অন্যান্য
চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে চুক্তিকে ‘দেশ বিক্রির চুক্তি’ বলা অমূলক: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, চট্রগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে যে চুক্তি হয়েছে সেই চুক্তিকে ‘দেশ বিক্রির চুক্তি’ বলা অমূলক।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিলেটে সিটি করপোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে মতবিনিময় ও অনুদান বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বন্দরের টার্মিনাল নিয়ে যে চুক্তি হয়েছে, এটি টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য হয়েছে। এছাড়া এটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হয়েছে। এরপরে সেই চুক্তি বাংলাদেশ চাইলে নবায়ন হবে অথবা সেখানেই সেই চুক্তির যবনিকাপাত করবে
তিনি বলেন, এই চুক্তিকে দেশ বিক্রির চুক্তি যারা বলছেন, সেটি সস্তা ও অমূলক একটা কথা।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক টার্মিনাল অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’কে প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে এই ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তির সমালোচনা করছেন অনেকেই।
এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বাইরের বিনিয়োগ বা আমাদের দেশীয় বিনিয়োগকারীদের নতুন বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে হলে পণ্যের উৎপাদন খরচ এবং রপ্তানি খরচ পৃথিবীর অন্যান্য জায়গার তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে আসতেহবে।
বাংলাদেশকে যদি সরকার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার স্থানে নিয়ে যেতে না পারে, কীভাবে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে?— প্রশ্ন রাখেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, এ কারণেই চট্টগ্রাম পোর্টের মধ্যে এফিসিয়েন্সি বৃদ্ধি করতে চায় সরকার। বাংলাদেশের এফিসিয়েন্সি বৃদ্ধির উদ্দেশ্য নিয়ে এই চুক্তিটি করা হয়েছে।
খন্দকার মুক্তাদির বলেন, সরকার নিশ্চিত হয়েছে যে, যারা বন্দরে কাজ করছে তাদের কারও কর্মচ্যুতি ঘটবে না। আজকে যে বেতনে কাজ পাচ্ছেন আগামী দিনে এফিসিয়েন্সি বৃদ্ধির কারণে তাদের প্রত্যেকের এই বেনিফিটটা বাড়বে। মানে আজকে যে পারিশ্রমিক পান সেটির পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের অবস্থান অবনমন প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চীন বরাবরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে প্রধানতম পোশাক রপ্তানিকারী। চীন তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। কিন্তু ভিয়েতনামের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড থাকায় ভিয়েতনাম আগেও পোশাক রপ্তানিতে কখনও বাংলাদেশকে ছেড়ে গিয়েছে, আবার বাংলাদেশ সেই স্থান দখল করেছে।
তিনি বলেন, সরকার বিশ্বাস করে, আগামী দিনে পোশাক রপ্তানিকারকরা তাদের সেই অবস্থানটা আবার ফেরত নিয়ে আসবে।
এর আগে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে মতবিনিময় ও অনুদানপ্রদান অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা হোমোজিনিয়াস (সমজাতি) একটা নেশন। দেখতে এক রকম, চালচলন এক রকম, কথাবার্তা এক রকম এবং আমাদের সম্প্রীতি সবসময়ই অটুট— এটাই আমাদের শক্তি।
সিলেটের জন্য সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা কিন ব্রিজ দেখতে যাব। সেখানে কিন সাহেবের এই ব্রিজটা থাকবে। এটা আরও শক্তিশালী করা হবে। যেহেতু এটার বয়স অনেকদিন হয়ে গিয়েছে, তার পাশেই যেন একটা দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ করতে পারি সেটার সম্ভাব্যতা আমরা যাচাই করছি।
তিনি বলেন, নগর ও নগরের বাইরের অনেক সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের টেন্ডার হয়েছে, সেগুলো এই শীত থেকে কাজ হবে। সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে রাস্তার পরিমাণ হচ্ছে প্রায় আটশো কিলোমিটার। এই আটশো কিলোমিটারের মধ্যে এতদিনে আমরা করেছি কমবেশি প্রায় সাড়ে চারশো কিলোমিটারের মতো। তাহলে বাকি আছে আরও তিনশো, সাড়ে তিনশোর মতো। তো ইনশাল্লাহ পঞ্চান্ন বছরে যেটা হয়েছে বাকিটা করতে একশো দশ বছর লাগবে না।
তিনি বলেন, আমরা আরেকটা প্রকল্প নিতে যাচ্ছি যাতে বাকিগুলির নির্মাণ কাজে আমরা হাত দিতে পারি। এটা একটা বড় প্রকল্প হবে। কারণ, যে কাজ পঞ্চান্ন বছর লেগেছে, সমপরিমাণ কাজ আগামী তিন-চার বছরে শেষ করার জন্য যে পরিমাণ সাইজের প্রকল্প লাগে, সে রকম একটা প্রকল্প নিয়ে আমরা আগাচ্ছি।
