জামায়াত
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে গণমিছিল, সভা-সমাবেশ, সেমিনারসহ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির ১১ দলীয় জোট। ঘোষণা অনুযায়ী, ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত তাদের এ কর্মসূচি চলবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সংবাদ সম্মেলনের আগে জোটের শীর্ষ নেতারা জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এক বৈঠকে এসব কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের মাধ্যমে ৫ কোটি মানুষ বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার করে নতুন রাষ্ট্রকাঠামোর মধ্য দিয়ে উন্নয়ন ও অগ্রগতির লক্ষ্যে দলীয়করণ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত এবং একক ব্যক্তির কর্তৃত্ব থেকে দেশকে মুক্ত করতে চেয়েছিল। আমরা এখন বেদনার সঙ্গে দেখতে পাচ্ছি, ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত বর্তমান সরকার তা থেকে ইউটার্ন করে নানান অজুহাত তুলে ব্যাখ্যা দিচ্ছে। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ করে গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যুতে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ১৩৩টি অধ্যাদেশের প্রতি অবিচার করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
জ্বালানিমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, গণভোটের যে গণরায়, তা বাস্তবায়নই আমাদের আন্দোলনের প্রধানতম লক্ষ্য। কিন্তু, বিদ্যমান যে জনদুর্ভোগ, জ্বালানি সংকট চললেও জ্বালানিমন্ত্রী হাস্যকরভাবে বলছেন, দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের জন্য গাড়ির দীর্ঘ লাইন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা তেল পাচ্ছেন না। এমনকি সংসদ সদস্যরা তেল না পেয়ে সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
তিনি আরও বলেন, সার সংকট জ্বালানি থেকেই তৈরি হচ্ছে। আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি দিয়ে ফসল কাটা, মাড়াইয়ের জন্য জ্বালানি প্রয়োজন। আসন্ন বোরো মৌসুমেও জ্বালানির প্রয়োজন।
দেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সারা দেশে দেড় লক্ষাধিক হামের রোগী সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। স্বাস্থ্যখাত একেবারে ভেঙে পড়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ও হাসপাতালের চেহারা বিপরীত।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, খুনখারাবি ও দখলদারি আবারও চলছে। একটি দলের নেতৃত্বে বিভিন্ন দখলবাজি শুরু হয়েছে। ব্যাংক খাত ধ্বংস করা হয়েছে। এমন কোনো নজির আছে কি যে একটি দল ক্ষমতায় এসে দেড় মাসে ৪০-৪২ হাজার কোটি টাকা শুধু ব্যাংক থেকে ঋণ করেছে, প্রশ্ন তোলেন তিনি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ব্যাংকগুলো খালি করে নিজেদের সিন্ডিকেটের লোকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোয় আমানত রাখা কোটি কোটি সাধারণ গ্রাহক এখন রাজপথে নামছেন, কথা বলছেন। প্রশাসনে সচিবালয় থেকে শুরু করে সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অধস্তন পর্যন্ত দলীয়করণ, পদত্যাগে বাধ্য করা, ওএসডি করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় সব সরিয়ে দিচ্ছে সরকার। দৃশ্যত, শাসন ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় কোনো গুণগত পরিবর্তন হয়নি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের গণরায়কে বাস্তবায়নের চলমান আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা পরিস্থিতির আলোকে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। জনদুর্ভোগ কমানোর দাবিতে ১১ দলের আন্দোলন চলবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় তিনি জোটের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৮ এপ্রিল রাজধানীতে গণমিছিল করবে ১১ দলীয় জোট। এরপর ২৫ এপ্রিল রাজধানী বাদে অন্যসব মহানগরীতে গণমিছিল করবে তারা। তারপর ২ মে সব জেলা শহরে গণমিছিল।
এছাড়া ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত জোটের পক্ষ থেকে সারা দেশে লিফলেট বিতরণ এবং সকল মহানগরী ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে সেমিনার আয়োজন করা হবে।
এ ছাড়াও পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে সকল বিভাগে জনসভা করা হবে। সেখানে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এর মধ্যে সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে ঢাকায় মহাসমাবেশ করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
শেরপুর ও বগুড়া নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতির’ অভিযোগে রাজধানীতে জামায়াতের বিক্ষোভ
