত্যার সঙ্গে জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেপ্তারে দাবি জানাচ্ছি।
সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, আমি হালুয়াঘাটে আছি। এই ব্যাপার নিয়ে আমি পুরোপুরি অবগত নই। তবে প্রাথমিকভাবে যেটুকু শুনেছি এটা তাদের পারিবারিক কোনো একটা সমস্যা নিয়ে ঝামেলা। এটাকে রাজনৈতিক রঙ লাগানোর চেষ্টা করছে তারা। যে মেরেছে তিনি আমাদের দলের সাবেক কর্মী। তবে এটা যদি এরকম হয়ে থাকে, আমরা ব্যবস্থা নেব।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শুনেছি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এমরান সালেহ প্রিন্স ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী সালসান ওমর রুবেলের সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষের হয়েছে। এ ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। পরে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।
ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৫ দিন আগে
পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই: ময়মনসিংহে গ্রেপ্তার ৭
ময়মনসিংহ সদরের দিঘারকান্দা এলাকায় মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়ার পথে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আসামির বাবাসহ ৭ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতভর যৌথ বাহিনীর অভিযানে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে, ওইদিন বিকেলে দিগারকান্দা ফিশারি মোড় এলাকায় মামলার আসামি স্থানীয় আরিফুল ইসলামকে ধরতে গেলে তার পরিবারের লোকজন এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করেন। এ সময় হামলাকারীরা পাঁচ পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে জখম করে আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যান।
অভিযানে পুলিশের দলটির নেতৃত্বে ছিলেন ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ। আহত হয়ে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, কয়েকদিন আগে রাসেল নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগে দিঘারকান্দা এলাকার সাগর আলীর ছেলে আরিফুল ইসলামসহ কয়েকজনের নামে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা হয়। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে আমার নেতৃত্বে পুলিশের পাঁচ সদস্যের একটি দল দিগারকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে নিয়ে আসার সময় আরিফুলের বাবা সাগর আলীর নেতৃত্বে এলাকাবাসী লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে গুরুতর জখম করে হাতকড়া পরিহিত আরিফুলকে ছিনিয়ে নিয়ে যান তারা।
খবর পেয়ে পুলিশ, র্যাব ও সেনা সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল পৌঁছে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমকে) হাসপাতালে ভর্তি করান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল রাতেই আরিফুলের বাবা সাগর আলীসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান তিনি।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ মমেক হাসপাতালের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ওসি আরও জানান, পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ আরিফুল ইসলামকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এছাড়া রাতভর অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
৮ দিন আগে
নেত্রকোণায় ট্রেনের ধাক্কায় ২ শ্রমিকের মৃত্যু
নেত্রকোণায় ট্রেনের ধাক্কায় ২ জন অটো রাইসমিল শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ রেললাইনের চল্লিশা রেলস্টেশনের নিকট দু্র্ঘটনাটি ঘটেছে।
নিহতরা হলেন— শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মালিজাকান্দা গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে রাসেল ইসলাম (২৫) এবং দিনাজপুরের চিরিবন্দর উপজেলার ছোট বাউল গ্রামের সন্তোষ রায়ের ছেলে আকাশ রায় (২৪)।
তারা দুইজনই চল্লিশার জীবন কুমার সাহার মালিকানাধীন ‘তমাল তম্ময়’ অটো রাইসমিলের শ্রমিক হিসেবে এক বছর ধরে কাজ করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনরা জানান, গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যার দিকে রাসেল ও আকাশ তাদের মিলের ৭-৮ জন সহকর্মীর সঙ্গে মিলের পাশের রেললাইনে ঘুরতে যান। তারা রেললাইনের ওপর দিয়ে হেঁটে চল্লিশা স্টেশনে যাওয়ার সময় ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জগামী ‘মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ধাক্কায় ২ জন রাস্তার পাশে ছিটকে পড়েন। তাদের সহকর্মীরা গুরুতর আহত অবস্থায় রাসেল ও আকাশকে উদ্ধার করে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শ্রদ্ধানন্দ নাথ তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ডা. শ্রদ্ধানন্দ নাথ জানান, আকাশ ও রাসেলকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তারা নিহত হয়েছেন। তাদের মাথা ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহতের সঙ্গে আসা লোকজনের তথ্য মতে, তারা ট্রেনের ধাক্কায় মারা গেছেন।
