ময়মনসিংহ
শেরপুরে নিখোঁজের পর পুকুর থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে নিখোঁজের সাড়ে ১৪ ঘণ্টা পর একটি পুকুর থেকে ভেসে ওঠা দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের মধ্য নাকশী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো: ওই গ্রামের হযরত আলীর ছেলে রোহান মিয়া (৭) ও এবাদুল ইসলামের ছেলে ইসমাইল হোসেন (৬)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (রবিবার) দুপুর ১২টার দিকে শিশু দুটি বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাত আড়াইটার দিকে স্থানীয় একটি পুকুরে তাদের মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাসীর সহযোগিতায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করেন।
স্থানীয় একটি সূত্রে জানা যায়, শিশু রোহান ও ইসমাইলের মাছ ধরার শখ ছিল। তবে সাঁতার ভালোভাবে না জানলেও মাঝেমধ্যে তারা জলাশয়ে মাছ ধরতে নামত।
মাছ ধরতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলামান রয়েছে।
৪ দিন আগে
ময়মনসিংহে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
ময়মনসিংহের ত্রিশালে বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ত্রিশাল ইউনিয়নের সতেরো পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো: সতেরো পাড়া এলাকার তরিকুল ইসলামের ছেলে মো. ফারহান (৪) ও আশরাফুল ইসলামের ছেলে মো. মাশরাফি (৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর আড়াইটার দিকে বাড়ির উঠানে খেলাধুলা করেছিল ফারহান ও মাশরাফি। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত পাশের পুকুরের পানিতে পড়ে যায় তারা। কিছুক্ষণ পর শিশুদের দেখতে না পেয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের লোকজন। একপর্যায়ে পুকুরের পানি থেকে অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
দুই শিশুর এমন করুণ মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সন্তান হারিয়ে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুই শিশুর এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন।
১১ দিন আগে
ময়মনসিংহ বোর্ডে পাস করেনি ৪ প্রতিষ্ঠানের কেউ, শতভাগ পাস করেছে ১০ প্রতিষ্ঠান
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী।
এ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ হাজার ৩৪৪ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাস করেছে। তবে এ বোর্ডে চার প্রতিষ্ঠানের কেউই পাস করেনি।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আ জ ম রেজাউল করিম খান ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে এ বছর ১ হাজার ৩৪৪ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১ লাখ ৫ হাজার ২৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে মোট ৬০ হাজার ২৭৪ জন।
এই শিক্ষা বোর্ডে গত ৫ বছরের মধ্যে এবারের পাসের হার সবচেয়ে কম। গত বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ২২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬ হাজার ৬৭৮ জন। আর ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৮৫ শতাংশ আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৩ হাজার ১৭৮জন।
এদিকে, এ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১০টি প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করলেও চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।
শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার ছাপরকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি। এ তালিকায় আরও আছে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার মুক্তাগাছা কলেজ (স্কুলশাখা)। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৪ জন অংশ নিলেও পাস করেনি কেউ। অন্যদিকে, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার শহীদ স্মৃতি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি। জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকেও কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। এ স্কুল থেকে অংশ নেয় ৩ জন শিক্ষার্থী।
শতভাগ পাস করা ময়মনসিংহ বোর্ডের দশটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে—ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ, আইডিয়াল মডেল অ্যাকাডেমি, ময়মনসিংহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভালুকজান মডেল অ্যাকাডেমি।
শতভাগ পাসের তালিকায় জামালপুর জেলায়ও রয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠান। এ দুটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে—ইসলামপুর উপজেলার উত্তরা গোয়ালের চর আইডিয়াল স্কুল ও সরিষাবাড়ি উপজেলার চিলড্রেনস হোম পাবলকি স্কুল। শতভাগ পাস করা নেত্রকোনা জেলার একমাত্র প্রতিষ্ঠান হচ্ছে কেন্দুয়া উপজেলার শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ।
বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর পাসের হার সবচেয়ে কম। তবে অভিভাবকরা বলছেন, বিগত বছরগুলোতে কম পড়াশোনা করেও ভালো ফলাফল করেছে শিক্ষার্থীরা। এই অবস্থা দেখে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে দূরে সরে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে ২০২৬ সালের ফলাফলে।
১৮ দিন আগে
ময়মনসিংহ বোর্ডে এবার পাসের হার ৫৭.৩৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫,৭০০
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আ জ ম রেজাউল করিম খান ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে এ বছর ১ হাজার ৩৪৪ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১ লাখ ৫ হাজার ২৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে মোট ৬০ হাজার ২৭৪ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৩২ হাজার ৬৭৭ জন, মানবিক বিভাগে ২৫ হাজার ৩৫০ জন এবং ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে ২ হাজার ২৪৭ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছেলেরা এগিয়ে থাকলেও ফলাফলের দিক দিয়ে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। এ শিক্ষা বোর্ডে মোট ১ লাখ ৫ হাজার ২৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছেলে পাস করেছে ২৮ হাজার ৩৭২ জন আর মেয়ে শিক্ষার্থী পাস করেছে ৩১ হাজার ৯০২ জন।
