সারাদেশ
ময়মনসিংহে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার ৪ যাত্রী নিহত
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় ট্রাকের চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ৪ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ২ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (৪ মে) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মনতলা সমিতিঘর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে, হতাহতরা সবাই অটোরিকশার যাত্রী বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাত্রীবাহী অটোরিকশাটি ময়মনসিংহ-মুক্তাগাছা সড়কের মনতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত হন এবং গুরুতর আহত হন আরও অন্তত ৩ জন।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে আরেকজনের মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে।
মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা সাধারণত অতিরিক্ত গতি ও অসতর্ক ওভারটেকিংয়ের কারণে ঘটে থাকে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
১ দিন আগে
টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২
টাঙ্গাইলে ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত দুইজন।
সোমবার (৪ মে) ভোরে টাঙ্গাইল শহর বাইপাসের রাবনায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কে রাবনা ফ্লাইওভারের ওপর উত্তরবঙ্গগামী একটি ট্রাক সামনের একটি পিকআপকে ওভারটেক করতে গেলে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ২ জন নিহত এবং ২ জন আহত হন।
তিনি আরও জানান, পুলিশ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এছাড়া আহতদের একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
১ দিন আগে
কচুয়ায় সড়কে নিম্নমানের কার্পেটিং, ৫ দিনের মধ্যেই দেখা দিয়েছে গর্ত
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর সংস্কার কাজ শুরু হলেও মাত্র ৫ দিনের মাথায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, ফলে জনদুর্ভোগ কমার বদলে বেড়েছে ঝুঁকি ও আতঙ্ক।
কচুয়া ফায়ার সার্ভিস থেকে উপজেলার কাশিমপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি কচুয়া, মতলব, হাজীগঞ্জসহ রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। গুরুত্বপুর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টাই শত শত যানবাহন চলাচল করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে চলমান এই সংস্কারকাজে কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব খুবই কম রাখা হয়েছে। নিম্নমানের পাথর, ইট ও নামমাত্র বিটুমিন ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ করছেন ঠিকাদার। অনেক স্থানে বিটুমিন বা ইটের খোয়া ছাড়াই সরাসরি মাটির ওপর পাথর ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে কাজ শেষ হওয়ার আগেই পাথর উঠে গিয়ে আগের মতোই গর্ত তৈরি হচ্ছে।
বিশেষ করে কচুয়া পৌরসভার পলাশপুর, ফায়ার সার্ভিস-সংলগ্ন এলাকা, কান্দারপাড়, বালিয়াতলী, চকমাহমুদপুর, গুলবাহার বাজার এবং সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের সামনে সড়কটির অবস্থা সবচেয়ে নাজুক, যা এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল হোসেন ও আবুল হোসেন অভিযোগ করেন, দায়সারাভাবে সড়কের কাজ করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের কোনো তদারকি নেই। কাজ দেখলেই বোঝা যায়, এই রাস্তা টিকবে না।
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক বিল্লাল হোসেন, প্রবীণ চালক ফারুক মিয়া এবং প্রাইভেট কারচালক লিটন গাজী বলেন, ভেবেছিলাম রাস্তা ঠিক হলে ভোগান্তি কমবে, কিন্তু ৫ দিনের মধ্যেই পাথর উঠে গর্ত হয়ে গেছে। এখন গাড়ি চালানো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে রাতের বেলায় আতঙ্ক বেড়ে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারকে অনিয়মের বিষয়টি বারবার জানানো হলেও তিনি কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তদারকি কর্মকর্তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট তদারককারী প্রকৌশলী আবু হানিফের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, সড়কটি মেরামতের জন্য এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক অর্থ বরাদ্দ হয়নি। জনদুর্ভোগ কমাতে একজন ঠিকাদার দিয়ে সাময়িকভাবে সংস্কারকাজ চালানো হচ্ছে এবং বরাদ্দ পাওয়া গেলে পরে তাকে অর্থ দেওয়া হবে।
