অন্যান্য
চার দিন সারা দেশে গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে
কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিট এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণকাজের কারণে সারা দেশে চার দিন গ্যাস সরবরাহ কমে যেতে পারে। এ সময়ে গ্যাসের চাপও কম থাকতে পারে।
রবিবার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রক্ষণাবেক্ষণকাজের জন্য বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৪টা পর্যন্ত টার্মিনালটিতে রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
এ সময়ে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যাবে। বর্তমানে দৈনিক ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও তা কমে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসবে।
এর ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্রাহকরা গ্যাসের স্বল্পচাপের সমস্যায় পড়তে পারেন বলে পেট্রোবাংলা জানিয়েছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও একই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণকাজ করা হয়েছিল বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাময়িক এ অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
১৮ ঘণ্টা আগে
হজে কোটা বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে সৌদি আরব: ধর্মমন্ত্রী
২০২৭ সালের হজে বাংলাদেশের জন্য আরও ২০ হাজার কোটা বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
রবিবার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীর সংখ্যা বাড়াতে ব্যক্তিগতভাবে চিঠি পাঠানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সৌদি মন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।
হজ চুক্তি হওয়ার আগেই অতিরিক্ত কোটা পাওয়ার বিষয়ে একটি সুরাহা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় সৌদি রাষ্ট্রদূতের প্রশংসা কায়কোবাদ বলেন, বাংলাদেশের প্রতি তার আন্তরিকতা ও সহানুভূতি সত্যিই প্রশংসনীয়। কোনো বিষয় জানালে তিনি তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন।
বাংলাদেশের মানুষের প্রতি সৌদি কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত আন্তরিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৌদি মন্ত্রী তার সাধ্যমতো চেষ্টা করবেন বলে তাকে আশ্বস্ত করেছেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, সৌদি হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রী, সহকারী মন্ত্রী ও সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে একটি অনলাইন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে তারা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, সামনে হজ চুক্তির জন্য যখন বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল সৌদি আরব সফরে যাবে, চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার আগেই এ বিষয়ে একটি ইতিবাচক সমাধান হয়ে যাবে।’
অতিরিক্ত কোটা পাওয়ার বিষয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী জানান, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য থাকাকালে তিনি বাংলাদেশিদের হজ কোটার বিষয়টি জানতে পারেন। সে সময়ই তিনি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেন এবং সিঙ্গাপুর থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে সৌদি মন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠান। এরপর সৌদি মন্ত্রীর সঙ্গে তার খুদে বার্তা (এসএমএস) আদান-প্রদান হয়। জবাবে সৌদি মন্ত্রী বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন।
২০ ঘণ্টা আগে
১৩ সিটি করপোরেশনে ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন শুরু সোমবার
দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে সোমবার থেকে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
প্রথমে যানবাহনগুলোকে আইনি নিয়ন্ত্রণকাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। পরে পর্যায়ক্রমে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হবে।
রবিবার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সিটি করপোরেশন এলাকায় ধীরগতির ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান (ই-রিকশা) চলাচল-সংক্রান্ত বিধিমালা নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, বহু বছর ধরে কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণকাঠামো ছাড়াই চলাচল করা ই-রিকশাগুলোকে নিবন্ধনের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থাপনায় আনা হবে।
২০২৬ সালে জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ সংশোধনের মাধ্যমে ই-রিকশা নিবন্ধনের আইনি ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনের ১২০ ধারায় এ-সংক্রান্ত বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বিধিমালা প্রণয়নের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে তা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে।
ফলে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করতে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানান তিনি।
নিবন্ধন ও নবায়ন ফি
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি আট হাজার টাকা। ফিটনেস পরীক্ষা শেষে এক বছর পর নবায়ন করতে ফি দিতে হবে চার হাজার টাকা।
চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা। এক বছর পর নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ টাকা।
বিধিমালা অনুযায়ী, একটি ই-রিকশা সর্বোচ্চ ১২ বছর চলাচল করতে পারবে।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের দেওয়া কিউআর কোডযুক্ত ফিটনেস সনদ প্রদর্শনের জন্য অতিরিক্ত এক হাজার টাকা ফি দিতে হবে।
উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে কমিটি
ই-রিকশা উৎপাদন তদারকি এবং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদনের সুপারিশ করতে সরকার সাত সদস্যর একটি কমিটি গঠন করেছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
স্থানীয় সরকার বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), সিটি করপোরেশন, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটিটি গঠন করা হয়েছে।
শাহে আলম বলেন, বুয়েটের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ই-রিকশা তৈরি করতে হবে। বর্তমানে চলাচল করা ই-রিকশাগুলোকেও অনুমোদিত নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবর্তন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বুয়েটের নকশা অনুসরণ করে এবং সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়ে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এসব যানবাহনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনবে।
বিধিমালায় ই-রিকশার ব্যাটারি ভাঙা বা গলানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
যেসব অপরাধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
বিধিমালায় ই-রিকশা চলাচলের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি কাজকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, অনুমোদিত গতিসীমা অতিক্রম করা, নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার এবং মোটর বা গাড়ির কাঠামোয় অননুমোদিত পরিবর্তন আনা।
এছাড়া নিষিদ্ধ এলাকায় চলাচল, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, যাত্রী ছাড়া মালামাল বহন, ট্রাফিক সংকেত অমান্য করা এবং দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়াও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
বিধিমালা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
ঢাকায় আটটি জোন করার পরিকল্পনা
এদিকে ঢাকায় ই-রিকশা চলাচলের জন্য আটটি জোন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, যার মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিটিতে চারটি করে জোন থাকবে।
প্রতিটি জোনের ই-রিকশার রং হবে আলাদা। ফলে এক জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না।
যানজটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি জোনে কতটি ই-রিকশা চলতে পারবে, তা ট্রাফিক পুলিশ ও দুই সিটি করপোরেশন আলোচনা করে নির্ধারণ করবে।
তবে ই-রিকশার মোট সংখ্যার ওপর এখনও কোনো সীমা নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানান তিনি।
নিবন্ধনের পর চালকদের লাইসেন্স
বিধিমালায় চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিধান থাকলেও সরকার এখনই তা চালু করছে না বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক চালকের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করা সিটি করপোরেশনগুলোর জন্য কঠিন হবে।
তাই প্রথমে যানবাহন নিবন্ধনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পরে আলাদা প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে চালকদের লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।
এখনই ই-রিকশা উচ্ছেদ নয়
ঢাকার বর্তমান ই-রিকশাচালকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
সরকার হঠাৎ করে তাদের চলাচল বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সবাইকে আপাতত যেভাবে চলছে, সেভাবে চলাচল চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। নিয়ম মেনে পর্যায়ক্রমে যানবাহন নিবন্ধন করা হবে এবং ধাপে ধাপে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা অপসারনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নিবন্ধন কার্যক্রমের ধরন অনুযায়ী কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে এ প্রক্রিয়া চলতে পারে বলেও জানান তিনি।
সৌরবিদ্যুৎচালিত চার্জিং পয়েন্ট
ই-রিকশার চার্জিং স্টেশন নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও বিধিমালায় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
নির্ধারিত স্থানে চার্জিং পয়েন্ট স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে ই-রিকশা চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারবে, তারা সিটি করপোরেশনের অনুমোদন বা ট্রেড লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হবে।
অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ই-রিকশা চার্জ দেওয়ার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত এসব কার্যক্রম তদারক করবেন বলে জানান তিনি।
কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ
ই-রিকশার ভাড়া নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর পর নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
যানবাহনের মালিক, ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ঠিক করা হবে।
২১ ঘণ্টা আগে
সৌদি আরবে আটকে থাকা হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত
২০২৬ সালের হজ মৌসুমে হজযাত্রীদের চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি আরবে আটকে রাখা ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। গত ২৯ অক্টোবর জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ হজ অফিসের ‘নুসুক’ সিস্টেমে সম্পূর্ণ অর্থ জমা হয়েছে।
রবিবার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এ তথ্য জানান।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে।
হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এ ঘটনা উল্লেখযোগ্য সাফল্য বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
