ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত
ময়মনসিংহে ট্রাকচাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে এক শিশুসহ আরও চার যাত্রী।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর আকুয়া বাইপাস মোড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন: সোনিয়া আক্তার (৩০) ও সাদেক আলী (২৭)। সাদেক আলী ফুলবাড়িয়া উপজেলার চৌদার গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে, আর সোনিয়ার বাড়ি একই উপজেলার জোরবাড়িয়া গ্রামে। তারা দুইজনই সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আল আমিন জানান, দুর্ঘটনায় সোনিয়ার ছেলে সাজিদ (৬) ও অটারিকশার চালক হারুন গুরুতর আহত হয়েছে।
সাদেক আলীর এক স্বজন জানান, সাদেকের এক আত্মীয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সাদেক তাকে দেখতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা দিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আকুয়া বাইপাস মোড় পৌঁছালে একটি ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশাটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার যাত্রী সোনিয়া নিহত হন। এ সময় আহত হন আরও পাঁচজন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাদেক আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুসহ বাকীরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১ দিন আগে
নেত্রকোণায় জেলের জালে উঠল শিশুর মরদেহ
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে খালের পানিতে ডুবে আলী (১১) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। নিখোঁজের পর জেলেদের জালে তার মরদেহ উঠে আসে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের পানুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত আলী ওই গ্রামের আশিকুলের ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার মা-বাবা দুজনই জীবিকার তাগিদে ঢাকায় থাকেন। আলী গ্রামে দাদা আবু তাহেরের কাছে থাকত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে মুখ ধোয়ার জন্য বাড়ির পাশে সাপমরা খালে যায় আলী। একপর্যায়ে সে পানিতে ডুবে যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে জেলেরা খালে জাল ফেললে সেই জালে আলীর মরদেহ উঠে আসে।
স্থানীয়রা জানান, আলীর মৃগীরোগ ছিল। খালে নামার পর হঠাৎ ওই রোগের কারণে সে পানিতে তলিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলমগীর মিয়া বলেন, আলীর মা-বাবা ঢাকায় থাকায় সে দাদার কাছে থাকত। মুখ ধোয়ার জন্য খালে গেলে মৃগীরোগে আক্রান্ত হয়ে সে পানিতে তলিয়ে গিয়ে থাকতে পারে।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই। তাই পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
৩ দিন আগে
বাকৃবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সরদার
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ১১ (১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদারকে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী চার বছর অথবা তার অবসর গ্রহণের তারিখ পর্যন্ত (যেটি আগে ঘটবে) এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা ও বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।
অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার দীর্ঘদিন ধরে বাকৃবির ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। মৎস্যসম্পদ গবেষণা ও বিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি তিনি ‘জাতীয় মৎস্য পদক ২০২৬ (স্বর্ণপদক)’ অর্জন করেন।
এছাড়া তিনি ২০২৪ সাল থেকে বাকৃবি শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। গত ২০ আগস্ট তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
৪ দিন আগে
নিখোঁজের ২৫ দিন পর যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় নিখোঁজের ২৫ দিন পর এক যুবকের কঙ্কাল, প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের পরিত্যক্ত গারোর ভিটা এলাকা থেকে এসব উদ্ধার করা হয়।
নিহত রাশেদুল ইসলাম (২০) ফুলপুর উপজেলার কৃষ্ণ মহেশপট্টি গ্রামের শাহজাহানের ছেলে। খবর পেয়ে শাহজাহান ঘটনাস্থলে গিয়ে কঙ্কালের সঙ্গে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পোশাক দেখে মরদেহটি তার ছেলের বলে শনাক্ত করেন।
এদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন জসিম উদ্দিন (২৪), রফিক (২৮) ও মোজাম্মেল হোসেন (২৭)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা রাশেদুলকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ ও রাশেদুলের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট রাত ৯টার দিকে মুঠোফোনে রাশেদুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন জসিম উদ্দিন। তার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন সকালে রাশেদুলের মোবাইল ফোন থেকে তার বাবার কাছে কল করা হয়। এ সময় এক নারীর কণ্ঠে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দুই ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে কয়েক দফা ফোন ও খুদেবার্তা পাঠানো হয়। ওই দিনই ফুলপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শাহজাহান।
