জামায়াত
আট দফা যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে: শফিকুর রহমান
আট দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চ শুরু হয়েছে। তবে দাবি না মানা হলে যেকোনো সময় তা এক দফায় পরিণত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে রংপুরের উদ্দেশে লং মার্চ শুরু হয়। লং মার্চটি গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস মোড়ে পথসভা করে। সেখানে জামায়াত আমির এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচারসহ ছয় দফা দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ‘১১ দলীয় ঐক্য’। এর আগে, গত ৫ সেপ্টেম্বর একই দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ‘লং মার্চ’ পালন করেছিল তারা।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজকে আমাদের দ্বিতীয় দফায় লং মার্চ; এর আগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের লং মার্চ সফল হয়েছে। এটা দেখে অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে। সেটার লক্ষণ আমরা রাজধানীতে দেখতে পাচ্ছি। হতাশ হয়ে মাথা গরম করবেন না।’
তিনি বলেন, আমাদের লং মার্চ জনগণের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার দাবিতে; নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে, মানুষের দুঃখ দূর করার দাবিতে। রাস্তাঘাট, হাটবজার সর্বত্র চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে, দুর্নীতিতে ছেয়ে যাওয়া দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবিতে আমাদের এই লং মার্চ।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের এই লং মার্চ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের দাবিতে।’
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। কোন দলীয় দাবি নিয়ে নামি নাই। ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে নেমেছি।
‘আপনারা গণভোটে “হ্যাঁ” বলেছিলেন। সরকার আপনাদের অপমানিত করেছে। সেই অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। জনগণের রায়ের বাস্তবায়ন ইনশাআল্লাহ এই বাংলার মাটিতে হবে। এই বিএনপিই করতে বাধ্য হবে।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘বিএনপি পানি খাবে কিন্তু ঘোলা করে খাবে। আজকে ৮ দফা দাবিতে নেমেছি। জনগণের প্রয়োজনে ৮ দফা যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে। আপনারা পাশে থাকলে ইনশাল্লাহ দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরব।’
৪৪ মিনিট আগে
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে: আজহারুল
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে বল অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় একটি হোটেলের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।
আজহারুল ইসলাম বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এ কারণে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট জনগণের রায় বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবিতে ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
এ সময় বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি জনগণের রায়কে অস্বীকার করছে। তারা গণভোটের শপথ না নিয়ে জনগণের রায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমরা নির্বাচনের পর থেকেই জনগণের রায় বাস্তবায়নের কথা বলে আসছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আমরা সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেছি। কিন্তু বিএনপি নানা অজুহাতে তা না করে ছলচাতুরির আশ্রয় নিচ্ছে। তারা আমাদের কথায় কর্ণপাত না করায় বাধ্য হয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি। আমরা আশা করছি, সরকার জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তা বাস্তবায়ন করবে।’
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানসহ সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও বগুড়া জেলার জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
৩ দিন আগে
সংসদে কিছু করতে না পেরে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি: শফিকুর রহমান
জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হিসেবে জনগণের কষ্টের কথা তুলে ধরেও সংকট সমাধানে কিছু করতে না পেরে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা যখন তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকটের কথা বলি, সরকার তখন স্বৈরাচার ফিরে আসবে বলে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়। অথচ দেশের মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। আমরা সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এই সংকট সমাধানে টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের নিয়ে গঠিত একটি টিম দিয়ে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার আমাদের প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। সংসদের ভেতরে বারবার বলেও কিছু করতে না পেরে আমরা বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছি।’
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বগুড়া সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ৫৫ বছর অতিক্রম করেছে। একটি জাতির জন্য এ সময় নেহাত কম নয়। কিন্তু মালয়েশিয়া ও জাপানের মতো দেশগুলো অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হলেও বাংলাদেশ সেই জায়গায় যেতে পারেনি।
তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে পাকিস্তানিরা শোষণ ও ব্যবসা করলেও স্বাধীনতার পর তাদের মালিকানাধীন সম্পদ রাষ্ট্রের মালিকানায় চলে আসে। আদমজী জুট মিলকে একসময় বিশ্বের বৃহত্তম পাটশিল্প প্রতিষ্ঠান বলা হতো। কিন্তু এখন আদমজীর নাম-নিশানা মুছে গেছে। স্বাধীনতার পর অনেক কিছু লুটপাট হয়েছে। বর্তমানে সেখানে শিল্পপার্ক করা হলেও আদমজীর আগের গৌরব ফিরে আসেনি।
‘আমি এজন্য পাকিস্তানি বেনিয়া ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিচ্ছি না। আমি আমাদের মানসিকতা এবং বাস্তবতার উদাহরণ দিচ্ছি,’ বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, দেশে কিছু শিল্প স্থাপনা গড়ে উঠলেও তা যথেষ্ট নয়। শিল্পের মূল শক্তি হচ্ছে বিদ্যুৎ। তেল, গ্যাস ও সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। বর্তমানে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে দেশ মারাত্মক সংকটে পড়েছে এবং শিল্প খাতেও এর প্রভাব পড়েছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নেতারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে জানিয়েছেন, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ায় তাদের উৎপাদন ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এতে তারা ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে খেলাপি হতে পারেন, শ্রমিক ছাঁটাই করতে পারেন। একই সঙ্গে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় বিদেশি ক্রেতারা অন্য দেশে চলে যাচ্ছেন।
‘আমাদের বৃহত্তম রপ্তানি খাতের এই অবস্থা হলে বাকিগুলো এখান থেকেই বুঝা যায়,’ বলেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এই সংকট সমাধানে টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের নিয়ে গঠিত একটি টিম দিয়ে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম। তারা সরকারের এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মিলে সংকট সমাধানের পথ তৈরি করবেন। আমরা দেশকে ভালোবাসি, এজন্য এই অফার দিয়েছি।’
তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের সংসদের ইতিহাসে বিরোধী দল কখনো সরকারি দলকে এ ধরনের সহযোগিতার প্রস্তাব দেয়নি।
শফিকুর রহমানের দাবি, এর আগে তেলের সংকট দেখা দিলে তিনি পাম্পে পাম্পে ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সংসদে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। কিন্তু সরকার সংকট অস্বীকার করেছে। বিদ্যুৎ সংকটের ক্ষেত্রেও একই অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সংসদের ভেতরে যখন আমরা দেখলাম কিছু করতে পারছি না, তখন এই দাবির সঙ্গে আরও পাঁচটি দাবি নিয়ে রাজপথে নেমেছি। আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপে এখন লং মার্চ করছি।’
লং মার্চ নিয়ে সমালোচনার জবাবে জামায়াত আমির বলেন, তেল সংকটের মধ্যে এত গাড়ি নিয়ে লং মার্চ করার প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। কিন্তু তারা লং মার্চ না করলেও এসব গাড়ি বসে থাকত না, চলাচল করত। বরং লং মার্চের মাধ্যমে তারা জনগণের দাবি আদায়ের আন্দোলন করছেন।
‘এভাবেই একদিন জনগণের দাবি পূরণ হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে,’ বলেন তিনি।
‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে’
চব্বিশের বিপ্লবের পর জনগণ দেশের আমূল সংস্কার চেয়েছিলেন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, সেই সংস্কারের লক্ষ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল জামায়াত। জনগণ সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোট ‘হ্যাঁ’র পক্ষে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘কিন্তু সরকার ক্ষমতা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের দেওয়া ওয়াদার বরখেলাপ করেছে। তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের ভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করার শক্তি আমাদের কারও নেই। জনগণ চায় তাদের রায়ের বাস্তবায়ন। আমরা সেই দাবিগুলো নিয়েই আন্দোলন করছি।’
১৯৭০ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, সেই নির্বাচনের রায় অমান্য করার কারণেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং সংসদ অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু পাকিস্তান সরকার তাতে রাজি না হওয়ায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।
জনগণের অধিকারের পাহারাদারি করাই বিরোধী দলের কাজ
বিরোধী দলের ভূমিকা সম্পর্কে জামায়াত আমির বলেন, ‘বিরোধী দল হিসেবে আমাদের কাজ হলো জনগণের অধিকারের পাহারাদারি, চৌকিদারি করা, ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করা। বিরোধী দলের হাতে কখনো স্বৈরশাসন কায়েম হয় না।’
তিনি বলেন, তারা সাড়ে ১৫ বছর স্বৈরশাসকের কবলে ছিলেন। এ সময়ে তাদের অনেক নেতাকে হারাতে হয়েছে। অনেকে গুম হয়ে এখনো ফিরে আসেননি। স্বজনরা জানেন না তাদের প্রিয়জনরা বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন।
সাংবাদিকদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সবসময় আপনাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাই। কিন্তু মাঝে মাঝে উল্টাপাল্টা দু-একজন করেন। আমাদের বক্তব্য কাঁটছাঁট করে প্রচার করা হয়। তারপরেও আমরা মিডিয়ার ব্যাপারে শ্রদ্ধাশীল। কখনো মিডিয়াকে আঘাত করে কথা বলি না।’
