সারাদেশ
লালমনিরহাটে বন্যা ও টানা বৃষ্টিতে সবজির বাজারে আগুন
টানা বৃষ্টি ও দফায় দফায় বন্যার প্রভাবে লালমনিরহাটে বেড়েছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। ফলে হাতে গোনা দুয়েকটি সবজি ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজিই এখন ৭০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে।
শনিবার (১ আগস্ট) আদিতমারী স্টেশন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে বেগুন ও বরবটির দাম ৫০-৬০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭০-৮০ টাকা কেজি।
শসার দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া শসা এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে আলুর দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও পটল ও ঢেঁড়শ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম, কেজিতে প্রায় ২০০ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে কৃষকেরা খেত থেকে চাহিদা অনুযায়ী সবজি তুলতে পারেননি। অনেক জমিতে পানি জমে সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। আবার কিছু এলাকায় বন্যার পানিতে সবজির খেত তলিয়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। ফলে বেড়েছে সবজির দাম।
তুষভান্ডার বাজার থেকে পাইকারি দরে সবজি কিনে ভ্যানে করে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেন সাদিকুল মিয়া। তিনি বলেন, ‘তিন-চার দিন আগের তুলনায় প্রতি পাল্লা (পাঁচ কেজি) সবজিতে অন্তত ৩০ টাকা দাম বেড়েছে। তাই আমাদেরও খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
আদিতমারী স্টেশন বাজারে সবজি কিনতে আসা আরজিনা খাতুন বলেন, আমরা গরিব মানুষ। প্রতিদিন বাজারে এসে নতুন নতুন দামের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সবজির এত দাম হলে সংসার চালানো খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে।
পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে চাষিরা ঠিকমতো সবজি তুলতে পারছেন না। অনেক খেত পানিতে তলিয়ে গেছে, আবার অনেক সবজি পচে নষ্ট হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। এ কারণেই সবজির দাম বেড়েছে।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন বলেন, বাজার মনিটরিং করা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দায়িত্ব নয়। এ কাজের জন্য কৃষি বিপণন অধিদপ্তর রয়েছে, তারাই মূলত বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। আমাদের প্রধান দায়িত্ব কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া। তবে বাজার পরিস্থিতিরও আমরা খোঁজখবর রাখি।
তিনি আরও বলেন, বাজারে পণ্যের দাম মূলত চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। কোনো কারণে সরবরাহ কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়। অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বর্তমানে এর প্রভাব বাজারে পড়েছে।
২ দিন আগে
ঝিনাইদহে সবজির বাজার দাম কমলেও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে
ঝিনাইদহে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম কিছুটা কমলেও নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মাঝে স্বস্তি ফেরেনি। পাইকারি ও খুচরা বাজারে দামের ব্যবধান এবং সামগ্রিক চড়া মূল্যের কারণে বাজার করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
এদিকে, সবজির বাজার সামান্য কমতির দিকে হলেও মাছের বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। রুই, কাতলা, মৃগেল থেকে শুরু করে নিম্নবিত্তের ভরসা তেলাপিয়াসহ সব ধরনের মাছের দামই এখন নাগালের বাইরে।
শনিবার (১ আগস্ট) ঝিনাইদহ শহরের প্রধান কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, গত ১৫-২০ দিন আগের আকাশছোঁয়া দাম থেকে বর্তমানে প্রায় সব ধরনের সবজির দামই কিছুটা কসেছে। তবে পাইকারি কেনা দামের চেয়ে খুচরা বিক্রি দামে রয়েছে উল্লেখযোগ্য ফারাক।