তিনি জানান, মোট ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ এ অর্থ কেটে সংরক্ষণ করেছিল। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া ৩১০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৫১ সৌদি রিয়াল ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৩০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে এক লাখ ১৫ হাজার ৯২ সৌদি রিয়াল কেটে রাখা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জানার পর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেদ্দায় বাংলাদেশ হজ অফিস আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ শুরু করে। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ, তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন ও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কাজী শাহ মোফাজ্জাল বলেন, আগের হজ মৌসুমগুলোতে এ ধরনের অর্থ কর্তনের কোনো নজির ছিল না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ তথ্য ও যুক্তিসহ তুলে ধরা হয়।
এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) জানিয়েছিল, চলতি বছরের হজ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর এজেন্সিগুলোর আন্তর্জাতিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (আইবিএএন) হিসাবে রক্ষিত প্রায় ১০ কোটি টাকা বা ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল চিকিৎসা খরচের নামে সৌদি সরকার আটকে দিয়েছে।
এ অর্থ দ্রুত ছাড় করানোর উদ্যোগ নিতে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল বেসরকারি হজ এজেন্সি মালিকদের এই সংগঠন।
সংবাদ সম্মেলনে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ ও হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
২২ ঘণ্টা আগে
মিরপুরে পোশাকশ্রমিক ও পুলিশের সংঘর্ষ, পুলিশের গাড়িতে আগুন
রাজধানীর মিরপুরে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে চার থেকে পাঁচজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।
এর আগে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে সড়কে নামেন তৈরি পোশাকশ্রমিকরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে দাবি আদায়ে কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর অবরোধ করেন। এতে আশপাশের কয়েকটি সংযোগ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সকাল সোয়া ১১টার দিকে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
পুলিশ প্রথমে শ্রমিকদের সড়ক ছেড়ে দিতে অনুরোধ করে। শ্রমিকরা সেই অনুরোধ উপেক্ষা করলে পুলিশ লাঠিপেটা করে এবং কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে প্রথম দফার সংঘর্ষ কিছুটা কমে আসে।
কিন্তু পুলিশের অভিযানের পর শ্রমিকরা মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে মিরপুর-১১-এর দিকে সরে যান। সেখানে বিভিন্ন স্থানে নতুন করে সংঘর্ষ হয়।
মিরপুর-১১-এর পূরবী সিনেমা হলের কাছে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুনও দেওয়া হয়।
২৩ ঘণ্টা আগে
বিক্ষোভের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পর্যালোচনায় ৬ সদস্যের বোর্ড গঠন
ঢাকা, গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে মাসিক ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি কাঠামো পর্যালোচনায় ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার।
রবিবার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ না করে শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিন পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন নিয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ১৩৮ ধারা অনুযায়ী বোর্ডটি গঠন করা হয়েছে। আইনের ১৩৯ ধারা অনুযায়ী পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই বোর্ডকে।
বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুবকে মালিকদের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে শ্রমিকদের প্রতিনিধি করা হয়েছে।
পাশাপাশি পোশাকশিল্পের দুই প্রতিনিধিও বোর্ডে থাকছেন। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের (বিজিআইডব্লিউএফ) সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
মাসে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হলো।
ঢাকায় মিরপুর-১০ গোলচত্বর ও গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে রবিবার শ্রমিকরা অবরোধ করেন। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। গাজীপুরে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর সংশ্লিষ্ট এলাকার অধিকাংশ কারখানা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
১ দিন আগে
মধ্যরাত থেকে জাটকা আহরণে ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু
ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও টেকসই সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে শনিবার দিবাগত রাত থেকে সাগর ও নদীতে জাটকা আহরণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এক বার্তায় বলেছে, মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে মৎস্য অধিদপ্তর এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করবে।
নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ২৫ সেন্টিমিটারের কম দৈর্ঘ্যের ইলিশ (জাটকা) আহরণ, পরিবহন, বাজারজাত, কেনাবেচা ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
এর আগে মা ইলিশ রক্ষায় গত ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ পরিচালনা করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ডিমওয়ালা ইলিশের ছাড়া ডিম থেকে ফোটা পোনা পাঁচ থেকে আট মাস বয়স পর্যন্ত দেশের উপকূলীয় নদ-নদী ও মোহনায় অবস্থান করে।
ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো এবং এর টেকসই সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে এ সময়ে পোনা রক্ষা করা জরুরি বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