শেরপুর-৩ আসনে জাতীয় নির্বাচন ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়ম ও ভোট ডাকাতির অভিযোগে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির আমলের প্রথম নির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও প্রতিপক্ষের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা আওয়ামী লীগকেও হার মানিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, শেরপুর ও বগুড়ার উপনির্বাচনে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করে জাতির সঙ্গে তামাশা করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি এ নির্বাচনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের ফলাফল বাতিলের দাবি জানান।
গণভোট প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছে, গণভোট জয়যুক্ত হলে তারা অক্ষরে অক্ষরে মানবে। কিন্তু সরকার গঠন করে তারা গণভোটের আদেশ বাতিল করছে। বিএনপির এই দ্বিচারিতা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং শহিদদের রক্তের সঙ্গেও চরম বেইমানি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা যদি গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণের রায় মেনে নিতে না পারেন, তবে তাদের সংসদে দাঁড়িয়ে বলতে হবে, তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়নি। তারা যদি গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়ে থাকেন, তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে তারা সংসদ সদস্য হিসেবে যেভাবে শপথ নিয়েছেন, একইভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করতেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপি যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল, ৫ কোটি জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করে বিএনপির সেই নোট অব ডিসেন্ট বাতিল করে দিয়েছে। এজন্য বিএনপি ৭০ শতাংশ জনগণের রায় উপেক্ষা করে ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে। বিএনপি জুলাই সনদের বিপক্ষে গিয়ে হাসিনার তৈরি কালো আইন বহাল রাখতে কাজ করছে।
বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না। ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে বিএনপিকেই চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধান করতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান প্রমুখ।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের পরিচালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ শামছুর রহমান, মহানগরী দক্ষিণের অফিস সেক্রেটারি কামরুল আহসান হাসান, মহানগরী দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন, সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন, সহকারী অফিস সেক্রেটারি মুজিবুর রহমানসহ মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা।
সমাবেশ শেষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পল্টন মোড়-বিজয়নগর গোলচত্বর গিয়ে শেষ হয়। এ সময় হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মী ভোট ডাকাতি ও প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচনের ফলাফল বাতিলের দাবি জানান।
১৩ দিন আগে
বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ জামায়াতের
বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালে ভোট কারচুপি, জালভোট প্রদান, ফলাফলের শিটে আগাম সই নেওয়া এবং পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) হস্তক্ষেপও কামনা করেছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব অভিযোগ করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এ উপনির্বাচনে গুরুতর অনিয়ম হচ্ছে। ভোট কারচুপি, জালভোট, এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং সকালেই রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর নেওয়ার মতো আপত্তিকর ঘটনা ঘটছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
পরওয়ার বলেন, শেরপুরের শ্রীবরদীতে তাদের প্রার্থী ইন্তেকাল করেছেন। নির্বাচনের আগে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, যা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
শেরপুরে তাদের প্রার্থী সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বগুড়ায় প্রার্থী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বগুড়া শহরের আমির আবিদুর রহমান সোহেল।
তিনি বলেন, ৪, ৫ ও ৬ এপ্রিল আমরা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে তিন দিন নির্বাচনি এলাকা সফর করেছি। সেখানে ভয়ভীতি প্রদর্শন, নেতা-কর্মীদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা এবং হুমকির আলামত পেয়েছি।
বগুড়ায় অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, কয়েকটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা সকালেই পোলিং এজেন্টদের দিয়ে ফলাফলের শিটে জোরপূর্বক সই করিয়েছেন যা নির্বাচন বিধির পরিপন্থী। উদাহরণ হিসেবে তিনি মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের কথা উল্লেখ করেন। তার দাবি, ওই কেন্দ্রে সকালে এজেন্টদের দিয়ে সই নেওয়ার পর জালভোট দেওয়া হয়েছে এবং পরে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দুপুর ১২টা পর্যন্ত শেরপুরে অন্তত ১৩টি কেন্দ্রে জোর করে এজেন্টদের বের করে দিয়ে জাল ভোট দেওয়া হয়েছে। শ্রীবরদী পৌরসভার ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা কেন্দ্রে জাল ভোট প্রতিরোধ করতে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করে তাদের এজেন্টদের বের করে দেন এবং জামায়াতের এক যুবনেতাকে মারধর করেন।
