অন্যান্য
শিক্ষা যেন কেবল নিজের উন্নতির জন্য না হয়: সরস্বতী পূজা উপলক্ষে প্রত্যাশা প্রধান উপদেষ্টার
আগামীকাল শুক্রবার হিন্দুদের বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা। এ উপলক্ষে দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীসহ সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, সরস্বতী পূজা উপলক্ষে আমি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। হাজার বছর ধরে এদেশে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করে আসছেন। এদেশ আমাদের সবারর। ধর্ম ও বর্ণভেদে নয়, বাংলাদেশ সকল মানুষের জন্য এক নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ আবাসভূমি।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, হিন্দু ধর্মমতে, দেবী সরস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানের প্রতীক। তিনি বিদ্যা, বাণী ও সুরের অধিষ্ঠাত্রী। তিনি আমাদের অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যান। সরস্বতী পূজার এই পবিত্র উৎসব উপলক্ষে আমি প্রত্যাশা করি, আমাদের শিক্ষা যেন কেবল নিজের উন্নতির জন্য না হয়, বরং সমাজের উন্নতির জন্য হয়। আমরা যেন আমাদের জ্ঞান দিয়ে অন্যকে সাহায্য করি, দুর্বলদের পাশে দাঁড়াই এবং একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলি।
পরিশেষে হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ বাংলাদেশের সকল নাগরিকের শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।
১ দিন আগে
ম্যানচেস্টার ফ্লাইট স্থগিতের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিল বিমান কর্তৃপক্ষ
আগামী ১ মার্চ থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের ঢাকা-ম্যানচেস্টার–ঢাকা রুটে ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এক সংবাদ বার্তায় এ প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যাখ্যায় বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট পরিচালনা সাময়িকভাবে স্থগিত করা নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য ও আলোচনা পরিলক্ষিত হয়েছে, যা বিমান কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে, ম্যানচেস্টার রুট সংক্রান্ত বিমানের অবস্থান ও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্মানিত যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করার লক্ষ্যে নিচে বিমানের বক্তব্য তুলে ধরা হলো।
বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত মূলত বহর ও অপারেশনাল বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ম্যানচেস্টার রুটটি বিমানের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ইউরোপ, হজ ও মধ্যপ্রাচ্য রুটে একই শ্রেণির সীমিতসংখ্যক ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ (বি৭৮৭ ও বি৭৭৭) ব্যবহৃত হয়, ফলে ম্যানচেস্টারের মতো দীর্ঘপথের রুটে একটি উড়োজাহাজ একাধিক দিন ব্যস্ত থাকায় বহর ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি হয়। হজ মৌসুমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক যাত্রী পরিবহনের জন্য অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করতে হয়, ফলে অন্যান্য রুটের ফ্রিকোয়েন্সি সমন্বয় করা অপারেশনালভাবে প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলোতে প্রবাসী শ্রমিক ও ওমরা যাত্রীদের চাহিদা অত্যন্ত বেশি থাকায় সীমিত বহরকে অধিক চাহিদাসম্পন্ন ও কার্যকর রুটে ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এর সঙ্গে বিমানের নিয়মিত সি-চেক, ইঞ্জিন ওভারহল এবং কাঠামোগত পরিদর্শনের সময় এক বা একাধিক বিমান সপ্তাহ বা মাসের জন্য অপারেশনের বাইরে চলে যায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ এর কারণে উড়োজাহাজের সংকট দেখা দেয়। তাছাড়া সারা বিশ্বে ক্রুয়ের সংকট বিদ্যমান যা বিমানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, তাই দীর্ঘপথের ফ্লাইট পরিচালনার পরিবর্তে তুলনামূলকভাবে স্বল্পপথের ফ্লাইট পরিচালনা করলে ক্রু ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে, যাত্রীসেবার ধারাবাহিকতা ও অপারেশনাল স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি সীমিত বহরের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিমান কর্তৃপক্ষ ঢাকা-সিলেট–ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট পরিচালনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
তবে সম্মানিত যাত্রীদের সম্ভাব্য অসুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বর্তমানে লন্ডন রুটে ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধি করে সপ্তাহে মোট ৫টি ফ্লাইট পরিচালনার করছে। এর মধ্যে ৪টি ফ্লাইট সিলেট হয়ে লন্ডন এবং ১টি ফ্লাইট সরাসরি ঢাকা থেকে লন্ডন পরিচালিত হচ্ছে।