পোনাগুলো নিরাপদে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে দেশে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়।
মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে বলে সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় মৎস্য অধিদপ্তর সারা দেশে কঠোরভাবে এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করবে।
১ দিন আগে
৫১ দেশে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী
সরকার ৫১টি দেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক কূটনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে চায় বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে জেলা পরিষদ আয়োজিত সংস্কৃতিকর্মীদের মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
সংস্কৃতিমন্ত্রী আরও বলেন, নজরুল বর্ষ ঘোষণার পর থেকে দেশের শিল্প-সংস্কৃতির প্রসারে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে সরকার।
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে শিল্প-সংস্কৃতি তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি হাজার বছরের পুরোনো ও সমৃদ্ধ। অন্য দেশের মানুষের কাছে বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে সাংস্কৃতিক কূটনীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এখন থেকে সারা দেশে বাউল উৎসব আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও জানান, লোকসংগীত, ভাটিয়ালি ও নৌকাবাইচকে মন্ত্রণালয়ের ঐতিহ্যবাহী উদ্যোগের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পাশাপাশি দাড়িয়াবান্দা, হাডুডু, কাবাডি ও লাঠিখেলার মতো প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোও নতুন করে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংস্কৃতির বিকাশে প্রধানমন্ত্রীর সীমাহীন অনুপ্রেরণা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে সভায় আলোচনা হয়।
চুয়াডাঙ্গার সংস্কৃতিকর্মীরা জেলার সাংস্কৃতিক উন্নয়ন, শিল্প-সংস্কৃতির প্রসার ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
স্থানীয় শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রম সম্প্রসারণে সরকারি সহযোগিতা কামনা করেন তারা।
পরে জেলার সাংস্কৃতিক উন্নয়নে বিভিন্ন দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি মন্ত্রীর কাছে পেশ করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র, পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার ও কালচারাল অফিসার সাইফুল হাসান মিলন।
এছাড়া জেলা জাসাসের সভাপতি শহীদুল হক বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিমসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন অরিন্দম, উদীচী, সংলাপ, কার্পাসডাঙ্গা নজরুল স্মৃতি সংসদ, আলমডাঙ্গা কলাকেন্দ্র এবং জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা ও সংস্কৃতিকর্মীরাও সভায় অংশ নেন।
১ দিন আগে
সৌদিতে সৈন্য পাঠানোর আগে গভীর বিশ্লেষণ প্রয়োজন: এম হুমায়ুন কবির
সৌদি আরবে বাংলাদেশি সৈন্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে গভীর বিশ্লেষণ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেছেন, মক্কা চুক্তিতে যুক্ত না হয়েও দ্বিপক্ষীয়ভাবে সৌদি আরবে সৈন্য পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘মুসলিম বিশ্বের বিদ্যমান সংকট নিরসনে মক্কা চুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এম হুমায়ুন কবির বলেন, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মক্কা চুক্তি মূলত দেশগুলোর নিজস্ব নিরাপত্তার স্বার্থে করা হয়েছে। মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো এ চুক্তিতে রয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে। এ চুক্তির মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত হবে, সেটিও অনিশ্চিত।
বাংলাদেশ ভবিষ্যতে মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে কি না, তা একটি কঠিন সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আবেগের বশবর্তী না হয়ে গভীর চিন্তাভাবনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সৌদি আরবে বাংলাদেশ সৈন্য পাঠাবে কি না তা বিশ্লেষণের দাবি রাখে। প্রয়োজনে মক্কা চুক্তি না করে সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক উপায়েও সৈন্য পাঠানো যেতে পারে।
বাংলাদেশ মক্কা চুক্তিতে যোগ দিলে ভারত, ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে কেন্দ্র করে নতুন একটি অক্ষশক্তি গড়ে উঠতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের সংঘাত পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শন এবং হুতিদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, মুসলিম বিশ্ব বর্তমানে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফিলিস্তিন, কাশ্মির ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মুসলিমরা নির্যাতিত, বাস্তুচ্যুত এবং অধিকারবঞ্চিত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, শিয়া-সুন্নি সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা মুসলিমদের নাজুক করে দিচ্ছে। অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি), গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) ও ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেররিজম কোয়ালিশনের (আইএমসিটিসি) মতো সংস্থাগুলোও প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারছে না।