তিনি বলেন, ‘এটা হচ্ছে সমাজের সবচেয়ে পাওয়ারফুল পিলার। এটা সততার উপরে থাকলে রাষ্ট্রের অবশিষ্ট তিনটি স্তম্ভ সোজা পথে চলতে বাধ্য।’
একটি সুন্দর দেশ গঠনে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।
বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যেখানেই অসংগতি দেখব সেখানেই কথা বলব। তাই বলে বগুড়ার জন্য আমাকে কথা বলতে হবে, এটা ভাবিনি। বগুড়া সবসময় অবহেলিত, বঞ্চিত। বগুড়া তার পাওনা বুঝে পাক, এটা আমি চাই।’
মতবিনিময়কালে বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল, ইফসুর মহাসচিব ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজসহ স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় শেষে শফিকুর রহমান হোটেল মমইন কনভেনশন সেন্টারে বগুড়া জেলা ও মহানগর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে যোগ দেন।
এর আগে শুক্রবার রাতে বগুড়ায় এসে সার্কিট হাউজে রাতযাপন করেন তিনি। তারপর আজ শনিবার সকালে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মানিকপোটল (মরিচতলা) গ্রামে বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষা আন্দোলনের প্রথম শহিদ আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত করেন শফিকুর রহমান।
এ সময় তিনি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ফাতিহা পাঠ করেন এবং শহিদ আব্দুল মালেকের শাহাদাত কবুলের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। পরে স্থানীয় মাদরাসায় শহিদ আব্দুল মালেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
আমিরের আগমন উপলক্ষে স্থানীয় মাদরাসা মাঠে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হন। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশ ভালো নেই। বিদ্যুৎ এবং সার সংকট চরমে। দেশের মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। আমরা জনগণের কষ্টের কথা জাতীয় সংসদে বলার চেষ্টা করছি, সরকার আমাদের কথা বলতে দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা রাজপথে নেমেছি।’
এ সময় জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল বাছেদ, ধুনট উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
৬ দিন আগে
জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকব: শফিকুর রহমান
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার জনগণের সঙ্গে ভাওতাবাজি ও প্রতারণা করছে। ওয়াদা দিয়ে তা লঙ্ঘন করছে। জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে থাকবেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এই রাস্তায় রক্ত ঢেলেছিলেন আপনাদের সঙ্গীরা। তাদের সেই দাবি পূরণ হয়নি। সেই দাবি পূরণ করার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। ইনশাআল্লাহ, দাবি পূরণ করে ঘরে ফিরব।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের দাবি তুলে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা রাস্তায় নেমেছি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করার জন্য। রাস্তায় নেমেছি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন করার জন্য। আমরা রাস্তায় নেমেছি আপনাদের ঘরে গ্যাস ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। রাস্তায় নেমেছি আপনাদের ঘরে বিদ্যুৎ ও বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করার জন্য।’
‘আপনারা কি ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পান, গ্যাস পান? চাঁদাবাজি হয় কি না?’ দেশ মাদকে ছেয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
পথসভায় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরও বক্তব্য দেন। তিনি লংমার্চের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকর করার আহ্বান জানান।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের এসব মৌলিক দাবি পূরণ না হলে সরকার গদিতে থাকতে পারবে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়নেরও দাবি জানান তিনি।
এ সময় লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায় কার্যকর করতে হবে। এই রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাস্তবায়িত না হলে সরকারকে ব্যর্থ করে দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং দেশকে সঠিক গন্তব্যে এগিয়ে নিতে সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। লংমার্চের মধ্য দিয়ে চলমান আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ছয় দফা দাবিতে শনিবার সকালে রাজধানী থেকে ঢাকা–চট্টগ্রাম লংমার্চ শুরু হয়। নারায়ণগঞ্জের শিমরাইলসহ বিভিন্ন স্থানে পথসভা শেষে লংমার্চটি কুমিল্লায় পৌঁছে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে পথসভা করে। পরে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চটি যাত্রা করে।
পথসভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরী আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। সভা পরিচালনা করেন কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মাহবুবর রহমান। এতে সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল ও কাউন্সিলর মোশাররফ হোসাইনও দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া পথসভায় বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব আলী হোসেন আকন্দ, আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মো. আবদুস সাত্তার, কুমিল্লা জেলা দক্ষিণ জামায়াতের আমির মোহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেট, কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবদুল মতিন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান ভূঁইয়া এবং চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির মো. বিল্লাল হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।
১৩ দিন আগে
৫ সেপ্টেম্বরের জামায়াতের লংমার্চ ঘিরে কুমিল্লায় ব্যাপক প্রস্তুতি
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ও কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে পথসভা সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এক হাজার গাড়িতে লক্ষাধিক নেতাকর্মী এই লংমার্চে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ১১ দলীয় ঐক্যের পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় স্থানীয় একটি মিলনায়তনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য জানান কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, লংমার্চের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।
কাজী দ্বীন মোহাম্মদ জানান, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুপুর ১টায় চৌদ্দগ্রামে আরেকটি পথসভা হবে। কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কুমিল্লা থেকে প্রায় এক হাজার গাড়িতে লক্ষাধিক নেতাকর্মী লংমার্চে অংশ নেবেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১১ দলীয় ঐক্যের পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন।
১৬ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হতে হবে সমতার, সমমর্যাদার ও বন্ধুত্বের: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হতে হবে সমতার, সমমর্যাদার ও বন্ধুত্বের।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাজশাহী মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রোকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সারা বিশ্বই সফর করতে পারেন। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত সফর করতেও আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। তবে সেই সফর হতে হবে সমতার, সমমর্যাদার, বন্ধুত্বের। এখন এই দেশের মানুষ আর কারও আধিপত্যবাদ মেনে নেবে না। এ দেশের মানুষ চায় ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হোক বন্ধুত্বের, সমমর্যাদার, সমতার ভিত্তিতে।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একইসঙ্গে সরকারপ্রধান ও দলীয় প্রধান। তিনি চাইলেই দেশে চলমান চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্যের টুঁটি চেপে ধরতে পারেন। তিনি চাইলেই এসব বন্ধ হবে। তিনি চাচ্ছেন কি না, এটাই বড় বিষয়।’
সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই দেশের মানুষের কাছে একটি আদর্শিক সংগঠনের নাম। এই আস্থা অর্জন করতে এই সংগঠন দীর্ঘ সময় ধরে এ দেশের মানুষের মাঝে ইসলামের দাওয়াত ও আদর্শ সমাজ এবং রাষ্ট্র গঠনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।’
আগামী স্থানীয় নির্বাচনে নেতা-কর্মীদের জনমানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভোট যেন কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে, সে ব্যাপারে আমাদের নেতা-কর্মীদের সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।’
রাজশাহী মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডলের সঞ্চালনায় সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. মাওলানা কেরামত আলী এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি।
সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আমির নুরুল ইসলাম বুলবুলসহ মহানগরীর শূরা ও বিভিন্ন থানার নেতারা।
সম্মেলনে রাজশাহী মহানগরীর সহস্রাধিক (রোকন) সদস্য (নারী-পুরুষ) উপস্থিত ছিলেন।
২৮ দিন আগে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদলের অংশগ্রহণকে সংকীর্ণ দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করছে সরকার: হামিদুর রহমান আযাদ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদলের অংশগ্রহণকে সরকার উদার ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিতে না দেখে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার সঙ্গে মূল্যায়ন করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদলের অংশগ্রহণকে সরকার উদার ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিতে না দেখে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার সঙ্গে মূল্যায়ন করছে। সরকারের একজন মন্ত্রিপরিষদ সদস্য বলেছেন, ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল রেখে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় বিরোধীদলের সংবিধান সংস্কার পরিষদে নেওয়া শপথ আর টেকে না।