বর্তমানে বাজারে কাঁচামরিচ পাইকারি ২৪০ টাকায় কিনে বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি বেগুন ৮৫ টাকায় কিনে ১০০ টাকা, টমেটো ১১০ টাকায় কিনে ১৪০ টাকা, পটল ৪৭ টাকায় কিনে ৬০ টাকা, উচ্ছে ৮৫ টাকায় কিনে ১০০ টাকা, বরবটি ৬৮ টাকায় কিনে ৮০ টাকা এবং গাজর ১২০ টাকায় কিনে ১৪০ টাকায় বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে, ঢেঁড়শ ৩৫ টাকায় কিনে ৫০ টাকা, ঝিঙে ৪০ টাকায় কিনে ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকায় কিনে ৫০ টাকা, মুলা ৪৫ টাকায় কিনে ৬০ টাকা এবং কচু ৪০ টাকায় কিনে ৫৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
শীতকালীন আগাম সবজির মধ্যে বাঁধাকপি ৬৫ টাকায় কিনে ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং পালংশাক প্রতি আঁটি ১৭ টাকায় কিনে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ ২৫ টাকায় কিনে ৪০ টাকা এবং পেঁপে ২৫ টাকায় কিনে ৪০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। আলুর কেজি প্রতি ৩০ টাকা ও পেঁয়াজ ৫৫ টাকায় স্থির থাকলেও রসুনের দাম পৌঁছেছে ১০০ টাকায়।
সবজির দাম কিছুটা কমলেও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এই দরও অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারিড়ার বাসিন্দা তাহুরা খাতুন আক্ষেপ করে বলেন, ‘তিন সপ্তাহ আগের চেয়ে দাম দুই-এক টাকা কমলেও আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এই দামে বাজার করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যে আয়, তাতে সংসার চালানোই দায়; তার ওপর তরকারির এই দাম।’
একই সুর উপ-শহরপাড়ার বেবি খাতুনের কণ্ঠে। তিনি বলেন, কাগজে-কলমে দাম কমার কথা শুনলেও বাজারে এসে দেখি উল্টো চিত্র। এক কেজি তরকারি কিনতে গেলে অন্য তরকারি আর কেনা হচ্ছে না। মাছের বাজারে তো যাওয়ারই উপায় নেই।
বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তরকারি বিক্রেতা রমজান আলী ও আবুল কালাম জানান, অতিবৃষ্টি ও অপ্রতুল সরবরাহের কারণে ১৫-২০ দিন আগে দাম খুব বেশি ছিল। এখন সরবরাহ কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম আস্তে আস্তে কমতির দিকে। তবে পাইকারি বাজার থেকে পরিবহন খরচ ও অপচয় হিসাব করেই খুচরা দর নির্ধারণ করতে হয়।
ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকার কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আশাদুল ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আগের সপ্তাহের তুলনায় বাজারে সবজির সরবরাহ বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে বাজারে দাম আরও কমে আসবে।
এদিকে, কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকেও মিলেছে ইতিবাচক বার্তা। ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কামরুজ্জামান জানান, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের কোনো ভারী বৃষ্টিপাত না হলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন সবজি বাজারে পুরোদমে উঠবে। তখন তরিতরকারির বাজার পুরোপুরি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।’
২ দিন আগে
চাঁদা বকেয়া থাকায় স্থানীয় গোরস্থানে জায়গা হলো না মৃত নাসির উদ্দিনের
কুষ্টিয়ার মিরপুরে চাঁদা বাকি থাকায় এক ব্যক্তির মরদেহ স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত সোমবার (২৭ জুলাই) মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের পুরাতন আজমপুর এলাকায় চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটে।
মৃত ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ, আজমপুর পুরাতন পাড়া গোরস্থানের চাঁদা না দেওয়ার কারণে প্রথমে তাদের কাছে ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত দাফনের অনুমতি মেলেনি।
এ ঘটনায় স্থানীয় জামায়াত নেতা আতিয়ার হাজীর বিরুদ্ধে গোরস্থান কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার ভোর ৫টার দিকে মো. নাসির উদ্দিন মারা যান। তার কোনো ছেলে সন্তান নেই, তিন মেয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে তারা তড়িঘড়ি করে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা দেন। পথেই তাদের কাছে খবর আসে, যে গোরস্থানে তাদের দাদা ও পূর্বপুরুষদের কবর রয়েছে, সেখানে নাসির উদ্দিনকে দাফন করতে দেওয়া হচ্ছে না।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমে তাদের বলা হয়, নাসির উদ্দিন দীর্ঘদিন গোরস্থানের মাসিক বা বাৎসরিক চাঁদা পরিশোধ করেননি। তাই এককালীন ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। মৃত ওই ব্যক্তির পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে হাতে যত টাকা আছে তা দিয়ে বাকি টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করার কথা বলেন। এমনকি ২ থেকে ৩ কিস্তিতে বকেয়া গোরস্থানের চাঁদার টাকা পরিশোধ করে দেওয়ার প্রস্তাবও দেন। কিন্তু তাতেও রাজি হননি গোরস্থান কমিটির সভাপতি আবুল মাস্টার।