শ্যামগঞ্জ জিআরপি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নূরুল ইসলাম জানান, নেত্রকোণার চল্লিশায় মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ২ জন লোক মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১১ দিন আগে
দিপু হত্যা মামলা: মরদেহে অগ্নিসংযোগে নেতৃত্ব দেওয়া সেই ইয়াছিন গ্রেপ্তার
ময়মনসিংহের ভালুকায় গার্মেন্টস শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেওয়া ইয়াছিন আরাফাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহযোগিতায় ঢাকার ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ইয়াছিন আরাফাত ভালুকা থানার দক্ষিণ হবিরবাড়ি (কড়ইতলা মোড়) এলাকার গাজী মিয়ার ছেলে। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি ১২ দিন দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় আত্মগোপনে ছিলেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনার দিন পাইওনিয়ার ফ্যাক্টরির ফটকে স্লোগান দিয়ে লোক জড়ো করার পেছনে মূল ভূমিকা ছিল ইয়াছিনের। দিপুকে হত্যার পর তার নিথর দেহ রশি দিয়ে টেনে-হিঁচড়ে স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় তিনি সরাসরি নেতৃত্ব দেন।
তিনি জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৯ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
১৪ দিন আগে
বিকল্প পথে ময়মনসিংহ থেকে ট্রেন চলাচল শুরু
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে রেললাইন খুলে নেওয়ার ঘটনায় ট্রেন লাইনচ্যুতির কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। তবে কয়েক ঘণ্টা পরে বিকল্প পথে ময়মনসিংহ-ভৈরব হয়ে ঢাকাগামী ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ভোর সোয়া ৫টার দিকে গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশের ২ কিলোমিটার আগে সালটিয়া মাঠখোলা নামক স্থানে লাইনচ্যুত হয় অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনটি।
রেলওয়ে স্টেশন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তারাকান্দি থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনটি হঠাৎ লাইনচ্যুত হয়ে যায়। রেলপথের ওই স্থানটিতে ২০ ফুটের একটি লোহার দণ্ড দুপাশ থেকে নাট খুলে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এতে ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ সামনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। ট্রেন লাইচ্যুত হওয়ায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঢাকা থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন এসে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।
এদিকে, জামালপুর থেকে ঢাকাগামী যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেন সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ময়মনসিংহ স্টেশনে এসে অস্থান করে। এরপর বিকল্প রুট হিসেবে গৌরীপুর, কিশোরগঞ্জ ও ভৈরব হয়ে ঢাকা পাঠানো হয় ট্রেনটিকে।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন সুপার আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, আজ বেলা সোয়া ১১টার দিকে ট্রেনটি ময়মনসিংহ ছেড়ে যায়। এছাড়া ঢাকা থেকে জামালপুর এক্সপ্রেস ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন ভৈরব হয়ে ময়মনসিংহে আসবে বলেও জানান তিনি।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ বন্ধ হয়ে পড়ায় ঢাকা-তারাকান্দি রুটের আন্তঃনগর অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস (৭৩৫ নম্বর) ট্রেন, তারাকান্দি-ঢাকা রুটের আন্তঃনগর অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস (৭৩৬ নম্বর) ট্রেন, দেওয়ানগঞ্জ বাজার-ঢাকা রুটের আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস (৭৪৪ নম্বর) ট্রেন, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে ঢাকা রুটের আন্তঃনগর হাওর এক্সপ্রেস (৭৭৮ নম্বর) ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এসব ট্রেনের জন্য কাটা টিকিটের মূল্য ফেরত পেতে অনলাইনে লগইন করে রিফান্ড গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।
