সারাদেশ
কলাপাড়ায় পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মেহেরুন্নেছা উর্মি (২৮) নামের এক নারী পুলিশ কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২ মে) ভোরে টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামের একটি ভাড়া বাসার তিন তলার কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত উর্মি বাউফল উপজেলার ইন্দ্রপুর গ্রামের বহিষ্কৃত পুলিশ সদস্য মহিববুর রহমান বাপ্পীর স্ত্রী ছিলেন। তিনি পার্শ্ববর্তী আমতলী পৌর শহরের শাহজাহান মিয়ার কন্যা এবং কলাপাড়া থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে স্বামী বাপ্পী, দেড় বছরের সন্তান ফারদিন ও চার বছরের সন্তান ফারিস্তাকে নিয়ে আমিরুল ইসলামের পাঁচতলা ভবনের তিন তলার বাসাটি ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন উর্মি। পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো।
গতকাল (১ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বাপ্পী থানায় খবর দিয়ে জানান, তার স্ত্রী ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পরে পুলিশ ভোরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, মানসিক সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য ওই পুলিশ সদস্যের স্বামী ও দুই সন্তানকে থানায় আনা হয়েছে। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
৩ দিন আগে
নিখোঁজের তিন দিন পর আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে জেলের মরদেহ উদ্ধার
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নিখোঁজের তিন দিন পর আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে নির্মল মালো (৬০) নামের এক জেলের মরদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আড়িয়াল খাঁ নদের উপজেলার নাসিরাবাদ ইউনিয়নের দরগা বাজার এলাকা থেকে শুক্রবার (১ মে) বিকেলে নদীতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নির্মল মালো উপজেলার ঘারুয়া গ্ৰামের বাসিন্দা ছিলেন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হন তিনি। তার স্ত্রী রিনা মালো এ ঘটনায় নিখোঁজের বিষয়ে ভাঙ্গা থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন।
রিনা মালো জানান, গত বুধবার সকালে আমার স্বামী নদীতে মাছ ধরতে জাল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। দিন শেষে সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে না আসায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাইনি আমরা। আজকে (শুক্রবার) বিকেলে নদীতে মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা খবর দিলে সেখানে গিয়ে দেখতে পাই, সেটি আমার স্বামীর মরদেহ।
নির্মল মালোকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে রিনা মালো বলেন, আমার স্বামীকে যারা এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মশিউর রহমান জানান, আড়িয়াল খাঁ নদে একটি মরদেহ ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য শনিবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হবে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৩ দিন আগে
ফরিদপুরে শিশু আইরিন হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩
ফরিদপুরে নিখোঁজের ছয়দিন পর উদ্ধার হওয়া ৭ বছর বয়সী শিশু আইরিন আক্তার বিনা ওরফে কবিতা হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় ফরিদপুরের কোতয়ালী থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন তিন জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— ইসরাফিল মৃধা (২৪), শেখ আমিন (১৯) এবং নাছিমা বেগম (৪৫)।
আইরিন আক্তার বিনা ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের বাখুন্ডা পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা বাকা মিয়া বিশ্বাসের মেয়ে। সে স্থানীয় বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আইরিন বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন ২৫ এপ্রিল কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে এলাকাবাসীকেও বিষয়টি জানানো হয়।
