সারাদেশ
নওগাঁয় রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশন-সংলগ্ন এলাকায় নেয়ামুল বাশির (৪৮) নামে এক শিক্ষককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা রেল স্টেশনের পাশে শিমুলিয়া নামক স্থান থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ
নিহত নেয়ামুল বাশির নওগাঁ শহরের পার নওগাঁ চকরামচন্দ্র মহল্লার বাসিন্দা। তিনি আত্রাই উপজেলার বড়শিমলা মহিলা কলেজের শিক্ষক ছিলেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, দুর্বৃত্তরা তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।
ঘটনার শিকার নেয়ামুল বাশিরের ভাই মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়। এশার নামাজের পর তার বাড়ি ফেরার কথা ছিলো। সে মোতাবেক আত্রাই রেলষ্টেশন এলাকা থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে তিনি নওগাঁ শহরে ফিরছিলেন। পথে তাকে হত্যা করে মরদেহ শাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশন-সংলগ্ন শিমুলিয়া নামক স্থানে নির্জন সড়কের পাশে ফেলে রেখে হত্যাকারীরা পালিয়ে গেছে। খুনিরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নেয়ামুল বাশিরকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, ‘সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া খবর পেয়ে রেললাইনের পাশ থেকে নেয়ামুল বাশিরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধারের সময় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থল রেলওয়ে থানার আওতাভুক্ত হওয়ায় সান্তাহার জিআরপি থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
সান্তাহার জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, ‘সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলা করা হলে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
২ দিন আগে
রংপুরে হোটেলে ‘পানের পিক’ ফেলায় কর্মচারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা
রংপুর নগরীতে একটি হোটেলের বাসনপত্র রাখার স্থানে ‘পানের পিক’ ফেলায় শাওন (২৪) নামের এক কর্মচারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর খামার মোড় এলাকার একটি হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মনুকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
নিহত শাওন ওই হোটেলের কর্মচারী ছিলেন। তার বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার নূরের চক গ্রামে।
ডিবি হেফাজতে নেওয়ার সময় অভিযুক্ত মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্লেট-বাসন যেখানে আমি রাখি, ওইখানে টিস্যুও থাকে। ওইখানে শাওন পানের পিচকি (পিক) ফেলায় কলিজায় আঘাত লাগে তখনই আমি ওই কামটা হুট করি আসি গেইছে। হাতুড়ি দিয়ে দুইটা আঘাত করছি।’
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়ার পর অভিযুক্ত মিজানুরকে আধাঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।
তবে অভিযুক্তের পরিবারের দাবি, মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তার বাবা আমির হোসেন বলেন, ওর মানসিক সমস্যা আছে। একসময় তাকে তাবলিগে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে আসার পর সমস্যা আরও বেড়ে যায়। পরে সে মার্কাজ মসজিদে ছিল। সেখানে অনেক কবিরাজ ও মসজিদের লোকজন ঝাড়ফুঁক করে তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করেছেন। এখনও মাঝেমধ্যে তার মানসিক অবস্থা ঠিক থাকে না। আমি তাকে ধমক দিয়ে রাখি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, খামার মোড় এলাকায় ফুটপাতে ওই হোটেলের মালিক আমির হোসেন ও তার তিন ছেলে। সেখানে শাওন নামে এক যুবক কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যার পর মালিকপক্ষের ছেলে মিজানের সঙ্গে শাওনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মিজান হাতুড়ি দিয়ে শাওনের মাথার পেছনে দুই থেকে তিনটি আঘাত করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে আমরা জেনেছি।
তিনি জানান, ঘটনাস্থলের কাছেই গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল দায়িত্ব পালন করছিল। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তকে আটক করা হয় এবং পরে তাকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়।
অভিযুক্তের মানসিক ভারসাম্যহীনতার বিষয়ে সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘কেউ মানসিক ভারসাম্যহীন কি না, সেটি চিকিৎসকই বলতে পারবেন। তিনি মানসিক রোগে ভুগছেন বা চিকিৎসাধীন এমন কোনো প্রমাণ আমাদের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি। প্রায় আধা-ঘণ্টা তার সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ মনে হয়নি।’
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত জানিয়েছেন, হোটেলে পরিষ্কার করা বাসনপত্র রাখার স্থানে কুলি বা ময়লা ফেলা নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়েছিল। পরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি রাগান্বিত হয়ে হাতুড়ি দিয়ে শাওনের মাথায় আঘাত করেন।
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
২ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ জনে।
বুধবার (১৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া তিন শিশু হলো রাইয়ান, তাউসিফ ও আমায়রা। তাদের তিনজনের বয়সই ১ বছরের নিচে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৫৬ জন ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৮৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগে মোট ৩২৩ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং বাকিরা হামের উপসর্গে মারা গেছে।
২ দিন আগে
নড়াইলে টিকটকে আসক্তির জেরে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার
নড়াইলের লোহাগড়ায় সুমনা ফেরদৌসী (৩৮) নামের এক গৃহবধূকে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগে স্বামী লিমন মল্লিককে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিমন তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