দুপুর আড়াইটার দিকে ময়মনসিংহ রেলওয়ের পরিবহন পরিদর্শক শাহীনুর ইসলাম বলেন, উদ্ধারকারী ট্রেন উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। উদ্ধারকাজ শেষ হতে আরও ২ থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
২৪ দিন আগে
রেললাইন তুলে ফেলায় দুই বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে রেললাইন তুলে ফেলায় ঢাকাগামী অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনসহ দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ভোর ৫টা ১০ মিনিটে গফরগাঁও স্টেশনের আগে দুর্বৃত্তরা ২০ ফুট রেললাইন সরিয়ে ফেলায় এই ঘটনা ঘটে।
গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার হানিফ বলেন, আমি এখনও ঘটনাস্থলে পৌছাতে পারিনি। তবে রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনী জানিয়েছে, ওই এলাকার ২০ ফুট রেললাইন সরিয়ে ফেলায় তারাকান্দি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনসহ দুই বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) ময়মনসিংহের পরিদর্শক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনী ঘটনাস্থলে আছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ-১০ গফরগাঁও আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পান আক্তারুজ্জামান বাচ্চু। এরপর মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের কর্মীরা রেললাইন এলাকায় আন্দোলন শুরু করেন।
২৪ দিন আগে
দীপু হত্যা মামলায় মামলার আরও ৬ আসামি গ্রেপ্তার
ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় হওয়া মামলার আরও ৬ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ-ডিবি।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের কাশর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশ। এ নিয়ে এই মামলার মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে জেলা পুলিশের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার ৬ জন দীপুকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিতে বাধ্য করেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন— সুনামগঞ্জের তাকবির (২২), ঠাকুরগাঁওয়ের রুহুল আমিন (৪২), ময়মনসিংহ সদরের নূর আলম (৩৩), তারাকান্দা উপজেলার মো. শামীম মিয়া (২৮) নোয়াখালীর সেলিম মিয়া (২২) ও মাদারীপুরের মো. মাসুম খালাসী (২৩)।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভালুকার জামিরদিয়া এলাকার পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেড কারখানায়। ধর্ম অবমাননার অভিযোগে জনতা দীপুকে সংঘবদ্ধ পিটুনি দেয়। পরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে নিয়ে তার মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ রাত আড়াইটার দিকে অর্ধপোড়া মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পরের দিন (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে দীপুর ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১৫০-১৬০ জনকে আসামি করে ভালুকা থানায় মামলা করেন। মামলার পর উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশ।
২৮ দিন আগে
ঋণ পরিশোধে চুরি করে গরু বিক্রির চেষ্টা, দেখে ফেলায় স্বামীকে গলা কেটে হত্যা
নেত্রকোণার সদর উপজেলায় ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে এক নারী নিজেদের গোয়ালের গরু চুরি করে বিক্রির দায়িত্ব দেন চোর চক্রের এক সদস্যকে। কিন্তু চুরি করার সময় দেখে ফেলেন স্বামী। পরে নিজের ঘরের বিছানায় ভাড়া করা চোর চক্রের চার সদস্য ও স্ত্রী মিলে স্বামীর পা বেঁধে তার গলা কেটে হত্যা করেন।
এমন লোমহর্ষক হত্যার ঘটনা ঘটেছে সদর উপজেলার কালিয়ারা গাবরাগাতী ইউনিয়নের নারিয়াপাড়া গ্রামে। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুনের রহস্য উন্মোচন করেছে নেত্রকোণা মডেল থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) হত্যাকাণ্ডে সরাসারি জড়িত মো. লিটন মিয়া (৫০) ও মো. রিয়েল মিয়া (৩৮) নামে দুজনকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে প্রেরণ করেছেন থানার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) চম্পক দাম।
এর আগে, নিহতের স্ত্রী বেদেনা আক্তারকে (৪২) গ্রেপ্তারের পর সোমবার (২২ ডিসেম্বর) আদালতে স্বামী হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।