এরপর কয়েকদিন ধরে পুলিশ ও স্বজনরা মিলে আইরিনের খোঁজ চালাতে থাকেন। তবে নিখোঁজের ৬ দিন পর ৩০ এপ্রিল সকালে স্থানীয় দুই ব্যক্তি কমিউনিটি ক্লিনিকের পূর্ব পাশে রেললাইনের ঢালে অবস্থিত একটি কলাবাগানে কাজ করতে গিয়ে দুর্গন্ধ পান। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তারা একটি পঁচাগলা মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি আইরিনের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। একইসঙ্গে হত্যা মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ ও ডিবি।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুরে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে তারা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানায়, প্রধান আসামি ইসরাফিল মৃধা শিশুটিকে চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে আশ্রয়ন কেন্দ্রের একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। এতে শিশুটি বাধা দিলে এবং বিষয়টি তার মাকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে ইসরাফিল তাকে গলা টিপে হত্যা করেন।
হত্যার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তিনি মরদেহটি পাশের একটি বাড়ির বাথরুমের সেফটি ট্যাংকের ভেতর লুকিয়ে রাখেন। কয়েকদিন পর ওই বাড়ির মালিক নাছিমা বেগম টয়লেটে সমস্যা বুঝতে পেরে বিষয়টি তার ছেলেদের জানান। পরে ট্যাংক খুলে তারা ভেতরে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান।
পুলিশ জানায়, এরপর নাছিমা বেগম তার ছেলে শেখ আমিন ও আরেক ছেলে রহমানকে মরদেহটি সরিয়ে ফেলতে বলেন। তারা মরদেহটি একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে দূরের একটি কলাবাগানে ফেলে রেখে আসে যাতে কেউ তাদের সন্দেহ না করে।
ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগীর পরিহিত কাপড়, স্যান্ডেল, মরদেহ বহনে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ড্রাম এবং একটি কম্বল উদ্ধার করেছে পুলিশ ।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালিয়েছি। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যব্স্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
লালমনিরহাটে পণ্যবাহী ট্রাক উল্টে কৃষক নিহত
লালমনিরহাটে পণ্যবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মরিচ খেতে উল্টে পড়ে মনছের আলী (৬৩) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১ মে) সকালে লালমনিরহাট-রংপুর মহাসড়কে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের চিনিপাড়া এয়ারপোর্ট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মনছের আলী ওই এলাকার পয়ের উল্ল্যাহর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কৃষক মনছের আলী নিজ বাড়ির পাশে মরিচ খেত দেখতে বের হয়েছিলেন। এ সময় রংপুর থেকে ছেড়ে আসা লালমনিরহাটগামী একটি পণ্যবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে পড়ে। মনছের তখন ট্রাকটির নিচে চাপা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত স্থানীয় জনতা চালক ও সহকারীকে আটক করে। এরপর নিরাপদ সড়কের দাবিতে প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা। লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ জানান, নিহতের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। আটক চালক ও সহকারীকেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
৪ দিন আগে
সুনামগঞ্জে পানির নিচে ২০০ কোটি টাকার ধান, দিশেহারা হাওরের কৃষক
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আকস্মিক জলাবদ্ধতা ও ভাঙা বাঁধের কারণে হাজার হাজার একর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ২০০ কোটি টাকার ধানের ক্ষতি হয়েছে। চরম দুর্দশায় পড়েছেন কৃষকরা, যাদের অনেকেই ঋণ নিয়ে আবাদ করেছিলেন। এখন ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
দেখার হাওরের গুয়াছুড়া অংশে বুধবার দুপুরে কনকনে ঠান্ডা বাতাসের মধ্যেই কোমর সমান পানিতে ধান কাটছিলেন ১৫ জন কৃষি শ্রমিক। তাদের সকলেরই মাথা থেকে কোমর পর্যন্ত পলিথিনে মোড়ানো। একটু দূরে দাঁড়ানো এক কৃষক (রইছ মিয়া, বাড়ি গুয়াছুড়া) কাটা ধানের মুঠি বাঁধার কাজ করছিলেন। তার চোখের কোনে টলটল করছিল পানি। সকল ধান কাটতে পেরেছেন কি না, জানতে চাইলেই চোখের পানি গড়িয়ে পড়ছিল গলায় থাকা গামছা পর্যন্ত।