তাছাড়া, যাত্রীদের সুবিধার জন্য ইতোমধ্যে ম্যানচেস্টার ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিতের সময় পূর্বঘোষিত ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে পরিবর্তন করে আগামী ০১ মার্চ ২০২৬ তারিখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ম্যানচেস্টার রুটের সম্মানিত যাত্রীদের জন্য কোনো অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই টিকিট রিফান্ড করে ফ্লাইট পরিবর্তনের সুযোগ প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে, এই রুটের যাত্রীরা যাত্রাপথ পরিবর্তন করে লন্ডন হয়ে গমন, কিংবা আগের যেকোনো সুবিধাজনক তারিখে ফ্লাইট পরিবর্তন করার সুযোগ পাবেন- এসব ক্ষেত্রেও কোনো অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হবে না।
ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত থাকার কারণে যে সকল যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষ অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাদের নিকট আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সকলের সহযোগিতা ও সহানুভূতি একান্তভাবে কামনা করেছে।
বিমানে ইতোমধ্যে উড়োজাহাজ ক্রয় ও ক্রু নিয়োগের কাজ চলমান রয়েছে, যা সম্পন্ন হওয়া সাপেক্ষে ভবিষ্যতে ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বিবেচনা করা হবে এবং তা যথাসময়ে সকলকে জানানো করা হবে।
১ দিন আগে
আজ থেকে পরীক্ষা শুরু, ১২ ফেব্রুয়ারি ফাইনাল: প্রধান উপদেষ্টা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর আয়োজিত গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের ধাপে ধাপে পরীক্ষা শুরু হলো। আজ থেকে শুরু, ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ফাইনাল। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশই এখন সবচেয়ে বড় নির্দেশ, ইসির নির্দেশনা মেনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা আসলে নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য করবে, এটাই আমাদের কাজ। জাতির জন্য এটা বড় এক চ্যালেঞ্জ, যা আমাদের নিতে হবে এবং এই বিশাল কাজটি শেষ করে তাকে ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দাঁড় করাতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন যেন কোনোকিছুর অভাব বোধ না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ মনোযোগী হতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি কোথাও যেন কোনো গলদ না থাকে। ২০২৬ সালের নির্বাচন যেন এমন একটি নির্বাচন হয়, যা ভবিষ্যতে নির্বাচনের ক্ষেত্রে আদর্শ তৈরি করবে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমান্ডের মূল ভূমিকায় থাকবে। এখন নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে, একসঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। আমরা এবারের নির্বাচনে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করব। সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করব, কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সবকিছু মনিটরিং করা হবে।
তিনি বলেন, বডি ক্যামেরার নানা সম্ভাবনার দিক আছে। এটি যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে বিশাল মাত্রায় সাফল্য পাওয়া সম্ভব।
এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে এবং প্রয়োজন হলে আরও কম দিনের ব্যবধানে বৈঠকে বসা হবে বলে জানান তিনি।
এ সময় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয়ে যেন কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, এবার নির্বাচনকে ঘিরে দেশ ও বিদেশের বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক নির্বাচন কভার করবেন এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরা বিপুল আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তারা বিষয়টিকে খুবই সিরিয়াসলি নিয়েছেন, আমাদেরও এ বিষয়ে সুপার সিরিয়াস থাকতে হবে। আমাদেরই সবকিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এই মুহূর্তে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যে প্রস্তুতি রয়েছে, তাতে একটি সুন্দর নির্বাচন সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তারা প্রত্যেকেই ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে চলছেন। আশা করি, তারা কেউই এই মনোভাব থেকে সরে যাবেন না।
বৈঠকে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল অংশগ্রহণ করছে।
তিনি জানান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ২৬টি দেশের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় তিনশ’ জনের পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তাদের ৫৬ জন প্রতিনিধি বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তাদের দুজন প্রতিনিধি মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত আপিল প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেছেন।
প্রার্থীরা আজ মধ্যরাত থেকে শুরু করে ১০ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারবেন বলে উল্লেখ করেন ইসি সচিব।
সাইবার স্পেসে তথ্য বিকৃতি এবার একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে আখতার আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যালট, গণভোটের ব্যালট এবং পোস্টাল ব্যালট গণনার ক্ষেত্রে কিছুটা বাড়তি সময় প্রয়োজন হবে। এটিকে ঘিরে যেন কোনো অপতথ্য বা গুজব ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য গণমাধ্যমগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
২ দিন আগে
মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালার গেজেট প্রকাশ
‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
এ নীতিমালা প্রণয়নে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি কাজ করেছে। এটি চূড়ান্ত করার আগে দেশের প্রখ্যাত আলেম-ওলামা ও ইমাম-খতিবদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় সভা করেছে কমিটি। ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন এসব মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
নীতিমালায় দেশের মসজিদগুলোর খতিব ব্যতীত অন্যান্য জনবলের গ্রেডভিত্তিক বেতনকাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। খতিবের বেতন নির্ধারিত হবে চুক্তিপত্রের শর্তানুসারে। তবে, আর্থিকভাবে অসচ্ছল এবং পাঞ্জেগানা মসজিদের ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুসারে বেতন-ভাতাদি নির্ধারণের জন্য বলা হয়েছে।
এ নীতিমালায় জ্যেষ্ঠ পেশ ইমামকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী পঞ্চম, পেশ ইমামকে ষষ্ঠ ও ইমামকে নবম গ্রেডে বেতন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। প্রধান মুয়াজ্জিনকে দশম, মুয়াজ্জিনকে একাদশ, প্রধান খাদিমকে পঞ্চদশ ও খাদিমকে ষষ্ঠদশ গ্রেডে বেতন দেওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এ নীতিমালায় মসজিদে কর্মরত জনবলের প্রয়োজন বিবেচনায় সামর্থ্য অনুসারে সপরিবারে আবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদের ভবিষ্যৎ কল্যাণের স্বার্থে মাসিক সঞ্চয়ের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া, চাকরি শেষে এককালীন সম্মাননা প্রদানেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মসজিদে কর্মরত ব্যক্তিদের ছুটি সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এই নীতিমালায়। কমিটির অনুমোদনক্রমে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ চার দিন সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন মসজিদে কর্মরত ব্যক্তিরা। এছাড়া, পঞ্জিকাবর্ষে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি ও প্রতি ১২ দিনে একদিন অর্জিত ছুটির বিধান রাখা হয়েছে।
এ নীতিমালা অনুসারে মসজিদের কোনো পদে নিয়োগের জন্য সাত সদস্যবিশিষ্ট বাছাই কমিটি থাকবে। এ কমিটির সুপারিশ ব্যতীত কোনো পদে সরাসরি নিয়োগ করা যাবে না। পাশাপাশি মসজিদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বেতন-ভাতা, দায়িত্বাবলিসহ চাকরি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় উল্লেখ করে নিয়োগপত্র প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।
২০২৫ সালের এ নীতিমালায় মসজিদে নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ছাড়াও নারীদের জন্য মসজিদে শরিয়তসম্মতভাবে পৃথক নামাজের কক্ষ বা স্থান রাখার বিষয়ে কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির কলেবর বৃদ্ধি করে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট করা হয়েছে। তবে মসজিদের আয়, আয়তন ও অবস্থান বিবেচনায় এ কমিটির সদস্য সংখ্যা কম-বেশি করার বিধানও রাখা হয়েছে।
চাকরির বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অথবা সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট ৩০ দিনের মধ্যে কর্মরত যেকোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আপিল করতে পারবেন। এছাড়া, নীতিমালা বাস্তবায়নে কোনো জটিলতা দেখা দিলে তা নিরসনের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটিও রয়েছে এ নীতিমালায়। এ নীতিমালা জারির মাধ্যমে ২০০৬ সালের মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালাটি রহিত করা হয়েছে।
২ দিন আগে
৮০টি কেন্দ্রে টিকা নিতে পারবেন হজযাত্রীরা
হজযাত্রীদের টিকাদান কেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। সারা দেশে মোট ৮০টি কেন্দ্রে টিকা নিতে পারবেন চলতি বছরের হজযাত্রীরা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হজযাত্রীরা মেনিনজাইটিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা গ্রহণ করবেন। এ লক্ষ্যে হজযাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রের (৮০টি) তালিকা সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য প্রকাশ করা হলো।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, টিকা দেওয়ার তারিখ পরবর্তী সময়ে হজযাত্রীদের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেবে মন্ত্রণালয়। এছাড়া টিকা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট ও হজ পোর্টাল (www.hajj.gov.bd) থেকে ই-হেলথ প্রোফাইল প্রিন্ট করে সঙ্গে নিতে হবে হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
টিকাকেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে- ঢাকা জেলা ছাড়া অন্যান্য জেলার সিভিল সার্জন অফিস। বাকি কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল, শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল ও বাংলাদেশ সচিবালয় ক্লিনিক।
ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোর মধ্যে আছে গাজীপুর টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল, গাজীপুরের শহিদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বগুড়ার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল ও দিনাজপুরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল।