সিলেটের পানি সংকট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, সিলেটের পানির সমস্যা সমাধানের জন্য সিটি করপোরেশনের অধীনে একটি বড় প্রকল্প জমা আছে। টিউবওয়েল দিয়ে পানি তোলা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, এতে পানির স্তর নিচে নামতে থাকে। আমরা আরেকটা বড় প্রকল্প নিতে যাচ্ছি। যেটা দিয়ে সুরমা এবং কুশিয়ারা চেঙ্গেরখাল থেকে পানি তুলে পরিশোধন করে সেটা আমাদের ব্যবহারের জন্য নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, নগরের কাষ্টঘরে এই সিটি করপোরেশনের সঙ্গেই কাজ করেন আমাদের একটা জনগোষ্ঠী আছে (হরিজন সম্প্রদায়)। আমাদের সেই ভাইবোনেরা তারা রীতিমতো মানবেতর জীবনযাপন করেন। আমি নিজে তাদের ঘরের মধ্যে গিয়েছি। এক একটা রুমের মধ্যে বাবা-মা, ছেলে, ছেলের বউ— এটা খুবই অস্বাস্থ্যকর একটা অবস্থা। তো, আমরা ইনশাল্লাহ আগামী দিনে তাদের জন্য একটা পরিকল্পনা নিতে যাচ্ছি। তাদের জন্য একটা স্বতন্ত্র আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে যাতে তারা সামাজিক জীবনযাপন করতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, একইভাবে চা বাগানগুলিতে স্কুল নাই। তো সেখানে যেন সরকারিভাবে স্কুলের নির্মাণ করা হয়। আমাদের এই সিলেট সিটি করপোরেশনের এক নির্বাচনি আসনের মধ্যেই বারোটা চা বাগান আছে। সেজন্য আমরা একটা উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি।
সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।
১ ঘণ্টা আগে
নিরাপদ পানি নিশ্চিতে ২৫ হাজার কোটি টাকার সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা
দেশজুড়ে নিরাপদ পানি পৌঁছে দিতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে ইউনিসেফের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আজকে ইউনিসেফের সঙ্গে একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। সেটি হচ্ছে কীভাবে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের কাছে আমরা নিরাপদ পানি পৌঁছে দিতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ১৮ কোটি মানুষের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
উজানে পানি প্রত্যাহারের কারণে উত্তরাঞ্চলে মরুকরণ এবং দক্ষিণাঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট তৈরি হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, নদীতে পানির প্রবাহ কমে গেলে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি উজানের দিকে উঠে আসে, ফলে দক্ষিণাঞ্চলে পানীয় জলের সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘সব বিষয় বিবেচনা করে আমাদের দায়িত্ব মানুষের কাছে সুপেয় পানি পৌঁছে দেওয়া। সেই উদ্দেশ্যে আমরা কীভাবে জাতিসংঘের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করতে পারি—তার অর্থায়ন কীভাবে হবে, এই বিশেষ দিকটিই আজকে সভায় আলোচনার বিষয় ছিল।’
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে নিয়ে সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা করার চেষ্টা চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বৈঠকে শুধু জাতিসংঘ নয়, বিশ্বব্যাংক, ওয়াটারএইড ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনিসেফের প্রধানও উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
আতপ চালের চাহিদা নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বারোপ খাদ্যমন্ত্রীর
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আতপ চালের ব্যবহার ও চাহিদা সম্পর্কে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম।
তিনি বলেন, মানুষের খাদ্যাভ্যাস, চালের চাহিদা ও ভোগের ধরন সম্পর্কে সঠিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে ভবিষ্যৎ খাদ্যনীতি প্রণয়ন করা জরুরি। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আতপ চালের ব্যবহার ও চাহিদা সম্পর্কে গবেষণার মাধ্যমে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ হলরুমে দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় আতপ চালের ভোগ ও চাহিদা নিয়ে গবেষণা কার্যক্রমের সূচনা উপলক্ষে আয়োজিত কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় আতপ চালের ব্যবহার দেখে আসছি। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের পিঠা ও ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরিতে এ চালের ব্যবহার রয়েছে। তবে শুধু কয়েকটি অঞ্চলের নয়, সারা দেশে আতপ চালের ভোগ ও চাহিদার চিত্র জানা প্রয়োজন। এ বিষয়ে গবেষণা ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা একটি ইতিবাচক উদ্যোগ।
মানুষের কাছে পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য পৌঁছে দেওয়া সরকারের বড় দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন আফরোজা খানম।
তিনি বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব শুধু খাদ্যের মজুত নিশ্চিত করা নয়; মানুষের প্রয়োজন, পছন্দ ও পুষ্টিগত চাহিদার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ভবিষ্যতে খাদ্য পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় আতপ ও সিদ্ধ চালের পুষ্টিগত পার্থক্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী গবেষকদের কাছে জানতে চান, চাল অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত বা একাধিকবার সিদ্ধ করার ক্ষেত্রে এর পুষ্টিমান কতটা পরিবর্তিত হয় এবং সাধারণ মানুষের জন্য কোন প্রক্রিয়ায় পুষ্টি বেশি সংরক্ষিত থাকে?