মৃতের বড় মেয়ে মোছা. নাসিমা খাতুন বলেন, আমরা তিন বোন ঢাকায় থাকি। বাবার মৃত্যুর খবর শুনে দ্রুত বাড়ির উদ্দেশে রওনা হই। পথে চাচাতো ভাই ফোন করে জানায়, যেখানে আমাদের দাদা ও পূর্বপুরুষদের কবর রয়েছে সেখানে বাবাকে দাফন করতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রথমে বলা হয় ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা লাগবে। আমরা টাকা দিতে রাজি ছিলাম, প্রয়োজনে কিস্তিতেও দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পরে বলা হয়, টাকা দিলেও বাবাকে সেখানে দাফন করা হবে না। একজন মৃত মানুষকে এভাবে ফিরিয়ে দেওয়াটা খুব কষ্টের।
এদিকে, ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। স্থানীয়রা জানান, নাসির উদ্দিনের বাবা মৃত আহমদ আলী ওই গোরস্থানের সদস্য ছিলেন এবং তাকে সেখানেই দাফন করা হয়েছিল। তাই নাসির উদ্দিনের পরিবারও স্বাভাবিকভাবেই একই গোরস্থানে দাফনের আশা করেছিলেন।
মৃতের বাড়ির সামনে থাকা মুদি দোকানি মো. সেলিম বলেন, নাসিরের বাবা ওই গোরস্থানের সদস্য ছিলেন। তার কবরও সেখানে আছে। নাসির মারা যাওয়ার পর তার বড় মেয়ে সভাপতি আবুল মাস্টারের সঙ্গে কথা বলেন। তারা বলেন, যত টাকা লাগে দেবেন, শুধু বাবাকে দাফন করতে দিতে হবে। কিন্তু তারপরও অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে স্থানীয় আশরাফুল হক আশা মেম্বার তার নিজের পারিবারিক গোরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করেন।
সদরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও বিএনপির ওয়ার্ড সেক্রেটারি আশরাফুল হক আশা বলেন, নাসির উদ্দিনের বাবা নিয়মিত চাঁদা দিতেন। তার মৃত্যুর পর নাসির আর চাঁদা দেয়নি। কিন্তু মৃত্যুর পর তার পরিবার এককালীন টাকা দিতেও রাজি হয়েছিল। শুনেছি তখন প্রায় ৪৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে বলা হয়, টাকা লাগবে না, তবুও তাকে দাফন করা হবে না। তখন মানবিক দায়িত্ব থেকে আমি আমার পারিবারিক গোরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করি।
তিনি আরও বলেন, কবর অর্ধেক খনন হওয়ার পর এলাকার কয়েকজন জামায়াত নেতাকর্মী এসে বলেন, এতে তাদের দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং মরদেহ অন্য গোরস্থানে নেওয়া হোক। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা বলেন, যেখানে কবর খোঁড়া হয়েছে সেখানেই দাফন করা হবে। মৃত্যুর পর মানুষের শেষ ঠিকানা কবরস্থান। এটি নিয়ে বিভেদ সৃষ্টি হওয়া দুঃখজনক।
ঘটনার পর এলাকায় গুঞ্জন ছড়ায়, স্থানীয় জামায়াত নেতা আতিয়ার হাজীর ইন্ধনেই গোরস্থান কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নেয়। কারণ হিসেবে কেউ কেউ বলেন, নাসির উদ্দিনের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ভালো সম্পর্ক ছিল। যদিও তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন না।
আতিয়ার হাজী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নাসির উদ্দিন আমার চাচাতো ভাই। তাকে ওই গোরস্থানে দাফন করতে না দেওয়ার কথা শুনে আমি বরং সেখানে দাফনের চেষ্টা করেছি। আমি গোরস্থান কমিটির কেউ না। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং আমি বহুবার গোরস্থান কর্তৃপক্ষের এমন নীতির সমালোচনা করেছি।
অন্যদিকে গোরস্থান কমিটির সভাপতি আবুল মাস্টার বলেন, আমাদের গোরস্থানে প্রায় ১৪০ জন সদস্য রয়েছে। কেবল সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের এখানে দাফন করা হয়। নাসির উদ্দিন সদস্য ছিলেন না। তাই তাকে দাফনের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ৩৫-৪৫ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ সঠিক নয়।