তিনি আরও জানান, এবারও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্র ২ হাজার ৬২১ জন এবং ছাত্রী ৩ হাজার ৭৯ জন।
এই শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নেত্রকোনা জেলায় ৬০ দশমিক ৪৯ শতাংশ, ময়মনসিংহ জেলায় পাসের হার ৫৭ দশমিক ৮০ শতাংশ, জামালপুর জেলায় ৫৫ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং শেরপুর জেলায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪১ শতাংশ।
গত ৫ বছরের মধ্যে এ শিক্ষা বোর্ডে এবারের পাসের হার সবচেয়ে কম। গত বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ২২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬ হাজার ৬৭৮ জন।
১৮ দিন আগে
ময়মনসিংহ বিভাগে ‘ভ্রাম্যমাণ নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষাগার’ চালু
ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য পরীক্ষার পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে ফলাফল জানানোর লক্ষ্যে ময়মনসিংহ বিভাগের জন্য ‘ভ্রাম্যমাণ নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষাগার’ চালু করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সমানে এই পরীক্ষাগারের উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার।
উদ্বোধনকালে তিনি জানান, ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলাজুড়ে এই ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যেসব এলাকায় বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী বিক্রি হয় সেখানে গাড়িতে থাকা এই পরীক্ষাগার নিয়ে যাওয়া হবে, তারপর খাদ্যপণ্য পরীক্ষা করে তাৎক্ষণিক ফলাফল জানানো হবে।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন বলেন, কোথাও খাদ্যপণ্যে ভেজাল পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে তা ধ্বংস করা হবে। এ ছাড়াও এই পরীক্ষাগারে কোনো ভোক্তা চাইলে তিনিও বাজার থেকে নমুনা নিয়ে বিনামূল্যে পরীক্ষা করাতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারটি মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে খাদ্যপণ্য পরীক্ষার পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে ফলাফল পাওয়া যাবে। এছাড়া ভোক্তারা নিজেদের আনা খাদ্য নমুনাও বিনামূল্যে পরীক্ষার সুবিধা পাবেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, মেট্রোপলিটন নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা আতিকুর রহমান, জেলা কর্মকর্তা মাহবুব আরেফিন রাফি, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক হারুন অর রশিদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২৫ দিন আগে
বাকৃবিতে দুই হলের সংঘর্ষে ৪ শিক্ষার্থী আহত
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অনুষদের মেসেঞ্জার গ্রুপে কথা কাটাকাটির জেরে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় অন্তত চার শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
শনিবার (১ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাতে ওই দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কৃষি অনুষদের প্রথম বর্ষের (ব্যাচ-৬৫) শিক্ষার্থীদের মেসেঞ্জার গ্রুপে তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে ব্যক্তিগত বিরোধ দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, কৃষি অনুষদের সেকশন ‘এ’-এর ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ (সিআর) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেসেঞ্জার গ্রুপে একটি মিম পোস্ট দেওয়াকে ঘিরে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই পোস্টের প্রতিবাদ জানিয়ে একজন শিক্ষার্থী অফিশিয়াল গ্রুপে এ ধরনের বার্তা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে পাঠানোর পরামর্শ দিলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই বিরোধ দুই আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীরা সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেন। পরে সোহরাওয়ার্দী হলের একদল শিক্ষার্থী ভাসানী হলে গিয়ে ভাঙচুর চালান। এতে ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষে অন্তত চার শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে একজনের মাথায় আঘাত লাগে এবং অন্যদের হাত-পায়ে জখম হয়।
খবর পেয়ে রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাদের হস্তক্ষেপে উভয়পক্ষ নিজ নিজ হলে ফিরে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আমিনুল মতিন বলেন, খুব বেশি শিক্ষার্থী আহত হননি; তিন থেকে চারজন আহত হয়েছেন। তারা সবাই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। কাউকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন হয়নি।
তিনি আরও জানান, আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থী। সোহরাওয়ার্দী হলের আহতের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাহবুবুল প্রতীক সিদ্দিক বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনার পর সবাই নিজ নিজ হলে ফিরে গেছে। রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, এক হলের শিক্ষার্থীরা অন্য হলে ভাঙচুর করেছে। পরে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
২৬ দিন আগে
শেরপুরে বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ১১৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত
টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি কমতে শুরু করায় শেরপুরে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে। জেলার ১১৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ এবং ৯৩ হেক্টর জমির ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বর্তমানে জেলায় ১২ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফসল আবাদ রয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ৩২ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা, ৪২ হেক্টর শাকসবজি, ১০ হেক্টর কলা এবং ৩৪ হেক্টর আউশ ধানের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া অনেক এলাকায় পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে আসা বালির স্তর জমে কৃষিজমি সাময়িকভাবে অনাবাদি হয়ে পড়েছে।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সূদীপ্ত চৌধুরী জানান, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মৃগী নদীর প্রায় দেড় কিলোমিটার, ভোগাই নদীর এক কিলোমিটার, চেল্লাখালী নদীর ৫০০ মিটার এবং মহারশি নদীর ১০০ মিটার এলাকাজুড়ে দুই তীরের অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
