সারাদেশ
পাবনায় শৌচাগারের ট্যাংকে মিলল স্কুলশিক্ষিকার মরদেহ
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত এলাকায় শৌচাগারের ট্যাংক থেকে এক স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে বাড়ির পাশে টয়লেটের ট্যাংকি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত গীতা রানী (৪৫) উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের একদন্ত বারইপাড়া গ্রামের নন্দ দাসের স্ত্রী। তিনি চাচকিয়া ব্র্যাক স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন।
আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গীতা রানী বাড়িতে একাই থাকতেন। তার স্বামী ঢাকায় থাকেন। গতরাত ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা সিঁধ কেঁটে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে। পরে গীতা রানী টের পেলে দুর্বৃত্তদের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে তাকে বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত শৌচাগারের ট্যাংকে দুর্বৃত্তরা ফেলে দেয় বলে স্থানীয়দের ধারণা।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে তাকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে শৌচাগারের ট্যাংকে তার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
ওসি নাজমুল হক জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
কারা, কেন এবং কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৪ দিন আগে
বেনাপোলে পুলিশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা
পুলিশের এসআই পদে চাকরি দেওয়ার নামে সাড়ে আট লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বাবলুর রহমান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) মামলাটি করেন যশোরের শার্শা উপজেলার রামপুর গ্রামের সবেদ ইসলামের ছেলে আশিক ইসলাম।
যশোর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল অভিযোগটি আমলে নিয়ে সমন জারির আদেশ দেন।
অভিযুক্ত বাবলুর রহমান চৌগাছা উপজেলার বর্ণি গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, আত্মীয় আহসান হাবিব মুকুলের মাধ্যমে আসামি বাবলুর রহমানের সঙ্গে আশিক ইসলামের পরিচয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে আসামি তাকে পুলিশের এসআই পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ জন্য মোট নয় লাখ টাকা এবং চার মাসের মধ্যে নিয়োগপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। আসামির প্রতি বিশ্বাস করে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত আসামির ইসলামী ব্যাংকের হিসাবে মোট চার লাখ ৪৯ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়।
পরে নিয়োগপত্র দেওয়ার কথা বলে আরও চার লাখ টাকা দাবি করলে ২০২১ সালের ৬ মে ইসলামী ব্যাংক বেনাপোল শাখায় আসামির হিসাবে দুই দফায় মোট চার লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়। টাকা নেওয়ার পরও আসামি চাকরির নিয়োগপত্র দেননি। বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগ করলেও তিনি নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন।
বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে আশিক যশোরের পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ করেন।
গত ১১ জুলাই বিকেলে আসামি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, তিনি কোনো টাকা ফেরত দেবেন না এবং চাকরিও দিতে পারবেন না। টাকা চাইলে প্রাণনাশ ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির হুমকি দেন তিনি।
বিষয়টি মীমাংসায় ব্যর্থ হয়ে গতকাল (বুধবার) ভুক্তভোগী যশোর আদালতে এ মামলা করেন।
৪ দিন আগে
হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার
হবিগঞ্জ জেলা সদরের পৌর এলাকায় জারি করা ১৪৪ ধারার আদেশ প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি এম সরফরাজ এ আদেশ দেন।
এর আগে গতকাল (বুধবার) এনসিপি ও বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠন একই স্থানে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল।
জেলা প্রশাসনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা আর বিদ্যমান না থাকায় এ আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এদিকে, বুধবার সারা দিন নানা নাটকীয় ঘটনার পর এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহম্মদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ১০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে বিক্ষোভের সমাপ্তি টানেন।
পুলিশি বাধার মুখে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা জেলার বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া চা-বাগান এলাকায় অবস্থান নেন। বুধবার বেলা ৩টার দিকে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে আসার পথে দুই জেলার মধ্যবর্তী মুছাই এলাকায় হবিগঞ্জ জেলার অভ্যন্তরে প্রবেশে পুলিশ ও প্রশাসন তাদের বাধা দেয়।
এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বুধবার ঘোষিত প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিতে মৌলভীবাজার হয়ে হবিগঞ্জে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ১৪৪ ধারা জারি করায় পুলিশ তাদের হবিগঞ্জে প্রবেশ করতে দেয়নি। পুলিশ ট্রাক ও ব্যারিকেড বসালেও তারা ব্যারিকেড অতিক্রম করে জেলার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। পরে পুলিশ তাদের আর সামনে এগোতে দেয়নি। পরে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে তাদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহম্মদ রিংগনকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ১০০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের।
মঙ্গলবার রাতে হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। হামলার সময় নেতাদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বসে মামলাটি করা হয়।
৪ দিন আগে
হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা কার্যকরে বিজিবি মোতায়েন
হবিগঞ্জ জেলা সদরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিন প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হবিগঞ্জ জেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসন কর্তৃক ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) থেকে তিন প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ১৪৪ ধারা জারিকৃত এলাকায় বিজিবি ড্রোনের মাধ্যমে মাইকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি জেলার সংঘাতপ্রবণ বিভিন্ন এলাকায় অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে ৫৫ বিজিবি।
৫ দিন আগে
পটুয়াখালীতে বিধবাকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে যুব জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা
পটুয়াখালীতে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক বিধবা নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে গর্ভপাত করানোর অভিযোগে সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সদর থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ওই নারী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় মো. শহিদুল ইসলামকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। পরে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে ওই নারীর স্বামী মারা যান। এরপর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। এ সময় শহিদুল ইসলাম তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং তার সন্তানকে দেখাশোনার আশ্বাস দেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৪ মার্চ শহিদুল ইসলাম ভুক্তভোগীকে পটুয়াখালী শহরের শেরে বাংলা সড়কে তার বোনের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, বারবার শারীরিক মিলনের একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেওয়া হলেও তিনি রাজি হননি। গত ১৮ মে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার কথা বলে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওষুধ খাওয়ানো হলে তিনি জ্ঞান হারান। পরদিন জ্ঞান ফেরার পর তিনি জানতে পারেন যে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই নারীকে শহরে এনে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ ও পরে গর্ভপাত করানোর অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে সদর থানাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। তাই এ নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, আদালতের আদেশের কপি এখনও থানায় আসেনি। সেটি পেলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. শহিদুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
৫ দিন আগে
রংপুরে বিয়ের নাটক সাজিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ মামলার আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার
রংপুরের কাউনিয়ায় ভুয়া বিয়ের নাটক সাজিয়ে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত পলাতক আসামি আজমাইন আব্দুল্লাহ উৎসকে (২৬) প্রায় দুই মাস পর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে তাকে ধর্ষণ আইনের ধারার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রংপুর আদালতে পাঠায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) হারাগাছ থানা পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হারাগাছ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার আজমাইন আব্দুল্লাহ উৎস কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর এলাকার সারাই জাগরণ পাগড়া গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বরাত দিয়ে এসআই রুহুল আমীন জানান, অভিযুক্ত আজমাইন বিবাহিত। বিয়ের বিষয়টি গোপন করে তিনি ১৮ বছরের এক কলেজছাত্রীকে হারাগাছ থেকে রংপুরে কলেজে যাওয়া-আসার পথে প্রেমের প্রস্তাব দেন। মেয়েটি শুরুতে প্রথমে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তবে, পরবর্তী সময়ে আজমাইন ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসআপে কথাকপনের মাধ্যমে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