হজ বিষয়ক যেকোনো তথ্যের জন্য হজ কল সেন্টারের ১৬১৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
৫ দিন আগে
রাতে রাজধানীতে দুই সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত
গতরাতে রাজধানীতে দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজনের প্রাণহানি ঘটেছে। একটি দুর্ঘটনা ঘটে যাত্রাবাড়ী এলাকায় এবং অন্যটি ডেমরায়।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজের সামনের রাস্তা পারাপারের সময় ট্রাকচাপায় মো. জাহিদ (১১) নামে এক পথশিশু নিহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগি নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জাহিদের বন্ধু রাব্বি বলে, আমরা দুজনেই রাস্তায় বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করি। আজ রাতে দনিয়া কলেজের সামনের রাস্তা পার হচ্ছিলাম। এ সময় একটি ট্রাক আমার বন্ধুকে ধাক্কা দিলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে আমিসহ কয়েকজন মিলে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান, আমার বন্ধু আর বেঁচে নেই।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
এর আগে, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে লেগুনার সংঘর্ষে অজ্ঞাত (৪০) এক ব্যক্তি নিহত হন।
নিহত ব্যক্তি একজন ভ্যানচালক ছিলেন বলে জানা গেছে।
শনিবার রাত ১০টার দিকে স্টাফ কোয়ার্টার সেতুর ওপর এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালেরর জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা রবিউল ইসলাম নামের এক যুবক জানান, রাত ১০টার দিকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার সেতুর ওপর সিএনজি ও লেগুনার সংঘর্ষ ঘটে। এতে পাশে থাকা ভ্যানচালক গুরুতর আহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
মো. ফারুক জানান, মরদেহটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার বিষয়টি ডেমরা থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
৫ দিন আগে
‘দেশে গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে মুক্ত ও নির্ভীক গণমাধ্যম অপরিহার্য’
দেশের গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে মুক্ত, স্বাধীন, সক্রিয় ও নির্ভীক গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সম্পাদক, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম নেতারা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, গণমাধ্যমকে স্তব্ধ করার যেকোনো প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত সমাজের সার্বিক অধিকারকেই হুমকির মুখে ফেলে।
মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সংগঠিত হামলার প্রতিবাদ এবং স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জানাতে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে (কেআইবি) শুরু হয়েছে গণমাধ্যম সম্মিলন।
সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে এ সম্মিলনের আয়োজন করেছে।
অনুষ্ঠানে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, ‘যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মানুষ সাংবাদিকতায় আসে, তা কখনোই অপরাধ হতে পারে না। যখন গণমাধ্যমগুলোকে আক্রমণ করা হয় বা স্তব্ধ করার চেষ্টা চলে, তখন তা পুরো সমাজের অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলে। গণমাধ্যম যদি উচ্চকণ্ঠ না থাকে, তাহলে সমাজে অনেক ধরনের অপরাধ ছড়িয়ে পড়ে।’
তিনি বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার বাহন হিসেবে কাজ করে, সেগুলোকে দমন করতে আইন, বলপ্রয়োগ ও ভয়ভীতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
নুরুল কবির বলেন, গণমাধ্যম কেবল কয়েকশ বা কয়েক হাজার সাংবাদিকের স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার নয়। সংবাদপত্র ও অন্যান্য গণমাধ্যম যদি কাজ করতে না পারে, সক্রিয় থাকতে না পারে এবং কথা বলতে না পারে, তাহলে সমাজের নানা স্তরের অধিকার অনিবার্যভাবেই দমে যাবে।
বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের বিকাশ পরস্পর গভীরভাবে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করলে, সত্যিকার অর্থে সেই উদারপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি রাখলে সরকারই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে বলে মন্তব্য করেন ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম।
তিনি বলেন, ‘সরকার আপনি মনে রাখবেন, আপনাকে কেউ সত্য কথা বলবে না। আপনার দলীয় লোকেরা বলবে না ভয়ে এবং আপনার সরকারের ব্যুরোক্রেসি বলবে না। আপনার সরকারের ইন্টেলিজেন্স কমিউনিটি বলবে না। তারা সব সময় আপনাকে প্রশংসার মধ্যে প্রশংসার জগতে আবদ্ধ রাখবে। স্বাধীন সাংবাদিকতা হচ্ছে একমাত্র প্রতিষ্ঠান, আপনাকে সত্য কথা বলে।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুনভাবে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার সুযোগ এসেছে উল্লেখ করে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘জবাবদিহিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা করার সময় এসেছে। একইভাবে সাংবাদিকতার একটা নতুন গণতান্ত্রিক, বলিষ্ঠ ন্যায়পরায়ণ, এথিক্যাল জার্নালিজম করার একটা সময় এসছে।’ সে জন্য সবাইকে একসঙ্গে সাংবাদিকতা পেশাকে আরও বেশি জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য থাকাটা জরুরি। যেকোনো বিষয়ে, যেকোনো সময়, যেকোনো বিরোধই ক্ষতিকারক।’