মুসলিম বিশ্বের অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে ইসলামবিদ্বেষীরা ইসলামোফোবিয়া ছড়াচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেদিন মুসলিমরা নিজেদের মধ্যকার দেয়াল ভেঙে এক কাতারে এসে দাঁড়াতে পারবে, সেদিন ইসলাম বিদ্বেষীদের সমস্ত অপপ্রচার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে।
তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্বের সংকট নিরসনে মক্কা চুক্তি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা দেখার বিষয়। সম্প্রতি তেহরানে ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মক্কা চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের আলোচনা সৌদি-হুতি সংঘাত বন্ধের সম্ভাবনা তৈরি করলেও ইয়েমেনে হুতিদের ওপর সৌদি আরবের সাম্প্রতিক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিস্থিতিকে আবারও উস্কে দিচ্ছে।
মক্কা চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এক্ষেত্রে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, সৌদি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন।
ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সরকারি দল কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহকে পরাজিত করে বিজয়ী হয় বিরোধী দল আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহের বিতার্কিকরা।
প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক এ কে এম মঈনুদ্দিন, সাংবাদিক ইমরুল কায়েস ও সাংবাদিক শাতিলা শারমিন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
২ দিন আগে
অটোরিকশায় লাগাম টানতে নতুন বিধিমালা, নিবন্ধন বাধ্যতামূলক
সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার অটোরিকশা বা ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ ও জোনভিত্তিক রুট নির্ধারণ বাধ্যতামূলক করে নতুন বিধিমালা জারি করেছে সরকার।
বিধিমালা অনুযায়ী, একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে। এছাড়া এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চালানো যাবে না।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ শীর্ষক বিধিমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ই-রিকশার ক্ষেত্রে এ বিধিমালা প্রযোজ্য হবে।
নিবন্ধনপ্রক্রিয়া ও যোগ্যতার শর্ত
প্রতিটি সিটি করপোরেশন সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে তাদের আওতাধীন এলাকায় ই-রিকশার সংখ্যা নির্ধারণ করবে। সামগ্রিকভাবে অথবা জোনভিত্তিক এ সংখ্যা নির্ধারণ করা যাবে।
ই-রিকশার নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং কোনো উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত হওয়া যাবে না। বয়সের ক্ষেত্রে বিধিমালায় ‘অনূর্ধ্ব ১৮ বছর’ উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর ও নম্বর প্লেট দেওয়া হবে। যানটির দৃশ্যমান স্থানে নিবন্ধন নম্বর প্রদর্শন করতে হবে। নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।
আবেদন যাচাই করে সন্তুষ্ট না হলে কর্তৃপক্ষ নিবন্ধনের আবেদন নামঞ্জুর করতে পারবে। তবে নামঞ্জুরের কারণ সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে আবেদনকারীকে জানাতে হবে। সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদেশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিলের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
নতুন বিধিমালায় বলা হয়েছে, একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে। এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না। নিবন্ধন বা নিবন্ধন নবায়ন ছাড়া কোনো ই-রিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না।
ফিটনেস, আয়ুষ্কাল ও নিরাপত্তাবিধি
ই-রিকশার নকশা ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য বুয়েটের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী নিশ্চিত করে ফিটনেস সনদ নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষর ছাড়া কোনো ই-রিকশার নিবন্ধন বা নবায়ন করা যাবে না।
বর্তমানে সড়কে চলাচলকারী ই-রিকশার কাঠামো বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সংশোধন করে অনুমোদন নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষরসহ ফিটনেস সনদ নিতে হবে। পর্যায়ক্রমে ই-রিকশাগুলোকে বিমার আওতায় আনার বিধানও রাখা হয়েছে।
বিধিমালার শর্ত অনুযায়ী, প্রতিটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল হবে নিবন্ধনের তারিখ থেকে ১২ বছর। এ সময় শেষ হলে নম্বর প্লেটসহ সংশ্লিষ্ট ই-রিকশার নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার অথবা ওডোমিটার স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যান্ত্রিক বা নিরাপত্তাজনিত ত্রুটিযুক্ত এবং নিবন্ধনবিহীন অবৈধ ই-রিকশা সড়কে চালানো যাবে না।
কোনো ই-রিকশায় ত্রুটি দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ির সামনের দৃশ্যমান স্থানে ‘যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চলাচল অযোগ্য’ লেখা সাইনবোর্ড প্রদর্শন করতে হবে। এরপর যানটি মেরামতের ব্যবস্থা নিতে হবে। অবৈধ ই-রিকশার চলাচল বন্ধে মেট্রোপলিটন এলাকার ট্রাফিক বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যৌথভাবে অথবা পৃথকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
চলাচলে বিধিনিষেধ
নতুন বিধিমালায় ই-রিকশা চলাচলের জন্য কয়েক ধরনের সড়ক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস চলাচলের সড়ক, বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) করিডোর ও ফুটপাতে এসব যান চলতে পারবে না। এ ছাড়াও প্রশাসন যেসব সড়কে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে, সেসব সড়কেও ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে না।