তবে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
কচুয়া থেকে হাজীগঞ্জ ও মতলব উপজেলার সংযোগকারী এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সুরমা পরিবহনের বাস, মালবাহী ট্রাকসহ অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। দ্রুত সঠিক মান বজায় রেখে সড়কটি সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
১ দিন আগে
সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনা: নিহত বেড়ে ৯
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ট্রাক ও পিকআপ-ভ্যানের সংঘর্ষে রামিম মিয়া (৫০) নামে আহত আরেক ব্যক্তি মারা গেছেন। এ নিয়ে এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯ জনে।
রবিবার (৩ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. মনজুরুল আলম।
নিহত রামিম সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়ার আলিমুদ্দিনের ছেলে।
গতকাল (রবিবার) সকাল ৬টার দিকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেলিবাজারে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ঘটা ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৪ জন এবং পরে আরও ৪ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১০-১২ জন। হতাহতরা সবাই নির্মাণশ্রমিক।
নিহতরা হলেন– সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার সরিষা নার্গিস (৪৫), দিরাইয়ের সেচনী গ্রামের মোছা. মুন্নি বেগম (৩৫), দিরাইয়ের ভাটিপাড়া গ্রামের নুরুজ আলী (৬০), ভাটিপাড়া নূর নগরের ফরিদুল (৩৫), বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মুক্তিখলা গ্রামের দুই ভাই আজির উদ্দিন (৩৫) ও আমির উদ্দিন (২২), সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের শিবপুর গ্রামের পান্ডব বিশ্বাস (২০) ও পুটামারা গ্রামের বদরুজ্জামান (৪৫)।
আহতের মধ্যে কয়েকজন জানান, ভবনে ঢালাইয়ের কাজের জন্য সিলেট নগরীর আম্বরখানা থেকে একটি পিকআপে করে দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন তারা। পিকআপে ২০ জন ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিল ঢালাই মেশিন। পিকআপটি তেলিবাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক আসা একটি কাঁঠালবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে এর সংঘর্ষ হয়। এ সময় পিকআপে থাকা সবাই ছিটকে পড়েন।
জানা গেছে, দুর্ঘটনার আগে ট্রাকের চালক ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। পরে হেলপার গাড়ি চালানোর সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
১ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে রাস্তার ইট তুলে নিলেন সাবেক ইউপি সদস্য
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মাণের ৪ দিনের মাথায় হেরিংবন রাস্তার ইট তুলে নিয়েছেন সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আফসার আলী। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২ মে) বিকেলে সাবেক ওই ইউপি সদস্যর নেতৃত্বে তার সহযোগীরা রাস্তার সব ইট তুলে নিয়ে যান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় করতোয়া ডিগ্রি কলেজের মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে ওই গ্রামের ইউসুফ আলী ও রফিক প্রামাণিকসহ কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াত করতেন। সম্প্রতি তাদের প্রতিবেশী মিনা খাতুন ওই জমির ওপর বাঁশের বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে দেন। প্রায় ৩ সপ্তাহ অবরুদ্ধ থাকার পর সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাশফিকা হোসেন সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং তাদের চলাচলের জন্য ১০ ফুট প্রস্থ ও ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যর একটি ইট বিছানো রাস্তা নির্মাণ করা হয়।