তিনি আরও বলেন, সদস্যরা কেউ ৫০০ টাকা, কেউ ১ হাজার টাকা, আবার কেউ ধান দিয়ে চাঁদা পরিশোধ করেন। গোরস্থানের জায়গা সীমিত। সবাইকে দাফন করতে দিলে দ্রুত জায়গা ফুরিয়ে যাবে।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একটি সাধারণ গোরস্থানে দাফনের জন্য চাঁদা বাধ্যতামূলক করা কতটা যুক্তিসঙ্গত এবং একজন মৃত ব্যক্তিকে পূর্বপুরুষদের পাশে দাফনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, সাধারণত জনসাধারণের ব্যবহৃত গোরস্থানে এ ধরনের নিয়ম থাকে না। তবে যদি এটি সম্পূর্ণ পারিবারিক গোরস্থান হয়, তাহলে আলাদা বিষয়। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২ দিন আগে
বগুড়ায় ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৪
বগুড়ায় ট্রাক ও পিকআপের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১ আগষ্ট) সকাল ১০টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে কাহালু উপজেলার কাজিপাড়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে লুৎফর রহমান (৫০) নামের এক ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি ময়মনসিংহের সদর উপজেলার রাঘবপুর গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে। তিনি একজন মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন বলে জানা গেছে।
কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, ময়মনসিংহ থেকে একটি পিকআপ নওগাঁয় মাছ বিক্রি করে ফিরছিল। সকাল ১০ টায় বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের কাহালু উপজেলার কাজিপাড়া নামক স্থানে পৌঁছালে অন্য একটি ভটভটিকে অতিক্রম করার সময় নওগাঁগামী মালবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে পিকআপটির সংঘর্ষ হয়। এতে পিকআপের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। এ সময় পিকআপের চালক, সহকারী ও দুজন মাছ ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকের চালক ও সহকারী পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে কাহালু থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিহত চারজনের মরদহ উদ্ধার করেন। এ সময় দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও পিকআপ ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত লুৎফর রহমানের পরিবারের কাছে সংবাদ পাঠানো হয়েছে এবং অপর তিনজনের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি শফিকুল ইসলাম।
২ দিন আগে
খুলনায় ট্রাকচাপায় এক পরিবারের ৩ জন নিহত
খুলনার দিঘলিয়ায় ট্রাকচাপায় একটি পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছে। ওই দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলচালক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার গাজিরহাট ইউনিয়নের ডোমরা এলাকায় এ দুর্ঘটনটি ঘটে।
নিহতরা হলেন— নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার সিহাব শেখের স্ত্রী ফারজানা খাতুন (২৬), তার মেয়ে মায়মুনা (২) ও ফারজানার বোন রুবিয়া খাতুন (১৬)। আহত ব্যক্তি ফারজানার স্বামী মোটরসাইকেলচালক সিহাব শেখ।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ্র প্রকাশ বলেন, একটি ভারী ট্রাক উপজেলার গাজীরহাট থেকে খুলনার রূপসার দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে রূপসা হয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে শিহাব শেখ তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নড়াইলের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সাইড নিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি ট্রাকের নিচে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকা নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং মোটরসাইকেলচালককে গুরুতর আহত অবস্থায় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
২ দিন আগে
শেখ হাসিনা দেশের মাটিতে পা রাখলেই ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে পা রাখা মাত্রই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন। ওইখানে বসে বসে রাজনীতি করে ধমক দেয়— আমি কিন্তু আসব। আসেন না, কই আসবেন?’
সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা কোম্পানীগঞ্জে এলে জনগণ কী করবে?’ এ সময় জনতার সমর্থন পেয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের একটি ইঞ্চি মাটিতে শেখ হাসিনা যখনই নামবে, তখনই ফাঁসির আদেশ বাস্তবায়ন করা হবে।’
বক্তব্যে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আন্দোলনে গুলিতে আবু সাঈদ, শহীদ মুগ্ধসহ ৪০০ জনের মৃত্যুর জন্য তৎকালীন সরকার দায়ী। দুই বছরের মাথায় অনেকেই আবু সাঈদকে ভুলে যেতে পারেন। আবু সাঈদের সেই রক্ত ভুলে যেতে পারেন, কিন্তু আমরা যতদিন বাংলাদেশে জীবিত আছি ততদিন ভুলব না।’
সমাবেশের আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে জনগণের মতামত উপেক্ষা করলে বিএনপিকে রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন, সেই অবস্থানের বিরুদ্ধে গেলে বিএনপির পতন ঘটবে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট বিদ্যমান। একইসঙ্গে কৃষি কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা সাধারণ মানুষের পরিবর্তে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হাতে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার প্রত্যাশামতো চালু না হওয়া এবং চীন সফর থেকে কাঙ্ক্ষিত চুক্তি না আসাও সরকারের ব্যর্থতা।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে তাদের দলের তিনটি প্রধান দাবি ছিল সুষ্ঠু নির্বাচন, রাষ্ট্র সংস্কারের বাস্তবায়ন এবং আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা। প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। এ কারণে সংস্কারবিরোধী অবস্থান নিলে বিএনপি জনসমর্থন হারাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক উবায়েদ আহমেদের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নারী শক্তির সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতুসহ দলটির সিলেট জেলা ও মহানগরের নেতারা।
এ সময় বক্তারা বলেন, সারাদেশে দখলবাজি, টেন্ডারবাজি আর চাঁদাবাজি করছে বিএনপির কিছু লোক। এসব অপকর্মের সঙ্গে বিএনপির ৫ শতাংশ লোক জড়িত থাকলেও দায় নিতে হচ্ছে সবার। বিএনপির হাইকমান্ড কেন এই দুষ্টু লোকদের থামাতে পারছে না? তার মানে কি এই দুষ্টু লোকদের অপকর্মের উপার্জন হাইকমান্ড পর্যন্ত পৌঁছায়? যদি তা না হয়, তাহলে এদের অপকর্ম বন্ধ করুন।
৩ দিন আগে
ঢামেক হাসপাতালের অষ্টম তলা থেকে লাফিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা
রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে রিয়া (২০) নামে এক গৃহবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভোরে শাহবাগ থানাধীন ঢামেক হাসপাতালের নতুন ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রিয়ার বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের ভাদুরডাঙ্গি গ্রামে।
নিহতের বাবা লতিফ মল্লিক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মেয়ে পাঁচ দিন যাবৎ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ৮০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল। ‘আজ (শুক্রবার) ভোররাতে পাশের অন্য রোগীর স্বজনরা আমাকে বলে, এই দেখেন, আপনার মেয়ে লাফ দিচ্ছে।
‘সঙ্গে সঙ্গে আমি দৌড়ে গিয়ে দেখি সব শেষ। আমার মেয়ে লাফ দিয়ে নিচে পড়ে যায়। সবাই তাকে লাফ দিতে নিষেধ করলেও সে কারও কথা না শুনে লাফ দিলে নিচে থাকা একটি প্রাইভেট কারের ওপর পড়ে। এতে তার মাথা ফেটে মগজ বেরিয়ে যায়। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ভোর ৫টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভোর সোয়া ৫টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এসএসসি পাস করার পরই সিঙ্গাপুরপ্রবাসী এক ছেলের সঙ্গে মোবাইলে আমার মেয়ের বিয়ে দেই। এর মধ্যে ওর স্বামী দেশে এসে আবার চলে যায়। অনেক চেষ্টার পরও সন্তান না হওয়ায় ধীরে ধীরে ওর মানসিক সমস্যা শুরু হয়। গত দশদিন যাবৎ ওর সমস্যাটা একটু বেশি হচ্ছিল। সব সময় উল্টাপাল্টা কথা বলত। ওকে কিছু জিজ্ঞেস করলে বলত, ‘এটা কোন দেশ? আমি কোন দেশে আছি?’ এছাড়া জিহ্বায় ঘা ও শরীরের অন্যান্য কিছু সমস্যা নিয়ে পাঁচ দিন যাবত ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি ছিল। আমার দুই সন্তানের মধ্যে আমার মেয়ে ছিল বড়।’
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি শাহবাগ থানাকে জানানো হয়েছে।
৩ দিন আগে
হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা ছাত্রদলের
হবিগঞ্জে এনসিপির বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করেছে জেলা ছাত্রদল। এতে এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলীয় সমন্বয়ক সারজিস আলমসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে হবিগঞ্জ সদর থানায় এজাহারটি দায়ের করেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন রোকন।