তিনি বলেন, ‘যে মতের, যে চিন্তার, যে ভাবনার, যে আদর্শের হোক না কেন, সংবাদপত্র, সাংবাদিকতা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ইত্যাদিসহ সব বিষয়ে আমাদের ঐক্য থাকতে হবে, সমঝোতা থাকতে হবে এবং আমাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
‘এই যে সমবেত হওয়া, ঐক্য থাকা, ঐক্যবদ্ধ থাকা, একত্র হওয়া, একে অপরের পাশে থাকা, একে অপরের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রতি সংহতি–সহানুভূতি জানানো, এটা খুবই জরুরি।’
আয়োজকেরা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারাবাহিক আক্রমণের মুখে পড়েছে, বিশেষ করে জনতার সহিংসতার ঘটনার মাধ্যমে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক নীতির জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সাংবাদিকরা গণতান্ত্রিক পরিসর ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার সমুন্নত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
নোয়াব ও সম্পাদক পরিষদের সব সদস্য, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার, জাতীয় প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম, ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা এবং ঢাকার বাইরে কর্মরত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সম্পাদক-প্রকাশকদের সম্মিলনে অংশ নেন।
৬ দিন আগে
হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে টিএসসি হয়ে শাহবাগ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা অবস্থান নেয় এবং বিভিন্ন স্লোগানে প্রাঙ্গণ মুখরিত করে তোলে।
বিক্ষোভ চলাকালে ‘হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘লাল-সবুজের পতাকায়, হাদি তোমায় দেখা যায়’, ‘আমরা সবাই হাদি হব, যুগে যুগে লড়ে যাব’, ‘তুমি কে, আমি কে—হাদি, হাদি’, ‘দিল্লি না ঢাকা—ঢাকা, ঢাকা’ ইত্যাদি নানা ধরনের শ্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, গতকাল শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট পর্যালোচনার শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে মূল আসামিদের কাউকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি বলেন, কারা তাদের আড়াল করতে চায়, আমরা তা বুঝি। রাষ্ট্র যদি তাদের আড়াল না করে, তাহলে তাদের লুকানোর কোনো পথ নেই।
তিনি আরও বলেন, তরুণদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে এবং তারা ঘরে ফিরে যাবে না।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরের দিন তার মরদেহ দেশে আনার পর গত ২০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের কাছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
৭ দিন আগে
মগবাজারে নির্মাণাধীন ভবন থেকে লোহার পাইপ পড়ে নির্মাণশ্রমিক নিহত
রাজধানী রমনা মগবাজার মোড় এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের ওপর থেকে লোহার পাইপ নিচে পড়ে তাইজুল ইসলাম (২০) নামের এক নির্মাণশ্রমিক নিহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের সহকর্মী আলতাব হোসেন জানান, মগবাজার মোড়ে এবিসি কোম্পানির একটি নির্মাণাধীন ১৩ তলা ভবনের নিচে তাইজুল বালুর কাজ করার সময় হঠাৎ ৬ তলা থেকে লোহার একটি পাইপ তার মাথার ওপর পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, তাইজুল কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বর থানার আকন্দ পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। বর্তমানে ওই নির্মাণাধীন ভবনেই থাকতেন তিনি।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
৮ দিন আগে
বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করল সরকার
বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করেছে সরকার। গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) এ তিনটি নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করে আলাদা আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৫-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ ২০২৫-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ ২০২৫-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে সরকার ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
গত বছরের ২৬ নভেম্বর এই তিনটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের অধ্যাদেশ করে সরকার।
বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহের সন্নিহিত এলাকার সমন্বয়ে একটি পরিকল্পিত আধুনিক নগর প্রতিষ্ঠার জন্য ওই অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা, অপরিকল্পিত নগরায়ন রোধ করা, দুর্যোগ সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, তথ্য-প্রযু্ক্তি ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং উন্নত নাগরিক জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
৯ দিন আগে