তবে, ইউএনও বদলি হওয়ার পর গতকাল (শনিবার) বিকেলে সাবেক ওই ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা রাস্তার সব ইট তুলে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে ইউএনও সাবরিনা শারমিন বলেন, ওই গ্রামে সদ্য নির্মিত রাস্তার ইট তুলে নেওয়ার বিষয়টি জেনেছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার
সিরাজগঞ্জে চাঁদাবাজির মামলায় ছাত্রদল নেতা সোহেলকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার দত্তবাড়ি মহল্লার বাসিন্দা এবং পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
রবিবার (৩ মে) সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কার মাতুব্বর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, উক্ত পৌর এলাকার কোবদাসপাড়া আক্কার মোড় মহল্লায় মনোহারী ব্যবসায়ী শাহজাহান আলী দোকান পরিচালনা করতেন। গত ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় তার ব্যবসায়িক সহযোগী নাজমুল ইসলাম ব্যাবসা-সংক্রান্ত আলোচনার জন্য শাহজাহন আলীর বাড়িতে যান। কিন্তু তিনি বাড়িতে না থাকায় তার মায়ের সঙ্গে নাজমুল কথাবার্তা বলছিলেন। এ সময় যুবলীগ নেতা সাবেক কাউন্সিলর হোসেন ও ছাত্রদল নেতা সোহেলসহ কয়েকজন বাড়িতে ঢুকে নাজমুল ও শাহজাহানের স্ত্রী নূপুরকে জড়িয়ে মিথ্যা অপবাদ রটান এবং হুমকি-ধমকি দিয়ে নাজমুলকে তুলে নিয়ে ৭০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।
এ চাঁদার টাকা ৫ দিনের মধ্যে দেওয়ার কথা স্বীকার করে নাজমুলকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় তারা নাজমুলকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে জানান ওসি।
তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে আজ (রবিবার) সকালে ওই ব্যবসায়ীর স্ত্রী নুপুর বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করেছেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে ওই ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
২ দিন আগে
খিলক্ষেতে বাসা থেকে বৃদ্ধের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন লেকসিটি এলাকার একটি বাসা থেকে ফারুক কবির বাদল (৬০) নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৩ মে) মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতলে মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত ফারুক কবির মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী থানার টিভি মালদা এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের সন্তান ছিলেন। বর্তমানে খিলক্ষেত লেকসিটি সুরভী ভবনে কনকর্ড ফ্লাট-১৫ নম্বর বাসায় তিনি একাই থাকতেন।
খিলক্ষেত থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জীবন চন্দ্র দাস জানান, আমরা খবর পেয়ে গতকাল (শনিবার) বিকেল ৪টার দিকে খিলক্ষেতে লেকসিটি সুরভী ভবনে কনকর্ড ১৫ নম্বর ফ্লাটের ড্রয়িং রুমে অর্ধগলিত অবস্থায় ফারুক কবিরের মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, আমরা জানতে পেরেছি নিহত ব্যক্তি ওই ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। তার স্ত্রী ও এক মেয়ে আমেরিকায় থাকেন। তিনি ওই ফ্ল্যাটে একা একাই রান্নাবান্না করে খেতেন। তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বার্ধক্যজনিত কারণেই কয়েকদিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। এই কারণে তার মরদেহ পচন ধরেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
২ দিন আগে
এবার সিলেট থেকে সরাসরি হজ ফ্লাইট ৭টি, যাত্রা শুরু ৪ মে
এ বছর সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি মোট ৭টি হজ ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এর মধ্যে প্রথম ফ্লাইটটি ৪ মে রাত ১টা ২৫ মিনিটে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে মদিনার উদ্দেশে যাত্রা করবে।
