ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় দুই বোন নিহত
ময়মনসিংহের তারাকান্দায় কাভার্ড ভ্যানের চাপায় দুই বোন নিহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার পশ্চিম তালদিঘী এলাকায় ময়মনসিংহ-শেরপুর আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই শিশু হলো পশ্চিম তালদিঘীর ফকিরবাড়ি এলাকার মোখলেছুর রহমানের মেয়ে আরাবিয়া (৮) ও রাবেয়া (৫)। তারা স্থানীয় তালদিঘী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।
তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাশিদ জানান, সকালে শিশু দুটির মা গৃহকর্মী ফাতেমা আক্তার কাজে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় দুই মেয়েও তার সঙ্গে ছিল। মা রাস্তা পার হয়ে কাজে চলে গেলেও শিশু দুটি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।
এ সময় ময়মনসিংহগামী একটি কাভার্ড ভ্যান শিশু দুটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
ওসি আরও জানান, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। পরে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দাফনের অনুমতি দিয়ে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
১৭ ঘণ্টা আগে
যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
জামালপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত জনি (৩৫) জামালপুর সদর উপজেলার লাহিড়ীকান্দা গ্রামের বাসিন্দা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ফজলুল হক জানান, ২০১৪ সালের শেষের দিকে একই উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের আব্দুল হামিদের মেয়ে তমাকে বিয়ে করেন জনি। চার মাস পর জনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কেনার জন্য আড়াই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করলে তমার পরিবার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে।
এরপর ২০১৫ সালের ১৯ মার্চ বেলা ১১টার দিকে জনি তার স্ত্রীকে মারধর করেন। একপর্যায়ে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যান জনি।
২০ মার্চ জামালপুর সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয় এবং তমার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
ময়নাতদন্তে হত্যার বিষয়টি প্রমাণিত হলে জনিসহ চারজনকে আসামি করে জামালপুর সদর থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের মা উম্মে কুলছুম। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে আসামিদের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
ফজলুল হক বলেন, এ মামলার আসামিদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ার খালাস দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জনির অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ সম্পন্ন হয়। ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক জনির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।
২ দিন আগে
জামালপুরে ধর্ষণ মামলায় ইমামের যাবজ্জীবন
জামালপুরে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলায় মুছা মিয়া নামের এক ইমামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মুছা মিয়া দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার একটি জামে মসজিদে ইমামতি ও মক্তবে শিক্ষকতা করতেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, প্রতিদিন সকালে শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে ভুক্তভোগীকে মসজিদে রেখে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করাতেন মুছা। ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর এবং ১ ও ২ ডিসেম্বর মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন তিনি।
পরে বিষয়টি জানতে পেরে ৮ ডিসেম্বর ভুক্তভোগীর মা দেওয়ানগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ২০২১ সালের ৫ মে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত রায় ঘোষণা করলেন। রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষ।
৪ দিন আগে
শেরপুরে খালে ভাসমান ড্রাম থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার
শেরপুরের শ্রীবরদীতে খালে ভাসমান প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার কুড়িকাহনিয়া বাজারে সেতুর নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, খালের পানিতে প্লাস্টিকের ড্রাম ভাসতে দেখে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে শ্রীবরদী থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে ড্রামটি খুলে ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ দেখতে পায়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোথাও ওই নারীকে হত্যার পর দেহ ড্রামে ভরে খালের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল লতিফ জানান, মরদেহের গলায় কাপড় পেঁচানো এবং কপাল ও মুখে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ঘটনার তদন্ত ও মরদেহের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি দলও ঘটনাস্থলে রয়েছে।
৭ দিন আগে
ময়মনসিংহে হত্যা মামলায় বাবা-ছেলেসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন
ময়মনসিংহের ত্রিশালে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সোহেল হত্যা মামলায় চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা দায়রা জজ আদালতের চতুর্থ অতিরিক্ত বিচারক ফারজানা আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আব্দুল সাত্তার বেপারী, তার দুই ছেলে আলমগীর হোসেন আলম বেপারী ও রনি বেপারী এবং আশিকুর রহমান আশিক। আব্দুল সাত্তার রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ত্রিশালের কাঁঠিহারী ইউনিয়নের বাগাদাড়িয়া গ্রামের সোহেলের পরিবারের সঙ্গে আব্দুল সাত্তারের পরিবারের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। তার জেরে ২০১১ সালের ২৮ মে ধান নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আসামিদের সঙ্গে সোহেলের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সোহেলের ওপর হামলা চালান।
স্থানীয়রা তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ৩০ মে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল সালাম বেপারী ২০১১ সালের ২ জুন ত্রিশাল থানায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত চার আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করলেন।
১৪ দিন আগে
ময়মনসিংহে বিজিবির গুলিতে ‘চোরাকারবারি’র মৃত্যু