তার অভিযোগ, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে বারবার অনুরোধ করা হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের ‘পেটুয়া বাহিনী’ ভোটারদের, বিশেষ করে নারীদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দিচ্ছে এবং তাদের হয়রানি করছে।
উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের পর ক্ষমতায় আসা একটি বড় রাজনৈতিক দলের অধীনে প্রথম উপনির্বাচনেই যদি এমন চিত্র দেখা যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।
এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, যেসব কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছে, সেসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে পুনরায় ভোটের ব্যবস্থা এবং দায়ী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে জনগণ এমন একতরফা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ৩০০ কেন্দ্রের মধ্যে যেসব কেন্দ্রে জালভোট ও এজেন্টদের বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর বিষয়ে দুপুর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য উদ্বেগজনক। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
ভোটার ও এজেন্টদের নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দিচ্ছে, ফলে অনেক ভোটার ভোটকেন্দ্রে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। এ পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মা’ছুম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দিন মোল্লা এবং প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি আতাউর রহমান সরকার উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে দুই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন এই দুই আসনের তফসিল ঘোষণা করে।
এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উভয় আসনে নির্বাচিত হন। পরে তিনি বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়ে ঢাকা-১৭ আসন রাখেন।
অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করেছিল নির্বাচন কমিশন।
১৪ দিন আগে
ভোট মানেন, কিন্তু গণভোট মানেন না, এটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা: এমপি কামাল
জাতীয় সংসদ নির্বাচন মেনে নিয়ে গণভোট অস্বীকার করা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৫ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ কামাল হোসাইন।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা দাবি করেছি, গণভোট আগে হবে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরে হবে। কিন্তু আপনারা (বিএনপি) দুই ভোট একসঙ্গে করার প্রস্তাব দিয়ে এখন সংসদ নির্বাচন মেনে নিচ্ছেন, অথচ গণভোট মানছেন না। এটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।’
রবিবার (২২ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা ও পৌর জামায়াত আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই মায়ের যমজ সন্তান—এর মধ্যে এক সন্তান বৈধ, আরেক সন্তান অবৈধ হয় কীভাবে? জাতি জানতে চায়।
জুলাই সনদের প্রসঙ্গ তুলে কামাল হোসাইন বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। আপনারা যদি এ নিয়ে টালবাহানা করেন, তাহলে জনগণ ভালো করেই জানে কীভাবে দাবি আদায় করতে হয়।
জুলাই আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের হাজারো শহিদ, চোখহারা, হাতহারা, পাহারা প্রায় পাঁচ হাজার পঙ্গুত্ববরণকারী গাজী ভাই-বোন এখনও জীবিত আছেন। তারা আপনাদের ক্ষমা করবে না, ছাড় দেবে না। শহিদদের এই জমিনে আর কোনো চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখল, অনিয়ম ও দুর্নীতি চলবে না।
তিনি আরও বলেন, ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে ৭০ শতাংশের রায় উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। আমরা চাই না জুলাই বারবার ফিরে আসুক।
উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মিলনায়তন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। শুরুতে সংবর্ধিত অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং পরে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
শাহরাস্তি উপজেলা জামায়াতের আমির মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে এবং পৌর আমির মাওলানা জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মাওলানা আবুল হোসাইন, নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি জামাল হোসেন, জেলা শূরা ও কর্ম পরিষদের সদস্য সহকারী অধ্যাপক মো. শাহ আলম ও ইব্রাহিম খলিল।