সোমবার (১৫ জুন) রাতে উপজেলার দিঘলিয়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত স্বামী লিমনকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) মধ্যরাতে লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সুমনা ফেরদৌসী লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। সুমনা ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সুবাদে লিমন ও সুমনার প্রথমে পরিচয় ও পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২১ সালে ঢাকাতেই লিমনের দ্বিতীয় এবং সুমনার চতুর্থ বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর সুমনাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যান লিমন। প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও সুমনাকে বাড়িতে নিয়ে আসায় পরিবারে তীব্র কলহ শুরু হয়। এর জেরে লিমনের প্রথম স্ত্রী তার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে রংপুরে বাপের বাড়ি চলে যান। এরপর লিমন চায়ের দোকান চালানোর পাশাপাশি কাঠ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাচ্ছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদে লিমন জানান, তার অনুপস্থিতিতে স্ত্রী সুমনা টিকটকে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও পোস্ট করতেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত পুরুষদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করতেন। এই বিষয়গুলো নিয়ে তাদের মধ্যে প্রতিনিয়ত ঝগড়া হতো। সুমনা ভবিষ্যতে আর এমন করবেন না বলে ওয়াদাও করেছিলেন।
গতকাল (সোমবার) সকাল ৮টার দিকে আবারও টিকটকে কুরুচিপূর্ণ ভিডিও পোস্ট এবং পরপুরুষের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি আদান-প্রদানের বিষয় নিয়ে লিমন ও সুমনার মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে লিমনের মারধরে সুমনা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান। এরপর লিমন গলা টিপে শ্বাসরোধ করে সুমনার মৃত্যু নিশ্চিত করেন এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন।
হত্যাকাণ্ডের পর সকাল ১০টার দিকে লিমন স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিনের মতো কাজে বেরিয়ে যান। সারা দিন কাজ শেষে বিকেল ৫টার দিকে বাড়ি ফিরে নিজেই ঘরের দরজা খুলে চিৎকার-চেঁচামেচি ও কান্নাকাটি শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে প্রাথমিক সুরতহাল দেখেই পুলিশের সন্দেহ হয় যে এটি আত্মহত্যা নয়, হত্যাকাণ্ড। পরবর্তীতে রাতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লিমনকে থানায় নিয়ে আসা হয়।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, ‘আটক লিমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার স্ত্রী সুমনাকে হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। মূলত হত্যাকাণ্ডটি আড়াল করতেই মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছিল। ভুক্তভোগী নারীর পরিবারকে খবর পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
৩ দিন আগে
চাঁপাই সীমান্তে বিএসএফকে পুশইনে সহায়তার অভিযোগে ৭ বাংলাদেশি আটক
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইনে সহায়তা করার অভিযোগে ৭ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) রাতে ওই সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এদের মধ্যে চারজনকে আটক করেছে বিজিবি ও অন্য তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটকরা হলেন— আলম (৩৮), আজম (৩৫), আসমাউল হক (৩৩), মেসবাউল হক (৩৫), বাবুল আখতার (৪০), এমদাদুল হক (৩৮) ও রয়েল (২৮)। তারা সবাই রোকনপুর এলাকার বাসিন্দা।
গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম আজ (মঙ্গলবার) এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিজিবির বরাত দিয়ে ওসি নূরে আলম জানান, গতকাল (সোমবার) রাতে রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে এক নারীকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। এ সময় ওই নারীকে বাংলাদেশে আসতে সহায়তা করে ৭ বাংলাদেশি। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ওই পুশইনের ঘটনা প্রতিহত করেন এবং ঘটনাস্থল থেকে ৪ বাংলাদেশিকে আটক করেন। এরপর রাত ৪ টার দিকে বিজিবি তাদের থানায় সোপর্দ করেছে। পরে পুলিশ একই অভিযোগে আরও ৩ জনকে আটক করে। আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ওসি।
এদিকে, আজ দুপুরে নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম পুশইনে বিএসএফকে সহায়তা করার অভিযোগে ৪ বাংলাদেশি নাগরিককে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গতকাল রাত প্রায় পৌনে ১১টার দিকে বিএসএফের আরকে ওয়াদা ক্যাম্পের সদস্যরা নৌকাযোগে এক নারীকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেন। তবে সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি টহল দলের সতর্কতা ও দ্রুত পদক্ষেপের কারণে সেই প্রচেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হয়। তবে এ ঘটনায় অর্থের বিনিময়ে ৪ বাংলাদেশি নাগরিক বিএসএফকে সহায়তা করছে—এমন অভিযোগে চারজনকে আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গোমস্তাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
৩ দিন আগে
নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ১
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অনিক (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় স্থানীয় নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত অনিক দড়িগাঁও এলাকার নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সদস্য ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নিলক্ষা ইউনিয়নের দড়িগাঁও এলাকায় নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে আজ (মঙ্গলবার) ভোরে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ । এ সময় কয়েকজন যুবক ও কিশোরকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে অংশ নিতে দেখা গেছে|
এ সময় দুই পক্ষের সমর্থকদের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে অনিক, রাজু, সুমন, কাশেম ও মোবারকসহ অন্তত দশজন গুরুত্বর আহত হন। আহতদের মধ্যে অনিক, রাজু ও মোবারককে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসাপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়র। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের তিনজনকেই ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে অনিক মারা যান।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের লোকজনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ ছিল। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ভোরে তারা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ, র্যাব ও উপজেলা প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ সংঘর্ষে অনিক নামে একজন নিহত হয়েছেন।