আন্তর্জাতিক খাদ্য ও পুষ্টি গবেষণায় দেখা যায়, চালের তুষ ও ভুসির স্তর অতিরিক্ত মসৃণকরণ বা পালিশের মাধ্যমে অপসারণ করলে ভিটামিন ও খনিজের পরিমাণ কমে যেতে পারে।
অন্যদিকে ধান সিদ্ধ বা পারবয়েলিং করার সময় ভুসি ও অঙ্কুরের কিছু পুষ্টি উপাদান চালের শাঁসে স্থানান্তরিত হওয়ায় সিদ্ধ চাল সাধারণত এসব পুষ্টি ধরে রাখতে তুলনামূলকভাবে বেশি সক্ষম।
তবে চাল রান্নার সময় অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করে সেই পানি ফেলে দিলে কিছু পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন ও খনিজের ক্ষতি হতে পারে। ফলে শুধু কতবার সিদ্ধ করা হয়েছে, এর পাশাপাশি ধান সিদ্ধ করার পদ্ধতি, মিলিংয়ের মাত্রা ও রান্নার পদ্ধতিও পুষ্টিমান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মশালায় আলোচকরা বলেন, বাংলাদেশের খাদ্যব্যবস্থায় চালের গুরুত্ব বিবেচনায় বিভিন্ন ধরনের চালের ভোগ ও চাহিদার সঠিক চিত্র জানা খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অঞ্চলভেদে মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও চালের পছন্দের পার্থক্যকে বিবেচনায় নিয়ে গবেষণার ফলাফল ভবিষ্যৎ খাদ্যনীতি প্রণয়নে সহায়ক হতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। এতে সভাপতিত্ব করেন খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। স্বাগত বক্তব্য দেন খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের (এফপিএমইউ) মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান।
এছাড়া গবেষণার কনসেপ্ট নোট ও প্রাথমিক বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন এফপিএমইউর সহযোগী গবেষণা পরিচালক মো. মাহিনুর ইসলাম।
১ দিন আগে
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাছে দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রোহিঙ্গা ক্যাম্প-সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
কক্সবাজারের নোয়াখালীপাড়া ও রঙ্গিখালী পাহাড়ি এলাকায় রামুর ১০ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে এসব ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা সভা শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রঙ্গিখালী ও নোয়াখালীপাড়া পাহাড়ি এলাকায় প্রতিনিয়ত লোকজনকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এ ধরনের অপরাধ বন্ধে সবার পরামর্শ অনুযায়ী ওই দুই এলাকায় সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ১০ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে ক্যাম্প দুটি স্থাপন করা হলে ওই এলাকায় এ ধরনের অপরাধ বন্ধ হবে বলে সরকার আশা করছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে নষ্ট হয়ে যাওয়া কাঁটাতারের বেড়া পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই সঙ্গে সেখানে সোলার লাইট স্থাপন, কিছুদূর পরপর সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং কন্ট্রোল ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ক্যাম্পের ভেতরে ও বাইরে মাদক, অস্ত্র, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) একজন ডিআইজির নেতৃত্বে এসব অভিযানে অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও যুক্ত থাকেন।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংশ্লিষ্ট অপরাধের মধ্যে প্রধানত মাদক কারবার, অনলাইন জুয়া, মানবপাচার ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর আনাগোনা রয়েছে। এর বাইরে দণ্ডবিধির আওতায় বিভিন্ন সাধারণ অপরাধও হয়।
এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বাহিনীর নিয়মিত কাজের পাশাপাশি এপিবিএনের নেতৃত্বে ক্যাম্প সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সম্প্রতি এপিবিএনের আইনে তাদের তদন্তের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এপিবিএনে প্রায় ৪০০ উপ-পরিদর্শক (এসআই) পর্যায়ের কর্মকর্তা থাকায় তাদের এ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি জমি সুশাসনের আওতায় আনতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানে সারদার মতো একটি পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং এ জন্য জমি দেখা হচ্ছে।
১ দিন আগে
দুর্গাপূজার ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজায় এবার টানা পাঁচ দিনের ছুটি থাকছে।
২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিন ছুটি ঘোষণা করে বুধবার (৭ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এরপর দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে।
এর আগে গত সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটির তারিখ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