এছাড়া বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিকী, কাউসার আলম, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির বাদশা ফয়সাল, সেক্রেটারি মাওলানা মাঈন উদ্দিন, পৌরসভার নায়েবে আমির মাস্টার সিরাজুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাওলানা আলমগীর হোসেন প্রমুখ।
৩২ দিন আগে
কূটনীতিকদের সঙ্গে জামায়াত আমিরের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কূটনৈতিক অঙ্গনে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (২১ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডে তার সরকারি বাসভবনে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সাক্ষাতের সময় তিনি আগত অতিথিদের সঙ্গে আন্তরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয়পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় উৎসবমুখর পরিবেশে কূটনীতিকদের সঙ্গে হাস্যরস ও খুনসুটিতেও মেতে উঠতে দেখা যায় বিরোধীদলীয় নেতাকে। পরে বাসভবন প্রাঙ্গণে একটি গাছ রোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও দেন তিনি।
এর আগে, সকালে রাজধানীর মিরপুরের ৬০ ফুট সড়ক-সংলগ্ন মনিপুর গার্লস হাই স্কুল মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন শফিকুর রহমান।
৩৩ দিন আগে
সংসদ ও সংবিধানের চেয়ে জনগণ বেশি শক্তিশালী: ড. রেজাউল করিম
ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম বলেছেন, ‘এ দেশে জনগণ গণভোটের মাধ্যমে যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তা নিয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই। জনগণ “হ্যাঁ” ভোট দেওয়ার পর সংসদে তা নিয়ে আলোচনার কোনো অধিকার নেই। সংসদ ও সংবিধানের চেয়ে জনগণ অনেক শক্তিশালী।’
বুধবার (১৮ মার্চ) লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াতে ইসলামী লক্ষ্মীপুর শহর শাখা আয়োজিত ফুড প্যাকেজ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রায় এক হাজার অসহায় পরিবারের মধ্যে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
ড. রেজাউল করিম বলেন, ‘৭০ ভাগ জনগণ “হ্যাঁ” ভোটের রায় দিয়েছে। সেই রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হন, তাহলে জানতে চাই—কোন সংবিধানের অধীনে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করতে চাই, জুলাই আন্দোলন না হলে এ দেশের অনেক রাজনৈতিক দলের নেতা এ দেশের মাটিতে পা রাখতে পারতেন না।’
সরকারি সহায়তা বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা জামায়াতের পক্ষ থেকে ফুড প্যাকেট নিয়ে আসলাম, কিন্তু রাষ্ট্রের প্যাকেট গেল কোথায়? রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখানে যে চাল বরাদ্দ হয়েছিল, সেগুলো কোথায়? এখানে খেজুর বরাদ্দ এসেছিল, সেগুলো কার পেটে গেছে? সেটা জানতে চাই। ঈদের উপহার হিসেবে ১০ লাখ টাকা এসেছে—কেউ পায়নি। যদি কেউ বলেন যে আমরা দিয়েছি, তাহলে বলতে হবে বিএনপির মধ্যে সব অসহায় লোক? বিএনপি কি অসহায়দের দল নাকি? সব অসহায়, এতিম, বিধবা এই দলেই আছে, আর কোনো দলে নেই?’
তিনি আরও বলেন, ‘চাল, খেজুর ও ঈদের উপহার ১০ লাখ টাকা এসেছে—আপনারা পাননি, তাহলে এগুলো খেয়ে ফেলা হয়েছে। শাড়ি, থ্রি-পিস এসেছে—আমরা কিন্তু আগে এগুলো জানতাম না, কারণ আগে আমরা রাস্তায় রাস্তায় বিরোধী দল ছিলাম। এখন কিন্তু আমরা সরকারের অংশ, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিরোধী দল। সুতরাং আগে হজম করতে পেরেছেন, এখন হজম করতে সময় লাগতে পারে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এআর হাফিজ উল্যা, শহর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আবুল ফারহান নিশান, শহর জামায়াতের সেক্রেটারি হারুনুর রশীদ, অ্যাডভোকেট মিরনসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
৩৬ দিন আগে
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠি ঘিরে বিভ্রান্তি: জামায়াতের ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের দপ্তর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি চিঠি ঘিরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পর জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনাটি মূলত প্রায় দুই সপ্তাহ আগের। সে সময় প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান আমিরে জামায়াতের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং দলের পক্ষ থেকে দেশের পররাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত কিছু অবস্থান স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি পাঠানোর দায়িত্ব তার ওপর ন্যস্ত ছিল।
তবে তিনি আমিরের নির্দেশিত বিষয়াবলির বাইরে কিছু বিষয় যুক্ত করে চিঠিটি মন্ত্রণালয়ে পাঠান বলে জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিশেষ করে চিঠিতে মন্ত্রীর পদমর্যাদা-সংক্রান্ত যে অংশ উল্লেখ করা হয়, তা জামায়াত আমিরের নির্দেশনায় ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিষয়টি দলের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে জামায়াত আমির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসানকে গত ২ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