৩ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সালিশি বৈঠকে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার সালিশে প্রতিপক্ষের হামলায় জাহাঙ্গীর আলম (৫০) নামে এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জাহাঙ্গীর আলম ওই এলাকার মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি সুলতানপুর ইউনিয়ন বিএনপির শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন।
স্থানীয় লোকজন ও নিহতের পরিবার জানায়, জাহাঙ্গীর আলমের ভাতিজির সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছর আগে একই এলাকার সাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. আতাউল্লাহর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ লেগে থাকত। গতকাল (সোমবার) বিকেলে এই বিরোধ মীমাংসার জন্য এলাকায় এক সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আতাউল্লাহর লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মেয়ের বাড়ির লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় জাহাঙ্গীরসহ ৫-৬ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলমকে মৃত ঘোষণা করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিব উর রেজা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৩ দিন আগে
শিশু নন্দিনী হত্যা ঘিরে রণক্ষেত্র আদিতমারী, এসপি-ওসিসহ আহত অন্তত ২০
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে সাত বছরের শিশু নন্দিনী কান্ত রায়ের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিয়ে নিজেরাই বিচার করার দাবিতে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় পুলিশ সুপার (এসপি), থানার ওসিসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় জেলা প্রশাসকের গাড়িসহ প্রশাসনের সাতটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ঘটনায় অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র রায় (২২) ও তার বাবা রণজিৎ কুমারকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নন্দিনী ওই গ্রামের নলিনী কান্তের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকাল থেকে নিখোঁজ ছিল নন্দিনী। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। আজ (মঙ্গলবার) সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাখেতে নরম মাটি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এরপর স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, সোমবার সন্ধ্যায় তিনি বিধান চন্দ্রকে ওই ভুট্টাখেত থেকে কোদাল হাতে বের হতে দেখেছিলেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয়রা তার বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা বিধানকে আটক করেন। পরে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
৩ দিন আগে
পাবনায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে যুবদল নেতা গ্রেপ্তার
পাবনার আতাইকুলায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে যুবদল নেতা আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দল থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) ভোরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আতাইকুলা থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার আবুল কাশেম পাবনার আতাইকুলা থানার আড়িয়াডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আতাইকুলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আমরা গতকাল সারা রাত অভিযান চালিয়েছি। ভোরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছি। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, গত ১১ জুন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার পরদিন শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে আতাইকুলা থানায় মামলা করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ও আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল (রবিবার) অভিযুক্তের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন স্থানীয়রা।
এদিকে, রবিবার রাতে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি একতাশামুল হক রাজিব ও সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল সরদারের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবুল কাশেমকে দলীয় সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
৪ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে ১১ বছরের শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণ, গোপন না রাখলে প্রাণনাশের হুমকি
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার ঘুড়কা এলাকার এক স্কুলছাত্রীকে (১১) ধর্ষণের অভিযোগে আবু হানিফ শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে তাকে আটক করে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা। এরপর পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গ্রেপ্তার হানিফ শেখ ওই গ্রামেরই বাসিন্দা।
এ ঘটনায় গতকাল (রবিবার) রাতেই সলঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, হানিফ ওই স্কুলছাত্রীকে গতকাল (রবিবার) বিকেলে ডেকে গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এর আগেও তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার কথা কাউকে জানালে শিশুটিকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এ কারণে ভয়ে এত দিন সে বিষয়টি গোপন রেখেছিল।
তবে কিছুদিন ধরে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন ও অসুস্থতা বুঝতে পেরে তার মা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপর শিশুটি ঘটনার কথা জানায়।
গতকাল তার পরিবারের সদস্যরা কৌশলে হানিফ শেখকে আটকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে সলঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে। পরে মামলা হয়ে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী বলেন, এ ঘটনায় গতকাল রাতে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
৪ দিন আগে