তিনি বলেন, নদীভাঙন রোধে জরুরি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকায় ১১ হাজার বালিভর্তি বস্তা ফেলা হয়েছে।
এদিকে, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, শেরপুর সদর, নকলা, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলায় নদীভাঙনে ৭৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের শুকনো খাবার ও ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে নালিতাবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত একটি বেইলি সেতু ভেঙে যাওয়ায় দুই পাড়ের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। আপাতত পারাপারের সুবিধার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এছাড়া চেল্লাখালী নদীর ভাঙনে শেরপুর-নালিতাবাড়ী (গাজীরখামার হয়ে) সড়কের গোল্লারপাড় এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় ওই সড়কে ভারী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ কাঁচা ও পাকা সড়কেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান জানান, অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনও প্রস্তুত হয়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় জেলার প্রতিটি উপজেলার জন্য ১০ টন করে জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
৩৬ দিন আগে
ময়মনসিংহে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত
ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে ট্রাকের চাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ৩ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩ জন।
সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের সদর উপজেলার শম্ভুগঞ্জ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে দুই জন নারী ও একজন পুরুষ। তাদের মধ্যে দুই জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন—তারাকান্দা উপজেলার দাদারা গ্রামের আব্দুল মোতালেবের মেয়ে শিলা (২৫) ও সদর উপজেলার রঘুরামপুর মাঝিপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলামের স্ত্রী আবেদা সুলতানা (৩৫)।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম বলেন, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে সদর উপজেলার শম্ভুগঞ্জ এলাকায় দ্রুতগতির একটি ট্রাক যাত্রীবাহী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলে ২ জন নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত ৪ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেকে) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান।
তিনি আরও জানান, ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে।
৩৮ দিন আগে
জামালপুরে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন
জামালপুরে এক কিশোরীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের মামলায় ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আব্দুর রহিম আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। আসামিদের উপস্থিতিতেই বিচার কার্য সম্পন্ন হয়।
মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর সকাল ৭টার দিকে জামালপুর সদর উপজেলার ভারুয়াখালী হরিপুর গ্রামের কবির হোসেনের কিশোরী কন্যা প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। এ সময় বাড়ির পাশের রাস্তায় প্রাইভেটকার নিয়ে ওঁৎ পেতে থাকা শামীমের নেতৃত্বে ৩ থেকে ৪ জনের একটি দল তাকে অপহরণ করে নিয়ে যান। তারা ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন। সে সময় ভুক্তভোগী ভারুয়াখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা কবির হোসেন ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি জামালপুর সদর থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা করেন। সেই মামলায় আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলায় আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. জাবেদ আলী।
৩৯ দিন আগে
জামালপুরে অটোরিকশা-ভটভটি সংঘর্ষে নিহত ২
জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ সড়কের মেলান্দহ উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ভটভটির সংঘর্ষে দুই নারী নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার বেতমারি গ্রামের কাছে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত দুইজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আহতরা হলেন— দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কাঠারবিল এলাকা বাসিন্দা মজিবর (৫৫), জীবন মিয়া (৩৫) ও তুষার (৩৮) ।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার সময় দেওয়ানগঞ্জ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জামালপুর যাচ্ছিল। অটোরিকশাটি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ভটভটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশায় থাকা ৫ জন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে হাসপাতালে নিয়ে যান।
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. উজ্জ্বল কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে দুই নারী হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যুবরণ করেন। বাকি তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান ডা. উজ্জ্বল কুমার সরকার।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম মাহমুদুল হক বলেন, দুর্ঘটনায় দুই নারী নিহত হয়েছেন। খবর পাওয়ার পরপরই জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৪০ দিন আগে