ওই নারীর দেওয়া তথ্যমতে, এ ঘটনায় তিনি ও আদালতে পাঠানো দুজনসহ জড়িত মোট পাঁচজন। তদন্তের স্বার্থে বাকি দুজনের নাম বলেননি তদন্ত কর্মকর্তা।
পরিদর্শক চম্পক দামের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেদেনা আক্তার অনেক ঋণ করে ফেলেছিলেন। সেই ঋণ পরিশোধ করতে গরু বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু স্বামী বাধা দেওয়ায় তা করতে পারেননি। পরে নিজেদের গোয়ালের গরু চুরি করে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এই উদ্দেশ্যে তার বাপের বাড়ি, জেলার বারহাট্টা উপজেলায় দুধকুড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. লিটন মিয়াকে (৫০) দায়িত্ব দেন।
গত ২১ ডিসেম্বর (রবিবার) মধ্যরাতে লিটন মিয়া তার সঙ্গে গ্রেপ্তার নারিয়াপাড়া গ্রামের রিয়েল মিয়াসহ চারজন গরু চুরি করতে যান। এ সময় বেদেনা আক্তারের স্বামী হেলাল উদ্দিন তালুকদার (৬০) চোরদের দেখে ফেলেন। তিনি তাদের চিনতেও পারেন। পরে তারা সবাই মিলে ভুক্তভোগীর পা বেঁধে জবাই করে হত্যা করেন। এরপর বেদেনা আক্তার ছাড়া বাকি সবাই পালিয়ে যান।
বেদেনা আক্তারের আদালতে দেওয়া জবানবন্দি ও মোবাইলের ফোনের কলের তালিকা অনুযায়ী এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় লিটন ও রিয়েলকে গ্রেপ্তার করে চম্পক দামের নেতৃত্বাধীন পুলিশের একটি দল।
এই তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, লিটন মিয়ার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে পাঁচ-ছয়টি চুরির মামলা রয়েছে। রিয়েল মিয়া একটি হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তিন-চার বছর জেল খাটার পর উচ্চ আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন তিনি। বাকি দুজনও মামলার আসামি এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশি কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
গত ২২ ডিসেম্বর সকালে খবর পেয়ে বসতঘরের নিজ শয়নকক্ষ থেকে হেলাল উদ্দিন তালুকদারের পা বাঁধা ও গলা কাটা রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগী কালিয়ারা গাবরাগতী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইসলাম উদ্দিন ও জেলা যুবদলের সাবেক নেতা শাহাবউদ্দিন রিপনের চাচাতো ভাই। এক মেয়ে ও এক ছেলের বাবা ছিলেন নিহত হেলাল তালুকদার।
২৯ দিন আগে
দীপু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১২ আসামি ৩ দিনের রিমান্ডে
ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাসকে (২৮) হত্যার পর মরদেহ আগুন দেওয়ার মামলায় গ্রেপ্তার ১২ আসামির প্রত্যেককে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে ৭ নম্বর ময়মনসিংহ আমলি আদালতের সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত হোসেন এ আদেশ দেন।
রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— আশিকুর রহমান (২৫) কাইয়ুম (২৫), মো. লিমন সরকার (১৯), মো. তারেক হোসেন (১৯), মো. মানিক মিয়া (২০), এরশাদ আলী (৩৯), নিজুম উদ্দিন (২০), আলমগীর হোসেন (৩৮), মো. মিরাজ হোসেন আকন (৪৬), মো. আজমল হাসান সগীর (২৬), মো. শাহিন মিয়া (১৯) ও মো. নাজমুল (২১)।
আদালতের পরিদর্শক শেখ মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, পুলিশ গ্রেপ্তারদের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠায়। পরে বিচারক প্রত্যেককে তিন দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।
এর আগে, গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১৫০/১৬০ জনকে আসামি করে ভালুকা থানায় মামলা করেন। মামলার পর উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব ও পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ভালুকার জামিরদিয়া এলাকার পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেড কারখানায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দীপুকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা। পরে তার মরদেহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে নিয়ে গাছে ঝুলিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে রাত আড়াইটার দিকে অর্ধপোড়া মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। ওই যুবককে পুলিশের হাতে না দিয়ে জনতার হাতে কেন তুলে দেওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে।
দীপুর বাবা রবি চন্দ্র দাস ও বোন চম্পা দাসের দাবি, কারখানার উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে দীপুকে মিথ্যা অপবাদে হত্যা করা হয়েছে। তাদের দাবি, দীপু শিক্ষিত এবং সচেতন ছিলেন। তিনি এমন কাজ (ধর্ম অবমাননা) করতে পারেন না।
৩০ দিন আগে