পূজার ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির মাঝখানের কর্মদিবস ২২ অক্টোবরও (বৃহস্পতিবার) ছুটি ঘোষণা করায় পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এর আগে ১৭ অক্টোবর (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অফিস খোলা থাকবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ও ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি রয়েছে। ২২ অক্টোবর অফিস খোলা ছিল। তবে ওই দিনও নির্বাহী আদেশে ছুটির ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর যথাক্রমে মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার ছুটি থাকবে। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি কাটানো যাবে। তবে ১৭ অক্টোবর (শনিবার) সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে।
ছুটির আওতার বাইরে থাকবে যারা
এদিকে জরুরি পরিষেবা, যেমন বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর, পরিচ্ছন্নতা, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা ও সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।
এছাড়া হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এবং এ সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন। চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মীরা এবং ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও কর্মীরাও ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।
পাশাপাশি জরুরি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত অফিস ছুটির আওতার বাইরে থাকবে।
অন্যদিকে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।
বেসরকারি খাতের শিল্প প্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণার ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬’ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
২ দিন আগে
দায় স্বীকার করে এগিয়ে এলে আ. লীগের সঙ্গে পুনর্মিলন সম্ভব: তথ্য উপদেষ্টা
আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলন বা রিকনসিলিয়েশন অসম্ভব নয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, এ প্রক্রিয়া শুরু করতে দলটিকে দায় স্বীকার করে নিজেদেরই এগিয়ে আসতে হবে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ বলেন, দেশের অনেক মানুষ এখনও আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন। তারা বাংলাদেশেরই নাগরিক। আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুনর্মিলনের উদ্যোগ নেওয়া খারাপ কোনো ধারণা নয়। বরং এমন উদ্যোগ হলে ভালো হতো। তবে পুনর্মিলনের আগে এর মৌলিক ভিত্তি কী হবে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি বলে জানান তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘মাঝখান থেকে কেউ যদি রিকনসিলিয়েশন (পুনর্মিলন) চান এবং মনে করেন এটি ভালো উদ্যোগ, তাহলে আমারও মনে হয় এটি ভালো। তাদের উচিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করা। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে রিকনসিলিয়েশন শুরুর মৌলিক জায়গাটি নিশ্চিত করতে হবে। সেটি হলে এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।’
পুনর্মিলনের উদ্যোগ সফল করতে আওয়ামী লীগকেই প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলটিকে নিজেদের দায় স্বীকার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু আলোচনার মাধ্যমে রিকনসিলিয়েশন শুরু করলেই হবে না। এর জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক শর্ত ও পারস্পরিক অবস্থান স্পষ্ট করা জরুরি। আওয়ামী লীগ সেই জায়গায় এগিয়ে এলে পুনর্মিলন নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব।
৩ দিন আগে
নির্ধারিত দামে এলপিজি-অটোগ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে ডিসিদের নির্দেশ
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামে এলপিজি ও অটোগ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে সারা দেশে নজরদারি জোরদার করেছে সরকার।
সেই সঙ্গে খোলা বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি ও অটোগ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে সব জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এসব তথ্য জানান।