রইছ মিয়া বললেন, ‘দেখইন না হাওরের অবস্থা, সবইতো সাদা। ছয় কেয়ার (২৮ শতাংশে এক কেয়ার) পানিত ডুবছে, ধানের উপরে তিন চাইর হাত পানি। কীলাখান (কীভাবে) কাটমু! ছয় কেয়ার কাটছিলাম, শুকাইতাম পারছি না। ইখানো আরও ছয় কেয়ার আধাআধি (অর্ধেক দেবার) চুক্তিতে কাটরাম। ইগুন শুকানি যাইবো কিনা, জানি না। ১৯ কেয়ার জমিন করছি, সবই কিরাজ (এক ধরনের বর্গা)। প্রতি কেয়ার চাইর মণ দরে। মালিকরে সম্পূর্ণ ধান দেওন লাগব। মালিকে কম মানতো নায়। কম দিলে সামনের বছর আর জমিন দিতো নায়।’
তিনি জানালেন, দেড় লাখ টাকা ঋণ করে এনে এবার জমি করেছিলেন। দুশ্চিন্তা এখন তিন ধরনের— মালিকের ধান দেওয়া, জমি করা খরচের ঋণ মেটানো এবং সারা বছর খেয়ে বেঁচে থাকা।
দেখার হাওরের গুয়াছুড়া এলাকা থেকে ফেরার সময় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও বৃষ্টি ছিল না। বাতাসের মধ্যেই হাওরের কান্দায় (কিছু শুকনা জায়গা) গেরা উঠা (চারা গজানো) ধান চটের ওপরে ছড়িয়ে বাতাস লাগানোর চেষ্টা করছিলেন ষাটোর্ধ্ব জমিলা খাতুন ও আসমা বেগম।
ওখানেই কাঁচা, পচে যাওয়া ধানের মুঠি টেনে সরাচ্ছিলেন গুয়াছুড়ার কমর আলী (৭০)। কথা বলার চেষ্টা করতেই (কমর আলীর সঙ্গে) বললেন, ‘বারো আনা (৭৫ ভাগ) জমি ডুবি গেছে। পুরুত্তাইন (ছেলে-মেয়ে) লইয়া কিলা বাঁচতাম। চাইর মণ দরে জমিন আনছি। ৭০ হাজার টেকা (টাকা) খরচ কইরা ২০ কেয়ার জমিন করছি। মালিকরে ধান না দিলে তালাতালি কইরা আরেকজনে কইবো আমারে দেইন জমি, হে তো (কমর আলী) ধান দিতো পারে না, সময়মতো কাটতো পারছে না, আপনার (মালিকের) ক্ষতি অইলো (হলো), মালিক বুইজ্জা না বুইজ্জাঔ (বুঝে না বুঝে) জমিন অন্যজনরে দিতো পারে, এই বিপদ থাকি কেমনে বাঁচতাম ভাই।’
জলাবদ্ধতায় গুয়াছুড়ার এই দুই বর্গাচাষিকেই কেবল বিপন্ন করেনি। বরং জেলাজুড়ে বর্গাচাষিরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
দেখার হাওরপাড়ের আস্তমা গ্রামের বড় বর্গাচাষি কে এম ফখরুল ইসলাম বললেন, দেখার হাওরে শতকরা ৭০ ভাগ কৃষক কিরাজ (বর্গাচাষ) করেন। একসময় বাগি করা হতো (আধাআধিতে), রংজমায়ও (আগে চুক্তি করে টাকা দিয়ে করা) করা হতো। এখন ফসল করতে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সকলেই কিরাজ করেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক বললেন, বাঁধ ভেঙেছে দুইটি। এগুলো হচ্ছে— মধ্যনগরের এরন বিল এবং একই উপজেলার জিনারিয়া বাঁধ। এই বাঁধগুলো বড় হাওরের না হলেও এসব বাঁধ ভেঙে তিনটি ছোট হাওরে পানি ঢুকেছে। জলাবদ্ধতায় পানিতে ডুবেছে ৯ হাজার ৪৯ হেক্টর জমি, সব মিলিয়ে পানিতে ডুবে বুধবার বিকেল পর্যন্ত সরকারি হিসেবে ৫০ হাজার টন ধানের ক্ষতি হয়েছে, টাকার অঙ্কে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকা।
তবে কৃষকদের দেওয়া তথ্যমতে, এই ক্ষতি আরও অনেক বেশি। পানি নামতে অন্তত এক সপ্তাহ লাগবে। উজানে বৃষ্টি হচ্ছে, সুনামগঞ্জেও আছে বৃষ্টি। সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে গত বুধবার বিকেলে ৪ দশমিক ৮৬ সেন্টিমিটার অর্থাৎ হাওরের বিপদসীমার দুই সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
জেলার শাল্লা উপজেলার সবকয়টি হাওর জলাবদ্ধতায় ডুবে যাওয়ায় কৃষকরা চাপটার হাওরের বাঁধ কেটে ধনু নদী দিয়ে মেঘনায় পানি নামানোর চেষ্টায় করেছিলেন। ওই হাওরপাড়ের কাদিরপুরের স্কুলশিক্ষক রমণ দাস বুধবার সন্ধ্যায় জানান, বাঁধ কেটে কোন লাভ হয়নি। পানি নামছে একেবারে ধীরগতিতে। চাপটার হাওরের পানি আর ধনু নদীর পানি প্রায় সমান সমান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, বাঁধ কেটে জলাবদ্ধতার পানি ভাটিতে বা নদীতে ছাড়ার কোনো উপায় নেই। উজানে বৃষ্টি হওয়ায় নদীর পানিও বেড়েছে। এই অবস্থায় সুনামগঞ্জের নদীগুলোর পানি ধনু নদী হয়ে মেঘনায় নামতে সপ্তাহখানেক লাগবে। এরপর হাওরের জলাবদ্ধতার পানি নামতে থাকবে।