একইসঙ্গে ঢাকা–১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেমকে (আরমান) বিরোধীদলীয় নেতার নতুন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক আচরণে বিশ্বাসী। কোনো বিষয়ে বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হলে তা দ্রুত সংশোধনের নীতিতে দল বিশ্বাস করে।
তিনি আরও বলেন, আলোচ্য ঘটনার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। ফলে এ বিষয়ে আর কোনো ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ নেই। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঠিক তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
৪৪ দিন আগে
চুক্তির বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার জামায়াতের সঙ্গে পরামর্শ করেনি: ডা. শফিকুর রহমান
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সই করা চুক্তিগুলোর বিষয়ে জামায়াতের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
জামায়াত আমির তার পোস্টে বলেন, ‘বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরকার কয়েকটি চুক্তি সম্পাদন করেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ ধরনের কোনও চুক্তি নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনও ধরনের আলোচনা করা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বহুবার দাবি জানিয়েছিলাম যে, সংসদ না থাকার কারণে সরকার বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে যেভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেছে, ঠিক সেভাবেই আন্তর্জাতিক চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতেও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।’
শফিকুর রহমান তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, ‘কিন্তু তৎকালীন সরকার আমাদের সেই দাবিগুলোকে আমলে নেয়নি। অতএব, এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট এবং এখানে কোনও ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি করার সুযোগ নেই।’
এর আগে, গত বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিটি জাতীয় নির্বাচনের ঠিক কয়েকদিন আগে আকস্মিকভাবে সই হওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের সঙ্গে আগেভাগেই আলোচনা করা হয়েছিল এবং উভয় দলই চুক্তি সইয়ের বিষয়ে একমত পোষণ করেছিল।
৪৮ দিন আগে
দুই সাবেক উপদেষ্টাকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে’ জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার (০৬ মার্চ) দুপুরে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনে সারাদিন উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। তারা ভেবেছে তাদের ইঞ্জিনিয়ারিং জনগণ বুঝতে পারবে না। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী তিন সপ্তাহের ব্যবধানে তারা নিজেরাই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা স্বীকার করেছে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান মিডিয়ার সামনে স্বীকার করেছেন, তারা জামায়াতে ইসলামীকে মেইনস্ট্রিম হতে দেয়নি। সাংবাদিকের পাল্টা প্রশ্নে রিজওয়ানা হাসান বলেন, তারা সংসদে বিরোধী দলে থাকলেও তাদের আমরা মেইনস্ট্রিমে আসতে দেইনি। রিজওয়ানা হাসান তার বক্তব্য ভুল স্বীকার না করলে প্রমাণ হবে, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সহযোগিতায় ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে।
সাবেক উপদেষ্টাকে বিএনপি সরকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার ঘটনাই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সবচেয়ে বড় উদাহরণ উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানকে অপসারণের দাবি জানিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু পরবর্তীতে খলিলুর রহমান নিজের চেয়ার ধরে রাখতে ‘লন্ডন মেকানিজম’-এর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বিএনপি খলিলুর রহমানের সার্ভিসে এত বেশি খুশি হয়েছে, যার কারণে বিএনপি সরকার গঠন করেই তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছে। অথচ অতীতের কোনো নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কোনো উপদেষ্টা নির্বাচন-পরবর্তী সরকারে যুক্ত হননি।
রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্য এবং খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার ঘটনা স্পষ্ট প্রমাণ করে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল অন্তর্বর্তী সরকার ও ডিপস্টেটের ইঞ্জিনিয়ারিং করা নির্বাচন। সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান এবং ড. খলিলুর রহমানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আদালতের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ বন্ধ করতে সরকার ষড়যন্ত্র করছে। জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে স্বাক্ষরকারী দলগুলো স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে, তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। সেই আলোকে গণভোটেও জনগণ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। জনগণের সেই রায় উপেক্ষা করে আদালতের দিকে দায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা সরকারের একটি ষড়যন্ত্র। সরকার তখন জুলাই সনদ নিয়ে সংসদে আলোচনা না করে বলবে, আদালতের আদেশের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আদালতকে সরকার নিজের স্বার্থে ব্যবহারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
গোলাম পরওয়ার বিএনপির উদ্দেশে বলেন, আপনারা সংবিধান সংস্কার পরিষদ সংবিধানে নেই, এই যুক্তি দেখিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। কিন্তু কোন সংবিধান মেনে আপনারা সরকার গঠন করেছেন? যে সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন, সেই সংবিধানে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থা নেই। তাহলে অন্তর্বর্তী সরকার অবৈধ, সেই সরকারের অধীনে নির্বাচনও অবৈধ।
জনগণকে বোকা বানিয়ে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা না করে বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জামায়াতে ইসলামী মবের রাজনীতি করে না, মবতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। জামায়াতে ইসলামী নিয়মতান্ত্রিক, আদর্শিক ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। যারা আমাদের চরম বিরোধী, তারাও একবাক্যে স্বীকার করে, জামায়াতে ইসলামী শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে নিয়োজিত।
৪৮ দিন আগে
নির্বাচনে আমাদের হক কেড়ে নেওয়া হয়েছে: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনে আমাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়নি। এই নির্বাচনের মধ্যমে আমাদের হক কেড়ে নেওয়া হয়েছে, এটি আমাদের কাছে পরিষ্কার।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেটের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সিলেট জেলা জামায়াত আয়োজিত ‘শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য শিক্ষা শিবির’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ১০ থেকে ১২ হাজার পর্যন্ত ভোটের ব্যবধানে যাদের হারানো হয়েছে এটা ইচ্ছাকৃত। দুয়েক জায়গায় ঘোষণা দিয়েও তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিছু স্পর্শকাতর জায়গায় ইচ্ছাকৃতভাবে হারানো হয়েছে। যেখানেই যাচ্ছি লোকে আমাদের বলে, আপনারা হারেননি, আপনাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাসে সংসদীয় রাজনীতিতে এবারই সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে আমাদের তিনটি লাভ হয়েছে। এক. এই প্রথম জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে একটা অর্থবহ ঐক্য হয়েছে। এর আগে, আমরা অন্যের নেতৃত্বে ঐক্য করেছিলাম। এবার আমাদের নেতৃত্বে হয়েছে। দুই. এই প্রথম আল্লাহ আমাদের প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্ব প্রদান করেছেন। তৃতীয় লাভ হলো এবার আমরা ৬টা শক্তির বিরুদ্ধে সমান্তরালে লড়াই করেছি। আমি তাদের নাম বলছি না, আপনারা সকলেই তা জানেন। এই ছয় শক্তির সম্মিলিত শক্তি কতটুকু তা আমরা বুঝে গেছি।’
তিনি আরও বলেন, এই ছয় শক্তি নিয়ে তারা আমাদের সাথে পারত না, যদি অন্যকিছুর আশ্রয় না নিত। এই অন্য কিছুর আশ্রয়ের কথা এখন কেবল আমরা বলছি না, টিআইবি বলেছে, সুজনও এ কথা বলছে, আরও অনেকে বলতে শুরু করেছে। এই সম্মিলিত শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের আবার লড়তে হবে। এখন থেকেই আমাদের কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।
জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ঢাকার বস্তিগুলোতে গিয়ে বড় বড় ওয়াদা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব বস্তিতে টাকা, ওয়াদা সন্ত্রাস কোনো কিছুই কাজ করেনি, ফলাফলে তা দেখা গেছে। এসবের মাধ্যমে বার্তা দিচ্ছে বাংলাদেশে, আগামীর বাংলাদেশ ইসলামীর বাংলাদেশ হবে, মুক্তি পাগল মানুষের বাংলাদেশ হবে।
তিনি বলেন, আমরা থামব না ইনশাআল্লাহ, কেউ আমাদের থামাতে পারবেও না।
দলীয় নেতা-কর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে এ সময় জামায়াত আমির বলেন, আমাদের প্রথম লড়াই ছিল জাতীয় নির্বাচন। আর দ্বিতীয় লড়াই শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। এই লড়াইয়ে একটি জায়গাও যেন আমাদের খালি না থাকে।
তিনি বলেন, এই নির্বাচনে যারা জীবন বাজি রেখে আমাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলো, সমাজের সে সমস্ত জায়গাগুলো থেকে ভালো লোকদের বের করে তাদের হাতে ওই জায়গাগুলোকে (স্থানীয় সরকারের) তুলে দিতে চাই। আমাদের এই জায়গায় অনেক কনসিডারেট (বিবেচনাশীল) ও সেক্রিফাইসিং (আত্মত্যাগী) হতে হবে।
৫৫ দিন আগে