‘আমরা জানতে চাই, এই যুক্তি যদি গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে সংসদ সদস্য হিসেবে নেওয়া শপথ কীভাবে বৈধ থাকে? কারণ ২০২৬ সালে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় কোনো সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, আমাদের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদলের অংশগ্রহণ ছিল সরকারের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতার বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী প্রতিবাদ এবং গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন উদ্যোগ। নির্বাচনের ফলাফল কী হবে, তা আমরা আগেই জানতাম। তবুও আমরা অংশ নিয়েছি জনগণের সামনে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে এবং গণতন্ত্রের দাবি জোরালো করতে।
আযাদ বলেন, জনগণ নতুন করে উপলব্ধি করেছে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও টেকসই করতে সংবিধান সংস্কার কেন অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অংশগ্রহণকে সংকীর্ণভাবে ব্যাখ্যা না করে এর অন্তর্নিহিত গণতান্ত্রিক বার্তা উপলব্ধি করার আহ্বান জানাই। জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে পাশ কাটিয়ে কোনো সরকারই দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে না।
২৮ দিন আগে
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে জামায়াত আমিরের অভিনন্দন
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক অভিনন্দন বার্তায় শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজ ২০ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এই নির্বাচনে জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আমি তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি।’
আগামী দিনগুলোতে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার সর্বোচ্চ যোগ্যতা ও প্রজ্ঞাকে কাজে লাগাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জামায়াত আমির নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
আজ দুপুর ২টা ১০ মিনিটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয় যা চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলে গণনা শেষে ফল ঘোষণা করেন এই নির্বাচনের কর্তা সিইসি এ এমএম নাসির উদ্দিন।
ঘোষিত ফল অনুসারে, ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় বিরোধী জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
সিইসির ঘোষণার পর টেবিল চাপড়ে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানান সংসদ সদস্যরা। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ আসন থেকে উঠে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে করমর্দন করেন। এ সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা।
এরপর নিজ আসন থেকে উঠে যান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান উঠে এসে তার সঙ্গে করমর্দন ও আলিঙ্গন করেন। একে একে অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও তার সঙ্গে করমর্দন ও আলিঙ্গন করেন।
এ এম এম নাসির উদ্দিন জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন, এর মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দিয়েছেন। ছয়জন সংসদ সদস্য ভোট দেননি।
২৯ দিন আগে
৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ সফল করার আহ্বান জামায়াতের
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ সফল করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লং মার্চ বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।
গত ৬ আগস্ট ১১ দলীয় ঐক্যের পূর্বঘোষণায় দেশব্যাপী ৪টি লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে লং মার্চ অনুষ্ঠিত হবে।
এর মধ্যে চট্টগ্রাম, রংপুর ও খুলনার লং মার্চ সড়কপথে এবং সিলেটের লং মার্চ রেলপথে অনুষ্ঠিত হবে। লং মার্চ কর্মসূচি শেষে আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকে লং মার্চগুলো শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কমিটি গঠন এবং দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বস্তরের জনশক্তি ও দেশবাসীর প্রতি লং মার্চ কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে সফল করার আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মো. সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মো. রেজাউল করিম।
এছাড়া কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের প্রতিনিধি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মো. ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বগুড়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান আতিক এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাও উপস্থিত ছিলেন।
৩২ দিন আগে
সচিবালয়ে বিএনপির বৈঠক নিয়ে জামায়াতের প্রশ্ন
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাই করতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপির বৈঠক আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেছেন, সচিবালয়ের মতো নির্বাহী জায়গায় রাজনৈতিক দলের বৈঠকের ইতিহাস তাদের জানা নেই।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সচিবালয় হলো একটা নির্বাহী জায়গা। এখানে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ বৈঠক হবে, শীর্ষ ফোরামের বৈঠক হবে—এটার অতীতের রেকর্ড আমাদের জানা নাই। এই কাজটি উনারা করছেন। তাহলে উনারা গণতন্ত্রকে কীভাবে দেখেন? আমার দলের মতো হলে গণতন্ত্র, না হলে স্বৈরতন্ত্র!’
সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকার পরও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য রক্ষা ও গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার স্বার্থে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বলে জানান হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক চর্চায় একটি নতুন ধারা তৈরি করতে চাই। তবে ১৯৯১ সালে (রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে) যদিও একটা সম্ভাবনা ছিল বিএনপির আসন কম থাকাতে। এখানে তো সেই সম্ভাবনাও নাই। বিএনপিতে আগেই নিজেদের মেজোরিটি (সংখ্যাগরিষ্ঠতা) সুনিশ্চিত কলাকৌশল করে করে নিয়েছে। সেই কারণে তাদের ‘সেফ সাইড’ আছে।
আযাদ বলেন, ‘এখানে জিতব কি হারব—এটা নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন হোক—এটা আমরা চাই না। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্যই আমরা এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছি।’
অলি আহমদকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে এই নেতা বলেন, তিনি একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং জাতীয়ভাবে সমালোচনা-বিতর্কের ঊর্ধ্বে। দেশের জন্য অনেক অবদান রেখে আসছেন দীর্ঘ সময় ধরে। একসময় তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। আবার আলাদা দল করেছেন। এখন আবার আমাদের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে উনি রাজনীতি করে যাচ্ছেন। জাতি এটাকে অবশ্যই ইতিবাচক দেখছে এবং আমাদের ১১ দলের সিদ্ধান্তকে প্রশংসা করছে।
তবে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্রে একটি বাধা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য তার দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন না।
বিএনপি চাইলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য গোপন ব্যালটে ভোটের বিধান চালু করতে পারত বলেও দাবি করেন আযাদ। তিনি বলেন, সবাই মিলে যখন একমত (জুলাই সনদ) হয়েছি একটা অধ্যাদেশ জারি করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র উচ্চ পর্যায়ে থেকে চর্চা শুরু করার সুযোগ ছিল, কিন্তু তারা করলেন না।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধিত হতো এবং এমপিরা স্বাধীনভাবে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট দিতে পারতেন। তবে গণভোটে এটা পাস হওয়ার পরও ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপির ‘একগুঁয়েমি’ ও ‘দলীয় সংকীর্ণতা’র কারণে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে না পারায় এই সংস্কার বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের এই নেতা।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের বহিষ্কৃত জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আযাদ বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অবিকলভাবে বহাল আছে ততক্ষণ সেই অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোট দিতে হবে।
আজ বেলা ১১টা ৪৯ মিনিটে এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় জোটের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে অলি আহমেদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়।
মনোনয়নপত্রে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব করেন এবং এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন তার প্রার্থিতা সমর্থন করেন।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন জামায়াতের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, নাজিবুর রহমান মোমেন ও মারদিয়া মমতাজ; এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন ও মাহমুদা মিতু; লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান প্রমুখ।
৩৬ দিন আগে