গত বছরের ২ ডিসেম্বর আজমাইন মেয়েটিকে বিয়ের কথা বলে রংপুরে আদালতের পাশে লেকের পাড়ে নিয়ে যান। সেখানে তিনি স্ট্যাম্পে সই নিয়ে মেয়েটিকে জানান যে তাদের দুইজনের বিয়ে হয়েছে। পরে ওইদিন হারাগাছ ধুমগড়া এলাকায় এক ব্যক্তির বাড়িতে মেয়েটিকে নিয়ে স্ত্রী পরিচয়ে সারা রাত অবস্থান করেন আজমাইন। এরপর বিভিন্ন স্থানে মেয়েটিকে নিয়ে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে মেয়েটির বিয়ের কাবিননামার কাগজ দেখতে চাইলে বিভিন্ন টালবাহানা করতে থাকেন আসামি। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে গত ২৪ এপ্রিল ভুক্তভোগী সাক্ষীদের নিয়ে আজমাইনের বাড়িতে যান। সেখানে ভুক্তভোগীকে জানান যে তিনি বিবাহিত, মেয়েটিকে বিয়ে করতে পারবেন না। প্রতারণা করে মিথ্যা বিয়ের নাটক সাজিয়ে তার সঙ্গে যৌনমিলন করেছেন বলে মেয়েটিকে জানানো হয়। তখন ভুক্তভোগী তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রতিবাদ করেন। এ সময় আজমাইন তাকে টাকার বিনিময়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন এবং এ বিষয়ে তাকে বিরক্ত করলে গোপনে ধারণ করা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক চৌহান বলেন, এ ব্যাপারে গত ৬ মে মেয়েটি বাদী হয়ে রংপুর আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে ১২ মে আজমাইন আব্দুল্লাহ উৎসের বিরুদ্ধে হারাগাছ থানায় ধর্ষণ মামলা হয়। মামলা হওয়ার পর আজমাইনকে গ্রেপ্তারে মাঠে নামে পুলিশ, কিন্তু তিনি গা ঢাকা দেন। প্রায় দুই মাস চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে সোমবার র্যাব-১-এর সহায়তায় ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে হারাগাছ থানায় নিয়ে এসে আজ (বুধবার) দুপুরে তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রংপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
৫ দিন আগে
হবিগঞ্জে এনসিপি-বিএনপির অঙ্গসংগঠনের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশ, ১৪৪ ধারা জারি
হবিগঞ্জে একই স্থানে এনসিপি ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়ায় হবিগঞ্জ জেলা সদরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল ৩টায় স্থানীয় টাউন হল প্রাঙ্গণে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আহ্বান করে এনসিপি। অপরদিকে, জেলা ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলও একই স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে।
হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কায় প্রশাসন আজ বুধবার সকাল ১০টায় ১৪৪ ধারা জারির আদেশ দেয়।
এনসিপির জেলা আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে কেন্দ্রীয় নেতা নাহিদ ইসলাম, এমপি আখতার হোসেন, এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ ও এমপি ড. আতিক মোজাহিদ হবিগঞ্জের পথে রয়েছেন। এ ঘটনার পর জেলার সর্বত্র থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এনসিপি নেতা সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীপূর্বঘোষিত জুলাই গণজাগরণ পদযাত্রা কর্মসূচিতে যোগ দেন। বিকেলে শহরের টাউন হলের সামনে পথসভায় বক্তব্য দিয়ে ফেরার পথে কোর্ট মসজিদের সামনে তারা হামলার শিকার হন। এ সময় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।
এ ঘটনার জন্য সারজিস আলম ছাত্রদল ও যুবদলকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করে ফেরার পথে অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় আমাদের একজন সহকর্মীর চোখে রড দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। অপর একজনের মুখ গুরুতরভাবে জখম করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টাউন হলের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীহবিগঞ্জে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাস বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করেন। হবিগঞ্জ সদর আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউসের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন তিনি।
শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সার্কিট হাউসের সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি জাহিদুল হক জানান, উশৃঙ্খল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছে।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ‘এনসিপি নেতারা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিরুদ্ধে অশ্লীল বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদ করায় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে তাদের সামান্য ঠেলাধাক্কা হয়েছে।’
গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত এনসিপি নেতারা সার্কিট হাউসে অবস্থান করছিলেন।
সারজিস আলম বলেন, ‘এনসিপি হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, বাহুবল উপজেলার সংগঠক নবীর হোসেন হৃদয়সহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা আমার ও নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীকে বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’
৫ দিন আগে
রাজশাহীতে পদ্মায় নৌকাডুবি, বাবা-ছেলে নিখোঁজ
রাজশাহীর পদ্মা নদীতে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা ডুবে এক ব্যক্তি ও তার ছেলে নিখোঁজ হয়েছেন। ওই নৌকার আরও ছয় যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর পৌনে ১টার দিকে নগরীর বড়কুঠি এলাকায় পদ্মায় মাঝনদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ দুজন হলেন—আফছার আলী (৬০) ও তার ছেলে জিয়ারুল হক (৪০)। তাদের বাড়ি রাজশাহীর কাটাখালী থানার শ্যামপুর বালুরঘাট এলাকায়।
ওই নৌকায় জিয়ারুলের মা জাহেরা বেগমও (৫৫) ছিলেন। নৌকা ডুবে গেলে তিনি ভেসে যাচ্ছিলেন। তখন নৌকা নিয়ে স্থানীয় মাঝিরা তাকে উদ্ধার করেন। একইভাবে আরও পাঁচজনকে উদ্ধার করে তীরে আনা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজশাহীর চর মাঝারদিয়াড় এলাকা থেকে ঝাউগাছ কেটে নৌকায় নিয়ে আসছিলেন আটজন যাত্রী। নৌকাটি মাঝনদীতে পৌঁছালে ঢেউয়ে দুলতে দুলতে একপর্যায়ে পানিতে তলিয়ে যায়।
তীরে উঠে জিয়ারুলের মা জাহেরা বেগম আহাজারি করছিলেন। ছেলের উদ্দেশে বারবার বলছিলেন, ‘আমার বাপ নাই, আমার বাপ নাই!’
দুর্ঘটনা ঘটতে দেখে স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। তাদের তাৎক্ষণিক সহায়তায় পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকা আট যাত্রীর মধ্যে ছয়জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে মুহূর্তের মধ্যেই নদীর স্রোতে তলিয়ে যান আফছার আলী ও তার ছেলে জিয়ারুল।
নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের উপপরিচালক মনজিল হক।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ছয়জন ডুবুরি আছেন। তারা পানির নিচে গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন। পাশাপাশি নৌকা নিয়েও নদীতে চোখ রাখা হচ্ছে। দুজনকে উদ্ধার করতে অন্ধকার না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে বলেও তিনি জানান।
৬ দিন আগে
শরীয়তপুরে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ৩
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় স্বামীকে কৌশলে ডেকে এনে বেঁধে রেখে তার স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভোজেশ্বর ইউনিয়নের আচুরা গ্রামের আজিজ ঢালীর বাগানে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাতেই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটকরা হলেন— আচুরা গ্রামের মৃত আলমগীর বেপারীর ছেলে মো. রাব্বি (২৮), পালং উপজেলার আটিপাড়া এলাকার আব্দুল হাই খন্দকারের ছেলে হযরত আলী খন্দকার (৪২) ও আচুরা গ্রামের মালেক খন্দকারের ছেলে ইমন খন্দকার (২৬)।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ভুক্তভোগীর স্বামীকে অভিযুক্ত হযরত আলী খন্দকার মুঠোফোনে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডেকে নেন। তিনি সেখানে পৌঁছালে রাব্বি, হযরত আলী খন্দকার, ইমন খন্দকারসহ আরও তিন থেকে চারজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে বেঁধে ফেলেন। পরে তাকে দিয়ে তার স্ত্রীকে ফোন করে টাকা নিয়ে আসতে বলা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ‘৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। পরে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
৬ দিন আগে
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি তথ্যমন্ত্রীর
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কুতুবপুরে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। পরে সেখানে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী।
এ সময় জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক।
এ সময় তিনি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
পরে অনুষ্ঠানে আসা অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টুসহ অন্যরা।
৬ দিন আগে