রবিবার (৩ মে) দুপুরে সিলেট হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) কার্যালয়ে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রা-সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রস্তুতি তুলে ধরতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে হাব সিলেট অঞ্চলের সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুল কাদির বলেন, প্রতি বছরের মতো এ বছরও সিলেট থেকে সরাসরি পবিত্র হজ ফ্লাইট চালু হওয়া অত্যন্ত আনন্দ ও গৌরবের বিষয়। প্রথম ফ্লাইটটি ৪ মে রাত ১টা ২৫ মিনিটে ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে মদিনার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। এ বিষয়ে সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি সকল হজযাত্রীকে মোবারকবাদ জানান এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, গত বছরের ধারাবাহিকতায় এ বছরও সিলেট থেকে মোট ৭টি হজ ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এর মধ্যে একটি মদিনায় এবং বাকি ৬টি জেদ্দা বিমানবন্দরে যাবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এসব ফ্লাইট ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ (দুটি ফ্লাইট) ও ১৮ মে সিলেট-জেদ্দা রুটে পরিচালিত হবে।
এ বছর সিলেট অঞ্চলের মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ৩ হাজার ৩৯৪ জন। এর মধ্যে ২ হাজার ৯৩৩ জন সরাসরি সিলেট থেকে সাতটি ফ্লাইটে সৌদি আরবে যাবেন এবং বাকি ৪৬১ জন ঢাকা হয়ে যাত্রা করবেন। ‘রোড টু মক্কা’ কর্মসূচির আওতায় ঢাকায় ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হলেও সিলেট থেকে যাত্রাকারীদের ইমিগ্রেশন সৌদি আরবেই সম্পন্ন হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী হজে অংশ নেবেন। সৌদি সরকারের নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী প্রতি এজেন্সির জন্য ন্যূনতম ২ হাজার জন যাত্রীর সীমা থাকলেও সিলেট অঞ্চলে এ নিয়ে বড় কোনো সমস্যা হয়নি।
সিলেট অঞ্চলে মোট ৩০টি হজ এজেন্সি কার্যক্রমে যুক্ত থাকলেও এ বছর ২৩টি এজেন্সি নিবন্ধন কার্যক্রমে অংশ নেয়। এসব এজেন্সির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হজযাত্রীদের নিবন্ধন, ভিসা কার্যক্রম এবং সৌদি আরবে বাসস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ বছর একটি সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে ‘সিলেট অ্যালায়েন্স হজ ২০২৬’ প্ল্যাটফর্মের অধীনে লিড এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ সার্ভিসেসের লাইসেন্সে হজ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা সমন্বিত ব্যবস্থাপনার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এ বছর সিলেট থেকে অংশগ্রহণকারী হজ এজেন্সিগুলো হলো: লতিফ ট্রেভেলস প্রাইভেট লিমিটেড, সানশাইন ট্রেভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, ইকরা ট্রেভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, সোমা ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেস, সিপার এয়ার সার্ভিসেস, ট্রেভেলন এয়ার সার্ভিসেস, এলাইট ট্রেভেলস, সিটি ওভারসীজ, আল মনসুর এয়ার সার্ভিস লিমিটেড, আল ইহসান ট্রেভেলস, রাব্বানী ওভারসীজ এভিয়েশন, আকাবা ট্রেডিং কর্পোরেশন, তাশফিক ট্রেভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, যাত্রীক ট্রেন্ডেলস, নিবরাস ইন্টারন্যাশনাল ট্রেভেলস, আলফা ট্রেভেলস, আবাবিল এয়ার সার্ভিস, আল শরিফাইন ট্রেভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, শিপলু ওভারসীজ, খাজা এয়ার লাইনার, খাজা ট্রেভেলস, নিউ মডার্ন ট্রেভেলস ইন্টারন্যাশনাল এবং ডিসকভারী সিলেট ট্রেভেলস ট্যুরস।
২ দিন আগে
হাট থেকে আনা শ্রমিকের হাতে প্রাণ গেল গৃহকর্ত্রীর
কুমিল্লার চান্দিনায় সমীরণ বেগম (৬৮) নামে ঘুমন্ত এক নারীকে শ্বাসরূদ্ধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ধান কাটার শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। হত্যার পর নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে তারা পালিয়ে গেছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীর স্বজনদের।