ডা. জাহেদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে যথেষ্ট অস্থিরতা রয়েছে। এর মধ্যেও সরকার এলপিজির দাম সমন্বয়ের চেষ্টা করছে। তবে কোথাও কোথাও সমন্বয় করা দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ পরিস্থিতিতে খোলা বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং কমিশন নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি ও অটোগ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সব জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের নিয়ে অনলাইনে সভা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। বিভিন্ন জেলায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তদারকি কার্যক্রম চলছে।
তিনি আরও বলেন, এর আগেও অনেককে জরিমানা করা হয়েছে। এখন এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
এলপিজির বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানিমন্ত্রী এলপিজি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। এসব বৈঠকে ব্যবসায়ীরা বাজার স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে মন্ত্রীকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। সরকার আশা করছে, এর মাধ্যমে এলপিজি নিয়ে বাজারে বর্তমান সংকট কমে আসবে।
নির্ধারিত দামে এলপিজি না পাওয়ার অভিযোগ থাকলে গণমাধ্যমকে তা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে ডা. জাহেদ বলেন, এর পরও কোথাও যদি নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া না যায়, তাহলে গণমাধ্যম জনস্বার্থে বিষয়টি তুলে ধরবে এবং সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
৩ দিন আগে
ঢাকায় পদায়নের জন্য লটারিতে ১৮ সাব-রেজিস্ট্রার বাছাই
ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে পদায়নের জন্য সারা দেশের ‘এ ক্যাটাগরি’র ১৩১ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে ১৮ জনকে বাছাই করা হয়েছে। দক্ষতা, কাজের চাপ সামলানোর সক্ষমতা ও সংশ্লিষ্ট স্টেশনের প্রয়োজন বিবেচনা করে ঢাকার বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে তাদের পদায়ন করা হবে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ ব্যতিক্রমী লটারির আয়োজন করা হয়। এ সময় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়ন নিয়ে নানা ধরনের নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। সেই জায়গা থেকে উত্তরণের জন্য কোনো না কোনো জায়গা থেকে শুরু করতে হবে। ঢাকার পোস্টিংকে সাব-রেজিস্ট্রারদের জন্য ‘প্রাইজ পোস্টিং’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই প্রথম ধাপে ঢাকার পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রেই লটারির মাধ্যমে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সারা দেশে বর্তমানে ৩৭২ জন সাব-রেজিস্ট্রার কর্মরত আছেন। এর বাইরে প্রায় ১৩৯টি পদ শূন্য রয়েছে। সারা দেশে ‘এ ক্যাটাগরি’র সাব-রেজিস্ট্রার রয়েছেন ১৩১ জন। তাদের মধ্য থেকেই লটারির মাধ্যমে ঢাকার জন্য ১৮ জনকে বাছাই করা হয়েছে।
লটারিতে বাছাই হওয়া সাব-রেজিস্ট্রাররা হলেন মো. গোলাম মোর্তজা (রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ), অমায়িক বাবু (সদর, সাতক্ষীরা), ফরিদা আক্তার (চিতোষী, চাঁদপুর), অজয় কুমার সাহা (সদর, চুয়াডাঙ্গা), অমিত মঙ্গল চাকমা (সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম), মো. রাসেল মল্লিক (সদর, কুষ্টিয়া), গোবিন্দ সাহা (মনোহরদী, নরসিংদী), মো. মাসুম (নাজিরপুর, পিরোজপুর), এস এম আবু মুসা (নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া), নাজনিন জাহান (শ্যামনগর, সাতক্ষীরা), মোহাম্মদ হানিফ (দাউদকান্দি, কুমিল্লা), মনীষা রায় (পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও), সিং মং থোয়াই (গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রাম), রাজিব মজুমদার (গোপালপুর,টাঙ্গাইল), আলী আজগর (সদর, মুন্সিগঞ্জ), শর্মিলা আহমেদ শম্পা (ঘিওর, মানিকগঞ্জ), আমিনা বেগম (সদর, যশোর) ও টিনু চাকমা (ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম)।
আসাদুজ্জামান বলেন, শুধু ঢাকায় নয়, পর্যায়ক্রমে যেসব জায়গাকে ‘প্রাইজ পোস্টিং’ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং যেখানে দুর্নীতির শিকড় গজানোর অভিযোগ রয়েছে, সেসব জায়গাতেও পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ঢাকায় নির্বাচিতদের কতদিন রাখা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সার্ভিস রুল অনুযায়ী যতদিন অনুমোদন করবে এবং তারা ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, ততদিন থাকবেন। তবে দুর্নীতিতে জড়ালে তাদের রাখা হবে না।
সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মন্ত্রণালয় বিষয়টি মনিটরিং করছে। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের কাছেও সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের হাতে যদি কোনো প্রমাণ থাকে, আমাদের দেবেন। আমরা ব্যবস্থা নেব।’