এদিকে, ম্যাথোলজি, প্রাই ম্যাথোলজি অ্যান্ড আর্থ সিস্টেম রিসার্চ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অবসরপ্রাপ্ত আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেছেন, সুনামগঞ্জে ৩০ এপ্রিল ১০০ থেকে ১২০ মিলিমিটার, ১ ও ২ মে ১২০ থেকে ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। উজানে অর্থাৎ মেঘালয় চেরপুঞ্জিতেও একই ধরনের বৃষ্টিপাত থাকার পূর্বাভাস আছে।
সুনামগঞ্জে প্রতিবছর ফসল রক্ষার নামে শতকোটি টাকার বাঁধ হয়। নদী খনন না করে এসব বাঁধ দেওয়া নিয়ে স্থানীয় পরিবেশবিদ ও কৃষদের মধ্যে ক্ষোভ আছে। অপরিকল্পিত বাঁধে হাওরে জলাবদ্ধতা বাড়ছে বলেও দাবি করছেন স্থানীয়রা। এবারও হাওরে ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০৩ কিলোমিটার বাঁধ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার।
৪ দিন আগে
কামরাঙ্গীরচরে মেশিনের বোর্ডের আঘাতে শ্রমিকের মৃত্যু
রাজধানীর কামরাঙ্গীচরে সিটি প্লাইউডের কারখানায় কাজ করার সময় মেশিনের আঘাতে মো. মিরাজ (১৯) নামের এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মিরাজকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মিরাজ ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া থানার আমুয়া গ্রামের মো. শাহজাহান মিয়ার ছেলে। তিনি কামরাঙ্গীরচরের ওই কারখানায় থাকতেন।
মিরাজকে হাসপাতালে নিয়ে আসা কারখানার সুপারভাইজার মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান জানান, রাতে কারখানায় কাজ করার সময় মেশিনের বোর্ডের আঘাতে গুরুতর আহত হন মিরাজ। পরে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, মিরাজ এই কারখানায় প্রায় সাত বছর শ্রমিকের কাজ করতেন।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
৪ দিন আগে
মাগুরায় কারামুক্ত হওয়ার পরই গ্রেপ্তার উপজেলা যুবলীগ সভাপতি
মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার সাবেক যুবলীগ সভাপতি ও শ্রীকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুতুবুল্লাহ হোসেন কুটি মিয়া জেল ফটক থেকে পুনরায় গ্রেপ্তার হয়েছেন।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মাগুরা জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরপরই জেলা পুলিশ তাকে আবার গ্রেপ্তার করে।
মাগুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় দীর্ঘ কারাভোগের পর গত মঙ্গলবার তিনি জামিন পান। তবে কারাগার থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে নতুন অন্য মামলা থাকায় আইনগত প্রক্রিয়ায় পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে মাগুরার রাজনৈতিক মহলে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর মাগুরা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে ফেরার পথে ডিবি পুলিশ তাকে প্রথমবার আটক করেছিল। সে সময় তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলা ছিল।
৫ দিন আগে
‘জমি লিখে না দেওয়ায়’ দাদিকে কুপিয়ে হত্যা, অভিযুক্ত আটক
ময়মনসিংহের ফুলপুরে জমি লিখে না দেওয়ায় আয়েশা খাতুন (৭০) নামে এক বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার নাতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জসিম উদ্দিন নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ভাইটকান্দি ইউনিয়নের জাটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ফুলপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত আয়েশা খাতুন ওই এলাকার মৃত নবী হোসেনের মেয়ে ছিলেন। আটক জসিম মৃত মহিদুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, আয়েশা খাতুনকে তার স্বামী অনেক আগে তালাক দিয়ে চলে যান। তার একমাত্র ছেলে ছিল মহিদুল ইসলাম, যার সন্তান জসিম। জসিমের জন্মের পরই তার বাবা মারা যান। পরে জসিমের মা অন্যত্র বিয়ে করে চলে যান এবং সেখানেই মারা যান। এরপর জসিমকে তার দাদি আয়েশা খাতুন লালন-পালন করেন। জসিম বড় হয়ে বিয়ে করে দাদির বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে বাড়ি তৈরি করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস শুরু করেন। তার দুই সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি পারিবারিক কলহের জেরে জসিমের স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে তিনি একাই বসবাস করছিলেন। অন্যদিকে, দাদি আয়েশা খাতুন নিজ বাড়িতেই থাকতেন।