রবিবার (৩ মে) সকালে চান্দিনা উপজেলার শুহিলপুর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। চান্দিনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সমীরণ বেগম শুহিলপুর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের আবদুল বাতেন মোল্লার স্ত্রী ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৭ এপ্রিল বিকেলে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার শ্রমিকের হাট থেকে ৪ জন ধান কাটার শ্রমিক ভাড়া করেন সমীরণ বেগমের পরিবার। গতকাল (শনিবার) একজন শ্রমিক তাদের পরিবারের একটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান। এরপর বাকি তিন শ্রমিক রাতে আরও একজনকে ভাড়া আনেন। এরপর তারা আবদুল বাতেন মোল্লার বসতঘরের একটি কক্ষে রাত্রিযাপন করেন। পাশের কক্ষে বৃদ্ধা সমীরণ বেগম ও অপর পাশের কক্ষে তার স্বামী আবদুল বাতেন মোল্লা ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু সকালে হাত-পা বাঁধা ও গলায় পর্দার কাপড় প্যাঁচানো অবস্থায় সমীরণ বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের ছেলে বশির মোল্লা জানান, প্রতিদিন ভোরে উঠে মা ফজরের নামাজ আদায় করতেন। শ্রমিকরাও খুব সকালে উঠে কাজ শুরু করতেন। আজ (রবিবার) সকালে আমরা ঘুম থেকে উঠে দেখি, শ্রমিকরা নেই। এরপর মায়ের কক্ষে গিয়ে দেখি, উনার হাত-পা বাঁধা এবং গলায় পর্দার কাপড় পেঁচিয়ে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা শ্রমিকদের নাম-পরিচয় সম্পর্কে কিছুই জানি না। শুধু জানতাম, তাদের বাড়ি চাঁদপুর ও ঢাকা জেলায়। আমার মায়ের হত্যার বিচার চাই আমি।
শুহিলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন সরকার বলেন, বাতেন মোল্লা আমাদের এলাকার বেশ সম্পদশালী ব্যক্তি। এক ছেলে ও তিন মেয়ে তার। প্রতি বছর ক্যান্টনমেন্ট হাট থেকে শ্রমিক এনে কাজ করান তিনি। প্রতিবারের মতো এবারও শ্রমিক আনার পর শ্রমিকরা তার স্ত্রীকে শ্বাসরূদ্ধ করে হত্যার পর নগদ প্রায় ৭০ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও অনেক মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে আমরা ওই বাড়িতে গিয়ে পুলিশকে খবর দেই।
এ বিষয়ে চান্দিনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে শ্রমিকরাই ওই বৃদ্ধাকে হত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমল্লিা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক করতে পুলিশ কাজ করছে।
২ দিন আগে
লক্ষ্মীপুরে দাফনের ১৪ মাস পর কৃষকদল নেতার মরদেহ উত্তোলন
লক্ষ্মীপুরে দাফনের প্রায় ১৪ মাস পর কবর থেকে শাহাদাত হোসেন পরাশ নামে এক কৃষকদল নেতার মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। পরাশ ২০২৫ সালের ৭ মার্চ চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ মোস্তানগর এলাকায় মারা যান।
রবিবার (৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার তেরবেকি এলাকার পারিবারিক কবরস্থান থেকে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। তার স্ত্রী শেফালি বেগম শেপুর করা মামলার তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্তের জন্য আদালতের নির্দেশনায় তার মরদেহ উত্তোলন করা হয়।
পরাশ জেলা কৃষকদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সমসেরাবাদ এলাকার মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে ছিলেন।
শেফালি বেগম বলেন, প্রবাস থেকে এসে বন্ধুকে নিয়ে মাটি খনন যন্ত্র ভেকু মেশিন কিনতে চট্টগ্রাম গিয়ে মারা যান পরাশ। ঘটনার সময় পরাশের কাছে ১০ লাখ টাকা ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, পরাশের সঙ্গে থাকা ওই ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করতে অভিযুক্ত মোহন তাকে হত্যা করেন। পরাশ ও মোহনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল।
এ সময় লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন ও সদর হাসপাতালের মেডিকেল কর্মকর্তা আরমান হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমন বলেন, নিহতের মরদেহ উত্তোলন করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে সেটি পুনরায় দাফন করা হবে।
২ দিন আগে