অন্যদিকে ঘটনার পরই এলাকা ছেড়ে চলে যান জসিম। পরে ২৫ আগস্ট ফুলপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা করে নিহতের পরিবার। এতে জসিমকে প্রধান করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করা হয়।
এ মামলার তদন্তের একপর্যায়ে গতকাল (রবিবার) দুপুরে নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকা থেকে জসিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই গ্রামের রফিক ও মোজাম্মেলকে তাদের নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জসিমের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রাতে চন্দ্রপুর গ্রামের গারোর ভিটা এলাকার জঙ্গলে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন হাড়, মাথার খুলি এবং প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করে পুলিশ।
শাহজাহান জানান, মাস খানেক আগে রাশেদুল, রফিক ও মোজাম্মেল একসঙ্গে শসার ক্ষেতে কাজ করেছিলেন। কাজের পারিশ্রমিক থেকে রফিক ৫০০ টাকা পেলেও রাশেদুলকে ১০০ টাকা দেওয়া হয়। তার অভিযোগ, বাকি টাকা দিয়ে রফিক ইয়াবা কিনে সেবন করেন। পরে রাশেদুল পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এ বিরোধের জেরে তিনজন মিলে রাশেদুলের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফুলপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিকরুল ইসলাম বলেন, আসামিরা একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার করা হাড়ের অংশগুলো ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আজ (সোমবার) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে। আর গ্রেপ্তার তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
৫ দিন আগে
ময়মনসিংহে ২ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩
ময়মনসিংহে যাত্রীবাহী দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন যাত্রী নিহত ও অন্তত আটজন আহত হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার আলালপুর এলাকায় ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা ইউনিয়নের ধারাপাড়া গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাক, ফুলপুর উপজেলার সিংহেশ্বর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন (৬০) ও ৫০ বছর বয়সী অজ্ঞাতপরিচয় এক পুরুষ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্যামলী বাংলা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস হালুয়াঘাট থেকে ছেড়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাসটি আলালপুর এলাকা পৌঁছালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা হালুয়াঘাটগামী ইমাম পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এ দুর্ঘটনায় দুই বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং দুর্ঘটনাস্থলেই যাত্রী আব্দুর রাজ্জাক মারা যান। এছাড়া আহত হয় অন্তত আটজন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. আল আমিন বলেন, আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা ছয়জনের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জালাল উদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে যান চলাচল স্বাভাবিক করি। বাস দুটি জব্দ করা হয়েছে। তবে দুই বাসের চালক ও সহকারিরা পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
১০ দিন আগে
‘বকেয়া পরিশোধ করতে গিয়ে’ খুন, জঙ্গল থেকে মরদেহ উদ্ধার
নেত্রকোনার পূর্বধলায় রান্নার লাকড়ির টাকা পরিশোধ করতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর এক প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরে প্রতিবেশীর বাড়ির পাশের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গত রবিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বৈরাটি ইউনিয়নের লালচাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত দেলোয়ারা দিলু (৪২) ওই গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী এনামুল হকের স্ত্রী।
এ ঘটনায় একই গ্রামের বাবুল মিয়া (২৮) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাবুল মিয়া দেলোয়ারার কাছে কিছু রান্নার লাকড়ি বিক্রি করেছিলেন। লাকড়ির বকেয়া ৫০০ টাকা পরিশোধ করতে গেল রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দেলোয়ারা বাবুলের বাড়িতে যান। এরপর সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। এরপর পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ শুরু করলে একপর্যায়ে বাবুলের বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে দেলোয়ারাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক সেন্টু মিয়া পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
বৈরাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান তালুকদার মোশাররফ বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। তার দাবি, ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। একই সঙ্গে নিহতের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইনও পাওয়া যাচ্ছে না।
১১ দিন আগে
৫ হাজার পোস্টার, লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা; অবশেষে সিআইডির জালে নূরী হত্যা মামলার ৩ আসামি
জামালপুরের ইসলামপুরে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের চালক আবু বকর নূরী হত্যা মামলার রহস্য দীর্ঘ আট বছর পর উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি।
গ্রেপ্তাররা হলেন: ইসলামপুর উপজেলার আগুনেরচর গ্রামের আক্তার আলীর ছেলে জালাল মিয়া (৪২), উসমান শেখের ছেলে মো. নূর ইসলাম (৩২) এবং মৃত আছান আলীর ছেলে মো. মোজাম্মেল হক (৪৮)।
সিআইডি জামালপুর ইউনিটের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান সোমবার (৩১ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, প্রায় আট বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা মামলাটির রহস্য উদঘাটনে সিসিটিভি ফুটেজ, বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত, ফরেনসিক যাচাই এবং বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক তদন্ত চালানো হয়। একাধিক অভিযানের পর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপরজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আজ সোমবার রিমান্ড শুনানি শেষে আদালত জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
যেভাবে হত্যা করা হয়
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২ জুলাই দুপুরে আবু বকর নূরী স্ত্রী মোছা. তাহমিনা বেগমের সঙ্গে খাবার খেয়ে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল নিয়ে বকশীগঞ্জ বাজারের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু সেদিন রাতে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ শুরু করেন।
পরে ইসলামপুর থানার চুংরাপাড়া গ্রামের পুবেরবন্দ এলাকায় একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান তাহমিনা বেগম। সেখানে তিনি মরদেহটি তার স্বামী আবু বকর নূরীর বলে শনাক্ত করেন।
তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে সংঘবদ্ধ একটি অপরাধীচক্র মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নূরীকে কৌশলে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। পরে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
এ ঘটনায় নূরীর স্ত্রী বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর ইসলামপুর থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে অধিকতর তদন্তের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় পুলিশ সদরদপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ১৯ আগস্ট মামলাটির তদন্তভার সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজ থেকে ৫ হাজার পোস্টার
সিআইডি তদন্তভার গ্রহণের পর মামলার বিভিন্ন দিক নতুনভাবে পর্যালোচনা শুরু করে। দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ায় জড়িতদের শনাক্তে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল বলে জানান তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
তদন্তের একপর্যায়ে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নূরীর মোটরসাইকেলে থাকা তিন অজ্ঞাত ব্যক্তির ছবি সংগ্রহ করা হয়। তবে ঘটনার দীর্ঘ সময় পর ওই ছবি থেকে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
পরে বিভিন্ন মাধ্যমে ছবিগুলো প্রচার করা হয়। এ জন্য জামালপুরসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান, হাটবাজার ও জনসমাগমস্থলে প্রায় ৫ হাজার পোস্টার লাগানো হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের ছবি প্রচার করে তথ্যদাতার জন্য এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
এ প্রচারণার পর বিভিন্ন সূত্র থেকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। পরে আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সহায়তায় সেসব তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করে সিআইডি।
তদন্তের একপর্যায়ে সিআইডি নিশ্চিত হয় যে জালাল মিয়া, নূর ইসলাম ও মোজাম্মেল হক হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
তিনজনকে যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়
সিআইডি জানায়, গত ২৬ আগস্ট জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানার নাপিতের চর এলাকা থেকে জালাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং তার অপর দুই সহযোগী নূর ইসলাম ও মোজাম্মেল হকের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।