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে অভিযানের সময় বিজিবির গুলিতে নোমান (৩৮) নামের এক সন্দেহভাজন গরু চোরাকারবারি নিহত ও নায়েক রফিক নামের এক বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোর পৌনে ৬টার দিকে হালুয়াঘাট উপজেলার তেলিখালী বিওপির আওতাধীন জলজলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নোমান হালুয়াঘাট উপজেলার ১ নম্বর ভুবনকুড়া ইউনিয়নের ঝলজুলিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নূরুল আজিম বায়জিদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি চক্রের গরু চোরাচালানের খবর পেয়ে বিজিবির টহলদল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তারা চারটি গরু আটক করে। আটক করা গরু নিয়ে ফেরার পথে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিরা বিজিবির টহলদলের ওপর হামলা চালিয়ে দুটি গরু ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় বিজিবির সদস্য নায়েক রফিক আহত হন।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আত্মরক্ষার্থে বিজিবি সদস্যরা সতর্কতামূলক ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এ সময় নোমান আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন বিজিবি অধিনায়ক।
এদিকে নোমানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সকালে হালুয়াঘাট পৌর শহরে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় লোকজন সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন এবং কাঠের গুঁড়ি ও বিভিন্ন আসবাবপত্র দিয়ে সড়কে ব্যারিকেড তৈরি করেন। এতে হালুয়াঘাট-ময়মনসিংহ প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানান, বর্তমানে হালুয়াঘাটের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
১৭ দিন আগে
বাসচাপায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বউ-শাশুড়ি নিহত
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় বাসের চাপায় উফেজা বেওয়া (৬৫) ও তার ছেলের বউ ফরিদা বেগম (৪০) নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার নিলক্ষিয়া ঠাকুরপাড়া গ্রামে ঢাকা-বকশীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত উফেজা বেওয়া বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষিয়া ঠাকুরপাড়া গ্রামের মৃত মোকছেদ আলীর স্ত্রী ও ফরিদা বেগম তার ছেলে নূর ইসলামের স্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বকশীগঞ্জগামী যাত্রীবাহী একটি বাস রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা উফেজা বেওয়া ও ফরিদা বেগমকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা বাস ও তার সহকারী মহিউদ্দিনকে আটক করে পুলিশে দেন।
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন জানান, এ ব্যাপারে বকশীগঞ্জ হাইওয়ে থানার পক্ষ থেকে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে হাইওয়ে থানার ওসির মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
১৯ দিন আগে
কৃষক হত্যা মামলায় ৩ ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড
ময়মনসিংহের নান্দাইলে জমি নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে কৃষককে হত্যার দায়ে তিন ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তাদের বাবাসহ আরও ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সেই সঙ্গে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহের প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সামছুদ্দিন আহাম্মেদ এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন নান্দাইলের চর লক্ষীদিয়া এলাকার আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে মোজাম্মেল হক স্বপন মিয়া (৪৬), আপন মিয়া (৪৩) ও রিপন মিয়া (৪১)।
অন্যদিকে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আবু বকর সিদ্দিক (৭১) ও তার আরেক ছেলে কাঞ্চন মিয়া (৩৬), রুবেল (২৯), পারভেজ (৩১), মোফাজ্জল হোসেন (৫৬), কাশিদ (৫৯), আল-আমিন (৩১), সুমন মিয়া (৩৬), নয়ন মিয়া (২৯) ও আসাদুল (২৯)।
আসামিদের মধ্যে রিপন মিয়া ও আসাদুল পলাতক রয়েছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নান্দাইলের চর ভেলামারীর হযরত আলীর ছেলে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবির সঙ্গে আবু বকর সিদ্দিকসহ অন্য আসামিদের জমি নিয়ে পূর্ববিরোধ ছিল।
২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি চর ভেলামারী চৌরাস্তা খেয়াঘাটে একটি কাপড়ের দোকানে বসে ছিলেন শফিকুল। এ সময় আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন।
ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে নান্দাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী আনোয়ার আজিজ টুটুল এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম আমানউল্লাহ বাদল।
২২ দিন আগে
ময়মনসিংহে আগুনে পুড়ল ঐতিহাসিক সিনেমা হলসহ প্রায় ২০ দোকান
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পৌর শহরের ঐতিহ্যবাহী ঝলমল সিনেমা হলসহ প্রায় ২০টি দোকান পুড়ে গেছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে সিনেমা হলটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সিনেমা হলের পাশে থাকা এলপিজি সিলিন্ডারের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে প্রথমে একটি ইউনিট দ্রুত আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। পরে আরও তিনটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি আরও জানান, আগুনে ঝলমল সিনেমা হল ও সংলগ্ন একটি এলপিজি সিলিন্ডারের গুদাম, ডেকোরেটরের দোকান, পুরাতন কাপড়ের দোকানসহ ১৫ থেকে ২০টি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, ঝলমল সিনেমা হলটি মূলত গৌরীপুরের একটি জমিদার বাড়ি। শতবর্ষী এই ঐতিহাসিক স্থাপনায় সিনেমা হলটি পরিচালিত হয়ে আসছিল।
২২ দিন আগে
ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জনসহ নিহত ৭
ময়মনসিংহে বাসচাপায় একই পরিবারের ৪ জনসহ সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকসহ ৭ জন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর আকুয়া বাইপাস সড়কের গন্দ্রপা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী ও একজন শিশু রয়েছে। তবে এদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে।
পরিচয় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের রাশিদা বেগম (৭০), তার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৫০), মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫), মর্জিনার ছেলে মিনান (৫) এবং জামালপুর সদরের বীরগোবিন্দবাড়ি এলাকার আসর উদ্দিনের ছেলে অটোরিকশাচালক সুজন আলী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরগামী রাজীব পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে আকুয়া বাইপাস সড়কের গন্দ্রপা এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই এতে থাকা চালকসহ সাতজন নিহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বাসটি সরিয়ে অটোরিকশাটি বের করা হয়। পরে অটোরিকশার ভেতর থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। অটোরিকশাটি এমনভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায় যে ভেতরে থাকা যাত্রীদের বের করতে উদ্ধারকর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে অজ্ঞাত দুইজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাদের সঙ্গে থাকা মুঠোফোনসহ বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, উদ্ধার করা মরদেহগুলো ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।
ওসি আরও জানান, পুলিশ বাসটি আটক করেছে, তবে চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
২৭ দিন আগে