পুলিশ জানায়, আয়েশা খাতুনের নামে কিছু জমি রয়েছে, যার একটি অংশ জসিম চাষাবাদ করতেন। দাদির ভাইয়ের সন্তানরা জমিতে ভাগ বসাতে পারেন—এমন সন্দেহে জসিম দাদির কাছে জমি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন রাত ৯টার দিকে জসিম তার দাদিকে জমি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে জসিম দা দিয়ে আয়েশা খাতুনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ঘটনাস্থলেই হত্যা করেন। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে জসিমকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
এসআই আজিজুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে জসিমকে আটক করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৫ দিন আগে
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বেইলি সেতু ভেঙে যান চলাচল বন্ধ
খাগড়াছড়িতে দীঘিনালা–রাঙামাটির লংগদু সড়কের একটি বেইলি সেতুর পাটাতন ভেঙে পড়ায় সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দুরপাল্লার যাত্রীরা।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতে সড়কের দীঘিনালার বোয়ালখালী চৌমুহনী এলাকারে এই বেইলি সেতুটি ভেঙে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (বুধবার) রাতে পাথরবোঝাই একটি ট্রাক সেতু পার হওয়ার সময় হঠাৎ পাটাতনের একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে ট্রাকটি সেতুর মাঝখানে আটকে যায়।
এ ঘটনার পর থেকেই দীঘিনালা থেকে মাইনি ও লংগদুগামী বাস, ট্রাকসহ সব ধরনের দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, আটকে পড়া ট্রাকটি সরিয়ে মেরামত করে পুনরায় যানবাহন চালু করতে আজকের দিনটা সময় লাগতে পারে। তবে বিকল্প সড়কে আপাতত ছোট যান চলাচল করছে বলে জানান তিনি।
৫ দিন আগে
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশন জট ১০ শতাংশে নামানোর আশ্বাস উপাচার্যের
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশন জট ৭ মাস কমিয়ে আনা হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে সেশন জট ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে ময়মনসিংহের টাউন হলের অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
এর আগে, ময়মনসিংহ নগরীর বাড়েরা এলাকায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন তিনি।
উপাচার্য বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কারিকুলাম পরিবর্তনের কাজ চলছে। যেসব কোর্স পড়লে দেশের বাইরে চাকরি পাওয়া যায়, সেগুলোকে অনার্সের পাঠসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। শিক্ষকদের গবেষণা ভাতা দেওয়া হবে। তিন হাজার শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে জুলাই স্মৃতি পুরস্কার। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে শিক্ষার্থীরা পুরস্কার নেবেন। শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আনতে হলে শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আঞ্চলিক কেন্দ্র চালুর ফলে অধিভুক্ত কলেজগুলোর ফি আদায়, সার্টিফিকেট প্রদান, খাতা বণ্টনসহ শিক্ষা কার্যক্রমে গতি আসবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান সরকার রোকন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী উপাচার্য প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ টি এম জাফরুল আযম, আঞ্চলিক কেন্দ্র সমন্বয় দপ্তরের পরিচালক মো. আমিনুল আক্তার, ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এ কে এম শফিকুল ইসলাম, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, আনন্দমোহন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শাকির হোসেন প্রমুখ।
ময়মনসিংহ জেলা ছাড়াও জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা জেলার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সকল কলেজ ও প্রফেশনাল ইনস্টিটিউট ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কেন্দ্র থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের কাজ সম্পন্ন করতে পারবে।
৫ দিন আগে