চালককে সব সময় সড়কের বাম লেন অনুসরণ করতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না। নিয়মবহির্ভূতভাবে ওভারটেকিং ও লেন পরিবর্তনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ই-রিকশার চলাচলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে রুট বা চলাচলের সড়ক নির্ধারণ করবে। সিটি করপোরেশন এলাকায় জোনভিত্তিক রুট নির্ধারণ করা হবে। এক জোনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না। ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে জোনভিত্তিক বিভক্তকরণ, প্রতিটি জোনে ই-রিকশার সংখ্যা, চলাচলের রুট এবং যানবাহনগুলোর জন্য নির্দিষ্ট রং চূড়ান্ত করবে।
যাত্রী ধারণক্ষমতা ও গতিসীমা
ই-রিকশার আকারভেদে চালক ছাড়া সর্বোচ্চ দুই অথবা চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। যাত্রীর হাতে বহনযোগ্য মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ই-রিকশায় ৪০ ডেসিবেলের বেশি তীব্রতার হর্ন ব্যবহার করা যাবে না। স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার। অন্যান্য ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে রাখতে হবে।
পার্কিং ও চার্জিংয়ের ব্যবস্থা
ই-রিকশার পার্কিং ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রতিটি ওয়ার্ডে অথবা উপযুক্ত স্থানে প্রয়োজনীয়সংখ্যক পার্কিং এলাকা নির্ধারণ করতে হবে। রিকশার ব্যাটারি চার্জ করার জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত চার্জিং পয়েন্ট অথবা সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত নির্দিষ্ট গ্যারেজ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব চার্জিং পয়েন্ট ও গ্যারেজে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সৌরশক্তি ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে, বেসরকারি খাতে অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত চার্জিং স্টেশন, গ্যারেজ ও ব্যাটারি বিনিময় কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণকারী কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।
বিধিমালায় আরও উল্লেখ রয়েছে, চার্জিং স্টেশনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে এবং অনিয়ন্ত্রিত ও নিয়মবহির্ভূত চার্জিং পরিহার করতে হবে। পর্যায়ক্রমে বৈধভাবে নিবন্ধিত চার্জিং স্টেশনে ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জ করার ব্যবস্থা করা হবে।
চার্জিং স্টেশনে নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিড সংযোগের সঙ্গে সৌর প্যানেলের বিদ্যুৎ যুক্ত করতে হবে। এ ব্যবস্থায় দিনের বেলায় সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করে রাতে গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ করা যাবে। চার্জিং স্টেশন স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন নিতে হবে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চার্জ দিলে বিদ্যমান সংশ্লিষ্ট আইনে শাস্তি দেওয়া হবে।
ঋণ ও ব্যাটারি পুনর্ব্যবস্থাপনা
অনুমোদিত মানের ই-রিকশা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণে ই-রিকশার চালক ও মালিকদের সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা, তফসিলি ব্যাংক এবং ফাইন্যান্স কোম্পানি ঋণ সহায়তা দিতে পারবে ।
ই-রিকশা উৎপাদন, আমদানি, ব্যবহার, ব্যাটারি পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ও ব্যবস্থাপনার সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং এ আইনের অধীনে প্রণীত বিধিমালা ও জারি করা নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
পুরোনো বা অকার্যকর ব্যাটারি কিংবা এর অংশবিশেষ উন্মুক্ত স্থান, মাটি, জলাশয় বা সাধারণ বর্জ্যে ফেলা যাবে না। এসব ব্যাটারি পোড়ানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্যাটারি বিক্রেতাকে প্রতিটি নতুন ব্যাটারি বিক্রির সময় ক্রেতার কাছ থেকে একটি পুরোনো ব্যাটারি সংগ্রহ করতে হবে। পরে সেটি অনুমোদিত পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় পাঠানো নিশ্চিত করতে হবে।
ই-রিকশা উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে কমিটি
ই-রিকশার উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের সুপারিশ করতে একটি কমিটি গঠন করা হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে এ কমিটি গঠিত হবে।
কমিটির সদস্য থাকবেন সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট জেলার মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার নিচে নন—এমন প্রতিনিধি অথবা পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি হিসেবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার নিচে নন—এমন কর্মকর্তা, বুয়েট অথবা এ বিষয়ে অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের যান্ত্রিক ও ইলেকট্রিক বিভাগের প্রতিনিধি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদমর্যাদার নিচে নন—এমন জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখার উপসচিব। উপসচিব কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটি বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য অনুযায়ী অনুমোদিত নকশার বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করবে। এরপর ই-রিকশার উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ ও প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের সুপারিশ করবে। সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উৎপাদন লাইসেন্স দেবে। প্রয়োজনে কমিটিতে যেকোনো সংখ্যক সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।
দুর্ঘটনায় আহতদের সহায়তা করতে হবে চালককে
ই-রিকশা দুর্ঘটনায় পড়লে চালককে তাৎক্ষণিকভাবে যানবাহন থামিয়ে আহত ব্যক্তিদের সহায়তা করতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। পরে পুলিশ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবে।
৩ দিন আগে