তবে একই সঙ্গে সাংবাদিকদের একটি অংশের বিরুদ্ধে সাব-রেজিস্ট্রারদের কাছ থেকে চাঁদা বা মাসোহারা চাওয়ার অভিযোগ পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কাউকে হয়রানি করতে চাই না। কিন্তু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
তিনি আরও বলেন, লটারির উদ্দেশ্য কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া নয়; বরং কোনো ধরনের বৈষম্য না করে একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া শুরু করা। এই উদ্যোগের কার্যকারিতা ভবিষ্যতে মূল্যায়ন করা হবে এবং দুর্নীতি কমাতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, অতিরিক্ত সচিব এস এম এরশাদুল আলম ও মো. খাদেম উল কায়েস, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজিআর) শামীমা আফরোজ, সাব-রেজিস্ট্রার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ রমজান খান, মহাসচিব মাইকেল আবদুল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
৩ দিন আগে
রাতে মিরপুর-১০ এলাকা পরিদর্শনে ডিএনসিসি প্রশাসক
নিজে গাড়ি চালিয়ে রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
এ সময় তিনি ওই এলাকার হকার উচ্ছেদ-পরবর্তী পরিস্থিতি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ ব্যবস্থা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে নিজে গাড়ি চালিয়ে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন প্রশাসক।
এ সময় মিরপুর-১০ এলাকা থেকে উচ্ছেদ করা হকারদের অবৈধ বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রশাসক। এছাড়া মিরপুর-১০ এলাকার হকারদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর সেখানকার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
এ সময় শফিকুল ইসলাম খান বিভিন্ন ওয়ার্ডের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার, প্রজেক্টর ডাস্টবিন স্থাপন, জনদুর্গভোগ কমানোসহ বিভিন্ন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
পাশাপাশি তিনি মিরপুর-১০ থেকে শেওড়াপাড়া পর্যন্ত মেট্রো রেলের পিলার ও এর আশপাশে বিভিন্ন দেয়াল থেকে অবৈধ পোস্টার ও লিফলেট অপসারণের পর গ্রাফিতি অঙ্কনের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন ও বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।
মিরপুর-১০ এলাকাকে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন ডিএনসিসি প্রশাসক।
৩ দিন আগে
৪৯তম বিসিএস: আরও ৪০ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন
৪৯তম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারে আরও ৪০ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে দ্বিতীয় দফায় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ৪৯তম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারে ৬১১ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল মন্ত্রণালয়। তখন পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে অনেককে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন পিএসসির সুপারিশপ্রাপ্তরা। পরে আন্দোলনেও নামেন তারা।
প্রজ্ঞাপনে নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১২ অক্টোবরের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগদানের জন্য বলা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে পরবর্তী কোনো নির্দেশ না পেলে ওই তারিখেই তাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগদান করতে হবে।
নির্ধারিত তারিখে কেউ যোগদান না করলে তিনি চাকরিতে যোগদান করতে সম্মত নন বলে ধরে নেওয়া হবে এবং তার নিয়োগপত্র বাতিল হয়ে যাবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত ১ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে (শিক্ষা) পিএসসির সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্যে ৪৬ জনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন সোমবার জারির প্রক্রিয়া চলছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারও প্রতি কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি।
তিনি ওই সময় আরও জানান, বিভিন্ন সংবাদে ৪৯তম বিসিএসের বিশেষ শিক্ষা ক্যাডারে ৬৬৮ জনকে সুপারিশের কথা বলা হলেও পিএসসি প্রকৃতপক্ষে ৬৬৫ জনকে সুপারিশ করেছে। তাদের মধ্যে তিনজন প্রয়োজনীয় সনদ জমা দিতে পারেননি। এছাড়া আটজন মেডিকেল পরীক্ষায় উপস্থিত হননি। ফলে মোট ৬৫৭ জনের নিয়োগের প্রক্রিয়া এগোয়। তাদের মধ্যে ৬১১ জনের প্রজ্ঞাপন হয়েছে। ফলে ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন বাকি রয়েছে।
৩ দিন আগে