এর আগে, গত বুধবার জেলা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তারেকের দায়ের করা অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়।
মমলার এজাহারে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা চুরি, গুরুতর ও সাধারণ জখম করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে ‘জুলাই পদযাত্রা’ উপলক্ষে হবিগঞ্জ জেলা সদরে এক সমাবেশ শেষে ফেরার পথে হামলার শিকার হন সারজিস আলম ও মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় তাদের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সে সময় হামলায় এনসিপির ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা সদরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এনসিপি এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন একই স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিলে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।
বুধবার ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে আসার পথে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হন। পরে তারা জেলার বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করে ফিরে যান।
হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, ‘বৃহস্পতিবার রাতে একটি অভিযোগ পেয়েছি। যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
৩ দিন আগে
খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহত
খুলনা নগরীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে ইসমাইল (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে সোয়া ১২টার দিকে নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া বড় খালপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইসমাইল ওই এলাকার শাজাহানের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল রাতে ইসমাইল এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ইসমাইলের মাথায় গুলি করেছে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়েও আঘাত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহত ইসমাইলের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
৩ দিন আগে
শিশুকে উত্ত্যক্ত করে টিকটকে ভিডিও, যুবক আটক
ফেনীতে টিকটক ভিডিও বানানোর সময় ছয় বছরের এক মেয়ে শিশুকে উত্যক্ত, হাত ধরে টানাটানি এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মোজাম্মেল হোসেন প্রকাশকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় তাকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় তিন যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
আটক মোজাম্মেল হোসেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মৈশাইল এলাকার মনির হোসেনের ছেলে। তিনি পরিবারের সঙ্গে ফেনী সদর উপজেলার উত্তর সিলোনিয়া মাদানিয়া মাদরাসা-সংলগ্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন পশ্চিম সিলোনিয়া এলাকার মৃত জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে সালমান (২০) এবং যাত্রাসিদ্ধি এলাকার মনির আহাম্মদের ছেলে মাহফুজ (১৯)।
পুলিশ জানায়, গত ২৮ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার গোবিন্দপুরে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে উত্ত্যক্ত করে ওই তিন যুবক। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। পরে সন্ধ্যায় শহরতলীর লালপোল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শিশুটি স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন যুবক তার পথরোধ করেন। তাদের মধ্যে দুজন শিশুটির হাত ধরে টানাটানি ও অশালীন আচরণ করেন। তারা শিশুটিকে শ্লীলতাহানি ও উত্ত্যক্ত করে। অপর একজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে পরে টিকটকে পোস্ট করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পরদিন শিশুটি তার বাবাকে পুরো ঘটনা জানায়। পরে ৩০ জুলাই সকালে স্বজনদের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি দেখে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত করে শিশুটির বাবা ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে শিশুটি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এবং প্রায়ই কান্নাকাটি করছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এ ব্যাপারে ফেনী মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে এক শিশুকে উত্ত্যক্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের নজরে আসে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত মোজাম্মেল হোসেনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন।
ওই মামলায় আটক যুবককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এছাড়া অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
৩ দিন আগে