জালালের দেওয়া তথ্য এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ গোয়েন্দা সহায়তা নিয়ে পরদিন ২৭ আগস্ট গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে নূর ইসলাম এবং গাজীপুর কলেজ রোড এলাকা থেকে মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং ছিনিয়ে নেওয়া মোটরসাইকেল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে সিআইডি।
গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ছিনিয়ে নেওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
১২ দিন আগে
জামালপুরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
জামালপুরে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায়ে আসামি আব্দুস সাত্তার (৪২), আব্দুল মালেক (৪৪) ও আনোয়ার হোসেন আনুকে (৩২) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালতত। সেই সঙ্গে অপহরণের দায়ে তিন আসামিকেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১-এর বিচারক মো. আব্দুর রহিম এ রায় দেন।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ফজলুল হক জানান, জমালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের ২ সন্তানের মা ওই স্বামী পরিত্যক্তা গৃহবধূ একাই তার বাড়িতে বসবাস করতেন। এই সুযোগে পাশের শংকরপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার প্রায়ই তাকে কুস্তাব দিতেন এবং উত্ত্যক্ত করতেন। ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে আব্দুস সাত্তার, আব্দুল মালেক ও আনোয়ার হোসেনসহ ৪-৫ জনের একটি দল ভুক্তভোগীর বাড়ি থেকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যান। পরে গ্রামের একটি নির্জন বাঁশঝাড়ের নিচে আসামিরা তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১ এ আসে। মামলার ১৮ সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।
১২ দিন আগে
ময়মনসিংহে রিকশাচালক হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের যাবজ্জীবন
ময়মনসিংহে অটোরিকশাচালক নাজিম উদ্দিন হত্যা মামলায় এক আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে ময়মনসিংহ বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পলাশ (২৫) শহরতলীর মধ্য বাড়েরা এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন: একই এলাকার তোফায়েল আহমেদ নাসিম (২১) ও শাকিল (২২)।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ৩০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ৫০ হাজার করে অর্থদণ্ড করা হয়। অনাদায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি রাতে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার গোপালনগর গ্রামের বাসিন্দা মফিজ উদ্দিনের ছেলে অটোরিকশাচালক নাজিম উদ্দিন নিজের রিকশা চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। রাতে প্রচুর কুয়াশা থাকায় অল্প দূরত্বের পথও দেখা যাচ্ছিল না। ওই সময় আসামিরা নাজিম উদ্দিনের পথরোধ করে তাকে হত্যা করে অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই সময় নাজিম উদ্দিন চিৎকার করতে থাকলে গ্রামের লোকেরা এগিয়ে যায়। ছিনকাইকারীরা অটোরিকশাটি চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় আসামি পলাশকে গ্রামবাসী আটক করে পুলিশে সোর্পদ করে। পরে পলাশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নাজিম উদ্দিনের ছোট ভাই নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।
এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আক্রাম হোসেন বলেন, মামলার রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছি। তবে দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানাই।
বাদী নাসির উদ্দিনও এ রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান।
১২ দিন আগে
ময়মনসিংহে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার ২ আরোহী নিহত
ময়মনসিংহের ত্রিশালে ট্রাকের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশারচালকসহ আহত হয়েছেন আরও চারজন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ত্রিশাল-বালিপাড়া সড়কের ঠাকুরবাড়ি মোড়-সংলগ্ন স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
আহতরা হলেন: ফয়জুল (৩৪), রুবেল (৩০), হৃদয় (২২) ও নাবিল (২২)।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আজ (সোমবার) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ত্রিশাল-বালিপাড়া সড়কের ঠাকুরবাড়ি মোড়সংলগ্ন স্থানে বালিপাড়াগামী একটি ট্রাক ত্রিশালগামী যাত্রীবাহী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার অজ্ঞাত এক পুরুষ (৩৫) ও অজ্ঞাত এক নারী (৪০) যাত্রী নিহত হন। এ সময় আহত হন অটোরিকশারচালকসহ আরও চারজন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে ফয়জুল ও রুবেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ত্রিশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনার সময় ট্রাকের চালক পলিয়ে গেছেন। তবে ট্রাকটি জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
১৩ দিন আগে